ইসলামি শরিয়া রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

আমরা যারা বাঙলাদেশ ভারত কিংবা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করি, তারা সকলেই আমাদের পরিবার নিয়ে, আত্মসম্মান এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে চাই, জীবন যাপন করতে চাই। এই যে আমি, আমার সম্মান নিয়ে জীবন যাপন করতে চাই, ঠিক একইভাবে আরেকজন মানুষও তা চায়। আমার অধিকারটুকু নিশ্চিত হবে তখনই, যখন সকলের সেই একই অধিকারটুকু নিশ্চিত হবে। আমার যতটুকু সম্মান, অন্যেরও ঠিক ততটুকু সম্মানের বিষয়টি নিশ্চিত হলেই, আমি আমার সম্মানটুকু পেতে পারি। কিছু সংখ্যক মানুষ বা সংখ্যাগুরু মানুষকে বেশি অধিকার দিতে গিয়ে সংখ্যালঘু মানুষদের অধিকার হরণ করা আসলে তা আমার অধিকার পাওয়ার বিষয়টিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে। যেমন ধরুন, বাঙলাদেশে যদি শুধুমাত্র বাঙালির বেশি অধিকার থাকে, অবাঙালি আদিবাসীদের যদি তাদের প্রাপ্য অধিকার না দেয়া হয়, তাহলে আমার অধিকার পাওয়ারও কোন শক্তি ভিত্তি থাকে না।

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের রাষ্ট্র বা আইনের চোখে সমান অধিকার, সমান মর্যাদা এবং সম্মান থাকা উচিত। জাতি ধর্ম বর্ণ লিঙ্গ এগুলোর ভিত্তিতে যদি সম্মান বা অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি বাজে রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসেবেই গণ্য হবে। আমাদের আজকের আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে, প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার ও সম্মানের বিষয়টিকে নিশ্চিত করতে ইসলামি শরিয়তে যেই বৈষম্যমূলক আইন রয়েছে, তার সমালোচনা করা। যেন শরিয়তের আইনগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ভালভাবে জানে, বোঝে, এবং সেই অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। প্রায়শই দেখা যায়, মুসলিম জনগোষ্ঠী শরিয়া আইন চায়, কিন্তু শরিয়া আইনে কী আছে তা কেউই বলতে পারেন না। তাদের এই শরিয়া আইন সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়াই এই লেখাটির উদ্দেশ্য। এরপরে আপনারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনারা এইরকম একটি আইন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় থাকলে ইচ্ছুক কিনা। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় যা আপনাদের মাথায় রাখার অনুরোধ করবো, তা হচ্ছে, আপনি যখন কোন দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করবেন, সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী ঠিক একই নিয়ম আপনার ওপর প্রয়োগ করলে, আপনি কী তা মেনে নিতে পারবেন কিনা, সেই বিষয়টি বিবেচনা করার।

ধর্মনিরপেক্ষতা কাকে বলে

ইংরেজিতে সেক্যুলারিজম বা বাঙলায় ইহলৌকিকতা বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বলতে সাধারণত রাষ্ট্র আর ধর্মকে পৃথক বা বিযুক্ত করাকে বোঝায়। রাষ্ট্রকে ধর্ম বা ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে থেকে পরিচালনা করাই ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের আইন সকল নাগরিকের জন্য সমান, সে কোন ধর্মের তা রাষ্ট্রের বিবেচ্য নয়। রাষ্ট্রের আইনকানুন কোন নির্দিষ্ট ধর্মের উপর নির্ভরশীল নয়। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ধর্মকে জনগণের ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং রাষ্ট্র সেটি নিয়ে মোটেও মাথা ঘামায় না। জনগণের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে, যতক্ষণ না তা অন্যের অধিকার হরণ করে। রাষ্ট্র কোনো ধর্মকেই পক্ষপাত করবে না, বা কোন ধর্মের মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। সরকার কোনরূপ ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না, কোন ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী হবে না এবং কোন ধর্মকে কোন প্রকার অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করবে না।কাউকে ধর্ম পালনে বাধ্য করা হবে না, কাউকে ধর্ম না পালনেও বাধ্য করা হবে না। সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো, তথ্য এবং প্রমাণের উপর নির্ভর করবে, কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর নয়। অর্থাৎ বলা যায়, “ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার”।

উপমহাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা

বাঙলাদেশ নামক রাষ্টটির জন্মের পরেই বাঙলাদেশের প্রথম সংবিধানে রাষ্ট্রের চারটি ভিত্তির কথা উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এই চারটি নীতির মধ্য ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও, পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বাঙলাদেশ আসলে কখনই বের হতে পারে নি। যা বিভিন্ন পরিসংখ্যান দিয়ে আমরা দেখাতে চেষ্টা করবো।

বাঙলাদেশে প্রায় সমস্ত মুসলিমই মাঝে মাঝে এই বলে আক্ষেপ করেন যে, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারতে আর ধর্ম নিরপেক্ষতা নেই। ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। কথাটি বেশ খানিকটা সত্যই বটে। ভারতে এই মোদী সরকারের আমলে উগ্র হিন্দুত্ববাদ বেশ জেগে উঠেছে। তারা অনেকেই রাম রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধ পরিকর এবং সেই সূত্র ধরে তারা বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ধর্মী, বিশেষ করে মুসলিমদের ওপর সাম্প্রদায়িক আচরণ করতে শুরু করেছে। যা অবশ্যই নিন্দনীয়। আবার বাঙলাদেশের অন্য দিকের রাষ্ট্র মিয়ানমারেও বৌদ্ধরা বেশ উগ্র হয়ে উঠেছে। তারাও ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করছে। সেই অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের তারা সাধারণ মানবিক অধিকারগুলোই দিচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের শিক্ষার অধিকার নেই, চাকরির অধিকার নেই। চলে নানা ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণ। এবং এগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেই হয়। আমরা সভ্য মানুষ বলে যারা নিজেদের দাবী করি, তারা চাই কোন রাষ্ট্রই যেন মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ না করে। সকল মানুষ, তাদের ধর্ম বর্ণ লিঙ্গ যাই হোক, যেন অন্তত রাষ্ট্র এবং আইনের কাছ থেকে সমান সুযোগ এবং অধিকার পায়। ধর্মভিত্তিক দেশগুলোতে যেই বৈষম্য চলে, সেগুলোর অবসান হোক। ধর্ম নয়, মানুষের কর্মকেই মূল্য দেয়া হোক।

শিক্ষাদীক্ষা, চাকরি বাকরি, রাষ্ট্রীয় নানান কর্মকাণ্ডে ইয়েন ধর্মের বিষয়টি একদমই না আসে। নাগরিকের ধর্ম বিশ্বাস কী, তাতে রাষ্ট্রের কোন মাথাব্যথা থাকাই উচিত নয়। সেটি নাগরিকের বযক্তিগত বিষয়। চাকরির ইন্টারভিউতে যেন মানুষের ধর্মের পরিচয় কোনভাবেই মূখ্য না হয়ে ওঠে। স্কুলে বাচ্চাকে ভর্তি করাতে গেলে কেউ যেন তার ধর্ম পরিচয় জিজ্ঞেসই না করে। ভাবুন তো, এমন একটি পৃথিবীর কথা, যেখানে সংখ্যালঘু এবং আপনাকে স্কুলে অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে একত্রে বসতেও দেয়া হয় না। আপনাকে অবহেলা এবং বঞ্চনার শিকার হতে হয়। আপনি কী এমন একটি সমাজে বসবাস করতে চাইবেন? এরকম সমাজে আসলে কেউই বসবাস করতে চাইবে না। সেটি আপনার বেলায় যেমন সত্য, অন্যের বেলাতেও একইভাবে সত্য। প্রত্যেকেই আত্মসম্মান এবং মর্যাদা নিযে মাথা উচু করে বেচে থাকতে চায়।

সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা আমাদের দেশের ইসলামিক আলেম এবং ব্যক্তিত্বদের মুখে শুনি, ইসলাম নাকি অমুসলিমদের সমান অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করে। একমাত্র ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলেই অমুসলিমরা পায় সর্বোচ্চ সম্মান এবং মর্যাদা। তাই তারা আমাদের শেখান, আমাদের ইসলামের পথে জিহাদ করতে হবে। ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামি রাষ্ট্র এমনকি এক দারুন ব্যাপার, যেখানে সকলে সমান অধিকার এবং মর্যাদা পাবে। আমরা শুনে খুব আনন্দ পাই এই ভেবে যে, ইসলাম আসলে আমাদের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু আদৌ কী এসব কথার সত্যতা রয়েছে? ইসলাম কী অমুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত করে? ইসলাম কী তাদের সমান সম্মান নিশ্চিত করে?

ছোটবেলা সেই বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার সময় থেকেই শুনতাম, ভারত নাকি সাম্প্রদায়িক দেশ। অথচ, ভারতের সিনেমায় সব চাইতে বড় সুপারস্টাররা হচ্ছে তিনজন খান, তিনজন মুসলমান। শাহরুখ খান, আমীর খান, সালমান খান। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু ছিলেন একজন নাস্তিক। সে সময়ের অত্যন্ত সম্মানিত এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী। ভারতের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট ছিলেন জাকির হুসাইন, এরপরে ভারতের চিফ জাস্টিস, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কিছু সময়ের জন্য প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হেদায়েতুল্লাহ, প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ এবং প্রেসিডেন্ট এপিজে আবুল কালাম ছিলেন মুসলিম। এছাড়াও জাইল সিং সহ আগের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ছিলেন শিখ ধর্মাবলম্বী। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হামিদ আনসারীও একজন মুসলিম। অন্যদিকে বাঙলাদেশ এবং পাকিস্তানের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কোন প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট ভিন্ন কোন ধর্মাবলম্বী ছিলেন না। সকলেই মুসলমান ছিলেন। ভবিষ্যতে কোন হিন্দু নেতা বাঙলাদেশ বা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হবেন, অদূর ভবিষ্যতে এমন কোন সম্ভাবনাও দেখা যায় না।

এটি অবশ্যই সত্য যে, ভারতে মুসলমানদের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণ হয়। সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু আমরা সবসময়ই অন্যের দোষটি ঠিকই দেখি, নিজেরাই যেখানে একই কাজ করি। ভারতের এইসব বিষয় জানার পরে জানতে ইচ্ছে হলো, আচ্ছা, আসলে বাঙলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পরিসংখ্যান গত পঞ্চাশ বছরে কেমন ছিল! সেই পরিসংখ্যান ঘাটতে গিয়ে অদ্ভুত কিছু তথ্য বের হলো। যেমন-

  • ১৯৪১ সালে বাঙলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল শতকরা ২৮ ভাগ।
  • ১৯৫১ সালে বাঙলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল শতকরা ২২ ভাগ।
  • ১৯৬১ সালে বাঙলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১৮.৫ ভাগ।
  • ১৯৭৪ সালে বাঙলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১৩.৫ ভাগ।
  • ১৯৮১ সালে বাঙলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১২.১৩ ভাগ।
  • ১৯৯১ সালে বাঙলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১১.৬২ বা আরেক হিসেবে ১০.৫ ভাগ।
  • ২০০১ সালে বাঙলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল শতকরা ৯.৬ ভাগ।
বিষবৃক্ষের

বর্তমানে বাঙলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা প্রায় ৮ ভাগের কাছাকাছি। প্রশ্ন হচ্ছে, এত হিন্দু যাচ্ছে কোথায়? তারা কী বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে নাকি সবাই দলে দলে ইসলাম কবুল করছে? আর এদের মধ্যে কী কেউ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে যাবার মত যোগ্য নয়? তারা কেন যোগ্য হয়ে উঠছে না? তারা কী অন্যদের মত সমান সুযোগ পাচ্ছে নাকি পাচ্ছে না? কিছুদিন আগে বাঙলাদেশে একজন হিন্দু প্রধান বিচারপতি ছিলেন, সেই সময়ে দেখা যাচ্ছিল, ওলামা লীগ এবং বেশ কয়েকটি ইসলামি রাজনৈতিক দল এর তীব্র বিরোধীতা করে আসছিলেন। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছিলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশে কোন হিন্দুকে কেন প্রধান বিচারপতি করা হবে?

অমুসলিম

এবারে তাকাই পাকিস্তানের দিকে। ১৯৪৭ সালের আগে পাকিস্তানে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২৫ ভাগের কাছাকাছি। পাকিস্তান সৃষ্টির পরে সেটা এসে দাঁড়ায় ১৫ ভাগে। কমতে কমতে বর্তমানে পাকিস্তানে হিন্দু জনসংখ্যা হচ্ছে ১.৬ ভাগ। খুব অবাক লাগে, পাকিস্তানেরও এত হিন্দু কোথায় গেল? তারা সবাই কী মুসলমান হয়ে গেল? না তারা বাতাসে মিলিয়ে গেছে?

ভয়ঙ্কর মাত্রায় কমতে থাকা হিন্দুদের ওপরে বাঙলাদেশ এবং পাকিস্তানে কী নির্যাতন চালানো হয়, তা আমরা সকলেই কম বেশী জানি। বাঙলাদেশ তো এই দিক দিয়ে এখন পাকিস্তানকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এখন প্রতিমাসে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন না দিলে এখন তাদের বোধকরি গা ম্যাজম্যাজ করে। শীত চলে এসেছে, শরীর গরম করতেও ক’দিন পরেই বেশ কিছু হিন্দু বাড়ি পোড়ানো হবে এবং মন্দির ভাঙা হবে, এটা লিখে দিতে পারি। অন্যদিকে পাকিস্তানে বোধহয় আক্রমণের জন্য এখন আর যথেষ্ট হিন্দু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা আহমদিয়া, কাদিয়ানী, বাহাই, শিয়া, ইত্যাদি সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করে শরীর গরম রাখছে।

বিষবৃক্ষের

এ তো গেল বাঙলাদেশ এবং পাকিস্তানের তুলনামূলক বিচার। কিন্তু হিন্দু অধ্যুষিত ভারতে মুসলমানদের কী অবস্থা? নিশ্চয়ই সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের অত্যাচারে ভারতের মুসলমানদের আরো করুন অবস্থা, তাই না? কিন্তু পরিসংখ্যান ঝামেলা লাগাচ্ছে!

  • ১৯৫১ সালে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল শতকরা ৯.৯৩ ভাগ।
  • ১৯৬১ সালে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১০.৭০ ভাগ।
  • ১৯৭১ সালে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১১.২১ ভাগ।
  • ১৯৮১ সালে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১১.৩৫ ভাগ।
  • ১৯৯১ সালে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১২.১২ ভাগ।
  • ২০০১ সালে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১৩.৪৩ ভাগ।
  • ২০১১ সালে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল শতকরা ১৪.৬০ ভাগ।

অর্থাৎ ভারতে মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে। কীভাবে সম্ভব? ভারত সম্পর্কে সব সময়ই শুনে এসেছি, ভারত একটি অত্যন্ত উগ্র হিন্দুদের দেশ। সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলেও সেখানে শিবসেনা বজরঙবলী বিজেপি এরা মুসলমানদের ওপর অনেক অত্যাচার চালায়, মসজিদ ভেঙে দেয়। দিনে দুপুরে নাকি মুসলমান ধরে জবাই করে ফেলে। অন্যদিকে বাঙলাদেশ এবং পাকিস্তানের মুসলমানগণ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার, সেখানে হিন্দু মুসলমান সুখে শান্তিতে মিলে মিশে বসবাস করে। অথচ বাঙলাদেশ আর পাকিস্তানে হিন্দুর সংখ্যা কমছে, আর ভারতে মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে কীভাবে? সেই মুসলমানরা আবার প্রেসিডেন্টও হচ্ছে, সিনেমায় সুপারস্টারও হচ্ছে! অপরদিকে বাঙলাদেশের একজন হিন্দু ক্রিকেটারের ফেইসবুক পাতায় ভয়াবহ অশালীন মন্তব্যগুলো কারা করেছিল?

ভারত তো বটেই, গোটা পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় ইসলাম প্রচারকদের অন্যতম হচ্ছে ডাক্তার জাকির নায়েক। সে একটি হিন্দু অধ্যুষিত দেশে বসবাস করে, সংখ্যাগুরু হিন্দুদের দেশে জন্ম নিয়ে তার প্রায় প্রতিটা বক্তব্যে হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করে, তার দোষত্রুটি তুলে ধরেছে। হিন্দু ধর্মের অসংখ্য বিষয়কে মিথ্যা এবং বিকৃত বলেও প্রচার করেছে বহু বছর ধরে। ভারতে বসেই বিশাল জনসভা করে মূর্তি পূজা নিয়ে রীতিমত কটাক্ষ এবং অবমাননাকর বক্তব্যও দেয়। সেই সাথে ইসলামকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম ঘোষণা করে, এবং হিন্দুদের মুসলমান হয়ে যেতে উপদেশও দেয়। সে প্রায়শই বলে থাকে, মূর্তি পূজা খুবই নিন্দনীয় ব্যাপার। হিন্দুদের মূর্তি পূজা বন্ধ করা উচিত। ভারতেও কিন্তু ব্লাসফেমী আইন আছে, ইন্ডিয়ান পেনাল কোড সেকশন ২৯৫(এ) অনুসারে জাকির নায়েকের অসংখ্যবার শাস্তি হতে পারে, কিন্তু তা হয় না! সে সেখানে নির্বিঘ্নে ইসলাম প্রচার এবং হিন্দু ধর্মের ভুল ধরতে পারে!

ধরা যাক, বাঙলাদেশ বা পাকিস্তানে যদি ঠিক একই কাজ কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বী করতো, তাহলে কেমন হতো? যেমন কোন হিন্দু ধর্ম প্রচারক যদি বলে যে, ইসলাম ধর্ম হচ্ছে বিকৃত এবং মিথ্যা ধর্ম, হিন্দু ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম? অথবা যদি বলে, মুসলমানদের কাবায় গিয়ে হজ্ব করা বাদ দিয়ে মূর্তি পূজা শুরু করা উচিত, কারণ কাবায় গিয়ে হজ্ব করা আসলে এক ধরণের মূর্তি পূজাই, তখন এই পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? কল্পনা করা যায়? কিছুদিন আগে লতিফ সিদ্দিকির হজ্ব বিষয়ক সাধারণ একটি মন্তব্য যেই প্রতিক্রিয়া হলো, এই কথাটি কোন হিন্দু বললে কতগুলো হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয়া হতো আর কত জন নারীকে ধর্ষিত হতে হতো, তার কোন ইয়াত্তা আছে?

এ তো গেল ভারত বাঙলাদেশ আর পাকিস্তানের কথা। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর কী অবস্থা? সৌদি আরবে কিংবা ইরানের মত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কী অবস্থা? তারা কী নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার সংরক্ষণ করে? তারা কী নিজ নিজ উপাসনালয় তৈরি করতে পারে? সেখানে গিয়ে উপাসনা করতে পারে? উত্তর হচ্ছে, ইরানে প্রকাশ্যে অন্য ধর্ম পালনে অতি সামান্য কিছু অধিকার থাকলেও সৌদিতে একেবারেই তা আইনগতভাবেই নিষিদ্ধ! কোন অমুসলিম কখনো আইনগতভাবেই রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারবে না। একজন মুসলিম এবং একজন অমুসলিমের নাগরিক স্ট্যাটাসই ভিন্ন। তাদের জন্য আইন ভিন্ন, তাদের অধিকার মোটেও সমান নয়।

এই সবকিছু আসলে সুক্ষ্মভাবে যাচাই বাছাই করে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণে ইসলামের শরিয়া আইনের নানান ধারা উপধারা, সেই সাথে বিভিন্ন প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলারের ফতোয়াগুলো সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকা আবশ্যক। আসুন আমরা একটু ভালভাবে যাচাই করে দেখি।

সমানাধিকার কাকে বলে?

সমানাধিকার হচ্ছে, রাষ্ট্র বা আইনের চোখে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। এই ক্ষেত্রে, নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়, লৈঙ্গিক পরিচয়, সুস্থতা কিংবা প্রতিবন্ধীত্ব, জাতিগত বৈশিষ্ট্য, গায়ের চামড়া, এগুলো কিছুই কোন রকম প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। অর্থাৎ, আইনের চোখে সকল মানুষ সমান সুযোগ এবং সম্মান পাবে। কেউ যদি প্রতিবন্ধী হয়, বৈচিত্র্যময় লিঙ্গের অধিকারী হয়, বা সাধারন দৃষ্টিতে স্বাভাবিক মানুষ, তাদের সকলের অধিকার সমান। দল মত ধর্ম বিশ্বাস নির্বিশেষে তাদের চিন্তার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রক্ষার বিধান নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র কখনো জানতেই চাইবে না, কার ধর্ম কী। যেন ধর্মের ভিত্তিতে কোন প্রকার বৈষম্য সৃষ্টি না হয়, সেই স্বার্থে ধর্মকে রাষ্ট্র কখনো উৎসাহও দেবে না, নিরুৎসাহিতও করবে না। ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়, তা সে তার ব্যক্তিগত সীমানায় পালন করবে।

এই কথাটি আমেরিকায় বসবাসকারি মুসলিমের জন্য যেমন প্রযোজ্য, ইসরাইলের প্যালেস্টাইনিদের জন্য যেমন প্রযোজ্য, ঠিক একইভাবে প্রযোজ্য বাঙলাদেশ বা পাকিস্তানের হিন্দুর জন্য। অনেক সময়ই আমরা চীনে উইঘুর মুসলিমদের সমান নাগরিক অধিকার চাই, সেইখানে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে বলি, আবার একই সাথে আমাদের নিজেদের দেশেই হিন্দুদের অত্যাচার করি। অনেক সময় আমরা ভারতে ধর্ম নিরপেক্ষতা নেই বলে আফসোস করি, সেখানে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করি, অথচ বাঙলাদেশে শরিয়া আইন চাই। আল্লাহর আইন চাই। ধর্ম নিরপেক্ষতা চাই না।

যেই যুক্তিতে আমরা আল্লাহর আইন চাই, সেই একই যুক্তিতে ভারতে তো একজন হিন্দু রাম রাজত্ব চাইতে পারে। আর ঠিক যেই যুক্তিতে আমরা ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা চাই, হিন্দু মুসলিমের সমান অধিকার চাই, সেই যুক্তিতে তো বাঙলাদেশের হিন্দুদেরও মুসলিমদের মতই সমান অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু হিপোক্রেসি হচ্ছে, আমরা যেইসব দেশে মুসলিমরা সংখ্যালঘু, সেসব দেশে ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং সমান অধিকার চাইলেও, যেই সব দেশে মুসলিমরা সংখ্যাগুরু, সেইসব দেশে চাই শরিয়া আইন। এই হিপোক্রেসি খুবই অদ্ভুত, এবং অযৌক্তিক।

শরিয়ত এবং মুসলিম আইন

শাস্ত্রীয় শরিয়া ব্যবস্থা এমন একটি স্থান যেখানে ইসলামি শরিয়ত একটি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে এবং একটি দেশের আইনি ব্যবস্থার অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি বিদ্যমান। ইরান, সৌদি আরব, এবং সুদান শাস্ত্রীয় শরিয়া সিস্টেমের উদাহরণ। শরিয়া বা ইসলামিক আইন বা শরিয়া আইন হচ্ছে মূলত, কুরআন ও হাদিস হতে নেয়া ইসলামের অপরিবর্তনীয় আইন বা অমোঘ স্বর্গীয় আইন বা বিধান।  ঐতিহ্যগতভাবে ইসলামিক আইনশাস্ত্রে চারটি উৎসকে শরিয়ার স্বীকৃত উৎস হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এগুলো হচ্ছে ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআন, সুন্নাহ (হাদিস), কুরআন বা হাদিসে যেসব বিষয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই সে ক্ষেত্রে কিয়াস (যৌক্তিক সাদৃশ্য) এবং ইজমা (আলেম এবং আইনজ্ঞদের ঐক্যমত)।

আর মুসলিম আইন হচ্ছে, বিভিন্ন দেশে ইসলামি শরিয়তের বিধানকে সংযোজন বিয়োজন করে কোন দেশের উপযোগী করে তোলা এবং সেইভাবে রাষ্ট্রীয় আইন প্রবর্তন করা। যেমন ধরুন, ইসলামি শরিয়তে একজন মুসলিম পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করতে গেলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাঙলাদেশের মুসলিম আইনে একজন মুসলিম পুরুষ দ্বিতীয় বিবাহ করতে গেলে অবশ্যই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। আবার ধরুন, শরিয়া আইনে মেয়েদের বিবাহের কোন বয়সসীমা নেই। একজন পিতা চাইলে তার কোলের বাচ্চা শিশুকেও কোন মধ্যবয়সী লোকের সাথে বিবাহ দিতে পারে। অথচ, বাঙলাদেশের আইনে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়েকে বিয়ে দেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।

বাঙলাদেশের অনেক ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনই দীর্ঘদিন ধরে দেশে শরিয়ত এবং খেলাফত কায়েমের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারা এটিও দাবী করে আসছে, ইসলামিক শরিয়াই নাকি অমুসলিমদের জনয সবচাইতে সম্মানজনক, এবং উত্তম ব্যবস্থা! খিলাফত আমলে শরিয়া আইনেই নাকি অমুসলিমরা সবচাইতে ভাল অবস্থায় ছিল! তাই জেনে নেয়া প্রয়োজন, এই শরিয়া আইন আসলেই কতটা উত্তম।

অমুসলিমের উপাসনালয় ও ধর্ম পালন

শরিয়া বা ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের নতুন কোন উপাসনালয় তৈরি করা যায় না। হযরত উমর শাম দেশের নাগরিকদের সাথে একটি চুক্তি করেছিলেন, যেই চুক্তিটি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ এবং এই চুক্তির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে অমুসলিমদের সাথে মুসলিমরা চুক্তি করে থাকে। এই চুক্তিটি তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে পড়ে নিই। [1]। এখানে পরিষ্কারভাবেই বলা হচ্ছে, অমুসলিমগণ নতুন কোন উপাসনালয় তৈরি করতে পারবে না, মেরামত করতে পারবে না, যেগুলো মুসলিমগণ দখল করেছে তা ফেরত নিতে পারবে না, টুপি পাগড়ি জুতা পড়তে পারবে না, ঘোড়ায় চড়লে গদি ব্যবহার করতে পারবে না, ধর্ম প্রচার করতে পারবে না, মৃতদেহ বহনের সময় জোরে কাঁদতে পারবে না, ইত্যাদি।

অমুসলিম
অমুসলিম

হানাফী ফিকাহশাস্ত্রের বুনিয়াদি গ্রন্থ আশরাফুল হিদায়াতে এই বিষয়ে যা বলা হয়েছে, সেটিও জেনে নিই, [2]

অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম

অমুসলিমদের ধর্ম প্রচারের অধিকার নেই

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলমানগণ যখন যান, তারা সেই সব দেশে ইসলাম প্রচারের অধিকার এবং অনুমতি চান। প্রতিটি সভ্য দেশেই তাদের নিজ ধর্ম পালন এবং তার প্রচারের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শরিয়া কায়েম হলে অমুসলিমদের আর তাদের ধর্ম প্রচারের কোন অধিকার থাকবে না। এই বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামিক দাইয়ি জাকির নায়েক কী বলেছেন সেটি দেখে নেয়া যাক-

অবমাননাকর জিযিয়া কর

জিযিয়া শব্দটির অর্থ কী, তা আমাদের সকলের জেনে নেয়া জরুরি । অনেকেই জিযিয়া এবং খেরাজকে মিলিয়ে ফেলে জিযিয়াকে সাধারণ অর্থে কর বা ট্যাক্স হিসেবে দাবী করেন। কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। খেরাজ হচ্ছে অমুসলিমদের দেয়া ভূমি কর। কিন্তু জিযিয়া হচ্ছে তাদের বিজয়ী মুসলমানদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া, বেঁচে থাকার বা নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য দেয়া অর্থ। এই অর্থ দিতে হবে নত অবস্থায়, অপমানিত ভাবে। কোরআনে পরিষ্কারভাবেই বিষয়টি বলে দেয়া হয়েছে,

তোমরা লড়াই কর আহলে কিতাবের সে সব লোকের সাথে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান রাখে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না, আর সত্য দীন গ্রহণ করে না, যতক্ষণ না তারা স্বহস্তে নত হয়ে জিয্য়া দেয়। ( কোরআন সূরা তওবা আয়াত ২৯ )

এই বিষয়ে তাফসীরে জালালাইনে যা বলা হয়েছে, তা হচ্ছে, জিযিয়া শব্দটি “জায়া” শব্দ থেকে নিষ্পন্ন অর্থাৎ তুমি মৃত্যুদণ্ডের উপযুক্ত অপরাধী ব্যক্তি। কিন্তু তোমাকে এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে যে, তোমার উপর এ দণ্ড জারি হচ্ছে না এবং দারুল ইসলামে নিরাপত্তার সাথে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অমুসলিম

জিযিয়া কাকে বলে, এর অর্থ এবং উদ্দেশ্য আসুন আমরা পড়ে দেখি হানাফি ফিকাহ শাস্ত্রের গ্রন্থ আশরাফুল হিদায়া থেকে [2]

অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম

আল্লামা কাজী মুহাম্মদ ছানাউল্লাহ পানিপথী রচিত তাফসীরে মাযহারী কোরআনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ তাফসীর গ্রন্থ। এই গ্রন্থে জিযিয়া সম্পর্কিত সুরা তওবার ২৯ নম্বর আয়াতে কী বলা আছে এবং তার ব্যাখ্যা কী, তা স্পষ্টভাবে বিবৃত রয়েছে। জিযিয়া যে আসলে অপমান, অপদস্থতার নিদর্শন, এবং জিযিয়া কীভাবে গ্রহণ করা হবে, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই অধ্যায়টি পড়ে দেখতে হবে।

অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম
অমুসলিম

একই বিষয় আমরা দেখতে পারি তাফসীরে ইবনে কাসীরেও [3]

অমুসলিম
অমুসলিম

রাস্তার কিনারায় ঠেলে দিতে হবে

ইসলামি রাষ্ট্রে একজন ইহুদি বা খ্রিস্টানের অবমাননাকর জিযিয়া কর দিয়ে বসবাসের অনুমতি থাকলেও, তাদেরকে আসলে অপমান অপদস্থতার সাথেই জীবন যাপন করতে হয়। নিচের হাদিস থেকে জানা যায়, নবী খোদ ইহুদি নাসারাদের রাস্তায় চলাফেরার সময়ও রাস্তার কিনারার দিকে ঠেলে দিতে বলেছেন, যেন তারা রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাফেরা করতে না পারে। [4]

গ্রন্থের নামঃ সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
হাদিস নম্বরঃ (1602)
অধ্যায়ঃ ১৯/ যুদ্ধাভিযান
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী
‏পরিচ্ছদঃ ৪১. আহলে কিতাবদের সালাম প্রদান প্রসঙ্গে
১৬০২। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদের প্রথমে সালাম প্রদান করো না। তোমরা রাস্তায় চলাচলের সময় তাদের কারো সাথে দেখা হলে তাকে রাস্তার কিনারায় ঠেলে দিও।
সহীহ, সহীহা (৭০৪), ইরওয়া (১২৭১), মুসলিম, বুখারী আদাবুল মুফরাদ, ২৮৫৫ নং হাদীসটির আলোচনা আসবে।
ইবনু উমার, আনাস ও আবূ বাসরা আল-গিফারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

অমুসলিমদের যাকাত দেয়া যাবে না

একটি ইসলামিক দেশে সকল মুসলিমকে যাকাত দিতে হয়। কিন্তু ইসলামি আইন অনুসারে, দরিদ্র কাফেরদের যাকাত দেয়া যাবে না। যাকাত দেয়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে, দরিদ্র মানুষদের ধর্মবিশ্বাস কী। ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে তারা যাকাত পাবে। আসুন একটি বিখ্যাত ফতোয়া দেখে নিই, [5]

Question
Last week a scholar said that we can give Zakah to non-Muslims, also that where the Qur’an says to give to the 8 people it does not clearly say for Muslims only. Is this correct?
Answer
Praise be to Allah, the Lord of the Worlds; and may His blessings and peace be upon our Prophet Muhammad and upon all his Family and Companions.
Zakah should be strictly limited to the 8 categories mentioned in the verse. Allah Says (interpretation of meaning): {As-Sadaqât (here it means Zakât) are only for the Fuqarâ’ (poor), and Al-Masâkin (the poor) and those employed to collect (the funds); and for to attract the hearts of those who have been inclined (towards Islâm);….}(9:60).
Now if the person gives Zakah to non-Muslims apart from those inclined to Islam his/her deed is not permissible and does not free him/her from the Zakah duty. So, he/she still has to pay that Zakah again.
In fact, Zakah should not be paid to a Kafir (non-Muslims) unless he/she is from “those inclined to become Muslims”.
The evidence for the above rule is the Hadith reported by Muslim and Al Bukhari from Ibn Abbas (Radiya Allahu Anhu) that the Prophet (Sallallahu Alaihi wa Sallam) said: “(Zakah) is taken from their wealthy people and paid to their poor ones”. The pronoun “their” in both cases refers to Muslims.
As for those who are inclined to Islam, they are of two types:
1) The non-Muslims who could become Muslim, these could be given Zakah according to the Maliki and Hanbali but according to the Shafi’e and Hanafi should not be given Zakah.
2) Muslims who could become more firm in their religion. These should be given Zakah according to the Maliki, Shafi’e and Hanbali.
The Hanafis opinion is that neither types should be given Zakah as Allah has made Islam glorious and does not need pushing people to it.
Now those Muslims who are doubtful or weak in religion should be given Zakah not to convince them but, because they are poor or needy so, what you heard about giving Zakah to non-Muslims is wrong unless the scholars meant those inclined towards Islam.
Allah knows best.

মুশরিকদের সাথে বসবাস করা নিষেধ

নবী মুহাম্মদ ইসলামিক রাষ্ট্রে মুশরিক বা মূর্তি পুজারীদের বসবাস নিষিদ্ধ করেই শেষ করে নি, একইসাথে অন্যান্য স্থানেও মুশরিকদের সাথে বসবাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গেছেন। কোন মুসলিম কোন মুশরিক প্রতিবেশির সাথে মিলে মিশে বসবাস করতে পারবে না, এই হাদিসে এটিই বলা [6] [7]

গ্রন্থের নামঃ সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
হাদিস নম্বরঃ (1605)
অধ্যায়ঃ ১৯/ যুদ্ধাভিযান
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী
পরিচ্ছদঃ ৪২. মুশরিকদের সাথে বসবাস করা নিষেধ
১৬০৫। আবূ মুআবিয়ার হাদীসের মত হাদীস হান্নাদ-আবদাহ হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবৃ খালিদ হতে, তিনি কাইস ইবনু আবূ হাযিম (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে। তবে এই সূত্রে জারীর (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই এবং এটিই অনেক বেশি সহীহ। সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
আবূ ঈসা বলেন, ইসমাঈলের বেশিরভাগ সঙ্গী তার হতে, তিনি কাইস ইবনু আবূ হাযিমের সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট বাহিনী পাঠান। এ সূত্রেও জারীরের উল্লেখ নেই। আবূ মুআবিয়ার হাদীসের মত হাদীস হাম্মাদ ইবনু সালামা-হাজ্জাজ ইবনু আরতাত হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ হতে, তিনি কাইস হতে, তিনি জারীর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, সঠিক কথা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কাইসের বর্ণনাটি মুরসাল। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুশরিকদের সাথে তোমরা একত্রে বসবাস কর না, তাদের সংসর্গেও যেও না। যে মানুষ তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা তাদের সংসর্গে থাকবে সে তাদের অনুরূপ বলে বিবেচিত হবে।”
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৯/ জিহাদ (كتاب الجهاد)
হদিস নম্বরঃ ২৭৮৭
১৮২. মুশরিকদের এলাকায় অবস্থান সম্পর্কে
২৭৮৭। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কেউ কোনো মুশরিকের সাহচর্যে থাকলে এবং তাদের সাথে বসবাস করলে সে তাদেরই মতো।(1)
(1). সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এমনকি, তাদের খাবার দেযার বেলাতেই রযেছে কঠিন নিষেধাজ্ঞা [8]

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৬/ শিষ্টাচার (كتاب الأدب)
হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩২
১৯. যার সংস্পর্শে বসা উচিত
৪৮৩২। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি মু‘মিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেযগার লোকে খায়।(1)
হাসান।
(1). তিরমিযী, আহমাদ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

অমুসলিমের জীবনের মূল্য কম

ইসলামি শরিয়ত অর্থাৎ ইসলামি আইনের রাষ্ট্রে একজন মুসলিমের জীবনের মূল্য একজন অমুসলিমের জীবনের মূল্যের চাইতে অনেক বেশি। এই কারণে একজন অমুসলিমকে হত্যা করলে তার জন্য মুসলিমের প্রাণদণ্ড দেয়া যাবে না। অথচ, একজন অমুসলিম কোন মুসলিমকে হত্যা করলে অবশ্যই প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হবে। এর অর্থ হচ্ছে, শরিয়ার দেশে অমুসলিম হত্যার দুনিয়াবি শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নয়।

সেইসাথে উল্লেখ্য, আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, কোন মুসলমান কোন জিম্মি অর্থাৎ জিজিয়া কর দেয়া অমুসলিমকে হত্যা করলে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, তবে তার জন্য কোন দুনিয়াবি শাস্তির কথা বলা নেই। যেখানে মুসলিমকে হত্যা করা হলে তার দুনিয়াবি এবং আখিরাত উভয় শাস্তির কথাই বলা আছে।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ (6915)
অধ্যায়ঃ ৮৭/ রক্তপণ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৮৭/৩১. কাফেরের বদলে মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না
৬৯১৫. আবূ জুহাইফাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের কাছে এমন কিছু আছে কি যা কুরআনে নেই? তিনি বললেন, দিয়াতের বিধান, বন্দী-মুক্তির বিধান এবং (এ বিধান যে) কাফেরের বদলে কোন মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। (১১১) (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নম্বরঃ (2658)
অধ্যায়ঃ ১৫/ রক্তপণ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন‏
পরিচ্ছদঃ ১৫/২১. কাফের ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না
১/২৬৫৮। আবূ জুহাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) কে বললাম, আপনাদের নিকট এমন কোন জ্ঞান আছে কি যা অন্যদের অজ্ঞাত? তিনি বলেন, না, আল্লাহর শপথ! লোকেদের নিকট যে জ্ঞান আছে তা ব্যতীত বিশেষ কোন জ্ঞান আমাদের নিকট নাই। তবে আল্লাহ যদি কাউকে কুরআন বুঝবার জ্ঞান দান করেন এবং এই সহীফার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দিয়াত ইত্যাদি প্রসঙ্গে যা আছে (তাহলে স্বতন্ত্র কথা)। এই সহীফার মধ্যে আরো আছেঃ কোন কাফেরকে হত্যার অপরাধে কোন মুসলমানকে হত্যা করা যাবে না।
সহীহুল বুখারী ১১১, ১৮৭০, ৩০৪৭, ৩০৩৪, ৩১৭২, ৩১৮০, ৬৭৫৫, ৬৯০৩, ৬৯১৫, ৭৩০০, মুসলিম ১৩৭০, তিরমিযী ১৪১২, ২১২৭, নাসায়ী ৪৭৩৪, ৪৭৩৫, ৪৭৪৪, ৪৭৪৫, ৪৭৪৬, ৪৫৩০, আহমাদ ৬০০, ৬১৬, ৪৮৪, ৯৬২, ৯৯৪, ১০৪০, দারেমী ২৩৫৬, ইরওয়া ২২০৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৩৪/ রক্তমূল্য
পরিচ্ছেদঃ ১১. কাফির হত্যার দায়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে কি না?
৪৫৩০। কাইস ইবনু আব্বাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ও আল-আশতার আলী (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বলি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাকে বিশেষ কোনো উপদেশ দিয়েছেন যা সাধারণভাবে মানুষকে দেননি? তিনি বললেন, না; তবে শুধু এতটুকু যা আমার এ চিঠিতে আছে। অতঃপর তিনি তার তরবারির খাপ থেকে একখানা পত্র বের করলেন। তাতে লেখা ছিলোঃ সকল মুসলিমের জীবন সমমানের। অন্যদের বিরুদ্ধে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি।
তাদের একজন সাধারণ ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তাই সকলের জন্য পালনীয়। সাবধান! কোনো মু‘মিনকে কোনো কাফির হত্যার অপরাধে হত্যা করা যাবে না। চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিককেও চুক্তি বলবৎ থাকাকালে হত্যা করা যাবে না। কেউ বিদ‘আত চালু করলে তার দায় তার উপর বর্তাবে। কোনো ব্যক্তি বিদ‘আত চালু করলে বা বিদ‘আতিকে মুক্তি দিলে তার উপর আল্লাহর অভিশাপ এবং ফিরিশতা ও মানবকূলের অভিশাপ।(1)
সহীহ।
(1). নাসায়ী, আহমাদ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কায়স ইবনু ‘উবাদ (রহঃ)

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৩৪/ রক্তমূল্য
পরিচ্ছেদঃ ১১. কাফির হত্যার দায়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে কি না?
৪৫৩১। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতঃপর আলী (রাঃ) বর্ণিত হাদীদের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছেঃ তাদের দূরবর্তীরাও তাদের পক্ষে নিরাপত্তা দিতে পারবে, উত্তম ও দুর্বল পশুর মালিকরা এবং পিছনে অবস্থানরত ও সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ সৈন্যগণও গানীমাতে সমান অংশ লাভ করবে।(1)
হাসান সহীহ।
(1). এটি গত হয়েছে হা/ ২৭৫১।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

এই বিষয়ে ফতোয়া বিষয়ক প্রখ্যাত ওয়েবসাইট ইসলাম ওয়েব থেকে একটি ফতোয়া দেখে নিই, [9]

All perfect praise be to Allaah, The Lord of the Worlds. I testify that there is none worthy of worship except Allaah, and that Muhammad is His slave and Messenger. We ask Allaah to exalt his mention as well as that of his family and all his companions.
First of all, you should know that a Muslim should not be killed for killing a belligerent non-Muslim according to the consensus of the scholars may Allaah have mercy upon them. According to the view of the majority of the scholars may Allaah have mercy upon them a Muslim should not be killed against a free non-Muslim under the Muslim rule. The evidence about this is the saying of the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ): “A Muslim should not be killed for killing a non-Muslim.” (At-Tirmithi)
Moreover, according to the view of the majority of the scholars may Allaah have mercy upon them the title (and rulings) “disbeliever” is applicable to a free non-Muslim under the Muslim rule. However, Abu Haneefah, and the scholars of his School of jurisprudence may Allaah have mercy upon them are of the view that a Muslim should be killed for killing a free non-Muslim under Muslim rule; their evidence is the two verses which the questioner mentioned. Nonetheless, the correct opinion is that of the majority of the scholars may Allaah have mercy upon them that is based on the above Prophetic narration, which is a direct proof related to the case of dispute.
Allaah Knows best.

অমুসলিম হত্যার রক্তপন

উপরের হাদিস এবং ফতোয়াটি থেকে স্পষ্ট যে, অমুসলিমদের হত্যার জন্য কোন মুসলিমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না। তার মানে হচ্ছে, অমুসলিমের জীবনের মূল্য ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কম। তাহলে অমুসলিম হত্যার জন্য কী শাস্তি দেয়া হবে? ইসলামের বিধান অনুসারে, অমুসলিম হত্যার জন্য রক্তপন বা দিয়াত দিতে হবে, তবে তা হবে মুসলিমের অর্ধেক দাম।

সুনানে ইবনে মাজাহ
১৫/ রক্তপণ
পরিচ্ছেদঃ ১৫/১৩. কাফের-এর দিয়াত
১/২৬৪৪। ‘আমর ইবনে শু‘আইব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দেন যে, দু’ আহলে কিতাব সম্প্রদায় অর্থাৎ ইহূদী ও নাসারাদের দিয়াত হবে মুসলমানদের দিয়াতের অর্ধেক।
তিরমিযী ১৪১৩, নাসায়ী ৪৮০৬, ৪৮০৭, ইরওয়া ২২৫১।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুর রহমান বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাকবুল। ইমাম যাহাবী তাকে সিকাহ বলেছেন।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

আরেকটি হাদিস,

সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ রক্তপণ
পরিচ্ছেদঃ কাফেরের দিয়াত প্রসঙ্গে।
১৪১৭. ঈসা ইবনু আহমাদ (রহঃ) ….. আমর ইবনু শুআয়ব তাঁর পিতা তাঁর পিতামহ (আবদুল্লাহ ইবনু আমর রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমকে অমুসলিমের বদলে হত্যা করা যাবে না। – ইবনু মাজাহ ২৬৫৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪১৩ (আল মাদানী প্রকাশনী)
এই সনদে আরো বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কাফিরের দিয়াতের পরিমাণ হল মুমিনের দিয়াতের অর্ধেক। – ইবনু মাজাহ ২৬৪৪
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। ইয়াহুদী ও খৃস্টানের দিয়াতের বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কতক আলিমের মাযহাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদীস অনুসারে। উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) বলেন, ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের দিয়াত মুসলিমের দিয়াতের অর্ধেক। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) এ মত পোষণ করেন। উমর ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত তিনি বলেছেন, ইয়হুদী ও খৃস্টানদের দিয়াত হল চার হাজার দিরহাম। অগ্নি উপাসকের দিয়াত হল আটশত দিরহাম। এ হল ইমাম মালিক, শাফিঈ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেছেন, ইয়াহুদী ও খৃস্টানের দিয়াত হল মুসলিমের দিয়াতের সমান। এ হল ইমাম সুফইয়ান ছাওরী ও কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

অর্থাৎ, অমুসলিমের জীবনের মূল্য মুসলিমের জীবনের মূল্যের অর্ধেক। ধর্মের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবনের মূল্য যে মতাদর্শে নির্ধারিত হয়, সেই মতাদর্শকে কীভাবে ইনসাফমূলক মতাদর্শ বলা সম্ভব, আমি জানি না। মুয়াত্তা মালিকের এই হাদসটিও পড়ি,

মুয়াত্তা মালিক
৪৩. দিয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৫. কাফির যিম্মীর দিয়াত
মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) বলতেন, ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের দিয়াত যখন তাহারা একে অন্যকে হত্যা করে, স্বাধীন মুসলমানের দিয়াতের অর্ধেক।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট বিধান এই যে, কোন মুসলমানকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা হইবে না। হ্যাঁ, যদি ধোঁকা দিয়া সে যিম্মীকে হত্যা করে তবে তাহাকে হত্যা করা হইবে।
সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলিতেন, অগ্নিউপাসকদের দিয়াত আট শত দিরহাম।
মালিক (রহঃ) বলেন, ইহাই আমাদের নিকট বিধান।
মালিক (রহঃ) বলেন, ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ক্ষত করার দিয়াত মুসলমানদের ক্ষত করার দিয়াতের হিসাবে মুযিহার বিশ ভাগের একভাগ এবং মাসুমা ও জাইকায় তিন ভাগের একভাগ। ইহার উপর অন্যগুলির অনুমান করা যায়।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)

ইসলাম ত্যাগের শাস্তি

বিশ্বাস মানুষের মনের ব্যাপার। যার বিশ্বাস হয় সে বিশ্বাস করে, যার বিশ্বাস হয় না তাকে জোর করলেও তার মধ্যে বিশ্বাস আসে না। আর মুসলিম পরিবারে জন্ম নিলে কেউ জিজ্ঞেসও করে না, তুমি কোন ধর্মটি বেছে নিবে? মানে, মতামত না দিয়েই, নিজে দেখেশুনে বুঝে পছন্দ করার বয়সে পৌঁছাবার আগেই একজন মানুষ মুসলমান হয়ে যায়। কিন্তু পরে যদি তারা ইসলাম ত্যাগ করতে চায়? সে যদি অন্য কোন ধর্ম বেছে নিতে চায়? বা সে যদি নাস্তিক হয়ে যায়? ইসলাম ধর্মে ধর্ম ত্যাগের শাস্তি কী? এই বিষয়ে শরিয়তের বিধান কী? আসুন নিচের হাদিসগুলো থেকে জেনে নিই। [10] [11]

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ শাস্তির বিধান
হাদিস নাম্বার: 4300 ‏
৪৩০০. আহমদ ইব্‌ন মুহাম্মদ (রহঃ) — ইকরাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাঃ) ঐ সব লোকদের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন, যারা মুরতাদ হয়েছিল। এ সংবাদ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পৌছলে, তিনি বলেনঃ যদি আমি তখন সেখানে উপস্থিত থাকতাম, তবে আমি তাদের আগুনে জ্বালাতে দিতাম না। কেননা, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোময়া আল্লাহ্‌ প্রদত্ত শাস্তির (বস্তু) দ্বারা কাউকে শাস্তি দেবে না। অবশ্য আমি তাদেরকে আল্লাহ্‌র রাসূলের নির্দেশ মত হত্যা করতাম। কেননা, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ দীন পরিত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়, তবে তোমরা তাকে হত্যা করবে। আলী (রাঃ) ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ)-এর এ নির্দেশ শুনে বলেনঃ ওয়াহ্‌! ওয়াহ্‌! ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) সত্য বলেহছেন। আর ইহাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ শাস্তির বিধান (كتاب الحدود)
হাদিস নাম্বার: 4301‏
৪৩০১. আমর ইব্‌ন আওন (রহঃ) —- আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ মুসলমানের রক্ত হালাল নয়, যে এরূপ সাক্ষ্য দেয় যে, “আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহ্‌র রাসূল”। তবে তিনটি কারণের কোন মুসলমানের রক্ত প্রবাহিত করা হালালঃ (১) যদি কোন বিবাহিত ব্যক্তি যিনা করে; (২) যদি কেউ কাউকে হত্যা করে, তবে এর বিনিময়ে হত্যা এবং (৩) যে ব্যক্তি দীন ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে মুসলমানের জামায়াত থেকে বেরিয়ে যায়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আসুন, সহি বুখারী গ্রন্থ থেকে সরাসরি হাদিসগুলো যাচাই করে নিই [12] [13]

অমুসলিম

অমুসলিম

এবারে আসুন দেখি, প্রখ্যাত হাদিস প্রনেতা ইমাম মালিকের মুয়াত্তা ইমাম মালিক গ্রন্থ থেকে মুরতাদের শাস্তি কী হতে পারে তা জেনে নিই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশ হওয়া মুয়াত্তা ইমাম মালিক দ্বিতীয় খণ্ডের ৪০৬, ৪০৭ নম্বর পৃষ্ঠায় হাদিসটি পাবেন। ডাউনলোড লিঙ্ক [14]

অমুসলিম
অমুসলিম

সেইসাথে, আরো অমানবিক ব্যাপার হলো, মুরতাদকে কেউ হত্যা করলে তার জন্য হত্যাকারীর ওপর মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ হবে না। বিষয়টি সন্নিবেশিত আছে বিধিবদ্ধ ইসলামিক আইন খণ্ড ১ এ [15]

অমুসলিম

একই সাথে, মুরতাদের বিষয় সম্পত্তিও জবরদখল করা হবে, তেমনটিই বলা আছে ইসলামিক আইনে [16]

অমুসলিম

আমীর হবে কুরাইশ বংশ থেকে

ইসলামে কুরাইশ বংশকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং খলিফা নির্ধারণের জন্য কুরাইশদের থেকে নেয়ার বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে।

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮২/ আহকাম
পরিচ্ছেদঃ ৩০০৬. আমীর কুরাইশদের থেকে হবে
৬৬৫৪। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … মুহাম্মাদ ইবনু জুবায়র ইবনু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তারা কুরাইশের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মুআবিয়া (রাঃ) এর নিকট ছিলেন। তখন মুআবিয়া (রাঃ) এর নিকট সংবাদ পৌছল যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, অচিরেই কাহতান গোত্র থেকে একজন বাদশাহ হবেন। এ শুনে তিনি ক্ষুদ্ধ হলেন এবং দাঁড়ালেন। এরপর তিনি আল্লাহ তা’আলার যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন, তারপর তিনি বললেন, যা হোক! আমার নিকট এ মর্মে সংবাদ পৌছেছে যে, তোমাদের কতিপয় ব্যাক্তি এরূপ কথা বলে থাকে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বর্ণিত নেই। এরাই তোমাদের মাঝে সবচেয়ে অজ্ঞ। সুতরাং তোমরা এ সকল মনগড়া কথা থেকে যা স্বয়ং বক্তাকেই পথভ্রষ্ট করে সতর্ক থাক। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, (খিলাফতের) এ বিষয়টি কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যতদিন তারা দ্বীনের উপর কায়েম থাকবে। যে কেউ তাদের সঙ্গে বিরোধিতা করে তবে আল্লাহ তা’আলা তাকেই অধোমুখে নিপতিত করবেন। নুআয়ম (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সুত্রে শুআয়ব এর অনুসরণ করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৯৩/ আহ্‌কাম
পরিচ্ছেদঃ ৯৩/২. আমীর কুরাইশদের মধ্যে থেকে হবে।
৭১৩৯. মুহাম্মাদ ইবনু যুবায়র ইবনু মুতঈম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তারা কুরাইশের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর নিকট ছিলেন। তখন মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, অচিরেই কাহতান গোত্র থেকে একজন বাদশাহ্ হবেন। এ শুনে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন এবং দাঁড়ালেন। এরপর তিনি আল্লাহ্ তা‘আলার যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন, তারপর তিনি বললেন, যা হোক! আমার নিকট এ মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমাদের কিছু লোক এমন কথা বলে থাকে যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বর্ণিত নেই। এরাই তোমাদের মাঝে সবচেয়ে জাহিল। সুতরাং তোমরা এ সকল মনগড়া কথা থেকে যা স্বয়ং বক্তাকেই পথভ্রষ্ট করে- সতর্ক থাক। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, (খিলাফাতের) এ বিষয়টি কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যদ্দিন তারা দ্বীনের উপর দৃঢ় থাকবে। যে কেউ তাদের বিরোধিতা করে তবে আল্লাহ্ তাকেই অধোমুখে নিপতিত করবেন।(1) (৩৫০০)
নু‘আয়ম (রহ.) …. মুহাম্মাদ ইবনু যুবায়র (রহ.) সূত্রে শুআয়ব-এর অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৪)
(1) যতদিন ইসলামী হুকুমাত কুরাইশ প্রভাবিত এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল ততদিন কুরাইশরাই ছিলেন ইমারাতের হকদার। কারণ কুরাইশগণ হলেন দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। কুরাইশ প্রভাবিত ভূখন্ডে কুরাইশদের বর্তমানে অন্য কেউ আমীর হলে তিনি সকলের নিকট গ্রহণীয় হতেন না, সেখানে কুরাইশরাই সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য। আরব ভূখন্ডে ইসলামী হুকুমাতের প্রেক্ষাপটে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এ কথা বলেছিলেন। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরাই মুসলিমদের নেতৃত্ব দিবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

উপসংহার

উপরে যেসমস্ত বিষয় বর্ণিত হলো, সেগুলো থেকে স্পষ্ট যে, ইসলামি শরিয়তে অমুসলিমদের অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং অমানবিক জীবন যাপন করতে হবে। মুসলিমদের মধ্যে যারা ইউরোপ আমেরিকায় থাকেন, তারা সেই সব দেশের গণতন্ত্র এবং সমান অধিকারের সুযোগ নিয়ে ধর্ম প্রচার করতে চান, সেই সব দেশে ইসলামি শরিয়ত কায়েম করতে চান। অথচ, শরিয়তের দেশসমূহে অন্য ধর্মের মানুষকে সেই সব সুবিধা দিতে চান না। ধর্মনিরপেক্ষ দেশের সুযোগ সুবিধা নিয়ে দেশকে শরিয়তের দেশে পরিণত করে তারা অমুসলিমদের সকল অধিকার হরণ করতে চান। এবং এই বিষয়গুলো তাদের ধর্মই তাদের শিক্ষা দেয়। যা আধুনিক মানবিক সমাজের সাথে কোনভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ধর্ম বর্ণ লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষেরই অধিকার থাকা উচিত, আত্মমর্যাদা এবং আত্মসম্মান নিয়ে জীবন যাপন করার। এই অধিকার কেড়ে নিলে, সেটি হয় বর্বর রাষ্ট্রব্যবস্থা।

তথ্যসূত্রঃ
  1. তাফসিরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৬৬, ৫৬৭ []
  2. আশরাফুল হিদায়া, চতুর্থ খণ্ড [][]
  3. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চতুর্থ খণ্ড []
  4. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ১৬০২ []
  5. Giving Zakah to non-Muslims Fatwa No: 87316 []
  6. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ১৬০৫ []
  7. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হদিস নম্বর- ২৭৮৭ []
  8. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস নম্বর- ৪৮৩২ []
  9. Killing a Muslim in punishment for killing a non-Muslim []
  10. সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) হাদিস নম্বরঃ ৪৩০০ []
  11. সূনান আবু দাউদ ( ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বরঃ ৪৩০১ []
  12. সহিহ বুখারী খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা ২৩৬ []
  13. সহিহ বুখারী খণ্ড ১০ পৃষ্ঠা ২৬১ []
  14. মুয়াত্তা ইমাম মালিক, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০৬, ৪০৭ []
  15. বিধিবদ্ধ ইসলামিক আইন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৭ []
  16. বিধিবদ্ধ ইসলামিক আইন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪৬ []

2 thoughts on “ইসলামি শরিয়া রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার

  • January 19, 2021 at 4:15 PM
    Permalink

    সংশয় থেকে দূরে থাকা আমার জন্য কষ্টসাধ্য। সারাক্ষণই সংশয়, সন্দেহপ্রবণতা আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। https://www.shongshoy.com/ আমার প্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃতজ্ঞতা সংশয়ের সাথে জড়িতদের সবার প্রতি।

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: