আল্লাহর নিকট বিশেষ পত্র

এলাহি ভরসা

১০ রজব, ১৪০০হিজরি
বাংলাদেশ,
এশিয়া মহাদেশ,
পৃথিবী

হে প্রিয় মহান আল্লাহ,

আসসালামু আলাইকুম। আপনাকে সালাম দেয়া যায়েজ আছে কিনা বুঝতে পারছি না। আপনিতো গাফুরুর রাহিম। ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন। আপনি নিশ্চয়ই আপনার রহমতে ভালো আছেন। আমি আপনার এক অধম সৃষ্টি মানুষ। ভুল হল আল্লাহু পাক। আমি নারী, মানুষ নই। আপনার রহমতে আমি ভালো নেই। আপনার নাযিলকৃত পবিত্র কোরান নিয়ে ভীষণ বিপদে, ভয়ে আর দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছি। জানিনা শেষপর্যন্ত এই চিঠি আপনার কাছে পৌছে কিনা। শুনেছি জীবরাঈল (আ:) আপনার বাণী নিয়ে পৃথিবীতে আসা যাওয়া করতেন। এখনতো বেকার বসে আছেন। যদি দয়া করে উনাকে পাঠাতেন! অবশ্য উনি না আসলেও আপনিতো অন্তর্যামী, সর্বজ্ঞ। এটা পড়া আপনার জন্য মোটেও কঠিন কাজ নয়। অবশ্য আপনি বাংলা ভাষা পড়তে না পারলে সমস্যা। আপনিতো মহাজ্ঞানী। আর সামান্য বাংলা ভাষা বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা না। বার বার আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। কত রাত জেগে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ডাকলাম। ফরজ, সুন্নত নামাজের সাথে সাথে নফল নামাজ পড়লাম, তাসবী পড়লাম, কত পাপ থেকে বিরত থাকলাম। তারপরও আপনার রহমতের ইশারা পেলাম না। ভাবলাম আমি বোধহয় সঠিক পথে নাই। কারণ আপনার আদেশনির্দেশাদি পাক কোরানে আরবী ভাষায় লিখিত। এর কথা, ওর কথা শুনে শুনে আপনার এবাদত করছি এটা মোটেই ঠিক নয়। ঐ যে বলে না “শুইন্যা মুসলমান”। হে মহান আল্লাহ আপনি কেন শুধু আরবী ভাষায় কোরান পাঠালেন। বাংলা ভার্সন একটাতো পাঠাতে পারতেন। আপনি কি জানতেন না বাংলা ভাষাভাষী বান্দা পৃথিবীতে চতুর্থ স্থানে থাকবে? আপনি কি জানতেন না বাঙালিরা অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ জাতি হবে? আহা! যদি একটা বাংলা ভার্সন কোরান শরীফ পাঠাতেন দেখে পড়ে মুসলমান হতে পারতাম। হে আল্লাহ এই আরবি শিখতে গিয়ে কত যে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে! আপনাকে আর কী বলবো। আপনি সবই জানেন আর দেখেন। তারপরও তো দুই কাঁধে দুই গার্ডও দিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ আপনিও মনে হয় আপনাকে বিশ্বাস করতে পারেন না। আচ্ছা দুইকাধের দুই ফেরেশতা কি অডিও ভিডিও দুইটাই করছে? হে মহান আল্লাহ্‌, মাফ করবেন এটা কি ঠিক হয়েছে? আমাদের প্রাকৃতিক ডাক আছে, স্বামীস্ত্রীর ব্যাপার আছে। আপনি আবার এই অডিওভিডিও দেখে দেখে বিচার আচার করবেন? ওয়াস্তাগফিরুল্লাহ। ক্ষমা করবেন। কী বলতে গিয়ে কী বলছি। পবিত্র কোরান শরীফের কথায় আসি। আমরা প্রায় বিশ পঁচিশজন লাইন ধরে বসে নানির বাড়ির কাচারি ঘরে হুজুরের কাছে আরবি শিখতাম। আমার ছোট খালা আলিফ, বা, তা, ছা আঙুল দিয়ে পড়তে পড়তে আঙুলের ঘসায় ঘসায় কায়দার কালো অক্ষর মুছে যেতো। তবুও আরবী অক্ষর মুখস্থ হত না। সুরা নাস, ফালাক, ইখলাস, কাফিরুন মিলিয়ে মিশিয়ে খিচুড়ি করে ফেলতো আর হুজুর কাউট্টা চ্যাঙি দিয়ে রেখে দিতো। হে আল্লাহ কাউট্টা চ্যাঙি বুঝতে পেরেছেন? কাউট্টা মানে হল কাছিম। আসলে মাথা নুয়ে হাটুর নিচ দিয়ে হাত দিয়ে কান ধরলে অনেকটা কাছিমের মত দেখায়। তাই এর নাম কাউট্টা চ্যাঙি। মহান আল্লাহ দোজখে এমন একটা শাস্তি চালু করা যেতে পারে। খুবই কার্যকর ব্যবস্থা। আমরা ঐ বিশ পঁচিশ জন কতবার খাস দিলে তিনবার সুরা ইখলাস পড়ে মুনাজাত করেছি আপনার দরবারে “আল্লাহ কোরানকে আরবী থেকে বাংলা করে দাও।” বোধ হয় আমাদের প্রার্থনা আপনার আরশ পর্যন্ত যেতে পারে নাই। ইবলিশ শয়তান আছে না? তার তো অসুবিধা হয়ে যাবে। যাহোক আপনার অসীম কৃপায় আমরা কায়দা সিপারা শেষ করলাম। এইবার আপনার বাণী পাক কালাম হাতে পাবো ভেবে গর্বে, আনন্দে, খুশিতে বুক ভরে উঠলো। আহ এইবার আর ইবলিশ কাছে ধারেও ঘেষতে পারবে না। এই আপনার সাথে নিশ্চয়ই যোগাযোগ হবে। আহ শান্তি। আব্বাজান তার বন্ধুকে দিয়ে কলকাতা ছাপার কোরান শরীফ আনালেন, পাকিস্তান হতে আনা মখমলের কাপড় দিয়ে বিশেষ ভাবে তার গিলাপ বানালেন, সেগুনকাঠ দিয়ে কোরান শরীফ রাখার জন্য নকশাকরা বাক্স আর কোরান শরীফ পড়ার জন্য নকশাকরা রেহেল বানালেন। সবাই বাতাসা খাইয়ে কোরান শরীফ নেয়। আব্বাজান জিলাপি দিতে চাইলেন। আমাদের এলাকায় শুধু ঘোষেরাই মিষ্টি ও জিলাপি বানাতো। কিন্তু হুজুর বললেন, হিন্দুর হাতের জিলাপি দিয়ে কোরান শরীফ নেয়া ঠিক হবে না। হে আল্লাহ আপনিতো জানেন জিলাপির নাম শুনলেই আমার জিভে জল আসে। জিলাপির দুখে আমি বললাম, আব্বাজান হিন্দুরা জিলাপি বানালে কি হয়? আব্বাজান চিন্তিত চেহারা করে চলে গেলেন। হুজুর বললেন, “তেনারা মুইত্যা পানি লইন না।” হে আল্লাহ আপনি জানেন, আমার আব্বাজান আমার চাচাতো বোনের নন্দাজামাইরে বলে সৌদিআরবের খাজুর আনার চেষ্টা করেছিলেন। পারেন নাই। শেষ পর্যন্ত নানির হাতের পাতলা খিচুড়ি আর গরুর মাংস খাইয়ে কোরান শরীফ নেই। হে আল্লাহ খিচুড়ি সবাই ভাগে পেয়েছে। কিন্তু গরুর মাংস কম পড়েছিলো। নানি যে কত বার বিসমিল্লাহ বলেছে আর আব্বাজানকে বলেছে “চিন্তার কিছু নাই, বিসমিল্লাহ বইলা রানছি, ইনশাআল্লাহ টান পরবো না”। মাফ করবেন আল্লাহু গাফুরুররাহিম। নামাজ ও কোরান শরীফ পড়ার জন্য আব্বাজান আমাকে লম্বা এক জোব্বা অবশ্যই কামিজ না আর সেলোয়ার বানিয়ে দিলেন। তখন বড় ওড়না না থাকায় আম্মাজানের পুরান শাড়ী দুইটুকরা করে একটুকরা আমাকে দেয়া হল।

হে আল্লাহ আপনার অসীম দয়ায় সবকাজ সম্পন্ন করে আমার হাতে কলকাতা ছাপার পবিত্র কোরান শরীফ দেয়া হল। আমি আপনার নাম নিয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে প্রথম পৃষ্ঠা খুলিলাম। মনে হচ্ছিল আপানকেই দেখতে পাবো। যা দেখলাম তাতে আমার মাথাই ঘুরে গেলো। এই কোরান শরীফে কোন যের,যবর, পেশ নাই। হরফগুলো বিচিত্র ভঙ্গিতে একটা আর একটার হাত ধরে যেন আমাকে ব্যঙ্গ করছে। হরফগুলোও চিনতে কষ্ট হচ্ছে। মিমকে হা, ছাকে সিন, গাইনকে নুন মনে হচ্ছে। হে আল্লাহ আমাকে আপনি কি পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। আব্বাজানকে বললাম এটাতো পড়তে পারছিনা। আব্বাজান রেগে আগুন। বললেন, ঈমান কমজোর হলে এমন হয়। ঈমান শক্ত কর। দুএকদিন পর বুঝলাম শুধু আমার ঈমান কমজোর না, হুজুরের ঈমানও কমজোর। অবস্থা বেগতিক দেখে নানাকে জানালাম। নানা ঢাকাই ছাপার কোরান শরীফ এনেদিলেন। আব্বাজানকে দেখিয়ে আব্বাজানের দেয়া কোরান শরীফ পরম যত্নে বুকে করে কাচারিতে নিয়ে যাই নিয়ে আসি। আর কাচারিতে গিয়ে নানার দেয়া কোরান পড়ে সেখানেই রেখে আসি। পরম করুণাময় আল্লাহতালা আপনি জানেন এখানেই কোরান বিড়ম্বনার শেষ নয়। বরং শুরুমাত্র। যাক সবই আপনার ইচ্ছা। আপনি যা করেন নিশ্চয়ই মঙ্গলের জন্যই করেন। আর আমার মনে হয় জিলাপি অর্থাৎ মিষ্টি না খেয়ে লেটকা খিচুড়ি খেয়ে কোরানশরীফ নেয়াতেই আমার এই লেটকালেটকি অবস্থা।

মহান আল্লাহতালা, আমার ছোট ভাই আর আমি শুদ্ধ উচ্চারণে তিন তিন বার কোরান খতম করেছি। আমরা একাগ্রচিত্তে নিয়মিত নামাজ পড়েছি আর আপনার সাহায্য চেয়েছি। বলেছি, হে আল্লাহ আমাদের ক্লাসে প্রথম করে দাও। পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় সূরা ইখলাস, নাস, ফালাক আর কাফিরুন পড়ে বুকে ফু দেই। রাব্বি জিদনি এলমা বলে পরীক্ষার প্রশ্ন হাতে নেই। বিসমিল্লাহ বলে লেখা শুরু করি। ভেবেছি, মহান আল্লাহ আপনি আমাদের সাথে আছেন আর কোন চিন্তা নেই। কিন্তু ফল হল উল্টো। ভাইটার ক্লাসে ফার্স্ট হল এক হিন্দু ছেলে। আহারে আমার ভাইটাতো পুরাই এলোমেলো হয়ে গেলো। বলল, একটা মুসলমান ছেলে ফার্স্ট হলেও কথা ছিল। হল কিনা এক হিন্দু ছেলে। আল্লাহ এটা কি করলেন? সরস্বতী দেবী কি আল্লাহর চেয়ে শক্তিশালী? মহান আল্লাহ্‌ পাক আমি বুঝাতে লাগলাম, ভাই আল্লাহ্‌ আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। তুই ভালো করে পড় আর আল্লা আল্লা কর।

হে মহান আল্লাহ্‌ আপনার পক্ষে ওকালতি শুরু করি। নেয়ামুল কোরান থেকে কত দোয়া দুরুদ শতবার, হাজারবার, লক্ষবার পড়ে পরম দয়াময় আপনার নামে আবার শুরু করি। কিন্তু আবারো ফলাফল একই হলো। এবার ছোট ভাই আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো। আমি অনেক বুঝালাম, আল্লাহ আমাদের ঈমানের জোর পরীক্ষা করেন। দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা, অভাব,অনটন, বিপদ, আপদ, রোগ, শোক দিয়ে পরীক্ষা করে। একবার ধৈর্য ধরে ধরে পাশ করতে পারলে আর সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ কোন কাজ হলো না। আর আপনিও ওর উপর রহমত করলেন না। মাফ করবেন রাহমানুর রাহিম আপনিও বোধ হয় নাকে সরিষার তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। আব্বাজানের ভয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়তে বের হত ঠিক, কিন্তু নামাজে না গিয়ে হাট বাজার ঘুরে ফিরে আসতো। একদিন আব্বাজান জানতে পেরে এমন মার মারলেন চারদিন বিছানা থেকে উঠতেই পারল না। হে আল্লাহ পাক অবশেষে আব্বাজানের উপর আপনার রহমত নাযিল হল। আব্বাজান ওরে আদর করে বুঝালেন, আল্লাহর কাছে দুনিয়ার কিছু চাইও না। পরকালের জন্য চাও। আল্লাহ যেন দোজখের আগুন থেকে রক্ষা করে। বেহেস্ত নসীব করে। দুনিয়াতে আমরা দুই দিনের মুসাফির। যাক ও আবার নামাজ আর কোরান পড়তে শুরু করলো।

হে মহান আল্লাহতালা নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন, ইবলিশ শয়তানের বিরুদ্ধে কী ভয়ঙ্কর যুদ্ধ করে প্রিয় নাটক, সিনেমা, নাচ না দেখে, কত সুমধুর গান না শুনে কত গল্পের বই না পড়ে কত আন্তরিকতার সাথে আপনাকে ডেকেছি, রহমত চেয়েছি, সাহায্য চেয়েছি। কিন্তু ঐ ইবলিশ আপনার চেয়েও মনে হয় বেশি শক্তিশালী। নামাজে দাঁড়ালেই এসে হাজির। যে অংক পড়ার টেবিলে সারারাত বসে থেকেও মিলাতে পারি না, নামাজে বসা মাত্র অংক মিলানোর বুদ্ধি চলে আসে। অংক মিলানো না হয় খারাপ কিছু না। কিন্তু যে কাজ সারাদিন করতে মনে থাকে না নামাজ পড়তে দাঁড়ালে তাই মনে পড়ে, যে গানের কলি ভুলে গিয়েছিলাম তা মনে পড়ে, ছাদের শুকতে দেওয়া কাপড়ের কথা মনে পড়ে। যতই আউযু পড়ি কাজ হয় না। আম্মাজান একদিন বলেছিলেন, এক ভিন জায়গার মানুষ আসলো আমাদের গ্রামে। আমাদের মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে অর্ধেক নামাজ পড়ে, ইমাম সাহেবকে বলেন, তোর কচুর নামাজ আমি পড়ি না। সব মুসুল্লিরা তাকে মারতে শুরু করলে ইমাম সাহেব বলেন, উনি ঠিক বলেছেন। আমি নামাজে দাড়ানোর পড় মনে পড়ছে বৃষ্টি হইতেছে কিন্তু চালে যে কচুর ছরা রইদে দিছি সেটাতো নামাই নাই। অনেকটা ঐ রকম। আল্লাহ আপনে রহম করেন নাই তো কি হয়েছে। আমাদের পবিত্র দায়িত্ব ইবলিশ কে হারিয়ে আপনাকে জিতিয়ে দেয়া। আমি আর ভাই এই সমস্যা সমাধানে আলোচনায় বসলাম। কিভাবে ইবলিশ দূর করা যায়। ওর বক্তব্য আসলে আমরা আরবি সুরার অর্থ না বুঝেই মুখস্থ পড়িতো তাই মনোযোগ কম আর এই সুযোগে শয়তান মাথায় ঢোকে। চল আপা আমরা বাংলা কোরান শরীফ কিনি। বাংলায়ই সব সূরা আর দোয়া দুরুদ পড়লে এই সমস্যা হবে না। আমরা কত সুন্দর বুঝে কবিতা আবৃত্তি করি, আমার সোনার বাংলা গাই। আমি বললাম তাহলে আল্লাহ দুনিয়া একটা ভাষা মানে আরবি দিলেই পারতো। এতো ভাষা দিছে আর বাণী পাঠিয়েছে আরবিতে। আল্লাহর এটা কি ঠিক হইল? প্রত্যেক ভাষায় একটা একটা কোরান পাঠালেও হতো। যা হোক অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো আমরা একটি বাংলা কোরান শরীফ কিনবো। কিন্তু টাকা পাবো কোথায়? নগদ টাকাতো আমাদের হাতে দেয়ার নিয়ম নাই। যা লাগে আব্বাজানকে বলতে হবে। আব্বাজান এনে দিবেন। বাংলা কোরানের কথাতো আব্বাজানকে বলা যাবে না। অতএব আম্মাজানকে বলতে হবে। হে মহান আল্লাহ এখানে আরেকটা বিষয় জানিয়ে রাখি। আমাদের আশে পাশে হিন্দুরা বলে মা বাবা আর মুসলমানরা বলে আম্মাজান আব্বাজান। ওরা বলে মাসী পিসী মুসলমানরা বলে খালাম্মাজান ফুফুজান, ওরা বলে জল মুসলমানরা বলে পানি। এই ব্যবস্থা আপনি কেন করে ছিলেন সেটাও আমাদের বোধগম্য ছিলো না। যাক মাফ করবেন এসব ছোট ব্যাপার নিয়ে আপনাকে বিরক্ত করা ঠিক না।

হে আলমুহাইমিন, আপনি অবগত আছেন আমাদের কোন কানাকড়িও ছিল না। আব্বাজানতো আবার আপনার নেক বান্দা। পরবর্তীতে বুঝতে পেরেছিলাম আপনি আপনার মহান চরিত্রের কিছু মহান গুণ আমাদের আব্বাজানের চরিত্রে আরোপ করেছিলেন। তাই আমরা সব চাহিদার কথা আব্বাজানকে বলতে পারতাম না। আমার ভাই বাংলা অনুবাদ সহ কোরানের দাম দুঃখিত ইয়া জাব্বারু হাদিয়া শুনে টাসকি খেল। সাথে সাথে আমিও। আব্বাজানককে বলা ছাড়া কোন উপায় নাই। ইয়া খালেকু আপনার সম্পূর্ণ আস্থা রেখে মায়ের ওকালতিতে আব্বাজানের সমীপে বাংলা কোরান শরীফ কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করলাম যদিও বাসায় ভূমিকম্প ও সুনামির আশঙ্কা করেছিলাম। আপনার অশেষ কৃপায় আব্বাজান শান্ত মস্তিষ্কে রাগান্বিত চোখে মুষ্টিবদ্ধ হস্তে পুরো বিষয় শুনলেন। এরপর আমরা এক বিশাল ধর্মীয় বক্তৃতার মুখোমুখি হলাম। কোরান বুঝে পড়ার জন্য বাংলা নয় আরবী ভাষা শিখার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি পেলাম। বুঝতে পারলাম শীঘ্রই আমাদের মাদ্রাসায় যাওয়ার ব্যবস্থা হবে অথবা কোন আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞ আলেমের ব্যবস্থা হবে। আপনার দয়ায় শেষ পর্যন্ত কোনটাই হয় নাই। কিন্তু আমরাতো বসে থাকতে পারি না। আব্বাজান ও আম্মাজানের অগোচরে বিছানার তোষকের নিচে হাত চালিয়ে, মাটির ব্যাংকে চুলের ক্লিপ দিয়ে খুঁচিয়ে, আব্বাজানের পকেট হাতড়ে কিছু আয় রোজগার হলো। কিন্তু তাতেও কাজ হল না। লুকিয়ে পুরানো বইওখাতা বিক্রিও করা হলো। আম্মাজানের কাছ থেকেও কাকুতিমিনতি করে কিছু আদায় হলো। ইয়া ইলাহি দেখুন আপনাকে পাওয়ার জন্য, আপনাকে জানার জন্য বিশেষত আপনার পবিত্রবাণী পাক কালাম পড়ার জন্য আমরা কি কি করলাম। আমরা জানি আমাদের এই চেষ্টা কখনো আপনি বৃথা যেতে দিবেন না। দুটি মাছুম বাচ্চার এই কর্ম প্রত্যয়ে নিশ্চয়ই আপনি সন্তুষ্ট হয়ে বিনা বিচারে বেহেশত নসীব করবেন। যাক এবার সেই মহামূল্যবান পরম আকাঙ্ক্ষিত পবিত্র পুস্তক আমাদের হস্তগত হলো।
ইয়া আযীযু (সবচেয়ে সম্মানিত), ইয়া কাহহারু (দমনকারী), ইয়া বারিয়ু (পরিকল্পনাকারী), ইয়া খাফিদু (অবিশ্বাসীদের অপমানকারী) আপনার পবিত্র বাণী আল কোরআন নিয়ে বিড়ম্বনা এখানেই সমাপ্ত নয়। গভীর নিস্তব্ধ রাতে, মোম বাতির টিমটিম আলোয়ে আপনার যে বিরাট রহস্য আবিষ্কার করেছি তাতে যে কি পরিমান বিড়ম্বিত হয়েছি তা এক বিশাল ইতিহাস।

ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আরো একটি পত্র লিখার আশ্বাস দিয়ে আপনার রহমতে এখানেই শেষ করছি।

আপনার
একান্ত অনুগত
অবহেলিত
নিগৃহীত
বঞ্চিত
মুমিনা।

লিখেছেনঃ মিষ্টি কুল

One thought on “আল্লাহর নিকট বিশেষ পত্র

  • May 6, 2019 at 12:06 PM
    Permalink

    Excellent. We want more this type writing

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *