সুনান আদ-দারিমী
পরিচ্ছেদ ৬৪: হাদিস ১,২৬১-১,২৮০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ أَقِمْ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
বাংলা অনুবাদ
১২৬১. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা, সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে, তবে সে যেনো স্মরণ হওয়ামাত্রই তা আদায় করে নেয়। কেননা, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন: [“আমার স্মরণে সালাত আদায় করো।“][1] সুরা ত্বহা: ১৪
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ তবে হাদীসটি সহীহ বুখারী-মুসলিমের হাদীস।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৯৭; সহীহ মুসলিম ৬৮৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ২৮৫৪, ২৮৫৫, ২৮৫৬; এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৫৫, ১৫৫৬। ((আবু দাউদ ৪৪৩; তিরমিযী ১৭৮, নাসাঈ অনুচ্ছেদ: ৫২: যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভূলে যায়; ইবনু মাজাহ ৬৯৬; আহমাদ ৩/১০০, ২৪৩, ২৬৭, ২৬৯, ২৮২, ৫/২২; মালিক (ইবনু উমারের বক্তব্য হিসেবে) ৭৭।- দারেমী, তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ফাওয়ায আহমদ রমিযলী ও খালিদ সাবিঈ নং ১২২৯ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ يَرْفَعُهُ قَالَ إِنَّ الَّذِي تَفُوتُهُ الصَّلَاةُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ
বাংলা অনুবাদ
১২৬২. ইবনু উমার হতে মারফু’ হিসেবে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে) বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তির সালাত তথা আসরের সালাত ছুটে গেলো, তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেলো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী-মুসলিমের।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৫২; সহীহ মুসলিম ৬২৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৫৪৪৭; এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৬৯। ((‘ইবনু মাজাহ ৬৮৫; আবু দাউদ ৪১৪; তিরমিযী ১৭৫।’- দারেমী, তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ফাওয়ায আহমদ রমিযলী ও খালিদ সাবিঈ নং ১২৩০ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَوَلَدَهُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَوْ مَالَهُ
বাংলা অনুবাদ
১২৬৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তির সালাত তথা আসরের সালাত ছুটে গেলো, তার পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেলো।“[1] আবু মুহাম্মদ বলেন, ‘অথবা, তার ধন-সম্পদ’।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটিরই পুনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ مَلَأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ نَارًا كَمَا حَبَسُونَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ
বাংলা অনুবাদ
১২৬৪. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন বলেছিলেন: “আল্লাহ তাদের কবরসমূহ ও তাদের ঘর-বাড়িগুলিকে আগুনে পরিপূর্ণ করে দিন, যেভাবে তারা আমাদের মধ্যবর্তী সালাত আদায় হতে বিরত রেখেছে, এমনকি সুর্য অস্ত গেলো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৯৩১; সহীহ মুসলিম ৬২৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৩৮৫ হতে ৩৯৩ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৪৫।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ أَوْ قَالَ جَابِرٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ إِلَّا تَرْكُ الصَّلَاةِ قَالَ لِي أَبُو مُحَمَّد الْعَبْدُ إِذَا تَرَكَهَا مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ وَعِلَّةٍ وَلَا بُدَّ مِنْ أَنْ يُقَالَ بِهِ كُفْرٌ وَلَمْ يَصِفْ بِالْكُفْرِ
বাংলা অনুবাদ
১২৬৫. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বান্দা ও শিরক-কুফরের মাঝে সালাত পরিত্যাগ করা ব্যতীত আর কিছুই (প্রতিবন্ধকতা) নেই।“[1] আবু মুহাম্মদ বলেন, বান্দা যখন ওযর ও কারণ ছাড়া তখন একে একথা বলা ব্যতীত গত্যন্তর নেই যে, তা কুফর, কিন্তু তাকে কাফির নামে আখ্যায়িত করা যাবে না।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাকরীজ: সহীহ মুসলিম ৮২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ১৭৮৩ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৫৩। ((তিরমিযী ২৬১৮, ২৬১৯; বাইহাকী ৩/৩৬৬; আহমাদ ৩/৩৭০; ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৪; তাবারাণী, আস সগীর ২/১৪; ইবনু মানদাহ, আল ঈমান ২১৮, ২১৯। - আল ইহসান, (তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আরনাউত্বে) নং ১৪৫৩ হতে।- অনুবাদক))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ بَيْنَمَا النَّاسُ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ فِي قُبَاءٍ جَاءَهُمْ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ وَأُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبِلُوهَا وَكَانَ وُجُوهُ النَّاسِ إِلَى الشَّامِ فَاسْتَدَارُوا فَوَجَّهُوا إِلَى الْكَعْبَةِ
বাংলা অনুবাদ
১২৬৬. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা লোকেরা ‘কু’বা’ নামক স্থানে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাদের নিকট এসে বললো, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর কুরআন নাযিল হয়েছে; এবং তাঁকে নির্দেশ দান করা হয়েছে যেন তিনি (সালাতের সময়) কা’বা অভিমুখী হন। সুতরাং তোমরাও সেদিকে মুখ ফিরাও। তখন তাদের চেহারা ছিল শামের (বায়তুল মাকদিস) দিকে, ফলে তারা ঘুরে গিয়ে কাবা’র অভিমুখী হলো।[1]
[1] তহাক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৪০৩, ৪৪৯২; সহীহ মুসলিম ৫২৬। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭১৫, ১৭১৭।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الَّذِينَ مَاتُوا وَهُمْ يُصَلُّونَ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ
বাংলা অনুবাদ
১২৬৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহ আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! যারা ইতোমধ্যে মৃত্যু বরণ করেছে আর তারা ‘বাইতুল মাকদিস’ এর অভিমুখী হয়ে সালাত আদায় করতো। এদের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: [“নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন নন, যে তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করেন।“[1] (সুরা বাকারা: ১৪৩)]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে এর শাহিদ হাদীস বারা’আ (রা:) হতে সহীহ বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। ((ফলে এ হাদীসটি সহীহ লিগয়রিহী-অনুবাদক))
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭১৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭১৮ এ। আর বারা’আ রা: হতে এর শাহিদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, সহীহ zwj;বুখারী ৪০; সহীহ মুসলিম ৫২৫; আর এটির তাখরীজ করেছি ইবনু হিব্বান নং ১৭১৬ এ।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ حَدَّثَنَا بُدَيْلٌ الْعُقَيْلِيُّ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْتَتِحُ الصَّلَاةَ بِالتَّكْبِيرِ وَيَفْتَتِحُ الْقِرَاءَةَ بِالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَيَخْتِمُهَا بِالتَّسْلِيمِ
বাংলা অনুবাদ
১২৬৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত শুরু করতেন ‘তাকবীর’ (আল্লাহু আকবার) দ্বারা এবং তিনি ক্বিরা’আত শুরু করতেন “আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন“ (ফাতিহা: ১) পাঠের দ্বারা এবং তা (সালাত) সমাপ্ত করতেন সালাম দ্বারা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কারণ জা’ফর ইবনু আউন ইবনু আবু আরুবাহ হতে শ্রবণ করা হতে পিছিয়ে। তবে হাদীসটি সহীহ- বুখারী ও মুসলিমের।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৪৩; সহীহ মুসলিম ৩৯৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ২৮৮১, ২৯৮০ হতে ২৯৮৫ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৯৮, ১৭৯৯, ১৮০০, ১৮০২, ১৮০৩, এবং আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৩৩ এর টীকা দু’টি।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَقُومُ إِلَى الصَّلَاةِ إِلَّا رَفَعَ يَدَيْهِ مَدًّا
বাংলা অনুবাদ
১২৬৯. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই সালাতে দাঁড়াতেন, তখনই তাঁর উভয় হাত প্রসারিত করে উত্তোলণ করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৬৯, ১৭৭৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৬; আমরা সেখানে টীকা দিয়েছি প্রয়োজনে দেখে নিন। আরও দেখুন, দারুকুতনী ১/২৯৭-২৯৮। ((আহমাদ ২/৩৭৫ নং ৮৮৬৩, ২/৪৩৪ নং ৯৬০৬, ২/৫০০ নং ১০৪৯৬; নাসাঈ ৮৮৩; ইবনু খুযাইমা নং ৪৫৯, ৪৬০, ৪৭৩; তিরমিযী ২৪০; তায়ালিসী ২৩৭৪; বাইহাকী ২/২৭; হাকিম ১/২৩৪; ইবনু হিব্বান (আল ইহসান অনুযায়ী) নং ১৭৭৭।- ফাতহুল মান্নান নং ১৩৪৯ এর টীকা হতে- অনুবাদক))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَمِّهْ الْمَاجِشُونَ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ كَبَّرَ ثُمَّ قَالَ وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنْ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
বাংলা অনুবাদ
১২৭০. আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন, এরপর বলতেন: ‘আমি আমার মুখমণ্ডলকে যিনি আসমানসমূ ও ভূ-মণ্ডল সৃষিট করেছেন, তাঁর দিকে ঐকান্তিকভাবে আত্মসমর্পণ করার উদ্দেশ্যে ফিরিয়েছি, আর আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নিই। নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সকল কিছুই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য । যাঁর কোনো শরীক নাই-আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই সর্বপ্রথম মুসলিম। হে আল্লাহ! আপনিই প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি আমার প্রভু। আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের উপর জুলুম করেছি, আমি আমার অপরাধের ব্যাপারে অনুতপ্ত। আপনি আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনি ব্যতীত কেউ অপরাধ কেউ ক্ষমা করতে পারে না। আপনি আমাকে উত্তম আখলাকের দিকে পরিচালিত করুন। আপনি ব্যতীত অন্য কেউ সুন্দর চরিত্রের পথ দেখাতে পারে না। আপনি আমার চরিত্র থেকে অসত স্বভাবগুলি দূর করুন। আপনি ব্যতীত অন্য কেউ চরিত্রের অসদগণাবলী দূর করতে পারে না। আমি আপনার সমীপে হাযির আছি। সকল কল্যাণ আপনারই হাতের মুঠোয়, কোনো অকল্যাণ আপনার নিকট পৌঁছতে পারে না। আমি আপনার কাছে এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী, আপনি কতই না বরকতময়। আপনি মহান। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তাওবা করছি।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৫, ৫৭৪, ৫৭৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৭১, ১৭৭২, ১৭৭৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৫; ((সহীহ মুসলিম ৭৭১; আহমাদ ১/১০২ নং ৮০৩; ইবনু হিব্বান ১৭৭৩; তায়ালিসী ১৫২; তিরমিযী ২৬৬, ৩৪২২; বাইহাকী, আল কুবার ২/৩২; তাহাবী শারহু মুশকিলিল আছার ১/৪৮৮; আবী আওয়ানাহ, মুসতাখরীজ ২/১০০; নাসাঈ ৮৯৭; আবু দাউদ ৭৬০; ইবনু আবী শাইবা ১/২৩১; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা ১৭৯; zwj;দারুকুতনী ১/২৯৬; তাবারাণী, ২/১০২৬... - ফাতহুল মান্নান ১৩৫০ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنْ اللَّيْلِ فَكَبَّرَ قَالَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْثِهِ وَنَفْخِهِ ثُمَّ يَسْتَفْتِحُ صَلَاتَهُ قَالَ جَعْفَرٌ وَفَسَّرَهُ مَطَرٌ هَمْزُهُ الْمُوتَةُ وَنَفْثُهُ الشِّعْرُ وَنَفْخُهُ الْكِبْرُ
বাংলা অনুবাদ
১২৭১. আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাতে সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াতেন, তখন তিনি তাকবীর দিয়ে বলতেন: “হে আল্লাহ! মহা পবিত্র আপনি, প্রশংসা আপনারই। আপনার নাম কতই না বরকতময়, আর আপনার মর্যাদা অতি উচ্চ আর আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
বিতাড়িত শয়তান, তার কু-মন্ত্রণা, কুপ্রভাব ও কুপ্ররোচনা থেকে সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।“ জা’ফর বলেন: মাতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘হামযুহু’ (কুমন্ত্রণা) অর্থ: শয়তানী; ‘নাফছুহু’ (কুপ্রভাব) অর্থ: (অশ্লীল) কবিতা; ‘নাফখুহ’ (কুপ্ররোচনা) অর্থ: তার অহমিকা (উন্মত্ততা)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১০৮; এছাড়া, দারুকুতনী ১/২৯৮ নং ৪; বাইহাকী ২/৩৫; ইবনু আবী শাইবা ১/২৩২; সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ৪৬৭। ((আহমাদ ৩/৫০; আবু দাউদ , ৭৬৪, ৭৭৫; তিরমিযী ২৪২; নাসাঈ ৪/১৩২; ইবনু মাজাহ ৮০৪, ৪১৭৬; ইবনু হিব্বান ৩২৪৫ - মুহাক্বিক্বের মুসনাদুল মাওসিলীর ১১০৮ এর টীকা হতে। - অনুবাদক))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد بِهَذَا نَقُولُ وَلَا أَرَى الْجَهْرَ بِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
বাংলা অনুবাদ
১২৭২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবু বাকর, উমার ও উছমান কিরা’আত শুরু করতেন ‘‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন।’’ (ফাতিহা: ১) এর দ্বারা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৪৩; সহীহ মুসলিম ৩৯৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৮১; ইবনু হিব্বান নং ১৭৯৮-১৮০০; মুসনাদুল হুমাইদী ১২৩৩ এ।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى قَرِيبًا مِنْ الرُّسْغِ
বাংলা অনুবাদ
১২৭৩. আব্দুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল এর পিতা (ওয়াইল ইবনু হুজর রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ডান বাম হাতের কবজির কাছাকাছি স্থানে রাখতে দেখেছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪০১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবনু হিব্বান নং ১৮০৫; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৭।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَا صَلَاةَ لَهُ
বাংলা অনুবাদ
১২৭৪. উবাদাহ ইবনু ছামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি (সালাতে) উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পাঠ করল না, তার সালাত হলো না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৭৫৬; সহীহ মুসলিম ৩৯৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবনু হিব্বান নং ১৭৮২, ১৭৮৫, ১৭৯২, ১৮৪৮।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْكُتُ سَكْتَتَيْنِ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ وَإِذَا فَرَغَ مِنْ الْقِرَاءَةِ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ فَكَتَبُوا إِلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ أَنْ قَدْ صَدَقَ سَمُرَةُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد كَانَ قَتَادَةُ يَقُولُ ثَلَاثُ سَكَتَاتٍ وَفِي الْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ سَكْتَتَانِ
বাংলা অনুবাদ
১২৭৫. সামুরাহ বিন জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালাতে) দু’ দু’বার চুপ থাকতেন: যখন সালাতে প্রবেশ (শুরু) করতেন এবং যখন কিরা’আত পাঠ শেষ করতেন। ’ইমরাণ ইবনু হুসাইন একথা অস্বীকার করলে তারা উবাই ইবনু কা’ব রা: এর নিকট (ব্যাপারটি) লিখে পাঠালো। জবাবে তিনি তাদেরকে লিখে পাঠালেন যে, সামুরাহ সত্যই বলেছেন।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: কাতাদা তিনবার চুপ থাকার কথা বলতেন এবং মারফু’ হাদীসে রয়েছে দু’বার চুপ থাকার কথা।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে সামুরাহ হতে হাসানের শ্রবণ করার বিষয়ে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে কি-না তা আল্লাহই ভাল জানেন। তবে আমার নিকট অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত হলো, তিনি তাঁর নিকট কিছু শোনেননি। দেখুন, মু’জামুশ শুয়ূখুল মাউসিলী হাদীস নং ২০২, মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২৬৪১ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন এর এ সনদের উপর আমার টীকাগুলি দেখুন।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবনু হিব্বান নং ১৮০৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৮।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْكُتُ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ إِسْكَاتَةً حَسِبْتُهُ قَالَ هُنَيَّةً فَقُلْتُ لَهُ بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِسْكَاتَتَكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ مَا تَقُولُ قَالَ أَقُولُ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنْ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ
বাংলা অনুবাদ
১২৭৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালাতে) তাকবীর ও কিরা’আতের মাঝে একবার চুপ থাকতেন- বলে আমার ধারণা। তিনি বলেন, (সেটি ছিল) ক্ষণিকের জন্য।
তখন আমি তাঁকে বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাকবীর ও কিরা’আতের মাঝে আপনার চুপ থাকার ব্যাপারটি কী? আপনি তখন কী পাঠ করে থাকেন?তিনি বললেন: “আমি এ সময় পাঠ করি: ‘হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহসমূহের মাঝে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ! আমাকে আমার গুনাহ হতে পবিত্র করুন যেমনভাবে সাদা কাপড় ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহ সমূহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দিন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৪৪; সহীহ মুসলিম ৫৯৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৮১, ৬০৯৭, ৬১০৯; ইবনু হিব্বান নং ১৭৭৬, ১৭৭৮।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَالَ الْقَارِئُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقَالَ مَنْ خَلْفَهُ آمِينَ فَوَافَقَ ذَلِكَ أَهْلَ السَّمَاءِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
বাংলা অনুবাদ
১২৭৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন কিরা’আতকারী (ইমাম) পাঠ করেন, [“গয়রিল মাগদ্বূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দ্ব-ল্লীন।“ (ফাতিহা: ৭)] আর তার পেছনের কোনো ব্যক্তি ‘আমীন’ বলেন এবং এটি আসমানবাসীদের সাথে মিলে যায়, তবে তার পিছনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, মুহাম্মদ ইবনু আমরের কারণে। কিন্তু হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৮২; সহীহ মুসলিম ৪১০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৭৪; ইবনু হিব্বান নং ১৮০৪। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا قَالَ الْإِمَامُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَقُولُ آمِينَ وَإِنَّ الْإِمَامَ يَقُولُ آمِينَ فَمَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
বাংলা অনুবাদ
১২৭৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ইমাম যখন পাঠ করেন, [“গয়রিল মাগদ্বূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দ্ব-ল্লীন।“ (ফাতিহা: ৭)] তখন তোমরা বলো, ‘আমীন’ । কেননা, ফিরিশতাগণও বলেন, ‘আমীন’ এবং ইমামও বলেন, ‘আমীন’। আর যার ‘আমীন’ বলা ফিরিশতাগণের ‘আমীন’ বলার সাথে মিলে যায়, তার পিছনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ حُجْرِ بْنِ الْعَنْبَسِ عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَرَأَ وَلَا الضَّالِّينَ قَالَ آمِينَ وَيَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ
বাংলা অনুবাদ
১২৭৯. ওয়ায়িল ইবনু হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করলেন, [“ওয়ালাদ্দ্ব-ল্লীন।“ (ফাতিহা: ৭)] তখন বললেন, “আমীন“। আর এতে তিনি তাঁর কন্ঠস্বর উচ্চ করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজ দেখুন, মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৭। ((আহমাদ ৪/৩১৬, ৩১৭; আবু দাউদ ৯৩২; তিরমিযী ৩৪৮; বাইহাকী ২/৫৭, ৫৮; তাবারাণী, আল কাবীর ২২/৪৪ নং ১১১; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৩/২৬৩; দারুকুতনী ১/৩৩৩-৩৩৪ নং ১, ২, ৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩/৫৮ নং ৫৮৬ সহীহ সনদে। একে সহীহ বলেছেন দারুকুতনী, হাসান বলেছেন তিরমিযী ও বাগাবী।
অপর সনদে আবু দাউদ ৯৩৩, তিরমিযী ২৪৮, ২৪৯। তিরমিযী (২৪৮ নং এর পরে) বলেন: আমি মুহাম্মদ তথা ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি: এ ব্যাপারে সুফিয়ানের হাদীস শু’বার হাদীস হতে অধিক সহীহ। শু’বাহ এ হাদীসের কয়েকটি স্থানে ভূল করেছেন।....“ তিরমিযীও (২৪৯ নং এ) একই কথা বলেছেন।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আনের ৪৪৭ নং এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُمَا صَلَّيَا خَلْفَ أَبِي هُرَيْرَةَ فَلَمَّا رَكَعَ كَبَّرَ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ثُمَّ قَالَ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ثُمَّ سَجَدَ وَكَبَّرَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَكَبَّرَ ثُمَّ كَبَّرَ حِينَ قَامَ مِنْ الرَّكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَقْرَبُكُمْ شَبَهًا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا زَالَ هَذِهِ صَلَاتُهُ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا
বাংলা অনুবাদ
১২৮০. আবী বাকর ইবনু আব্দুর রহমান ও আবী সালামাহ রাহি. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তারা দু’জন আবী হুরাইরা রা: এর পিছনে সালাত আদায় করলেন। তিনি রুকু’ করার সময় তাকবীর বললেন, আবার যখন (রুকু’ হতে) মাথা উঠালেন তখন ‘সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বললেন, অতঃপর ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ বললেন। তারপর তিনি সাজদা করার সময় তাকবীর বললেন, এরপর (সিজদাহ হতে) মাথা উঠানোর সময়ও তাকবীর বললেন। আবার যখন দ্বিতীয় রাকা’আত (শেষে) উঠে দাঁড়ালেন, তখনও তাকবীর বললেন। (এভাবে সালাত শেষ করে) তারপর তিনি বললেন, সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের চেয়ে আমার (সালাত) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (সালাতের) সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণের আগ পর্যন্ত তাঁর সালাত এরূপই ছিল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি সহীহ বুখারী মুসলিমের।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৮৫; সহীহ মুসলিম ৩৯২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৪৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৬৬, ১৭৬৭, ১৭৯৭।
