সুনান আদ-দারিমী

পরিচ্ছেদ ৮: হাদিস ১৪১-১৬০

এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।

এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
হাদিস ১৪১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَاضِرٍ الْأَزْدِيِّ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فَقُلْتُ أَوْصِنِي. فَقَالَ: نَعَمْ، عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَالِاسْتِقَامَةِ، اتَّبِعْ وَلَا تَبْتَدِعْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف زمعة

বাংলা অনুবাদ

১৪১. উছমান ইবনু হাযির আল-আযদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা’র নিকট প্রবেশ করে তাঁকে বললাম, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, ঠিক আছে, শোন। তুমি অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করে চলবে, আর (দ্বীনে) অবিচল থাকবে। আর ইত্তিবা বা অনুসরণ করবে আর কখনো নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদ’আত) করবে না ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কেননা, এর রাবী যাম’আহ যঈফ। (তবে মারওয়াযী, তার আস সুন্নাহ নং ৮৩ তে এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।)
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ, ১/৩৩৭ নং ২০০, ২০৬,২৩৩; ইবনু আবী যামনীন, উসুলুস সুন্নাহ নং ১২; খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্বিহ ১/১৭৩; ইবনু ওয়াদা, আল বিদা’আ ওয়ান নিহায়া আনহা, পৃ. ২৫; অপর সনদে মারওয়াযী, আস সুন্নাহ নং ৮৩-তে ইবনু আব্বাস হতে হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

হাদিস ১৪২

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جَابِرٍ، أَنبَأَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: كَانُوا يَرَوْنَ أَنَّهُ عَلَى الطَّرِيقِ مَا كَانَ عَلَى الْأَثَرِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

১৪২. ইবনু সীরীন বলেন, তারা (তাবিঈদের সময়কার লোকেরা) মনে করতেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোন লোক হাদীসের উপর আমল করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত (সঠিক) পথেই থাকবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামিউ বায়ানিল ইলম, নং ১৭৭৮-১৭৭৯; সুয়ূতী, মিফতাহুল জান্নাহ পৃ: ২৯।

হাদিস ১৪৩

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَزْهَرُ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ قَالَ: «مَا دَامَ عَلَى الْأَثَرِ فَهُوَ عَلَى الطَّرِيقِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

১৪৩. ইবনু সীরীন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত (কোন লোক) হাদীসের উপর আমল করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে সঠিক পথেই থাকবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ; পুর্বের হাদীসের অনুরূপ।

হাদিস ১৪৪

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ، وَقَبْضُهُ أَنْ يَذْهَبَ أَهْلُهُ، أَلَا وَإِيَّاكُمْ وَالتَّنَطُّعَ، وَالتَّعَمُّقَ، وَالْبِدَعَ، وَعَلَيْكُمْ بِالْعَتِيقِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه منقطع أبو قلابة: عبد الله بن زيد الجرمي لم يدرك عبد الله بن مسعود

বাংলা অনুবাদ

১৪৪. আবু কিলাবা হতে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ইলম উঠিয়ে নেওয়ার পূর্বেই তোমরা তা শিখে নাও। আর ইলম উঠে যাওয়া অর্থ হলো আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের zwj;মৃত্যু হওয়া। তোমরা (দ্বীনের ব্যাপারে নিজেদের উপর) কঠোরতা করা, গভীরে প্রবেশ (চুলচেরা বিশ্লেষণ) করা এবং নতুন বিষয় উদ্ভাবন (বিদ’আত) থেকে সাবধান থাকবে। আর প্রাচীনদের (পদ্ধতি তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর মহান সাহাবীদের [1]) কে আঁকড়ে থাকবে।[2]
[1] ফতহুল মান্নান, অত্র হাদীসের ব্যাখ্যা দ্র:
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত। তবে এতে ‘ইনক্বিতা’ (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে। আবী কিলাবাহ ইবনু মাসউদের সাক্ষাত পাননি।
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ১/৩২৪ নং ১৬৮; সূয়ূতী, মিফতাহুল জান্নাহ’, পৃ: ৩০ এ একে বাইহাকীর মাদখাল-এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।

হাদিস ১৪৫

মূল আরবি

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو النُّعْمَانِ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، قَالَ: قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ «عَلَيْكُمْ بِالْعِلْمِ قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ، وَقَبْضُهُ أَنْ يُذْهَبَ بِأَصْحَابِهِ، عَلَيْكُمْ بِالْعِلْمِ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي مَتَى يُفْتَقَرُ إِلَيْهِ أَوْ يُفْتَقَرُ إِلَى مَا عِنْدَهُ، إِنَّكُمْ سَتَجِدُونَ أَقْوَامًا يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ يَدْعُونَكُمْ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ وَقَدْ نَبَذُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ فَعَلَيْكُمْ بِالْعِلْمِ، وَإِيَّاكُمْ وَالتَّبَدُّعَ، وَإِيَّاكُمْ وَالتَّنَطُّعَ، وَإِيَّاكُمْ وَالتَّعَمُّقَ، وَعَلَيْكُمْ بِالْعَتِيقِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه أبو قلابة لم يدرك ابن مسعود

বাংলা অনুবাদ

১৪৫. আবী কিলাবাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইলম উঠিয়ে নেওয়ার পূর্বেই তোমরা তা অর্জন করবে। আর ইলম উঠে যাওয়া অর্থ হলো আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের zwj;মৃত্যু হওয়া। তোমরা অবশ্যই ইলম অর্জন করবে। কেননা, তোমরা কেউ জানো না, কখন তোমার এ ইলমের প্রয়োজন হবে, অথবা কোন সময় তোমাদের নিকট রক্ষিত (এ ইলমের) প্রয়োজনীয়তা (অন্যদের নিকট) অনুভূত হবে। অচিরেই তোমরা এমন কিছু লোকের সাক্ষাত পাবে যাদের ধারণা, তারা তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকেই আহ্বান করছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা একে (কিতাবকে) তাদের পশ্চাতে নিক্ষেপ করেছে। সুতরাং তোমাদের উপর অবশ্য কর্তব্য হল ইলম অর্জন করা। আর তোমরা নতুন বিষয় উদ্ভাবন (বিদ’আত) থেকে বেঁচে থাকবে। তোমরা (দ্বীনের ব্যাপারে নিজেদের উপর) কঠোরতা আরোপ করা থেকে বেঁচে থাকবে, এবং কোন বিষয়ের গভীরে প্রবেশ (চুলচেরা বিশ্লেষণ) থেকেও বেঁচে থাকবে। তোমাদের উপর অবশ্য কর্তব্য হল, প্রাচীনদের (সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সুন্নাতে সাহাবা)-কে আঁকড়ে থাকা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে ‘ইনক্বিতা’ (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে। আবী কিলাবাহ ইবনু মাসউদের সাক্ষাত পাননি।
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ১/৩২৪ নং ১৬৯; মা’মার, জামি’ নং ২০৪৬৫; তাবারাণী, আল কাবীর ৯/১৮৯ নং ৮৮৪৫; মারওয়াযী, আস সুন্নাহ নং ৮৫; লালিকাই, শারহু উসুলুল ই’তিকাদ নং ১০৮; ইবনু ওয়াদা, আল বিদ’আ, পৃ. ২৫;

হাদিস ১৪৬

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ: أَنَّ رَجُلًا يُقَالُ لَهُ صَبِيغٌ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَجَعَلَ يَسْأَلُ عَنْ مُتَشَابِهِ الْقُرْآنِ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَقَدْ أَعَدَّ لَهُ عَرَاجِينَ النَّخْلِ، فَقَالَ: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا عَبْدُ اللَّهِ صَبِيغٌ، فَأَخَذَ عُمَرُ عُرْجُونًا مِنْ تِلْكَ الْعَرَاجِينِ، فَضَرَبَهُ وَقَالَ: أَنَا عَبْدُ اللَّهِ عُمَرُ، «فَجَعَلَ لَهُ ضَرْبًا حَتَّى دَمِيَ رَأْسُهُ،» فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، حَسْبُكَ، قَدْ ذَهَبَ الَّذِي كُنْتُ أَجِدُ فِي رَأْسِي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه منقطع سليمان بن يسار لم يدرك عمر بن الخطاب

বাংলা অনুবাদ

১৪৬. সুলাইমান ইবনু ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সুবাইগ’ নামে এক ব্যক্তি মদীনাতে এসে কুরআনের মুতাশাবিহা (অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক) আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করলো। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে ডাকতে লোক পাঠালেন এবং এদিকে তিনি খেজুরের কয়েকটি ডাল তার জন্য প্রস্তুত করে রাখলেন। (সে আসলে) তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? সে বলল, আমি আল্লাহর বান্দা সুবাইগ। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কেটে রাখা খেজুরের ডালগুলো হতে একটি ডাল নিয়ে তাকে পিটাতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, আমি আল্লাহর বান্দা উমার। তিনি তাকে এভাবে পিটাতে থাকলেন। ফলে তার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে লাগল। তখন সে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন, আপনি যথেষ্ট করেছেন। আমার মাথায় যা চেপেছিল, তা দূর হয়ে গেছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : রাবীগণ বিশ্বস্ত। কিন্তু এ সনদে ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। সুলায়মান ইবনু ইয়াসার উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাক্ষাত পাননি।
তাখরীজ: আজুরী, আশ শরীয়াহ, পৃ. ৭৫; দেখুন, পরবর্তী ১৫০ নং হাদীস।

হাদিস ১৪৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ) [آل عمران: 7]، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ فَاحْذَرُوهُمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :حديث متفق عليه

বাংলা অনুবাদ

১৪৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তেলাওয়াত করলেন,
هُوَ الَّذِي أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُّحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ

হাদিস ১৪৮

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ قَالَ: سُئِلَ عَبْدُ اللَّهِ عَنْ شَيْءٍ فَقَالَ: إِنِّي لَأَكْرَهُ أَنْ أُحِلَّ لَكَ شَيْئًا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ، أَوْ أُحَرِّمَ مَا أَحَلَّهُ اللَّهُ لَكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

১৪৮. শাকীক রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কোন একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হল। তখন তিনি বললেন, আমি অবশ্যই অপছন্দ করি যে, আল্লাহ তোমার উপর যা হারাম করেছেন, আমি তোমার জন্য তা হালাল ঘোষণা করে ফেলি। কিংবা আল্লাহ তোমার জন্য যা হালাল করেছেন, আমি তোমার জন্য তা হারাম করে ফেলি।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এ হাদীসটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও আমি পাইনি।

হাদিস ১৪৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْفَزَارِيِّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: «لَأَنْ أَرُدَّهُ بِعِيِّهِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَكَلَّفَ لَهُ مَا لَا أَعْلَمُ

বাংলা অনুবাদ

১৪৯. ইবনু সীরীন রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান বলেন, আমি যা জানি না তা (জানার) ভান করার চেয়ে আমার অজ্ঞতা বা (জবাব দিতে) অক্ষমতার দরূণ তাকে ফিরিয়ে দেয়াটাই আমার নিকট অধিক প্রিয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: আলফাসওয়ী, আল মা’রিফাত ওয়াত তারীখ ২/৬৮।

হাদিস ১৫০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، أَخْبَرَنِي ابْنُ عَجْلَانَ، عَنْ نَافِعٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ صَبِيغًا الْعِرَاقِيَّ جَعَلَ يَسْأَلُ عَنْ أَشْيَاءَ مِنَ الْقُرْآنِ فِي أَجْنَادِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى قَدِمَ مِصْرَ، فَبَعَثَ بِهِ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَلَمَّا أَتَاهُ الرَّسُولُ بِالْكِتَابِ فَقَرَأَهُ فَقَالَ: أَيْنَ الرَّجُلُ؟ فَقَالَ: فِي الرَّحْلِ، قَالَ عُمَرُ: «أَبْصِرْ أَنْ يكونَ ذَهَبَ فَتُصِيبَكَ مِنِّي بِهِ الْعُقُوبَةُ الْمُوجِعَةُ»، فَأَتَاهُ بِهِ، فَقَالَ عُمَرُ: «تَسْأَلُ مُحْدَثَةً»، فأرْسلَ عُمَرُ إِلَى رَطَائِبَ مِنْ جَرِيدٍ، " فَضَرَبَهُ بِهَا حَتَّى تَرَكَ ظَهْرَهُ دَبِرَةً، ثُمَّ تَرَكَهُ حَتَّى بَرَأَ، ثُمَّ عَادَ لَهُ، ثُمَّ تَرَكَهُ حَتَّى بَرَأَ، فَدَعَا بِهِ لِيَعُودَ لَهُ، قَالَ: فقالَ صَبِيغٌ: إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ قَتْلِي، فَاقْتُلْنِي قَتْلًا جَمِيلًا، وَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ أَنْ تُدَاوِيَنِي، فَقَدْ وَاللَّهِ بَرَأْتُ، فَأَذِنَ لَهُ إِلَى أَرْضِهِ، وَكَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْ لَا يُجَالِسَهُ أَحَدٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَى الرَّجُلِ، فَكَتَبَ أَبُو مُوسَى إِلَى عُمَرَ: أَنْ قَدْ حَسُنَتْ تَوْبَتُهُ، فَكَتَبَ عُمَرُ: أنِ ائْذَنْ لِلنَّاسِ بِمُجَالَسَتِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن صالح

বাংলা অনুবাদ

১৫০. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার মুক্তদাস নাফি’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুবাইগ আল ইরাকী মুসলিম সৈন্যদের মাঝে কুরআনের কিছু বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করতে থাকে। অবশেষে সে মিশরে পৌঁছে যায়। তখন আমর ইবনুল ’আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট তাকে পাঠিয়ে দেন (দূত মারফত চিঠিসহ)। যখন দূত চিঠি নিয়ে তাঁর নিকট এলো, তখন তিনি চিঠিটি পাঠ করে বললেন, লোকটি কোথায়? দূত বলল, সে বাহনের উপর আছে। ‘উমার বললেন, দেখো, সে যেন আবার পালিয়ে না যায়। তেমন হলে তার জন্য তোমার উপর আমার পক্ষ থেকে বেদনাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে। ফলে দূত তাকে নিয়ে আসল। তখন উমার বললেন: তুমি (দেখছি) নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করে বেড়াচ্ছো। তিনি এক ব্যক্তিকে পাঠালেন খেজুরের ডাল নিয়ে আসার জন্য। সেই ডাল দিয়ে তিনি তাকে পেটাতে লাগলেন এমনকি তার পিঠ ঘায়েল করে ছাড়লেন। তারপর তাকে ছেড়ে দিলেন। যখন সে সুস্থ হল, তখন তিনি আবার তাকে পেটালেন। তারপর তাকে ছেড়ে দিলেন। তারপর যখন সে সুস্থ হল, তখন আবার তাকে মারার জন্য ডাকলেন। তিনি (রাবী) বলেন, তখন সুবাইগ বলল, আপনি যদি আমাকে হত্যা করার ইচ্ছা করেন, তবে সুন্দরভাবে আমাকে হত্যা করুন। আর যদি আপনি আমার রোগমুক্তি কামনা করেন, তাহলে, আল্লাহর কসম আমি রোগমুক্তি লাভ করেছি। তখন তাকে তার দেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হল এবং আবু মুসা আল আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট তিনি লিখে পাঠালেন যে, তার নিকট যেন কোন মুসলিমকে বসতে দেয়া না হয়। ফলে লোকটির নিকট তা অত্যন্ত কঠিন ঠেকলো। তখন আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট লিখে পাঠালেন যে, সে উত্তম তাওবা করেছে। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু লিখে পাঠালেন যে, এখন লোকদেরকে যেন তার নিকট বসার অনুমতি দেয়া হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ যঈফ। এছাড়া এতে ‘ইনক্বিতা’ বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। কারণ, নাফি’ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাক্ষাত পাননি। আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: ইবনু ওয়াদাহ, আল বিদ’আ, পৃ: ৫৬; আজুরী, আশ শরিয়াহ পৃ. ৭৫; পূর্বে ১৪৬ নং আছারটি দেখুন।

হাদিস ১৫১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَامِرًا يَقُولُ: اسْتَفْتَى رَجُلٌ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ، فَقَالَ: يَا أَبَا الْمُنْذِرِ، مَا تَقُولُ فِي كَذَا وَكَذَا؟ قَالَ: «يَا بُنَيَّ، أَكَانَ الَّذِي سَأَلْتَنِي عَنْهُ؟»، قَالَ: لَا، قَالَ: «أَمَّا لَا»، فَأَجِّلْنِي حَتَّى يَكُونَ، فَنُعَالِجَ أَنْفُسَنَا حَتَّى نُخْبِرَكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه عامر الشعبي لم يدرك أبي بن كعب
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :

বাংলা অনুবাদ

১৫১. আমির রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এক ব্যক্তি উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট ফতোয়া চাইলো। অতঃপর বললো, হে আবুল zwj;মুনযির! আপনি এই এই বিষয়ে কী বলেন? তিনি বললেন, বেটা! তুমি আমাকে যেই বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সেটা কি ঘটেছে? সে বললো, না। তিনি বললেন, যদি না-ই ঘটে, তবে তা ঘটা পর্যন্ত সে ব্যাপারে আমাকে (জিজ্ঞেস করা) স্থগিত রাখ। যখন তা ঘটবে, তখন আমরা সমস্যাটি নিয়ে নিজেরা কথা বলব, যাতে আমরা তোমাদেরকে জানাতে পারি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদ যঈফ, ‘ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতার কারণে। আমির শা’বী উবাই ইবনু কা’ব-এর সাক্ষাত পাননি। (তবে অপর সনদে উবাই রা: এর পরবর্তী আছারটি সহীহ-অনুবাদক।)
তাখরীজ: পরবর্তী হাদীসের টীকা দেখুন।

হাদিস ১৫২

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ فَتًى: مَا تَقُولُ يَا عَمَّاهُ كَذَا وَكَذَا؟ قَالَ: يَا ابْنَ أَخِي، أَكَانَ هَذَا؟ قَالَ: لَا، قَالَ: فَأَعْفِنَا حَتَّى يَكُونَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

১৫২. মাসরূক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে হাঁটছিলাম। তখন একজন যুবক বলল, হে চাচা! এই এই বিষয়ে আপনার মতামত কী? তখন তিনি বলেন, হে ভাতিজা! এটা কি ঘটেছে? সে বলল, না। তিনি বললেন, সেটা না ঘটা পর্যন্ত তা থেকে আমাদেরকে অব্যাহতি দাও।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু খায়ছামা, আল ইলম, নং ৭৬; খতীব, ফাকিহ ওয়াল মুতাফাকিহ ২/৮; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ১/৪০৮; ইবনু আব্দুল বাররাহ, জামিই’ বয়ানুল ইলম, নং ১৬০৪, সনদ সহীহ।

হাদিস ১৫৩

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ: كَانَ إِبْرَاهِيمُ «إِذَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ لَمْ يُجِبْ فِيهِ إِلَّا جَوَابَ الَّذِي سُئِلَ عَنْهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

১৫৩. আ’মাশ রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীমকে যখন কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হত, তখন তিনি কেবলমাত্র সেই কথাটারই জবাব দিতেন যে বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হতো (এর অতিরিক্ত কোন কথা বলতেন না)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৪/২১৯-২২০।

হাদিস ১৫৪

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ وُهَيْبٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ: أَنَّهُ كَانَ «لَا يُفْتِي فِي الْفَرْجِ بِشَيْءٍ فِيهِ اخْتِلَافٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

১৫৪. হিশাম বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন হতে বর্ণিত, তিনি লজ্জাস্থান (হালাল-হারাম হওয়ার) বিষয়ে (অর্থাৎ বিয়ে ও তালাকের বিষয়ে), যাতে ইখতিলাফ বা মতভেদ রয়েছে, এ রকম কোন বিষয়ে কোন ফতওয়া দিতেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোন তাখরীজ দেননি।- অনুবাদক)

হাদিস ১৫৫

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا الصَّلْتُ بْنُ رَاشِدٍ، قَالَ: سَأَلْتُ طَاوُسًا عَنْ مَسْأَلَةٍ فَقَالَ لِي: كَانَ هَذَا؟، قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: آللَّهِ. قُلْتُ آللَّهِ. ثُمَّ قَالَ: إِنَّ أَصْحَابَنَا أَخْبَرُونَا عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ «لَا تَعْجَلُوا بِالْبَلَاءِ قَبْلَ نُزُولِهِ، فَيُذْهَبُ بِكُمْ هَاهُنَا وَهَاهُنَا، فَإِنَّكُمْ إِنْ لَمْ تَعْجَلُوا بِالْبَلَاءِ قَبْلَ نُزُولِهِ، لَمْ يَنْفَكَّ الْمُسْلِمُونَ أَنْ يَكُونَ فِيهِمْ مَنْ إِذَا سُئِلَ، سُدِّدَ،» وَإِذَا قَالَ، وُفِّقَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

১৫৫. সালত ইবনু রাশিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাউসকে একটি মাস’আলা জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, এটা কি ঘটেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ।
তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমিও বললাম, আল্লাহর কসম! তারপর তিনি বললেন: আমাদের সাথীগণ মু’আয ইবনু জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে আমাদেরকে বলেছেন যে, তিনি বলেন: হে মানবমণ্ডলী! বালা’-মুসীবত নাযিল হওয়ার পূর্বে তোমরা তা নিয়ে তাড়াহুড়া করনা। (যদি কর) তবে এইখানে এইখানে তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। যদি কোন বালা-মুসিবত আসার পূর্বে তা নিয়ে তোমরা তাড়াহুড়া না কর, তাহলে মুসলিমদের মাঝে সর্বদা এমন ব্যক্তিবর্গ থাকবে যাদেরকে যখন কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে তখন তাকে সঠিক পথ দেখানো হবে (সঠিক উত্তর দিবে) আর যখন সে কথা বলবে তখন তাকে সঠিক কথা বলার তাওফীক দেয়া হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ১/৩৯৬ নং ২৯৩; ১১৮ নং হাদীসে এর পূর্ণ তাখরীজ দেয়া হয়েছে।

হাদিস ১৫৬

মূল আরবি

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، - سَأَلْتُهُ عَنْ رَجُلٍ أَدْرَكَهُ رَمَضَانَانِ - فَقَالَ: أَكَانَ أَوْ لَمْ يَكُنْ؟ قَالَ: لَمْ يَكُنْ بَعْدُ، قَالَ: «اتْرُكْ بَلِيَّتَهُ حَتَّى تَنْزِلَ»، قَالَ: فَدَلَّسْنَا لَهُ رَجُلًا، فَقَالَ: قَدْ كَانَ، فَقَالَ: يُطْعِمُ عَنِ الْأَوَّلِ مِنْهُمَا ثَلَاثِينَ مِسْكِينًا، لِكُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

১৫৬. আমর ইবনু মাইমুনের পিতা ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে ব্যক্তি দুই রমাযান মাসই পায় (অর্থাৎ লাগাতার দুই রমাযান রোযা রাখেনি অথবা এক রমযানের রোযা কাযা অবস্থায় আরেক রমযান এসে যায়)। তিনি তখন বললেন, এটা কি সংঘটিত হয়েছে, নাকি হবে? তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এটি এখনও ঘটেনি। তিনি বলেন, কোন বিপদ বা পরীক্ষা আপতিত হওয়ার আগ পর্যন্ত (সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা) পরিহার করবে। (মাইমুন বলেন) আমরা মিছামিছি এক ব্যক্তিকে সাজিয়ে তার নিকট নিয়ে এলাম। সে এসে বলল, তা ঘটেছে। তখন তার জবাবে তিনি বললেন: দু’ রমযানের প্রথম রমযান মাসের কাফফারা হিসাবে ত্রিশজন মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াবে। অর্থাৎ প্রতিদিনের জন্য একজন করে মিসকীনকে খাওয়াবে।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৫৩; আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ৪/২৩৬ নং ৭৬২৮।
এর শাহিদ রয়েছে আবূ হুরাইরা রা: হতে সহীহ সনদে, দেখুন, সুনানে দারুকুতনী ২/১৯৬ ও পরবর্তীগুলি; নববী, আল মাজমু’ ৬/৩৬৩-৩৬৪; আলমুগনী ৩/৮৩-৮৪ এবং মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার ৬/৩০৬।

হাদিস ১৫৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا الْعُمَرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: كُنْتُ أَجْلِسُ بِمَكَّةَ إِلَى ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَوْمًا، وَإِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا يَوْمًا، فَمَا يَقُولُ ابْنُ عُمَرَ فِيمَا يُسْأَلُ: " لَا عِلْمَ لِي، أَكْثَرُ مِمَّا يُفْتِي بِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن

বাংলা অনুবাদ

১৫৭. উবাইদ ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কায় একদিন ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার নিকট বসতাম, আর অন্যদিন বসতাম ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার নিকট। ইবনু উমারকে যেসকল বিষয় জিজ্ঞাসা করা হত, তার মধ্যে তিনি যে কয়টি বিষয়ে ফতোয়া দিতেন, তার চেয়ে অধিক সংখ্যক বিষয়ে বলতেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: দেখুন, খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, ২/১৭২।

হাদিস ১৫৮

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «تَعَلَّمُوا، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي مَتَى يُخْتلَفُ إِلَيْهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

১৫৮. আবী ওয়াইল থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, তোমরা জ্ঞান অর্জন কর। কেননা, তোমরা জান না, কোন্ সময় (বিভিন্ন প্রান্ত থেকে) লোকেরা তোমার নিকট (জ্ঞান অন্বেষণ করতে) আসবে।[1]
[1] তাহ্ক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানুল ইলম, ১/৩৬৭ নং ৫১০; আবু খায়ছামা, আল ইলম, নং ৮। আরো দেখুন, হাদীস ১৪৫।

হাদিস ১৫৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سَعِيدِ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَجْرَؤُكُمْ عَلَى الْفُتْيَا، أَجْرَؤُكُمْ عَلَى النَّارِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده معضل عبيد الله بن أبي جعفر ما عرفنا له رواية عن الصحابة فيما نعلم

বাংলা অনুবাদ

১৫৯. উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ জা’ফর থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, তোমাদের ফতওয়া প্রদানের বিষয়ে অধিক দুঃসাহসীগণ জাহান্নামের (যাওয়ার) জন্যও অধিক দুঃসাহসী।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মু’দাল (এর সনদ থেকে দু’ই বা ততোধিক রাবীর নাম বাদ পড়েছে); কোন সাহাবী থেকে উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী জা’ফরের কোন বর্ণনা আমাদের জানা নেই। আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: কাশফুল খফা নং ১১৩; আসনাল মাতালিব, নং ৫৪; জামি’ বায়ানুল ইলম, ২/৮১৬,৮১৭, ৮৪৮ নং ১৫২৫, ১৫২৬, ১৫৯১।

হাদিস ১৬০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: " مَنْ أَحْدَثَ رَأْيًا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ، وَلَمْ تَمْضِ بِهِ سُنَّةٌ مَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَمْ يَدْرِ عَلَى مَا هُوَ مِنْهُ، إِذَا لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح إذا كان عبدة سمعه من ابن عباس

বাংলা অনুবাদ

১৬০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এমন মত-পথ উদ্ভাবন করল বা পোষণ করলো যা আল্লাহর কিতাবে নেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লামের সুন্নাতে আসেনি, তাহলে যখন সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র সাথে (কিয়ামতের দিন) সাক্ষাৎ করবে, সেদিন সে জানতেও পারবে না, সে কোন্ পথের উপর প্রতিষ্ঠিত (দীনের অনুসারী) ছিল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ, যদি উবাদাহ ইবনু আব্বাস থেকে কিছু শুনে থাকে।
তাখরীজ: ইবনু ওয়াদাহ, আল বিদ’আ নং ৯৪; ইবনু হাযম, আল আহকাম ৬/৭৮২; বাইহাকী, আল মাদখাল ১৯০; খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, ১/১৮৩।