কোরআনে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব?

Print Friendly, PDF & Email

সূচনা

অনেক ইসলাম প্রচারক দাবি করেছেন যে কোরআন ১৪০০ বছর আগেই বলেছে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দাবিটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমও ফলাও করে দাবিটি প্রচার করেছে। কিন্তু, দাবিটির সত্যতা আসলে কতটুকু? কোরআন কি আসলেই বলে যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল? সেই প্রশ্নের উত্তরেই এ প্রবন্ধ।

দাবি

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা কেবল ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন, একটি রহস্যময় বিকর্ষণ বল যা মধ্যাকর্ষণের বিপরীত কাজ করে। দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে আকর্ষণপূর্ণ মাধ্যাকর্ষণ বল হ্রাস পায় কিন্তু এই রহস্যময় বিকর্ষণ বল বৃদ্ধি পায়। এই বিকর্ষণ বলের ফলে ছায়াপথসমূহ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে; যত বেশি দূরত্ব তত বেশি বিকর্ষণ। বিজ্ঞানীরা আজ জানেননা এই ডার্ক এনার্জি কি, তবে তারা জানেন যে এটি পুরো মহাবিশ্বকে একটি ক্রমবর্ধমান হারে সম্প্রসারিত করছে।


কোরআন ৫১:৪৭
এবং আকাশ, একে আমরা শিল্পকুশলতার সাথে নির্মাণ করেছি এবং এখনো আমরা সম্প্রসারণ করছি।
٤٧ وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ

“এখনো আমরা সম্প্রসারণ করছি” আজ আমরা জানি যে এটি সত্য।

১৪০০ বছর আগের একজন অশিক্ষিত মানুষ কিভাবে জানতে পারলেন যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল? [1]

আলোচ্য আয়াত

যে আয়াতকে কেন্দ্র করে দাবিটি করা হয় সেই আয়াতের কিছু অনুবাদ,

وَٱلسَّمَآءَ بَنَيْنَـٰهَا بِأَيْي۟دٍۢ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ ٤٧

And the heaven We constructed with strength, and indeed, We are [its] expander.
— Saheeh International

We have built the heaven with might, and We it is Who make the vast extent (thereof).
— English Translation (Pickthall)

With power and skill did We construct the Firmament: for it is We Who create the vastness of space.
— English Translation (Yusuf Ali)

আমি নিজ হাত দ্বারা আসমান সৃষ্টি করেছি আর আমি অবশ্যই মহা প্রশস্তকারী।
— Taisirul Quran

আমি আকাশ নির্মাণ করেছি আমার ক্ষমতা বলে এবং আমি অবশ্যই মহাসম্প্রসারণকারী,
— Sheikh Mujibur Rahman

আর আমি হাতসমূহ দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি শক্তিশালী।
— Rawai Al-bayan

আর আসমান আমরা তা নির্মাণ করেছি আমাদের ক্ষমতা বলে [১] এবং আমরা নিশ্চয়ই মহাসম্প্রসারণকারী [২]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

(কোরআন ৫১:৪৭)

তাফসীর

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত তাফসীরকারক ইবনে কাসির যা বলেছেন,

“আল্লাহ তা’আলা বলেন যে, তিনি আকাশকে স্বীয় ক্ষমতাবলে সৃষ্টি করেছেন এবং ওটাকে তিনি সুরক্ষিত, সুউচ্চ ও সম্প্রসারিত করেছেন। অবশ্যই তিনি মহাসম্প্রসারণকারী। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ), হযরত সাওরী (রঃ) এবং আরো বহু তাফসীরকার একথাই বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি আকাশকে স্বীয় শক্তি বলে সৃষ্টি করেছি। আমি মহাসম্প্রসারণকারী। আমি ওর প্রান্তকে প্রশস্ত করেছি, বিনা স্তম্ভে ওকে দাঁড় করে রেখেছি এবং প্রতিষ্ঠিত করেছি।[2]

সম্প্রসারণশীল 2
তাফসীরে ইবনে কাসির, সপ্তদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ১০৬

বিশ্লেষণ

আলোচ্য আয়াতে মহাবিশ্বের কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে আকাশের কথা। এই আয়াতে উল্লেখিত سَّمَاءَ (সামা) শব্দটির অর্থ আকাশ, মহাবিশ্ব নয়। [3] [4] আকাশ আর মহাবিশ্ব এক নয়।

যদি কেউ ধরে নেয় যে কোরআনে আকাশ বলতে মহাবিশ্বকেই বোঝানো হয়েছে তাহলে সে ভুল করবে।

কোরআনে বলা হয়েছে আকাশমণ্ডল এবং পৃথিবী একসময় ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিলো, পরবর্তীতে তাদেরকে পৃথক করা হয়েছে। অর্থাৎ, আকাশমণ্ডল এবং পৃথিবী একে অপরের থেকে আলাদা, কোনটিই কোনোটির অংশ নয়। কিন্তু, পৃথিবী তো মহাবিশ্ব থেকে আলাদা নয়, বরং মহাবিশ্বেরই একটি অংশ। সুতরাং সন্দেহাতীতভাবেই, কোরআনের আকাশ মহাবিশ্ব নির্দেশ করে না।

أَوَلَمْ يَرَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًۭا فَفَتَقْنَـٰهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ ٱلْمَآءِ كُلَّ شَىْءٍ حَىٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ ٣٠

Have those who disbelieved not considered that the heavens and the earth were a joined entity, and then We separated them and made from water every living thing? Then will they not believe?
— Saheeh International

Have not those who disbelieve known that the heavens and the earth were of one piece, then We parted them, and we made every living thing of water? Will they not then believe?
— English Translation (Pickthall)

Do not the Unbelievers see that the heavens and the earth were joined together (as one unit of creation), before we clove them asunder? We made from water every living thing. Will they not then believe?
— English Translation (Yusuf Ali)

যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখেনা যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে; তবুও কি তারা বিশ্বাস করবেনা?
— Sheikh Mujibur Rahman

যারা কুফরী করে তারা কি দেখে না [১] যে, আসমানসমূহ ও যমীন মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, তারপর আমরা উভয়কে পৃথক করে দিলাম [২] এবং প্রাণবান সব কিছু সৃষ্টি করলাম পানি থেকে [৩]; তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

(কোরআন ২১:৩০)

এছাড়াও, কোরআন বলছে, আল্লাহ আকাশকে ছাদ স্বরূপ সৃষ্টি করেছেন। মহাবিশ্বকে কি কোনোভাবেই ছাদের সাথে তুলনা করা যায়? মহাবিশ্ব কি পৃথিবীর জন্য ছাদ স্বরূপ? পৃথিবী কি মহাবিশ্বেরই একটি অংশ নয়?

ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ فِرَٰشًۭا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءًۭ وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَخْرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزْقًۭا لَّكُمْ ۖ فَلَا تَجْعَلُوا۟ لِلَّهِ أَندَادًۭا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ٢٢

[He] who made for you the earth a bed [spread out] and the sky a ceiling and sent down from the sky, rain and brought forth thereby fruits as provision for you. So do not attribute to Allāh equals while you know [that there is nothing similar to Him].
— Saheeh International

Who hath appointed the earth a resting-place for you, and the sky a canopy; and causeth water to pour down from the sky, thereby producing fruits as food for you. And do not set up rivals to Allah when ye know (better).
— English Translation (Pickthall)

Who has made the earth your couch, and the heavens your canopy; and sent down rain from the heavens; and brought forth therewith Fruits for your sustenance; then set not up rivals unto Allah when ye know (the truth).
— English Translation (Yusuf Ali)

যিনি তোমাদের জন্য ভূতলকে শয্যা ও আকাশকে ছাদ স্বরূপ সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর তদ্বারা তোমাদের জন্য উপজীবিকা স্বরূপ ফলপুঞ্জ উৎপাদন করেন, অতএব তোমরা আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করনা এবং তোমরা এটা অবগত আছ।
— Sheikh Mujibur Rahman

যিনি যমীনকে তোমাদের জন্য বিছানা ও আসমানকে করেছেন ছাদ এবং আকাশ হতে পানি অবতীর্ণ করে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেছেন। কাজেই তোমরা জেনে-শুনে কাউকে আল্লাহ্‌র সমকক্ষ [১] দাঁড় করিও না।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

(কোরআন ২:২২)

وَجَعَلْنَا ٱلسَّمَآءَ سَقْفًۭا مَّحْفُوظًۭا ۖ وَهُمْ عَنْ ءَايَـٰتِهَا مُعْرِضُونَ ٣٢

And We made the sky a protected ceiling, but they, from its signs, are turning away.
— Saheeh International

And we have made the sky a roof withheld (from them). Yet they turn away from its portents.
— English Translation (Pickthall)

And We have made the heavens as a canopy well guarded: yet do they turn away from the Signs which these things (point to)!
— English Translation (Yusuf Ali)

এবং আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ। কিন্তু তারা আকাশস্থিত নিদর্শনাবলী হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
— Sheikh Mujibur Rahman

আর আমরা আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ; কিন্তু তারা আকাশে অবস্থিত নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

(কোরআন ২১:৩২)

ٱللَّهُ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ قَرَارًۭا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءًۭ وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَـٰتِ ۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ ۖ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٦٤

It is Allāh who made for you the earth a place of settlement and the sky a structure [i.e., ceiling] and formed you and perfected your forms and provided you with good things. That is Allāh, your Lord; then blessed is Allāh, Lord of the worlds.
— Saheeh International

Allah it is Who appointed for you the earth for a dwelling-place and the sky for a canopy, and fashioned you and perfected your shapes, and hath provided you with good things. Such is Allah, your Lord. Then blessed be Allah, the Lord of the Worlds!
— English Translation (Pickthall)

It is Allah Who has made for you the earth as a resting place, and the sky as a canopy, and has given you shape- and made your shapes beautiful,- and has provided for you Sustenance, of things pure and good;- such is Allah your Lord. So Glory to Allah, the Lord of the Worlds!
— English Translation (Yusuf Ali)

আল্লাহই তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন বাসোপযোগী এবং আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তোমাদের আকৃতি করেছেন উৎকৃষ্ট এবং তোমাদেরকে দান করেছেন উৎকৃষ্ট রিয্ক। এইতো আল্লাহ, তোমাদের রাব্ব। কত মহান জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহ!
— Sheikh Mujibur Rahman

আল্লাহ্, যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে স্থিতিশীল করেছেন এবং আসমানকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদের আকৃতি দিয়েছেন অতঃপর তোমাদের আকৃতিকে করেছেন সুন্দর এবং তোমাদেরকে রিযিক দান করেছেন পবিত্ৰ বস্তু থেকে। তিনিই আল্লাহ্ তোমাদের রব। সুতরাং সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্ কত বরকতময়!
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

(কোরআন ৪০:৬৪)

কোরআন অনুযায়ী, আকাশ আল্লাহর এমন একটি সৃষ্টি যা আল্লাহ চাইলে উপর থেকে ভেঙে আমাদের ওপর পড়তে পারে। মহাবিশ্ব কি এমনকিছু যা আমাদের উপরে আছে এবং উপর থেকে ভেঙে আমাদের ওপর পড়তে পারে?

وَإِن يَرَوْا۟ كِسْفًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ سَاقِطًۭا يَقُولُوا۟ سَحَابٌۭ مَّرْكُومٌۭ ٤٤

And if they were to see a fragment from the sky falling, they would say, “[It is merely] clouds heaped up.”
— Saheeh International

And if they were to see a fragment of the heaven falling, they would say: A heap of clouds.
— English Translation (Pickthall)

Were they to see a piece of the sky falling (on them), they would (only) say: “Clouds gathered in heaps!”
— English Translation (Yusuf Ali)

তারা আকাশের কোন খন্ড ভেঙে পড়তে দেখলেও বলবেঃ এটাতো এক পূঞ্জীভুত মেঘ।
— Sheikh Mujibur Rahman

আর তারা আকাশের কোনো খণ্ড ভেঙে পড়তে দেখলে বলবে, ‘এটা তো এক পুঞ্জিভূত মেঘ।’
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

(কোরআন ৫২:৪৪)

أَفَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَىٰ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۚ إِن نَّشَأْ نَخْسِفْ بِهِمُ ٱلْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةًۭ لِّكُلِّ عَبْدٍۢ مُّنِيبٍۢ ٩

Then, do they not look at what is before them and what is behind them of the heaven and earth? If We should will, We could cause the earth to swallow them or [could] let fall upon them fragments from the sky. Indeed in that is a sign for every servant turning back [to Allāh].
— Saheeh International

Have they not observed what is before them and what is behind them of the sky and the earth? If We will, We can make the earth swallow them, or cause obliteration from the sky to fall on them. Lo! herein surely is a portent for every slave who turneth (to Allah) repentant.
— English Translation (Pickthall)

See they not what is before them and behind them, of the sky and the earth? If We wished, We could cause the earth to swallow them up, or cause a piece of the sky to fall upon them. Verily in this is a Sign for every devotee that turns to Allah (in repentance).
— English Translation (Yusuf Ali)

তারা কি তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে, আসমান ও যমীনে যা আছে তার প্রতি লক্ষ্য করেনা? আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকেসহ ভূমি ধ্বসিয়ে দিব অথবা তাদের উপর আকাশমন্ডলের পতন ঘটাব; আল্লাহর অভিমুখী প্রতিটি বান্দার জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।
— Sheikh Mujibur Rahman

তারা কি তাদের সামনে ও তাদের পিছনে, আসমান ও যমীনে যা আছে তার প্রতি লক্ষ্য করে না [১]? আমরা ইচ্ছে করলে ধ্বসিয়ে দেব তাদেরসহ যমীন অথবা পতন ঘটাব তাদের উপর আসমান থেকে এক খণ্ড; নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন, আল্লাহর অভিমুখী প্রতিটি বান্দার জন্য।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

(কোরআন ৩৪:৯)

أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِى ٱلْأَرْضِ وَٱلْفُلْكَ تَجْرِى فِى ٱلْبَحْرِ بِأَمْرِهِۦ وَيُمْسِكُ ٱلسَّمَآءَ أَن تَقَعَ عَلَى ٱلْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ ٦٥

Do you not see that Allāh has subjected to you whatever is on the earth and the ships which run through the sea by His command? And He restrains the sky from falling upon the earth, unless by His permission. Indeed Allāh, to the people, is Kind and Merciful.
— Saheeh International

Hast thou not seen how Allah hath made all that is in the earth subservient unto you? And the ship runneth upon the sea by His command, and He holdeth back the heaven from falling on the earth unless by His leave. Lo! Allah is, for mankind, Full of Pity, Merciful.
— English Translation (Pickthall)

Seest thou not that Allah has made subject to you (men) all that is on the earth, and the ships that sail through the sea by His Command? He withholds the sky (rain) from failing on the earth except by His leave: for Allah is Most Kind and Most Merciful to man.
— English Translation (Yusuf Ali)

তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আল্লাহ তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন পৃথিবীতে যা কিছু আছে তৎসমূদয়কে এবং তাঁর নির্দেশে সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহকে এবং তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাতে ওটা পতিত না হয় পৃথিবীর উপর তাঁর অনুমতি ছাড়া? আল্লাহ নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।
— Sheikh Mujibur Rahman

আপনি কি দেখতে পান না যে, আল্লাহ্‌ তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন [১] পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেসবকে এবং তাঁর নির্দেশে সাগরে বিচরণশীল নৌযানসমূহকে? আর তিনিই আসমানকে [২] ধরে রাখেন যাতে তা পড়ে না যায় যমীনের উপর তাঁর অনুমতি ছাড়া। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মানুষের প্রতি স্নেহপ্রবণ, পরম দয়ালু।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

(কোরআন ২২:৬৫)

সূরা আয-যারিয়াতের ৪৭ নং আয়াতের وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ (ওয়া ইন্না– লামূছি’উন) অংশটির অর্থ “এবং অবশ্যই আমরা সম্প্রসারণকারী”, “এবং এখনো আমরা সম্প্রসারণ করছি” নয়। এ আয়াতে لَمُوسِعُونَ (লামূছি’উন) একটি বিশেষ্যপদ, ক্রিয়াপদ নয়। অর্থ্যাৎ, এখানে আল্লাহ বলছেন যে তিনি সম্প্রসারণকারী, বলছেন না যে তিনি এখনো সম্প্রসারণ করছেন।

উপসংহার

ইসলাম প্রচারকদের এ দাবি ভুল যে কোরআন ১৪০০ বছর আগেই বলেছে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। যে আয়াতটি ব্যবহার করে তারা দাবিটি করে থাকেন, সেই আয়াতে মহাবিশ্বের কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে আকাশের কথা। আর কোরআনে আকাশ বলে যে মহাবিশ্বকে বোঝানো হয়নি তার প্রমাণ কোরআনের অনেক আয়াতেই পাওয়া যায়।

আয়াতটিতে আল্লাহকে সম্প্রসারণকারী বলা হয়েছে, কিন্তু এথেকে নিশ্চিত হওয়া যায়না যে তিনি প্রতিনিয়তই সম্প্রসারণ করছেন।


আরও পড়ুন

তথ্যসূত্রঃ

  1. Expanding Universe – Miracles of Quran []
  2. তাফসীরে ইবনে কাসির, সপ্তদশ খণ্ড, তাফসীর পাবলিকেশন্স কমিটি, পৃষ্ঠা নং ১০৬ []
  3. سماء – Wikitionary []
  4. سماء – Translation and Meaning in Almaany English Arabic Dictionary []
Marufur Rahman Khan

Marufur Rahman Khan

Marufur Rahman Khan is an Atheist Blogger from Bangladesh.

6 thoughts on “কোরআনে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব?

  • মার্চ 30, 2020 at 4:07 অপরাহ্ন
    Permalink

    মুসীউন ক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে তা একটি সক্রিয় ক্রিয়া, অর্থাৎ বুঝা যায় যে সম্প্রসারণ চলমান। এটি আইন্সটাইন, হাবল, ফ্রীডম্যান প্রমুখ কর্তৃক স্বীকৃত। আর এতে মহাকাশ বলা হয়েছে যা আপনি লেখেননি।

    Reply
    • জুলাই 12, 2020 at 4:07 পূর্বাহ্ন
      Permalink

      কোরানে কোথায় মহাকাশ বলেছে ভাই? আর মুসীউন দ্বারা সক্রিয় ক্রিয়া বুঝাচ্ছে, সেটার তথ্যসূত্রই বা কই?

      Reply
  • আগস্ট 25, 2020 at 7:19 অপরাহ্ন
    Permalink

    হ্যাঁ, বিগ ব্যাং থিওরি আবিষ্কারের আগে অনেক আলেমরা এমনটাই বলে থাকতে পারে, কিন্তু মানুষ সেটাকে নিয়ে হাস্যকর ও রসিকতা মুলক মন্তব্য করতো তাই হয়তো এমন দাবি তারা করেনি। আর কোরান কোনো Science-এর ব‌ই না, এটা Sign-এর ব‌ই।

    Reply
  • জানুয়ারী 14, 2021 at 11:29 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    “তারা মূক, বধির ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।” (২:১৮)

    Reply
  • মে 11, 2021 at 9:46 অপরাহ্ন
    Permalink

    ভাই আপনিত দেখি জ্ঞানি নাস্তিক না কারন আপনি যদি জ্ঞানি নাস্তিক হতেন তাহলে এ বিষয়ে ভুল কথা বলতেন না। এখানে لَمُوۡسِعُوۡنَ অর্থ ‘অবশ্যই মহাসম্প্রসারণকারী’ হবে কারন স্থান কাল পাত্র ভেদে শব্দের অর্থ ভিন্ন হয় এবং এই শব্দ হলো সক্রিয় বিশেষন যার মানে চলমান ক্রিয়া নির্দেশক। এর মানে যেটা অতিতে চলছিলো সেটা বর্তমান অবদি চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে। এছাড়া আল্লাহ لسَّمَآءَ (আকাশমন্ডল) বলতে শুধু পৃথিবীর আকাশ বুঝান নি এটা পৃথিবীর আকাশ ও হতে পারে পৃথিবীর বাইরে যে আকাশ সৃষ্টি করেছে সেটাও হতে পারে। এর প্রমান কুরআনে থেকে দেওয়া যায় যেমন, “পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দেন এবং তা সাত আকাশে বিন্যস্ত করেন। তিনি সব বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাকারাহ ২৯) এখানে পৃথিবীর আকাশকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করার কথা বলেছেন। আবার সূরা- মুমিনুন,আয়াত- ৮৬ তে আল্লাহ বলছেন, “বল, ‘কে সাত আসমানের রব এবং মহা আরশের রব?” এখানে সুস্পষ্ট ভাবে বুঝা যাচ্ছে আল্লাহ এখানে পৃথিবীর আসমানের কথা বলছে না তিনি পৃথিবীর বাইরে ৭ আসমানের কথা বলছেন। আপনি হয়ত আবার প্রশ্ন করতে পারেন যে বিজ্ঞানিরাত ৭ আসমানের পক্ষে কোন কথা বলেনা। কিন্তু আপনাকে বলে রাখি বিজ্ঞানিরা এই আসমানকে এখনো সম্পূর্ণ দেখেনি অন্য আসমানকে কিভাবে দেখবে, হয়ত ভবিষ্যতে তাও আবিষ্কার হতে পারে।

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: