কোরআন ও হাদীস অনুসারে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে অনেক মুসলিম দাবি করেন যে, কোরআন বলে চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সেই ১৪০০ বছর আগেই কোরআন এই বিষয়ে বলে দিয়েছে, যা বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানীগণ বুঝতে পেরেছে। কিন্তু কোরআনের এ সম্পর্কিত আয়াত গুলো পড়লে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না বরং এর উল্টোটাই দেখা যায়। তিনটি ভিন্ন ভিন্ন আয়াতে কোরআনে বর্ণিত চাঁদের আলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সেই আয়াত এবং তার ভিন্ন ভিন্ন অনুবাদ এখানে দেয়া হচ্ছে।

সূরা ইউনুস আয়াত ৫

অনুবাদসমূহঃ

  • তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিময় এবং চাঁদকে আলোময়… । -(আল বায়ান ফাউন্ডেশন, )
  • তিনি সূর্যকে করেছেন তেজোদীপ্ত, আর চন্দ্রকে করেছেন আলোকময়… -(তাইসিরুল)
  • আল্লাহ এমন, যিনি সূর্যকে দীপ্তিমান এবং চাঁদকে আলোকময় বানিয়েছেন… -(মুজিবুর রহমান)
  • তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে… (Muhiuddin Khan)
  • Pickthall : sun a splendour and the moon a light
  • Yusuf Ali: the sun to be a shining glory and the moon to be a light (of beauty)
  • Shakir: the sun a shining brightness and the moon a light
  • Muhammad Sarwar: the sun radiant and the moon luminous
  • Sahih International: the sun a shining light and the moon a derived light and determined for it phases

সূরা আল-ফুরকান আয়াত ৬১

অনুবাদসমূহঃ

  • বরকতময় সে সত্তা যিনি আসমানে সৃষ্টি করেছেন বিশালকায় গ্রহসমূহ। আর তাতে প্রদীপ ও আলো বিকিরণকারী চাঁদ সৃষ্টি করেছেন। -(আল বায়ান ফাউন্ডেশন)
  • কতই না কল্যাণময় তিনি যিনি আসমানে নক্ষত্ররাজির সমাবেশ ঘটিয়েছেন আর তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ আর আলো বিকিরণকারী চন্দ্র। -(তাইসিরুল)
  • কত মহান তিনি, যিনি নভোমন্ডলে সৃষ্টি করেছেন তারকারাজি এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ ও জ্যোতির্ময় চাঁদ! -(মুজিবুর রহমান)
  • কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র। (Muhiuddin Khan)
  • Pickthall: and hath placed therein a great lamp and a moon giving light!
  • Yusuf Ali: and placed therein a Lamp and a Moon giving light;
  • Shakir: therein a lamp and a shining moon.
  • Muhammad Sarwar: and made therein a lamp and a shining moon.
  • Sahih International: and placed therein a [burning] lamp and luminous moon.

সূরা নূহ আয়াত নং ১৬

অনুবাদসমূহঃ

  • আর এগুলোর মধ্যে চাঁদকে সৃষ্টি করেছেন আলো আর সূর্যকে সৃষ্টি করেছেন প্রদীপরূপে’। -(আল বায়ান ফাউন্ডেশন)
  • আর তাদের মাঝে চাঁদকে বানিয়েছেন আলো এবং সূর্যকে করেছেন প্রদীপ। -(তাইসিরুল)
  • এবং সেখানে চাঁদকে স্থাপন করেছেন আলোক রূপে ও সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপ রূপে; -(মুজিবুর রহমান)
  • এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে।(Muhiuddin Khan)
  • Pickthall: And hath made the moon a light therein, and made the sun a lamp?
  • Yusuf Ali: “‘And made the moon a light in their midst, and made the sun as a (Glorious) Lamp?
  • Shakir: And made the moon therein a light, and made the sun a lamp?
  • Muhammad Sarwar: and placed therein the moon as a light
  • Sahih International: And made the moon therein a [reflected] light and made the sun a burning lamp?

তিনটি আয়াতে যে দুটি শব্দ চাঁদের আলো বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলো হল আরবি শব্দ “নূর” (যার অর্থ হলো আলো অনেক ক্ষেত্রে আলোর উৎস ) ও “মুনির” যার অর্থ উজ্জ্বল, দীপ্তিমান, জ্যোতির্ময় ( প্রতিফলিত আলো নয় )। এখানে এই শব্দ দুটির কোনটিই চাঁদের আলোকে প্রতিফলিত আলো হিসাবে ব্যাখ্যা করে না বরং নূর শব্দের দ্বারা এটাই উল্টো প্রমানিত হয় যে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে। কারণ আল্লাহর ৯৯টি নামের একটি হলো “আন্-নূর” যার অর্থ “আলো”। যা কোনভাবেই প্রতিফলিত আলো হতে পারে না। ২৪ নং সূরা নূর এর অনুবাদকৃত বাংলা নাম “আলো” ও ইংরেজি নাম “The Light.”

“মুনির” শব্দের মাধ্যমে অনেক মুসলিম চাঁদের আলোকে প্রতিফলিত প্রমান করতে চান। মুনির শব্দের অর্থও কোন ভাবেই প্রতিফলিত আলো না। প্রতিফলিত আলো দাবি করার জন্য নুর বা মুনির শব্দের আগে প্রতিফলিত, ধার করা কিংবা এসম্পর্কিত অর্থে কোন শব্দ থাকা প্রয়োজন যা কোরআনে নেই। সুরা ৭১ নুহ এর ১৬ নং আয়াতে নূর শব্দের আগে থাকা “ফিহিন্না” শব্দের অর্থ (তারমধ্যে বা তারমাঝে) যা মুসলিমদের দাবির বিপক্ষে যায়। মুনির শব্দের অর্থও যে প্রতিফলিত আলো হয় না সেটি সূরা আল-আহযাব ৩৩ এর ৪৬ নং আয়াতের অনুবাদগুলো লক্ষ্য করলেই নিশ্চিত হওয়া যায় যেখানে মুনির শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। মূলত এ আয়াতে নবী মুহাম্মাদকে উদ্দেশ্যে করে আরবিতে বলা হয়েছে “ ওয়া সিরাজান মুনিরা“। উল্লেখ্য “সিরাজ” শব্দের অর্থ বাতি, প্রদীপ বা ল্যাম্প এবং প্রদীপের আলো কখনো প্রতিফলিত আলো হয় না কারন প্রদীপ বা বাতি সরাসরি আলোর উৎস।

সুরা আল-আহযাব আয়াত ৪৬

অনুবাদসমূহঃ

  • আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী ও আলোকদীপ্ত প্রদীপ হিসেবে। -(আল বায়ান ফাউন্ডেশন)
  • আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর পথে আহবানকারী ও আলোকপ্রদ প্রদীপরূপে। -(তাইসিরুল)
  • আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী রূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ রূপে। -(মুজিবুর রহমান)
  • এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহবায়করূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।- (Muhiuddin Khan)
  • এবং আল্লাহর আদেশে তাঁর দিকে একজন আহবানকারী ও উজ্জ্বল এক প্রদীপরূপে। -(Fozlur Rahman)
  • Sahih International: And one who invites to Allah, by His permission, and an illuminating lamp.
  • Yusuf Ali: And as one who invites to Allah’s (grace) by His leave, and as a lamp spreading light.
  • Pickthall: And as a summoner unto Allah by His permission, and as a lamp that giveth light.

এ দেশের প্রখ্যাত বাংলা অনুবাদগুলোর মধ্যে কোথাও চাঁদের আলোকে প্রতিফলিত বা ধার করা আলো বলা হয়নি। অন্যদিকে কোরানের প্রখ্যাত এবং পুরনো ইংরেজি অনুবাদক ( Yusuf Ali, Pickthall, Shakir,Sarwar) সহ কেউই চাঁদের আলোকে প্রতিফলিত আলো অনুবাদ করেন নি, কিন্তু তুলনামূলক নতুন এবং সাম্প্রতিক অনুবাদক Sahih International তার অনুবাদে “নুর” শব্দের অনুবাদ করেছেন (derived light -10:5) এবং (reflected light – 71:16) যা একটি ভুল এবং অসাধু অনুবাদ। হযরত জাকির নায়েকও একই ধরনের দাবি করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী “নুর” শব্দটিকে (Reflected Light) বা প্রতিফলিত আলো অনুবাদ করলে ২৪ নং সুরা নুর এর ৩৫ নম্বর আয়াত এর ইংরেজি অনুবাদ দাড়ায়,

Allah is the (Reflected Light) of the heavens and the earth

বাংলা অনুবাদ দাড়ায়

আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিফলিত আলো” ( নাউজুবিল্লাহ)।

উল্লেখ্য, Sahih International এই আয়াতে “নুর”কে Reflected Light অনুবাদ করেনি।

এখানে সাধারণ ইসলামি ডিফেন্সে মুসলিমরা বলে যে চন্দ্র ও সূর্যের আলো বর্ণনায় কোরআন পৃথক শব্দ ব্যবহার করেছে যা প্রমান যে চাঁদের নিজস্ব আলো নেই, যা একটি হাস্যকর দাবি কারন শুধুমাত্র চাদেঁর আলো বর্ণনায়ও কোরআন দুটি পৃথক শব্দ ব্যবহার করেছে যা কোনটির অর্থই প্রতিফলিত আলো না। এমনকি এই সম্পর্কিত তিনটি আয়াতের তাফসিরে কোন তাফসির কারক এই দাবি করেননি যে চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। পাঠকদের সন্দেহ থাকলে এ সম্পর্কিত প্রত্যেকটি আয়াতের তাফসীর যাচাই করে দেখবেন। এত গুলো আয়াতের ভিন্ন ভিন্ন তাফসীরের বর্ণনা দিতে গেলে লেখাটি অনেক বড় হয়ে যাবে তাই দিলাম না।

সূরা আল-ক্বিয়ামাহ আয়াত ৮

এবার দেখুন কোরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়াত যা প্রমান করে যে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে

অনুবাদসমূহঃ

  • আর চাঁদ কিরণহীন হবে, -(আল বায়ান ফাউন্ডেশন)
  • চাঁদ হয়ে যাবে আলোকহীন -(তাইসিরুল)
  • চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে যাবে।(Muhiuddin Khan)
  • Sahih International: And the moon darkens
  • Pickthall: And the moon is eclipsed
  • Yusuf Ali: And the moon is buried in darkness.
  • Shakir: And the moon becomes dark,

এই আয়াতের অনুবাদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই আয়াতের তাফসির সমুহ।

তাফসীরে ইবনে কাসীর

এ আয়াতের তাফসীরে একটি ব্যাপার খুবই লক্ষনীয় এই যে, সকল তাফসীরকারকগন একমত যে কেয়ামতের পূর্বে চন্দ্রকে জ্যোতিহীন বা আলোকহীন করে নেয়া হবে। পরের আয়াতেই বলা হচ্ছে যে চন্দ্র এবং সূর্যকে একত্রিত করা হবে। তাফসীরকারক বলেছেন সূর্যও আলোকহীন হয়ে যাবে এবং তাদেরকে একত্রে লেপটিয়ে দেয়া হবে বা একত্রিত করা হবে যার বর্ণনা সহিহ হাদীসেও আছে । অর্থাৎ এই আয়াতের তাফসীরে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে কেয়ামতের পূর্বে প্রথমে চাঁদকে আলোকহীন করা হবে যা সরাসরি প্রমান করে যে কোরআন অনুযায়ী চাঁদের নিজস্ব আলো আছে। এখানে কোন ভাবেই মুসলিমরা এটা দাবি করতে পারবে না যে চাঁদ আলোকহীন হবে সূর্যকে আলোকহীন করার মাধ্যমে যেহেতু কোরআন এবং তাফসীর কারকদের ব্যাখা অনুযায়ী সূর্য এবং চন্দ্রকে একত্রিত করার আগেই চন্দ্রকে আলোকহীন করা হবে।

সহিহ হাদিস থেকে প্রমাণ

সহীহ্ হাদীস থেকেও প্রমান করা যায় যে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [2973]
অধ্যায়ঃ ৪৯/ সৃষ্টির সূচনা
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ১৯৮৬. চন্দ্র ও সূর্য উভয়ে নির্ধারিত কক্ষপথে আবর্তন করে। এর জন্য মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, উভয়ের আবর্তন চাকার আবর্তনের অনুরূপ। আর অন্যেরা বলেন, উভয় এমন এক নির্দিষ্ট হিসাব ও স্থানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা তারা অর্থাৎ চন্দ্র ও সূর্য লঙ্ঘন করতে পারে না। حُسْبَانٌ হল حِسَابٍ শব্দের বহুবচন, যেমন شِهَابٍ এর বহুবচন شُهْبَانٍ – ضُحَاهَا এর অর্থ জ্যোতি। أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ চন্দ্র সূর্যের এক্তির জ্যোতি অপরটিকে ঢাকতে পারে না, আর তাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। سَابِقُ النَّهَارِ রাত দিনকে দ্রুত অতিক্রম করে। উভয়ে দ্রুত অতিক্রম করতে চায়। نَسْلَخُ আমি উভয়ের একটিকে অপরটি হতে বের করে আনি আর তাদের প্রতিটি চালিত করা হয় وَاهِيَةٌ এবং وَهْيُهَا এর অর্থ তার বিদীর্ণ হওয়া। أَرْجَائِهَا তার সেই অংশ যা বিদীর্ণ হয়নি আর তারা তার উভয় পার্শ্বে থাকবে। যেমন তোমার উক্তি عَلَى أَرْجَاءِ الْبِئْرِ কূপের তীরে أَغْطَشَ وَجَنَّ অন্ধকার ছেয়ে গেল। হাসান বসরী বলেন كُوِّرَتْ অর্থ লেপটিয়ে দেয়া হবে, যাতে তার জ্যোতি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর বলা হয়ে থাকে وَاللَّيْلِ وَمَا وَسَقَ এর অর্থ আর শপথ রজনীর এবং তার যে জীবজন্তু একত্রিত করল। اتَّسَقَ বরাবর হল। بُرُوجًا চন্দ্র সূর্যের কক্ষ ও নির্ধারিত স্থান। الْحَرُورُ গরম বাতাস যা দিনের বেলায় সূর্যের সাথে প্রবাহিত হয়। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, حَرُورُ রাত্রিবেলার আর سَمُومُ দিনের বেলার লু হাওয়া। বলা হয় يُولِجُ অর্থ প্রবিষ্ট করে বা করবে وَلِيجَةً অর্থ এমন প্রতিটি বস্তু যা তুমি অন্যটির মধ্যে ঢুকিয়েছ।
২৯৭৩। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন চন্দ্র ও সূর্য় উভয়কে লেপটিয়ে দেয়া হবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ বুখারী ইসলামিক ফাউন্ডেশন পঞ্চম খণ্ড পৃষ্ঠা ৩৬১

সহীহ বুখারী (তাওহীদ: ৩১৯৯)

এই হাদিসের ইংরেজি অনুবাদে এই বিষয়টি নিশ্চিত যে কেয়ামতের দিন চন্দ্র এবং সূর্যকে লেপটিয়ে দেওয়া হবে যাতে তাদের উভয়ের আলো নিঃশেষ হয়ে যাবে যা আবার প্রমান করে যে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে । বাংলা হাদিসের ব্যাখায় হাসান বসরি একইভাবে ব্যাখ্যাটি করেন। উল্লেখ্য এই হাদিসের অনুবাদে “তার জ্যোতি” না হয়ে তাদের উভয়ের জ্যোতি হবে কারন এখানে দুটি বস্তু তথা চন্দ্র এবং সূর্য উভয়ের কথা বলা হচ্ছে । ইংরেজী হাদীসেও উভয়ের কথাই বলা হচ্ছে

এই হাদীসের ব্যাখ্যায় আরেকটি বিষয় বলা হচ্ছে যে চন্দ্র এবং সূর্য একটির জ্যোতি অপরটিকে ডাকতে পারে না আর তাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। এই দাবিটিও প্রমান করে যে চন্দ্র এবং সূর্য উভয়ের জ্যোতি রয়েছে কারন সেটা না হলে চন্দ্রের জ্যোতি সূর্যকে ডাকতে পারে না এ দাবিটি করা হতো না। অন্যদিকে আমরা জানি যে সূর্য তার আলো দিয়ে চাঁদকে ডেকে ফেলে।

অন্যান্য প্রমাণ

বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “নসরুল বারী শরহে সহীহ বুখারী” (খন্ড ৭ পৃষ্ঠা ৩৪৫ পরিচ্ছেদ ১৯৮৮) তে বলা হচ্ছে (চাঁদ সূর্য) উভয়টির আলো অপরটির আলোকে গোপন করতে পারে না আর না তা করা উভয়ের তরে যতাচিত্ত। এই দাবিটিও আগের দাবির মতোই যা প্রমান করে চাঁদের আলো সূর্যের আলোকে গোপন করতে পারে না। অর্থাৎ চাঁদের নিজস্ব আলো আছে।

তাফসীর ইবনে কাসিরের সুরা ইউনুস এর (১০ঃ৫-৬) আয়াতের তাফসিরেও একই রকম দাবী করা হচ্ছেঃ

উপসংহার

সুতরাং কোরআন ও হাদীসের চারটি দাবি প্রমান করে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে।

  • ১) চাঁদের আলো বর্ণনায় নূর শব্দের ব্যাবহার (১০:৫) (৭১:১৬)
  • ২) কেয়ামতের দিন চাঁদ এবং সূর্যকে একত্রিত করার পূর্বেই চাঁদকে জ্যোতি হীন করে নেয়া হবে।(৭৫ঃ৮-৯)
  • ৩) চন্দ্র এবং সূর্য উভয়ের জ্যোতি নিঃশেষ হয়ে যাবে। বুখারী (ইফাঃ) ২৯৭২
  • ৪) চন্দ্রের জ্যোতি সূর্যকে ঢাকতে পারে না। (হাদীসটির ব্যাখ্যায় বর্ণিত তথ্যসূত্র)

সহায়ক গ্রন্থসমূহ

লেখকঃ হানিফ বিন আজিজ

প্রাসঙ্গিক লেখাঃ ‘কুরআন ১৪০০ বছর আগেই জানিয়েছে, চাঁদের নিজস্ব আলো নেই’

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *