সুনান আদ-দারিমী
পরিচ্ছেদ ১০৬: হাদিস ২,১০১-২,১২০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَامَ وَفِي يَدِهِ رِيحُ غَمَرٍ فَعَرَضَ لَهُ عَارِضٌ فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ
বাংলা অনুবাদ
২১০১. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি নিজের হাতে (গোশত ইত্যাদি) খাবারের তেল-চর্বির গন্ধ নিয়ে (রাতে) ঘুমিয়ে পড়লো এবং তাতে তার কোন প্রকার ক্ষতি হলে, সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫২১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৫৪ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ফাতিমাতুয যুহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যার তাখরীজ দিয়েছি আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৪৮ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَرَأَى عَلَيْهِ وَضَرًا مِنْ صُفْرَةٍ مَهْيَمْ قَالَ تَزَوَّجْتُ قَالَ أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ
বাংলা অনুবাদ
২১০২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রহমান ইবনু আওফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর গায়ে হলুদ রংয়ের চিহ্ন লেগে থাকতে দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার?“ তিনি বললেন, আমি বিবাহ করেছি। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: “একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৪৯; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩২০৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৬০, ৪০৯৬ তে।
এছাড়াও, ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়াম ওয়াল লাইলাহ নং ৬০১; আবূ নুয়াইম, দালাইলুল নুবুওয়াত ৬/ ১৮০; যিকরু আখবারু আসবাহান ১/১৬২; তাবারাণী, আল কাবীর ৭/২৬ নং ৫৪০৩, ৫৪০৪, ৫৪০৬, ৫৪০৭; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ২/১৭৮, ১৭৯, ১৮০;
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ الثَّقَفِيِّ عَنْ رَجُلٍ مِنْ ثَقِيفَ أَعْوَرَ قَالَ كَانَ يُقَالُ لَهُ مَعْرُوفٌ أَيْ يُثْنَى عَلَيْهِ خَيْرٌ إِنْ لَمْ يَكُنْ اسْمُهُ زُهَيْرَ بْنَ عُثْمَانَ فَلَا أَدْرِي مَا اسْمُهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْوَلِيمَةُ أَوَّلَ يَوْمٍ حَقٌّ وَالثَّانِيَ مَعْرُوفٌ وَالثَّالِثَ سُمْعَةٌ وَرِيَاءٌ قَالَ قَتَادَةُ وَحَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ دُعِيَ أَوَّلَ يَوْمٍ فَأَجَابَ وَدُعِيَ الْيَوْمَ الثَّانِيَ فَأَجَابَ وَدُعِيَ الْيَوْمَ الثَّالِثَ فَحَصَبَ الرَّسُولَ وَلَمْ يُجِبْهُ وَقَالَ أَهْلُ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ
বাংলা অনুবাদ
২১০৩. আব্দুল্লাহ ইবনু উছমান ছাকাফী হতে বর্ণিত, বনূ ছাকীফের জনৈক কানা ব্যক্তি, যাকে তার সদাচারের জন্য মা’রুফ বলা হতো, যদি তার নাম যুহায়র ইবন উছমান না হয়, তবে আমি জানি না তার সঠিক নাম কি! তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “বিবাহের প্রথম দিনে ওলীমার ব্যবস্থা করা জরুরী, দ্বিতীয় দিনে উত্তম এবং তৃতীয় দিনে করলে তা নাম প্রচার ও লোক দেখানো (-এর উদ্দেশ্যে করা বলে বিবেচিত হবে)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু উছমান আছ ছাকাফী নামক এক ব্যক্তি রয়েছে, যার সম্পর্কে ইমাম বুখারী তাঁর ‘আল কাবীর ৫/১৪৬ ও আবী হাতিম তার জারাহ ওয়াত তা’দীল গ্রন্থে কোনো প্রশংসা বা সমালোচনা কোনোটিই করেননি। ফলে হাদীসটি ইবনু হিব্বানের শর্তানুযায়ী (সহীহ)।
তাখরীজ: আবূ দাউদ , আতইমাহ ৩৭৪৫; বাইহাকী, সিদাক্ব ৭/২৬০; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৬৫৯৬; ইবনু আবী আছিম, আল আহাদ ওয়াল মাছানী নং ১৫৯৪; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/১৪৬; বুখারী, ‘আল কাবীর ৩/৪২৫, ৪/৪২৫; আহমাদ ৫/৪৮; তাবারাণী, আল কাবীর ৫/৩১৪ ; ইবনুল কানি’, মুজামুস সাহাবাহ, তারজমাহ ২৭৪;
ইবনু আদী, কামিল ৩/১০৭৮ এ উদ্ধৃতি দিয়েছেন যে, বুখারী বলেছেন: এর সনদ সহীহ নয়, আর তার-তথা যুহাইর ইবনু উছমান পরিচয়ও জানা যায় না, আর তিনি সাহাবী ছিলেন বলেও জানা যায় না।’ এরপর ইবনু আদী বলেছেন, তার সাহাবী হওয়াটা সহীহ নয়।’ আরও দেখুন, সুনানে বাইহাকী, তালখীসুল হাবীর ৩/১৯৫; ফাতহুল বারী ৯/২৪২-২৪৩; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬২১৮, ৬২৬২।
এছাড়া এটি মুরসাল হিসেবে হাসান হতে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাযযাক নং ১৯৬৬০; ইবনু আবী শাইবা ১৪/১১১ নং ১৭৭৬৩ ও ১৭৮৪৩ এটি মুরসাল হিসেবে সহীহ।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدْعَى إِلَيْهَا الْأَغْنِيَاءُ وَيُتْرَكُ الْمَسَاكِينُ وَمَنْ تَرَكَ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ
বাংলা অনুবাদ
২১০৪. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “সবচেয়ে নিকৃষ্ট খাদ্য হলো সেই ওয়ালীমার খাদ্য, যাতে কেবল ধনীদেরকে দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদেরকে পরিত্যাগ করা হয়। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অবাধ্যতা করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫১৭৭; মুসলিম, নিকাহ ১৪৩২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৯১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩০৪, ৫৩০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২০৪, ১২০৫ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ قَدْ صَنَعَ طَعَامًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي فَدَعَاهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَكَذَا وَأَوْمَأَ إِلَيْهِ بِيَدِهِ قَالَ يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَكَذَا وَأَشَارَ إِلَى عَائِشَةَ قَالَ لَا فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ الثَّانِيَةَ وَأَوْمَأَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَوْمَأَ إِلَيْهِ الثَّالِثَةَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهَذِهِ قَالَ نَعَمْ فَانْطَلَقَ مَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَائِشَةُ فَأَكَلَا مِنْ طَعَامِهِ
বাংলা অনুবাদ
২১০৫. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একজন লোক খাবার প্রস্তুত করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করে বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! চলুন।’- বলে লোকটি হাত দিয়ে তাঁর দিকে ইঙ্গিত করলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, “সে ও (আমার সাথে যাবে)।“ (জবাব না পেয়ে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন দ্বিতীয় বার সে তাঁর দিকে ইঙ্গিত করলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে তাঁর (আয়েশা রাঃ) এর প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (জবাব না পেয়ে) এবারও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তৃতীয় বার সে তাঁর দিকে ইঙ্গিত করলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও হাত দিয়ে তাঁর (আয়েশা) এর প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন: “সে ও।“ তখন সে বললো, হাঁ। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকটির সাথে গেলেন এবং তাঁরা উভয়ে তার খাবার হতে খেলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৩/১২৩; মুসলিম, আশরিবাহ ২০৩৭; নাসাঈ, তালাক ৬/১৫৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৫৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩০১ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ أَبُو شُعَيْبٍ وَكَانَ لَهُ غُلَامٌ لَحَّامٌ فَقَالَ اصْنَعْ لِي طَعَامًا أَدْعُو رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَامِسَ خَمْسَةٍ قَالَ فَدَعَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَامِسَ خَمْسَةٍ فَتَبِعَهُمْ رَجُلٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكَ دَعَوْتَنَا خَامِسَ خَمْسَةٍ وَهَذَا رَجُلٌ قَدْ تَبِعَنِي فَإِنْ شِئْتَ أَذِنْتَ لَهُ وَإِنْ شِئْتَ تَرَكْتَهُ قَالَ فَأَذِنَ لَهُ
বাংলা অনুবাদ
২১০৬. আবূ মাস‘ঊদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার গোত্রের আবূ শু‘আয়ব নামক জনৈক ব্যক্তির এক কসাই গোলাম ছিল। সে তাকে বলল, আমার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত কর, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত করতে চাই। পাঁচজনের মধ্যে তিনি হবেন একজন। তারপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত করল। তিনি ছিলেন পাঁচজনের অন্যতম। তখন এক ব্যক্তি তাদের পিছে পিছে আসতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তুমি তো আমাকে আমাদের পাঁচজনের পঞ্চম ব্যক্তি হিসাবে দাওয়াত দিয়েছ। এ লোকটা আমাদের পিছে চলে এসেছে। তুমি ইচ্ছে করলে তাকে অনুমতি দিতে পার, আর ইচ্ছে করলে বাদও দিতে পার।“ সে বলল, আমি বরং তাকে অনুমতি দিচ্ছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, আতইমাহ ৫৪৩৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩০০, ৫৩০২ তে।
এছাড়াও, দাওলাবী, আল কুন্নী ১/৩৮; বাইহাকী, সিদাক্ব ৭/২৬৫; আল মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১৪৪৪৪ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ أَبِي طُوَالَةَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ
বাংলা অনুবাদ
২১০৭. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “নারীদের উপর ‘আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর মর্যাদা তেমনই, যেমন ‘সারীদ’-’র মর্যাদা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের উপর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুস সাহাবাহ ৩৭৭০; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৪৪৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৬৭০, ৩৬৭১, ৩৬৭২, ৩৬৭৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১১৩ তে।
এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/১৩১; তিরমিযী, শামাইল নং ১৭৬; আবু zwj;নুয়াইম, যিকরু আখবারুল আসবাহান ১/২১৫, ২৪৫ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ أَبُو أُمَيَّةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ زَوَّجَنِي أَبِي فِي إِمَارَةِ عُثْمَانَ فَدَعَا رَهْطًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ فِيمَنْ دَعَا صَفْوَانُ بْنُ أُمَيَّةَ وَهُوَ شَيْخٌ كَبِيرٌ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ انْهَسُوا اللَّحْمَ نَهْسًا فَإِنَّهُ أَشْهَى وَأَمْرَأُ
বাংলা অনুবাদ
২১০৮. আব্দুল্লাহ্ ইবনুল হারিস ইবনু নাউফাল বলেন, উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে আমার পিতা আমাকে বিবাহ দিলেন। সে সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীকে দাওয়াত দিলেন, যাদের মধ্যে সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। আর তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা গোশত এক এক কামড় করে খাও। কেননা, তা (এভাবে খাওয়াটা) অধিক মজাদার ও অধিক সুস্বাস্থ্যকর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং নং ৫৭৪ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْأَقْمَرِ حَدَّثَنِي أَبُو جُحَيْفَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا آكُلُ مُتَّكِئًا
বাংলা অনুবাদ
২১০৯. আবূ জুহাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি হেলান দিয়ে বসে খাবার খাই না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, আতইমাহ ৫৩৯৮, ৫৩৯৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৮৪, ৮৮৮, ৮৮৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৪০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১৫ তে।
এছাড়াও, তিরমিযী, শামাইল নং ১২৪, ১২৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৯৬৯; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৭/২৫৬।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُتِيَ بِالْبَاكُورَةِ بِأَوَّلِ الثَّمَرَةِ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَفِي ثَمَرَتِنَا وَفِي مُدِّنَا وَفِي صَاعِنَا بَرَكَةً مَعَ بَرَكَةٍ ثُمَّ يُعْطِيهِ أَصْغَرَ مَنْ يَحْضُرُهُ مِنْ الْوِلْدَانِ
বাংলা অনুবাদ
২১১০. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যখন (মওসুমের) প্রথম দিকের ফল নিয়ে আসা হতো, তখন তিনি বলতেন: “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী মাদীনাতিনা, ওয়া ফী ছামারাতিনা, ওয়া ফী মুদ্দিনা ওয়া ফী সা’ঈনা বারাকাতুন মা’আ বারাকাতিন।“ (অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শহরগুলিতে, আমাদের মুদ্দে, আমাদের সা’-এ (তথা ওযনে) বেশি বেশি বরকত দান করুন।) এরপর তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত বালকদের সর্বকনিষ্ঠ বালককে সেটি দিয়ে দিতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১৩৭৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৪৭ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ خَادِمُ أَحَدِكُمْ بِالطَّعَامِ فَلْيُجْلِسْهُ فَإِنْ أَبَى فَلْيُنَاوِلْهُ
বাংলা অনুবাদ
২১১১. আবী হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কারো খাদিম খাবার নিয়ে হাযির হলে তাকেও নিজের সাথে বসানো উচিত। সে সাথে না বসতে চাইলে (দু’ এক লোকমা) খাবার তাকে দেয়া উচিত।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, ইতক্ব ২৫৫৭; মুসলিম, ঈমান ১৬৬৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩২০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১১৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১০১ তে। পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَتَى أَحَدَكُمْ خَادِمُهُ بِطَعَامِهِ فَلْيُجْلِسْهُ مَعَهُ وَلْيُنَاوِلْهُ لُقْمَةً أَوْ لُقْمَتَيْنِ أَوْ أُكْلَةً أَوْ أُكْلَتَيْنِ فَإِنَّهُ وَلِيَ حَرَّهُ وَدُخَانَهُ
বাংলা অনুবাদ
২১১২. আবী হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: “তোমাদের কারো খাদিম খাবার নিয়ে হাযির হলে তাকেও নিজের সাথে বসানো উচিত। তাকে সাথে না বসালেও দু’ এক লোকমা কিংবা দু’ এক গ্রাস তাকে দেয়া উচিত। কেননা, সে এর জন্য তাপ ও ধোয়া সহ্য করেছে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ
বাংলা অনুবাদ
২১১৩. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি দ্রব্য ও মধূ পছন্দ করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর সুরাতুত তাফসীর ৪৯১২; মুসলিম, তালাক্ব ১৪৭৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭৪১, ৪৮৯২, ৪৮৯৬, ৪৯৫৬ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحُوَيْرِثِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْبِرَازِ فَقُدِّمَ إِلَيْهِ طَعَامٌ فَقِيلَ لَهُ أَلَا تَوَضَّأُ قَالَ فَقَالَ أُصَلِّي فَأَتَوَضَّأُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِنَّمَا هُوَ سَعِيدُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ
বাংলা অনুবাদ
২১১৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা হতে বের হয়ে এলে তাঁর সামনে খাবার পরিবেশন করা হলো। তাঁকে বলা হলো, আপনি কি ওযু করবেন না? তখন তিনি বললেন: “আমি কি সালাত আদায় করছি যে, আমি ওযু করবো?“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, তিনি হলেন, বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনুল হুওয়াইরিস।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হায়েয ৩৭৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২০৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮৪ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ
বাংলা অনুবাদ
২১১৫. (অপর সনদে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
মূল আরবি
قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا عَاصِمٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ بِإِسْنَادِهِ
বাংলা অনুবাদ
২১১৬. (অপর সনদে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত, তবে ইবনু জুরাইজ এটি ‘আন আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ يُحَدِّثُ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَجْنَبَ فَأَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ أَوْ يَنَامَ تَوَضَّأَ
বাংলা অনুবাদ
২১১৭. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় থাকতেন, তখন তিনি খাওয়া বা ঘুমানোর ইচ্ছা করলে ওযু করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, গুসল ২৮৬; মুসলিম, হায়েয ৩০৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫২২. ৪৫৯৫, ৪৭৮২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২১৭, ১২১৮ তে। বিগত ৭৮৪ নং হাদীসটি গত হয়েছে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِذَا طَبَخْتَ مَرَقَةً فَأَكْثِرْ مَاءَهَا ثُمَّ انْظُرْ أَهْلَ بَيْتٍ مِنْ جِيرَتِكَ فَاغْرِفْ لَهُمْ مِنْهَا
বাংলা অনুবাদ
২১১৮. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আমার প্রিয়তম বন্ধু (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ওয়াসীয়াত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ “তুমি ঝোলের তরকারী রান্না করলে (বেশি ঝোলের উদ্দেশ্যে) তাতে পানি বেশী দিও এবং তোমার প্রতিবেশীদের প্রতি খেয়াল রেখে তাদেরকে তা থেকে কয়েক অঞ্জলী হলেও পৌঁছিও।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াল সুলহ ২৬২৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৩, ৫১৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০৪২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩৯ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُوسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا وُضِعَ الطَّعَامُ فَاخْلَعُوا نِعَالَكُمْ فَإِنَّهُ أَرْوَحُ لِأَقْدَامِكُمْ
বাংলা অনুবাদ
২১১৯. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন খাবার পেশ করা হয়, তখন তোমরা তোমাদের জুতা-সেণ্ডেল খুলে রাখবে, কেননা, এটাই তোমাদের পদযুগলের জন্য অধিক আরামদায়ক।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। এক. মূসা ইবনু মুহাম্মদ মুনকারুল হাদীস। এবং দু’ই. মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম আবূ হুরাইরা (হবে আনাস) হতে কিছু শোনেননি।
তাখরীজ: তাবারাণী, আল আওসাত নং ৩২২৬- মাজমাউল বাহরাইন নং ৪০৩৭; হাকিম ৪/১১৯। হাকিম বলেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি।’ তার কথাকে খণ্ডন করে যাহাবী বলেন, ‘আমি বলছি: আমার মতে এটি মাওযু’ বা জাল। এর সনদ অন্ধকারাচ্ছন্ন। আর মূসাকে দারুকুতনী পরিত্যাগ করেছেন।’ মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪১৮৮ ও মু’জামুশ শুয়ূখ নং ৩০২; বাযযার, কাশফুল আসতার নং ২৮৬৭। এ সনদে দাউদ ইবনু যাবারক্বান রয়েছে, সে মাতরুক, একাধিক মুহাদ্দিস তাকে মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছেন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ وَأَفْشُوا السَّلَامَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ تَدْخُلُوا الْجِنَانَ
বাংলা অনুবাদ
২১২০. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ‘রহমান’-এর ইবাদত কর, সালামের প্রসার কর এবং খাদ্য দান করো, (এবং এসব আমলের দ্বারা) জান্নাতে প্রবেশ কর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ, টীকা ও শাহিদ হাদীসসমূহ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৯; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৬০ ও মুসনাদুল মাউসিলী ১১/১০৮ নং ৬২৩৪ তে।
