06.জাকির নায়েকঃ দাহাহা বা উটপাখির ডিম

Print Friendly, PDF & Email

জাকির নায়েক সহ অনেক ইসলামিক স্কলারই আজকাল কোরআনের একটি শব্দের নতুন একধরণের অনুবাদ করে বলার চেষ্টা করেন যে, কোরআনে নাকি ১৪’শ বছর আগেই পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে বলে দেয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে জাকির নায়েক “দাহাহা” শব্দের অনুবাদ করেছেন “উটপাখির ডিম”। কিন্তু এই অনুবাদটি একদমই ভুল অনুবাদ। কোরআনের আয়াতের এই রকম অর্থ কোন প্রাচীন তাফসীরকারক, নবীর সাহাবায়ে একরাম বা তাবে তাবেইনগণ কেউই করেননি। এমনকি, বর্তমান সময়ের সবচাইতে বড় ইসলামিক আলেমগণই জাকির নায়েকের এই অর্থ গ্রহণকে মিথ্যা আখ্যায়িত করেছেন। জাকির নায়েক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিজ্ঞানের সাথে মেলাবার জন্য মিথ্যা বলেছেন। তিনি কোন ইসলামিক আলেম নন, তিনি শুধুমাত্র ইসলাম প্রচারক। এমনকি, আরবি ভাষাও তিনি জানেন না বলে বহুবার স্বীকার করেছেন। উল্টোদিকে, ইসলামওয়েব ডট নেট ওয়েবসাইটে যারা ফতোয়া দেন, তারা সকলেই মদিনা ও আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা এক একজন আরবি ভাষার ওপর বিশেষজ্ঞ, আলেম, মুফতি এবং সারা পৃথিবীতে স্বনামধন্য স্কলার হিসেবে গণ্য। তারাই বলে দিয়েছেন, জাকির নায়েকের এই দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসুন কাতারের এই বিখ্যাত ফতোয়া ওয়েবসাইটের ফতোয়াটি দেখে নিই, [1]

Meaning of Quran 79:30
Fatwa No: 92448
Fatwa Date:19-9-2006
Question
Salamvalekum, This is regarding the verse of Surah Naziat 79: 30 where Allaah subhanawataala says in the Quran “And after that He spread the earth” Most of the Modern day scholars translate this verse to “Earth is like egg shaped”. To exactly proof the shape of the earth is Spherical. Yousuf Ali, Picktall and Shakir have translated the word dahaha as “spread”. The word dahaha by the modern scholars is also spread as well as ostrich egg shaped, which is exactly the shape of the earth. I would appreciate if you can provide me with the etymology of the word daha. I would also like to know can we change the meaning and quote is as egg shaped. JazakAllaah Khair
Answer
All perfect praise be to Allaah, The Lord of the Worlds. I testify that there is none worthy of worship except Allaah, and that Muhammad is His slave and Messenger. We ask Allaah to exalt his mention as well as that of his family and all his companions.
Allaah Says (what means): {And after that He spread (in Arabic the word used is Dahaahaa) the earth.} [Quran 79:30]. The Arabic word Dahaahaa is extracted from the root Daha which means spreading as interpreted by Imaams Al-Qurtubi, Ibn Manthoor and other interpreters of the Quran .
Indeed Allaah explained the fact of the Earth being spread just right after mentioning the above verse, as He Says (what means): {And brought forth therefrom its water and its pasture. And the mountains He has fixed firmly.} [Quran 79:31-32]. Therefore, it becomes evident that the verse does not mean that He made it egg-shaped.
This, of course, does not contradict the fact the Earth is round-shaped as agreed by the scholars .
Allaah Knows best.

আসুন এই ফতোয়াটির বাঙলা অনুবাদও একইসাথে পড়ে নিই। ফতোয়াটি অনুবাদ করে দিয়েছেন সংশয় পরিবারের আবুল ফজল ভাই।

কোরানে দাহাহা শব্দটি নিয়ে এক মুমিন ভাইয়ের প্রশ্ন
প্রশ্ন
আমি কোরানের সুরা নাজিয়াতের (৭৯ নাম্বার সুরা) ৩০ নাম্বার আয়াতের বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাই। এখানে আল্লাহ বলেন, “এরপর তিনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন”। বর্তমান সময়ের বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ দাবী করেন যে এই আয়াতে ‘দাহাহা’ শব্দটি দিয়ে নাকি বিস্তৃত করাও বোঝায়, আবার এটাও নাকি বোঝায় যে “পৃথিবীর আকৃতি উটপাখির ডিমের মত”। কিন্তু ইউসুফ আলী, পিকথাল ও শাকিরের অনুবাদে আমরা দাহাহা শব্দটির ইংরেজি হিসেবে দেখতে পাই শুধুমাত্র spread শব্দটি, যার বাংলা অর্থ বিস্তৃত করা। আমি খুব বাধিত হবো যদি এই দাহাহা শব্দটির ব্যুৎপত্তি সম্বন্ধে আমাকে অবহিত করেন। আমি আরও জানতে চাই যে আমরা কি দাহাহা শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে এটিকে “উটপাখির ডিম” হিসাবে উপস্থাপন করতে পারি? জাজাকাল্লাহ খায়ের।
উত্তর
কোরানে সুরা নাজিয়াতের ৩০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন, “এরপর তিনি জমিনকে বিস্তৃত (এখানে বিস্তৃত বোঝাতে ব্যবহৃত আরবি শব্দটি দাহাহা) করেছেন”। আরবি দাহাহা শব্দটির ব্যুৎপত্তি হয়েছে যে শব্দ থেকে, সেই মূল শব্দটি হল দাহা, যার মানে হচ্ছে ছড়ানো, যেটা কিনা ইমাম আল কুরতুবি, ইমাম ইবনে মনসুর প্রমুখ খ্যাতনামা ইমামবৃন্দসহ কোরানের অন্যান্য বহু বিখ্যাত ভাষ্যকার ও ব্যাখ্যাকারীদেরও অভিমত।
এমনকি, আল্লাহ নিজেও পৃথিবীকে ছড়ানো বা বিস্তৃত করার ব্যাপারটি সুরা নাজিয়াতের পরবর্তী দুটি আয়াতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন –
“তিনি তার ভিতর থেকে বের করেছেন তার পানি ও তার তৃণভূমি”।
“আর পর্বতগুলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন”।
(কোরান ৭৯:৩১-৩২)
এ থেকে প্রমাণ হয় যে ৩০ নং আয়াতে তিনি এটা কোনভাবেই বোঝান নি যে তিনি পৃথিবীকে ডিমের আকৃতিতে তৈরি করেছেন।
পৃথিবী যে গোলাকৃতি, এ বিষয়ে পৃথিবীর সব বিজ্ঞানীরাই একমত, এবং এই আয়াত বিজ্ঞানীদের ঐক্যমতের সঙ্গে সাংঘর্ষিকও নয়।
আল্লাহই ভাল জানেন!

তথ্যসূত্র

  1. Fatwa No: 92448 []
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন