সুনান আদ-দারিমী

পরিচ্ছেদ ১৩৯: হাদিস ২,৭৬১-২,৭৮০

এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।

এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
হাদিস ২,৭৬১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عَمْرٍو أَبِي الْمُغِيرَةِ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ كَانَ فِي لِسَانِي ذَرَبٌ عَلَى أَهْلِي وَلَمْ يَكُنْ يَعْدُهُمْ إِلَى غَيْرِهِمْ فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيْنَ أَنْتَ عَنْ الِاسْتِغْفَارِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ قَالَ أَبُو إِسْحَقَ فَحَدَّثْتُ أَبَا بُرْدَةَ وَأَبَا بَكْرٍ ابْنَيْ أَبِي مُوسَى قَالَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

বাংলা অনুবাদ

২৭৬১. হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পরিবারের উপর জিহ্বা ছিল খুবই ধারালো (তথা তাদেরকে খুব বকা-ঝকা করতাম)। তবে সেটি তাদেরকে অতিক্রম করে অন্যদের পর্যন্ত যেত না। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন: “তুমি তোমার ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা থেকে কোথায় আছ? আমি দৈনিক একশতবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।“[1]
আবূ ইসহাক বলেন, আমি আবী মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর দু’ছেলে আবূ বুরদাহ ও আবূ বাকরের নিকট বর্ণনা এ হাদীস করলাম, তখন তারা বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি দৈনিক একশতবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তাওবা করি।“[2]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা zwj;উত্তম।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯২৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৫৮ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১৩/৪৬৩ নং ১৬৯২৬; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৬/২৭৬; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়ামু ওয়াল লাইলাহ নং ৩৬২; তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বুদ ১/২৫১ নং ১২৩৯।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯২৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৫৬ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আামরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৩৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯২৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৫৭ তে।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ মুরসাল হাদীসটির সনদ জাইয়্যেদ বা zwj;উত্তম।
তাখরীজ: আর এটি মাওসুল ও মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৪/৪১০; নাসাঈ, আমলুল ইয়ামু ওয়াল লাইলাহ নং ৪৪০; তাহাবী, শারহু মাআনিল আছার ৪/২৮৯ তে। আগের টীকাটিও দেখুন।

হাদিস ২,৭৬২

মূল আরবি

حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ سَلْمِ بْنِ قُتَيْبَةَ عَنْ سُهَيْلٍ الْقُطَعِيِّ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَرَأَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ قَالَ قَالَ رَبُّكُمْ أَنَا أَهْلٌ أَنْ أُتَّقَى فَمَنْ اتَّقَانِي فَأَنَا أَهْلٌ أَنْ أَغْفِرَ لَهُ

বাংলা অনুবাদ

২৭৬২. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করলেন (أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ) (অনুবাদ): ‘‘একমাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী’’ (সূরা মুদ্দাসসিরঃ ৫৬), অতঃপর বলেনঃ তোমাদের রব বলেছেন, ‘আমিই উপযুক্ত যে, কেবল আমাকেই ভয় করতে হবে। অতএব যে আমাকে ভয় করবে, তবে আমি তাকে ক্ষমা করার যোগ্য।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ সুহাইল ইবনু আবী হাযিম এর কারণে।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৩৪ তে।

হাদিস ২,৭৬৩

মূল আরবি

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي السَّلِيلِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي لَأَعْلَمُ آيَةً لَوْ أَخَذَ بِهَا النَّاسُ لَكَفَتْهُمْ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا

বাংলা অনুবাদ

২৭৬৩. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি এমন একটি বাক্য বা আয়াত জানি, সকলেই যদি তা গ্রহণ করতো তবে অবশ্যই তা-ই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো। (তা হলো:) (وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً) (অনুবাদ): ‘‘যে কেউ আল্লাহকে ভয় করলে তিনি তার জন্য নিস্কৃতির পথ করে দেন।’’[1] (সূরা তালাকঃ ২)
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬৬৮, ৬৬৬৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৪৭, ১৫৪৮ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, আহমাদ, যুহদ পৃ: ১৪৬; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৫/৪১৩ তে।

হাদিস ২,৭৬৪

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مَنْصُورُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ مُسْلِمِ بْنِ بَانَكَ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَوْفِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَائِشُ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّ لَهَا مِنْ اللَّهِ طَالِبًا

বাংলা অনুবাদ

২৭৬৪. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ “হে আয়েশা! কোনো পাপকে ছোট মনে করা থেকে সাবধান হও। কারণ তার জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা zwj;উত্তম।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৬৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৯৭ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, আহমাদ, যুহদ পৃ: ১৪।

হাদিস ২,৭৬৫

মূল আরবি

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَسْعَدَةَ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ

বাংলা অনুবাদ

২৭৬৫. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীগণ উত্তম।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯২২ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১৩/১৮৭ নং ১৬০৬৩।

হাদিস ২,৭৬৬

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ النُّعْمَانِ هُوَ ابْنُ بَشِيرٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَافَرَ رَجُلٌ فِي أَرْضٍ تَنُوفَةٍ فَقَالَ تَحْتَ شَجَرَةٍ وَمَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا زَادُهُ وَطَعَامُهُ فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ رَاحِلَتُهُ فَعَلَا شَرَفًا فَلَمْ يَرَ شَيْئًا ثُمَّ عَلَا شَرَفًا فَلَمْ يَرَ شَيْئًا ثُمَّ عَلَا شَرَفًا فَلَمْ يَرَ شَيْئًا قَالَ فَالْتَفَتَ فَإِذَا هُوَ بِهَا تَجُرُّ خِطَامَهَا فَمَا هُوَ بِأَشَدَّ فَرَحًا بِهَا مِنْ اللَّهِ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ إِذَا تَابَ إِلَيْهِ

বাংলা অনুবাদ

২৭৬৬. নু’মান ইবনু বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোনো এক লোক কোনো এক বিজন মরুভূমিতে সফর করলো; অত:পর সে (ক্লান্ত হয়ে) সেখানে একটি গাছের নীচে ঘুমিয়ে পড়লো। তার সাথে ছিল তার সাওয়ারী, তার সাওয়ারিটি তার থেকে হারিয়ে গেল। আর তার উপর ছিল তার খাদ্য ও মালপত্র। এরপর সে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখলো যে, তার সাওয়ারীটি হারিয়ে গেছে। এরপর (তার খোঁজে) সে একটি উঁচুস্থানে আরোহন করলো, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলো না। সে পুনরায় একটি উঁচুস্থানে আরোহন করলো, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলোনা। সে আরেকটি উঁচুস্থানে আরোহন করলো, কিন্তু (এবারও) সে কিছুই দেখতে পেলো না। তিনি বলেন, এমতাবস্হায় সে হঠাৎ পিছনে ফিরেই (দেখতে পেলো) সাওয়ারীটি লাগাম টানতে টানতে আসছে। ঐ ব্যক্তি তা পেয়ে যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, বান্দা যখন আল্লাহর নিকট তাওবা করে তখন তিনি তার থেকেও অধিক খুশী হন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা zwj;উত্তম।
তাখরীজ: আহমাদ ৩/২৭৩; মুসলিম, তাওবাহ ২৭৪৫।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৬০০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬২১ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১০০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬১৮ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে বারা’আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, দেখুন মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭০৪ ও খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩০২ তে।
এর পঞ্চম শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৬০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬১৭ তে।

হাদিস ২,৭৬৭

মূল আরবি

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي يَعْلَى عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ خَطَّ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطًّا مُرَبَّعًا ثُمَّ خَطَّ وَسَطَهُ خَطًّا ثُمَّ خَطَّ حَوْلَهُ خُطُوطًا وَخَطَّ خَطًّا خَارِجًا مِنْ الْخَطِّ فَقَالَ هَذَا الْإِنْسَانُ لِلْخَطِّ الْأَوْسَطِ وَهَذَا الْأَجَلُ مُحِيطٌ بِهِ وَهَذِهِ الْأَعْرَاضُ لِلْخُطُوطِ فَإِذَا أَخْطَأَهُ وَاحِدٌ نَهَشَهُ الْآخَرُ وَهَذَا الْأَمَلُ لِلْخَطِّ الْخَارِجِ

বাংলা অনুবাদ

২৭৬৭. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বর্গাকৃতির চতুর্ভুজ আঁকলেন, এর মধ্যভাগে একটি সরল রেখা টানলেন, অতঃপর (চতুর্ভুজের মধ্যবর্তী) এ রেখার চতুর্দিকে অনেকগুলো ক্ষুদ্র রেখা টানলেন, অতঃপর চতুর্ভুজের বাইরে একটি সরল রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ “এই মধ্যবর্তী রেখাটি হলো মানুষ। এই (বর্গক্ষেত্র) টি হলো তার জীবনকালের সীমা, যা তাকে বেষ্টন করে রেখেছে। আর ঐ (সরল রেখার) পার্শ্ববর্তী রেখাগুলো হলো বিপদাপদ। সে একটি বিপদ থেকে মুক্তি পেলে আরেকটি বিপদ তাকে দংশন করে। আর (বর্গক্ষেত্র ভেদ করে) বাইরে আসা রেখাটি হলো তার কামনা-বাসনা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ১৩/৩৮৫; বুখারী, রিক্বাক্ব ৬৪১৭; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪২৩১; রমহারমুযী, আমছালুল হাদীস নং ৭২ তে।
আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২৪৩ তে।

হাদিস ২,৭৬৮

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ زَكَرِيَّا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ عَنْ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلَا فِي غَنَمٍ بِأَفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ الْمَرْءِ عَلَى الْمَالِ وَالشَّرَفِ لِدِينِهِ

বাংলা অনুবাদ

২৭৬৮. ইবন কা‘ব ইবন মালিক আনসারী তার পিতা কা‘ব ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ“দুটো ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে বকরীর পালে ছেড়ে দিলেও তারা এতটুকু ক্ষতি করতে পারে না, কোনো ব্যক্তির অর্থ ও মর্যাদা-সম্মান-আভিজাত্যের মোহ তার দীনের যতটুকু ক্ষতি করতে পারে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২২৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৭২ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা উল্লেখ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৭২ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ১৯/৯৬ নং ১৮৯।
ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে হিলইয়া ৭/৬৯ ও বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১০২৬৫।
আবার জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস রয়েছে, আবূ নুয়াইম, যিকরু আখবারিল আসবাহান ও বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১০২৬৮, ১০২৬৯ তে।
আবার আসিম ইবনু আদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস রয়েছে বাইহাকী, zwj;শুয়াবুল ঈমান নং ১০২৭২ তে।

হাদিস ২,৭৬৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ الْغَازِ عَنْ حَيَّانَ أَبِي النَّضْرِ عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي فَلْيَظُنَّ بِي مَا شَاءَ

বাংলা অনুবাদ

২৭৬৯. ওয়সিলা ইবনুল আসক্বা’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ তাবারক ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ ‘আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সঙ্গে থাকি। সুতরাং সে আমার সম্পর্কে যেমন ইচ্ছা ধারণা রাখুক।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৩৩, ৬৩৪, ৬৩৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭১৭, ২৩৯৩, ২৪৬৮ তে।

হাদিস ২,৭৭০

মূল আরবি

حدثنا الحكم بن نافع عن شعيب عن الزهري قال أخبرني سعيد بن المسيب وأبو سلمة بن عبد الرحمن أن أبا هريرة قال قام النبي صلى الله عليه وسلم حين أنزل الله تعالى وأنذر عشيرتك الأقربين فقال يا معشر قريش اشتروا أنفسكم من الله لا أغني عنكم من الله شيئا يا بني عبد مناف لا أغني عنكم من الله شيئا يا عباس بن عبد المطلب لا أغني عنك من الله شيئا يا صفية عمة رسول الله لا أغني عنك من الله شيئا يا فاطمة بنت محمد سليني ما شئت لا أغني عنك من الله شيئا

বাংলা অনুবাদ

২৭৭০. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনের এই আয়াতটি নাযিল করলেন, ‘‘আপনি আপনার নিকটাত্মীদেরকে সতর্ক করে দিন’’ (শু‘আরাঃ ২১৪)। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, “হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমরা আত্মরক্ষা কর। আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে বানূ আব্দ মানাফ! আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে সাফিয়্যাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফু, আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে মুহাম্মদ এর মেয়ে ফাতিমাহ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। [1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, ওয়াসা’আ ২৭৫৩; মুসলিম, ঈমান ২০৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪৬ তে।

হাদিস ২,৭৭১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَارِبُوا وَسَدِّدُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ أَحَدًا مِنْكُمْ لَنْ يُنْجِيَهُ عَمَلُهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْتَ قَالَ وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ

বাংলা অনুবাদ

২৭৭১. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা নিকটবর্তী হও এবং তোমরা মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো। আর জেনে রাখ যে, তোমাদের কারো আমলই তাকে নাজাত দিতে পারবেনা। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিও কি নন? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমিও নই। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত ও ফযল দ্বারা আমাকে আবৃত করে নেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, zwj;সিফাতুল মুনাফিকীন ২৮১৭।
আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৭৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫০ তে।

হাদিস ২,৭৭২

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَمَعَهُ قَرِينُهُ مِنْ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنْ الْمَلَائِكَةِ قَالُوا وَإِيَّاكَ قَالَ نَعَمْ وَإِيَّايَ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد مِنْ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ أَسْلَمَ اسْتَسْلَمَ يَقُولُ ذَلَّ

বাংলা অনুবাদ

২৭৭২. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির সাথেই একজন সহচর জ্বিন (শয়তান) ও একজন সহচর ফিরিশতা নির্ধারিত আছে। তারা প্রশ্ন করলেন, আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমার সাথেও। কিন্তু তার মুকাবিলায় আল্লাহ আমাকে সহযোগিতা করেছেন। ফলে সে আত্মসমর্পণ করেছে।“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, লোকেরা বলেন, ‘সে আত্মসমর্পণ করেছে’-এর অর্থ: সে অনুগত হয়েছে। কেউ বলেন: বশ্যতা স্বীকার করেছে।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, সিফাতুল মুনাফিকীন ২৮১৪।
আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৪৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪১৭ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, আবূ নুয়াইম, দালাইলুল নুবুওয়াত নং ১২৭।

হাদিস ২,৭৭৩

মূল আরবি

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا

বাংলা অনুবাদ

২৭৭৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে তোমরা খুব কমই হাসতে এবং অধিক হারে কাঁদতে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর ৪৬২১; মুসলিম, ফাযাইল ২৩৫৯।
আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩১০৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭৯২ তে।

হাদিস ২,৭৭৪

মূল আরবি

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِ هَذَا

বাংলা অনুবাদ

২৭৭৪. (অপর সনদে) আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।

হাদিস ২,৭৭৫

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَزِّمِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِسَخْلَةٍ جَرْبَاءَ قَدْ أَخْرَجَهَا أَهْلُهَا قَالَ تُرَوْنَ هَذِهِ هَيِّنَةً عَلَى أَهْلِهَا قَالُوا نَعَمْ قَالَ وَاللَّهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ عَلَى أَهْلِهَا

বাংলা অনুবাদ

২৭৭৫. আবী হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোশ-পাঁচড়ায় আক্রান্ত একটি বকরীর বাচ্চার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যাকে এর মালিক বাইরে নিক্ষেপ করেছিল। তিনি বললেনঃ “তোমরা কি মনে কর, এই বাচ্চাটি তার মালিকের নিকট তুচ্ছ (বা নিকৃষ্ট)?“ তারা বললেনঃ হাঁ।তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! এটি তার মালিকদের নিকট যতটুকু নিকৃষ্ট আল্লাহর নিকট দুনিয়াটা এর চেয়েও বেশী নিকৃষ্ট।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ জিদ্দান (অত্যন্ত দুর্বল), আবুল মাহযুম মাতরুক। (তবে হাদীসটি সহীহ লিগয়রিহী)
তাখরীজ: আহমেদ ২/৩৩৮।
এর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসলিম ২৯৫৭;
এর অপর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আামরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৯৩ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে তিরমিযী, যুহদ ২৩২১; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪১১১; আহমাদ ৪/২৩০, ২৩৬।
এর অপর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪১১০; হাকিম ৪/৩০৬।

হাদিস ২,৭৭৬

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي الْمُرَاوِحِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ

বাংলা অনুবাদ

২৭৭৬. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, ‘কোন্ ‘আমল উত্তম?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, ইতক্ব ২৫১৮; মুসলিম, ঈমান ৮৪।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫২, ৪৩১০, ৪৫৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩১ তে।

হাদিস ২,৭৭৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ عِنْدَ اللَّهِ إِيمَانٌ لَا شَكَّ فِيهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو جَعْفَرٍ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ

বাংলা অনুবাদ

২৭৭৭. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর নিকট উত্তম আমল হলো সন্দেহমুক্ত ঈমান।“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, আবূ জাফর হলেন আনসারী এক লোক।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫৯৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২ তে।

হাদিস ২,৭৭৮

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ

বাংলা অনুবাদ

২৭৭৮. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্zwnj; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ (প্রকৃত) মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ১৩; মুসলিম, ঈমান ৪৫।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৪, ২৩৫ তে।

হাদিস ২,৭৭৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَهَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

বাংলা অনুবাদ

২৭৭৯. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ ততক্ষন পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষন আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সকল লোকদের চাইতে অধিক প্রিয় না হব।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ১৫; মুসলিম, ঈমান ৪৪।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩০৪৯, ৩২৫৮, ৩৮৯৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৯ তে।

হাদিস ২,৭৮০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ قَالَ مَنْ طَالَ عُمُرُهُ وَحَسُنَ عَمَلُهُ قَالَ فَأَيُّ النَّاسِ شَرٌّ قَالَ مَنْ طَالَ عُمُرُهُ وَسَاءَ عَمَلُهُ

বাংলা অনুবাদ

২৭৮০. আবূ বাকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সবচেয়ে উত্তম লোক কে?
তিনি বললেনঃ “যার জীবনকাল দীর্ঘ এবং আমল উত্তম হয়।“
লোকটি বললঃ সবচেয়ে মন্দ লোক কে? তিনি বললেনঃ “যার জীবনকাল দীর্ঘ এবং আমল মন্দ হয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১৩/২৫৬ নং ১৬২৭১; আহমাদ ৫/৪০, ৪৩, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০; তিরমিযী, যুহদ ২৩৩১; তাবারাণী, সগীর ২/২০; হাকিম ১/৩৩৯; বাইহাকী, জানাইয ৩/১৭১।
আমরা বলছি: এ সনদটি সহীহ;
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যার সনদগুলি উল্লেখ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৮১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯১৯ ও ২৪৬৫।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যার পুর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৮১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯১৯ ও ২৪৬৫।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে হাকিম ১/৩৩৯; বাইহাকী, জানাইয ৩/৩৭১;
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যার পুর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৪৯৬ তে।