মহাভারতে জাতিভেদ: ব্রাহ্মণ

কথিত আছে, যাহা নাই ভারতে তাহা নাই ভারতে। অর্থাৎ, মহাভারতে যা নেই পুরো ভারতবর্ষেও তা নেই। তৎকালীন ভারতের বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায়ের আচার-অনুষ্ঠানের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে মহাভারতে। ভারতের হৃদয়ে যে জাতিভেদের শেল বিদ্ধ হয়েছে, যা আজও ভারতকে পীড়ন করে চলেছে, তার সম্বন্ধে কি সুদীর্ঘকালের ইতিহাসধারণকারী মহাভারতে কিছুই নেই? না, আছে। মহাভারতে স্থানে স্থানে জাতপাতের সাক্ষ্য মেলে। মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্রের আচরণে বারংবার যেমন জাতিবাদী মানসিকতা ফুটে উঠেছে, তেমনি অনেক চরিত্র বিষম জাতিভেদের শিকার হয়েছেন। এতে ব্রাহ্মণের মহিমা স্থানে স্থানে কীর্তিত হয়েছে। কখনো বা ক্ষত্রিয়রা ব্রাহ্মণদের শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করেছেন।কখনোবা ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়েরা পরস্পর সন্ধিতে আবদ্ধ হয়েছেন। মহাভারতে কঠোর জাতিভেদের পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা রয়েছে। মহাভারতে অধিকাংশেরা যখন জাত পাত নিয়ে গোঁড়া মানসিকতা পোষণ করেছেন তখন অনেক উদারপন্থীরা জাতিভেদকে অস্বীকার করেছেন বা জাতপাত সম্বন্ধে অতটা কঠোর মানসিকতা পোষণ করেননি। বর্ণপ্রথার প্রতি যারা উদার মনোভাব পোষণ করেছেন, তাদের মনোভাব আখেরে সমাজে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবুও তাদের সেই উদারতা তুচ্ছ নয়। তাই মহাভারতের জাতিভেদ বিষয়টির সামগ্রিক আলোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করি। সঙ্গত কারণেই অনেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এর প্রয়োজন কি? এ তো অতীত! অতীতের গর্ত খুড়ে বিষধর সর্পকে বের করে আনা কেন? উত্তরে বলা যায়, ধর্মগ্রন্থ হিসাবে হিন্দুদের মাঝে গীতা এতটাই জনপ্রিয় যে একে বর্তমানে হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বলা যায়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সংঘটনের পূর্বে কৃষ্ণের অর্জুনকে ধর্ম, দর্শন সম্বন্ধে দেয়া উপদেশই গীতা নামে পরিচিত। অনেক পণ্ডিতেরা গীতাকে মহাভারতে প্রক্ষিপ্ত অর্থাৎ পরবর্তীকালে সংযোজিত অংশ বলে থাকেন। তারা তাদের মতের স্বপক্ষে নানা তথ্য ও যুক্তি পেশ করে থাকেন। অধিকাংশ ধর্মপরায়ণ হিন্দুই খুবসম্ভবত গীতাকে মহাভারতে প্রক্ষিপ্ত বলে মানবেন না। তারা একে মহাভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী ভাবতেই ভালোবাসবেন। তাই গীতাকে বুঝতে গেলে, এর আলোচনা-সমালোচনা করতে গেলে একে মহাভারতের আঙ্গিকে দেখতে হবে। এছাড়াও ইতিহাস প্রিয় মানুষের কাছে অতীতের ঘটনাবলি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।বিবিধ কারণে ‘মহাভারতে জাতিভেদ’ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।

Read more