নোবেল পুরষ্কার পাওয়া আবিষ্কার কী কোরআন থেকে চুরি করা?

আমি রুমে ঢুকেই দেখি সাজিদ মোবাইল ফোনটি নিয়ে বসে আছে। কিছু একটা গভীর মন দিয়ে পড়ছে। আমি জগ থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। প্রচন্ড রকম তৃষ্ণার্ত। তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাবার জোগাড়। সাজিদ মোবাইল থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, ‘কী রে, কিছু হইলো?’
আমি আনন্দের সাথে বললাম, ‘জানিস, পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার আজকে ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থ বিজ্ঞানী আর্থার আশকিন, ফরাসী পদার্থবিজ্ঞানী জেরার্ড ম্যুরো ও কানাডার ডনা স্ট্রিকল্যান্ড এই বছর নোবেল পেয়েছেন।’
‘তাই নাকি?’ সাজিদ জিজ্ঞেস করলো।
আমি বললাম,- ‘দারুণ ব্যাপার, বুঝলি? লেজার নিয়ে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের জন্য যৌথভাবে এ তিনজনকে পুরস্কার দেওয়া হলো।’
সাজিদ বললো,- ‘কিন্তু এই তিনজন কীভাবে লেজার নিয়ে গবেষনা করলো, কোথা থেকে লেজার বিষয়ক জ্ঞান পেলো, জানিস?’

সাজিদ সম্পর্কে কিছু বলে নেওয়া দরকার। আমি আর সাজিদ রুমমেট। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিজ্ঞানে পড়ে। প্রথম জীবনে খুব ধার্মিক ছিলো। নামাজ-কালাম করতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে কীভাবে কীভাবে যেন এগনোষ্টিক হয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে স্রষ্টার উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে পুরোপুরি নাস্তিক হয়ে গিয়েছিল। ধর্মকে তখন সে আবর্জনা জ্ঞান করেতো। তার মতে পৃথিবীতে ধর্ম এনেছে মানুষ। আর ‘ঈশ্বর’ ধারণাটাই এইরকম স্বার্থান্বেষী কোনো মহলের মস্তিষ্কপ্রসূত। কিন্তু কিছুদিন হলো, আবার সে ধর্মে ফিরে এসেছে। ইসলামের মাহাত্ম্য বুঝতে পেরেছে। ফিরে এসেছে ইসলামের ছায়াতলে।

সাজিদের সাথে এই মূহুর্তে তর্কে জড়াবার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। কিন্তু তাকে একদম ইগনোর করেও যাওয়া যায়না।
আমি বললাম, ‘সেটা নিশ্চয়ই কোরান পড়ে আবিষ্কার করে নি, তাই না?’
– ‘আরে, আমি কী সেটা বলেছি নাকি?’
– ‘তাহলে?’
– ‘কিন্তু হতেও তো পারে!’
আমি হা হা হা হা করে হাসা শুরু করলাম। বললাম, ‘কী বিদঘুটে বিশ্বাস নিয়ে চলিস রে ভাই।’
এই বলে আমি আবার হাসা শুরু করলাম। বিদ্রুপাত্মক হাসি।

রাতে সাজিদের সাথে আমার আরো একদফা তর্ক হলো।
সে বললো, ‘আচ্ছা, তোরা যে স্রষ্টায় বিশ্বাস করিস, কীসের ভিত্তিতে?’
আমি বললাম,- ‘বিশ্বাস দু ধরনের। একটা হলো, প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্বাস। অনেকটা,শর্তারোপে বিশ্বাস বলা যায়। অন্যটি হলো প্রমাণ ছাড়াই বিশ্বাস।’
সাজিদ হাসলো। সে বললো, ‘দ্বিতীয় ক্যাটাগরিকে সোজা বাংলায় অন্ধ বিশ্বাস বলে রে আবুল, বুঝলি?’
আমি তার কথায় কান দিলাম না। বলে যেতে লাগলাম-
‘প্রমাণের ভিত্তিতে যে বিশ্বাস, সেটা মূলত বিশ্বাসের মধ্যে পড়েনা। পড়লেও, খুবই টেম্পোরারি। এই বিশ্বাস এতই দুর্বল যে, এটা হঠাৎ হঠাৎ পাল্টায়।’
সাজিদ এবার নড়েচড়ে বসলো। সে বললো, ‘কী রকম?’
আমি বললাম, ‘এই যেমন ধর, সূর্য আর পৃথিবীকে নিয়ে মানুষের একটি আদিম কৌতূহল আছে। আমরা আদিকাল থেকেই এদের নিয়ে জানতে চেয়েছি, ঠিক না?’
– ‘হু, ঠিক।’
– ‘আমাদের কৌতূহল মেটাতে বিজ্ঞান আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে, ঠিক?’
– ‘হ্যাঁ।’
– ‘আমরা একাট্টা ছিলাম। আমরা নির্ভুলভাবে জানতে চাইতাম যে, সূর্য আর পৃথিবীর রহস্যটা আসলে কী। সেই সুবাদে, পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা নানান সময়ে নানান তত্ত্ব আমাদের সামনে এনেছেন। পৃথিবী আর সূর্য নিয়ে প্রথম ধারণা দিয়েছিলেন গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমি। টলেমি কী বলেছিলো সেটা নিশ্চয় তুই জানিস?’
সাজিদ বললো, ‘হ্যাঁ। সে বলেছিলো সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে।’
– ‘একদম তা-ই। কিন্তু বিজ্ঞান কি আজও টলেমির থিওরিতে বসে আছে? নেই। কিন্তু কি জানিস, এই টলেমির থিওরিটা বিজ্ঞান মহলে টিকে ছিলো পুরো ২৫০ বছর। ভাবতে পারিস? ২৫০ বছর পৃথিবীর মানুষ, যাদের মধ্যে আবার বড় বড় বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ছিলো, তারাও বিশ্বাস করতো যে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে। এই ২৫০ বছরে তাদের মধ্যে যারা যারা মারা গেছে, তারা এই বিশ্বাস নিয়েই মারা গেছে যে, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।’
সাজিদ সিগারেট ধরালো। সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো, ‘তাতে কী? তখন তো আর টেলিস্কোপ ছিলো না, তাই ভুল মতবাদ দিয়েছে আরকি। পরে নিকোলাস কোপারনিকাস এসে তার থিওরিকে ভুল প্রমাণ করলো না?’
– ‘হ্যাঁ। কিন্তু কোপারনিকাসও একটা মস্তবড় ভুল করে গেছে।’
সাজিদ প্রশ্ন করলো, ‘কী রকম?’
– ‘অদ্ভুত! এটা তো তোর জানার কথা। যদিও কোপারনিকাস টলেমির থিওরির বিপরীত থিওরি দিয়ে প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন যে, সূর্য পৃথিবীর চারপাশে নয়, পৃথিবীই সূর্যের চারপাশে ঘোরে। কিন্তু, তিনি এক জায়গায় ভুল করেন। এবং সেই ভুলটাও বিজ্ঞান মহলে বীরদর্পে টিকে ছিলো গোটা ৫০ বছর।’
– ‘কোন ভুল?’
– ‘উনি বলেছিলেন, পৃথিবীই সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, কিন্তু সূর্য ঘোরে না। সূর্য স্থির। কিন্তু আজকের বিজ্ঞান বলে, নাহ, সূর্য স্থির নয়। সূর্যও নিজের কক্ষপথে অবিরাম ঘূর্ণনরত অবস্থায়।’
সাজিদ বললো,- ‘সেটা ঠিক বলেছিস। কিন্তু বিজ্ঞানের এটাই নিয়ম যে, এটা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হবে। এখানে শেষ বা ফাইনাল বলে কিছুই নেই।’
– ‘একদম তাই। বিজ্ঞানে শেষ বা ফাইনাল বলে কিছু নেই। একটা বৈজ্ঞানিক থিওরি ২ সেকেন্ডও টেকে না, আবার আরেকটা ২০০ বছরও টিকে যায়। তাই, প্রমান বা দলিল দিয়ে যা বিশ্বাস করা হয় তাকে আমরা বিশ্বাস বলিনা। এটাকে আমরা বড়জোর চুক্তি বলতে পারি। চুক্তিটা এরকম, ‘তোমায় ততক্ষণ বিশ্বাস করবো, যতক্ষণ তোমার চেয়ে অথেনটিক কিছু আমাদের সামনে না আসছে।’

সাজিদ আবার নড়েচড়ে বসলো। সে কিছুটা একমত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বলতে লাগলো, ‘সুরা নুরে আল্লাহ পাক কী বলেছেন তা কী তুই জানিস? ’
-‘কেন আল্লাহ কী লেজারের কথা বলেছে?’
সাজিদ বললো, ‘সুরা নুরের ৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক স্পষ্ট করে বলেছেন,

আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি কুলঙ্গি, যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত, কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। তাতে পুতঃপবিত্র যয়তুন বৃক্ষের তৈল প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। অগ্নি স্পর্শ না করলেও তার তৈল যেন আলোকিত হওয়ার নিকটবর্তী। জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর জ্যোতির দিকে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।

বল তো দেখি, জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর জ্যোতির দিকে, এই কথাটির মানে কী?’
– ‘এর মানে কী?’
– ‘এর মানে হচ্ছে, লেজার রশ্নি। লেজার একটি আক্ষরিক নাম। ইংরেজি অক্ষর LASER এর L হল Light, A হল Amplification, S হল Stimulated, E হল Emission, R হল Radiation; LASER এর পূর্ণ শব্দটি হল Light Amplification by Stimulated Emission Radiation. অর্থাৎ উত্তেজিত বিকিরণের সাহায্যে আলোক বিবর্ধন। সাধারন আলোতে বিভিন্ন মাপের তরঙ্গ থাকে। একই বর্ণের আলোতে একই মাপের তরঙ্গ থাকলেও তারা বিভিন্ন তলে চলে। কিন্ত লেজারে সব তরঙ্গই হয় একই মাপের এবং তারা চলে একই তলে অর্থাৎ লেজার রশ্মি সংসক্ত। এ রশ্মি অত্যন্ত ঘন সংবদ্ধ একমুখী বলে তা অনেক পথ অতিক্রম করতে পারে এবং এরা মাত্র কয়েক মাইক্রন (১ মাইক্রন = ১০-৩ মি. মি.) চওড়া। এজন্য এতে প্রচণ্ড তাপশক্তি সঞ্চার করা সম্ভব হয় এবং তাপমাত্রা সূর্যের ওপরকার তাপমাত্রাও বেশি হয়। ফলে লেজার রশ্মি দিয়ে মানুষের একটা চুলকেও ছিদ্র করা সম্ভব।’
-‘তাই নাকি? বলিস কী? তার মানে তুই দাবী করছিস, কোরআন পড়েই এবারের নোবেল পুরষ্কার বিজয়ীরা নতুন আবিষ্কার করেছে?’
সাজিদ বললো, সেটা খুবই সম্ভব। কারণ নাসা সম্প্রতি প্রমাণ করেছে, কোরানের মধ্যে বিন্দুমাত্র কোন ভুল নেই। নাসার সবচেয়ে বড় সুপার কম্পিউটারটি, যেটাকে আধুনিক বিজ্ঞানীরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স যুক্ত করেছেন, সেটি পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছে, কোরআন কোন মনুষ্য রচিত গ্রন্থ হতেই পারে না। ’
– ‘তাই নাকি! বলিস কী! কিন্তু বিজ্ঞানের সাথে কী আসলেই এভাবে ইসলামের সম্পর্ক করা যৌক্তিক? যেমন ধর, আমরা হাদিস থেকে আমরা নিচের অদ্ভুত কথাগুলো পাই, যা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে খুবই হাস্যকরঃ

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [6815] অধ্যায়ঃ ৫৩/ কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন‏
পরিচ্ছদঃ ৯. চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার বিবরণ
৬৮১৫। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, আবূ কুরায়ব ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, উমার ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস, ও মিনজাব ইবনু হারিছ তামিমী (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনায় আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। এমতাবস্থায় (হঠাৎ করে) চন্দ্র বিদীর্ন হয়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। এক খন্ড পাহাড়ের এ পাশে পড়ল এবং অপর খন্ড পড়ল পাহাড়ের ওপাশে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সাক্ষী থাক।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3377] অধ্যায়ঃ ৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২০৭৭. মুশরিকরা মুজিযা দেখানোর জন্য নবী করীম (সাঃ) এর নিকট আহবান জানালে তিনি চাঁদ দু’টুকরা করে দেখালেন
৩৩৭৭। খালাফ ইবনু খালিদ আল-কুরায়শী (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সাজিদ বললো, ‘ দেখ, আউট অফ কন্টেক্সট একটি হাদিস দিলে তো হবে না। তোর বিষয়টি বুঝতে হবে। কোন প্রেক্ষাপটে কোন পরিপ্রেক্ষিত এটি বলা হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান নাসা যেখানে ঘোষণা করছে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল, এবং তা পৃথিবীর ওপরেই দু’টো খণ্ড হয়ে পতিত হয়েছিল, সেখানে নাসার কথা না মেনে তোর মতো কলা বিজ্ঞানীর কথা আমরা কেন মেনে নিবো বল? তোর কী বিজ্ঞান বোঝার মত যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে? না থাকলে, আমার কথা মেনে নিচ্ছিস না কেন? আমার কথা না হয় নাই মানলি, কিন্তু নাসার কথা মানবি না কেন? ’
– ‘কিন্তু তাই বলে এসব কথা মেনে নিতে হবে?’
– সাজিদ বললো, ‘আচ্ছা, তোর বাবা-মা’র মিলনেই যে তোর জন্ম হয়েছে, সেটা তুই দেখেছিলি? বা এই মূহুর্তে কোনো এভিডেন্স আছে তোর কাছে? হতে পারে তোর মা তোর বাবা ছাড়া অন্য কারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক করেছে তোর জন্মের আগে। হতে পারে, তুই ওই ব্যক্তিরই জৈব ক্রিয়ার ফল। তুই এটা দেখিসনি। কিন্তু কোনদিনও কি তোর মা’কে এটা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলি? করিসনি। সেই ছোটবেলা থেকে যাকে বাবা হিসেবে দেখে আসছিস, এখনো তাকে বাবা ডাকছিস। যাকে ভাই হিসেবে জেনে আসছিস, তাকে ভাই। বোনকে বোন। তুই না দেখেই এসবে বিশ্বাস করিস না? কোনোদিন জানতে চেয়েছিস তুই এখন যাকে বাবা ডাকছিস, তুই আসলেই তার ঔরসজাত কিনা? জানতে চাসনি। বিশ্বাস করে গেছিস। এখনো করছিস। ভবিষ্যতেও করবি। স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসটাও ঠিক এমনই রে। এটাকে প্রশ্ন করা যায় না। সন্দেহ করা যায় না। এটাকে হৃদয়ের গভীরে ধারণ করতে হয়। এটার নামই বিশ্বাস।’

সাজিদ উঠে বাইরে চলে গেলো। ভাবলাম, সে আমার কথায় কষ্ট পেয়েছে হয়তো।
সারারাত ধরে চিন্তা করলাম। আসলে সাজিদের কথাই সঠিক। নাসা যেখানে বলছে, কোরআন কোন মনুষ্য রচিত গ্রন্থ নয়, সেখানে আমাদের মত কলাবিজ্ঞানীরা কেন এতো প্রশ্ন করে। পরেরদিন ভোরে আমি যখন ফজরের নামাজের জন্য অযু করতে যাবো, দেখলাম আমার পাশে সাজিদ এসে দাঁড়িয়েছে। আমি তার মুখের দিকে তাকালাম। সে আমার চাহনির প্রশ্নটা বুঝতে পেরেছে। সে বললো, ‘নামাজ পড়তে উঠেছি।’

আরিফ আজাদ

আরিফ আজাদ। জন্মেছেন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সময় থেকেই লেখালেখির হাতেখড়ি। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশুনা করতেই বেশি পছন্দ করেন। ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়ান। বিশ্বাসের কথাগুলােকে শব্দে রূপ দিতে পছন্দ করেন। অবিশ্বাসের দেয়ালে অনুপম স্পর্শে বিশ্বাসের ছোঁয়া দিতে তাঁর রয়েছে ব্যাপক মুন্সিয়ানা। একুশে বইমেলা – ২০১৮ তে তাঁর রচিত দ্বিতীয় বই ‘আরজ আলী সমীপে।

2 thoughts on “নোবেল পুরষ্কার পাওয়া আবিষ্কার কী কোরআন থেকে চুরি করা?

  • October 3, 2018 at 2:11 AM
    Permalink

    নাসার কোরান পাঠ অত্যন্ত হাস্যকর।

    Reply
  • November 1, 2020 at 6:08 PM
    Permalink

    এই লেখাটা আসলে স্যাটায়ার কি না তা একটু পরিষ্কার করে দিলে ভালো হতো। মানে-

    “নাসার সবচেয়ে বড় সুপার কম্পিউটারটি … পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছে, কোরআন কোন মনুষ্য রচিত গ্রন্থ হতেই পারে না।”
    “নাসা ঘোষণা করছে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল, এবং তা পৃথিবীর ওপরেই দু’টো খণ্ড হয়ে পতিত হয়েছিল।”

    এই দুটি হাস্যকর মিথ্যা তথ্য এমন নির্বিকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, লেখকের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝা একটু কঠিন হয়ে পড়েছে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *