শামসুল আরেফিন শক্তির লুকোচুরি ও মিথ্যাচার

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

ইসলামী শরিয়া নিয়ে সকল বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের একটি চরম আপত্তির জায়গা হলো ইসলামে যুদ্ধবন্দী নারীদাসীদের সাথে মুমিন পুরুষের যৌন সম্পর্কের বৈধতা প্রদান। কেবল বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরাই নন, স্বয়ং বিবেকবান মুসলিমেরাও এই বিষয়টি নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতে ভোগেন। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। ইসলামে যেখানে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে মহাপাপ হিসেবে ধরা হয়, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের শাস্তি যেখানে একশ বেত্রাঘাত বা বিবাহিতের ক্ষেত্রে পাথর ছুড়ে হত্যা, যেই ইসলাম সমাজকে যৌনতামুক্ত করার জন্য নারীদের কঠোর পর্দার মাঝে রাখে, সেখানে একজন মুমিনকে কীভাবে দাসী ও যুদ্ধবন্দীনিদের সাথে যৌনসম্পর্ক করার অনুমতি দেয়া হয়!!! আবার যেখানে স্ত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ চারটিতে সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে, সেখানে একজন মুমিনের দাসীর সংখ্যা কোন লিমিট রাখা হয়নি [1] [2]। আশ্চর্য না!!! অনেক মু’মিনের কাছেই তাই এই বিষয়টি মেনে নেয়া কষ্টের।

এই অস্বস্তি কাটাতে মু’মিনেরা অনেক কাজই করেছে। অনেক মুমিন সরাসরি অস্বীকার করে বলছে যে এই বিধান ইসলামেই নেই। অনেকে বলেছে বর্তমান সময়ে এই বিধান প্রযোজ্য নয় যেহেতু দাসপ্রথা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু কুরআন ও সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থে জ্বল জ্বল করছে যুদ্ধবন্দীনি ও দাসী সঙ্গমের বৈধতা দেয়ার বিধান। মু’মিনেরাও জানে যে কোন মানবসৃষ্ট আইনই কুরআন ও হাদিস যাকে বৈধ করেছে তাকে অবৈধ করতে পারে না। ফলে এখন অনেক মুমিনই চেষ্টা করছে এই যুদ্ধবন্দী নারী ও দাসী সঙ্গমের বিষয়টিকে একটি মানবিক বিধান হিসেবে তুলে ধরতে। চেষ্টা করছে এর বিভিন্ন উপকারী দিক তুলে ধরতে।

এমন এক প্রচেষ্টাই করেছেন ডাঃ শামসুল আরেফিন শক্তি তাঁর “ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে। অধ্যায়ের নাম “দক্ষিণ হস্ত মালিকানাঃ একটি নারীবাদী বিধান”। যারা হাদিস ও কুরআন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন তারা সবাই জানেন “দক্ষিণ হস্ত মালিকানা” বলতে দাসী অথবা যুদ্ধবন্দী নারীর মালিকানা লাভকে বোঝানো হয়ে থাকে। শক্তি সাহেবের মতে দাসী ও বন্দিনীর মালিকানা লাভ এবং সেই সূত্রে তাঁর সাথে সঙ্গমের বৈধতা লাভ আসলে সেই দাসী ও বন্দিনী নারীর জন্যই নানাভাবে উপকারী, এবং তাই এটি একটি নারীবাদী বিধান।

ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বইটির বক্তব্য এবং খণ্ডন

ডাঃ শক্তি দাসী প্রথাকে নারীর জন্য উপকারী প্রমান করতে তার বইতে বহু লুকোচুরি তথা সত্যগোপন এবং কিছু নির্জলা মিথ্যাচার করেছেন। ক্ষেত্রবিশেষে সত্যগোপন সরাসরি মিথ্যাচারের থেকে বেশী ক্ষতিকর। কারন মথ্যাচার সহজেই ধরে ফেলা যায় কিন্তু সত্যগোপন একজন সরল পাঠকের চোখ সহজেই ফাকি দতে পারে। তাই প্রথমেই শক্তি সাহেবের লুকোচুরিগুলো তুলে ধরা যাক।

ডাঃ শক্তির লুকোচুরী ও সত্যগোপন

পুরো অধ্যায়ে শক্তি সাহেব দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে যুদ্ধবন্দীনিকে দাসী বানানোর মূল উদ্দেশ্য তাকে ভোগ করা না বরং এক যুদ্ধবিদ্ধস্ত নারী যে যুদ্ধে তাঁর স্বজনদের হারিয়েছে তাঁকে একটি নিরাপদ আশ্রয় দেয়া [3] [4] [5]। তবে হাদিস বা কুরআনে কোথাও বলা নেই এই দাসী বানিয়ে সঙ্গম করার মূল উদ্দেশ্য নিরাপত্তা প্রদান। এই মূল উদ্দেশ্যের দাবী শক্তি সাহেবের একান্তই নিজস্ব। তারপরেও সুবহানাল্লাহ! আসলেই কতই না সুন্দর মূল উদ্দেশ্য। যুদ্ধবন্দীনিকে দাসী বানানোর মূল উদ্দেশ্য যে তাকে ভোগ করা না বরং তাকে আশ্রয় প্রদান এর সপক্ষে প্রাথমিক একটি যুক্তি তিনি দেখিয়েছেন যে মুজাহিদ বন্দিনীর মালিকানা পাবার সাথে সাথেই বন্দিনীর শরীরে হাত দিতে পারেন না, মাসিক হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে এবং গর্ভবতী হলে সন্তান জন্মদান পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সরাসরি তার বই থেকে তুলে ধরছি [6]

শক্তি 2
[6]

তৃতীয় লাইন “ফলে শক কাটিয়ে বাস্তবতা মেনে নেয়ার সময় পাবে” সম্পূর্ণ শক্তি সাহেবের নিজস্ব উদ্ভাবন। এখানে শক্তি সাহেব যে হাদিস থেকে এই একবার মাসিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার বিধান নিয়েছেন সেটিও তুলে ধরছি [7]

শক্তি 4
[7]

এই হাদিসে অথবা কুরআনে কোথাও এই শক কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে কিছু নেই। সালাফের কেউই এই হাদিস সেভাবে বোঝেননিও। তারপরেও ধরে নিলাম শক্তি সাহেব বোঝাতে চাচ্ছেন ইসলাম ঘুরিয়ে পাঁচইয়ে বন্দী নারীকে শক কাটিয়ে ওঠার সময় দিচ্ছে। আপনার মনে যদি ইসলামের প্রতি আলাদা ভালোবাসা থাকে অর্থাৎ আপনি যদি ইসলামের প্রতি বায়াসড হন, তবে সাথে সাথেই আপনি বলতে পারেন “আহা! দেখেছ ইসলামের হিকমাহ! পরোক্ষভাবে বন্দিনীকে শক কাটিয়ে ওঠার সময় দিচ্ছে”। থামুন জনাব! আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে এই ওয়েটিং পিরিয়ড এক দিন থেকে এক মাসও হতে পারে আবার গর্ভবতী হলে নয় মাসও হতে পারে? অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে কোন কোন যুদ্ধবন্দী নারীকে যুদ্ধে স্বজন হারিয়ে তার শোক কাটিয়ে একদিনের মাঝেই তার মুসলিম মালিকের সাথে মিলিত হবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেতে হবে, আবার কেউ কেউ কয়েক সপ্তাহ সময় পাবে, কপাল ভালো হলে কেউ কেউ কয়েক মাস। এটা কি যৌক্তিক? আসল ব্যাপার যেকোনো স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষ বুঝতে পারবে। ইসলামে মুজাহিদকে মাসিকের অথবা প্রসবের জন্য অপেক্ষা করবে যাতে এই বন্দিনীর সাথে মিলনের ফলে যদি কোন সন্তান হয় সেটা যে তার সন্তানই সেটা জাতে নিশ্চিত হওয়া যায়। এইসব শোক কাটিয়ে ওঠার তত্ব শক্তি সাহেবের একান্তই নিজস্ব উদ্ভাবন। সালাফিস্টরা দাবী করতেই পারেন যে শক্তি সাহেব বিদাতি তত্ব প্রচার করছেন। এ কেবল শুরু।

শক্তি সাহেব বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে বার বার উল্লেখ করেছেন বন্দিনীদের দাসী বানানোর উদ্দেশ্য সেক্স না বরং আশ্রয় প্রদান। তিনি বার বার দাসদাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার করার, তাদেরকে না প্রহার করার পরামর্শমূলক হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন। কিছু ভালো ব্যবহারের পরামর্শ কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ আছে অবশ্য। অনেক সাহাবিও এই নির্দেশনাসমুহ পালন করেছেন। এটুকু সাধুবাদ পাবার যোগ্য। আবার এর উলটো ঘটনাও আছে। নবীর উপস্থিতিতেই হযরত আলী এক দাসীকে বেদম প্রহার করেছেন অথচ নবী কোন আপত্তি করেনি এমন ঘটনা আছে [8]। হযরত উমার পর্দানশিন দাসীদের প্রহার করতেন এই ঘটনাও হাদিসে আছেন এবং আমাদের কাজী ইব্রাহিম হুজুর প্রকাশ্য জনসভায় এই ঘটনা গর্বভরে উল্লেখও করেছেন [9] [10]। সুতরাং দেখা গেল দাসীদের বেদম প্রহার করা একেবারে হারাম কিছু না। এবার আসা যাক শক্তি সাহেব যে দাবী করেছেন বন্দিনীদের দাসী বানানোর আসল উদ্দেশ্য সঙ্গম করা না বরং করার আসল উদ্দেশ্য তাদের আশ্রয় প্রদান সেটুকু কতটুকু সত্য। কাউকে আশ্রয় প্রদানের অর্থ হলো- দীর্ঘমেয়াদে তার খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান করা। এবার একটি হাদিসের মাধ্যমে দেখা যাক মুজাহিদ যুদ্ধবন্দী দাসীদের কতটুকু নিশ্চয়তা দিতেন। যেই হাদিস এখন উল্লেখ করা হবে সেটিকে কখনোই এই বাংলার ইসলামী লেখকদের উল্লেখ করতে দেখবেন না। এই হাদিসে তাদের সব ন্যারেটিভ ভেঙ্গে পরে।

এটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ হাদিস, অথচ কোন মুমিন ভুলেও এই হাদিসের উল্লেখ করে না। এটা এই হাদিসের প্রতি নিঃসন্দেহে একটি অবিচার

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৬/ ক্রয় – বিক্রয়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৮৪. গোলাম বিক্রয় করা
২০৮৮. আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলেন, তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা বন্দী দাসীর সাথে সংগত হই। কিন্তু আমরা তাদের (বিক্রয় করে) মূল্য হাসিল করতে চাই। এমতাবস্থায় আযল (নিরুদ্ধ সঙ্গম) সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, তোমরা কি এরূপ করে থাক? তোমরা যদি তা (আযল) না কর, তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারন মহান আল্লাহ্ তা’আলা যে সন্তান জন্ম হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই জন্মগ্রহন করবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

এখানে দেখা যাচ্ছে যে, মুজাহিদরা এমনভাবে বন্দিনীদের সাথে সংগম করতো যাতে বন্দিনীটি গর্ভবতী না হয়ে পরে এবং তাকে ভোগের পরে বাজারে বিক্রয় করে দেয়া যায়। এখানে আশ্রয়দানের বিষয়টি কোথায় জনাব শক্তি ভাই? আশ্রয় দেয়াই যদি নিয়ত হয় তবে ভোগ করে বিক্রয় করে দেয়া কেন? এই হাদিসেইতো প্রমাণ হয় যে সেক্স করা আর টাকা কামানিই মূল উদ্দেশ্য সাহাবীদের। অধ্যায়ের এক জায়গায় শক্তি ভাই অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে বন্দিনী দাসী মালিককে পছন্দ না করে তবে মালিক অন্যের কাছে বেচে দিবে এবং সেই নতুন মালিককে এই দাসী ভালোবাসেতেও পারে। তিনি হয়তো উপড়ের হাদিস পড়েই এই কথার খেলাটি খেলেছেন। পাঠককেও বুঝ দিয়েছেন যে এতে দাসীর উপকারই হল। তবে তিনি লুকাছুপি করেছেন। অন্যের কাছে বক্রয়ের আগে যে মুমিন মালিক দাসীকে ভোগ করেই নিবে এবং টাকা কামানির উদ্দেশ্যেই বেচবে, সেটা শক্তি ভাই চেপে গেছেন। 

এমন আরো উদাহরণ দেয়া যাবে যে সেক্সই মূল উদ্দেশ্য। দেখুন এই পেয়ারা সাহাবী তার দাসীদের সাথেই সংগম বেশী প্রেফার করছেন স্ত্রীদের থেকে, আবার চাইছেন না তারা গর্ভবতী হয়ে পরুক- [11]

মালিকের মুয়াত্তা, বই ২৯, হাদিস নম্বর ২৯. ৩৪. ৯৯:
….আল হাজ্জাজ ইবনে আমর ইবনে ঘাজিইয়ার বরাতে দামরা ইবনে সাঈদ আল‑মাজিনি কর্তৃক বর্ণিত: তিনি (হাজ্জাজ) জয়িদ ইবনে সাবিতের নিকট বসেছিলেন, এমন সময় ইবনে ফাহদ তার কাছে আসল। সে ইয়েমেন থেকে এসেছিল। সে বলল, “আবু সাঈদ, আমার কয়েকটি ক্রীতদাসী আছে। আমার যে কয়জন স্ত্রী আছে তারা কেউ আমাকে তাদের মতো (দাসীদের মতো) তৃপ্তি দিতে পারে না; (তবে) সবাই যে আমাকে এমন তৃপ্তি দেয় যে তাদের দ্বারা সন্তান উৎপাদন করতে হবে—তাও নয়। এমতাবস্থায় আমি কি আজল অবলম্বন কারতে পারি?” জায়িদ ইবনে সাবিত বললেন, “তোমার কী মত হাজ্জাজ?”
আমি বললাম, ‘আল্লাহ্ আপনাকে ক্ষমা করুন। আপনার কাছ থেকে জানার জন্যেই আপনার কাছে আসি। তিনি (আবারও) বললেন, ‘তোমার মত কী?’ আমি বললাম, ‘সে তোমার মর্জি, যদি তুমি ইচ্ছে করো পানি দাও; যদি ইচ্ছে করো তৃষ্ণার্ত রাখ। জায়িদের কাছে আমি এমনটিই শিখেছি। জায়িদ বললেন, ‘সে ঠিক কথাটিই বলেছে।’”

আবার সাহাবীরা বানু কুরাইজার যুদ্ধবন্দীনিদের দাসী হিসেবে বাজারে বিক্রয় করে অস্ত্র খরিদ করছেন [12]। অর্থাৎ বন্দিনী ধরে বেচে দেয়াও নবীর সুন্নাহ, সেই হিসেবে মুসলিমদের জন্য রিকমেন্ডেড। নবী নিজেই বহু অনুরোধ করে এক সুন্দরী বালিকা যুদ্ধবন্দী সংগ্রহ করেছিলেন এবং সেই দাসীকে মক্কার অত্যাচারী কুরাইশদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন মুসলিম বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে [13]

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৯/ জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ২৮. বয়স্ক কয়েদীদের পৃথক রাখার অনুমতি।
২৬৮৮. হারুন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) …. ইয়াস ইবন সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ একবার আমরা আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গে রওয়ানা হই এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আমাদের নেতা নির্বাচিত করেন। আমরা ফাযারা গোত্রের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হই এবং চারদিক হতে হামলা করি। পরে আমি কিছু লোক দেখি, যাতে বাচ্চা ও মহিলারা ছিল। তখন আমি তাদের দিকে তীর নিক্ষেপ করি, যা তাদের ও একটি পাহাড়ের মাঝখানে গিয়ে পড়ে। তারা দাঁড়ালে, আমি তাদেরকে নিয়ে আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট যাই।
এর মাঝে ফাযারা গোত্রের একজন মহিলা ছিল যার পরিধানে চামড়ার পোশাক ছিল। ঐ মহিলার সাথে তার একটি মেয়ে ছিল, যে ছিল আরবের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী। আবূ বকর (রাঃ) মেয়েটিকে আমাকে দিয়ে দেন। এরপর আমি মদীনায় ফিরে আসলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি আমাকে বলেনঃ হে সালামা! তুমি ঐ মেয়েটিকে আমাকে দিয়ে দাও। তখন আমি বলিঃ আল্লাহর শপথ! সে তো আমার খুবই প্রিয় এবং আমি এখনো তার কাপড় খুলিনি (অর্থাৎ তার সাথে সহবাস করিনি।)
তখনকার মত তিনি চুপ থাকলেন। কিন্তু পরের দিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমার বাজারে দেখা হলে তিনি আমাকে বলেনঃ হে সালামা, তোমার পিতার শপথ! ঐ মেয়েটিকে আমাকে দান কর। তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর শপথ! সে আমার খুবই প্রিয় এবং এখনো আমি তার পরিধেয় বস্ত্র খুলিনি (অর্থাৎ তার সাথে সংগম করিনি)। সে আপনারই। এরপর তিনি সে মেয়েটিকে মক্কায় পাঠান এবং তার বিনিময়ে তাদের নিকট হতে মুসলিম বন্দীদের ছাড়িয়ে আনেন।

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ ইয়াস ইবনু সালামাহ ইবনু আকওয়াহ (রহঃ)

এখানে আশ্রয়ের ব্যাপার স্যাপার কই পান এই শক্তি ভাই? যা লেখেন তা তিনি নিজে বিশ্বাস করে লেখেন তো? নাকি আম পাবলিককে যাতে ইসলামের আসল কদর্যতা সম্পর্কে সঠিকভাবে

শক্তি 6

জানতে না পারে তার জন্য এসব হাদিস নিয়ে শক্তিশালী লুকোচুরি খেলেন উনি? উত্তর হচ্ছে- তিনি লুকোচুরি ই খেলেন। বন্দীদের দাসী বানানোর মূল উদ্দেশ্য যে সেক্স, আশ্রয় প্রদান না তা তিনিও ভালোভাবেই জানেন। সেই গল্প বলছি। আমি একবার শক্তি ভাইয়েরই দীনি কমরেড মুশফিক মিনার ভাইকে প্রশ্ন করেছিলাম “দাসীর সাথে এমনভাবে সহবাস করা হল যে দাসী প্রেগন্যান্ট হলো না। সেক্ষেত্রে দাসীকে বিক্রয় করে নতুন দাসী খরিদ করে আনা যাবে?”। মুশফিক ভাইয়ের সোজাসাপ্টা উত্তর “যাবে” (এখানে দেখুন)। আমি এরপরে মুশফিক ভাইকে ইনবক্সে প্রশ্ন করি- “তাহলেতো ইসলামের দাসী ব্যবস্থায় ইচ্ছামত দাসীকে বিক্রয় ও নতুন দাসী ক্রয়ের রাস্তা খোলা থেকে যাচ্ছে। আবার দাসী রাখার সংখ্যা স্ত্রী সংখ্যার মতন লিমিট করে দেয়া হয়নি। তাহলে কি ইসলাম মুমিনপুরুষদের অবাধ যৌনাচারের রাস্তা খুলে দিচ্ছে না?” মুশফিক ভাইয়ের উত্তর “এভাবে চিন্তা করা যাবেনা। প্রথমে দেখতে হবে যে বিষয়টি কুরআন ও হাদিসে আছে কিনা। থাকলে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করতে হবে”। অর্থাৎ, অবাধ যৌনাচার মেনে নিতে হবে। আমি মুশফিক ভাইয়ের উধৃতি দিয়ে শক্তি ভাইকেও একই প্রশ্ন করি। পাশে দেখুন শক্তি ভাইয়ের উত্তর। শক্তি ভাই ভালো করেই জানেন যে ইসলামী দাসী প্রথার মূল উদ্দেশ্যই মুমিন পুরুষের দাসী সম্ভোগ। অগর্ভবতী দাসী ক্রয় বিক্রয় এলাও করে ইসলামই মুমিনদের অবারিত যৌনাচারের পথ খুলে দিচ্ছে। আমাদের শক্তি ভাই এই বৈধতাকে মুমিনের জন্য আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ তিনি মুমিনের লাভ স্বীকার করছেন নিজেদের প্লাটফর্মে। অথচ নিজের বইয়ে লিখেছেন সেক্স মূল উদ্দেশ্য না, আশ্রয় দানই মূল উদ্দেশ্য।

তবে একটা বিষয়ে শক্তি ভাইয়ের কিছু প্রশংসা প্রাপ্য। অনেক মু’মিন ভাই এই দাসী সংগমের ব্যাপারটিকে লঘু করার জন্য দাবী করে থাকেন যে দাসী সংগমের আগে দাসীর অনুমতি নিতে হবে। শক্তি ভাই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডে দেখিয়েছেন যে এই অনুমতির কোন প্রয়োজন নেই। দাসীর মালিকানা বলেই মালিক সহবাস করতে পারবে। তার মতে বন্দী অসহায় দাসী স্বজন হারানোর ট্রমা কাটানোর জন্য ওয়েটিং পিরিয়ড পাচ্ছে (এক দিন থেকে কয়েক মাস!!!), মালিক তাকে খেতে-পরতে দিচ্ছে। ফলে দাসী নিজে থেকেই সহবাসে রাজী হয়ে যাবে অথবা সহবাসে শারীরিক বাধা দিবে না [14]। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে দাসী শারীরিক বাধা দান না করলে মালিকের জন্য সহবাসে সমস্যা নেই। আমি জানি না শক্তি সাহেব বিকৃত রুচির মানুষ কিনা। আশা করি তিনি মন থেকে এমন বিশ্রী চিন্তা রাখেন না। এই পৃথিবীর যে কোন নারী অথবা পুরুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে “শারীরিক বাধা দিচ্ছে না কিন্তু অনিচ্ছুক এমন কোন মেয়ের সাথে সঙ্গম করা হলে এটি কি ধর্ষণ?”। উত্তর পাবেন “হ্যা”। সম্প্রতি সিরিয়ায় এমন অনেক কেইস পাওয়া যায় যেখানে অনেক ইয়াজিদি নারীকে আইএস মুজাহিদেরা শত শত দিন ধরে ভোগ করেছে। শারীরিক বাধা দানে এই ইয়াজিদি নারীরা অবশ্যই অক্ষম ছিলো, নইলে দিনের পর দিন এগুলো চলতে পারতো না। এই নারীদের অনেকেই পরবর্তীতে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। বেঁচে যাওয়া নারীরা পরে বিভিন্ন সাক্ষাতকারে এগুলোকে রেপ হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন। একমাত্র শক্তি সাহেবের মতন কতিপয় মানুষের কাছেই হয়তো এগুলো রেপ নয়।   

শামসুল আরেফিন শক্তি সাহেব আরো ভণ্ডামি করেছেন দাসীকে স্ত্রীর সাথে তুলনা করে। তিনি যৌনদাসী শব্দটিতে আপত্তি করেছেন, উপপত্নী শব্দ ব্যবহার করে বলেছেন যে দাসী আসলে স্ত্রীর কাছাকাছি। তিনি দাবীর সপক্ষে নিম্নোক্ত যুক্তিগুলো পেশ করেছেন [15]-

শক্তি 8
[15]

এমন যুক্তি দেখে যেকোন ইসলামপ্রিয়ো পাঠক মনে করবেন- আহা! দাসী হওয়া আর স্ত্রী হওয়াতো প্রায় সমান! আস্তে জনাব, আস্তে। নিচের চার্টে স্ত্রী ও দাসীর পার্থক্য তুলে ধরলাম। 

 স্ত্রীদাসী/যৌনদাসী/উপপত্নি
স্ত্রীকে কোন অবস্থাতেই বিক্রয় করা যায় না।গর্ভবতী না থাকলে বিক্রয় করে দেয়া যায়। [16] [12]
স্ত্রীর সাথে বিনা অনুমতিতে আজল (গর্ভ ঠেকাতে, গর্ভের বাইরে বীর্যপাত) করা যাবে না।গর্ভ ঠেকাতে আজল করা যাবে কারণ গর্ভ হয়ে গেলে তাকে আর বিক্রয় করা যাবে না। [17]
একজন মু’মিন একসাথে চারজনের অধিক স্ত্রী রাখতে পারবেন না।মু’মিন যত খুশি যৌনদাসী/উপপত্নি রাখতে পারবে [1] [2]
স্ত্রী বাজারে খরিদ করা যায় না।যখন খুশি যত খুশি বাজার থেকে খরিদ করা যাবে।[1] [2]
স্ত্রীর জন্য পর্দা ফরজ। পর্দা না করলে শাস্তি।দাসীর জন্য পর্দা হারাম। পর্দা করলে শাস্তি। [9] [18]
দুই স্ত্রীর সাথে সহবাসের মাঝখানে গোসলের প্রয়োজন হয়।দাসীদের সাথে এক-সিরিয়ালে সংগম করা যাবে। মাঝে গোসলের প্রয়োজন নেই।[19] [20]
চিত্র: স্ত্রী ও যৌনদাসী/উপপত্নির বৈসাদৃশ্যপূর্ণ অবস্থান

তা জনাব, এখন কী দাসীকে উপপত্নী মনে হচ্ছে নাকি কেবল সেক্স অবজেক্ট মনে হচ্ছে? যৌনদাসী শব্দটিই কি বেশী মানানসই না?

ডাঃ শক্তির মিথ্যাচার

মিথ্যাচার-১ঃ বেসামরিক বিধর্মীদের দাসদাসী বানানো যাবে না

অধ্যায়ের শুরুতেই শক্তি একটি ভয়ংকর মিথ্যাচার করেছেন। তিনি লিখেছেন যে একটি দেশ বা জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে কেবল অস্ত্রধারী ও তাদের পরিবারকেই দাসদাসী বানানো হবে। যারা অস্ত্রধারন করেনি তারা মুক্ত থাকবে।

শক্তি 10
[21]
শক্তি 12
[22]

ডাঃ শক্তি এই দাবীর সমর্থনে সুরা আল বাকারার ১৯০ নং আয়াতটি তুলে ধরেছেন।

শক্তি 14
[21]

এই আয়াতটি নাজিল হয়েছিল হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়। পরবর্তিতে এই আয়াতটি মানসুখ বা বাতিল হয়ে যায় [23]। তাফসিরে জালালাইনে এই আয়াতের ইংরেজী তাফসির পড়ুন এখানে [24]। সুরা বাকারার ১৯০ নং আয়াতটি মানসুখ বা বাতিল হবার আরও প্রমাণ নিচে দেয়া হল।

শক্তি 16
[25]

দেখা যাচ্ছে ডাঃ শক্তি একটি বাতিল আয়াত দিয়ে প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যে বেসামরিক কুফফার জনগন মুজাহিদদের থেকে নিরাপদ। ডাঃ শক্তির মতন মানুষ কি জানতেন না যে এই আয়াতটি বাতিল!!!

ইসলামের ইতিহাসে এমন বহু যুদ্ধ আছে যেখানে বেসামরিক কুফফারদেরও বন্দী করে দাসদাসী বানানো হয়েছে।এই লেখায় এর মাঝ থেকে মুসলিমদের তিনটি যুদ্ধের উদাহরন দেওয়া হল যেগুলোতে সামরিক বেসামরিক সকল মানুষদেরই বন্দী করে দাসদাসী বানানো হয়েছিল।

প্রথম উদাহরনটি বানু মুস্তালিকের অভিযান থেকে নেয়া। এই যুদ্ধে মুসলিমরা বিপুল পরিমানে মালে গনিমত লাভ করে। বানু মুস্তালিক গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেখা যায় যে নবীর বাহিনী কোন প্রকার উস্কানি ছাড়াই এই গোত্রকে আক্রমন করে যোদ্ধাদের হত্যা করেন ও তাদের সকল বেসামরিক লোকদের বন্দী করে সাহাবীদের মাঝে বন্টন করে দেন [26] [27]। নিচে দেয়া হাদিসটি একটি জাতির সামরিক বেসামরিক সকলকে দাসদাসী বানানোর ইসলামী বৈধতার পক্ষে শক্ত দলীল। 

পরিচ্ছেদঃ ১. যে সকল কাফিরদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছেছে, তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত যুদ্ধের বৈধতা৪৪১১-(১/১৭৩০)ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ….. ইবনু ‘আওন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি (রহঃ) কে এ কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দীনের দাওয়াত দেয়া প্রয়োজন কি-না? ইবনু আওন বলেন, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (প্রথা) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু মুসতালিকের উপর অতর্কিত আক্রমণ করলেন এমন অবস্থায় যে, তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং বাকীদের বন্দী করলেন। আর সেদিনেই তার হস্তগত হয়েছিল- ইয়াহইয়া বলেন যে, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন- জুওয়াইরিয়াহ’ কিংবা নিশ্চিতরূপে বলেছেন হারিসের কন্যা’। বর্ণনাকারী বলেন, এ হাদীস আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি তখন সে সেনাদলের মধ্যে ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৭০, ইসলামিক সেন্টার ৪৩৭০)

পরিচ্ছেদঃ ১. যে সকল কাফিরদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছেছে, তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত যুদ্ধের বৈধতা৪৪১১-(১/১৭৩০)

[28]

১৪৪৩ সনে তুর্কি মুজাহিদদের হাতে কন্সটানটিনোপলের পতন ঘটলো। এই যুদ্ধে সুলতান মেহমেদ ফাতেহ কন্সটান্টিনোপল দখলের পরে তিনদিন শহরজুরে গনিমতের মাল লুটের অনুমতি দান করেন। এই সময়ে শহরের ৩০,০০০ নাগরিককে দাসদাসী বানিয়ে এডিমে, বুরসা ও আংকারার বাজারগুলোতে বিক্রয় করে দেয় মুজাহিদ গাজী বাহিনী। এই তথ্যটি পাওয়া যাবে রজার ক্রাউলির “কন্সটান্টিনোপলঃ দ্যা গ্রেট সিজ” বইতে। তাছাড়া উসমানী কর্মচারী তুরসুন বেগ কন্সটান্টিনোপল দখল পরবর্তী গনিমতের মাল লুন্ঠনযজ্ঞের যে বর্ননা দিয়েছেন তাতেও বেসামরিক জনগনকে দাসদাসী বানানোর প্রমাণ পাওয়া যায় –  “মুজাহিদরা রাজপ্রাসাদ ও সম্পদশালী বাড়িঘর থেকে সোনা ও রুপার তৈজসপত্র, মুল্যবান জিনিসপত্র এবং কাপর লুট করলো। ফলাফলস্বরুপ বহু দরিদ্র হয়ে গেল ধনী। প্রতিটি সেনাছাউনি ভরে উঠলো সুশ্রী বালক ও সুন্দরী বালিকায়।” [29]

সবচেয়ে সম্প্রতি গনহারে দাসীকরন প্রক্রিয়াটি ঘটেছে সিরিয়ায় দাওলাতুল ইসলামিয়া বা দাওলাহ বা ইসলামিক স্টেটের হাত ধরে। ২০১৪-তে সিরিয়ায় দাওলাহ ইয়াজিদি অধ্যুসিত সিনজার শহর দখল করে। দখলের পরেই শুরু হয় ব্যাপকহারে বেসামরিক ইয়াজিদি দাসদাসীকরন প্রক্রিয়া। ইয়াজিদিদের মুসলিম প্রতিবেশীরাই দাওলাহর মুজাহিদদের হাতে ইয়াজিদিদের ঠিকানা তুলে দেয়। শত শত বছর ধরে পাশাপাশি থাকা প্রতিবেশীরাই দীনের স্বার্থে ইয়াজিদিদের সমর্পন করে মুজাহিদদের কাছে। ইসলামে এই কাজকে “আল ওয়ালা ওয়াল বারাহ” যার ইসলামী অর্থ “আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, আল্লাহর জন্য ঘৃণা” বলা হয়। আল জাজিরার এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে এক ইয়াজিদি নারীর বয়ানে দাওলাহ’র দাসীকরন প্রক্রিয়ার বর্ননা আছে [30]

তিনটি ভিন্ন যুগঃ নবী যুগ, উসমানী যুগ, ও আধুনিক যুগ থেকে ইসলামের সামরিক-বেসামরিক সার্বজনিন দাসদাসীকরন প্রক্রিয়ার উদাহরন দেয়া হল। উপরের তিনটি ঘটনা থেকে নিঃসন্দেহে প্রমানিত হয় যে মুসলিম বাহিনী কোন দেশ বা জাতির বিরুদ্ধে জুদ্ধে জয়ী হলে সেই জাতির সামরিক বেসামরিক তথা সবাইকেই দাসদাসী বানাতে পারে।

মিথ্যাচার-২ঃ যৌনদাসীকে স্ত্রীর সমান ভরনপোষন দিতে হবে

ডাঃ শক্তি যৌনদাসীকে স্ত্রীর সমতুল্য বোঝাতে গিয়ে কোন রেফারেন্স ছাড়াই দাবী করেছেন যে মালিককে যৌনদাসী ও স্ত্রী দুজনেই সমান ভরনপোষন দিতে হবে। এটি একটি চরম মিথ্যাচার। কোন কুরআনের আয়াত বা হাদিসেই এর সপক্ষে কোন দলীল নেই। পাঠক তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করতে পারেন একজন যৌনদাসী কতখানি ভরণপোষণ পেতে পারে। এর উত্তর পাওয়া যাবে বহুল সমাদৃত ফতোয়ায়ে আলমগীরীতে। চলুন দেখে নেই-

শক্তি 18
[31]
শক্তি 20
[32]

ফতোয়ায়ে আলমগীরীর মাসআলা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, যৌনদাসীকে কিছু অতিরিক্ত পোষাক দেয়া জায়েজ আছে। অর্থাৎ কিছু অতিরিক্ত দেয়া জরুরী নয়, তবে জায়েজ। এখন পাঠক নিজেই বিচার করে নিন যৌনদাসীকে স্ত্রীর সমপরিমান ভরণপোষণ দিতে হবে কিনা।

এখানে দেখানো হল যে ডাঃ শক্তি তার বই “ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের” তৃতীয় অধ্যায়ে দাসী ব্যবস্থাকে ভালো প্রমাণ করতে দুটি মিথ্যাচার করেছেন। মিথ্যাচারের অভিযোগ একটি গুরুতর অভিযোগ। ডাঃ শক্তি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি মিথ্যাচার করেননি তাহলে এই পরিচ্ছদটি লেখা থেকে বাদ দেয়া হব।

কিছু ধোয়াশাঃ যৌথ মালিকানাধিন দাসীর সাথে সহবাসের অনুমতি নেই?

ডাঃ শক্তি দাবী করেছেন যে একাধিক মুসলিমের মালিকানায় থাকা দাসীকে কোনো মালিকই ভোগ করতে পারে না। এক্ষেত্রে তিনি রেফারেন্স টেনেছেন ইবনে কুদামা আল মাকদাসীর।

শক্তি 22
[33]

অথচ ফতোয়ায়ে আলমগীরীতে বেশ কিছু মাস’আলা পাওয়া যায় যেখানে যৌথমালিকানাধীন যৌনদাসীর গর্ভে জন্মানো সন্তানের পিতা কোন মালিকটি হবেন তার বিস্তারিত বর্ননা আছে। মাস’আলা ও ফতোয়া সাধারনত ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বড় বড় স্কলাররা দিয়ে থাকেন। ফতোয়ায়ে আলমগীরীর উক্ত মাস’আলাগুলো পড়লে বোঝা যায় যে ততকালিন অনেক মুসলিমই কয়েকজন মিলে একটি দাসী রাখতো এবং সবাই মিলেই তাকে ভোগ করতো। সমস্যা হয় যখন এধরনের মিলনের ফলে যৌনদাসীটি গর্ভবতী হয়ে পরে তখন। সন্তানের পিতৃত্বের দায়িত্ব অনেকে নিতে চায় (বিশেষ করে পুত্র হলে) আবার অনেকে নিতে চায়না (বিশেষ করে কন্যা হলে)। তখন এটা মামলা-মোকদ্দমাতে গড়ায়। এসকল মামলার সমাধানেই ফতোয়ায়ে আলমগীরীতে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ততকালীন বড় আলিমেরা এসকল মাস’আলা লিপিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং বোঝা গেল সে সময়ে যৌথমালিকানাধীন দাসীকে সবাই মিলে ভোগ করা অবৈধ ছিল না।

শক্তি 24
[34]
শক্তি 26
[34]
শক্তি 28
[35]

উপসংহার

এমন আরো বহু অসংলগ্নতায় ভর্তি জনাব ডাঃ শামসুল আরেফিন শক্তির ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের কেবল একটি চ্যাপ্টার। পরবর্তী পর্বে বাকি অসংলগ্নতাগুলো তুলে ধরার আশা রাখি।  

পরিশেষে পাঠকের জন্য কিছু কথা। অনেক পাঠক হয়তো বলবেন এখন দাসপ্রথা নেই, সকল রাষ্ট্র একমত যে যুদ্ধে কোন নারী নির্যাতন বড় ধরনের যুদ্ধাপরাধ, তাহলে কেনএই আলোচনা? তাদের উদ্দেশ্যে বলে রাখি, ইসলামে দাসপ্রথা রহিত হয়নি এবং জগতের কোন মানবসৃষ্ট আইনই ইসলামী আইনকে পরিবর্তন করতে পারে না। দুনিয়াব্যপি তাবৎ ইসলামিস্ট আন্দোলনগুলোর চূড়ান্ত লক্ষ হল জিহাদের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। যে যে স্থানেই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে সেখানেই দাসপ্রথা ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। সম্প্রতি সিরিয়াতে এরই একটি রিহার্সেল দেখেছে সারা দুনিয়া। ইয়াজিদি নারীদের বন্দী করে মাসের পর মাস ভোগ করেছে খিলাফতের মুজাহিদেরা। শিশু, বৃদ্ধা কেউই বাদ যায়নি। মুজাহিদদের যৌনদাসী বনে যাওয়া বহু ইয়াজিদি নারী পরে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে [36]। সুতরাং, সাধু সাবধান! ওরা আসবে, এবং শক্তি ভাইয়ের মতন লোকজন ওদের ইডিয়োলজিক্যাল ব্যাকিং দেবে।

আলোচনার শেষে পাঠকদের দুইটি সংবাদপত্রের লিঙ্ক দিচ্ছি, রিপোর্ট দুইটি পড়ে দেখবেন। রিপোর্ট দুইটি ইম্পোর্টেন্ট, কারণ একে তো আল্লাহর ওপর ভরসা না রেখে ডাক্তার সাহেব হাসপাতাল থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে গেছেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে পেশাগত দায়িত্বে অবহেলা। এই ডাক্তার সাহেবকে কেউ চেনেন কিনা, ভেবে দেখবেন।


তথ্যসূত্রঃ

  1. ولا خلاف أن له أن يجمع من العدد من شاء بملك اليمين There is no difference of opinion that one may keep whatever number they wish of slaves — Tafsir al-Jassas [][][]
  2. Did scholars define a limitation of concubines a man could have? [][][]
  3. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৪১ (ফুটনোট) []
  4. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৪২ []
  5. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৪৯ []
  6. ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা-৪২ [][]
  7. ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা ৪২ (ফুটনোট) [][]
  8. ইবনে ইশাক, লাইফ অব মুহাম্মদ ( সিরাত রাসুলুল্লহা), পৃষ্ঠাঃ ৪৯৬ []
  9. মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ, ভল্যুম ২, পৃষ্ঠা ৪১, হাদিস নং ৬২৩৬ [][]
  10. মুফতি কাজী ইব্রাহীম এর ভিডিও []
  11. Maliks Muwatta Book 029, Hadith Number 099 []
  12. সিরাতে ইবনে হিশাম, ২২৭ [][]
  13. সুনান আবু দাউদ, জিহাদ, হাদিস নং ২৬৮৮, www.hadithbd.com []
  14. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৫১ []
  15. ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা ৫২ [][]
  16. সহীহ মুখারি (ইসলামীক ফাউন্ডেশন), হাদিস নং ২২২৯; www.hadithbd.com []
  17. সহীহ মুখারি (ইসলামীক ফাউন্ডেশন), হাদিস নং ২২২৯; www.hadithbd.com []
  18. মুফতি কাজী ইব্রাহীম এর ভিডিও []
  19. মালিকের মুয়াত্তা; বই ২, হাদিস নম্বর ২. ২২. ৯০ []
  20. মুয়াত্তা মালিক, রেওয়ায়ত ৮৮.  []
  21. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৩৮ [][]
  22. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৪১ []
  23. tafsir.learn-quran.co[]
  24. জালালাইনঃ সুরা বাকারা-১৯০, tafsir.learn-quran.co[]
  25. তাফসিরে জালালাইন, প্রথম খন্ড, আরবি-বাংলা, পৃষ্ঠা- ৪২৫[]
  26. সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিস- ১৭৩০, www.hadithbd.com[]
  27. সহীহ বুখারি, ইসলামি ফাউন্ডেশন, হাদিস- ৩১২০, www.hadithbd.com []
  28. www.hadithbd.com []
  29. ওয়াশিংটন পোস্ট, Constantinople[]
  30. আল জাজিরা, Sold, whipped and raped: A Yazidi woman remembers ISIL captivity []
  31. ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ২য় খন্ড, তালাক অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৭১৩। []
  32. ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ২য় খন্ড, তালাক অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৭১৪। []
  33. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৪৩ []
  34. ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ৩য় খন্ড, অধ্যায়ঃ গোলাম আযাদ করা, পৃষ্ঠা ১৪৬। [][]
  35. ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ৩য় খন্ড, অধ্যায়ঃ গোলাম আযাদ করা, পৃষ্ঠা ১৪৭। []
  36. সিএন এন, Hundreds’ of Yazidi women killing themselves in ISIS captivity []

8 thoughts on “শামসুল আরেফিন শক্তির লুকোচুরি ও মিথ্যাচার

  • মার্চ 29, 2021 at 5:40 অপরাহ্ন
    Permalink

    brilliant post. These writers are the members of Jamaat-Shibir. They are working for spreading their agenda.

    Reply
    • এপ্রিল 12, 2021 at 12:22 অপরাহ্ন
      Permalink

      মুমিনীয় কুযুক্তিঃ যুদ্ধবন্দীদের দাস না বানিয়ে কারাবন্দী করে রাখাটা ছিল অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ। মুসলিমরা কেন তাদের ফ্রী ফ্রী খাওয়াবে?

      আমার জবাবঃ
      ওহ আচ্ছা, কারাবন্দি করে রাখা ব্যয়বহুল ও অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ ছিলো? আপনারা আমাদের অর্থনীতি শেখান? তাহলে আল্লাহ আপনাদেরকে যে লুঠের মাল ভোগ করার বৈধতা দিয়েছেন সেগুলো দিয়ে কি করতেন? অমুসলিমদের ধনসম্পদ লুঠ করার পরেও তাদের ভরণপোষণ করা আপনাদের জন্য আপনাদের অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ ছিল? আপনাদের মিথ্যাচার ও পাবলিককে বোকা বানানোর কৌশলগুলো সত্যিই অসাধারণ।
      তো আপনারা কবে যুদ্ধবন্দীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন? আপনারা তো তাদের উল্টো বাজারে বিক্রি করে আরো পয়সা কামিয়েছেন আবার অর্থনীতির উপর চাপস্বরূপ মার্কা ফালতু কথাবার্তা বলতে এসেছেন। তাদের সম্পদ লুঠ করেও শখ মিটলো না, তাই তাদের বাজারে বিক্রি করে দিতেন। তাতেও শখ মিটলো না। তাই আপনাদের সাহাবারা যুদ্ধবন্দি মেয়েদের বাজারে বিক্রি করার আগে তাদেরকে রেপ করতেন। এতেও শখ মিটতো না, তাই স্পেশাল পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন যার নাম আযল যাতে সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে। মানে রেপও করা যায় কিন্তু গর্ভধারণ রোধ করায় বাজারে বিক্রি করে বেশি দাম পেতে পারেন। এরপরেও এরা কিভাবে অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ শব্দটা উচ্চারণ করতে পারে?

      Reply
  • এপ্রিল 12, 2021 at 12:09 অপরাহ্ন
    Permalink

    অপপ্রচারঃ (১) দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ইসলামের উদ্ভাবন নয়, বরং তা ইসলামে বহু পূর্ব থেকেই চলে আসছিল। যুগ যুগ ধরে চলে আসা অমানবিক এই প্রথাকে ইসলাম মানবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

    জবাবঃ
    [দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ইসলামের উদ্ভাবন নয়, বরং তা ইসলামে বহু পূর্ব থেকেই চলে আসছিল।]
    ১.
    এই দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ছাড়া অন্য কোন ইসলামপূর্ব যুগের প্রথাকে ইসলাম সমর্থন করেছে? তৎকালীন সময়ে তো পালকপুত্রকে নিজের পুত্র মনে করা হতো এবং পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম মনে করা হতো। ইসলাম কি এই প্রথা সমর্থন করেছে? বরং আমরা দেখি মুহাম্মদ (সঃ) এর সাথে জয়নবের বিয়েকে বৈধ করার জন্য সূরা আহযাব আয়াত ৪, ৩৭ নাযিল হয় যেখানে বলা হয়েছে পালকপুত্র নাকি পুত্রই না এবং পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করলেও কোনো অসুবিধা নেই। এই একটা বিয়ে বৈধ করার জন্য একটা সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয়েছে, পালকপুত্রদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেদিকে নাই বা গেলাম, কিন্তু এখানে ইসলামপূর্ব যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথাকে কেন মান্যতা দিল না ইসলাম? ইসলামপূর্ব যুগের প্রথাকে মান্যতা দেওয়া কি শুধু দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স এর বেলায়ই প্রযোজ্য? আসল কথা, দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ইসলামের স্বার্থ বিরোধী নয়, বরং ইসলামের জন্য সুবিধাজনক। কিন্তু পালকপুত্র প্রথা নবী(সঃ) এর স্বার্থবিরোধী। ইসলাম নিজের স্বার্থ অনুযায়ী সবকিছু হালাল, হারাম করবে অথচ মুমিনরা দোষ চাপাবে ইসলামপূর্ব যুগের উপর, এগুলো কোন ধরনের ডবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ?
    ২.
    ইসলামপূর্ব যুগে মূর্তিপুজা করা হতো। ইসলাম কি মূর্তিপূজাকে বৈধতা দিয়েছে?

    Reply
  • এপ্রিল 12, 2021 at 12:12 অপরাহ্ন
    Permalink

    ইসলাম যেমন মদ্যপানকে একেবারে হারাম না করে পর্যায়ক্রমে হারাম করেছে, এই দাসপ্রথা/যুদ্ধবন্দী/ক্রীতদাসী সেক্স কেও বিলুপ্তিকরণের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

    জবাবঃ
    আসুন সহীহ হাদীসের আলোকে দেখি এসব বিলুপ্তিকরণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কিছু নমুনাঃ

    আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

    তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কাছে একটি বাঁদি ছিল যার সাথে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সহবাস করতেন। এতে আয়েশা (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাথে লেগে থাকলেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই বাঁদিটিকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্‌ পাক নাযিল করেনঃ (আরবি) “হে নবী আল্লাহ্‌ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা আপনি নিজের জন্য কেন হারাম করে নিয়েছেন (সূরা তাহরীমঃ ০১) নাযিল করেন।

    সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩৯৫৯
    হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

    রাসূল যেখানে নিজে থেকেই দাসীসেক্সকে হারাম করে নিলেন, আল্লাহ তা আলা রাসূলে করীম (সাঃ) কে এর জন্য জবাবদিহি করছেন কেন হারাম করলেন। এই হলো বিলুপ্তিকরণে পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার একটি নমুনা। আসুন আমরা আরেকটি নমুনা দেখিঃ

    আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

    রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আওতাস’ নামক স্থানে একদল সৈন্য পাঠালেন। তারা শত্রু সৈন্যদের সাথে মুকাবিলা করে তাদের উপর বিজয় লাভ করলেন, তাদের মহিলাদের যুদ্ধ বন্দী করলেন, যাদের মুশরিক স্বামী ছিল। মুসলমানগণ তাদের সাথে সহবাস করা হতে বিরত রইলেন, তখন মহান মহিয়ান আল্লাহ্ তা’আলা (আয়াত-এ) নাযিল করলেনঃ
    অর্থঃ “নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ”। (৪:২৪)। অর্থাৎ এরা তোমাদের জন্য হালাল, তবে তাদের ইদ্দতপূর্ণ হওয়ার পর।

    সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩৩৩৩
    হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

    সাহাবারা নিজেরাই যেখানে বিবাহিত নারীদের সাথে সহবাস করাকে ঘৃণা করলেন, আল্লাহ সাথে সাথে আয়াত নাজিল করলেন যে এরা তোমাদের জন্য হালাল। এটা হলো বিলুপ্তিকরণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আরেকটি নমুনা।

    Reply
  • এপ্রিল 12, 2021 at 12:14 অপরাহ্ন
    Permalink

    মুমিনরা বলে, প্রাচীনকালে যুদ্ধে মহিলারা নাকি সাজুগুজু করে যেতো যাতে তারা যুদ্ধে হেরে গেলে বিজয়ী যোদ্ধাদের আকৃষ্ট করতে পারে। এসব ফালতু লজিক দিয়ে তারা বোঝাতে চায়, ইসলামে যেসব যুদ্ধ হয়েছে, সেই যুদ্ধগুলোতে বন্দী কাফের নারীরা স্বেচ্ছায় মুমিনদের কাছে ধর্ষিত হত, জোর করা হতো না।

    কিন্তু আমরা জানি, ইসলামে যেসব যুদ্ধ হয়েছে, সেগুলোকে কোনো যুদ্ধই বলা যায় না, সবগুলোই ছিল মুসলিমদের গুপ্ত আক্রমণ। যেসব ক্ষেত্রে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে মুশরিকরা যেমন, ওহুদ,খন্দকের যুদ্ধ, সবগুলোতেই মুমিনরা হেরে গেছে।

    এখন যেখানে যুদ্ধই হতো না উল্টো মুসলিমরাই কাফির ইহুদি গোত্রগুলোকে তাদের দুর্গ/বাড়িতে এসে অতর্কিত আক্রমণ করতো, সেখানে কাফির মহিলাদের সাজুগুজু করে যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার বিষটা আসলো কোথা থেকে?

    Reply
  • এপ্রিল 12, 2021 at 12:15 অপরাহ্ন
    Permalink

    মুমিনদের অপপ্রচার হলো, ইসলাম দাসদের সাথে ভালো আচরণ ও দাসমুক্তির ব্যপারে উৎসাহ দিয়েছে।
    জবাবঃ ইসলামে যত দাসমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো সব মুসলিম দাস ছিল। তাদেরকে তাদের মালিকদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে ইসলামের খেদমতের জন্য, যাতে কোনো মুসলিম নারীপুরুষ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো দাসত্বে না থাকে। কিন্তু এরাই আবার যুদ্ধক্ষেত্রে কাফের, মুশরেকদের দাস বানিয়েছে। আসল বিষয়টা হলো, যখন ভারত, মিয়ানমার, চীনে মুসলিমদের উপর অত্যাচার হয়, তখন মুসলিমরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিপক্ষে প্রতিবাদ করে কিন্তু বাংলাদেশ, পাকিস্তানে তারা নিজেরাই সংখ্যালঘু নির্যাতন করে। তাই এগুলোকে মহানত্ব ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

    Reply
  • এপ্রিল 16, 2021 at 5:18 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    যুদ্ধবন্দী নারীকে গণিমতের মাল বানিয়ে ধর্ষণ করাকে বৈধতা দিতে মডারেট মুসলিমরা বেশ কিছু হাস্যকর কুযুক্তি ব্যবহার করে। যেমনঃ
    ইসলামে দাসপ্রথা না থাকলে অমুসলিমরা যখন খুশি মুসলমানদের উপর আক্রমণ করতো।

    এর জবাবে বলতেই হয়, নবী মুহাম্মাদের জীবনে যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে অমুসলিমদের সাথে, বেশিরভাগ যুদ্ধে মুসলিমরাই প্রথমে আক্রমণ করেছে। বদরের যুদ্ধের সূত্রপাত করেছে মুসলিমরাই। তারা কোরাইশদের বাণিজ্য কাফেলা আক্রমণ করতো এবং তার জন্য কোরাইশরা সতর্কতাস্বরূপ বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করে যাতে মুসলিমরা পুনরায় কোনো কাফেলা আক্রমণ করলে তারা প্রতিরোধ করতে পারে। এভাবে মুসলিমরাই বদরের যুদ্ধের সূচনা করে। বনু নাদির গোত্রকে প্রমাণহীন মিথ্যা অভিযোগে শুধুমাত্র জিব্রাইলের কাছ থেকে অহি পাওয়ার অজুহাতে নির্বাসিত করা হয়। বনু কুরায়জাকে বিশ্বাসঘাতকতার মিথ্যা অভিযোগে নিশ্চিহ্ন করা হয়। মুমিনরা দাবী করে বনু কুরায়জা নাকি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। আমি বলতে চাই, বিশ্বাসঘাতকতা যদি করেও থাকে, তাহলে করেছিল গোত্রের প্রধান। কিন্তু বনু কুরায়জার ৯০০ লোকই কি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল? বনু কুরায়জা যদিও মুসলিমদের নিকট আত্মসমর্পণ করেছিল, তবুও মুসলিমরা রায় দেয়, বনু কুরায়জার সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে গলা কেটে হত্যা করে নারী, শিশুদের গণিমতের মাল বানিয়ে বাজারে বিক্রি করা হবে। আত্মসমর্পণ করার পরও এ ধরনের হত্যাকান্ড কতটা যৌক্তিক? বনু মুস্তালিক গোত্রের কথা না বললেই নয়। বনু মুস্তালিক গোত্রের উপর যখন মুসলিম বাহিনী অতর্কিত আক্রমণ করে, তখন বনু মুস্তালিক গোত্র তাদের গবাদিপশুকে পানি পান করাচ্ছিল এবং তাদের কোনো ধারণাই ছিল না মুসলিমরা আক্রমণ করতে পারে।

    কিন্তু যেসব যুদ্ধে কাফিররা প্রথমে আক্রমণ করেছে, সেই যুদ্ধগুলোতে মুসলিমরা হয় হেরে গেছে না হয় যুদ্ধের ভয়ে গা ঢাকা দিতে চেয়েছে। উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা কুরাইশদের কাছে পরাজিত হয়েছে। খন্দকের যুদ্ধে মক্কার কোরাইশদের ভয়ে মুসলিমরা মদিনার চারপাশে গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল যাতে কোরাইশরা প্রবেশ করতে না পারে।
    এ থেকে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট, যেসব যুদ্ধে মুসলিমরা প্রথমে আক্রমণ করেছিল (যদিও সেগুলোকে যুদ্ধ বলা যায় না, গুপ্ত আক্রমণ বলাই ভালো) সেইসব যুদ্ধেই মুসলিমরা পুরুষদের হত্যা করে নারী, শিশুদের গণিমতের মাল বানানোর সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু মুসলিমরা সত্যিকার যুদ্ধে কখনোই অমুসলিমদের সাথে পেরে ওঠে নি। অতএব
    ইসলামে দাসপ্রথা না থাকলে অমুসলিমরা যখন খুশি মুসলমানদের উপর আক্রমণ করতো, তাদের এমন যুক্তি শুধু অমূলকই নয়, হাস্যকরও বটে।

    তাদের আরো একটা হাস্যকর কুযুক্তি হলোঃ প্রাচীনকালে যখন কোনো যুদ্ধ হতো এবং সেই যুদ্ধে কোনো নারী অংশগ্রহণ করতো, তখন সে খুব ভালো করেই জানতো এই যুদ্ধে সে যদি পরাজিত হয় তাহলে সে দাসী হিসেবে পরিগণিত হবে। তাই সে সাজসজ্জা ও উত্তম পোশাক পরিধান করে যুদ্ধে যেতো যাতে যুদ্ধে হেরে গেলে বিজয়ী যোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় ও প্রভাবশালী, ধনী কোনো মনিব পাওয়া যায়।

    জবাবঃ ইসলামে তো কোনো যুদ্ধই হয় নি। মুহাম্মদ তার সাহাবিদের নিয়ে একেকটা গোত্রের উপর অতর্কিত ও গুপ্ত আক্রমণ চালাতো, আর সেগুলোকেই মুসলিমরা যুদ্ধ বলে দাবী করে।

    ইবনু ‘আউন (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
    তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহঃ) -কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন) -কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহঃ) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন।

    সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫৪১
    হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

    ইসলামের সব যুদ্ধই ছিল বিধর্মী গোত্রের উপর অতর্কিত ও গুপ্ত আক্রমণ। তাহলে কখন, কিভাবে সেই যুদ্ধে একজন নারী সাজসজ্জা ও উত্তম পোশাক পরিধান করে যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিত? মুহাম্মদ ও তার সাহাবিরা কি গুপ্ত আক্রমণের আগে থেকে ঐসব বিধর্মী গোত্রের মেয়েদেরকে টেলিফোন/মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ/ম্যাসেন্জারে জানিয়ে দিতো যে তোমরা সাজুগুজু করে রেডি হও, আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে আক্রমণ করবো? যেসব যুদ্ধে কাফিররা আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিতো , তখন তো মুসলিমরা আগে থেকেই ভয়ে গা ঢাকা দিতো, যেমন খন্দকের যুদ্ধে মক্কার কোরাইশদের আসার কথা শুনে মুসলিমরা মদিনার চারপাশে আগে থেকেই গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল যাতে তারা আসতে না পারে।
    সবচেয়ে বড় কথা, সাজসজ্জা ও উত্তম পোশাক পরিধান করে যুদ্ধে যেতো এমন কথা কোনো হাদিস, সীরাত, তাফসীর কোথাও পাওয়া যাবে না। তারা দাবী করছে প্রাচীনকালের যুদ্ধের কথা, অথচ সেসব যুদ্ধ ছিল দুইপক্ষের যুদ্ধ, যেখানে দু’পক্ষই একে অপরের উপর আক্রমণ করতো। এসব যুদ্ধের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধের কোনো মিল নেই। মুসলিমদের যুদ্ধ ছিল মূলত একপাক্ষিক এবং চোরাগুপ্তা আক্রমণ। তাই এটার সাথে প্রাচীনকালের যুদ্ধের কথা মিলিয়ে ফেলাটা নিতান্তই হাস্যকর।

    এছাড়াও যখনই ইসলামে দাসপ্রথার বিষয়টি আলোচনায় আসে, মুসলিমরা তখন বলে, ইসলাম দাসদাসীদের মুক্ত করার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে, দাসদের সাথে ভালো আচরণ ও দাসীদেরকে বিবাহ করতে উৎসাহিত করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন আমাদের মাথায় রাখতে হবে, দাসদাসীদের মধ্যে শুধু যুদ্ধবন্দী অমুসলিমরাই ছিলো না, পাশাপাশি অনেক মুসলিম দাসদাসীও ছিলো। ইসলাম অনুযায়ী অমুসলিম পুরুষ বিয়ে করা (সে যে ধর্মেরই হোক) এবং ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ব্যতীত অন্য নারীদের বিবাহ করা হারাম। এছাড়া তারা যে সূরা নিসা আয়াত ২৫ এর কথা বলে থাকে, সেখানে স্পষ্টভাবেই মুসলিম দাসদাসী বিয়ে করার কথা বলেছে। আর একজন মুসলিম অন্য কোনো মুসলিমকে বিয়ে করতেই পারে, এতে মহানত্বের কিছু নেই। কিন্তু যুদ্ধবন্দীরা হলো অমুসলিম এবং ক্ষেত্রবিশেষে মুশরিক অর্থাৎ আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই ইসলামে দাসদাসীদের বিবাহের বিষয়টা শুধু মুসলিম দাসদাসীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যুদ্ধবন্দীরা যেহেতু মুসলিম নয়, তাই ইসলাম কোনোভাবেই যুদ্ধবন্দীদের বিবাহ করতে উৎসাহিত করে না।

    ইসলামে যত দাসমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো সব মুসলিম দাস ছিল। তাদেরকে তাদের মালিকদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে ইসলামের খেদমতের জন্য, যাতে কোনো মুসলিম নারীপুরুষ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো দাসত্বে না থাকে।
    কিন্তু এরাই আবার যুদ্ধক্ষেত্রে কাফের, মুশরেকদের দাস বানিয়েছে।

    আসল বিষয়টা হলো, যখন ভারত, মিয়ানমার, চীনে মুসলিমদের উপর অত্যাচার হয়, তখন মুসলিমরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিপক্ষে প্রতিবাদ করে কিন্তু বাংলাদেশ, পাকিস্তানে তারা নিজেরাই সংখ্যালঘু নির্যাতন করে। দাসদাসী সম্পর্কে ইসলামের অবস্থানও এমনই। যখন মুসলিম দাসদাসী হয়, তার ক্ষেত্রে ইসলাম উদার কিন্তু ইসলাম নিজেই আবার অন্য ধর্মের মানুষকে দাসদাসী বানানোর ব্যপারে সিদ্ধহস্ত। তাই এটাকে মহানত্ব ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: