অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব? – কুরআন হাদিসের দলিল

Print Friendly, PDF & Email

বর্তমান সময়ের মুসলিমরা ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করে বেড়ান, মানবতার ধর্ম বলে প্রচার করে বেড়ান। তারা বলেন, ইসলাম কখনোই অমুসলিমদেরকে ঘৃণা করতে শেখায় না। কিন্তু, কুরআন হাদিসে আমরা ঠিক উল্টো চিত্রই দেখতে পাই। কুরআন হাদিস থেকে জানা যায়, ইসলামে অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব করা বা রাখা হারাম। একজন অমুসলিম যতো মহান মানুষই হোক না কেন, আপনার যতো উপকারই করুক না কেন, আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন আপনি তাকে বন্ধু মনে করতে পারবেন না, তার প্রতি আপনার কোনো ভালোবাসা থাকতে পারবে না, এটাই ইসলামের শিক্ষা।

কুরআন

3:28
لَّا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكٰفِرِينَ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَمَن يَفْعَلْ ذٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِى شَىْءٍ إِلَّآ أَن تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقٰىةً ۗ وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُۥ ۗ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
Bengali - Bayaan Foundation
মুমিনরা যেন মুমিনদের ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধু না বানায়। আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে যদি তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোন ভয়ের আশঙ্কা থাকে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন।

তাফসীর

এখানে আল্লাহ তা’আলা মুমিনদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন না করে এবং তাদের পরস্পরের মধ্যে প্রণয় ও ভালবাসা থাকা উচিত নয়। অতঃপর তিনি সতর্ক করে বলছেন যে, এরূপ যে ব্যক্তি করবে অর্থাৎ অবিশ্বাসীদের সাথে মিত্রতা করবে তার প্রতি তিনি রাগান্বিত হয়ে যাবেন। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ‘হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করো না’। (৬০:১) অন্য স্থানে রয়েছেঃ “হে মুমিনগণ! এই ইয়াহুদী এবং খ্রীষ্টানেরা পরস্পর বন্ধু, তোমাদের মধ্যে যে কেউ তাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” অন্যত্র আল্লাহ তাআলা মুহাজির, আনসার ও অন্যান্য মুসলমানদের ভ্রাতৃত্বের উল্লেখ করে বলেনঃ “অবিশ্বাসকারীরা পরস্পর বন্ধু, তোমরা যদি এরূপ না কর তবে পৃথিবীর পৃষ্ঠে গণ্ডগোলের সৃষ্টি হবে এবং ভীষণ হাঙ্গামা সংঘটিত হবে।”
অতঃপর আল্লাহ পাক ঐ লোকদেরকে অনুমতি দেন যারা কোন শহরে কোন সময় অবিশ্বাসীদের অনিষ্ট হতে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে মৌখিক তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখে কিন্তু তাদের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা রাখে না। যেমন সহীহ বুখারী শরীফে হযরত আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ “কোন কোন গোত্রের সাথে আমরা প্রশস্ত বদনে মিলিত হই, কিন্তু আমাদের অন্তর তাদের প্রতি অভিশাপ দেয়।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “শুধু মুখে বন্ধুত্ব প্রকাশ করতে হবে কিন্তু কাজে-কর্মে এরূপ অবস্থাতেও কখনও তাদের সহযোগিতা করতে হবে না।” এ উক্তিটিই অন্যান্য ব্যাখ্যাকারী হতেও বর্ণিত আছে। আল্লাহ তা’আলার নিম্নের ঘোষণাটিতেও এ উক্তিরই সমর্থন পাওয়া যায়। তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যে ব্যক্তি ঈমান আনয়নের পর আল্লাহর সাথে কুফরী করে কিন্তু যার প্রতি জবরদস্তি করা হয়েছে এবং তার অন্তর ঈমানের সাথে শান্তি প্রাপ্ত (অসমাপ্ত আয়াত)।” (১৬:১০৬)।
সহীহ বুখারী শরীফে রয়েছে, হযরত হাসান (রাঃ) বলেনঃ “কিয়ামত পর্যন্তই এ নির্দেশ”। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “আল্লাহ তোমাদেরকে স্বীয় অস্তিত্বের ভয়প্রদর্শন করছেন। অর্থাৎ তিনি ঐ লোকদেরকে স্বীয় শাস্তির ভয় প্রদর্শন করছেন যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করতঃ তাঁর শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করছে এবং তার বন্ধুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করছে।”
এরপর আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “তার নিকটই ফিরে যেতে হবে। প্রত্যেকেই তার কাছে স্বীয় কার্যের প্রতিদান প্রাপ্ত হবে”। মুসনাদ ইবনে আবি হাতিম’ গ্রন্থে রয়েছে, হযরত মাইমুন ইবনে মাহরান বলেন, হযরত মুআয (রাঃ) দাঁড়িয়ে আমাদেরকে বলেনঃ “হে বানী আওদ! আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দূতরূপে তোমাদের নিকট আগমন করেছি। জেনে রেখো যে, আল্লাহর নিকট সকলকে ফিরে যেতে হবে। অতঃপর অবস্থান স্থল হবে জান্নাত অথবা জাহান্নাম।”

কুরআন ৩ঃ২৮ এর ব্যাখায় ইবনে কাসির
4:144
يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْكٰفِرِينَ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَجْعَلُوا لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطٰنًا مُّبِينًا
Bengali - Bayaan Foundation
হে মুমিনগণ, তোমরা মুমিনগণ ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিপক্ষে কোন স্পষ্ট দলীল সাব্যস্ত করতে চাও?

তাফসীর

কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে, তাদের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা রাখতে, তাদের সাথে সর্বদা উঠাবসা করতে, মুসলমানদের গুপ্তকথা তাদের নিকট প্রকাশ করতে এবং তাদের সাথে গোপন সম্পর্ক বজায় রাখতে আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদেরকে নিষেধ করছেন। অন্য আয়াতে আছেঃ ‘মুমিনগণ যেন মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে, আর যে ব্যক্তি এরূপ করে সে আল্লাহ তা’আলার নিকট কোন মঙ্গলের অধিকারী নয়। হ্যাঁ, তবে যদি আত্মরক্ষার জন্যে বাহ্যিক ভালবাসা রাখ সেটা অন্য কথা এবং আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ হতে ভয় প্রদর্শন করছেন।’ (৩:২৮) অর্থাৎ তোমরা যদি তাঁর অবাধ্য হও তবে তোমাদের তাঁর হতে ভীত হওয়া উচিত। মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমে’ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ কুরআন কারীমের মধ্যে যেখানেই এরূপ ইবাদতের মধ্যে (আরবী) শব্দ রয়েছে তথায় তার ভাবার্থ হচ্ছে দলীল। অর্থাৎ তোমরা যদি মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে তোমাদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর তবে তোমাদের ঐ কাজ তোমাদের উপর ঐ বিষয়ের দলীল হয়ে যাবে যে আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন। পূর্বযুগীয় কয়েকজন মুফাসৃসির এ আয়াতের এ তাফসীরই করেছেন।

কুরআন ৪ঃ১৪৪ এর ব্যাখায় ইবনে কাসির

ইহুদী খ্রিস্টান

5:51
يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصٰرٰىٓ أَوْلِيَآءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَآءُ بَعْضٍ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُۥ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظّٰلِمِينَ
Bengali - Bayaan Foundation
হে মুমিনগণ, ইয়াহূদী ও নাসারাদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে নিশ্চয় তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ যালিম কওমকে হিদায়াত দেন না।

তাফসীর

এখানে আল্লাহ তাআলা ইসলামের শত্রু ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে মুমিনদেরকে নিষেধ করছেন। তিনি বলছেন- তারা কখনও তোমাদের বন্ধু হতে পারে না। কেননা, তোমাদের ধর্মের প্রতি তাদের হিংসা ও শক্রতা রয়েছে। হ্যাঁ, তারা নিজেরা একে অপরের বন্ধু বটে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব কায়েম করবে তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। হযরত উমার (রাঃ) হযরত আবু মূসা (রাঃ)-কে এ ব্যাপারে পূর্ণ সচেতন করেছিলেন এবং এ আয়াতটি পড়ে শুনিয়েছিলেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উবা বলেনঃ “হে লোক সকল! তোমরা এ থেকে বেঁচে থাকো যে, তোমরা নিজেরা জানতেই পারবে না, অথচ আল্লাহর কাছে ইয়াহুদী ও নাসারা বলে পরিগণিত হয়ে যাবে।” বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বুঝে গেলাম যে, এ আয়াতের ভাবার্থই তার উদ্দেশ্য।

কুরআন ৫ঃ৫১ এর ব্যাখায় ইবনে কাসির

পরিবার

নিজের আপন মা বাবা ভাই বোনও যদি ইসলামে বিশ্বাসী নাহয় তাহলে তাদের সাথেও বন্ধুত্ব বা আন্তরিক সম্পর্ক রাখা যাবে না।

9:23
يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَتَّخِذُوٓا ءَابَآءَكُمْ وَإِخْوٰنَكُمْ أَوْلِيَآءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمٰنِ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَأُولٰٓئِكَ هُمُ الظّٰلِمُونَ
Bengali - Bayaan Foundation
হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজদের পিতা ও ভাইদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরীকে প্রিয় মনে করে। তোমাদের মধ্য থেকে যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তারাই যালিম।

তাফসীর

এখানে আল্লাহ তা’আলা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে মুমিনদেরকে নিষেধ করছেন, যদিও তারা তাদের মাতা, পিতা, ভাই, বোন প্রভৃতি হাক না কেন, যদি তারা ইসলামের উপর কুফরীকে পছন্দ করে নেয়। অন্য আয়াতে রয়েছে- “(হে নবী!) যারা আল্লাহর উপর ও পরকালের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তাদেরকে তুমি পাবে না যে, তারা বন্ধুত্ব রাখবে এমন লোকদের সাথে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর সাথে শত্রুতা রাখে, যদিও তারা তাদের পিতা হয় বা ছেলে হয় অথবা ভাই হয় কিংবা স্বগোত্রীয় হয়। এরা তারাই, যাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন এবং স্বীয় বিশেষ রুহ দ্বারা তাদেরকে সাহায্য করেছেন, তিনি তাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবিষ্ট করবেন যেগুলোর নীচ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে।” (৫৮:২২)

কুরআন ৯ঃ২৩ এর ব্যাখায় ইবনে কাসির

কেবল অমুসলিমদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে না তাই নয়, নিজের আপন মা বাবা ভাই বোন অমুসলিম হলে তাদের জন্যও জাহান্নামের অনন্তকাল শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা যাবে না।

9:113
مَا كَانَ لِلنَّبِىِّ وَالَّذِينَ ءَامَنُوٓا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوٓا أُولِى قُرْبٰى مِنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحٰبُ الْجَحِيمِ
Bengali - Bayaan Foundation
নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয় তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।
9:114
وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرٰهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَآ إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُۥٓ أَنَّهُۥ عَدُوٌّ لِّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ ۚ إِنَّ إِبْرٰهِيمَ لَأَوّٰهٌ حَلِيمٌ
Bengali - Bayaan Foundation
নিজ পিতার জন্য ইবরাহীমের ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল একটি ওয়াদার কারণে, যে ওয়াদা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চয় সে আল্লাহর শত্রু, সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয় ইবরাহীম ছিল অধিক প্রার্থনাকারী ও সহনশীল।

হাদিস

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৬/ শিষ্টাচার (كتاب الأدب)
হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩২
১৯. যার সংস্পর্শে বসা উচিত
৪৮৩২। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি মু‘মিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেযগার লোকে খায়।(1)
হাসান।
(1). তিরমিযী, আহমাদ। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৯/ জিহাদ (كتاب الجهاد)
হাদিস নম্বরঃ ২৭৮৭
১৮২. মুশরিকদের এলাকায় অবস্থান সম্পর্কে
২৭৮৭। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কেউ কোনো মুশরিকের সাহচর্যে থাকলে এবং তাদের সাথে বসবাস করলে সে তাদেরই মতো।(1)
(1). সহীহ। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

Marufur Rahman Khan

Marufur Rahman Khan is a Bangladeshi Atheist, Feminist, Secularist Blogger.

5 thoughts on “অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব? – কুরআন হাদিসের দলিল

  • July 5, 2020 at 10:45 PM
    Permalink

    সুরা নিসার ৩৬ নং আয়াত তো এধর‌নের কথা ব‌লে না।সেখ‌নে বলা আ‌ছে — উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে ।

    Reply
  • August 7, 2020 at 10:04 AM
    Permalink

    ভাই এইখানে ৬০ নং সূরার ৯ নং আয়াত আপনি একেকবারেই ইগ্নোর করে গেছেন। আল – কুরআনে লেখা আছে:
    “আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।” (৬০:৯)। আপনি যদি এই আয়াতের সাথে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বের অন্য আয়াত মিলিয়ে পড়েন তবে আপনার সব ক্লিয়ার হবার কথা। এটির তফসীরও আপনি চাইলে দেখতে পারেন। অতএব কুরআন শরীফ হিসেবে কেবল মাত্র সেইসব কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং মুসলমানদের নিজ বাসস্থান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনি যদি সূরাগুলোর নাজিলের সময়ক্রম দেখেন তবুও আপনি বুঝবেন যে বন্ধুত্ব না করার ক্ষেত্রে যেসব কাফিরদের কথা বলা হচ্ছে তারা নির্দিষ্ট কিছু কাফের, ঢালাওভাবে সকল কাফির না। শুধু শুধু জল ঘোলা করার কোনো কারণ দেখি না। কোনো কিছুর দাবি করলে এর গভীর পর্যন্ত গিয়ে তারপর যাচাই করবেন, অযথা মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।

    Reply
    • March 31, 2021 at 9:05 AM
      Permalink

      সূরা আল মুমতাহিনার ৯ নং আয়াতটি মুসলিমরা মদিনা পৌঁছানোর শুরুর দিকে বর্ণিত হয়েছিলো, যখন মুসলিমদের নিজেদের সুবিধার জন্য অমুসলিমদের সাথে মিত্রতা জরুরি ছিলো। সূরা আল মায়েদা এবং সূরা আত তওবার আয়াতসমূহ পরবর্তী সময়ে নাজিল হয়েছিলো যখন মুসলিমদের হাতে ক্ষমতা ও শক্তি ছিলো।

      অতএব, সূরা আল মুমতাহিনার ৯ নং আয়াতটি ব্যবহার করে কিছুই প্রমাণ করা যাচ্ছে না।

      Reply
  • December 15, 2020 at 11:33 AM
    Permalink

    islam is a name of cancer look all over the world please

    Reply
  • May 12, 2021 at 5:06 PM
    Permalink

    অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না ?

    লিখেছেনঃ এম ডি আলী

    প্রশ্নঃ ৮/ নিচের আয়াত সমূহ থেকে প্রমান হচ্ছে যে অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না ?

    * সুরা মায়েদা ৫:৫১ = হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

    * সুরা ইমরান ৩:২৮ = মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।

    * সুরা নিসা ৪:৮৯ = তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

    * সুরা নিসা ৪:১৩৯ = যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে, অথচ যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য।

    * সুরা নিসা ৪:১৪৪ = হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?

    * সুরা মুমতাহিনা ৬০:১৩ = মুমিনগণ, আল্লাহ যে জাতির প্রতি রুষ্ট, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা পরকাল সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছে যেমন কবরস্থ কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে।

    উত্তরঃ প্রথমে আমরা উপরের আয়াতেই মুল উদ্দেশ্য বর্ণনা করব এরপরে শেষে আমাদের দাবি উপস্থাপন করবঃ

    = সুরা মায়েদা ৫:৫১ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ডঃ মুজিবুর রহমান অনুবাদ, তাফসীরে ইবনে কাসিরে, ৪ খণ্ড, ৮৫১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, এখানে আল্লাহ্‌ ইসলামের শত্রু ইহুদী ও খৃষ্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন । তিনি বলেছেন তারা কখনো তোমাদের বন্ধু হতে পারে না । কেননা তোমাদের ধর্মের প্রতি তাদের হিংসা ও শত্রুতা রয়েছে । হ্যাঁ, তারা নিজেরা একে অপরের বন্ধু বটে । সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব কায়েম করবে তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে ।

    = সুরা ইমরান ৩:২৮ এই আয়াতের জবাব পরিষ্কার ভাবে বিস্তারিত দেয়া আছে, সুরা ইমরান ৩:১১৮ = হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোন ক্রটি করে না-তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও।

    এবং সুরা ইমরান ৩:১১৯ = দেখ! তোমরাই তাদের ভালবাস, কিন্তু তারা তোমাদের প্রতি মোটেও সদভাব পোষণ করে না। আর তোমরা সমস্ত কিতাবেই বিশ্বাস কর। অথচ তারা যখন তোমাদের সাথে এসে মিশে, বলে, আমরা ঈমান এনেছি। পক্ষান্তরে তারা যখন পৃথক হয়ে যায়, তখন তোমাদের উপর রোষবশতঃ আঙ্গুল কামড়াতে থাকে। বলুন, তোমরা আক্রোশে মরতে থাক। আর আল্লাহ মনের কথা ভালই জানেন।

    এবং সুরা ইমরান ৩:১২০ = তোমাদের যদি কোন মঙ্গল হয়; তাহলে তাদের খারাপ লাগে। আর তোমাদের যদি অমঙ্গল হয় তাহলে আনন্দিত হয় আর তাতে যদি তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তাদের প্রতারণায় তোমাদের কোনই ক্ষতি হবে না। নিশ্চয়ই তারা যা কিছু করে সে সমস্তই আল্লাহর আয়ত্তে রয়েছে।

    আয়াত সমুহে পরিষ্কার হচ্ছে যে, যেহেতু অমুসলিমরা মুসলিমদের ভাল চায় না , মুসলিমদের ক্ষতিতে অমুসলিমরা খুশি হয়, ক্ষতি চায়, এবং মুসলিমদের ক্ষতি হলে অমুসলিমরা আনন্দিত হয় তাই আল্লাহ্‌ তাদের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধু স্থাপন করতে নিষেধ করেছেন ।

    = সুরা নিসা ৪:৮৯ আয়াতেই পরিষ্কার বলা হচ্ছে যে কাফেররা চায় মুসলিমরাও তাদের সাথে কাফের হয়ে যাক তাই আল্লাহ্‌ তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন । তবে পরের আয়াতেই আবার আল্লাহ্‌ বলছেন তথা সুরা নিসা ৪:৯০ = কিন্তু যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যে, তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে চুক্তি আছে অথবা তোমাদের কাছে এভাবে আসে যে, তাদের অন্তর তোমাদের সাথে এবং স্বজাতির সাথেও যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক। যদি আল্লাহ ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের উপর তাদেরকে প্রবল করে দিতেন। ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। অতঃপর যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক থাকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের সাথে সন্ধি করে, তবে আল্লাহ তোমাদের কে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ দেননি। – এই আয়াত থেকে এটি বুঝা যাচ্ছে যে যদি অমুসলিমরা শান্তি চুক্তি করে তাহলে তাদের সাথে চুক্তি করা যাবে ।

    = সুরা নিসা ৪:১৩৯ = এই আয়াতের ব্যাখ্যা , ডঃ মুজিবুর রহমান অনুবাদ, তাফসীরে ইবনে কাসির, ৪ খণ্ড, ৫৯৮ পৃষ্ঠাঃ হযরত আলী (রা) এই আয়াত পাঠ করে ধর্মত্যাগীদের বলতেন তওবা করে নেও ? এরপরে আল্লাহ্‌ বলেন এই মুনাফিকদের অবস্থা এই যে শেষে তাদের অন্তরে মোহর লেগে যায় । তাই তারা মুমিনদের ছেড়ে কাফেরদের বন্ধু রুপে গ্রহণ করে ।এই দিকে বাহ্যত মুমিনদের সাথে মিলামিশা করে ঐ দিকে কাফেরদের সাথে বসে মুমিনদের নিয়ে উপহাস মূলক কথা বলে বেশ আনন্দ উপভোগ করে । তাদেরকে বলে আমরা মুসলমানদের বোকা বানিয়ে দিয়েছি । আসলে আমরা তোমাদেরই সঙ্গী ।

    – সুতরাং আয়াতটি মুনাফিক মুরতাদদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে যারা মুসলিমদের ছাড়া কাফেরদের বন্ধু রুপে গ্রহণ করেছে । এবং মুসলিমদের নিয়ে হাঁসি তামাশা করেছেন ।

    = সুরা নিসা ৪:১৪৪ এই আয়াতের ব্যাখ্যা , ডঃ মুজিবুর রহমান অনুবাদ, তাফসীরে ইবনে কাসিরের, ৪ খণ্ড , ৬০৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছেঃ কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে, তাদের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা রাখতে, তাদের সাথে সর্বদা উঠাবসা করতে, মুসলিমদের গুপ্ত কথা তাদের নিকট প্রকাশ করতে, তাদের সাথে গোপন সম্পর বজায় রাখতে আল্লাহ্‌ মুসলিমদের নিষেধ করেছেন।

    = সুরা মুমতাহিনা ৬০:১৩ সঠিক কথাই কুরআন বলেছে । আল্লাহ্‌ যে জাতির প্রতি অখুশি আমরা তাঁর বান্দা হয়ে কেন তাদের সাথে বন্ধুত্ব করব। উদাহরণ স্বরূপ ধরুন কোন এক দেশের প্রধান ঘোষণা দিল যে আমি মায়ানমারের সরকারের প্রতি অখুশি কোন মানবতাবাদী যেন তাদের সাথে বন্ধুত্ব না করে কারন তারা অন্যায়ভাবে মুসলিমদের হত্যা করেছেন । আচ্ছা এখানে কি আমরা মায়ানমারের সাথে বন্ধুত্ব ছিন্ন করে ভুল করেছি? উত্তর হচ্ছে না । একই উত্তর কুরানের ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌কে যারা অস্বীকার করে আবার মুসলিমদের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করে, মুসলিমদের হত্যা করতে চায় তাদের সাথে আমরা কেন বন্ধুত্ব করব ?

    = সুরা মায়েদা ৫:৫৭ = হে মুমিনগণ, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও। – যেহেতু অমুসলিমরা ইসলাম নিয়তে হাঁসি তামাশা করে, উপহাস করে তাই এদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না ।

    = সুরা আন’য়াম ৬:৭০ = তাদেরকে পরিত্যাগ করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কেউ স্বীয় কর্মে এমন ভাবে গ্রেফতার না হয়ে যায় যে, আল্লাহ ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী নেই এবং যদি তারা জগতের বিনিময়ও প্রদান কবে, তবু তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। একাই স্বীয় কর্মে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে-কুফরের কারণে।

    আপনাকে নিয়ে , আপনার বাবা মাকে নিয়ে, আপনার দেশ নিয়ে যদি কেউ অন্যায় ভাবে হাঁসাহাঁসি করে, তামাশা করে, অপমান করে আপনি কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন ?

    সামাজিকতার খাতিরে অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব করা,চলা ফেরা ইত্যাদি জায়েজঃ

    * নবী মুহাম্মদ (সা) অমুসলিমদের সাথে রাষ্ট্রীয় শান্তি চুক্তি করেছেন যাকে আমরা “মদিনা সনদ” বলা হয় ।

    * জামে আত তিরমিজি, হাদিসঃ ১৯৪৩, সহিহ হাদিসঃ মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর জন্য তার পরিবারে একটি ছাগল যবেহ করা হল। তিনি এসে বললেন, তোমরা কি আমাদের ইয়াহুদী প্রতিবেশীকে (গোশত) উপহার পাঠিয়েছ? আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ প্রতিবেশীর অধিকার প্রসঙ্গে জিবরাঈল (আঃ) আমাকে অবিরত উপদেশ দিতে থাকেন। এমনকি আমার ধারণা হল যে, হয়ত শীঘ্রই প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিবে। – এখানে ইহুদীদের প্রতিবেশি বলা হয়েছে ।

    * সহিহ বুখারি, হাদিসঃ ২৫১৩, সহিহ হাদিসঃ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ইয়াহুদী হতে কিছু খাদ্যদ্রব্য কিনেছিলেন এবং তার কাছে নিজের বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।

    * সহিহ বুখারি, হাদিসঃ ২৬৯২, সহিহ হাদিসঃ রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-বলেছেন, সে ব্যক্তি মিথ্যাচারী নয়, যে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য ভালো কথা পৌঁছে দেয় কিংবা ভালো কথা বলে।

    * সুরা মুমতাহিনা ৬০:৮ = ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।

    * সুরা মুমতাহিনা ৬০:৯ = আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।

    * আল ইসাবা,৪/৩৪৭ এবং সীরাতুল মুস্তফা (সা),৩/৩০৬, আল্লামা ইদরীস কান্ধলবী (রহ): হযরত উমর (রা) বলেন সাফিয়ার এক দাসী হযরত উমর (রা) এর নিকট গিয়ে অভিযোগ করলো যে, হযরত সাফিয়া ইহুদী সংস্কৃতি অনুকরনে শনিবারকে গুরুত্ব দেন এবং ইহুদীদের সাথে ভাল আচরণ করেন । হযরত উমর (রা) , হযরত সাফিয়া (রা) থেকে বিষয়টি জানতে চাইলেন। হযরত সাফিয়া (রা) জবাবে জানালেন! যখন আল্লাহ্‌ তা’লা হযরত মুহাম্মদ (সা) কে শনিবারের পরিবর্তে শুক্রবার দান করেছেন তখন থেকে আমি শনিবারকে আর পছন্দ করি না । অন্যদিকে আমার কিছু ইহুদী আত্মীয় আছে । আমি তাদের আত্মীয়তার হক অনুযায়ী ভাল আচরণ করি । তিনি হযরত উমর (রা) কে এই জবাব জানিয়ে পাঠালেন অন্যদিকে সেই বাদীকে জিজ্ঞেস করলেন তোমাকে আমার বিরুদ্ধে এই কাজে কে উস্কে দিয়েছে ? সে সত্যি সত্যি জবাব দিল শয়তান আমাকে প্ররোচনা দিয়েছে । হযরত সাফিয়া (রা) বললেন ঠিক আছে । আমি তোমাকে মুক্ত করে দিলাম । – খেয়াল করুন হযরত সাফিয়া (রা) ইহুদীদের সাথে আত্মীয়তার অধিকার হিসেবে ভাল ব্যাবহার করেছেন ।

    সুতরাং অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে, কি যাবে না এর কারন হিসেবে আমরা জানতে পারলামঃ

    ১/ ইহুদী খৃষ্টান এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা মুসলিমদের ক্ষতি করতে চান।ইসলামের ধ্বংস চায় ।

    ২/ মুসলিমদের দুক্ষে অমুসলিমরা খুশি হত , মুসলিমরা যদি তাদের সাথে ভাল ব্যাবহার করত এরপরেও অমুসলিমরা তাদের অমঙ্গল চাইত ।

    ৩/ কাফেররা ইসলাম নিয়ে হাঁসি তামাসা করত মুসলিমদের অপমান করত, নবী মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে ব্যাঙ বিদ্রূপ করত ।

    ৪/ কাফেররা চাইত মুসলিমরাও তাদের মত কাফের হয়ে যাক, তাদের মত পাথরের পূজা করুক ।

    ৫/ কাফেররা মুসলিম সেজে , মুসলিমদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত এবং আবার কাফেরদেড় দলে যোগ দিয়ে বলত আমরা মুসলিমদের ধোঁকা দিয়েছি আসলে আমরা কাফেরদের দলের লোক ।

    ৬/ যেসব অমুসলিমরা শান্তি প্রিয় , তাদের সাথে সামাজিকতার সম্পর্ক , চলাফেরা করা ইসলামে বৈধ ।

    ৭/ ইসলাম উগ্র অমুসলিমদের সাথে সব রকমের বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছে । ব্যাস ।

    প্রশ্ন ছুড়ে দিলামঃ

    ১/ যারা সমাজের ক্ষতি চায় আপনি কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন ?

    ২/ যারা আপনার পরিবার নিয়ে হাঁসি ঠাট্টা করে আপনি কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন ?

    ৩/ যারা আপনাকে অপমান করে, আপনার দেশ নিয়ে অপমান করে আপনি কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন ?

    ৪/ যারা আপনার খুশিতে, কষ্ট পায় আর আপনার দুক্ষে আনন্দিত হয় আপনি কি তাদের সাথে বন্ধুত্ত করবেন ?

    ৫/ আপনি কি ধর্ষকদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন ?

    ৬/ যারা চায় আপনিও তাদের মত পাথর পূজা করেন এবং এর জন্য আপনাকে জবরদস্তী করে আপনি কি এদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন?

    ৭/ যারা দেশের আইন মানে না আপনি কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন ?

    ৮/ যারা চোর, ডাকাত , লুইচ্চা আপনি কি এদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন ?

    ৯/ যারা আপনাকে ওয়াদা দিয়ে , কথা রাখে না আপনি কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখবেন ?

    ১০/ যারা সর্বদা মিথ্যা কথা বলে , মানুষকে ধোঁকা দেয় আপনি কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন ?

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: