মিশকাতুল মাসাবীহ
পরিচ্ছেদ ২৯৫: হাদিস ৫,৮৮১-৫,৯০০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ قَالَ أَنَسٌ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى الْغُبَارِ سَاطِعًا فِي زُقَاقِ بَنِيَ غَنْمٍ موكبَ جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَامُ حِينَ سَارَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى بني قُرَيْظَة
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4118)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৮১-[১৪] বুখারীর অপর এক বর্ণনায় আছে, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: যে সময় জিবরীল আলায়হিস সালাম বানী কুরায়যার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সামনে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম-এর বাহনের পদাঘাতে বানী গনম গোত্রের গলিতে উত্থিত ধুলাবালি যেন আমি এখনো দেখতে পাচ্ছি।
মূল আরবি
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ عَطِشَ النَّاسُ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ يَدَيْهِ رِكْوَةٌ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا ثُمَّ أَقْبَلَ النَّاسُ نَحْوَهُ قَالُوا: لَيْسَ عَنْدَنَا مَاءٌ نَتَوَضَّأُ بِهِ وَنَشْرَبُ إِلَّا مَا فِي رِكْوَتِكَ فَوضَعَ النبيُّ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَدَه فِي الرِّكْوَةِ فَجَعَلَ الْمَاءُ يَفُورُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ كَأَمْثَالِ الْعُيُونِ قَالَ فَشَرِبْنَا وَتَوَضَّأْنَا قِيلَ لِجَابِرٍ كَمْ كُنْتُمْ قَالَ لَوْ كُنَّا مِائَةَ أَلْفٍ لَكَفَانَا كُنَّا خَمْسَ عَشْرَةَ مِائَةً. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (4152) و مسلم (73/ 1856)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৮২-[১৫] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার দিবসে লোক পিপাসার্ত হয়ে পড়ল। সে সময় একটি চমড়ার পাত্র রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সামনে ছিল। তিনি (সা.) তা হতে উযূ করলেন। অতঃপর লোক তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনার চর্মপাত্রের পানি ছাড়া পান করার বা উযূ করার মত আমাদের কাছে কোন পানি নেই। তখন নবী (সা.) তাঁর হাত উক্ত পাত্রে রাখলেন। ফলে সাথে সাথেই তার আঙ্গুলগুলোর মধ্যবর্তী জায়গা হতে ঝরনাধারার মত পানি ফুটে বের হতে লাগল। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা সেই পানি (তৃপ্তি সহকারে) পান করলাম এবং তা দিয়ে আমরা উযূ করলাম। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করা হল, সংখ্যায় আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, একলাখ হলেও সে পানিই আমাদের জন্য যথেষ্ট হত। তবে তখন আমাদের সংখ্যা ছিল পনের শত। (বুখারী ও মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَن الْبَراء بن عَازِب قا ل: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ مِائَةً يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ وَالْحُدَيْبِيَةُ بِئْرٌ فَنَزَحْنَاهَا فَلَمْ نَتْرُكْ فِيهَا قَطْرَةً فَبَلَغَ النبيَّ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأتاهافجلس عَلَى شَفِيرِهَا ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ مِنْ مَاءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ مَضْمَضَ وَدَعَا ثُمَّ صَبَّهُ فِيهَا ثُمَّ قَالَ: دَعُوهَا سَاعَةً " فَأَرْوَوْا أَنْفُسَهُمْ وَرِكَابَهُمْ حَتَّى ارتحلوا. رَوَاهُ البُخَارِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4150)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৮৩-[১৬] বারা’ ইবনু ’আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে আমরা চৌদ্দশত ছিলাম। হুদায়বিয়াহ্ একটি কূপের নাম। উক্ত কূপ হতে পানি তুলতে তুলতে তার সবটুকু পানি আমরা নিঃশেষ করে ফেললাম। এমনকি আমরা তাতে এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট রাখিনি। অতঃপর নবী (সা.) -এর কাছে এ সংবাদটি পৌছলে তিনি (সা.) উক্ত কূপের কাছে এসে বসলেন এবং এক পাত্র পানি চেয়ে এনে উযু করলেন ও কুলি করলেন। তারপর দু’আ করলেন। অতঃপর কূপের ভিতরে উক্ত পানি ঢেলে দিয়ে বললেন, কিছু সময়ের জন্য তোমরা এই কূপ হতে পানি তোলা বন্ধ রাখ। এরপর সকলে নিজে এবং আরোহণের জানোয়ারসমূহ এ স্থান ত্যাগ করা অবধি সে পানি তৃপ্তি সহকারে ব্যবহার করলেন। (বুখারী)
মূল আরবি
وَعَن عَوْف عَن أبي رَجَاء عَن عمر بن حُصَيْن قا ل: كُنَّا فِي سَفَرٍ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فَاشْتَكَى إِلَيْهِ النَّاسُ مِنَ الْعَطَشِ فَنَزَلَ فَدَعَا فُلَانًا كَانَ يُسَمِّيهِ أَبُو رَجَاءٍ وَنَسِيَهُ عَوْفٌ وَدَعَا عَلِيًّا فَقَالَ: «اذْهَبَا فَابْتَغِيَا الْمَاءَ» . فَانْطَلَقَا فتلقيا امْرَأَة بَين مزادتين أَو سطحتين من مَاء فجاءا بهاإلى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فاستنزلوهاعن بَعِيرِهَا وَدَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِنَاءٍ فَفَرَّغَ فِيهِ مِنْ أَفْوَاهِ الْمَزَادَتَيْنِ وَنُودِيَ فِي النَّاسِ: اسْقُوا فَاسْتَقَوْا قَالَ: فَشَرِبْنَا عِطَاشًا أَرْبَعِينَ رَجُلًا حَتَّى رَوِينَا فَمَلَأْنَا كُلَّ قِرْبَةٍ مَعَنَا وَإِدَاوَةٍ وَايْمُ اللَّهِ لَقَدْ أَقْلَعَ عَنْهَا وإنَّهُ ليُخيّل إِلينا أنّها أشدُّ ملئةً مِنْهَا حِين ابْتَدَأَ.
مُتَّفق عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (344) و مسلم (312/ 682)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৮৪-[১৭] ’আওফ (রহিমাহুল্লাহ) আবূ রজা’ (রহিমাহুল্লাহ) হতে এবং তিনি ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (সা.) -এর সাথে এক ভ্রমণে ছিলাম। লোকেরা তাঁর কাছে পিপাসার অভিযোগ করল। তখন তিনি (সা.) অবতরণ করলেন এবং অমুককে ডাকলেন। আবূ রজা’ তার নাম বলেছিলেন কিন্তু আওফ ভুলে গেলেন, তাই ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ডেকে বললেন, তোমরা দুজন যাও এবং পানির অনুসন্ধান কর। তারা উভয়ে রওয়ানা হলেন এবং পথিমধ্যে এমন একটি মহিলার সাক্ষাৎ পেলেন, যে একটি বাহনের (উটের পিঠে দুই দিকে পানির দু’টি মশক বা দু’টি থলে রেখে নিজে মাঝখানে বসে যাচ্ছে। তখন তারা মহিলাটিকে নবী (সা.) -এর কাছে নিয়ে আসলেন এবং লোকেরা মহিলাটিকে তার উটের পিঠ হতে নিচে নামতে বলল। অতঃপর নবী (সা.) একটি পাত্র আনালেন। তারপর মশক দুটির মুখ হতে এতে পানি ঢেলে নিলেন। আর লোকেদেরকে ডেকে বললেন, তোমরা নিজেরাও পান কর এবং পশুদেরকেও পান করাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা চল্লিশজন পিপাসার্ত লোক পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে পানি পান করলাম এবং আমাদের সাথে যতগুলো মশক ও অন্যান্য পাত্র ছিল সেগুলোও প্রতিটি পানি দ্বারা পরিপূর্ণ করে নিলাম।
বর্ণনাকারী ’ইমরান বলেন, আল্লাহর শপথ! যখন আমাদেরকে পানির মশক হতে পৃথক করা হলো, (অর্থাৎ পানি নেয়া শেষ হলো,) তখন আমাদের এমন মনে হচ্ছিল যেন মশকটি প্রথম অবস্থার তুলনায় আরো অনেক বেশি পূর্ণ রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى نَزَلْنَا وَادِيًا أَفْيَحَ فَذَهَبَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْضِي حَاجَتَهُ فَلَمْ يَرَ شَيْئًا يَسْتَتِرُ بِهِ وَإِذَا شَجَرَتَيْنِ بِشَاطِئِ الْوَادِي فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى إِحْدَاهُمَا فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ انْقَادِي عَلَيَّ بِإِذْنِ اللَّهِ فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَالْبَعِيرِ الْمَخْشُوشِ الَّذِي يُصَانِعُ قَائِدَهُ حَتَّى أَتَى الشَّجَرَةَ الْأُخْرَى فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ انْقَادِي عَلَيَّ بِإِذْنِ اللَّهِ فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْمَنْصَفِ مِمَّا بَيْنَهُمَا قَالَ الْتَئِمَا عَلَيَّ بِإِذْنِ اللَّهِ فَالْتَأَمَتَا فَجَلَسْتُ أُحَدِّثُ نَفْسِي فَحَانَتْ مِنِّي لفتة فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُقْبِلًا وَإِذَا الشَّجَرَتَيْنِ قَدِ افْتَرَقَتَا فَقَامَتْ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا عَلَى سَاقٍ.
رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (74/ 3012)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৮৫-[১৮] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে যাচ্ছিলাম। চলার পথে আমরা একটি বিস্তীর্ণ ময়দানে অবতরণ করলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বীয় প্রয়োজন পূরণের জন্য গেলেন, কিন্তু আড়াল করার জন্য কিছুই পেলেন না। এ সময় হঠাৎ ময়দানের এক পার্শে দুটি গাছ দেখা গেল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন তার একটির কাছে গেলেন এবং তার একটি ডাল ধরে বললেন, আল্লাহর হুকুমে তুমি আমার অনুগত হও, গাছটি তৎক্ষণাৎ এমনভাবে তার অনুগত হলো, যেমন নাকে রশি লাগানো উট তার চালকের অনুগত হয়ে থাকে। এবার তিনি (সা.) দ্বিতীয় বৃক্ষটির কাছে যেয়ে তার একটি শাখা ধরে বললেন, আল্লাহর নির্দেশে তুমি আমার অনুগত হও।
অতএব বৃক্ষটি সাথে সাথেই তার প্রতি অনুরূপ ঝুঁকে পড়ল। অবশেষে যখন তিনি (সা.) উভয় বৃক্ষের মধ্যখানে গিয়ে দাঁড়ালেন, তখন বললেন, আল্লাহর হুকুমে তোমরা উভয়ে আমার জন্য মিলিত হয়ে যাও। তখনই তারা মিলিত হয়ে গেল (তার আড়াল হয়ে হাজত পূরণ করলেন)। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি বসে এই বিস্ময়কর ঘটনার কথা মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম। এ অবস্থায় হঠাৎ আমি একদিকে তাকাতেই দেখি, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাশরীফ এনেছেন। আর বৃক্ষ দু’টিকেও দেখলাম তারা পুনরায় আলাদা হয়ে গেছে এবং প্রত্যেকটি আপন আপন জায়গায় গিয়ে যথারীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। (মুসলিম)
মূল আরবি
عَن يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ: رَأَيْتُ أَثَرَ ضَرْبَةٍ فِي سَاقِ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ فَقُلْتُ يَا أَبَا مُسلم مَا هَذِه الضَّربةُ؟ فَقَالَ: هَذِه ضَرْبَةٌ أَصَابَتْنِي يَوْمَ خَيْبَرَ فَقَالَ النَّاسُ أُصِيبَ سَلَمَةُ فَأَتَيْتُ الْنَبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَفَثَ فِيهِ ثَلَاثَ نَفَثَاتٍ فَمَا اشْتَكَيْتُهَا حَتَّى السَّاعَة. رَوَاهُ البُخَارِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4206)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৮৬-[১৯] ইয়াযীদ ইবনু আবূ ’উবায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালামাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পায়ের গোছায় আঘাতের চিহ্ন দেখে প্রশ্ন করলাম, হে আবূ মুসলিম! আঘাতটি কিসের? তিনি বললেন, এ আঘাত খায়বার যুদ্ধে লেগেছিল। তখন লোকেরা বলাবলি করছিল, সালামাহ্ মৃত্যুবরণ করেছেন। সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর আমি নবী (সা.) -এর কাছে আসলাম। তিনি আমার জখমের উপর তিনবার ফুঁ দিলেন, ফলে সে সময় হতে অদ্যাবধি আর আমার কোন প্রকারের কষ্ট হয়নি। (বুখারী)
মূল আরবি
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ نَعَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدًا وَجَعْفَرًا وَابْنَ رَوَاحَةَ لِلنَّاسِ قَبْلَ أَن يَأْتِيهِ خَبَرُهُمْ فَقَالَ أَخْذَ الرَّايَةَ زِيدٌ فَأُصِيبَ ثُمَّ أَخَذَ جَعْفَرٌ فَأُصِيبَ ثُمَّ أَخَذَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَأُصِيبَ وَعَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ حَتَّى أَخَذَ الرَّايَةَ سَيْفٌ من سيوف الله حَتَّى فتح الله عَلَيْهِم. رَوَاهُ البُخَارِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4262)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৮৭-[২০] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ (ইবনু হারিসাহ্), জাফর (ইবনু আবূ তালিব) ও (আবদুল্লাহ) ইবনু রওয়াহাহ-এর মৃত্যু সংবাদ যুদ্ধের ময়দান হতে আসার আগেই নবী (সা.) লোকেদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। রণক্ষেত্রের বর্ণনা তিনি (সা.) এভাবে দিয়েছেন- যায়দ পতাকা হাতে নিয়েছে, সে শহীদ হয়েছে। তারপর জাফর পতাকা হাতে নিয়েছে, সেও শহীদ হয়েছে। অতঃপর ’আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্ পতাকা ধরেছে, সেও শহীদ হয়েছে। (বর্ণনাকারী বলেন,) এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রুধারা প্রবাহিত ছিল। এরপর তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহর তরবারিসমূহের এক তরবারি [খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা কাফিরদের ওপর মুসলিমদের বিজয়ী করেছেন। (বুখারী)
মূল আরবি
وَعَن عَبَّاسٍ قَالَ: شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَلَمَّا الْتَقَى الْمُسْلِمُونَ وَالْكُفَّارُ وَلَّى الْمُسْلِمُونَ مُدْبِرِينَ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْكُضُ بَغْلَتَهُ قِبَلَ الْكُفَّارِ وَأَنَا آخِذٌ بِلِجَامِ بَغْلَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكُفُّهَا إِرَادَةَ أَن لَا تسرع وَأَبُو سُفْيَان آخِذٌ بِرِكَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيْ عَبَّاسُ نَادِ أَصْحَابَ السَّمُرَةِ فَقَالَ عَبَّاسٌ وَكَانَ رَجُلًا صَيِّتًا فَقُلْتُ بِأَعْلَى صَوْتِي أَيْنَ أَصْحَابُ السَّمُرَةِ فَقَالَ وَاللَّهِ لَكَأَنَّ عَطْفَتَهُمْ حِينَ سَمِعُوا صَوْتِي عَطْفَةُ الْبَقَرِ عَلَى أَوْلَادِهَا فَقَالُوا يَا لَبَّيْكَ يَا لَبَّيْكَ قَالَ فَاقْتَتَلُوا وَالْكُفَّارَ وَالدَّعْوَةُ فِي الْأَنْصَارِ يَقُولُونَ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ قَالَ ثُمَّ قُصِرَتِ الدَّعْوَةُ عَلَى بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ كَالْمُتَطَاوِلِ عَلَيْهَا إِلَى قِتَالِهِمْ فَقَالَ حِينَ حَمِيَ الْوَطِيسُ ثُمَّ أَخَذَ حَصَيَاتٍ فَرَمَى بِهِنَّ وُجُوهَ الْكُفَّارِ ثُمَّ قَالَ انْهَزَمُوا وَرَبِّ مُحَمَّدٍ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَمَاهُمْ بِحَصَيَاتِهِ فَمَا زِلْتُ أَرَى حَدَّهُمْ كَلِيلًا وَأَمْرَهُمْ مُدبرا.
رَوَاهُ مُسلم
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (76/ 1775)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৮৮-[২১] ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে শরীক ছিলাম। যখন মুসলিমগণ ময়দান হতে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের বাহন খচ্চরকে তাড়া দিয়ে কাফিরদের দিকে অগ্রসর হলেন। [বর্ণনাকারী ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন] আর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলাম এবং আমি তাঁকে সামনে বাড়তে বাধা দিচ্ছিলাম, যেন তা দ্রুত কাফিরদের দলের মধ্যে ঢুকে না পড়ে। আর আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস ধরে রেখেছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বাহনের গদি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আব্বাস! সামুরাহ গাছের নিচে বায়’আতকারীদেরকে আহ্বান করুন। আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন উচ্চৈঃস্বর বিশিষ্ট লোক। তিনি বলেন, তৎক্ষণাৎ আমি উচ্চৈঃস্বরে ডাক দিয়ে বললাম, আসহাবে সামুরাগণ কোথায়? ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার আওয়াজ (আহ্বান) শুনার সাথে সাথেই আসহাবেই সামুরাগণ এমনভাবে দৌড়িয়ে ময়দানে এসে উপস্থিত হলেন, যেমন গাভী তার বাছুরের দিকে দৌড় দেয়। আর তারা আওয়াজ দিতে থাকল-
(يَا لَبَّيْكَ يَا لَبَّيْكَ) ’ইয়া লাব্বাইক, ইয়া লাব্বাইক। আমরা উপস্থিত! আমরা উপস্থিত।
আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর মুসলিমগণ কাফিরদের সাথে যুদ্ধ লিপ্ত হয়ে গেল। অন্যদিকে আনসারদের মধ্যে এ ধ্বনি উচ্চারিত হয়- হে আনসার সম্প্রদায়। হে আনসার সম্প্রদায়! (শত্রু নিধনে ঝাপিয়ে পড়) ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর তাদের ধ্বনি (একমাত্র) বানী হারিস ইবনু খাযরাজের ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। (আনসারদের মধ্যে এ গোত্রটি ছিল সর্বাপেক্ষা বড়) এই সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজ বাহন খচ্চরের উপরে থেকে মাথা উঠিয়ে যুদ্ধের অবস্থার দিকে তাকিয়ে বললেন, এখনই যুদ্ধ জ্বলে উঠেছে। অতঃপর তিনি একমুষ্টি পাথর হাতে নিয়ে কাফিরদের মুখের প্রতি নিক্ষেপ করে বললেন, মুহাম্মাদের প্রভুর শপথ! কাফিরদল পরাজিত হয়েছে। [বর্ণনাকারী ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন] আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, তাদের এ পরাজয় কেবলমাত্র তাঁর [রাসূল (সা.) -এর] কঙ্কর নিক্ষেপের দ্বারাই ঘটেছে। অতঃপর আমি যুদ্ধের সমাপ্তি অবধি সর্বক্ষণ তাই দেখতে পেলাম যে, তাদের তলোয়ার ও বর্শার ধার ভোঁতা হয়ে পড়েছে এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালাচ্ছে। (মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَن أبي إِسْحَق قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلْبَرَاءِ يَا أَبَا عُمَارَةَ فَرَرْتُمْ يَوْمَ حُنَيْنٍ قَالَ لَا وَاللَّهِ مَا وَلِيُّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنْ خَرَجَ شُبَّانُ أَصْحَابِهِ لَيْسَ عَلَيْهِمْ كَثِيرُ سِلَاحٍ فَلَقَوْا قَوْمًا رُمَاةً لَا يَكَادُ يَسْقُطُ لَهُمْ سَهْمٌ فَرَشَقُوهُمْ رَشْقًا مَا يَكَادُونَ يُخْطِئُونَ فَأَقْبَلُوا هُنَاكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ يَقُودُهُ فَنَزَلَ وَاسْتَنْصَرَ وَقَالَ أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبَ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ ثُمَّ صفهم. رَوَاهُ مُسلم. وللبخاري مَعْنَاهُ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (78/ 1776) والبخاري (2930)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৮৯-[২২] আবূ ইসহাক (সারিয়ী) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক বারা’ ইবনু ’আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে প্রশ্ন করল, হে আবূ উমারাহ। হুনায়নের যুদ্ধের দিন কি তোমরা কাফিরদের মোকাবিলা হতে পলায়ন করেছিলে? উত্তরে তিনি বললেন, নিশ্চয় না, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (সা.) পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেননি। (অবশ্য) সাহাবীদের কতিপয় যুবক, যাদের কাছে তেমন বেশি কিছু হাতিয়ার ছিল না, তারা তীর নিক্ষেপকারী কাফিরদের মাঝে পড়ে গিয়েছিল। তারা তীরন্দাজীতে এত পটু ছিল যে, তাদের একটি তীরও জমিনে পড়ত না।
ফলে তাদের নিক্ষিপ্ত প্রতিটি তীর ঐ সকল যুবক (মুসলিম সৈনিকদের) ওপর পড়তে ভুল হত না। এ অবস্থায় (দুশমনের সামনে হতে পলায়ন করত) সে সমস্ত যুবকরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে পৌছল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর একটি সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর সওয়ার ছিলেন এবং আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস লাগাম ধরে তাঁর সামনে ছিলেন। এ সময় তিনি (সা.) খচ্চরের পৃষ্ঠ হতে নামলেন এবং বিজয়ের জন্য (আল্লাহর কাছে) মদদ ও সাহায্যের আবেদন করলেন। আর (এ পংক্তিটি) উচ্চারণ করলেন, "আমি যে নবী তা মিথ্যা নয়। আমি ’আবদুল মুত্ত্বালিব-এর সন্তান। অতঃপর তিনি মুসলিমদেরকে পুনরায় কাতারবদ্ধ করলেন। (মুসলিম)
মূল আরবি
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا قَالَ الْبَرَاءُ كُنَّا وَاللَّهِ إِذَا احْمَرَّ الْبَأْسُ نَتَّقِي بِهِ وَإِنَّ الشُّجَاعَ مِنَّا لَلَّذِي يُحَاذِيهِ يَعْنِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (لم أجدہ) و مسلم (1776/79)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯০-[২৩] বুখারীর বর্ণনাতে উল্লিখিত হাদীসটির বিষয়বস্তুটি বর্ণিত হয়েছে। আর বুখারী ও মুসলিম এর উভয় বর্ণনায় আছে, বারা ইবনু আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আল্লাহর শপথ! যখন যুদ্ধ ভয়ানক আকার ধারণ করত, তখন আমরা নবী (সা.) -এর দ্বারা আত্মরক্ষা করতাম। আর আমাদের মাঝে ঐ লোকই অধিক সাহসী বলে গণ্য হত, যে লোক নবী (সা.) -এর পাশাপাশি বরাবর দাঁড়াত।
মূল আরবি
وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُنَيْنًا فَوَلَّى صَحَابَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا غَشُوا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَزَلَ عَنِ الْبَغْلَةِ ثُمَّ قَبَضَ قَبْضَةً مِنْ تُرَابٍ مِنَ الْأَرْضِ ثُمَّ اسْتَقْبَلَ بِهِ وُجُوهَهُمْ فَقَالَ شَاهَتِ الْوُجُوهُ فَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْهُمْ إِنْسَانًا إِلَّا مَلَأَ عَيْنَيْهِ تُرَابًا بِتِلْكَ الْقَبْضَةِ فَوَلَّوْا مُدْبِرِينَ فَهَزَمَهُمْ الله عز وَجل وَقَسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غنائمهم بَين الْمُسلمين رَوَاهُ مُسلم
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (81/ 1777)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯১-[২৪] সালামাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে শরীক ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কতিপয় সাহাবী কাফিরদের মোকাবিলা হতে যখন পলায়ন করলেন। তখন কাফিরগণ রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে চতুর্দিক হতে ঘিরে ফেলল, এমতাবস্থায় তিনি (সা.) খচ্চরের পিঠ হতে নিচে নামলেন। অতঃপর তিনি জমিন হতে এক মুষ্টি মাটি তুলে নিলেন। তারপর কাফিরদের অভিমুখে (شَاهَتِ الْوُجُوهُ) ’তোমাদের মুখ বিবর্ণ হোক’ এ অভিশাপ বাক্যটি উচ্চারণ করে তা নিক্ষেপ করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) তাদের যে কোন লোককে আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করেছেন (উপস্থিত কাফিরদের) প্রত্যেকের চক্ষুদ্বয় উক্ত এক মুষ্টি মাটি দ্বারা ভর্তি হয়ে গেল।
ফলে তারা ময়দান হতে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল। এভাবে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে পরাজিত করলেন। পরে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের হতে লব্ধ গনীমাতের সম্পদসমূহ মুসলিমদের মধ্যে বিতরণ করলেন। (মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَن أبي هريرةَ قَالَ شَهِدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُنَيْنًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ مِمَّنْ مَعَهُ يَدَّعِي الْإِسْلَامَ هَذَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَلَمَّا حَضَرَ الْقِتَالُ قَاتَلَ الرَّجُلُ مِنْ أَشَدِّ الْقِتَالِ وَكَثُرَتْ بِهِ الْجِرَاحُ فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ الله أَرأيتَ الَّذِي تحدثت أَنَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ قَدْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مِنْ أَشَدِّ الْقِتَالِ فَكَثُرَتْ بِهِ الْجِرَاحُ فَقَالَ أَمَّا إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَكَادَ بَعْضُ النَّاسِ يَرْتَابُ فَبَيْنَمَا هُوَ عَلَى ذَلِكَ إِذْ وَجَدَ الرَّجُلُ أَلَمَ الْجِرَاحِ فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى كِنَانَتِهِ فَانْتَزَعَ سَهْمًا فَانْتَحَرَ بِهَا فَاشْتَدَّ رِجَالٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ صَدَّقَ اللَّهُ حَدِيثَكَ قَدِ انْتَحَرَ فُلَانٌ وَقَتَلَ نَفْسِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ يَا بِلَالُ قُمْ فَأَذِّنْ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَإِنَّ اللَّهَ لَيُؤَيِّدُ هَذَا الدينَ بِالرجلِ الْفَاجِر.
رَوَاهُ البُخَارِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3062) [و مسلم (111/178)]
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯২-[২৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। সে যুদ্ধে তাঁর সাথে অংশগ্রহণকারী ইসলামের দাবিদার জনৈক লোক সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এ লোকটি জাহান্নামী।
যুদ্ধ শুরু হলে সে ব্যক্তি প্রাণপণ যুদ্ধ করে মারাত্মকভাবে আহত হলো। অতঃপর এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! লক্ষ্য করুন। আপনি যে লোকটিকে জাহান্নামী বলেছেন, সে আল্লাহর পথে প্রাণপন লড়াই করে এখন মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় আছে। এবারও তিনি বললেন, সে জাহান্নামী। (বর্ণনাকারী বলেন,) এ কথা শুনে কারো কারো মনে সন্দেহের উদ্রেক হলো। এমতাবস্থায় লোকটি ভীষণভাবে জখমের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে স্বীয় হাতখানা তীরদানের দিকে বাড়িয়ে তীর বের নিল এবং নিজের বুকের মধ্যে গেঁথে দিল (তথা আত্মহত্যা করল)। এটা দেখে মুসলিমদের কতিপয় লোক দৌড়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা’আলা আপনার কথাটিকে সত্যে পরিণত করেছেন। অমুক লোকটি নিজেই আত্মহত্যা করেছে। এ সংবাদ শোনামাত্রই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলে উঠলেন, ’আল্ল-হু আকবার’। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর বললেন, হে বিলাল! উঠ! লোকেদের মধ্যে এ ঘোষণা দিয়ে দাও যে, পূর্ণ মুমিন ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর আল্লাহ তা’আলা (অনেক সময়) পাপী লোকের দ্বারাও এ দীন ইসলামকে শক্তিশালী করে থাকেন। (বুখারী)
মূল আরবি
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سُحِرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِنَّهُ لَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ فَعَلَ الشَّيْءَ وَمَا فَعَلَهُ حَتَّى إِذا كَانَ ذَات يَوْم وَهُوَ عِنْدِي دَعَا اللَّهَ وَدَعَاهُ ثُمَّ قَالَ أَشَعَرْتِ يَا عَائِشَةُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَفْتَانِي فِيمَا استفتيته جَاءَنِي رجلَانِ فَجَلَسَ أَحَدُهُمَا عِنْدَ رَأْسِي وَالْآخَرُ عِنْدَ رِجْلِي ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ مَا وَجَعُ الرَّجُلِ قَالَ مَطْبُوبٌ قَالَ وَمَنْ طَبَّهُ قَالَ لَبِيدُ بْنُ الْأَعْصَمِ الْيَهُودِيُّ قَالَ فِي مَاذَا قَالَ فِي مُشْطٍ وَمُشَاطَةٍ وَجُفِّ طَلْعَةِ ذَكَرٍ قَالَ فَأَيْنَ هُوَ قَالَ فِي بِئْرِ ذَرْوَانَ فَذَهَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ إِلَى الْبِئْرِ فَقَالَ هَذِهِ الْبِئْرُ الَّتِي أُريتها وَكَأن ماءَها نُقاعةُ الْحِنَّاء ولكأن نخلها رُءُوس الشَّيَاطِين فاستخرجه مُتَّفق عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3268) و مسلم (43/ 2189)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯৩-[২৬] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওপর জাদু করা হয়। ফলে তাঁর অবস্থা এমন হয়ে গিয়েছিল যে, তার ধারণা হত তিনি কোন একটি কাজ করেছেন অথচ তা তিনি করেননি। এ অবস্থায় একদিন তিনি (সা.) আমার কাছে ছিলেন এবং আল্লাহর নিকট বার বার দু’আ করলেন। অতঃপর আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি অবগত হয়েছ, আমি যা জানতে চেয়েছিলাম আল্লাহ তা’আলা আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। আমার কাছে দু’জন লোক (মানব আকৃতিতে দু’জন ফেরেশতা) আসে। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন আমার পায়ের কাছে বসে পড়ল।
এরপর তাদের একজন আপন সাথিকে বলল, এ লোকের অসুখটা কি? বলল, তার ওপর জাদু করা হয়েছে। প্রথমজন জিজ্ঞেস করল, কে তাকে জাদু করেছে? সে উত্তর দিল, ইয়াহুদী লাবীদ ইবনু আসাম। প্রথম লোক প্রশ্ন করল, তা কিসের সাহায্যে (করা হয়েছে?) দ্বিতীয় লোকটি বলল, চিরুনি এবং চিরুনিতে ঝরে পড়া চুলের মধ্যে এবং পুরুষ খেজুর গাছের নতুন খোলের মধ্যে। [’আয়িশাহ (রা.) বলেন,] অতঃপর নবী (সা.) তাঁর কিছু সাহাবীসহ সে কূপের কাছে গেলেন। এরপর বললেন, এটাই সেই কূপ যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। তার পানি মেহেদি নিংড়ানো। আর কূপের আশপাশের খেজুর গাছগুলোর মাথা যেন শয়তানের মাথার মতো।
অতঃপর তা কূপ হতে বের করে ফেলেছে। (বুখারী ও মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقْسِمُ قَسْمًا أَتَاهُ ذُو الْخوَيْصِرَة وَهُوَ رجلٌ من بني تَمِيم فَقَالَ يَا رسولَ الله اعْدِلْ فَقَالَ وَيلك وَمن يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَعْدِلْ قَدْ خِبْتَ وَخَسِرْتَ إِن لم أكن أعدل فَقَالَ عمر لَهُ ائْذَنْ لي أضْرب عُنُقه فَقَالَ دَعْهُ فَإِنَّ لَهُ أَصْحَابًا يَحْقِرُ أَحَدُكُمْ صَلَاتَهُ مَعَ صَلَاتِهِمْ وَصِيَامَهُ مَعَ صِيَامِهِمْ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ يُنْظَرُ إِلَى نَصْلِهِ إِلَى رُصَافِهِ إِلَى نَضِيِّهِ وَهُوَ قِدْحُهُ إِلَى قُذَذِهِ فَلَا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ قَدْ سَبَقَ الْفَرْثَ وَالدَّمَ آيَتُهُمْ رَجُلٌ أَسْوَدُ إِحْدَى عَضُدَيْهِ مِثْلُ ثَدْيِ الْمَرْأَةِ أَوْ مِثْلُ الْبَضْعَةِ تَدَرْدَرُ وَيخرجُونَ على حِين فِرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ أَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَشْهَدُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَاتَلَهُمْ وَأَنَا مَعَهُ فَأَمَرَ بذلك الرجل فالْتُمِسَ فَأُتِيَ بِهِ حَتَّى نَظَرْتُ إِلَيْهِ عَلَى نَعْتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي نَعَتَهُ وَفِي رِوَايَةٍ: أَقْبَلَ رَجُلٌ غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ نَاتِئُ الجبين كَثُّ اللِّحْيَةِ مُشْرِفُ الْوَجْنَتَيْنِ مَحْلُوقُ الرَّأْسِ فَقَالَ يَا مُحَمَّد اتَّقِ الله فَقَالَ: «فَمن يُطِيع اللَّهَ إِذَا عَصَيْتُهُ فَيَأْمَنُنِي اللَّهُ عَلَى أَهْلِ الْأَرْضِ وَلَا تَأْمَنُونِي» فَسَأَلَ رَجُلٌ قَتْلَهُ فَمَنَعَهُ فَلَمَّا وَلَّى قَالَ: «إِنَّ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ من الإِسلام مروق السهْم من الرَّمية يقتلُون أَهْلَ الْإِسْلَامِ وَيَدَعُونَ أَهْلَ الْأَوْثَانِ لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأقتلنهم قتل عَاد» .
مُتَّفق عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3344) و مسلم (143/ 1064)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯৪-[২৭] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে ছিলাম। তিনি গনীমতের সম্পদ বিতরণ করছিলেন। তখন বানী তামীম গোত্রের ’যুল খুওয়াইসিরাহ্’ নামক এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইনসাফ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার প্রতি দুঃখ! আমিই যদি ইনসাফ না করি, তাহলে ইনসাফ আর করবে কে? যদি আমি ইনসাফ না করি, তবে তো তুমি ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্তই হলে। (অর্থাৎ তুমি ঈমানদার থাকবে না) তখন ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার ঘাড় উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কারণ, তার আরো কিছু সাথী আছে তোমাদের কেউ স্বীয় সালাতকে তাদের সালাতের সাথে এবং নিজের সিয়ামকে তাদের সিয়ামের সাথে তুলনা করলে নিজেদের সালাত সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করে। কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। তারা দীন ইসলাম হতে এমনভাবে বের হয়ে পড়বে, যেমন তীর শিকার ছেদ করে বের হয়ে পড়ে।
অতঃপর সে (শিকারী) তীরের বাঁট হতে ধারালো মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে দেখে (কোথাও কোন কিছু লেগে আছে কিনা?) কিন্তু তাতে কিছু দেখতে পাওয়া যায়। অথচ তীরটি শিকারের নাড়িভুড়ি ও রক্ত-মাংস ভেদ করে গেছে। তাদের এক লোকের চিহ্ন হবে কালো বর্ণের, তার বাহুদ্বয়ের কোন এক বাহুর উপরে স্ত্রীলোকের স্তনের মতো ফুলা। অথবা বলেছেন, মাংসের একটি খণ্ডের মতো উঠে থাকবে, যা নাড়তে থাকবে এবং তারা উত্তম একটি দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে লিপ্ত হবে। বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এ কথাগুলো আমি সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে শুনেছি।
আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সেই দলের খারিজীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আমিও তার সাথে ছিলাম। যুদ্ধ শেষে ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) (নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে) ঐ লোকটির খোঁজ নিতে নির্দেশ করেন। অতএব সন্ধান করে এক লোককে আনা হলো। বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি তাকে লক্ষ্য করে দেখেছি, ঐ লোকটির সম্পর্কে নবী (সা.) যে চিহ্নসমূহ বলেছিলেন, তার মধ্যে সে সমস্ত চিহ্নগুলো বিদ্যমান ছিল।
অপর এক বর্ণনাতে আছে- (গনীমাতের সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে) এমন এক লোক তাঁর সম্মুখে আসলো, যার চক্ষু দুটি ছিল কোটরাগত, কপাল উঁচু- সামনের দিকে বের হয়ে রয়েছে, দাড়ি ছিল ঘন, গণ্ডদ্বয় ছিল ফুলা আর মাথা ছিল ন্যাড়া। সে বলল, হে মুহাম্মাদ। আল্লাহকে ভয় কর। উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, আমিই যদি নাফরমানি করি, তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা আমাকে দুনিয়াবাসীর ওপর আমানতদার বানিয়েছেন। আর তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না? এ সময় এক লোক এ লোককে হত্যা করার জন্য [নবী (সা.) -এর কাছে] অনুমতি চাইলেন; কিন্তু তিনি নিষেধ করলেন। উক্ত লোকটি যখন চলে গেল, তখন নবী (সা.) বললেন, এ লোকের পরবর্তী বংশধরের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে, যারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দীন ইসলাম হতে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন শিকার হতে তীর বের হয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরেকে হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজারীদেরকে আপন অবস্থায় ছেড়ে রাখবে। যদি আমি তাদের নাগাল পেতাম, তাহলে অবশ্যই আমি তাদের সকলকে ’আদ জাতির মতো হত্যা করতাম। (বুখারী ও মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كُنْتُ أَدْعُو أُمِّي إِلَى الْإِسْلَامِ وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فَدَعَوْتُهَا يَوْمًا فَأَسْمَعَتْنِي فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أكره فَأَتَيْتُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَهْدِيَ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ» . فَخَرَجْتُ مُسْتَبْشِرًا بِدَعْوَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا صِرْتُ إِلَى الْبَابِ فَإِذَا هُوَ مُجَافٍ فَسَمِعَتْ أُمِّي خَشْفَ قَدَمَيَّ فَقَالَتْ مَكَانَكَ يَا أَبَا هُرَيْرَة وَسمعت خضخضة المَاء قَالَ فَاغْتَسَلَتْ فَلَبِسَتْ دِرْعَهَا وَعَجِلَتْ عَنْ خِمَارِهَا فَفَتَحَتِ الْبَابَ ثُمَّ قَالَتْ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي مِنَ الْفَرح فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ وَقَالَ خيرا.
رَوَاهُ مُسلم
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (158/ 2491)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯৫-[২৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সর্বদা আমার মাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতাম, কেননা তিনি ছিলেন মুশরিকা। এমনি একদিন আমি তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করলে তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর শানে এমন কিছু শুনালেন, যা আমার কাছে বড়ই খারাপ লেগেছে। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে আসলাম এবং কেঁদে কেঁদে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আবূ হুরায়রাহ্-এর মাকে হিদায়াত করেন। তখন তিনি (সা.) এ দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তুমি আবূ হুরায়রাহ্-এর মাকে হিদায়াত নসীব কর। [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন] নবী (সা.) -এর দু’আ শুনে আমি আনন্দে বের হয়ে (বাড়ির দিকে) ফিরলাম।
অতঃপর আমি আমার মায়ের ঘরের দরজায় পৌছে দেখলাম, দরজাটি বন্ধ। আমার মা আমার পায়ের আওয়াজ শুনে বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! তুমি তোমার স্থানে একটু অপেক্ষা কর। অতঃপর আমি পানি পড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। অতএব তিনি গোসল করে জামা-কাপড় পরিধান করলেন এবং তাড়াহুড়া করে ওড়না পরতে পরতে এসে দরজা খুলে দিলেন। অতঃপর বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! ’আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত ’ইবাদত পাওয়ার যোগ্য কেউ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। সাথে সাথে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে ফিরে আসলাম এবং খুশিতে আমি কাঁদছিলাম। তখন তিনি (সা.) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করলেন এবং কল্যাণকর কথা বললেন।
(মুসলিম)
মূল আরবি
وَعنهُ إِنَّكُمْ تَقُولُونَ أَكْثَرَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاللَّهُ الْمَوْعِدُ وَإِنَّ إِخْوَتِي مِنَ الْمُهَاجِرِينَ كَانَ يَشْغَلُهُمُ الصَّفِقُ بِالْأَسْوَاقِ وَإِنَّ إِخْوَتِي مِنَ الْأَنْصَارِ كَانَ يَشْغَلُهُمْ عَمَلُ أَمْوَالِهِمْ وَكُنْتُ امْرَأً مِسْكِينًا أَلْزَمُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَلْءِ بَطْنِي وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا: «لَنْ يَبْسُطَ أَحَدٌ مِنْكُمْ ثَوْبَهُ حَتَّى أَقْضِيَ مَقَالَتِي هَذِهِ ثُمَّ يَجْمَعَهُ إِلَى صَدْرِهِ فَيَنْسَى مِنْ مَقَالَتِي شَيْئًا أَبَدًا» فَبَسَطْتُ نَمِرَةً لَيْسَ عَلَيَّ ثَوْبٌ غَيْرَهَا حَتَّى قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَالَتَهُ ثُمَّ جَمَعْتُهَا إِلَى صَدْرِي فَوَالَّذِي بَعَثَهُ بِالْحَقِّ مَا نَسِيتُ مِنْ مقَالَته تِلْكَ إِلَى يومي هَذَا.
مُتَّفق عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2350) و مسلم (160، 159/ 2492)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯৬-[২৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর কোন কোন সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা বলে থাক, আবূ হুরায়রাহ নবী (সা.) হতে অধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করে থাকে। অথচ আল্লাহর সামনে সকলকে উপস্থিত হতে হবে। প্রকৃত ব্যাপার হলো, আমার মুহাজির ভাইগণ অধিকাংশ সময় বাজারে ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আর আমার আনসারী ভাইয়ের বাগানে খামারে লিপ্ত থাকতেন। আর আমি ছিলাম একজন দরিদ্র লোক। তাই আমি পেটে যা জুটে তার উপর তৃপ্ত থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে উপস্থিত থাকতাম। একদিন নবী (সা.) বললেন, আমার এ উক্তি (বিশেষ দুআ) শেষ হওয়া অবধি তোমাদের যে কেউ তার কাপড় (চাদর) প্রসারিত রাখবে এবং আমার কথা শেষ হওয়ার পর তা গুটিয়ে স্বীয় বুকের সাথে জড়িয়ে নেবে, সে আমার কোন উক্তি কখনো ভুলবে না।
(আবূ হুরায়রাহ বলেন, এ কথা শুনার পর) আমি আমার চাদরখানা প্রসারিত করে দিলাম, তা ব্যতীত আমার কাছে অন্য কোন কাপড় ছিল না। পরিশেষে নবী (সা.) কথা বলা শেষ করলে আমি তাকে আমার বুকের সাথে চেপে ধরলাম। সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি তাঁকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, সে সময় হতে আজ অবধি তাঁর কোন কথা আর আমি ভুলিনি। (বুখারী ও মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا تُرِيحُنِي مِنْ ذِي الْخَلَصَةِ؟» فَقُلْتُ: بَلَى وَكُنْتُ لَا أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضَرَبَ يَدَهُ عَلَى صَدْرِي حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ يَدِهِ فِي صَدْرِي وَقَالَ: «اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا» . قَالَ فَمَا وَقَعْتُ عَنْ فَرَسِي بَعْدُ فَانْطَلَقَ فِي مِائَةٍ وَخَمْسِينَ فَارِسًا مِنْ أحمس فحرقها بالنَّار وَكسرهَا. مُتَّفق عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (4357) و مسلم (137، 136/ 2476)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯৭-[৩০] জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খলাসাহ্ (ইয়ামানের একটি মন্দির) হতে শান্তি দেবে না? আমি বললাম, হ্যাঁ নিশ্চয়। আর আমার অবস্থা এই ছিল যে, আমি ঘোড়ার পিঠে মজবুতভাবে বসতে পারতাম না। অতএব আমি এ কথাটি নবী (সা.) -এর কাছে উল্লেখ করলাম, তখন তিনি আমার বুকের উপর তার হাত মারলেন। এমনকি তাঁর আঙ্গুলের নিশানগুলো আমি আমার বুকের উপর দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি এই বলে আমার জন্য দু’আ করলেন, হে আল্লাহ তাকে (ঘোড়ার পিঠে) স্থির রাখ এবং তাকে হিদায়াত দানকারী ও হিদায়াত লাভকারী বানিয়ে দাও। এরপর হতে আমি আর কখনো ঘোড়া হতে পড়ে যাইনি। অতঃপর জারীর (কুরায়শ বংশীয়) আহমাস গোত্রের দেড়শত অশ্বারোহী নিয়ে রওয়ানা হলেন এবং যুল খলাসাহ্ গৃহটিকে আগুন দ্বারা পুড়ে ও ভেঙ্গে চুরমার করে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا كَانَ يَكْتُبُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْتَدَّ عَنِ الْإِسْلَامِ وَلَحِقَ بِالْمُشْرِكِينَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْأَرْضَ لَا تَقْبَلُهُ» . فَأَخْبَرَنِي أَبُو طَلْحَةَ أَنَّهُ أَتَى الْأَرْضَ الَّتِي مَاتَ فِيهَا فَوَجَدَهُ مَنْبُوذًا فَقَالَ: مَا شَأْنُ هَذَا؟ فَقَالُوا: دَفَنَّاهُ مِرَارًا فَلَمْ تَقْبَلْهُ الأَرْض. مُتَّفق عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3617) و مسلم (14/ 2781)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯৮-[৩১] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সা.) -এর ওয়াহী লিখত। পরে সে ইসলাম হতে মুরতাদ হয়ে মুশরিকদের সাথে গিয়ে মিশলো। তখন নবী (সা.) বললেন, নিশ্চয় মাটি তাকে গ্রহণ করবে না। বর্ণনাকারী [আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন] আবূ ত্বলহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলেছেন, ঐ লোকটি যে স্থানে মরেছে, তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান, তার (মৃত দেহটি) জমিনের উপর পড়ে রয়েছে। তখন তিনি লোকজনকে প্রশ্ন করলেন, এ লোকটির এ অবস্থা কেন? তারা বলল, আমরা কয়েকবার তাকে দাফন করেছিলাম; কিন্তু জমিন তাকে গ্রহণ করেনি। (বুখারী ও মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَن أبي أَيُّوب قا ل: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ وَجَبَتِ الشَّمْسُ فَسَمِعَ صَوْتًا فَقَالَ: «يَهُودُ تُعَذَّبَ فِي قبورها» . مُتَّفق عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (1375) و مسلم (69/ 2869)
বাংলা অনুবাদ
৫৮৯৯-[৩২] আবূ আইয়ুব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) সূর্যাস্তের পর বাইরে আসলে একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, এটা ইয়াহূদীদের আওয়াজ, তাদেরকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। (বুখারী ও মুসলিম)
মূল আরবি
وَعَن جَابر قا ل: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَفَرٍ فَلَمَّا كَانَ قُرْبَ الْمَدِينَةِ هَاجَتْ رِيحٌ تَكَادُ أَنْ تَدْفِنَ الرَّاكِبَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بُعِثَتْ هَذِهِ الرِّيحُ لِمَوْتِ مُنَافِقٍ» . فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ فَإِذَا عَظِيمٌ مِنَ الْمُنَافِقين قد مَاتَ. رَوَاهُ مُسلم
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (15/ 2782)
বাংলা অনুবাদ
৫৯০০-[৩৩] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) কোন এক সফর হতে প্রত্যাবর্তন করলেন। তিনি মদীনার কাছাকাছি হতেই এমন প্রবলভাবে ধূলিঝড় প্রবাহিত হলো যে, আরোহীকে পুঁতে ফেলার উপক্রম হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, কোন এক বড় মুনাফিকের মৃত্যুতেই এ ঝড় প্রবাহিত করা হয়েছে। অতঃপর মদীনার ভিতরে প্রবেশ করে জানতে পারলেন যে, মুনাফিকদের এক বড় নেতার মৃত্যু ঘটেছে। (মুসলিম)
