মোরালিটিঃ হামজা জর্জিসের আল্লাহ বনাম ইসলামের আল্লাহ

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

হামজা জর্জিস মু’মিন সার্কেলে একজন জনপ্রিয়ও লেখক ও বক্তা। তিনি নৈতিকতার দর্শন ব্যবহার করে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়ে থাকেন। আমরা এখানে তার একটি জনপ্রিয় লেখার ব্যবচ্ছেদ করে দেখাবো যে তিনি কীভাবে কাজটি করেছেন। আমরা তাঁর লেখার আলোকে দেখবো তিনি যে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়েছেন তাঁর সিফাত, গুন বা বৈশিষ্ট্য কেমন। তারপর কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দেখবো যে ইসলামের আকিদা অনুসারে আল্লাহ, অর্থাৎ ইসলামের আল্লাহর সেই গুনগুলো আছে কিনা। এজন্য আমাদের প্রথমেই প্রয়োজন হামজা জর্জিসের আর্টিকেলটি খুব ভালো করে বুঝে নেয়া। তাই পাঠকের প্রতি অনুরোধ থাকবে বেশ কয়েকবার হামজার এই KNOW GOD, KNOW GOOD: GOD AND OBJECTIVE MORALITY এই আর্টিকেলটি পড়ে নিবেন [1]। এখন চলুন হামজা জর্জিসের আল্লাহ সম্পর্কে জানা যাক।

হামজা জর্জিসের আল্লাহ

হামজা জর্জিস আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। কেন করেন? তার উত্তর তিনি দিয়েছেন তার আর্টিকেলঃ KNOW GOD, KNOW GOOD: GOD AND OBJECTIVE MORALITY-তে। এই আর্টিকেলটি নেয়া হয়েছে তাঁর DIVINE REALITY: GOD, ISLAM AND THE MIRAGE OF ATHEISM বই থেকে। তিনি এই আর্টিকেলে প্রথমে প্রতিষ্ঠা করেছেন যে অবজেক্টিভ মোরালিটি বলে সত্যই কিছু একটা আছে এবং এই অবজেক্টিভ মোরালিটির অস্তিত্ব থেকেই তিনি তাঁর আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। যেহেতু তিনি অবজেক্টিভ মোরালিটি থেকে তাঁর আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন সেহেতু আমাদের প্রথমেই প্রয়োজন অবজেক্টিভ মোরালিটি বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন সেটি বুঝে নেয়া। তিনি এই আর্টিকেলের দুটি স্থানে অবজেক্টিভ মোরালিটি সম্পর্কে তাঁর বুঝ তুলে ধরেছেন [2]

তিনি প্রথমে Objective শব্দটির সংজ্ঞা প্রদান করেছেন-

A basic definition is that the term refers to considering or representing facts without being influenced by personal feelings or opinions. In the case of morals, objective means that morality is not dependent or based on one’s mind or personal feelings. In this sense, it is ‘outside’ of one’s personal limited faculties. Mathematical truths (1+1=2) or scientific truths, like the Earth going round the Sun, are true regardless what we feel about them

এবং Objective morality’র সঙ্গায় তিনি লিখেছেন [2]-

This is doomed to failure because the definition of objective morality is that morals are independent of feelings, beliefs and cultural practices, so to use them as a means to deny the objectivity of morals is meaningless.

অর্থাৎ- হামজা জর্জিসের বুঝ হল- যেই নৈতিকতা আবেগ, বিশ্বাস এবং সংস্কৃতির উপর নির্ভরশীল নয় তাকেই অবজেক্টিভ মোরালিটি বলে। এটি বোঝাতে তিনি চমৎকার একটি উদাহরণও তুলে ধরেছেন [2]-

For instance, the fact that killing a five-year-old is morally wrong will always be true, even if the whole world were to agree that killing a young child is morally right.

এখানে হামজা জর্জিসের বুঝ হল- একটি পাঁচ বছরের শিশুকে হত্যা করা যে অনৈতিক এটি সকল আবেগ, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সাপেক্ষেই সত্য এবং এটিই অবজেক্টিভ মোরালিটি। সুতরাং বোঝা গেল যে হামজা জর্জিসের বুঝ অনুসারে অবজেক্টিভ মোরালিটির বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-

১) এই নৈতিকতা আবেগ (যেমন- ব্যক্তিগত ভালোবাসা বা ঘৃণা) তাড়িত নয়।
২) বিশ্বাস (যেমন- ধর্ম) তাড়িত নয়।
৩) সংস্কৃতি (যেমন- আরব বা বাঙালি সংস্কৃতি) তাড়িত নয়।

তবে এতটুকুই যথেষ্ট নয়। হামজা জর্জিসের লেখায় অবজেক্টিভ মোরালিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়। চলুন সেই বৈশিষ্ট্যকে খুঁজে বের করি। হামজা জর্জিসের লেখা থেকে [2]-

Imagine you have come back from a busy day and you switch on the television. You skim through some of the channels. Shocked by a headline, you stop at a popular international news channel. Sure enough, the headline is truly appalling: Man Beheads Five-Year-Old Boy.

Now let me ask you a question. Was what this man did morally wrong? You, like the majority of decent human beings, say yes. Now answer this question: is it objectively morally wrong? Again, like most, you say yes.

However, here’s a final question: why is it objective?

এখানে বোঝা যাচ্ছে শিশুহত্যা যে খারাপ এটিতে অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ একমত। শিশুহত্যা যে অবজেক্টিভলি অনৈতিক এটিতেও সেই অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ একমত। সুতরাং হামজা জর্জিসের মতে অবজেক্টিভ মোরালিটি অনুসারে কোনটি ভালো ও কোনটি খারাপ সেটি অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ নির্ধারণ করতে পারে।

তাহলে হামজা জর্জিসের অবজেক্টিভ মোরালিটির একটি চতুর্থ বৈশিষ্ট্যও আমরা খুঁজে পাচ্ছি।

৪) অবজেক্টিভলি ভালো বা খারাপকে অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ চিনতে পারে।

অবজেক্টিভ মোরালিটির এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে পূঁজি করেই হামজা জর্জিস তাঁর আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। তা করতে তিনি প্রথমে প্রতিষ্ঠা করেছেন যে একটি পাঁচ বছরের শিশুকে হত্যা অনৈতিক কারণ অবজেক্টিভ মোরালিটি অস্তিত্বশীল। এরপরে তিনি প্রশ্ন করেছেন- কেন এই শিশুহত্যা এটি অবজেক্টিভলি অনৈতিক? [2]। এবং এই প্রশ্নটি থেকেই তিনি তাঁর আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ প্রদান করেছেন। তাঁর লেখা থেকে [2]-

Coming back to the tricky question I raised earlier, let us try to answer it: why is it objective? The answer is simple. The morals that we consider to be objective are so because God exists [2]. Before I explain this further, I want to make sure that this has nothing to do with the beliefs that someone has. I am not saying “you cannot be an atheist and display moral or good behaviour” or “you have to believe in God to have moral traits such as defending the innocent or feeding the poor” or “just by being a believer you will behave well.” What I am saying is that if God does not exist, then there are no objective moral truths. Sure, we can act as if moral truths are objective, and many atheists throughout history have demonstrated admirable moral fortitude without believing morality requires a Divine basis. However, what I’m arguing is that, with God out of the picture, these moral values mean nothing more than social conventions. Therefore, moral truths such as “murdering innocent people for entertainment is wrong” and “defending the innocent is good”, for example, are merely social conventions without God, just like saying it is wrong to pass wind in public. This conclusion is based on the fact that God is the only rational foundation for objective morals. No other concept adequately provides such a foundation.

God provides this foundation because He is external to the universe and transcends human subjectivity. Professor Ian Markham similarly explains, “God explains the mysterious ought pressing down our lives; and God explains the universal nature of the moral claim. As God is outside the world, God the creator can be both external and make universal commands.

অর্থাৎ হামজা জর্জিস বোঝাতে চাচ্ছেন যে অবজেক্টিভ মোরালিটিকে অস্তিত্বশীল হলে আল্লাহও অস্তিত্বশীল কারণ অবজেক্টিভ মোরালিটির ভিত্তি একমাত্র আল্লাহর পক্ষেই প্রদান করা সম্ভব যেহেতু আল্লাহ মহাবিশ্বের ঊর্ধ্বে এবং তিনি মানবীয় আবেগ, অনুভূতি ও মতামতের বাইরে অবস্থান করেন।

এখন ধীরে ধীরে হামজা জর্জিসের আল্লাহর ফান্ডামেন্টাল বৈশিষ্ট্যগুলো পরিষ্কার হচ্ছে। উপরের আলোচনা থেকে হামজা জর্জিসের আল্লাহর কিছু ফান্ডামেন্টাল গুন চিনহিত করা যাচ্ছে-

১) আল্লাহ মহাবিশ্বের ঊর্ধ্বে।
২) আল্লাহ মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও মতামতের ঊর্ধ্বে।

তবে আল্লাহ এবং অবজেক্টিভ মোরালিটির অস্তিত্বকে মানতে হলে একটি জনপ্রিয় সমস্যার উদ্ভব হয়। এই সমস্যাটিকে ইউথেফ্রোর ডিলেমা বলা হয়। হামজা জর্জিস এই ডিলেমাকে এড়িয়ে না গিয়ে মোকাবেলা করেছেন। এই মোকাবেলা করতে গিয়ে তিনি তাঁর আল্লাহকে আরো কিছু গুন বা বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। তাই হামজা জর্জিসের আল্লাহকে আরো ভালোভাবে বুঝতে হলে তিনি কীভাবে ইউথেফ্রোর ডিলেমাকে মোকাবেলা করেছেন তাও বুঝতে হবে।

তাহলে শুরুতেই আমরা জেনে নেই ইউথেফ্রোর ডিলেমা কী।

ইউথেফ্রোর ডিলেমার বক্তব্যটি হামজা জর্জিসের লেখা থেকেই দেয়া হল [2]-

Is something morally good because God commands it, or does God command it because it is morally good?

বঙ্গানুবাদ: “আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তাই ভালো, নাকি আল্লাহ কোন কাজের নির্দেশ দেন কারণ সেটি ভালো?”

এই ডিলেমার কারণে আল্লাহ বিশ্বাসীদের জন্য দুটি সমস্যা তৈরি হয়। প্রথম সমস্যাটির উৎপত্তি এই ইউথেফ্রোর ডিলেমার প্রথম বক্তব্যটি থেকে: আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তাই ভালো। সুতরাং কোনকিছু নৈতিকভাবে ভালো হওয়া নির্ভর করে আল্লাহর মতের ওপর। আল্লাহ কোনকিছু ভালো বললে ভালো, খারাপ বললে খারাপ। সবকিছুই আল্লাহর খিয়ালখুশী নির্ভর। অর্থাৎ ভালো বা খারাপ অবজেক্টিভ নয়। আল্লাহ যদি একটি শিশুকে খুন করতে বলে অথবা একটি নারীকে ধর্ষণ করতে হুকুম করে তাহলে সেটাকে খারাপ বলা যাবে না, যদিও এই কাজ দুটি সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে খারাপ হয়। বিশ্বাসীদের এই সমস্যার বিষয়টি হামজা জর্জিস নিজেই স্বীকার করেছেন [2]

This dilemma poses a problem for theists who believe in an All-Powerful God because it requires them to believe in one of two things: either morality is defined by God’s commands or morality is external to His commands. If morality is based on God’s commands, what is good or evil is arbitrary. If this is the case, there is nothing we as humans should necessarily recognise as objectively evil. This would imply that there is nothing intrinsically wrong with, say, killing innocent children—just that God puts the ‘evil’ label on it arbitrarily.

গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এই অংশটুকুর হুবহু বঙ্গানুবাদ দেয়া হল-

“এই ডিলেমা সর্বশক্তিমান আল্লাহয় বিশ্বাসীদের জন্য সমস্যাজনক কারণ এটি বিশ্বাসীদের এই দুটি জিনিসের একটি বিশ্বাস করতে বাধ্য করে: হয় আল্লাহই নৈতিকতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন অথবা নৈতিকতা আল্লাহর নির্দেশের মুখাপেক্ষী নয়। যদি নৈতিকতা আল্লাহর নির্দেশের উপর নির্ভর করে, তবে ভালো বা খারাপের ধারনাটি খেয়ালখুশি নির্ভর। যদি তাই হয়, কোনটি নৈতিকভাবে খারাপ তা মানুষের নির্ধারণ করা উচিত হবেনা। এর মানে হল সত্তাগতভাবে বা হাকিকতগতভাবে খারাপ কিছু, যেমন- নিষ্পাপ শিশুহত্যা, বলে কিছু নেই। বরং আল্লাহ কাজটির উপর একটি “খারাপ” লেবেল মেরে দিয়েছেন মাত্র।”

পাঠক দয়া করে নীল মার্ক করা অংশটুকুন খেয়াল করুন। এই অংশটুকু থেকে বোঝা গেল যে হামজা জার্জিসের মতে কোনটি নৈতিকভাবে ভালো বা খারাপ তা মানুষেরও নির্ধারণ করা উচিৎ। হামজা জর্জিসের এই বক্তব্য অবজেক্টিভ মোরালিটির চতুর্থ বৈশিষ্ট্যকেও সমর্থন করে- ৪) অবজেক্টিভলি ভালো বা খারাপকে অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ চিনতে পারে।

ইউথেফ্রোর ডিলেমার দ্বিতীয় সমস্যাটি বিশ্বাসীদের জন্য আরো সমস্যাজনক। “আল্লাহর কোন কাজের নির্দেশ দেন কারণ সেই কাজটি ভালো”- এর মানে হলো সেই কাজটি আল্লাহ বললেও ভালো, না বললেও ভালো। অর্থাৎ ভালো খারাপ নির্ধারণ করতে আল্লাহরই আর প্রয়োজন থাকছেনা। অন্য কথায়- ভালো খারাপের ধারনাটি আল্লাহর চাইতেও বড় ধারনা। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ সর্বশক্তিমান থাকছেনা। বরং আল্লাহ হয়ে পরছেন কিছু অবজেক্টিভ নৈতিকতার দাস [2]। হামজা লিখছেন-

The other horn of the dilemma implies that some sort of a moral standard is completely outside and independent of God’s essence and nature, and even God is obligated to live by this standard. However, that would be clearly undesirable for the theist, since it would make him admit that God is not All-Powerful or independent after all; rather, He has to rely on a standard external to Himself.

দেখা যাচ্ছে ইউথেফ্রার ডিলেমা থেকে মূলত একটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই ডিলেমা দুটি ইলাহের বা ঈশ্বরের মাঝে দন্দের সৃষ্টি করছে। একটি ইলাহ আল্লাহ ও অন্য ইলাহটি অবজেক্টিভ নৈতিকতা। এই দুইজনের মাঝে কোন ইলাহটি বড় সেটি বিশ্বাসীদের পেরেশানিতে ফেলে দিচ্ছে। এই পেরেশানি নিবারণ করতে হামজা জর্জিস একটি তৃতীয় রাস্তা বের করেছেন। তিনি আল্লাহ ও অবজেক্টিভ নৈতিকতাকে সমন্বয় করেছেন। তাঁর মতে আল্লাহই উত্তম (“God is good”)। হামজা জর্জিস তাঁর প্রস্তাবনার সমর্থনে দর্শনের প্রফেসর শাব্বির আখতারের মতামতকে তুলে ধরেছেন [2]

There is a third alternative: a morally stable God of the kind found in scripture, a supreme being who would not arbitrarily change his mind about the goodness of compassion and the evil of sexual misconduct. Such a God always commands good because his character and nature are good.

বঙ্গানুবাদ- “তৃতীয় বিকল্প হল: একজন নৈতিকভাবে সুস্থির আল্লাহ, যেমন কিতাবে বর্নিত আছে। এই আল্লাহ এমন এক সত্তা যিনি খিয়ালখুশিমতন মমত্ববোধের মতন উত্তম ও যৌন অসদাচরণের মতন অধম বিষয়ে মতামত পরিবর্তন করেন না। এমন এক আল্লাহ কেবল ভালো কাজের নির্দেশ দান করেন কারণ তার চরিত্র ও স্বভাব ভালো।”

উপরে মার্ক করা “a morally stable God” বা “একজন নৈতিকভাবে সুস্থির আল্লাহ”-কে আমাদের মনে রাখতে হবে কারণ পরের পরিচ্ছদে আমরা ইসলামী আল্লাহর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করে দেখবো ইসলামী আল্লাহর নৈতিকভাবে সুস্থির কিনা।

আমরা দেখতে পাচ্ছি যে হামজা জর্জিস ইউথেফ্রোর ডিলেমাকে মোকাবেলা করতে এমন একটি আল্লাহর প্রস্তাবনা করছেন যিনি নৈতিকভাবে ইন্ট্রিসিকলি বা সত্তাগতভাবে ভালো। তার কাছ থেকে কেবল ভালোই আসে। অর্থাৎ আল্লাহ অবজেক্টিভ মোরালিটির দাস নন। আল্লাহর বাইরে অবজেক্টিভ মোরালিটি অবস্থান করেনা। তার দেয়া নির্দেশ বা বিচার ভালো কারণ তিনি ভালো। এবং তার কাছ থেকে খারাপ কিছু আসে না, বা তিনি খারাপ কোন নির্দেশও দেন না।

হামজা জর্জিসের ইউথেফ্রোর ডিলেমার মোকাবেলা বুঝতে গিয়ে আমরা হামজা জর্জিসের আল্লাহর আরো কয়েকটি গুন বা সিফাত জানতে পারলাম।

৩) আল্লাহ নৈতিকভাবে সুস্থির।
৪) আল্লাহ সত্তাগতভাবে ভালো।
৫) আল্লাহ সবসময় ভালোর নির্দেশ দেন।

সুতরাং আমরা জানতে পারছি যে হামজা জর্জিসের আল্লাহর মোট পাঁচটি বিশেষ সিফাত বা গুন আছে। আলোচনার সুবিধার জন্য এই পাঁচটি গুন আবার তুলে ধরা হল-

হামজা জর্জিসের আল্লাহ-

১) মহাবিশ্বের ঊর্ধ্বে।
২) মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও মতামতের ঊর্ধ্বে।
৩) নৈতিকভাবে সুস্থির।
৪) সত্তাগতভাবে ভালো।
৫) সবসময় ভালোর নির্দেশ দেন।

এখানে চার নম্বর পয়েন্টটি অনুসারে হামজা জর্জিসের আল্লাহও  যেহেতু অবজেক্টিভলি ভালো সেহেতু অবজেক্টিভ মোরালিটির বৈশিষ্ট্যগুলোও এখানে আবার তুলে ধরা হল-

অবজেক্টিভ মোরালিটি

১)  আবেগ (যেমন- ব্যক্তিগত ভালোবাসা বা ঘৃণা) তাড়িত নয়।
২) বিশ্বাস (যেমন- ধর্ম) তাড়িত নয়।
৩) সংস্কৃতি (যেমন- আরব বা বাঙালি সংস্কৃতি) তাড়িত নয়।
৪) অবজেক্টিভলি ভালো বা খারাপকে অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ চিনতে পারে।

ইসলামের আল্লাহ

ইসলামের আল্লাহকে জানা যাবে দুটি উৎস থেকে: কুরআন ও সুন্নাহ বা হাদিস। কুরআন ইসলামের নবীর মুখ থেকে বের হওয়া আল্লাহর বক্তব্য এবং সুন্নাহ হল নবী ও তার সাহাবিগন যা বলেছেন ও করেছেন। ইসলামী সকল আইনের উৎসই হল কুরআন এবং সুন্নাহ [3]। কুরআনে স্পষ্টভাবে বার বার সুন্নাহর অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেন –

আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারী উক্ত নির্দেশের ভিন্নতা করার কোন অধিকার রাখে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে সে স্পষ্টতই সত্য পথ হতে দুরে সরে পড়ল। (কুরআন ৩৩ঃ৩৬)

রসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর তোমাদেরকে যাত্থেকে নিষেধ করে তাত্থেকে বিরত থাক, আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা। (কুরাআন ৫৯ঃ৭)

যে রসূলের আনুগত্য করল, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল, কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে (জোরপূর্বক তাকে সৎপথে আনার জন্য) আমি তোমাকে তাদের প্রতি পাহারাদার করে পাঠাইনি। (কুরআন ৪ঃ৮০)

বলঃ তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর; অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী; এবং তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎ পথ পাবে, রাসূলের দায়িত্বতো শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া। (কুরআন ২৪ঃ৫৪)

সুতরাং বোঝা গেল কুরআনতো বটেই, সুন্নাহ বা হাদিসের নির্দেশের উৎসও হল স্বয়ং আল্লাহ। আমরা এখন কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আল্লাহর নৈতিক সিফাতগুলো বোঝার চেষ্টা করব।

ইসলামের আল্লাহ কি নৈতিকভাবে সুস্থির?

একজন যখন নৈতিকভাবে সুস্থির হন তখন তিনি গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে তার নীতি ঘন ঘন পরিবর্তন করেন না। আর সেই একজন যখন আল্লাহ যিনি কুরআনের দাবী অনুসারে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্ণ অবগত, তিনি কি কোন কিছু ভালো নাকি খারাপ সেই ব্যাপারে তার নীতি পরিবর্তন করতে পারেন? তিনি নৈতিকভাবে সুস্থির হলে সেটি পারেন না। চলুন ইসলামের আল্লাহর কিছু কাজ অধ্যায়ন করে বিচার করি এই আল্লাহ নৈতিকভাবে সুস্থির কিনা।

নবীর সাবেক পুত্রবধূ জয়নবকে বিবাহ করার ঘটনাক্রমে দত্তকপ্রথা বাতিল হবার পরে সাহাবি সমাজে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। অনেক নারী সাহাবিরই দত্তকপুত্র ছিল। দত্তকপ্রথা বাতিলের ফলে তারা তাদের দত্তকপুত্রদের সামনে পর্দা করতে বাধ্য হলেন। একজন নারী সাহাবি এই বিষয়ে নবীর কাছে অনুযোগ জানালে নবী সেই সাহাবিকে তার জোয়ান দত্তকপুত্রকে বুকের দুধপান করিয়ে দুধপুত্র বানিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন [4]

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৮। দুধপান
পরিচ্ছেদঃ ৭. বয়স্কদের দুধপান করানো

৩৪৯২-(২৬/১৪৫৩) আমর আন্‌ নাকিদ ও ইবনু আবূ উমর (রহিমাহুমাল্লাহ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুহায়ল এর কন্যা সাহলাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার সাথে সালিমের দেখা সাক্ষাৎ করার কারণে আমি আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির আলামত দেখতে পাচ্ছি অথচ সালিম হল তার হালীফ (পোষ্য পুত্র)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও। তিনি বললেন, আমি কেমন করে তাকে দুধপান করাব, অথচ সে একজন বয়স্ক পুরুষ। এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিলেন এবং বললেন, আমি জানি যে, সে একজন বয়স্ক পুরুষ। আমর (রাবী) তার হাদীসে অতিরিক্ত বলেছেন, সালিম বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর ইবনু আবূ উমারের বর্ণনায় রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৬৫, ইসলামীক সেন্টার ৩৪৬৪)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

আয়েশা বর্ণিত আরেকটি হাদিস থেকে জানা যায় এই দুধপান সম্পর্কিত একটি কুরআনের একটি আয়াত ছিল। চলুন হাদিসটি পড়ে ফেলা যাক [5]-

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (3466)
অধ্যায়ঃ ১৮/ দুধপান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই

৩৪৬৬। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনে এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলঃ عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ ‘দশবার দুধপানে হারাম সাবিত হয়।’ তারপর তা রহিত হয়ে যায় خَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ এর দ্বারা। (পাঁচবার পান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয়) তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কুরআনের আয়াত হিসাবে তিলাওয়াত করা হত।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) (তাহিকীককৃত)

দুধপান করিয়ে কারো সাথে বিবাহ হারাম করে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মোরাল বিষয়। এর দ্বারা অনেক মা তাদের পালকপুত্রকে নিজেদের জন্য মাহরাম করে নিতে পারেন। অথচ দেখা যাচ্ছে ইসলামের আল্লাহ প্রথমে কুরআনে দশবার দুধপান দ্বারা মাহরাম সাবিত করছেন। অতঃপর সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে পাঁচবার দুধপানের (প্রক্রিয়াটি সহজিকরন?) নির্দেশ দিচ্ছেন। অবশেষে পুরোপুরি উল্টোদিকে যাত্রা করে এই নিয়মটিই নিষিদ্ধ করে দিলেন। কেবল সেখানেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, কুরআন থেকে এই সম্পর্কিত সব আয়াতগুলোই তুলে নিলেন। এভাবে ধুমধাম নৈতিক অবস্থান পরিবর্তন একজন মোরালি সুস্থির সত্তার দ্বারা সম্ভব নয়। ইসলামের আল্লাহ যেন একজন অস্থিরচিত্তের আইনপ্রনেতা যিনি তার সিদ্ধান্তের ফলাফল সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি একটি সিদ্ধান্ত নেন, সেই সিদ্ধান্ত ব্যাকফায়ার করলে হুটহাট সিদ্ধান্তটি বদলে ফেলেন।

এখানে অনেক বিশ্বাসী মু’মিন একটি যুক্তি দাঁড় করাতে পারেন যে আল্লাহ কি ধীরে ধীরে নৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে তাঁর বান্দাদের টলারেন্স লেভেল পরীক্ষা করে চূড়ান্ত নতুন নৈতিকতার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। অথচ সেটারতো প্রয়োজন নেই। ইসলামের আল্লাহতো ভবিষ্যতও জানেন এবং তার বান্দাদের টলারেন্স লেভেলও জানেন। সেই অনুসারে তিনি অস্থিরচিত্তের মানুষের মতন হুটহাট আইন না বদলে চূড়ান্তভাবেই আইন দিয়ে দিতে পারতেন। নিজের সুস্থিরতা বিসর্জন দিয়ে হুটহাট আইন পরিবর্তন করতে পারতেন না।

আবার অনেক বিশ্বাসী মু’মিন বলতে পারেন যে তিনি ধীরে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন করছেন সাহাবিদের সুবিধার জন্য। সেক্ষেত্রে তিনি মোরালি অবজেক্টিভ ডিসিশন দিচ্ছেন না কারণ সাহাবিদের যুগ শেষে নতুন মুসলিম যাদের দত্তকসন্তান ছিল তারা দুধপান করিয়ে মাহরাম করার এই সুবিধা আর পাচ্ছেন না। ফলে দেখা যাচ্ছে সাহাবিদের জন্য তার এই সুবিধা একটি বিশেষ সুবিধা হয়ে যাচ্ছে। এই বিশেষ সুবিধা কেন? আল্লাহ কি তাহলে সাহাবিদের প্রতি ভালোবাসা থেকে তাদের এই বিশেষ সুবিধা দিয়েছিলেন? তাই যদি হয় তাহলে আল্লাহ অবজেক্টিভলি আইন প্রণয়ন করছেন না কারণ এই আইন তিনি সাহাবিদের প্রতি ভালোবাসা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রণয়ন করছেন। সেক্ষেত্রে অবজেক্টিভ মোরালিটির ভিত্তি আল্লাহ হতে পারেন না কারণ তিনি ভালোবাসা দ্বারা তাড়িত হয়ে মোরালিটি ঠিক করে দিচ্ছেন।

ইসলামের আল্লাহ কি সত্তাগতভাবে ভালো?

এখন আমরা দেখবো আল্লাহ সত্তাগতভাবে ভালো কিনা। কাউকে সত্তাগতভাবে ভালো হতে হলে তাকে ভালো কাজকে বৈধতা দিতে হবে এবং খারাপ কাজকে অবৈধ করতে হবে।

আমরা জানি কুরআন এবং সুন্নাহর একটি স্পষ্ট নির্দেশনা হল জিহাদে কুফফার পুরুষ সদস্যদের হত্যার পরে নারীদের বন্দী করে তাদের সাথে তাদের অসম্মতিতেই যৌন সঙ্গম করা সম্পূর্ণ জায়েজ। আমরা এর প্রমাণ পাই সুরা নিসার ২৪ নং আয়াত থেকে। তাফসিরে জালালাইন থেকে এই আয়াতের আদি ব্যাখ্যাটিও দেখে নিতে পারি [6]

হামজা

এখন ধরুন আমরা প্রশ্ন করলাম এই বিশেষ কাজটি কি অবজেক্টিভলি ভালো না খারাপ? আন্তর্জাতিক আইন অথবা জেনেভা কনভেনশনের কথা বাদ, পৃথিবীর সকল ডিসেন্ট মানুষ বলবেন যে এই কাজটি হামজা জর্জিসের দেয়া উদাহরণের তথা- সেই পাঁচ বছরের শিশুহত্যার মতনই ঘৃণ্য ও জঘন্য একটি কাজ [7]। চলুন আমরা আরেকটি প্রশ্ন করি: কাজটি কি অবজেক্টিভলি খারাপ? উত্তর হচ্ছে- হ্যাঁ, এই কাজটি অবজেক্টিভলি খারাপ কারণ হামজা জর্জিসের লেখাতেই আমরা পাচ্ছি যে অবজেক্টিভলি ভালো বা খারাপকে অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ চিনতে পারে এবং এই যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষণ করাকে অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ খারাপ একটি কাজ হিশেবেই দেখে। এখন যেহেতু ইসলামের আল্লাহ এই একটি অবজেক্টিভলি খারাপ কাজের নির্দেশনা দান করছেন সেহেতু ইসলামের আল্লাহ সত্তাগতভাবে মোটেই ভালো নন।

হামজা জর্জিস ইউথেফ্রোর ডিলেমা মোকাবিলা করতে পেরেছেন কি?

হামজা জর্জিসের বুঝ অনুসারে অবজেক্টিভ মোরালিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হল- ৪) অবজেক্টিভলি ভালো বা খারাপকে অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ চিনতে পারে। এখানে তিনি এবং তাঁর সকল বিশ্বাসী অনুসারীগন একটি সমস্যায় পরে যাবেন। অবজেক্টিভলি ভালো বা খারাপকে যদি অধিকাংশ ডিসেন্ট মানুষ চিনতে পারে তাহলে অবজেক্টিভ মোরালিটির ভিত্তি হিসেবে আল্লাহর কোন প্রয়োজন থাকছে? সেক্ষেত্রে মোরাল জীবন-যাপন করতেতো আল্লাহে বিশ্বাস বা ধর্মে বিশ্বাসের কোন দরকারই থাকছেনা। পাঠক প্লিজ প্রশ্ন করুন- হামজা জর্জিস কি সত্যই ইউথেফ্রোর ডিলেমা থেকে বের হতে পারছেন?

পরিশেষ

হামজা জর্জিসের লেখা থেকে আমরা উনার আল্লাহর বেশ কয়েকটি গুন সম্পর্কে জানতে পারলাম। হামজা জর্জিসের লেখা থেকেই আমরা দেখলাম অবজেক্টিভ মোরালিটি তার নিজস্ব বুঝ কী। আমরা দেখলাম হামজা জর্জিসের আল্লাহ নৈতিকভাবে একজন সুস্থির সত্তা এবং তিনি সত্তাগতভাবে ভালো। অতপর আমরা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জানতে পারলাম যে ইসলামের আল্লাহ সত্তাগতভাবে ভালো নন কারণ তিনি মন্দ কাজ, যেমন- যুদ্ধবন্দী ধর্ষণ-এর নির্দেশ দিয়েছেন। আরও দেখলাম যে ইসলামের আল্লাহ নৈতিকভাবে সুস্থির নন। ইসলামের আল্লাহর সত্তাগত ভালোত্ব ও নৈতিক সুস্থিরতা নিয়ে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে কেবল দুটি উদাহরণ দেয়া হয়েছে, যদিও আরও বহু উদাহরণ উপস্থাপন করা যেত। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে হামজা জর্জিসের আল্লাহ ও ইসলামের আল্লাহ দুটি পুরোপুরি ভিন্ন সত্তা। সুতরাং কোন মু’মিনের উচিৎ হবেনা হামজা জর্জিসের যুক্তি ব্যবহার করে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়া। কারণ হামজা জর্জিসের আল্লাহ ইসলামের আল্লাহ নন।

হামজা জর্জিস তাবৎ ইসলামিক এপোলজিস্টদের মাঝে খুবই জনপ্রিয়। তিনি নৈতিকতার দর্শন ব্যবহার করে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়ার প্রয়াস করেছেন। ইনসিকিউরড বিশ্বাসীদের কাছে হামজা জর্জিসের এই প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে হবে। তিনি আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন এতটুকুই ইনসিকিউরড বিশ্বাসীদের কাছে যথেষ্ট। এই প্রমাণ করতে গিয়ে আল্লাহর গুণাবলি যে তিনি সূক্ষ্মভাবে পরিবর্তন করে ফেলেছেন এবং একটি নতুন আল্লাহ সৃষ্টি করছেন সেটি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন তাদের চোখেই পরেনা এবং সেটিই স্বাভাবিক।    

তথ্যসূত্রঃ
  1. KNOW GOD, KNOW GOOD: GOD AND OBJECTIVE MORALITY, মূল লেখাটি এখানে[]
  2. KNOW GOD, KNOW GOOD: GOD AND OBJECTIVE MORALITY, (KNOW GOD, KNOW GOOD: GOD AND OBJECTIVE MORALITY, মূল লেখাটি এখানে[][][][][][][][][][]
  3. What are the sources of Islamic legislations? , Islamqa[]
  4. সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), হাদিস নং- ১৪৫৩, www.hadithbd.com[]
  5. সহীহ মুসলিম (ইফা), হাদিস নং- ৩৪৬৬, www.hadithbd.com[]
  6. তাফসীরে জালালাইন। ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা নম্বর ৭৯৫, ৭৯৭[]
  7. Rule 93. Rape and Other forms of Sexual Violence, ihl-databases.icrc.org []

Shafi

Shafi is an ex-Muslim writer, blogger and activist.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *