বয়স্ক লোকের দুধপান করা প্রসঙ্গে

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

বেশ কিছু হাদিস গ্রন্থে একটি বিখ্যাত এবং বিশুদ্ধ বিবরণের কথা পাওয়া যায়; যেটি হচ্ছে, বয়স্ক লোকের সাথে মেলামেশা করার জন্য তাকে দুধপান করিয়ে মাহরামে পরিণত করে মেলামেশাকে ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল করার একটি বিষয়। ঘটনাটি হচ্ছে এমন, সুহায়লের কন্যা সাহলার স্বামী ছিল আবূ হুযায়ফা। সাহলার সাথে সালিম নামক এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দেখাসাক্ষাত হতো। কিন্তু ইসলামে তো বেগানা পুরুষের সাথে দেখাসাক্ষাত নিষিদ্ধ। তাহলে এখন উপায় কী? মুহাম্মদকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করায়, মুহাম্মদ বুদ্ধি বাতলে দিলেন। তিনি বললেন, সাহলার বুকের দুধ সালিমকে খাইয়ে দিলেই সালিম তার দুধছেলে হয়ে যাবে, এরপরে দেখাসাক্ষাতে আর কোন সমস্যা থাকবে না। তখন সালহা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু সালিম তো বয়স্ক পুরুষ! সে তো আর বাচ্চা শিশু নয়! নবী একথা শুনে মুচকি হেসে উত্তর দিলেন, মুহাম্মদ জেনেবুঝেই এই কথাটি বলেছে। এই হাদিসটি নিয়েই আজকের আলোচনা। আরো অনেকগুলো প্রাসঙ্গিক হাদিস আলোচনা করা হবে। আগ্রহী পাঠক হাদিসগুলো মন দিয়ে পড়বেন, এবং যুক্তিগুলো বিবেচনা করে দেখবেন।

দুধপান করানোর ফতোয়া

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস বিভাগের প্রধান ডাঃ ইজ্জত আতিয়া(Dr. Izzat Atiyya) ২০০৭ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে একটি ফতোয়া দেন। স্বাভাবিকভাবেই, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস বিভাগের প্রধান ইসলাম সম্পর্কে জানেন না, এইরকম কথা নিশ্চয়ই কেউই বলতে পারবেন না। ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়, যে সকল মহিলাকে মাহরাম নয়, এমন ব্যক্তির সাথে কাজ করতে হয় বা মেলামেশার প্রয়োজন হয়, এমন পরিস্থিতিতে ইসলামের বিধান হচ্ছে, সেই পুরুষকে সেই নারী নিজের স্তন্যপান করিয়ে মাহরামে পরিণত করতে পারে। অথবা, সেই পুরুষের বোন বা মা সেই নারীকে দুধ পান করালেও তাতে কাজ হবে। এরপরে শরিয়ত অনুসারে তার সাথে মেলামেশা বা দেখাসাক্ষাতে আর কোন বাধা থাকবে না।

আধুনিক সময়ে যেহেতু নানা প্রয়োজনে নারী পুরুষের মেলামেশা বা দেখাসাক্ষাতের দরকার হয়, তাই নবীর একটি নির্দেশনাকে সামনে রেখে এই ফতোয়াটি দেয়া হয়। ফতোয়াটি দেয়ার পরেও সেটি প্রচন্ড বিতর্কের সৃষ্টি করে, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়, এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফতোয়াটি তুলে নেন। সেই সাথে, সেই হাদীস বিভাগের প্রধান ডাঃ ইজ্জত আতিয়াকেও বরখাস্ত করা হয়। [1]

এরপরে ২০১০ সালে উচ্চপদস্থ সৌদি মুফতি শেইখ আবদুল মুহসিন আল-আবিকান( Sheikh Abdul Mohsin al-Abaican বা Shaikh Abdul Mohsin Bin Nasser Al Obaikan) পুনরায় সেই ফতোয়াটি দেন। উনি সৌদি আরবের সিনিয়র আলেমদের মধ্যে একজন গুরুত্বপুর্ণ আলেম এবং একইসাথে সৌদি বাদশাহর উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। এরপরে, সৌদি নারীগণ যখন নিজে গাড়ি ড্রাইভ করার আন্দোলনে নামে, তখন তারা তাদের স্বামীদেরকে হুমকি দেয় যে, তাদের গাড়ি ড্রাইভ করার অধিকার না দেয়া হলে তারা তাদের ড্রাইভারকে বুকের দুধ খাইয়ে মাহরাম করে নিবে, যেন তাদের সাথে তারা বাইরে যেতে পারে [2]

তাই যারা মনে করছেন, এইসব বক্তব্য নাস্তিকরা নিজেরাই বানিয়ে বলছে, বা ইসলামকে কটাক্ষ করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করছে, তাদের জেনে নেয়া প্রয়োজন, এইসব ফতোয়া কোনটিই নাস্তিকদের দেয়া নয়। ইসলামের শ্রেষ্ঠ আলেমদের দেয়া। নাস্তিকগণ শুধু এর সমালোচনা করছে, এবং তথ্যগুলো তুলে ধরছে [3]

দুধপান বিষয়ক হাদিস সমূহ

শুরুতেই আসুন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে বুকের দুধ খাইয়ে আত্মীয় করে নেয়ার সেই হাদিসগুলো পড়ে নিই। হাদিসগুলো নিচে দেয়া হচ্ছেঃ [4]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৬৯। আমরুন নাকিদ ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুহায়লের কন্যা সাহলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হায়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার সাথে সালিমের দেখা সাক্ষাৎ করার কারণে আমি আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির আলামত দেখতে পাচ্ছি অথচ সালিম হল তার হালীফ (পোষ্য পূত্র)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও। তিনি বললেন, আমি কেমন করে তাকে দুধপান করাব, অথচ সে একজন বয়স্ক পূরুষ। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিলেন এবং বললেন, আমি জানি যে, সে একজন বয়স্ক পুরুষ। আম্‌র (রাবী) তাঁর হাদীসে অতিরিক্ত বলেছেন, সালিম বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর ইবনু আবূ উমরের বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৭০। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমর (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুযায়ফার দাস সালিম (রহঃ) আবূ হুযায়ফা ও তাঁর পরিবারের সাথে একই ঘরে বসবাস করত। একদা সুহায়লের কন্যা (হুযায়ফার স্ত্রী) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিকট এসে বলল, সালিম বয়স্ক পুরুষের স্তরে পৌছে গেছে, সে বুঝে লোকে যা বুঝতে পারে অথচ সে আমাদের নিকট প্রবেশ করে থাকে। আমি ধারণা করি এই কারণে আবূ হুযায়ফার মনে অভিযোগের ভাব সৃষ্টি হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তুমি তার জন্য হারাম হয়ে যাবে এবং আবূ হুযায়ফার মনের অভিযোগ দুরীভূত হবে। তারপর তিনি তার (আবূ হুযায়ফার) নিকট ফিরে এসে বললেন, আমি তাকে (সালিমকে) দুধপান করিয়েছি। তাতে আবূ হুযায়ফার মনের অসন্তোষ দুর হয়ে যায়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৭২। মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) … উম্মু সালমা (রাঃ) আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন, তোমার নিকট বালিগ হওয়ার নিকটর্তী ছেলে প্রবেশ করে থাকে, কিন্তু আমার নিকট ঐ ধরনের ছেলের প্রবেশ করাকে পছন্দ করি না। রাবী বলেন, আয়িশা (রাঃ) বললেন, তোমার জন্য কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে সুন্দর আদর্শ বিদ্যমান নেই? তিনি আরো বললেন, একদা আবূ হুযায়ফার স্ত্রী আরয করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালিম আমার নিকট প্রবেশ করে থাকে, অথচ সে একজন বয়স্ক পুরুষ এবং এ জন্য আবূ হুযায়ফার অন্তরে কিছুটা অসন্তোষভাব বিদ্যমান। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে তোমার দুধ পান করিয়ে দাও যাতে সে তোমার নিকট প্রবেশ করতে পারে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৭৩। আবূ তাহির ও হারুন ইবনু সাঈদ আয়লী (রহঃ) … রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী উম্মু সালামা (রাঃ) একদিন আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন, আল্লাহর কসম আমি পছন্দ করি না যে, যে ছেলে দুধপানের বয়স পার হয়ে গেছে, সে আমাকে দেখুক। তিনি বললেন, কেন? একদা সুহায়লের কন্যা সাহলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমার নিকট সালিমের প্রবেশ করার কারণে আমি আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলে অসন্তোষের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে তোমার দুধপান করিয়ে দাও। সাহলা বললেন, সে (সালিম) তো দাড়িবিশিষ্ট। তিনি বললেন, তুমি তাকে দুধ পান করিয়ে দাও, তাতে আবূ হুযায়ফার মুখমন্ডলের মলিনতা দূর হয়ে যাবে। সাহলার বর্ণনা, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, তারপরে আমি আবূ হুযায়ফার চেহারায় মলিনতা আর দেখতে পাই নি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)

বয়স্কলোকের দুধপান হাদিস

সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৩৬. বয়স্ক লোকে দুধ পান করলে
১/১৯৪৩। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহ্লা বিনতে সুহাইল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার নিকট সালেমের যাতায়াতের কারণে আমি (আমার স্বামী) আবূ হুযাইফাহর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি তাকে দুধ পান করিয়ে দাও। সে বললো, আমি তাকে কিভাবে দুধপান করাবো, সে যে বয়স্ক পুরুষ? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বলেনঃ আমিও অবশ্য জানি যে, সে বয়স্ক পুরুষ। সে তাই করলো, দুধ পান করানোর পর আবূ হুযাইফাহর চেহারায় আমি কোন অপছন্দের ভাব লক্ষ্য করিনি। (রাবী বলেন), তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
সহীহুল বুখারী ৪০০০, ৫০৮৮, মুসলিম ১৪৫৩, নাসায়ী ৩২২৩, ৩২৩৪, ৩৩১৯, ৩৩২০, ৩৩২১, ৩৩২২, ৩৩২৩, আবূ দাউদ ২০৬১, আহমাদ ২৫১২১, মুয়াত্তা মালেক ১২৮৮, দারেমী ২২৫৭, ইরওয়াহ ৬/২৬৪, রওদুন নাদীর ৩৫৪
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৩৫. এক ঢোক অথবা দু’ ঢোকে দুধপানে হুরমত সাব্যস্ত হয় না।
৩/১৯৪২। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথমদিকে কুরআনে এই বিধান ছিলো, যা পরে রহিত হয়ে যায়ঃ দশ ঢোক বা পাঁচ ঢোক দুধ পানের কমে নিষিদ্ধতা প্রতিষ্ঠিত হয় না।
সহীহুল বুখারী ১৪৫২, ইবনু মাজাহ ১৯৪৪, নাসায়ী ৩৩০৭, ২০৬২, মুয়াত্তা মালেক ১২৯৩, দারেমী ২২৫৩, ইরওয়াহ ২১৪৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ (3490)
অধ্যায়ঃ ১৮। দুধপান
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ৬. (কোন মহিলার দুধ) পাঁচ চুমুক খাওয়াতে হারাম সাব্যস্ত হওয়া প্রসঙ্গে
৩৪৯০-(২৫/…) আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ আল কা’নাবী (রহঃ) ….. আমরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, যখন তিনি দুধপানের ঐ পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা করলেন যার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়। আমরাহ বললেন যে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছিলেন, আল-কুরআনে নাযিল হয় عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ “নির্ধারিত দশবার দুধপানে”। অতঃপর নাযিল হয় خَمْسٌ مَعْلُومَاتٌ “নির্ধারিত পাঁচবার দুধপানে।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৬৩, ইসলামীক সেন্টার. ৩৪৬২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (3466)
অধ্যায়ঃ ১৮/ দুধপান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৬৬। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনে এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলঃ عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ ‘দশবার দুধপানে হারাম সাবিত হয়।’ তারপর তা রহিত হয়ে যায় خَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ এর দ্বারা। (পাঁচবার পান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয়) তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কুরআনের আয়াত হিসাবে তিলাওয়াত করা হত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৩৬. বয়স্ক লোকে দুধ পান করলে।
২/১৯৪৪। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রজম সম্পর্কিত আয়াত এবং বয়স্ক লোকেরও দশ ঢোক দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা একটি সহীফায় (লিখিত) আমার খাটের নিচে সংরক্ষিত ছিল। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এবং আমরা তাঁর ইন্তিকালে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে।
মাজাহ ১৯৪৪ সহীহুল বুখারী ১৪৫২, নাসায়ী ৩৩০৭, ২০৬২, মুয়াত্তা মালেক ১২৯৩, দারেমী ২২৫৩, তা’লীক ইবনু মাজাহ।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

হাদিস বর্ণনায় ভীতি কেন?

এই সম্পর্কিত একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাবী ইবনু আবূ মুলায়কা এই হাদিসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে ভীত ছিলেন। ভয়ে তিনি এই হাদিস এক বছর কারো কাছে বর্ণনা করেন নি। কেন এই ভীতি? নবী মুহাম্মদের হাদিস বর্ণনায় কেন একজন রাবী ভয় পাবে? এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, হাদিসটির প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য। [5]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৭১। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সুহায়ল ইবনু আমরের কন্যা সাহলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালিম (আবূ হুযাফার মুক্তদাস) আমাদের সাথে একই ঘরে থাকে; অথচ সে বয়স্ক ও জ্ঞান সম্পন্ন পূরুষের স্তরে পৌঁছে গেছে। তিনি বললেন, তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তাতে তুমি তার প্রতি হারাম হয়ে যাবে। রাবী (ইবনু আবূ মুলায়কা) বলেন, অতঃপর আমি এক বছর বা প্রায় এক বছর কাল ভয়ে উক্ত হাদীস বর্ণনা করি নি। তারপর কাসিমের সাথে সাক্ষাত করে বললাম, আপনি আমার নিকট এতদিন এমনি এক হাদীস বর্ণনা করেছেন যা আমি অদ্যাবধি কারোর নিকট বর্ণনা করি নি। তিনি বললেন, তা কোন হাদীস? তখন আমি তাকে ঐ হাদীস খানার বিষয় অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি তা আমা হতে এ সূত্রে বর্ণনা কর যে, আয়িশা (রাঃ) আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

বয়স্ক লোকের দুধপান

পাত্র ব্যবহার না সরাসরি স্তন্যপান

হাদিসগুলোতে স্তন্যপান করার যেই বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে رْضِعِيهِ শব্দটি। শব্দটির অর্থ আরবি ভাষাভাষীগণ আরো ভালভাবে বলতে পারবেন, যে এটি কী ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে যেই অর্থ পাওয়া গেল, সেটি হচ্ছে চুষে খাওয়া। আসুন মূল আরবি হাদিসটি দেখে নিই,

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرَى فِي وَجْهِ أَبِي حُذَيْفَةَ مِنْ دُخُولِ سَالِمٍ – وَهُوَ حَلِيفُهُ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ أَرْضِعِيهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ وَكَيْفَ أُرْضِعُهُ وَهُوَ رَجُلٌ كَبِيرٌ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ‏”‏ قَدْ عَلِمْتُ أَنَّهُ رَجُلٌ كَبِيرٌ ‏”‏ ‏.‏ زَادَ عَمْرٌو فِي حَدِيثِهِ وَكَانَ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا ‏.‏ وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

এবারে আসুন শব্দটি গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে অনুবাদ করি,

দুধপান

অনুবাদ থেকে মনে হচ্ছে, এই হাদিসে পাত্র দুধ ঢেলে নয়, বরঞ্চ সরাসরি চুষে খাওয়ার কথাই বলা হচ্ছে। তারপরেও আমরা এখনো এই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত নই, আসুন আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য সুন্নাহ ডট কম থেকে এর ইংরেজি অনুবাদটি পড়ি,

17. The Book of Suckling
(7) Chapter: Breastfeeding an adult
‘ A’isha (Allah be pleased with her) reported that Sahla bint Suhail came to Allah’s Apostle (may peace be eupon him) and said:
Messengerof Allah, I see on the face of Abu Hudhaifa (signs of disgust) on entering of Salim (who is an ally) into (our house), whereupon Allah’s Apostle (ﷺ) said: Suckle him. She said: How can I suckle him as he is a grown-up man? Allah’s Messenger (ﷺ) smiled and said: I already know that he is a young man ‘Amr has made this addition in his narration that he participated in the Battle of Badr and in the narration of Ibn ‘Umar (the words are): Allah’s Messenger (ﷺ) laughed.
Reference : Sahih Muslim 1453a
In-book reference : Book 17, Hadith 33
USC-MSA web (English) reference : Book 8, Hadith 3424

এবারে আসুন এই কথাগুলোর বিপরীত কথাগুলো পড়ি। কিছু রেফারেন্সে পাওয়া যায়, সালেহা পাত্রে দুধ দোহন করে রাখতেন, এবং সালিমকে বাটিতে করে তা পান করতেন। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস এবং ফাত উল বারী গ্রন্থের লেখক ইবনু হাজার আসকালানিও বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাটি উনি নিয়েছেন যেখান থেকে, সেই মূল সোর্সেই চলে যাই। নিচের বিবরণটি পড়ি। তাবকাতে ইবনে সাদে বর্ণিত রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে [6]

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ. حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ أَخِي الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ:
كَانَ يَحْلُبُ فِي مِسْعَطٍ أَوْ إِنَاءٍ قَدْرَ رَضْعَةٍ فَيَشْرَبُهُ سَالِمٌ كُلَّ يَوْمٍ. خَمْسَةَ أَيَّامٍ. وَكَانَ بَعْدُ يَدْخُلُ عَلَيْهَا وَهِيَ حَاسِرٌ. رُخْصَةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ لِسَهْلَةَ بنت سهيل
সাহলা এক পাত্রে দুগ্ধ দোহন করে রাখলেন। সেখান থেকে সালেম পাঁচদিন এসে দুধ পান করে যায়। এরপর সালেম সাহলা এর সামনে পর্দা ছাড়াই সরাসরি প্রবেশ করতো। সাহলার বিন সুহাইয়েলের সহজতার জন্য রাসূল সাঃ এ সুযোগ প্রদান করেন।

কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে, এই বর্ণনার ধারাবাহিকতায় একজন রাবী হচ্ছেন মুহাম্মদ বিন আমর আল ওয়াকিদী। আরবি লেখাটির প্রথম লাইনটির লাল করে দেয়া অংশোটুকু অনুবাদ করুন, সেখানে দেখা যাচ্ছে মুহাম্মদ বিন আমরের নাম। তিনি অধিকাংশ সময় ওয়াকিদী বা আল ওয়াকিদী নামে পরিচিত। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ইসলামিক ইতিহাসবিদ। মুহাম্মদের এর জীবনী ও তার পরবর্তী সাহাবা ও তাবেয়ীদের জীবনী নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি বিখ্যাত। ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ হওয়া সত্ত্বেও বহু ইসলামী বিশেষজ্ঞদের নিকট গ্রহণযোগ্য ছিলেন না । অসংখ্য প্রসিদ্ধ আলেম এবং ইসলামের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ তাকে সরাসরি মিথ্যুক, ভণ্ড, প্রতারক বলেছেন। কোন কোন আলেম উনাকে মিথ্যুক, প্রতারক, অনির্ভরযোগ্য বলেছেন, তার কিছু নমুনা দেয়া হচ্ছে,

  • ইমাম শাফেয়ী বলেন- ‘ওয়াকিদির সকল রচনা মিথ্যায় ভরপুর,সে মদিনার সাত জালিয়াতের একজন। [7]
  • ইমাম আবু দাউদ বলেন- ‘আমি ওয়াকিদীর নির্ভরতায় কোনো হাদিস বর্ণনা করি না । সে জাল হাদিসের কারিগর’।
  • ইবনে হাজার আসকালানি (র) বলেন ‘অসীম জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সত্বেও ওয়াকিদি পরিত্যক্ত’। [8]
  • ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.), ইমাম নূমায়ের (রহ.), ইমাম দাহাবী (রহ.) প্রমুখ মনিষী ওয়াকিদীকে মিথ্যুক বলেছেন। [9]
  • ইমাম আল-বুখারী ওয়াকিদীকে হাদিস জালকারীর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
  • ইমাম দারাকুৎনী, ইমাম আন-নওয়াবী সহ আরো অনেকে ওয়াকিদীকে বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল ও অনির্ভরযোগ্য বলেছেন।

তাহলে, ওয়াকিদী মিথ্যক, এবং তার বর্ণনা পরিত্যাক্ত হলে এই বর্ণনাটিও পরিত্যাক্ত হওয়ার কথা। আর এটি সত্য ধরে নিলে অন্যান্য অসংখ্য বর্ণনাও সত্য ধরে নিতে হবে। তাহলে আমরা কীভাবে নিশ্চিত হবো, এই দুধপান সরাসরি স্তন থেকে, নাকি বাটিতে ঢেলে খেতে বলা হয়েছে? পাঠক লক্ষ্য করুন, নবী মুহাম্মদকে হাদিসে মুচকি হেসেছে বলে বর্ণনা রয়েছে। এর অর্থ কী?

কাজটি কী শুধুমাত্র সাহলার জন্য?

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ইসলামিক আলেমই দাবী করেন, এই বিষয়টি শুধুমাত্র সাহলা ও সালিমের ব্যাপারে নির্দেশনা। অন্য কারো বিষয়ে এটি প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু অন্য কারো ব্যাপারে এটি যে প্রযোজ্য নয়, এমন কোন রেফারেন্স আমি খুঁজে পাই নি। আপনারা পেলে জানাবেন। একটি হাদিসে যদিও বলা হয়েছে, আয়িশার সাথে নবীর অন্যান্য স্ত্রীগণের এই বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা যায়। অন্যান্য স্ত্রীগণ এটিকে সাহলার জন্য বিশেষ নির্দেশনা বলে মনে করেন। কিন্তু মনে করা দিয়ে তো আর ইসলামের বিধান তৈরি হতে পারে না। যদি নবী মুহাম্মদ তাদের সরাসরি এই কথা বলে যেতেন, তাহলে সেটি মেনে নেয়া যেতো। আসুন হাদিসটি পড়ি, [10]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৭৪। আবদুল মালিক ইবনু শু’আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) … উম্মু সালামা (রাঃ) বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সকল সহধর্মিনী দুধপান সম্পর্কের দ্বারা কাউকে তাদের নিকট প্রবেশ করতে নিষেধ করেন এবং তারা আয়িশা (রাঃ) কে বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা এটাকে (প্রাপ্ত বয়সে দুধপান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হওয়াকে) একটি বিশেষ অনুমতি মনে করি যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল সালিমের জন্য দিয়েছিলেন। অতএব এ ধরনের দুধপানের মাধ্যমে কেউ আমাদের নিকট প্রবেশ করতে পারবে না এবং আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাতও করতে পারবে না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)

দুধপান হাদিস

সেই সাথে, বুখারী শরীফের এই হাদিসটিও পড়ে নেয়া জরুরি। ইসলামের পরিষ্কার বিধান হচ্ছে, নবী যেই কাজকে নিষিদ্ধ করে নি, তা আর কোন মুসলমান নিষিদ্ধ করতে পারে না। এই বিষয়ে বুখারী শরীফে একটি হাদিস রয়েছে [11] [12] ,

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮৫/ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯৭. কোন বিষয় নবী (সাঃ) কর্তৃক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন না করাই তা বৈধ হওয়ার প্রমাণ। অন্য কারো অস্বীকৃতি বৈধতার প্রমান নয়
৬৮৫৩। হাম্মাদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে আল্লাহর কসম খেয়ে বলতে শুনেছি যে, ইবনু সায়িদ অবশ্যই (একটা) দাজ্জাল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর কসম খেয়ে বলছেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ আমি উমর (রাঃ) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে কসম খেয়ে এ কথা বলতে শুনেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা অস্বীকার করেননি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ)

নবীর বৈধতা

এবারে আসুন এই হাদিসটির ব্যাখ্যা পড়ে নিই নাসরুন বারী থেকে [13]

রাসুলুল্লাহর অস্বীকৃতি জ্ঞাপন না করাই বৈধতা

এই হাদিসটি থেকে সুস্পষ্ট যে, নবী যা হালাল করেছেন, এমনকি যা তিনি অবৈধ করেন নি, অস্বীকৃতি জানান নি, তা পরবর্তী সময়ের যতবড় ইসলামের আলেমই হোক না কেন, এমনকি হোক না নবীর স্ত্রীগণ, তারা তা অবৈধ বলার যোগ্যতা রাখে না। কারণ ইসলামের বিশ্বাস হচ্ছে, নবী নিজেই আল্লাহ হুকুমে কাজ করতেন। নিজে কিছুই করতেন না। তাই ইসলামের বিশ্বাস অনুসারে নবীর একার পক্ষেও হালাল হারাম সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। সেখানে নবীর স্ত্রীগণের তো প্রশ্নই আসে না।

নবী কাজটি কবে নিষিদ্ধ করলেন?

তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি, ঐ কাজটি শুধুমাত্র সাহলা ও সালিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, বা ইসলামের প্রাথমিক যুগে এরকম করা হতো। পরবর্তীতে যদি নবী মুহাম্মদ এই কাজটি নিষিদ্ধ করে থাকেন, সেই নিষিদ্ধ করার হাদিসটি কোথায়? হাদিস থেকে পরিষ্কার জানা যায়, এই বিষয়টি একসময়ে কোরআনে সূরা হিসেবেই ছিল, এবং মৃত্যুশয্যায় নবীর কাছে দশ ঢোককে বাতিল করে পাঁচ ঢোক দুধপান বিষয়ে আরো একটি আয়াত নাজিল হয়েছিল, যেই আয়াতটি বর্তমান কোরআনে নেই। কারণ একটি ছাগল এসে সেই আয়াত লিখিত কাগজটি খেয়ে ফেলে। সেই আয়াতটি যদি রহিত মানসুখ হয়ে গেছে ধরে নিই, তাহলে সেই রহিত বা মানসুখটি কবে হলো? এর পরে তো নবী মারাই গেলেন, তিনি ঐ আয়াতটি রহিত বা মানসুখ করলেন কখন? মরার পরে?

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ (3490)
অধ্যায়ঃ ১৮। দুধপান
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ৬. (কোন মহিলার দুধ) পাঁচ চুমুক খাওয়াতে হারাম সাব্যস্ত হওয়া প্রসঙ্গে
৩৪৯০-(২৫/…) আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ আল কা’নাবী (রহঃ) ….. আমরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, যখন তিনি দুধপানের ঐ পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা করলেন যার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়। আমরাহ বললেন যে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছিলেন, আল-কুরআনে নাযিল হয় عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ “নির্ধারিত দশবার দুধপানে”। অতঃপর নাযিল হয় خَمْسٌ مَعْلُومَاتٌ “নির্ধারিত পাঁচবার দুধপানে।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৬৩, ইসলামীক সেন্টার. ৩৪৬২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (3466)
অধ্যায়ঃ ১৮/ দুধপান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৬৬। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনে এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলঃ عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ ‘দশবার দুধপানে হারাম সাবিত হয়।’ তারপর তা রহিত হয়ে যায় خَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ এর দ্বারা। (পাঁচবার পান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয়) তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কুরআনের আয়াত হিসাবে তিলাওয়াত করা হত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৩৬. বয়স্ক লোকে দুধ পান করলে।
২/১৯৪৪। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রজম সম্পর্কিত আয়াত এবং বয়স্ক লোকেরও দশ ঢোক দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা একটি সহীফায় (লিখিত) আমার খাটের নিচে সংরক্ষিত ছিল। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এবং আমরা তাঁর ইন্তিকালে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে।
মাজাহ ১৯৪৪ সহীহুল বুখারী ১৪৫২, নাসায়ী ৩৩০৭, ২০৬২, মুয়াত্তা মালেক ১২৯৩, দারেমী ২২৫৩, তা’লীক ইবনু মাজাহ।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

উপসংহার

উপরের আলোচনা থেকে এটি মোটামুটি স্পষ্ট যে, নবী মুহাম্মদ একজন নারীকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, অন্য একজন পুরুষের সাথে মেলামেশা করার জন্য তাকে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে মাহরাম করে নিতে হবে। হাদিসটি পড়ে সরাসরি স্তন থেকেই চুষে পান করার কথাই বলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এবং এই প্রসঙ্গে নবী মুহাম্মদের মুচকি হাসি আরো বেশি রহস্যজনক। সে যাইহোক। এই ঘটনাটি যে শুধুমাত্র একজন বিশেষ নারীর জন্য বিধান তৈরি করে দেয়া হয়েছিল, তারও কোন শক্তিশালী তথ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে, বর্তমান সময়ে নারী পুরুষের মেলামেশা বা দেখাসাক্ষাতের প্রয়োজন হলে, এই অবস্থায় কী করনীয়? এর ফয়সালা হিসেবেই বেশ কয়েকজন আলেম এই ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এরপরে দেখাসাক্ষাত মেলামেশাতে কোন বাধা থাকে না। তবে এর বিপরীত মতও রয়েছে। অনেক আলেম বলেছেন সরাসরি নয়, পাত্র দিয়ে দুধ পান করাতে হবে, আবার অনেক আলেম বলেছেন, ঐ ঘটনাটি একটি বিশেষ নির্দেশনা, যা ঐ ঘটনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর কারো বেলায় এই কাজ করা যাবে না। আমি যেহেতু ইসলামের আলেম নই, তাই কোন সিদ্ধান্তে যাচ্ছি না। সিদ্ধান্ত আপনারাই নেবেন। আমি শুধুমাত্র সকল তথ্য একসাথে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম। এগুলো যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া আপনাদের কাজ।

তথ্যসূত্রঃ
  1. Al-Azhar Lecturer Suspended after Issuing Controversial Fatwa Recommending Breastfeeding of Men by Women in the Workplace []
  2. Saudi women use fatwa in driving bid []
  3. Breastfeeding fatwa causes stir []
  4. সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০০ []
  5. সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০১ []
  6. আততাবক্কাতুল কুবরা-৮/২১২, দারুল কুতুব বৈরুত, রাবী নং-৪২১৯ []
  7. ইবনে হাতিম আল রাজী, কিতাব আল র্যুহ, খন্ড-৪, পৃ.-২১ []
  8. তাহদীব, খন্ড-২, পৃ.-১৯৪ []
  9. আল দাহাবী, মীযান, খন্ড-৩, পৃ.-১১০ []
  10. সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০২ []
  11. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৮৫৩ []
  12. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দশম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫১৯, ৫২০, হাদিস নম্বর- ৬৮৫৩ []
  13. সহজ নসরুল বারী শরহে বুখারী, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১৮৫ []

4 thoughts on “বয়স্ক লোকের দুধপান করা প্রসঙ্গে

  • April 17, 2021 at 4:17 AM
    Permalink

    বয়স্ক লোকের দুধ পানঃ
    যখন কোন হাদিস কুরানের আয়াত এর সাথে অসামঞ্জস্য প্রতিপন্ন হয়, বিনা বিচারে সেটি একটি জালিয়াতি বুঝে নিতে হবে। যেখানে নিজের সন্তানকে ২ বছর অথবা ৩০ মাসের বেশী দুধ পান করানো হারাম, সেক্ষেত্রে বয়স্ক লোকের ব্যাপারে এটা কোন ভাবেই প্রযোজ্য হতে পারেনা। তদুপরি দুধ পান করাতে গিয়ে পরপুরুষ স্তন দেখলে সেটা হবে আরও বড় গুনাহ, এটা জালিয়াতি করা হাদিস। কিছু মানুষের মগজ থাকলেও বোকামি করতেই তারা পছন্দ করে
    পড়ুন —
    Quran 2:233,
    Quran 46:15

    Reply
    • April 27, 2021 at 8:10 PM
      Permalink

      Quran 2:233 এ বলেছে সন্তানকে দুধপানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চাইলে পূর্ণ দুইবছর দুধপান করাতে। যদি দুইবছরের আগে স্বামী-স্ত্রী নিজেরা পরামর্শ করে দুধ ছাড়াতে চায়, তাতে গোনাহ নেই।

      উক্ত আয়াতের ভাষা শুনেই বুঝা যাচ্ছে, কমপক্ষে দুইবছর দুধপান করাতে বলা হয়েছে। দুইবছরের ঊর্ধ্বে দুধপান করালে গোনাহ হবে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।

      Quran 46:15 এ তো দুধপানের বিষয়ে কোনো আদেশ করা হয়নি।
      ” আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস।”

      অর্থাৎ সাধারণত মায়েরা সন্তানদের ত্রিশ মাস দুধ পান করিয়ে থাকে, সেটাই বলা হয়েছে। আল্লাহ সন্তানের মা কে ত্রিশ মাস দুধ পান করানোর আদেশ দিচ্ছেন এমন কোনো বিষয় নয়। উক্ত আয়াতে দুধপান সম্পর্কিত উক্তিটি আদেশমূলক নয়।

      আর আমরা দেখলাম Quran 2:233 এবং Quran 46:15 পরস্পর সাংঘর্ষিক। এক জায়গায় দুইবছর আরেক জায়গায় ত্রিশ মাস বা দুইবছর ছয়মাসের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং যেখানে কুরআনের কথাই একটা আরেকটার সাথে সাংঘর্ষিক, সেখানে হাদিসের কোনো কথা কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। সেইজন্য কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হলেই সেটাকে জাল হাদিস বানিয়ে দিলে তো কুরআনের বেশ কিছু আয়াতকে জাল বলতে হয়।

      Reply
  • April 27, 2021 at 8:29 PM
    Permalink

    অনেকে বলছেন যেসব নারী দুধপান করাতে অক্ষম তারা কি করবে?

    ইসলামে এটারও সমাধান দেওয়া আছে। এক্ষেত্রে সমাধান হলো এমন কোনো নিকটাত্মীয়র দ্বারা দুধপান করানো যাতে সে মাহরাম হয়ে যায়। শুধু দুধ মা ই নয়, দুধ খালা, দুধ ফুফু, দুধ নানী, দুধ দাদী তারাও মাহরাম। এক কথায় রক্ত সম্পর্কের কারণে যা হারাম, দুধের সম্পর্কের দ্বারাও তা হারাম। সুতরাং কেউ তার বোনকে দিয়ে দুধ পান করালে দুধ খালা হিসেবে মাহরাম হবে।

    এরপরেও যাদের এই বিষয়ে কনফিউশন, তাদের জন্য একটি হাদিসের অংশবিশেষ দিচ্ছি। মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস নং ১২৬০, হাদিসের উৎসঃ আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ
    https://play.google.com/store/apps/details?id=com.ihadis.ihadis

    আয়িশা (রা) রসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এ অভিমত গ্রহণ করেছেন, অতএব সেই সকল পুরুষের তাঁর নিকট প্রবেশ করা তিনি পছন্দ করতেন। তিনি তাঁর ভগ্নী উম্মে কুলসুম বিনত আবি বাক্র সিদ্দীক (রা)-কে এবং তাঁর ভাতিজীদেরকে সেই সকল পুরুষকে দুধ পান করানোর নির্দেশ দিতেন।

    Reply
  • May 5, 2021 at 6:34 PM
    Permalink

    অসাধারন তথ্য-সমৃদ্ধ লেখা।

    এই দুধপান করে মাহরাম বানানোর হাস্যকর নিয়মটি শুরু হয় নবীর পালকপুত্রবধু বিবাহের বৈধতা দিতে গিয়ে। বিস্তারিত পড়ুন এই লেখাতে- https://www.shongshoy.com/archives/25719

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: