ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষণের বৈধতা কি অস্বীকার করা যায়?

মুসলিমদের দাবি, ইসলাম সর্বসময়ের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম। যে ধর্ম সর্বসময়ের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সেই ধর্ম নিশ্চয় নারীর জন্যও সর্বশ্রেষ্ঠই হবে। যে ধর্ম নারীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সেই ধর্ম নিশ্চয়ই একজন নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তার সাথে জোরপূর্বক যৌনসংগম করার বৈধতা দেয় না। ইসলাম যদি সত্যিই সর্বসময়ের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ হয়, ইসলাম যদি সত্যিই সবার সাথে ন্যায় বিচার করে, ইসলামে যদি সত্যিই নারীর ইচ্ছার মূল্য থাকে, ইসলামে যদি সত্যিই নারীর অনুভূতির মূল্য থাকে, তাহলে কোনোভাবেই ইসলাম একজন নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে জোরপূর্বক যৌনসংগম করার বৈধতা দিতে পারে না।

ইসলাম কি একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তার সাথে যৌনসংগম করার বা তাকে যৌনসংগম করতে বাধ্য করার বৈধতা দেয়? আমরা এটা বলতে পারি, হ্যাঁ, ইসলাম একজন পুরুষকে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার বৈধতা দেয়। কেননা, এমন কোনো কুরআনের আয়াত বা হাদিস নেই যা বৈবাহিক ধর্ষণকে নিষিদ্ধ করে, এমন কোনো কুরআনের আয়াত বা হাদিস নেই যা বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এর বিরুদ্ধে শাস্তি বর্ণনা করে। এমন নয় যে, কুরআন বা অন্য কোনো ইসলামিক সোর্স কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তার সাথে যৌনসংগম করাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে শাস্তি বর্ণনা করেছে, তাই বৈবাহিক ধর্ষণের কথা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। কুরআন বা অন্যকোনো ইসলামিক সোর্সের কোথাও এটি পাওয়া যায়না যে কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তার সাথে যৌনসংগম করা অপরাধ বা একটি খারাপ কাজ। যারা দাবি করে, ইসলাম বৈবাহিক ধর্ষণ সমর্থন করে না, তারা সেই দাবির পক্ষে তথ্যপ্রমাণ প্রদর্শন করতে পারে না।

ইসলামে যে একজন নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার স্বামীর সাথে যৌনসংগমে বাধ্য হতে হয়, সেটা তুলে ধরতে ইসলামের সমালোচকদের মধ্যে অনেকে নিচে উল্লেখিত হাদিসটি তুলে ধরেনঃ

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৫১৯৩

৬৭/৮৬. কোন মহিলা তার স্বামীর বিছানা ছেড়ে রাত কাটালে।

৫১৯৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সঙ্গে একই বিছানায় শোয়ার জন্য ডাকে, আর সে আসতে অস্বীকার করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ ঐ মহিলার ওপর লা‘নত বর্ষণ করতে থাকে। [৩২৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮১৪)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

জবাবে ইসলামিস্টরা কি বলেন? ইসলামিস্টরা বলেন, এই হাদিসে স্ত্রীর স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়ার বিরোধিতা করা হলেও স্বামীকে কোনোভাবেই তার স্ত্রীর ওপর জোর-জবরদস্তি করার উৎসাহ দেওয়া হয়নি।

যদিও হাদিসটির বৈবাহিক ধর্ষণে উৎসাহ না দেওয়াটা প্রমাণ করে না যে, ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষণ বৈধ নয়, তারপরও আমরা ধরে নিলাম যে, ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষণ বৈধ নয়, তাতে কি হাদিসটি গ্রহণযোগ্য প্রমাণিত হয়?

হাদিসটি কি বলছে? হাদিসটি বলছে, কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীর সাথে যৌনসংগম করতে চায় তাহলে তার স্ত্রীর ইচ্ছা থাকুক আর না থাকুক, তাকে যৌনসংগম করতেই হবে। একজন নারীকে পাপ থেকে বিরত থাকার জন্য, জাহান্নামে দগ্ধ হওয়া এড়ানোর জন্য নিজের মনের বিরুদ্ধে গিয়ে সুবিধা-অসুবিধার বিরুদ্ধে গিয়ে বিছানায় গিয়ে দুই পা ফাঁক করতে বাধ্য হতে হবে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে যেমন একজন নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনসংগমে বাধ্য হতে হয়, এই হাদিসটিও একজন নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনসংগমে বাধ্য হতে বলে। হাদিসটি বৈবাহিক ধর্ষণের উৎসাহ না দিলেও হাদিসটি যা বলছে তা বৈবাহিক ধর্ষণের উৎসাহ দেওয়ার চেয়ে কোন দিক দিয়ে ভালো? তথাকথিত সর্বসময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামে নারীর ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই। তথাকথিত সর্বসময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামে একজন পুরুষ তার স্ত্রীকে সেক্স-টয়ের মতো ব্যবহার করতে পারে।

ইসলামের স্বামী-স্ত্রীর এই সম্পর্ক একজন ক্রীতদাসীর সাথে তার মালিকের সম্পর্কের মতো। একজন ক্রীতদাসীকে যেমন মালিকের যৌন-ক্ষুধা মেটানোর জন্য নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে যৌনসংগমে বাধ্য হতে হয়, ঠিক তেমনি ইসলামে একজন নারীকে স্বামীর যৌন ক্ষুধা মেটানোর জন্য নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে যৌনসংগমে বাধ্য হতে হয়। দাসপ্রথার মতো স্বামী-স্ত্রীর এমন সম্পর্কও সভ্য সমাজের অংশ হতে পারে না।

আপনি যদি একজন মুসলিম নারী পাঠক হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকেই বলছি। ধরুন, আপনি না বুঝে কুরআন আরবিতে পাঠ করছেন, কুরআন পাঠ করতে আপনার এতো ভালো লাগছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যৌনসংগম করার সময়ও এতো আনন্দ পান না যতোটা আনন্দ কুরআন পাঠ করার সময় পান। এমন সময় আপনার স্বামী এসে বললো, সে আপনার সাথে এখনই যৌনসংগম করতে চায়। কিন্তু, আপনার কিছুতেই কুরআন ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না। আপনার শরীর মন কিছুই যৌনসংগম চাচ্ছে না। আপনি আপনার স্বামীকে বললেন, আপনি এখন কুরআন পড়ছেন। এ-ও বললেন যে, আপনি এখন যৌনসংগম করতে চান না। কিন্তু, আপনার স্বামী বললো, কুরআন পড়া বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি বিছানায় চলে আসতে। ইসলাম অনুযায়ী, এখন আপনার কি করণীয়? ইসলাম আপনাকে এটাই বলে যে, আপনি কুরআন পড়া বাদ দিয়ে স্বামীর যৌন ক্ষুধা মেটাতে পাজামা খুলে বিছানায় গিয়ে দুই পা ফাঁক করুন যেন আপনার স্বামী আপনার ওপর চাষাবাদ করতে পারে।

কিংবা, ধরুন, আপনার মা অনেক বছর পর আপনার বাসায় এসেছে আপনার সাথে দেখা করতে। এতোদিন পর মাকে পেয়ে আপনি ভীষণ খুশি। মায়ের সাথে কতো কথা। মায়ের সাথে আপনি মন খুলে কথা বলছেন, মায়ের সাথে আপনার এই মুহূর্তের মূল্য অনেক। এদিকে, আপনার স্বামী বাজার করতে গিয়ে রাস্তায় এমন অনেক নারী দেখলেন যারা হিজাব পরে না। তারা হিজাবী না হওয়ায় তাদের চুল আপনার স্বামী দেখতে পেলেন। নারীর চুল দেখে আপনার স্বামীর প্রচণ্ড যৌনকামনা জাগলো। আপনার স্বামী আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না (এজন্যই হয়তো আল্লাহ্ নারীর জন্য চুল ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক করেছেন)। বাজার করা বাদ দিয়েই তিনি বাসায় ছুটে আসলেন। বাসায় এসে আপনাকে বললেন, তিনি এখনই যৌনসংগম করবেন। অথচ, আপনি আপনার মায়ের সাথে সময় কাটাতে চাচ্ছেন। আপনার শরীর মন কিছুই এখন যৌনসংগম চাচ্ছে না। ইসলাম অনুযায়ী, এখন আপনার করণীয় কি? ইতিমধ্যেই আপনি সেটা জানেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটির সাথে আপনার নবীজির একটি উপদেশ মিলে যায়ঃ

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৩৩০০

২. কোন মহিলাকে দেখে কোন পুরুষের মনে যৌন কামনা জাগ্রত হলে সে যেন তার স্ত্রীর সাথে অথবা ক্রীতদাসীর সাথে গিয়ে মিলিত হয়

৩৩০০-(১০/…) সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ….. জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কারো যদি কোন স্ত্রীলোক দেখে মনে কিছু উদয় হয় তখন সে যেন তার স্ত্রীর নিকট আসে এবং তার সাথে মিলিত করে। এতে তার মনে যা আছে তা দূর করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৭৫, ইসলামীক সেন্টার ৩২৭৩)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এবারে, ইসলামে কিভাবে বৈবাহিক ধর্ষণ বৈধ তা বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরবো।

সবচেয়ে নিকৃষ্ট সবচেয়ে জঘন্য সবচেয়ে ঘৃণিত অপরাধ সমূহের নাম নিতে গেলে ধর্ষণের নাম নিতেই হবে। অথচ, তথাকথিত সর্বসময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলামে ধর্ষণ বলে কিছু নেই। কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে জোরপূর্বক তার সাথে যৌনসংগম করা যে একটি খারাপ কাজ বা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হওয়া উচিত, সেই ধারণাটি কোনো ইসলামিক সোর্সের কোথাও পাওয়া যায় না। ইসলামে যিনায় লিপ্ত হওয়া বা বেআইনী যৌনসংগমে লিপ্ত হওয়া খারাপ কাজ এবং একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তার সাথে যৌনসংগম করা নয়। যার সাথে যৌনসংগম করা বৈধ, তাকে ধর্ষণ করাও বৈধ।

ইসলাম অনুযায়ী, একজন মানুষ কিভাবে ‘যিনা’ বা বেআইনী যৌনসংগমে লিপ্ত হয়? ইসলামে একজন পুরুষ একইসাথে সর্বোচ্চ চারজন নারীর স্বামী এবং অসংখ্য যৌনদাসীর মালিক হতে পারে। অপরদিকে, একজন নারী কেবল একজন পুরুষেরই স্ত্রী হতে পারে। একজন অবিবাহিত পুরুষের জন্য তার যৌনদাসী ব্যতীত অন্য যেকারো সাথে যৌনসংগম করা মানে যিনা করা। একজন অবিবাহিত নারীর জন্য যেকারো সাথে যৌনসংগম করা মানে যিনা করা আর পরাধীন নারী বা কোনো মুসলিম পুরুষের দাসী হলে মালিকের সাথে যৌনসংগম করা ব্যতীত যেকারো সাথে যৌনসংগম করা মানে যিনা করা। একজন বিবাহিত পুরুষের জন্য তার স্ত্রী এবং যৌনদাসী ব্যতীত অন্য যেকারো সাথে যৌনসংগম করা মানে যিনা করা। আর একজন বিবাহিত নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য যেকারো সাথে যৌনসংগম করা মানে যিনা করা।

ইসলাম অনুযায়ী, একজন অবিবাহিত পুরুষ এবং একজন অবিবাহিত নারী (যিনি সেই পুরুষের দাসী নন) একে অপরের সম্মতিতে যৌনসংগম করলে, তাদের উভয়কেই একশোটি করে বেত্রাঘাত করতে হবে এবং এক বছরের জন্য নির্বাসনে দিতে হবে। একজন বিবাহিত পুরুষ এবং একজন বিবাহিত নারী যারা একে অপরের স্বামী-স্ত্রী নয় একে অপরের সম্মতিতে যৌনসংগম করলে, তাদের উভয়কেই প্রথমে একশোটি বেত্রাঘাত করে তারপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে হবে। অবিবাহিত অবস্থায় যিনা করলে একশোটি বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। বিবাহিত অবস্থায় যিনা করলে একশোটি বেত্রাঘাত এবং পাথর ছুড়ে হত্যা।

এবিষয়ে উল্লেখযোগ্য কুরআনের আয়াত এবং হাদিস তুলে ধরছিঃ

24:2

اَلزَّانِیَۃُ وَ الزَّانِیۡ فَاجۡلِدُوۡا کُلَّ وَاحِدٍ مِّنۡہُمَا مِائَۃَ جَلۡدَۃٍ ۪ وَّ لَا  تَاۡخُذۡکُمۡ بِہِمَا رَاۡفَۃٌ  فِیۡ  دِیۡنِ اللّٰہِ  اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ۚ وَ لۡیَشۡہَدۡ عَذَابَہُمَا طَآئِفَۃٌ مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۲﴾

English – Sahih International

The [unmarried] woman or [unmarried] man found guilty of sexual intercourse –  lash each one of them with a hundred lashes, and do not be taken by pity for them in the religion of Allah, if you should believe in Allah and the Last Day. And let a group of the believers witness their punishment.

Bengali – Bayaan Foundation

ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশ’টি করে বেত্রাঘাত কর। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাক তবে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৩০। অপরাধের (নির্ধারিত) শাস্তি (كتاب الحدود)
হাদিস নম্বরঃ ৪৩০৬

৩. ব্যভিচারের শাস্তি

৪৩০৬-(১২/১৬৯০) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী (রহঃ) …… উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর, তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করেছেন। যদি কোন অবিবাহিত পুরুষ কোন কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে তবে একশ’ বেত্ৰাঘাত কর এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর যদি বিবাহিত ব্যক্তি কোন বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে তাদেরকে প্রথমত একশ’ বেত্ৰাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৬৭, ইসলামিক সেন্টার ৪২৬৭)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ইসলাম অনুযায়ী, যার সাথে যৌনসংগম করা বৈধ নয় তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌনসংগম করতে বাধ্য করলে, যে বাধ্য করেছে তাকেই কেবল যিনা করার শাস্তি দেওয়া হবে আর যে বাধ্য হয়েছে সে নির্দোষ বলে গণ্য হবে। এধরণের যিনাকে বলে যিনা-আল-জিবর।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
হাদিস নম্বরঃ ৬৯৪৯

৮৯/৭. যখন কোন মহিলাকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয় তখন তার উপর কোন ‘হদ’ আসে না। কেননা, আল্লাহ্ বলেনঃ তবে কেউ যদি তাদেরকে বাধ্য করে সে ক্ষেত্রে জবরদস্তির পর আল্লাহ্ তো তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরাহ আন্-নূর ২৪/৩৩)

৬৯৪৯. লায়স (রহ.) … নাফি‘ (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, সফীয়্যাহ বিন্ত আবূ ‘উবায়দ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, সরকারী মালিকানাধীন এক গোলাম গনীমতের পঞ্চমাংশে পাওয়া এক দাসীর সঙ্গে জবরদস্তি করে যিনা করে। তাতে তার কুমারীত্ব মুছে যায়। ‘উমার (রাঃ) উক্ত গোলামকে কশাঘাত করলেন ও নির্বাসন দিলেন। কিন্তু দাসীটিকে সে বাধ্য করেছিল বলে কশাঘাত করলেন না। যুহরী (রহ.) কুমারী দাসীর ব্যাপারে বলেন, যার কুমারীত্ব কোন আযাদ ব্যক্তি ছিন্ন করে ফেলল, বিচারক ঐ কুমারী দাসীর মূল্য অনুপাতে তার জন্য ঐ আযাদ ব্যক্তির নিকট হতে কুমারীত্ব মুছে ফেলার দিয়াত গ্রহণ করবেন এবং ওকে কশাঘাত করবেন। আর বিবাহিতা দাসীর ক্ষেত্রে ইমামদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন জরিমানা নেই। কিন্তু তার উপর ‘হদ’ জারি হবে।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)

[1] জোর জবরদস্তি করে যে সকল মহিলাকে ধর্ষণ করা হয় তাদের উপর হাদ্দ জারী না করার প্রতি হাদীসটিতে ইংগিত বহন করছে। সুতরাং ধর্ষিতা নারীকে হেয় প্রতিপন্ন করা বা অসম্মানের দৃষ্টিতে না দেখাই ইসলামের শিক্ষা।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ইসলামে ধর্ষণ বা ধর্ষণের শাস্তি বলে কিছু আছে প্রমাণ করতে ইসলামিস্টরা উপরে উল্লেখিত হাদিসটির মতো কিছু হাদিস উপস্থাপন করে। এটি ইসলামিস্টদের অপপ্রচারের আরও একটি উদাহরণ।

ইসলাম অনুযায়ী, আপনার সাথে যৌনসংগম বৈধ নয় এমন কাউকে আপনি যদি জোরপূর্বক যৌনসংগম করতে বাধ্য করেন, তাহলে আপনার অপরাধ এমন একজনের সাথে যৌনসংগম করা যার সাথে আপনার যৌনসংগম বৈধ নয়, কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তার সাথে যৌনসংগম করা নয়। আর কাউকে যিনায় লিপ্ত হতে বাধ্য করা হলে সে অপরাধী নয় একারণেই যে সে নিজে থেকে কিছু করেনি, তার ওপর জোর করা হয়েছে।

যার সাথে যৌনসংগম করা বৈধ বা যার সাথে যৌনসংগম করলে যিনা হবে না, তাকে ধর্ষণ করায় কোনো অপরাধ নেই। অর্থ্যাৎ, একজন মুসলিম পুরুষ তার বিবি এবং যৌনদাসীদের ধর্ষণ করতেই পারেন, কেননা তাতে যিনা করা হবে না। এটাই ইসলাম।

সুতরাং, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষণ বৈধ। যদি তাই হতো তাহলে কুরআন বা কোনো হাদিসগ্রন্থের কোথাও না কোথাও বৈবাহিক ধর্ষণের শাস্তি বর্ণনা করা থাকতো। ইসলামে মদ্যপান করার জন্য শাস্তি থাকলেও বৈবাহিক ধর্ষণের জন্য কোনো শাস্তি নেইঃ

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৩০। অপরাধের (নির্ধারিত) শাস্তি (كتاب الحدود)
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৪৪

৮. মদ্যপানের শাস্তি

৪৩৪৪-(৩৫/১৭০৬) মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) …… আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একদিন একজন মদপানকারী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হলো। তখন তিনি দু’টি খেজুরের ডাল দিয়ে চল্লিশ বারের মত তাকে বেত্ৰাঘাত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, আবূ বাকর (রাযিঃ)-ও (তার খিলাফত আমলে) তাই করেন। পরে যখন উমার (রাযিঃ) খালীফা হলেন, তিনি এ ব্যাপারে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পরামর্শ চাইলেন। তখন আবদুর রহমান (রাযীঃ) বললেন, অপরাধের শাস্তি কমপক্ষে আশি বেত্ৰাঘাত হওয়া প্রয়োজন। তাই উমার (রাযিঃ) এরই নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩০৩, ইসলামিক সেন্টার ৪৩০৪)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ইসলাম বৈবাহিক ধর্ষণ সমর্থন করে না প্রমাণ করতে ইসলামিস্টরা নিচের হাদিসটি তুলে ধরেনঃ

গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] অধ্যায়ঃ ১০/ শিশুর দুধপান (كتاب الرضاع)
হাদিস নম্বরঃ ১১৬২

১১. স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অধিকার

১১৬২। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ মুসলমান হচ্ছে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি। যেসব লোক নিজেদের স্ত্রীদের নিকট উত্তম তারাই তোমাদের মধ্যে অতি উত্তম।

– হাসান সহীহ, সহীহা (২৮৪)

আইশা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

তারা প্রশ্ন করেন, যে স্বামী তার স্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছা, সুবিধা-অসুবিধার মূল্য না দিয়ে যখন তখন যৌনসংগম করেন, সেই স্বামী কি তার স্ত্রীর কাছে উত্তম হতে পারে?

এই হাদিসটি বড়জোর এটাই প্রমাণ করে, যে ব্যক্তি স্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা সুবিধা-অসুবিধার মূল্য দেয় না তারচেয়ে যে ব্যক্তি মূল্য দেয় সে বেশি উত্তম। এতে এটি কোনোভাবেই এটি প্রমাণিত হয় না যে, ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষণ নিষিদ্ধ।

এবার আসুন, একটি ঘটনা কল্পনা করি। ধরা যাক, জাকির নায়েক নামক একজন পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব লোক আরিফ আজাদ নামক একজন লোকের ১০/১২ বছরের মেয়ে আয়েশাকে বিয়ে করতে চান তার চতুর্থ বউ করার জন্য। আরিফ আজাদ এ বিয়েতে এক পায়ে রাজি হলেও তার মেয়ে কিছুতেই চায় না এই বয়সে সবাইকে ছেড়ে একজন অপরিচিত লোকের সাথে এক বিছানায় ঘুমাতে। কিন্তু, সে তার বাবাকে খুব ভয় পায়, তার চোখে চোখ রেখে কোনো কথা বলতে পারে না। সবসময় মাথা নিচু করে কথা বলে। বাবাকে সে আবার অনেক ভালোও বাসে। বাবার কষ্ট একদমই সহ্য করতে পারে না। তাই, বিয়ের কথা ফাইনাল করতে এসে জাকির সাহেব যখন আয়েশাকে জিজ্ঞেস করে যে সে এ বিয়েতে রাজি কিনা, তখন সে চুপ করে থাকে। তার চুপ করে থাকা দেখে ধরে নেওয়া হয় যে সে এ বিয়েতে রাজি। সে চুপ করেছিলো, কারণ তার বাবা আরিফ তাকে ভয় দেখিয়েছিলো যে সে যদি এমনকিছু বলে যাতে বিয়েটা ভেঙে যায় তাহলে তাকে খুব মারবে। সে এটা ভেবেও চুপ করেছিলো যে, যদি সে বিয়েটা না করে তাহলে তার বাবা অনেক কষ্ট পাবে। তারপর আর কি? নিজের মনের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে বসতে হয় তাকে। বিয়ের পর জাকির সাহেব যখন প্রথম তাকে ছুঁতে যায়, তখন সে বাধা দেয়। জাকির সাহেব বাধা মেনে নেয় না, ধর্ষণ করেন। তারপর দিনের পর দিন আয়েশাকে নিজের বাবার চেয়েও বয়সে বড় একজন লোকের কাছে ধর্ষিত হতে হয়।

ইসলাম কি এই কাল্পনিক ঘটনায় কোনো সমস্যা খুঁজে পায়? না, পায় না। সহিহ হাদিস বলে, বিয়েতে রাজি কিনা সেই প্রশ্নে কোনো কুমারী নারীর চুপ করে থাকার অর্থ সে বিয়েতে রাজি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
হাদিস নম্বরঃ ৬৯৪৬

৮৯/৪. যার উপর বল প্রয়োগ করা হয়েছে এমন ব্যক্তির বিয়ে জায়েয হয় না।

৬৯৪৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! মহিলাদের বিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি নিতে হবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কুমারীর কাছে অনুমতি চাইলে তো লজ্জাবোধ করে; ফলে সে নীরব। তিনি বললেনঃ তার নীরবতাই তার অনুমতি। [৫১৩৭; মুসলিম ১৬/৮, হাঃ ১৪২০, আহমাদ ২৪২৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭৭)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আর ইসলামে যে বৈবাহিক ধর্ষণ বৈধ তা আপনারা ইতিমধ্যে খুব ভালো করে বুঝে গেছেন।

সত্যিই! স্বীকার করতেই হয়, ইসলাম নারীকে দিয়েছে সুমহান মর্যাদা।

Marufur Rahman Khan

Ex-Muslim Atheist - Feminist - Secularist

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *