ইসলাম এবং বামহাতিদের কথা

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

আমাদের সমাজে অনেক মানুষকেই দেখা যায়, যারা বামহাতি। অর্থাৎ, খুব গুরুত্বপূর্ণ যেসব কাজ, সেগুলো তারা ডান হাতে করতে পারে না। তারা সেগুলো বাম হাতে ভালভাবে করতে পারে। অনেক সময়ই কিছু বাচ্চাদের মধ্যে বাম হাতে কাজ করার প্রবণতা দেখা যায়। আমাদের মত শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে থাকা দেশে অনেক বাবা-মাই তাদের সন্তানদের বাম হাতে কাজ করার বিষয়টিকে সমস্যা হিসেবে মনে করেন। তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না যে, তাদের বাচ্চাটি হয়তো অন্য সব বাচ্চার থেকে কিছুটা আলাদা বা বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তারা এই নিয়ে ধমকাধমকি করেন, অনেক পরিবারে মারপিটও করা হয়। তারা উদাহরণ হিসেবে বলে থাকেন, অমুকের বাচ্চা তো ডানহাতে লেখে! যেন অমুকের বাচ্চা ডানহাতে লিখলেই সবাইকেই ডানহাতেই লিখতে হবে। তারা অনেক সময়ই তাদের মারপিট করে ডানহাতে লিখতে, খেতে, অন্যান্য কাজ করতে বাধ্য করেন। অথচ, বাচ্চাটি ডানহাতে সেরকম স্বাবলীল থাকে না। কিন্তু যেই বাচ্চারা বাম হাতে কাজগুলো করে, তারা কেন করে? এটি কী তারা ইচ্ছাকৃতভাবে করে, নাকি তারা এরকম বৈশিষ্ট্য নিয়েই জন্ম নিয়েছে? তাদেরকে জোর করে, মেরে পিটিয়ে ডান হাতি বানানো কতটা ঠিক? এতে তাদের ওপর কীরকম প্রভাব পড়ে? তারা বাম হাতি, এই কারণে মারপিট করা, ধমক দেয়া, তাদের নিয়ে হাসাহাসি করা, কিংবা তাদের তাচ্ছিল্য করা কী উচিত? আমাদের কী উচিত নয়, আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং জ্ঞান ব্যবহার করে পুরনো কুসংস্কার থেকে বের হয়ে নতুন আলোয় পৃথিবীকে দেখা? আজকের প্রবন্ধটি সেইসব বামহাতি মানুষদের নিয়ে, যারা বামহাতে কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

বামহাতি কেন হয়

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বাম হাত দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব কাগজপত্র করতেন, কারণ তিনি একজন বামহাতি৷ বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনও একজন বামহাতি ছিলেন। এরকম অসংখ্য মেধাবী মানুষই বামহাতে কাজ করার বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছেন। তার মানে এই নয় যে, বামহাতি হলেই মেধাবী হবে। মেধা বা যোগ্যতার ক্ষেত্রে ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়া কোন পার্থক্য তৈরি করে না। একটি হিসেবে দেখা গেছে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ বাঁহাতি। কিন্তু মানুষ কেন বামহাতি হয়? এটি কী একটি সমস্যা নাকি খুবই স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য?

মানুষের হাতের অগ্রাধিকার বিষয়ক গবেষকগণ নানা গবেষণার মাধ্যমে যা বুঝতে পেরেছেন তা হচ্ছে, মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার বিষয়টি মানুষের জন্য ঐচ্ছিক নয়। এর মানে হচ্ছে, একটি শিশু যখন বামহাতে লিখতে শুরু করে, সেটি সে ইচ্ছে করে করে না। এটি একটি জৈবিক বিষয়, যা জেনেটিক কারণে নির্ধারিত হয়। মানুষের হাতের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সবচাইতে বিখ্যাত দুইটি জেনেটিক তত্ত্ব থেকে জানা যায় যে, বিবর্তনীয় প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে বেশিরভাগ ব্যক্তির মস্তিষ্কের বামদিকের অংশটি বক্তৃতা এবং ভাষা নিয়ন্ত্রণ করে। যার কারণে বেশিরভাগ মানুষ ডানহাতি হয়, যেহেতু মস্তিষ্কের বাম দিকটি ডান হাতকে নিয়ন্ত্রণ করে। [1] । এবং কিছু মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একই কারণে বামহাতি হয়। কারণ তাদের মস্তিষ্কের ডানদিকের অংশটি বেশি ব্যবহৃত হয়। ড. টিম ক্রোর মতে, সম্ভবত মানবদেহের পিসিডিএইচ-১১এক্স জিন হাতের ব্যবহারের এ বিষয়টি নির্ধারণ করে দেয়। এর জন্য দায়ী নানা জেনেটিক ফ্যাক্টর, যা নির্ধারণ করে বাচ্চাটি ডানহাতি হবে নাকি বামহাতি  [2]

কেবল মানুষই নয়, অনেক পশু-পাখিও বাঁ-হাতি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয়। এক গবেষণায় বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাঙ্গারুদের মধ্যে অধিকাংশই বাঁ-হাতি [3]। দ্বিপদী প্রাণীর ক্ষেত্রে হয়তো এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

বামহাতি

বামহাতিদের নিয়ে কুসংস্কার

সেই প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সমাজে বামহাতিদের প্রতি নানা ধরণের বৈষম্য এবং অবিচারের প্রমাণ পাওয়া যায়। শুধু প্রাচীনকাল বা মধ্যযুগ কেন, এই বর্তমান সময়েও বামহাতে কিছু করা অনেক সমাজে অশুভ বা শয়তানের কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। বামহাতিদের প্রতি বৈষম্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, যখন ধর্মগ্রন্থ বা পৌরানিক কাহিনীগুলোতে শয়তানকে বামহাতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ধর্মবিশ্বাসী পরিবারগুলোতে শিশুরা বামহাতি হলেই, তাদের ওপর কঠিন আচরণ লক্ষ্য করা যায়। একে শয়তানের প্রভাব, জ্বীনের আছর বা অশুভ শক্তির কাজ বলেও বিবেচনা করা হয়। অনেক সময় ডাক্তার কবিরাজ কিংবা পীরের কাছে নিয়ে এর চিকিৎসার চেষ্টাও করা হয়ে থাকে। যা একটি শিশুর ওপর নির্যাতন এবং যার ফলে তার ওপর নানা ধরণের মানসিক প্রভাব পড়ে। সে ধীরে ধীরে নিজেকে অশুভ, তুচ্ছ, বাজে চরিত্র হিসেবে ভাবতে শুরু করে।

বরঞ্চ, এরকম শিশুদের পিতামাতাদের উচিত একে খুব স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করা। স্কুলে কলেজে বা অন্যান্য বন্ধুদের মাঝে শিশুটি যদি বামহাতি হওয়ার কারণে বঞ্চনার শিকার হয়, তার সাহায্যে এগিয়ে আসা। মনে রাখতে হবে, সে একজন শিশু। এবং একটি পরিবারই তার সবচাইতে বড় আশ্রয়ের জায়গা। পরিবার থেকে একটু পাশে থাকে, একটু আশ্রয় তার জন্য অনেক সহায়ক হতে পারে। এটি কোন অবস্থাতেই শিশুটির কোন দোষ নয় বা অপরাধ নয়। সে যেন এই নিয়ে অপরাধবোধে না ভোগে, নিজেকে শয়তান বা অশুভ চরিত্র না ভাবে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা বাবা মায়ের দায়িত্ব।

মেয়েদের মধ্যে বামহাতি হওয়াটি আরো বেশি কষ্টের হয়ে উঠতে পারে। অনেক পিছিয়ে পড়া সমাজেই মেয়েদের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকে, তার ওপর মেয়েটি বামহাতি হলে তো কথাই নেই। পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়, শ্বশুরবাড়ির লোক কী বলবে, এগুলো নিয়ে তাদের শুনতে হয় নানান কথা [4]

আন্তর্জাতিক বামহাতি দিবস

১৯৭৬ সালে প্রথম পালিত হয় আন্তর্জাতিক বাঁ-হাতি দিবস। সেই থেকে প্রতি বছর ১৩ অগস্ট পালিত হয় এই দিনটি [5] । আন্তর্জাতিক বাঁ-হাতি দিবস পালন করা হয় সমাজে অন্য মানুষদের মধ্যে তারাও যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং তারা যে অস্বাভাবিক কেউ নয়, তা বোঝাবার জন্য। ডান-হাতিরা যেমন মস্তিষ্কের বাঁ দিকের অংশটি বেশি ব্যবহার করেন, তেমনই বাঁ-হাতিরা মস্তিষ্কের ডান দিকের অংশ বেশি ব্যবহার করেন। সমাজে যারা বামহাতি, তারা যেসব বঞ্চনা এবং নির্যাতনের শিকার হন, সেগুলোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বাঁ-হাতি দিবস একটু গুরুত্বপূর্ণ দিবস।

ইসলামে বামহাতিদের সম্পর্কে

ইসলাম ধর্ম বামহাতিদের সম্পর্কে অত্যন্ত অবমাননাকর এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান ধারণা প্রচার করে। ইসলাম ধর্মের বিধিবিধানের অন্যতম মৌলিক উৎস হাদিস গ্রন্থগুলোর মধ্যে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত আছে, যেখানে বামহাতিদের শয়তানের প্রভাবে প্রভাবিত, অশুভ, অবৈজ্ঞানিক এবং উদ্ভট ধারণা প্রচার করে। এই হাদিসগ্রন্থগুলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সকল ইসলামি বিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে পড়ানো হয়, যার কারণে এসব পড়ে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বামহাতিদের সম্পর্কে ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং অস্বাভাবিক ধারণার জন্ম নেয়। আসুন দেখি, ইসলাম বামহাতিদের সম্পর্কে কী বলে।

সুনানে ইবনে মাজাহ
২৩/ আহার ও তার শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ ২৩/৮. ডান হাত দিয়ে খাদ্য গ্রহণ
১/৩২৬৬। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকে যেন ডান হাতে আহার করে, ডান হাতে পান করে, ডান হাতে গ্রহণ করে এবং ডান হাতে দান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে খায়, বাম হাতে পান করে, বাম হাতে দেয় এবং বাম হাতে গ্রহণ করে।
আহমাদ ৮১০৭, ৮৩৮৪, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১১৭, সহীহাহ ১২৩৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সেইসাথে, আরেকটি হাদিসে বর্ণিত আছে, বামহাতি এক ব্যক্তি একবার নবীর সামনে বামহাতে আহার করায় নবী তাতে ক্ষিপ্ত হন, এবং তাকে ডানহাতে খেতে নির্দেশ দেন। সেই বামহাতি ব্যক্তি তাতে অপারগতা প্রকাশ করলে, নবী তাকে অভিশাপ দেন।

রিয়াযুস স্বা-লিহীন
৩/ পানাহারের আদব-কায়দা
পরিচ্ছেদঃ ১০৪: নিজের সামনে এক ধার থেকে আহার করা ও বে-নিয়ম আহারকারীকে উপদেশ ও আদব-কায়দা শিক্ষা দেওয়া প্রসঙ্গে
২/৭৪৫। সালামা ইবনে আকওয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে একটি লোক তার বাম হাত দ্বারা আহার করল। (এ দেখে) তিনি বললেন, ‘‘তুমি ডান হাত দ্বারা খাও।’’ সে বলল, ‘আমি পারবো না!’ তিনি বদ-দো‘আ দিয়ে বললেন, ‘‘তুমি যেন না পারো।’’ ওর অহংকারই ওকে (কথা মানতে) বাধা দিয়েছিল। সুতরাং তারপর থেকে সে আর তার হাত মুখে তুলতে পারেনি। (মুসলিম) (1)
(1) মুসলিম ২০২১, আহমাদ ১৬০৫৮, ১৬০৬৪, ১৬০৯০, দারেমী ২০৩২
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৩৭। পানীয় বস্তু
পরিচ্ছেদঃ ১৩. পানাহারের নিয়ম ও বিধান
৫১৬৩–(১০৭/২০২১) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ….. সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বাম হাতে খাদ্য গ্রহণ করছিল। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ডান হাতে খাও। সে বলল, আমি পারবো না। তিনি বললেনঃ তুমি যেন না-ই পার। শুধুমাত্র অহমিকাই তাকে বারণ করছে। সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, সে আর কখনো তার ডান হাত মুখের নিকট উঠাতে পারেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫০৯৬, ইসলামিক সেন্টার ৫১০৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ)

গ্রন্থের নামঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (3734)
অধ্যায়ঃ ২১/ খাদ্যদ্রব্য (كتاب الأطعمة)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৪৭১. ডান হাতে খাওয়া সম্পর্কে।
৩৭৩৪. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ………… ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাবার খায়, তখন সে যেন তার ডান হাত দিয়ে খায় এবং যখন পানি পান করে, তখন যেন ডান হাতে পান করে। কেননা, শয়তান বাম হাতে খায় এবং পানি পান করে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নম্বরঃ (3268)
অধ্যায়ঃ ২৩/ আহার ও তার শিষ্টাচার (كتاب الأطعمة)
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ২৩/৮. ডান হাত দিয়ে খাদ্য গ্রহণ
৩/৩২৬৮। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা বাম হাতে আহার করো না। কারণ শয়তান বাম হাতে আহার করে।
মুসলিম ২০১৯, ২০৯৯, আবূ দাউদ ৪১৩৭, আহমাদ ১৩৭০৪, ১৩৭৬৬, ১৩৭৮৬, ১৪০৪৩, ১৪০৯৫, ১৪১৭৭, ১৪২৯৫, ১৪৪৪২, ১৪৪৮১, ১৪৭৩৩, মুয়াত্তা মালেক ১৭১১, দারেমী ২০৩০। সহীহাহ ৩/২৩৯।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (5093)
অধ্যায়ঃ ৩৭/ পানীয় দ্রব্য
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ১২. পানাহারের আদবসমূহ ও তার বিধান
৫০৯৩। আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নূমায়র, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন আহার করে, তখন সে যেন ডান হাতে আহার করে। আর যখন পান করে সে যেন ডান হাতে পান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে আহার করে এবং বাম হাতে পান করে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (5095)
অধ্যায়ঃ ৩৭/ পানীয় দ্রব্য
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ১২. পানাহারের আদবসমূহ ও তার বিধান
৫০৯৫। আবূ তাহির ও হারামালা (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বাম হাতে পানাহার না করে। কারণ শয়তান বাম হাতে পানাহার করে। বর্ণনাকারী বলেন, নাফি (রহঃ) এতে অধিক বলতেন, বাম হাতে যেন (কিছু) গ্রহণ না করে এবং প্রদানও না করে। আবূ তাহির (রহঃ)-এর বর্ণনায় أَحَدٌ مِنْكُمْ এর স্থলে أَحَدُكُمْ শব্দ রয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সেই সাথে, ইসলামের ফতোয়া বিষয়ক বিখ্যাত ওয়েবসাইট ইসলামওয়েব এ বামহাতি বিষয়ক যেই ফতোয়াটি দেয়া আছে [6], সেটিও তুলে ধরা হলো।

Use of left hand and left-handed people
Fatwa No: 82099
Fatwa Date:1-1-2001 – Shawwaal 6, 1421
Question
What does the Prophet Muhammad, may his soul be blessed, say about the use of the left hand for left handed people? Am I, as a left-handed person, supposed to avoid using the left hand to eat or during ‘wudu’, for example?
Answer
Praise be to Allah, the Lord of the Worlds; and blessings and peace be upon our Prophet Muhammad and upon all his Family and Companions.
The Prophet Muhammad (Blessings and peace of Allah be upon him) preferred to start when doing anything by his right as long as he could, such as in his wudu, his ghusl, his wearing his shoes, his walking as mentioned in the Sound Collection of Hadith of Ibn Hibban, Ibn Khuazimiah and Ahmad from the Hadith of Aisha ( may Allaah be pleased with her). He also used to tell people to eat with their right hands. al-Bukhari and Muslim narrated from Amr Ibn Abu Salama that the Prophet Muhammad (Blessings and peace of Allah be upon him) said to him: “O boy! (Say Bismillah) in the name of Allah, eat with your right hand and eat from what is in your side”. Muslim also narrated from Salamata Ibn Alakwaa, who related that “A person started eating with his left hand in the presence of the Beloved Prophet (Blessings and peace of Allah be upon him) who asked him to eat with his right hand. He said, ‘I am unable to do so’. It was simply his insolence that prevented him to obey the orders of the Beloved Prophet (Blessings and peace of Allah be upon him) . After this it so happened that the said man could not raise his hand up to his mouth”. The Muslim should follow the Sunnah of the Prophet Muhammad (Blessings and peace of Allah be upon him) copy his style and abide by his orders in everything, be it small or big. It is forbidden to go against the Prophetic Sunnah or to prefer anything to it, above all in something where there is a clear order like : eating with the right hand. Moreover, practice makes perfect and looking at an order as an obligation and neglecting it as forbidden makes things much easier to be followed. If the person, however, does a mistake unintentionally, he is excused. But he should give up doing it again and ask Allah to forgive him from what he has done as soon as he remembers it. And Allah knows best.

উপসংহার

মরুভূমিতে বসবাসকারী একজন মানুষের পক্ষে সাড়ে ১৪ শত বছর আগে আসলে জানা সম্ভব ছিল না যে, বামহাতে কাজ করা কোন অশুভ বা খারাপ কাজ নয়। এরকম অবৈজ্ঞানিক এবং ভুল ধ্যান ধারণা এমনকি এই সময়েও আমাদের সমাজের মধ্যে কিছু মানুষের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। কিছু মানুষের কাজের ক্ষেত্রে যেমন ডান হাত অগ্রাধিকার পায়, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আবার বাম হাত অগ্রাধিকার পায়। দুটোই খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সমস্যা হচ্ছে, ইসলাম ধর্মের বিধান অনুসারে, নবী যা বুঝেছেন, নবী যা বলেছেন, যা নির্দেশ দিয়েছে, সেগুলো অপরিবর্তনীয়। আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সাথে তা না মিললে সেগুলো বদলে ফেলার কোন উপায় নে। সেটিকেই কেয়ামত পর্যন্ত নৈতিকতা এবং জীবন পরিচালনার একমাত্র উৎস হিসেবে গ্রহণ করতে ইসলাম বাধ্য করে। যার ফলে বহু শিশু সেই ছোটবেলা থেকেই বঞ্চনার শিকার হয়, তাদেরকে বাধ্য হতে হয় উল্টো হাতে কাজ করতে। এর প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিত্ত্বে, তার মেধায়, তার কাজে। ভেতরে ভেতরে সে ঠিকই বুঝতে পারে, সে কেমন।

আসুন, আমরা পৌরানিক রূপকথা, সেই সাড়ে ১৪ শত বছর আগের মূর্খ কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের তৈরি কুসংস্কারের শেকল ভেঙ্গে নতুন ভাবে, যুক্তি তথ্য প্রমাণ দিয়ে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা দিয়ে আমাদের শিশুদের বড় করে তুলি। যেখানে ডানহাতি আর বামহাতি, সকল শিশুই সমানভাবে আদর ভালবাসা এবং সম্মান নিয়ে বড় হয়ে উঠতে পারবে।

তথ্যসূত্রঃ
  1. What causes some people to be left-handed, and why are fewer people left-handed than right-handed? []
  2. Why are some people left-handed? An evolutionary perspective []
  3. Most kangaroos are ‘left-handed’ []
  4. ‘মেয়ে বাম হাত দিয়ে কাজ করে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন কী বলবে?’ বাংলাদেশের একজন বাঁহাতি নারী []
  5. International Lefthanders Day []
  6. Use of left hand and left-handed people []

6 thoughts on “ইসলাম এবং বামহাতিদের কথা

  • February 12, 2021 at 11:19 PM
    Permalink

    Elbert Einstein was not left. Please correct it.

    Reply
  • February 16, 2021 at 1:01 AM
    Permalink

    অসাধারণ একটি লেখা লিখেছেন আসিফ।
    অভিভূত।

    লেখা টা যদি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকোএকটু পড়তে পারতাম ….
    I WILL TRY TO SEND …
    কিন্তু বিশ্বাসের ভাইরাস হয়তো পড়তে দেবে না।

    এনিওয়ে … ধন্যবাদ once again for such a good, useful and easy article .

    Reply
  • February 18, 2021 at 2:43 AM
    Permalink

    ‘লেখা টা যদি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকোএকটু পড়তে পারতাম‘

    আগের কমেন্টে টাইপ জনিত উপরের ভুলের জন্য দু:খ প্রকাশ করছি।

    বাক্যটি প্রকৃত পক্ষে হবে- “লেখাটা যদি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকেও একটু পড়াতে পারতাম”

    Reply
  • February 20, 2021 at 9:15 AM
    Permalink

    আইনস্টাইন বাঁহাতি এটা মিথ-You may even see people tying Einstein’s genius to his left-handedness. The problem is, Einstein’s left-handedness is a myth. Myriad photos show him writing on a chalkboard with his right hand, for example.

    But handedness has its roots in the brain—right-handed people have left-hemisphere-dominant brains and vice versa—and the lefties who claim Einstein weren’t all that far off. While he was certainly right-handed, autopsies suggest his brain didn’t reflect the typical left-side dominance in language and speech areas. His brain’s hemispheres were more symmetrical—a trait typical of left-handers and the ambidextrous.
    Source-https://www.apa.org/monitor/2009/01/brain#:~:text=You%20may%20even%20see%20people,genius%20to%20his%20left%2Dhandedness.&text=While%20he%20was%20certainly%20right,left%2Dhanders%20and%20the%20ambidextrous.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *