ইসলাম, গনিমতের মাল এবং আমাদের মানবতা!

ভূমিকা

আমরা বাঙালিরা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধে আমাদের প্রায় দুইলক্ষ নারী ধর্ষিত হয়েছে পাক বাহিনীর হাতে। বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা আজকে জানি, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সহ বাঙলাদেশেরই কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী যেমন জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো রাজাকার আলবদর আলশামস নামক নানা বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন কায়দায় তাদের ধর্ষণ করেছে। এরকম অনেক প্রমাণও রয়েছে যে, একটি কক্ষের ভেতরে নগ্ন করে বাঙালি যুবতী মেয়েদের রাখা হতো, যেন তারা জামা দিয়ে গলার ফাঁস বানিয়ে আত্মহত্যা করতে না পারে। সেই প্রবল ধর্ষণ আর অত্যাচারে আমাদের মা এবং বোনেরা আত্মহত্যার চেষ্টা করতো, কিন্তু পাকবাহিনী তাদের মরে যেতেও দিতো না। কারণ মৃত মেয়েরা আর ধর্ষণের উপযোগী থাকে না। আবার সেই পাকবাহিনী বৃদ্ধা দেখলে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যেত না, ওখানেই গুলি করে মেরে ফেলতো। কারণ বৃদ্ধা রমণী ধর্ষণের উপযোগী নয়।
সেই সময়ে যেই পাকসেনাবাহিনীর সাথে হাজার হাজার রাজাকার, আলবদর, আলশামস এসে দলে দলে যোগ দিয়েছিল, তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সম্পত্তি লুটপাট, নারী ধর্ষণ এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠা। এই যে পাক বাহিনী এবং তাদের এদেশীয়় চামচা রাজাকার, আলবদরদের সীমাহীন অত্যাচার- আপনারা যদি পাকবাহিনীর সেনাদের বা রাজাকার আলবদরদের কাছ থেকে ৭১ এর ইতিহাস শোনেন, কি জানবেন আমি বলে দিতে পারি। তাদেরও এই বিষয়ে নানা বইপত্র রয়েছে, তারা কে কোথায় কী বলেছে সেগুলো লিপিবদ্ধ আছে।
তারা অনেকেই দাবী করেছে, ৭১ সালে দেশপ্রেমিক পাকবাহিনী পাকিস্তান এবং ইসলাম রক্ষার মহান দায়িত্ব নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিল এবং এখানে আসার পরে দুষ্কৃতিকারী কিছু ভারত ও হিন্দুদের দালালদের তারা দমন করে। কিছু বাঙালি সুন্দরী রমণী পাকবাহিনীর শৌর্যবীর্যে মুগ্ধ হয়ে পাকবাহিনীর জেনারেল, মেজর এবং অন্যান্য সদস্যদের প্রেমে পড়ে যায় এবং স্বেচ্ছায় তাদের দেহদান করে। তারা যেসব করে তা মোটেও ধর্ষণ ছিলো না! বরঞ্চ অসহায় বাঙালি নারীর পিতা, ভাই, সন্তান, স্বজনদের হত্যা করার পরে মানবতার খাতিরে তারা সহবত করেছে। তারা আশ্রয় দিয়েছে। নইলে সেই সব অসহায় নারীরা কই যেতো? পরবর্তীতে দুষ্কৃতিকারী মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় দস্যুরা এসে সেই সকল নারীদের ধর্ষণ করে এবং হত্যা করে…ইত্যাদি।

যুদ্ধে নারী ধর্ষণ

রাজাকার বাহিনীও একই কথা বলেছে দীর্ঘসময়। তারা প্রথমত স্বীকারই করেনি ধর্ষণের কথা। এরপর প্রমাণ দেয়া হলে তারাও পাকবাহিনীর মতো একই কথা বলে নিজেদের অপরাধকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছে। আপনাদের কি কথাগুলো হজম হচ্ছে? আপনি মানুষ হলে অন্তত কথাগুলো হজম হওয়ার কথা নয়। কথাগুলা কোন বাঙালির পক্ষেও হজম করা সম্ভব না। কি নারকীয় ধর্ষণ আর হত্যাযজ্ঞই না চালিয়েছে পাকবাহিনী আমাদের উপর। কিছু বর্ণনা দিতেই হচ্ছে।

  • ধরা পরা কোন মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পরলে সেই মেয়েগুলো আর ধর্ষনের উপযোগী থাকবে না। তাই গর্ভবতী হয়ে গেলে তাদের এক রাতে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে পেট চিড়ে ফেলত। ইসলামের পরিভাষায় যাকে আজল বলা হয়।
  • আবার বয়ষ্ক মহিলারাও ধর্ষণের উপযোগী নয়। তাদেরকে রাখা হতো ক্যাম্পের কাজের মানুষ হিসেবে এবং দেখা হতো তাদের ধর্ষণ করা সম্ভব কিনা, অথবা মেরে ফেলা হতো।
  • এমনও দেখা গেছে, স্তন ছোট বা গায়ের রঙ কালো হলে সে সব মেয়েদের একবার ধর্ষণ করেই মেরে ফেলা হয়েছে।

আপনারা সকলেই হয়ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভালোভাবে পড়েছেন। ঘটনাগুলো আপনারা জানেন, তারপরেও প্রাসঙ্গিকভাবেই বললাম। যুদ্ধবন্দীদের সাথে ইতিহাসে নানা যুদ্ধে কী কী আচরণ করা হয়েছে তা আপনারা সকলেই কমবেশি জানেন। সেগুলো নতুন করে ব্যাখ্যা করবার কিছু নেই। কোন গোত্রে আক্রমণ করা হলে, সেই সব গোত্রের সকল পুরুষকে হত্যা করে সেখানেই ধর্ষণযজ্ঞে মেতে উঠতো বিজয়ী বাহিনী। কোন দেশ আক্রমণ করা হলে, সেই দেশের নারীদের ওপর নেমে আসতো সীমাহীন নির্যাতন। মাসের পর মাস বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণ করা হতো তাদের। সেরকম অবস্থায় সেই ধর্ষণ সহ্য করা ছাড়া মেয়েদের আর কোন উপায়ও থাকতো না। পুরো পরিবারকে হত্যা করে যখন বিজয়ী বাহিনী অস্ত্র হাতে একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে, সেই সময়ে একটা মেয়ের কী বা করার থাকতে পারে? এমনকি, ভারতে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যে, কোন অঞ্চলের সব মেয়ে শত্রুর আক্রমণের ভয়ে একসাথে আত্মহত্যা করে ফেলেছে। কারণ তারা জানতো, শত্রু বিজয়ী হলে তাদের সাথে কী করা হবে। আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে দেয়া হবে না।

এবারে আসা যাক মুল আলোচনায়।

নবী মুহাম্মদের প্রাথমিক অবস্থা

আরবের হেরেমে বন্দী নারীগণ

ছোটবেলা একটি বইতে পড়েছিলাম, শর্ষীনার পীরসাহেব নাকি বাঙালি নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে পাকবাহিনী এবং রাজাকার আলবদরদের ভোগ করার ফতোয়া দিয়েছেন। শুনে খুব অবাক লেগেছিল। মনে মনে ভেবেছিলাম, এই ধরণের পীর সাহেবরা ইসলামের মত শান্তির ধর্মকে বদনাম করছে। পবিত্র শান্তির ধর্ম ইসলামে কোথাও কখনও এরকম কথা বলা নেই, থাকতেই পারে না। একটু বড় হলাম যখন, কোরানের বাঙলা অনুবাদ পড়লাম, সেই সাথে বুখারী হাদিস এবং সহি মুসলিম হাদিস। পড়ে অবাক বিস্ময়ে মাথা কাজ করছিল না। অনেকদিন অনেকবার ভেবেছি, এই কি সেই মুহাম্মদ, যাকে আমি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ভাবতাম? গনিমতের মাল ভোগ, যুদ্ধবন্দী নারীকে ধর্ষন কি আসলেই ইসলামের বিধান কিনা, সেটা একটা গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন অবশ্যই। উল্লেখ্য, কোরান এবং হাদিস হচ্ছে সর্বকালের, সর্বসময়ের জন্য মুসলমানদের বিধান বা আইন। সেখানে যা বলা হচ্ছে, বা মুহাম্মদ ব্যক্তিগত জীবনে যা করেছেন, মুসলমানদের ঠিক সেভাবেই সেই সব করা সুন্নত বলে গণ্য।

মুহাম্মদকে সবসময়ই খুব ভাল এবং আদর্শ মানুষ বলে জেনে এসেছি। ছোটবেলায় শুনতাম মুহাম্মদ তার চরম শত্রুকেও ক্ষমা করে দিতেন। কিন্তু বাস্তবে কোরান হাদিস পড়ার পরে সেরকম কোন ঘটনা কোথাও খুঁজেই পেলাম না। পরে জেনেছিলাম, গৌতম বুদ্ধ থেকে শুরু করে এরকম অন্য কয়েকজন মহামানবের গল্প আসলে আমরা মুহাম্মদের নামে শুনি। সেগুলো আদৌ মুহাম্মদের গল্প নয়। তাহলে আসল মুহাম্মদ কেমন ছিলেন? এই বিষয়ে কোরান হাদিস কী বলে?

এই বিষয়গুলো ভালভাবে জানতে আমাদের নজর দিতে হবে মুহাম্মদের সবচাইতে অথেনটিক জীবনী গ্রন্থের ওপর, সেই সাথে হাদিস এবং কোরানের আয়াতের ওপর। এবং কোরানের আয়াতের তাফসীরগুলো, শানে নুযূল বা ব্যাখ্যার ওপর। মুহাম্মাদের জীবন নিয়ে অনেক গুরুত্বপুর্ণ লেখক জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন। তার জীবনীগ্রন্থকে সাধারণভাবে “সিরাত” গ্রন্থ বলে। সকল জীবনীগ্রন্থের মধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য হলো ইবনে ইসহাক রচিত মুহাম্মাদের সর্বাধিক প্রাচীনতম নির্ভরযোগ্য জীবনী সংকলন সিরাতে ইবনে ইসহাক এবং তা হতে সম্পাদিত সিরাতে ইবনে হিশাম, আল তাবারি রচিত “সিরাতে রাসুলাল্লাহ”, ইবনে কাসির রচিত “আল-সিরাত আল-নববিয়াত”, মার্টিন লিংসের “মুহাম্মাদ : হিজ লাইফ বেজড অন দ্য আর্লিয়েস্ট সোর্সেস”, ক্যারেন আর্মস্ট্রং রচিত “মুহাম্মাদ : এ বায়োগ্রাফি অব দ্য প্রফেট” এবং “মুহাম্মাদ : এ প্রফেট অব আওয়ার টাইম”, মার্মাডিউক পিকথাল রচিত “আল আমিন : এ বায়োগ্রাফি অব প্রফেট মুহাম্মাদ”, সাম্প্রতিককালে রচিত আর্-রাহিকুল মাখতুম, বাংলা ভাষায় গোলাম মোস্তফা রচিত বিশ্বনবী, এয়াকুব আলী চৌধুরীর নুরনবী, মওলানা আকরম খাঁ রচিত মুস্তাফা চরিত প্রভৃতি। এই লেখাটিতে তাই সতর্কতার সাথে সব রেফারেন্স যথাসম্ভব ক্রস চেক করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বইগুলোর ডাউনলোড লিঙ্ক দেয়া হচ্ছে। নিজেরাই পৃষ্ঠা নম্বর দেখে যাচাই করে নিন। [সহায়ক গ্রন্থ লিস্ট দেখুন]

নিজের ওপর আল্লাহর কাছ থেকে ওহী নাজিল হয়েছে দাবী করার পরে নতুন ধর্ম প্রচারের পরে পরে মুহাম্মদের প্রয়োজন হয়েছিল দল ভারী করবার। সেই সময়ে নানান পৌত্তলিক ধর্ম প্রচলিত ছিল, এক এক গোত্র এক এক দেবদেবীর উপাসনা করতো। ইহুদী এবং খ্রিস্টানও ছিল প্রচুর। মুহাম্মদ ঠিকই বুঝেছিল, মানুষ সব সময়েই দুটি জিনিসের বাধ্য- লোভ আর ভয়। মুহাম্মদ দোযখের ভয় জনগণকে এমনভাবেই দেখিয়েছেন যে সেই ভয়েই অনেক দুর্বল হৃদয়ের মানুষ সাথে সাথে ইসলাম কবুল করে। একই সাথে ছিল ইসলামে যোগ দিলে অশ্লীল লাভের প্রতিশ্রুতি, বেহেশত নামক পতিতাপল্লী এবং সুরীখানায় প্রবেশাধিকার। এই দুই-লোভ এবং ভয় দেখিয়ে মানুষকে দলে টানার কাজ ভালভাবেই চলছিল সে সময়ে। সেই সময়ে সংখ্য ছোট ছোট আরব বেদুইন দস্যু দল নানা জায়গাতে ডাকাতি করে বেড়াতো। সেই সব ডাকাতদের ডাকাতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন অনেক আরব জাতীয়তাবাদী নেতাই। কিন্তু সফল হয়েছিলেন একজন। তিনি হযরত মুহাম্মদ।

জিহাদের প্রতি আগ্রহের কারণ

মুহাম্মদের বংশ
মুহাম্মদের জন্মও হাশেমী বংশে, কোরাইশদের মধ্যে হাশেমীরা ছিলেন বেশ সম্ভ্রান্ত বংশ।

আপনারা জানেন যে মুহাম্মদ ইসলাম ধর্মের ঘোষনা দেয়ার পরে তার দলে বেশ কিছু মানুষ যোগ দেয় এবং বিপুল পরিমাণে মানুষ তার প্রচারিত ধর্মের বিরোধীতা করে। বিরোধীতার প্রধান উদ্দেশ্য অবশ্য ছিল রাজনৈতিক। সে সময়ে আরবের মক্কায় দুটো গ্রুপ শক্তিশালী ছিল, একটা গ্রুপের সদস্য মুহাম্মদ নবী হবার দাবী করায় অন্য গ্রুপটি নিজেদের কর্তৃত্ব হারাবার ভয়ে মুহাম্মদের প্রবল বিরোধীতা করে। সে সময়ে মুহাম্মদের প্রবর্তিত ইসলাম এবং সে সময়ের আরবের প্যাগান, খৃষ্টান এবং ইহুদীদের ভেতরে বেশ কিছু যুদ্ধ হয়। কোনও কোনও সময়ে মুহাম্মদের দল জয়লাভ করে, কোনও কোনও সময়ে কুরাইশরা বা বিধর্মীরা।

নতুন প্রচারিত ধর্মে যোগদানের জন্য মুহাম্মদকে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে, আল্লাহর নামে তিনি তার গ্রন্থ কুরআনে বলেছেন যে ইসলামের পথে জিহাদ করলে স্বর্গে অসংখ্য (৭২+) হুর গেলমান পাওয়া যাবে, দুধের সমুদ্র থেকে শুরু করে মদের নদী এমন কিছু নাই যে মুহাম্মদ লোভ দেখান নি। এ সকলই নতুন প্রবর্তিত ধর্মে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য। পরকালে নানা ধরণের সুখ সুবিধার কথা বলে মুহাম্মদ ক্রমশ দল ভারী করতে শুরু করেছিল। মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে শুধুমাত্র গনিমতের মাল ভোগের বিধান না থাকলেই এতো দ্রুত মুহাম্মদের সেনাবাহিনী খুব বেশি বৃদ্ধি পেতো না। নানা জায়গা থেকে ছোট ছোট দস্যু এবং ডাকাত দল জানতে পেরেছিল যে, নবী মুহাম্মদ একটা সেনাবাহিনী গঠন করেছে। যেই সেনাবাহিনী ছোট ছোট বাণিজ্য কাফেলা লুট করছে, ইহুদী গোত্রগুলোকে আক্রমণ করছে, এবং তাদের মালপত্র, স্ত্রী কন্যাদের গনিমতের মাল হিসেবে ভাগ করে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, জিহাদ করে মারা গেলে মুহাম্মদ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ৭২টি হুর, সেই হুর নামক বেশ্যারা এত্ত সুন্দরী যে, খোদ কোরানেই তাদের রূপযৌবন বর্ণনা করা হচ্ছিল। হাদিসেও অসংখ্যবার সেইসব হুরের স্তন আর চিরঅক্ষত যোনীর লোভ দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ যুদ্ধ করে বেঁচে থাকলে গনিমতের মাল, মারা গেলে ৭২ খানা বেশ্যা। আরব বর্বর দস্যুদের সবচাইতে কামনার বস্তু। সে কারণে মুহাম্মদ খুব দ্রুত তার দলে অসংখ্য লোক ভিড়াতে সক্ষম হন।

কুরাইশ বা বিধর্মীদের সাথে যুদ্ধে গনিমতের মাল বা যুদ্ধে শত্রু সম্পত্তি ভোগ এবং দখলকে কেন্দ্র করে জিহাদীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিল। কিছু মানুষ মুহাম্মদের কাছে জানতে চাইলো যুদ্ধে মৃত শত্রুর ফেলে যাওয়া সম্পদ, স্ত্রী, শিশু, বাচ্চাকাচ্চা, বৃদ্ধ মা বাবা, উট, অর্থ এগুলো ভোগ করা যাবে কিনা? আসুন দেখি আমাদের মানবতার মহান পূজারী মুহাম্মদ এ সম্পর্কে কি বলেছেন! বেশ কিছু সাহাবী মুহাম্মদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলো যুদ্ধে প্রাপ্ত গনিমতের মালের মধ্যে নারীদের ধর্ষণ করা জায়েজ কিনা। পরম করুনাময় আল্লাহ্‌ তায়ালা সাথে সাথে ওহী লাজিল করে বসলেন।

মা মালাকাত আইমানুকুম বা মালিকানাভূক্ত দাসী

ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে পরিষ্কারভাবে মালিকানাধীন দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক হালাল করা হয়েছে। প্রখ্যাত অনুবাদক মহিউদ্দিন খানের অনুবাদ থেকে পড়িঃ

তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।

সুরা মুমিনুন আয়াত ৬

যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে, কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না।

সুরা আল-মা’আরিজ আয়াত ২৯-৩০

হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন

সুরা আল-আহযাব আয়াত ৫০

তোমাদের জন্যে অবৈধ করা হয়েছে নারীদের মধ্যে সধবাগণকে (অন্যের বিবাহিত স্ত্রীগণকেও); কিন্তু তোমাদের দক্ষিন হস্ত যাদের অধিকারী– আল্লাহ তোমাদের জন্যে তাদেরকে বৈধ করেছেন।

সুরা নিসা আয়াত ২৪

দক্ষিণ হস্ত বলতে কি বুঝায় নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নাই, ডান হাত বলতে বুঝায় শক্তি প্রয়োগে প্রাপ্ত। ডান হাত শক্তি বা তলোয়ারের প্রতীক এটা নিশ্চয়ই জানা থাকার কথা। কোরানের বাঙলা অনুবাদে ইদানীং এই আয়াতগুলোকে একটু বদলে দেয়া হচ্ছে। ভালভাবে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন। অবশ্য তাফসীরগুলোতে বেশ খোলামেলা ভাবেই এই বিষয়ে সব বলা রয়েছে।

আরবে নারী কেনাবেচা

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় জালালাইনের তাফসীরকারকদ্বয় বলেন- “অর্থাৎ, যাদেরকে তারা যুদ্ধের ময়দানে আটক করেছে, তাদের সাথে সহবাস করা তাদের জন্যে বৈধ, যদি তাদের স্বামীগণ দারুল হরবে জীবিতও থাকে”। উল্লেখ্য,দারুল হরব অর্থ- অমুসলিম রাষ্ট্র বা দেশ।অর্থাৎ স্বামী জীবিত আছে, এমন যুদ্ধবন্দীও ধর্ষনের উপযোগী।
দক্ষিন হস্তের অধিকার বলতে বোঝায় ক্রীতদাস বা দাসী (স্লেভস কিংবা মেইডস), যা যুদ্ধবন্দী হিসেবে কিংবা বাজার হতে ক্রয়সূত্রে মুসলমানদের দখলে আসে। ক্রীতদাসী মুসলমানদের দখলে যেভাবেই হোক আসলে তাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ বা হালাল। বর্তমান যুগেও যদি কোন কাফেরদের দেশ মুসলমানদের অধিকারে আসে, এই নিয়ম পালন করা বৈধ বা সম্পূর্ণ হালাল। কারণ কোরআন রোজ কেয়ামত পর্যন্ত যেমন আছে তেমনই থাকবে, কোরআনের কোনও আয়াত পালটাবার, বা সময়ের প্রয়োজনে তা সংশোধন করার অনুমতি কাউকেই দেয়া হয় নি। সুরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর পড়ে নিই তাফসীরে জালালাইন থেকে। [ তথ্যসূত্র ১ ]

সুরা নিসা আয়াত ২৪
যুদ্ধবন্দী গনিমতের মাল

কোরআনের এই আয়াতটির তাফসির আমরা পড়তে পারি ইবনে কাত্থিরের প্রখ্যাত তাসফির গ্রন্থ থেকে। [ তথ্যসূত্র ২ ]

তাফসির ইবনে কাত্থির খণ্ড ৪,৫,৬,৭ পৃষ্ঠা ৩৪৩

এর আরো ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে পরবর্তী হাদিস সমূহ থেকে।

দাসী সঙ্গম করতেন খোদ নবী মুহাম্মদ

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, মুহাম্মদ নিজে কী দাসীদের সাথে যৌন সঙ্গম করতেন? এই বিষয়ে জানার জন্য নিচের হাদিসটি পড়া প্রয়োজন। হাদিসটি পাবেন সূনান নাসাঈ (ইফাঃ) খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা ১০৬ তে। [ তথ্যসূত্র ৩ ]

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৭/ স্ত্রীর সাথে ব্যবহার (كتاب عشرة النساء)
হাদিস নাম্বার: 3961
৩৯৬১. ইবরাহীম ইবন ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ হারামী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি বাদি ছিল যার সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহবাস করতেন। এতে আয়েশা (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে লেগে থাকলেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বদিটিকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ পাক নাযিল করেনঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ) “হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা আপনি নিজের জন্য কেন হারাম করে নিয়েছেন (সূরা তাহরীমঃ ১) ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
তাহক্বীকঃ সহীহ।

এই দাসীটি হচ্ছে মারিয়া কিবতিয়া, যার গর্ভে নবী মুহাম্মদের একটি সন্তানও জন্ম নিয়েছিল। সেও একজন যুদ্ধবন্দী ছিলেন বলে জানা যায়। এই সম্পর্কে আরো বিস্তারিত পাবেন এই লেখাটিতে। [ তথ্যসূত্র ৪ ]

জিহাদ এবং গনিমতের মাল

এবারে আসুন কোরআনের কিছু আয়াত লক্ষ্য করি। অনুবাদ পড়ি দারুস সালাম প্রকাশনী থেকে বের হওয়া বাংলা তাসফির কুর’আনুল কারিম – অনুবাদঃ প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান থেকে। [সহায়ক গ্রন্থ ৮]

But (now) enjoy what ye took in war (booty), lawful and good; but fear God

সুরা আনফাল আয়াত ৬৯


Sura-47:4 -“when you meet the unbelievers, strike off their heads; then when you have made wide Slaughter among them, carefully tie up the remaining captives”

উপরের ৪ এবং ৭ নম্বর আয়াত দুটো মন দিয়ে পড়ুন। আল্লাহ পাক বান্দাদের সাহায্য চাচ্ছেন, কাফেরদের হত্যা করার জন্য। কী হাস্যকর! মহাবিশ্বের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহ পাকের কী করুন অবস্থা! মহান করুণাময় আল্লাহ তালাহ মুমিন বান্দাদের উৎসাহ দিচ্ছেন অবিশ্বাসীদের কল্লা ফেলতে, এবং তাদের মধ্য থেকে বন্দীদের টাইট করে বাধতে, দাস বানাতে!

নিচের হাদিসটি পড়ুন। ইসলামে অতর্কিত আক্রমণ সম্পূর্ণ বৈধ। এইসব সহিহ হাদিসকে অস্বীকার করলে ইমানই থাকবে না। [ তথ্যসূত্র ৫ ]

অতর্কিত আক্রমণ
নারী ধর্ষণ

যুদ্ধবন্দী হিসেবে যেই সকল নারীদের জিহাদিগণ হস্তগত করতো, দেখা যেতো, যুদ্ধের ময়দানেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তো মুহাম্মদের অনুসারীগণ। যুদ্ধ বা অতর্কিত আক্রমণে নারী এবং অলঙ্কার দেখলে উম্মত হয়ে উঠতো মুহাম্মদের জিহাদীগণ, তাদের আর আটকে রাখা যেতো না। এমনকি, নারীগণ দৌড়ে পালাতে চাইলে তাদের পেছনেই ধাওয়া করতো জিহাদীরা।

নিচের হাদিসটি পড়ুনঃ [ তথ্যসূত্র ৬ ]

যুদ্ধাভিযান

একটা ক্ষেত্রে মুহাম্মদের প্রশংসা করতেই হয় যে, তিনি এই ভয়াবহ বিকৃতরুচির জিহাদিদের উন্মত্ততা দেখে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অন্ততপক্ষে গর্ভবতী নারীদের ওপর যেন জিহাদিগণ হামলে না পরেন। পড়ুন নিচের হাদিসগুলো– [ তথ্যসূত্র ৭ ]

এবারে সহিহ মুসলিম গ্রন্থ থেকে আরেকটি হাদিস পড়ি। [ তথ্যসূত্র ৮ ]

সহিহ মুসলিম

এইরকম নির্দেশ দেয়ার কারণ বোঝার জন্য আইনস্টাইন হওয়ার দরকার হয় না। মুহাম্মদের অনুসারীগণ এতটাই উম্মত্ত ছিল গনিমতের মাল হিসেবে নারী ধর্ষণে, যে মুহাম্মদের মত মানুষকেও রীতিমত নিয়মজাড়ি করে বলে দিতে হয়েছিল যে, গর্ভবতী নারীর বাচ্চা জন্ম হওয়ার আগে তাকে ধর্ষণ করা যাবে না। তবে তাদের স্বামী যদি জীবিত থাকে, ইদ্দতের এবং বিলিবণ্টনের পরে তাদেরকে ধর্ষণ করতে মুহাম্মদ কোন বাধা দেন নি।

যুদ্ধে যেসব নারীদের বন্দী হতো, তাদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ স্বয়ং বেশ কয়েকজনকে নিজের স্ত্রী কিংবা উপপত্নী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটিকেই তিনি নিজের জন্যে রাখতেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হওয়া সহিহ বুখারী শরীফ থেকে নিচের হাদিসটি(হাদিস নম্বর ২৬৯৪) লক্ষ্য করুন। [ তথ্যসূত্র ৯ ]

একইসাথে উল্লেখ্য, নবী মুহাম্মদ ৯ মতান্তরে ১১ মতান্তরে ১৩ জন স্ত্রীর সাথে একই দিনে বা রাতে পর্যায়ক্রমে যৌনসঙ্গম করতেন । [ তথ্যসূত্র ১০ ]

দাসীদের সাথে আজলের হুকুম

আরেকটি হাদিস, আজলের নিয়ম সম্পর্কিত। [ তথ্যসূত্র ১১ ]

যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে আযল পদ্ধতিতে ধর্ষণ

আজল সম্পর্কিত শরীয়তের হুকুম সম্পর্কিত হাদিসঃ

সহিহ মুসলিম
[ তথ্যসূত্র ১২ ]
সহিহ মুসলিম
[ তথ্যসূত্র ১৩ ]
সহিহ মুসলিম
[ তথ্যসূত্র ১৪ ]
সহিহ মুসলিম
[ তথ্যসূত্র ১৫ ]

এই হাদিসটির পরিচ্ছদ পড়ুনঃ

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [2093]
অধ্যায়ঃ ২৬/ ক্রয় – বিক্রয়
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ১৩৮৬. ইসতিবরা অর্থাৎ জরায়ু গর্ভমুক্ত কি-না তা জানার পূর্বে বাঁদীকে নিয়ে সফর করা। হাসান বসরী (রঃ) তাকে চুম্বন করা বা তার সাথে মিলামিশা করায় কোন দোষ মনে করেননা। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, সহবাসকৃত দাসীকে দান বা বিক্রি বা আযাদ করলে এক হায়য পর্যন্ত তার জরায়ু মুক্ত কি-না দেখতে হবে। কুমারীর বেলায় ইসতিবরার প্রয়োজন নেই। আতা (রঃ) বলেন, (অপর কর্তৃক) গর্ভবতী নিজ দাসীকে যৌনাঙ্গ ব্যতীত ভোগ করতে পারবে। মহান আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত বাঁদী ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবেনা……। (২৩:৬)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

[ তথ্যসূত্র ১৬ ]

যুদ্ধবন্দী নারীরা কী স্বেচ্ছায় সহবত করতো?

স্বভাবতই আমি যখন ছোট ছিলাম, ভাবতাম যে, মুহাম্মদের মত একজন অত্যন্ত সম্মানিত মহামানবের কাছ থেকে এসব আচরণ পাওয়া যাবে না।  আশা করেছিলাম যে তিনি এই ধরণের কোন কাজের সাথে নিজেকে জড়িত করবেন না, বরঞ্চ তার দলের কেউ এই কাজে লিপ্ত হলে তার বিচার করবেন, মানবতাবিরোধী এই কাজগুলো নিষিদ্ধ করবেন। কিন্তু হতাশ হয়ে লক্ষ্য করলাম, তিনি তার কিছুই করেন নি, বরঞ্চ নিজেই সেই কাজগুলো করে তার উম্মতদের উৎসাহিত করেছেন!

নিজেকে অনেক প্রবোধ দিয়েছিলাম এই ভেবে যে, সেই সব যুদ্ধবন্দী নারীর ভালোর জন্যেই হয়তো এরকম বিধান রাখা হয়েছিল। হয়ত যুদ্ধবন্দী নারীদের সেই সময়ে যৌন চাহিদা ছিল, তা মেটাবার জন্যেই নবী এরকম বিধান রেখেছিলেন। কিন্তু নিজেকে এই বিষয়ে বোঝানো কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। আসলেই? সিরিয়াসলি? একজন যুদ্ধবন্দিনী, যার বাবা ভাই থেকে শুরু করে সব আত্মীয় স্বজন নিহত হলো মুহাম্মদের জিহাদীদের হাতে, সেই নারী নিশ্চয়ই খুব আনন্দের সাথে ধেই ধেই করে নাচতে নাচতে মুহাম্মদের অনুসারীদের কোলে উঠে গিয়েছিল, তাই না? জিহাদীদের কাছে কাকুতিমিনতি করতে শুরু করেছিল, যেন তাদের যৌন সুখ দেয়া হয়! তাই কী? নিজেকে এরকম অদ্ভুত বুঝ দেয়ার পরে নিজের কাছেই খটকা লাগতো, নিজের কাছেই নিজেকে ছোট মনে হতো।

নিজ জামাতেকেও নারী উপহার দিতেন মুহাম্মদ

এমনকি নিজের জামাইদেরকেও তিনি যুদ্ধবন্দিনীদের ভাগ দিতে কসুর করেননি। হযরত আলী এবং হযরত ওসমানকেও তিনি উদারভাবে মালে গনিমত বন্টন করেছেন। নিচের হাদিসটিতে দেখা যাবে, কীভাবে হযরত ফাতেমার স্বামী নবী জামাতা শেরে খোদা হযরত আলী বন্দিনীর সাথে সেক্স করছেন, যে বন্দিনীকে তিনি শ্বশুরের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন।
মহান আমাদের দয়াল নবী মুস্তফা। নিজের কন্যার স্বামীর সাথে সেক্স করার জন্য যুদ্ধবন্দিনী দিতে এখনকার আধুনিক পিতারও বুক কেঁপে উঠবে, কিন্তু সেই সময়েই দয়াল নবী তা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। [ তথ্যসূত্র ১৭ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [4350] অধ্যায়ঃ ৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৪/৬২. বিদায় হাজ্জের পূর্বে ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ।
৪৩৫০. বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে খুমুস (গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ) নিয়ে আসার জন্য খালিদ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। (রাবী বুরাইদাহ বলেন,) আমি ‘আলী (রাঃ)-এর প্রতি অসন্তুষ্ট, আর তিনি গোসলও করেছেন। (রাবী বলেন) তাই আমি খালিদ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি কি তার দিকে দেখছেন না? এরপর আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন, হে বুরাইদাহ! তুমি কি ‘আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেক না। কারণ খুমুসে তার প্রাপ্য এর চেয়েও অধিক আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১২)

Narrated Buraida: The Prophet (ﷺ) sent `Ali to Khalid to bring the Khumus (of the booty) and I hated `Ali, and `Ali had taken a bath (after a sexual act with a slave-girl from the Khumus). I said to Khalid, “Don’t you see this (i.e. `Ali)?” When we reached the Prophet (ﷺ) I mentioned that to him. He said, “O Buraida! Do you hate `Ali?” I said, “Yes.” He said, “Do you hate him, for he deserves more than that from the Khumlus.”

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাঠক লক্ষ্য করুন, যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে যৌন কর্মের পরে গোছলের কথাটিকে বাঙলায় অনুবাদ করা হয়েছে শুধু গোছল হিসেবে। যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে নবী জামাতা আলী সেক্স করতেন তা গোপন করার জন্য। খুব কৌশলে আলীর চরিত্র রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে একই হাদিসের ইংরেজি অনুবাদে সেটি পাওয়া যায়।

সহি বুখারিঃ ভলিউম-৫, বুক নং-৫৯, হাদিস নং-৬৩৭:
বুরাইদা কর্তৃক বর্ণিতঃ
নবী আলীকে ‘খুমুস’ আনতে খালিদের নিকট পাঠালেন (যুদ্ধলব্ধ মালের নাম খুমুস)। আলীর উপর আমার খুব হিংসা হচ্ছিল, সে (খুমুসের ভাগ হিসেবে প্রাপ্ত একজন যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যৌনসঙ্গমের পর) গোসল সেরে নিয়েছে। আমি খালিদকে বললাম- “তুমি এসব দেখ না”? নবীর কাছে পৌছলে বিষয়টি আমি তাকে জানালাম। তিনি বললেন- “বুরাইদা, আলীর উপর কি তোমার হিংসা হচ্ছে”? আমি বললাম-“হ্যা, হচ্ছে”। তিনি বললেন-“তুমি অহেতুক ইর্ষা করছ, কারণ খুমুসের যেটুকু ভাগ সে পেয়েছে তার চেয়ে আরও বেশী পাওয়ার যোগ্য সে”।

সহজ ইনআমুল বারী যা সহিহ বুখারীর একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ, তা থেকে এই হাদিসটির ব্যাখ্যা যা জানা যায়, তাতে পিলে চমকে ওঠে। আলী আসলে যুদ্ধবন্দিনী হিসেবে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক পিরিয়ড পর্যন্ত না হওয়া এক বালিকার সাথে সহবত করেছিল। [ তথ্যসূত্র ১৮ ]

মহম্মদের সবচেয়ে প্রামান্য এই জীবনচরিত ইবনে ইসহাকের লেখা সিরাত এ রাসুল্লাল্লাহ (যে রচনাকে মুসলিম বিশ্বে সর্বদা রেফারেন্স হিসেবে ব্যাবহার করা হয়) পাঠ করে আমরা জানতে পারি, হুনায়েনের যুদ্ধে এক বৃদ্ধাকে ছেড়ে দেওয়া হলো, কারণ তার মুখমন্ডল ছিল শীতল, বক্ষদেশ সমতল, সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা ছিল না তার এবং বুকে দুধের ধারা শুকিয়ে গেছে। সুতরাং ছয়টি উটের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হলো। [ তথ্যসূত্র ১৯ ]

সীরাতে রাসুলাল্লাহ শহীদ আখন্দ প্রথমা প্রকাশনী [ তথ্যসূত্র ২০ ]


বাঁদীর সাথে আজলে অনুমতির প্রয়োজন নেই

এখন আসুন সহিহ বুখারীর সপ্তম খণ্ড থেকে পড়ি আজলের নিয়ম কানুন। এখানে সহিহ বুখারী হাদিসের লিঙ্ক দেয়া হলো, যে কেউ ৩৮৩২ নম্বর হাদিসের নিচে কী লেখা তা ডাউনলোড করে পড়তে পারেন। [ তথ্যসূত্র ২১ ]

আজল
নবী দাসী সঙ্গম করতে উৎসাহ দিতেন

যুদ্ধবন্দীদের সাথে আজলের কারণ 

জিহাদিদের উন্মত্ত ধর্ষণপ্রক্রিয়ার ফলে যদি বন্দিনীটির গর্ভসঞ্চার হয় তাহলে কী হবে? অনেক জিহাদিই চাইতো না যে তাদের সেক্স-মেশিনটি তাড়াতাড়ি গর্ভসঞ্চার করে বসুক, সুতরাং তারা আজল(আজল সম্পর্কে জানতে গুগল করুন) করতো। এই প্রথা সম্পর্কে মুহম্মদের মনোভাব ছিল ঘোলাটে, কখনও তাকে এই প্রথার বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়, কখনও বা তাকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। কিন্তু কোথাও সেই যুদ্ধবন্দিনীকে সাথে সাথে মুক্তি দিতে বলতে দেখা যায় না। সেই যুদ্ধবন্দিনীর সাথে আজল পদ্ধতিতে সেক্স করলো কি করলো না সেটা মহামানব মুহাম্মদের কাছে এত গুরুত্ত্বপূর্ণ, অথচ সেই যুদ্ধবন্দিনীটি মোটেও গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়?একজন মহামানবের কাছ থেকে যদি আমি আশা করে থাকি, যে তিনি এই কথা শোনার সাথে সাথে ঐ জেহাদীর বিচারের ব্যাবস্থা করবেন, এবং সেই যুদ্ধবন্দিনীকে তৎক্ষণাত মুক্তি দেবেন, তাহলে কি খুব বেশি আশা করা হয়ে যায়?

[ তথ্যসূত্র ২২ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [7409]
অধ্যায়ঃ ৯৭/ তাওহীদ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৯৭/১৮. আল্লাহর বাণীঃ তিনিই আল্লাহ্ সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদাতা। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/২৪)
৭৪০৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তাঁরা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ (রহ.) কাযআ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই। [২২২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

হাদিসটির বই থেকে তোলা ছবিঃ [ তথ্যসূত্র ২৩ ]

উপরের হাদিসটির লিঙ্ক

সহি বুখারিঃ ভলিউম ৯, বুক নং-৯৩, হাদিস নং-৫০৬:
আবুসাইদ আল খুদরি থেকে বর্ণিতঃ
বানুমুস্তালিক গোত্রের সাথে যুদ্ধকালে কিছু বন্দিনী তাদের (মুসলমানদের) দখলে আসে। তারা বন্দিনীদের সাথে এমনভাবে যৌনসম্পর্ক করতে চাইল যেন মেয়েগুলি গর্ভবতী না হয়ে পড়ে। সুতরাং বাইরে বীর্যপাতের বিষয়ে নবীর নিকট জানতে চাইল তারা। নবী বলেন- “এটা না করাই বরং তোমাদের জন্যে উত্তম। কারণ আল্লাহ যাকে সৃষ্টি করবেন তা লেখা হয়ে আছে, পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত”। ক্কাজা বলেন- “আমি আবু সাইদকে বলতে শুনেছি যে নবী বলেছেন -‘আল্লাহর আদেশে আত্মার সৃষ্টি, আল্লাহর আদেশ ছাড়া কোন আত্মার সৃষ্টি হয় না”।

সহী বুখারী হাদীস #143, page-700 :Sulaiman Ibne Harb…Aannas Ibne Malek (ra) narrated, “in the war of Khaiber after the inhabitants of Banu Qurayza was surrendered, Allah’s apostle killed all the able/adult men, and he (prophet) took all women and children as captives (Ghani mateer maal).. Among the captives Safiyya Bint Huyy Akhtab was taken by Allah’s Apostle as booty whom He married after freeing her and her freedom was her Mahr.”

অর্থাৎ যুদ্ধে জেতার পরে আল্লাহ রাসুল সকল প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষকে হত্যা করলেন এবং তিনি তাদের সকল নারী এবং শিশুকে বন্দী হিসেবে নিলেন।

বিভিন্ন ইসলামিক বক্তার ভিডিও বক্তব্য

এবারে এই ভিডিওটির ব্যাখ্যা শুনুন।

ছোটবেলা ভাবতাম, এই ধরণের ইসলামী বক্তা আসলে ইসলাম সম্পর্কে কিছু জানে না। না জেনেই এসব কাঠমোল্লা আজেবাজে বলে। কিন্তু আসলে কে ইসলাম সম্পর্কে জানে, আর কে জানে না, সেটা কোরান, বুখারী আর মুসলিম হাদিস বুঝে পড়লেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

এ এক সীমাহীন লজ্জা আর কেলেঙ্কারীর ইতিহাস। লজ্জা ঢাকার জন্য ইসলামপন্থীরা অনেকেই হয়ত বলবেন যে মুহাম্মদ বড়োই দয়ালু ছিলেন, ঐসব অসহায় তরুনীদের দুঃখ দেখে তার কোমল প্রাণ কেঁদে উঠল। তাই তিনি তাদের গ্রহন করে দাসী হিসেবে বিক্রি হওয়ার হাত থেকে তাদের রক্ষা করেছেন। বা মুসলিম জেহাদীদের হাতে হত্যা হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। কি বিভৎস চিন্তা, মেয়েগুলোকে কেনই বা ধরা হলো, কেনই বা এত মানবতা দেখিয়ে বিছানায় নেয়া হলো? একবার ভেবে দেখবেন, কাল ভারত কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইসরাইল বাঙলাদেশ আক্রমণ করলে, পুরুষদের হত্যা করে আমাদের নারীদের বিছানায় তুললে কী হবে? আমাদের নারীরা স্বেচ্ছায় সেই সব সৈন্যদের সাথে বিছানায় উঠে যাবে?

ইতিহাসের অন্যরা কী একই কাজ করেন নি? 


হ্যাঁ, এই যুক্তি গ্রহণ করতে আমার আপত্তি নেই। মুহাম্মদ যা করেছেন, সে যুগে তাই ছিল রীতি। অনেকেই করেছেন, আলেক্সান্ডার থেকে শুরু করে হিটলার, এইদিকে ইয়াহিয়া খান- প্রায় সকলেই। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে তারা কি পরম পূজনীয় হবার যোগ্যতা রাখে কিনা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব হবার যোগ্যতা রাখেন কিনা! এই আধুনিক সময়ে আধুনিক সভ্য পৃথিবীতে কতগুলি খোড়া যুক্তি দিয়ে সেই বন্য রীতিকে জাষ্টিফাই করা অমানবিক। মানবতার প্রতি চরম অবমাননাকর।

গনিমতের মাল ভাগ বাটোয়ারা

কাফের রমনীদের শরীরের প্রতি মুহাম্মদের জিহাদি বাহিনীর অদম্য লোভ ছিল, লোভ ছিল বেহেশতের ৭২ টি হুরের শরীরের প্রতিও। বিষয়গুলো এতটাই বিকৃত আকার ধারণ করেছিল যে, মুহাম্মদকে মাঝে মাঝেই লাগাম টেনে ধরতে হতো। বলতে হতো, গর্ভবতী হলে যেন জিহাদিগণ তাদের ওপর চরে না বসেন। কিংবা মাসিক যাদের হয়েছে তাদের মাসিকের ব্যাথা শেষ হওয়া পর্যন্ত যেন অপেক্ষা করা হয়। ইত্যাদি নানা উদাহরণ রয়েছে। ঐসব ইসলামী সৈনিকদের যৌনতাড়না এতটাই বর্বর ও ঘৃন্য ছিল যে তারা এমনকি কোনপ্রকার গোপনীয়তা অবলম্বনেরও ধার ধারত না। এমনও হয়েছে যে স্বামীদের সামনেই বন্দিনীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে জিহাদিরা।স্ত্রীকে এক নরপশু খাবলে খাচ্ছে, বন্দী স্বামী চোখ মেলে তাই দেখছে। মহানবী এটাও বলে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবন্দী হিসেবে পাওয়া নারীর স্বামী দারুল হরবে জীবিত থাকলেও সেই সব নারী বৈধ! ভেবে দেখুন একবার! অনেক জিহাদি আবার পৌত্তলিক স্বামীটির সামনে বা স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীর উপর চড়ে বসতে দ্বিধান্বিত ছিল। ঠিক সেই সময় মহান আল্লাহ কাফের রমনীদের (বিবাহিতা হলেও) ভোগ করার অনুমতি প্রদান করে ধন্য করলেন জিহাদিদের। কিছু কিছু জিহাদি স্বামী বর্তমান থাকতেও বন্দিনীদের সাথে সেক্স করে এবং কেউ কেউ তা করতে দ্বিধাগ্রস্থ হয়।

অন্যান্য হাদিস

সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১১, হাদিস নং-২১৫০:

আবু সাইদ আল খুদরি বলেন- “হুনায়েন যুদ্ধের সময় আল্লাহর রাসুল (দঃ) আওতাসে এক অভিযান পাঠান। তাদের সাথে শত্রুদের মোকাবেলা হলো এবং যুদ্ধ হলো। তারা তাদের পরাজিত করল এবং বন্দী করল। রাসুলুল্লাহর (দঃ) কয়েকজন অনুচর বন্দিনীদের স্বামীদের সামনে তাদের সাথে যৌনসঙ্গম করতে অপছন্দ করলেন। তারা (স্বামীরা) ছিল অবিশ্বাসী কাফের। সুতরাং মহান আল্লাহ কোরাণের আয়াত নাজেল করলেন- “সমস্ত বিবাহিত স্ত্রীগণ (তোমাদের জন্যে অবৈধ); কিন্তু তোমাদের দক্ষিন হস্ত যাদের অধিকারী (যুদ্ধবন্দিনী)- আল্লাহ তোমাদের জন্যে তাদেরকে বৈধ করেছেন”। অর্থাৎ- পিরিয়ড শেষ হলে তারা তাদের জন্যে বৈধ (৪:২৪)।

যুদ্ধবন্দিনীর সাথে সহবাস বৈধ, তবে শর্ত থাকে যে তার মাসিক স্রাব শেষ গেছে কিংবা গর্ভবতী হলে তার গর্ভ খালাস হয়ে গেছে। তার যদি স্বামী থেকে থাকে, বন্দী হওয়ার পর সে বিবাহ বাতিল বলে গন্য হবে। (কোরান-৪:২৪, সহি মুসলিম-৮:৩৪৩২)।

সহি মুসলিমঃ বুক নং-৮, হাদিস নং-৩৪৩২:

আবু সাইদ আল খুদরি (রাঃ) বলেছেন যে হুনায়েনের যুদ্ধকালে আল্লাহর রাসুল (দঃ) আওতাস গোত্রের বিরুদ্ধে একদল সৈন্য পাঠান। তারা তাদের মুখোমুখি হলো এবং তাদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো। যুদ্ধে পরাজিত করার পর কিছু বন্দী তাদের হাতে আসল। রাসুলুল্লার কিছু সাহাবি ছিলেন যারা বন্দিনীদের সাথে সহবাস করতে বিরত থাকতে চাইলেন, কারণ তাদের স্বামীরা ছিল জীবিত, কিন্তু বহু ঈশ্বরবাদী। তখন মহান আল্লাহ এ সম্পর্কিত আয়াতটি নাজেল করলেন- “এবং বিবাহিত নারীগণ তোমাদের জন্যে অবৈধ, তবে যারা তোমাদের দক্ষিন হস্তের অধিকারে আছে তাদের ছাড়া”।

পরাজিত শত্রুটির সামনেই তার স্ত্রীকে ভোগ করা থেকে শুরু করে, এই সবই এক এক ধরণের যৌনবিকৃতি, যার কিছু নমুনা আমরা দেখেছি একাত্তরে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়। অথবা ২০০১ এ বিএনপির বিজয়ের সময়। পাঞ্জাবি এবং পাঠান সৈন্যরা একাত্তরে বাঙালি রমনীদের উপর যা করেছে, তার পুর্ণ সমর্থন মেলে এই হাদিসগুলি হতে। ইয়াহিয়ার জল্লাদ বাহিনী একাত্তরে যা কিছুই করে থাকুক, ইসলামী শাস্ত্রের বাইরে কিছু করেনি। ইসলামের প্রাথমিক অভিযানগুলোতে নবীর বাহিনী ঠিক এমনটিই করত।

উপসংহার  

বিজয়ীরাই ইতিহাস লেখে। ইসলামের ইতিহাসে সেই সকল কাফের নারীর কান্না স্থান পায় নি। তাদের ধর্ষন, তাদের রক্তের ইতিহাস কোথাও নেই, কিন্তু রয়ে গেছে মুহাম্মদের জীবনী এবং হাদিস-কোরআনের আয়াতগুলো। বিজয়ীরা অনেক রাখঢাক করেই লেখে, নিজেদের অমানবিক কর্মকান্ড ঢেকে রাখার জন্য। কিন্তু তারপরেও যে সকল বিষয় লেখা রয়েছে, সেটুকুই ভয়াবহ। মুসলিমরা চাইলেও এগুলো পালটে ফেলতে পারবে না। সেই সকল হাদিস কোরআনের আয়াত সামনে আনলে আমরা কি দেখতে পাই? সেই নারীদের কান্নার দাগ সেখানে দেখা না গেলেও সহজেই বোঝা যায় সে সময় কি নারকীয় ধর্ষণ আর হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল।

কিন্তু আমাদের আধুনিক মুসলিম ভাইয়েরা বলতে শুরু করেন, সেই সকল নারীর সম্মতিতেই নাকি ছহবত হয়েছিল, ওটা মোটেও রেপ ছিল না। যেই নারীর স্বামী, সন্তান, পিতা যুদ্ধে মারা গেছে মুহাম্মদের সৈন্যদের হাতে, সেই নারীরা মুহাম্মদের অসীম বীরত্ত্বে মুগ্ধ হয়ে তাদের বিছানায় উঠে গেল, এবং ছহবত করলো, দৃশ্যটা কল্পনা করতেই কেমন যেন গা গুলিয়ে আসছে। মনে পরে যাচ্ছে পাকিদের অপপ্রচারের কথা, যে আমাদের দেশের বীরাঙ্গনারা স্বেচ্ছায় পাকিদের দেহ দান করেছিল।

ইসলামপন্থীদের সমস্যাটা বুঝি। নবী মুহাম্মদের চরিত্রকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে তাদের নানা ধরনের কথাই বলতে হয়। কারণ নবী মুহাম্মদ যুদ্ধবন্দী নারীদের নিজে বিছানায় তুলতেন, অন্যদেরও তুলতে বলতেন, বিষয়গুলো অত্যন্ত ঘিনঘিনে আর নোংরা। তারা চাইতেই পারেন নবী মুহাম্মদের চরিত্রকে ফুলের মত পবিত্র বলে প্রচার করতে। কিন্তু সত্য, তা তো স্বীকার করতেই হবে। আজকের যুগে আমরা যদি বস্তুনিষ্ঠভাবে ইতিহাসকে পর্যালোচনা না করি, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

এই আজকের দিনেও যখন ইসলামপন্থীরা গনিমতের নাম দিয়ে যুদ্ধবন্দিনী ধর্ষণ করে, সেই প্রেরণা তারা কোথা থেকে পায়, সেটাই আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। সৌদী আরবে আমাদের দেশের নারীদের পাঠানো হচ্ছে, একজন নারীও তার সম্ভ্রম নিয়ে ফিরবেন না বলেই আমি মনে করি, সেই দাসী/মহিলা শ্রমিকদের সম্ভ্রম লুটে নিতে সৌদী আরবের মুসলিমরা কোথা থেকে প্রেরণা পাচ্ছে সেটাই আপনাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা।

ইসলামপন্থীদের মুখে হয়তো আমরা শুনবো, ১৪০০ বছর আগের ব্যাবস্থা আর বর্তমান অবস্থা এক নয়। কিন্তু আমরা তো জানি ইসলামে কুরআন এবং হাদিসে যে সকল নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যে সকল পরামর্শ দেয়া হয়েছে তা সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য। ইসলামে নতুন করে কেউ যেমন নারী নেতৃত্ব বৈধ করতে পারবে না, তেমনি এই যুদ্ধবন্দিনী/দাসী ছহবতও কেউ অবৈধ ঘোষনা করতে পারবে না। হযরত মুহাম্মদ নিজেই তার সাহাবীদের নিয়ে যা করে গেছেন, তা অবৈধ কীভাবে হয়, আমার জানা নেই।

সেই সকল কোরআন হাদিস মেনে যদি এখন শর্ষিনার পীরের মত লোকেরা আমাদের দেশের নারীদের ধর্ষণ করে, তাহলে সেই দোষ কি ইসলামের উপরেও খানিকটা বর্তায় না? যেহেতু মুহাম্মদের সমস্ত কাজই প্রত্যেক মুসলিমকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে?

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে তাঁর প্রশংসা করে বলেন; নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রের অধিকারী।

সূরা আল কলম: ৪

হে নবী! লোকদের বলে দাও। তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহসমূহ মাফ করে দেবেন। তিনি বড় ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

সূরা আল-ইমরান-৩১

মহান আল্লাপাক আমাদের নবীর জীবন অনুসরন করতে পরামর্শ দিয়েছেন। নবীর জীবনই হচ্ছে একজন মুমিনের জন্য উত্তম আদর্শ। আমরা কী এই আদর্শ অনুসরণ করবো? নাকি আমাদের বিবেক?

তথ্যসূত্র

[১] তাফসীরে জালালাইন। ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা নম্বর ৭৯৫, ৭৯৭
[২] তাফসীর ইবনে কাসীর। হাফেজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবনু কাসীর (রহঃ)। অনুবাদঃ ড। মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান। তাফসীর পাবলিকেশন্স কমিটি। খণ্ড ৪,৫,৬,৭। পৃষ্ঠা নম্বর ৩৪৩।
[৩] সূনান নাসাঈ শরীফ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ১০৬ ।
[৪] মারিয়া কিবতিয়া | বাঁদী পত্নী সমাচার! সংশয় ডট কম।
[৫] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। ষষ্ঠ খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৮১। হাদিস নম্বর ৪৩৭০
[৬] সহীহ বুখারী শরীফ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সপ্তম খণ্ড। হাদিস নম্বর ৩৭৪৮
[৭] সুনানু আবু দাউদ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তৃতীয় খণ্ড। হাদিস নম্বর ২১৫৫।
[৮] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড। হাদিস নম্বর ৩৪৭২
[৯] সহিহ বুখারী । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পঞ্চম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৬৬। হাদিস নম্বর ২৬৯৪
[১০] সহিহ বুখারী। তাওহীদ পাবলিকেশন্স। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৪০, ১৪১। হাদিস নম্বর ২৬৮, ২৭০
[১১] সহীহ মুসলিম। হাদিস একাডেমী। হাদিস নম্বর ৩৪৪০
[১২] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৭৭। হাদিস নম্বর ৩৪০৮
[১৩] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৭৮। হাদিস নম্বর ৩৪১০
[১৪] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৮০। হাদিস নম্বর ৩৪১৪
[১৫] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৮২। হাদিস নম্বর ৩৪২০
[১৬] বুখারী শরীফ । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ৯১। পরিচ্ছদ ১৩৮৬
[১৭] সহীহুল বুখারী। তাওহীদ প্রকাশনী। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা নম্বর ২১০। হাদিস নম্বর ৪৩৫০
[১৮] সহজ ইনআমুল বারী। শরহে বুখারী মাগাযী ও তাফসীর অংশ। অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ মাওলানা মুহাম্মদ আলমগীর হুসাইন। মাকতাবায়ে এমদাদিয়া প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ২২৭, ২২৮।
[১৯] Ibn Ishaq’s Sirat Rasul Allah – The Life of Muhammad Translated by A. Guillaume
[২০] সীরাতে রাসুলাল্লাহ। অনুবাদঃ শহীদ আখন্দ। প্রথমা প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ৬৩৬
[২১] সহিহ বুখারী । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সপ্তম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৬৯। হাদিস নম্বর ৩৮৩২
[২২] বুখারী শরীফ । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ৮৯। হাদিস নম্বর ২০৮৮
[২৩] বুখারী শরীফ । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দশম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৫৪৯। হাদিস নম্বর ৬৯০৫

সহায়ক গ্রন্থসমূহ

১। বাংলা তাসফির কুর’আনুল কারিম – অনুবাদঃ প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান
২। সহিহ বুখারী শরীফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন (         ১০ খণ্ড)
৩। সহিহ বুখারী তাওহীদ পাবলিকেশন্স       খণ্ড
৪। সহিহ মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন       খণ্ড
৫। সহিহ মুসলিম শরীফ (       খণ্ড)
৬। সুনানে আবু দাউদ শরীফ    
৭। সূনানু নাসাঈ শরীফ     খণ্ড
৮। তাফসীরে ইবনে কাসীর- হাফেজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবনু কাসীর (রহঃ)- তাফসীর পাবলিকেশন্স  ১,২,৩  ৪,৫,৬,৭ ৮,৯,১০,১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮
৯। তাফসীরে ইবনে কাসীর|ইসলামিক ফাউন্ডেশন
১০। তাফসীরে জালালাইন        খণ্ড (প্রতি খণ্ডের সাইজ ৪০ মেগাবাইটের কাছাকাছি)
১১। সীরাতে রাসুলুল্লাহ (স.) – ইবনে ইসহাক। অনুবাদঃ শহীদ আখন্দ প্রকাশক ইসলামিক ফাউন্ডেশন
১২। Ibn Ishaq’s Sirat Rasul Allah – The Life of Muhammad Translated by A. Guillaume
১৩। সহজ ইন আমুলবারী (শরহে বুখারী মাগাযী ও তাফসীর)

প্রাসঙ্গিক লেখা

পরিপ্রেক্ষিত, প্রেক্ষাপট এবং অন্যান্য
হযরতের অনুকরণীয় সুমহান চরিত্র
স্ত্রী কি স্বামীর দাসী সেক্স বিষয়ে আপত্তি করতে পারে?
অসহায় নিরপরাধ যুদ্ধবন্দী নারী ও দাসী ধর্ষণের বৈধতা – কুরআন হাদিসের দলিল
বনূ কুরায়যা অভিযান | ইবনে হিশাম
দাস প্রথা – কুরআন হাদিসের দলিল
দাসীর উম্মে ওয়ালাদ হওয়া | আল হিদায়া
হযরতের দাসীদের বিবরণ
মারিয়া কিবতিয়া | বাঁদী পত্নী সমাচার!
সুরা তাহরীম এর তাফসির – ইবনে কাসীর
সুরা তাহরীম | তাফসীরে জালালাইন
মুহাম্মদের গুপ্তহত্যা । অবমাননার শাস্তি

লেখকের বক্তব্য

লেখাটি সম্ভবত ২০০৭/২০০৮ সাল প্রথম লেখা। সেই সময়ে রেফারেন্সগুলো সংযোজন করতে নানা ভুলত্রুটি হয়েছিল, এবং প্রচুর বানান ভুলও ছিল। পুরনো লেখা থেকে খুঁজে বের করে লেখাটি ধীরে ধীরে নতুনভাবে লেখা হয়েছে।



Facebook Comments

24 thoughts on “ইসলাম, গনিমতের মাল এবং আমাদের মানবতা!

  • January 13, 2020 at 2:21 PM
    Permalink

    Thank You brother.helpful comment for me.i was shocked after reading this referenc. But now I’m little bit clear to read your commen. Thanks

    Reply
  • December 31, 2019 at 9:21 PM
    Permalink

    ধন্যবাদ লেখা গুলো পড়লাম। পৃথিবীর প্রতিটা ধর্মই এরকম গাঁজাখুরি সব গল্প আর হিংসা বিদ্বেষ অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ মারামারি হানাহানি তাই প্রতিটা মানুষেরই ধর্মগ্রন্থগুলোকে ভালোভাবে পড়া উচিত।

    Reply
  • December 31, 2019 at 4:12 PM
    Permalink

    “ইসলামে ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যৌন সম্পর্কের বৈধতার স্বরূপ”
    http://response-to-anti-islam.com/show/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF-%E0%A6%93-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%8C%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%A7%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%82%E0%A6%AA-/173

    Reply
  • December 18, 2019 at 9:33 AM
    Permalink

    Ei achoda te. Tui samne aisa proman de chodanir pola tor bap jemon bejomna tui o tar bejonma

    Reply
  • December 18, 2019 at 2:26 AM
    Permalink

    অনেক অজানা তথ্য জানা গেল।

    Reply
  • July 1, 2019 at 10:24 AM
    Permalink

    যারা ধর্ম জানেনা তারাই অন্ধ বিশ্বাসী হয়।

    Reply
  • November 22, 2018 at 8:48 AM
    Permalink

    আর শুন আসিফ, এতো বুঝলি এটা বুঝলি না যে, তোকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, তুই পথভ্রোষ্ট।

    Reply
  • November 22, 2018 at 8:45 AM
    Permalink

    মাদারচোদ তোর পিক দেখা সাহস থাকলে। তোর ঘরে যেয়ে তোকে জবাই কইরা আসবো।

    Reply
  • October 25, 2018 at 9:18 PM
    Permalink

    মুমিন ভদ্রলোকের উত্তর শুনে হাসি থামাতে পারলাম না আসিফ ভাই। সোবহানাল্লাহ! ????????

    Reply
    • May 16, 2019 at 10:03 AM
      Permalink

      যে অন্ধ তাকে কে আলো দেয় .. আপনারা তো চোখ থাকতে ও অন্ধ আপনাদের কে পথ দেখাবে এমন সাধ্য কার?

      Reply
  • October 17, 2018 at 11:41 AM
    Permalink

    রেফারেন্স আমি দেখেছি আর আমি খুব ভালো করে পড়েছি আমি ইসলামের ইতিহাস খুব ভালো জানি। আপনি আপনার পোষ্ট এ বলেছিলেন কয়েক বছর থেকে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি পাচ্ছেন না। এটা আশ্চার্যজনক নয় কি? আপনি তো মোটামুটি জ্ঞান রাখেন ইসলাম বিষয়ে যেহেতু ইসলামের একজন সমালোচক আপনি তাই না? তাহলে 10-12 বছরেও এটি আপনি কভার করতে বা বুঝতে পারেন নি! হ্যা রেফারেন্স ঠিকই কিন্তু যেহেতু আপনি তাৎপর্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর আপনিই জানেন। আর কেন ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সেটা আমি আপনি সবাই জানি ভাই।এবার এক কথায় উত্তর শুনেন -তথাকথিত গণিমাতের মাল হিসেবে নির্দিষ্ট সময় পর নারীদের ভোগ করা বা দ্বাসী হিসেবে হালাল করার মানে এই নয় তাদের ইচ্ছামত ধর্ষন করা,অত্যাচার করা, এর কারন হল যদি যুদ্ধের পর শত্রুদের স্ত্রী সন্তানদের সমাজে ছেড়ে দেওয়া হত তালে তারা সমাজ নষ্ট করত তাই নিজেরাই স্বাধ্যমত তাদের আয়ত্বে রেখেছে আশ্রয় দিয়েছে ফলে তারা শান্তির পথে অসার সুযোগ পেয়েছে।
    আমরা জানি তৎকালীন সময়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রে অনেক লোভী মানুষও ছিল যারা লোভের মোহে হযরতের(স) আদেশ অমান্য করেছিল। আর তাদের কর্মের সাথে ইসলামের যে তুলনা করে সে অনেক বড় অজ্ঞ। সে ইসলামের কিছুই জানে না ।
    পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে এসকল ধর্মের মধ্যে একমাত্র ইসলামই নারী ভেগের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম ও নারীদের সম্মান দিয়েছে।

    আর যদি তাই হত তাহলে আপনারাই তো বলেন ইসলাম নিষ্ঠুর ধর্ম যেখানে ধর্ষনের বা বেবিচারের শাস্তি অনেক ভয়ানক!চুড়িড় শাস্তি হাত কেটে দেওয়া মেয়েদের পর্দা করে চলতে হয়। পর পুরুয়ের সাথে খোলামেলা ভাবে চলতে নিষেধ,বেবিচারের শাস্তি এহকাল এবং মৃত্যুর পরেও ভয়ানক ইত্যাদি ইত্যাদি । তাহলে ভাই এক মুখে কেন দুইরকম কথা বলেন?ইসলামে একমাত্র বিবাহিত নারী ছাড়া অন্য নারী ভোগ করা অনেক বড় অপরাধ এবং শাস্তিও অনেক ভয়ানক।

    Reply
  • October 16, 2018 at 3:57 PM
    Permalink

    মি. মহিউদ্দীন, আমরা জানি আপনিও জানেন ভাই যে কোনটা সত্য হতে পারে আর কোনটা মিথ্যা কারন আমরা শ্রেষ্ঠ জীব।যদি ইসলাম তৎকালীন সময়ে নারীদের ভোগ্য পন্য হিসেবে বলত আর যদি বলতো ইসলামে মদ,জুয়াখেলা এগুলা বৈধ তাহলে তাহলে এত যুদ্ধ আর কষ্ট করতে হত না মুসলমানদের। আর এখানেই ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের অন্যতম পার্থক্য। আর মজার বিষয় হল ইসলাম ব্যাতিত অন্য সকল ধর্মের একটা আন্ত-সম্পর্ক আছে আশা করি বুঝেছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি। তাই দেখা যায় পৃথিবীতে অমুসলিমরা একক চাপ সৃষ্টি করতে চায় সর্বদা মুসলিমদের ওপর। যোহোক মি.আসিফ ভাই আমি আপনার জীবনের কাহিনী শুনেছি । আপনি ভালো থাকবেন । আর আপনার মূল্যবান জ্ঞানী মস্তিস্ককে নিরপেক্ষভাবে কাজে লাগাবেন আশা করি।ভাই আপনারো স্ত্রী সন্তান আছে ,আপনারো বয়স বাড়ছে ।ইতিহাসি স্বাক্ষী আছে হযরত ওমর একসময় ইসলামের বড় শত্রু ছিল। বাকিটা না বলি কারন এক সময় মুসলিম ছিলেন আপনার পিতা-মাতার প্রতি ও আপনার ছোট পরিবারে প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক।

    Reply
    • October 16, 2018 at 4:00 PM
      Permalink

      এখানে কোন রেফারেন্সটি মিথ্যা, বা নাস্তিকদের বানানো, বা ইহুদী নাসারাদের চক্রান্ত, সেই বিষয়ে কিছু বললে ভাল হতো।

      Reply
      • December 31, 2019 at 8:01 PM
        Permalink

        ধন্যবাদ, অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলাম।

        Reply
      • January 11, 2020 at 2:18 AM
        Permalink

        এবং যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে কারো যদি স্বামী যুদ্ধে মারা যায় তবে তাকেও উপযুক্ত মহারানা দান করে তার সম্মতিক্রমে বিবাহ করতে পারবে, যাদের স্বামী জীবিত আছে তাদেরকে কোন ভাবেই বিয়ে করতে পারবে না এবং বন্দী থাকা অবস্থায় তাকে নিরাপত্তা এবং সম্মান প্রদান করতে হবে।

        ইসলামে দাসী এবং যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে ব্যভিচার করা হারাম শাস্তিযোগ্য অপরাধ, ইসলামে যুদ্ধবন্দীদের কে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সম্মান দেয়া হয়, উপযুক্ত মোহরানা আদায় করে বিবাহ করা ছাড়া কোন ধরনের নারী সম্ভোগ ইসলামে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

        মিথ্যাচার তোমাদের রক্ত কণিকার অংশ, কারণ তোমাদের জন্মই হচ্ছে পাপাচারের ফসল, অতএব তোমরা আজন্ম মিথ্যুক ভন্ড প্রতারক, কারণ তোমরা কোরআনের অনুবাদ কে পরিবর্তন করে পেশ করে থাক, তোমাদের উপর লানত ও কঠিন আজার নাযিল হোক৷
        এত মেহনত করে কুরানের আয়াতের অর্থ পরিবর্তন, জাল হাদিস প্রচার করে কি কোন লাভ হয়েছে? তোমার দলে কাওকে নিতে পেরেছ? না কখন পারবেনা। মিথ্যুকরা সর্বদা ধিক্কৃতঃ তুমি তোমার এই জঘন্য মিথ্যাচারের উপযুক্ত শাস্তি খুব শিগগিরই পাবে ইনশাআল্লাহ।

        Reply
  • October 15, 2018 at 2:53 PM
    Permalink

    আসিফ মহিউদ্দীন, আপনি তো জার্মানের ভিক্ষার পরিমান বাড়ানোর জন্য এগুলা করতেছেন। আমরা হালাল পথে খেটে খাওয়া মানুষ। আর শুনুন অন্ধকার যুগ থেকে একমাত্র ইসলামই সম্মান দিয়েছে আমাদের মা বোনদের। অবশ্য আপনার মত অল্প শিক্ষিত মানুষ কি আর জানবে। আপনি নিজের সাথে নিজেই জুলুম করতেছেন। অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের তুলনায় একমাত্র আল-কোরআনই নির্ভুল সেটা আর নতুন করে বলার কিছু নাই কারণ সকল ধর্মের বড় বড় জ্ঞানী পন্ডিতগন তা মানতে বাধ্য হয়েছেন আর আপনার মত স্বল্প শিক্ষিত যে কিনা টাকার/ভিক্ষার জন্য মূর্খতা করে।

    Reply
    • October 15, 2018 at 4:02 PM
      Permalink

      জার্মান ভিক্ষা কিংবা ইসরাইলি ভিক্ষা যাই হোক না কেন, এসবের ওপর এই লেখাটির যুক্তি এবং প্রমাণগুলো নির্ভরশীল নয়। এই লেখাটিতে শুধুমাত্র কোরআন এবং হাদিসের রেফারেন্সগুলো নেয়া হয়েছে, সাথে তাফসির। আমি গুলিস্তানের ভিক্ষা নিই, নাকি ফার্মগেইটের, তাতে এই লেখাটির কোন যুক্তি প্রমাণ রেফারেন্সই ইনভ্যালিড হয়ে যায় না। আপনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করে যুক্তিকে পরাস্ত করতে চাচ্ছেন, যেটা হাস্যকর। কোনদিন যুক্তি প্রমাণ উপস্থাপন করতে শিখলে আসবেন। আপনার সাথে আলোচনা করবো।

      Reply
      • December 18, 2019 at 9:35 AM
        Permalink

        Tui alochona korbi ay kobe alochona korbi. R tore ki personal attack kormu. Tor moto bejonnma bap r bejonma sontan go loge torko korbo keda hala vhokchod 😂😂😂😂. R tor moto emon vhokchod koto ace r asbo

        Reply
  • September 25, 2018 at 5:56 AM
    Permalink

    এই সকল লোকদের জবাব দেওয়ার মত কেউ আছে কি ?

    Reply
  • September 24, 2018 at 2:15 AM
    Permalink

    Very informative
    Thank you writer.

    Reply
  • June 11, 2018 at 11:11 AM
    Permalink

    Today i m clear everything about Islam. Many many thanks writer.

    Reply
    • January 11, 2020 at 2:21 AM
      Permalink

      Beware:
      This guy is a liar,
      He modifies translation of Quran Ayats (cause its Arabic),
      He refers to Fake Hadith that does not exist or unverified

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *