সুনান আদ-দারিমী

পরিচ্ছেদ ৯৬: হাদিস ১,৯০১-১,৯২০

এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।

এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
হাদিস ১,৯০১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ قَالَ إِنِّي لَأُقَبِّلُكَ وَإِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ وَلَكِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ

বাংলা অনুবাদ

১৯০১. ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (হাজরে আসওয়াদে চুমা দেওয়ার সময়) বলেন, ‘আমি তোমাকে চুমা দিচ্ছি অথচ আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একটি পাথর মাত্র (অর্থাৎ- তোমার কল্যাণ-অকল্যাণের কোনো ক্ষমতা নেই)। কিন্তু আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমাকে চুমা দিতে দেখেছি, (তাই আমিও তোমাকে চুমা দিচ্ছি)।[1]
[1]তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৯৭; মুসলিম, হাজ্জ ১২৭০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৯, ২১৭, ২১৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং৩৮২১, ৩৮২২; মুসনাদুল হুদাইদী ২৪১ তে।

হাদিস ১,৯০২

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ قَالَ رَأَيْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ يَسْتَلِمُ الْحَجَرَ ثُمَّ يُقَبِّلُهُ وَيَسْجُدُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذَا فَقَالَ رَأَيْتُ خَالَكَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ يَفْعَلُهُ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ فَعَلَهُ ثُمَّ قَالَ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ وَلَكِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ هَذَا

বাংলা অনুবাদ

১৯০২. জা’ফর ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উছমান বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা’ফর রাহি. কে দেখেছি, তিনি হাজরে আসওয়াদ ইসতিলাম করলেন অতঃপর এতে চুমা দিলেন ও এর উপর সাজদা করলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, এটা আবার কি (করলেন)? জবাবে তিনি বললেন, ‘আমি তোমার মামা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা কে এটি করতে দেখলাম। এরপর তিনি বললেন, ‘আমি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে এটি করতে দেখলাম। এরপর তিনি (উমার) বললেন, ‘আমি জানি তুমি শুধুই একটি পাথর। কিন্তু আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু খুযাইমা নং ২৭১৪; বাযযার, বাহরুয যুখ্খার নং ২১৫; হাকিম ১/৪৫৫; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/৭৪ ; তায়ালিসী, ১/২১৫ নং ১০৪৩; আবূ ইয়ালা নং ২১৯; উকাইলী, আদ দুয়া’ফা ১/১৮৩ মুরসাল হিসেবে সহীহ সনদে; আব্দুর রাযযাক নং ৮৯১২ সহীহ সনদে ইবনু আব্বাসের আমল হিসেবে; শাফিঈ, আল উম্ম ২/১৭১; আর হাকিম ১/৪৭৩ তে ইবনু আব্বাস সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এরূপ করেছেন।’ এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন, যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন, মুসনাদূল মাউসিলী নং ১৮৯, ২১৭, ২১৮, ২১৯, ২২০, ২২১; মাজমাউয যাওয়াইদ ৫৫৪৯, ৫৫৫০।

হাদিস ১,৯০৩

মূল আরবি

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ وَرَدِيفُهُ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَأَنَاخَ فِي أَصْلِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَسَعَى النَّاسُ فَدَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِلَالٌ وَأُسَامَةُ فَقُلْتُ لِبِلَالٍ مِنْ وَرَاءِ الْبَابِ أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ بَيْنَ السَّارِيَتَيْنِ

বাংলা অনুবাদ

১৯০৩. আবদুল্লাহ্ ইবন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করেন আর এ সময় তাঁর পিছনে আরোহী ছিলেন উসামা ইবনু যায়িদ। অতঃপর তিনি তাঁর উটকে কাবা’র মূল অংশের মধ্যে বসালেন। এরপর ইবনু উমার বলেন, তখন লোকেরা ছুটে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিলাল ও উসামা রা: সকলেই (কা’বায়) প্রবেশ করলেন। অতঃপর আমি বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে দরজার পিছনে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন্ স্থানে সালাত আদায় করলেন? তখন জবাবে তিনি বলেন, দু’ স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সালাত ৩৯৭; মুসলিম, হাজ্জ ১৩২৯। এছাড়া, ইবনু খুযাইমা নং ৩০০৮, ৩০০৯, ৩০১০, ৩০১১; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ৩/২৬০ নং ৪৪৯৬; হাকিম ৩/৩২৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭০৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২২০, ৩২০২, ৩২০৩, ৩২০৪, ৩২০৫ তে।

হাদিস ১,৯০৪

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَيْتَ هُوَ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَبِلَالٌ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْحَجَبِيُّ فَذَكَرَ نَحْوَهُ

বাংলা অনুবাদ

১৯০৪. আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল্লাহ’র মধ্যে প্রবেশ করেন এবং এ সময় তাঁর সংগে ছিলেন উসামা ইবন যায়িদ এবং বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং উসমান ইবন তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন কা‘বার দ্বাররক্ষী। এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।

হাদিস ১,৯০৫

মূল আরবি

حَدَّثَنِي فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا حَدَاثَةُ عَهْدِ قَوْمِكِ بِالْكُفْرِ لَنَقَضْتُ الْكَعْبَةَ ثُمَّ لَبَنَيْتُهَا عَلَى أُسِّ إِبْرَاهِيمَ فَإِنَّ قُرَيْشًا حِينَ بَنَتْ اسْتَقْصَرَتْ ثُمَّ جَعَلَتْ لَهَا خَلْفًا

বাংলা অনুবাদ

১৯০৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: “যদি তোমার কওম (গোত্র)-এর যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হতো, তবে অবশ্যই আমি কা’বাকে ভেঙ্গে দিয়ে ইবরাহীম (আ:) এর মূল ভিত্তির উপর তা পুন:নির্মাণ করতাম। কারণ, কুরাইশরা কা’বা নির্মাণ করার সময় তা সঙ্কুচিত করে ফেলেছিল এবং তাকে পিছনে রেখে দিয়েছেল।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ১২৬; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৩৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৬৩, ৪৬২৭, ৪৬২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮১৫, ৩৮১৬, ৩৮১৭, ৩৮১৮ তে।

হাদিস ১,৯০৬

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ الْأَشْعَثِ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْجَدْرِ أَمِنَ الْبَيْتِ هُوَ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ فَمَا لَهُمْ لَمْ يُدْخِلُوهُ فِي الْبَيْتِ فَقَالَ إِنَّ قَوْمَكِ قَصَّرَتْ بِهِمْ النَّفَقَةُ قُلْتُ فَمَا شَأْنُ بَابِهِ مُرْتَفِعًا قَالَ فَعَلَ ذَلِكَ قَوْمُكِ لِيُدْخِلُوا مَنْ شَاءُوا وَيَمْنَعُوا مَنْ شَاءُوا وَلَوْلَا أَنَّ قَوْمَكِ حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ فَأَخَافُ أَنْ تُنْكِرَ قُلُوبُهُمْ لَعَمَدْتُ إِلَى الْحِجْرِ فَجَعَلْتُهُ فِي الْبَيْتِ وَأَلْزَقْتُ بَابَهُ بِالْأَرْضِ

বাংলা অনুবাদ

১৯০৬. ‘আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্zwnj; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করলাম, (হাতীমের) দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, তিনি বললেনঃ “হাঁ।“ আমি বললাম, তা‘হলে তারা একে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করল না কেন? তিনি বললেনঃ “তোমার গোত্রের (অর্থাৎ কুরাইশের কা‘বা নির্মাণের সময়) অর্থ নিঃশেষ হয়ে যায়।“ আমি বললাম, কা‘বার দরজা এত উঁচু হওয়ার কারণ কি? তিনি বললেনঃ “তোমার কওম তা এ জন্য করেছে যে, তারা যাকে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করতে দিবে এবং যাকে ইচ্ছা তা থেকে বাধা দিবে। যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়্যাতের নিকটবর্তী না হত এবং আশঙ্কা না হত যে, তারা একে ভাল মনে করবে না, তা হলে আমি হিজর পর্যন্ত মজবুত করে নির্মাণ করতাম এবং একে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর করে দিতাম।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।

হাদিস ১,৯০৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ التَّحْصِيبُ لَيْسَ بِشَيْءٍ إِنَّمَا هُوَ مَنْزِلٌ نَزَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد التَّحْصِيبُ مَوْضِعٌ بِمَكَّةَ وَهُوَ مَوْضِعٌ بِبَطْحَاءَ

বাংলা অনুবাদ

১৯০৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, ‘তাহসীব’ আসলে তেমন কিছুই নয়, কেবল একটি স্থান মাত্র যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবতরণ করেছিলেন।[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, এটি মক্কার একটি স্থান, আর যা বাতহা’ উপত্যকায় অবস্থিত।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭৬৬; মুসলিম, হাজ্জ ১৩১২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৭; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫০৬ তে।

হাদিস ১,৯০৮

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا أَبُو كُدَيْنَةَ هُوَ يَحْيَى بْنُ الْمُهَلَّبِ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِنًى خَمْسَ صَلَوَاتٍ

বাংলা অনুবাদ

১৯০৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত, তবে ইয়াহইয়া বলেছেন: ‘শু’বাহ বলেছেন, হাকাম মিকসাম হতে পাঁচটির অধিক হাদীস শোনেননি।’ এ বলে শু’বাহ পাঁচটি গণনা করেছেন যার মধ্যে এ হাদীসটি ছিল না।“
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৯৭, ৩০৩; ইবনু খুযাইমা নং ২৭৯৯; হাকিম ১/৪৬১; হাকিম একে বুখারী শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন, যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৮০; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯১১; পুর্ণ তাখরীজের জন্য মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪২৬ হাদীসটি দেখুন।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে, যা ইবনু খুযাইমা নং ২৭৯৮, হাকিম ১/৪৭১ ইবনুয যুবাইর হতে সহীহ সনদে; দেখুন, ফাতহুল বারী ৩/৫৮০, ৫/১৩১-১৩৪।

হাদিস ১,৯০৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ قَالَ قُلْتُ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ حَدِّثْنِي بِشَيْءٍ عَقَلْتَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيْنَ صَلَّى الظُّهْرَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ قَالَ بِمِنًى قَالَ قُلْتُ فَأَيْنَ صَلَّى الْعَصْرَ يَوْمَ النَّفْرِ قَالَ بِالْأَبْطَحِ ثُمَّ قَالَ اصْنَعْ مَا يَصْنَعُ أُمَرَاؤُكَ

বাংলা অনুবাদ

১৯০৯. আব্দুল আযীয ইবনু রুফা’ঈ বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আপনি আমাকে এমন একটি বিষয় বলুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মনে রেখেছেন। তিনি ‘ইয়ামুত তারবিয়াহ’ তে (৮ই জিলহাজ্জ) কোথায় যুহরের সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, ইয়ামুন নাফর’ (মিনা হতে যাত্রা করার দিন) তিনি কোথায় আসর সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন, ‘আবতাহ’ (উপত্যকা)-তে। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের (হাজ্জের) আমীরগণ যা করেন, তোমরাও তা করো।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৫৩; মুসলিম, হাজ্জ ১৩০৯। এছাড়া ইবনু খুযাইমা নং ২৭৯৬, ২৭৯৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪০৫৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৪৬ তে। পরবর্তী টিকাটিও দেখুন।

হাদিস ১,৯১০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِي خَالِدٌ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ وَرَقَدَ رَقْدَةً بِمِنًى ثُمَّ رَكِبَ إِلَى الْبَيْتِ فَطَافَ بِهِ

বাংলা অনুবাদ

১৯১০. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে যুহর, আসর, মাগরিব ও ঈশার সালাত আদায় করলেন এবং সামান্য সময় ঘুমিয়ে নিলেন। অতঃপর বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন এবং তিনি (সেখানে পৌঁছে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭৫৬, ১৭৬৪।
আমরা এর শাহীদ হিসেবে ইবনু উমারের হাদীসিটর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০/৬০ নং ৫৬৯৪ তে।

হাদিস ১,৯১১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ أَبِي الْأَسْوَدِ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَصَلَّى مَعَ عُثْمَانَ بِمِنًى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ لَقَدْ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْمَكَانِ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ عُمَرَ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ تَفَرَّقَتْ بِكُمْ الطُّرُقُ فَلَيْتَ حَظِّي مِنْ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ رَكْعَتَانِ مُتَقَبَّلَتَانِ

বাংলা অনুবাদ

১৯১১. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মিনায় উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সঙ্গে চার রাকা’আত সালাত আদায় করার পরে বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আমি এ স্থানে দু’ দু’ রাকা’আত করে সালাত আদায় করেছি, আবী বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে আমি এ স্থানে দু’ দু’ রাকা’আত করে সালাত আদায় করেছি, এবং উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথেও আমি এ স্থানে দু’ দু’ রাকা’আত করে সালাত আদায় করেছি। এরপর (তাঁদের) সুন্নাত তোমাদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে। হায়! কতই না ভাল হতো যদি চার রাকা’আতের পরিবর্তে দু’ রাকা’আতই মাকবুল সালাত হতো![1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, তাকসীরুস সালাত ১০৮৪; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৯৫। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৯৪ তে।
আনাস (রা:) ও থেকে এ বাবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪২৭৪ তে এবং ইবনু উমার থেকেও যেটি পরবর্তী হাদীস।

হাদিস ১,৯১২

মূল আরবি

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَأَبَا بَكْرٍ رَكْعَتَيْنِ وَعُمَرَ رَكْعَتَيْنِ وَعُثْمَانَ رَكْعَتَيْنِ صَدْرًا مِنْ إِمَارَتِهِ ثُمَّ أَتَمَّهَا بَعْدُ

বাংলা অনুবাদ

১৯১২. সালিমের পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনু উমার) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনায় দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন, আবী বাকর রা: দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন, উমার রা: দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন এবং উছমান রা: তাঁর শাসনামলের প্রথম দিকে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন, এরপর পরবর্তীতে তিনি পূর্ণ (চার রাকা’আত) সালাত আদায় করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, তাকসীরুস সালাত ১০৮২; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৯৪। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৫৮, ৩৮৯৩ তে।

হাদিস ১,৯১৩

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مِنًى فَمِنَّا مَنْ يُكَبِّرُ وَمِنَّا مَنْ يُلَبِّي

বাংলা অনুবাদ

১৯১৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মিনা হতে বের হলাম, তখন আমাদের কেউ কেউ তাকবীর পাঠ করছিলেন, আর কেউ কেউ তালবিয়া পাঠ করছিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩, ২/২২; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৫০; ইবনু খুযাইমা নং ২৮০৫; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮৪; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮১৬।

হাদিস ১,৯১৪

মূল আরবি

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الثَّقَفِيُّ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ وَنَحْنُ غَادِيَانِ مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَاتٍ عَنْ التَّلْبِيَةِ كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَانَ يُلَبِّي الْمُلَبِّي فَلَا يُنْكَرُ عَلَيْهِ وَيُكَبِّرُ الْمُكَبِّرُ فَلَا يُنْكَرُ عَلَيْهِ

বাংলা অনুবাদ

১৯১৪. মুহাম্মদ ইবনু আবী বাকর আস সাকাফী বলেন, আমরা যখন সকালে মিনা হতে আরাফাত অভিমুখে যাচ্ছিলাম, তখন আমি আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে তালবিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে থাকা অবস্থায় (এ সময়) কী করেছিলেন? তিনি বললেন, তালবিয়া পাঠকারী তালবিয়া পড়ছিলেন, কিন্তু তাতে আপত্তি করা হয়নি। আবার তাকবীর পাঠকারী তাকবীর পাঠ করছিলেন, কিন্তু তাতেও আপত্তি করা হয়নি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ৪৩; বুখারী, সালাতুল ঈদাইন ৯৭০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮৫। এছাড়া, বাইহাকী, মা’রিফাহ নং ১০০৬০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৪৭ তে।

হাদিস ১,৯১৫

মূল আরবি

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ قَالَ جُبَيْرٌ أَضْلَلْتُ بَعِيرًا لِي فَذَهَبْتُ أَطْلُبُهُ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاقِفًا مَعَ النَّاسِ بِعَرَفَةَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ إِنَّ هَذَا لَمِنْ الْحُمْسِ فَمَا شَأْنُهُ هَا هُنَا

বাংলা অনুবাদ

১৯১৫. জুবায়র (ইবন মুতঈম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আমার একটি উট হারিয়ে ফেলি। ফলে আমি (আরাফায়) তা তালাশ করতে বের হলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম, সেখানে অবস্থান করছেন। আমি বললাম, ইনিও তো কুরায়শদের একজন, তাহলে তাঁর অবস্থান এখানে কেন?[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ৪৩; বুখারী, সালাতুল ঈদাইন ৯৭০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮৫।

হাদিস ১,৯১৬

মূল আরবি

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَى ثُمَّ قَعَدَ لِلنَّاسِ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَنْحَرَ قَالَ لَا حَرَجَ ثُمَّ جَاءَهُ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ لَا حَرَجَ قَالَ فَمَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ إِلَّا قَالَ لَا حَرَجَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ عَرَفَةَ مَوْقِفٌ وَكُلُّ مُزْدَلِفَةَ مَوْقِفٌ وَمِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ وَكُلُّ فِجَاجِ مَكَّةَ طَرِيقٌ وَمَنْحَرٌ

বাংলা অনুবাদ

১৯১৬. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (কোরবানীর দিন) পাথর নিক্ষেপ শেষে লোকেদের উদ্দেশ্যে বসলেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি কোরবানী করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করেয়েছি। তিনি বলেনঃ “কোন দোষ নেই।“ অপর এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে কোরবানী করেছি। তিনি বলেনঃ “কোন দোষ নেই।“
তিনি (জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, সেদিন যেকোন (অনুষ্ঠান কোন অনুষ্ঠানের আগে বা পরে সম্পন্ন করার) ব্যাপারেই জিজ্ঞাসা করা হোক, তিনি বলেনঃ “কোন দোষ নেই।“এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আরাফাতের গোটা এলাকাই অবস্থানস্থল এবং মুযদালিফার সমস্ত এলাকাও অবস্থানস্থল। আর মিনার সমস্ত এলাকাই কোরবানীর স্থান এবং মক্কার প্রতিটি প্রশস্ত সড়কই রাস্তা এবং কোরবানীর স্থান।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৭৮ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১০১২ তে। (মুসলিম , হাজ্জ ১২১৮; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৩৬-১৯৩৭; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০৪৮- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৮৮০ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস হতে বুখারী, হাজ্জ ১৭২১, এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৭১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৭৬ তে।

হাদিস ১,৯১৭

মূল আরবি

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ كَانَ رَدِيفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَفَاضَ مِنْ عَرَفَةَ وَكَانَ يَسِيرُ الْعَنَقَ فَإِذَا أَتَى عَلَى فَجْوَةٍ نَصَّ

বাংলা অনুবাদ

১৯১৭. উসামা ইবনে যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাহনের পিছনে আরোহী ছিলেন। আরাফাত হতে প্রত্যাবর্তন করার সময় তিনি জন্তুযানে আরোহিত অবস্থায় কিছুটা দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রম করতেন। আর উন্মুক্ত জায়গা পেলে তিনি (আগের তুলনায় অধিক) দ্রুত চলতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ১৮৫; বুখারী, হাজ্জ ১৬৬৬, জিহাদ ২৯৯৯, মাগাযী ৪৪১৩; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৫৮-২৫৯; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯২৩; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ১০০৮৯; আহমাদ ৫/২০৫; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮৬ (২৮৩); ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০১৭।

হাদিস ১,৯১৮

মূল আরবি

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ أَنَّهُ سَأَلَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ قَالَ أَخْبِرْنِي عَشِيَّةَ رَدِفْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ فَعَلْتُمْ أَوْ صَنَعْتُمْ قَالَ جِئْنَا الشِّعْبَ الَّذِي يُنِيخُ النَّاسُ فِيهِ لِلْمُعَرَّسِ فَأَنَاخَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاقَتَهُ ثُمَّ بَالَ وَمَا قَالَ أَهْرَاقَ الْمَاءَ ثُمَّ دَعَا بِالْوَضُوءِ فَتَوَضَّأَ وُضُوءًا لَيْسَ بِالسَّابِغِ جِدًّا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ الصَّلَاةَ قَالَ الصَّلَاةُ أَمَامَكَ قَالَ فَرَكِبَ حَتَّى قَدِمْنَا الْمُزْدَلِفَةَ فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَنَاخَ وَالنَّاسُ فِي مَنَازِلِهِمْ فَلَمْ يَحِلُّوا حَتَّى أَقَامَ الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ فَصَلَّى ثُمَّ حَلَّ النَّاسُ قَالَ قُلْتُ أَخْبِرْنِي كَيْفَ فَعَلْتُمْ حِينَ أَصْبَحْتُمْ قَالَ رَدِفَهُ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ فَانْطَلَقْتُ أَنَا فِي سُبَّاقِ قُرَيْشٍ عَلَى رِجْلَيَّ

বাংলা অনুবাদ

১৯১৮. কুরাইব থেকে বর্ণিত। তিনি উসামা ইবনু যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সওয়ারীর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন তখন আরাফাতের দিন সন্ধায় কি করেছিলেন? তিনি বললেন, লোকেরা ‘মুয়ারিরস’ নামক মসজিদের (মাগরিবের নামায পড়ার) জন্য উট থামালো, আমরা সে উপত্যকার গিরিপথে আসলাম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার উট থামালেন এবং পেশাব করলেন। -আর (উসামা) পানি ঢালার কথা এখানে উল্লেখ করেননি। তারপর তিনি উযুর পানি আনালেন এবং হালকাভাবে অযু করলেন –অতি উত্তমরূপে ওযু করলেন না। তখন আমি বললাম রাসুলুল্লাহ! সালাতের সময় হয়েছে। তিনি বললেন, “সালাত (এর স্থান) তোমার সম্মুখে।“ তারপর তিনি সওয়ার হলেন এবং আমরা মুযদালিফায় এসে পৌছলাম। এরপর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। তারপর লোকেরা নিজ নিজ স্থানে তাদের উট বেঁধে রাখলো এবং এশার নামায সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে বন্ধনমুক্ত করলো না। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। এরপর তারা উট ছেড়ে দিল। (রাবী বলেন,) আমি বললাম, ভোরে আপনারা কি কি করেছিলেন? তিনি বললেন, ফযল ইবনে আব্বাস তাঁর (রাসুলের) সওয়ারীর পিছে বসলো এবং আমি কুরাইশদের সাথে পায়ে হেটে অগ্রসর হলাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সালাতুল উযু ১৩৯; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮০।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭২২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৯৪, ৩৮৫৭ তে। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।

হাদিস ১,৯১৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ كُرَيْبِ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ عَنْ أُسَامَةَ نَحْوَهُ

বাংলা অনুবাদ

১৯১৯. (অপর সনদে) উসামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সালাতুল উযু ১৩৯; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮০। আগের হাদীসটি তে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।

হাদিস ১,৯২০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ أَنْبَأَنِي قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ يَعْنِي بِجَمْعٍ

বাংলা অনুবাদ

১৯২০. আবী আইয়্যুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব এবং ঈশার সালাত একত্রে আদায় করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি ১৫৫৭ (অনুবাদে ১৫৫৪) নং এ গত হয়েছে।