সুনান আদ-দারিমী
পরিচ্ছেদ ৭৪: হাদিস ১,৪৬১-১,৪৮০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ عَنْ عَلِيٍّ الْأَزْدِيِّ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ اللَّيْثِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ لَا شَكَّ فِيهِ وَجِهَادٌ لَا غُلُولَ فِيهِ وَحَجَّةٌ مَبْرُورَةٌ قِيلَ فَأَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ قَالَ طُولُ الْقِيَامِ قِيلَ فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ جُهْدُ مُقِلٍّ قِيلَ فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْ تَهْجُرَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْكَ قِيلَ فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ قَالَ مَنْ جَاهَدَ الْمُشْرِكِينَ بِمَالِهِ وَنَفْسِهِ قِيلَ فَأَيُّ الْقَتْلِ أَشْرَفُ قَالَ مَنْ عُقِرَ جَوَادُهُ وَأُهْرِيقَ دَمُهُ
বাংলা অনুবাদ
১৪৬১. আব্দুল্লাহ ইবনু হুবশী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন্ আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন: “সংশয়মুক্ত ঈমান ও খিয়ানতমুক্ত জিহাদ এবং ‘মাবরুর’ (পূণ্যময়) হাজ্জ্ব।“
তাঁকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ সালাত সর্বোত্তম? তিনি বললেন: দীর্ঘ কিয়াম (তথা ক্বিরা’আত বিশিষ্ট সালাত)।“জিজ্ঞাস করা হলো: সর্বোত্তম সাদাক্বাহ কোনটি? তিনি বললেন: অনটনগ্রস্ত ব্যক্তির কষ্টসাধ্যের দান। জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন্ হিজরাত সর্বোত্তম? তিনি বললেন: আল্লাহ তোমার উপর যা হারাম করেছেন, তা থেকে হিজরাত (পরিত্যাগ) করা। জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন্ জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি তার জান ও মাল নিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।“ জিজ্ঞাসা করা হলো, সম্মানজনক নিহত হওয়া কোনটি? তিনি বললেন: যার ঘোড়াকে হত্যা করা হয়েছে এবং তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪১১-৪১২; আবু দাউদ ১৪৪৯; নাসাঈ (কিতাবুয যাকাত বাব: ৪৯ ও কিতাবুল ঈমান বাব: ১); আল কুবরা ২৩০৫, ১১৭০৭; বুখারী, আল কাবীর ৫/২৫। আরও দেখুন, তারগীব ওয়াত তারহীব ২/২৯৩ নং ৩০; দুররে মানছুর ১/২৪৯।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا عَفَّانُ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ مَا الْبَرْدَيْنِ قَالَ الْغَدَاةُ وَالْعَصْرُ
বাংলা অনুবাদ
১৪৬২. আবী মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি দু’ঠাণ্ডার (সময়ের) সালাত আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।“[1] আবু মুহাম্মদ কে জিজ্ঞেস করা হলো: ‘দু’ঠাণ্ডা’র সালাত’ কী? তিনি বললেন: ফজর ও আসর।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৭৪; মুসলিম ৬৩৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৬৫, সহীহ ইবনু হিব্বান নং১৭৩৯।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ عَنْ جَدِّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي جِوَارِ اللَّهِ فَلَا تُخْفِرُوا اللَّهَ فِي جَارِهِ وَمَنْ صَلَّى الْعَصْرَ فَهُوَ فِي جِوَارِ اللَّهِ فَلَا تُخْفِرُوا اللَّهَ فِي جَارِهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِذَا أُمِّنَ وَلَمْ يَفِ فَقَدْ غَدَرَ وَأَخْفَرَ
বাংলা অনুবাদ
১৪৬৩. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল সে আল্লাহর যিম্মায় (নিরাপত্তার ভেতরে) চলে এলো। ফলে তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে খিয়ানত (নষ্ট) করো না। আর যে ব্যক্তি আসরের সালাত আদায় করল সে আল্লাহর যিম্মায় (নিরাপত্তার ভেতরে) চলে এলো। ফলে তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে খিয়ানত (নষ্ট) করো না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ, যদি সালিম আল বাররাদ ইবরাহীমের দাদা হয়। আর তা না হলে আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৫২।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে, ইবনু উমার, আনাস, আবী বাকর, আবী মালিক আল আশযাঈ, তাঁর পিতা হতে। আমি এর তাখরীজ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৬৩, ১৬৬৪, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯,১৬৭০, ১৬৭১ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كُنَاسَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَرْقَمِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ وَأَرَادَ الرَّجُلُ الْخَلَاءَ فَابْدَأْ بِالْخَلَاءِ
বাংলা অনুবাদ
১৪৬৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু-আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন: “সালাত শুরুর প্রাক্কালে তোমাদের কারো যদি পায়খানার বেগ হয়, তবে সে যেন প্রথমে পায়খানার প্রয়োজন সম্পন্ন করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং২০৭১; মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৯৪ ও মুসনাদুল হুমাউদী নং ৮৯৬ তে।
((আবু দাউদ ৮৮; তিরমিযী ১৪২; নাসাঈ ৮৫৩; ইবনু মাজাহ ৬১৬;বাইহাকী ৩/৭২; ইবনু zwj;খুযাইমা ৯৩২; আহমাদ ৪/৩৫; হাকিম ১/১৬৮, তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।– মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৪ এর টীকা হতে। - অনুবাদক))
মূল আরবি
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ مُخْتَصِرًا
বাংলা অনুবাদ
১৪৬৫. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো লোককে কোমরে হাত রাখা অবস্থায় সালাত আদায় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ১২২০; মুসলিম ৫৪৫; এর পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৪৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৮৫ তে।
ইবনু আবী শাইবা ২/৪৭-৪৮ এ এ হাদীসের তাখরীজের (বর্ণনার) পরে ইবনু সীরীন ‘ইখতিস্বর’ এর পরিচিতিতে বলেছেন: “তা হলো কারো উভয় কোমরে তার উভয় হাত রাখা, অথচ সে সালাতে রয়েছে।“
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْحَوْضِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَيَّارٍ أَبِي الْمِنْهَالِ الرِّيَاحِيِّ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا
বাংলা অনুবাদ
১৪৬৬. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং এর পরে কথা বলা অপছন্দ করতেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৫৪১; এটি বিস্তারিত আকারে গত হয়েছে ১৩৩৮ নং এ; পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ الْبَزَّارُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْمُغِيرَةِ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ الْمُحَرَّرِ بْنِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ لَمَّا بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَادَى بِأَرْبَعٍ حَتَّى صَهَلَ صَوْتُهُ أَلَا إِنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا نَفْسٌ مُؤْمِنَةٌ وَلَا يَحُجَّنَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ وَمَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهْدٌ فَإِنَّ أَجَلَهُ إِلَى أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ فَإِنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنْ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ
বাংলা অনুবাদ
১৪৬৭. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু –কে প্রেরণ করেন তখন আমি ‘আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে ছিলাম। আর (কুরবানীর দিন মিনায়) তিনি চারটি বিষয়ের ঘোষণা দিতে থাকেন, এমনকি তাঁর কণ্ঠস্বর ভেঙ্গে যায়- যে, তোমরা জেনে রাখো, মু’মিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর এ বছরের পর থেকে আর কোন মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না এবং কোন উলঙ্গ ব্যক্তিও (আল্লাহর) ঘরের তাওয়াফ করতে পারবে না। আর যার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চুক্তি (বা অঙ্গীকার) রয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত অবকাশ রয়েছে চার মাস পর্যন্ত। আর যখন চার মাস অতীত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত হয়ে যাবেন এবং তাঁর রাসূলও।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ উত্তম।
তাখরীজ: বুখারী ৩৬৯; মুসলিম ১৩৪৭। এর পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৬, ১০৪, ৪৫২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮২০; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮ তে। এটি সামনে ২৫৪৮ নং এ আসছে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ الْجُهَنِيُّ حَدَّثَنِي عَمِّي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِّمُوا الصَّبِيَّ الصَّلَاةَ ابْنَ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُ عَلَيْهَا ابْنَ عَشْرٍ
বাংলা অনুবাদ
১৪৬৮. সাবরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সাত বৎসর বয়স হলে শিশুদের সালাত শিক্ষা দিবে আর দশ বৎসর হলে এর জন্য (প্রয়োজনবোধে) প্রহার করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: তিরমিযী ৪০৭; তাবারাণী, আল কাবীর ৭/১১৫ নং ৬৫৪৬, ৬৫৪৭,৬৫৪৮, ৬৫৪৯; তাহাবী , শারহু মুশকিলিল আছার ৩/২৩১; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ১০০২; হাকিম ১/২৫৮; বাইহাকী ৩/৮৩-৮৪; মা’রিফাতুস zwj;ুসুনান ওয়াল আছার নং ৫৭২২; ইবনু আবী শাইবা ১/৩৪৭; আহমাদ ৩/৪০৪; আবু দাউদ ৪৯৪; দারুকুতনী ১/২৩০।
তিরমিযী বলেন: এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাকিম বলেন: এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি।’ যাহাবী তার এ মত সমর্থন করেছেন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ قَالَ ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ
বাংলা অনুবাদ
১৪৬৯. উকবা ইবনু আমির আল- জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, তিন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে এবং মৃতদের কবরস্থ করতে নিষেধ করতেন: সূর্য যখন উদিত হয়, তা পূর্ণভাবে উদিত না হওয়া পর্যন্ত; ও যখন ঠিক দ্বিপ্রহর হয়, এরপর সূর্য পশ্চিম দিকে না হেলে পড়া পর্যন্ত এবং যখন সূর্য অস্তমিত হওয়ার দিকে ঝুঁকে যায়, তখন (থেকে পূর্ণভাবে) অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, ৮৩১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ১৭৫৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৪৬, ১৫৫১ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ حَدَّثَنِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَلَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭০. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন সন্তোষভাজন ব্যক্তি - ‘উমারও যাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ‘উমার-ই আমার নিকট অধিক সন্তোষভাজন ব্যক্তি- তারা আমাকে বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ফজরের সালাতের পর (থেকে) সূর্য (পূর্ণরূপে) উদিত হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নাই এবং আসরের সালাতের পর (থেকে) সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত নাই।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ১২৫০; বুখারী ৫৮১; মুসলিম ৮২৬ (২৮৭); তিরমিযী ১৮৩; নাসাঈ ৫৬৩; আহমাদ ১/১৮; আবু দাউদ ১২৭৬।
ইমাম তিরমিযী সাহাবীগণ হতে এরূপ আরও হাদীস উল্লেখ করার পর বলেন: উমার রা: হতে ইবনু আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। আর এটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বহু সাহাবী ও তাবেঈদের মধ্যকার অধিকাংশ ফকীহ গণ ও তাদের পরবর্তী অনেকের মত।“
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ الْأَسْوَدَ بْنَ يَزِيدَ وَمَسْرُوقًا يَشْهَدَانِ عَلَى عَائِشَةَ أَنَّهَا شَهِدَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهَا يَوْمًا إِلَّا صَلَّى هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد تَعْنِي بَعْدَ الْعَصْرِ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭১. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, একদিনের জন্যও এমন হয়নি যে, তিনি তার নিকট অবস্থান করা কালীন এ দু’রাকা’আত সালাত আদায় করেননি।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন, অর্থা? আসরের পরবর্তী দু’রাকাত।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৫৯০; মুসলিম ৮৩৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৮৯ আমাদের হাদীসের এ অংশের জন্য, এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৭০, ১৫৭১, ১৫৭২, ১৫৭৩ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৯৪ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ قَطُّ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসরের পরবর্তী দু’রাকাআত কখনও ছাড়েননি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৭৩ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَزْهَرَ وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا اقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنْ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَقُلْ إِنَّا أُخْبِرْنَا أَنَّكِ تُصَلِّينَهُمَا وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْهُمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكُنْتُ أَضْرِبُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ النَّاسَ عَلَيْهِمَا قَالَ كُرَيْبٌ فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا وَبَلَّغْتُهَا مَا أَرْسَلُونِي بِهِ فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ فَخَرَجْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ بِقَوْلِهَا فَرَدُّونِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِمِثْلِ مَا أَرْسَلُونِي إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْهُمَا ثُمَّ رَأَيْتُهُ يُصَلِّيهِمَا أَمَّا حِينَ صَلَّاهُمَا فَإِنَّهُ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَخَلَ وَعِنْدِي نِسْوَةٌ مِنْ بَنِي حَرَامٍ مِنْ الْأَنْصَارِ فَصَلَّاهُمَا فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ الْجَارِيَةَ فَقُلْتُ قُومِي بِجَنْبِهِ فَقُولِي أُمُّ سَلَمَةَ تَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَمْ أَسْمَعْكَ تَنْهَى عَنْ هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ وَأَرَاكَ تُصَلِّيهِمَا فَإِنْ أَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخِرِي عَنْهُ قَالَتْ فَفَعَلَتْ الْجَارِيَةُ فَأَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخَرَتْ عَنْهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ يَا ابْنَةَ أَبِي أُمَيَّةَ سَأَلْتِ عَنْ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ بِالْإِسْلَامِ مِنْ قَوْمِهِمْ فَشَغَلُونِي عَنْ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَهُمَا هَاتَانِ سُئِلَ أَبُو مُحَمَّد عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ أَنَا أَقُولُ بِحَدِيثِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا صَلَاةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَلَا بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭৩. ইবন আব্বাসের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব (রহঃ) হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস, আব্দুর রহমান ইবন আযহার এবং মিসওয়ার ইবন মাখরামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সকলে মিলে তাকে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর নিকট প্রেরণ করলেন এবং বলে দিলেন, তাঁকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে এবং তাঁকে আসরের পরের দু- রাকআত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। এবং এ কথাও বলবে যে, আমরা জানতে পেরেছি যে, আপনিও সেই দু রাকআত সালাত আদায় করে থাকেন, অথচ আমাদের নিকট (হাদীস) পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দু’রাকাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন ।
ইবন আব্বাসরাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমিও উমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে এ দুই রাকা’আত (সালাত আদায় করা)-এর কারণে লোকদেরকে প্রহার করতাম।
কুরাইব বলেন, আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং তাঁরা যে সকল বক্তব্যসহ আমাকে প্রেরণ করেছিলেন তা সব পৌঁছে দিলাম । তিনি (আয়িশা রাঃ) বললেন, উম্মু সালামাকে (রাঃ) জিজ্ঞাসা কর।’ ফলে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে যারা আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁদের কাছে এলাম এবং তাঁদেরকে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা যা বলেছিলেন তা অবহিত করলাম। তারা আমাকে পূনরায় উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর নিকট প্রেরণ করলেন, যা দিয়ে আমাকে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। তখন (আমার বক্তব্য শুনে ) উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ দু’রাকাত আদায় করা হতে নিষেধ করতে শুনেছিলাম, পরে তাঁকেই এ দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতে দেখলাম । আর তাঁর এ দু-রাকআত সালাত আদায়ের ব্যাপারটি হলো, তিনি একদা আসরের সালাত আদায় করলেন অতঃপর (আমার নিকট) প্রবেশ করলেন। তখন আনসারগনের বনী হারাম গোত্রের কতিপয় মহিলা আমার নিকট বসেছিলেন। এরপর তিনি দু#39;রাকআত সালাত আদায় করলেন। আমি একটি দাসীকে তাঁর নিকট পাঠালাম এবং বলে দিলাম, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়াবে এবং তাঁকে বলবে, উম্মে সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন,‘ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি কি আপনাকে এ দু#39;রাকা’আত হতে নিষেধ করতে শুনিনি? অথচ এখন আপনাকেই সে দু-রাকআত আদায় করতে দেখছি!’ তখন তিনি যদি হাত দ্বারা ইশারা করেন তাহলে পিছনে সরে দাঁড়াবে।
তিনি (উম্মে সালামা) বলেন, দাসীটি তাই করল। ফলে তিনি হাত দ্বারা ইশারা করলেন। আর সে (দাসীটি) পিছনে সরে দাঁড়াল । সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবু উমাইয়ার কন্যা! তুমি কি আমাকে আসরের পরের দু- রাকআত সালাত সস্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ? (এর ব্যাপারটি হলো) আমার নিকট আবদুল কায়স গোত্রের কতিপয় লোক তাদের গোত্রের পক্ষ হতে ইসলাম গ্রহণ করতে এসেছিল। ফলে তারা আমাকে যুহরের পরের দু#39;রাকা’আতসালাত হতে ব্যস্ত (বিরত) রেখেছিল। আর এ হলো সেই দু-রাকআত।“[1] আবু মুহাম্মদকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন, আমি মত পোষণ করি সেই হাদীস অনুযায়ী, যা উমার কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে,“ফজরের সালাতের পর (থেকে) সূর্য (পূর্ণরূপে) উদিত হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নাই এবং আসরের সালাতের পর (থেকে) সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত নাই।“
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ১২৩৩; মুসলিম ৮৩৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৪৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৭৬, ১৫৭৪ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ وَبَعْدَ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭৪. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের আগে দু’রাকা’আত ও যুহরের পরে দু’রাকা’আত, মাগরিবের পরে তাঁর ঘরে (গিয়ে) দু’রাকাআত, ঈশার পরে দু’রাকা’আত এবং জুমু’আর সালাতের পরে ঘরে গিয়ে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৯৩৭; মুসলিম ৮৮২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৩৫, ৫৭৭৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৫৪, ২৪৬২, ২৪৭৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৯০
মূল আরবি
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ الثَّقَفِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا سَمِعَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا غَيْرَ الْفَرِيضَةِ إِلَّا لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ أَوْ بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ مَا بَرِحْتُ أُصَلِّيهِنَّ بَعْدُ وَقَالَ عَمْرٌو مِثْلَهُ وَقَالَ النُّعْمَانُ مِثْلَهُ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭৫. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিনী উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “প্রত্যেক মুসলিম বান্দা যে প্রতিদিন ফরয ছাড়াও ঐচ্ছিকভাবে (আরও) বারো রাকা’আত সালাত আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি বাড়ি থাকবে- অথবা জান্নাতে তার জন্য একটি বাড়ি বানানো হবে।“[1] উম্মু হাবীবাহ বলেন, এরপর আর কখনো (এ বারো রাকা’আত) সালাত আদায় করা আমি ছাড়িনি। আর আমরও অনুরূপ কথা বলেছেন। আবার নু’মানও অনুরূপ কথা বলেছেন।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম ৭২৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১২৪, ৭১৩৫, ৭১৩৮, ৭১৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৫১, ২৪৫২ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭৬. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের আগের চার রাকা’আত ও ফজরের পূর্বের দু’ রাকা’আত সালাত কখনো ছাড়তেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ্
তাখরীজ; আহমাদ ৬/৬৩, ১৪৮; তায়ালিসী ১/১১৩ নং ৫২২; তার সূত্রে বাইহাকী ৩/৪৭২; বুখারী ১১৮২; বুখারী সূত্রে বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৮৭১; আবু দাউদ ১২৫৩; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ১০/২৯ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ لِمَنْ شَاءَ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭৭. আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক দু’ আযানের (আযান ও ইকামাতের) মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে, প্রত্যেক দু’ আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে, প্রত্যেক দু’ আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে সেই ব্যক্তির জন্য যে ইচ্ছা করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ সকলেই বিশ্বস্ত। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী ৬২৪; মুসলিম ৮৩৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৫৯, ১৫৬০, ১৫৬১ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا قَالَ كَانَ الْمُؤَذِّنُ يُؤَذِّنُ لِصَلَاةِ الْمَغْرِبِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُومُ لُبَابُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَبْتَدِرُونَ السَّوَارِيَ حَتَّى يَخْرُجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ كَذَلِكَ قَالَ وَقَلَّ مَا كَانَ يَلْبَثُ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭৮. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে মুয়াযিযন যখন মাগরিবের আযান দিতো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠ সাহাবীগনের একটি দল দ্রুত স্তম্ভের নিকট যেতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত তারা এরূপ (করতেন)। তিনি বলেন: আর তিনি (আসতে) খুব সামান্য সময়ই দেরি করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৫০৩, ৬২৫; মুসলিম ৮২৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৮৯, ২৪৮৯ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُخْفِي مَا يَقْرَأُ فِيهِمَا وَذَكَرَتْ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ قَالَ سَعِيدٌ فِي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ
বাংলা অনুবাদ
১৪৭৯. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দু’ রাতা’আতে চুপে চুপে ক্বিরাআত পড়তেন। আর তিনি (দু’টি সূরা) উল্লেখ করলেন, “কু্ল ইয়া আইয়্যূহাল কাফিরূন।“ (সূরা আল কাফিরূন: ১) এবং [“কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ।“[1] সূরা আল ইখলাস:১)(বর্ণনাকারী) সাঈদ বলেন, অর্থা? ফজরের দু’রাকা’আত (সুন্নাত) সালাতে।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মাআনিল আছার ১/২৯৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৬১ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ حَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي سَجْدَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ بَعْدَ مَا يَطْلُعُ الْفَجْرُ وَكَانَتْ سَاعَةً لَا أَدْخُلُ فِيهَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
বাংলা অনুবাদ
১৪৮০. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হাফসাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর উদিত (সময়) হওয়ার পরে শুধু সংক্ষেপে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। সেই সময়টিতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রবেশ করতাম না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৬১৮; মুসলিম ৭২৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৩২, ৭০৩৬, ৭০৫৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৫৪, ২৪৬২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৯০ তে। এছাড়া পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
