সুনান আদ-দারিমী

পরিচ্ছেদ ৮২: হাদিস ১,৬২১-১,৬৪০

এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।

এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
হাদিস ১,৬২১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ

বাংলা অনুবাদ

১৬২১. আবী আইয়্যূব আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে তিনি অনূরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।

হাদিস ১,৬২২

মূল আরবি

خْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مَا بَيْنَ الْعِشَاءِ إِلَى الْفَجْرِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُسَلِّمُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَيُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ

বাংলা অনুবাদ

১৬২৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত ও ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে এগারো রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। আর তিনি এর প্রত্যেক দু’ রাকা’আতে সালাম ফেরাতেন। এক রাকা’আত বিতর পড়তেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ১৪৮৭ (অনূবাদে ১৪৮৪) নং এ। ((বুখারী, তাহাজ্জুদ, ১১৩৭; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন, ৭৪৯; তিরমিযী ৪৩৭; মালিক, সালাতুল লাইল হা/১৩- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৫৮৫ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))

হাদিস ১,৬২৩

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

বাংলা অনুবাদ

১৬২৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন রাকা’আত বিতর পড়তেন [“সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা“ সূরা আ’লা: ১], [“ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূণ।“ সূরা কাফিরূণ: ১] এবং [“ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।“ সূরা ইখলাছ: ১] দ্বারা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৫৫ তে। (( তিরমিযী, আবওয়াবুস সালাত ৪৬২; নাসাঈ, কিয়ামুল লাইল ৩/১৩৬; ইবনু মাজাহ, আহমাদ- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৫৮৬ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))

হাদিস ১,৬২৪

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ فِي كُلِّ الْوَقْتِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ

বাংলা অনুবাদ

১৬২৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের সকল অংশেই (প্রথম রাতে, মধ্য রাতে এবং শেষ রাতে) বিতর আদায় করেছেন। এবং (জীবনের) শেষের দিকে এসে তিনি সেহেরীর সময় বিতর আদায় করতেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা ।
তাখরীজ: বুখারী, বিতর ৯৯৬; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৪২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৭০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৪৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৮৮ তে।

হাদিস ১,৬২৫

মূল আরবি

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ الْعَطَّارُ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي أَبُو نَضْرَةَ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ الْوِتْرِ فَقَالَ أَوْتِرُوا قَبْلَ الْفَجْرِ

বাংলা অনুবাদ

১৬২৬. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন: “তোমরা ফজরের (সুবহে সাদিকের) পূর্বে বিতর আদায় করো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৭১; তায়ালিসী ১/১১৯ নং ৫৫৪; আবূ আউয়ানাহ ২/৩০৯; ইবনু আবী শাইবা ২/২৮৮; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৫৪; বাইহাকী, সালাত ২/৪৭৮; ইবনু খুযাইমা নং ১০৮৯; হাকিম ১/৩০১; আব্দুর রাযযাক নং ৪৫৮৯;তিরমিযী, সালাত ৪৬৮; নাসাঈ, কিয়ামুল লাইল ৩/২৩১; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৯/৬১।

হাদিস ১,৬২৬

মূল আরবি

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ زَكَرِيَّاءُ حَدَّثَنِي عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ يَقْرَأُ فِي الْأُولَى بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَفِي الثَّانِيَةِ بِقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَفِي الثَّالِثَةِ بِقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

বাংলা অনুবাদ

১৬২৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন রাকা’আত বিতর পড়তেন। এর প্রথম রাকা’আতে তিনি [“সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা“ সূরা আ’লা: ১], দ্বিতীয় রাকা’আতে [“ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূণ।“ সূরা কাফিরূণ: ১] এবং তৃতীয় রাকা’আতে [“ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।“ সূরা ইখলাছ: ১] পাঠ করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি ১৬২৭ (অনূবাদে ১৬২৩) নং এ গত হয়েছে।

হাদিস ১,৬২৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عُمَرَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُوتِرُ عَلَى الْبَعِيرِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَقُولُ بِهِ قَالَ نَعَمْ

বাংলা অনুবাদ

১৬২৮. ইবনু zwj;উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের পিঠে (আরোহী অবস্থায়) বিতরের সালাত আদায় করতেন।[1]
আবূ মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি এমত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, বিতর ৯৯৯; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭০০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৫৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪১৩, ২৫১৭ তে।

হাদিস ১,৬২৮

মূল আরবি

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ السَّعْدِيِّ قَالَ قُلْتُ لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ مَا تَذْكُرُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَمَلَنِي عَلَى عَاتِقِهِ فَأَخَذْتُ تَمْرَةً مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ فَأَدْخَلْتُهَا فِي فَمِي فَقَالَ أَلْقِهَا أَمَا شَعَرْتَ أَنَّا لَا تَحِلُّ لَنَا الصَّدَقَةُ قَالَ وَكَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ

বাংলা অনুবাদ

১৬২৯. আবীল হাওরা’ আস সা’দী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাসান ইবনু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন্ বিষয়টি স্মরণে রেখেছেন?
তিনি বললেন: তিনি আমাকে তাঁর কাঁধে বহন করছিলেন, তখন আমি সাদাকা’র খেজুর থেকে একটি খেজুর তুলে নিয়েছিলাম। অতঃপর তা আমার মুখে পুরে দিয়েছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: “সেটি ছুঁড়ে ফেলে দাও। তুমি কি জানো না যে, আমাদের জন্য সাদাকাহ হালাল নয়?“
তিনি বলেন, আর তিনি এ দু’আটি দিয়ে zwj;দু’আ করতেন: “আল্লাহুম্মা ইহদিনী ফী মান হাদাইতা, ওয়া ’আফিনী ফী মান ’আফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফী মান তাওয়াল্লাইতা। ওয়া বারিক লী ফী মা আ’ত্বইতা, ওয়া ক্বিনী শারর মা ক্বযাইতা। ইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা ইয়্যূক্বযা আলাইকা। ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা, তাবারকতা ওয়া তা’আলাইতা।“[1]
(অর্থ: হে আল্লাহ আপনি যাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন, আমাকে তাদের সাথে হেদায়েত করুন। আপনি যাদেরকে নিরাপত্তা দান করেছেন, আমাকেও তাদের সাথে নিরাপত্তা দান করুন। আপনি যাদেরকে আপনার নৈকট্য দান করেছেন, আমাকেও তাদের সাথে আপনার নৈকট্য দান করুন। আর আপনি আমাকে যা দান করেছেন, তাতে বরকত দান করুন। আর আপনি যে (তাক্বদীর) নির্ধারণ করেছেন, তার অকল্যাণ থেকে আমাকে বাঁচান। আপনিই নির্ধারণ করেন, আপনার বিরুদ্ধে নির্ধারণ করা যায় না। আর নিশ্চয়ই আপনি যাকে নৈকট্য দান করেছেন, তাকে কেউ অপমানিত করতে পারে না। আর আপনি মহা বরকতময় এবং সর্বোচ্চ মহান।)
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৫৯, ৬৭৬২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯৪৫ ও মাওয়ারিদুয যাম্’আন নং ৫১২,৫১৩; পরবর্তী হাদীস দু’টিও দেখুন। ((আবু দাউদ, সালাত ১৪২৫-১৪২৬; তিরমিযী, আবওয়াবুস সালাত ৪৬৪; নাসাঈ, কিয়ামুল লাইল ৩/২৪৯; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১১৭৮; আহমাদ ১/১৯৯-২০০; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা পৃ: ১৪২; মারওয়াযী, বিতর পৃ: ১৩৪; হাকিম, ৩/১৭২ ও ৪/৯৯; বাইহাকী, সুনান ২/২০৯; হাকিম একে সহীহ বলেছেন। শাইখ আহমেদ শাকিরও (তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : তিরমিযী ২/৩২৯ তে) একে সহীহ বলেছেন।- ফাওয়ায আহমেদের টীকা, দারেমী হা/১৫৯৩।- অনুবাদক))

হাদিস ১,৬২৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ فِي الْقُنُوتِ فِي الْوِتْرِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩০. হাসান ইবনু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে কিছু (দু’আর) বাক্যাবলী শিখিয়েছিলেন, যেগুলো আমি কুনুতে পড়ি।’ এরপর তিনি (পূর্বের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।

হাদিস ১,৬৩০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ السَّعْدِيِّ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ فِي قُنُوتِ الْوِتْرِ اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو الْحَوْرَاءِ اسْمُهُ رَبِيعَةُ بْنُ شَيْبَانَ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩১. (অপর সনদে) হাসান ইবনু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে কিছু (দু’আর) বাক্যাবলী শিখিয়েছিলেন, যেগুলো আমি বিতরের কুনুতে পড়ি। (তা হলো:) “আল্লাহুম্মা ইহদিনী ফী মান হাদাইতা, ওয়া ’আফিনী ফী মান ’আফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফী মান তাওয়াল্লাইতা। ওয়া বারিক লী ফী মা আ’ত্বইতা, ওয়া ক্বিনী শারর মা ক্বযাইতা। ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা ইয়্যূক্বযা আলাইকা। ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা, তাবারকতা ওয়া তা’আলাইতা।“[1]
((অর্থ: হে আল্লাহ আপনি যাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন, আমাকে তাদের সাথে হেদায়েত করুন। আপনি যাদেরকে নিরাপত্তা দান করেছেন, আমাকেও তাদের সাথে নিরাপত্তা দান করুন। আপনি যাদেরকে আপনার নৈকট্য দান করেছেন, আমাকেও তাদের সাথে আপনার নৈকট্য দান করুন। আর আপনি আমাকে যা দান করেছেন, তাতে বরকত দান করুন। আর আপনি যে (তাক্বদীর) নির্ধারণ করেছেন, তার অকল্যাণ থেকে আমাকে বাঁচান। আপনিই নির্ধারণ করেন, আপনার বিরুদ্ধে নির্ধারণ করা যায় না। আর নিশ্চয়ই আপনি যাকে নৈকট্য দান করেছেন, তাকে কেউ অপমানিত করতে পারে না। আর আপনি মহা বরকতময় এবং সর্বোচ্চ মহান।))
আবূ মুহাম্মদ বলেন, আবুল হাওরা’র নাম রবী’আ ইবনু শাইবান।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।

হাদিস ১,৬৩১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ثَوْبَانَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ هَذَا السَّهَرَ جَهْدٌ وَثِقَلٌ فَإِذَا أَوْتَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ فَإِنْ قَامَ مِنْ اللَّيْلِ وَإِلَّا كَانَتَا لَهُ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩২. ছাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “(রাত্রি) জাগরণ অতি কষ্টকর এবং অত্যন্ত ভারী। ফলে যখন তোমাদের কেউ বিতর আদায় করে, এরপর সে যেন দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়। এরপর যদি সে রাতে (সালাতে) দণ্ডায়মান হতে পারে, (তবে তো ভালো); নতুবা এ দু’ রাকা’আতই তার জন্য (যথেষ্ট) হবে।“[1]
আর বর্ণিত হয়েছে: هَذَا السَّفَرَ (এই সফর)। তবে আমি বলি: السَّهَرَ (রাত্রি জাগরণ)।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৭৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৮৩; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩০২১, ৩৫২৪ তে। ((ইহসান, ৪/১২২ নং ২৫৬৮; ইবনু খুযাইমা ২/১৫৯ নং ১১০৬; বাযযার ১/৩৩৩ নং ৬৯২; তাবারাণী, কাবীর ২/৯২ নং ১৪১০; বাইহাকী, সালাত ৩/৩৩; হাইছামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৬৩ তিনি বলেন: এটি বাযযার বর্ণনা করেছেন, এতে লাইছের কাতিব আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ রয়েছে; তার দলীলযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।... মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৮৩ নং এ টীকা হতে। -অনুবাদক))

হাদিস ১,৬৩২

মূল আরবি

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ ابْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ عَلَى أَحَدٍ أَوْ يَدْعُوَ لِأَحَدٍ قَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ فَرُبَّمَا قَالَ إِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ وَسَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ وَيَجْهَرُ بِذَلِكَ يَقُولُ فِي بَعْضِ صَلَاتِهِ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا لِحَيَّيْنِ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى لَيْسَ لَكَ مِنْ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩৩. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কারো বিপক্ষে বদদু’আ করার ইচ্ছা করতেন কিংবা কারো জন্য দু’আ করতে চাইতেন, তখন তিনি রুকূ’র পরে ‘কুনুত’ পড়তেন। কখনো “সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’“ বলার পরেই তিনি (দু’আয়) বলতেন: ‘‘হে আল্লাহ্! ওয়ালীদ ইবনুল ওয়ালীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম, আইয়াশ ইবনু আবূ রবীআ ও (মক্কা’র) অসহায় মু’মিনদের নাজাত (মুক্তি) দিন। হে আল্লাহ্! মুযার গোত্রের উপর আপনার পাকড়াও জোরদার করুন এবং তাদের উপর ইউসুফ (আ:) এর সময়কার দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ দিন।’’ তিনি উচ্চ স্বরে এ দু’আ করতেন। আর তিনি আরবের গোত্রসমূহের মধ্য থেকে কোনো কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে ফজরের সালাতে (দু’আ কুনুতে) বলতেন: “হে আল্লাহ! অমুক অমুকের উপর লা’নত বর্ষণ করুন।“ ফলে আল্লাহ তা’আলা (এ আয়াত) নাযিল করলেন: [“এ কার্যে তোমার কোনোই কর্তৃত্ব নেই যে, তিনি তাদেরকে ক্ষমা করেন অথবা শাস্তি প্রদান করেন; কেননা, নিশ্চয়ই তারা অত্যাচারী।“][1] (সূরা: আলে ইমরান: ১২৮)
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, আযান ৭৯৭, দাওয়াত ৬৩৯৩; মুসলিম, মাসাজিদ ৬৭৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৭৩, ৫৯৯৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৭২, ১৯৮৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৬৮ তে।

হাদিস ১,৬৩৩

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنْ الْقُنُوتِ فَقَالَ قَبْلَ الرُّكُوعِ قَالَ فَقُلْتُ إِنَّ فُلَانًا زَعَمَ أَنَّكَ قُلْتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ قَالَ كَذَبَ ثُمَّ حَدَّثَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَنَتَ شَهْرًا بَعْدَ الرُّكُوعِ يَدْعُو عَلَى حَيٍّ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩৪. আসিম রাহি. বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ‘কুনুত’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি উত্তরে বললেন: “(তা) রুকূ’র পূর্বে।“ তিনি (আসিম) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, অমুকের ধারণা, আপনি নাকি বলেছেন, (তা হচ্ছে) রুকূ’র পরে। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে। এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের সালাতে) এক মাস ধরে রুকূ’র পরে কুনূত (-এ নাযেলা) পড়েছেন। আর এতে তিনি বনী সুলাইম গোত্রের বিরূদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, বিতর ১০০১, ১০০২, ১০০৩; মুসলিম, মাসাজিদ ৬৭৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯২১, ৩০২৮, ৩০৫৭, ৩০৬৯, ৩০৮২, ৩০৯৬, ৩১১৫, ৩২৩১, ৩৯১৬, ৩৯৯৪, ৪০০০, ৪০২৬, ৪০৩১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৭৩, ১৯৮২, ১৯৮৫ তে।

হাদিস ১,৬৩৪

মূল আরবি

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْنُتُ فِي الصُّبْحِ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩৫. বারা’আ ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালের (ফজরের) সালাতে কুনূত (-এ নাযেলা) পড়তেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাজিদ ৬৭৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৭৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৮০ তে।

হাদিস ১,৬৩৫

মূল আরবি

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ شُعْبَةَ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩৬. শু’বাহ হতে, তার সনদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। পরের হাদীসটিও দেখুন।

হাদিস ১,৬৩৬

মূল আরবি

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدٍ قَالَ سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَقَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ قَالَ نَعَمْ فَقِيلَ لَهُ أَوَ قُلْتَ لَهُ قَبْلَ الرُّكُوعِ أَوْ بَعْدَ الرُّكُوعِ قَالَ بَعْدَ الرُّكُوعِ يَسِيرًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ بِهِ وَآخُذُ بِهِ وَلَا أَرَى أَنْ آخُذَ بِهِ إِلَّا فِي الْحَرْبِ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩৭. মুহাম্মদ রাহি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সকালের (ফজরের) সালাতে কুনূত (-এ নাযেলা) পড়েছেন? তিনি উত্তরে বললেন: হাঁ। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, রুকূ’র পূর্বে না-কি রুকূ’র পরে? তিনি বললেন, রুকূ’র পরে সংক্ষিপ্তভাবে।
আবূ zwj;মুহাম্মদ বলেন, আমিও এ মত পোষণ করি। আর একমাত্র যুদ্ধ ক্ষেত্রেই এটি অবলম্বন করা যায় (কুনূতে নাযেলা পড়া যায়) বলে আমি মনে করি।

হাদিস ১,৬৩৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ الْأَصَمِّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَطْعَمُ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ وَكَانَ إِذَا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ لَمْ يَطْعَمْ حَتَّى يَرْجِعَ فَيَأْكُلَ مِنْ ذَبِيحَتِهِ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩৮. আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদার পিতা (বুরাইদা আল আসলামী) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঈদুল) ফিতরের দিন (সালাতের উদ্দেশ্যে) বের হওয়ার পূর্বে কিছু খেয়ে যেতেন আর কুরবানীর (ঈদের) দিন (ঈদের সালাত শেষ করে) ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি কিছু খেতেন না। এরপর ফিরে এসে তিনি তাঁর কুরবানীর গোশত থেকে খেতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ উক্ববাহ’র যঈফ হওয়ার কারণে। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৫৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১২, ২৮১৩, ২৮১৪ তে।

হাদিস ১,৬৩৮

মূল আরবি

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ حَفْصِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ

বাংলা অনুবাদ

১৬৩৯. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত; তবে ইবনু ইসহাক এটি ‘আন‘আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি হলেন মুদাল্লিস। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।

হাদিস ১,৬৩৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ شَهِدْتُ الصَّلَاةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ

বাংলা অনুবাদ

১৬৪০. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক ঈদের দিনের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি আযান ও ইকামাত ছাড়াই খুতবার পূর্বে সর্বপ্রথম সালাত আদায় করা আরম্ভ করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৫৩; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৮৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৯ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৩৩ তে। সেখানকার টীকা দেখুন।

হাদিস ১,৬৪০

মূল আরবি

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنِي ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنِي أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ بَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ يَوْمَ الْعِيدِ ثُمَّ خَطَبَ فَرَأَى أَنَّهُ لَمْ يُسْمِعْ النِّسَاءَ فَأَتَاهُنَّ فَذَكَّرَهُنَّ وَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ أَنْ يَتَصَدَّقْنَ وَبِلَالٌ قَابِضٌ بِثَوْبِهِ فَجَعَلَتْ الْمَرْأَةُ تَجِيءُ بِالْخُرْصِ وَالشَّيْءِ ثُمَّ تُلْقِيهِ فِي ثَوْبِ بِلَالٍ

বাংলা অনুবাদ

১৬৪১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ঈদের দিন খুতবার পূর্বে সর্বপ্রথম দু রাকা’আত সালাত দিয়ে শুরু করেন। এরপর তিনি খুতবা দেন। তারপর যখন তাঁর মনে হলো যে, মহিলারা তাঁর কথা শুনতে পাননি, তখন তিনি তাদের নিকট এলেন এবং তাদেরকে উপদেশ zwj;দিলেন, নসীহত করলেন এবং তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেনো সাদাকা করে। সেই সময় বিলাল তার কাপড়ে তা সংগ্রহ করছিলেন। তখন এক এক করে মহিলাগণ তাদের আংটি ও যা ছিল তা-ই নিয়ে আসতে লাগলেন এবং সেগুলি বিলালের কাপড়ে ছুঁড়ে দিতে লাগলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, ঈলম ৯৮; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৮৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮২৩, ২৮২৪ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৭২ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮২ তে।