মিশকাতুল মাসাবীহ

পরিচ্ছেদ ২৮৬: হাদিস ৫,৭০১-৫,৭২০

এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।

এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
হাদিস ৫,৭০১

মূল আরবি

وَعَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وصف لكم» . رَوَاهُ مُسلم

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (60/ 2996)

বাংলা অনুবাদ

৫৭০১-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাদের)-কে নূরের দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর জিন্ জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে ধোঁয়া মিশ্রিত অগ্নিশিখা হতে এবং আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে ঐ বস্তু দ্বারা, যার বর্ণনা (কুরআনে) তোমাদেরকে বলা হয়েছে। (মুসলিম)

হাদিস ৫,৭০২

মূল আরবি

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَمَّا صَوَّرَ اللَّهُ آدَمَ فِي الْجَنَّةِ تَرَكَهُ مَا شَاءَ أَنْ يَتْرُكَهُ فَجَعَلَ إِبْلِيسُ يُطِيفُ بِهِ يَنْظُرُ مَا هُوَ فَلَمَّا رَآهُ أَجْوَفَ عَرَفَ أَنَّهُ خُلِقَ خَلْقًا لَا يتمالَكُ» . رَوَاهُ مُسلم

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (111/ 2611)

বাংলা অনুবাদ

৫৭০২-[৫] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা যখন জান্নাতে আদম (আঃ)-এর দেহ আকৃতি তৈরি করলেন এবং যতদিন ইচ্ছা তিনি এ অবস্থায় রেখে দিলেন, তখন ইবলীস উক্ত আকৃতির চতুস্পার্শ্বে ঘোরাফেরা করত এবং তার প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। অতঃপর যখন সে দেখতে পেল তার মধ্যস্থল শূন্য, তখন সে বুঝতে পারল যে, এটা এমন একটি সৃষ্টিজীব যে নিজেকে আয়ত্তে রাখতে পারবে না। (মুসলিম)

হাদিস ৫,৭০৩

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اخْتَتَنَ إِبْرَاهِيمُ النَّبِيُّ وَهُوَ ابْنُ ثَمَانِينَ سَنَةً بِالْقَدُومِ» . مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3356) ومسلم (151/ 2370)

বাংলা অনুবাদ

৫৭০৩-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ইবরাহীম আলায়হিস সালাম স্বয়ং স্বীয় হাতে নিজের খৎনা করেছেন ’কদূম’ দ্বারা এবং তখন তার বয়স ছিল আশি বছর। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৭০৪

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَمْ يَكْذِبْ إِبْرَاهِيمُ إِلَّا فِي ثَلَاثَ كَذَبَاتٍ: ثِنْتَيْنِ مِنْهُنَّ فِي ذَاتِ اللَّهِ قولُه (إِني سَقيمٌ) وقولُه (بلْ فعلَه كبيرُهم هَذَا) وَقَالَ: بَيْنَا هُوَ ذَاتَ يَوْمٍ وَسَارَةُ إِذْ أَتَى عَلَى جَبَّارٍ مِنَ الْجَبَابِرَةِ فَقِيلَ لَهُ: إِن هَهُنَا رَجُلًا مَعَهُ امْرَأَةٌ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَسَأَلَهُ عَنْهَا: مَنْ هَذِهِ؟ قَالَ: أُخْتِي فَأَتَى سَارَةَ فَقَالَ لَهَا: إِنَّ هَذَا الْجَبَّارَ إِنْ يَعْلَمْ أَنَّكِ امْرَأَتِي يَغْلِبُنِي عَلَيْكِ فَإِنْ سألكِ فأخبِريهِ أنَّكِ أُختي فإِنكِ أُخْتِي فِي الْإِسْلَامِ لَيْسَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مُؤْمِنٌ غَيْرِي وَغَيْرُكِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا فَأُتِيَ بِهَا قَامَ إِبْرَاهِيمُ يُصَلِّي فَلَمَّا دَخَلَتْ عَلَيْهِ ذَهَبَ يَتَنَاوَلُهَا بِيَدِهِ.

فَأُخِذَوَيُرْوَى فَغُطَّحَتَّى رَكَضَ بِرِجْلِهِ فَقَالَ: ادْعِي اللَّهَ لِي وَلَا أَضُرُّكِ فَدَعَتِ اللَّهَ فَأُطْلِقَ ثُمَّ تَنَاوَلَهَا الثَّانِيَةَ فَأُخِذَ مِثْلَهَا أَوْ أَشَدُّ فَقَالَ: ادْعِي اللَّهَ لِي وَلَا أَضُرُّكِ فَدَعَتِ اللَّهَ فَأُطْلِقَ فَدَعَا بَعْضَ حجَبتِه فَقَالَ: إِنَّكَ لم تأتِني بِإِنْسَانٍ إِنَّمَا أَتَيْتَنِي بِشَيْطَانٍ فَأَخْدَمَهَا هَاجَرَ فَأَتَتْهُ وَهُوَ قائمٌ يُصلي فأوْمأَ بيدِه مَهْيَمْ؟ قَالَتْ: رَدَّ اللَّهُ كَيْدَ الْكَافِرِ فِي نَحْرِهِ وَأَخْدَمَ هَاجَرَ " قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: تِلْكَ أُمُّكُمْ يَا بَنِي مَاءِ السَّمَاءِ.

مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2213، 3358) و مسلم (154/ 2371)

বাংলা অনুবাদ

৫৭০৪-[৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ইবরাহীম আলায়হিস সালাম তিনবার ছাড়া আর কখনো মিথ্যা বলেননি। এর মধ্যে দু’বার ছিল শুধু আল্লাহ তা’আলার (সত্তার ক্ষেত্রে) জন্য। যেমন- তিনি বলেছেন, ’আমি অসুস্থ’ এবং তার অপর কথাটি হলো, বরং তাদের এই বড় মূর্তিটিই এটা করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, একদিন ইবরাহীম আলায়হিস সালাম ও তাঁর স্ত্রী সারা এক অত্যাচারী শাসনকর্তার এলাকায় (মিসরে) এসে পৌছলেন। শাসনকর্তাকে খবর দেয়া হলো যে, এখানে একজন লোক এসেছে, তার সাথে আছে অতি সুন্দরী এক রমণী।

রাজা তখন ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -এর কাছে (লোক) পাঠাল। সে তাঁকে প্রশ্ন করল, এই মহিলাটি কে? ইবরাহীম আলায়হিস সালাম জবাব দিলেন, আমার দীনী ভগ্নি। অতঃপর ইবরাহীম আলায়হিস সালাম সারার কাছে এসে বললেন, হে সারা! যদি এই যালিম জানতে পারে যে, তুমি আমার স্ত্রী তাহলে সে তোমাকে আমার কাছে থেকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নেবে। অতএব যদি সে তোমাকে প্রশ্ন করে, তখন বলে দেবে তুমি আমার বোন। মূলত তুমি আমার দীনী বোন। প্রকৃত আমি এবং তুমি ছাড়া এই জমিনের উপর আর কোন মুমিন নেই। রাজা এবার সারা’র নিকট (তাকে আনার জন্য) লোক পাঠাল। তাকে উপস্থিত করা হলো। অন্যদিকে ইবরাহীম আলায়হিস সালাম সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন।

অতঃপর সারা যখন তার কাছে প্রবেশ করলেন তখন রাজা তাকে ধরার জন্য হাত বাড়াল, তখনই সে আল্লাহর ক্রোধে পাকড়াও হলো। অন্য বর্ণনায় রয়েছে- তার দম বন্ধ হয়ে গেল, এমনকি জমিনে পা মারতে লাগল। অত্যাচারী (অবস্থা বেগতিক দেখে সারাকে) বলল, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ কর, আমি তোমার ক্ষতি করব না। তখন সারা (তার জন্য) আল্লাহর কাছে দু’আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। অতঃপর সে দ্বিতীয়বার তাঁকে ধরার জন্য হাত বাড়াল। তখন সে আগের মতো কিংবা আরো কঠিনভাবে পাকড়াও হলো। এবারও সে বলল, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ কর, আমি তোমার কোন অকল্যাণ করব না। অতএব সারা আবারও আল্লাহর কাছে দু’আ করলেন।

ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। তখন সে রাজা তার একজন দারোয়ানকে ডেকে বলল, তোমরা তো আমার কাছে কোন মানুষকে আননি; বরং তোমরা আমার কাছে এনেছ একজন শয়তানকে। এরপর সে সারার সেবার জন্য ’হাজেরা (নামে একটি রমণী)-কে দান করল। অতঃপর সারা ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -এর কাছে ফিরে আসলেন, তখনো তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। (সালাতের মধ্যেই) হাতের ইশারায় সারাকে প্রশ্ন করলেন, ঘটনা কি হলো? সারা বললেন, আল্লাহ তা’আলা কাফিরের চক্রান্ত তারই বক্ষে পাল্টা নিক্ষেপ (নস্যাৎ) করেছেন। আর সে আমার সেবার জন্য ’হাজেরা’কে দান করেছে। আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাদীসটি বর্ণনা করে বললেন, হে আকাশের পানির সন্তান!

অর্থাৎ হে ’আরববাসীগণ! এই ’হাজেরাই তোমাদের আদি মাতা। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৭০৫

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " نَحْنُ أَحَقُّ بِالشَّكِّ مِنْ إِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ: (رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تحيي الْمَوْتَى) وَيَرْحَمُ اللَّهُ لُوطًا لَقَدْ كَانَ يَأْوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ وَلَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ طُولَ مَا لَبِثَ يُوسُفُ لَأَجَبْتُ الدَّاعِيَ ". مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3372) و مسلم (152/ 151)

বাংলা অনুবাদ

৫৭০৫-[৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ইবরাহীম আলায়হিস সালাম অপেক্ষা আমরা সন্দেহ পোষণ করার অধিক হকদার। যখন তিনি বলেছিলেন, হে আমার প্রভু! আপনি কিরূপ মৃতকে জীবিত করবেন তা আমাকে দেখিয়ে দিন। আল্লাহ তা’আলা লূত আলায়হিস সালাম -এর ওপর দয়া করুন! (আল্লাহর দীন প্রচারে অসহায়তার দরুন) তিনি একটি দৃঢ় খুঁটির (ব্যক্তি বা দলের) আশ্রয় পেতে চেয়েছিলেন। আর ইউসুফ আলায়হিস সালাম যত দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন, এত দীর্ঘ সময় আমিও যদি কারাগারে থাকতাম, তাহলে তখনই আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিতাম। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৭০৬

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ مُوسَى كَانَ رَجُلًا حَيِيًّا سِتِّيرًا لَا يُرَى مِنْ جِلْدِهِ شَيْءٌ اسْتِحْيَاءً فَآذَاهُ مَنْ آذَاهُ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَقَالُوا: مَا تَسَتَّرَ هَذَا التَّسَتُّرَ إِلَّا مِنْ عَيْبٍ بِجِلْدِهِ: إِمَّا بَرَصٌ أَوْ أُدْرَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ أَرَادَ أَنْ يُبَرِّئَهُ فَخَلَا يَوْمًا وَحده ليغتسل فَوَضَعَ ثَوْبَهُ عَلَى حَجَرٍ فَفَرَّ الْحَجَرُ بِثَوْبِهِ فَجمع مُوسَى فِي إِثْرِهِ يَقُولُ: ثَوْبِي يَا حَجَرُ ثَوْبِي يَا حَجَرُ حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَلَأٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَرَأَوْهُ عُرْيَانًا أَحْسَنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ وَقَالُوا: وَاللَّهِ مَا بِمُوسَى مِنْ بَأْسٍ وَأَخْذَ ثَوْبَهُ وَطَفِقَ بِالْحَجَرِ ضَرْبًا فَوَاللَّهِ إِنَّ بِالْحَجَرِ لَنَدَبًا مِنْ أَثَرِ ضَرْبِهِ ثَلَاثًا أَو أَرْبعا أَو خمْسا ".

مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3404) و مسلم (156/ 2371)

বাংলা অনুবাদ

৫৭০৬-[৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মূসা আলায়হিস সালাম ছিলেন খুবই লাজুক স্বভাবের লোক। সব সময় শরীর ঢেকে রাখতেন। লজ্জাশীলতার কারণে তাঁর দেহের কোন অংশ কখনো খোলা দেখা যেত না। বানী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের একদল লোক (এ ব্যাপারে) তাঁকে মারাত্মক কষ্ট দিল। তারা (অভিযোগ এনে) বলল, তিনি যে শরীর ঢেকে রাখতে এত বেশি তৎপর, এর একমাত্র কারণ হলো, তার দেহে নিশ্চয় কোন দোষ আছে। হয়তো শ্বেত (কুষ্ঠ) রোগ রয়েছে কিংবা অণ্ডকোষে একশিরা আছে। মহান আল্লাহ তা’আলা নির্দোষিতা প্রকাশ করার ইচ্ছা করলেন।

অতএব একদিন গোসল করার জন্য মূসা আলায়হিস সালাম একা এক নির্জন স্থানে গেলেন এবং পরনের কাপড় খুলে একটি পাথরের উপর রাখলেন এবং অমনি তার কাপড়সহ পাথরটি ছুটে চলল। সাথে সাথেই মূসা আলায়হিস সালাম পাথরটিকে ধাওয়া করলেন; আর চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলেন, হে পাথর! আমার কাপড়! হে পাথর, আমার কাপড়! শেষ পর্যন্ত পাথরটি বানী ইসরাঈলের এক বৈঠকে এসে পৌছল। ফলে তারা মূসা আলায়হিস সালাম -কে পোষাকহীন অবস্থায় দেখে ফেলল। তারা দেখতে পেল, মূসা আলায়হিস সালাম -এর শরীর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক সৌন্দর্যপূর্ণ এবং সকলে এক বাক্যে বলে উঠল- আল্লাহর শপথ!

মূসা আলায়হিস সালাম -এর শরীরে কোন প্রকারের দোষ নেই। এবার তিনি কাপড়টি নিয়ে পরিধান করলেন এবং (হাতের লাঠি দ্বারা) পাথরকে খুব জোরে মারতে লাগলেন। আল্লাহর শপথ! এতে পাথরের গায়ে তিন, চার কিংবা পাঁচটি আঘাতের দাগ পড়ে গেল। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৭০৭

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " بَيْنَا أَيُّوبُ يَغْتَسِلُ عُرْيَانًا فَخَرَّ عَلَيْهِ جَرَادٌ مِنْ ذَهَبٍ فَجَعَلَ أَيُّوبُ يَحْثِي فِي ثَوْبِهِ فَنَادَاهُ رَبُّهُ: يَا أَيُّوبُ أَلَمْ أَكُنْ أَغْنَيْتُكَ عَمَّا تَرَى؟ قَالَ: بَلَى وَعِزَّتِكَ وَلَكِن لَا غنى بِي عَن بركتك ". رَوَاهُ البُخَارِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (279)

বাংলা অনুবাদ

৫৭০৭-[১০] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: একদিন আইয়ুব আলায়হিস সালাম উলঙ্গ অবস্থায় গোসল করছিলেন, এমনি অবস্থায় তাঁর ওপর সোনালী পঙ্গপাল পতিত হলো। তখন আইয়ুব আলায়হিস সালাম সেগুলোকে দ্রুত ধরে কাপড়ে রাখতে লাগলেন। তখন তার প্রভু তাকে ডেকে বললেন, হে আইয়ূব! তুমি যা দেখছ, আমি কি তা হতে তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেইনি। উত্তরে তিনি বললেন, হ্যা, নিশ্চয় আপনার ’ইজ্জতের শপথ! কিন্তু আপনার বারাকাত ও কল্যাণ হতে তো আমি অভাবমুক্ত নই। (বুখারী)

হাদিস ৫,৭০৮

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: اسْتَبَّ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَرَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ. فَقَالَ الْمُسْلِمُ: وَالَّذِي اصْطَفَى مُحَمَّدًا عَلَى الْعَالَمِينَ. فَقَالَ الْيَهُودِيُّ: وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْعَالَمِينَ. فَرَفَعَ الْمُسْلِمُ يَدَهُ عِنْدَ ذَلِكَ فَلَطَمَ وَجْهَ الْيَهُودِيِّ فَذَهَبَ الْيَهُودِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِمَا كَانَ من أمره وأمرِ الْمُسلم فَدَعَا النَّبِي صلى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُسْلِمَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُخَيِّرُونِي عَلَى مُوسَى فَإِنَّ النَّاسَ يُصْعَقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأُصْعَقُ مَعَهُمْ فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ فَإِذَا مُوسَى بَاطِشٌ بِجَانِبِ الْعَرْشِ فَلَا أَدْرَى كَانَ فِيمَنْ صُعِقَ فَأَفَاقَ قَبْلِي أَوْ كَانَ فِيمَنِ اسْتَثْنَى اللَّهُ.» .

وَفِي رِوَايَةٍ: " فَلَا أَدْرِي أَحُوسِبَ بِصَعْقَةِ يَوْمِ الطُّورِ أَوْ بُعِثَ قَبْلِي؟ وَلَا أَقُولُ: أَنَّ أَحَدًا أَفْضَلَ مِنْ يُونُسَ بنِ مَتَّى "

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (2411) [و مسلم (160/ 2373) الروایۃ الثانیۃ:، البخاري (3415)]

বাংলা অনুবাদ

৫৭০৮-[১১] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বলেন, একবার একজন মুসলিম ও একজন ইয়াহূদী একে অপরে গালাগালিতে লিপ্ত হলো। মুসলিম লোকটি বলল, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি মুহাম্মাদ (সা.) - কে সমস্ত জগতের উপর নির্বাচন করেছেন। তখন ইয়াহুদী বলে উঠল, শপথ সেই সত্তার! যিনি মূসা আলায়হিস সালামকে সারা জগতের উপর নির্বাচন করেছেন। (এ কথাটি শুনামাত্রই) মুসলিম লোকটি তৎক্ষণাৎ ইয়াহূদীর গালে একটি থাপ্পড় মারল। অতঃপর সেই ইয়াহূদী নবী (সা.) -এর কাছে গিয়ে তার ও মুসলিম লোকটির মধ্যে সংঘটিত ব্যাপারটি তাঁকে জানাল। তখন নবী (সা.) লোকটিকে ডেকে আনলেন এবং ঘটনাটির সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, সেও ঘটনাটি বর্ণনা করল। তখন নবী (সা.) বললেন, ’আমাকে মূসা আলায়হিস সালাম -এর ওপর প্রাধান্য দিতে যেয়ো না। কেননা কিয়ামতের দিন সকল মানুষই হুশ হারিয়ে ফেলবে, আমিও তাদের সাথে বেহুশ থাকব। তবে আমি সর্বপ্রথম হুঁশ ফিরে পেতেই দেখব, মূসা আলায়হিস সালাম ’আরশের এক কিনারা ধরে রয়েছেন। তবে আমি জানি না, তিনিও বেহুশ হয়েছেন এবং আমার পূর্বেই হুঁশপ্রাপ্ত হয়েছেন অথবা তিনি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে মহান আল্লাহ (বেহুঁশ হওয়া হতে) বাদ রেখেছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে -
নবী (সা.) বলেছেন: আমি জানি না, তূর পাহাড়ের ঘটনার দিন তিনি যে বেহুশ হয়েছিলেন, তা হিসাবে রাখা হয়েছে অথবা আমার পূর্বেই তিনি হুঁশ ফিরে পেয়েছেন? তিনি আরো বলেছেন, ’আমি এটাও বলব না যে, কোন লোক ইউনুস ইবনু মাত্তা অপেক্ষা উত্তম।

হাদিস ৫,৭০৯

মূল আরবি

وَفِي رِوَايَةِ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: «لَا تُخَيِّرُوا بَيْنَ الْأَنْبِيَاءِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةِ أَبِي هُرَيْرَة: «لَا تفضلوا بَين أَنْبيَاء الله»

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6916) و مسلم (163 / 2374) وروایۃ، سیدنا أبي ھریرۃ رضي اللہ عنہ، رواھا البخاري (3414) و مسلم (159/ 2372)

বাংলা অনুবাদ

৫৭০৯-[১২] অপর এক বর্ণনায় আবূ সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা নবীদের একে অপরের মধ্যে একজনকে আরেকজনের ওপর প্রধান্য দিয়ো না। (বুখারী ও মুসলিম)
আর আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর অপর এক বর্ণনায় আছে- তিনি (সা.) বলেছেন: তোমরা নবীদের মধ্যে একজনকে আরেকজনের ওপর মর্যাদা প্রদান করো না।

হাদিস ৫,৭১০

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ: إِنِّي خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى ". مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةِ البُخَارِيّ قَالَ: " من قَالَ: أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى فقد كذب "

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3416) و مسلم (116/ 2376) والروایۃ، الثانیۃ، رواھا البخاري (4604)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১০-[১৩] আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কারো পক্ষেই এ কথা বলা উচিত নয় যে, আমি (মুহাম্মাদ) ইউনুস ইবনু মাত্তার তুলনায় উত্তম। (বুখারী ও মুসলিম)
বুখারী-এর অন্য এক বর্ণনায় আছে- রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে লোক বলবে, আমি (মুহাম্মাদ) ইউনুস ইবনু মাত্তা আলায়হিস সালাম হতে উত্তম, সে মিথ্যা বলেছে।

হাদিস ৫,৭১১

মূল আরবি

وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْغُلَامَ الَّذِي قَتَلَهُ الْخَضِرُ طُبِعَ كَافِرًا وَلَوْ عَاشَ لَأَرْهَقَ أَبَوَيْهِ طُغْيَانًا وَكُفْرًا» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (لم أجدہ) و مسلم (29/ 2661)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১১-[১৪] উবাই ইবনু কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে বালকটিকে খাযির আলায়হিস সালাম হত্যা করেছিলেন, সে ছিল জন্মগত কাফির। যদি সে বেঁচে থাকত, তাহলে সে তার পিতামাতাকে অবাধ্যতা ও কুফরের মধ্যে ফেলে দিত (অথচ তাঁরা ছিলেন ঈমানদার)। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৭১২

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا سُمِّيَ الْخَضِرُ لِأَنَّهُ جَلَسَ عَلَى فَرْوَةٍ بَيْضَاءَ فَإِذَا هِيَ تَهْتَزُّ من خَلْفِه خضراء» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3402)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১২-[১৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: খাযিরকে খাযির নামে আখ্যায়িত করার কারণ হলো এই যে, একদিন তিনি একটি শুকনো সাদা জায়গায় বসেছিলেন। তাঁর উঠে যাওয়ার পরই হঠাৎ ঐ স্থানটি সবুজের সমারোহে পরিপূর্ণ হয়ে গেল (সে ঘটনা হতে তার নাম ’খাযির হয়ে গেল)। (বুখারী)

হাদিস ৫,৭১৩

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " جَاءَ مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى مُوسَى ابْنِ عِمْرَانَ فَقَالَ لَهُ: أَجِبْ رَبَّكَ ". قَالَ: «فَلَطَمَ مُوسَى عَيْنَ مَلَكَ الْمَوْتِ فَفَقَأَهَا» قَالَ: " فَرَجَعَ الْمَلَكُ إِلَى اللَّهِ فَقَالَ: إِنَّكَ أَرْسَلْتَنِي إِلَى عَبْدٍ لَكَ لَا يُرِيدُ الْمَوْتَ وَقَدْ فَقَأَ عَيْنِي " قَالَ: " فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ عَيْنَهُ وَقَالَ: ارْجِعْ إِلَى عَبْدِي فَقُلْ: الْحَيَاةَ تُرِيدُ؟ فَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْحَيَاةَ فَضَعْ يَدَكَ عَلَى مَتْنِ ثَوْرٍ فَمَا تَوَارَتْ يَدُكَ مِنْ شَعْرِهِ فَإِنَّكَ تَعِيشُ بِهَا سَنَةً قَالَ: ثُمَّ مَهْ؟

قَالَ: ثُمَّ تَمُوتُ. قَالَ: فَالْآنَ مِنْ قَرِيبٍ رَبِّ أَدْنِنِي مِنَ الْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ رَمْيَةً بِحَجَرٍ ". قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ لَوْ أَنِّي عِنْدَهُ لَأَرَيْتُكُمْ قَبْرَهُ إِلَى جَنْبِ الطَّرِيقِ عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ» . مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (1339) و مسلم (158، 157 / 2372)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১৩-[১৬] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মৃত্যুর মালাক (ফেরেশতা) মূসা ইবনু ইমরান (আঃ)-এর কাছে এসে বললেন, আপনার প্রভুর ডাকে সাড়া দিন। তখন মূসা আলায়হিস সালাম মৃত্যুর ফেরেশতার চোখের উপর চপেটাঘাত করলেন। ফলে তার চোখ উপড়ে গেল। তিনি বলেন, অতঃপর মালাক (ফেরেশতা) আল্লাহ তা’আলার কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, আপনি আমাকে আপনার এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যে মরতে চায় না। এমনকি সে আমার চোখ উপড়িয়ে ফেলেছে।
তিনি (সা.) বলেছেন: তখন আল্লাহ তা’আলা তার চোখ ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তুমি পুনরায় আমার সেই বান্দার কাছে যাও এবং বল, তুমি কি বেঁচে থাকতে চাও? যদি তুমি বেঁচে থাকতে চাও, তাহলে একটি ষাড়ের পিঠে হাত রাখ এবং তোমার হাত তার যতগুলো লোম ঢেকে ফেলবে, প্রতিটি লোমের বদলে তোমাকে এক এক বছর আয়ু দান করা হবে। তা শুনে মূসা আলায়হিস সালাম প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা, তারপর কি হবে? মালাক (ফেরেশতা) বললেন, অতঃপর তোমাকে মরতে হবে। তখন মূসা ’আলায়হিস সালাম বললেন, তাহলে কাছাকাছি সময়ে এখনই তা হোক। (এরপর তিনি দু’আ করলেন,) হে প্রভু! আপনি আমাকে পবিত্র ভূমি (বায়তুল মাক্বদিস) হতে একটি ঢিল নিক্ষেপের দূরত্ব পর্যন্ত কাছে পৌছিয়ে দিন। (অর্থাৎ তথায় যেন আমাকে দাফন করা হয়) রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহর শপথ! যদি আমি সেখানে উপস্থিত থাকতাম, তবে পথ পার্শ্বে লাল বালুর টিলার কাছে তাঁর কবর আমি তোমাদেরকে দেখিয়ে দিতাম। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৭১৪

মূল আরবি

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عُرِضَ عَلَيَّ الْأَنْبِيَاءُ فَإِذَا مُوسَى ضَرْبٌ مِنَ الرِّجَالِ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنوءَةَ ورأيتُ عِيسَى بن مَرْيَم فإِذا أقربُ مَن رأيتُ بِهِ شَبَهًا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ وَرَأَيْتُ إِبْرَاهِيمَ فَإِذَا أَقْرَبُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ شَبَهًا صَاحِبُكُمْيَعْنِي نَفْسَهُوَرَأَيْتُ جِبْرِيلَ فَإِذَا أَقْرَبُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ شَبَهًا دِحْيَةُ بْنُ خَلِيفَةَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (271/ 167)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১৪-[১৭] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (মি’রাজের রাতে) নবী গণকে আমার সামনে উপস্থিত করা হয়। তন্মধ্যে মূসা আলায়হিস সালাম-কে দেখলাম, তিনি মাঝারি ধরনের পুরুষ। মনে হচ্ছিল তিনি যেন শানুয়াহ্ গোত্রেরই একজন লোকে। আর ’ঈসা ইবনু মারইয়াম আলায়হিস সালাম-কেও দেখলাম, আমি যে সকল লোকেদেরকে দেখেছি, তাদের মাঝে তিনি উরওয়াহ্ ইবনু মাস’উদ-এর ঘনিষ্ঠ সদৃশ। আর আমি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে দেখেছি। তাঁকে দেখলাম, তিনি অনেকটা তোমাদের বন্ধুর সদৃশ অর্থাৎ তিনি [নবী (সা.)] নিজেই। আর জিবরীল আলায়হিস সালাম-কে দেখলাম, তিনি হলেন আমার দেখা লোকেদের মধ্যে দিহইয়া ইবনু খলীফার সদৃশ। (মুসলিম)

হাদিস ৫,৭১৫

মূল আরবি

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي مُوسَى رَجُلًا آدَمَ طُوَالًا جَعْدًا كَأَنَّهُ شنُوءَة وَرَأَيْت رَجُلًا مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبْطَ الرَّأْسِ وَرَأَيْتُ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ فَلَا تَكُنْ فِي مرية من لِقَائِه» . مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3239) و مسلم (267/ 165)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১৫-[১৮] ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: যে রাতে আমার মি’রাজ হয়েছে, সে রাত্রে আমি মূসা আলায়হিস সালাম -কে দেখেছি, তিনি শ্যামবর্ণ, লম্বাকার এবং কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট লোক। দেখতে ’শানুয়াহ্’ গোত্রের লোকেদের একজন বলে মনে হয়। আর ’ঈসা আলায়হিস সালাম -কে দেখেছি মধ্যম গড়নের লাল-সাদা সংমিশ্রিত বর্ণের, মাথার চুলগুলো সোজা। অতঃপর আমি দেখতে পেয়েছি জাহান্নামের দারোগা মালিক এবং দাজ্জালকেও ঐ সকল নিদর্শনগুলোর মধ্যে, যেগুলো আল্লাহর তা’আলা আমাকে দেখিয়েছেন। অতএব তার সাথে তোমার যে সাক্ষাৎ ঘটবে, তাতে তুমি কোন সন্দেহ পোষণ করো না। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৭১৬

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَيْلَةً أُسْرِيَ بِي لَقِيتُ مُوسَىفَنَعَتَهُ -: فَإِذَا رَجُلٌ مُضْطَرِبٌ رَجِلُ الشَّعْرِ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَلَقِيتُ عِيسَى رَبْعَةً أَحْمَرَ كَأَنَّمَا خَرَجَ مِنْ دِيمَاسٍيَعْنِي الْحَمَّامَوَرَأَيْتُ إِبْرَاهِيمَ وَأَنَا أَشْبَهُ وَلَدِهِ بِهِ " قَالَ: " فَأُتِيتُ بِإِنَاءَيْنِ: أَحَدُهُمَا لَبَنٌ وَالْآخَرُ فِيهِ خَمْرٌ. فَقِيلَ لِي: خُذْ أَيَّهُمَا شِئْتَ. فَأَخَذْتُ اللَّبَنَ فَشَرِبْتُهُ فَقِيلَ لِي: هُدِيتَ الْفِطْرَةَ أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَخَذْتَ الْخَمْرَ غَوَتْ أمتك ". مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3394) و مسلم (272/ 168)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১৬-[১৯] আবু হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার মি’রাজের রাত্রিতে আমি মূসা আলায়হিস সালাম-এর সাক্ষাৎ পেয়েছি। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সা.) তার আকৃতি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি হালকা গড়নের কিছুটা কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট, দেখতে যেন ’শানূয়াহ’ গোত্রের একজন লোক। তিনি আরো বলেছেন, আমি ’ঈসা আলায়হিস সালাম-এর সাক্ষাৎও পেয়েছি। তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের লালবর্ণবিশিষ্ট। মনে হয় যেন তিনি এইমাত্র হাম্মামখানা (গোসলখানা) হতে বের হয়েছেন। আর আমি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কেও দেখেছি। তাঁর বংশধরদের মধ্যে আমিই সকলের তুলনায় বেশি তার সদৃশ।

তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর আমার সামনে দুটি পোয়ালা আনা হলো। একটিতে দুধ এবং অপরটিতে ছিল মদ। আমাকে বলা হলো, আপনি দুটির যেটি ইচ্ছা তুলে নিন। তখন আমি দুধের পেয়ালাটি তুলে নিলাম এবং তা পান করলাম। অতঃপর আমাকে বলা হলো, আপনাকে ফিতরাতের (সৃষ্ট স্বভাবের) পথ প্রদর্শন করা হয়েছে। জেনে রাখুন! আপনি যদি মদের পাত্রটি নিতেন, আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৭১৭

মূল আরবি

وَعَن ابنِ عبَّاسٍ قَالَ: سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَمَرَرْنَا بِوَادٍ فَقَالَ: «أَيُّ وَادٍ هَذَا؟» . فَقَالُوا: وَادِي الْأَزْرَقِ. قَالَ: «كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى» فَذَكَرَ مِنْ لَوْنِهِ وَشَعْرِهِ شَيْئًا وَاضِعًا أُصْبُعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ لَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ بِالتَّلْبِيَةِ مَارًّا بِهَذَا الْوَادِي ". قَالَ: ثُمَّ سِرْنَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى ثَنِيَّةٍ. فَقَالَ: «أَيُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ؟» قَالُوا: هَرْشَىأَوْ لِفْتُ -. فَقَالَ: «كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ عَلَيْهِ جُبَّةُ صُوفٍ خِطَامُ نَاقَتِهِ خُلْبَةٌ مَارًّا بِهَذَا الْوَادِي مُلَبِّيًا» رَوَاهُ مُسلم

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (268/ 166)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১৭-[২০] ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে মক্কাহ্ এবং মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে ভ্রমণে ছিলাম। এ সময় আমরা একটি উপত্যকা অতিক্রম করছিলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, এটা কোন্ উপত্যকা? লোকেরা বলল, এটা ’আযরক’ উপত্যকা। তিনি বললেন, আমি যেন (মূসা আলায়হিস সালাম-এর) গায়ের রং ও মাথার চুলের কিছু বর্ণনা দিলেন এবং বললেন, তিনি যেন উভয় কানের মধ্যে অঙ্গুলি রেখে উঁচু আওয়াজে তালবিয়া পড়তে পড়তে এ উপত্যকা অতিক্রম করে আল্লাহর (ঘরের) দিকে ছুটে যাচ্ছেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমারা আরো কিছু দূর সামনে অগ্রসর হয়ে একটি গিরিপথে
এসে উপস্থিত হলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, এটা কোন গিরিপথ? লোকেরা বলল, এটা ’হারশা অথবা বলল ’লিফত। তখন তিনি বললেন, আমি যেন ইউনুস আলায়হিস সালাম-কে এমন অবস্থায় দেখতে পেয়েছি যে, তিনি একটি লালবর্ণের উষ্ট্রীর উপর সওয়ার, তার দেহে পরিহিত একটি পশমি জুব্বা, উষ্ট্রীর লাগাম খেজুর পাতার তৈরি, তিনি ’তালবিয়াহ’ উচ্চারণ করতে করতে এ ময়দান অতিক্রম করছেন। (মুসলিম)

হাদিস ৫,৭১৮

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «خُفِّفَ عَلَى دَاوُدَ الْقُرْآنُ فَكَانَ يَأْمُرُ بِدَوَابِّهِ فَتُسَرَّحَ فَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ قَبْلَ أَنْ تُسَرَّحَ دَوَابُّهُ وَلَا يَأْكُلُ إِلَّا مِنْ عملِ يدَيهِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3417)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১৮-[২১] আবু হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: দাউদ আলায়হিস সালাম এর জন্য যাবূর কিতাব তিলাওয়াত করা সহজ করে দেয়া হয়েছিল। এমনকি তিনি তার বাহনের উপর গদি বাধবার আদেশ করতেন। তখন তার উপর গদি বাঁধা হত। অথচ বাহনের পশুর উপর গদি বাঁধা শেষ হওয়ার পূর্বেই তিনি যাবূর কিতাব পরিপূর্ণভাবে তিলাওয়াত শেষ করে ফেলতেন। আর তিনি নিজ হাতের উপার্জন ছাড়া কিছুই খেতেন না। (বুখারী)

হাদিস ৫,৭১৯

মূল আরবি

وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " كَانَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا جَاءَ الذِّئْبُ فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا فَقَالَتْ صَاحِبَتُهَا: إِنَّمَا ذَهَبَ بابنك. وَقَالَت الْأُخْرَى: إِنَّمَا ذهب بابنك فتحاكما إِلَى دَاوُدَ فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى فَخَرَجَتَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ فَأَخْبَرَتَاهُ فَقَالَ: ائْتُونِي بِالسِّكِّينِ أَشُقُّهُ بَيْنَكُمَا. فَقَالَتِ الصُّغْرَى: لَا تَفْعَلُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ هُوَ ابْنُهَا فَقَضَى بِهِ لِلصُّغْرَى " مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3427) و مسلم (20/ 1720)

বাংলা অনুবাদ

৫৭১৯-[২২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: দু’জন মহিলা এবং তাদের সঙ্গে তাদের দু’টি শিশু সন্তানও ছিল। এমন সময় আকস্মাৎ একটি বাঘ এসে তাদের একজনের শিশুটি নিয়ে গেল। তখন সাথের অন্য মহিলাটি বলল, বাঘে তোমার শিশুটি নিয়েছে। দ্বিতীয় মহিলাটি বলল, বাঘে নিয়েছে তোমার শিশু। অতঃপর উভয় মহিলা দাউদ আলায়হিস সালাম-এর কাছে এর মীমাংসার জন্য বিচারপ্রার্থী হলো। তখন দাউদ আলায়হিস সালাম শিশুটির ব্যাপারে বয়স্ক মহিলাটির পক্ষে রায় দিলেন। এরপর মহিলা দু’জন বের হয়ে দাউদ আলায়হিস সালাম-এর পুত্র সুলায়মান ’আলায়হিস সালাম-এর সামনে দিয়ে যাচ্ছিল এবং তারা উভয়ে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলার রায়ের বর্ণনা শুনাল।

তখন সুলায়মান আলায়হিস সালাম উপস্থিত লোকজনকে বললেন, তোমরা আমার কাছে একখানা চাকু নিয়ে আস। আমি শিশুটিকে কেটে দ্বিখণ্ডিত করে তাদের মধ্যে ভাগ করে দেব। এ কথা শুনে অল্প বয়স্কা মহিলাটি বলে উঠল, এ কাজ করবেন না। আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন। (আমি মেনে নিয়েছি) শিশুটি তারই। তখন তিনি সেই অল্পবয়স্ক মহিলাটির পক্ষেই রায় দিয়ে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৭২০

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " قَالَ سُلَيْمَانُ: لَأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى تِسْعِينَ امْرَأَةٍوَفِي رِوَايَةٍ: بِمِائَةِ امْرَأَةٍكُلُّهُنَّ تَأْتِي بِفَارِسٍ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ. فَقَالَ لَهُ الْمَلَكُ: قُلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ. فَلَمْ يَقُلْ وَنَسِيَ فَطَافَ عَلَيْهِنَّ فَلَمْ تحملْ منهنَّ إِلا امرأةٌ واحدةٌ جاءتْ بشقِّ رَجُلٍ وَأَيْمُ الَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ قَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ الله فُرْسَانًا أجمعونَ ". مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2819) و مسلم (25/ 1654)

বাংলা অনুবাদ

৫৭২০-[২৩] উক্ত রাবী [আবু হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: একদিন সুলায়মান ’আলায়হিস সালাম (কসম করে) বললেন, অবশ্যই আমি আজ রাত্রে আমার নব্বইজন স্ত্রীর নিকটে গমন করব, অন্য এক বর্ণনায় আছে, একশত স্ত্রীর কাছে গমন করব। আর প্রত্যেক স্ত্রী একজন করে অশ্বারোহী মুজাহিদ গর্ভে ধারণ করবে এবং এরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। তখন মালাক (ফেরেশতা) তাঁকে বললেন, ’ইনশা-আল্লা-হ’ বলুন! কিন্তু সুলায়মান আলায়হিস সালাম তা বলতে ভুলে যান। অতঃপর তিনি সমস্ত স্ত্রীদের কাছে গমন করলেন, কিন্তু একজন স্ত্রী ছাড়া তাদের আর কেউই গর্ভধারণ করল না।

সেও অর্ধ অঙ্গের একটি সন্তান। [নবী (সা.) বলেন] সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার মুহাম্মাদ -এর প্রাণ! যদি তিনি ইনশা-আল্লা-হ বলতেন, তাহলে (সবগুলো সন্তানই জন্ম নিত এবং) তারা সকলেই অশ্বারোহী হয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করতে। (বুখারী ও মুসলিম)