ইসলামে ইহুদীবিদ্বেষ

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

মুসলিমবিদ্বেষ যেমন খারাপ, ইহুদীবিদ্বেষও তেমনই খারাপ। কেবল মুসলিম হওয়ার কারণে যেমন কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা ঠিক নয়, তেমনি কেবল ইহুদী হওয়ার কারণেও কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা ঠিক নয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো মানুষের কোনো অপরাধের জন্য যেমন আমরা মুসলিম পরিচয়ের সকল মানুষকে ঘৃণা করতে পারি না, পুরো মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে পারি না, তেমনি ইহুদী সম্প্রদায়ের কোনো মানুষের কোনো অপরাধের জন্যও আমরা ইহুদী পরিচয়ের সকল মানুষকে ঘৃণা করতে পারি না, পুরো ইহুদী জাতির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে পারি না। একজন মানুষকে কেবল তার ধর্ম পরিচয়ের কারণে ঘৃণা করাটা অযৌক্তিক। কিন্তু, একজন মানুষকে কেবল তার ধর্ম পরিচয়ের কারণে ঘৃণা করার শিক্ষাই কথিত শ্রেষ্ঠ ধর্ম কথিত শান্তির ধর্ম ইসলামে পাওয়া যায়। বেশকিছু কোরআনের আয়াত এবং হাদিসে ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ পাওয়া যায়।

কোরআনে ইহুদীবিদ্বেষ

কোরআনের অনেক জায়গায় অনেকভাবে ইহুদীদের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করা হয়েছে।

কোরআনে বলা হয়েছে যে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইহুদীরা কারো প্রতি সন্তুষ্ট হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তাদের ধর্ম অনুসরণ করে।

2:120
وَ لَنۡ تَرۡضٰی عَنۡکَ الۡیَہُوۡدُ وَ لَا النَّصٰرٰی حَتّٰی تَتَّبِعَ مِلَّتَہُمۡ ؕ قُلۡ اِنَّ ہُدَی اللّٰہِ ہُوَ الۡہُدٰی ؕ وَ لَئِنِ اتَّبَعۡتَ اَہۡوَآءَہُمۡ بَعۡدَ الَّذِیۡ جَآءَکَ مِنَ الۡعِلۡمِ ۙ مَا لَکَ مِنَ اللّٰہِ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّ لَا نَصِیۡرٍ ﴿۱۲۰﴾ؔ
English – Sahih International
And never will the Jews or the Christians approve of you until you follow their religion. Say, “Indeed, the guidance of Allah is the (only) guidance.” If you were to follow their desires after what has come to you of knowledge, you would have against Allah no protector or helper.
Bengali – Bayaan Foundation
আর ইয়াহূদী ও নাসারারা কখনো তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের মিল্লাতের অনুসরণ কর। বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহর হিদায়াতই হিদায়াত’ আর যদি তুমি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ কর তোমার কাছে যে জ্ঞান এসেছে তার পর, তাহলে আল্লাহর বিপরীতে তোমার কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না।

আয়াতটি যে ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে সেটা অস্বীকার করার কোনো উপায় আছে? একই কথা যদি আমি মুসলিমদের সম্পর্কে বলি, তাহলে কি তারা আমরা কথায় মুসলিমবিদ্বেষ খুঁজে পাবে না? তারা কি আমাকে মুসলিমবিদ্বেষী বলবে না? আমি যদি বলি, মুসলিমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কারো প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তাদের ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে আমার কথাটি মুসলিম পরিচয়ের সকল মানুষের প্রতিই বিদ্বেষ প্রকাশ করবে।

কোরআনে দাবি করা হয়েছে যে, ঈসাকে আল্লাহর নবী জেনেই ইহুদীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

4:156
وَّ بِکُفۡرِہِمۡ وَ قَوۡلِہِمۡ عَلٰی مَرۡیَمَ بُہۡتَانًا عَظِیۡمًا ﴿۱۵۶﴾ۙ
English – Sahih International
And [We cursed them] for their disbelief and their saying against Mary a great slander,
Bengali – Bayaan Foundation
আর তাদের কুফরীর কারণে এবং মারইয়ামের বিরুদ্ধে মারাত্মক অপবাদ দেয়ার কারণে।

4:157
وَّ قَوۡلِہِمۡ اِنَّا قَتَلۡنَا الۡمَسِیۡحَ عِیۡسَی ابۡنَ مَرۡیَمَ رَسُوۡلَ اللّٰہِ ۚ وَ مَا قَتَلُوۡہُ وَ مَا صَلَبُوۡہُ وَ لٰکِنۡ شُبِّہَ لَہُمۡ ؕ وَ اِنَّ الَّذِیۡنَ اخۡتَلَفُوۡا فِیۡہِ لَفِیۡ شَکٍّ مِّنۡہُ ؕ مَا لَہُمۡ بِہٖ مِنۡ عِلۡمٍ اِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ ۚ وَ مَا قَتَلُوۡہُ یَقِیۡنًۢا ﴿۱۵۷﴾ۙ
English – Sahih International
And [for] their saying, “Indeed, we have killed the Messiah, Jesus, the son of Mary, the messenger of Allah .” And they did not kill him, nor did they crucify him; but [another] was made to resemble him to them. And indeed, those who differ over it are in doubt about it. They have no knowledge of it except the following of assumption. And they did not kill him, for certain.
Bengali – Bayaan Foundation
এবং তাদের এ কথার কারণে যে, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম পুত্র ঈসা মাসীহকে হত্যা করেছি’। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি। বরং তাদেরকে ধাঁধায় ফেলা হয়েছিল। আর নিশ্চয় যারা তাতে মতবিরোধ করেছিল, অবশ্যই তারা তার ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে ছিল। ধারণার অনুসরণ ছাড়া এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই। আর এটা নিশ্চিত যে, তারা তাকে হত্যা করেনি।

4:158
بَلۡ رَّفَعَہُ اللّٰہُ اِلَیۡہِ ؕ وَ کَانَ اللّٰہُ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا ﴿۱۵۸﴾
English – Sahih International
Rather, Allah raised him to Himself. And ever is Allah Exalted in Might and Wise.
Bengali – Bayaan Foundation
বরং আল্লাহ তাঁর কাছে তাকে তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

4:159
وَ اِنۡ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِہٖ قَبۡلَ مَوۡتِہٖ ۚ وَ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یَکُوۡنُ عَلَیۡہِمۡ شَہِیۡدًا ﴿۱۵۹﴾ۚ
English – Sahih International
And there is none from the People of the Scripture but that he will surely believe in Jesus before his death. And on the Day of Resurrection he will be against them a witness.
Bengali – Bayaan Foundation
কিতাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তার মৃত্যুর পূর্বে তার প্রতি ঈমান আনবে না* এবং কিয়ামতের দিনে সে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে।
*কিয়ামতের পূর্বে ঈসা আঃ যখন অবতরণ করবেন, তখন সে যুগের ইয়াহূদী ও নাসারারা পুরো বিষয়টি উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে এবং সকলেই মৃত্যুর মুহূর্তে তাঁর প্রতি ঈমান আনবে; কিন্তু ফির‘আউনের মত তাদের ঈমান তখন কোন কাজে আসবে না।

আল্লাহর নবী জেনেও ইহুদীরা ঈসাকে হত্যা করার কথা ভাববে কেনো? তারা কি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলো, সেরকম কথা কোথাও লেখা আছে? মানসিকভাবে সুস্থ একজন ব্যক্তি কিভাবে একজন আল্লাহর নবী ও রাসূলকে হত্যা করার কথা ভাবতে পারে? কেউ জেনে-বুঝে কেনো অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে পুড়তে চাইবে? তাহলে কোরআন কেনো দাবি করেছে যে, ঈসাকে আল্লাহর নবী জেনেও ইহুদীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন? কারণ, কোরআনের লেখক ইহুদী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে চেয়েছিলেন।

কোরআনে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ ইহুদীদের জন্য তাদের অপরাধের শাস্তি হিসেবে অনেক উত্তম খাবার হারাম করেছিলেন যা একসময় হালাল ছিলো।

4:160
فَبِظُلۡمٍ مِّنَ الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا حَرَّمۡنَا عَلَیۡہِمۡ طَیِّبٰتٍ اُحِلَّتۡ لَہُمۡ وَ بِصَدِّہِمۡ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ کَثِیۡرًا ﴿۱۶۰﴾ۙ
English – Sahih International
For wrongdoing on the part of the Jews, We made unlawful for them [certain] good foods which had been lawful to them, and for their averting from the way of Allah many [people],
Bengali – Bayaan Foundation
সুতরাং ইয়াহূদীদের যুলমের কারণে আমি তাদের উপর উত্তম খাবারগুলো হারাম করেছিলাম, যা তাদের জন্য হালাল করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে অনেককে তাদের বাধা প্রদানের কারণে।

অপরাধ করলে নিশ্চয় কিছু ইহুদী অপরাধ করেছিলো! শাস্তি পেলেও নিশ্চয় সেই ইহুদীদেরই শাস্তি প্রাপ্য ছিলো যারা অপরাধ করেছিলো! একজন সুবিচারক ঈশ্বর কিভাবে একটি জাতির কিছু মানুষের অপরাধের জন্য পুরো জাতিকেই শাস্তি দিতে পারেন?

কোরআনে দাবি করা হয়েছে যে, ইহুদীরা মিথ্যা শুনতে ভালোবাসে।

5:41
یٰۤاَیُّہَا الرَّسُوۡلُ لَا یَحۡزُنۡکَ الَّذِیۡنَ یُسَارِعُوۡنَ فِی الۡکُفۡرِ مِنَ الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِاَفۡوَاہِہِمۡ وَ لَمۡ تُؤۡمِنۡ قُلُوۡبُہُمۡ ۚۛ وَ مِنَ الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا ۚۛ سَمّٰعُوۡنَ لِلۡکَذِبِ سَمّٰعُوۡنَ لِقَوۡمٍ اٰخَرِیۡنَ ۙ لَمۡ یَاۡتُوۡکَ ؕ یُحَرِّفُوۡنَ الۡکَلِمَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَوَاضِعِہٖ ۚ یَقُوۡلُوۡنَ اِنۡ اُوۡتِیۡتُمۡ ہٰذَا فَخُذُوۡہُ وَ اِنۡ لَّمۡ تُؤۡتَوۡہُ فَاحۡذَرُوۡا ؕ وَ مَنۡ یُّرِدِ اللّٰہُ فِتۡنَتَہٗ فَلَنۡ تَمۡلِکَ لَہٗ مِنَ اللّٰہِ شَیۡئًا ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَمۡ یُرِدِ اللّٰہُ اَنۡ یُّطَہِّرَ قُلُوۡبَہُمۡ ؕ لَہُمۡ فِی الدُّنۡیَا خِزۡیٌ ۚۖ وَّ لَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ﴿۴۱﴾
English – Sahih International
O Messenger, let them not grieve you who hasten into disbelief of those who say, “We believe” with their mouths, but their hearts believe not, and from among the Jews. [They are] avid listeners to falsehood, listening to another people who have not come to you. They distort words beyond their [proper] usages, saying “If you are given this, take it; but if you are not given it, then beware.” But he for whom Allah intends fitnah – never will you possess [power to do] for him a thing against Allah . Those are the ones for whom Allah does not intend to purify their hearts. For them in this world is disgrace, and for them in the Hereafter is a great punishment.
Bengali – Bayaan Foundation
হে রাসূল, তোমাকে যেন তারা চিন্তিত না করে, যারা কুফরে দ্রুত ছুটছে- তাদের থেকে, যারা তাদের মুখে বলে ‘ঈমান এনেছি’ কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান আনেনি। আর যারা ইয়াহূদী তারা মিথ্যা অধিক শ্রবণকারী, অন্যান্য কওমের প্রতি, যারা তোমার নিকট আসেনি তাদের পক্ষে তারা কান পেতে থাকে। তারা শব্দগুলোকে যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরও আপন স্থান থেকে বিকৃত করে। তারা বলে, ‘যদি তোমাদেরকে এটি প্রদান করা হয়, তবে গ্রহণ কর। আর যদি তা তোমাদেরকে প্রদান না করা হয়, তাহলে বর্জন কর’; আর আল্লাহ যাকে ফিতনায় ফেলতে চান, তুমি তার পক্ষে আল্লাহর বিরুদ্ধে কিছুরই ক্ষমতা রাখ না। এরাই হচ্ছে তারা, যাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহ পবিত্র করতে চান না। তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব।

আয়াতটি কি ইহুদীদের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করছে না? আমি যদি বলি, ‘মুসলিমরা মিথ্যা শুনতে ভালোবাসে’, তাহলে কি মুসলিমরা আমাকে মুসলিমবিদ্বেষী বলবে না?

কোরআনে মুসলিমদের জন্য ইহুদী-খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

5:51
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡیَہُوۡدَ وَ النَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ۘؔ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّہُمۡ مِّنۡکُمۡ فَاِنَّہٗ مِنۡہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۵۱﴾
English – Sahih International
O you who have believed, do not take the Jews and the Christians as allies. They are [in fact] allies of one another. And whoever is an ally to them among you – then indeed, he is [one] of them. Indeed, Allah guides not the wrongdoing people.
Bengali – Bayaan Foundation
হে মুমিনগণ, ইয়াহূদী ও নাসারাদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে নিশ্চয় তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ যালিম কওমকে হিদায়াত দেন না।

আয়াতটি যে ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করছে সেটা কি অস্বীকার করা যায়? একজন হিন্দু ধর্মীয় নেতা যদি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বলেন ‘তোমরা মুসলিমদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না’, তাহলে কি তার কথায় মুসলিমবিদ্বেষ প্রকাশ পাবে না?

কোরআন বলা হয়েছে যে, ইহুদীরাই মুসলিমদেরকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে।

5:82
لَتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَۃً لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الۡیَہُوۡدَ وَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا ۚ وَ لَتَجِدَنَّ اَقۡرَبَہُمۡ مَّوَدَّۃً لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّا نَصٰرٰی ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّ مِنۡہُمۡ قِسِّیۡسِیۡنَ وَ رُہۡبَانًا وَّ اَنَّہُمۡ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ ﴿۸۲﴾
English – Sahih International
You will surely find the most intense of the people in animosity toward the believers [to be] the Jews and those who associate others with Allah ; and you will find the nearest of them in affection to the believers those who say, “We are Christians.” That is because among them are priests and monks and because they are not arrogant.
Bengali – Bayaan Foundation
তুমি অবশ্যই মুমিনদের জন্য মানুষের মধ্যে শত্রুতায় অধিক কঠোর পাবে ইয়াহূদীদেরকে এবং যারা শিরক করেছে তাদেরকে। আর মুমিনদের জন্য বন্ধুত্বে তাদের মধ্যে নিকটতর পাবে তাদেরকে, যারা বলে, ‘আমরা নাসারা’। তা এই কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক পন্ডিত ও সংসারবিরাগী আছে এবং তারা নিশ্চয় অহঙ্কার করে না।

আয়াতটি ইহুদী সম্প্রদায়কে মুসলিম সম্প্রদায়ের শক্র হিসেবে উপস্থাপন করেছে। আয়াতটি পড়ে একজন মুসলিম কেবল ঘৃণার শিক্ষাই পাবে।

কোরআনে মুসলিমদেরকে আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলা হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না তারা নত হয়ে জিজিয়াকর প্রদান করে।

9:29
قَاتِلُوا الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَ لَا بِالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ لَا یُحَرِّمُوۡنَ مَا حَرَّمَ اللّٰہُ وَ رَسُوۡلُہٗ وَ لَا یَدِیۡنُوۡنَ دِیۡنَ الۡحَقِّ مِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ حَتّٰی یُعۡطُوا الۡجِزۡیَۃَ عَنۡ ‌یَّدٍ وَّ ہُمۡ صٰغِرُوۡنَ ﴿٪۲۹﴾
English – Sahih International
Fight those who do not believe in Allah or in the Last Day and who do not consider unlawful what Allah and His Messenger have made unlawful and who do not adopt the religion of truth from those who were given the Scripture – [fight] until they give the jizyah willingly while they are humbled.
Bengali – Bayaan Foundation
তোমরা লড়াই কর আহলে কিতাবের সে সব লোকের সাথে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান রাখে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না, আর সত্য দীন গ্রহণ করে না, যতক্ষণ না তারা স্বহস্তে নত হয়ে জিযয়া দেয়।

আয়াতটি বলছে, একটি রাষ্ট্রে সকল বিশ্বাসের মানুষ সমান মর্যাদা নিয়ে সবাই একসাথে মিলেমিশে বসবাস করবে সেটা হবে না। মুসলিমদেরকে আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ না করার অপরাধে নত হয়ে জিজিয়া কর প্রদান করবে। অর্থ্যাৎ, নিরাপদে বেঁচে থাকতে চাইলে আহলে কিতাবদের হয় ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়ে যেতে হবে নাহয় ইসলাম গ্রহণ না করার অপরাধে নত হয়ে জিজিয়া কর প্রদান করতে হবে। সন্দেহাতীতভাবেই, আয়াতটি আহলে কিতাবদের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে।

ইসলামে আহলে কিতাব বলে আল্লাহ প্রদত্ত পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের অনুসারীদের নির্দেশ করা হয়। ইসলাম অনুযায়ী, ইহুদীরাও আহলে কিতাব, যারা আল্লাহ প্রদত্ত আসমানী কিতাব তাওরাতের অনুসারী।

হাদিসে ইহুদীবিদ্বেষ

মুসলিমরা যাকে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব’ বলে দাবি করেন, সেই কথিত ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব’ মারা যাওয়ার আগে ইহুদী নাসারাদের অভিশাপ দিয়ে গেছেন। মারা যাওয়ার আগে ইহুদী নাসারাদের প্রতি অভিশাপ দিয়ে তিনি ইহুদী নাসারাদের প্রতি তার বিদ্বেষই প্রকাশ করেছেন। সেইসাথে মুসলিমদেরকেও ঘৃণার শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮/ সলাত (كتاب الصلاة)
হাদিস নম্বরঃ ৪৩৫
৮/৫৫. পরিচ্ছদ নেই
৪৩৫-৪৩৬. ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উতবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আববাস (রাযি.) বলেছেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যু পীড়া শুরু হলে তিনি তাঁর একটা চাদরে নিজ মুখমন্ডল আবৃত করতে লাগলেন। যখন শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হলো, তখন মুখ হতে চাদর সরিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নাবীদের (নবীদের) কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। (এ বলে) তারা যে (বিদ‘আতী) কার্যকলাপ করত তা হতে তিনি সতর্ক করেছিলেন। (১৩৩০, ১৩৯০, ৩৪৫৩, ৩৪৫৪, ৪৪৪১, ৪৪৪৩, ৪৪৪৪, ৫৮১৫, ৫৮১৬; মুসলিম ৫/৩, হাঃ ৫৩১, আহমাদ ১৮৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

তিনি মুসলিমদের ইহুদীদেরকে আগে সালাম দিতে নিষেধ করেছেন এবং তাদেরকে রাস্তায় দেখলে রাস্তার কিনারা ঘেঁষে চলতে বাধ্য করতে বলেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৪০। সালাম (كتاب السلام)
হাদিস নম্বরঃ ৫৫৫৪
৪. আহলে কিতাব (ইয়াহুদী-নাসারা)-কে আগে সালাম করার নিষিদ্ধকরণ এবং তাদের সালামের উত্তর দেয়ার বিবরণ
৫৫৫৪-(১৩/২১৬৭) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ….. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের আগে বাড়িয়ে সালাম করো না এবং তাদের কাউকে রাস্তায় দেখলে তাকে রাস্তার পাশে চলতে বাধ্য করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৭৬, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৯৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

তিনি বলেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত না মুসলিমরা ইহুদীদের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে হত্যা করবে। তখন মুসলিমদের ভয়ে ইহুদীরা গাছ কিংবা, পাথরের পেছনে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু পারবে না। গাছ অথবা পাথর মুসলিমদেরকে ডেকে তাদের কাছে ইহুদীদেরকে ধরিয়ে দেবে।

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৫৪। বিভিন্ন ফিতনাহ ও কিয়ামাতের লক্ষনসমূহ (كتاب الفتن وأشراط الساعة)
হাদিস নম্বরঃ ৭২২৯
১৮. কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, এমনকি এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে গিয়ে মুসীবাতের কারণে মৃত ব্যক্তির স্থানে হওয়ার কামনা করবে
৭২২৯-(৮২/২৯২২) কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ….. আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমদের সঙ্গে ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের যুদ্ধ না হবে। মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করবে। ফলে তারা পাথর বা গাছের পিছনে লুকিয়ে থাকবে। তখন পাথর বা গাছ বলবে, হে মুসলিম! হে আল্লাহর বান্দা! এই তো ইয়াহুদী আমার পিছনে লুকিয়ে আছে। এসো, তাকে হত্যা কর। কিন্তু ‘গারকাদ’ নামক গাছ দেখিয়ে দিবে না। কারণ এটা হচ্ছে ইয়াহুদীদের সহায়তাকারী গাছ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৭৫, ইসলামিক সেন্টার ৭১২৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
হাদিস নম্বরঃ ৩৫৯৩
৬১/২৫. ইসলামে নুবুওয়াতের নিদর্শনাবলী।
৩৫৯৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ইয়াহূদীরা তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন জয়লাভ করবে তোমরাই। স্বয়ং পাথরই বলবে, হে মুসলিম, এইতো ইয়াহূদী আমার পিছনে, একে হত্যা কর। (২৯২৫, মুসলিম ৫২/১৮ হাঃ ২৯২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৩৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫৫/ ফিতনা সমূহ ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী (كتاب الفتن وأشراط الساعة)
হাদিস নম্বরঃ ৭০৭১
১৬. কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না (বিপদাপদের কারণে) এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মৃত ব্যক্তির স্থানে হওয়ার বাসনা করবে
৭০৭১। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ অবশ্যই তোমরা ইয়াহুদীদের সাথে যুদ্ধ করবে এবং তোমরা তাদেরকে হত্যা করবে, এমনও হবে যে, পাথর বলবে, হে মুসলিম! এ-ই তো ইয়াহুদী। তুমি তাকে হত্যা কর।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

তিনি বলেছেন, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের কাছে একজন করে ইহুদী অথবা খ্রিস্টানকে দিয়ে বলবেন, ‘এ হচ্ছে তোমার জন্য জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তিপণ’। অর্থ্যাৎ, একজন মুসলিমের নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে হলে একজন ইহুদী অথবা খ্রিস্টানকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে হবে।

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫১/ তাওবা (كتاب التوبة)
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৫৫
৮. হত্যাকারীর তাওবা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য; যদিও সে বহু হত্যা করে থাকে
৬৭৫৫। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলমানকে এক এক জন খ্রীষ্টান বা ইয়াহুদী দিয়ে বলবেন, এ হচ্ছে তোমার জন্য জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তিপণ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

উপসংহার

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে, ইসলাম তীব্র ইহুদীবিদ্বেষী একটি ধর্ম, ইসলাম ইহুদী সম্প্রদায়ের মানুষদেরকে ঘৃণা করতে শেখায়।

আশাকরি, পাঠকগণ এটা বিবেচনা করে দেখবেন যে, যে ধর্ম একটি নির্দিষ্ট ধর্ম পরিচয়ের মানুষদেরকে ঘৃণা করতে শেখায় সে ধর্মকে সত্যিই শান্তির ধর্ম বলা যায় কিনা, সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম বলা যায় কিনা।


আরও পড়ুন

Marufur Rahman Khan

Marufur Rahman Khan is a Bangladeshi Atheist, Feminist, Secularist Blogger.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *