fbpx

ইসলাম এবং জাতিভেদ বা বর্ণবাদ

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

ছোটবেলা আমাদের এলাকায় একটি হিন্দু বাড়ি ছিল। সেই বাড়িতে আমার এক বন্ধুও ছিল, যার সাথে খেলাধুলা করতাম। তাদের বাসায় মাঝে মাঝেই পুজা হলে, আমি মজার মজার খাওয়ার লোভে যেতাম। তারা নানা ধরণের ফলমূল এবং লাড্ডু খেতে দিতো। অবাক হয়ে লক্ষ্য করতাম, অন্য হিন্দু ছেলেমেয়েদের বাটিতে খাবার দিলেও, আমাকে দেয়া হতো কলাপাতার ওপর। তখন বিষয়টি বুঝতাম না, কিন্তু ছোটমানুষ হলেও এতে খানিকটা আত্মসম্মানে লাগতো। পরে বুঝেছিলাম, মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়ার কারণে আমি ছিলাম তাদের চোখে নিচু জাত। তারা ছিল ব্রাহ্মণ, অর্থাৎ উঁচু জাতি। ব্রহ্মার মাথা থেকে তারা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ধর্ম অনুসারে, আমি তাদের ব্যবহৃত থালাবাসন ব্যবহার করলে, স্পর্শ করলেও সেইসব থালাবাসনা এবং তারা অপবিত্র হয়ে যাবে। আমি এতটাই অপবিত্র যে, আমার ছায়াও নাকি মারানো যাবে না। এরকম আরো নানা ধরণের কেচ্ছা, যা খুবই সাম্প্রদায়িক এবং নিচু মন মানসিকতার প্রকাশ। সেই সময়ে ভাবতাম, এগুলো হিন্দু ধর্মের কুসংস্কার। ইসলামে এসব নেই। মানুষের জন্ম কোথায়, কোন পরিবারে, তার ওপর নির্ভর করে তার সম্মান ও মর্যাদা নির্ধারণের এই নিয়মগুলো অত্যন্ত অমানবিক এবং মানুষ হিসেবে আমাদের লজ্জিত করে।

এটি অবশ্যই সত্য যে, ইসলামে এই ধরণের জাতিভেদ বা বর্ণবাদ নেই। ইসলাম ধর্ম এইদিক দিয়ে অনেকটাই মুক্ত। সেই সাথে, ইসলামে মুসলিমদের ভেতরে জাতি গোত্র বংশ সবাইকেই কিছু জায়গাতেই কিছুকিছু জায়গাতে সমান মর্যাদার কথাও বলা হয়েছে। বিশেষত এই কারণেই, ভারতে ইসলামের আগমনের পরে শত শত বছর ধরে জাতিভেদের যাতাকলে নিষ্পেষিত কোটি কোটি দলিত এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ইসলাম গ্রহণ করেছিল। একইসাথে এটিও সত্য যে, ইসলামের ভেতরে জাতিভেদ এবং বর্ণবাদের বিষও রয়েছে, খুব ভালভাবেই। আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, ইসলামে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে, সুক্ষভাবে, মানসিকভাবে, কীভাবে জাতিভেদ বা বর্ণবাদ রয়েছে, সেটি। আশাকরি পাঠকগণ মন দিয়ে লেখাটি পড়বেন এবং পর্যালোচনা করবেন।

জাতিভেদ বা বর্ণবাদ কাকে বলে?

বর্ণবাদ সেই দৃষ্টিভঙ্গি বা ধারণা বা চর্চা এবং সেইসবের ভিত্তিতে পরিচালিত ক্রিয়াকলাপ, যেখানে বিশ্বাস করা হয় যে মানুষ বৈজ্ঞানিকভাবেই অনেকগুলো গোষ্ঠীতে বিভক্ত এবং কোন কোন গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের জন্য উঁচু অথবা নিচু; কিছু জাতি বা গোত্র অন্যদের ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকারী; অথবা বেশি যোগ্য কিংবা অযোগ্য, অথবা কোন কোন গোত্র জন্মগতভাবেই শাসন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন, অন্যরা যারা এই গোত্রের অন্তর্ভূক্ত নয় তারা শাসিত হওয়ার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। বর্ণবাদ কখনো গায়ের চামড়ার রং দিয়ে হতে পারে, কখনো আঞ্চলিকতা দিয়ে হতে পারে, কখনো গোত্র দিয়ে হতে পারে, কখনো বর্ণ (caste) দিয়ে হতে পারে। সাধারণভাবে বলা যায়, কোনো মানুষের অধিকার যদি তার জাতি বা বর্ণ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, সেটি অন্য কারো জন্য ক্ষতিকর না হলেও তাকে বর্ণবাদ বলা হবে।

যেমন, হিটলার এবং নাৎসিরা মনে করতো, জার্মানরা বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী। বর্ণবাদ, বিশেষ করে ইহুদী বিদ্বেষ ছিল নাৎসি পার্টির শাসনামলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জার্মান জনগণ নর্ডিক জাতি হিসেবে পরিচিতিপ্রাপ্ত হয় এবং নিজেদের আর্য জাতির বিশুদ্ধ উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা শুরু করে। তারা মনে করতো, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের রক্তের বিশুদ্ধতা নষ্ট করছে এবং তাদের আসলে সকল জাতির ওপর প্রভুত্ব করার কথা। একসময় তারা নিজেদের প্রভুত্বকারী জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়া শুরু করে, এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীগুলো যেন তাদের প্রভুত্ব বা ক্ষমতাকে মেনে নেয়, তার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ শুরু করে। ইহুদি এবং অন্যান্য সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর ব্যক্তিবর্গকে তারা ক্ষতিকর এবং অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। তাদেরকে জায়গাজমি ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করে বা তাদের ওপর প্রভুত্ব বজায় রাখার বিষয়ে তারা ছিল বদ্ধপরিকর।

হিন্দু ধর্মের মধ্যে মধ্যেও এই অঞ্চলের মানুষ একই বর্ণবাদের শিকার হাজার বছর ধরে হয়েছে। হিন্দু ধর্মের বিধান অনুসারে, ব্রাহ্মনদের সমাজের সবচাইতে উঁঁচু এবং ক্ষমতার অধিকারী করা হয়েছে। হিন্দু সমাজে আইনকানুন এবং নিয়মকানুন ব্রাহ্মনদের সবচাইতে বেশী সুবিধা দিতো, এবং দলিত শুদ্রদের অধিকারকে পদদলিত করতো। কে কোন পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছে, কোন গোত্রে বা বংশে জন্ম নিয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে তার অধিকার নির্ধারিত হতো। এখনো ভারতের বহুস্থানে কঠিন বর্ণবাদ প্রথা রয়ে গেছে। তবে ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল ১৫ রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল প্রকার বর্ণবাদকে নিষিদ্ধ করেছে। এর জন্য ভারতের সংবিধানের মুখ্য রচয়িতা বাবা আম্বেদকরকে একটি বিশেষ ধন্যবাদ দিতেই হয়। ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল-১৫ এ বলা হয়েছে, ভারতে ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ, জন্মস্থান ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোন নাগরিকের সাথে কোন প্রকারের বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। প্রতিটি মানুষই সমান অধিকার এবং সমান সুযোগ ভোগ করবে।

ইসলামে বর্ণবাদ বিরোধীতা

বর্ণবাদ, জাতিভেদ, বংশ মর্যাদা বা গোত্রের মর্যাদা বিষয়ে ইসলামে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। কোরআনের কিছু আয়াত এবং কিছু হাদিসে যেরকম বর্ণবাদ, জাতিভেদ ইত্যাদির বিরোধীতার প্রমাণ মেলে, আবার অনেক জায়গাতে বর্ণবাদ, জাতিভেদকে সমর্থন করা কিছু বক্তব্যও পাওয়া যায়। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কোরআনে সূরা হুজরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে বলা রয়েছে, [1]

হে মানুষ! তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই লোকই অধিক সম্মানীয় যে লোক অধিক মুত্তাক্বী। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সব খবর রাখেন।
Taisirul Quran
হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী। আল্লাহ সব কিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন।
Sheikh Mujibur Rahman
হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।
Rawai Al-bayan
হে মানুষ! আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে [১], আর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অন্যের সাথে পরিচিত হতে পার [২]। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সে ব্যক্তিই বেশী মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে বেশী তাকওয়াসম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

উপরে বর্ণিত কোরআনের আয়াতটিতে আল্লাহ সকল মানুষকে একই নারী ও পুরুষের থেকে সৃষ্টি ঘোষণা দিয়ে বর্ণবাদের বিপক্ষেই কথা বলেছেন। যদিও কথাটি বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল, তারপরেও কথাটি বর্ণবাদের বিপক্ষে ইসলামের অবস্থান জানান দেয়। নিচের হাদিসটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ, [2]

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১২। জানাযাহ সম্পর্কিত
পরিচ্ছেদঃ ১০. বিলাপ করে কান্নাকাটি করার ব্যাপারে হুশিয়ারী
২০৪৯-(২৯/৯৩৪) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ….. আবূ মালিক আল আশ’আর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উন্মাতের মধ্যে জাহিলী যুগের চারটি কু-প্রথা রয়ে গেছে যা লোকেরা পরিত্যাগ করতে চাইবে না। (১) বংশের গৌরব, (২) অন্যকে বংশের খোটা দেয়া, (৩) নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা, (৪) মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা। তিনি আরও বলেন, বিলাপকারী যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করে তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে এভাবে উঠানো হবে যে, তার গায়ে আলকাতরার (চাদর) খসখসে চামড়ার ওড়না থাকবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৮, ইসলামীক সেন্টার ২০৩৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ মালিক আল আশ্‘আরী (রাঃ)

মুসনাদে আহমদে আরেকটি হাদিস পাওয়া যায়, সেই হাদিসটি হচ্ছে, [3]

নবী মুহাম্মদ বলেছিলেন, “হে লোকজন! সাবধান তোমাদের আল্লাহ একজন। কোন অনারবের ওপর কোন আরবের ও কোন আরবের ওপর কোন অনারবের কোন কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের ও কোন শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণঙ্গের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই আল্লাহভীতি ছাড়া। তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহভীরু সেই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান। আমি কি তোমাদেরকে পৌঁছিয়েছি? তারা বলল, আল্লাহর রাসূল পৌঁছিয়েছেন। তিনি বললেন, তাহলে যারা এখানে উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিত লোকদের কাছে এ বাণী পৌছিয়ে দেয়।” [মুসনাদে আহমাদ: ৫/৪১১]
Abu Nadrah reported: The Messenger of Allah, peace and blessings be upon him, said during the middle of the day at the end of the pilgrimage, “O people, your Lord is one and your father Adam is one. There is no favor of an Arab over a foreigner, nor a foreigner over an Arab, and neither white skin over black skin, nor black skin over white skin, except by righteousness. Have I not delivered the message?” They said, “The Messenger of Allah has delivered the message.”
Source: Musnad Aḥmad 23489
Grade: Sahih (authentic) according to Al-Arna’ut
عَنْ أَبِي نَضْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَسَطِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَلَا إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى أَعْجَمِيٍّ وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ إِلَّا بِالتَّقْوَى أَبَلَّغْتُ قَالُوا بَلَّغَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
23489 مسند أحمد باقي مسند الأنصار
23489 المحدث شعيب الأرناؤوط خلاصة حكم المحدث إسناده صحيح في تخريج المسند

নিঃসন্দেহে উপরের কোরআনের আয়াত এবং হাদিস দুইটি নবী মুহাম্মদ আসলেই বলে থাকলে, খুবই ভাল কথা বলেছেন। ১৪শ বছর আগে সেই অসভ্য আরব সমাজে জন্ম নিয়ে, যেখানে গোত্র মর্যাদা রক্ষায় যুদ্ধের পর যুদ্ধ হতো, সেখানে বসে এরকম বক্তব্য দেয়া খুবই সাহসের এবং প্রগতির কাজ। এতে কোন সন্দেহ নেই। একইসাথে, ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুয়াজ্জিন হযরত বিলাল ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাস। তাকে মুক্ত করে পরবর্তী সময়ে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। যা প্রশংসনীয় কাজই বটে। সেই সাথে এটিও সত্য যে, সেই সময়ে ক্রীতদাসদের মত অসহায় এবং অধিকারহীন কিন্তু শক্ত সমর্থ এবং যুদ্ধ করতে সক্ষম মানুষদেরই মুহাম্মদের প্রয়োজন ছিল। অধিকারহীন এইসব অসহায় মানুষদের দলে নেয়াই প্রথম যুগে মুহাম্মদের মূল লক্ষ্য ছিল। তারাই মুহাম্মদের স্বপ্নের ইসলামী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার কাজে জীবন দিতে পারতো। কারণ তারা বেচে থাকলেও তিলে তিলে অত্যাচারের শিকারই হতো। দেয়ালে পিঠে ঠেকে যাওয়া মানুষদের নিয়েই ইতিহাসে সবচাইতে বড় বড় যোদ্ধা দল তৈরি হয়েছে। সেই নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করা যাবে। আজকের বিষয় হচ্ছে বর্ণবাদ এবং জাতিভেদ। এই সম্পর্কিত অন্যান্য হাদিসগুলোও পড়ে দেখা প্রয়োজন। শুধুমাত্র একপাক্ষিক বক্তব্য দেখলে কিছুই বোধগম্য হবে না।

হাবশী গোলাম শাসক হতে পারবে?

মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই অনেকেই একটি হাদিস নিয়ে খুব গর্বের সাথে বলে থাকেন যে, ইসলামে বর্ণবাদ নেই, কারণ সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে, হাবশী ক্রীতদাসও যদি খলিফা হয়, তবুও তাকে মান্য করতে হবে। এই হাদিসে নাকি আফ্রিকান বংশদ্ভুত কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসদের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তারাও যে মানুষ, এটি নাকি বলা হয়েছে! অথচ, সত্য তার একদমই বিপরীত। কিন্তু এখনে তারা হাবশী ক্রীতদাস শব্দটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য বা মনস্তত্ত্বের বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

মনে করুন, একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক মানুষ তার এলাকায় তার বন্ধুদের বললেন,

আওয়ামী লীগ থেকে যদি একটি কুকুরও নির্বাচনে দাঁড়ায়, সেই কুকুরটিকেই ভোট দিতে হবে।

উপরের কথাটিতে কী কুকুরকে মর্যাদা দেয়া হচ্ছে? নাকি কুকুর বলতে এখানে কোন নিকৃষ্ট কিছু বোঝানো হচ্ছে? ভেবে বলুন তো? এখানে উদ্দেশ্যটি কী কুকুরকে সম্মান দেয়া, নাকি কুকুর নামক রূপকটি ব্যবহার করে অত্যন্ত ঘৃণ্য বা নিকৃষ্ট কিছুকে তুলনা দেয়া? “যদিও” “এমনকি” “তবুও” এই শব্দগুলো কখন ব্যবহৃত হয়? বাক্যটি থেকে কী বক্তার মনোভাব বোঝা যায় না যে, এগুলো তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত হয়েছে? আসুন এবারে দেখি, ঐ হাদিসটিতে আসলে কী বলা হয়েছে, [4] [5]

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৮ঃ প্রশাসন ও বিচারকার্য
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৬৬৩-[৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা শুনো এবং আনুগত্য করো, যদিও তোমাদের ওপর হাবশী গোলাম শাসক নিযুক্ত করা হয়, যার মাথা কিসমিসের ন্যায়। (বুখারী)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৭১৪২, ইবনু মাজাহ ২৮৬০, আহমাদ ১২১২৬, সহীহ আল জামি‘ ৯৮৫।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮২/ আহকাম
পরিচ্ছেদঃ ৩০০৮. ইমামের আনুগত্য ও মান্যতা, যতক্ষন তা নাফরমানীর কাজ না হয়
৬৬৫৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমাদের উপর এরূপ কোন হাবশী দাসকেও শাসক নিযুক্ত করা হয়, যার মাথাটি কিশমিশের ন্যায় তবুও তার কথা শোন ও তার আনুগত্য কর।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

এবারে, হাদিসটির ব্যাখ্যাও আমরা পড়ে নিই, সহজ দরসে ইবনে মাজাহ গ্রন্থ থেকে, [6]

বর্ণবাদ
বর্ণবাদ

হাদিসটির ব্যাখ্যাতে দেখুন, বলা হচ্ছে, (তিন) হাদীসে প্রকৃত অর্থে হাবশী কৃতদাস উদ্দেশ্য নয় বরং রূপক অর্থে এমন ব্যক্তি উদ্দেশ্য, যার জ্ঞান-বুদ্ধি ও যোগ্যতা একেবারেই সামান্য। কুৎসিত ও কদাকৃতির ব্যক্তি উদ্দেশ্য। এর অর্থ হচ্ছে, হাবশী কৃতদাস বলতে আসলে অযোগ্য, তুচ্ছ, কুৎসিত ও কদাকৃতি বোঝানো হয়েছে। তাহলে, এটি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য বলা হয়েছে, নাকি অসম্মান করে, সেটি বিবেচক পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।

কুরাইশ বংশ ও গোত্র মর্যাদা

উপরে বর্ণবাদের সংজ্ঞার মধ্যে আমরা ইতিপূর্বে বলেছি, মেধা যোগ্যতা বুদ্ধিমত্তা নেতৃত্ব দেয়ার গুণ ইত্যাদির চাইতে যদি কোন কোন গোত্র জন্মগতভাবেই শাসন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন, এরকম ধারণাবশত শাসন ক্ষমতায় কোন নির্দিষ্ট গোত্র বা বংশের মানুষকেই বসাতে হয়, এটি বর্ণবাদের অন্তর্ভূক্ত। যেমন নাৎসিরা মনে করতো, তারাই বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী এবং তারাই পৃথিবী শাসন করার একমাত্র দাবীদার। অন্য সকল জাতি এবং গোত্রকে তাদের অধীনে থাকতে হবে। আবার, হিন্দুদের ভেতরে যারা ক্ষত্রিয়, তারাও মনে করতো, তাদের মধ্যে থেকেই শাসক নির্বাচিত হতে হবে, ব্রাহ্মনদের পরেই তাদের অবস্থান। ইসলামেও ঠিক একইভাবে কুরাইশ বংশকে সম্মানিত বংশ এবং খিলাফতের দাবীদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামে অসংখ্য হাদিসে কুরাইশ বংশকে শাসন করার জন্য, বিশেষ মর্যাদার অধিকারী বংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, কুরাইশ বংশের একজন অযোগ্য ব্যক্তিও অন্যান্য গোত্রের একজন যোগ্য ব্যক্তির চাইতে বিশেষ সম্মানের অধিকারী হবে, শুধুমাত্র তার জন্ম কুরাইশ বংশে হয়েছে এই কারণে। এটি খুবই স্পষ্টভাবে গোত্রাভিমান, জাতিভেদ এবং বর্ণবাদের প্রকরণ। কোন বিশেষ বংশে জন্ম নিলেই, সে কীভাবে কোন নির্দিষ্ট পদমর্যাদার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে, তা আমাদের জানা নেই। তবে এটুকু স্পষ্ট যে, এটি অত্যন্ত বাজে এবং অসভ্য ধারণা। আজ যদি শেখ হাসিনা সংবিধানে এই ধারাটি সন্নিবেশিত করে যে, এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তাদের গোপালগঞ্জে জন্ম নেয়া শেখ পরিবারের সদস্য হলে হবে, সেটি যেমন অসভ্য আইন হবে, এটিও একটি অসভ্য আইন। আসুন হাদিসগুলো পড়ে দেখি, [7] [8] [9] [10]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৪/ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন
পরিচ্ছেদঃ ১. জনগন কুরায়শ এর অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শ এর জন্য
৪৫৫০। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কানাব, কুতায়বা ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “জনগণ এর বিষয়ে (প্রশাসনিক ব্যাপারে) কুরায়শদের অনুসারী। মুসলিমরা তাদের মুসলিমদের এবং কাফেররা তাঁদের কাফেরদের (অনুসারী)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৩৪। প্রশাসন ও নেতৃত্ব
পরিচ্ছেদঃ ১. জনগণ কুরায়শদের অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শদের মধ্যে সীমিত
৪৫৯৭-(৩/১৮১৯) ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারিসী (রহঃ) ….. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকজন ভাল-মন্দ উভয় ব্যাপারেই কুরায়শদের অনুসারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫২, ইসলামিক সেন্টার ৪৫৫৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮২/ আহকাম
পরিচ্ছেদঃ ৩০০৬. আমীর কুরাইশদের থেকে হবে
৬৬৫৪। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … মুহাম্মাদ ইবনু জুবায়র ইবনু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তারা কুরাইশের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মুআবিয়া (রাঃ) এর নিকট ছিলেন। তখন মুআবিয়া (রাঃ) এর নিকট সংবাদ পৌছল যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, অচিরেই কাহতান গোত্র থেকে একজন বাদশাহ হবেন। এ শুনে তিনি ক্ষুদ্ধ হলেন এবং দাঁড়ালেন। এরপর তিনি আল্লাহ তা’আলার যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন, তারপর তিনি বললেন, যা হোক! আমার নিকট এ মর্মে সংবাদ পৌছেছে যে, তোমাদের কতিপয় ব্যাক্তি এরূপ কথা বলে থাকে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বর্ণিত নেই। এরাই তোমাদের মাঝে সবচেয়ে অজ্ঞ। সুতরাং তোমরা এ সকল মনগড়া কথা থেকে যা স্বয়ং বক্তাকেই পথভ্রষ্ট করে সতর্ক থাক। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, (খিলাফতের) এ বিষয়টি কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যতদিন তারা দ্বীনের উপর কায়েম থাকবে। যে কেউ তাদের সঙ্গে বিরোধিতা করে তবে আল্লাহ তা’আলা তাকেই অধোমুখে নিপতিত করবেন। নুআয়ম (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সুত্রে শুআয়ব এর অনুসরণ করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮২/ আহকাম
পরিচ্ছেদঃ ৩০০৬. আমীর কুরাইশদের থেকে হবে
৬৬৫৫। আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (খিলাফতের) এই বিষয়টি সর্বদাই কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যতদিন তাদের থেকে দু’জন লোকও অবশিষ্ট থাকবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

একইসাথে, নবী মুহাম্মদ সকল মুসলমানের জন্য কুরাইশ আমীরের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন [11]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮২/ আহকাম
পরিচ্ছেদঃ ৩০০৮. ইমামের আনুগত্য ও মান্যতা, যতক্ষন তা নাফরমানীর কাজ না হয়
৬৬৫৮। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ তার আমীর (ক্ষমতাসীন) থেকে এমন কিছু দেখে, যা সে অপছন্দ করে, তাহলে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা, যে কেউ জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দুরে সরে মরবে, তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের মৃত্যু।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

বর্ণবাদ শুধুমাত্র যে কোন বংশ বা গোত্র বা জাতিকে নিচু দেখালে হয় তা নয়, কোন জাতিকে অন্য জাতির চাইতে কোন না কোন ভাবে শ্রেষ্ঠ এরকম বলা হলেও সেটি বর্ণবাদ। অসংখ্য সহিহ হাদিসে নবী মুহাম্মদের বংশের প্রশংসা করা হয়েছে, এবং তার বংশকে সবচাইতে উঁচু স্থান দেয়া হয়েছে। নিচের হাদিসটি পড়ুন- [12] [13]

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৪৬/ রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তার সাহাবীগণের মর্যাদা
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. আনসারগণের ও কুরাইশদের মর্যাদা
৩৯০৫। মুহাম্মাদ ইবনু সা’দ (রহঃ) হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কেউ কুরাইশদেরকে অপদস্ত করার ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে অপদগ্ৰস্ত করবেন।
সহীহঃ সহীহাহ (১১৭৮)।
আবূ ঈসা বলেন, এ সনদ সূত্রে হাদীসটি গারীব। আবদ ইবনু হুমাইদ-ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম ইবনু সা’দ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি সালিহ ইবনু কাঈসান হতে, তিনি ইবনু শিহাব (রাহঃ) হতে উক্ত সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৪৪। ফাযীলাত
পরিচ্ছেদঃ ১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশের ফযীলত এবং নুবুওয়াত প্রাপ্তির আগে (তাকে) পাথরের সালাম করা প্রসঙ্গ
৫৮৩২-(১/২২৭৬) মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী ও মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু সাহম (রহঃ) …… আবূ আম্মার শাদ্দাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ওয়াসিলাহ্ ইবনু আসকা (রহঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ মহান আল্লাহ ইসমাঈল (আঃ) এর সন্তানদের থেকে কিনানাহ-কে চয়ন করে নিয়েছেন, আর কিনানাহ (‘র বংশ) হতে, কুরায়শ’ কে বাছাই করে নিয়েছেন আর কুরায়শ (বংশ) হতে বানু হাশিমকে বাছাই করে নিয়েছেন এবং বানু হাশিম হতে আমাকে বাছাই করে নিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭৩৯, ইসলামিক সেন্টার ৫৭৭০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

একইসাথে, রাজত্ব করার জন্য মুহাম্মদ কুরাইশ বংশকে নির্ধারণ করে গেছেন, আর আযান দেয়ার জন্য নির্ধারণ করে গেছেন হাবশী বা কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের। ধরা যাক, একজন বাঙালি মানুষ নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বেশি যোগ্য। অথচ, যোগ্যতা থাকার পরেও সে কুরাইশ না হওয়ার কারণে খলিফা হতে পারবে না [14]

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৪৬/ রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তার সাহাবীগণের মর্যাদা
পরিচ্ছেদঃ ৭২. ইয়ামানের মর্যাদা
৩৯৩৬। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাজত্ব কুরাইশদের মাঝে, বিচার-বিধান আনসারদের মধ্যে, (সুমধুর সুরে) আযান হাবশীদের মাঝে এবং আমানতদারি আযদ অর্থাৎ ইয়ামানবাসীদের মাঝে।
সহীহঃ সহীহাহ (১০৮৩)।
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি মু’আবিয়াহ ইবনু সালিহ হতে, তিনি আবূ মারইয়াম আল-আনসারী হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদে উপর্যুক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন, তবে মারফুরূপে নয়। এ হাদীস যাইদ ইবনু হুবাবের বর্ণিত হাদীসটির তুলনায় অনেক বেশি সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

শহরের মানুষ আর গ্রামের মানুষ

ইসলাম একইসাথে গ্রামের মানুষ এবং শহরের মানুষের মধ্যে পার্থক্য করে। গ্রামবাসী যদি কোন আদালতে সাক্ষ্য দেয়, তার বিপরীতে যদি কোন শহরবাসী সাক্ষ্য দেয়, শহরবাসী ব্যক্তির সাক্ষ্যই সেখানে গ্রহণ করা হবে, শুধুমাত্র তার শহরবাসী হওয়ার কারণে! এর অর্থ কী! একজন গ্রামবাসী হলেই মিথ্যাবাদী, আর আরেকজন শহরবাসী হলেই সত্যবাদী, কোথায় বসবাস করে তার ওপর ভিত্তি করে তার সাক্ষ্যের সত্যতা নির্ধারণ খুবই অনৈতিক কাজ [15]

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ বিচার
পরিচ্ছেদঃ ৪০১. শহরবাসীদের উপর গ্রামবাসীদের সাক্ষ্যদান।
৩৫৬৩. আহমদ ইবন সাঈদ (রহঃ) ….. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বর্ণনা করতে শোনেন যে, শহরবাসীদের উপর গ্রামবাসীদের সাক্ষ্য দেওয়া বৈধ নয়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

অঞ্চল বা গোত্রভিত্তিক মানসিকতা

দুর্ভিক্ষ একটি ভয়াহব ব্যাপার। একজন সভ্য মানুষ হিসেবে আমি আমার চরম শত্রুকেও দুর্ভিক্ষের অভিশাপ দিতে পারি না। কারণ কোন অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ হলে সেখানে দলে দলে শিশুরা মারা যায়, নারী এবং বৃদ্ধরা মারা যায়, প্রতিবন্ধীরা মারা যায়। এমনকি, কেউ চিহ্নিত অপরাধী হয়ে থাকলেও, দুর্ভিক্ষে না খেতে পেয়ে কেউ তিলে তিলে মারা যাক, এমনটাও আমি কখনো কামনা করি না। আমার চরম শত্রুও যদি দুর্ভিক্ষের সময় আমার কাছে একটু খাদ্য চায়, আমি তাকে খাদ্য দেবো; যদি আমার কাছে থাকে। ধর্ম বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তাকে সাহায্য করবো না। তার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে মাথাই ঘামাবো না। তাদের অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ হোক, এমনটা কামনা করা বা এমনটা অভিশাপ দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না। নিচের হাদিস দুইটি পড়ুন, যেখানে নবী মুহাম্মদ মুযার গোত্রের ওপর অভিশাপ দিচ্ছে, যেন তাদের অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ হয়। তর্কের খাতিরে ধরে নিই, মুযার গোত্রের কোন একজন খুব চরম কোন অন্যায় করেছিল। কিন্তু সেই একজন বা কয়েকজনার অপকর্মের দায়ে পুরো গোত্র সুদ্ধ মানুষকে অভিশাপ দেয়া, যেখানে নারী শিশু প্রতিবন্ধী মানুষ সকলেই আছে, তাদের সকলকে দুর্ভিক্ষের অভিশাপ দেয়া যেন, তারা সকলে মিলে খাবার অভাবে কষ্ট পেয়ে তিলে তিলে মারা যায়, এগুলো কীভাবে কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের কাজ হতে পারে, আমি জানি না [16] [17]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৫/ বৃষ্টির জন্য দু’আ
পরিচ্ছেদঃ ৬৩৬. নবী (ﷺ) এর দু’আ ইউসুফ (আঃ) এর যমানার দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর মত (এদের উপরেও) কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ দিন।
৯৫২। কুতাইবা ইবনু সায়ীদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শেষ রাকাআত থেকে মাথা উঠালেন, তখন বললেন, হে আল্লাহ! আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী’আহকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! সালামা ইবনু হিশামকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে রক্ষা করুণ। হে আল্লাহ! দুর্বল মু’মিনদেরকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রের উপর আপনার শাস্তি কঠোর করে দিন। হে আল্লাহ! ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর যমানার দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর ন্যায় (এদের উপর) কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন। আর আসলাম গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে নিরাপদে রাখুন। ইবনু আবূ যিনাদ (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বলেন, এ সমস্ত দু’আ ফজরের সালাতে ছিল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৫/ বৃষ্টির জন্য দু’আ
পরিচ্ছেদঃ ৬৩৬. নবী (ﷺ) এর দু’আ ইউসুফ (আঃ) এর যমানার দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর মত (এদের উপরেও) কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ দিন।
৯৫৩। হুমাইদী ও উসমান ইবনু আবূ শাইবা (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন লোকদেরকে ইসলাম বিমুখ ভুমিকায় দেখলেন, তখন দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর যামানার সাত বছরের (দুর্ভিক্ষের) ন্যায় তাঁদের উপর সাতটি বছর দুর্ভিক্ষ দিন। ফলে তাঁদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ আপতিত হল যে, তা সব কিছুই ধ্বংস করে দিল। এমনকি মানুষ তখন চামড়া, মৃতদেহ এবং পচা ও গলিত জানোয়ারও খেতে লাগলো। ক্ষুদার তাড়নায় অবস্থা এতদূর চরম আকার ধারণ করল যে, কেউ যখন আকাশের দিকে তাকাত তখন সে ধুঁয়া দেখতে পেত। এমতাবস্থায় আবূ সুফিয়ান (ইসলাম গ্রহনের পূর্বে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মদ! তুমি তো আল্লাহর আদেশ মেনে চল এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখার আদেশ দান কর। কিন্তু তোমার কওমের লোকেরা তো মরে যাচ্ছে। তুমি তাঁদের জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ কর। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’লা বলেছেনঃ
‏فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ‏‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏‏عَائِدُونَ * يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى
আপনি সে দিনটির অপেক্ষায় থাকুন যখন আকাশ সুস্পষ্ট ধুঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাবে সেদিন আমি প্রবলভাবে তোমাদের পাকড়াও করব”। (৪৪ঃ ১০-১৬)
আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, সে কঠিন আঘাত এর দিন ছিল বদরের যুদ্ধের দিন। ধুঁয়াও দেখা গেছে, আঘাতও এসেছে। আর মক্কার মুশরিকদের নিহত ও গ্রেফতারের যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, তাও সত্য হয়েছে। সত্য হয়েছে সুরা রুম-এর এ আয়াতও (রুমবাসী দশ বছরের মধ্যে পারসিকদের উপর আবার বিজয় লাভ করবে)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ‌ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ)

একইসাথে, কোন বিশেষ মানুষ বা কয়েকজন মানুষের ভাল কোন কাজের জন্য পুরো গোত্রের মানুষের জন্য নবী মুহাম্মদ দোয়া করতেন। এটিও তো অবিচার। কারণ সেই অঞ্চলে একজন চরম অপরাধীও থাকতে পারে। সেই অপরাধীও শুধুমাত্র ঐ গোত্রে জন্ম নেয়ায় কিছু না কিছু বরকত পেয়ে গেল। যা তার আসলে প্রাপ্য ছিল না। কাউকে বিনা অপরাধে শাস্তি দেয়াও যেমন অন্যায়, একইভাবে কাউকে বিনা কর্মে পুরষ্কৃত করাও তো অন্যায় [18]

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৪৬/ রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তার সাহাবীগণের মর্যাদা
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. শাম ও ইয়ামানের মর্যাদা।
৩৯৫৩। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের শামদেশে বারাকাত দান করুন, হে আল্লাহ! আমাদের ইয়ামানদেশে বারাকাত দান করুন। লোকেরা বলল, আমাদের নাজদের জন্যও (দুআ করুন)। তিনি পুনরায় বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের সিরিয়ায় বারাকাত দান করুন, আমাদের ইয়ামানদেশে বারাকাত দান করুন। এবারও লোকেরা বলল, আমাদের নাজদের জন্যও (দু’আ করুন)। তিনি বললেনঃ সেখানে ভূমিকম্প, বিশৃঙ্খলা বা বিপর্যয় রয়েছে অথবা তিনি বলেছেনঃ সেখান হতেই শাইতানের শিং আবির্ভাব হবে।
সহীহ তাখরাজ ফাযায়িলিশ শাম (৮), সহীহাহ (২২৪৬)।
আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং ইবনু ‘আওনের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। হাদীসটি সালিম ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু উমার-তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

কালো, তবু সুন্দর?

সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা নানা ধরণের রূপকথা এবং দাদীনানীর মুখ থেকে অনেক গল্প শুনে বড় হই। আমাদের মন মানসিকতার ভিত্তি গঠনে সেগুলো খুব বড় প্রভাব বিস্তার করে। আমরা অনেকেই ভাবতেও পারি না, সেই ছোটবেলা থেকেই আমাদের শিক্ষা দেয়া হয় বর্ণবাদের। যেমন, আমি একটি গল্প ছোটবেলায় শুনেছিলাম, এক রাণী, তার গায়ের রঙ কালো। তার মনে বেজায় দুঃখ। তো একবার সে একটি বর পেলো। একটি পুকুরে ডুব দিলে সে ফর্সা হয়ে যাবে। সে পুকুরে গিয়ে ডুব দিলো, অমনি ফর্সা হয়ে গেল। সেই রানীর এক সতীন ছিল। সে ছিল ফর্সা। সে এই ঘটনাটি জেনে গেল। তো আরো বেশি ফর্সা হওয়ার জন্য সে ঐ পুকুরে অনেকবার গিয়ে ডুব দিতে লাগলো। কিন্তু দেখা গেল, অনেকবার ডুব দেয়ার কারণে সে কালো হয়ে গেছে। গল্পটি দ্বারা আমাদের শেখানোর চেষ্টা হয়েছিল যে, অতি লোভ করতে নেই। কিন্তু, একইসাথে আমরা এটিও শিখেছিলাম যে, ফর্সা হওয়াটাই সুন্দর। মানে ফর্সা মানেই সৌন্দর্য্য, কালো মানেই কুৎসিত! যা ছিল অত্যন্ত নোংরা বর্ণবাদী একটি ধারণা।

বড় হওয়ার পরেও টেলিভিশন, মিডিয়া, সংবাদপত্রে একই ধরণের বিজ্ঞাপন দেখতাম। একটি মেয়ে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে, তার গায়ের রঙ কালো। তাকে চাকরিটি দেয়া হলো না। সে ফেয়ার এন্ড লাভলি কিনলো। মাখলো। দুই সপ্তাহেই সে হয়ে উঠলো ফর্সা। এরপরে তাকে চাকরিতে নেয়া হলো। যে তাকে দেখে সেই প্রেম করতে চায়। সে এক দারুণ অবস্থা! এইসব বিজ্ঞাপন দ্বারা আসলে খুব কৌশলে মানুষের মধ্যে এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করে দেয়া হয় যে, কালো মানেই অসুন্দর, আর ফর্সা মানেই সুন্দর। সাহিত্যে, শিল্পকলায়, গানে, সিনেমায়, সব জায়গাতেই লক্ষ্য করলে দেখবেন, গল্পটির অশুভ বা খলনায়ক চরিত্রটি হয় কালো চামড়ার, আর শুভ চরিত্রটির গায়ের চামড়া হয় ফর্সা। যুগযুগ ধরে কালো বেড়াল আমাদের দেশে অশুভ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। ডাউনি, পেত্নী, রাক্ষুসী এগুলো সবকিছুর কথা মনে হলেই, মানসিকভাবেই আমাদের চোখে ভেসে আসে কালো গায়ের রঙের একজনার ছবি। অবচেতনভাবেই আমরা ভেবে নিই, সে কালোই হবে। আর দেবদূত বা ফেরেশতা বা দেবতা হিসেবে কল্পনা করলে, মনের মধ্যে ভেসে আসে ফর্সা ধবধবে একজনার ছবি। সাদা দাড়িওয়ালা সাদা জামা পড়া একজনার ছবি। এগুলো সেই ছোটবেলাতেই আমাদের মগজে এমনভাবে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, এসব বর্ণবাদী চিন্তা থেকে বের হওয়া খুব কঠিন ব্যাপার।

কিছুদিন আগে বাঙলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র প্রথম আলো “কালো, তবু সুন্দর” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। লক্ষ্য করলে দেখবেন, এখানে তবু শব্দটি দিয়ে যাদের গায়ের রঙ কালো, তাদের সম্পর্কে অসম্ভব নোংরা এবং বর্ণবাদী চিন্তা প্রকাশ করা হয়েছে। তবু, যদিও, তবুও, এমনকি, এই শব্দগুলো কখন এবং কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটি আমরা সকলেই বুঝি। এর অর্থ হচ্ছে, উনি কালো, তারপরেও সুন্দর! যেন কালো মানুষ মাত্রই অসুন্দর, তবে এই কালো মেয়েরা কালো হওয়ার পরেও সুন্দর! অত্যন্ত নোংরা এবং ইতর শ্রেণির এই প্রতিবেদন বিপুল সমালোচনার শিকার হয়, এবং পরবর্তীতে তারা তাদের শিরোনামটি বদলে ফেলতে বাধ্য হয়। এই নিয়ে বিবিসির এই প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন [19]

বর্ণবাদ

কিছু গবেষণাতে এই বিষয়গুলোর সরাসরি প্রমাণও পাওয়া গেছে যে, ছোটবেলা থেকে কালো গায়ের চামড়ার মানুষদের সম্পর্কে অন্য কোন তথ্য না জেনেই, একটি স্বাভাবিক ধারণা তৈরি থাকে যে, কালো মানুষ মাত্রই খারাপ মানুষ। নিচের ভিডিওটি দেখুন, এখানে কয়েকজন শিশুর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। পরীক্ষাটিতে এমনকি কালো চামড়ার শিশুরাও কালো রঙের পুতুলগুলোকে অসুন্দর এবং খারাপ চরিত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, আমরা সেই ছোটবেলা থেকেই এই ধারণাগুলো মানুষের মধ্যে ঢুকিয়ে দিই [ Clark Doll experiments ] ।

মুহাম্মদের গায়ের রঙ

এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসতে পারে, নবী মুহাম্মদ ব্যক্তিগতভাবে কীরকম ছিলেন? তার গায়ের রঙ কেমন ছিল? আসুন হাদিস থেকেই সেটিও জেনে নিই [20] [21]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৫/ ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ ২৮. নবী (ﷺ) এর দিলে কমনীয় (লালচে) শুভ্র চেহারার অধিকারী
৫৮৬২। সাঈদ ইবনু মানসুর (রহঃ) … আবূ তুফায়ল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (জুরায়রী) বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি ছিলেন ফর্সা, লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী।
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ) বলেন, একশ হিজরীতে আবূ তুফায়ল (রাঃ) ইন্তেকাল করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে তিনই সর্বশেষে ইন্তেকাল করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুত্ব তুফায়ল (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৫/ ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ ২৮. নবী (ﷺ) এর দিলে কমনীয় (লালচে) শুভ্র চেহারার অধিকারী
৫৮৬৩। উবায়দুল্লাহ ইবনু উমর কাওয়ারীরী (রহঃ) … আবূ তুফায়েল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন আমি ছাড়া এমন কেউ দুনিয়ায় আর অবশিষ্ট নেই। রাবী বলেন, আমি বললাম, তাঁকে কেমন দেখেছেন? তিনি বললেন, ফর্সা, লাবণ্যময় এবং মধ্যমাকৃতির।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুত্ব তুফায়ল (রাঃ)

পাপের রঙ কালো?

নবী মুহাম্মদ অনেক জায়গাতেই পাপ হিসেবে কালো রঙকে চিহ্নিত করেছে। আর পুন্য হিসেবে সাদা রঙকে চিহ্নিত করেছেন। যেমন ধরুন, হাজরে আসওয়াদ নামক পাথরটি জান্নাত থেকে যখন অবতীর্ন হয়েছিল, তখন সেটি ছিল দুধের থেকেও শুভ্র, মানে হচ্ছে পবিত্র এবং পাপমুক্ত। কিন্তু পৃথিবীর মানুষের পাপের কারণে এটি কালো রঙ ধারণ করে [22]

সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৯/ হাজ্জ (হজ্জ)
পরিচ্ছেদঃ হাজরে আসওয়াদ রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের ফযীলত।
৮৭৮. কুতায়বা (রহঃ) ……. ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ন হয়েছিল তখন সেটি ছিল দুধ থেকেও শুভ্র। মানুষের গুণাহ- খাতা এটিকে এমন কালো করে দিয়েছে। – মিশকাত ২৫৭৭, তা’লীকুর রাগীব ২/১২৩, আল হাজ্জুল কাবীর, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

আরো অনেকগুলো হাদিসে পাপকে কালো রঙের সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে, আর সাদাকে করা হয়েছে পুন্যের সাথে [23] [24] [25]

সুনানে ইবনে মাজাহ
৩১/ পার্থিব ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি
পরিচ্ছেদঃ ৩১/২৯. পাপের স্মরণ
৩/৪২৪৪। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি যখন গুনাহ করে তখন তার কলবে একটি কালো দাগ পড়ে। অতঃপর সে তওবা করলে, পাপকাজ ত্যাগ করলে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে তার কলব পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সে আরও গুনাহ করলে সেই কালো দাগ বেড়ে যায়। এই সেই মরিচা যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন (অনুবাদঃ) ‘‘কক্ষনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং (মরিচা) ধরিয়েছে’’ (সূরা আল-মুতাফফিফীনঃ ১৪)।
তিরমিযী ৩৩৩৪, আহমাদ ৭৮৯২, আত-তালীকুর রাগীব ২/২৬৮, ৪/৭৪। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ কুরআন তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ সূরা ওয়াইলুল-লিল-মুতাফফিফীন
৩৩৩৪. কুতায়বা (রহঃ) ….. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন কোন গুনাহ করে তখন তার হৃদয়ে একটি কাল দাগ পড়ে। পরে যখন সে গুনাহ থেকে বিরত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে ও তাওবা করে তখন তার হৃদয় উজ্জ্বল হয়ে যায়। কিন্তু সে যদি পুনরাবৃত্তি করে তবে কাল দাগ বৃদ্ধি পায়। এমনকি তার হৃদয়ের উপর তা প্রবল হয়ে উঠে। এই আবস্থাটিকেই আল্লাহ তা’আলা রা’ন (মরচে পড়া) বলে উল্লেখ করেছেনঃ (كلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ) – কখনও নয়, বরং এদের কৃতকর্মেও দরুন এদের হৃদয়ে জং ধরেছে। (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩ঃ ১৪)।
হাসান, আত তা’লীকুর রাগীব ২/২৬৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. কতকের অন্তর থেকে ঈমান ও আমানতদারী উঠিয়ে নেয়া এবং অন্তরে ফিতনার সৃষ্টি হওয়া
২৬৭. মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) … হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদিন আমরা উমর (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছ? উপস্থিত একদল বললেন, আমরা শুনেছি। উমর (রাঃ) বললেন, তোমরা হয়ত একজনের পরিবার ও প্রতিবেশীর ফিতনার কথা মনে করেছ। তারা বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, সালাত (নামায/নামাজ), রোযা ও সা’দকার মাধ্যমে এগুলোর কাফফারা হয়ে যায়। উমর (রাঃ) বললেন, না, আমি জানতে চেয়েছি, তোমাদের কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সে বৃহৎ ফিতনার কথা আলোচনা করতে শুনেছে, যা সমুদ্র তরঙের মত ধেয়ে আসবে।
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, প্রশ্ন শুনে সবাই চুপ হয়ে গেল। আমি বললাম, আমি (শুনেছি)। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি শুনেছ, মা-শা আল্লাহ। হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, চাটাই বুননের মত এক এক করে ফিতনা মানুষের অন্তরে আসতে থাকে। যে অন্তরে তা গেঁথে যায়, তাতে একটি করে কাল দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তা প্রত্যাখ্যান করবে, তাতে একটি করে শুভ্রোজ্জ্বল চিহ্ন পড়বে। এমনি করে দুটি অন্তর দুধরনের হয়ে যায়। একটি শ্বেত পাথরের মত; আসমান ও যমীন যতদিন থাকবে ততদিন কোন ফিতনা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর অপরটি হযে যায় উল্টানো কাল কলসির মত, প্রবৃত্তি তার মধ্যে যা সেঁধে দিয়েছে তা ছাড়া ভালমন্দ বলতে সে কিছুই সে চিনে না।
হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, উমর (রাঃ) কে আমি আরো বললাম, আপনি এবং সে ফিতনার মধ্যে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। অচিরেই সেটি ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর (রাঃ) বললেন, সর্বনাশ! তা ভেঙে ফেলা হবে? যদি ভেঙে ফেলা না হতো, তাহলে হয়ত পূনরায় বন্ধ করা যেত। হুযায়ফা (রাঃ) উত্তর করলেন, না ভেঙে ফেলাই হবে। হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি উমর (রাঃ) কে এ কথাও শুনিয়েছি, সে দরজাটি হল একজন মানুষ; সে নিহত হবে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবে। এটি কোন গল্প নয় বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস। বর্ণনাকারী আবূ খালিদ বলেন, আমি সা’দকে জিজ্ঞেস করলাম,أَسْوَدُ مُرْبَادًّا এর অর্থ কি? উত্তরে তিনি বললেন, ‘কালো-সাদায় মিশ্রিত রং-। আমি বললাম,الْكُوزُ مُجَخِّيًا এর অর্থ কি? তিনি বললেন ‘উল্টানো কলসি’।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ হুযাইফাহ (রাঃ)

মহামারী ও অশুভ হচ্ছে কালো

নবী মুহাম্মদ স্বপ্নে দেখলেন একজন এলোমেলো চুলের নারীকে, যার গায়ের রঙ কালো। সে আসলে ছিল মহামারী। অর্থাৎ, একটি অশুভ চরিত্রকে চিত্রিত করতে নবী কালো গায়ের চামড়ার একজন নারীকে স্বপ্নে দেখেছেন, তার সাহাবীরাও এর ব্যাখ্যা হিসেবে বুঝে নিয়েছে যে, সেই কালো রঙের মহিলাটি ছিল অশুভ মহামারী! [26] [27]

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩২/ স্বপ্ন ও তার তাৎপর্য
পরিচ্ছেদঃ ১০. স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়িপাল্লা ও বালতি দর্শন
২২৯০৷ আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বপ্ন দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি এলোমেলো চুল ওয়ালা এক কালো মহিলাকে মদীনা হতে বের হয়েমাহইয়াআহ-তে গিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি। মাহইয়াআহ হলো জুহফা। তারপর আমি এর ব্যাখ্যা করেছি যে, মাদীনার মহামারী জুহফাতে স্থানান্তরিত হলো।
সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯২৪), বুখারী।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ গারীব।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা
পরিচ্ছেদঃ ৯১/৪২. স্বপ্নে কালো মহিলা দেখা।
৭০৩৯. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মাদ্বীনাহ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বপ্নের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন। তিনি বলেছেনঃ আমি দেখেছি এলোমেলো চুল ওয়ালা একজন কালো মহিলা মাদ্বীনাহ থেকে বের হয়েছে। অবশেষে মাহইয়ায়া নামক জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। আমি এর ব্যাখ্যা করলাম যে, মাদ্বীনাহর মহামারী মাহইয়া‘আহ তথা জুহ্ফা নামক জায়গায় স্থানান্তরিত হল। [৭০৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

কালো কুকুর হচ্ছে শয়তান

নবী বলেছেন, কালো কুকুর হচ্ছে শয়তান [28] [29] , সেগুলোকে হত্যা করতে হবে [30]। মানব ইতিহাসে অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যে, কালো রঙের কুকুর অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। আমি নিজেই এরকম কয়েকটি ঘটনার সাক্ষী। সেইসব কালো কুকুর শয়তান হয়ে থাকলে, এত এত মানুষের জীবন তারা কেন রক্ষা করলো? কালো কুকুর মাত্রই কেন শয়তান, কেন অশুভ, কেন খারাপ, কেন হত্যাযোগ্য, এর থেকে কী বোঝা যায়, সেটি পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [1020]
অধ্যায়ঃ ৪/ কিতাবুস স্বলাত
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৫০. মুসল্লীর সুতরার পরিমাণ
১০২০। আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ-সালাত (নামায/নামাজ)-এ দাঁড়াবে, তখন তার সম্মুখে হাওদার পিছনের কাষ্ঠ পরিমাণ কোনও বস্তু রেখে দিবে। যদি এরূপ কোনও বস্তু না থাকে, তবে তার সম্মুখ দিয়ে গাধা স্ত্রীলোক ও কালো কুকুর গমন করলে তার সালাত (নামায/নামাজ) ভঙ্গ হয়ে যাবে।
রাবী ইবনু সামিত বলেন, আমি বললাম, হে আবূ যার! লাল কুকুর ও হলুদ কুকুর থেকে কালো কুকুরকে পৃথক করার কারণ কি? তিনি জওয়াব দিলেন, হে ভাতিজা, আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমার মত এই বিষয়টি জিজ্ঞাস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, কালো কুকুর একটি শয়তান।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

 সহিহ মুসলিম
সহিহ মুসলিম

গ্রন্থের নামঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [2836]
অধ্যায়ঃ ১১/ শিকার প্রসঙ্গে
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯৯. শিকারে উদ্দেশ্যে বা অন্য কোন প্রয়োজনে কুকুর পোষা।
২৮৩৬. মুসাদ্দআদ (রহঃ) ……….. ‘আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কুকুর আল্লাহ্ তা‘আলার বহুজাতিক সৃষ্টজীবের মাঝে এক জাতীয় সৃষ্টি না হত, তবে আমি তাদের হত্যা করার নির্দেশ দিতাম। এখন তোমরা তাদের থেকে কেবল কালবর্ণের কুকুরকেই হত্যা করবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

জান্নাতে গায়ের রঙ হবে ফর্সা

ইসলামে মুমিনদের জন্য নির্ধারিত অনন্ত ভোগ বিলাস, আরাম আয়েস আর যৌনতার স্থান জান্নাতে সকল মানুষের গায়ের রঙ হবে ফর্সা। কারণ, জান্নাতে কোন অপবিত্র কিছু থাকতে পারে না। এর দ্বারা এটি খুব পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায় যে, ইসলামে ফর্সা আসলে সৌন্দর্য্য বা পবিত্রতার প্রতিশব্দ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। আর কালো ব্যবহৃত হয় অশুভ বা খারাপ কিছু বোঝাতে [31] [32]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছেদঃ ২০০০. আদম (আঃ) ও তাঁর সন্তানদের সৃষ্টি।
৩০৯২। কুতায়বা ইবনুু্‌ সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল। তারপর যে দল তাদের অনুগামী হবে তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশের সর্বাদিক দীপ্তমান উজ্জ্বল তারকার মত। তারা না করবে পেশাব আর না করবে পায়খানা। তাদের থুথু ফেলার প্রয়োজন হবে না এবং তাদের নাক হতে শ্লেম্মাও বের হবে না। তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের তৈরি। তাদের ঘাম হবে মিস্‌কের ন্যায় সুগন্ধপূর্ণ। তাদের ধনুচি হবে সুগন্ধযুক্ত চন্দন কাঠের। বড় চক্ষু বিশিষ্ট হুরগণ হবেন তাদের স্ত্রী। তাদের সকলের দেহের গঠন হবে একই। তারা সবাই তাদের আদি-পিতা আদম (আলাইহিস সালাম) এর আকৃতিতে হবেন। উচ্ছতায় তাদের দেহের দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত বিশিষ্ট।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা
পরিচ্ছেদঃ ৫৯/৮. জান্নাতের বর্ণনা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে আর তা হল সৃষ্ট।
৩২৫৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল হবে আর তাদের অনুগামী দলের চেহারা আকাশের উজ্জ্বল তারকার চেয়েও অধিক সুন্দর ও উজ্জ্বল হবে। তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মত হবে। তাদের মধ্যে কোন বিদ্বেষ থাকবে না, কোন হিংসা থাকবে না, তাদের প্রত্যেকের জন্য ডাগর ডাগর চোখওয়ালা দু’জন করে এমন স্ত্রী থাকবে, যাদের পদ তলের অস্থি মজ্জা ও গোশ্ত ভেদ করে দেখা যাবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০২৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

নিচের এই হাদিসটিতে বলা হচ্ছে, জাহান্নামে পাপীদের গায়ের রঙ কালো হয়ে যাবে, আর তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করালে তারা ফর্সা হয়ে যাবে [33]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৮০. সর্বনিম্ন মর্যাদার জান্নাতবাসী
৩৬৯। হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) … ইয়াযীদ আল ফাকীর (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, খারিজীদের একটি মত, আমাকে বড়ই আকৃষ্ট করছিল। আমরা একবার একটি দলের সাথে বের হই। উদ্দেশ্য ছিল হজ্জ করা তারপর মানুষের সাথে যোগাযোগ করা। আমরা মদিনা দিয়ে যাচ্ছিলাম দেখি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) একটি খুঁটির পাশে বসে লোকদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ননা করছেন। বর্ননাকারী বলেন, আর একটু এগিয়ে দেখি, তিনি জাহান্নামীদের আলোচনা তুলেছেন। আমি বললাম, হে রাসুলের সাহাবী! আপনারা এ কি বলছেন? অথচ আল্লাহ তায়াআলা ইরশাদ করেছেনঃ (অর্থ) “কাকেও আপনি অগ্নিতে নিক্ষেপ করলে তাকে তো আপনি নিশ্চয়ই হেয় করলেন” (৩ঃ ১১২)। আরো ইরশাদ করেনঃ (অর্থ) যখনই তারা জাহান্নাম হতে বেরোবার চেষ্টা করবে, তখনই ফিরিয়ে দেয়া হবে।” (৩২ঃ ২৫)
জাবির (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুরআন পাঠ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তা হলে কুরআনে তুমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সে সম্মানিত আসন, যেখানে আল্লাহ তাঁকে (কিয়ামত দিবসে) সমাসীন করবেন, সে আসনের কথা শুননি? বললাম, হ্যাঁ। জাবির (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সে আসনটি হচ্ছে “মাকামে মাহমুদ” যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা যাকে জাহান্নাম থেকে বের করার, বের করবেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর জাবির (রাঃ) পুলসিরাত স্থাপন ও মানুষ তা অতিক্রম করার কথা বর্ণনা করেন।
বর্ণনাকারী আরো বলেন, আলোচনাটি পুরোপুরি সংরক্ষণ করতে পারিনি বলে আমার আশঙ্কা হয়। তবে তিনি অনশ্যই একথা উল্লেখ করেছেন যে, কতিপয় মানুষ কিছু কাল জাহান্নামে অবস্থান করার পর, তাদেরকে বের করা হবে। জাহান্নামে আগ্নি দগ্ন হয়ে রোদেপোড়া তিল গাছের মত কালো বর্ণ ধারণ করবে, তখন তাদেরকে বের করে আনা হবে। এরপর তারা জান্নাতের একটি নহরে নেমে গোসল করবে। পরে সকলে কাগজের মত সাদা ধবধবে হয়ে সে নহর থেকে উঠে আসবে। ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস নিয়ে আমরা আমাদের এলাকায় ফিরে এলাম এবং সকলকে বললাম, অমঙ্গল হোক তোমাদের! তোমরা কি মনে কর যে, এ বৃদ্ধ (জাবির) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওপর মিথ্যা আরোপ করতে পারেন? পরিশেষে আমাদের সকলেই (ঐ ভ্রান্ত বিশ্বাস) থেকে ফিরে আসে। আল্লাহর কসম! মাত্র এক ব্যাক্তি ছাড়া কেউ আমাদের এ সঠিক আকীদা পরিত্যাগ করে নাই, বা আবূ নূয়ায়ম যা বলেছেন তার অনুরূপ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইয়াযীদ আল ফাকীর (রহঃ)

ইহুদি বিদ্বেষ কাকে বলে?

ইহুদি-বিদ্বেষ বলতে ইহুদি জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মের প্রতি যেকোনো ধরনের বৈরিতা বা কুসংস্কারকে বোঝানো হয়ে থাকে। এধরনের বিদ্বেষের মধ্যে ব্যক্তিগত ঘৃণা থেকে শুরু করে এমনকি সংঘবদ্ধ জাতি-নিধনও পড়ে। ইংরেজিতে একে বলা হয় এন্টি-সেমিটিজম (Anti-Semitism) ,যার অর্থ দাঁড়ায় সেমিটীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ। সেমিটীয় একটি বৃহৎ ভাষাভাষী গোষ্ঠী যার মধ্যে হিব্রুভাষী ছাড়াও আরবিভাষীরাও অন্তভুক্ত। তথাপি অ্যান্টি-সেমিটিজম ইহুদি-বিদ্বেষ বোঝাতেই ব্যবহৃত হয়। ইহুদি-বিদ্বেষের ইতিহাস প্রাচীন হলেও এটি চরম আকার ধারণ করে হিটলার-শাসিত জার্মানিতে। খ্রিস্টান-শাসিত ইউরোপে বৃহত্তম সংখ্যালঘু ধর্মীয়-গোষ্ঠী হিসেবে ইহুদিরা বিভিন্ন সময় ধর্মীয় বিদ্বেষ, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হত। ধর্মীয় নির্যাতনের মধ্যে ছিল – ধর্ম-পালনে বাধা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ, দেশ থেকে বিতাড়ন, ইত্যাদি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার শাসিত জার্মানি আইন করে যুগযুগ ধরে জার্মানিতে বসবাস করা ইহুদিদের ভিটেমাটি দোকানপাট জায়গাজমি সব অধিগ্রহণ করে তাদের কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে প্রেরণ করে এবং পর্যায়ক্রমে হত্যা করে। প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করা হয়। ইতিহাসে এই ঘটনা ‘হলোকস্ট’ (Holocaust) নামে পরিচিত। আসুন দেখি, এই একই কাজ নবী মুহাম্মদও করেছিলেন কিনা [34] [35]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮৫/ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯২. মহান আল্লাহর বাণীঃ মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্কপ্রিয় (১৮ঃ ৫৪)। মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কিতাবীদের সাথে বিতর্ক করবে না………. (২৯ঃ ৪৬)
৬৮৪৭। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মসজিদে নববীতে ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা চলো ইহুদীদের সেখানে যাই। আমরা তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে এলাম। অবশেষে আমরা বায়তুল মিদরাসে (তাদের শিক্ষাগারে) পৌছলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে ইহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবুল কর, এতে তোমরা নিরাপদে থাকবে। ইহুদীরা বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ আমার ইচ্ছা তোমরা ইসলাম কবুল কর এবং শান্তিতে থাক। তারাও আবার বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ আমি এরূপই ইচ্ছা রাখি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে উচ্ছেদ করে দিতে চাই। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের অস্থাবর সম্পত্তি আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। অন্যথায় জেনে রেখো যমীন আল্লাহ ও তার রাসুলের।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী
গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ১৪/ কর, ফাই ও প্রশাসক
হাদিস নাম্বার: 3003
৩০০৩। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা মাসজিদে উপস্থিত ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেনঃ ইয়াহুদীদের এলাকায় চলো। ‘আমরা তাঁর সাথে বের য়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাদেরকে ডেকে বললেনঃ হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবূল করো শান্তিতে থাকবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আবার বললেনঃ তোমরা ইসলাম কবূল করো, নিরাপত্তা পাবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ এ দাওয়াত পৌঁছে দেয়াই আমার উদ্দেশ্য ছিলো। তৃতীয় বারও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বললেনঃ জেনে রাখো! এ ভুখন্ডের মালিকানা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদের এ ভূখন্ড থেকে বিতাড়িত করতে চাই। সুতরাং তোমরা কোনো জিনিস বিক্রি করতে সক্ষম হলে বিক্রি করো। অন্যথায় জেনে রাখো! এ ভূখন্ডের মালিক আল্লাহ ও তাঁর রাসূল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

নবী

আরো অসংখ্য হাদিস রয়েছে, যেসব হাদিসে পরিষ্কারভাবেই ইহুদীদের ধর্মের ভিত্তিতে পুরো জাতি গোত্র ধরেই উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়ে গিয়েছিলেন নবী মুহাম্মদ [36] [37] [38] [39]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [4442]
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২১. ইয়াহুদী ও নাসারাদের আরব উপ-দ্বীপ থেকে বহিস্কার
৪৪৪২। যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমার কাছে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বহিস্কার করবো। পরিশেষে মুসলমান ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [4486]
অধ্যায়ঃ ৩৩। জিহাদ ও সফর
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ২১. ইয়াহুদী ও নাসারাদের আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেয়া
৪৪৮৬-(৬৩/১৭৬৭) যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ….. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার কাছে উমর ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্ৰীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেবো। তারপর মুসলিম ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৪৪)
যুহায়র ইবনু হারব ও সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ….. উভয়েই আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৪৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
হাদিস নম্বরঃ [1607]
অধ্যায়ঃ ১৯/ যুদ্ধাভিযান
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী‏
পরিচ্ছদঃ ৪৩. আরব উপদ্বীপ হতে ইয়াহুদী-নাসারাদের বের করে দেওয়া প্রসঙ্গে
১৬০৭। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ আমি ইহুদী ও নাসারাদের আরব উপদ্বীপ হতে অবশ্যই বহিষ্কার করব। মুসলমান ব্যতীত অন্য কাউকে সেখানে বসবাস করতে দিব না।
সহীহ, সহীহা (১১৩৪), সহীহ আবূ দাউদ, মুসলিম
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পরিচ্ছদঃ ৩৭০ : দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
১৩/১৮২৯। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত মুসলিমরা ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করবে। এমনকি ইহুদী পাথর ও গাছের আড়ালে আত্মগোপন করলে পাথর ও গাছ বলবে ‘হে মুসলিম! আমার পিছনে ইহুদী রয়েছে। এসো, ওকে হত্যা কর।’ কিন্তু গারক্বাদ গাছ [এরূপ বলবে] না। কেননা এটা ইহুদীদের গাছ।’’ (বুখারী-মুসলিম)
[1] সহীহুল বুখারী ২৯২৬, মুসলিম ১৫৭, ২৯২২, আহমাদ ৮৯২১, ১০৪৭৬, ২০৫০২
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

রাস্তার কিনারায় ঠেলে দিতে হবে

ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মদ ইয়াহুদী ও নাসারাদের রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাফেরা করতে দেখলে তাদের রাস্তার কিনারায় ঠেলে দিয়ে কিনারা ঘেষে চলতে বাধ্য করতে নির্দেশ দিয়ে গেছে [40] [41]

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৪০। সালাম
পরিচ্ছেদঃ ৪. আহলে কিতাব (ইয়াহুদী-নাসারা)-কে আগে সালাম করার নিষিদ্ধকরণ এবং তাদের সালামের উত্তর দেয়ার বিবরণ
৫৫৫৪-(১৩/২১৬৭) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ….. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের আগে বাড়িয়ে সালাম করো না এবং তাদের কাউকে রাস্তায় দেখলে তাকে রাস্তার পাশে চলতে বাধ্য করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৭৬, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৯৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

গ্রন্থের নামঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
হাদিস নম্বরঃ [1602]
অধ্যায়ঃ ১৯/ যুদ্ধাভিযান
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী
‏পরিচ্ছদঃ ৪১. আহলে কিতাবদের সালাম প্রদান প্রসঙ্গে
১৬০২। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদের প্রথমে সালাম প্রদান করো না। তোমরা রাস্তায় চলাচলের সময় তাদের কারো সাথে দেখা হলে তাকে রাস্তার কিনারায় ঠেলে দিও।
সহীহ, সহীহা (৭০৪), ইরওয়া (১২৭১), মুসলিম, বুখারী আদাবুল মুফরাদ, ২৮৫৫ নং হাদীসটির আলোচনা আসবে।
ইবনু উমার, আনাস ও আবূ বাসরা আল-গিফারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

অমুসলিমদের খাবার দেয়া নিষেধ

এমনকি, নবী মুহাম্মদ এতটাই সাম্প্রদায়িক ছিলেন যে, মুসলিম ছাড়া অন্য কাউকে খাবার দিতেও তিনি নিরুৎসাহিত করে গেছেন। লেখাটির শুরুতে আমি একটি গল্প বলেছিলাম, একটি হিন্দু পরিবারে আমাকে দেয়া খাবার নিয়ে। ইসলামে তো আরো ভয়াবহ অবস্থা! [42] [43]

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৫ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ ১৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ তা‘আলার জন্য বান্দার প্রতি ভালোবাসা
৫০১৮-[১৬] আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, মু’মিন ব্যতীত অন্য কাউকে বন্ধু বানাবে না এবং তোমার খাদ্য আল্লাহভীরু লোক ছাড়া যেন অন্য কেউ না খায়। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]
[1] হাসান : তিরমিযী ২৩৯৫, আবূ দাঊদ ৪৮৩২, সহীহুল জামি‘ ৭৩৪১, সহীহ আত্ তারগীব ৩০৩৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৫৪, আহমাদ ১১৩৩৭, আবূ ইয়া‘লা ১৩১৫, দারিমী ২০৫৭, শু‘আবুল ঈমান ৯৩৮২, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৭/৭৪, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৩১৩৬, আল মুসতাদরাক ৭১৬৯।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৬/ শিষ্টাচার
হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩২
১৯. যার সংস্পর্শে বসা উচিত
৪৮৩২। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি মু‘মিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেযগার লোকে খায়।[1]
হাসান।
[1]. তিরমিযী, আহমাদ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

অমুসলিমদের সাথে বসবাস করা নিষেধ

এমনকি, মূর্তি পুজারী যেমন হিন্দুদের সাথে একই এলাকায় থাকাও মুহাম্মদ নিষিদ্ধ করে গেছেন [44]

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৯/ জিহাদ
হদিস নম্বরঃ ২৭৮৭
১৮২. মুশরিকদের এলাকায় অবস্থান সম্পর্কে
২৭৮৭। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কেউ কোনো মুশরিকের সাহচর্যে থাকলে এবং তাদের সাথে বসবাস করলে সে তাদেরই মতো।[1]
[1]. সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আল্লাহর চোখে অমুসলিমগণ

এগুলো পড়ার পরে মনে হয়, আল্লাহ আসলে অমুসলিমদের কী চোখে দেখতেন? আসুন কোরআন থেকে কয়েকটি আয়াত দেখে নেয়া যাকঃ

আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। [45]
কুরআন ৯৮ঃ৬

সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি। [46]
কোরআন ৮:৫৫

নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং কাফের অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করে, সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহর ফেরেশতাগনের এবং সমগ্র মানুষের লা’নত[47]
কোরআন ২-১৬১

বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ। সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না। [48]
কোরআন ২-২৫৭

আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ। [49]
কোরআন ৭:১৭৯

আসুন তা জেনে নিই সর্বাপেক্ষ গ্রহণযোগ্য তাফসীর গ্রন্থে এই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যাতে কী বলা রয়েছে। আসুন পড়ি ইবনে কাসীর [50] ও জালালাইনের [51] প্রখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ থেকে।

অমুসলিমরা নিকৃষ্ট জীব তাফসীরে ইবনে কাসীর
অমুসলিমরা নিকৃষ্ট জীব তাফসীরে জালালাইন

উপরের তাফসীর পড়ে আপনি কী শিখলেন? ইসলাম অমুসলিম জাতিগোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে কী ধ্যানধারণা পোষণ করে?

মৃত্যুর আগে নবীর শেষ ওয়াসিয়ত

মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর মুহাম্মদ সেই শেষ সময়েও একটি অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক ওয়াসিয়ত করে গিয়েছেন। যা হচ্ছে, অমুসলিম মুশরিকদের আরব থেকে বিতাড়িত করতে। মৃত্যুর আগেই তিনি তার সাম্প্রদায়িকতার বিষ থেকে মুক্ত হতে পারেন নি। [52]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৪৮/ জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ১৯১৭. প্রতিনিধি দলকে উপঢৌকন প্রদান
১৯১৬. পরিচ্ছেদঃ জিম্মিদের জন্য সুপারিশ করা যাবে কি এবং তাদের সাথে আচার-আচরণ
২৮৩৮। কাবীসা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (কোন এক সময়) বললেন, বৃহস্পতিবার! হায় বৃহস্পতিবার! এরপর তিনি কাঁদতে শুরু করলেন, এমনকি তাঁর আশ্রুতে (যমিনের) কঙ্করগুলো সিক্ত হয়ে গেল। আর তিনি বলতে লাগলেন, বৃহস্পতিবারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ যাতনা বেড়ে যায়। তখন তিনি বললেন, তোমার আমার জন্য লিখার কোন জিনিস নিয়ে আস, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখিয়ে দিব। যাতে এরপর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট না হয। এতে সাহাবীগণ পরস্পর মতপার্থক্য করেন। অথচ নাবীর সম্মুখে মতপার্থক্য সমীচীন নয়। তাদের কেউ কেউ বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া ত্যাগ করেছেন?’
তিনি বললেন, ‘আচ্ছা’ আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও। তোমরা আমাকে যে অবস্থার দিকে আহবান করছো তার চেয়ে আমি যে অবস্থায় আছি তা উত্তম। ’ অবশেষে তিনি ইন্তেকালের সময় তিনটি বিষয়ে ওসীয়ত করেন। (১) মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বিতাড়িত কর, (২) প্রতিনিধি দলকে আমি যেরূপ উপঢৌকন দিয়েছি তোমরাও আনুরূপ দিও (রাবী বলেন) তৃতীয় ওসীয়তটি আমি ভুলে গিয়েছি। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ও ইয়াকুব (রহঃ) বলেন, আমি মুগীরা ইবনু আবদুর রাহমানকে জাযীরাতুল আরব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, তাহল মক্কা, মদিনা ইয়ামামা ও ইয়ামান। ইয়াকূব (রহঃ) বলেন, ‘তিহামা আরম্ভ হল ‘আরজ থেকে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

উপসংহার

উপরের দীর্ঘ আলোচনাতে এটি একদমই পরিষ্কার যে, ইসলামে জাতিভেদ বা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি ভাল বক্তব্য যেমন আছে, একইসাথে অনেকগুলো বর্ণবাদী এবং জাতিভেদের পক্ষের বক্তব্যও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, আধুনিক সময়ের মুসলিমগণ খারাপ কথাগুলোকে লুকিয়ে ভাল কথাগুলোকে বেশী বেশী প্রচার করেন। কিন্তু এতে আসলে একটি খণ্ডিত ধারণা পাওয়া সম্ভব। যেসব জায়গাতে বর্ণবাদী এবং জাতিভেদের সমর্থনের কথাগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কথা না বললে, সেগুলোর সমালোচনা না করলে সত্যের অপলাপ হবে। সত্যের স্বার্থেই সকল প্রকারের বর্ণবাদের সমালোচনা করে যেতে হবে। এতে কে খুশী হলো আর কে অনুভূতিতে আঘাতপ্রাপ্ত হলো, সেগুলো আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।

তথ্যসূত্রঃ
  1. কোরআন ৪৯/১৩ []
  2. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিস নম্বর-২০৪৯ []
  3. Farewell Sermon: Your Lord is one, your father Adam is one []
  4. মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস নম্বর- ৩৬৬৩ []
  5. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৬৫৭ []
  6. সহজ দরসে ইবনে মাজাহ , পৃষ্ঠা ১২২, ১২৩ []
  7. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৪৫৫০ []
  8. সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৪৫৯৭ []
  9. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৬৫৪ []
  10. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৬৫৫ []
  11. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৬৫৮ []
  12. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ৩৯০৫ []
  13. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৫৮৩২ []
  14. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ৩৯৩৬ []
  15. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৩৫৬৩ []
  16. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৯৫২ []
  17. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৯৫৩ []
  18. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ৩৯৫৩ []
  19. কালো বা ফর্সা: বাংলাদেশে সৌন্দর্যের নির্ধারক কেন গায়ের রং? []
  20. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৫৮৬২ []
  21. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৫৮৬৩ []
  22. সূনান তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৮৭৮ []
  23. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর- ৪২৪৪ []
  24. সূনান তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৩৩৩৪ []
  25. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ২৬৭ []
  26. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ২২৯০ []
  27. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বর- ৭০৩৯ []
  28. সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ১০২০ []
  29. সহিহ মুসলিম, খণ্ড ২, ইসলামিক সেন্টার পাবলিকেশন্স, ডাউনলোড লিঙ্ক দেখুন []
  30. সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ২৮৩৬ []
  31. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৩০৯২ []
  32. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বর- ৩২৫৪ []
  33. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৩৬৯ []
  34. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৮৪৭ []
  35. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), আল্লামা আলবানী একাডেমী, হাদিস নাম্বার- ৩০০৩ []
  36. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৪৪৪২ []
  37. সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৪৪৮৬ []
  38. সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত], হাদিস নম্বর- ১৬০৭ []
  39. রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন), হাদিস নম্বর- ১৮২৯ []
  40. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৫৫৫৪ []
  41. সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত], হাদিস নম্বর- ১৬০২ []
  42. মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস নম্বর- ৫০১৮ []
  43. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস নম্বর- ৪৮৩২ []
  44. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস নম্বর- ২৭৮৭ []
  45. কোরআন ৯৮:৬ []
  46. কোরআন ৮:৫৫ []
  47. কোরআন ২:১৬১ []
  48. কোরআন ২:২৫৭ []
  49. কোরআন ৭:১৭৯ []
  50. তাফসীরে ইবনে কাসীর (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৮১ []
  51. তাফসীরে জালালাইন, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৮ []
  52. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর ২৮৩৮ []

Leave a Reply

%d bloggers like this: