fbpx

ইসলাম কি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে?

ভূমিকা

একটি কথা প্রায়শই শোনা যায় যে, ইসলাম দুনিয়া এবং আখিরাতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে! পৃথিবীর লক্ষ কোটি মুসলিম এই ভেবে স্বান্তনা পায় যে, এই পৃথিবীতে তাদের সাথে ইনসাফ না হলেও, পরকালে অর্থাৎ কেয়ামতের ময়দানে তাদের সাথে অবশ্যই ইনসাফ হবে। পৃথিবীর মানুষ অনেক সময়ই অন্য মানুষের সাথে ইনসাফমূলক আচরণ করে না। এই যেমন ধরুন, মুজিবের কন্যা হাসিনা, জিয়ার স্ত্রী খালেদা কোন পুর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই দলের প্রধান পদ পেয়ে যান। আবার, কোন জমিদারের ছেলে কোন যোগ্যতা ছাড়াই ভাল স্কুলে সুযোগ পান। আমরা মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত মানুষ সেই সুবিধাগুলো পাই না। আবার ধরুন ভারতে মুকেশ আম্বানীর সন্তানদের বিয়েতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। অথচ আমরা আমাদের সন্তানদের বিয়েতে টেনে টুনে খরচ করি। মুকেশ আম্বানীর সন্তান হিসেবে আমরা জন্ম নিলে আমরাও হয়তো অনেক দামি গাড়ি চালাতাম। কিন্তু সেগুলো আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

আমরা যে একটি ধনী পরিবারে জন্ম নিই নি, এটা তো আমাদের অপরাধ নয়। আবার, মুকেশ আম্বানী বা বিল গেইটসের সন্তান তো নিজ যোগ্যতায় ওই পরিবারে জন্ম নেয় নি। এই ঘটনাগুলোর পেছনে তাদের বা আমাদের কারোরই কোন হাত ছিল না। অথচ, তারা ধনী পরিবারে জন্ম নিয়ে কত আনন্দে থাকে, আর আমরা সারাজীবন টাকার জন্য পরিশ্রম করে যাই। আমরা হতাশ হই তাদের দেখে। আমাদের অভাব অনটনের জ্বালা কিছুই তারা কোনদিন পায় না। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। সবার সমান সুযোগ এবং সমান অধিকার থাকা উচিত ছিল।

এই পৃথিবীর দুঃখ কষ্ট জ্বালা যন্ত্রণার বিপরীতে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলিম এইটুকু ভাবতে ভালবাসেন যে, পরকালে আমাদের জন্য অনেক ভাল কিছু অপেক্ষা করছে। কিন্তু আসলেই কী এই দাবীগুলো সত্য? ইসলাম কি আসলেই দুনিয়ায় এবং আখিরাতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে? আল্লাহ পাক কি এই দুনিয়ায় এবং আখিরাতে সুশাসন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের অনেকগুলো কোরআনের আয়াত এবং হাদিস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। আজকের লেখায় এমন কিছু তথ্য তুলে ধরবো এই আশাতে যে, পাঠকগণ মন দিয়ে তথ্যগুলো পড়বেন এবং নিজেই ভেবে দেখবেন, ইসলাম আসলেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে কিনা।

ইনসাফ অর্থ কী?

ইনসাফ শব্দের অর্থ হচ্ছে ন্যায়বিচার। অথবা বলা যেতে পারে, ভারসাম্য রক্ষা করা। যেমন ধরুন, দুই বা একাধিক পক্ষ কোন একটি বিচার বা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বা পরিস্থিতিতে একই রকম সুযোগ পাচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করা। সকলের সমান অধিকার এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র বা বিচারক কোন পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন না করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পাদন করলে, তবেই সেটিকে সুবিচার বলা যেতে পারে। কাউকে একটু বেশি সুবিধা আর অন্যকে একটু অসুবিধা দিয়ে যদি কোন বিচার করা হয়, সেটি কোনভাবেই সুবিচার বলে গণ্য হতে পারে না। বিচারিক প্রক্রিয়ায় যদি একজন কোনভাবেই সামান্যতম কিছু বেশি সুবিধা পেয়ে যায়, আত্মপক্ষ সমর্থনের একটু হলেও কম সুযোগ পায়, বা পরিস্থিতি যদি তার অনুকূলে না থাকে, কোন রকম প্রভাবক যদি তার কাজে প্রভাব বিস্তার করে থাকে, তাহলে তাকে দায়ী করে শাস্তি দেয়া পুরো বিচারিক প্রক্রিয়াই নষ্ট হয়ে যায়।

যেমন ধরুন, একজন আসামী যদি ক্ষমতাবান হয়, কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়, তার জন্য যদি এক নিয়ম, আর ক্ষমতাহীন ব্যক্তির জন্য যদি আরেক নিয়ম হয়, তাহলে সেটিকে আমরা ইনসাফ বলতে পারই না। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যদি শুধুমাত্র তার মুজিব পরিবারে জন্মাবার জন্য কোথাও কোন বেশি সুবিধা প্রাপ্ত হয়, আর অন্য একজন নাগরিক যদি সেই সুবিধাটুকু না পায়, তাহলে ধরে নইতে হবে, সেখানে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয় নি। একই কোথা প্রযোজ্য সকলের জন্য। হোক সে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, কিংবা হোক সে একজন মুদির দোকানদার। স্বাভাবিকভাবেই, একজন পিতা তার সন্তানকে বেশি ভালবাসবেন। কিন্তু ঐ পিতা যদি কোন পদের অধিকারী হন, এবং ঐ পদ যদি জনগণের ভাগ্য বা উপকার অপকারের ব্যাপারে প্রভাববিস্তারকারী পদ হয়, তাহলে ঐ পদে থাকা অবস্থায় একজন তার সন্তানকেও অন্য আরেকজন নাগরিকের মতই দেখবে। যদি বিচারক পিতা তার সন্তানকে শুধুমাত্র তার সন্তান এই কারণে কিছু সুবিধা দেয়, তাহলে সেটি হবে তার ঐ পদের অবমাননা। বুঝতে হবে, তিনি তার পদের অপব্যবহার করছেন, স্বজনপ্রীতি করছেন। যা ইনসাফের অন্তরায়।

যেমন ধরুন, একজন মানুষকে খুন করেছে কলিমুদ্দিন নামক ব্যক্তি। কিন্তু, কলিমুদ্দীনকে এই কাজ করতে বাধ্য করেছে শামীম ওসমান নামক এক ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। তিনি কলিমুদ্দীনের পরিবারকে হত্যা করবে, এই হুমকি দিয়ে কাজটি করইয়ে নিয়েছে। এখানে, কলিমুদ্দীন অবশ্যই খুনটি করেছে। কিন্তু একই সাথে এখানে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে শামীম ওসমান নামক ব্যক্তি। তাই মূলত এখানে শামীম ওসমানই প্রকৃত খুনি। কলিমুদ্দীন হচ্ছেন একজন ভিক্টিম।

আবার ধরুন, একটি ছেলে একটি ধনী পরিবারে জন্মেছে, আরেকটি ছেলে জন্মেছে একটি দরিদ্র পরিবারে। ধনী এবং দরিদ্র পরিবারের দুইজন ছেলেই একটি দোকান থেকে রুটি চুরির দায়ে ধরা পড়লো। এখানে সহজেই বোঝা যাবে, গরিব ছেলেটি হয়তো ক্ষুধার তাড়নায় চুরিটি করেছে। আর ধনী পরিবারের ছেলেটি চুরিটি করেছে কোন শুধুমাত্র রুটির মালিকের ক্ষতি করার জন্য। হয়তো সে সেই রুটিটি খাবেও না, ফেলে দিবে। এখানে দুইজনার পরিস্থিতি এক নয়। তাই বিচারটিও একই রকম হতে পারে না।

এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। কিন্তু আমার ধারণা, ইনসাফের বিষয়টি আপনারা আরও ভালভাবে চিন্তা করলেই উপলব্ধি করতে পারবেন। তাই আর বেশি উদাহরণে যাচ্ছি না।

পারিবারিকসূত্রে প্রাপ্ত ধর্ম

আমরা প্রায় সব মানুষই কোন একটি পরিবারে জন্ম নিই। স্বাভাবিকভাবেই, সেই পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েই আমরা বড় হয়ে উঠি। বাবা মা যদি আমাদের শেখায় যে, আল্লাহই একমাত্র ঈশ্বর, কোরআনই একমাত্র সত্য, তাহলে সেইসব বিশ্বাস করেই বড় হই। বাবা মা যদি হিন্দু হয়, আমরাও হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস নিয়ে বড় হই। তারা যেই ধর্মের শিক্ষাই আমাদের দেন, সেই শিক্ষা নিয়েই আমাদের মন মানসিকতা গড়ে ওঠে। ঈশ্বর সম্পর্কে, ধর্ম সম্পর্কে আমাদের ধারণা উনারাই বেশ ভালভাবে তৈরি করে দেন। ঈশ্বরের কেমন হওয়া উচিৎ, ঈশ্বরের মূর্তি থাকা উচিৎ কী অনুচিত, ঈশ্বর একজন নাকি একাধিকজন, ধর্মে কী থাকা উচিৎ, সেইসব বিষয়ে সবচাইতে বেইসিক ধারণা আমরা পাই পরিবার থেকেই। এরপরে এলাকার বন্ধুরা, আত্মীয় স্বজন, নানানানী দাদাদাদী চাচাচাচী মামামামী, এরা আমাদের নানান ধর্মীয় গল্পকেচ্ছা বলে। স্কুলের শিক্ষকগণ আমাদের ধর্মের বিভিন্ন ব্যক্তির গল্প বলেন। এই সবের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের ধারনা তৈরি হয়। বাঙলাদেশে একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিলে এবং মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে থাকলে আশেপাশের সবাই একজনকে ইসলাম ধর্মের সত্যতা সম্পর্কেই বলবে, এবং অন্য ধর্মগুলো যে কত মিথ্যা আর বিকৃত সেটিই বলবে। ভারতে হিন্দু পরিবারে জন্ম নিলে এবং হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে থাকলে আশপাশের সবাই হিন্দু ধর্ম যে কত পুরনো এবং সঠিক, সেটিই বলবে। এরকম সবদেশেরই একই চিত্র।

একইভাবে, কোন দেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সংবাদপত্র, রেডিও টিভি ইত্যাদিতেও মুসলিমদের পছন্দের নাটক সিনেমা প্রচারিত হবে। আবার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে টিভিতে প্রচার হবে রামায়ন বা মহাভারত। খ্রিষ্টান বা ইহুদী বা বৌদ্ধদের দেশেও একই অবস্থা। এসব দেখে শুনে বড় হতে হতে এই বিষয়গুলোকেই একজন মানুষ সত্য মনে করে বড় হবে। ছোটবেলার শিক্ষা মানুষের মনে খুব গভীর প্রভাব ফেলে। ছোটবেলায় শেখা খুব সাধারণ জিনিসও আমরা বহুকাল মনে রাখি।

আশপাশের মোটামুটি সবাই যদি আমাদের শেখান যে, দেবদেবী আছে, আমরা সেইভাবেই চিন্তা করতে শিখি। তারা যদি আমাদের শেখান আল্লাহ বা যীহোভা আছে, আমাদেরও সেইগুলোই সত্য বলে মনে হয়। তারা যদি ছোটবেলা থেকে আমাদের মূর্তি পুজা করতে শেখান, সেই কাজটিই আমাদের কাজে যৌক্তিক এবং স্বাভাবিক মনে হয়। তখন যদি আমাদের মুসলিম বন্ধুরা আমাদের বলে, তাদের আল্লাহকে দেখাই যায় না, তখন আমাদের খুব হাসি পায়। মনে হয়, এ আবার কেমন ঈশ্বর রে বাবা, দেখাই যায় না। নাই ঈশ্বরকে আবার কেমন পুজা?

আবার, আমরা যদি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিই, আমাদের ধারনা দেয়া হয় যে, ঈশ্বর বা আল্লাহকে কেউ দেখতে পায় না। তখন আমাদের হিন্দু বন্ধুরা যখন দেবদেবীর ছবি আমাদের দেখায়, বা আমরা কোথাও মূর্তি দেখি, আমাদের খুব হাসি পায়। মনে মনে বলি, এ আবার কেমন ঈশ্বর রে বাবা, এদের ঈশ্বরকে আবার দেখা যায়। এদের চারটা হাত, দুইটা মাথা, কারো কারো আবার হাতির মাথা, কী হাস্যকর! এই ঈশ্বরগুলো তো একদমই মানুষের মত, বা জীবজন্তুর মত। হাতির মাথা ওয়ালা তো ছাড়, কয়েকটা আরো বেশি উদ্ভট দেখতে। দশ হাত তিন মাথা, এগুলো কী উদ্ভট ধর্ম রে বাবা।

কিন্তু এই আমরাই যদি ঘটনাক্রমে ঐ ধর্মের পরিবারে জন্ম নিতাম, তাহলে আমাদের ছোটবেলা থেকে সেই শিক্ষাটিই দেয়া হতো। এবং সেগুলোই আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হতো। যেমন ধরুন, আমি একটি বাঙালি পরিবারে জন্ম নিয়েছি। আমার কাছে বাঙলা ভাষাটা খুবই সহজ এবং এরকম ভাষাকেই আমার মনে হয় দারুন! যখন জার্মান ভাষা শিখতে শুর করলাম, তখন মনে হতো, কী উদ্ভট ভাষা রে বাবা! আবার একজন জার্মানও যখন বাঙলা ভাষা শিখতে যাবে, তার কাছেও ঐ ভাষাটি উদ্ভট মনে হতে পারে। আবার ধরুন, আমাদের সংস্কৃতিতে ঈদের দিনে পাঞ্জাবি পড়ে অন্য বাসায় বেড়াতে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু অন্য দেশের বা অন্য সংস্কৃতিতে আবার এইরকম উৎসবের দিনে মানুষ রাস্তায় নেমে নাচগান করে। ঐসব দেখলে আমাদের উদ্ভট মনে হয়। আবার, তারা যখন আমাদের আচার আচরণ দেখে, তাদের কাছেও সেটি উদ্ভট মনে হয়। এসবের কারণ হচ্ছে, ছোটবেলা থেকে আমরা যেই পরিবেশে বড় হই, সেই সংস্কৃতিই আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়।

মাঝে মাঝে আমাদের মনে ধর্ম বিষয়ে নানা প্রশ্ন জাগে। আমরা আমাদের ধর্মেরই কোন না কোন ধর্মগুরু, কিংবা স্কুলের শিক্ষক অথবা গুরুজনদের সেই নিয়ে প্রশ্ন করি। উত্তর আসলে যেমনই হোক, সন্তোষজনক অথবা অযৌক্তিক, আমাদের মেনে নিতে হয়। তারা আমাদের নানাভাবে মিথ্যা বলে, নানা গোঁজামিল দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করেন, ধর্মে যা আছে সেটিই সঠিক। যেমন ধরুন, আমরা যদি হিন্দু ধর্মে জন্মগ্রহণ করি, এবং মূর্তি পুজা করি, মন্দিরে যাই, মাঝেমাঝে ভিন্ন ধর্মের লোক এসে আমাদের মূর্তিগুলো ভেঙ্গে দিয়ে যায়। তখন আমাদের প্রশ্ন জাগে, এইসব মূর্তি, যা আমরা পুজা করি, সেগুলোর আসলেই কি কোন ক্ষমতা আছে? ক্ষমতা থাকলে বিধর্মীরা আমাদের মুর্তি এবং মন্দির ভেঙ্গে দিয়ে গেল কীভাবে? তখন আমাদের ধর্মগুরুরা নানা গোঁজামিল দিয়ে আমাদের বুঝ দেয়। অযৌক্তিক হলেও সেই কথাগুলোই আমাদের মেনে নিতে হয়।

আবার আমরা যদি মুসলিম বা খ্রীষ্টান ধর্মের পরিবারে জন্ম নিই, মাঝে মাঝে বিধর্মীরা আমাদের মসজিদ ভেঙ্গে দিয়ে যায়, কোরআন পুড়িয়ে দিয়ে যায়। এমনকি, কাবা শরীফেও অনেকবার আক্রমণ হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্ঘটনায় কাবা শরীফ ধ্বংসের ঘটনাও ঘটেছে। তখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, আসলেই কী আল্লাহর কোন ক্ষমতা আছে? ক্ষমতা থাকলে এগুলো হয় কীভাবে? আমরা সেইসব প্রশ্ন নিয়ে ধর্মগুরুদের কাছে গেলে, তারাও ঠিক একইভাবে ভুংভাং দিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দেন। কথাগুলো যত অযৌক্তিকই হোক না কেন, যেহেতু ধর্মগুরুরা এগুলো বলেছে, আমাদের মেনে নেয়া ছাড়া আসলে আর কোন পথ থাকে না।

এর মানে হচ্ছে, আমরা আসলে যেই পরিবারে জন্ম নিই, বেশিরভাগ সময়ই ঘুরে ফিরে আমাদের সেই ধর্মের অনুশাসনই মানতে হয়, অথবা আমরা মানতে বাধ্য হয়। মাঝে মাঝে কিছু মানুষ ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করে, বা নাস্তিক হয়ে যায়। এটি ইসলামের ক্ষেত্রেও যেমন সত্য, অন্য ধর্মের বেলাতেও সত্য।

সাধারণভাবে আমরা বুঝি, মানুষ কোন পরিবারে জন্মেছে, কোন শিক্ষা পেয়েছে, কোন পরিবেশে বড় হয়েছে, এগুলোর ওপর ভিত্তি করে কাউকে বিবেচনা করা বিষয়টি ছোটলোকের কাজ। কিন্তু আল্লাহ এবং তার নবী কী এই দোষে দুষ্ট ছিল? আসুন হাদিস কী বলে দেখি – [1]

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১ঃ ঈমান (বিশ্বাস)
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ – তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১১-[৩৩] ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! মু’মিনদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের (জান্নাত-জাহান্নাম সংক্রান্ত ব্যাপারে) কী হুকুম? তিনি উত্তরে বললেন, তারা বাপ-দাদার অনুসারী হবে। আমি বললাম, কোন (নেক) ‘আমল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহ অনেক ভালো জানেন, তারা জীবিত থাকলে কী ‘আমল করতো। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা মুশরিকদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের কী হুকুম? তিনি বললেন, তারাও তাদের বাপ-দাদার অনুসারী হবে। (অবাক দৃষ্টিতে) আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন (বদ) ‘আমল ছাড়াই? উত্তরে তিনি বললেন, সে বাচ্চাগুলো বেঁচে থাকলে কী ‘আমল করত, আল্লাহ খুব ভালো জানেন। (আবূ দাঊদ)[1]
[1] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪০৮৯। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন : হাদীসটি দু’টি সানাদে বর্ণিত যার একটি সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

নবী হওয়ার যোগ্যতা কী?

আমরা পৃথিবীতে বড় বড় পদে অনেক মানুষকে দেখি। এই যেমন ধরুন, জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়া কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। অনেক মেধা, পড়ালেখা, অনেক পরিশ্রমের পরে একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব সেই অবস্থানে যাওয়া। আবার ধরুন, কোন দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়া, অথবা গুগলের সিইও হওয়া, বা অ্যাপেল কোম্পানির বড় কোন পোস্টে চাকরি করা, এগুলো সবকিছুর জন্যেই একইসাথে পড়ালেখা, মেধা, যোগ্যতা সবই প্রয়োজন হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, নবী হওয়ার জন্য কী যোগ্যতা লাগে? এই পদটি কী যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, নাকি আল্লাহ এটি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন যে, অমুককেই নবী করা হবে?

আরো গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, মুহাম্মদ কী নিজ কর্মগুণে নবী হয়েছিলেন, নাকি তার নবী হওয়া তার জন্মের আগে থেকেই বা শিশু বয়স থেকেই নির্ধারিত ছিল? যেমন ধরুন, প্রাচীন গ্রীসে সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টোটল কিংবা আরো পরের হাইপেশিয়া, উনারা নিজ গুণে, কর্মে, যোগ্যতায়, মেধায় অনন্য সাক্ষর রেখেছিলেন। উনাদের কথা যুগযুগ ধরে মানুষ মনে করে। দার্শনিক, বিজ্ঞানী কিংবা চিন্তক হিসেবে উনাদের কাছে মানবজাতি ঋণী। কিন্তু, নবী মুহাম্মদ কী যোগ্যতায় নবী হয়েছিল?

সহিহ হাদিস অনুসারে, তিনি তার কর্মগুণে নবী হন নি, বরঞ্চ তার নবী হওয়া আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। কারণ জিব্রাইল শিশু বয়সেই তার হৃদপিণ্ড পরিষ্কার করে পাপ মুক্ত করে দিয়েছিলেন। সেটি আল্লাহ পাক অন্য কোন সাধারণ মানুষের বেলাতে করেন নি। ভেবে দেখুন, আপনার হৃদপিণ্ড যদি জিব্রাইল এসে পরিষ্কার করে দিতো, আপনিও কোন পাপ করতেন না। একটি পরীক্ষাতে সকল পরীক্ষার্থীদেরকে সমান সুযোগ প্রদান করতে হয়, লেভেল প্লেইং ফিল্ড তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ পাকের পরীক্ষায় লেভেল প্লেইং ফিল্ড বলেই কিছু নেই। স্বেচ্ছাচারী আল্লাহ তার নিজ ইচ্ছামতই সব করেন। মুহাম্মদের শিশু বয়সেই, অর্থাৎ কোন ভাল কাজ করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের আগেই তাকে নবী হিসেবে মনোনীয় করে ফেলেছেন। তার মানে মুহাম্মদের নবী হওয়াটি আগে থেকেই নির্ধারিত, কিন্তু আবূ লাহাবের নবী হওয়ার কোন সম্ভাবনা ছিল না, তা আবূ লাহাব যাই করুক না কেন। অর্থাৎ এখানে সকল পরীক্ষার্থী সমান সুযোগ পাচ্ছে না। আল্লাহর ইচ্ছাই এখানে মুখ্য। [2] [3]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [310] অধ্যায়ঃ ১/ কিতাবুল ঈমান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৭৩. রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মি’রাজ এবং নামায ফরয হওয়া
৩১০। শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এলেন, তখন তিনি শিশুদের সাথে খেলছিলেন। তিনি তাঁকে ধরে শোয়ালেন এবং বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর হৎপিন্ডটি বের করে আনলেন। তারপর তিনি তাঁর বক্ষ থেকে একটি রক্তপিন্ড বের করলেন এবং বললেন এ অংশটি শয়তানের। এরপর হৎপিণ্ডটিকে একটি স্বর্ণের পাত্রে রেখে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন এবং তার অংশগুলো জড়ো করে আবার তা যথাস্থানে পূনঃস্থাপন করলেন। তখন ঐ শিশুরা দৌড়ে তাঁর দুধমায়ের কাছে গেল এবং বলল, মুহাম্মাদ -কে হত্যা করা হয়েছে। কথাটি শুনে সবাই সেদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখল তিনি ভয়ে বিবর্ণ হয়ে আছেন! আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বক্ষে সে সেলাই-এর চিহ্ন দেখেছি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

লাহাব
লাহাব

নবীর স্বজনপ্রীতি ও ইনসাফ

নবী মুহাম্মদ তার পরিবারের অনেককেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে গেছেন। শুধু সুসংবাদই নয়, রীতিমত সর্দার হওয়ার ঘোষণা দিয়ে গেছেন। নবীর পরিবারে ভাগ্যক্রমে জন্ম নেয়া বাদে তারা পৃথিবীর সকল মানুষের চাইতে কোন দিক দিয়ে উন্নত এবং মানুষের উপকারের জন্য তারা কী করেছে, তা বোধগম্য নয়। তথাপি, নবী তার কন্যা ফাতিমাকে জান্নাতে মহিলাদের সর্দার হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গেছেন। তিনি কী মারিয়া কুরী কিংবা মাদার তেরেসার চাইতেও মহান কিছু কাজ করেছেন? বা হাইপেশিয়া, কিংবা বেগম রোকেয়া? করে থাকলে সেগুলো কী? কোন যোগ্যতায় তিনি জান্নাতে মহিলাদের সর্দার হলেন? নাকি, নবীর মেয়ে হওয়াই জান্নাতের সর্দার হওয়ার যোগ্যতা? [4]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছেদঃ ২০৯১. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট আত্মীয়দের মর্যাদা এবং ফাতিমা (রাঃ) বিনতে নবী (সাঃ) এর মর্যাদা। নবী (সাঃ) বলেছেন, ফাতিমা (রাঃ) জান্নাতবাসী মহিলাগণের সরদার
৩৪৪৭। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) … আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারবর্গের প্রতি তোমরা অধিক সম্মান দেখাবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)

শুধু তাই নয়, তার দুইজন নাতী হাসান এবং হোসেইনকেও জান্নাতের যুবকদের সর্দার হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গেছেন। [5] [6]

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৪৬/ রাসূলুল্লাহ ও তার সাহাবীগণের মর্যাদা
পরিচ্ছেদঃ ৩১. আল-হাসান ইবনু ‘আলী এবং আল-হুসাইন ইবনু ‘আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাযিঃ)-এর মর্যাদা
৩৭৬৮। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল-হাসান ও আল-হুসাইন (রাযিঃ) প্রত্যেকেই জান্নাতী যুবকদের সরদার।
সহীহঃ সহীহাহ (৭৯৬)
সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী’-জারীর ও মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল হতে, তিনি ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু আবী নুম হলেন আবদুর রহমান ইবনু আবী নুম আল-বাজালী, কুফার অধিবাসী। তার উপনাম আবূল হাকাম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

সুনানে ইবনে মাজাহ
ভূমিকা পর্ব
পরিচ্ছেদঃ ১৪. ‘আলী বিন আবী ত্বলিব (রাঃ)-এর সম্মান
৫/১১৮। ইবনু উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাসান ও হুসায়ন জান্নাতী যুবকদের নেতা এবং তাদের পিতা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবে।
তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৯৭৯। উক্ত হাদিসের রাবী মুআল্লা বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার হাদিস দুর্বল এবং তার ব্যাপারে হাদিস বানিয়ে বর্ণনার অভিযোগ রয়েছে। ইবনু আদী বলেন, আশা করি তেমন কোন সমস্যা নেই। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল ও মিথ্যুক। উক্ত হাদিস শাহিদ এর ভিত্তিতে সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

অপরদিকে, আবু লাহাব বা আবু জেহেলের জন্ম যদি নবীর ধরে হতো, নবীর ছেলে হিসেবে, কিংবা ফাতিমার ছেলে হিসেবে, তাহলে তারাও তো জান্নাতের সর্দার হতে পারতো। তাই না? আমি কিংবা আপনি যদি নবীর নাতি হতাম, তাহলে তো মুফতেই জান্নাতে যেতে পারতাম। আল্লাহর নবীর এরকম স্বজনপ্রীতির কারণ কী? সেটি হয়ে থাকলে, হাসিনার ছেলে জয় কিংবা খালেদার ছেলে তারেকের ক্ষমতা পাওয়াকে আমরা স্বজনপ্রীতি বলি কেন? এগুলো তো সেই প্রাচীন আমলের জমিদারী কিংবা রাজা বাদশাহদেরই প্রথা যে, পারিবারিকভাবে কোন যোগ্যতা ছাড়াই তারা জমিদারী পেয়ে যেতো!

জন্মগতভাবে কাফির?

মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের সূত্র ধরে সহিহ মুসলিম শরীফের একটি হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, খিজির নামক এক ব্যক্তি একবার এক বালককে বিনা কারণেই হত্যা করে। এই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে, সে নির্লিপ্তভাবে উত্তর দেয় যে, ছেলেটি জন্মগতভাবেই কাফের ছিল। তাই কুফরি কর্ম করার আগেই, তার পিতামাতাকে কুফরি কাজে বাধ্য করার আগেই তাকে হত্যা করে ফেলা হলো। খিযির আগেই জানতেন, এই ছেলেটি বড় হয়ে কুফরি করবে, বা আল্লাহকে মানবে না। ভেবে দেখুন, এই ছেলেটি কোন অপরাধই করে নি। অথচ, অপরাধ করার আগেই বিনা অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো, কোন বিচার সাক্ষী প্রমাণ সব ছাড়াই। এবং এই কাজটি আবার হাদিসে খুব ভাল কাজ হিসেবে উল্লেখও করা হলো! যেই কাজ একজন করেই নি, তার জন্য তাকে কীভাবে শাস্তি দেয়া যেতে পারে?

এই ছেলেটি জাহান্নামে যাবে, নাকি জান্নাতে? সে তো কোন অপরাধই করে নি। যার জন্মই হয়েছে কাফির হিসেবে, সে নিশ্চয়ই জাহান্নামেই যাবে। এ কেমন বিচার! আল্লাহ তাকে কাফির হিসেবেই জন্ম দিলেন, আবার হত্যা করালেন বিনা অপরাধে, আবার জাহান্নামেও পাঠাবেন- এর নাম ইনসাফ? আসুন হাদিসগুলো পড়িঃ [7] [8] [9]

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৪৭। তাকদীর
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রত্যেক শিশু ইসলামী স্বভাবের উপর জন্মানোর মর্মার্থ এবং কাফির ও মুসলিমদের মৃত শিশুর বিধান
৬৬৫৯-(২৯/২৬৬১) আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা’নাব (রহঃ) ….. উবাই ইবনু কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই যে ছেলেটিকে খাযির (আঃ) (আল্লাহর আদেশে) হত্যা করেছিলেন তাকে কফিরের স্বভাব দিয়েই সৃষ্টি করা হয়েছিল। যদি সে জীবিত থাকত তাহলে সে তার পিতামাতাকে অবাধ্যতা ও কুফুরী করতে বাধ্য করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৫, ইসলামিক সেন্টার ৬৫৭৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৫/ ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ ৪২. খিযির (আঃ) এর ফযীলত
৫৯৪৯। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আলা কায়সী (রহঃ) … সাঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলা হলো, নাওফ দাবি করে যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) যিনি জ্ঞান অন্বেষণে বের হয়েছিলেন। তিনি বনী ইসরাঈলের মূসা নন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, হে সাঈদ, তূমি কি তাকে এটা বলতে শুনেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, নাওফ মিথ্যা বলেছে। কেননা উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মূসা (আলাইহিস সালাম) একদা তার জাতির সামনে আল্লাহ তা’আলার নিয়ামত এবং তাঁর শাস্তি পরীক্ষাসমূহ স্মরণ করিয়ে নসীহত করছিলেন। (কথা প্রসঙ্গে কারো প্রশ্নের জবাবে) তিনি বলে ফেললেন, পৃথিবীতে আমার চেযে উত্তম এবং বেশি জ্ঞানী কোন ব্যক্তি আছে বলে আমরে জানা নেই।
রাবী বলেন। আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম) এর প্রতি ওহী পাঠালেনঃ আমি জানি তার (মূসা) থেকে উত্তম কে বা কার কাছে কল্যাণ রয়েছে। অবশ্যই পৃথিবীতে আরো ব্যক্তি আছে যে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আয় রব্ব! আমাকে তার পথ বাতলিয়ে দিন। তাকে বলা হলো লবণাক্ত একটি মাছ সঙ্গে নিয়ে যাও। যেখানে এ মাছটি হারিয়ে যাবে, সেখানেই সে ব্যক্তি। মূসা (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর খাদিম রওনা হলেন, অবশেষে তাঁরা একটি বিশাল পাথরের কাছে পৌছলেন। তখন মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথীকে রেখে অগোচরে চলে গেলেন। এরপর মাছটি নড়েছরে পানিতে চলে গেল এবং পানিও খোপের মত হয়ে গেল মাছের পথে মিলিত হল না।
মূসা (আলাইহিস সালাম) এর খাদিম বললেন, আচ্ছা আমি আল্লাহর নাবীর সাথে মিলিত হয়ে তাঁকে এ ঘটনা বলবো। পরে তিনি ভুলে গেলেন। যখন তারা আরো সামনে অগ্রসর হলেন, তখন মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমার নাশতা দাও, এ সফরে তো আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যতক্ষন তারা এ স্থানটি অতিক্রম করেন নি, ততক্ষণ তাদের ক্লান্তি আসে নি।
রাবী বলেন, তাঁর সাথীর যখন স্মরণ হল, এবং সে বলল, আপনি কি জানেন যখন আমরা পাথরে আশ্রয় নিয়েছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গেছি। আর শয়তানই আমাকে আপনার কাছে বলার কখা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং বিস্ময়করভাবে মাছটি সমুদ্রে তার পথ করে নিয়েছে। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এ-ই তো ছিল আমাদের উদ্দীষ্ট। অতএব তাঁরা পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চললেন। তখন তার খাদিম মাছের স্থানটি তাকে দেখালো।
মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এ স্থানের বিবরনই আমাকে দেওয়া হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরপর মূসা (আলাইহিস সালাম) খুজতে লাগলেন, এমন সময় তিনি বস্ত্রাবৃত খিযির (আলাইহিস সালাম) কে গ্রীবার উপর চিৎ হয়ে শায়িত দেখতে পেলেন। অথবা (অন্য বর্ননায়) সোজাসুজি গ্রীবার উপর। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আসসালামু আলাইকুম। খিযির (আলাইহিস সালাম) মুখ খেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, ওয়া আলাইকুম সালাম, তুমি কে? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি মূসা। তিনি বললেন, কোন মূসা? মূসা (আলাইহিস সালাম) উত্তর দিলেন, বনী ইসরাঈলের মূসা। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, কোন মহান ব্যাপারই আপনাকে নিয়ে এসেছে? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি এসেছি যেন আপনাকে যে সৎজ্ঞান দান করা হয়েছে, তা থেকে কিছু আপনি আমায় শিক্ষা দেন।
খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমার সঙ্গে আপনি ধৈর্যধারণ করতে সক্ষম হবেন না। আর কেমন করে আপনি ধৈর্য ধারণ করবেন এমন বিষয়ে, যার জ্ঞান দেওয়া হয় নি। এমন বিষয় হতে পারে যা করতে আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, আপনি যখন তা দেখবেন, তখন আপনি সবর করতে পারবেন না। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, ইনশা আল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। আর আমি আপনার কোন নির্দেশ অমান্য করব না।
খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি যদি আমার অনুগামী হন তবে আমাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না যতক্ষণ না আমি নিজেই এ বিযয়ে উল্লেখ করি। এরপর উভয়ই চললেন, অবশেষে তারা একটি নৌকায় চড়লেন। [খিযির (আলাইহিস সালাম) তখন[ তা ছিদ্র করলেন অর্থাৎ তাতে (একটি তক্তায়) সজোরে চাপ দিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন, আপনি কি নৌকাটি ভেঙ্গে ফেলেছেন, আরোহীদের ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে? আপনি তো বড় আপত্তিকর কাজ করেছেন। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে সক্ষম হবেন না? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি ভুলে গিয়েছি, আমাকে আপনি দোষী করবেন না। আমার বিষয়টিকে আপনি কঠোরতাপূর্ণ করবেন না।
আবার দু’জন চলতে লাগলেন। এক জায়গায় তাঁরা বালকদের পেলেন যারা খেলা করছে খিযির (আলাইহিস সালাম) অবলীলাক্রমে একটি শিশুর কাছে গিয়ে তাকে হত্যা করলেন। এতে মূসা (আলাইহিস সালাম) খুব ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, আপনি প্রাণের বিনিময় ব্যতীত একটি নিষ্পাপ প্রাণকে হত্যা করলেন? বড়ই গর্হিত কাজ আপনি করেছেন। এ স্থলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর রহমত বর্ষণ করুন আমাদের ও মূসা (আলাইহিস সালাম) এর উপর। তিনি যদি তাড়াহুড়া না করতেন তাহলে আরো বিস্ময়কর ঘটনা দেখতে পেতেন। কিন্তু তিনি সহযাত্রী [খিযির (আলাইহিস সালাম)] এর সামনে লজ্জিত হয়ে বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোন প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমায় সঙ্গে রাখবেন না। তখন আপনি আমার ব্যাপারে অবশ্যই চূড়ান্ত অভিযোগ করতে পারবেন (এবং দায়মুক্ত হবেন)।
যদি মূসা (আলাইহিস সালাম) ধৈর্য ধরতেন, তাহলে আরো বিস্ময়কর বিষয় দেখতে পেতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন নাবীর উল্লেখ করতেন, প্রথমে নিজকে দিয়ে শুরু করতেন, বলতেন, আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন এবং আমার অমুক ভাইয়ের উপরও। এভাবে নিজেদের উপর আল্লাহর রহমত কামনা করতেন।
তারপর উভয়ে চললেন এবং ইতর লোকের একটি জনপদে গিয়ে উঠলেন। তাঁরা লোকদের বিভিন্ন সমাবেশে ঘুরে তাদের কাছে খাবার চাইলেন। তারা তাঁদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। এরপর তাঁরা একটি পতনোন্মুখ দেয়াল পেলেন। তিনি [খিযির (আলাইহিস সালাম)] সেটি ঠিকঠাক করে দিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি চাইলে এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, এবার আমার আর আপনার মধ্যে বিচ্ছেদ (এর পালা)।
খিযির (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাপড় ধরে বললেন, আপনি যেসব বিষয়ের উপর অধৈর্য হয়ে পড়েছিলে সে সবের তাৎপর্য বলে দিচ্ছি।
‘নৌকাটি ছিল কতিপয় গরীব লোকের যারা সমুদ্রে কাজ করতো’– আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তারপর যখন এটাকে দখলকারী লোক আসলো তখন ছিদ্রযুক্ত দেখে ছেড়ে দিল। এরপর তারা একটা কাঠ দিয়ে নৌকাটি ঠিক করে নিলো। আর বালকটি সৃষ্টিতেই ছিল জন্মগত কাফির। তার মা-বাবা তাকে বড়ই স্নেহ করতো। সে বড় হলে ওদের দুজনকেই অবাধ্যতা ও কুফরির দিকে নিয়ে যেতো। সুতরাং আমি ইচ্ছে করলাম, আল্লাহ যেন তাদেরকে এর বদলে আরো উত্তম, পবিত্র স্বভাবের ও অধিক দয়াপ্রবন ছেলে দান করেন। ‘আর দেয়ালটি ছিল শহরের দুটো ইয়াতীম বালকের’ আয়াতের শেষ পর্যন্ত (সূরা কাহফঃ ৬০-৮২)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৫/ ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ ৪২. খিযির (আঃ) এর ফযীলত
৫৯৪৮। আমর ইবনুু মুহাম্মাদ আন-নাকিদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী, উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমর মাক্কী (রহঃ) … সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নাওফ বিকালী বলেন যে, বনী ইসরাঈলের নাবী মূসা খিযির (আলাইহিস সালাম) এর সাথী মূসা নন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। আমি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, মূসা (আলাইহিস সালাম) বনী ইসরাঈলের মধ্যে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। তাকে প্রশ্ন করা হলো, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বড় আলিম? তিনি উত্তর দিলেন, আমি সবচেয়ে বড় আলিম। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। কারণ মূসা (আলাইহিস সালাম) জ্ঞানকে আল্লাহর প্রতি ন্যস্ত করেননি।
অতঃপর আল্লাহর তার ওহী পাঠালেন যে, দু’সাগরের সঙ্গম স্থলে আমার বান্দাদের মধ্যে এক বান্দা আছে, যে তোমার চেয়েও অধিক জ্ঞানী। মূসা (আলাইহিস সালাম) প্রশ্ন করলেন আয় রব্ব! আমি কী করে তাঁকে পাব? তাঁকে বলা হলো, থলের ভেতর একটি মাছ নাও। মাছটি যেখানে হারিয়ে যাবে, সেখানেই তাঁকে পাবে। তারপর তিনি রওনা হলেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর খাদিম ইউশা ইবনু নূনও চললেন এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) একটি মাছ থলিতে নিয়ে নিলেন।
তিনি ও তাঁর খাদিম চলতে চলতে একটি বিশাল পাথরের কাছে উপস্থিত হলেন। এখানে মূসা (আলাইহিস সালাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। তাঁবু সাথীও ঘুমিয়ে পড়ল। মাছটি নড়েচড়ে থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়লো। এদিকে আল্লাহ তা’আলা পানির গতিরোধ করে দিলেন। এমনকি তা একটি খোপের মত হয়ে গেল এবং মাছটির জন্য একটি সুড়ঙ্গের মতো হয়ে গেল। মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তার খাদিমের জন্য এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার হল।
এরপর তাঁরা আবার দিন-রাতভর চললেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) এর সাথী খবরটি দিতে ভুলে গেলো। যখন সকাল হলো, মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর খাদিমকে বললেন, আমাদের নাশতা বের কর। আমরা তো এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আদেশকৃত (নির্ধারিত) স্থান অতিক্রম না করা পর্যন্ত তাঁরা ক্লান্ত হন নি। খাদিম বলল, আপনি কি জানেন, যখনই আমরা পাথরের উপর আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথাটি ভুলে যাই, আর শয়তানই আমাকে আপনাকে বলার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং আশ্চর্যজনকভাবে মাছটি সমুদ্রে তার নিজের পথ করে চলে গেল।
মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এ জায়গাটই তো আমরা খুজছি। অতঃপর উভয়েই নিজ নিজ পদচিহ্ন অনুসরণ করে পাথর পর্যন্ত পৌছলেন। সেখানে (পানির উপরে ভাসমান অবস্থায়) চাঁদরে আচ্ছাদিত একজন লোক দেখতে পেলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে সালাম দিলেন। খিযির বললেন, তোমার এ দেশে সালাম কোত্থেকে? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি মূসা। তিনি প্রশ্ন করলেন, বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। খিযির বললেন, আল্লাহ তার জ্ঞানের এমন এক ইলম আপনাকে দিয়েছেন যা আমি জানি না। আর আল্লাহ তাঁর জ্ঞানের এমন এক ইলম আমাকে দিয়েছেন যা আপনি জানেন না।
মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি আপনার সাথে থাকতে চাই যেন আপনাকে প্রদত্ত জ্ঞান আমাকে দান করেন। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না। আর কী করে ধৈর্য ধারণ করবেন, ঐ বিষয়ের উপর যা সম্পর্কে আপনি জ্ঞাত নন? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, ইনশা আল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। আর আপনার কোন নির্দেশ আমি অমান্য করব না। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আচ্ছা আপনি যদি আমার অনুসরণ করেন, তবে আমি নিজে কিছু উল্লেখ না করা পর্যন্ত কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আাচ্ছা।
খিযির এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) উভয়ে সমুদ্র তীর ধরে চলতে লাগলেন। সম্মুখ দিয়ে একটি নৌকা আসল। তারা নৌকাওয়ালাকে তাঁদের তুলে নিতে বললেন। তারা খিযির (আলাইহিস সালাম) কে চিনে ফেললো, তাই দু’জনকেই বিনা ভাড়ায় তুলে নিল। এরপর খিযির (আলাইহিস সালাম) নৌকার একটি তক্তার দিকে লক্ষ্য করলেন এবং তা উঠিয়ে ফেললেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এরা তো এমন লোক যে, আমাদের বিনা ভাড়ায় নিয়েছে আর আপনি তাদের নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন যাতে নৌকা ডুবে যায়? আপনি তো সাংঘাতিক কাজ করেছেন! খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি কি আপনাকে বলি নি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে সক্ষম হবেন না? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি আমার এ ভুলের জন্য ক্ষমা করে দিবেন। আর আমাকে কঠিন অবস্থায় ফেলবেন না। তারপর নৌকার বাইরে এলেন এবং উভয়ে সমুদ্র তীর ধরে চলতে লাগলেন।
হঠাৎ একটি বালকের সম্মুখীন হলেন, যে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলা করছিল। খিযির (আলাইহিস সালাম) তার মাথাটি হাত দিয়ে ধরে ছিঁড়ে ফেলে হত্যা করলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন, আপনি কোন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই একটা নিষ্পাপ প্রাণকে শেষ করে দিলেন? আপনি তো বড়ই খারাপ কাজ করলেন। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি কি আপনাকে বলি নি যে, আমার সাথে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম হবেন না? রাবী বলেন, আর এ ভুল প্রথমটার চেয়ে আরো গুরুতর। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আচ্ছা, এরপর যদি আর কিছু সম্পর্কে প্রশ্ন করি, তাহলে আমাকে সাথে রাখবেন না। নিঃসন্দেহে আমার ব্যাপারে আপনার আপত্তি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
এরপর উভয়েই চলতে লাগলেন এবং একটি গ্রামে পৌঁছে গ্রামবাসীর কাছে খাবার চাইলেন। তারা তাঁদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করলো। তারপর তাঁরা একটি দেয়াল পেলেন, যেটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে অর্থাৎ ঝুঁকে পড়েছে। খিজির (আলাইহিস সালাম) আপন হাতে সেটি ঠিক করে সোজা করে দিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমরা এ সম্প্রদায়ের কাছে এলে তারা আমাদের মেহমানদারী করে নি এবং খেতে দেয় নি। আপনি চাইলে এদের কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিতে পারতেন? খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, এবার আমার ও আপনার মাঝে বিচ্ছেদের পালা।
এখন আমি আপনাকে এসবের তাৎপর্য বলছি, যে সবের উপর আপনি ধৈর্যধারণ করতে সক্ষম হন নি (সূরা কাহফঃ ৬০-৮২)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম) এর উপর রহম করুন, আমার আকাঙ্ক্ষা হয় যে, যদি তিনি ধৈর্যধারণ করতেন, তাহলে আমাদের কাছে তাঁদের আরো ঘটনাসমূহের বিবরণ দেওয়া হতো।
রাযী বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রথমটা মূসা (আলাইহিস সালাম) ভুলে যাওয়ার কারণে করেছিলেন। এও বলেছেন, একটি চড়ুই এসে নৌকার পার্শ্বে বসে সমুদ্রে চঞ্চু মারল। তখন খিযির (আলাইহিস সালাম) মূসাকে বলেন, আমার ও আপনার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় এতই কম, যতখানি সমূদ্রের পানি থেকে এ চড়ুইটি কমিয়েছে।
সাঈদ জ্যুায়র বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) পড়তেনঃوَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا (এদের সম্মুখে একজন বাদশাহ ছিল, যে সমস্ত ভালো নৌকা কেড়ে নিতো) তিনি আরো পড়তেনঃوَأَمَّا الْغُلاَمُ فَكَانَ كَافِرًا (আর সে বালকটি ছিল কাফির)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)

খুন হওয়া শিশুরা কোথায় যাবে?

নবী মুহাম্মদ বলেছেন, মুশরিকদের মধ্যে যেসকল মানুষ তাদের কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিয়েছে, তারা জাহান্নামে যাবে, সেই সব শিশুরা, যাদের জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছে, যাদের কোন পাপ পূন্য কিছুই ছিল না, তারাও জাহান্নামে যাবে।

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৫/ সুন্নাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৮. মুশরিকদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে।
৪৬৪২. ইব্‌রাহীম ইবন মূসা (রহঃ) ….. আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জীবন্ত প্রথিত কন্যা এবং তার মা- উভয়ই জাহান্নামী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ শা‘বী (রহঃ)

ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতের শাস্তি

ইসলামের বিধান হচ্ছে, কোন মানুষ যদি পশুর সাথে যৌনকর্ম করে, তাহলে যে কাজটি করেছে এবং যার সাথে করেছে, সেই পশুটিকেও হত্যা করতে হবে। পশুটির এখানে কী অপরাধ, তার কোন উত্তর নেই।

গ্রন্থের নামঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [4405]
অধ্যায়ঃ ৩৩/ শাস্তির বিধান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২৮. পশুর সাথে সংগম করলে তার শাস্তি সস্পর্কে।
৪৪০৫. আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ………. ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ কোন পশুর সাথে সঙ্গম করে, তবে তাকে হত্যা করবে এবং সে পশুকেও তার সাথে হত্যা করবে। রাবী বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করিঃ পশুর অপরাধ কি? তিনি বলেনঃ আমার মনে হয়, তিনি সে পশুর গোশত খাওয়া ভাল মনে করেননি, যার সাথে কেউ এরূপ কুকর্ম করে।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

পাপ পূন্য কে করায়?

ইনসাফের ধারণা পরিষ্কার করার আগে এটি জানা প্রয়োজন যে, মানুষ কেন অন্যায় এবং করে। এই অন্যায় ও অপরাধের পেছনে কোন কোন প্রভাবক কাজ করছে। যেমন ধরুন, ইসরাইলের সেনাবাহিনীর প্রধান যদি প্যালেস্টাইনে আক্রমণের হুকুম দেয়, সেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্যালেস্টাইনে আক্রমণ করে অপরাধ করলেও, মূল অপরাধী হিসেবে কিন্তু গণ্য হবেন যিনি সেনাসদস্যদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন। আইনের দৃষ্টিতে এদের বলা হয় হুকুমের আসামী। তারপরেও, সেনাবাহিনীর প্রধানের নির্দেশ যেকোন সৈন্য নিজের স্বাধীন ইচ্ছা ব্যবহার করে অগ্রাহ্য করতে পারে। কিন্তু এই কাজটি যদি খোদ আল্লাহ করিয়ে নেয়, তাহলে কোন সামান্য মানুষ তা অগ্রাহ্য করতে সক্ষম নয়। আসুন হাদিসটি পড়ি – [10]

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী
গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৫/ সুন্নাহ
হাদিস নাম্বার: 4703
৪৭০৩। মুসলিম ইবনু ইয়াসার আল-জুহানী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে এ আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলোঃ ‘‘যখন তোমার রব আদম সন্তানের পিঠ থেকে তাদের সমস্ত সন্তানদেরকে বের করলেন…’’ (সূরা আল-আ‘রাফঃ ১৭২)। বর্ণনাকারী বলেন, আল-কা‘নবী এ আয়াত পড়েছিলেন। উমার (রাঃ) বলেন, আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর স্বীয় ডান হাতে তাঁর পিঠ বুলিয়ে তা থেকে তাঁর একদল সন্তান বের করে বললেন, আমি এদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জান্নাতবাসীর উপযোগী কাজই করবে।
অতঃপর আবার তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে একদল সন্তান বেরিয়ে এনে বললেন, এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং জাহান্নামীদের উপযোগী কাজই করবে। একথা শুনে এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমলের কি মূল্য রইলো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহান আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন তখন তার দ্বারা জান্নাতবাসীদের কাজই করিয়ে নেন। শেষে সে জান্নাতীদের কাজ করেই মারা যায়। আর আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যখন তিনি কোনো বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তার দ্বারা জাহান্নামীদের কাজ করিয়ে নেন। অবশেষে সে জাহান্নামীদের কাজ করে মারা যায়। অতঃপর এজন্য তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান।
[1]
সহীহ, পিঠ বুলানো কথাটি বাদে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সেইসাথে, নবী এটিও নিশ্চিত করেছেন যে, পিতার মেরুদণ্ডে অবচেতন থাকতেই কে জাহান্নামে আর কে জান্নাতে যাবে তা নির্ধারিত বিষয়। অর্থাৎ সে ভাল কাজ করবে না খারাপ কাজ, সেসব কাজ করার আগেই তার ভাগ্য নির্ধারিত।

গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ভূমিকা পর্ব
পরিচ্ছেদঃ ১০. তাকদীর (রাঃ) ভাগ্যলিপির বর্ণনা
৭/৮২। উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আনসার সম্প্রদায়ের এক বালকের জানাযা পড়ার জন্য ডাকা হল। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তার জন্য সুসংবাদ, সে জান্নাতের চড়ুই পাখিদের মধ্যে এক চড়ুই যে পাপ কাজ করেনি এবং তা তাকে স্পর্শও করেনি। তিনি বলেনঃ হে আয়িশাহ! এর ব্যতিক্রমও কি হতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা একদল লোককে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তারা তাদের পিতাদের মেরুদন্ডে অবচেতন থাকতেই তিনি তাদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি জাহান্নামের জন্যও একদল সৃষ্টি করেছেন। তারা তাদের পিতাদের মেরুদন্ডে অবচেতন থাকতেই তিনি তাদের জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: মুসলিম ২৬৬২/১-২, নাসায়ী ১৯৪৭, আবূ দাঊদ ৪৭১৩, আহমাদ ২৩৬১২, ২৫২১৪।
তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

সহিহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে- তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকূল সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টিকূলের তাকদীর লিখে রেখেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৪৮/ তাকদীর (كتاب القدر)
হাদিস নম্বরঃ [6507]
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন‏
পরিচ্ছদঃ ২. আদম (আঃ) ও মুসা (আঃ) এর বিতর্ক
৬৫০৭। আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সারহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাঁআলা সমগ্র সৃষ্টির ভাগ্যলিপি আসমান ও যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, সে সময় আল্লাহর আরশ পানির উপরে ছিল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আরো একটি হাদিস পড়ি,

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৪৭। তাকদীর
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রত্যেক শিশু ইসলামী স্বভাবের উপর জন্মানোর মর্মার্থ এবং কাফির ও মুসলিমদের মৃত শিশুর বিধান
৬৬৬১-(৩১/…) আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ্ (রহঃ) ….. উম্মুল মুমিন ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি আনসার নাবালক বাচ্চার জানাযায় উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হলেন। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এ নাবালকটি তো সৌভাগ্যবান। সে তো জান্নাতে চড়ুই পাখিদের থেকে একটি চড়ুই পাখি। সে পাপকর্ম করেনি এবং পাপ তাকে স্পর্শ করেনি। তিনি বললেন, এছাড়া আরো কিছু আছে, হে আয়িশাহ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের জন্য উপযুক্ত অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে, যাদেরকে সে উদ্দেশেই সৃষ্টি করেছে, অথচ তখন তারা তাদের বাপ দাদাদের ঔরসে ছিল। আর তিনি সৃষ্টি করেছেন যাদেরকে জাহান্নামের জন্য তাদের সে উদ্দেশেই পয়দা করেছেন আর তারা তখন তাদের বাপ দাদাদের ঔরসে ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৭, ইসলামিক সেন্টার ৬৫৭৮)‏
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

যদি এরকমই হয়ে থাকে, তাহলে আসলে আমাদের পাপ পুণ্যের কী অর্থ থাকে?

ধর্ষক এবং খুনীও জান্নাতী

ইসলামের নীতি অনুসারে, একজন খুনি কিংবা ধর্ষকও শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের কারণেই জান্নাতে যাবে। সহিহ হাদিসে সেভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১ঃ ঈমান (বিশ্বাস)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২৬-[২৫] আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (একবার) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে পৌঁছলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সাদা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘুমিয়েছিলেন। আমি ফেরত চলে এলাম। অতঃপর পুনরায় তাঁর নিকট গেলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জেগে ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আমাকে দেখে) বললেন, যে ব্যক্তি (অন্তরের সাথে) ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলবে আর এ বিশ্বাসের উপর তার মৃত্যু হবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, সে চুরি ও ব্যভিচার (এর মতো বড় গুনাহ) করে থাকে তবুও? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে চুরি ও ব্যভিচার করলেও। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, চুরি ও ব্যভিচার করার পরও? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, চুরি ও ব্যভিচারের ন্যায় গুনাহ করলেও। আবূ যার-এর নাক ধূলায় মলিন হলেও। বর্ণনাকারী বলেন, যখনই আবূ যার (রাঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন (গৌরবের সাথে) এ শেষ বাক্যটি ‘আবূ যার-এর নাক ধূলায় মলিন হলেও’ অবশ্যই বর্ণনা করতেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৫৮২৭, মুসলিম ৯৪, আহমাদ ২১৪৬৬, সহীহ আল জামি‘ ৫৭৩৩।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এক’শ হত্যা করেও জান্নাতি

এমনকি, শতাধিক খুন করার পরেও, শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং আল্লাহর কাছে তওবা করার ইচ্ছা থাকলেই, একজন ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবেন। [11] তাহলে যারা একটিও খুন করেন নি, অথচ কোনভাবে তাদের ভাগ্যে আল্লাহ আগেই জাহান্নামি লিখে দিয়েছেন, তাদের সাথে বিষয়টি ইনসাফ হলো কী?

গ্রন্থের নামঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
পরিচ্ছেদঃ ২: তওবার বিবরণ
৮/২১। আবূ সাঈদ সা‘দ ইবনু মালেক ইবনু সিনান খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের পূর্বে (বনী ইস্রাইলের যুগে) একটি লোক ছিল; যে ৯৯টি মানুষকে হত্যা করেছিল। অতঃপর লোকদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তাকে একটি খ্রিষ্টান সন্নাসীর কথা বলা হল। সে তার কাছে এসে বলল, ‘সে ৯৯ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এখন কি তার তওবার কোন সুযোগ আছে?’ সে বলল, ‘না।’ সুতরাং সে (ক্রোধান্বিত হয়ে) তাকেও হত্যা করে একশত পূরণ করে দিল। পুনরায় সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। এবারও তাকে এক আলেমের খোঁজ দেওয়া হল। সে তার নিকট এসে বলল যে, সে একশত মানুষ খুন করেছে। সুতরাং তার কি তওবার কোন সুযোগ আছে? সে বলল, ‘হ্যাঁ আছে! তার ও তওবার মধ্যে কে বাধা সৃষ্টি করবে? তুমি অমুক দেশে চলে যাও। সেখানে কিছু এমন লোক আছে যারা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করে। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদত কর। আর তোমার নিজ দেশে ফিরে যেও না। কেননা, ও দেশ পাপের দেশ।’
সুতরাং সে ব্যক্তি ঐ দেশ অভিমুখে যেতে আরম্ভ করল। যখন সে মধ্য রাস্তায় পৌঁছল, তখন তার মৃত্যু এসে গেল। (তার দেহ-পিঞ্জর থেকে আত্মা বের করার জন্য) রহমত ও আযাবের উভয় প্রকার ফিরিশ্তা উপস্থিত হলেন। ফিরিশ্তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক আরম্ভ হল। রহমতের ফিরিশ্তাগণ বললেন, ‘এই ব্যক্তি তওবা করে এসেছিল এবং পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর দিকে তার আগমন ঘটেছে।’ আর আযাবের ফিরিশ্তারা বললেন, ‘এ এখনো ভাল কাজ করেনি (এই জন্য সে শাস্তির উপযুক্ত)।’ এমতাবস্থায় একজন ফিরিশ্তা মানুষের রূপ ধারণ করে উপস্থিত হলেন। ফিরিশ্তাগণ তাঁকে সালিস মানলেন। তিনি ফায়সালা দিলেন যে, ‘তোমরা দু’ দেশের দূরত্ব মেপে দেখ। (অর্থাৎ এ যে এলাকা থেকে এসেছে সেখান থেকে এই স্থানের দূরত্ব এবং যে দেশে যাচ্ছিল তার দূরত্ব) এই দুয়ের মধ্যে সে যার দিকে বেশী নিকটবর্তী হবে, সে তারই অন্তর্ভুক্ত হবে।’ অতএব তাঁরা দূরত্ব মাপলেন এবং যে দেশে সে যাওয়ার ইচ্ছা করেছিল, সেই (ভালো) দেশকে বেশী নিকটবর্তী পেলেন। সুতরাং রহমতের ফিরিশতাগণ তার জান কবয করলেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম)
সহীহতে আর একটি বর্ণনায় এরূপ আছে যে, ‘‘পরিমাপে ঐ ব্যক্তিকে সৎশীল লোকদের দেশের দিকে এক বিঘত বেশী নিকটবর্তী পাওয়া গেল। সুতরাং তাকে ঐ সৎশীল ব্যক্তিদের দেশবাসী বলে গণ্য করা হল।’’
সহীহতে আরো একটি বর্ণনায় এইরূপ এসেছে যে, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা ঐ দেশকে (যেখান থেকে সে আসছিল তাকে) আদেশ করলেন যে, তুমি দূরে সরে যাও এবং এই সৎশীলদের দেশকে আদেশ করলেন যে, তুমি নিকটবর্তী হয়ে যাও। অতঃপর বললেন, ‘তোমরা এ দু’য়ের দূরত্ব মাপ।’ সুতরাং তাকে সৎশীলদের দেশের দিকে এক বিঘত বেশী নিকটবর্তী পেলেন। যার ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হল।’’
আরো একটি বর্ণনায় আছে, ‘‘সে ব্যক্তি নিজের বুকের উপর ভর করে ভালো দেশের দিকে একটু সরে গিয়েছিল।’’[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩৪৭০, মুসলিম ২৭৬৬, ইবনু মাজাহ ২৬২৬, আহমাদ ১০৭৭০, ১১২৯০
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  

ইনসাফ

আল্লাহ গুনাহকারীদের ভালবাসেন

ইসলাম ধর্মের কথিত স্রষ্টা আল্লাহ তোষামোদ খুব ভালবাসেন। সেই কারণে তিনি ঘোষণা করেছেন, তিনি চান মানুষ বেশি বেশি গুনাহ করুক এবং ক্ষমা চাক। তাতে তার আনন্দ হয়। মানুষ যদি গুনাহ না করতো, তবে মানুষ জাতিকে তিনি ধ্বংস করে ফেলতেন। কারণ অন্যায় অপরাধ না থাকলে তার কাছে ক্ষমাও তো কেউ চাইবে না। অর্থাৎ, আল্লাহ গুনাহ খুব ভালবাসেন।

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ – ক্ষমা ও তাওবাহ্
২৩২৮-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে সরিয়ে এমন জাতিকে সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করত ও আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা চাইত। আর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। (মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ২৭৪৯, শু‘আবূল ঈমান ৬৭০০, সহীহাহ্ ১৯৫০, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৪৯।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ধরুন, ছয়মাসের যেই বাচ্চা শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো, আল্লাহ চেয়েছেন সেই বাচ্চাটি ধর্ষিত হোক এবং ধর্ষণকারী ধর্ষনের পরে ক্ষমা চাক। তাতে তার ইগো সেটিস্ফাই হবে, এবং তিনি ক্ষমা করবেন। কেউ ধর্ষণ না করলেই বরঞ্চ তার খুব অসুবিধা। কারণ তখন তার কাছে ক্ষমাও কেউ চাইবে না। এই হচ্ছে আল্লাহর মনস্তত্ত্ব।

অমুসলিম ভাল কাজ করলেও জাহান্নামি

মুসলিমদের জান্নাতের সুসংবাদ দিলেও, কোন অমুসলিম যত ভাল কাজই করুক না কেন, পৃথিবীর মানুষের যত উপকারই করুক না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামি। অর্থাৎ, জাহান্নামে সে অনন্তকাল শাস্তি পাবে। অর্থাৎ দাস প্রথার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে দাস প্রথার কুপ্রথা থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করা আব্রাহাম লিঙ্কন, কালো মানুষদের সমান অধিকারের পক্ষে সারাজীবন লড়াই করে যাওয়া নেলসন ম্যান্ডেলা, সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা রাজা রামমোহন রায়, বিধবাবিবাহের পক্ষে সারাজীবন লড়াই করা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, এরকম হাজারো অসাধারণ মানবিক মানুষ, এরা সকলেই চিরস্থায়ী জাহান্নামী। সেইসাথে, আফ্রিকায় যেসব শিশু জন্ম নিচ্ছে, পারিবারিকভাবে তারা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে বড় হচ্ছে, অনাহারে থাকছে, এরাও সকলে কাফের হলেই জাহান্নামি। আর হলি আর্টিজানে যে সব ইসলামিক জঙ্গি একজন সাত মাসের গর্ভবতী খ্রিস্টান নারীকে কেটে টুকরো টুকরো করেছে, সেইসব জঙ্গি সকলেই জান্নাতি। শিশুদের সকুলে বোমা মারা তালেবানদের প্রধান লাদেন কিংবা শতাব্দীর সবচাইতে ভয়ঙ্কর জঙ্গি সন্ত্রাসী বাহিনী আইএস এর প্রধান বাগদাদী, এরা সকলেই জান্নাতেই যাবে। গোলাম আজম, মওদুদী, এদের মত গণহত্যাকারী এবং মানবতার শত্রুও জান্নাতি!

আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে কক্ষনো তার সেই দ্বীন কবূল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
Taisirul Quran
আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
Rawai Al-bayan
আর যে কেহ ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম অন্বেষণ করে তা কখনই তার নিকট হতে গৃহীত হবেনা এবং পরলোকে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
Sheikh Mujibur Rahman
And whoever desires other than Islām as religion – never will it be accepted from him, and he, in the Hereafter, will be among the losers.
Saheeh International
[ সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫ ]

চুরির শাস্তি হাত কেটে দেয়া

চোরদের হাত কেটে দিতেন নবী। প্রাচীন কালের এই বর্বর প্রথাকে আইন করে দিয়ে গেছেন নবী। বর্তমান সময়ে এরকম শাসক পাওয়া গেলে তাকে সারা পৃথিবীর মানুষ থুথু দেবে। কারণ এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, বারবার চুরি যারা করতো, তাদের হাত পা ক্রমান্বয়ে কেটে তাদের হত্যা করতো নবী।

ক্লেপটোম্যানিয়া হচ্ছে একটি মানসিক সমস্যা। এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ চুরি করার আকাঙ্ক্ষা কোনভাবেই দমন করতে পারে না। তারা কোন বাসায় বেড়াতে গেলে কিছু জিনিস লুকিয়ে নিয়ে আসে, আবার কোন দোকানে গেলেও কিছু চুরি করে আনে। তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না, এই অভ্যাসটি পরিত্যাগ করা। যত শাস্তিই দেয়া হোক না কেন, তারা চুরি করবেই। এদের জন্য প্রয়োজন মানসিক চিকিৎসার। নিচের হাদিসটি পড়ুন, হাদিসটিতে বোঝা যাচ্ছে, একজন মানুষ হাত পা কেটে দেয়ার পরেও বারবার চুরি করেই যাচ্ছে। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, লোকটি ক্লেপটোম্যানিয়াতে আক্রান্ত ছিল। নইলে দুই হাত আর পা ছাড়া কীভাবে আরও চুরি করতে গেল? নবী এরকম একজন অসুস্থ মানুষকেও চুরির অপরাধে হত্যা করেছিল।

গ্রন্থের নামঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [4358]
অধ্যায়ঃ ৩৩/ শাস্তির বিধান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২০. যে বার বার চুরি করে, তার শাস্তি সস্পর্কে।
৪৩৫৮. মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ……. জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক চোরকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হাযির করা হলে, তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখন সাহাবীগণ বলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসুল! এ লোক তো কেবল চুরি করেছে! তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তবে তার হাত কেটে দাও। তখন সে ব্যক্তির ডান হাত কেটে দেওয়া হয়। এরপর সে দ্বিতীয়বার চুরি করলে, তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত করা হয় এবং তিনি তার হত্যার নির্দেশ দেন। তখনও সাহাবীগণ বলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসুল! সে তো কেবল চুরি করেছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তার পা কেটে দাও। তখন তার বাম-পা কেটে ফেলা হয়। এরপর সে ব্যক্তিকে তৃতীয় বার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পেশ করা হলে, তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখন সাহাবীগণ বলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসুল! সে তো চুরি করেছে। এরপর তিনি কাটার নির্দেশ দিলে, সে ব্যক্তির বাম-হাত কাটা হয়। পরে সে ব্যক্তিকে চতুর্থবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পেশ করা হলে, তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখনও সাহাবীগণ বলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসুল! এ ব্যক্তি তো চুরি করেছে। তখন তিনি কাটার নির্দেশ দিলে তার ডান-পা কেটে ফেলা হয়। এরপর সে ব্যক্তিকে পঞ্চমবারের অপরাধের কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হাযির করা হলে, তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। জাবির (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমরা তাকে প্রান্তরে নিয়ে হত্যা করি এবং তার লাশ টেনে কূপের কাছে নিয়ে তাতে নিক্ষেপ করি। পরে তার মৃত দেহের উপর পাথর নিক্ষেপ করি।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

এবারে আসুন আরও কিছু হাদিস পড়ি-

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩০/ অপরাধের শাস্তি
হাদিস নাম্বার: 4259
৪২৫৯। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢাল চুরির অপরাধে এক চোরের হাত কর্তন করেন। ঢালটির মূল্য ছিল তিন দিরহাম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩০/ অপরাধের শাস্তি
হাদিস নাম্বার: 4251
৪২৫১। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দ্বীনারের এক চতুর্থাংশ এবং এর অধিক পরিমাণ মূল্যের মাল চুরির অপরাধে চোরের হাত কর্তন করতেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১৪/ হদ্দ (দন্ড)
হাদিস নাম্বার: 2583
১/২৫৮৩। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চোরের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত, ডিম চুরি করার অপরাধে যার হাত কাটা যায় এবং রশি চুরি করার অপরাধে যার হাত কাটা যায়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩০/ অপরাধের শাস্তি
হাদিস নাম্বার: 4261
৪২৬১। আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করেন সে চোরের ওপর, যে একটি ডিম (বা ডিমের মূল্যের পরিমাণ বস্তু) চুরি করল। এতে তার হাত কাটা যাবে। আর যে ব্যক্তি একটি দড়ি (কিংবা দড়ির সমম্যূল্যর পরিমাণ বস্তু) চুরি করল, তারও হাত কাটা যাবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

শরীয়তে রক্তপনের বিধান

ইসলামী শরীয়তে খুনি ব্যক্তি যদি খুন হওয়া মানুষটির পরিবারকে রক্তপন নিতে রাজি করাতে পারে, তাহলে তিনি অর্থ দিয়ে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন। একে ইসলামী পরিভাষায় বলা হয় দিয়াত। ধরুন, করিম নামক একটি লোককে কেউ হত্যা করেছে। করিমের পরিবারের যারা আছেন, তাদের সাথে করিমের খুব সুসম্পর্ক নেই। বরঞ্চ, করিম মারা গেলেই তারা খুশী হয়। কারণ তাতে তারা করিমের সম্পত্তি ভাগ করে নিতে পারবে। এই রকম পরিস্থিতিতে করিমকে কেউ হত্যা করলো। খুব স্বাভাবিকভাবেই, করিমের পরিবার খুনির শাস্তি হোক কিংবা না হোক, তার চাইতে বেশি মনোযোগ দেবে সম্পত্তির দিকে। এর ওপর যদি আবার এই খুনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু অর্থ পাওয়া যায়, তাহলে তো আরও ভাল। ইসলাম এর সুব্যবস্থা করে রেখেছে।

ইসলাম দাস মুক্ত অথবা নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার মাধ্যমে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার বন্দোবস্ত করে রেখেছে। দিয়াত অর্থাৎ রক্তপন দিয়ে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেকোন বিচার ব্যবস্থাতে একটি ক্ষতিকর এবং বাজে বিষয় বলে গণ্য হতে বাধ্য। বিচার ব্যবস্থা সবসময়ই হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। যদি কারও অর্থ সম্পদ বিচার ব্যবস্থাকে সামান্যতমও প্রভাবিত করে, তাহলে সেই বিচার আদৌ কোন বিচার বলে গণ্য হতে পারে না।

ধরুন, বিল গেইটসের মেয়ে কাউকে হত্যা করলো। একই বিচারালয়ে আক্কাস আলীর ছেলেও, যিনি হতদরিদ্র মানুষ, সেও কাউকে হত্যা করলো। খুন হওয়া মানুষটির পরিবারগুলোর মধ্যে বিল গেইটসের অর্থ সম্পদ কিছুটা হলেও প্রভাব বিস্তার করবে। সেই একই সুবিধাটুকু কিন্তু আক্কাস আলীর ছেলেটি পাবে না। খুন হওয়া পরিবারের সদস্যরা বিল গেইটসের মেয়ের বেলায় অর্থ নিয়ে মামলা ডিসমিস করতে চাইতে পারে। বিচার ব্যবস্থাই যদি সেই সুযোগটি করে দেয়, এর চাইতে বাজে বিচারিক প্রক্রিয়া আর কিছুতে হতে পারে না। আসুন কোরআনের সূরা নিসার ৯২ নং আয়াতটি পড়ে নিই-

কোন মুমিনকে হত্যা করা যেন মুমিনের কাজ নয় [১], তবে ভুলবশতঃ করলে সেটা স্বতন্ত্র; এবং কেউ কোনো মুমিনকে ভুলবশতঃ হত্যা করলে এক মুমিন দাস মুক্ত করা এবং তার পরিজনবর্গকে রক্তপণ আদায় করা কর্তব্য, যদি না তারা ক্ষমা করে। যদি সে তোমাদের শত্রু পক্ষের লোক হয় এবং মুমিন হয় তবে এক মুমিন দাস মুক্ত করা কর্তব্য। আর যদি সে এমন সম্প্রদায়ভুক্ত হয় যাদের সাথে তোমরা অংগীকারাবদ্ধ তবে তার পরিজনবর্গকে রক্তপণ আদায় এবং মুমিন দাস মুক্ত করা কর্তব্য। আর যে সঙ্গতিহীন সে একাদিক্রমে দু মাস সিয়াম পালন করবে [২]। তাওবাহ্‌র জন্য এগুলো আল্লাহর ব্যবস্থা এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
কোন মু’মিনকে হত্যা করা কোন মু’মিনের কাজ নয় তবে ভুলবশত হতে পারে, কেউ কোন মু’মিনকে ভুলক্রমে হত্যা করলে, একজন মু’মিন দাস মুক্ত করা বা তার পরিবারবর্গকে রক্তপণ দেয়া কর্তব্য, যদি না তারা ক্ষমা করে দেয়। যদি সে তোমাদের শত্রুপক্ষের লোক হয় এবং মু’মিন হয় তবে একজন মু’মিন গোলাম আযাদ করা কর্তব্য, আর যদি সে এমন গোত্রের লোক হয় যাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে চুক্তি রয়েছে তবে তার পরিবারকে রক্তপণ দেয়া এবং একজন মু’মিন গোলাম আযাদ করা কর্তব্য এবং যে ব্যক্তি সঙ্গতিহীন সে একাদিক্রমে দু’ মাস রোযা পালন করবে। এটাই হল আল্লাহর নিকট তাওবাহ করার ব্যবস্থা, আল্লাহ মহাজ্ঞানী, সুবিজ্ঞ।
Taisirul Quran
আর কোন মুমিনের কাজ নয় অন্য মুমিনকে হত্যা করা, তবে ভুলবশত (হলে ভিন্ন কথা)। যে ব্যক্তি ভুলক্রমে কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তাহলে একজন মুমিন দাসকে মুক্ত করতে হবে এবং দিয়াত (রক্ত পণ দিতে হবে) যা হস্তান্তর করা হবে তার পরিজনদের কাছে। তবে তারা যদি সদাকা (ক্ষমা) করে দেয় (তাহলে দিতে হবে না)। আর সে যদি তোমাদের শত্রু কওমের হয় এবং সে মুমিন, তাহলে একজন মুমিন দাস মুক্ত করবে। আর যদি এমন কওমের হয় যাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সন্ধিচুক্তি রয়েছে তাহলে দিয়াত দিতে হবে, যা হস্তান্তর করা হবে তার পরিবারের কাছে এবং একজন মুমিন দাস মুক্ত করতে হবে। তবে যদি না পায় তাহলে একাধারে দু’মাস সিয়াম পালন করবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমাস্বরূপ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
Rawai Al-bayan
কোন মু’মিনের উচিত নয় যে, ভ্রম ব্যতীত কোন মু’মিনকে হত্যা করে; যে কেহ ভ্রম বশতঃ কোন মু’মিনকে হত্যা করে তাহলে সে জনৈক মু’মিন দাসকে মুক্ত করে দিবে এবং তার আত্মীয় স্বজনকে হত্যার বিনিময় সমর্পণ করবে; কিন্তু যদি তারা ক্ষমা করে দেয় এবং যদি সে তোমাদের শত্রু সম্প্রদায়ের অন্তর্গত ও মু’মিন হয় তাহলে জনৈক মু’মিন দাসকে মুক্তি দান করবে; এবং যদি সে তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে সন্ধিবদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয় তাহলে তার স্বজনদেরকে হত্যার বিনিময় অর্পণ করবে এবং জনৈক মু’মিন দাসকে মুক্ত করবে; কিন্তু যদি সে ওটায় অক্ষম হয় তাহলে আল্লাহর নিকট হতে ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করবে। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
Sheikh Mujibur Rahman
And never is it for a believer to kill a believer except by mistake. And whoever kills a believer by mistake – then the freeing of a believing slave and a compensation payment [diyah] presented to his [i.e., the deceased’s] family [is required], unless they give [up their right as] charity. But if he [i.e., the deceased] was from a people at war with you and he was a believer – then [only] the freeing of a believing slave; and if he was from a people with whom you have a treaty – then a compensation payment presented to his family and the freeing of a believing slave. And whoever does not find [one or cannot afford to buy one] – then [instead], a fast for two months consecutively,1 [seeking] acceptance of repentance from Allah.2 And Allah is ever Knowing and Wise.
Saheeh International

ইসলামী শরীয়তে দিয়াতের পরিমাণও বলে দেয়া আছে। অনেকগুলো হাদিস রয়েছে, যেখানে দিয়াতের পরিমাণ কত হবে সেটিও বিস্তারিতভাবে বলে দেয়া হয়েছে। যেমন নিচের হাদিসটিতে দেখুন-

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৪/ রক্তপণ
পরিচ্ছেদঃ ১৬. দিয়াতের (হত্যার বিনিময়ের) পরিমাণ সম্পর্কে।
৪৪৭৬. ইয়াহইয়া ইবন হাকীম (রহঃ) ….. আমর ইবন শু’আয়ব (রহঃ) তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় দিয়াতের মূল্যমান ছিল-আট শত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) বা আট হাযার দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা)-এর অনুরূপ। এ সময় আহলে-কিতাব (ইয়াহূদ-নাসারা)-দের জন্য দিয়াতের পরিমাণ ছিল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত দিয়াতের অর্ধেক, যার প্রচলন উমার (রাঃ)-এর খিলাফতের পূর্ব পর্যন্ত ছিল। তিনি খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে গিয়ে বলেনঃ এখন উটের দাম বেড়ে গেছে।
রাবী বলেনঃ এরপর উমার (রাঃ) দিয়াতের মূল্যমান আটশত দীনার হতে এক হাজার দীনারে এবং আট হাযার দিরহাম হতে বার হাযার দিরহাম নির্ধারিত করেন। আর তিনি গাভীর মালিকদের জন্য দুইশো গাভী এবং বকরীর মালিকদের জন্য দু’হাজার বকরী নির্ধারণ করেন। তিনি যিম্মীদের দিয়াত আগের মত বহাল রাখেন এবং তাতে কিছু বৃদ্ধি করেননি, যেমন তিনি মুসলমানদের দিয়াত বৃদ্ধি করেন।

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

ধরুন, ধনী পরিবারের ছেলে করিম আর দরিদ্র পরিবারের ছেলে রহিম দুইজন মিলে আক্কাস আলী নামক একজনকে খুন করে শরীয়া পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়েছে। খুন হওয়া আক্কাস আলীর পরিবার এই ক্ষেত্রে রক্তপনের দাবী জানালো। ধনী পরিবারের ছেলে দিয়াত পরিশোধ করতে পারলো। রহিমের পরিবার তা দিতে পারলো না। এক্ষেত্রে কী বিচার হবে বলুন তো? কে শাস্তি পাবে, আর কে ছাড়া পাবে?

বিচারিক প্রক্রিয়ায় যদি কোনভাবে অর্থ বিত্ত জড়িত হয়ে যায়, সেই বিচার ব্যবস্থাকে কী আর কোনভাবেই ইনসাফ বলা সম্ভব?

নিজ সন্তানকে হত্যা করা

ইসলামী শরীয়তে নিজের ছেলেকে হত্যা করলে তার জন্য কোন কিসাসের বিধান নেই। অর্থাৎ, পিতা যদি খারাপ মানুষ হওন, তিনি তার সন্তানকে হত্যাও করতে পারেন। এর জন্য তার ওপর সমান শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না।

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
১৪/ দিয়াত বা রক্তপণ
পরিচ্ছেদঃ ৯. বাবা ছেলেকে খুন করলে তার কিসাস হবে কি না
১৪০০। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ছেলেকে খুনের অপরাধে বাবাকে হত্যা করা যাবে না।
সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৬২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)

বিষয়টি আমরা ইসলামী আইনশাস্ত্র থেকেও দেখে নিই, [12]

সন্তান হত্যার বিধান

ধর্ষণ প্রমাণে চার সাক্ষী

ইসলামী শরীয়তে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য ধর্ষিতাকে চারজন পুরুষ সাক্ষী নিয়ে আসতে হবে, যারা সচক্ষে লিঙ্গের ভেতরে লিঙ্গ প্রবেশ করতে দেখেছে। নতুবা তার ওপরই শাস্তি প্রয়োগ হতে পারে। পরিসরে বড় হওয়ায় এই আলোচনাটি নিয়ে আলাদা একটি লেখা দেয়া হয়েছে। আগ্রহী পাঠক লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন। [13]

অমুসলিমের জীবনের মূল্য কম

ইসলামী শরীয়ত অর্থাৎ ইসলামী আইনের রাষ্ট্রে একজন মুসলিমের জীবনের মূল্য একজন অমুসলিমের জীবনের মূল্যের চাইতে অনেক বেশি। এই কারণে একজন অমুসলিমকে হত্যা করলে তার জন্য মুসলিমের প্রাণদণ্ড দেয়া যাবে না। অথচ, একজন অমুসলিম কোন মুসলিমকে হত্যা করলে অবশ্যই প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

সেইসাথে উল্লেখ্য, আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, কোন মুসলমান কোন জিম্মি অর্থাৎ জিজিয়া কর দেয়া অমুসলিমকে হত্যা করলে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, তবে তার জন্য কোন দুনিয়াবি শাস্তির কথা কিন্তু বলা নেই। যেখানে মুসলিমকে হত্যা করা হলে তার দুনিয়াবি এবং আখিরাত উভয় শাস্তির কথাই বলা আছে।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [6915]
অধ্যায়ঃ ৮৭/ রক্তপণ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৮৭/৩১. কাফেরের বদলে মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না
৬৯১৫. আবূ জুহাইফাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের কাছে এমন কিছু আছে কি যা কুরআনে নেই? তিনি বললেন, দিয়াতের বিধান, বন্দী-মুক্তির বিধান এবং (এ বিধান যে) কাফেরের বদলে কোন মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। [১১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নম্বরঃ [2658]
অধ্যায়ঃ ১৫/ রক্তপণ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন‏
পরিচ্ছদঃ ১৫/২১. কাফের ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না
১/২৬৫৮। আবূ জুহাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) কে বললাম, আপনাদের নিকট এমন কোন জ্ঞান আছে কি যা অন্যদের অজ্ঞাত? তিনি বলেন, না, আল্লাহর শপথ! লোকেদের নিকট যে জ্ঞান আছে তা ব্যতীত বিশেষ কোন জ্ঞান আমাদের নিকট নাই। তবে আল্লাহ যদি কাউকে কুরআন বুঝবার জ্ঞান দান করেন এবং এই সহীফার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দিয়াত ইত্যাদি প্রসঙ্গে যা আছে (তাহলে স্বতন্ত্র কথা)। এই সহীফার মধ্যে আরো আছেঃ কোন কাফেরকে হত্যার অপরাধে কোন মুসলমানকে হত্যা করা যাবে না।
সহীহুল বুখারী ১১১, ১৮৭০, ৩০৪৭, ৩০৩৪, ৩১৭২, ৩১৮০, ৬৭৫৫, ৬৯০৩, ৬৯১৫, ৭৩০০, মুসলিম ১৩৭০, তিরমিযী ১৪১২, ২১২৭, নাসায়ী ৪৭৩৪, ৪৭৩৫, ৪৭৪৪, ৪৭৪৫, ৪৭৪৬, ৪৫৩০, আহমাদ ৬০০, ৬১৬, ৪৮৪, ৯৬২, ৯৯৪, ১০৪০, দারেমী ২৩৫৬, ইরওয়া ২২০৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৩৪/ রক্তমূল্য
পরিচ্ছেদঃ ১১. কাফির হত্যার দায়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে কি না?
৪৫৩০। কাইস ইবনু আব্বাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ও আল-আশতার আলী (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বলি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাকে বিশেষ কোনো উপদেশ দিয়েছেন যা সাধারণভাবে মানুষকে দেননি? তিনি বললেন, না; তবে শুধু এতটুকু যা আমার এ চিঠিতে আছে। অতঃপর তিনি তার তরবারির খাপ থেকে একখানা পত্র বের করলেন। তাতে লেখা ছিলোঃ সকল মুসলিমের জীবন সমমানের। অন্যদের বিরুদ্ধে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি।
তাদের একজন সাধারণ ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তাই সকলের জন্য পালনীয়। সাবধান! কোনো মু‘মিনকে কোনো কাফির হত্যার অপরাধে হত্যা করা যাবে না। চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিককেও চুক্তি বলবৎ থাকাকালে হত্যা করা যাবে না। কেউ বিদ‘আত চালু করলে তার দায় তার উপর বর্তাবে। কোনো ব্যক্তি বিদ‘আত চালু করলে বা বিদ‘আতিকে মুক্তি দিলে তার উপর আল্লাহর অভিশাপ এবং ফিরিশতা ও মানবকূলের অভিশাপ।[1]
সহীহ।
[1]. নাসায়ী, আহমাদ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কায়স ইবনু ‘উবাদ (রহঃ)

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৩৪/ রক্তমূল্য
পরিচ্ছেদঃ ১১. কাফির হত্যার দায়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে কি না?
৪৫৩১। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতঃপর আলী (রাঃ) বর্ণিত হাদীদের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছেঃ তাদের দূরবর্তীরাও তাদের পক্ষে নিরাপত্তা দিতে পারবে, উত্তম ও দুর্বল পশুর মালিকরা এবং পিছনে অবস্থানরত ও সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ সৈন্যগণও গানীমাতে সমান অংশ লাভ করবে।[1]
হাসান সহীহ।
[1]. এটি গত হয়েছে হা/ ২৭৫১।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

এই বিষয়ে ফতোয়া বিষয়ক প্রখ্যাত ওয়েবসাইট ইসলাম ওয়েব থেকে একটি ফতোয়া দেখে নিই, [14]

All perfect praise be to Allaah, The Lord of the Worlds. I testify that there is none worthy of worship except Allaah, and that Muhammad is His slave and Messenger. We ask Allaah to exalt his mention as well as that of his family and all his companions.
First of all, you should know that a Muslim should not be killed for killing a belligerent non-Muslim according to the consensus of the scholars may Allaah have mercy upon them. According to the view of the majority of the scholars may Allaah have mercy upon them a Muslim should not be killed against a free non-Muslim under the Muslim rule. The evidence about this is the saying of the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ): “A Muslim should not be killed for killing a non-Muslim.” [At-Tirmithi]
Moreover, according to the view of the majority of the scholars may Allaah have mercy upon them the title (and rulings) “disbeliever” is applicable to a free non-Muslim under the Muslim rule. However, Abu Haneefah, and the scholars of his School of jurisprudence may Allaah have mercy upon them are of the view that a Muslim should be killed for killing a free non-Muslim under Muslim rule; their evidence is the two verses which the questioner mentioned. Nonetheless, the correct opinion is that of the majority of the scholars may Allaah have mercy upon them that is based on the above Prophetic narration, which is a direct proof related to the case of dispute.
Allaah Knows best.

অমুসলিম হত্যার রক্তপন

উপরের হাদিস এবং ফতোয়াটি থেকে স্পষ্ট যে, অমুসলিমদের হত্যার জন্য কোন মুসলিমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না। তার মানে হচ্ছে, অমুসলিমের জীবনের মূল্য ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে কম। তাহলে অমুসলিম হত্যার জন্য কী শাস্তি দেয়া হবে? ইসলামের বিধান অনুসারে, অমুসলিম হত্যার জন্য রক্তপন বা দিয়াত দিতে হবে, তবে তা হবে মুসলিমের অর্ধেক দাম।

সুনানে ইবনে মাজাহ
১৫/ রক্তপণ
পরিচ্ছেদঃ ১৫/১৩. কাফের-এর দিয়াত
১/২৬৪৪। ‘আমর ইবনে শু‘আইব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দেন যে, দু’ আহলে কিতাব সম্প্রদায় অর্থাৎ ইহূদী ও নাসারাদের দিয়াত হবে মুসলমানদের দিয়াতের অর্ধেক।
তিরমিযী ১৪১৩, নাসায়ী ৪৮০৬, ৪৮০৭, ইরওয়া ২২৫১।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুর রহমান বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাকবুল। ইমাম যাহাবী তাকে সিকাহ বলেছেন।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

আরেকটি হাদিস,

সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ রক্তপণ
পরিচ্ছেদঃ কাফেরের দিয়াত প্রসঙ্গে।
১৪১৭. ঈসা ইবনু আহমাদ (রহঃ) ….. আমর ইবনু শুআয়ব তাঁর পিতা তাঁর পিতামহ (আবদুল্লাহ ইবনু আমর রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমকে অমুসলিমের বদলে হত্যা করা যাবে না। – ইবনু মাজাহ ২৬৫৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই সনদে আরো বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কাফিরের দিয়াতের পরিমাণ হল মুমিনের দিয়াতের অর্ধেক। – ইবনু মাজাহ ২৬৪৪
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। ইয়াহুদী ও খৃস্টানের দিয়াতের বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কতক আলিমের মাযহাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদীস অনুসারে। উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) বলেন, ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের দিয়াত মুসলিমের দিয়াতের অর্ধেক। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) এ মত পোষণ করেন। উমর ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত তিনি বলেছেন, ইয়হুদী ও খৃস্টানদের দিয়াত হল চার হাজার দিরহাম। অগ্নি উপাসকের দিয়াত হল আটশত দিরহাম। এ হল ইমাম মালিক, শাফিঈ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেছেন, ইয়াহুদী ও খৃস্টানের দিয়াত হল মুসলিমের দিয়াতের সমান। এ হল ইমাম সুফইয়ান ছাওরী ও কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

অর্থাৎ, অমুসলিমের জীবনের মূল্য মুসলিমের জীবনের মূল্যের অর্ধেক। ধর্মের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবনের মূল্য যে মতাদর্শে নির্ধারিত হয়, সেই মতাদর্শকে কীভাবে ইনসাফমূলক মতাদর্শ বলা সম্ভব, আমি জানি না। মুয়াত্তা মালিকের এই হাদসটিও পড়ি,

মুয়াত্তা মালিক
৪৩. দিয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৫. কাফির যিম্মীর দিয়াত
মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) বলতেন, ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের দিয়াত যখন তাহারা একে অন্যকে হত্যা করে, স্বাধীন মুসলমানের দিয়াতের অর্ধেক।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট বিধান এই যে, কোন মুসলমানকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা হইবে না। হ্যাঁ, যদি ধোঁকা দিয়া সে যিম্মীকে হত্যা করে তবে তাহাকে হত্যা করা হইবে।
সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলিতেন, অগ্নিউপাসকদের দিয়াত আট শত দিরহাম।
মালিক (রহঃ) বলেন, ইহাই আমাদের নিকট বিধান।
মালিক (রহঃ) বলেন, ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ক্ষত করার দিয়াত মুসলমানদের ক্ষত করার দিয়াতের হিসাবে মুযিহার বিশ ভাগের একভাগ এবং মাসুমা ও জাইকায় তিন ভাগের একভাগ। ইহার উপর অন্যগুলির অনুমান করা যায়।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)

ইসলাম ত্যাগের শাস্তি

বিশ্বাস মানুষের মনের ব্যাপার। যার বিশ্বাস হয় সে বিশ্বাস করে, যার বিশ্বাস হয় না তাকে জোর করলেও তার মধ্যে বিশ্বাস আসে না। আর মুসলিম পরিবারে জন্ম নিলে কেউ জিজ্ঞেসও করে না, তুমি কোন ধর্মটি বেছে নিবে? মানে, মতামত না দিয়েই, নিজে দেখেশুনে বুঝে পছন্দ করার বয়সে পৌঁছাবার আগেই একজন মানুষ মুসলমান হয়ে যায়। কিন্তু পরে যদি তারা ইসলাম ত্যাগ করতে চায়? সে যদি অন্য কোন ধর্ম বেছে নিতে চায়? বা সে যদি নাস্তিক হয়ে যায়? ইসলাম ধর্মে ধর্ম ত্যাগের শাস্তি কী? এই বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী? আসুন নিচের হাদিসগুলো থেকে জেনে নিই।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ শাস্তির বিধান
হাদিস নাম্বার: 4300 ‏
৪৩০০. আহমদ ইব্‌ন মুহাম্মদ (রহঃ) — ইকরাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাঃ) ঐ সব লোকদের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন, যারা মুরতাদ হয়েছিল। এ সংবাদ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পৌছলে, তিনি বলেনঃ যদি আমি তখন সেখানে উপস্থিত থাকতাম, তবে আমি তাদের আগুনে জ্বালাতে দিতাম না। কেননা, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোময়া আল্লাহ্‌ প্রদত্ত শাস্তির (বস্তু) দ্বারা কাউকে শাস্তি দেবে না। অবশ্য আমি তাদেরকে আল্লাহ্‌র রাসূলের নির্দেশ মত হত্যা করতাম। কেননা, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ দীন পরিত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়, তবে তোমরা তাকে হত্যা করবে। আলী (রাঃ) ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ)-এর এ নির্দেশ শুনে বলেনঃ ওয়াহ্‌! ওয়াহ্‌! ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) সত্য বলেহছেন। আর ইহাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) [15]

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ শাস্তির বিধান (كتاب الحدود)
হাদিস নাম্বার: 4301‏
৪৩০১. আমর ইব্‌ন আওন (রহঃ) —- আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ মুসলমানের রক্ত হালাল নয়, যে এরূপ সাক্ষ্য দেয় যে, “আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহ্‌র রাসূল”। তবে তিনটি কারণের কোন মুসলমানের রক্ত প্রবাহিত করা হালালঃ (১) যদি কোন বিবাহিত ব্যক্তি যিনা করে; (২) যদি কেউ কাউকে হত্যা করে, তবে এর বিনিময়ে হত্যা এবং (৩) যে ব্যক্তি দীন ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে মুসলমানের জামায়াত থেকে বেরিয়ে যায়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) [16]

আসুন, সহি বুখারী গ্রন্থ থেকে সরাসরি হাদিসগুলো যাচাই করে নিই [17]

ইনসাফ

ইনসাফ

[18]

এবারে আসুন দেখি, প্রখ্যাত হাদিস প্রনেতা ইমাম মালিকের মুয়াত্তা ইমাম মালিক গ্রন্থ থেকে মুরতাদের শাস্তি কী হতে পারে তা জেনে নিই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশ হওয়া মুয়াত্তা ইমাম মালিক দ্বিতীয় খণ্ডের ৪০৬, ৪০৭ নম্বর পৃষ্ঠায় হাদিসটি পাবেন। ডাউনলোড লিঙ্ক [19]

ইনসাফ
ইনসাফ

সেইসাথে, আরো অমানবিক ব্যাপার হলো, মুরতাদকে কেউ হত্যা করলে তার জন্য হত্যাকারীর ওপর মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ হবে না। বিষয়টি সন্নিবেশিত আছে বিধিবদ্ধ ইসলামিক আইন খণ্ড ১ এ [20]

ইনসাফ

একই সাথে, মুরতাদের বিষয় সম্পত্তিও জবরদখল করা হবে, তেমনটিই বলা আছে ইসলামিক আইনে [21]

ইনসাফ

উপসংহার

উপরে ইসলামের মৌলিক বিধান এবং শরীয়তের বেশ কিছু অমানবিক এবং ভয়ংকর বিধানের কথা উল্লেখ করা হলো। এই বিধানগুলো আল্লাহ এবং তার নবীর দ্বারা সত্যায়িত ইসলামই শরীয়তের অপরিবর্তনীয় বিধান। সবচাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে, সময়ের সাথে সাথে আমরা এই আইনগুলোকে সংস্কার, পরিমার্জন, পরিশোধন করতে পারবো না। সেইসাথে, ইসলামে পরিষ্কারভাবেই বলা হয়েছে, আল্লাহপাক সেই সৃষ্টির শুরুতেই মানুষের তাকদীর এবং কে জান্নাতে যাবে কে জাহান্নামে যাবে তা নির্ধারণ করে রেখেছেন। শুধু নির্ধারণ করেই শেষ হয় নি, তিনি মানুষকে দিয়ে সেইসব কাজ করিয়েও নেন। এইগুলো কীভাবে ইনসাফ হতে পারে, তা বিবেচনার দায় পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।

তথ্যসূত্রঃ
  1. মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস নম্বর- ১১১ []
  2. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৩১০ []
  3. সহিহ মুসলিম খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৯৮, ১৯৯ []
  4. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর – ৩৪৪৭ []
  5. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ৩৭৬৮ []
  6. সুনানে ইবনে মাজাহ , হাদিস নম্বর- ৫/১১৮ []
  7. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৬৬৫৯ []
  8. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৫৯৪৯ []
  9. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৫৯৪৮ []
  10. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), আল্লামা আলবানী একাডেমী, হাদিস নাম্বার- ৪৭০৩ []
  11. সুনান আবু দাউদ, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২৯ []
  12. বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৪, ২৫৫ []
  13. ইসলামের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ এবং অন্যান্য []
  14. Killing a Muslim in punishment for killing a non-Muslim []
  15. সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) হাদিস নম্বরঃ ৪৩০০ []
  16. সূনান আবু দাউদ ( ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বরঃ ৪৩০১ []
  17. সহিহ বুখারী খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা ২৩৬ []
  18. সহিহ বুখারী খণ্ড ১০ পৃষ্ঠা ২৬১ []
  19. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০৬, ৪০৭ []
  20. বিধিবদ্ধ ইসলামিক আইন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৭ []
  21. বিধিবদ্ধ ইসলামিক আইন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪৬ []

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *