সুনান আদ-দারিমী
পরিচ্ছেদ ১৭৬: হাদিস ৩,৫০১-৩,৫২০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَا مَنْ قَرَأَ أَلْفَ آيَةٍ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ لَهُ قِنْطَارٌ وَالْقِيرَاطُ مِنْ الْقِنْطَارِ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَاكْتَنَزَ مِنْ الْأَجْرِ مَا شَاءَ اللَّهُ
বাংলা অনুবাদ
৩৫০১. আল কাসিম আবূ আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামীম দারী ও ফুযালাহ ইবনু উবাইদ উভয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) এক হাজার আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ‘ক্বিনতার’ (অশেষ) পরিমাণ সাওয়াব লিখা হবে। আর ‘ক্বিনতার’ (অশেষ, অঢেল)-এর মধ্যে থেকে ‘ক্বিরাত’ পরিমাণ সম্পদও তোমাদের এ পূরো দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর চেয়ে উত্তম। আর সে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী (তথা অপরিসীম বিনিময়) অর্জন করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ তবে হাদীসটি হাসান।
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে নং ৩৪৭৮, ৩৪৭৯, ৩৪৮৩ ও ৩৪৮৮ তে।
তাবারাণী, কাবীর ২/৫০, ৫১ নং ১২৫৩; আওসাত নং ৮৪৪৬ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ يُحَنَّسَ مَوْلَى الزُّبَيْرِ عَنْ سَالِمٍ أَخِي أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ أَلْفَ آيَةٍ إِلَى خَمْسِ مِائَةٍ كُتِبَ لَهُ قِنْطَارٌ مِنْ الْأَجْرِ الْقِيرَاطُ مِنْهُ مِثْلُ التَّلِّ الْعَظِيمِ
বাংলা অনুবাদ
৩৫০২. আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি (রাতের সালাতে) এক হাজার আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ‘ক্বিনতার’ (অশেষ) পরিমাণ সাওয়াব লিখা হবে। আর ‘ক্বিনতার’ (অশেষ, অঢেল)-এর মধ্যে থেকে ‘ক্বিরাত’ পরিমাণ সম্পদ একটি বিশাল পাহাড়ের সমপরিমাণ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম মিথ্যাবাদী। মুসা ইবনু উবাইদ যঈফ। (হাদীসটি জাল বা বানোয়াট পর্যায়ের-অনুবাদক।)
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৩৪৮৪ যার শব্দ: একশ’ আয়াত পাঠ করবে’ এবং ৩৪৯২ নং এ যার শব্দ: দু’শ আয়াত পাঠ করবে’।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَبَانُ الْعَطَّارُ وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ الْقِنْطَارُ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا
বাংলা অনুবাদ
৩৫০৩. আবী সালিহ হতে বর্ণিত, আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘ক্বিনতার’-এর পরিমাণ হলো বার হাজার।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আবূ হুরাইরা পর্যন্ত হাসান।
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩৬৩ তে মারফূ’ (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা) হিসেবে যার শব্দাবলী: ‘ক্বিনতার’-এর পরিমাণ হলো বার হাজার উকিয়াহ। আর প্রত্যেক উকিয়ার মধ্যবর্তী স্থানটি আসমান ও জমিনের মাঝে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ أَبِي الْأَشْهَبِ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ الْعَبْدِيِّ قَالَ الْقِنْطَارُ مِلْءُ مَسْكِ ثَوْرٍ ذَهَبًا
বাংলা অনুবাদ
৩৫০৪. আবী নাযরাহ আল আবদী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘ক্বিনতার’ হলো ষাঁড়ের চামড়া ভর্তি সোনার সমপরিমাণ।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আবূ নাযরাহ পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৩৪৯৪ নং এ।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ عَنْ هُشَيْمٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ الْقِنْطَارُ أَرْبَعُونَ أَلْفًا
বাংলা অনুবাদ
৩৫০৫. আলী ইবনু যাইদ হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব (রহঃ) বলেন, ‘ক্বিনতার’ হলো চল্লিশ হাজার পরিমাণ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। ১. হাশিমের ‘আন আন’ শব্দে বর্ণনা করা ২. আলী ইবনু যাইদের দুর্বলতা। আর এটি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেবের উপর মাওকুফ।
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।–অনুবাদক))
মূল আরবি
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ عَنْ مُبَارَكٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ الْقِنْطَارُ دِيَةُ أَحَدِكُمْ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا
বাংলা অনুবাদ
৩৫০৬. মুবারক হতে বর্ণিত, হাসান (রহঃ) বলেন, তোমাদের কারো দিয়াত পরিমাণ, বার হাজার পরিমাণ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: দেখুন, তাফসীর তাবারী ৩/২০০।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ عَنْ مُسْلِمٍ هُوَ الزَّنْجِيُّ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ الْقِنْطَارُ سَبْعُونَ أَلْفَ دِينَارٍ
বাংলা অনুবাদ
৩৫০৭. ইবনু আবী নাজীহ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, ‘ক্বিনতার’ হলো চল্লিশ হাজার দিনার পরিমাণ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুজাহিদ পর্যন্ত হাসান।
তাখরীজ: দেখুন, তাফসীর তাবারী ৩/২০০।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ الْقِنْطَارُ أَلْفُ أُوقِيَّةٍ وَمِائَتَا أُوقِيَّةٍ
বাংলা অনুবাদ
৩৫০৮. সালিম ইবনু আবীল জা’দ মু’আয ইবনু জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘ক্বিনতার’ হলো বার শত উকিয়া পরিমাণ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : রাবীগণ বিশ্বস্ত তবে এর সনদ মুনকাতি’ (বিচ্ছিন্ন), কেননা সালিম মুআয ইবনু জাবাল এর সাক্ষাত লাভ করেননি।
তাখরীজ: দেখুন, তাফসীর তাবারী ৩/২০০।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ الْقِنْطَارُ سَبْعُونَ أَلْفَ مِثْقَالٍ
বাংলা অনুবাদ
৩৫০৯. লাইছ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, ‘ক্বিনতার’ হলো চল্লিশ হাজার মিছকাল পরিমাণ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, লাইছের দুর্বলতার কারণে। আর এটি মুজাহিদের উপর মাওকুফ।
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।–অনুবাদক))
মূল আরবি
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ رَفَعَهُ قَالَ مَنْ شَهِدَ الْقُرْآنَ حِينَ يُفْتَحُ فَكَأَنَّمَا شَهِدَ فَتْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَنْ شَهِدَ خَتْمَهُ حِينَ يُخْتَمُ فَكَأَنَّمَا شَهِدَ الْغَنَائِمَ تُقْسَمُ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১০. আবী কিলাবাহ হতে বর্ণিত, তিনি মারফু’ হিসেবে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ শুরু করার সময় সেখানে উপস্থিত রইলো, সে যেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বিজয় লাভের সময় উপস্থিত রইলো। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ শেষ (খতম) করার সময় সেখানে উপস্থিত রইলো, সে যেন (জিহাদে প্রাপ্ত সম্পদ) গণিমত বন্টনের সময় উপস্থিত রইলো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। ১. মুরসাল বর্ণনা ২. সালিহ ইবনু বাশীর আল মুররীর দুর্বলতা।
তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১০৭-১০৮; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৭; আরও দেখুন, সাখাবী, জামালুল কুর্রা’ ১/১১২।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَجُلٌ يَقْرَأُ فِي مَسْجِدِ الْمَدِينَةِ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَدْ وَضَعَ عَلَيْهِ الرَّصَدَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ خَتْمِهِ قَامَ فَتَحَوَّلَ إِلَيْهِ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১১. কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণিত, মদীনার মসজিদে এক ব্যক্তি কুরআন পাঠ করছিল, তখন ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখছিলেন। এরপর যখন তার খতমের দিন এলো, তিনি দাঁড়িয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আগের হাদীসটির সনদ একই। সেখানে দেখুন।
তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১০৭-১০৮; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৭।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا صَالِحٌ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ قَالَ كَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ إِذَا أَشْفَى عَلَى خَتْمِ الْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ بَقَّى مِنْهُ شَيْئًا حَتَّى يُصْبِحَ فَيَجْمَعَ أَهْلَهُ فَيَخْتِمَهُ مَعَهُمْ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১২. ছাবিত আল বুনানী (রহঃ) হতে বর্ণিত, আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যদি রাতে কুরআন খতমের নিকটবর্তী হতেন, তবে সকাল না হওয়া পর্যন্ত তা (কুরআন পাঠ) থেকে কিছুটা বাকী রাখতেন। এরপর সকাল হলে তিনি তার পরিবার-পরিজনদের একত্রিত করে তাদের সাথে নিয়ে তা খতম (শেষ) করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আগের হাদীস দু’টির সনদ একই। সেখানে দেখুন।
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৮।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ قَالَ كَانَ أَنَسٌ إِذَا خَتَمَ الْقُرْآنَ جَمَعَ وَلَدَهُ وَأَهْلَ بَيْتِهِ فَدَعَا لَهُمْ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১৩. ছাবিত আল বুনানী (রহঃ) হতে বর্ণিত, আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন কুরআন খতম করতেন, তখন তিনি তার সন্তান-সন্তুতি ও পরিবার-পরিজনদের একত্রিত করে তাদের জন্য দু’আ করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আর এটি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর উপর মাওকুফ।
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ১/২৪২ নং ৬৭৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২০৭০; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ১০৯।
বাইহাকী, শুয়াব ২০৭১ এ এটি মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এর সনদে একাধিক অজ্ঞাত পরিচয় রাবী (মাজাহিল) রয়েছে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ عَبْدَةَ قَالَ إِذَا خَتَمَ الرَّجُلُ الْقُرْآنَ بِنَهَارٍ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ فَرَغَ مِنْهُ لَيْلًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُصْبِحَ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১৪. আওযাঈ হতে বর্ণিত, আব্দাহ বলেন, কোন লোক দিনের বেলায় কুরআন খতম করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে। আর রাতের বেলায় কুরআন খতম (শেষ) করলে সকাল পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আব্দাহ ইবনু আবী লুবাবাহ পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: আবূ নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৬/১১৩।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ صَالِحٍ الْمُرِّيِّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ الْحَالُّ الْمُرْتَحِلُ قِيلَ وَمَا الْحَالُّ الْمُرْتَحِلُ قَالَ صَاحِبُ الْقُرْآنِ يَضْرِبُ مِنْ أَوَّلِ الْقُرْآنِ إِلَى آخِرِهِ وَمِنْ آخِرِهِ إِلَى أَوَّلِهِ كُلَّمَا حَلَّ ارْتَحَلَ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১৫. যুরারাহ ইবনু আওফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, আল্লাহ’র নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বললেন: “‘আলহাল্লুল মুরতাহিলু।’ (যে ব্যক্তি গন্তেব্যে এসেই আবার রওনা হয়ে যায়।)“ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আলহাল্লুল মুরতাহিলু’ আবার কী? “কুরআনের সাথী যে কুরআনের শুরু থেকেপড়ে খতম করে, আবার শেষ করেই শুরু থেকে পাঠ আরম্ভ করে। যখনই (শেষে) আগমণ করে, তখনই সে আবার রওনা হয়ে যায়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। ১. মুরসাল বর্ণনা ২. সালিহ ইবনু বাশীর আল মুররীর দুর্বলতা।
তাখরীজ: তিরমিযী, কিরাআত নং ২৯৪৯; আব্দুর রহমান ইবনু আহমাদ আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৯; তাবারাণী, কাবীর ১২/১৬৮ নং ১২৭৮৩; আবূ নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ২/২৬০, ৬/১৭৪; হাকিম নং ২০৮৮, ২২৮৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২০৬৯; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ২৮৭; যাহাবী, মু’জামুশ শুয়ূখ ২/২৯১ সনদ যঈফ।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা হতে হাকিম নং ২০৯০ তে এর সনদও যঈফ।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى عَنْ جَرِيرٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِذَا قَرَأَ الرَّجُلُ الْقُرْآنَ نَهَارًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ قَرَأَهُ لَيْلًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُصْبِحَ قَالَ سُلَيْمَانُ فَرَأَيْتُ أَصْحَابَنَا يُعْجِبُهُمْ أَنْ يَخْتِمُوهُ أَوَّلَ النَّهَارِ وَأَوَّلَ اللَّيْلِ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১৬. আ’মাশ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম বলেন, কোন লোক দিনের বেলায় কুরআন খতম করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে। আর রাতের বেলায় কুরআন খতম (শেষ) করলে সকাল পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে।
সুলাইমান বলেন, এরপর আমার সাথীদেরকে আমি দেখেছি যে, তারা দিনের শুরুতে ও রাতের শুরুতে কুরআন খতম করতে আনন্দ বোধ করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ইবরাহীম নাখঈ পর্যন্ত সহীহ। এটি তার উপর মাওকুফ।
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০, ৫১, ৫২, ৮০; আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১০৯ সহীহ সনদে। দেখুন,
বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২০৭৬। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ مِثْلَهُ إِلَّا أَنَّهُ لَيْسَ فِيهِ قَوْلُ سُلَيْمَانَ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১৭. (অপর সনদে) আ’মাশ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে সুলাইমানের বক্তব্যটুকু নেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مَالِكٍ الْمُزَنِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ عَنْ ظَهْرِ قَلْبِهِ كَانَتْ لَهُ دَعْوَةٌ فِي الدُّنْيَا أَوْ فِي الْآخِرَةِ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১৮. আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক্ব হতে বর্ণিত, মুহারিব ইবনু দীছার বলেন, যে ব্যক্তি তার অন্তরের অন্ত:স্থল হতে কুরআন পাঠ করবে, তবে সে দুনিয়ায় অথবা আখিরাতে একটি দু’আ লাভ করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক্ব এর দুর্বলতার কারণে। আর এটি মুহারিব ইবনু দীছারের উপর মাওকুফ।
তাখরীজ: এটি আমি আর কোথাও পাইনি।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ طَلْحَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَا مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ لَيْلًا أَوْ نَهَارًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ إِلَى اللَّيْلِ وَقَالَ الْآخَرُ غُفِرَ لَهُ
বাংলা অনুবাদ
৩৫১৯. ইয়াযীদ ইবনু আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তালহাহ ও আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ উভয়ে বলেন: কোন লোক দিনে বা রাতে কুরআন পাঠ করলে রাত পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে। অপরজন বলেছেন: তাকে ক্ষমা করা হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ দু’টি হাদীস একই সনদে বর্ণিত, আর এ সনদটি তালহাহ ইবনু নাফি’ পর্যন্ত হাসান এবং আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ পর্যন্ত মুনকাতি’ (বিচ্ছিন্ন)। কেননা, আবূ খালিদ দালানী আব্দুর রহমান থেকে হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত নয়।
আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ-এর হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২০৭৫ যঈফ সনদে। ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৯০ নং ১০০৮৮ সনদ মুনকাতি’, কখনো মু’দ্বাল। তবে তালহার হাদীসটি এর শাহিদ।
তালহার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫৪ মাহফুজ হলে সনদ সহীহ।
আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৫/২৬; সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন খতম করে ….।“ এর সনদ যঈফ।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا قَزَعَةُ بْنُ سُوَيْدٍ عَنْ حُمَيْدٍ الْأَعْرَجِ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ ثُمَّ دَعَا أَمَّنَ عَلَى دُعَائِهِ أَرْبَعَةُ آلَافِ مَلَكٍ
বাংলা অনুবাদ
৩৫২০. ক্বাযায়াহ ইবনু সুওয়াইদ হতে বর্ণিত, হুমাইদ আল আ’রাজ বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এরপর দু’আ করে, চার হাজার মালাক (ফিরিশতা) তার দু’আ সংরক্ষণে নিয়োজিত থাকে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, ক্বাযায়াহ ইবনু সুওয়াইদ এর দুর্বলতার কারণে। আর এটি হুমাইদ আল আ’রাজ এর উপর মাওকুফ।
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।–অনুবাদক))
