মিশকাতুল মাসাবীহ
পরিচ্ছেদ ১৯৭: হাদিস ৩,৯২১-৩,৯৪০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "إِنَّ أَحْسَنَ مَا دَخَلَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ إِذَا قَدِمَ مِنْ سفرٍ أوَّلُ الليلِ" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ أبو داود (2777)
বাংলা অনুবাদ
৩৯২১-[৩০] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফর শেষে ফিরে আসার পর কোনো ব্যক্তির নিজ পরিবারে প্রবেশ করার উত্তম সময় হলো রাতের প্রথমভাগে। (আবূ দাঊদ)
মূল আরবি
عَن أبي قتادةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ فَعَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينِهِ وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيْلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهُ وَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى كَفِّهِ. رَوَاهُ مُسلم
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (683/313)
বাংলা অনুবাদ
৩৯২২-[৩১] আবূ কাতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়ম ছিল সফরের সময় যখন রাতের শেষাংশে বিশ্রাম করতেন তখন ডান কাতে শুইতেন। আর যখন ফজরের পূর্ব মুহূর্তে বিশ্রাম করতেন, তখন ডান হাতের বাহু জমিনে খাড়া করে রেখে তালুতে মাথা রাখতেন। (মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ فِي سَرِيَّةٍ فَوَافَقَ ذَلِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَغَدَا أَصْحَابُهُ وَقَالَ: أَتَخَلَّفُ وأُصلّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أَلْحَقُهُمْ فَلَمَّا صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَآهُ فَقَالَ: "مَا مَنَعَكَ أَنْ تَغْدُوَ مَعَ أَصْحَابِكَ؟" فَقَالَ: أَرَدْتُ أَنْ أُصَلِّيَ مَعَكَ ثُمَّ أَلْحَقُهُمْ فَقَالَ: "لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أدركْتَ فضلَ غدْوَتهمْ" . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (527) ٭ حجاج بن أرطاۃ: ضعیف مدلس و، عنعن، و تفرد بہ کما قال البیھقي (187/3)
বাংলা অনুবাদ
৩৯২৩-[৩২] ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আব্দুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে একটি সৈন্যদলে (নেতা নিযুক্ত করে) পাঠালেন। সে সময় ছিল জুমু’আর দিন। তাঁর সঙ্গীরা ভোরেই রওয়ানা হয়ে গেল, কিন্তু ইবনু রওয়াহাহ্ বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জুমু’আর সালাত আদায় করে পরে সঙ্গীদের সাথে গিয়ে মিলিত হব। অতঃপর যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জুমু’আর সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ’আব্দুল্লাহকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে তোমার সঙ্গীদের সাথে ভোরে যেতে কিসে বিরত রেখেছে?
তখন তিনি বললেন, আমি আপনার সাথে জুমু’আর সালাত আদায় করে পরে গিয়ে সঙ্গীদের সাথে মিলিত হবো, এ কারণে যাইনি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যদি পৃথিবীর সমুদয় সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় কর, তবুও তোমার সঙ্গীদের সাথে ভোরে রওয়ানা হওয়ার মর্যাদা ও ফযীলত অর্জন করতে সক্ষম হবে না। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا تَصْحَبُ الْمَلَائِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا جِلْدُ نَمِرٍ" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أبو داود (کتاب اللباس باب في جلود النمور، ح4130) ٭ فیہ قتادۃ مدلس و عنعن و حدیث أبي داود (2555) لا یستشھد لہ، ھو غیر، ھذا المتن .
বাংলা অনুবাদ
৩৯২৪-[৩৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সফরের সাথে চিতাবাঘের চামড়া থাকে, তাদের সাথে রহমতের মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) থাকে না।’ (আবূ দাঊদ)
মূল আরবি
وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "سَيِّدُ الْقَوْمِ فِي السَّفَرِ خَادِمُهُمْ فَمَنْ سَبَقَهُمْ بِخِدْمَةٍ لَمْ يَسْبِقُوهُ بِعَمَلٍ إِلَّا الشَّهَادَةَ" . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي "شعب الْإِيمَان"
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البیھقي في شعب الإیمان (8407، نسخۃ محققۃ:، 8050) ٭ فیہ أبو طاھر أحمد بن الحسین: نا علي بن عبد الرحیم الصفار و لم أعرفھما، و الباقي: سندہ حسن .
বাংলা অনুবাদ
৩৯২৫-[৩৪] সাহল ইবনু সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাদেমই হলো সফরের নেতা। সুতরাং যে ব্যক্তি সঙ্গীদের খিদমাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে; আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ ছাড়া অন্য কোনো ’আমল দ্বারা কেউ উক্ত ব্যক্তির সমপর্যায়ের উচ্চ মর্যাদা লাভে সমর্থ হবে না। (বায়হাক্বী- শু’আবুল ঈমান)
মূল আরবি
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ إِلَى قَيْصَرَ يَدْعُوهُ إِلَى الْإِسْلَامِ وَبَعَثَ بِكِتَابِهِ إِلَيْهِ دِحْيَةَ الْكَلْبِيَّ وَأَمَرَهُ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى لِيَدْفَعَهُ إِلَى قَيْصَرَ فَإِذَا فِيهِ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ سَلَامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أدْعوكَ بداعيَةِ الْإِسْلَامِ أَسْلِمْ تَسْلَمْ وَأَسْلِمْ يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجَرَكَ مَرَّتَيْنِ وَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَعَلَيْكَ إِثْمُ الْأَرِيسِيِّينَ وَ (يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَن لَا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا: اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ) مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: مِنْ محمَّدٍ رسولِ اللَّهِ وَقَالَ: "إِثمُ اليريسيِّينَ" وَقَالَ: "بِدِعَايَةِ الْإِسْلَام"
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (7) و مسلم (1772/74)
বাংলা অনুবাদ
৩৯২৬- ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দিকে আহবান জানিয়ে দিহ্ইয়াতুল কালবী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দিয়ে (রোম সম্রাট) কায়সারের নামে পত্র প্রেরণ করেন, তা যেন অবশ্যই বাসরার (বর্তমানে ইরাকের) রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে অর্পণ করেন। আর সে যেন তা কায়সারের নিকট পৌঁছে দেয়। পত্রে লিখেছিলেন,
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি,
আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে রোমের রাষ্ট্রপ্রধান হিরাকল (হিরাক্লিয়াস)-এর প্রতি। যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, হিদায়াতের অনুসরণ করেছে তাদের ওপর শান্তি বর্ষণ হোক! আমি তোমার নিকট ইসলামের দা’ওয়াত পেশ করছি, ইসলামে প্রবেশ কর, শান্তিতে থাকবে। পুনরায় বলছি, ইসলাম কবুল কর, তবে আল্লাহ তোমাকে দ্বিগুণ পুরস্কার (সাওয়াব) দান করবেন। আর যদি ইসলাম হতে বিমুখ হও, তাহলে সমস্ত প্রজাবৃন্দের পাপের বোঝাও তোমার ওপর ন্যস্ত হবে।
হে কিতাবধারীগণ! তোমরা এমন এক মৌলিক বাক্যের দিকে এসো, যাতে আমরা ও তোমরা সমবিশ্বাসী। আর তাই আমাদের সকলের ওপর কর্তব্য হলো এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ’ইবাদাত করব না এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরীক স্থাপন করব না এবং আমরা পরস্পর একে অন্যকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে রব্ হিসেবে মেনে নিবো না। অতঃপর যদি তারা এ কথাগুলো মেনে না নেয়, তবে বলে দাও তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম। (বুখারী ও মুসলিম)
আর মুসলিম-এর এক বর্ণনার মধ্যে তিনটি বাক্যের পরিবর্তন হয়েছে। যেমন- আল্লাহর রসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে হতে (অর্থাৎ- ’আবদুল্লাহ’ শব্দ নেই), ইয়ারীসাইয়িন (’হামযা’-এর স্থলে ’ইয়া’) এবং (’’দা-’ইয়াতিল ইসলা-ম’’-এর স্থলে) ’’দি’আ-ইয়াতিল ইসলা-ম’’ রয়েছে (এছাড়া তেমন একটা পার্থক্য নেই)।
মূল আরবি
وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ بِكِتَابِهِ إِلَى كِسْرَى مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُذَافَةَ السَّهْمِيِّ فَأَمَرَهُ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ الْبَحْرَيْنِ فَدَفَعَهُ عَظِيمُ الْبَحْرَيْنِ إِلَى كِسْرَى فَلَمَّا قَرَأَ مَزَّقَهُ قَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ: فَدَعَا عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُمَزَّقُوا كُلَّ مُمَزَّقٍ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4424)
বাংলা অনুবাদ
৩৯২৭-[২] উক্ত রাবী [ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পারস্য বা ইরানের শাসনকর্তার উদ্দেশে) ’আব্দুল্লাহ ইবনু হুযাফাহ্ আস্ সাহমী -এর মাধ্যমে কিস্রার নিকট লিখিত একটি পত্র পাঠিয়ে এ নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন তা বাহরাইনের শাসনকর্তার হাতে দেন আর তিনি (বাহরাইনের শাসক) যেন তা কিসরার নিকট পৌঁছে দেন। অতঃপর তিনি পত্রটি কিসরার নিকট পৌঁছালেন। যখন সে (কিসরা) তা পাঠ করল তখন (রাগস্বরে) পত্রটি ছিঁড়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ফেলল। রাবী ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তার এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি বদ্দু’আ করলেন যে, আল্লাহ তা’আলা যেন তাদেরকে একেবারে খন্ড-বিখন্ড, টুকরা-টুকরা করে ফেলে। (বুখারী)
মূল আরবি
وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ إِلَى كِسْرَى وَإِلَى قَيْصَرَ وَإِلَى النَّجَاشِيِّ وَإِلَى كُلِّ جَبَّارٍ يَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ وَلَيْسَ بِالنَّجَاشِيِّ الَّذِي صَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1774/75)
বাংলা অনুবাদ
৩৯২৮-[৩] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসরা, কায়সার, নাজাশী এবং অন্যান্য প্রত্যেক ক্ষমতাধর শাসনকর্তাদের নিকট পত্র পাঠিয়ে আল্লাহর (জীবন বিধানের) দিকে আহবান করেন। রাবী বলেন, যে নাজাশীর মৃত্যুতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি এ নাজাশী নন। (মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَن سليمانَ بنِ بُريدةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْ سَرِيَّةٍ أَوْصَاهُ فِي خَاصَّتِهِ بِتَقْوَى اللَّهِ وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا ثُمَّ قَالَ: اغْزُوَا بسمِ اللَّهِ قَاتَلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ اغْزُوَا فَلَا تَغُلُّوا وَلَا تَغْدِرُوا وَلَا تَمْثُلُوا وَلَا تَقْتُلُوا وَلِيدًا وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلَاثِ خِصَالٍ أَوْ خِلَالٍ فَأَيَّتَهُنَّ مَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ فَإِنْ أَبَوْا أَنْ يَتَحَوَّلُوا مِنْهَا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يُجْرَى عَلَيْهِمْ حُكْمُ الله الَّذِي يُجْرَى عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ الَّذِي يُجْرَى عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ فَإِنْ هم أَبَوا فعلهم الْجِزْيَةَ فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلَا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَلَا ذِمَّةَ نَبِيِّهِ وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ فَإِنَّكُمْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَمَكُمْ وَذِمَمَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ رَسُولِهِ وَإِنْ حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ فَلَا تُنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي: أَتُصِيبُ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ أَمْ لَا؟
. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1731/3)
বাংলা অনুবাদ
৩৯২৯-[৪] সুলায়মান ইবনু বুরায়দাহ্ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো বৃহৎ অথবা ক্ষুদ্র সৈন্যবাহিনীর ওপর কাউকে আমীর (নেতা) নিয়োজিত করতেন, তখন তাকে বিশেষভাবে উপদেশ দিতেন, সে যেন আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সফরসঙ্গী মুসলিম সৈন্যদের সাথে সদাচরণ করে। অতঃপর বলতেন, আল্লাহর নাম নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদে রওয়ানা হও এবং যারা আল্লাহর প্রতি কুফরী (বিদ্রোহ) করে, তাদের সাথে লড়াই কর, জিহাদে যাও। সাবধান! গনীমাতের মালে খিয়ানাত করো না। যখন তুমি কোনো মুশরিক শত্রুর সম্মুখীন হবে, তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের প্রতি আহবান করবে। যদি তারা কোনো একটি মেনে নেয়, তুমি তখন তার গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি নিবে এবং তাদের ওপর আক্রমণ করা হতে বিরত থাকবে।
ক) প্রথমে তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করবে, যদি তারা তা গ্রহণ করে, তখন তুমি তার স্বীকৃতি নিবে এবং তাদের ওপর আক্রমণ করা হতে বিরত থাকবে। অতঃপর তাদের স্বদেশ (দারুল হার্ব) হতে মুহাজিরীনদের আবাসভূমিতে (দারুল ইসলামে) চলে আসতে বলবে এবং এটাও জানিয়ে দেবে যে, যদি তারা হিজরত করে, তখন তারাও মুহাজিরীনদের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা পাবে, আর মুহাজিরীনদের ন্যায় দায়-দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পিত হবে। কিন্তু তারা যদি স্বদেশ ত্যাগ করতে অস্বীকার করে, তখন তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তাদের সাথে সেরূপ আচরণই করা হবে, যেরূপ আচরণ অন্যান্য গ্রাম্য মুসলিমদের সাথে করা হবে। অর্থাৎ আল্লাহর সেই বিধান তাদের ওপর কার্যকর করা হবে যা সকল মুসলিমের ওপর কার্যকর করা হয়ে থাকে। কিন্তু গনীমাতের মাল ও ফাই (বিনা যুদ্ধলব্ধ মাল) হতে তারা সাধারণত কোনো অংশ পাবে না। তবে এ ধন-সম্পদের অংশীদার তারা তখনই পাবে, যখন তারা মুসলিমদের সাথে সম্মিলিতভাবে জিহাদে শরীক হবে।
খ) আর যদি তারা তাতে (ইসলাম কবুল করতে) অস্বীকার করে, তখন তাদের ওপর জিয্ইয়াহ্ (কর) ধার্য কর। যদি তারা তা মেনে নেয়, তখন তুমিও তা গ্রহণ কর এবং তাদের ওপর আক্রমণ করা হতে বিরত থাক।
গ) তবে তারা যদি তাতেও অস্বীকার করে, তখন আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আর যদি তুমি কোনো দুর্গবাসীদের অবরোধ কর এবং তারা তোমার সাথে আল্লাহ ও তার রসূলের দায়িত্বের উপর কোনো চুক্তিবদ্ধ হতে চায়, তখন তুমি তাদের সাথে আল্লাহ ও তার রসূলের দায়িত্বে কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ো না; বরং তুমি ও তোমার সঙ্গীদের নিজ দায়িত্বে চুক্তিবদ্ধ হতে পারো। কেননা কোনো কারণে যদি উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করতে বাধ্য হও, তখন আল্লাহ ও তার রসূলের নামে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করার চেয়ে তোমার ও তোমার সঙ্গীদের কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করা অনেক সহজসাধ্য। আর যদি তুমি কোনো দূর্গ অবরোধ কর এবং তারা তোমার নিকট আল্লাহর বিধানানুসারে ফায়সালার শর্তে অবরোধ তুলে নিতে আবেদন জানায়, তখন আল্লাহর বিধানের শর্তে তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ো না; বরং তোমার সঙ্গীদের দায়িত্বে অব্যাহতি দিবে। কেননা তুমি তো জানো না, আল্লাহর বিধান (ফায়সালা) সঠিকভাবে তাদের ব্যাপারে প্রয়োগ করতে পারবে কিনা। (মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أوفى: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ أَيَّامِهِ الَّتِي لَقِيَ فِيهَا الْعَدُوَّ انْتَظَرَ حَتَّى مَالَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَامَ فِي النَّاسِ فَقَالَ: "يَا أَيُّهَا النَّاسُ لَا تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَاسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمْ فَاصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ" ثُمَّ قَالَ: "اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَمُجْرِيَ السَّحَابِ وهازم الْأَحْزَاب واهزمهم وَانْصُرْنَا عَلَيْهِم"
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2965۔ 2966) و مسلم (1742/20)
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩০-[৫] ’আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক অভিযানে শত্রুর মুকাবিলায় অপেক্ষা করতে লাগলেন। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে গেলে, তখন তিনি লোকেদের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা শত্রুর মুকাবিলার আকাঙ্ক্ষা করো না; বরং আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা লাভের প্রার্থনা কর। তবে শত্রুর মুকাবিলা সংঘটিত হয়ে গেলে ধৈর্যধারণ করতে থাক। আর জেনে রাখ! তরবারির ছায়াতলেই জান্নাত অবস্থিত। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তুমি কিতাব (আল কুরআন) অবতরণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী এবং শত্রুবাহিনী দমনকারী! তুমি তাদের দমন কর এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য (জয়যুক্ত) কর। (বুখারী, মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا غَزَا بِنَا قَوْمًا لَمْ يَكُنْ يَغْزُو بِنَا حَتَّى يُصْبِحَ وَيَنْظُرَ إِلَيْهِمْ فَإِنْ سَمِعَ أَذَانًا كَفَّ عَنْهُمْ وَإِنْ لَمْ يَسْمَعْ أَذَانًا أَغَارَ عَلَيْهِمْ قَالَ: فَخَرَجْنَا إِلَى خَيْبَرَ فَانْتَهَيْنَا إِلَيْهِمْ لَيْلًا فَلَمَّا أَصْبَحَ وَلَمْ يسمَعْ أذاناً رِكبَ ورَكِبْتُ خلفَ أبي طلحةَ وَإِنَّ قَدَمِي لَتَمَسُّ قَدِمَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَخَرَجُوا إِلَيْنَا بَمَكَاتِلِهِمْ ومساحيهم فَلَمَّا رأى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا: مُحَمَّدٌ واللَّهِ محمّدٌ والخميسُ فلَجؤوا إِلَى الْحِصْنِ فَلَمَّا رَآهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قومٍ فساءَ صباحُ المُنْذَرينَ"
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (610) ومسلم (1365/120)
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩১-[৬] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাদেরকে নিয়ে কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে জিহাদে যেতেন, তখন ভোর অবধি আক্রমণ করতেন না। আর ভোর হলে আযানের আওয়াজের অপেক্ষায় থাকতেন, আর যদি আযান শুনতে পেতেন, তখন আক্রমণ করা হতে বিরত থাকতেন। আর আযান না শুনলে আক্রমণ করতেন। রাবী বলেন, আমরা খায়বারের যুদ্ধের জন্য বের হলাম এবং রাতের বেলায় তথায় গিয়ে পৌঁছলাম। যখন ভোর হলো এবং আযান শোনা গেল না তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হলেন এবং আমি ও ত্বলহা এর পিছনে সওয়ার হলাম। আমার পায়ের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পা মুবারক স্পর্শ করছিল।
(আনাস বলেন) এমন সময় খায়বারের অধিবাসীরা (ক্ষেত-খামারে কাজের উদ্দেশে) কাসেত্ম, কোদাল ও ঝুড়ি ইত্যাদি নিয়ে এগিয়ে এলো এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেয়ে উচ্চস্বরে বলে উঠল, এই যে মুহাম্মাদ! আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ ও তাঁর পঞ্চবাহিনী (সম্পূর্ণ দল) নিয়ে এসে পড়েছে। অতঃপর দৌড়িয়ে দুর্গের ভিতরে আশ্রয় গ্রহণ করল। তিনি (আনাস ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদের এরূপ অবস্থা প্রত্যক্ষ করলেন, তখন বলে উঠলেন- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, খায়বারের ধ্বংস নিশ্চিত। এভাবে আমরা যখন কোনো জাতির আঙিনায় অবতীর্ণ হই, তখন যেই জাতিকে পূর্বাহ্নে সতর্ক করা হয়েছে তাদের সকাল দুর্ভাগ্যজনকভাবে খারাপ হয়ে থাকে। (বুখারী, মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَن النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ قَالَ: شَهِدْتُ الْقِتَالَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ أَوَّلَ النَّهَارِ انْتَظَرَ حَتَّى تهب الْأَرْوَاح وتحضر الصَّلَاة. رَوَاهُ البُخَارِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3160)
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩২-[৭] নু’মান ইবনু মুকররিন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসংখ্য জিহাদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে শরীক ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি দিনের প্রথমভাগে আক্রমণ না করতেন, তবে (দুপুর গড়িয়ে) মৃদু বাতাস প্রবাহিত হওয়া ও সালাতের ওয়াক্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে যুদ্ধ শুরু করতেন। (মুসলিম)
মূল আরবি
عَن النُّعْمَان بن مقرن قَالَ: شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ أَوَّلَ النَّهَارِ انْتَظَرَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ وَتَهُبَّ الرِّيَاحُ وينزِلَ النَّصرُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ أبو داود (2655)
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩৩-[৮] নু’মান ইবনু মুকররিন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জিহাদে শরীক ছিলাম এবং তাঁকে দেখেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিনের প্রথমভাগে কোনো যুদ্ধে লড়াই শুরু করতে না পারলে অপেক্ষা করতেন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া এবং মৃদু বাতাস প্রবাহিত হওয়া, আর আল্লাহর সাহায্য অবতীর্ণের সময় হওয়া পর্যন্ত। (আবূ দাঊদ)
মূল আরবি
وَعَن قتادةَ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ أَمْسَكَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتْ قَاتَلَ فَإِذَا انْتَصَفَ النَّهَارُ أَمْسَكَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ فَإِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ قَاتَلَ حَتَّى الْعَصْرِ ثُمَّ أَمْسَكَ حَتَّى يُصَلَّى الْعَصْرُ ثُمَّ يُقَاتِلُ قَالَ قَتَادَةُ: كَانَ يُقَالُ: عِنْدَ ذَلِكَ تُهِيجُ رِيَاحُ النَّصْرِ وَيَدْعُو الْمُؤْمِنُونَ لِجُيُوشِهِمْ فِي صلَاتهم. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (1612) ٭ قتادۃ مدلس و عنعن و حدیث، الترمذي (1613) یغني عنہ .
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩৪-[৯] কাতাদাহ সূত্রে নু’মান ইবনু মুকররিন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছি। আমি তাঁকে দেখতাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সময় হলে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ হতে বিরত থাকতেন। যখন সূর্য উদিত হয়ে যেত, তখন যুদ্ধ শুরু করতেন। আবার মধ্যাহ্ন হলে যুদ্ধ বন্ধ রাখতেন, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ত। আবার সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ত, তখন (যুহরের সালাত আদায় করে) ’আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতেন। অতঃপর ’আসরের সালাতের জন্য বিরতি দিতেন এবং সালাত শেষে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতেন। (রাবী কাতাদাহ বলেন) সাহাবায়ে কিরামগণ বলতেন, সে সময় আল্লাহর পক্ষ হতে বিজয়ের বাতাস প্রবাহিত হতো। আর মু’মিনগণ তাদের সালাতে নিজেদের সৈন্যদলের জন্য দু’আ করতেন। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَن عصامٍ المزنيِّ قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَرِيَّةٍ فَقَالَ: "إِذَا رَأَيْتُمْ مَسْجِدًا أَوْ سَمِعْتُمْ مُؤَذِّنًا فَلَا تَقْتُلُوا أَحَدًا" . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (1549 وقال: حسن غریب) و أبو داود، (2635) ٭ ابن عصام لا یعرف حالہ .
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩৫-[১০] ’ইসামুল মুযানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এক অভিযানে সৈন্যদলের সাথে পাঠিয়ে উপদেশ দিলেন যে, যখন তোমরা কোনো অঞ্চলে মসজিদ দেখবে কিংবা আযান শুনবে, তখন সে অঞ্চলে কাউকেও হত্যা করবে না (সাবধানতা অবলম্বন করবে)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)
মূল আরবি
عَن أبي وائلٍ قَالَ: كَتَبَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ إِلَى أَهْلِ فَارِسَ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ إِلَى رُسْتَمَ وَمِهْرَانَ فِي مَلَأِ فَارِسَ. سَلَامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى. أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّا نَدْعُوكُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ فَإِنْ أَبَيْتُمْ فَأَعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَأَنْتُمْ صَاغِرُونَ فَإِنْ أَبَيْتُمْ فَإِنَّ مَعِيَ قَوْمًا يُحِبُّونَ الْقَتْلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَا يُحِبُّ فَارِسُ الْخَمْرَ وَالسَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى. رَوَاهُ فِي شَرْحِ السّنة 0
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * ضعیف، رواہ البغوي في شرح السنۃ (لم أجدہ) [وروی الحاکم (299/3)، و الطبراني فی الکبیر (105/4 ح3806) و علي بن الجعد فی مسندہ (2394/2304)] ٭ فیہ، شریک القاضي مدلس و عنعن و لہ شواھد باطلۃ فی البدایۃ والنھایۃ (348/6) و غیرھا، والحدیث حسنہ الھیثمي في مجمع الزوائد (310/5)!
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩৬-[১১] আবূ ওয়ায়িল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিম সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পক্ষ হতে এক যুদ্ধাভিযানে পারস্যবাসীদের (ইরানীদের) নিকট পত্র লিখে পাঠালেন- বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম, মুসলিম সেনাপতি রুস্থাম ও মিহরান-এর প্রতি। সত্য সঠিক পথের অনুসরণকারীদের প্রতি সালাম। অতঃপর জেনে রাখ! আমরা তোমাদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করছি। যদি তোমরা অস্বীকার কর, তাহলে নতি স্বীকার করে স্বহস্তে জিয্ইয়াহ্ আদায় কর। আর যদি তা আদায় করতেও অস্বীকার কর, তবে জেনে রেখ! আমার সঙ্গে এমন এক সৈন্যবাহিনী রয়েছে, যারা আল্লাহর পথে নির্দ্বিধায় জীবন দানকে তেমনি ভালোবাসে যেমনি পারস্যবাসী মদ্যপানকে ভালোবেসে থাকে। সত্য সরল অনুসারীদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। (শারহুস্ সুন্নাহ্)
মূল আরবি
عَن جَابر قَالَ: قَالَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ: أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فَأَيْنَ أَنَا؟ قَالَ: "فِي الْجنَّة" فَألْقى ثَمَرَات فِي يَده ثمَّ قَاتل حَتَّى قتل
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (4046) و مسلم (1899/143)
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩৭- জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। আচ্ছা বলুন! আমি যদি এ যুদ্ধে মারা যাই, তবে আমার অবস্থান কোথায় হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, জান্নাতে। এমতাবস্থায় তিনি নিজের হাতের খেজুরগুলো (যা খাচ্ছিলেন) ছুঁড়ে ফেলে দিলেন, অতঃপর জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শাহাদাত বরণ করলেন। (বুখারী, মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَن كَعْب بن مالكٍ قَالَ: لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرِيدُ غَزْوَةً إِلَّا وَرَّى بِغَيْرِهَا حَتَّى كَانَتْ تِلْكَ الْغَزْوَةُ يَعْنِي غَزْوَةَ تَبُوكَ غَزَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَرٍّ شَدِيدٍ وَاسْتَقْبَلَ سَفَرًا بَعِيدًا وَمَفَازًا وَعَدُوًّا كَثِيرًا فَجَلَّى لِلْمُسْلِمِينَ أَمْرَهُمْ لِيَتَأَهَّبُوا أُهْبَةَ غَزْوِهِمْ فَأَخْبَرَهُمْ بِوَجْهِهِ الَّذِي يُرِيدُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4418)
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩৮-[২] কা’ব ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যথারীতি অভ্যাস ছিল, তিনি কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধাভিযানে যাওয়ার সংকল্প করলে তা মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখে অন্যদিকে ইঙ্গিত করতেন। কিন্তু তাবূক যুদ্ধে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড গরমের মৌসুমে সফর, দুর্গম মরুপথ এবং শত্রু সংখ্যার বিশালতার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের সম্মুখে ব্যাপারটি স্পষ্ট করে ব্যক্ত করলেন, যাতে তারা এ দুর্গম অভিযানের জন্য পরিপূর্ণরূপে প্রস্তুতি নিতে পারে (মনোবল না হারায়)। তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় লক্ষ্যস্থল সাহাবীদেরকে জানিয়ে দিলেন। (বুখারী)
মূল আরবি
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: "الْحَرْب خدعة"
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3030) و مسلم (1739/17)
বাংলা অনুবাদ
৩৯৩৯-[৩] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুদ্ধ হলো ছল-কৌশল। (বুখারী, মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْزُو بِأُمِّ سُلَيْمٍ وَنِسْوَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ مَعَهُ إِذَا غَزَا يَسْقِينَ الْمَاءَ وَيُدَاوِينَ الْجَرْحَى. رَوَاهُ مُسلم
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1810/130)
বাংলা অনুবাদ
৩৯৪০-[৪] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো যুদ্ধাভিযানে বের হতেন তখন উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) (আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মা) এবং অন্যান্য আনসারী মহিলাগণ জিহাদে শামিল থাকতেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এ সমস্ত মহিলাগণ সৈন্যদেরকে পানি পান করাতেন এবং আহতদের সেবা-শুশ্রূষা করতেন। (মুসলিম)
