সুনান আদ-দারিমী
পরিচ্ছেদ ৭১: হাদিস ১,৪০১-১,৪২০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نَابَكُمْ فِي صَلَاتِكُمْ شَيْءٌ فَلْيُسَبِّحْ الرِّجَالُ وَلْتُصَفِّحْ النِّسَاءُ
বাংলা অনুবাদ
১৪০১. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ zwj;আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ যখন তোমাদের সালাতে মধ্যে হঠাৎ কোনো কিছু ঘটে, তখন পুরুষরা যেন ‘তাসবীহ’ (সুবহানাল্লাহ) বলে এবং নারীরা হাত তালি দেয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৬৮৪; মুসলিম ৪২১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫১৩, ৭৫১৭, ৭৫২৪, ৭৫৪৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৬০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৫৬ এ। মুসনাদুল মাউসিলী এ হাদীসটির উপর আমাদের টীকাটি দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيُّ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
বাংলা অনুবাদ
১৪০২. (অপর সনদে) সাহল ইবনু সা’দ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي النَّضْرِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَلَيْكُمْ بِالصَّلَاةِ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ خَيْرَ صَلَاةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلَّا الْجَمَاعَةَ
বাংলা অনুবাদ
১৪০৩. যাইদ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কর্তব্য হলো তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করা। কেননা, কোনো লোকের সর্বোত্তম সালাত হলো তাই যা সে তার ঘরে আদায় করে, তবে জামা’আত (তথা ফরয সালাত[1]) ব্যতীত।“[2]
[1]((সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এটি রয়েছে।- অনুবাদক))
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৭৩১; মুসলিম ৭৮১। আমরা সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৯১ এ এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ يَزِيدَ بْنِ الْأَسْوَدِ السُّوَائِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ قَالَ فَإِذَا رَجُلَانِ حِينَ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدَانِ فِي نَاحِيَةٍ لَمْ يُصَلِّيَا قَالَ فَدَعَا بِهِمَا فَجِيءَ بِهِمَا تُرْعَدُ فَرَائِصُهُمَا قَالَ مَا مَنَعَكُمَا أَنْ تُصَلِّيَا قَالَا صَلَّيْنَا فِي رِحَالِنَا قَالَ فَلَا تَفْعَلَا إِذَا صَلَّيْتُمَا فِي رِحَالِكُمَا ثُمَّ أَدْرَكْتُمَا الْإِمَامَ فَصَلِّيَا فَإِنَّهَا لَكُمَا نَافِلَةٌ قَالَ فَقَامَ النَّاسُ يَأْخُذُونَ بِيَدِهِ يَمْسَحُونَ بِهَا وُجُوهَهُمْ قَالَ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ فَمَسَحْتُ بِهَا وَجْهِي فَإِذَا هِيَ أَبْرَدُ مِنْ الثَّلْجِ وَأَطْيَبُ رِيحًا مِنْ الْمِسْكِ
বাংলা অনুবাদ
১৪০৪. ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ আস সাওয়াঈ হতে বর্ণিত, তিনি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত আদায়ের সময় দু’ ব্যক্তি সালাত আদায় না করে (মসজিদের) এক প্রান্তে বসে রইলো। তিনি বলেন, ফলে তাদের দু’জনকে ডেকে আনা হলো। তখন তারা দু’জন ভীষণ ভয়ে কঁম্পমান অবস্থায় হাযির হলো। অতঃপর তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: “আমাদের সাথে সালাত আদায় করতে কিসে তোমাদেরকে বাধা দিয়েছে?“ তারা বললো, আমরা আমাদের ঘরে সালাত আদায় করে এসেছি। তিনি বললেন: “তোমরা এইরূপ করো না। বরং যখন তোমরা তোমাদের বাড়ীতে সালাত আদায় করবে তারপর ইমামের সাথে (জামা’আত) পাবে, তখন তোমরা (তার সাথে) পূনরায় সালাত আদায় করবে, তাহলে তা তোমাদের জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।“
তিনি বলেন, তখন লোকেরা দাঁড়িয়ে গেলো এবং তাঁর হাত ধরে তা তাদের মুখমণ্ডলে মাসেহ করতে লাগলো।তিনি বলেন, তখন আমিও তাঁর হাত ধরে তা দিয়ে আমার মুখমণ্ডল মাসেহ করলাম। (তখন দেখলাম) তা ছিল বরফের চেয়েও শীতল, আর মিসকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৬৪, ২৩৯৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৪, ৪৩৫ তে। ((আহমাদ ৪/১৬০; তিরমিযী ২১৯; নাসাঈ ৮৫৯; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ ১২৭৯; দারুকুতনী ১/৪১৩; বাইহাকী ২/৩০১; তায়ালিসী ১/১৩৭ নং ৬৫৬; আবু দাউদ ৫৭৫, ৫৭৬; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আসার ১/৩৬৩; আব্দুর রাযযাক ২/৪২১ নং ৩৯৩৪; তাবারাণী ২২/২৩২-২৩৫; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৯/৯৮; হাকিম একে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন...।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৪ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَسْوَدُ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلًا يُصَلِّي وَحْدَهُ فَقَالَ أَلَا رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّي مَعَهُ
বাংলা অনুবাদ
১৪০৫. আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে একজন একাকী সালাত আদায় করছে। তখন তিনি বললেন: “এমন কেউ কি নেই, যে এ লোকটিকে সাদাকা করবে, তথা এর সাথে সালাত আদায় করবে?[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৫৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৬ তে। ((আহমাদ ৩/৬৪; বাইহাকী ৩/৬৯; আবু দাউদ ৫৭৪; হাকিম ১/২০৯; হাকিম একে সহীহ বলেছেন আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।; তিরমিযী ২২০ ...।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৬ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَسْوَدُ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَجُلًا دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَلَا رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّي مَعَهُ قَالَ عَبْد اللَّهِ يُصَلِّي صَلَاةَ الْعَصْرِ وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ وَلَكِنْ يَشْفَعُ
বাংলা অনুবাদ
১৪০৬. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মসজিদে এমন সময় প্রবেশ করলো, ততক্ষণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করে নিয়েছেন। তখন তিনি বললেন: “এমন কেউ কি নাই, যে এ লোকটিকে সাদাকা করবে, তথা এর সাথে সালাত আদায় করবে?“[1] আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি আসর সালাত আদায় করতেন এবং মাগরিবের সালাত আদায় করতেন, তবে (সে দু’টিকে) একত্রে আদায় করতেন।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৯৮, ২৩৯৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৭, ৪৩৮ তে। আগের টীকাটি দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُصَلِّي الرَّجُلُ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ قَالَ أَوَ كُلُّكُمْ يَجِدُ ثَوْبَيْنِ أَوْ لِكُلِّكُمْ ثَوْبَانِ
বাংলা অনুবাদ
১৪০৭. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কোনো লোক একটি মাত্র কাপড় পরে সালাত আদায় করতে পারবে কি? তিনি বললেন: “তোমাদের প্রত্যেকেরই দু’টি করে কাপড়ের সংস্থান আছে কি? অথবা, তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই দু’টি করে কাপড় আছে কি?“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ্।
তাখরীজ: বুখারী ৩৫৮; মুসলিম ৫১৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৮৩ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৯৫, ২২৯৬, ২২৯৮; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৬৬।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى وَمُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُصَلِّيَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى عَاتِقِهِ مِنْهُ شَيْءٌ
বাংলা অনুবাদ
১৪০৮. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যেন এক কাপড় পরা অবস্থায় সালাত আদায় না করে, যখন তার (কাপড়ের) কিছু অংশ তার দু’কাঁধে না থাকে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৩৫৯; মুসলিম ৫১৬। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৬২, ৬৩৫৩ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩০৩, ২৩০৪; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৯৪।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ لِبْسَتَيْنِ أَنْ يَحْتَبِيَ أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ بَيْنَ فَرْجِهِ وَبَيْنَ السَّمَاءِ شَيْءٌ وَعَنْ الصَّمَّاءِ اشْتِمَالِ الْيَهُودِ
বাংলা অনুবাদ
১৪০৯. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ভাবে কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন: ১. তোমাদেরকে এক কাপড়ে ‘ইহতিবা’ করা (এমনভাবে পেঁচিয়ে বসতে) যাতে তার লজ্জাস্থানের ও আসমানের মাঝে (কাপড়ের) কোনো অংশ না থাকে এবং ইয়াহুদীদের কাপড় জড়ানোর ন্যায় ‘সাম্মা’ করা হতে।[1]
‘সাম্মা’ : হাফিজ ফাতহুল বারীতে বলেছেন: ‘ব্যাকরণ বিদগণ বলেছেন, তা হলো এমনভাবে কাপড় দিয়ে শরীরকে আবৃত করা, যাতে তা থেকে পার্শ্বদেশকে উঠানো যায় না এবং হাত উত্তোলন করার অবকাশ থাকে না।...
ইমাম নববী বলেন, অভিধানবিদদের ব্যাখ্যা অনুসারে এটি মাকরূহ হবে। কেননা, কোনো কারণে হাত বের করা প্রয়োজন হলে হাত বের করা খুব কষ্টকর হবে, ফলে তার ক্ষতি হতে পারে।’
-----
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৩৬৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১২৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৯০, ৫৪২৬ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وَأَبُو الْوَلِيدِ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ عَنْ مَيْمُونَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ
বাংলা অনুবাদ
১৪১০. মাইমূনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (কাপড় কিংবা খেজুর পাতা দ্বারা বুনানো) মাদুরের উপর সালাত আদায় করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। বুখারী ও মুসলিম যৌথভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী ৩৩৩; মুসলিম ৫১৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৯০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩১৩ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَا حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى عَلَى حَصِيرٍ
বাংলা অনুবাদ
১৪১১. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদুর (বা চাটাইয়ের) উপর সালাত আদায় করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি ১৩২৪ (অনূবাদে ১৩২১) নং এ গত হয়েছে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ أَنَّهُ سَأَلَ أُمَّ حَبِيبَةَ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الَّذِي يُضَاجِعُكِ فِيهِ قَالَتْ نَعَمْ إِذَا لَمْ يَرَ فِيهِ أَذًى
বাংলা অনুবাদ
১৪১২. মুয়া’বিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি (উম্মুল মু’মিনীন) উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি এমন কাপড়ে সালাত আদায় করতেন যে কাপড়ে তিনি আপনার সাথে শয়ন করতেন? তিনি বললেন, হাঁ, যদি তাতে কোনো নাপাকী না দেখতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এটি মুনকাতি বা বিচ্ছিন্ন।
তাখরীজ: পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ أُخْتِهِ أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ سَأَلَهَا هَلْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الَّذِي يُجَامِعُهَا فِيهِ قَالَتْ نَعَمْ إِذَا لَمْ يَرَ فِيهِ أَذًى
বাংলা অনুবাদ
১৪১৩. মুয়া’বিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি তার বোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি এমন কাপড়ে সালাত আদায় করতেন যে কাপড় পরে তিনি আপনার সাথে মিলিত হতেন? তিনি বললেন, হাঁ, যদি তাতে কোনো নাপাকী না দেখতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১২৬, ৭১৪০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৩১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৭ ও zwj; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২২৩৯ (আমার তাহক্বীক্বকৃত) তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ هُوَ سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ الْأَزْدِيُّ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي نَعْلَيْهِ قَالَ نَعَمْ
বাংলা অনুবাদ
১৪১৪. আবী মাসলামাহ সাঈদ ইবনু ইয়াযীদ আল আযদী হতে বর্ণিত, আমি আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি জুতা পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হাঁ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৩৮৬; মুসলিম ৫৫৫। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯১২, ৩৬৬৭, ৪৩৪২ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ وَأَبُو النُّعْمَانِ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي نَعَامَةَ السَّعْدِيِّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ إِذْ خَلَعَ نَعْلَيْهِ فَوَضَعَهُمَا عَنْ يَسَارِهِ فَخَلَعُوا نِعَالَهُمْ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَالَ مَا حَمَلَكُمْ عَلَى إِلْقَائِكُمْ نِعَالَكُمْ قَالُوا رَأَيْنَاكَ خَلَعْتَ فَخَلَعْنَا قَالَ إِنَّ جِبْرِيلَ أَتَانِي أَوْ آتٍ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ فِيهِمَا أَذًى أَوْ قَذَرًا فَإِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيُقَلِّبْ نَعْلَيْهِ فَإِنْ رَأَى فِيهِمَا أَذًى فَلْيُمِطْ وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا
বাংলা অনুবাদ
১৪১৫. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর জুতা জোড়া খুলে বাম পাষে রাখলেন। ফলে তাঁরাও তাদের জুতা খুলে বাম পাশে রাখলো। এরপর তিনি সালাত শেষ করে বললেন: “কোন্ জিনিস তোমাদের জুতা খুলতে উদ্বুদ্ধ করলো?“ তারা বললো, আমরা আপনাকে জুতা খুলতে দেখলাম, তাই আমরাও জুতা খুলেছি। তিনি বললেন: “জীবরীল আমার নিকট এসে- কিংবা এসে আমাকে খবর দিলেন যে, ও দু’টিতে অপবিত্র বস্তু কিংবা ময়লা রয়েছে। তাই যখন তোমাদের কেউ মসজিতে আসে, তখন সে যেন তার জুতা উল্টিয়ে (দেখে) নেয়, আর যদি তাতে কোন ময়লা লক্ষ্য করে, তবে সে যেন জুতা জোড়া (মাটির উপর লম্বা করে) ঘষে নেয়, অতঃপর (পরিষ্কার হয়ে গেলে) তা পরে সালাত আদায় করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৯৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৮৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৬০ তে। ((ইবনু খুযাইমাহ ২/১০৭ নং ১০১৭; তায়ালিসী ১/৮৪ নং ৩৬০; ইবনু আবী শাইবা ২/৪১৭; আহমাদ ৩/২০, ৯২; আবু দাউদ ৬৫০; বাইহাকী ২/৪৩১; আব্দুর রাযযাক ১/৩৮৮ নং ১৫১৬; হাকিম ১/২৬০ তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থনে করেছেন। ... মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন ৩৬০ নং এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
মূল আরবি
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ عِسْلٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ كَرِهَ السَّدْلَ وَرَفَعَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
বাংলা অনুবাদ
১৪১৬. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহু হতে বর্ণিত, তিনি ‘সাদল’ করা অপছন্দ করতেন।’ আর একে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন (মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন)।[1]
সাদল: বলা হয়ে থাকে, তা হলো, ইযার বা লুঙ্গির মধ্যস্থানটি মাথায় স্থাপন করা এবং ডান ও বাম হতে এর কোন অংশ উভয় পাশ কাঁধে না রাখা।
খাত্তাবী ‘মা’আলিমুস zwj;সুনান’ ১/১৭৯ এ বলেন: কোনো লোকের মাটি পর্যন্ত প্রলম্বিত করে কাপড় পরিধান করা।
-
[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। সাঈদ ইবনু আমির সাঈদ ইবনু আবী আরীবাহ থেকে হাদীস শ্রবণ করা হতে পিছিয়ে রয়েছে এবং আসাল ইবনু সুফিয়ান যঈফ। তবে হাদীসটি হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৮৯, ২৩৫৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৭৮, ৪৭৯ টীকাতে। ((আবু দাউদ ৬৪৩; বাগাবী, শারহুস zwj;সুন্নাহ ২/৪২৬ নং ৫১৯; ইবনু খুযাইমাহ ১/৩৭৯ নং ৭৭২; বাইহাকী ২/২৪২; হাকিম ১/২৫৩ তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।... মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন ৪৭৮ নং এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مِخْوَلٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا سَاجِدٌ وَقَدْ عَقَصْتُ شَعْرِي أَوْ قَالَ عَقَدْتُ فَأَطْلَقَهُ
বাংলা অনুবাদ
১৪১৭. আবী রাফি’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে সাজদারত অবস্থায় দেখতে পেলেন, আর তখন আমি চুলে বেণী বা খোঁপা বেঁধে রেখেছিলাম- অথবা, তিনি বলেন, আমি চুল বেঁধে রেখেছিলাম। অতঃপর তিনি তা খুলে দিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৭৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৭৪।
((আবু দাউদ ৬৪৬; তিরমিযী ৩৮২; ইবনু মাজাহ ১০৪২; সহীহ ইবনু খুযাইমা ২/৫৮ নং ৯১১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৭৬ (আল ইহসান); বাইহাকী ২/১০৯; আব্দুর রাযযাক ২/১৮৩ নং ২৯৯০; হাকিম ১/২৬১-২৬২; বাগাবী, শারহুস zwj;সুন্নাহ ৬৪৬; তাবারাণী, আল কাবীর ৯৯০-৯৯৩; আহমাদ ৬/৮, ১০, ৩৯১।... মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন ৪৭৪ নং এর টীকা ও ড. মাহির ইয়াসীন ফাহল এর তাহক্বীক্বকৃত সহীহ ইবনু খুযাইমা ৯১১ নং এর টীকা হতে। এসব কিতাবে এটি এভাবে এসেছে: “ একদা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্ত দাস) আবু রাফি’ হাসান ইবনু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র পাশ দিয়ে গমন করেন। এ সময় হাসান রা: সালাতরত ছিলেন এবং তার মাথার চুল উপরে (খোঁপা) বাঁধা ছিল। আবূ রাফি’ তখন তাঁর পিছনে গিয়ে তার খোঁপা খুলে দিলেন। ফলে হাসান রা: তাঁর প্রতি রাগান্বিত হয়ে তাকালে আবু রাফি’ রা: বলেন, আপনি আগে সালাত সমাপ্ত করুন, রাগান্বিত হবেন না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি: ‘এটা শয়তানের আসন। অর্থাত শয়তানের আড্ডস্থল- অর্থাত পুরুষের খোঁপা বা বেণী।“ (আবু দাউদ ৬৪৬ সহ অন্যরা)- অনুবাদক))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي بَكْرٌ هُوَ ابْنُ مُضَرَ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ عَنْ بُكَيْرٍ أَنَّ كُرَيْبًا مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَهُ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَأَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ يُصَلِّي وَرَأْسُهُ مَعْقُوصٌ مِنْ وَرَائِهِ فَقَامَ وَرَاءَهُ فَجَعَلَ يَحُلُّهُ وَأَقَرَّ لَهُ الْآخَرُ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ مَا لَكَ وَرَأْسِي قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّمَا مَثَلُ هَذَا كَمَثَلِ الَّذِي يُصَلِّي وَهُوَ مَكْتُوفٌ
বাংলা অনুবাদ
১৪১৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার মুক্ত দাস কুরাইবা দেখেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিছ সালাত আদায় করছেন এবং তার মাথার পিছন দিকে খোঁপা বা বেণী বাঁধা রয়েছে। তখন তিনি দাঁড়িয়ে তা খুলে দিতে থাকলেন এবং অপরজন তা (নিশ্চুপভাবে) মেনে নিলেন। এরপর তিনি সালাত শেষে ইবনু আব্বাস রা: এর নিকট এসে বললেন, আমার মাথা সাথে আপনি এরূপ করলেন কেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “এর দৃষ্টান্ত হলো ঐ ব্যক্তির মত যে পেছনে দু’হাত বাঁধা অবস্থায় সালাত আদায় করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ লাইছের কাতিব (হাদীস লেখক) আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ এর জন্য। তবে হাদীসটি সহীহ, যা মুসলিমে বর্ণিত।
তাখরীজ: সহীহ zwj;মুসলিম নং ৪৯২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৮০ তে। ((আবু দাউদ ৬৪৭; নাসাঈ ২/২১৫-২১৬; কুবরা ৭০১; আহমাদ ১/২০৪, ৩১৬; আবু আউয়ানাহ ২/৮১; ইবনু হিব্বান ২২৮০; সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ৯১০।- মাহির ফাহলের তাহক্বীক্বকৃত সহীহ ইবনু খুযাইমা ৯১০ নং এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَشُدَّ يَدَهُ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي عَلَى فِيهِ
বাংলা অনুবাদ
১৪১৯. আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কারো হাই আসে সে যেন তা হাত দ্বারা বাধা দেয়। কেননা, (মুখ দিয়ে) শয়তান প্রবেশ করে...।“[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: অর্থাত মুখের উপর (হাত দ্বারা বাধা দেবে)।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। নুয়াইম বিন হাম্মাদের কারণে। তবে হাদীসটি সহীহ- তা মুসলিমে বর্ণিত।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৯৯৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৬২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৬০ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ النَّوْمَ وَهُوَ يُصَلِّي فَلْيَنَمْ حَتَّى يَذْهَبَ نَوْمُهُ فَإِنَّهُ عَسَى يُرِيدُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ
বাংলা অনুবাদ
১৪২০. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি সালাতরত অবস্থায় তোমাদের কারো (প্রবল) ঘুম পায়, তবে সে যেনো ঘুমিয়ে নেয়, যতক্ষণ তার ঘুম দূরীভূত না হয়। কেননা, সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে হয়তোবা (ঘুমের ঘোরে) নিজেকে গালি দিয়ে বসবে।“[1]
[1] তাহক্বক্বি: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ২১২; মুসলিম ৭৮৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৮৩, ২৫৮৪; মুসনাদুল মাউসিলী ৫/১৮৬ নং ২৮০০ তে আনাস রা: হতে এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত হয়েছে; এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৮৫ তে।
