fbpx

শামসুল আরেফিন শক্তির শক্তিশালী লুকোচুরি

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

ইসলামী শরিয়া নিয়ে সকল বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের একটি চরম আপত্তির জায়গা হলো ইসলামে যুদ্ধবন্দী নারীদাসীদের সাথে মুমিন পুরুষের যৌন সম্পর্কের বৈধতা প্রদান। কেবল বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরাই নন, স্বয়ং বিবেকবান মুসলিমেরাও এই বিষয়টি নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতে ভোগেন। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। ইসলামে যেখানে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে মহাপাপ হিসেবে ধরা হয়, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের শাস্তি যেখানে একশ বেত্রাঘাত বা বিবাহিতের ক্ষেত্রে পাথর ছুড়ে হত্যা, যেই ইসলাম সমাজকে যৌনতামুক্ত করার জন্য নারীদের কঠোর পর্দার মাঝে রাখে, সেখানে একজন মুমিনকে কীভাবে দাসী ও যুদ্ধবন্দীনিদের সাথে যৌনসম্পর্ক করার অনুমতি দেয়া হয়!!! আবার যেখানে স্ত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ চারটিতে সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে, সেখানে একজন মুমিনের দাসীর সংখ্যা কোন লিমিট রাখা হয়নি [1] [2]। আশ্চর্য না!!!

এই অস্বস্তি কাটাতে মুমিনেরা অনেক কাজই করেছে। অনেক মুমিন সরাসরি অস্বীকার করে বলছে যে এই বিধান ইসলামেই নেই। অনেকে বলেছে বর্তমান সময়ে এই বিধান প্রযোজ্য নয় যেহেতু দাসপ্রথা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু কুরআন ও সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থে জ্বল জ্বল করছে দাসী সঙ্গমের বৈধতা দেয়ার বিধান। মুমিনেরাও জানে যে কোন মানবসৃষ্ট আইনই কুরআন ও হাদিস যাকে বৈধ করেছে তাকে অবৈধ করতে পারে না। ফলে এখন অনেক মুমিনই চেষ্টা করছে এই যুদ্ধবন্দী নারী ও দাসী সঙ্গমের বিষয়টিকে একটি মানবিক বিধান হিসেবে তুলে ধরতে। চেষ্টা করছে এর বিভিন্ন উপকারী দিক তুলে ধরতে।

এমন এক প্রচেষ্টাই করেছেন ডাঃ শামসুল আরেফিন শক্তি তাঁর “ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে। অধ্যায়ের নাম “দক্ষিণ হস্ত মালিকানাঃ একটি নারীবাদী বিধান”। যারা হাদিস ও কুরআন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন তারা সবাই জানেন “দক্ষিণ হস্ত মালিকানা” বলতে দাসী অথবা যুদ্ধবন্দী নারীর মালিকানা লাভকে বোঝানো হয়ে থাকে। শক্তি সাহেবের মতে দাসী ও বন্দিনীর মালিকানা লাভ এবং সেই সূত্রে তাঁর সাথে সঙ্গমের বৈধতা লাভ আসলে সেই দাসী ও বন্দিনী নারীর জন্যই নানাভাবে উপকারী, এবং তাই এটি একটি নারীবাদী বিধান।

ডবল স্ট্যান্ডার্ড বইটির বক্তব্য এবং খণ্ডন

পুরো অধ্যায়ে শক্তি সাহেব দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে যুদ্ধবন্দীনিকে দাসী বানানোর মূল উদ্দেশ্য তাকে ভোগ করা না বরং এক যুদ্ধবিদ্ধস্ত নারী যে যুদ্ধে তাঁর স্বজনদের হারিয়েছে তাঁকে একটি নিরাপদ আশ্রয় দেয়া [3] [4] [5]। তবে হাদিস বা কুরআনে কোথাও বলা নেই এই দাসী বানিয়ে সঙ্গম করার মূল উদ্দেশ্য নিরাপত্তা প্রদান। এই মূল উদ্দেশ্যের দাবী শক্তি সাহেবের একান্তই নিজস্ব। তারপরেও সুবহানাল্লাহ! আসলেই কতই না সুন্দর মূল উদ্দেশ্য। যুদ্ধবন্দীনিকে দাসী বানানোর মূল উদ্দেশ্য যে তাকে ভোগ করা না বরং তাকে আশ্রয় প্রদান এর সপক্ষে প্রাথমিক একটি যুক্তি তিনি দেখিয়েছেন যে মুজাহিদ বন্দিনীর মালিকানা পাবার সাথে সাথেই বন্দিনীর শরীরে হাত দিতে পারেন না, মাসিক হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে এবং গর্ভবতী হলে সন্তান জন্মদান পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সরাসরি তার বই থেকে তুলে ধরছি [6]

শক্তি

তৃতীয় লাইন “ফলে শক কাটিয়ে বাস্তবতা মেনে নেয়ার সময় পাবে” সম্পূর্ণ শক্তি সাহেবের নিজস্ব উদ্ভাবন। এখানে শক্তি সাহেব যে হাদিস থেকে এই একবার মাসিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার বিধান নিয়েছেন সেটিও তুলে ধরছি [7]

শক্তি

এই হাদিসে অথবা কুরআনে কোথাও এই শক কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে কিছু নেই। সালাফের কেউই এই হাদিস সেভাবে বোঝেননিও। তারপরেও ধরে নিলাম শক্তি সাহেব বোঝাতে চাচ্ছেন ইসলাম ঘুরিয়ে পাঁচইয়ে বন্দী নারীকে শক কাটিয়ে ওঠার সময় দিচ্ছে। আপনার মনে যদি ইসলামের প্রতি আলাদা ভালোবাসা থাকে অর্থাৎ আপনি যদি ইসলামের প্রতি বায়াসড হন, তবে সাথে সাথেই আপনি বলতে পারেন “আহা! দেখেছ ইসলামের হিকমাহ! পরোক্ষভাবে বন্দিনীকে শক কাটিয়ে ওঠার সময় দিচ্ছে”। থামুন জনাব! আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে এই ওয়েটিং পিরিয়ড এক দিন থেকে এক মাসও হতে পারে আবার গর্ভবতী হলে নয় মাসও হতে পারে? অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে কোন কোন যুদ্ধবন্দী নারীকে যুদ্ধে স্বজন হারিয়ে তার শোক কাটিয়ে একদিনের মাঝেই তার মুসলিম মালিকের সাথে মিলিত হবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেতে হবে, আবার কেউ কেউ কয়েক সপ্তাহ সময় পাবে, কপাল ভালো হলে কেউ কেউ কয়েক মাস। এটা কি যৌক্তিক? আসল ব্যাপার যেকোনো স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষ বুঝতে পারবে। ইসলামে মুজাহিদকে মাসিকের অথবা প্রসবের জন্য অপেক্ষা করবে যাতে এই বন্দিনীর সাথে মিলনের ফলে যদি কোন সন্তান হয় সেটা যে তার সন্তানই সেটা জাতে নিশ্চিত হওয়া যায়। এইসব শোক কাটিয়ে ওঠার তত্ব শক্তি সাহেবের একান্তই নিজস্ব উদ্ভাবন। সালাফিস্টরা দাবী করতেই পারেন যে শক্তি সাহেব বিদাতি তত্ব প্রচার করছেন। এ কেবল শুরু।

শক্তি সাহেব বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে বার বার উল্লেখ করেছেন বন্দিনীদের দাসী বানানোর উদ্দেশ্য সেক্স না বরং আশ্রয় প্রদান। তিনি বার বার দাসদাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার করার, তাদেরকে না প্রহার করার পরামর্শমূলক হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন। কিছু ভালো ব্যবহারের পরামর্শ কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ আছে অবশ্য। অনেক সাহাবিও এই নির্দেশনাসমুহ পালন করেছেন। এটুকু সাধুবাদ পাবার যোগ্য। আবার এর উলটো ঘটনাও আছে। নবীর উপস্থিতিতেই হযরত আলী এক দাসীকে বেদম প্রহার করেছেন অথচ নবী কোন আপত্তি করেনি এমন ঘটনা আছে [8]। হযরত উমার পর্দানশিন দাসীদের রাস্তাঘাটে প্রহার করতেন এই ঘটনাও হাদিসে আছেন এবং আমাদের কাজী ইব্রাহিম হুজুর প্রকাশ্য জনসভায় এই ঘটনা গর্বভরে উল্লেখও করেছেন [9] [10]। সুতরাং দেখা গেল দাসীদের বেদম প্রহার করা একেবারে হারাম কিছু না। এবার আসা যাক শক্তি সাহেব যে দাবী করেছেন বন্দিনীদের দাসী বানানোর আসল উদ্দেশ্য সঙ্গম করা না বরং করার আসল উদ্দেশ্য তাদের আশ্রয় প্রদান সেটুকু কতটুকু সত্য। কাউকে আশ্রয় প্রদানের অর্থ হলো- দীর্ঘমেয়াদে তার খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান করা। এবার একটি হাদিসের মাধ্যমে দেখা যাক মুজাহিদ যুদ্ধবন্দী দাসীদের কতটুকু নিশ্চয়তা দিতেন। যেই হাদিস এখন উল্লেখ করা হবে সেটিকে কখনোই এই বাংলার ইসলামী লেখকদের উল্লেখ করতে দেখবেন না। এই হাদিসে তাদের সব ন্যারেটিভ ভেঙ্গে পরে।

এটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ হাদিস, অথচ কোন মুমিন ভুলেও এই হাদিসের উল্লেখ করে না। এটা এই হাদিসের প্রতি নিঃসন্দেহে একটি অবিচার

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৬/ ক্রয় – বিক্রয়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৮৪. গোলাম বিক্রয় করা
২০৮৮. আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলেন, তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা বন্দী দাসীর সাথে সংগত হই। কিন্তু আমরা তাদের (বিক্রয় করে) মূল্য হাসিল করতে চাই। এমতাবস্থায় আযল (নিরুদ্ধ সঙ্গম) সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, তোমরা কি এরূপ করে থাক? তোমরা যদি তা (আযল) না কর, তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারন মহান আল্লাহ্ তা’আলা যে সন্তান জন্ম হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই জন্মগ্রহন করবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

এখানে দেখা যাচ্ছে যে, মুজাহিদরা এমনভাবে বন্দিনীদের সাথে সংগম করতো যাতে বন্দিনীটি গর্ভবতী না হয়ে পরে এবং তাকে ভোগের পরে বাজারে বিক্রয় করে দেয়া যায়। এখানে আশ্রয়দানের বিষয়টি কোথায় জনাব শক্তি ভাই? আশ্রয় দেয়াই যদি নিয়ত হয় তবে ভোগ করে বিক্রয় করে দেয়া কেন? এই হাদিসেইতো প্রমাণ হয় যে সেক্স করা আর টাকা কামানিই মূল উদ্দেশ্য সাহাবীদের। অধ্যায়ের এক জায়গায় শক্তি ভাই অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে বন্দিনী দাসী মালিককে পছন্দ না করে তবে মালিক অন্যের কাছে বেচে দিবে এবং সেই নতুন মালিককে এই দাসী ভালোবাসেতেও পারে। তিনি হয়তো উপড়ের হাদিস পড়েই এই কথার খেলাটি খেলেছেন। পাঠককেও বুঝ দিয়েছেন যে এতে দাসীর উপকারই হল। তবে তিনি লুকাছুপি করেছেন। অন্যের কাছে বক্রয়ের আগে যে মুমিন মালিক দাসীকে ভোগ করেই নিবে এবং টাকা কামানির উদ্দেশ্যেই বেচবে, সেটা শক্তি ভাই চেপে গেছেন। 

এমন আরো উদাহরণ দেয়া যাবে যে সেক্সই মূল উদ্দেশ্য। দেখুন এই পেয়ারা সাহাবী তার দাসীদের সাথেই সংগম বেশী প্রেফার করছেন স্ত্রীদের থেকে, আবার চাইছেন না তারা গর্ভবতী হয়ে পরুক- [11]

মালিকের মুয়াত্তা, বই ২৯, হাদিস নম্বর ২৯. ৩৪. ৯৯:
….আল হাজ্জাজ ইবনে আমর ইবনে ঘাজিইয়ার বরাতে দামরা ইবনে সাঈদ আল‑মাজিনি কর্তৃক বর্ণিত: তিনি (হাজ্জাজ) জয়িদ ইবনে সাবিতের নিকট বসেছিলেন, এমন সময় ইবনে ফাহদ তার কাছে আসল। সে ইয়েমেন থেকে এসেছিল। সে বলল, “আবু সাঈদ, আমার কয়েকটি ক্রীতদাসী আছে। আমার যে কয়জন স্ত্রী আছে তারা কেউ আমাকে তাদের মতো (দাসীদের মতো) তৃপ্তি দিতে পারে না; (তবে) সবাই যে আমাকে এমন তৃপ্তি দেয় যে তাদের দ্বারা সন্তান উৎপাদন করতে হবে—তাও নয়। এমতাবস্থায় আমি কি আজল অবলম্বন কারতে পারি?” জায়িদ ইবনে সাবিত বললেন, “তোমার কী মত হাজ্জাজ?”
আমি বললাম, ‘আল্লাহ্ আপনাকে ক্ষমা করুন। আপনার কাছ থেকে জানার জন্যেই আপনার কাছে আসি। তিনি (আবারও) বললেন, ‘তোমার মত কী?’ আমি বললাম, ‘সে তোমার মর্জি, যদি তুমি ইচ্ছে করো পানি দাও; যদি ইচ্ছে করো তৃষ্ণার্ত রাখ। জায়িদের কাছে আমি এমনটিই শিখেছি। জায়িদ বললেন, ‘সে ঠিক কথাটিই বলেছে।’”

মুয়াত্তা মালিক
২৯. তালাক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. আযল এর বর্ণনা
রেওয়ায়ত ৯৯. হাজ্জাজ ইবন আমর ইবন গাযিয়্যা[1] (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন। (ইতিমধ্যে) ইয়ামানের বাসিন্দা ইবন ফাহদ (জনৈক ব্যক্তি) তাহার নিকট আসিল এবং বলিল, হে আবূ সাঈদ, আমার নিকট কয়েকটি বাদী এমন রহিয়াছে যে, আমার স্ত্রীগণ উহাদের তুলনায় আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় নহে।আমার দ্বারা উহাদের প্রত্যেকে অন্তঃসত্ত্বা হউক ইহা আমি পছন্দ করি না। তবে আমি আযল করিতে পারি কি? যায়দ বলিলেন, হে হাজ্জাজ; তুমি ফতোয়া দাও; আমি বলিলাম, আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন, আমরা আপনার নিকট ইলম শিক্ষার জন্য বসি। তিনি বলিলেনঃ হে হাজ্জাজ। ফতোয়া বলিয়া দাও। হাজ্জাজ বলিলেনঃ তারপর আমি বলিলাম-উহা তোমার ক্ষেত্রে তোমার ইচ্ছা, তুমি উহাতে পানি সিঞ্চন কর অথবা উহাকে পিপাসিত ও শুষ্ক করিয়া রাখ। তিনি বলেন, আমি ইহা যায়দ হইতে শুনিয়াছি। অতঃপর যায়দ বলিলেন, (হাজ্জাজ) সত্য বলিয়াছে।
[1] কেহ কেহ তাহাকে তাবেয়ী বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।

আবার সাহাবীরা বানু কুরাইজার যুদ্ধবন্দী-নিদের দাসী হিসেবে বাজারে বিক্রয় করে অস্ত্র খরিদ করছেন [12]। অর্থাৎ বন্দিনী ধরে বেচে দেয়াও নবীর সুন্নাহ, সেই হিসেবে মুসলিমদের জন্য রিকমেন্ডেড। নবী নিজেই বহু অনুরোধ করে এক সুন্দরী বালিকা যুদ্ধবন্দী সংগ্রহ করেছিলেন এবং সেই দাসীকে মক্কার অত্যাচারী কুরাইশদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন মুসলিম বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে [13]

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৯/ জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ২৮. বয়স্ক কয়েদীদের পৃথক রাখার অনুমতি।
২৬৮৮. হারুন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) …. ইয়াস ইবন সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ একবার আমরা আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গে রওয়ানা হই এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আমাদের নেতা নির্বাচিত করেন। আমরা ফাযারা গোত্রের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হই এবং চারদিক হতে হামলা করি। পরে আমি কিছু লোক দেখি, যাতে বাচ্চা ও মহিলারা ছিল। তখন আমি তাদের দিকে তীর নিক্ষেপ করি, যা তাদের ও একটি পাহাড়ের মাঝখানে গিয়ে পড়ে। তারা দাঁড়ালে, আমি তাদেরকে নিয়ে আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট যাই।
এর মাঝে ফাযারা গোত্রের একজন মহিলা ছিল যার পরিধানে চামড়ার পোশাক ছিল। ঐ মহিলার সাথে তার একটি মেয়ে ছিল, যে ছিল আরবের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী। আবূ বকর (রাঃ) মেয়েটিকে আমাকে দিয়ে দেন। এরপর আমি মদীনায় ফিরে আসলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি আমাকে বলেনঃ হে সালামা! তুমি ঐ মেয়েটিকে আমাকে দিয়ে দাও। তখন আমি বলিঃ আল্লাহর শপথ! সে তো আমার খুবই প্রিয় এবং আমি এখনো তার কাপড় খুলিনি (অর্থাৎ তার সাথে সহবাস করিনি।)
তখনকার মত তিনি চুপ থাকলেন। কিন্তু পরের দিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমার বাজারে দেখা হলে তিনি আমাকে বলেনঃ হে সালামা, তোমার পিতার শপথ! ঐ মেয়েটিকে আমাকে দান কর। তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর শপথ! সে আমার খুবই প্রিয় এবং এখনো আমি তার পরিধেয় বস্ত্র খুলিনি (অর্থাৎ তার সাথে সংগম করিনি)। সে আপনারই। এরপর তিনি সে মেয়েটিকে মক্কায় পাঠান এবং তার বিনিময়ে তাদের নিকট হতে মুসলিম বন্দীদের ছাড়িয়ে আনেন।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ ইয়াস ইবনু সালামাহ ইবনু আকওয়াহ (রহঃ)

এখানে আশ্রয়ের ব্যাপার স্যাপার কই পান এই শক্তি ভাই? যা লেখেন তা তিনি নিজে বিশ্বাস করে লেখেন তো? নাকি আম পাবলিককে যাতে ইসলামের আসল কদর্যতা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে না পারে তার জন্য এসব হাদিস নিয়ে শক্তিশালী লুকোচুরি খেলেন উনি? উত্তর হচ্ছে- তিনি লুকোচুরি ই খেলেন। বন্দীদের দাসী বানানোর মূল উদ্দেশ্য যে সেক্স, আশ্রয় প্রদান না তা তিনিও ভালোভাবেই জানেন। সেই গল্প বলছি। আমি একবার শক্তি ভাইয়েরই দীনি কমরেড মুশফিক মিনার ভাইকে প্রশ্ন করেছিলাম “দাসীর সাথে এমনভাবে সহবাস করা হল যে দাসী প্রেগন্যান্ট হলো না। সেক্ষেত্রে দাসীকে বিক্রয় করে নতুন দাসী খরিদ করে আনা যাবে?”। মুশফিক ভাইয়ের সোজাসাপ্টা উত্তর “যাবে” (এখানে দেখুন)। আমি এরপরে মুশফিক ভাইকে ইনবক্সে প্রশ্ন করি- “তাহলেতো ইসলামের দাসী ব্যবস্থায় ইচ্ছামত দাসীকে বিক্রয় ও নতুন দাসী ক্রয়ের রাস্তা খোলা থেকে যাচ্ছে। আবার দাসী রাখার সংখ্যা স্ত্রী সংখ্যার মতন লিমিট করে দেয়া হয়নি। তাহলে কি ইসলাম মুমিনপুরুষদের অবাধ যৌনাচারের রাস্তা খুলে দিচ্ছে না?” মুশফিক ভাইয়ের উত্তর “এভাবে চিন্তা করা যাবেনা। প্রথমে দেখতে হবে যে বিষয়টি কুরআন ও হাদিসে আছে কিনা। থাকলে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করতে হবে”। অর্থাৎ, অবাধ যৌনাচার মেনে নিতে হবে। আমি মুশফিক ভাইয়ের উধৃতি দিয়ে শক্তি ভাইকেও একই প্রশ্ন করি। নিচে দেখুন শক্তি ভাইয়ের উত্তর। শক্তি ভাই ভালো করেই জানেন যে ইসলামী দাসী প্রথার মূল উদ্দেশ্যই মুমিন পুরুষের দাসী সম্ভোগ। অগর্ভবতী দাসী ক্রয় বিক্রয় এলাও করে ইসলামই মুমিনদের অবারিত যৌনাচারের পথ খুলে দিচ্ছে। আমাদের শক্তি ভাই এই বৈধতাকে মুমিনের জন্য আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ তিনি মুমিনের লাভ স্বীকার করছেন নিজেদের প্লাটফর্মে। অথচ নিজের বইয়ে লিখেছেন সেক্স মূল উদ্দেশ্য না, আশ্রয় দানই মূল উদ্দেশ্য।

শক্তি

তবে একটা বিষয়ে শক্তি ভাইয়ের কিছু প্রশংসা প্রাপ্য। অনেক মু’মিন ভাই এই দাসী সংগমের ব্যাপারটিকে লঘু করার জন্য দাবী করে থাকেন যে দাসী সংগমের আগে দাসীর অনুমতি নিতে হবে। শক্তি ভাই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডে দেখিয়েছেন যে এই অনুমতির কোন প্রয়োজন নেই। দাসীর মালিকানা বলেই মালিক সহবাস করতে পারবে। তার মতে বন্দী অসহায় দাসী স্বজন হারানোর ট্রমা কাটানোর জন্য ওয়েটিং পিরিয়ড পাচ্ছে (এক দিন থেকে কয়েক মাস!!!), মালিক তাকে খেতে-পরতে দিচ্ছে। ফলে দাসী নিজে থেকেই সহবাসে রাজী হয়ে যাবে অথবা সহবাসে শারীরিক বাধা দিবে না [14]। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে দাসী শারীরিক বাধা দান না করলে মালিকের জন্য সহবাসে সমস্যা নেই। আমি জানি না শক্তি সাহেব বিকৃত রুচির মানুষ কিনা। আশা করি তিনি মন থেকে এমন বিশ্রী চিন্তা রাখেন না। এই পৃথিবীর যে কোন নারী অথবা পুরুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে “শারীরিক বাধা দিচ্ছে না কিন্তু অনিচ্ছুক এমন কোন মেয়ের সাথে সঙ্গম করা হলে এটি কি ধর্ষণ?”। উত্তর পাবেন “হ্যা”। সম্প্রতি সিরিয়ায় এমন অনেক কেইস পাওয়া যায় যেখানে অনেক ইয়াজিদি নারীকে আইএস মুজাহিদেরা শত শত দিন ধরে ভোগ করেছে। শারীরিক বাধা দানে এই ইয়াজিদি নারীরা অবশ্যই অক্ষম ছিলো, নইলে দিনের পর দিন এগুলো চলতে পারতো না। এই নারীদের অনেকেই পরবর্তীতে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। বেঁচে যাওয়া নারীরা পরে বিভিন্ন সাক্ষাতকারে এগুলোকে রেপ হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন। একমাত্র শক্তি সাহেবের মতন কতিপয় মানুষের কাছেই হয়তো এগুলো রেপ নয়।   

শামসুল আরেফিন শক্তি সাহেব আরো ভণ্ডামি করেছেন দাসীকে স্ত্রীর সাথে তুলনা করে। তিনি যৌনদাসী শব্দটিতে আপত্তি করেছেন, উপপত্নী শব্দ ব্যবহার করে বলেছেন যে দাসী আসলে স্ত্রীর কাছাকাছি। তিনি দাবীর সপক্ষে নিম্নোক্ত যুক্তিগুলো পেশ করেছেন [15]-

শক্তি

এমন যুক্তি দেখে যেকোন ইসলামপ্রিয়ো পাঠক মনে করবেন- আহা! দাসী হওয়া আর স্ত্রী হওয়াতো প্রায় সমান! আস্তে জনাব, আস্তে। নিচের চার্টে স্ত্রী ও দাসীর পার্থক্য তুলে ধরলাম। 

 স্ত্রীদাসী/যৌনদাসী
স্ত্রীকে কোন অবস্থাতেই বিক্রয় করা যায় না।গর্ভবতী না থাকলে বিক্রয় করে দেয়া যায়। [12]
স্ত্রীর সাথে বিনা অনুমতিতে আজল (গর্ভ ঠেকাতে, গর্ভের বাইরে বীর্যপাত) করা যাবে না।গর্ভ ঠেকাতে আজল করা যাবে কারণ গর্ভ হয়ে গেলে তাকে আর বিক্রয় করা যাবে না। [12]
একজন মু’মিন একসাথে চারজনের অধিক স্ত্রী রাখতে পারবেন না।মু’মিন যত খুশি উপপত্নী রাখতে পারবে [1] [2]
স্ত্রী বাজারে খরিদ করা যায় না।যখন খুশি যত খুশি বাজার থেকে খরিদ করা যাবে।[1] [2]
স্ত্রীর জন্য পর্দা ফরজ। পর্দা না করলে শাস্তি।উপপত্নীর জন্য পর্দা হারাম। পর্দা করলে শাস্তি। [9] [16]
দুই স্ত্রীর সাথে সহবাসের মাঝখানে গোসলের প্রয়োজন হয়।দাসীদের সাথে এক-সিরিয়ালে সংগম করা যাবে। মাঝে গোসলের প্রয়োজন নেই।[17] [18]
চিত্র: স্ত্রী ও ক্রীতদাসীর বৈসাদৃশ্যপূর্ণ অবস্থান

তা জনাব, এখন কী দাসীকে উপপত্নী মনে হচ্ছে নাকি কেবল সেক্স অবজেক্ট মনে হচ্ছে? যৌনদাসী শব্দটিই কি বেশী মানানসই না?

উপসংহার

এমন আরো বহু অসংলগ্নতায় ভর্তি জনাব ডাঃ শামসুল আরেফিন শক্তির ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের কেবল একটি চ্যাপ্টার। পরবর্তী পর্বে বাকি অসংলগ্নতাগুলো তুলে ধরার আশা রাখি।  

পরিশেষে পাঠকের জন্য কিছু কথা। অনেক পাঠক হয়তো বলবেন এখন দাসপ্রথা নেই, সকল রাষ্ট্র একমত যে যুদ্ধে কোন নারী নির্যাতন বড় ধরনের যুদ্ধাপরাধ, তাহলে এই আলোচনা কেন? তাদের উদ্দেশ্যে বলে রাখি, ইসলামে দাসপ্রথা রহিত হয়নি এবং জগতের কোন মানবসৃষ্ট আইনই ইসলামী আইনকে পরিবর্তন করতে পারে না। দুনিয়াব্যপি তাবৎ ইসলামিস্ট আন্দোলনগুলোর চূড়ান্ত লক্ষ হল জিহাদের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। যে যে স্থানেই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে সেখানেই দাসপ্রথা ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। সম্প্রতি সিরিয়াতে এরই একটি রিহার্সেল দেখেছে সারা দুনিয়া। ইয়াজিদি নারীদের বন্দী করে মাসের পর মাস ভোগ করেছে খিলাফতের মুজাহিদেরা। শিশু, বৃদ্ধা কেউই বাদ যায়নি। সুতরাং, সাধু সাবধান! ওরা আসবে, এবং শক্তি ভাইয়ের মতন লোকজন ওদের ইডিয়োলজিক্যাল ব্যাকিং দেবে।

আলোচনার শেষে পাঠকদের দুইটি সংবাদপত্রের লিঙ্ক দিচ্ছি, রিপোর্ট দুইটি পড়ে দেখবেন। রিপোর্ট দুইটি ইম্পোর্টেন্ট, কারণ একে তো আল্লাহর ওপর ভরসা না রেখে ডাক্তার সাহেব হাসপাতাল থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে গেছেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে পেশাগত দায়িত্বে অবহেলা। এই ডাক্তার সাহেবকে কেউ চেনেন কিনা, ভেবে দেখবেন।

লেখকঃ মুলহিদ শাফী

তথ্যসূত্রঃ
  1. ولا خلاف أن له أن يجمع من العدد من شاء بملك اليمين There is no difference of opinion that one may keep whatever number they wish of slaves — Tafsir al-Jassas [][][]
  2. Did scholars define a limitation of concubines a man could have? [][][]
  3. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৪১ (ফুটনোট) []
  4. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৪২ []
  5. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৪৯ []
  6. ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা-৪২ []
  7. ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা ৪২ (ফুটনোট) []
  8. ইবনে ইশাক, লাইফ অব মুহাম্মদ ( সিরাত রাসুলুল্লহা), পৃষ্ঠাঃ ৪৯৬ []
  9. মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ, ভল্যুম ২, পৃষ্ঠা ৪১, হাদিস নং ৬২৩৬ [][]
  10. মুফতি কাজী ইব্রাহীম এর ভিডিও []
  11. Maliks Muwatta Book 029, Hadith Number 099 []
  12. সিরাতে ইবনে হিশাম, ২২৭ [][][]
  13. সুনান আবু দাউদ, জিহাদ, হাদিস নং ২৬৮৮ []
  14. “দক্ষিন হস্ত মালিকানা”, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা- ৫১ []
  15. ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, পৃষ্ঠা ৫২ []
  16. মুফতি কাজী ইব্রাহীম এর ভিডিও []
  17. মালিকের মুয়াত্তা; বই ২, হাদিস নম্বর ২. ২২. ৯০ []
  18. মুয়াত্তা মালিক, রেওয়ায়ত ৮৮.  []

6 thoughts on “শামসুল আরেফিন শক্তির শক্তিশালী লুকোচুরি

  • March 29, 2021 at 5:40 PM
    Permalink

    brilliant post. These writers are the members of Jamaat-Shibir. They are working for spreading their agenda.

    Reply
    • April 12, 2021 at 12:22 PM
      Permalink

      মুমিনীয় কুযুক্তিঃ যুদ্ধবন্দীদের দাস না বানিয়ে কারাবন্দী করে রাখাটা ছিল অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ। মুসলিমরা কেন তাদের ফ্রী ফ্রী খাওয়াবে?

      আমার জবাবঃ
      ওহ আচ্ছা, কারাবন্দি করে রাখা ব্যয়বহুল ও অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ ছিলো? আপনারা আমাদের অর্থনীতি শেখান? তাহলে আল্লাহ আপনাদেরকে যে লুঠের মাল ভোগ করার বৈধতা দিয়েছেন সেগুলো দিয়ে কি করতেন? অমুসলিমদের ধনসম্পদ লুঠ করার পরেও তাদের ভরণপোষণ করা আপনাদের জন্য আপনাদের অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ ছিল? আপনাদের মিথ্যাচার ও পাবলিককে বোকা বানানোর কৌশলগুলো সত্যিই অসাধারণ।
      তো আপনারা কবে যুদ্ধবন্দীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন? আপনারা তো তাদের উল্টো বাজারে বিক্রি করে আরো পয়সা কামিয়েছেন আবার অর্থনীতির উপর চাপস্বরূপ মার্কা ফালতু কথাবার্তা বলতে এসেছেন। তাদের সম্পদ লুঠ করেও শখ মিটলো না, তাই তাদের বাজারে বিক্রি করে দিতেন। তাতেও শখ মিটলো না। তাই আপনাদের সাহাবারা যুদ্ধবন্দি মেয়েদের বাজারে বিক্রি করার আগে তাদেরকে রেপ করতেন। এতেও শখ মিটতো না, তাই স্পেশাল পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন যার নাম আযল যাতে সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে। মানে রেপও করা যায় কিন্তু গর্ভধারণ রোধ করায় বাজারে বিক্রি করে বেশি দাম পেতে পারেন। এরপরেও এরা কিভাবে অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপস্বরূপ শব্দটা উচ্চারণ করতে পারে?

      Reply
  • April 12, 2021 at 12:09 PM
    Permalink

    অপপ্রচারঃ (১) দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ইসলামের উদ্ভাবন নয়, বরং তা ইসলামে বহু পূর্ব থেকেই চলে আসছিল। যুগ যুগ ধরে চলে আসা অমানবিক এই প্রথাকে ইসলাম মানবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

    জবাবঃ
    [দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ইসলামের উদ্ভাবন নয়, বরং তা ইসলামে বহু পূর্ব থেকেই চলে আসছিল।]
    ১.
    এই দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ছাড়া অন্য কোন ইসলামপূর্ব যুগের প্রথাকে ইসলাম সমর্থন করেছে? তৎকালীন সময়ে তো পালকপুত্রকে নিজের পুত্র মনে করা হতো এবং পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম মনে করা হতো। ইসলাম কি এই প্রথা সমর্থন করেছে? বরং আমরা দেখি মুহাম্মদ (সঃ) এর সাথে জয়নবের বিয়েকে বৈধ করার জন্য সূরা আহযাব আয়াত ৪, ৩৭ নাযিল হয় যেখানে বলা হয়েছে পালকপুত্র নাকি পুত্রই না এবং পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করলেও কোনো অসুবিধা নেই। এই একটা বিয়ে বৈধ করার জন্য একটা সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয়েছে, পালকপুত্রদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেদিকে নাই বা গেলাম, কিন্তু এখানে ইসলামপূর্ব যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথাকে কেন মান্যতা দিল না ইসলাম? ইসলামপূর্ব যুগের প্রথাকে মান্যতা দেওয়া কি শুধু দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স এর বেলায়ই প্রযোজ্য? আসল কথা, দাসপ্রথা, দাসী/যুদ্ধবন্দী সেক্স ইসলামের স্বার্থ বিরোধী নয়, বরং ইসলামের জন্য সুবিধাজনক। কিন্তু পালকপুত্র প্রথা নবী(সঃ) এর স্বার্থবিরোধী। ইসলাম নিজের স্বার্থ অনুযায়ী সবকিছু হালাল, হারাম করবে অথচ মুমিনরা দোষ চাপাবে ইসলামপূর্ব যুগের উপর, এগুলো কোন ধরনের ডবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ?
    ২.
    ইসলামপূর্ব যুগে মূর্তিপুজা করা হতো। ইসলাম কি মূর্তিপূজাকে বৈধতা দিয়েছে?

    Reply
  • April 12, 2021 at 12:12 PM
    Permalink

    ইসলাম যেমন মদ্যপানকে একেবারে হারাম না করে পর্যায়ক্রমে হারাম করেছে, এই দাসপ্রথা/যুদ্ধবন্দী/ক্রীতদাসী সেক্স কেও বিলুপ্তিকরণের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

    জবাবঃ
    আসুন সহীহ হাদীসের আলোকে দেখি এসব বিলুপ্তিকরণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কিছু নমুনাঃ

    আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

    তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কাছে একটি বাঁদি ছিল যার সাথে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সহবাস করতেন। এতে আয়েশা (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাথে লেগে থাকলেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই বাঁদিটিকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্‌ পাক নাযিল করেনঃ (আরবি) “হে নবী আল্লাহ্‌ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা আপনি নিজের জন্য কেন হারাম করে নিয়েছেন (সূরা তাহরীমঃ ০১) নাযিল করেন।

    সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩৯৫৯
    হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

    রাসূল যেখানে নিজে থেকেই দাসীসেক্সকে হারাম করে নিলেন, আল্লাহ তা আলা রাসূলে করীম (সাঃ) কে এর জন্য জবাবদিহি করছেন কেন হারাম করলেন। এই হলো বিলুপ্তিকরণে পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার একটি নমুনা। আসুন আমরা আরেকটি নমুনা দেখিঃ

    আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

    রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আওতাস’ নামক স্থানে একদল সৈন্য পাঠালেন। তারা শত্রু সৈন্যদের সাথে মুকাবিলা করে তাদের উপর বিজয় লাভ করলেন, তাদের মহিলাদের যুদ্ধ বন্দী করলেন, যাদের মুশরিক স্বামী ছিল। মুসলমানগণ তাদের সাথে সহবাস করা হতে বিরত রইলেন, তখন মহান মহিয়ান আল্লাহ্ তা’আলা (আয়াত-এ) নাযিল করলেনঃ
    অর্থঃ “নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ”। (৪:২৪)। অর্থাৎ এরা তোমাদের জন্য হালাল, তবে তাদের ইদ্দতপূর্ণ হওয়ার পর।

    সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩৩৩৩
    হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

    সাহাবারা নিজেরাই যেখানে বিবাহিত নারীদের সাথে সহবাস করাকে ঘৃণা করলেন, আল্লাহ সাথে সাথে আয়াত নাজিল করলেন যে এরা তোমাদের জন্য হালাল। এটা হলো বিলুপ্তিকরণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আরেকটি নমুনা।

    Reply
  • April 12, 2021 at 12:14 PM
    Permalink

    মুমিনরা বলে, প্রাচীনকালে যুদ্ধে মহিলারা নাকি সাজুগুজু করে যেতো যাতে তারা যুদ্ধে হেরে গেলে বিজয়ী যোদ্ধাদের আকৃষ্ট করতে পারে। এসব ফালতু লজিক দিয়ে তারা বোঝাতে চায়, ইসলামে যেসব যুদ্ধ হয়েছে, সেই যুদ্ধগুলোতে বন্দী কাফের নারীরা স্বেচ্ছায় মুমিনদের কাছে ধর্ষিত হত, জোর করা হতো না।

    কিন্তু আমরা জানি, ইসলামে যেসব যুদ্ধ হয়েছে, সেগুলোকে কোনো যুদ্ধই বলা যায় না, সবগুলোই ছিল মুসলিমদের গুপ্ত আক্রমণ। যেসব ক্ষেত্রে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে মুশরিকরা যেমন, ওহুদ,খন্দকের যুদ্ধ, সবগুলোতেই মুমিনরা হেরে গেছে।

    এখন যেখানে যুদ্ধই হতো না উল্টো মুসলিমরাই কাফির ইহুদি গোত্রগুলোকে তাদের দুর্গ/বাড়িতে এসে অতর্কিত আক্রমণ করতো, সেখানে কাফির মহিলাদের সাজুগুজু করে যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার বিষটা আসলো কোথা থেকে?

    Reply
  • April 12, 2021 at 12:15 PM
    Permalink

    মুমিনদের অপপ্রচার হলো, ইসলাম দাসদের সাথে ভালো আচরণ ও দাসমুক্তির ব্যপারে উৎসাহ দিয়েছে।
    জবাবঃ ইসলামে যত দাসমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো সব মুসলিম দাস ছিল। তাদেরকে তাদের মালিকদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে ইসলামের খেদমতের জন্য, যাতে কোনো মুসলিম নারীপুরুষ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো দাসত্বে না থাকে। কিন্তু এরাই আবার যুদ্ধক্ষেত্রে কাফের, মুশরেকদের দাস বানিয়েছে। আসল বিষয়টা হলো, যখন ভারত, মিয়ানমার, চীনে মুসলিমদের উপর অত্যাচার হয়, তখন মুসলিমরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিপক্ষে প্রতিবাদ করে কিন্তু বাংলাদেশ, পাকিস্তানে তারা নিজেরাই সংখ্যালঘু নির্যাতন করে। তাই এগুলোকে মহানত্ব ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: