আসিফ মহিউদ্দীন অনূদিত ছোটদের জন্য মানববাদ এবং অপপ্রচার প্রসঙ্গে

আমাদের সবার পরিচিত আসিফ মহিউদ্দীনের অনুবাদ করা ‘ছোটদের জন্য মানববাদ’ শীর্ষক বইটি সবে পড়ে শেষ করলাম। বইটি পড়ার পর এর

Read more

হিন্দু ধর্ম এবং টেস্টটিউব বেবী

ভারতে এমন অনেক লোক আছেন, আধুনিক বিজ্ঞান কিছু আবিষ্কার করার পর তারা দাবী করতে থাকেন যে, “ আমাদের পূর্বপুরুষেরা তো আগেই এসব আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন।“ এর সমর্থনে তারা বেদ পুরাণের নানা উদাহরণ দিয়ে থাকেন।

যখন থেকে আধুনিক বৈজ্ঞানিকেরা টেস্টটিউবের মাধ্যমে বাচ্চার জন্ম দিচ্ছেন, তখন থেকে তারা প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে যে, তাদের পূর্বপুরুষেরা তো হাজার হাজার বছর আগেই এসব আবিষ্কার করে ফেলেছিল।

এজন্য তারা বেদ পুরাণ প্রভৃতির বিভিন্ন কাল্পনিক এবং অসম্ভব গালগল্পকে বৈজ্ঞানিক শব্দ ব্যবহার করে পরিবেশন করে থাকে এবং এই ধরণের লেখাগুলো বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বেশ উৎসাহের সাথেই প্রকাশ করে থাকে।

Read more

প্রাচীন ভারতে গোহত্যা এবং গোমাংসাহার

ভারতে কয়েকদিন পর পরই গোহত্যা নিয়ে সংহিসতা দেখা দেয়। এ জন্যে আন্দোলনের হুমকিও দেয়া হয় এবং এর বিরুদ্ধে নানা বিলও পাশ করানো হয় কিন্তু ভারতে সবসময়ই যে গরু পূজ্য এবং অবধ্য ছিল, এমন নয়। প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে এমন অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে গরুকে শুধু যে যজ্ঞে বলি হিসাবে হত্যা করা হত তাই নয় বরং বিশেষ অতিথি, বেদজ্ঞ প্রভৃতিকে আপ্যায়ণ করারও জন্যও গোমাংসের ব্যবস্থা করা হত।
হয়তো এজন্যই আধুনিকালের প্রসিদ্ধ হিন্দু ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “ আপনারা শুনে অবাক হবেন, প্রাচীন রীতি অনুযায়ী গরু না খেলে ভালো হিন্দু হওয়া যেত না। তাকে কিছু অনুষ্ঠানে অবশ্যই বৃষ বলি দিয়ে তার মাংস খেতে হত।“

Read more

অশ্বমেধ যজ্ঞঃ হিংসা আর অশ্লীলতার তাণ্ডব নৃত্য

ধর্মের ধান্দাবাজেরা ধর্মের নামে কিভাবে মানুষকে বোকা বানায় তার অনুমান এই এক কথায় করা যায় যে, অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠানে না শান্তি আছে, না এর উদ্দেশ্য কখনো শান্তি স্থাপন করা ছিল।

Read more

রক্ত স্নাত পৃষ্ঠাঃ বালির ভিতের উপর কি দাঁড়িয়ে আছে হিন্দু ধর্ম?

এখনো অবধি যা কথা হয়েছে তাতে মাংস ভক্ষণের পক্ষে-বিপক্ষে অনেককিছু বলা হয়েছে এবং বলা হয়ে থাকে। এই দৃষ্টি থেকে যদি প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের অধ্যয়ণ করা হয়, তাহলে অনেক আশ্চর্যজনক এবং বিভৎস তথ্য জানা যায়, যেমন গোহত্যা, গোমাংস ভোজন, চর্বি দিয়ে হবন করা, আলাদা আলাদা মাংসে দেবতা এবং পিতৃদের তৃপ্তির সময়কাল নির্ধারণ করা, ঋষিমুনিদের কুকুর প্রভৃতির মাংস ভক্ষণ ইত্যাদি।

Read more

হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস-রহস্যঃ আলবিরুনি, বিবিধ মত

বিখ্যাত আলবিরুণির বিবরণের পাওয়া যায় প্রাচীন হিন্দুদের গোমাংস খাওয়ার কথা , এমনকি যজ্ঞে গরু বলি দেওয়ার কথা। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, বিবেকন্দ, গান্ধী, রাজশেখর বসু , নৃৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী সহ অনেকেই একই মত প্রকাশ করেছেন।

Read more

হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস-রহস্যঃ পাণিনি, চরক, সুশ্রুত, অর্থশাস্ত্র, ত্রিপিটক

প্রাচীন ভারতের চিকিৎসা গ্রন্থ চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতায় দেখা যায়- গোমাংস পথ্য হিসাবে ব্যবহৃত হত। এছাড়া প্রাচীনকালে অতিথির সৎকারের জন্য গোহত্যা করা হত। তাই অতিথির নাম হয়েছিল গোঘ্ন। সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ পাণিনি তার অষ্টাধ্যায়ী গ্রন্থে একটি সূত্র উল্লেখ করেছেন – দাশগোঘ্নৌ সম্প্রদানে।

Read more

হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস-রহস্যঃ সংস্কৃত সাহিত্য

সংস্কৃত সাহিত্য থেকে জানা যাচ্ছে আশ্চর্যজনক সব কথা। বাল্মীকি তার আশ্রমে ঋষি বশিষ্ঠকে আপ্যায়ন করলেন গোমাংস দিয়ে। রামের পিতা দশরথের মেনুতে থাকতো গোমাংস , তা দিয়ে চলতো অতিথি আপ্যায়ন।

Read more

হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস-রহস্যঃ রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ

বর্তমানে যে রামভক্তরা গরুর জন্য উৎপাত করে চলেছে তাদের এখন কি হবে? রামায়ণ হতে জানা যাচ্ছে- রাম যখন ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন, ভরদ্বাজ রামকে তখন গোমাংস দ্বারা আপ্যায়ণ করেছিলেন।

Read more

হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস- রহস্যঃ ধর্মশাস্ত্র

বেদ,ব্রাহ্মণ, উপনিষদ, কল্পসূত্রের মত ধর্মশাস্ত্রগুলিতেও গোমাংস খাওয়া অনুমতি রয়েছে। প্রাচীন সময়ে গরু কোনো গোমাতা ছিল না। গরু নিয়ে রাজনীতিই গরুকে গোমাতা করে তুলেছে।

Read more

হিন্দু ধর্ম ও গোমাংস-রহস্যঃ বেদাঙ্গ

ইতোপূর্বেই আমরা দেখেছি বেদের সংহিতা, ব্রাহ্মণ ও উপনিষদ ভাগে গরু বলির ও গোমাংস খাওয়ার কথা বলা আছে। এখন বেদাঙ্গে খুঁজে দেখবার পালা। বেদাঙ্গের অন্তর্গত গৃহ্যসূত্রগুলির অসংখ্যস্থলে এবং ধর্মসূত্রগুলিতেও গোহত্যা ও গোমাংস খাওয়ার কথা পাওয়া যায়।

Read more

হিন্দু ধর্ম ও গোমাংসরহস্যঃ বেদ

‘গোমাংস’ শব্দটি শুনলেই আজকাল অধিকাংশ হিন্দুরা আঁতকে ওঠেন। গোমাংস তাদের কাছে নিষিদ্ধ এক বস্তু। তাই গোমাংস খাওয়ার অপরাধে ভারতে হয়ে চলেছে হত্যা, নির্যাতন। গরু নিয়ে ভারতের রাজনীতি এখন সরগরম। গো রক্ষার জন্যে গঠিত হয়েছে নানান দল। ভাগ্যচক্রে পশু গরু এখন হয়ে উঠেছেন গোমাতা!

কিন্তু ইতিহাস বলে হিন্দুরা আগে গোমাংস খেত। তাহলে কেন তারা গোমাংস খাওয়া বন্ধ করলো? কিভাবে হিন্দুদের গোমাংসের জোগান দেওয়া আদিম গরু আজকের গোমাতা হয়ে উঠলো?

Read more

বেদে অজাচার

হিন্দুদের আদিমতম গ্রন্থ হল ঋগবেদ। এই ঋগেবেদের অনেক স্থানেই অজাচারী দেবতাদের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের দশম সুক্তে যম ও যমী নামক দুই যমজ ভাইবোনের মধ্যে অজাচারমূলক কথোপকথন দেখা যায়। এখানে ভগিনী যমী বারংবার যমকে যৌনমিলনের জন্য আহ্বান করতে থাকেন, যদিও যমের দৃষ্টিতে অজাচার গর্হিত ছিল।

Read more

অত্রি সংহিতা ও জাতিভেদ

ধর্মশাস্ত্রগুলির মধ্যে অত্রি সংহিতা অন্যতম। ঋষি অত্রি এর রচয়িতা। এতে তিনি ‘চতুর্বর্ণের সনাতন ধর্ম’ ব্যক্ত করেছেন। তার শাস্ত্রে দেখা যায় স্ত্রী ও শূদ্র কুকুর ও কাকের সমার্থক, শূদ্রকে হত্যা করলে গাধা হত্যার প্রায়শ্চিত্ত, শ্বপাক জাতির ছায়া মারালেও প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়।

Read more

মহাভারতে গোমাংস!

রামায়ণ, মহাভারত হল হিন্দুদের দুই বিখ্যাত মহাকাব্য। হিন্দু ঐতিহ্যে এদের ইতিহাসও বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে মহাভারতের এমনই মহিমা যে একে পঞ্চম বেদও বলা হয়ে থাকে। পঞ্চম বেদ খ্যাত এই মহাভারতে বর্তমান হিন্দু সমাজের অবধ্য গরু সম্বন্ধে খুব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। জানা যায়, আজকের হিন্দুসমাজের মত গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ প্রাচীন হিন্দুদের কাছে গর্হিত বলে বিবেচিত হত না।

Read more

গরু না খেলে ভালো হিন্দু হওয়া যেত না- স্বামী বিবেকানন্দ

আপনারা আশ্চর্যান্বিত হবেন, যদি আমি আপনাদের বলি প্রাচীন রীতি অনুযায়ী গোরু না খেলে ভালো হিন্দু হওয়া যেত না। বিশেষ অনুষ্ঠানে তার অবশ্যই বৃষ বলি দিয়ে খেতে হত। এটা এখন অত্যন্ত বিরক্তিকর।

Read more

রাম নিরপরাধ শূদ্র শম্বুককে হত্যা করেছেন, এতে আপনি অবাক কেন হচ্ছেন?

বাল্মীকি রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে দেখা যায়, বিষ্ণুর অবতার রামচন্দ্র তপস্যা করার অপরাধে শম্বুক নামক এক শূদ্র তপস্বীকে হত্যা করেন। রামায়ণে এই ঘটনাটি বর্ণিত হওয়া সত্ত্বেও রামের পক্ষ অবলম্বন করে অনেকে বলে থাকেন, রামের মত একটি চরিত্রের দ্বারা কখনোই শম্বুক বধ সম্ভব নয় অথবা রাম শম্বুক বধ করেননি। এর স্বপক্ষে তারা বেশ কিছু যুক্তি দিয়ে থাকেন। কলকাতা 24*7 নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে এই ধরণের যুক্তি সমন্বিত একটি লেখা চোখে পড়ল তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

Read more

আপস্তম্ভ সংহিতা ও জাতিভেদ

আপস্তম্ভ সংহিতা ধর্মশাস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। এতে ব্রাহ্মণের মহিমা এবং শূদ্র ও অস্পৃশ্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিধি-বিধান লক্ষ্য করা যায়। ব্রাহ্মণের

Read more

হিন্দু কে?

ভারত হল সম্প্রদায়ের স্তূপ। এখানে রয়েছে পারসি, খ্রিষ্টান, মুসলমান এবং হিন্দু। এই সম্প্রদায়গুলোর ভিত জাতিগত নয়, অবশ্যই ধর্মীয় – এটা

Read more

মহাভারতে জাতিভেদ: ব্রাহ্মণ

কথিত আছে, যাহা নাই ভারতে তাহা নাই ভারতে। অর্থাৎ, মহাভারতে যা নেই পুরো ভারতবর্ষেও তা নেই। তৎকালীন ভারতের বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায়ের আচার-অনুষ্ঠানের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে মহাভারতে। ভারতের হৃদয়ে যে জাতিভেদের শেল বিদ্ধ হয়েছে, যা আজও ভারতকে পীড়ন করে চলেছে, তার সম্বন্ধে কি সুদীর্ঘকালের ইতিহাসধারণকারী মহাভারতে কিছুই নেই? না, আছে। মহাভারতে স্থানে স্থানে জাতপাতের সাক্ষ্য মেলে। মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্রের আচরণে বারংবার যেমন জাতিবাদী মানসিকতা ফুটে উঠেছে, তেমনি অনেক চরিত্র বিষম জাতিভেদের শিকার হয়েছেন। এতে ব্রাহ্মণের মহিমা স্থানে স্থানে কীর্তিত হয়েছে। কখনো বা ক্ষত্রিয়রা ব্রাহ্মণদের শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করেছেন।কখনোবা ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়েরা পরস্পর সন্ধিতে আবদ্ধ হয়েছেন। মহাভারতে কঠোর জাতিভেদের পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা রয়েছে। মহাভারতে অধিকাংশেরা যখন জাত পাত নিয়ে গোঁড়া মানসিকতা পোষণ করেছেন তখন অনেক উদারপন্থীরা জাতিভেদকে অস্বীকার করেছেন বা জাতপাত সম্বন্ধে অতটা কঠোর মানসিকতা পোষণ করেননি। বর্ণপ্রথার প্রতি যারা উদার মনোভাব পোষণ করেছেন, তাদের মনোভাব আখেরে সমাজে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবুও তাদের সেই উদারতা তুচ্ছ নয়। তাই মহাভারতের জাতিভেদ বিষয়টির সামগ্রিক আলোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করি। সঙ্গত কারণেই অনেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এর প্রয়োজন কি? এ তো অতীত! অতীতের গর্ত খুড়ে বিষধর সর্পকে বের করে আনা কেন? উত্তরে বলা যায়, ধর্মগ্রন্থ হিসাবে হিন্দুদের মাঝে গীতা এতটাই জনপ্রিয় যে একে বর্তমানে হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বলা যায়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সংঘটনের পূর্বে কৃষ্ণের অর্জুনকে ধর্ম, দর্শন সম্বন্ধে দেয়া উপদেশই গীতা নামে পরিচিত। অনেক পণ্ডিতেরা গীতাকে মহাভারতে প্রক্ষিপ্ত অর্থাৎ পরবর্তীকালে সংযোজিত অংশ বলে থাকেন। তারা তাদের মতের স্বপক্ষে নানা তথ্য ও যুক্তি পেশ করে থাকেন। অধিকাংশ ধর্মপরায়ণ হিন্দুই খুবসম্ভবত গীতাকে মহাভারতে প্রক্ষিপ্ত বলে মানবেন না। তারা একে মহাভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী ভাবতেই ভালোবাসবেন। তাই গীতাকে বুঝতে গেলে, এর আলোচনা-সমালোচনা করতে গেলে একে মহাভারতের আঙ্গিকে দেখতে হবে। এছাড়াও ইতিহাস প্রিয় মানুষের কাছে অতীতের ঘটনাবলি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।বিবিধ কারণে ‘মহাভারতে জাতিভেদ’ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।

Read more

ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ?

চার্বাক। এই নামটি অনেকেই শুনে থাকবেন। এটি হল প্রাচীন ভারতের এক নাস্তিক্যবাদী দর্শন। এর অন্য নাম লোকায়ত দর্শন। চার্বাকেরা ঈশ্বর,দেহাতিরিক্ত আত্মা, জন্মান্তর,স্বর্গ,নরক,মোক্ষ ইত্যাদির কিছুই মানতেন না। চার্বাক এর নাম শোনামাত্রই একটি শ্লোক সবার মনে উঁকি দেয়-
যাবজ্ জীবেৎ সুখং জীবেদ্ ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ।

Read more

ঈশ্বরের ধর্মবিশ্বাস

ঈশ্বর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন বলে শোনা যায়, কিন্তু তাকে নাকি কেউ সৃষ্টি করেন নি অর্থাৎ তিনি নাস্তিক। এই ঈশ্বর অলৌকিক সত্ত্বা, তিনি আমাদের কাছে গুরুত্বহীন। ওনার চেয়ে আমাদের কাছে ঢের গুরুত্বপূর্ণ পৃথিবীর ঈশ্বর, মানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যিনি সমাজ সংস্কারক হিসাবে ভারতবাসীর অন্তরে অমর হয়ে আছেন । দেশের অশিক্ষা,কুসংস্কারের তিমিরে আলোকশিখা হয়ে এসেছিলেন তিনি। বিদ্যাসাগরের ধর্মবিশ্বাস ঠিক কি ছিল? জানা যায় তিনিও নাকি তথাকথিত সর্বশক্তিমানের মতই নাস্তিক ছিলেন!

Read more

সেযুগে মায়েরা বড়ো

ঐতিহাসিকদের মতে, ৫/৬ হাজার বছর আগেও মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা চালু ছিল।
একসময় মানুষ শিকারী ও সংগ্রাহক জীবন যাপন করতো। নারী পুরুষের বনের পশু শিকার ও ফল মূল সংগ্রহ করেই জীবন চলতো। কাজের ক্ষেত্রে সমতা ছিল, তাই সমাজেও সমতা থাকার কথা! কিন্তু মেয়েদের আর একটা বড় দায়িত্ব পালন করতে হত, সন্তান পালন করতে হত। অন্যান্য পশুদের বাচ্চা জন্মের সাথেই প্রায় চলতে ফিরতে শিখে যায়, কিন্তু মানুষের বাচ্চা জন্মের পরও খুব অসহায় থাকে, তাই তার মায়ের সান্নিধ্যের দরকার হয়। মা যেহেতু এই বাড়তি দায়িত্বটি পালন করতেন তাই আদিম শিকারী সমাজেও ছিল মায়েরই কর্তৃত্ব।

Read more

কালিকাপুরাণে পশুবলি,গরুবলি ও নরবলি

বর্তমান যুগে নরবলির নাম শুনলেই অধিকাংশ লোকেরা আঁতকে ওঠেন। নরবলির প্রথাটি পৃথিবীর অনেক আদিম সভ্যতাতেই প্রচলিত ছিল। হিন্দু ধর্মের নানা গ্রন্থেও নরবলির বিধান রয়েছে, তবে আজকের আলোচনা কেবল কালিকা পুরাণে বর্ণিত নরবলি নিয়ে।

Read more

রামচন্দ্রের বালী হত্যা-রাম ধর্মের অনুসারী নাকি অধর্মের?

কোনো গল্পের চরিত্রগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শতভাগ পরিচ্ছন্ন হয় না, সেরকম হলে হয়তো গল্পই এগোতো না। তাই তো কোনো চরিত্রে প্রকাশ

Read more

ভগবান ব্রহ্মার অজাচার

হিন্দু ধর্মে ব্রহ্মা একটি বিখ্যাত নাম। তিনি সৃষ্টিকর্তা, সৃজন করেন। তিক্ত হলেও সত্য, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে জানা যায় ব্রহ্মা তার নিজ কন্যার সাথে অজাচারে লিপ্ত হয়েছিলেন।

Read more

বেদবিরোধী বুদ্ধকে কেন বিষ্ণুর অবতার বানানো হল?

গৌতম বুদ্ধ যিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক, হিন্দুরা তাকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবেও জানেন। [১] বিভিন্ন পুরাণে বুদ্ধকে বিষ্ণুর নবম অবতার বলা হয়েছে। কিন্তু হিন্দুরা কি আসলেই জানেন বুদ্ধ অবতার সম্বন্ধে তাদের ধর্মগ্রন্থে কি বলা আছে? হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে অসুরদের বৈদিক ধর্ম হতে ভ্রষ্ট করতেই বিষ্ণু বুদ্ধ অবতার নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তন করেন। বৌদ্ধ ধর্মকে আসুরিক ধর্ম হিসাবে দেখানো হয়েছে। হিন্দু শাস্ত্র রচয়িতারা কেন এই কাজটি করেছিল তা জানার জন্য আমাদের খুঁজে দেখতে হবে অতীতে হিন্দুদের সাথে বৌদ্ধদের সম্পর্ক কেমন ছিল।এখন বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যেমন বিদ্বেষ, সহিংসতা দেখা যায়, তেমনি অতীতেও হিন্দু ও বৌদ্ধদের মধ্যেও হিংসা-দ্বেষ ছিল।

Read more

কল্কি বৌদ্ধদের হত্যা করার জন্য আসবেন!

সাধারণ হিন্দুরা মনে করেন, কলি যুগে কল্কি পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন সকল অন্যায়, অনাচার দূর করার জন্য। কিন্তু তারা কি জানেন, কল্কি পুরাণ অনুসারে, কল্কির পৃথিবীতে অবতরণের একটি মুখ্য উদ্দেশ্য- বৌদ্ধদের ধ্বংস করা?

Read more

হিন্দু ধর্মে ধর্ষণ

দেবতাদের আমরা সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ভাবতেই ভালোবাসি। ভক্ত বিশ্বাস করে, ভগবান কেবলই দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করে থাকেন। কিন্তু সেই দেবতাই যদি হয়ে ওঠে শয়তান, লম্পট ও ধর্ষক? তবে কি মানুষ তার বিবেকের কাঠগোড়ায় দেবতাকেও দাঁড় করাবে? নাকি ক্ষমতাবলে ছাড় পেয়ে যাবে ভ্রষ্ট দেবতা? বর্তমান সময়ে নারীদের উপর বেড়ে চলা সহিংসতা,ধর্ষণ আমাদের যখন বিব্রত করে চলেছে তখন ধর্মগ্রন্থগুলোতে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে সত্যযুগ থেকে কলিযুগ অবধি কিছুই বদলায়নি। কলির অধঃপতিত পুরুষের মত সত্যের পরমপূজ্য ঋষি,দেবতারাও ধর্ষণের ন্যায় অপকর্মে জড়িত।

Read more

সতীর খোঁজে-হিন্দু শাস্ত্রে সতীদাহ-২য় পর্ব

ভাগীরথির দুই তীর আলোকিত করিয়া জ্বলন্ত চিতানলে নারীগণ ভস্মীভূত হইত, তাহাদের করুণ আর্তনাদে বাংলার আকাশ বাতাস কাঁদিয়া উঠিত, বাঙ্গালীর প্রাণে তাহা সাড়া জাগাইত না।

Read more

সতীর খোঁজে-হিন্দু শাস্ত্রে সতীদাহ-১ম পর্ব

সহমরণের প্রথাটি অনেক প্রাচীন। অনেক হিন্দু শাস্ত্রে সহমরণের দৃষ্টান্ত ও বিধান রয়েছে।

Read more

শিবলিঙ্গের কাহিনী- লিঙ্গ মানে কি লিঙ্গ নয়?-২য় পর্ব

সবচেয়ে পুরোনো যে দুটি শিবলিঙ্গের (কেবলমাত্র জননাঙ্গের মতো দেখতে মূর্তি নয়, এগুলোকে শিবলিঙ্গ বলেই সবাই পূজা করে থাকে) ব্যাপারে আমরা জানতে পারি, সে দুটিই একেবারে জননাঙ্গের মতো দেখতে। এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীন শিবলিঙ্গ হল, খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে নির্মিত গুডিমাল্লাম এর শিবলিঙ্গ।

Read more

শিবলিঙ্গের কাহিনী-লিঙ্গ মানে কি লিঙ্গ নয়?-১ম পর্ব

নাম লিঙ্গ হলেও জিনিসটি ঠিক লিঙ্গ নয়- এমনই দাবী দাওয়া আজকের হিন্দুদের। শিবলিঙ্গ যে জননাঙ্গের প্রতীক তারা তা মানতে নারাজ, যেহেতু এই আদিম পূজা পদ্ধতির সাথে তাদের বর্তমান মানসিকতা খাপ খায় না। শিবলিঙ্গের জননাঙ্গ হওয়াকেই কেবল অস্বীকার নয়, তার পাশাপাশি অপবিজ্ঞানের সাহায্যে শিবলিঙ্গকে প্রাচীন ভারতের পারমাণবিক চুল্লী, এজাতীয় কিছু প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে তারা।প্রথমেই হিন্দুরা যে কাজটি করে থাকে শিবলিঙ্গ-র ক্ষেত্রে তা হল- লিঙ্গ শব্দটির মানে যে জননাঙ্গ তা অস্বীকার করা।তাদের কথায়, ”বাংলায় লিঙ্গ শব্দের অর্থ, শিশ্ন, পুংজননেন্দ্রিয় প্রভৃতি হলেও, বাংলায় লিঙ্গ মানে জননাঙ্গ বোঝালেও সংস্কৃতে এর অর্থ একেবারেই আলাদা।”

Read more

সীতা হওয়ার মূল্য কি? অগ্নিপরীক্ষা? আত্মহত্যা?

আজকাল ভারত রামরাজ্যের দাবীতে ভরে উঠেছে। বিশ্বাসীর চোখে রামরাজ্য ন্যায়-শান্তির রাজত্ব।রাম তাদের কাছে কাছে ভগবান। অন্ধভক্ত অবিবেচকের মত আজকের যুগে এসেও রামরাজ্য হয়তো চাইতে পারে কিন্তু রামায়ণ পড়া কোনো নারীর পক্ষে রামের রাজত্ব চাওয়া সম্ভব নয়! রামরাজ্যের নাম শুনলেই তার আঁতকে ওঠার কথা। অন্তত অবতার শ্রী রামচন্দ্র তার স্ত্রী সীতার সাথে কি রকম আচরণ করেছিলেন সেটা জানার পর, সে রামরাজ্য চাইবে না নিশ্চিত। রামের ন্যায় স্বামীও যে চাইবে না এই বিষয়েও তেমন সন্দেহ নেই।

Read more

মনুর চোখে নারী – হিন্দু ধর্মে নারীর দুরবস্থা

“বিশ্বের যা কিছু মহান, যা চিরকল্যানকর।

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।”

-কাজী নজরুল ইসলাম

এই মূল্যবোধ আধুনিক কবির থাকলেও ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রবক্তা মনুর কিঞ্চিতও ছিল না। ছিলনা বলেই শূদ্রের পাশাপাশি, সকল বর্ণের নারীরই মানবিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছিলেন মনু। নারীর যে কোনো উঁচুজাতেই সম্মানজনক স্থান নেই, তাই তিনি স্পষ্ট করেছেন। তার রচিত শাস্ত্রের নাম ‘মানব শাস্ত্র’ অথবা ‘মনুসংহিতা’ এবং তার ধর্মের নাম ‘মানব ধর্ম’। বর্তমান মানবিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিপরীতে মনুর ‘মানব ধর্ম’ প্রকৃতপক্ষে ছিল , ‘দানব ধর্ম’, শোষণ-বঞ্চনার এক মারণাস্ত্র। মনুকে হিন্দু সমাজের রীতি নীতির মূল প্রবক্তা বলা যায়।

এই মনুসংহিতাতে নারীকে জঘন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন মনু, হরণ করেছেন তার সকল মৌলিক মানবিক অধিকার।

Read more

আপনি কি জানেন ব্রাহ্মণই প্রকৃত দেবতা? – মনুসংহিতা ও ব্রাহ্মণ্যবাদ

১. “ব্রহ্মার পবিত্রতম মুখ থেকে উৎপন্ন বলে, সকল বর্ণের আগে ব্রাহ্মণের উৎপত্তি হওয়ায়, এবং বেদসমূহ ব্রাহ্মণকর্তৃক রক্ষিত হওয়ার জন্য (বা বেদসমূহ ব্রাহ্মণেরাই পঠন-পাঠন করেন বলে)– ব্রাহ্মণই ধর্মের অনুশাসন অনুসারে এই সৃষ্ট জগতের একমাত্র প্রভু।” (১/৯৩)

২.”স্থাবর জঙ্গমে পূর্ণ এই চরাচর জগতের মধ্যে যত সৃষ্ট পদার্থ আছে তার মধ্যে যাদের প্রাণ আছে তারাই শ্রেষ্ঠ। প্রাণীদের মধ্যে যাদের বুদ্ধি আছে তারা শ্রেষ্ঠ।বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণীদের মধ্যে আবার মানুষ শ্রেষ্ঠ এবং মানুষদের মধ্যে ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ।” ১/৯৬

৩.”যখন ব্রাহ্মণ জন্মগ্রহণ করেন তখন তিনি পৃথিবীতে সকলের শ্রেষ্ঠ হয়েই জন্মগ্রহণ করেন। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত সর্ব ধর্ম রক্ষার জন্যই ব্রাহ্মণের উৎপত্তি।” ১/৯৯

Read more

মনুর চোখে শূদ্ররা মানুষ নয়-হিন্দু ধর্মে শূদ্রের অবস্থান

মারাঠায় পেশোয়াদের শাসনকালে বিকাল ৩ টে থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত অস্পৃশ্যদের পুনা শহরের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি ছিল না কেননা সূর্যের প্রভাবে তাদের দীর্ঘ ছায়া কোনো ব্রাহ্মণের ওপর গিয়ে পড়লে তারা অপবিত্র হয়ে যেত। প্রাচীর ঘেরা শহরের মধ্যে অচ্ছুৎদের থাকার অধিকার ছিল না। কুকুর-গবাদি পশুরা শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে পারতো কিন্তু একজন অচ্ছুতেরো তার অধিকার ছিল না।

মারাঠা পেশোয়াদের শাসন আমলে কোনো অচ্ছুৎ মাটিতে থুতু ফেলতে পারতো না, পাছে কোনো হিন্দুর পায়ে তার স্পর্শ হয়! তাই থুতু ফেলার জন্য তার গলায় একটা মটকা ঝুলিয়ে দেয়া হত। অচ্ছুৎ এর কোমরে একটা ঝাড়ু বেধে রাখতে হত, যাতে সে তার অপবিত্র পায়ের ছাপ ভূমি থেকে মেটাতে মেটাতে চলে। কোনো ব্রাহ্মণ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে তাকে শুয়ে পড়তে হত যাতে তার ছায়া সেই ব্রাহ্মণের ওপর না পড়ে।

Read more

তপস্যা করার কারণে রামচন্দ্র কর্তৃক নিরপরাধ শূদ্র শম্বুকের হত্যা

জাতিভেদ হিন্দু সমাজ ও ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। সহস্র বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশ জাতিভেদের বিষবাষ্পে দগ্ধ হয়েছে, আজও হয়ে চলেছে নিম্নবর্ণের মানুষদের ওপরে অকথ্য অত্যাচার। কখনো বা গোফ রাখার অপরাধে, কখনো বা ঘোড়ায় চড়ার অপরাধে, কখনো বা মন্দিরে প্রবেশের অপরাধে আজো চলছে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর অত্যাচার। এই জাতিভেদের বিভীষিকা এল কোথা থেকে! এর উৎস কি? অনেক হিন্দুই বলে থাকেন, এগুলো মানুষ তৈরি করেছে, ঈশ্বর তৈরি করেনি অথবা এই জাতিভেদ, এসব ধর্মে কোথাও নেই। হিন্দুদের মধ্যে ‘জাতি/ বর্ণ হয় কর্ম গুণে’ এমনও দাবী করতে দেখা যায় আজকাল। এইসব দাবীকারীরা এই বিষয়ে অজ্ঞাত যে, হিন্দুশাস্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জাতিভেদ মিশে আছে। রামায়ণে জাতিপ্রথার জঘন্য প্রকাশ দেখা যায়, যখন রামচন্দ্র নিরীহ শম্বুককে হত্যা করেন। শম্বুক হত্যা শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তিবিশেষের হত্যা নয়, শম্বুক ভারতের আপামর দরিদ্র শোষিত শ্রমজীবী মানুষদের প্রতিনিধি। শম্বুকের নৃশংস হত্যা, শূদ্রদের প্রতি চলে আসা অত্যাচারের ইতিহাস; সেই ইতিহাস মুছবার নয়,ভুলবার নয়।

Read more