সুনান আদ-দারিমী
পরিচ্ছেদ ৫৩: হাদিস ১,০৪১-১,০৬০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ ذَرًّا عَنْ وَائِلِ بْنِ مُهَانَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِلنِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ لَيْسَتْ مِنْ عِلْيَةِ النِّسَاءِ لِمَ أَوْ بِمَ أَوْ فِيمَ قَالَ إِنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ قَالَ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَا مِنْ نَاقِصِي الدِّينِ وَالْعَقْلِ أَغْلَبَ لِلرِّجَالِ ذَوِي الْأَمْرِ عَلَى أَمْرِهِمْ مِنْ النِّسَاءِ قَالَ رَجُلٌ لِعَبْدِ اللَّهِ مَا نُقْصَانُ عَقْلِهَا قَالَ جُعِلَتْ شَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ بِشَهَادَةِ رَجُلٍ قَالَ سُئِلَ مَا نُقْصَانُ دِينِهَا قَالَ تَمْكُثُ كَذَا وَكَذَا مِنْ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ لَا تُصَلِّي لِلَّهِ صَلَاةً
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل وائل بن مهانة
বাংলা অনুবাদ
১০৪১. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের সম্পর্কে বলেন: “তোমরা সাদাকা করো, কেননা, তোমাদের অধিকাংশই জাহান্নামের বাসিন্দা হবে। সম্ভ্রান্ত শ্রেণির নয়, এমন এক মহিলা বলে উঠলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি কারণে? অথবা, কিসের জন্য? কিংবা কোন্ বিষয়ে? তিনি বললেন: “তোমরা অধিক পরিমাণে লা’নত (অভিশাপ) দাও এবং স্বামীর নাফরমানী কর।“ তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আর আব্দুল্লাহ বললেন: নারীদের চেয়ে দীন ও বুদ্ধির ঘাটতি সম্পন্ন আর এমন কেউ নেই, যে পুরুষদের উপরে তাদের কাজকর্মে প্রাধান্য বিস্তার করে। তখন একজন লোক জিজ্ঞেস করলো: তাদের বুদ্ধির ঘাটতির বিষয়টা কী? তিনি বললেন: দু’জন নারীর সাক্ষ্যকে একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান করা হয়েছে। তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো: আর তাদের দীনের ঘাটতির বিষয়টা কী রকম? তিনি বললেন: সে এত দিন এত রাত বিরত থাকে, আল্লাহর জন্য কোনো সালাতই সে আদায় করতে পারে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১১২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩২৩ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮১৮; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯২ এবং এতে টীকাও সংযোজন করেছি।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِذَا طَهُرَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ الْحَيْضِ فَلْتَتَّبِعْ ثَوْبَهَا الَّذِي يَلِي جِلْدَهَا فَلْتَغْسِلْ مَا أَصَابَهُ مِنْ الْأَذَى ثُمَّ تُصَلِّي فِيهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
বাংলা অনুবাদ
১০৪২. আব্দুর রহমান ইবনু কাসিম তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: যখন কোনো মহিলা হায়িয হতে পবিত্রতা লাভ করে, তখন সে তার (হায়েয অবস্থায়) পরিহিত কাপড় ভালভাবে লক্ষ্য করবে; ফলে কাপড়ে কোনো অপবিত্রতা লেগে থাকলে তা ধুয়ে ফেলবে। এরপর সেই কাপড়েই সে সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩০৮; বাইহাকী ২/৪০৬-৪০৭।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ يَكُونُ لِإِحْدَانَا الدِّرْعُ فِيهِ تَحِيضُ وَفِيهِ تُجْنِبُ ثُمَّ تَرَى فِيهِ الْقَطْرَةَ مِنْ دَمِ حَيْضَتِهَا فَتَقْصَعُهُ بِرِيقِهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح
বাংলা অনুবাদ
১০৪৩. আতা রাহি. থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: এমন হতো, যে আমাদের মাত্র একটি করে জামা ছিলো, যা পরিহিত অবস্থায় সে হায়েযগ্রস্ত হতো এবং সেই কাপড় পরিহিত অবস্থাই সে জুনুবী (অপবিত্র) হতো। তারপর সে কাপড়ে তার হায়েযের রক্তের ফোঁটা লেগে থাকতে দেখতো। তখন সে তাতে থুথু লাগিয়ে নখ দিয়ে ঘষে তুলে ফেলতো।[1]
[1] তহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু দাউদ ৩৫৮, ৩৬৪; আব্দুর রাযযাক নং ১২২৯ সহীহ সনদে; বুখারী ৩১২; বাইহাকী ২/৪০৫।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْهُذَلِيُّ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أُمِّهِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ إِنَّ إِحْدَاكُنَّ تَسْبِقُهَا الْقَطْرَةُ مِنْ الدَّمِ فَإِذَا أَصَابَتْ إِحْدَاكُنَّ ذَلِكَ فَلْتَقْصَعْهُ بِرِيقِهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق
বাংলা অনুবাদ
১০৪৪. হাসান রাহি. তার মাতা হতে বর্ণনা করেন, উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তোমাদের কারো কারো (কাপড়ের) উপরে রক্তের ফোঁটা উঠে আসে। যদি তোমাদের কারো এমন অবস্থা হয়, তাহলে সে যেনো তাতে থুথু লাগিয়ে নখ দিয়ে ঘষে তুলে ফেলে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আবু বাকর আল হাযালী পরিত্যক্ত (মাতরুক) খবরদাতা। (হাসানের মাতা মাজহুল (অজ্ঞাত পরিচয়))
তাখরীজ: আমি এ হাদীসটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি। তবে, উম্মু সালামার হাদীসটি ইবনু আবী শাইবা ১/৯৫ তে দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِذَا غَسَلَتْ الْمَرْأَةُ الدَّمَ فَلَمْ يَذْهَبْ فَلْتُغَيِّرْهُ بِصُفْرَةِ وَرْسٍ أَوْ زَعْفَرَانٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
বাংলা অনুবাদ
১০৪৫. মায়া’যাহ আল আদাওয়িয়্যাহ হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: কোনো মহিলা (কাপড়ের) রক্ত ধোয়ার পরও যদি তা না যায়, তবে সে যেনো হলুদ রংয়ের কুসুম কিংবা জাফরাণ রং দ্বারা তাকে (কাপড়ের রক্তবর্ণকে) পরিবর্তন করে দেয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু দাউদ ৩৫৭; তার সূত্রে বাইহাকী ২/৪০৮।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ قَالَ سَمِعْتُ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَهَا امْرَأَةٌ الدَّمُ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ فَأَغْسِلُهُ فَلَا يَذْهَبُ فَأُقَطِّعُهُ قَالَتْ الْمَاءُ طَهُورٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
বাংলা অনুবাদ
১০৪৬. মা’য়াযাহ আল আদাওয়িয়্যাহ রাহি. হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে এক মহিলা জিজ্ঞেস করলো, কাপড়ে রক্ত লেগেছিল, তারপর আমি কাপড় ধোয়ার পরও তা যায়নি। এমতাবস্থায় আমি কি কাপড় কেটে ফেলবো? তিনি বলেন: (না, বরং) পানিই তা পবিত্রকারী।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বাইহাকী ২/৪০৮।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ صُبْحٍ قَالَ سَمِعْتُ خِلَاسَ بْنَ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبُو الْقَاسِمِ يَكُونُ مَعِي فِي الشِّعَارِ الْوَاحِدِ وَأَنَا حَائِضٌ طَامِثٌ إِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَيْءٌ غَسَلَ مَا أَصَابَهُ لَمْ يَعْدُهُ إِلَى غَيْرِهِ وَصَلَّى فِيهِ ثُمَّ يَعُودُ وَإِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَيْءٌ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ غَسَلَ مَكَانَهُ لَمْ يَعْدُهُ إِلَى غَيْرِهِ وَصَلَّى فِيهِ
বাংলা অনুবাদ
১০৪৭. খিলাসা ইবনু আমর রাহি. বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে শুনেছি, আবুল কাসিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সাথে আমার শরীরে লাগানো একই কাপড়ের নীচে শয়ন করতেন, আর তখন আমি হায়েযগ্রস্ত থাকতাম। আমার (শরীর) থেকে কোনো কিছু (হায়েযর রক্ত) তার শরীরে লেগে গেলে তিনি শুধু ঐ স্থানটুকু ধুয়ে ফেলতেন, তা বাদে বাকী অংশ ধুতেন না; এবং এ কাপড়েই সালাত আদায় করতেন। এরপর তিনি (আমার নিকট) ফিরে আসতেন। পুনরায় আমার (শরীর) থেকে কোনো কিছু (হায়েযের রক্ত) তার শরীরে লেগে গেলে তিনি অনুরূপ করতেন: তিনি শুধু ঐ স্থানটুকু ধুয়ে ফেলতেন, তা বাদে বাকী অংশ ধুতেন না; এবং এ কাপড়েই সালাত আদায় করতেন।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, মুসা ইবনু মুহাম্মদ ইবনু হিব্বান এর জন্য। তবে অনেক নির্ভরযোগ্য রাবী তার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি ও এর শাহিদ হাদীস উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৮০২ এ।
(আহমাদ ৬/৪৪; আবু দাউদ ২৬৯, ২১৬৬; বাইহাকী ১/৩১৩; নাসাঈ ২৮৫, ৩৮২, ৭৭৪; বুখারী (শব্দের পরিবর্তনসহ) ৩০৮; ইবনু মাজাহ ৬৩০।)
এর শাহিদ রয়েছে আসমা বিনতে আবু বাকর হতে হুমাইদী নং ৩২০; শাফিঈ, আল উম্মু ১/৬৭; আব্দুর রাযযাক নং ১২২৩; আহমাদ ৬/৩৪৫, ৩৪৬; বুখারী ৩০৭; মুসলিম ২৯১; মালিক ১০৫।
অপর একটি শাহিদ হাদীস উম্মু কাইস হতে ইবনু হিব্বান নং ১৩৮২ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِيمَا تَلْبَسُ الْمَرْأَةُ مِنْ الثِّيَابِ وَهِيَ حَائِضٌ إِنْ أَصَابَهُ دَمٌ غَسَلَتْهُ وَإِلَّا فَلَيْسَ عَلَيْهَا غَسْلُهُ وَإِنْ عَرِقَتْ فِيهِ فَإِنَّهُ يُجْزِئُهَا أَنْ تَنْضَحَهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
বাংলা অনুবাদ
১০৪৮. হাম্মাদ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, কোনো মহিলা হায়েযগ্রস্ত অবস্থায় যে কাপড় পরিধান করে, যদি তাতে রক্ত লাগে, তবে সে তা ধুয়ে নেবে। আর তা না হলে তার জন্য তা ধোয়া বাধ্যতামূলক নয়। আর যদি সেই কাপড়ে সে ঘামে ভিজে যায়, তবে তাতে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৫।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ عُثْمَانَ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ الْمَرْأَةُ الْحَائِضُ تُصَلِّي فِي ثِيَابِهَا الَّتِي تَحِيضُ فِيهَا إِلَّا أَنْ يُصِيبَ شَيْئًا مِنْهَا دَمٌ فَتَغْسِلَ مَوْضِعَ الدَّمِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
বাংলা অনুবাদ
১০৪৯. উছমান হতে বর্ণিত, মুজাহিদ রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলা (পবিত্রতা লাভের পর) হায়েয অবস্থায় পরিহিত কাপড়ে সালাত আদায় করতে পারবে। কিন্তু, যদি তার শরীর থেকে কাপড়ের কোথাও রক্ত লেগে যায়, তবে সে শুধু রক্তের স্থানটুকু ধুয়ে নেবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৬।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ قَالَ حُتِّيهِ ثُمَّ رُشِّيهِ بِالْمَاءِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
বাংলা অনুবাদ
১০৫০. ফাতিমাহ বিনতে মুনযির হতে বর্ণিত, আসমা বিনতে আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হায়েযগ্রস্ত মহিলার কাপড়ে লাগা রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: “তুমি সেটি ঘষে তুলে দাও, অতঃপর তাতে পানি ছিটিয়ে দাও।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২২৭, ৩০৭; সহীহ মুসলিম ২৯১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩২২ এ।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ الْحَائِضُ لَا تَغْسِلُ ثَوْبَهَا إِذَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ دَمٌ
বাংলা অনুবাদ
১০৫১. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, ‘হায়েযগ্রস্ত মহিলার কাপড়ে রক্ত না লাগলে সে তার কাপড় ধৌত করবে না।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি। আরও দেখুন, বিগত ১০৫৪ (অনুবাদে ১০৪৮) নং হাদীসটি।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ هُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ الْمُنْذِرِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ سَمِعْتُ امْرَأَةً تَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ مِنْ مَحِيضِهَا كَيْفَ تَصْنَعُ بِهِ قَالَ إِنْ رَأَيْتِ فِيهِ دَمًا فَحُكِّيهِ ثُمَّ اقْرُصِيهِ بِمَاءٍ ثُمَّ انْضَحِي فِي سَائِرِهِ فَصَلِّي فِيهِ
বাংলা অনুবাদ
১০৫২. ফাতিমাহ বিনতে মুনযির থেকে বর্ণিত, আসমা বিনতে আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি এক মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছি, হায়েযগ্রস্ত মহিলা হায়েয হতে পবিত্র হলে তার কাপড় কিভাবে (পরিষ্কার) করবে? তিনি বলেন: “যদি তুমি তাতে রক্ত দেখতে পাও, তবে তা (রক্ত) ঘষে তুলে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে তারপর পূরো কাপড় ভালভাবে ধুয়ে নেবে তারপর সেই কাপড়ে সালাত আদায় করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি ৭৯৯, ১০৫৪ (অনুবাদ ৭৯৩, ১০৫০) নং এ গত হয়েছে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ثَابِتٍ الْحَدَّادِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ دِينَارٍ مَوْلَى أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ عَنْ أُمِّ قَيْسٍ قَالَتْ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ دَمِ الْحِيضَةِ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ فَقَالَ اغْسِلِيهِ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَحُكِّيهِ بِضِلَعٍ
বাংলা অনুবাদ
১০৫৩. উম্মু কায়িস বিনতে মিহসানের দাস আদী ইবনু দীনার হতে বর্ণিত, উম্মু কায়িস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাপড়ে হায়িযের রক্ত লেগে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: “পানি এবং বরই পাতা দ্বারা ধুয়ে নাও এবং (এর আগে) এক টুকরা কাঠ বা হাড় দিয়ে তা ঘষে নাও।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৫৫, ৩৫৬; আবু দাউদ ৩৬৩; বাইহাকী ২/৪০৭; নাসাঈ ২৯৩; ইবনু মাজাহ ৬২৮; আব্দুর রাযযাক ১২২৬।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ سَمِعْتُ كَرِيمَةَ قالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ وَسَأَلَتْهَا امْرَأَةٌ فَقَالَتْ الْمَرْأَةُ يُصِيبُ ثَوْبَهَا مِنْ دَمِ حِيضَتِهَا فَقَالَتْ لِتَغْسِلْهُ بِالْمَاءِ قَالَتْ فَإِنَّا نَغْسِلُهُ فَيَبْقَى أَثَرُهُ قَالَتْ إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ
বাংলা অনুবাদ
১০৫৪. কারীমাহ বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহাকে বলতে শুনেছি... এবং আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: এক মহিলার কাপড়ে তার হায়েযের রক্ত লেগে গেলে (সে কী করবে)? তিনি বললেন: সে যেন তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে। সে মহিলা বলল, আমরা তো তা ধুয়ে ফেলি, কিন্তু তার দাগ যে থেকে যায়? তিনি বলেন: নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯৮; আরও দেখুন, সুনান বাইহাকী ২/৪০৮।
আর এটি সহীহ সনদে ১০৫২ (অনুবাদে ১০৪৬) এ গত হয়েছে, সেখানে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ كَانَتْ عَائِشَةُ تَرَى الشَّيْءَ مِنْ الْمَحِيضِ فِي ثَوْبِهَا فَتَحُتُّهُ بِالْحَجَرِ أَوْ بِالْعُودِ أَوْ بِالْقَرْنِ ثُمَّ تَرُشُّهُ
বাংলা অনুবাদ
১০৫৫. আতা রাহি. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা তার কাপড়ে হায়েযের সামান্য রক্ত দেখতে পেতেন। ফলে তিনি পাথর বা কাঠি কিংবা শিং দ্বারা তা ঘষে তুলে ফেলতেন, তারপর পানি ছিটিয়ে দিতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আব্দুর রাযযাকে ইবনু জুরাইজ কর্তৃক ‘হাদ্দাসানা’ বলে বর্ণিত হয়েছে, ফলে ইবনু জুরাইজের তাদলীসের সন্দেহ দূর হয়ে যায়।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক, (আল মুসান্নাফ) নং ১২২৮ (সেখানে ‘শিং’ এর বদলে ‘হাড়’ এবং ‘পানি ছিটিয়ে দিতেন’ এরপরে অতিরক্তি ‘তারপর তাতে সালাত আদায় করতেন’ রয়েছে)।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ قَالَ سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ الْجُنُبِ يَعْرَقُ فِي الثَّوْبِ ثُمَّ يَمْسَحُهُ بِهِ قَالَ لَا بَأْسَ بِهِ
বাংলা অনুবাদ
১০৫৬. আব্দুল্লাহ ইবনু উছমান ইবনু খুছাইম বলেন, ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি যে তার কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে যায়, তারপর সে তা দ্বারা ঘাম মুছে ফেলে- এমন লোক সম্পর্কে আমি সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: এতে কোনো দোষ নেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১; পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بِعَرَقِ الْجُنُبِ فِي الثَّوْبِ بَأْسًا
বাংলা অনুবাদ
১০৫৭. আব্দুল্লাহ ইবনু উছমান ইবনু খুছাইম হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি.বলেন, ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি তার কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে যাওয়া’ -কে আপত্তিকর মনে করতেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ الشَّعْبِيِّ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بِهِ بَأْسًا
বাংলা অনুবাদ
১০৫৮. আতা ইবনু সায়িব হতে বর্ণিত, শা’বী রাহি.ও একে আপত্তিকর মনে করতেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ مَا كُلُّ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا يَجِدُونَ ثَوْبَيْنِ فَقَالَ إِذَا اغْتَسَلْتَ أَلَسْتَ تَلْبَسُهُ فَذَاكَ بِذَاكَ
বাংলা অনুবাদ
১০৫৯. হামীদ হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যেক সাহাবীর দু’টি করে কাপড় থাকতো না।এবং তিনি বলেন, যখন তুমি যখন গোসল কর, তখন কি (একটিও) কাপড় পরিধান কর না? বরং ঐ ঐ (কাপড় তুমি পরিধান কর)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এটি অন্য কোথাও পাইনি। তবে ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১ এ রয়েছে: হাসান রাহি. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি এবং হায়িযগ্রস্ত মহিলার তার কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে যাওয়া’ -কে আপত্তিকর মনে করতেন না।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّ عَائِشَةَ سُئِلَتْ عَنْ الرَّجُلِ يُصِيبُ الْمَرْأَةَ ثُمَّ يَلْبَسُ الثَّوْبَ فَيَعْرَقُ فِيهِ فَلَمْ تَرَ بِهِ بَأْسًا
বাংলা অনুবাদ
১০৬০. কাসিম ইবনু মুহাম্মদ রাহি. থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার পর পোশাক পরিধান করলো, তারপর এ কাপড়ে সে ঘেমে উঠলো। কিন্তু তিনি (আয়িশা রা:) একে আপত্তিকর মনে করেন নি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১৪৩১; ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১; বাইহাকী ২/৪০৯।
