সুনান আদ-দারিমী
পরিচ্ছেদ ৬১: হাদিস ১,২০১-১,২২০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْحَائِضِ تَنَاوَلُ مِنْ الْمَسْجِدِ الشَّيْءَ قَالَ نَعَمْ إِلَّا الْمُصْحَفَ
বাংলা অনুবাদ
১২০১. আব্দুল মালিক বর্ণনা করেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলা মসজিদ হতে কিছু আনতে পারবে কি-না, এ প্রশ্নের জবাবে আতা রাহি. বলেন, হাঁ, তবে কুরআন ব্যতীত।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০।
আমি বলছি: এর শাহিদ হাদীস হলো আয়িশা রা: কর্তৃক বর্ণিত যা পূর্বে ৭৯৮ (অনূবাদে ৭৯৪) নং এ গত হয়েছে।
‘জুনুবী’ লোকের মসজিদে প্রবেশের ব্যাপারে উলামাগণ মতভেদ করেছেন:
১. এদের মধ্যে রয়েছেন যারা সাধারণভাবে এথেকে নিষেধ করেছেন। এটি মালিক ও তার সাথীদের মত।
২. এবং এদের মধ্যে রয়েছেন, যারা মসজিদ অতিক্রমকারী ব্যতীতে সেখানে অবস্থানকারীদেরকে এ থেকে নিষেধ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে ইমাম শাফিঈ।
৩. সেই সকল উলামা যারা সকলের জন্য একে অনুমতি দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন দাউদ তার সাথীরা, এবং কতক শাফিঈ ফকীহ।
আর ইবনু আব্বাস, আলী, সাঈদ ইবনু যুবাইর, মুজাহিদ, হাসান, হাকাম, এবং ইবনু যাইদ থেকে বর্ণিত, আছে পথচারী তথা মুসাফির জুনুবী হয়ে পানি না পেলে তাকে তায়াম্মুম করতে হবে।
ইবনু মাসউদ হতে মুনকাতি‘ সনদে, ইবনু আব্বাস ‘শক্তিশালী নয়’ এমন সনদে পুর্বে উল্লেখিত হয়েছে, এবং সাঈদ , আবী যুবাইর, ইকরিমাহ ও ইবরাহীম রাহি. হতে বর্ণিত আছে যে, এর অর্থ সালাতের স্থানের তথা মসজিদের নিকটবর্তী না হওয়া, তবে তোমাদের জন্য কেবল সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য (মসজিদ অতিক্রম করার) অনুমতি আছে।...
এ অনুচ্ছেদে হায়িযগ্রস্ত মহিলার সম্পর্কে যে মতভেদ তা হচ্ছে মুলত: জুনুবীর সম্পর্কে মতভেদ।......।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ قَالَ هُوَ الْمُسَافِرُ
বাংলা অনুবাদ
১২০২. মিজলায হতে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী [“আর পথচারী অবস্থায় থাকা ব্যতীত না জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় (সালাতের নিকটবর্তী হয়োনা)।’ (সুরা নিসা ৪: ৪৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: তারা হলেন মুসাফির।[1]
[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ৫/৯৭।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَلْمٌ الْعَلَوِيُّ عَنْ أَنَسٍ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ قَالَ الْجُنُبُ يَجْتَازُ بِالْمَسْجِدِ وَلَا يَجْلِسُ فِيهِ
বাংলা অনুবাদ
১২০৩. সাল্zwnj;ম আল আলাবী হতে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী [“আর পথচারী অবস্থায় থাকা ব্যতীত না জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় (সালাতের নিকটবর্তী হয়োনা)।’ (সুরা নিসা ৪: ৪৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি মসজিদ অতিক্রম করতে পারবে, কিন্তু মসজিদে বসতে পারবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, হাসান ইবনু আবী জা’ফর যঈফ হওয়ার কারণে।
তাখরীজ: বাইহাকী, ২/৪৪৩; দেখুন, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ৫০৯৭।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ وَأَبُو نُعَيْمٍ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ قَالَ الْجُنُبُ يَمُرُّ فِي الْمَسْجِدِ وَلَا يَقْعُدُ فِيهِ ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ
বাংলা অনুবাদ
১২০৪. আব্দুল কারীম আল জাযারী থেকে বর্ণিত, আবী উবাইদাহ বলেন, ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি মসজিদ অতিক্রম করতে পারবে, কিন্তু মসজিদে বসতে পারবে না। তারপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: [“আর পথচারী অবস্থায় থাকা ব্যতীত না জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় (সালাতের নিকটবর্তী হয়োনা)।’[1] (সুরা নিসা ৪: ৪৩)]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৪৬; তাবারী, আত তাফসীর ৫/৯৯।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ وَسَالِمٍ عَنْ سَعِيدٍ قَالَا يَمُرُّ وَلَا يَقْعُدُ فِيهِ
বাংলা অনুবাদ
১২০৫. সাঈদ হতে ইকরিমাহ ও সালিম উভয়ে বলেছেন, সে (মসজিদ) অতিক্রম করতে পারবে, কিন্তু এর মধ্যে বসতে পারবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ৫/৯৯।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كُنَّا نَمْشِي فِي الْمَسْجِدِ وَنَحْنُ جُنُبٌ لَا نَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا
বাংলা অনুবাদ
১২০৬. আবী যুবাইর রাহি. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা জুনুবী অবস্থায় মসজিদ অতিক্রম করতাম। আর আমরা একে দোষণীয় মনে করতাম না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু আবী লাইলা যঈফ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৪৬; বাইহাকী ২/৪৪৩ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। দেখুন, দুররে মানছুর ২/১৬৬।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ فِي عُنُقِهَا التَّعْوِيذُ أَوْ الْكِتَابُ قَالَ إِنْ كَانَ فِي أَدِيمٍ فَلْتَنْزِعْهُ وَإِنْ كَانَ فِي قَصَبَةٍ مُصَاغَةٍ مِنْ فِضَّةٍ فَلَا بَأْسَ إِنْ شَاءَتْ وَضَعَتْ وَإِنْ شَاءَتْ لَمْ تَفْعَلْ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ
বাংলা অনুবাদ
১২০৭. আব্দুল মালিক হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেছেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলার গলায় তা’বীয কিংবা লিখিত কিছু থাকে, আর তা যদি চামড়ায় মোড়া থাকে, তবে তা খুলে ফেলতে হবে। আর তা যদি রূপার তৈরী কোনো গহনা জাতীয় কোনো তা’বীযের মধ্যে থাকে, তবে কোনোই অসুবিধা নেই: ইচ্ছে করলে তা খুলে রাখবে, আবার ইচ্ছে করলে তা নাও খুলতে পারে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আতা পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৭/৩৮ নং ৩৫৯৫; আব্দুর রাযযাক নং ১৩৪৭ সহীহ সনদে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَوْذَبٍ حَدَّثَنَا عَنْ مَطَرٍ قَالَ سَأَلْتُ الْحَسَنَ وَعَطَاءً عَنْ الرَّجُلِ تَكُونُ مَعَهُ امْرَأَتُهُ فِي سَفَرٍ فَتَحِيضُ ثُمَّ تَطْهُرُ وَلَا تَجِدُ الْمَاءَ قَالَا تَتَيَمَّمُ وَتُصَلِّي قَالَ قُلْتُ لَهُمَا يَطَؤُهَا زَوْجُهَا قَالَا نَعَمْ الصَّلَاةُ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ
বাংলা অনুবাদ
১২০৮. মাতার বলেন, আমি হাসান এবং আতা রাহি. কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সফর অবস্থায় এক লোকের সাথে তার স্ত্রী রয়েছে। আর তখন সে মহিলার হায়িয হয়। তারপর সে পবিত্র হয় (স্রাব বন্ধ হয়ে যায়), কিন্তু সে পানি পায় না। (এমতাবস্থায় সে কী করবে?)
তারা উভয়ে বলেছেন: সে তায়াম্মুম করবে এবং সালাত আদায় করবে। তিনি (মাতার) বলেন: আমি তাদের উভয়কে বললাম, তার স্বামী কি তার সাথে সহবাস করবে? তারা উভয়ে বললেন: হাঁ। এর চেয়ে সালাত অনেক বড় মহত কাজ।[1] (তাই সালাত আদায় বৈধ হলে সহবাস তো আরও অধিক বৈধ)।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাসানের হাদীসটির সনদ হাসান।... আতার হাদীসটি যঈফ। আতা হতে মাতার এর বর্ণনা যঈফ।
তাখরীজ: হাসান হতে... ইবনু আবী শাইবা ১/৯৭ মুনকাতি’ সনদে...; বাইহাকী ১/৩১০।
আতার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, ইবনু আবী শাইবা ১/৯৭ যঈফ সনদে; দেখুন বিগত ১১২৭ (অনূবাদ ১১২১) নং হাদীসটি দেখুন।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ وَلَا تَجِدُ الْمَاءَ قَالَ يُصِيبُهَا زَوْجُهَا إِذَا تَيَمَّمَتْ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ تَقُولُ بِهَذَا قَالَ إِي وَاللَّهِ
বাংলা অনুবাদ
১২০৯. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, তিনি আতা হতে, যে মহিলা (হায়িয হতে) পবিত্র (স্রাব বন্ধ) হয়, কিন্তু (গোসলের জন্য) পানি না পায়, এমন মহিলা সম্পর্কে তিনি (আতা) বলেন, যদি সেই মহিলা তায়াম্মুম করে নেয়, তবে তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। ইবনু জুরাইজ মুদাল্লিস তিনি এটি আন’আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৯২৫; আগের টীকাটি দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ فِي اسْتِبْرَاءِ الْأَمَةِ إِنْ لَمْ تَكُنْ تَحِيضُ قَالَ خَمْسَةً وَأَرْبَعِينَ
বাংলা অনুবাদ
১২১০. লাইছ হতে বর্ণিত, ‘হায়িয হয়নি-এমন দাসীর ইসতিবরাআ’ সম্পর্কে তাউস রাহি. বলেন, (তা) পঁয়তাল্লিশ দিন।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এ সনদে লাইছ রয়েছে, (সে যঈফ)।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২২৬ জাইয়্যেদ সনদে।
আর এর শাহিদ হাদীস আলী, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আবী মা’শার, উবাদাহ, ইবনু উমার, হাসান এর হাদীসমূহ। দেখুন, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৫/১৬৬-১৬৭।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ قَالَ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ
বাংলা অনুবাদ
১২১১. খালিদ আল হাজ্জা থেকে বর্ণিত, আবী কিলাবাহ রাহি. বলেন, (তা) তিন মাস।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: বাইহাকী, ৭/৪৫০ সহীহ সনদে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ الرَّجُلِ يَبْتَاعُ الْجَارِيَةَ لَمْ تَبْلُغْ الْمَحِيضَ وَلَا تَحْمِلُ مِثْلُهَا كَمْ يَسْتَبْرِئُهَا قَالَ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ
বাংলা অনুবাদ
১২১২. আওযাঈ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহরী রাহি. কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, একটি লোক একটি দাসী ক্রয় করলো যে এখনো হায়েযে উপনীত হয়নি আর গর্ভধারণের মতো (বয়সও তার) হয়নি। এমতাবস্থায় সেই লোকটি কতদিন তার থেকে সম্পর্কহীন থাকবে? তিনি বললেন: তিন মাস।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি ৯৫৬ (অনূবাদে ৯৫১) নং এ গত হয়েছে।
মূল আরবি
وَقَالَ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ بِخَمْسَةٍ وَأَرْبَعِينَ يَوْمًا
বাংলা অনুবাদ
১২১৩. এবং ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর বলেন, পঁয়তাল্লিশ দিন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি ৯৫৭ (অনূবাদে ৯৫২) নং এ গত হয়েছে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ بِشْرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ بِشَهْرٍ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ بِأَيِّهِمَا تَقُولُ قَالَ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ أَوْثَقُ وَشَهْرٌ يَكْفِي
বাংলা অনুবাদ
১২১৪. ইয়াহইয়া ইবনু বাশার হতে বর্ণিত, ইকরিমাহ বলেন, এক মাস।[1]আব্দুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করা হলো: এতদুভয়ের মধ্যে আপনার মত কোনটি? তিনি বললেন: তিনমাসই অধিকতর শক্তিশালী মত। আর একমাস যথেষ্ট।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ كَمَثَلِ نَهَرٍ جَارٍ عَذْبٍ عَلَى بَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ
বাংলা অনুবাদ
১২১৫. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের উপমা হলো তোমাদের কারোর (বাড়ির) দরজার সামনে দিয়ে প্রবাহিত সুমিষ্ট (পানির) নদীর মতো যাতে সেই ব্যক্তি প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবূ আওয়ানাহ ২/২১; ইবনু হিব্বান নং ১৭২৫; সহীহ মুসলিম ৬৬৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ১৯৪১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৫ এ।
এছাড়াও, বাইহাকী ৩/৬৩।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ مَاذَا تَقُولُونَ ذَلِكَ مُبْقِيًا مِنْ دَرَنِهِ قَالُوا لَا يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ قَالَ كَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا
বাংলা অনুবাদ
১২১৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: “আচ্ছা, বলো তো দেখি, তোমাদের মধ্যকার কারো দরজার সামনে যদি একটি নদী থাকে আর সে ব্যক্তি পাঁচবার তাতে গোসল করে, তবে তোমরা কী বলো, তার (শরীরে) কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকতে পারে কি? তারা বললো, কোনো ময়লাই থাকতে পারে না। তিনি বললেন: “এমনটি-ই হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উপমা, এগুলোর দ্বারা আল্লাহ পাপসমূহ মোচন করে দেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা এতে আব্দুল্লাহ ইবনু সলিহ রয়েছে। কিন্তু হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫২৮; সহীহ মুসলিম ৬৬৭; বাইহাকী ৩/৬২-৬৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৬।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ سَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فِي زَمَنِ الْحَجَّاجِ وَكَانَ يُؤَخِّرُ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ فَقَالَ جَابِرٌ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَالْعَصْرَ وَهِيَ حَيَّةٌ أَوْ نَقِيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ حِينَ تَجِبُ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ رُبَّمَا عَجَّلَ وَرُبَّمَا أَخَّرَ إِذَا اجْتَمَعَ النَّاسُ عَجَّلَ وَإِذَا تَأَخَّرُوا أَخَّرَ وَالصُّبْحَ رُبَّمَا كَانُوا أَوْ كَانَ يُصَلِّيهَا بِغَلَسٍ
বাংলা অনুবাদ
১২১৭. zwj;মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনুল হাসান ইবনু আলী রিদ্বওয়ানুল্লাহি আলাইহিমা বলেন: হাজ্জাজের শাসনামলে আমরা জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, কারণ, সে (হাজ্জাজ) বিলম্বে সালাত আদায় করতো। তখন জাবির রা: বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর সালাত আদায় করতেন, যখন সূর্য হেলে পড়তো; আর আসর সালাত আদায় করতেন আর তখনও সূর্য সজীব থাকতো কিংবা স্বচ্ছ-পরিষ্কার থাকতো; আর মাগরিবের সালাত সূর্য অস্ত যেতেই আদায় করতেন এবং ’ইশার সালাত কখনো সকাল সকাল আদায় করতেন, আবার কখনো দেরীতে আদায় করতেন। যখন লোকেরা সমবেত হতো, তখন তিনি সকাল সকাল আদায় করতেন, আবার যখন লোকেরা দেরীতে আসতো, তখন তিনিও বিলম্বে আদায় করতেন। আর সকালের (ফজরের) সালাত কথনো তারা অথবা তিনি ‘গালাসে’ (রাতের শেষভাগের অন্ধকার অবস্থায়) আদায় করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী-মুসলিমের হাদীস।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৬০; সহীহ মুসলিম ৬৪৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৮ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০২৯, ২০৪৮, ২১০৩ এ।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ بِهَذَا أُمِرْتَ قَالَ اعْلَمْ مَا تُحَدِّثُ يَا عُرْوَةُ أَوَ أَنَّ جِبْرِيلَ أَقَامَ وَقْتَ الصَّلَاةِ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ عُرْوَةُ وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ
বাংলা অনুবাদ
১২১৮. ইবনু শিহাব (যুহুরী) রাহি. হতে বর্ণিত, একদিন উমার ইবনু আব্দুল আযীয রাহি. বিলম্বে সালাত আদায় করলেন। তখন উরওয়া ইবনুয যুবাইর রাহি. তাঁর নিকট প্রবেশ করে তাঁর নিকট বর্ণনা করলেন, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একদিন বিলম্বে সালাত আদায় করলে আবু মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নিকট প্রবেশ করে তাকে বললেন: হে মুগীরাহ, এটা কি হলো? তুমি কি অবগত নও যে, (একদিন) জীবরীল আলাইহি সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট অবতীর্ণ হয়ে সালাত আদায় করলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। অতঃপর জীবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, আমি এজন্য আদিষ্ট হয়েছি।
তখন উমার ইবনু আব্দুল আযীয উরওয়াহকে বললেন: হে উরওয়াহ, তুমি কী বর্ণনা করছো, তা ভালভাবে ভেবে দেখো। জীবরীল আলাইহিস সালাম কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন? উরওয়াহ বললেন, বাশীর ইবনু আবী মাসউদ তাঁর পিতা হতে এরূপই বর্ণনা করে থাকেন।উরওয়াহ বলেন: আয়িশা রা: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যে, সূর্য (রশ্মি) তখনও তার হুজরার মধ্যে থাকতো। তবে তা উপরে দিকে উঠে যাওয়ার পূর্বেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মালিক, ওয়াকুতুস সালাত নং ১১; তার সূত্রে আহমাদ ৫/২৭৪; বুখারী ৫২১; মুসলিম ৬১০ (১৬৭); আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৪৯, ১৪৫০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৬।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ قَالَ وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَدِمَهَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي الْمَدِينَةَ إِنَّمَا يُجْتَمَعُ إِلَيْهِ بِالصَّلَاةِ لِحِينِ مَوَاقِيتِهَا بِغَيْرِ دَعْوَةٍ فَهَمَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَجْعَلَ بُوقًا كَبُوقِ الْيَهُودِ الَّذِينَ يَدْعُونَ بِهِ لِصَلَاتِهِمْ ثُمَّ كَرِهَهُ ثُمَّ أَمَرَ بِالنَّاقُوسِ فَنُحِتَ لِيُضْرَبَ بِهِ لِلْمُسْلِمِينَ إِلَى الصَّلَاةِ فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى ذَلِكَ إِذْ رَأَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ أَخُو بَلْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ طَافَ بِيَ اللَّيْلَةَ طَائِفٌ مَرَّ بِي رَجُلٌ عَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَخْضَرَانِ يَحْمِلُ نَاقُوسًا فِي يَدِهِ فَقُلْتُ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَتَبِيعُ هَذَا النَّاقُوسَ فَقَالَ وَمَا تَصْنَعُ بِهِ قُلْتُ نَدْعُو بِهِ إِلَى الصَّلَاةِ قَالَ أَفَلَا أَدُلُّكَ عَلَى خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ قُلْتُ وَمَا هُوَ قَالَ تَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ غَيْرَ كَثِيرٍ ثُمَّ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ وَجَعَلَهَا وِتْرًا إِلَّا أَنَّهُ قَالَ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَلَمَّا خُبِّرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّهَا لَرُؤْيَا حَقٌّ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقُمْ مَعَ بِلَالٍ فَأَلْقِهَا عَلَيْهِ فَإِنَّهُ أَنْدَى صَوْتًا مِنْكَ فَلَمَّا أَذَّنَ بِلَالٌ سَمِعَهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ فِي بَيْتِهِ فَخَرَجَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَجُرُّ إِزَارَهُ وَهُوَ يَقُولُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ رَأَيْتُ مِثْلَ مَا رَأَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلِلَّهِ الْحَمْدُ فَذَاكَ أَثْبَتُ
বাংলা অনুবাদ
১২১৯. মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে (আবু মুহাম্মদ দারেমী বলেন: তখা মদীনায়) আগমণ করলেন, তখন সালাতের ওয়াক্ত হলে লোকেরা তাঁর নিকট কোনো আহ্বান ছাড়াই তার নিকট সালাতের জন্য একত্রিত হতো। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মনস্থ করলেন যে, ইয়াহুদীরা যেমন শিঙ্গা বাজিয়ে তাদের সালাতের জন্য আহবান করে থাকে, তেমনি একটি শিঙ্গা নির্ধারণ করে দিবেন। তারপর তিনি তা অপছন্দ করলেন। তারপর তিনি একটি ঘন্টা বানানোর নির্দেশ দিলেন, ফলে তা বানানো হলো যাতে তা বাজানোর মাধ্যমে মুসলিমদেরকে সালাতের দিকে আহবান করা যায়। তারা যখন এমন অবস্থায় রয়েছে, তখন আল হারিস ইবনুল খাযরাজ -এর ভাই আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আব্দি রব্বিহ (স্বপ্নে) দেখলেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আগমণ করে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, রাতে আমি বারবার স্বপ্নে দেখলাম যে, দু’টি সবুজ কাপড় পরিহিত এক ব্যক্তি হাতে ‘নাকুস’ (শিঙ্গা) নিয়ে আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছে। তখন আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কি ‘নাকুস’টি বিক্রি করবেন? সে বললো, আপনি এটি দিয়ে কী করবেন?
আমি বললাম, আমি এটি দিয়ে সালাতের জন্য (লোকদেরকে) আহ্বান করবো। তখন সে বললো, আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম (বস্তু) বলে দেবো না? আমি বললাম: সেটা কি? তিনি বললেন, আপনি বলুন: ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ। হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
তারপর সামান্য সময় বিরতি দিয়ে সে তার (আযানের বাক্যগুলোর) অনুরূপ পূণরায় বললো, তবে সেগুলি বিজোড় বানিয়ে (একবার করে) বললো। তবে সে (শেষের দিকে এ বাক্যগুলিও) বললো: ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ ‘ক্বাদ ক্বমাতিস সালাহ’, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।
যখন সে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হলো, তখন তিনি বললেন: “ইনশা আল্লাহ এটি সত্য স্বপ্ন। তাই তুমি উঠে বিলালের সাথে যাও, এবং একথাগুলি তাকে বলে দাও। কেননা, সে তোমার চেয়ে উচ্চ কন্ঠেস্বরের অধিকারী।“ তখন বিলাল আযান দিতে আরম্ভ করলো। আর উমার ইবনু খাত্তাব আযান শুনতে পেলো। তখন সে তখন বাড়িতে ছিলো। ফলে তিনি (বাড়ি থেকে) বেরিয়ে তার ‘ইযার’ (লুঙ্গি) ধরে টানতে টানতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে উপস্থিত হলেন এবং বলতে লাগলেন, ইয়া নবীয়্যাল্লাহ, যে মহান সত্ত্বা আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ! আমিও তার অনুরূপ (স্বপ্ন) দেখেছি, যা সে দেখেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, ফলে এ বিষয়টি অধিকতর শক্তিশালী হলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এটি তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৭৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৮৭ ((আহমদ ৪/৪৩; দারুকুতনী ১/৪১ নং ২৯; বাইহাকী ১/৩৯০-৩৯১, ৪১৫; আবু দাউদ ৪৯৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১/১৯৩ নং ৩৭১; তিরমিযী ১৮৯; ইবনু মাজাহ ৭০৬; আব্দুর রাযযাক ১/৪৬০ নং ১৭৮৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১৩১-১৩২; বাগাবী, শারহুস zwj;সুন্নাহ ২/২৫৭; তিরমিযী, আল ইলাল গ্রন্থে বলেন, এ হাদীস সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল তথা বুখারীকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেন, আমার নিকট এ হাদীস সহীহ।- মুহহাক্বিক্বের তাহক্বীক্বকৃত মাওয়ারিদুয যাম’আন ২৮৭ নং হাদীসের টীকা হতে।- অনুবাদক))
এছাড়া বাইহাকী দালাইলুল নবুওয়াত ৭/১৭-১৮।
মূল আরবি
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنِيهِ سَلَمَةُ قَالَ حَدَّثَنِيهِ ابْنُ إِسْحَقَ قَالَ حَدَّثَنِي هَذَا الْحَدِيثَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ عَنْ أَبِيهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ
বাংলা অনুবাদ
১২২০. মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আব্দি রব্বিহ তার পিতা হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: আগের এবং পরের হাদীসটি দেখুন।
