দাসী প্রসঙ্গে নাকে দড়ি বাঁধাদের মিথ্যাচারের জবাব

দাসী 36

সূচিপত্র

ভূমিকা

কাফের গোত্রগুলোকে আক্রমণ করে সকল পুরুষ সদস্যকে হত্যা করে, বিশেষ করে কাফের নারীদের বাবা ভাই স্বামীকে হত্যা করে তাদের লাশের ওপর দিয়ে সেই মেয়েদের যুদ্ধবন্দী করে ধরে এনে তাদের সাথে যৌনসঙ্গম করা তথা তাদের ধর্ষণ করা এবং তাদের নিয়মিত যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা, যৌন কাজের পরে আবার তাদের বাজারে নিয়ে বিক্রি করে দেয়া, ইসলামের এই ভয়ঙ্কর মারাত্মক অন্যায় বিষয়টিকে লঘু করা বা বিষয়টিকে জায়েজ করার জন্য প্রতিনিয়ত ইসলামিস্টগণ নানা ধরনের মিথ্যাচার বা প্রতারণার আশ্রয় নেন। তাদের সেই মিথ্যাচার বা প্রতারণাগুলো এতটাই দুর্বল হয় যে, কোরআন হাদিস থেকেই সেগুলোর উত্তর দেয়া খুব সহজ। সে কারণেই এই লেখাটিতে ইসলাম কী বলে, আর এই সকল লজ্জিত মুমিন বাহিনী কীভাবে ইসলামকে বিকৃত করে ধর্মকে রক্ষা করার অপ্রাণ চেষ্টা করে তা প্রমাণ করা হবে। আশাকরি পাঠকগণ লেখাটি পড়বেন এবং যাচাই করে দেখবেন। লেখাটিতে দাসীসেক্স, যুদ্ধবন্দী নারী ধর্ষণ, দাসপ্রথা ও গণিমতের মাল নিয়ে সদালাপ, রেসপন্স টু এন্টি ইসলাম ও এমন আরও কিছু মুমিনীয় ওয়েবসাইটের অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের জবাব দেয়া হচ্ছে।

অপপ্রচারঃ দাসীভোগ বাধ্যতামূলক নয়

ইসলামিস্টদের একটি দাবী হচ্ছে, যুদ্ধবন্দীদের দাসদাসী বানানো ইসলামে একমাত্র পন্থা নয়। মুসলিমরা চাইলে তাদের হত্যাও করতে পারে, ছেড়েও দিতে পারে। যেমন মক্কা বিজয়ের সময় সবাইকে ক্ষমা করা হয়েছিল, মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দিতে পারে যেমনটা বদরের যুদ্ধের সময় করা হয়েছিল, আবার চাইলে দাসদাসীও বানাতে পারে। 

জবাবঃ তবে হালাল, সুন্নত ও সদকাহ?

ধরা যাক, বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার নতুন একটি আইন করলো, ছাত্রলীগ কর্মীরা ধর্ষণ করলে তার জন্য কোন শাস্তি নেই। এখন, আওয়ামী লীগ কিন্তু কোন ছাত্রলীগ কর্মীকে ধর্ষণ করতে বাধ্য করছে না। ধর্ষণ করাকে বাধ্যতামূলকও তারা বলে নি। এতে কি এই আইনটি ভাল আইন বলে গণ্য হবে? আমি বুঝি না, বাধ্যতামূলক নয়, এটি কীভাবে কোন যুক্তি হতে পারে? একটি জঘন্য ব্যাপার বাধ্যতামূলক হলেই কেবলমাত্র খারাপ, নইলে বিষয়টি ভাল, এরকম চিন্তার কারণ কী? বাধ্যতামূলক হোক কিন্তু ঐচ্ছিক বা আইনত বৈধ, দুই ক্ষেত্রেই তো কাজটি জঘন্যই থাকে। বাধ্যতামূলক না হলেও, এইরকম একটি ব্যাপার বৈধ বা হালাল হওয়াটিই তো ভয়ঙ্কর বিষয়!

কিন্তু দাসীর সাথে যৌন কর্ম কী আসলেই একটি ঐচ্ছিক বিষয়? নাকি এই কাজে রীতিমত উতসাহ প্রদান করা হয়েছে? আসুন হাদিস থেকেই জেনে নিই, দাসী ভোগ ইসলামে পবিত্র কাজ বা সওয়াব বলে বিবেচিত হয় কিনা। নিজের হাদিস থেকে এটি পরিষ্কার যে, নবী দাসী সেক্স করার উৎসাহ দিয়েছেন এবং এটি একটি রীতিমত সওয়াবের কাজ [1]

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৬: যাকাত
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ – সদাক্বার মর্যাদা
১৮৯৮-[১১] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ‘তাসবীহ’ অর্থাৎ সুবহা-নাল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা), প্রত্যেক ‘তাকবীর’ অর্থাৎ আল্ল-হু আকবার বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা), প্রত্যেক ‘তাহমীদ’ বা আলহাম্‌দুলিল্লা-হ বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। প্রত্যেক ‘তাহলীল’ বা ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলা সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। নেককাজের নির্দেশ দেয়া, খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখা সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। নিজের স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে সহবাস করাও সদাক্বাহ্ (সাদাকা)। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ যদি নিজের কামভাব চরিতার্থ করে তাতেও কি সে সাওয়াব পাবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে বলো, কোন ব্যক্তি যদি হারাম উপায়ে কামভাব চরিতার্থ করে তাহলে সেকি গুনাহগার হবে না? ঠিক এভাবেই হালাল উপায়ে (স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে) কামভাব চরিতার্থকারী সাওয়াব পাবে। (মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ১০০৬, আহমাদ ২১৪৮২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৮২৩, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৪৫৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৫৬, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ২৫৮৮।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সেই সাথে, বনু কুরায়জা, বনু মুস্তালিক যুদ্ধে যুদ্ধবন্দী নারী শিশুদের কেন ছেড়ে না দিয়ে পুরুষদের হত্যা ও শিশু ও নারীদের দাসদাসী বানানো হল? উত্তর খুব সহজ। এগুলো আসলে বদরের যুদ্ধের মতো কোনো যুদ্ধ ছিল না, ছিল একেকটি গোত্রের উপর আক্রমণ। পুরুষদের হত্যা করে নারীদের গণিমতের মাল বানানোতে ঐসব গোত্রের সমস্ত জমিজমা, অঢেল সম্পত্তি মুসলিমদের কব্জায় আসে। কিন্তু ছেড়ে দিলে বা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দিলে তাদের সম্পূর্ণ সম্পত্তি দখল করতে পারত না, শুধু নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ লাভ করত মুসলিমরা। কিন্তু বদরের যুদ্ধ যেখানে হত্যা না করে বা দাসদাসী না বানিয়ে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, সেই যুদ্ধে বন্দীদের হত্যা করলে বা দাসদাসী বানালেও বনু কুরায়জা বা বনু মুস্তালিক অভিযানের মতো মক্কার কুরাইশদের জমিজমা, অঢেল সম্পত্তি দখল করতে পারত না। কারণ মুসলিমরা ইহুদি গোত্রগুলোর এলাকায়, বাড়িঘরে গিয়ে যেভাবে হামলা চালাত, বদরের যুদ্ধ তেমন ছিল না।

বদরের যুদ্ধের ময়দান ছিল কুরাইশদের বসবাসের এলাকার বাইরে, তাই বদরের যুদ্ধে মুসলিমরা কুরাইশদের এলাকায়, বাড়িঘরে গিয়ে আক্রমণ করার সুযোগ পায় নি যে বনু কুরায়জা বা বনু মুস্তালিকের মতো সকল যুদ্ধবন্দীকে হত্যা করলে বা দাসদাসী বানালেই শত্রুপক্ষের সব ধনসম্পত্তি মুসলিমরা দখল করে ফেলবে। বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ আদায়ই ছিল সেই সময়ের মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক। তাই বদরের যুদ্ধের মতো যুদ্ধগুলোতে হত্যা বা দাসদাসী না বানিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছিল। বিষয়টা এমন না যে মক্কা বিজয় বা বদরের যুদ্ধে মুসলিমরা কাফিরদের প্রতি অনুগ্রহ করে তাদের হত্যা করে নি বা দাসদাসী বানায়নি। মক্কা বিজয়ের সময় মুসলিম বাহিনীর ভয়ে সবাই ইসলাম গ্রহণ করেছিল, এমনকি কাবাঘরে থাকা ৩৬০ টি মূর্তি ভাঙতেও মক্কাবাসীরা মুসলিমদের বাঁধা দেয় নি। তাই তাদের হত্যা করা হয় নি। তবে কাউকে হত্যা না করার তথ্যটি মিথ্যা। নবী মুহম্মদের বাহিনী তিন দিক থেকে মক্কায় প্রবেশ করে, বাধার সম্মুখীন হয় শুধু খালিদের নেতৃত্বের একটি বাহিনী, সে বাধা পেয়ে ২৮ জনকে হত্যা করে। এটা কি বিনা রক্তপাত? শুধু তাই নয়, তারপরও নবী মুহম্মদ ১০ বা ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন, যারা তার মক্কার জীবনে তাকে নানাভাবে বিদ্রুপ করেছিলো, এদের মধ্যে ছিলো তিন জন গায়িকা,  যারা নবী মুহম্মদকে ব্যঙ্গ করে গান গাইতো।

সম্পূর্ণ মক্কা দখলে এলে নবী মুহম্মদ কাবায় পরিদর্শন করে এবং একজনকে কাবা ঘরের চাবি আনার জন্য বলেন। ঘরে প্রবেশ করে নিজ হাতে মূর্তিভাঙ্গা শুরু করেন এবং একটি দুর্বল হাদিস অনুসারে মেরি ও যীশুর ছবি ছাড়া যত ছবি ছিলো তা মুছে ফেলে এবং সব মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেন; তারপর বিলাল আজান দেয় এবং সবাই মিলে কাবার মধ্যে নামাজ পড়ে। নামাজ শেষে একজনকে নির্দেশ দেন কাবার ছাদে উঠে এই ঘোষনা দেওয়ার জন্য, যারা আল্লা ও তার রাসূলকে বিশ্বাস করে তারা যেন তাদের ঘরে থাকা সমস্ত দেব-দেবীর মূর্তি ও ছবি ভেঙ্গে বা সরিয়ে ফেলে। এরপর মুসলমানদের ভয়ে যে যার ঘরের মূর্তি ও ছবি ভেঙ্গে বা সরিয়ে ফেলে। ১০/১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর নবী মুহম্মদ মক্কার বিভিন্ন দিকে লোক পাঠান অন্যান্য মূর্তিগুলো ভাঙ্গার জন্য। এরপর খালিদ নাখালায় গিয়ে ভাঙ্গে দেবী উজ্জার মূর্তি, আমর ভাঙ্গে হুজেল সম্প্রদায়ের দেবতা সূয়ারের মূর্তি এবং শেষ মূর্তি ভাঙা হয় তায়েফে দেবী লাত মূর্তি । এভাবেই আরব থেকে নিশ্চিহ্ন হয় সকল দেব-দেবীর মূর্তি।

বদরের যুদ্ধে কয়েকজন বন্দীকে হত্যা করা হয়েছিল। তন্মধ্যে একজন হলেন উকবা ইবন আবূ মুয়াইত। তাঁকে হত্যার সময় তিনি রাসূলের কাছে অনেক অনুরোধ করেছিলেন যেন প্রাণভিক্ষা দেওয়া হয়। তিনি নবীকে বলেছিলেন, আমি মরে গেলে আমার সন্তানদের কি হবে? উত্তরে নবী বললেন, জাহান্নামের আগুন। [2]

হত্যা না করে বা দাস না বানিয়ে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কারণ হল ঐ মুহূর্তে মুহাজির সাহাবারা আর্থিক সংকটে ছিল এবং আনসার সাহাবাদের উপর নির্ভরশীল ছিল। সেই সময় মুসলমানদের অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে রেহাই পেতে মুক্তিপণের টাকার খুব প্রয়োজন ছিল। যেই ৭০ জনকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, প্রত্যেকের থেকে বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ আদায় করা হয়। জন প্রতি ১০০০-৪০০০ দিরহাম মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

অপপ্রচারঃ পূর্বযুগ থেকেই প্রচলিত ছিল

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ইসলামের উদ্ভাবন নয়, বরং তা ইসলামে বহু পূর্ব থেকেই চলে আসছিল। যুগ যুগ ধরে চলে আসা অমানবিক এই প্রথাকে ইসলাম মানবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

জবাবঃ জাহিলিয়্যাতের সকল কুপ্রথা বাতিল

ইসলামের গুরুত্বপুর্ণ নবী হযরত ইব্রাহীম, হযরত সোলায়মান, হযরত নূহ, এদের সকলেরই দাস ছিল বলেই জানা যায়। ইব্রাহীমের দাসী হাজেরার সন্তান ছিল ইসমাইল, যার বংশধর হিসেবে মুসলিমরা নবী মুহাম্মদের নবুয়্যত্ব দাবী করেন। উনারা যদি ইসলামের নবী হয়ে থাকেন, তাহলে দাসদাসী প্রথা তো ইসলামে আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। এই প্রথাটি যদি পৌত্তলিক প্রথাই হয়ে থাকে, উনারা কেন প্রথাটি চর্চা করেছেন? উনারা কেউই কেন প্রথাটি উচ্ছেদ করেননি? দাসপ্রথা পৌত্তলিকতা হয়ে থাকলে এরকম অনৈসলামিক পৌত্তলিক প্রথা কেন তারা পালন করতেন?

ইসলামিক দায়ীগণ বলে থাকেন, দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ইসলামের উদ্ভাবন নয়, বরং তা ইসলামে বহু পূর্ব থেকেই চলে আসছিল। প্রশ্ন হচ্ছে,

  • এই দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ছাড়া অন্য কোন ইসলামপূর্ব যুগের প্রথাকে ইসলাম সমর্থন করেছে? তৎকালীন সময়ে তো পালকপুত্রকে নিজের পুত্র মনে করা হতো এবং পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম মনে করা হতো। ইসলাম কি এই প্রথা সমর্থন করেছে? বরং আমরা দেখি মুহাম্মদ (সঃ) এর সাথে জয়নবের বিয়েকে বৈধ করার জন্য সূরা আহযাব আয়াত ৪, ৩৭ নাযিল হয় যেখানে বলা হয়েছে পালকপুত্র নাকি পুত্রই না এবং পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করলেও কোনো অসুবিধা নেই। এই একটা বিয়ে বৈধ করার জন্য একটা সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয়েছে, পালকপুত্রদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেদিকে নাই বা গেলাম, কিন্তু এখানে ইসলামপূর্ব যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথাকে কেন মান্যতা দিল না ইসলাম? ইসলামপূর্ব যুগের প্রথাকে মান্যতা দেওয়া কি শুধু দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স এর বেলায়ই প্রযোজ্য? আসল কথা, দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ইসলামের স্বার্থ বিরোধী নয়, বরং ইসলামের জন্য সুবিধাজনক। কিন্তু পালকপুত্র প্রথা নবী(সঃ) এর স্বার্থবিরোধী। ইসলাম নিজের স্বার্থ অনুযায়ী সবকিছু হালাল, হারাম করবে অথচ মুমিনরা দোষ চাপাবে ইসলামপূর্ব যুগের উপর, এগুলো কোন ধরনের ডবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ?
  • ইসলামপূর্ব যুগে মূর্তিপুজা করা হতো। ইসলাম কি মূর্তিপূজাকে বৈধতা দিয়েছে?
  • কোন জিনিসটা ইসলামের উদ্ভাবন? ইসলামের কোনো বিষয়ই তো ইসলামের উদ্ভাবন নয়। নামায, রোজা থেকে শুরু করে সুন্নতে খাৎনা পর্যন্ত সবই হয় ইহুদি না হয় খ্রিস্টান না হয় পৌত্তলিকদের থেকে কপি করা। তখনতো তারা বলেন না, নামায ইসলামের উদ্ভাবন নয়, রোজা ইসলামের উদ্ভাবন নয়; বরং আমরা এগুলো ইহুদি ধর্ম থেকে কপি করেছি। তারা অন্য কথা বলে। ইহুদিরা নাকি সবচেয়ে অভিশপ্ত জাতি, কিন্তু সেই অভিশপ্ত জাতির প্রার্থনা পদ্ধতি নামায কপি করে ইসলামে পেস্ট করে বলে, নামায হলো মুমিন ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্যকারী। সেই অভিশপ্ত জাতির প্রার্থনা পদ্ধতি রোজা কপি করে ইসলামে পেস্ট করে বলে, রমজান মাসের একটা রোজা না রাখলে বিনিময়ে টানা ৬০ দিন রোজা রাখতে। তখন বলে না, এগুলো তো ইসলামের উদ্ভাবন নয়; এগুলো আমরা ইহুদিদের থেকে কপি পেস্ট করেছি। আর দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্সের বেলায় তাদের সুর পাল্টে যায়।

জবাবঃ নবী ও সাহাবীদের আচরণ

ইসলামিক দায়ীগণ বলে থাকেন, যুগ যুগ ধরে চলে আসা অমানবিক এই প্রথাকে ইসলাম মানবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সহীহ হাদীস থেকে দেখি ইসলাম যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে কেমন মানবিক আচরণ করেছেঃ [3] হাদিসটির বই থেকে তোলা ছবি [4]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ (7409)
অধ্যায়ঃ ৯৭/ তাওহীদ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৯৭/১৮. আল্লাহর বাণীঃ তিনিই আল্লাহ্ সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদাতা। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/২৪)
৭৪০৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তাঁরা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ (রহ.) কাযআ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই। (২২২৯) (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একদা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা বন্দী দাসীর সাথে সঙ্গত হই। কিন্তু আমরা তাদের (বিক্রয় করে) মূল্য হাসিল করতে চাই। এমতাবস্থায় আযল- (নিরুদ্ধ সঙ্গম করা) সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন, আর তোমরা কি এরূপ করে থাক! তোমরা যদি তা (আযল) না কর তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ আল্লাহ তা‘আলা যে সন্তান জন্ম হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই জন্ম নিবে।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২২২৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ২২. আযল এর হুকুম
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৩৪৩৮, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৪৩৮
৩৪৩৮-(১২৭/…) আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা আয যুবাঈ (রহঃ) ….. আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দিনী লাভ করেছিলাম। (তাদের সাথে) আমরা ‘আযল করছিলাম। এরপর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাদের বললেন, অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। (বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন) বস্তুত কিয়ামত পর্যন্ত যত প্রাণী সৃষ্টি হওয়ার তা সৃষ্টি হবেই।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪১১, ইসলামীক সেন্টার ৩৪১০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

আবূ সা’ঈদ আল খুদ্রী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দিনী লাভ করেছিলাম। (তাদের সাথে) আমরা ‘আয্ল করছিলাম। এরপর আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাদের বললেন, অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। (বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন) বস্তুত ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যত প্রানী সৃষ্টি হওয়ার তা সৃষ্টি হবেই। (ই.ফা. ৩৪১১, ই.সে. ৩৪১০)
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৪৩৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD
ইসলামিক ফাউণ্ডেশন থেকে পড়লে সম্ভবত হাদিস নং ৩৪১৫ বা ৩৪১০

সাহাবারা বন্দী নারীদের ভোগ করতে চাইল কিন্তু এর ফলে তারা বন্দীরা গর্ভবতী হয়ে গেলে তাদেরকে বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাবে না। তাই তারা আযল করলো যাতে ঐ নারীদের ভোগ করেও আবার বাজারে বিক্রি করে দামও পাওয়া যায়। ইসলাম যুদ্ধবন্দী নারীদেরকে একই সাথে ভোগ করা ও তারপর বাজারে বিক্রি করার অনুমতিও দিয়েছে। 

এর থেকে প্রমাণ হয়ে গেলো, যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে কেমন পাশবিক আচরণ করা হত। অবশ্য ইসলামে ক্রীতদাসীরা হলো মর্যাদার দিক থেকে চতুস্পদ জন্তুর মতোই। 

অপপ্রচারঃ এ বিধান শুধু মালিকের জন্য

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, ইসলাম যুদ্ধবন্দী নারীদের বন্টন করার মাধ্যমে একজন পুরুষের সাথে সেক্সুয়াল রিলেশনের অনুমতি দিয়েছে অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী নারীকে শুধুমাত্র তার মালিকের জন্য হালাল করা হয়েছে অন্য কোনো পুরুষের জন্য নয়। ফলে যুদ্ধবন্দী নারীদেরকে নিজের ইজ্জত রক্ষা করে জৈবিক চাহিদা পূরণের সুযোগ করে দিয়েছে ইসলাম। এভাবে ইসলাম তাদেরকে গণধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

জবাবঃ তবে কাজ শেষে বিক্রি করা হালাল

আমরা হাদিসে দেখেছি, একই সাথে সেক্স করা ও বিক্রি করা দুইটাই জায়েজ। তাহলে সে নারী প্রথমে যার হাতে বন্দী হয়েছে তার হাতে ধর্ষিত হবে এবং বিক্রি করার পর যার কাছে বিক্রি করা হয়েছে তার দ্বারা ধর্ষিত হবে। এভাবে গণধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা তো দূরের কথা, উল্টো গণধর্ষণের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই হলো যুগ যুগ ধরে চলে আসা অমানবিক প্রথাটিকে ইসলামের মানবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার নমুনা!

হাদিস এবং হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো থেকে পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়, নবী মুহাম্মদের সাহাবীগণ বন্দী নারীদের সাথে ইয়ৌন সঙ্গম করতেন, কাজ শেষে বিক্রি করে দেয়ার কথা মাথায় রেখেই। সহজ নসরুল বারী গ্রন্থে থেকে এই সম্পর্কিত একটি হাদিসের ব্যাখ্যা পড়ে নিই [5], যেখান থেকে নবীর সাহাবীদের মানসিকতা পরিষ্কার বোঝা যায়।

ফতোয়ায়ে আলমগীরীতে বেশ কিছু মাস’আলা পাওয়া যায় যেখানে যৌথমালিকানাধীন যৌনদাসীর গর্ভে জন্মানো সন্তানের পিতা কোন মালিকটি হবেন তার বিস্তারিত বর্ননা। মাস’আলা ও ফতোয়া সাধারণত ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বড় বড় স্কলাররা দিয়ে থাকেন। ফতোয়ায়ে আলমগীরীর উক্ত মাস’আলাগুলো পড়লে বোঝা যায় যে ততকালিন অনেক মুসলিমই কয়েকজন মিলে একটি দাসী রাখতো এবং সবাই মিলেই তাকে ভোগ করতো। সমস্যা হয় যখন এধরনের মিলনের ফলে যৌনদাসীটি গর্ভবতী হয়ে পরে তখন। সন্তানের পিতৃত্বের দায়িত্ব অনেকে নিতে চায় (বিশেষ করে পুত্র হলে) আবার অনেকে নিতে চায়না (বিশেষ করে কন্যা হলে)। তখন এটা মামলা-মোকদ্দমাতে গড়ায়। এসকল মামলার সমাধানেই ফতোয়ায়ে আলমগীরীতে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ততকালীন বড় আলিমেরা এসকল মাস’আলা লিপিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং বোঝা গেল সে সময়ে যৌথমালিকানাধীন দাসীকে সবাই মিলে ভোগ করা অবৈধ ছিল না। [6]  

অপপ্রচারঃ দাসীদের যৌন চাহিদা আছে!

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, ইসলামে যুদ্ধবন্দী সহবাস জায়েজ করা হয়েছে যুদ্ধবন্দী নারীদের যৌনচাহিদা মেটানোর জন্য। 

জবাবঃ দাসদের যৌন চাহিদা নেই?

এই যুক্তিটি খুবই হাস্যকর, কারণ এই যে, যুদ্ধবন্দী অসহায় নারী কিংবা কিনে আনা দাসীদের যৌন চাহিদা মেটানোই যদি উদ্দেশ্য হয়, সেই উদ্দেশ্যে নবী এবং তার সাহাবীগণ নিতান্তই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে যৌন কর্ম করতো, তাহলে একই কথা তো দাসদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাহলে নবী পত্নী আয়িশা বা হাফসাও কী দাসদের যৌন চাহিদা মেটাতো? তা কিন্তু নয়। হয়তো কোন কোন দাসকে অন্য দাসীর সাথে বিয়ে দেয়া হতো, সেই সময়ে এরকম প্রচলন ছিল। তাহলে, সেইসব দাসীদেরকেও তো অন্য দাসদের সাথে বিবাহ দেয়া যেতো। সেটি না করে আল্লাহ পাকের কেন সেই মালিকদেরই দাসীদের যৌন চাহিদা মেটাবার এই দায়িত্ব দেয়া হতো? একই পদ্ধতি কেন দাসদের ক্ষেত্রে নয়?

সেই সাথে, আযলের হাদিসটা দেখে যেকোনো সুস্থ বিবেকবান মানুষ বুঝতে পারবেন, আসলে কাদের যৌনচাহিদা মেটানোর জন্য ইসলামে যুদ্ধবন্দী সহবাস জায়েজ করা হয়েছে। যাকে কিছুক্ষণপর বাজারে বিক্রি করে দিবে, তার প্রতিও ছিল সাহাবাদের অদম্য যৌন আকাঙ্ক্ষা। এমনকি নাবালিকা কন্যা শিশুরাও পর্যন্ত রক্ষা পেত না ধর্ষণের হাত থেকে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তার জামাতা হযরত আলী রাঃ কে শিশু কন্যা উপহার দিতেন গণিমতের মাল হিসেবে। [7] [8]

বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আলী (রাঃ)- কে খুমুস (গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ) নিয়ে আসার জন্য খালিদ (রাঃ)- এর কাছে পাঠালেন। (রাবী বুরাইদাহ বলেন,) আমি ‘আলী (রাঃ)- এর প্রতি অসন্তুষ্ট, আর তিনি গোসলও করেছেন। (রাবী বলেন) তাই আমি খালিদ (রাঃ)- কে বললাম, আপনি কি তার দিকে দেখছেন না? এরপর আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন, হে বুরাইদাহ! তুমি কি ‘আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট? আমি বললাম জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বলেলন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেক না। কারণ খুমুসে তার প্রাপ্য এর চেয়েও অধিক আছে। (আ.প্র. ৪০০৫, ই.ফা. ৪০০৯)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৩৫০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ (4350) অধ্যায়ঃ ৬৪/ মাগাযী (যুদ্ধ) (كتاب المغازى)
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৪/৬২. বিদায় হাজ্জের পূর্বে ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ।
৪৩৫০. বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে খুমুস (গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ) নিয়ে আসার জন্য খালিদ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। (রাবী বুরাইদাহ বলেন,) আমি ‘আলী (রাঃ)-এর প্রতি অসন্তুষ্ট, আর তিনি গোসলও করেছেন। (রাবী বলেন) তাই আমি খালিদ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি কি তার দিকে দেখছেন না? এরপর আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন, হে বুরাইদাহ! তুমি কি ‘আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেক না। কারণ খুমুসে তার প্রাপ্য এর চেয়েও অধিক আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১২)
Narrated Buraida: The Prophet (ﷺ) sent `Ali to Khalid to bring the Khumus (of the booty) and I hated `Ali, and `Ali had taken a bath (after a sexual act with a slave-girl from the Khumus). I said to Khalid, “Don’t you see this (i.e. `Ali)?” When we reached the Prophet (ﷺ) I mentioned that to him. He said, “O Buraida! Do you hate `Ali?” I said, “Yes.” He said, “Do you hate him, for he deserves more than that from the Khumlus.”
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

নাসরুল বারী শরহে সহীহ আল বুখারী ৮ম খন্ড ৪৫৬-৪৫৭ নং পৃষ্ঠায় হাদিসটির ব্যাখ্যা দেখা যাক [9]

প্রশ্ন করতে চাই, পিরিয়ড শুরু হয় নি এমন একটি বাচ্চা মেয়ের কি এমন যৌন চাহিদা থাকতে পারে যার জন্য হযরত আলী রাঃ কে একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে সহবাস করতে হল?

যখনই এদের জিজ্ঞেস করা হয়, জান্নাতে একজন পুরুষ ৭২ টা নারী পেলে একজন নারী কয়জন পুরুষ পাবে? তখন তারা বলে, একজন নারীর জৈবিক চাহিদা একজন পুরুষের মতো নয়। নারীরা সৃষ্টিগত ভাবে পুরুষের মতো বহুগামী নয়। অথচ এরাই আবার যুদ্ধবন্দী নারীর যৌনচাহিদা মেটানোর কথা বলে। আমরা আযলের হাদিস থেকে বুঝলাম,একই সাথে সেক্স করা ও বিক্রি করা দুইটাই জায়েজ। তাহলে সে নারী প্রথমে যার হাতে বন্দী হয়েছে তার হাতে ধর্ষিত হবে এবং বিক্রি করার পর যার কাছে বিক্রি করা হয়েছে তার দ্বারা ধর্ষিত হবে। কিভাবে একজন যুদ্ধবন্দী নারীকে গণধর্ষণের দিকে ঠেলে দিয়েছে ইসলাম। 

অপপ্রচারঃ মেয়েরা স্বেচ্ছায় দাসী হতো!

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, প্রাচীনকালে যখন কোনো যুদ্ধ হতো এবং সেই যুদ্ধে কোনো নারী অংশগ্রহণ করতো, তখন সে খুব ভালো করেই জানতো এই যুদ্ধে সে যদি পরাজিত হয় তাহলে সে দাসী হিসেবে পরিগণিত হবে। তাই সে সাজসজ্জা ও উত্তম পোশাক পরিধান করে যুদ্ধে যেতো যাতে যুদ্ধে হেরে গেলে বিজয়ী যোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় ও প্রভাবশালী, ধনী কোনো মনিব পাওয়া যায়। 

জবাবঃ তাদের বন্দী করে আনা হতো!

১. ইসলামে তো তেমন কোনো যুদ্ধই হয় নি। নবী মুহাম্মদ সাঃ তার সাহাবিদের নিয়ে একেকটা গোত্রের উপর অতর্কিত ও গুপ্ত আক্রমণ চালাতেন, আর সেগুলোকেই মুসলিমরা যুদ্ধ বলে দাবী করে। বস্তুত সেগুলো বেশিরভাগই ছিল অতর্কিত আক্রমণ এবং লুণ্ঠন। আসুন হাদিস থেকে কিছু উদাহরণ দেখি।

ইবনু ‘আউন (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহঃ) -কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন) -কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহঃ) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫৪১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা
পরিচ্ছেদঃ ৪৯/১৩. কোন আরব যদি কোন দাস-দাসীর মালিক হয় এবং তাকে দান করে, বিক্রয় করে, সহবাস করে এবং ফিদিয়া হিসাবে দেয় অথবা শিশুদেরকে বন্দী করে রাখে তবে এর বিধান কী?
২৫৪১. ইবনু ‘আউন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৭৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ)

ইসলামের বেশিরভাগ যুদ্ধই ছিল বিধর্মী গোত্রের উপর অতর্কিত ও গুপ্ত আক্রমণ। সেসব আক্রমণের খবর আগে থেকে শত্রুদের কাছে পৌঁছানো ছিল অসম্ভব। তাহলে কখন, কিভাবে সেই যুদ্ধে একজন নারী সাজসজ্জা ও উত্তম পোশাক পরিধান করে যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিত? নবী মুহাম্মদ ও তার সাহাবিরা কি গুপ্ত আক্রমণের আগে থেকে ঐসব বিধর্মী গোত্রের মেয়েদেরকে টেলিফোন/মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ/ম্যাসেন্জারে জানিয়ে দিতেন যে তোমরা সাজুগুজু করে রেডি হও, আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে আক্রমণ করবো? যেসব যুদ্ধে কাফিররা আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিতো , তখন তো মুসলিমরা  আগে থেকেই ভয়ে গা ঢাকা দিতো, যেমন খন্দকের যুদ্ধে মক্কার কোরাইশদের আসার কথা শুনে মুসলিমরা মদিনার চারপাশে আগে থেকেই গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল যাতে তারা আসতে না পারে।

২. সাজসজ্জা ও বিরোধী পক্ষের শত্রুদের আকৃষ্ট করার মত পোশাক পরিধান করে যুদ্ধে যাওয়ার প্রসঙ্গ আসলো কোথা থেকে? কিছুদিন পর পর রাসূল সাঃ যে বনু কুরায়জা, বনু মুস্তালিক প্রভৃতি ইহুদি গোত্রের উপর আক্রমণ চালাতেন আর সেসব গোত্রের নারী ও শিশুদের গণিমতের মাল বানাতেন, ঐসকল গোত্রের লোকেরা কি প্রস্তুতি নিয়ে এরপর কোনো নির্দিষ্ট প্রান্তরে যুদ্ধ করতে যেতেন নাকি নবী তার সাহাবাদের নিয়ে নিজেই সেসব গোত্রের এলাকায় গিয়ে বিনা ঘোষণায় আক্রমণ করতেন? সেসব অভিযানের বেলায় তো যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টিই অনুপস্থিত। নবী নিজেই তাদের এলাকায় অতর্কিত আক্রমণ করতেন, তাহলে যেখানে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টিই অপ্রাসঙ্গিক, সেখানে মডারেট মুসলিমরা সাজসজ্জা ও বিরোধী পক্ষের শত্রুদের আকৃষ্ট করার মত পোশাক পরিধান করে যুদ্ধে যাওয়ার কথা পেল কোথা থেকে? 

সবচেয়ে বড় কথা, সাজসজ্জা ও শত্রুদের আকৃষ্ট করার জন্য পোশাক পরিধান করে যুদ্ধে যেতো এমন কথা কোনো হাদিস, সীরাত, তাফসীর কোথাও পাওয়া যাবে না। তারা দাবী করছে প্রাচীনকালের যুদ্ধের কথা, অথচ সেসব যুদ্ধ ছিল দুইপক্ষের যুদ্ধ, যেখানে দু’পক্ষই একে অপরের উপর আক্রমণ করতো। এসব যুদ্ধের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধের কোনো মিল নেই। মুসলিমদের যুদ্ধ ছিল মূলত একপাক্ষিক এবং চোরাগুপ্তা আক্রমণ। তাই এটার সাথে প্রাচীনকালের যুদ্ধের কথা মিলিয়ে ফেলাটা নিতান্তই হাস্যকর।

অপপ্রচারঃ ইসলাম দাসপ্রথা পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ করেছে

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, ইসলাম যেমন মদ্যপানকে একেবারে হারাম না করে পর্যায়ক্রমে হারাম করেছে, এই দাসপ্রথা/যুদ্ধবন্দী/ক্রীতদাসী সেক্স কেও বিলুপ্তিকরণের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

জবাবঃ নিষিদ্ধ করার কিছু নমুনা

আসুন সহীহ হাদীসের আলোকে দেখি এসব বিলুপ্তিকরণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কিছু নমুনা। সুনানু নাসাই শরীফের একটি তাহকীককৃত সহিহ হাদিস হচ্ছে, [10] [11]

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৭/ স্ত্রীর সাথে ব্যবহার (كتاب عشرة النساء)
হাদিস নাম্বার: 3961
৩৯৬১. ইবরাহীম ইবন ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ হারামী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি বাদি ছিল যার সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহবাস করতেন। এতে আয়েশা (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে লেগে থাকলেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বদিটিকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ পাক নাযিল করেনঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ) “হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা আপনি নিজের জন্য কেন হারাম করে নিয়েছেন (সূরা তাহরীমঃ ১) ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
তাহক্বীকঃ সহীহ।

রাসূল যেখানে নিজে থেকেই দাসীসেক্সকে হারাম করে নিলেন, আল্লাহ তা আলা রাসূলে করীম (সাঃ) কে এর জন্য জবাবদিহি করছেন কেন হারাম করলেন। এই হলো বিলুপ্তিকরণে পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার একটি নমুনা! আসুন আমরা আরেকটি নমুনা দেখিঃ [12]

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. বন্দী স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস করা।
২১৫২. উবায়দুল্লাহ্ ইবন উমার ইবন মায়সার …… আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের যুদ্ধের সময় আওতাস্ নামক স্থানে একটি সৈন্যদল প্রেরণ করেন। তারা তাদের শত্রুদের সাথে মুকাবিলা করে তাদেরকে হত্যা করে এবং তাদের উপর বিজয়ী হয়। আর এই সময় তারা কয়েদী হিসাবে (হাওয়াযেন গোত্রের) কিছু মহিলাকে বন্দী করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সাহাবী তাদের সাথে অনধিকারভাবে সহবাস করা গুনাহ মনে করে, কেননা তাদের মুশরিক স্বামীরা তখন বন্দী ছিল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা এই আযাত নাযিল করেনঃ (অর্থ) যে সমস্ত স্ত্রীলোকদের স্বামী আছে তারা তোমাদের জন্য হারাম। তবে যারা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী অর্থাৎ যেসব মহিলা যুদ্ধবন্দী হিসাবে তোমাদের আয়ত্বে আসবে তারা ইদ্দত (হায়েযের) পূর্ণ করার পর তোমাদের জন্য হালাল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

সাহাবারা নিজেরাই যেখানে বিবাহিত নারীদের সাথে সহবাস করাকে ঘৃণা করলেন, আল্লাহ সাথে সাথে আয়াত নাজিল করলেন যে এরা তোমাদের জন্য হালাল। এটা হলো বিলুপ্তিকরণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আরেকটি নমুনা।

অপপ্রচারঃ অন্যরাও মুসলিমদের মেয়েদের ধর্ষণ করতো

ইসলামিস্টদের একটি দাবী হচ্ছে, পৌত্তলিক কাফের ইহুদী খ্রিস্টানরাও মুসলিমদের মেয়েদের গনিমতের মাল হিসেবে পেলে ধর্ষণ করতো। অন্যরা করতো তাই ইসলামও সেটি বলবত রেখেছে।

জবাবঃ ইসলামই গনিমতের মাল ভোগ শুরু করে

পৌত্তলিকরা মুসলিমদের মা বোন তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে, এরকম উদাহরণ তাহলে কোথায়? হাদিসে পরিষ্কারভাবেই বলা রয়েছে, গনিমতের মাল ভোগ করা জায়েজ করা হয়েছে শুধুমাত্র নবী মুহাম্মদের জন্যেই। পূর্বের কোন নবীর জন্য এটি জায়েজ ছিল না। তাহলে আহলে কিতাবীগণ এই কাজ করতো, এই তথ্যটি কীভাবে সত্য হয়?

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৯: জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ – গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।
‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।
৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৩১২৪, মুসলিম ১৭৪৭, আহমাদ ৮২০০, সহীহাহ্ ২৭৪২।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

বদরের যুদ্ধে নবী মুহাম্মদ এতো কুরাইশদের এতো লোককে হত্যার পরও কুরাইশরা নবী মুহাম্মদের কন্যা জয়নবকে গনিমতের মাল হিসেবে গণধর্ষণ করে নি। শুধু তাই নয়, জয়নব তার পৌত্তলিক স্বামীকে মুহাম্মদের হাত থেকে ছাড়াবার জন্য কিছু উপহারও(যেমন খাদিজার গলার হার) পাঠিয়েছিল। পৌত্তলিক কুরাইশরা তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মুহাম্মদের আপন মেয়েকে সবাই মিলে ধর্ষণ না করেই মদিনায়ও ফেরত পাঠিয়েছিল [13]। যুদ্ধরত দুই বাহিনী হিসেবে হুবার নামের একজন তাকে হত্যা করতে আসলেও আবু সুফিযান তাকে বাধা দিযে বলেন, এভাবে প্রতিশোধ গ্রহণের কোন ইচ্ছেই তাদের নেই। তাহলে যদি কুরাইশদের ধর্মীয় রীতিতে প্রতিপক্ষকে দাসদাসী বানানোর নিয়ম থাকতো, বিপক্ষের মেয়েদের ধর্ষণের বিধান থাকতো, তারা কেন নবীর কন্যাকে নবীর কাছে নিরাপদে ফেরত পাঠালো? হয়তো ইহুদি খ্রিস্টানরা যুদ্ধে দাসদাসী বানাতো, মুশরিকরা সেটা করত তার প্রমাণ মেলে না। তাই তারা যে দাবী করেছে মুসলিমরা যুদ্ধে হারলে অমুসলিমরাও তাদের দাসদাসী বানাত, এটা সত্য নয়। আর ইহুদি নাসারাগণ এই কাজ করে থাকলে, নবী মুহাম্মদের জন্য সর্বপ্রথম গনিমতের মাল ভোগ কীভাবে জায়েজ হওয়ার হাদিস থাকে?

অপপ্রচারঃ অসহায় নারীদের আশ্রয় দেয়াই ছিল উদ্দেশ্য!

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, যুদ্ধবন্দী মেয়েদের গণিমতের মাল বানানো হয়েছে তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য। যুদ্ধবন্দী নারীরা অসহায়, তাদের আশ্রয় দেওয়া না হলে তারা কোথায় যাবে? 

জবাবঃ আশ্রয়ের নামে ধর্ষণ?

কেমন আশ্রয় দেওয়া হয়েছে তার নমুনা নিশ্চয়ই দাসী আযলের ঐ হাদিস দেখে কারো বুঝতে বাকি নেই। বাজারে বিক্রি করে টাকা উপার্জন যদি আশ্রয় দেওয়া হয়, তাহলে কিছু বলার নেই।

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৯: জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ – গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।
‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।
৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৩১২৪, মুসলিম ১৭৪৭, আহমাদ ৮২০০, সহীহাহ্ ২৭৪২।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

আমরা দেখতে পাচ্ছি, অমুসলিমদের সম্পদ লুঠ করেছে মুসলিমরাই। তাদেরই সম্পদ লুঠ করে আবার তাদেরকেই আশ্রয় দেওয়া কেমন মানবিক আচরণ? যদি যুদ্ধবন্দীদের অসহায়ত্ব দূর করতেই হয়, তাহলে তাদের লুঠ করা সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দিলেই তো হয়। তাদের সম্পদ তাদের ফিরিয়ে না দিয়ে উল্টো তাদের গণিমতের মাল বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে আরো সম্পদ উপার্জনকে মুসলিমদের ভাষায় আশ্রয় দেওয়া বলে। 

যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে যখন দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন বৈধ তখন কেন তাদের একেবারে বিয়ে করে নিলো না? এর উত্তর খুব সহজ, বিয়ে করলে তো তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর বাজারে বিক্রি করতে পারবে না। তাই বাজারে বিক্রি করার সুবিধার্থে যুদ্ধবন্দী নারীদের বিয়ে না করে দাসী বানিয়ে রাখা হয়েছে।

অপপ্রচারঃ যুদ্ধবন্দী দাসী স্ত্রীর সমপর্যায়ের!

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, ক্রীতদাসী ও যুদ্ধবন্দী নারীরা অনেকটা স্ত্রীর মতো।

জবাবঃ একজন মুমিন কতজন দাসী রাখতে পারে?

বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিই হচ্ছে, স্বামী মারা গেলে তার একজন স্ত্রী এবং সন্তানগণ উত্তরাধিকার সূত্রে মৃত স্বামীর সম্পত্তির অধিকার প্রাপ্ত হন। বৈবাহিক সম্পর্ক প্রথাটি সত্যিকার অর্থে একজনার মৃত্যুর পরে তার সম্পত্তি কীভাবে বন্টন হবে, সেই কথা মাথায় রেখেই সৃষ্টি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, স্বামী মারা গেলে একজন স্ত্রী আইনগতভাবেই স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাগ পান। কিন্তু একজন দাসী বা উম্মে ওযালাদ কোনভাবেই, তার মালিক নিজে দিয়ে না গেলে কোন সম্পত্তির উত্তরাধিকার হন না। এর অর্থ হচ্ছে, স্ত্রীর মূল অধিকারটিই এখানে সংরক্ষিত হচ্ছে না।

আর দাসীবাঁদীরা যদি স্ত্রীর মতোই হয়, তাহলে তাদেরকে বাজারে বিক্রি করা বৈধ কেন, তাও আবার আযল করার পর? নিজের স্ত্রীকেও কি সাহাবীরা আযলের পর এভাবে বাজারে বিক্রি করে দিতেন? স্ত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ চার কিন্তু দাসীর সংখ্যা আনলিমিটেড। আমরা জানি, স্ত্রীর জন্য পর্দা ফরজ, দাসীর জন্য পর্দা নিষেধ। 

তাহলে তারা কোন হিসেবে দাসীবাঁদীর সাথে স্ত্রীর তুলনা করেন? একই সাথে দুই সহোদর বোনকে কিংবা পিতার দাসীকে সেক্স পার্টনার না বানানোর বিষয়টা পুরোপুরিভাবে তাদের নবীর ব্যক্তিগত রুচির সাথে সম্পর্কিত। এর সাথে দাসীবাঁদীদের স্ত্রীয়ের মতো মর্যাদা দেওয়ার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। কেন, ইসলামে তো এতগুলো করে বিয়ে ও এরপরও দাসীসেক্স জায়েজ এমনকি খালাতো বোনকে বিয়ে করাও জায়েজ কিন্তু দুধমায়ের মেয়েকে বিয়ে করা হারাম, এর সাথেও কি অধিকার/মর্যাদা বিষয়ক কোনো কিছু সংশ্লিষ্ট নাকি এটা সরাসরি আল্লাহ/তাদের নবীর নিজস্ব সিদ্ধান্তের সাথে সম্পৃক্ত? তাহলে দাসীবাঁদী ও স্ত্রীকে এক করে ফেলা কতটা সত্য? 

অপপ্রচারঃ বন্দীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য?

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, বন্দিনীরা যদি তাদের সাথে সম্পর্কে রাজি না-ই থাকতো, তবে মালিকরা তাদের বিক্রি করে দিতো, যাতে অন্য মালিকের কাছে দাসী চলে যেতে পারে। এতে করে হয়তো দাসীর অন্য মালিকের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন ঘটে। এখানে ধর্ষণের ব্যাপার-স্যাপার কোথা থেকে আসলো?

জবাবঃ কিসের সম্পর্ক স্থাপন?

ইতিপূর্বে আমরা যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে  আযল করে তারপর বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার হাদিস দেখেছি। সেই হাদিসটিই প্রমাণ করে, সদালাপ, রেসপন্স টু এন্টি ইসলামের লেখকরা হয় মানসিক বিকারগ্রস্ত অথবা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সত্যকে আড়াল করতে বুদ্ধিবৃত্তিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। হাদিসে আমরা দেখেছি, মালিকেরা যুদ্ধবন্দী নারীদের গণিমতের মাল হিসেবে পাওয়ার পর আযল বা নিরুদ্ধ সঙ্গম করে যাতে আযল বা নিরুদ্ধ সঙ্গমের পর বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায়। এই হাদিসটি কি সদালাপ, রেসপন্স টু এন্টি ইসলাম জানে না? তারপরেও কিভাবে এমন হাস্যকর পয়েন্ট উপস্থাপন করতে পারে?

এছাড়াও যখনই ইসলামে দাসপ্রথার বিষয়টি আলোচনায় আসে, মুসলিমরা তখন বলে, ইসলাম দাসদাসীদের মুক্ত করার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে, তাদের সাথে ভালো আচরণ; নিজে যা খাবে, নিজে যা পরবে, দাসদাসীদেরকেও তা খাওয়াতে পরাতে বলেছে, দাসীদেরকে স্ত্রীর সমপরিমাণ ভরণপোষণ দিতে বলেছে, দাসীদেরকে বিবাহ করতে উৎসাহিত করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। 

ইসলামে যত দাসমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো বেশিরভাগই মুসলিম দাস ছিল। তাদেরকে তাদের মালিকদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে ইসলামের খেদমতের জন্য, যাতে কোনো মুসলিম নারীপুরুষ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো দাসত্বে না থাকে। কিন্তু এরাই আবার যুদ্ধক্ষেত্রে কাফের, মুশরেকদের দাস বানিয়েছে। নিচের হাদিসটি দেখুন, এই হাদিসে ইমানদার দাসদাসী মুক্ত করার ব্যাপারেই বলা হয়েছে।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ২১/ দাসমুক্তি
পরিচ্ছেদঃ ৪. দাসমুক্তির ফযীলত
৩৬৫৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন ঈমানদার ক্রীতদাস মুক্ত করবে আল্লাহ তার (শরীরের) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিনিময়ে তার (শরীরের) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন- এমনকি তিনি তার (মুক্তদাসের) গুপ্তস্থানের পরিবর্তে তার (মুক্তিকারীর) গুপ্তস্থানও রক্ষা করবেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

আসল বিষয়টা হলো, যখন ভারত, মিয়ানমার, চীনে মুসলিমদের উপর অত্যাচার হয়, তখন মুসলিমরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিপক্ষে প্রতিবাদ করে কিন্তু বাংলাদেশ, পাকিস্তানে তারা নিজেরাই সংখ্যালঘু নির্যাতন করে। দাসদাসী সম্পর্কে ইসলামের অবস্থানও এমনই। যখন মুসলিম দাসদাসী হয়, তার ক্ষেত্রে ইসলাম উদার কিন্তু ইসলাম নিজেই আবার অন্য ধর্মের মানুষকে দাসদাসী বানানোর ব্যপারে সিদ্ধহস্ত। তাই এটাকে মহত্ব ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

ইসলাম দাসদাসীদের কেমনভাবে মূল্যায়ন করেছে তা প্রসিদ্ধ ইসলামিক গ্রন্থ ফিকহে হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বইটি থেকেই দেখে নিই। [14]

বইটিতে বলা আছে, দাসদাসীদের কেউ হত্যা করলে এর বিনিময়ে হত্যাকারীকে প্রাণদন্ড দেওয়া যাবে না। কেননা দাসদাসীরা মর্যাদার দিক থেকে চতুস্পদ জন্তুর ন্যায়। এটা ইসলামের প্রথম খলিফা ও নবীজীর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হযরত আবু বকরের রায়। এমনকি যদি দাস তার মালিকের হাতে মারা যায়, তবে এই হত্যার বিনিময়ে ঘাতক মালিককে মাত্র একশ চাবুক ও এক বছর বন্দী, এক বছর ফাইয়ের অংশ মূলতবী রাখা হবে।  মুসান্নাফ-আবদুর রাজ্জাকে আছে- আবু বকর ও ওমর রাঃ ক্রীতদাস হত্যার বিনিময়ে স্বাধীন কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করতেন না। বরং তাকে একশ চাবুক, এক বছর বন্দী, এক বছরের জন্য ফাইয়ের অংশ মূলতবী রাখতেন। 

ইসলামই যে সর্বপ্রথম দাসদাসী মুক্ত করতে বলেছে বিষয়টা এমন না। নবী মুহাম্মদের জন্মের আগেও দাসমুক্ত করাকে ভালো কাজ হিসেবে গণ্য করা হতো এবং অনেকেই দাসমুক্ত করত। নবী মুহাম্মদের জন্মগ্রহণ উপলক্ষ্যে তাঁর চাচা দাসমুক্ত করে দিয়েছিলেন, তখন কিন্তু ইসলাম ছিল না কিংবা নবীজীর চাচা মুসলিম ছিলেন না, তবুও তারা দাসমুক্ত করেছেন। নিচের হাদিসটি দেখুন, ইসলামে সবচাইতে ঘৃণিত চরিত্রের একজন আবূ লাহাবও স্বয়ং মুহাম্মদের জন্মের সময় মুহাম্মদের লালন পালনের জন্য, দুধ পান করাবার জন্য নিজের একজন দাসীকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/২১. আল্লাহ্ বলেন,),‘‘তোমাদের জন্য দুধমাকে বিয়ে) হারাম করা হয়েছে।’’সূরাহ আন্-নিসা ৪/২৩)
৫১০১. উম্মু হাবীবাহ বিনতে আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার বোন আবূ সুফিয়ানের কন্যাকে বিয়ে করুন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর? তিনি উত্তর করলেন, হাঁ। এখন তো আমি আপনার একক স্ত্রী নই এবং আমি চাই যে, আমার বোনও আমার সঙ্গে উত্তম কাজে অংশীদার হোক। তখন নাবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামউত্তর দিলেন, এটা আমার জন্য হালাল নয়। আমি বললাম, আমরা শুনতে পেলাম, আপনি নাকি আবূ সালামাহর মেয়েকে বিয়ে করতে চান। তিনি বললেন, তুমি বলতে চাচ্ছ যে, আমি উম্মু সালামাহর মেয়েকে বিয়ে করতে চাই। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, যদি সে আমার প্রতিপালিতা কন্যা না হত, তাহলেও তাকে বিয়ে করা হালাল হত না।
কেননা, সে দুধ সম্পর্কের দিক দিয়ে আমার ভাতিজী। কেননা, আমাকে এবং আবূ সালামাহ্কে সুওয়াইবা দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং, তোমরা তোমাদের কন্যা ও বোনদেরকে বিয়ের জন্য পেশ করো না। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, সুওয়াইবা ছিল আবূ লাহাবের দাসী এবং সে তাকে আযাদ করে দিয়েছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুধ পান করায়। আবূ লাহাব যখন মারা গেল, তার একজন আত্মীয় তাকে স্বপ্নে দেখল যে, সে ভীষণ কষ্টের মধ্যে নিপতিত আছে। তাকে জিজ্ঞেস করল, তোমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়েছে। আবূ লাহাব বলল, যখন থেকে তোমাদের হতে দূরে আছি, তখন থেকেই ভীষণ কষ্টে আছি। কিন্তু সুওয়াইবাকে আযাদ করার কারণে কিছু পানি পান করতে পারছি। (৫১০৬, ৫১০৭, ৫১২৩, ৫৩৭২; মুসলিম ১৭/৪, হাঃ ১৪৪৯, আহমাদ ২৭৪৮২)(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৩০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু হাবীবা (রাঃ)

এমন ঘটনাও আছে, যেখানে নবী মুহাম্মদ স্বাধীন হয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে পুনরায় দাস বানিয়েছেন। 

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৪১/ গোলাম আযাদ করা
পরিচ্ছেদঃ ১৫৯০. মুদাববার বিক্রি করা।
২৩৬৭। আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের একজন তার এক গোলামকে মুদাব্‌বাররূপে আযাদ ঘোষণা করল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই গোলামকে ডেকে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, গোলামটি সে বছরই মারা গিয়েছিলো।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
Narrated Jabir bin `Abdullah:
A man amongst us declared that his slave would be freed after his death. The Prophet (ﷺ) called for that slave and sold him. The slave died the same year.

গ্রন্থের নামঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ দাস মুক্তি
পরিচ্ছেদঃ ১০. যে ব্যক্তি এক-তৃতীয়াংশের কমে গোলাম আযাদ করে- তার সম্পর্কে।
৩৯২০. মুসাদ্দা (রহঃ) … ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি মৃত্যুকালে তার ছয়টি গোলাম আযাদ করে দেয় এবং এ ছয়টি গোলাম ব্যতীত তার আর কোন সম্পদ ছিল না। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌঁছলে তিনি গোলামদের মধ্যে লটারীর ব্যবস্থা করেন এবং দু’জনকে আযাদ করেন এবং বাকী চারজনকে গোলামীতে বহাল রাখেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)

দাসীকে প্রহার করতেন স্বয়ং নবীজীর জামাতা ও আপন চাচাতো ভাই হযরত আলী রাঃ, নবীজীর সামনেই তিনি দাসীকে বেদম প্রহার করতেন অথচ নবীজী তাকে কিছু বলেননি। [15]

ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিত্ব হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং ইসলামের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তার বাসায় ক্রীতদাসীগণ নগ্ন বক্ষে পানীয় পরিবেশন করতেন বলে হাদিস থেকে জানা যায়। নিচর হাদিসটি দেয়া হচ্ছে, সেটি পড়ুন। এই হাদিসটি ইসলাম ওয়েব ডট নেট নামক প্রখ্যাত একটি ফতোয়া এবং হাদিস বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে। মূল হাদিস গ্রন্থেও হাদিসটি বর্ণিত আছে। হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে কিতাব আল সুনান আল কুবরা গ্রন্থে। এবং প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদিসটি তাহক্বীক বা করেছেন। উল্লেখ্য, একটা হাদীস ঠিক কতখানি বিশুদ্ধ তা নির্ণয়ের জন্য তাহক্বীক করা হয়।

كتاب السنن الكبرى » كتاب الصلاة » جماع أبواب لبس المصلي » باب عورة الأمة
بحث في نص الكتاب معلومات عن الكتاب كتاب السنن الكبرى
2جزءالتالي صفحة
227
السابق
3127 ( وأخبرنا ) أبو القاسم عبد الرحمن بن عبيد الله الحرفي ببغداد ، أنبأ علي بن محمد بن الزبير الكوفي ، ثنا الحسن بن علي بن عفان ، ثنا زيد بن الحباب عن حماد بن سلمة ، قال : حدثني ثمامة بن عبد الله بن أنس عن جده أنس بن مالك قال : كن إماء عمر – رضي الله عنه – يخدمننا كاشفات عن شعورهن ، تضرب ثديهن .
قال الشيخ : والآثار عن عمر بن الخطاب – رضي الله عنه – في ذلك صحيحة ، وإنها تدل على أن رأسها ورقبتها وما يظهر منها في حال المهنة ليس بعورة ، فأما حديث عمرو بن شعيب فقد اختلف في متنه ؛ فلا ينبغي أن يعتمد عليه في عورة الأمة ، وإن كان يصلح الاستدلال به وبسائر ما يأتي عليه معه في عورة الرجل . وبالله التوفيق

হাদিসের মূল অংশঃ حدثني ثمامة بن عبد الله بن أنس عن جده أنس بن مالك قال : كن إماء عمر – رضي الله عنه – يخدمننا كاشفات عن شعورهن ، تضرب ثديهن .

হাদিসের ইংরেজি অনুবাদঃ Thumama bin Abdullah bin Anas told me on the authority of his grandfather Anas bin Malik who said: They were the slave girls of Umar – may God be pleased with him – who served us, revealing their hair, hitting their breasts.

এই হাদিসটিতে দেখা যাচ্ছে, যার বাঙলা অনুবাদ হচ্ছে, থুমামা ইবন আবদুল্লাহ বিন আনাস তার দাদা আনাস বিন মালিকের বরাতে বর্ণনা করেছেন, খলিফা উমরের মহলে দাসীগণ আমাদের পানীয় পরিবেশন করতো, যাদের চুল দেখা যেতো, এবং সেই চুল তাদের স্তন্যে ধাক্কা খেতো। পাঠক লক্ষ্য করুন, এই হাদিসের এই অংশটি,

تضرب ثديهن .

এর অর্থ হচ্ছে, hitting their breasts. উল্লেখ্য, এই হাদিসটিকে আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী হাসান বা Good গ্রেডিং দিয়েছেন। [16]

হযরত উমরের পুত্র এবং নবী মুহাম্মদের আরেক সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উমর হাদিস ও ফিকহের একজন বড় পণ্ডিত ছিলেন। উনার সম্পর্কে একটি গুরুত্বপুর্ণ হাদিস পাওয়া যায় মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক গ্রন্থে, যেটি খুবই প্রাচীন একটি হাদিস গ্রন্থ। হাদিসটিতে বলা হচ্ছে, উনি বাজার থেকে দাসী কিনতেন, কেনার সময় টিপে টিপে দেখতেন দাসীদের। স্তন্যের মাঝখানে তিনি হাত দিয়ে দুলিয়ে দেখতেন, দাসীদের স্তন কেমন। খুবই গুরুত্বপুর্ণ হাদিস গ্রন্থ আবদুর রাজ্জাকের প্রণিত হাদিস গ্রন্থের এই হাদিসটি পাওয়া যাবে ইসলাম ওয়েব ডট নেট ওয়েবসাইটে। হাদিস সম্পর্কে যারা অভিজ্ঞ, তারা এই হাদিসটি সম্পর্কে জানেন। [17]

مصنف عبد الرزاق » كتاب الطلاق » باب الرجل يكشف الأمة حين يشتريها 13198 عبد الرزاق ، عن ابن جريج ، عن عطاء قال قلت له الرجل يشتري الأمة ، أينظر إلى ساقيها ، وقد حاضت ، أو إلى بطنها ؟ قال ” نعم ” ، قال عطاء كان ابن عمر ” يضع يده بين ثدييها ، وينظر إلى بطنها ، وينظر إلى ساقيها ، أو يأمر به “
13204 عبد الرزاق ، عن ابن عيينة قال : وأخبرني ابن أبي نجيح ، عن مجاهد قال : ” وضع ابن عمر يده بين ثدييها ، ثم هزها ” .

হাদিসের মূল অংশঃ

قال عطاء كان ابن عمر ” يضع يده بين ثدييها ، وينظر إلى بطنها ، وينظر إلى ساقيها ، أو يأمر به “
” وضع ابن عمر يده بين ثدييها ، ثم هزها ” .

বাঙলা অনুবাদঃ

আতা বলেছিলেন: ইবনে উমর তাঁর স্তনগুলির মাঝে হাত রাখতেন, পেটের দিকে তাকাতেন, তার পা দেখতেন বা আদেশ দিতেন।
ইবনে উমর তাঁর স্তনগুলির মাঝে হাত রাখলেন, তারপর তা ঝাকালেন।

অপপ্রচারঃ মুসলিম দাসদাসীও ছিল!

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, দাসদাসীদের মধ্যে শুধু যুদ্ধবন্দী অমুসলিমরাই ছিলো না, পাশাপাশি অনেক মুসলিম দাসদাসীও ছিলো। 

জবাবঃ জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ!

ইসলাম অনুযায়ী অমুসলিম পুরুষ বিয়ে করা (সে যে ধর্মেরই হোক) এবং ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ব্যতীত অন্য নারীদের বিবাহ করা হারাম। এছাড়া তারা যে সূরা নিসা আয়াত ২৫ এর কথা বলে থাকে, সেখানে স্পষ্টভাবেই মুসলিম দাসদাসী বিয়ে করার কথা বলেছে। আর একজন মুসলিম অন্য কোনো মুসলিমকে বিয়ে করতেই পারে, এতে মহানত্বের কিছু নেই। কিন্তু যুদ্ধবন্দীরা হলো অমুসলিম এবং ক্ষেত্রবিশেষে মুশরিক অর্থাৎ আহলে কিতাবেরও অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই ইসলামে দাসদাসীদের বিবাহের বিষয়টা শুধু মুসলিম দাসদাসীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যুদ্ধবন্দীরা যেহেতু মুসলিম নয়, তাই ইসলাম কোনোভাবেই যুদ্ধবন্দীদের বিবাহ করতে উৎসাহিত করে না। 

মুসলিমরা যুদ্ধবন্দী নারীকে ইসলামে দীক্ষিত করে তাকে বিয়ে করার কথা বলে থাকে। আমার প্রশ্ন, ইসলাম গ্রহণ না করলে কেন বিবাহ করা যাবে না? ইসলাম গ্রহণ করলে বিবাহিত স্ত্রী আর না করলে যৌনদাসী হয়ে বারবার আযল ও বিক্রি হয়ে যেতে হবে এটা কেমন মানবতা? এটা তো আসলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্মান্তর ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারে বনু কুরায়জার যুদ্ধে বন্দী হওয়া রায়হানা নামক একজন নারী। তিনি বন্দী হবার পর রাসূলুল্লাহ তাকে ইসলাম গ্রহণ করার শর্তে বিয়ের প্রস্তাব দেন কিন্তু সেই নারী রাসূলের প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন ও ইয়াহুদী ধর্মের উপর অবিচল থাকেন। ফলে তিনি সেই সময়ে যৌনদাসী হয়েই থাকেন। 

আর যদি যুদ্ধবন্দীরা ইসলাম গ্রহণ করে থাকে, সেক্ষেত্রে তাকে বিবাহ করার মধ্যেও ইসলামের কোনো মাহাত্ম্য নেই। কারণ সে তখন আর যুদ্ধবন্দীদের  অন্তর্ভুক্ত থাকলো না, তখন সে মুসলিম হয়ে গেলো। 

অপপ্রচারঃ দাসীদের ছেড়ে দিলে তারা পতিতা হতো

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, যদি সেসব নারীদের ছেড়ে দেওয়া হতো, তাহলে তারা নিজেদের জৈবিক চাহিদা মেটাতে এবং অর্থের অভাব পূরণ করতে পতিতাবৃত্তি করত, এতে করে তারা সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করত। তাই সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাদেরকে দাসী বানিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বন্টন করা হয়েছে। 

জবাবঃ তাহলে বন্দী করে আনা হতো কেন?

সেসব নারীদের ছেড়ে দিলে কি হত সেটা কেউ জেনে রাখে নি। এগুলো হলো নিতান্তই ফাও পেঁচাল। যদি বিশৃঙ্খলাই হতো, তাহলে স্বামী জীবিত থাকা বা স্বামী দারুল হরবে থাকা মেয়েদের সাথে কেন সঙ্গম করা হতো? উপরে সেই হাদিসগুলো দেয়া হয়েছে।

সত্যিকার অর্থে কাফেরদের অর্থসম্পদ লুট করেছে মুসলিমরাই। তাছাড়া, আযলের হাদিস থেকে আমরা দেখলাম, মুসলিম মালিকেরা কিভাবে যুদ্ধবন্দী নারীদের যৌন সম্ভোগের বস্ত বানিয়ে নিজেরা টাকা কামিয়েছে। একই সাথে সেক্স করা ও বিক্রি করা দুইটাই জায়েজ। মুসলিম পুরুষেরা চারজন বিবি থাকার পরেও যখন আনলিমিটেড দাসী সহবাস করে, তখন কি শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় না? আপনাদের মুখে তো এসব শৃঙ্খলার কথা মানায় না। হাদিসের মাধ্যমে দেখতে পেলাম, যুদ্ধবন্দী নারীদের আযল করে বাজারে বিক্রি করছে, বিক্রির পর আবার যার ভাগে পড়বে সেও আযল করে বাজারে বিক্রি করে দিবে। এভাবে সাহাবাগণ যুদ্ধবন্দী নারীদের দিয়ে এক প্রকার  পতিতাবৃত্তিই করাচ্ছে। কিন্তু সেই পতিতাবৃত্তির দ্বারা উপার্জিত পয়সা ভোগ করছে সাহাবীরাই, যুদ্ধবন্দী নারীরা তা ভোগ করতে পারছে না। আমি শুধু এটুকুই বলব, যদি যুদ্ধবন্দী নারীরা মুসলিমদের দাসী না হয়ে নিজেকে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতো, তাহলে অন্তত পতিতাবৃত্তির ফলে উপার্জিত অর্থ নিজেরা ভোগ করতে পারত, তাদের টাকা সাহাবিরা ভোগ করতে পারত না। সবচেয়ে বড় কথা, তারা স্বাধীন জীবনযাপন করতে পারত। তাই নিঃসন্দেহে এটা বলা যায় যে, মুসলিমদের দাসী হওয়ার থেকে পতিতাবৃত্তি করাটাও যুদ্ধবন্দী নারীদের জন্য শতগুণ ভালো ছিল। 

অপপ্রচারঃ দাসীর সন্তান মনিবের সন্তানের মর্যাদা পায়

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, ইসলাম অনুযায়ী দাসীর গর্ভে যদি কোনো মনিবের সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তবে তা ঐ মনিবের সন্তান হিসেবে গণ্য হবে। এই যুক্তি দিয়ে অনেকে ইসলামকে মহান ধর্ম হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে।

জবাবঃ সংখ্যা বৃদ্ধিই ছিল উদ্দেশ্য

যুদ্ধবন্দী কাফির নারীর গর্ভে মুসলিম সন্তান জন্মদান এক প্রকার জিহাদ যাকে বলা হয় জরায়ু জিহাদ। জরায়ু জিহাদের উদ্দেশ্য হলো কাফির নারীর গর্ভে মুসলিম শিশু পয়দা করে বিশ্বব্যপী মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। অথচ এমন জঘন্য কাজকে তারা ইসলামের মহত্ব হিসেবে দেখছে। কী ভযাবহ বিষয।  

অপপ্রচারঃ ইসলাম ইদ্দত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, হাদিসে বলা হয়েছে, যুদ্ধবন্দী নারী মালিকানায় আসা মাত্রই তার সাথে সহবাস করা যাবে না। ইদ্দতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এতে করে সেই যুদ্ধবন্দী নারী তার মনিবের সাথে সহবাসের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় পাবে। 

জবাবঃ অপেক্ষা করলে ধর্ষণ হালাল হয়?

ওয়েটিং পিরিয়ড এক দিন থেকে এক মাসও হতে পারে আবার গর্ভবতী হলে নয় মাসও হতে পারে? অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে কোন কোন যুদ্ধবন্দী নারীকে যুদ্ধে স্বজন হারিয়ে তার শোক কাটিয়ে একদিনের মাঝেই তার মুসলিম মালিকের সাথে মিলিত হবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেতে হবে, আবার কেউ কেউ কয়েক সপ্তাহ সময় পাবে, কপাল ভালো হলে কেউ কেউ কয়েক মাস। এটা কি যৌক্তিক? আসল ব্যাপার যেকোনো স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষ বুঝতে পারবে। ইসলামে মুজাহিদকে মাসিকের অথবা প্রসবের জন্য অপেক্ষা করবে যাতে এই বন্দিনীর সাথে মিলনের ফলে যদি কোন সন্তান হয় সেটা যে তার সন্তানই সেটা যাতে নিশ্চিত হওয়া যায়।

অপপ্রচারঃ ইসলামে আহবানের জন্যে

ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে, যুদ্ধবন্দী নারী মুসলিম মনিবের দাসী হওয়ায় সে খুব কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে, বুঝতে, উপলব্ধি করতে পারে। এতে হয়তো সে ইসলাম গ্রহণ করে নিতে পারে, যা তার জন্যে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তি আর চিরশান্তির জান্নাতের নিশ্চয়তা দিতে পারে।

জবাবঃ আহবানের জন্য ধর্ষণ?

এই পয়েন্ট দেখে আর হাসি থামাতে পারলাম না। আমরা সবাই জানি, ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ইসলাম ত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এর থেকে বুঝা যায়, যারা আগে থেকে মুসলিম, তারাই কি পরিমাণে ইসলাম ত্যাগ করে অমুসলিম হতে আগ্রহী। মুসলিমরা নিজেদের ধর্মের লোকদের নিয়েই কত বেশি চিন্তিত যাতে তাদেরই কেউ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামের প্রকৃত চিত্র অন্যদের কাছে উন্মোচন করতে না পারে। যেখানে মুসলিমরা নিজেরাই ইসলাম ত্যাগ করতে চায়, সেখানে অন্য ধর্মের লোকেরা নাকি ইসলামের মহান আদর্শ দেখে দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করবে এজন্য তাদেরকে মুসলিমদের দাস বানানো হত।

তারা কি আযলের পর দাসীকে বাজারে বিক্রয়ের হাদিসটি ভুলে গেছেন নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছেন? এই হাদিসটি থেকেই পরিষ্কার হয়, মুমিনরা দাসীকে নিজের কাছে রাখতো না। দাসীদের দ্বারা নিজেদের জৈবিক চাহিদা মিটিয়ে সেই দাসীকে বাজারে বিক্রি করে দিত। তাহলে সেই দাসী আর মুসলিম মনিবের কাছে থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানা বা বোঝার সুযোগ পেল কিভাবে? তার আগেই তো সেই মুসলিম মনিব তাকে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে।

মিথ্যাচারঃ ইসলামিস্ট সাইটগুলোর আরো মিথ্যাচার

একটি ইসলামিস্ট সাইটে যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষণকে জায়েজ করতে যেই যুক্তিটি তুলে ধরা হয়েছে, সেটি এখানে হুবুহু তুলে ধরা হলো। ইসলামিস্টদের দাবী হচ্ছে,

১.২.২ মুক্তিপণ বা বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তকরণের পরও যে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবন্দি রয়ে যেত, তাদের নি:শর্তভাবে মুক্ত করে দেওয়া ইসলামী রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য যেমন হুমকিস্বরূপ ছিল, তেমনি কারাবন্দি করে রাখাও ছিল ব্যয়বহুল ও অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ। সহজ পন্থা ছিল প্রচলিত নিয়মে ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি হিসেবে তাদেরকে বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া।

জবাবঃ উদ্দেশ্য ছিল কাফের নারী ভোগ

কারাবন্দি করে রাখা ব্যয়বহুল ও অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ ছিলো? আপনারা আমাদের অর্থনীতি শেখান? তাহলে আল্লাহ আপনাদেরকে যে লুঠের মাল ভোগ করার বৈধতা দিয়েছেন সেগুলো দিয়ে কি করতেন? অমুসলিমদের ধনসম্পদ লুঠ করার পরেও তাদের ভরণপোষণ করা আপনাদের জন্য আপনাদের অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ ছিল? আপনাদের মিথ্যাচার ও পাবলিককে বোকা বানানোর কৌশলগুলো সত্যিই অসাধারণ। 

তো আপনারা কবে যুদ্ধবন্দীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন? আপনারা তো তাদের উল্টো বাজারে বিক্রি করে আরো পয়সা কামিয়েছেন আবার অর্থনীতির উপর চাপস্বরূপ মার্কা ফালতু কথাবার্তা বলতে এসেছেন। তাদের সম্পদ লুঠ করেও শখ মিটলো না, তাই তাদের বাজারে বিক্রি করে দিতেন। তাতেও শখ মিটলো না। তাই আপনাদের সাহাবারা যুদ্ধবন্দি মেয়েদের বাজারে বিক্রি করার আগে তাদেরকে ধর্ষণ করতেন। এতেও শখ মিটতো না, তাই স্পেশাল পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন যার নাম আযল যাতে সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে। মানে ধর্ষণও করা যায় কিন্তু গর্ভধারণ রোধ করায় বাজারে বিক্রি করে বেশি দাম পেতে পারেন। এরপরেও এরা কিভাবে অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ শব্দটা উচ্চারণ করতে পারে?

মিথ্যাচারঃ অন্যরা করতো তাই ইসলামও করে

একটি ইসলামিস্ট সাইটে যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষণকে জায়েজ করতে যেই যুক্তিটি তুলে ধরা হয়েছে, সেটি এখানে হুবুহু তুলে ধরা হলো,

১.২.১ ইসলাম একটি বাস্তব ধর্ম। একগালে চড় খেলে আরেক গাল পেতে দেবার ধর্ম ইসলাম নয়। ইসলামে যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি বানানো কোন জরুরী বিষয় না হলেও যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি বানানো তখনকার সময়ে একটি প্রচলিত নিয়ম ছিল। যুদ্ধে মুসলিমরা অমুসলিমদের হাতে বন্দি হলে তাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হতো। যতদিন পর্যন্ত মুসলিম যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি হবার সম্ভাবনা দূর না হয়, ততদিন পর্যন্ত মুসলিমদের জন্য অমুসলিম যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি বানানোর সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজ অনুসারীদের নিশ্চিত বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেবার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ইসলাম কিছুতেই নিতে পারে না। তবে ক্রীতদাস প্রথার এই উন্মুক্ত দ্বার বন্ধ করার চাবি অমুসলিমদের হাতেই রয়েছে। অমুসলিমরা মুসলিমদের সাথে মুসলিম যুদ্ধবন্দিদের ক্রীতদাস/ক্রীতদাসি না বানানোর চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ক্রীতদাস প্রথার এই উন্মুক্ত পথটি চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।

জবাবঃ ইসলামে অতর্কিত আক্রমণ বৈধ

এর উত্তর কয়েকটি পয়েন্ট করে দেয়া হচ্ছে। প্রথম দাবী হচ্ছে, ইসলামে মুসলিমরা যুদ্ধবন্দীদের দাসদাসী/গণিমতের মাল না বানালে অমুসলিমরা যখন খুশি মুসলমানদের উপর আক্রমণ করতো। অথচ, আগ বাড়িয়ে আক্রমণ ইসলামেই সম্পূর্ণ বৈধ। যারা কোনো গালে চড় না খেয়েই চড় দিতে আসে, তারা এক গালে চড় খেলে যে কী কী করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখতে পাই, মুসলিমরাই আগে অমুসলিমদের সাথে যুদ্ধ শুরু করেছে। এমনকি রেসপন্স টু এন্টি ইসলাম, সদালাপ তারাও তাদের লেখায় পরোক্ষভাবে বলেছে, অন্য ধর্ম বিলুপ্ত করে ইসলাম কায়েম করতে তারা জিহাদ করত। এর থেকে সহজেই অনুমেয়, মুসলিমরাই যে অমুসলিমদের উপর প্রথম আক্রমণ করত।

অন্য ধর্মের আচার অনুষ্ঠান যে ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক আর কুফর তা সবাই জানি। মুসলিমদের যুদ্ধ করার উদ্দেশ্য হিসেবে তারা প্রথমেই দেখিয়েছে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপর ইসলাম চাপিয়ে দেওয়ার জন্যই তারা যুদ্ধ করতো। তারা নিজেরাই স্বীকার করে নিল, তারাই যে আগ বাড়িয়ে অমুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতো।

তারা বরাবরই তৎকালীন সময়ের যুদ্ধনীতিকে দায়ী করে। কিন্তু সহীহ হাদিস থেকে জানতে পারি, তৎকালীন আরবদের যুদ্ধনীতির চেয়ে নীচ ও জঘন্য ছিল ইসলামের যুদ্ধনীতি। তৎকালীন যুদ্ধনীতির বাইরেও অনেক নতুন বিষয় সংযোজন করেছে ইসলাম। যেমনঃ

“ইসলাম প্রবর্তনের আগে লুঠের মাল ভোগ করা বৈধ ছিলো না, কিন্তু আল্লাহ আমাদের দুর্দশা ও দুর্বলতা দেখে লুটের মাল ভোগ করা বৈধ করেছেন।”

বনু কায়নুকার ঘটনা

ইহুদিদের বনু কাইনুকা গোত্র ছিল পেশায় কর্মকার, স্বর্ণকার ও তৈজসপত্র নির্মাতা। বদর যুদ্ধের কিছুদিন পর তাদের বাজারে এক মুসলিম মেয়ে এক ইহুদি স্বর্ণের দোকানে একটি কাজে গিয়েছিল। ঐ মুসলিম মহিলা যখন ঐ দোকানে গিয়েছিলেন তখন ঐ ইহুদি কর্মচারী মুসলিম মহিলাটির মুখ খুলতে বলে। কিন্তু মহিলাটি তার মুখ খুলতে রাজি না হওয়ায় মহিলাটি যখন স্বর্ণের দোকানের একটি চেয়ারে বসে, তখন ইহুদি কর্মচারীটি ওই মহিলার পোশাকে পেরেক মেরে চেয়ারের সাথে আটকে দেয়, ফলে উঠতে গিয়ে ঐ মহিলার জামা ছিঁড়ে সারা শরীর অনাবৃত হয়ে যায়। মুসলিম মহিলার আর্তনাদ শুনে এক মুসলিম পথচারী এটা দেখে খেপে গিয়ে ঐ ইহুদি কর্মচারীকে হত্যা করেন, এরপর ইহুদি কর্মচারীর পক্ষের কয়েকজন ইহুদি মিলে ঐ মুসলমানকে হত্যা করে ফেলে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নবী মুহাম্মদ বনু কায়নুকা গোত্র আক্রমণ করেন। তার ইচ্ছে ছিল, এই অজুহাতে সমস্ত বনু কায়নুকা গোত্রকেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলবেন। কিন্তু ঐ অপরাধটি যারা করেছে, তারা ছাড়া অন্যদের ওপর এই অপরাধের দায় চাপানো কতটা মানবিক ও যৌক্তিক, নাকি নৃশংসা এক যুদ্ধনেতার গণহত্যা চালাবার অজুহাত, তা পাঠকই সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু একজন মানবিক মানুষ মাত্রই বুঝবেন, কোন অপরাধ ঘটে থাকলে সেই অপরাধীদের চিহ্নিত করা, তাদের যথাযোগ্য শাস্তি দেয়া যেতে পারে। কিন্তু কিছু মানুষের অপরাধে গোটা গোত্রের ওপর নিধনযজ্ঞ, নারী শিশুদের গনিমতের মাল বানানো, সম্পত্তি সব দখল করা, এগুলো বড় ধরনের অন্যায় এবং অন্যায্য কাজ।

৬২৪ খ্রিস্টাব্দে নবী মুহাম্মদ ইহুদি গোত্র বানী কাইনুকার উপরে ১৫ দিন ব্যাপী একটি অবরোধ চালিয়েছিলেন। উপায় না দেখে বনু কাইনুকা গোত্রটি নিঃশর্তভাবে মুহাম্মদের বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। মুহাম্মদ সেই গোত্রের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের শিরশ্ছেদ করে তাদের নারী ও শিশুদের দাস বানাতে চেয়েছিলেন, যেন সমস্ত আরব উপদ্বীপে ত্রাস সৃষ্টি করা যায়। বনু কায়নূকার ঘটনার সময় মদিনার শক্তিশালী স্থানীয় নেতা ছিলেন খাজরাজ বংশের প্রধান আবদুল্লাহ বিন উবাই। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং মুহাম্মদের হিজরতের সময় মদিনার নেতা। মুহম্মদের উত্থানের সাথে তার প্রভাব ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। বনু কায়নুকার অবরোধের সময় আবদুল্লাহ বিন উবাই মুহাম্মদের গণহত্যার ইচ্ছেটি বুঝতে পারেন, এবং রক্তপিপাসু এই নবীকে জামার কলার ধরে এই গণহত্যা থেকে নিবৃত করেন। মুহাম্মদ রেগেমেগে প্রায় কালো হয়ে যান, কিন্তু আবদুল্লাহ বিন উবাই প্রায় জোর করেই মুহাম্মদকে বাধ্য করেন, যেন বনু কায়নুকাকে মুহাম্মদ নৃশংসভাবে জবাই করতে না পারে। এর থেকে বোঝা যায়, নবী মুহাম্মদের ইচ্ছে ছিল, বনু কায়নুকার সমস্ত পুরুষকে হত্যা করা এবং মেয়ে ও শিশুদের গনিমতের মাল বানানো।

বনু নাযির

বনু আমীর ও বনু নাযির এই দুই গোত্রের মধ্যে শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি ছিল। কিন্তু বনু নাযীরের এক ব্যক্তি প্রতিশোধ হিসেবে বনু আমীরের দুই ব্যক্তিকে হত্যা করেন। মুহাম্মদ ছিলেন ঐ দুই ব্যক্তির নিরাপত্তার জিম্মিদার। মদিনায় মুসলিমরা শক্তিশালী হয়ে উঠলে ইহুদীদের নানা গোত্রের সঙ্গে নানা চুক্তি হয় যেমন ইহুদীদের তারা নিরাপত্তা দিবে বিনিময়ে তারা মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে হাত মিলাবে না ইত্যাদি শর্তে। বনু আমীরের সেই দুই ব্যক্তি নিরাপত্তার জিম্মাদার যেহেতু মুহাম্মদ তাই “রক্তপণ (দিয়্যাত)” বা ক্ষতিপূরণ আদায় করতে বনু নাযীর গোত্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে গেলেন। এ সময় আল্লাপাক সাত আসমান থেকে দেখে ফেললেন যে তার নবীকে বনু নাযীরের লোকজন উপর থেকে পাথর গড়িয়ে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছে। সঙ্গে সঙ্গে জিব্রাইল এসে সে-ঘটনা নবীকে কানে কানে জানিয়ে দিলে নবী কাউকে কিছু না বলেই সেখান থেকে মদিনায় চলে আসেন। তার সঙ্গে সাহাবীরা তাকে না পেয়ে মদিনায় ফিরে গিয়ে নবীর কাছে ইহুদীদের “গোপন ষড়যন্ত্র” সম্পর্কে জানতে পারেন।(সূত্র: সিরাতুন নবী (সা:), তৃতীয় খন্ড,  ইবন হিশাম (র:), পৃষ্ঠা- ১৮৮)।- এটাই হচ্ছে বনু নাযীরকে শাস্তি দেয়ার একমাত্র “ইসলামী কার্যকারণ”! বনু নাযীরকে উচ্ছেদের বিষয়ে ইসলামী স্কলাররা এই “ভয়ংকর আসমানী অভিযোগটিকেই” তুলে ধরে ইহুদীদের ইসলামের জন্য হুমকি স্বরূপ হিসেবে চিহিৃত করেন।

একটি গোত্রকে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের ঐতিহাসিক ভিত্তি কি হতে পারে আল্লার ওহি? দুনিয়ার কোন ঐতিহাসিক কি ওহি জাতীয় কোন রেফারেন্সকে মেনে নিবেন? আপনি আক্রমনের আশংকার করলে নিজেকে বাঁচাতে যে কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই পারেন। পারেন আপনার আততায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু তার জন্য থাকতে হবে বাস্তব কোন ভিত্তি। নবী মুহাম্মদের প্রাপ্ত ওহি কেবল মাত্র তাকে নবী বলে বিশ্বাস করা কিছু মানুষ ব্যতিত দুনিয়ার আর কোন মানুষের কাছে কি কোন মূল্য আছে? আর এরকম একটি “অলৌকিক ষড়যন্ত্রের” অভিযোগে একটা পুরো জাতিকে তার জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদের নজির দুনিয়াতে আর দ্বিতীয়টি আছে কিনা সন্দেহ! কথিত আল্লার ওহিকে যদি আমাদের এই ঘটনার জন্য যৌক্তিক মনে হয় তাহলে কি আজকের যুগের ফিলিস্তিনীদের নিজ ভূমি থেকে ইহুদীকর্তৃক যে উচ্ছেদ করা হচ্ছে- তাকেও কি তাহলে মেনে নিতে হয় না? কারণ ইজরায়েল রাষ্ট্র হচ্ছে ইহুদীদের ঈশ্বরকৃত স্থির করে দেয়া তাদের আবাসস্থল! কিন্তু কোন বিবেকবাণ মানুষ যেমন ফিলিস্তিনীদের বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করাকে মেনে নিতে পারে না, তেমনি সেই একই নৈতিক দিক থেকে প্রমাণহীন একটি অভিযোগ যা কিনা নবীই একমাত্র জানেন ওহির মারফত- এরকমটা মেনে নেয়া আর যাই হোক কোন বিবেকবাণ মানুষের কাজ নয়। এটা পরিষ্কার বনু নাযীর গোত্রকে বলপ্রয়োগে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটা স্রেফ রক্তপাতহীন হবার কিন্তু কোন চান্সই ছিল না। যদি না আবদুল্লাহ ইবন উবাই তাদের প্রতিবেশী বনু নাযীরদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে না আসতেন। মুহাম্মদ তখন পর্যন্ত আবদুল্লাহ’র প্রভাবকে অস্বীকার করতে পারতেন না। তাই মেনে নিতে হয়েছিল আবদুল্লার অনুরোধকে।

নবী মুহাম্মদ এরপর কথিত তাকে হত্যার অভিযোগে তার সঙ্গীদের বনু নাযীর গোত্রতে আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে ঘোষণা করেন। হিযরী চতুর্থ সনে রবিউল আউয়াল মাসে নবী তার সঙ্গীদের নিয়ে বনু নাযীর গোত্রকে আক্রমণ করতে এগিয়ে যান এবং বনু নাযীরদেরকে তাদের দূর্গে ছয়দিন অবরোধ করে রাখেন। এই সময়েই মদ পানের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি নাযিল হয় কুরআনে। সম্ভবত মুসলিম বাহিনী যাতে মদ্যপান করে বেশামাল হতে না পারে এটা তারই চেষ্টা। তবে এই অবরোধে যে ভয়ংকর কাজটি  নবী করেন তা হচ্ছে বনু নাযীরদের সমস্ত খেজুর বাগানকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে শেষ করে দেয়া! জামাত শিবির কি সারা দেশের হাজার হাজার গাছ কেটে, আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধের যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা কি এই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে?… লক্ষণীয় যে নবী নিজে যেমন বিভিন্ন সময়ে নিজেই কুরআনের কথাকে অমান্য করেছেন, তেমনি নিজের কথাকেই নিজে লঙ্ঘন করেছেন। বনু নাযীরের লোকজন সেকথাই চিৎকার করে মুহাম্মদকে বলতে লাগলেন, “হে মুহাম্মদ! আপনি তো নাশকতামূলক কাজ করতে নিষেধ করতেন এবং কেউ করলে তার নিন্দা করতেন। এখনে যে নিজেই খেজুর বাগান কাটছেন আর তাতে অগ্নি সংযোগ করছেন? (সূত্র: সিরাতুন নবী (সা:), তৃতীয় খন্ড,  ইবন হিশাম (র:), পৃষ্ঠা- ১৮৯)।

আবদুল্লাহ ইবন উবায় বনু নাযীরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়ে শেষে তাদেরকে বিনা রক্তপাতহীনভাবে চলে যাবার ব্যবস্থা করেন। শর্ত হলো বনু নাযীর তাদের অস্ত্রশস্ত্র মুসলিমদের কাছে সমর্পন করে কেবল মাত্র ঐ পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে যেতে পারবে যা তাদের উটের উপর চাপাতে পারে। বাকী রেখে যাওয়া সম্পত্তিগুলোর মালিক হন স্বয়ং নবী মুহাম্মদ। এগুলো তিনি যেমন ইচ্ছা ব্যবহার করতেন। অন্যের সম্পক্তিকে এভাবেই আল্লাহ তার প্রিয় বন্ধুকে দান করলেন!

বনু মুস্তালিক

ইসলামে অতর্কিত আক্রমণ সম্পূর্ণ বৈধ, একইসাথে তাদের নারী শিশুদের বন্দী করাও ইসলামে সম্পূর্ণ জায়েজ। [18]

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছেদঃ ১. যে সকল বিধর্মীর কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছে, পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত তাদের বিরুদ্ধে আক্রমন পরিচালনা বৈধ
৪৩৭০। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) … ইবনু আউন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি নাফি’ (রহঃ) কে এই কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া প্রয়োজন কি না? তিনি বলেন, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (নিয়ম) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ মুসতালিকের উপর আক্রমণ করলেন এমতাবস্থায় যে, তারা অপ্রস্তুত ছিল (তা জানতে পারেনি।) তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল। তখন তিনি তাদের যোদ্ধাদের (পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ) হত্যা করলেন এবং অবশিষ্টদের (নারী শিশুদের) বন্দী করলেন। আর সেই দিনেই তাঁর হস্তগত হয়েছিল। (ইয়াহইয়া বলেন যে, আমার ধারণা হল, তিনি বলেছেন) জুওয়ায়রিয়া অথবা তিনি নিশ্চিতরূপে ইবনাতুল হারিছ (হারিছ কন্যা) বলেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এই হাদীস আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই সেনাদলে ছিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু ‘আউন (রহঃ)

বনু কুরাইজা

জুহরের সময় জিবরীল (আ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন। তাঁর মাথায় ছিল রেশমের পাগড়ী। তিনি রেশমী কাপড়ে আবৃত জীনধারী খচ্চরে আরোহণ করে ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি অস্ত্র ত্যাগ করেছেন?” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ‘হ্যাঁ।’ জিবরীল বললেন, “কিন্তু ফেরেশতারা এখনও অস্ত্র ত্যাগ করেনি। আর আপনিও রণাঙ্গন থেকে মুসলমানদের দাবীতেই ফিরছেন! হে মুহাম্মাদ আল্লাহ আপনাকে বনু কুরাইযার বিরুদ্ধে অভিযান যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমিও সেখানে যাবো এবং তাদের তছনছ করে ছাড়বো।”

এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনকে এই মর্মে ঘোষণা করতে বললেন, “যেসব লোক আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের কথা মানবে, তারা যেন বনু কুরাইযার এলাকায় গিয়ে আছরের নামায পড়ে।”

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালিবের পুত্র আলীকে (রা) নিজের পতাকা নিয়ে বনু কুরাইযার এলাকা অভিমুখে যাত্রা করার নির্দেশ দিলেন। মুসলমানগণও তাঁর অনুসরণ করলেন। আলী (রা) রওনা হয়ে তাদের দুর্গের কাছাকাছি পৌঁছতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে একটা যঘন্য উক্তি শুনতে পেলেন। এসব শুনে তিনি ফিরে চললেন, পথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে দেখা হলে তিনি বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, এসব জঘন্য লোকদের কাছে আপনার যাওয়া উচিত নয়।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “কেন? মনে হয়, তুমি তাদের কাছ থেকে আমার সম্পর্কে কোন কটু ও অশ্রাব্য কথা শুনেছো।” আলী (রা) বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, সত্যই তাই।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমাকে দেখলে তারা ঐ ধরনের কিছুই বলতো না।” অতঃপর তিনি বনু কুরাইযার দুর্গের কাছাকাছি পৌঁছে বললেন, “হে বানরের ভাইয়েরা, আল্লাহ তোমাদের লাঞ্ছিত করেছেন তো? তাঁর শাস্তি ভোগ করছো তো?” তারা বললো, “হে আবুল কাসিম, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি প্রচলিত ডাক নাম) তোমার তো কিছুই অজানা নেই।”

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু কুরাইযার ‘আত্তা’ নামক কূপের কাছে এসে তাঁবু স্থাপন করলেন। মুসলমানরা দলে দলে এসে তাঁর সাথে মিলিত হতে লাগলো। কেউ কেউ ইশার শেষ জামাতের পরেও এলেন। তারা তখনও আছর পড়েননি। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন বনু কুরাইযার এলাকায় গিয়ে আছরের নামায পড়তে। অনন্যোপায় হয়েই তাঁরা যুদ্ধের খাতিরে নামায বিলম্বিত করেছিলেন। তাই তাঁরা এশার পরে আছর পড়েন। এ জন্য কুরআনে তাঁদেরকে তিরস্কার করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে পঁচিশ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখলেন। ফলে তাদের নাভিশ্বাস উঠেছিলো। আর আল্লাহ তায়ালা তাদের মনে ভীতির সঞ্চার করেছিলেন।

কুরাইশ ও গাতফান গোত্রের লোকজন স্বদেশ অভিমুখে রওনা হয়ে যাওয়ার পর হুয়াই ইবনে আখাতাব বনু কুরাইযার সাথে তাদের দুর্গে অবস্থান করতে থাকে। বনু কুরাইযা দেয়া প্রতিশ্রুতি পালনের উদ্দেশ্যেই সে সেখানে অবস্থান করতে থাকে। বনু কুরাইযা সুনিশ্চিতভাবে যখন বুঝতে পারলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে যুদ্ধ না করে কিছুতেই ফিরে যাবেন না, তখন কা’ব ইবনে আসাদ গোত্রের লোকদের ডেকে বললো, “হে ইহুদীগণ শোনো! তোমাদের ওপর কি মুসিবত এসেছে দেখতে পাচ্ছো, এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমি তোমাদের কাছে তিনটি প্রস্তাব রাখছি। এর যে কোন একটা গ্রহণ করতে পার।” তারা বললো, “সে প্রস্তাবগুলো কি?” সে বললো, “মুহাম্মাদকে আমরা সবাই অনুসরণ করি ও মেনে নেই। আল্লাহর কসম, তিনি যে নবী তা আমাদের কাছে সুস্পষ্ট। আমাদের ধর্মগন্থেও তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। এভাবে আমরা আমাদের নিজের এবং স্ত্রী ও সন্তান সন্ততির জান ও মালের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ হতে পারবো।” তারা বললো, “আমরা কখনো তাওরাতের কর্তৃত্ব অস্বীকার করবো না এবং তার বিকল্পও গ্রহণ করবো না।” সে বললো, “এটা যদি না মানো তাহলে এসো আমরা আমাদের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের সাবইকে হত্যা করি। তারপর তরবারী নিয়ে মুহাম্মাদ ও তঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে লড়াই করি। তখন আমাদের পেছনে কোন ঝামেলা ও দায়দায়িত্ব থাকবে না। তারপর আল্লাহ আমাদের ও মুহাম্মাদের মধ্যে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে থাকবো। যদি আমরা নিহত হই তাহলে আমাদের বংশধরদের পরিণাম সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হয়েই মরতে পারবো। আর যদি জয়লাভ করি তাহলে নতুল করে স্ত্রী এবং সন্তানাদিও লাভ করতে পারবো।” সবাই বললো, “এই নিরীহ প্রিয়জনদেরকে মেরে ফেলবো এও কি সম্ভব? ওরাই যদি না থাকলো তাহলে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে আমাদের বেঁচে থেকে লাভ কি?” কা’ব বললো, “এটাও যদি অস্বীকার করো তাহলে আর একটা উপায় অবশিষ্ট থাকে। আজ শনিবারের রাত। সম্ভবতঃ মুহম্মাদ ও তাঁর সাহবীগণ আজকে আমাদের ব্যাপারে নিশ্চন্ত থাকবে। তাই, এসো, আমরা আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে মুহাম্মাদ ও তাঁর সঙ্গীদের হত্যা করি।” তারা বললো, “আমরা কি এভাবে শনিবারটার অমর্যাদা করবো? এ দিনে আমাদের পূর্ববর্তীরা যা করেনি, তাই করবো? অবশ্য কিছুসংখ্যক লোক করেছিলো। তার ফলে তাদের চেহারাও বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো তা তোমাদের অজানা নেই।” কা’ব বললো, “আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে একটি লোকও এমন জন্মেনি, যে সারা জীবনে একটি রাতের জন্যও স্থির ও অবিচল সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে।”

তারপর কোন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়ে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দূত পাঠিয়ে অনুরোধ করলো যে, “আপনি আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযিরকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। তার সাথে আমরা কিছু পরামর্শ করবো।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পাঠিয়ে দিলেন। আবু লাবাবা গেলে সমগ্র গোত্রের লোক তার পাশে জমায়েত হলো এবং নারী ও শিশুরা তার কাছে গিয়ে কাঁদতে লাগলো। সে দৃশ্য দেখে আবু লুবাবার হৃদয় বিগলিত হলো। তারা বললো, “হে আবু লুবাবা তুমি কি মনে করো, মুহাম্মাদের ফায়সালাই আমাদের মেনে নেয়া উচিত?” তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ সেই সাথে নিজের গলায় হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝালেন যে, সে ফায়সালা হত্যা ছাড়া আর কিছু নয়।

বনু কুরাইজা গণহত্যা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছি [19]

সবচেয়ে বড় কথা, যেসব যুদ্ধ দুইপক্ষের  যুদ্ধ ছিল, তেমন কোনো যুদ্ধেই অমুসলিমদের গণিমতের মাল বানানো হয় নি। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে যুদ্ধাভিযানের নামে ছোট ছোট ইহুদি গোত্রগুলির উপর অতর্কিত আক্রমণ ও হামলা হয়েছিল, যেমন বনু মুস্তালিক অভিযান, বনু কুরায়জা অভিযান, কেবল সেসব যুদ্ধেই পুরুষদের হত্যা ও নারী, শিশুদের গণিমতের মাল বানানো হয়। 

কিন্তু যেসব যুদ্ধে কাফিররা প্রথমে আক্রমণ করেছে, সেই যুদ্ধগুলোতে মুসলিমরা হয় হেরে গেছে না হয় যুদ্ধের ভয়ে গা ঢাকা দিতে চেয়েছে। উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা কুরাইশদের কাছে পরাজিত হয়েছে। খন্দকের যুদ্ধে মক্কার কোরাইশদের ভয়ে মুসলিমরা মদিনার চারপাশে গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল যাতে কোরাইশরা প্রবেশ করতে না পারে।

অতএব যেসব যুদ্ধের নামে মুসলিমরা গুপ্ত আক্রমণ করেছিল, সেইসব যুদ্ধেই মুসলিমরা পুরুষদের হত্যা করে নারী, শিশুদের গণিমতের মাল বানানোর সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু মুসলিমরা সত্যিকার যুদ্ধে কখনোই অমুসলিমদের গণিমতের মাল বানানো হয় নি। অতএব ইসলামে দাসপ্রথা না থাকলে অমুসলিমরা যখন খুশি মুসলমানদের উপর আক্রমণ করতো, তাদের এমন যুক্তি শুধু অমূলকই নয়, হাস্যকরও বটে। 

উপসংহার

দাসপ্রথা যদি বন্ধ করারই দরকার হয়, তাহলে দাসীদের সাথে সেক্স করার অনুমতি দিয়ে বিয়ে করার উৎসাহ দেওয়াটা খুব ইম্প্রাক্টিক্যাল অ্যাডভাইস। মানুষ স্বভাবতই চায় যে অতিরিক্ত দায়-দায়িত্ব যতসম্ভব এড়িয়ে যেতে। যখন দাসির সাথে সেক্স করে শান্তিতে দিন কাটানোই যাচ্ছে, তখন তাকে বিয়ে করার কী দরকার? আবার আরেকটা বিষয় আছে, অনেকে হাদিস সাইট করে যে ইসলামে দাস-দাসিকে নিজেরা যা খাওয়াবে তাদেরও তাই খাওয়াতে বলা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে এরকম উপদেশ সঙ্গতকারণেই কয়জন মানুষ মানবে? এর চেয়ে দাসপ্রথাটা না থাকলেই কি অনেক ভালো হতো না? বাংলাদেশে শিশুশ্রম বিরোধী অনেক আইন আছে (যেমনঃ ১২ বছরের কম বয়সী কাওকে কাজে নেওয়া যাবে না, ভারী কাজ করানো যাবে না, পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে হবে… ইত্যাদি ইত্যাদি)। এখন কথা হচ্ছে, এই আইনগুলোর একটাও কি আদৌ মানা হয়? আপনি নিজের চারপাশেই দেখুন। খুলনার জাহাজভাঙা কারখানায়ও শিশুশ্রমিক নেওয়া হয়। আর বার বছরের নিচের আইনটাতো কেউই মানে না প্রায়। শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য উপযোগী সমাধান হচ্ছে প্রতিটা শিশুর পরিবারের খাদ্য এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করা (উন্নত দেশে সোশ্যাল সিকিউরিটির মত কর্মসূচি দিয়ে এটা করা হয়)। শুধু শুধু আইন প্রণয়ন করে রেখে বাংলাদেশে শিশুশ্রমের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া সম্ভব না। ঠিক একইভাবে কিছু আলগা উপদেশ দিয়ে দাসপ্রথার কিছু করা সম্ভব না। অনেকে বলতে পারে এতক্ষণে যে ঠিকমত রাসূলের আদর্শ অনুসরণ না করে দাসদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাটা শরিয়া আইন ঠিকমতো প্রয়োগ না করার ফসল, ইসলাম এর দায় নেবে কেন? এটা True Scottishman Fallacy। যেই আইন ঠিকমত বাস্তবায়ন করা যেতে পারে না, সেটা ভালো আইন হতে পারে না। এছাড়াও একইভাবে বলা যায় বাংলাদেশে যাবতীয় সমস্যার বিরুদ্ধে আইন আছে, কিন্তু তাও বাল্যবিবাহ বা শিশুশ্রমের মত সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না কেন? খুব সহজ। বাংলাদেশের শিশুশ্রম নিশ্চিহ্ন করতে হলে সোশ্যাল সিকিউরিটির অধীনে প্রতিটা পরিবারে দৈনিক খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং শিশুদের শিক্ষার পুরো খরচ রাষ্ট্রকে নিতে হবে। এগুলো না করে শিশুশ্রমের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলেও দেশ থেকে কোনোদিন শিশুশ্রম যাবে না। আবার বাংলাদেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আছে (এবং সেটা নিয়মিতই প্রয়োগও করা হয়)। কিন্তু তারপরও দেশ থেকে বাল্য বিবাহ যায় না কেন? একই কারণ। বাল্যবিবাহ আইন দিয়ে কোনো লাভ নেই। যেটা করতে হবে, বাল্যবিবাহের পেছনের কারণ (ধর্মীয় গোড়ামি, রাস্তায় চলাফেরায় নারীর নিরাপত্তা, নারীর জন্য কর্মসংস্থানে সমান বেতন নিশ্চিত করা) নিয়ে কাজ করতে হবে– এবং এগুলো নিয়ে কঠোর আইন করতে হবে। আবার অনেক মুমিন দেখি বলার চেষ্টা করে যে ইসলামের কারণেই নাকি আজ দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়েছে– এর চেয়ে বড় মিথ্যাচার আর হতে পারে না। আরব মুসলিম দেশগুলোতে দাস-প্রথা বিলোপ করা হয় সবার শেষে (বিংশ শতাব্দিতে এসে)। এমনকি আরবদের দাসব্যবসা এতো জমজমাট ছিলো যে তারা শাসকেরা অনেকেই দাসপ্রথা বিলোপ করতেই চায়নি। মূলত দাসপ্রথা বিলোপের কারণ ছিলো ফরাসি এনলাইটেনমেন্ট আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে উন্নত বিশ্বে মুক্তচিন্তার প্রসার। কুরআন বা হাদিস থেকে এমনটা প্রমাণ করার কোনো সুযোগ নেই যে মুহাম্মদের মৃত্যুর পর কেউ দাসপ্রথা বন্ধ করে দেবে এমন আদেশ ছিলো। পশ্চিমা দেশগুলোর এনলাইটেনমেন্ট আন্দোলন না হলে হয়ত আজও দাসপ্রথা থেকেই যেত পৃথিবীতে।

নামকরণের যৌক্তিকতা

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই লেখাটির নামকরণ কেন নাকে দড়ি বাঁধা কথাটি বলা হয়েছে। সত্যিকার অর্থে কথাটি আমাদের মানে নাস্তিকদের নয়। কথাটি স্বয়ং নবী মুহাম্মদের। নবী মুহাম্মদ মুমিনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, মুমিন ব্যাক্তি হচ্ছে নাসারন্ধ্রে লাগাম পরানো উটতুল্য।

গ্রন্থের নামঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ভূমিকা পর্ব
পরিচ্ছেদঃ ৬. হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ি রাশিদীনের সুন্নাতের অনুসরণ।
২/৪৩। ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এমন হৃদয়গ্রাহী নাসীহাত করেন যে, তাতে (আমাদের) চোখগুলো অশ্রু ঝরালো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হল। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এতো যেন নিশ্চয়ই বিদায়ী ভাষণ। অতএব আপনি আমাদের থেকে কি প্রতিশ্রুতি নিবেন (আদেশ দিবেন)? তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের আলোকিত দ্বীনের উপর রেখে যাচ্ছি, তার রাত তার দিনের মতই (উজ্জ্বল)। আমার পরে নিজেকে ধ্বংসকারীই কেবল এ দ্বীন ছেড়ে বিপথগামী হবে।
তোমাদের মধ্যে যে বেঁচে থাকবে সে অচিরেই অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। অতএব তোমাদের উপর তোমাদের নিকট পরিচিত আমার আদর্শ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের আদর্শ অনুসরণ করা অবশ্য কর্তব্য। তোমরা তা শক্তভাবে দাঁত দিয়ে আকড়ে ধরে থাকবে। তোমরা অবশ্যই আনুগত্য করবে, যদি হাবশী গোলামও (তোমাদের নেতা নিযুক্ত) হয়। কেননা মুমিন ব্যাক্তি হচ্ছে নাসারন্ধ্রে লাগাম পরানো উটতুল্য। লাগাম ধরে যে দিকেই তাকে টানা হয়, সে দিকেই যেতে বাধ্য হয়।
তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। 
তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৯৩৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  
বর্ণনাকারীঃ ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার


লেখকঃ অতিথি লেখক
সম্পাদনা, সংযোজন এবং পরিমার্জনাঃ আসিফ মহিউদ্দীন


তথ্যসূত্রঃ

  1. মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), আধুনিক প্রকাশনী, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৩ []
  2. সীরাতুন নবী (সা.) ২য় খন্ড- ইবনে হিশাম (র.), পৃষ্ঠা ৩২৭ []
  3. সহীহ বুখারী (তাওহীদ), হাদিস নম্বর- ৭৪০৯ []
  4. বুখারী শরীফ । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দশম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৫৪৯। হাদিস নম্বর ৬৯০৫ []
  5. সহজ নসরুল বারী, শরহে সহীহ বুখারী, ১১ তম খণ্ড, আরবি-বাংলা, সহজ তরজমা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ উসমান গনী, আল কাউসার প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৫০৭, ৫০৮ []
  6. ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ৩য় খন্ড, অধ্যায়ঃ গোলাম আযাদ করা, পৃষ্ঠা ১৪৬-১৪৭ []
  7. সহিহ বুখারী হাদিস নং ৪৩৫০, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন, হাদিস নং ৪০১২ []
  8. সহীহুল বুখারী। তাওহীদ প্রকাশনী। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা নম্বর ২১০। হাদিস নম্বর ৪৩৫০ []
  9. নাসরুল বারী শরহে সহীহ আল বুখারী, ৮ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৫৬-৪৫৭ []
  10. সূনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নাম্বার: ৩৯৬১ []
  11. সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০৬। ডাউনলোড লিঙ্ক []
  12. সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বরঃ ২১৫২ []
  13. সীরাতুন নবী (সাঃ) , ইবনে হিশাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা ৩৩৩-৩৩৫ []
  14. ফিকহে হযরত আবু বকর, আধুনিক প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ১০২-১০৩ []
  15. সীরাতুন নবী (সাঃ), ইবনে হিশাম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০৯, ৩১০ []
  16. جماع أبواب لبس المصل []
  17. مصنف عبد الرزاق []
  18. সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। ষষ্ঠ খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৮১। হাদিস নম্বর ৪৩৭০ []
  19. বনু কুরাইজা অভিযান বিষয়ক সকল অপপ্রচারের জবাব []

View Comments (4)

  • আপনার দাবি এবং তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ.
    বাস্তবতা হচ্ছে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেছে.

    "মা মালাকাত আইমানুকুম" এর ভয়ঙ্কর ভুল ব্যাখ্যা...

    বিয়ে ব্যতিত যেকোন সেক্সকে ব্যভিচার বলে, একজন মুসলিম হিসাবে এটার প্রতি ঘৃনা প্রকাশ করছি। এটাকে কঠিন ভাবে দেখা সত্ত্বেও কিছু মানুষ কোরআনের অপব্যাখ্যা দিয়ে নারী লোভী কিছু মানুষের ভোগের খোরাকের নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করছে। আল্লাহ আমাদের জানান দেন যে,
    সুরা বাকারা - ২:৪২
    وَلاَ تَلْبِسُواْ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُواْ الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
    তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না। [২:৪২]

    # প্রথমে কথা হবে “মা মালাকাত আইমানুকুম বা আইমানুহুন্না" নিয়ে, যার প্রকৃত অর্থ হলো – তারাই , যারা তোমার শপথ বা অঙ্গীকারের আওতাধীন।"আইমানু” শব্দটি হলো “ইয়ামিন” শব্দের বহুবচন , যার অর্থ হলো – শপথ বা অঙ্গীকার , ইংরেজিতে OATH.
    এখন তাহলে মালিকানাভুক্ত বা চুক্তিবদ্ধ কারা? যুদ্ধবন্দী,আশ্রয় গ্রহণকারী, অফিসের কর্ম চারী, যেকোন ধরনের সেবক সহ যাবতীয় মানুষ যারা কোন কিছুর বিনিময়ে বা অর্থের বিনিময়ে তাদের নির্দিষ্ট সময় বা কর্ম বিক্রি করে,তারাই। দয়া করে অন্যভাবে নিবেন না।
    উদাহরণ হিসাবে যুদ্ধবন্দীরা মুক্তিপনা দিতে না পারলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হয় যদিও বর্তমান যুগে তাদের জেলখানাতে রেখে কর্মের বিনিময় খানা দেওয়া হয়, ডাক্তার নির্দিষ্ট ভিজিট নিয়ে নির্দিষ্ট সময় ধরে রুগীর সেবা দেয় একই ভাবে অন্যরাও অর্থের বিনিময়ে সেবা দেয়।
    মুলত আমরা তিন ধরনের চুক্তিবদ্ধ বা মালিকনা ভুক্ত কর্মচারী পাই।
    ১/ অল্প সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ, যারা যেকোন সময় চুক্তি শেষ করতে পারে।
    ২/ দীর্ঘ সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ মুক্তিপনের সমপরিপান আদায় না হওয়া পর্যন্ত।
    ৩/ কিছু মানুষ আছে নিজ গোত্র বা সমাজ বা ধর্মের থেকে বাচার জন্য আপনার আওতাধীন হয়।

    এখন বিয়ের আদেশ কিভাবে সেটা জানার বিষয়..প্রথম শ্রেনীর জন্য পরিবারের অনুমতি নিয়েই এবং মোহরানা দিয়েই কেবল কোন “মা মালাকাত আইমানুকুমের” সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায়।

    সুরা নিসা - ৪:২৫

    وَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ مِنكُمْ طَوْلاً أَن يَنكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِن مِّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُم مِّن فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ وَاللّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِكُمْ بَعْضُكُم مِّن بَعْضٍ فَانكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلاَ مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ وَأَن تَصْبِرُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
    আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের শপথভুক্ত মুসলিম নারীকে(আইমানুকুম) বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের পরিবারের (أَهْلِهِنَّ) অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। …[4:25]
    ★যদিও এই আয়াতে أَهْلِهِنَّ কে উদ্দেশ্য মুলক ভুল অনুবাদ করা হয়।

    দ্বীতিয় শ্রেনীর তথা যুদ্ধবন্দীদের জন্য কি নিয়ম সেটা জানার জন্য নীচের আয়াত বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়।

    ৪:২৪ وَّ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ۚ کِتٰبَ اللّٰهِ عَلَیۡکُمۡ ۚ وَ اُحِلَّ لَکُمۡ مَّا وَرَآءَ ذٰلِکُمۡ اَنۡ تَبۡتَغُوۡا بِاَمۡوَالِکُمۡ مُّحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ ؕ فَمَا اسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِهٖ مِنۡهُنَّ فَاٰتُوۡهُنَّ اُجُوۡرَهُنَّ فَرِیۡضَۃً ؕ وَ لَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا تَرٰضَیۡتُمۡ بِهٖ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡفَرِیۡضَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ﴿۲۴﴾و المحصنت من النساء الا ما ملکت ایمانکم ۚ کتب الله علیکم ۚ و احل لکم ما وراء ذلکم ان تبتغوا باموالکم محصنین غیر مسفحین فما استمتعتم بهٖ منهن فاتوهن اجورهن فریضۃ و لا جناح علیکم فیما ترضیتم بهٖ منۢ بعد الفریضۃ ان الله کان علیما حکیما ﴿۲۴﴾
    ★আর নারীদের মধ্য থেকে সধবাদেরকে।তবে তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তারা ছাড়া,এটি তোমাদের উপর আল্লাহর বিধান এবং ★এরা ছাড়া সকল নারীকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যে, ★তোমরা তোমাদের অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে চাইবে বিবাহ করে, অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে নয়। সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে ভোগ করেছ তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর দিয়ে দাও। আর নির্ধারণের পর যে ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সম্মত হবে তাতে তোমাদের উপর কোন অপরাধ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

    ★★উপরুক্ত আয়াতে তালাক ব্যাতিত আল্লাহ আমাদের সকল সধবা নারী নিষেধ করেছেন তবে সধবা মালিকনা ভুক্তরা ছাড়া ( তালাক ব্যাতিত,কারণ তাদের জামাইরা কাফের থাকে এটা ক্লিয়ার হতে ৬০ঃ১০ দেখুন) এবং এ ছাড়া সকল নারীকে অর্থের বিনিময়ে বিবাহ করতে বলেছেন, ব্যাভিচার ১০০% নিষিদ্ধ। এখানে স্পস্ট শর্ত বিয়ে।

    এবার তৃতীয় শ্রেনীর জন্য আদেশ দেখি...

    ৬০:১০ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا جَآءَکُمُ الۡمُؤۡمِنٰتُ مُهٰجِرٰتٍ فَامۡتَحِنُوۡهُنَّ ؕ اَللّٰهُ اَعۡلَمُ بِاِیۡمَانِهِنَّ ۚ فَاِنۡ عَلِمۡتُمُوۡهُنَّ مُؤۡمِنٰتٍ فَلَا تَرۡجِعُوۡهُنَّ اِلَی الۡکُفَّارِ ؕ لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمۡ وَ لَا هُمۡ یَحِلُّوۡنَ لَهُنَّ ؕ وَ اٰتُوۡهُمۡ مَّاۤ اَنۡفَقُوۡا ؕ وَ لَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ اَنۡ تَنۡکِحُوۡهُنَّ اِذَاۤ اٰتَیۡتُمُوۡهُنَّ اُجُوۡرَهُنَّ ؕ وَ لَا تُمۡسِکُوۡا بِعِصَمِ الۡکَوَافِرِ وَ سۡـَٔلُوۡا مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ وَ لۡیَسۡـَٔلُوۡا مَاۤ اَنۡفَقُوۡا ؕ ذٰلِکُمۡ حُکۡمُ اللّٰهِ ؕ یَحۡکُمُ بَیۡنَکُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ﴿۱۰﴾یایها الذین امنوا اذا جاءکم المؤمنت مهجرت فامتحنوهن الله اعلم بایمانهن ۚ فان علمتموهن مؤمنت فلا ترجعوهن الی الکفار لا هن حل لهم و لا هم یحلون لهن و اتوهم ما انفقوا و لا جناح علیکم ان تنکحوهن اذا اتیتموهن اجورهن و لا تمسکوا بعصم الکوافر و سـٔلوا ما انفقتم و لیسـٔلوا ما انفقوا ذلکم حکم الله یحکم بینکم و الله علیم حکیم ﴿۱۰﴾
    হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কাছে মু’মিন মহিলারা হিজরত করে আসলে তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা করে দেখ। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে অধিক অবগত। অতঃপর যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা মুমিন মহিলা, তাহলে তাদেরকে আর কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠিও না। তারা কাফিরদের জন্য বৈধ নয় এবং কাফিররাও তাদের জন্য হালাল নয়। তারা* যা ব্যয় করেছে, তা তাদেরকে ফিরিয়ে দাও। তোমরা তাদেরকে বিয়ে করলে তোমাদের কোন অপরাধ হবে না, যদি তোমরা তাদেরকে তাদের মোহর প্রদান কর। আর তোমরা কাফির নারীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রেখ না, তোমরা যা ব্যয় করেছ, তা তোমরা ফেরত চাও, আর তারা যা ব্যয় করেছে, তা যেন তারা চেয়ে নেয়। এটা আল্লাহর বিধান। তিনি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

    ★★সকল অধিকার ভুক্তদের বিয়ের আদেশ নীচের আয়াতে স্পষ্ট
    ৪:৩ وَ اِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تُقۡسِطُوۡا فِی الۡیَتٰمٰی فَانۡکِحُوۡا مَا طَابَ لَکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ مَثۡنٰی وَ ثُلٰثَ وَ رُبٰعَ ۚ فَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تَعۡدِلُوۡا فَوَاحِدَۃً اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ؕ ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَلَّا تَعُوۡلُوۡا ؕ﴿۳﴾و ان خفتم الا تقسطوا فی الیتمی فانکحوا ما طاب لکم من النساء مثنی و ثلث و ربع ۚ فان خفتم الا تعدلوا فواحدۃ او ما ملکت ایمانکم ذلک ادنی الا تعولوا ﴿۳﴾
    আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীমদের ব্যাপারে তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একটি অথবা তোমাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে। এটা অধিকতর নিকটবর্তী যে, তোমরা যুলম করবে না।

    # এবার আরো কিছু অপব্যাখ্যার মুল ভাষ্য দেখি প্রথমে দেখি সুরা মুমিনুনের ৬-৭ নিয়ে অনেকে এটা প্রমান করতে চাই বিয়ে ব্যাতিত অধিকার ভুক্তদের সাথে সেক্স হালাল,এটা বিকৃত মানসিকতার প্রতিফল মাত্র। বিষটা যে চরম মিথ্যা তা আমরা আয়াত গুলা পড়লেই বুঝবো..

    قَدۡ أَفۡلَحَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ
    অবশ্যই সফলকাম হয়েছে(১)
    ٱلَّذِينَ هُمۡ فِي صَلَاتِهِمۡ خَٰشِعُونَ
    যারা তাদের সালাতে ভীত-অবনত (২)
    وَٱلَّذِينَ هُمۡ عَنِ ٱللَّغۡوِ مُعۡرِضُونَ
    আর যারা অসার কর্মকাণ্ড থেকে থাকে বিমুখ (৩)
    وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِلزَّكَوٰةِ فَٰعِلُونَ
    এবং যারা যাকাতে সক্রিয় (৪)
    وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِفُرُوجِهِمۡ حَٰفِظُونَ
    আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে হিফাজত রাখে (৫)
    إِلَّا عَلَىٰٓ أَزۡوَٰجِهِمۡ أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُمۡ فَإِنَّهُمۡ غَيۡرُ مَلُومِينَ
    নিজেদের স্ত্রীদের ও অধিকারভুক্তদের ছাড়া, এদের কাছে তারা তিরস্কৃত হবে না (৬)
    فَمَنِ ٱبۡتَغَىٰ وَرَآءَ ذَٰلِكَ فَأُوْلَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡعَادُونَ
    তবে যারা এর বাইরে আরও কিছু চাইবে তারাই হবে সীমালংঘনকারী,(৭)

    ★★উক্ত আয়াতে গুলাতে আল্লাহ সফল কাম কাদের বলেছেন? যারা সালাতে ভীত অবনত হয়,যারা অপ্রয়োজনীয় কাজ করে না, যারা যাকাত দেয়, আর যারা হিজাব পালোন করে তবে স্ত্রী আর অধিকারভুক্ত তথা সেবকদের ছাড়া।
    এখন প্রশ্ন কেন তাদের সামনে হিজাব পালোন না করলেও চলবে? ভাই আপনার অসুখ হলে আপনার নার্স ডাক্তার প্রয়োজন, বৃদ্ধ হলে আয়া দরকার। আপনার অপারগতার কারনে মল মুত্র যেকোন অবস্থাতে করা লাগতে পারে তখন যদি সেবকদের পার্মিশন না থাকে তাহলে আপনাকে পচে মরতে হবে। এজন্য আল্লাহ তাদের সামনে হিজাব পালোনে শীথিল করেছেন। আর এটা সাবধান করেছেন এর চাইতে ذَٰلِكَ বেশী কিছু তথা যৌনাঙ্গ হিফাজত ব্যতিত বাড়তি আশা বা কামনা করকে সীমালঙ্ঘন কারী হয়ে যাবেন।
    ★একই কথা সুরা আল-মা’আরিজ আয়াত ২৯-৩০ এর জবাব ৩১ আছে।
    ★সুরা আহযাবের ৫০ এ আল্লাহ নবীকে বিবাহের কথা উল্লেখ করেছেন ওরা কেনো চোখে দেখেনা.. আপনি কি দেখছেন না?

    সুরা আহযাব 50
    يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللَّاتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَالَاتِكَ اللَّاتِي هَاجَرْنَ مَعَكَ وَامْرَأَةً مُّؤْمِنَةً إِن وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَن يَسْتَنكِحَهَا خَالِصَةً لَّكَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۗ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِي أَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ لِكَيْلَا يَكُونَ عَلَيْكَ حَرَجٌ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
    হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন এবং আল্লাহ প্রদত্ত অধিকারভুক্তকে হালাল করেছি আর আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে এবং কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, ★নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

    #এবার আসি দাস দাসী কি সেই কথাতে..
    দাস বা দাসী হলো তারা যারা ভাগ্যের তাড়নায় নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি, কর্ম অন্যের কাছে চিরস্থায়ী আবদ্ধ করে ফেলেছে যার নির্দিষ্ট সময় সীমা নাই। মালিকের ইচ্ছাতে তাদের ভাগ্য নির্ধারিত। কিন্তু মধ্যযুগীয় এই বর্বতার বিরুদ্ধে একমাত্র ইসলাম তাদের অধিকার নিশ্চিত করে মুক্ত করার প্রবনাতা দেখিয়েছে। আসুন দেখি কোরআন কি বলে।

    সৎকর্ম হচ্ছে দাসমুক্ত করা (সূরা ৯০:১৩)

    তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সূরা: আন-নূর ২৪, আয়াত:৩২)

    ‘সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হলো এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর কিয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের ওপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তারই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে।’ (সূরা: আল-বাকারা, আয়াত: ১৭৭, প্রাসঙ্গিক অংশ)

    ‘অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি। আপনি জানেন, সে ঘাঁটি কী? তা হচ্ছে দাসমুক্তি অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান- এতীম আত্মীয়কে অথবা ধুলি-ধুসরিত মিসকীনকে, অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার।’ (সূরা: আল-বালাদ, আয়াত: ১১-১৭)

    ‘জাকাত (সদকা) হচ্ছে ফকির মিছকিনদের জন্যে, এর ওপর নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্যে, যাদের অন্তকরণ অনুরাগী তাদের জন্যে, দাসত্বের বন্ধন থেকে মুক্ত করার মধ্যে, ঋণগ্রস্থ ব্যক্তিদের (ঋণ মুক্তির) মধ্যে, আল্লাহ তায়ালার পথে ও মুসাফিরদের জন্যে এটা আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত ফরজ; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা জানেন এবং তিনিই হচ্ছেন বিজ্ঞ, কুশলী।’ (সূরা: আত-তওবা, আয়াত: ৬০)

    ‘যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ‘যেহার’ করে, অতপর (অনুতপ্ত হয়ে) যা কিছু বলে ফেলেছে তা থেকে ফিরে আসতে যায় তাদের একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি একজন দাসের মুক্তি দান করা।’ (সূরা: আল-মূযাদালাহ, আয়াত: ৩)

    ‘অনিচ্ছাকৃত হত্যাকান্ডের জন্যে ক্ষতিপুরণ স্বরূপ নিহতের পরিবারকে রক্তমূল্য পরিশোধ করো এবং দাস মুক্ত করে দাও।’ (সূরা: আন-নিসা ৪, আয়াত:৯২)

    # আমি যেমন কোরআনে হারিকেন জালিয়ে বিবাহ ব্যতিত দাস/দাসী সেক্স পাইনি তেমন কোন হাদিস পাইনি যেখানে নবী বিয়ে ব্যতিত দাসী সেক্সের কথা বলেছেন। ব্যাপারটা এমন আমরা জানি ভাত খেতে পাত্র লাগে এখন আপনাকে ভাত খেতে বলা হলো, আপনি বিকৃতি মানসিকতার মানুষের মত মাটিতে ফেলে খেতে পারেন না। ইসলামে দাসী সেক্স হালাল তবে সেটা বিয়ের মাধ্যমে ব্যভিচারের জন্য না।
    আর যারা গোসল দেখে সহ বাসের গোসল ভাবে, তাদের কথা ভিন্ন।

    হিদায়েত পেতে গেলে কি করার আদেশ

    ৩৯:১৮ الَّذِیۡنَ یَسۡتَمِعُوۡنَ الۡقَوۡلَ فَیَتَّبِعُوۡنَ اَحۡسَنَهٗ ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ هَدٰىهُمُ اللّٰهُ وَ اُولٰٓئِکَ هُمۡ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ﴿۱۸﴾الذین یستمعون القول فیتبعون احسنهٗ اولئک الذین هدىهم الله و اولئک هم اولوا الالباب ﴿۱۸﴾
    যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে অতঃপর তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে তাদেরকেই আল্লাহ হিদায়াত দান করেন আর তারাই বুদ্ধিমান।

    A servant is not a slave...
    https://www.facebook.com/106810271767765/posts/136977752084350/?sfnsn=mo

    • সূরা মুমিনুন আয়াত ৫-৭
      [5] وَالَّذينَ هُم لِفُروجِهِم حٰفِظونَ
      [5] এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।
      [5] And those who guard their chastity (i.e. private parts, from illegal sexual acts).

      [6] إِلّا عَلىٰ أَزوٰجِهِم أَو ما مَلَكَت أَيمٰنُهُم فَإِنَّهُم غَيرُ مَلومينَ
      [6] তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।
      [6] Except from their wives or (slaves) that their right hands possess, - for then, they are free from blame;

      [7] فَمَنِ ابتَغىٰ وَراءَ ذٰلِكَ فَأُولٰئِكَ هُمُ العادونَ
      [7] অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে।
      [7] But whoever seeks beyond that, then those are the transgressors;

      সূরা মাআরিজ আয়াত ২৯-৩১

      [29] وَالَّذينَ هُم لِفُروجِهِم حٰفِظونَ
      [29] এবং যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে
      [29] And those who guard their chastity (i.e. private parts from illegal sexual acts).

      [30] إِلّا عَلىٰ أَزوٰجِهِم أَو ما مَلَكَت أَيمٰنُهُم فَإِنَّهُم غَيرُ مَلومينَ
      [30] কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না।
      [30] Except with their wives and the (women slaves) whom their right hands possess — for (then) they are not blameworthy,

      [31] فَمَنِ ابتَغىٰ وَراءَ ذٰلِكَ فَأُولٰئِكَ هُمُ العادونَ
      [31] অতএব, যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে, তারাই সীমালংঘনকারী।
      [31] But whosoever seeks beyond that, then it is those who are trespassers.

      সুতরাং মনগড়া ব্যাখ্যা বাদ দিন। সূরা মুমিনুন আয়াত ৭ ও সূরা মাআরিজ আয়াত ৩১ এ whosoever seeks beyond that/যারা এই বাইরে আরও কিছু চাইবে বলতে কি চাওয়াকে বুঝানো হয়েছে সেটা আগের আয়াত পড়লেই স্পষ্ট বুঝা যায়। আগের আয়াতে স্ত্রী ও দাসীর ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ হিফাজত/সংযত না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং পরের আয়াতে "এর বাইরে আরও কিছু চাওয়া" বলতে স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত অন্য কাউকে কামনা করাকে বুঝিয়েছে। আর যৌনাঙ্গ হিফাজত মানে শুধু যৌনাঙ্গ আবৃত করে রাখা নয়, পাশাপাশি যৌনাঙ্গ সংযত রাখা। যদি যৌনাঙ্গ হিফাজত বলতে ঐ আয়াতগুলোতে শুধু যৌনাঙ্গ আবৃত করে রাখা বুঝাতো এবং মুমিনুন ৭ ও মাআরিজ ৩১ নং আয়াতে এর বাইরে আরও কিছু চাওয়া বলতে পূর্বের আয়াতে বর্ণিত নির্দিষ্ট নারীদের সামনে অর্থাৎ স্ত্রী ও দাসীর সামনে যৌনাঙ্গ খোলা রাখা ছাড়াও অন্য আরও সুযোগ চাওয়া (তাদের সামনে যৌনাঙ্গ খোলা রাখার চেয়েও বেশি সুযোগ বলতে সম্ভবত আপনি তাদের সাথে সহবাস করার কথা বুঝিয়েছেন), তাহলে তো ইসলামে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও নিষেধ হত। তাই মনগড়া ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে সত্যকে মেনে নিতে শিখুন।

  • প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বিবাহ ব্যতিরেকে জোরপূর্বক সহবাসকে অন্যায় কাজ বলে মনে করার জন্য। যেহেতু আপনি এটাই মানেন না যে ইসলামে যুদ্ধবন্দীদেরকে বিবাহ ছাড়াই মুসলিমদের জন্য হালাল করা হয়েছে, সুতরাং ব্লগটি আপনার জন্য নয়। এই ব্লগটি তাদের জন্য, যারা যুদ্ধবন্দীদের বিবাহ ব্যতীত সহবাসকে সমর্থন করে। আপনার সাথে আমি একটা বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছি, তা হল আপনি সূরা নিসা আয়াত ২৪ এর যে মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সূরা নিসা আয়াত ২৪ প্রসঙ্গে কিছু কথাঃ

    "এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়।" –এই অংশটি তুলে ধরে হাদিস ও তাফসীর সম্পর্কে অজ্ঞ অনেক মুসলিম দাবী করেন, যুদ্ধবন্দী সধবা নারীসহ সকল হালাল নারীদের কেবলমাত্র বিয়ের জন্য হালাল করা হয়েছে। তাদের যুক্তি দেখে আমি তাজ্জব বনে যাই। তারা আসলে সম্পূর্ণ বাক্যটির অর্থ মনোযোগ সহকারে খেয়াল করে নি। তাই এমন শিশুসুলভ যুক্তি উপস্থাপন করছে। এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কাউকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করতে চাইলে যেন সেক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হয় বিবাহ করা, ব্যভিচার করা নয়। অর্থাৎ এই বাক্যটিতে সকল হালাল নারীর কথা বলা হয় নি, যাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করা হয়েছে তাদের কথাই বলা হয়েছে। যুদ্ধবন্দী নারীরা তো এমনিতেই মুসলিমদের হাতে বন্দী। মুসলিমদের কেউ তাদের সাথে সহবাস করতে চাইলে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু অধীনস্ত নয় এমন কোনো স্বাধীন নারী নিশ্চয়ই অর্থ বা কোন কিছুর বিনিময় ছাড়া এমনি এমনি কারো যৌন চাহিদা মিটাতে বাধ্য নয়। তারা নিশ্চয়ই সহবাসে রাজি হওয়ার জন্য অর্থ বা অন্য কোনো জিনিসের বিনিময় চাইবে। আর যদি কোনো স্বাধীন নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই অর্থকে বলা হয় দেনমোহর। দেনমোহর সম্পর্কে জানতে পড়ুন
    https://www.shongshoy.com/%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A6%9C%E0%A7%8D/?amp

    এই আয়াতে "তাদের ছাড়া, তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়" কথাটি দ্বারা বিবাহিত যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে সহবাসকে মুসলিমদের জন্য হালাল করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে একটি হাদিস এই ব্লগেই দেওয়া হয়েছে, হাদিসটি হল-
    আবূ সা’ঈদ খুদ্‌রী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

    রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুনায়ন-এর যুদ্ধের সময় একটি দল আওত্বাস-এর দিকে পাঠান। তারা শত্রু দলের মুখোমুখী হয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয়। এদের মধ্যে থেকে দাসীদের সাথে যৌন সঙ্গম করা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়েকজন সাহাবা যেন নাজায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে। আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন “এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ” অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ‘ইদ্দাত পূর্ণ করে নিবে।

    হুনায়েন যুদ্ধে বন্দীরা মুশরিক ছিলেন। আর মুশরিকদের সাথে মুসলিমদের বিবাহের বিষয়ে কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্য হল–

    সূরা বাকারা আয়াত ২২১ঃ
    " আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। "

    সূরা নূর আয়াত ৩ঃ
    ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে।

    যেখানে মুশরিকদের বিবাহ না করার বিষয়ে কুরআনে মুসলিমদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে যারা দাবী করছেন যে সূরা নিসা ২৪ নং আয়াতে হুনায়েন যুদ্ধে বন্দী মুশরিক নারীদের বিয়ে করতে বলা হয়েছে, তাদের এ দাবী কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়।

Leave a Comment