মিশকাতুল মাসাবীহ

পরিচ্ছেদ ২৯৬: হাদিস ৫,৯০১-৫,৯২০

এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।

এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
হাদিস ৫,৯০১

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى قَدِمْنَا عُسْفَانَ فَأَقَامَ بِهَا لَيَالِيَ فَقَالَ النَّاس: مَا نَحن هَهُنَا فِي شَيْءٍ وَإِنَّ عِيَالَنَا لَخُلُوفٌ مَا نَأْمَنُ عَلَيْهِمْ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا فِي الْمَدِينَةِ شِعْبٌ وَلَا نَقْبٌ إِلَّا عَلَيْهِ مَلَكَانِ يَحْرُسَانِهَا حَتَّى تَقْدَمُوا إِلَيْهَا» ثُمَّ قَالَ: «ارْتَحِلُوا» فَارْتَحَلْنَا وَأَقْبَلْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ فَوَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ مَا وَضَعْنَا رِحَالَنَا حِينَ دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ حَتَّى أَغَارَ عَلَيْنَا بَنُو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ غَطَفَانَ وَمَا يُهَيِّجُهُمْ قَبْلَ ذَلِكَ شَيْءٌ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (475/ 1374)

বাংলা অনুবাদ

৫৯০১-[৩৪] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (সা.) এর সাথে মক্কাহ হতে মদীনার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। পরিশেষে আমরা ’উসফান নামক স্থানে পৌছলে তিনি (সা.) এখানে কয়েকদিন অবস্থান করলেন। তখন লোকেরা (মুনাফিকগণ) বলল, এখানে অনর্থক আমাদের পড়ে থেকে কি লাভ? অথচ আমাদের পরিবার-পরিজন পিছনে রয়েছে। আমরা তাদের ক্ষেত্রে আশঙ্কামুক্ত নই। এ কথাটি নবী (সা.) -এর কাছে পৌছলে তিনি বললেন, সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ! মদীনার এমন কোন রাস্তা বা গলি নেই, যেখানে তোমাদের প্রত্যাগমন অবধি দু’ দু’জন মালাক (ফেরেশতা) তাকে পাহারা দিচ্ছে না।

অতঃপর তিনি (সা.) রওয়ানা হওয়ার নির্দেশ দিলেন। তাই আমরা রওয়ানা হয়ে মদীনায় এসে পৌছলাম। সে সত্তার শপথ করে বলছি, যাঁর নামে শপথ করা হয়, আমরা মদীনায় প্রবেশ করে তখনো আমাদের হাওদা খুলে মাল-সামান নামিয়ে রাখিনি, এমন সময় আকস্মাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু গাতফান বংশধরের লোকেরা অতর্কিত আমাদের ওপর আক্রমণ করে বসল। অথচ আমাদের প্রত্যাবর্তনের পূর্বে কিছুই তাদেরকে আক্রমণের জন্য উস্কানি দেয়নি। (মুসলিম)

হাদিস ৫,৯০২

মূল আরবি

وَعَن أنسٍ قَالَ أَصَابَت النَّاس سنَةٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم يخْطب فِي يَوْم جُمُعَة قَامَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَ الْمَالُ وَجَاعَ الْعِيَالُ فَادْعُ اللَّهَ لَنَا فَرَفَعَ يَدَيْهِ وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ قَزَعَةً فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا وَضَعَهَا حَتَّى ثَارَ السَّحَابُ أَمْثَالَ الْجِبَالِ ثُمَّ لَمْ يَنْزِلْ عَنْ مِنْبَرِهِ حَتَّى رَأَيْت الْمَطَر يتحادر على لحيته صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فمطرنا يَوْمنَا ذَلِك وَمن الْغَد وَبعد الْغَد وَالَّذِي يَلِيهِ حَتَّى الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى وَقَامَ ذَلِكَ الْأَعْرَابِيُّ أَوْ قَالَ غَيْرُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَهَدَّمَ الْبِنَاءُ وَغَرِقَ الْمَالُ فَادْعُ اللَّهَ لَنَا فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا فَمَا يُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ السَّحَابِ إِلَّا انْفَرَجَتْ وَصَارَتِ الْمَدِينَةُ مِثْلَ الْجَوْبَةِ وَسَالَ الْوَادِي قَنَاةُ شَهْرًا وَلَمْ يَجِئْ أَحَدٌ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَّا حَدَّثَ بِالْجَوْدِ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: «اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالظِّرَابِ وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ» .

قَالَ: فَأَقْلَعَتْ وَخَرَجْنَا نَمْشِي فِي الشّمسِ مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (933) و مسلم (8، 9 / 897)

বাংলা অনুবাদ

৫৯০২-[৩৫] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) -এর সময় একবার লোকেরা দুর্ভিক্ষে কবলিত হলো। এমতাবস্থায় একদিন নবী (সা.) - জুমুআর দিন খুৎবা দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুঈন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! (বৃষ্টির অভাবে) ধনসম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার-পরিজন অনাহার থাকছে, তাই আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দু’আ করুন। তখনই তিনি (সা.) (দু’আর জন্য) দু’ হাত উঠালেন, অথচ সে সময় আকাশে কোন মেঘের টুকরা আমরা দেখতে পাইনি। ঐ সত্তার শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার প্রাণ! তিনি (সা.) এখনও হাত নামাননি হঠাৎ পাহাড়ের মতো মেঘমালা ছুটে আসলো। অতঃপর তিনি (সা.) তখনো মিম্বার হতে নামেননি। আমি দেখতে পেলাম তাঁর দাড়ির উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়া শুরু হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন, তার পরের দিন, তার পরবর্তী দিন, এমনকি পরবর্তী জুমু’আহ্ অবধি একনাগাড়ে আমাদের উপর বর্ষণ হতে থাকল। অতঃপর উক্ত বেদুঈন কিংবা অন্য এক লোক দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঘরগুলো ভেঙ্গে পড়ছে, ধন-সম্পদসমূহ ডুবে গেছে। অতএব আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দু’আ করুন যেন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। তখন তিনি (সা.) হাতদ্বয় উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়; বরং আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বর্ষণ করুন। এই বলে তিনি (সা.) হাত দ্বারা আকাশের যেদিকে ইশারা করলেন সাথে সাথেই সেদিকের মেঘ কেটে গেল এবং অল্পক্ষণের মধ্যে সমগ্র মদীনাহ্ কুণ্ডলীর মতো একটি মেঘ-শূন্য স্থানে পরিণত হলো। আর উপত্যকার নালাসমূহ একাধারে এক মাস যাবৎ প্রবাহিত থাকল।
বর্ণনাকারী বলেন, তখন যেদিক হতে যে লোকই আসত, সে এ অত্যধিক বৃষ্টি বর্ষণের কথাই আলোচনা করত। অপর এক বর্ণনায় আছে- তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) দু’আ করতে করতে বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়; বরং আমাদের আশপাশে। হে আল্লাহ। টিলার উপরে, পাহাড়ের গায়ে, উপত্যকা এলাকায় এবং বৃক্ষের পাদদেশে বর্ষণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, ফলে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা রৌদ্রের মাঝে (মসজিদ হতে) ফিরে গেলাম। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৯০৩

মূল আরবি

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَطَبَ اسْتَنَدَ إِلَى جِذْعِ نَخْلَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَلَمَّا صُنِعَ لَهُ الْمِنْبَرُ فَاسْتَوَى عَلَيْهِ صَاحَتِ النَّخْلَةُ الَّتِي كَانَ يَخْطُبُ عِنْدَهَا حَتَّى كَادَت تَنْشَقَّ فَنَزَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَخَذَهَا فَضَمَّهَا إِلَيْهِ فَجَعَلَتْ تَئِنُّ أَنِينَ الصَّبِيِّ الَّذِي يُسَكَّتُ حَتَّى اسْتَقَرَّتْ قَالَ بَكَتْ عَلَى مَا كَانَتْ تَسْمَعُ مِنَ الذِّكْرِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (2095)

বাংলা অনুবাদ

৫৯০৩-[৩৬] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) জুমু’আর খুৎবা দেয়ার সময় মসজিদের খুঁটিসমূহের মধ্যে খেজুর গাছের একটি কাণ্ডের সাথে ঠেক দিয়ে খুৎবা দিতেন। অতঃপর যখন তাঁর জন্য মিম্বার তৈরি হলো, তখন তিনি (সা.) তাতে (খুৎবার জন্য) দাঁড়ালেন। সে সময় উক্ত কাণ্ডটি- যার পার্শ্বে দাঁড়িয়ে তিনি (সা.) খুৎবা দিচ্ছিলেন, অকস্মাৎ চিৎকার করে উঠল। এমনকি (শোকে ও দুঃখে) তা টুকরা টুকরা হওয়ার উপক্রম হলো। তখন নবী (সা.) মিম্বার হতে নেমে এসে খেজুর গাছটিকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। গাছটি তখন ঐ শিশুর মতো কাঁদতে লাগল, যে শিশুকে (আদর-সোহাগ করে) চুপ করানো হয়। অবশেষে তা স্থির হলো। অতঃপর নবী (সা.) বললেন, আল্লাহর গুণকীর্তন ও প্রশংসা যা কিছু তা শুনত, এখন শুনতে না পেয়ে তা কান্না জুড়ে দিয়েছিল। (বুখারী)

হাদিস ৫,৯০৪

মূল আরবি

وَعَن سَلمَة بن الْأَكْوَع أَنَّ رَجُلًا أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَمَالِهِ فَقَالَ: «كُلْ بِيَمِينِكَ» قَالَ: لاأستطيع. قَالَ «لَا اسْتَطَعْتَ» . مَا مَنَعَهُ إِلَّا الْكِبْرُ قا ل: فَمَا رَفعهَا إِلَى فِيهِ. رَوَاهُ مُسلم

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (107/ 2021)

বাংলা অনুবাদ

৫৯০৪-[৩৭] সালামাহ্ ইবনুল আকওয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সম্মুখে বাম হাতে খাচ্ছিল। তখন তিনি (সা.) বললেন, তুমি তোমার ডান হাতে খাও। সে বলল, আমি ডান হাতে খেতে পারি না। তিনি (সা.) বললেন, ডান হাতে খাওয়ার সাধ্য তোমার না থাকে। আসলে সে অহংকারবশত ডান হাতে খাওয়া হতে বিরত রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সেই অভিশাপ বাক্যে সে আর কোনদিনই তার ডান হাত আপন মুখের কাছে নিতে পারেনি। (মুসলিম)

হাদিস ৫,৯০৫

মূল আরবি

وَعَن أنسٍ أَنَّ أَهْلَ الْمَدِينَةِ فَزِعُوا مَرَّةً فَرَكِبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَسًا لِأَبِي طَلْحَةَ بَطِيئًا وَكَانَ يَقْطِفُ فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ: «وَجَدْنَا فَرَسَكُمْ هَذَا بَحْرًا» . فَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ لَا يُجَارَى وَفِي رِوَايَةٍ: فَمَا سُبِقَ بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْم. رَوَاهُ البُخَارِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * [متفق علیہ]، رواہ البخاري (2867 و الروایۃ الثانیۃ: 2969) و، مسلم (48/ 2307)

বাংলা অনুবাদ

৫৯০৫-[৩৮] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। একবার মদীনাবাসী (শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায়) ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল, তখন নবী (সা.) আবূ ত্বলহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর একটি অতি ধীরগতি অশ্বে আরোহণ করলেন (এবং মদীনায় পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিদর্শন করে) ফিরে এসে বললেন, তোমাদের এ ঘোড়াটিকে আমি সমুদ্রস্রোতের মতো দ্রুতগামী পেয়েছি।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর হতে কোন ঘোড়াই আর তার সাথে চলতে পারত না। অপর এক বর্ণনায় আছে, সে দিনের পর হতে কোন ঘোড়াই তার আগে যেতে পারত না। (বুখারী)

হাদিস ৫,৯০৬

মূল আরবি

وَعَن جابرٍ قَالَ: تُوُفِّيَ أَبِي وَعَلَيْهِ دَيْنٌ فَعَرَضْتُ عَلَى غُرَمَائه أَن يأخذو االتمر بِمَا عَلَيْهِ فَأَبَوْا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ وَالِدِي استُشهدَ يَوْم أحد وَترك عَلَيْهِ دَيْنًا كَثِيرًا وَإِنِّي أُحِبُّ أَنْ يَرَاكَ الْغُرَمَاءُ فَقَالَ لِيَ: " اذْهَبْ فَبَيْدِرْ كُلَّ تَمْرٍ عَلَى نَاحِيَةٍ فَفَعَلْتُ ثُمَّ دَعَوْتُهُ فَلَمَّا نَظَرُوا إِلَيْهِ كَأَنَّهُمْ أُغْرُوا بِي تِلْكَ السَّاعَةَ فَلَمَّا رَأَى مَا يَصْنَعُونَ طَافَ حَوْلَ أَعْظَمِهَا بَيْدَرًا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ جَلَسَ عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «ادْعُ لِي أَصْحَابَكَ» .

فَمَا زَالَ يَكِيلُ لَهُمْ حَتَّى أَدَّى اللَّهُ عَنْ وَالِدِي أَمَانَتَهُ وَأَنَا أَرْضَى أَن يُؤدِّي الله أَمَانَة وَالِدي وَلَا أرجع إِلَى أَخَوَاتِي بِتَمْرَةٍ فَسَلَّمَ اللَّهُ الْبَيَادِرَ كُلَّهَا وَحَتَّى إِني أنظر إِلى البيدر الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَأَنَّهَا لم تنقصُ تَمْرَة وَاحِدَة. رَوَاهُ البُخَارِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (2781)

বাংলা অনুবাদ

৫৯০৬-[৩৯] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা তাঁর ওপর ঋণ রেখে মৃত্যুবরণ করেন। আমি তাঁর পাওনাদারদেরকে ঋণের পরিবর্তে খেজুর নিতে অনুরোধ করলাম। কিন্তু তারা তা নিতে অস্বীকার করল। তখন আমি নবী (সা.) -এর কাছে এসে বললাম, আপনি ভালোভাবে জানেন যে, আমার পিতা (আবদুল্লাহ) উহুদের দিন শহীদ হয়েছেন এবং বহু ঋণ রেখে গেছেন। অতএব আমার একান্ত বাসনা, সে সমস্ত পাওনাদারগণ আপনাকে উপস্থিত দেখুক। তখন তিনি (সা.) আমাকে বললেন, তুমি যাও এবং প্রত্যেক প্রকারের খেজুরকে পেড়ে পৃথক পৃথকভাবে স্তূপীকৃত কর। অতএব আমি তাই করলাম। অতঃপর তাঁকে ডেকে আনলাম। পাওনাদারগণ যখন নবী (সা.) -কে দেখতে পেল, তখন তারা আমার ওপর আরো অধিক ক্ষেপে গেল এবং সেই মুহূর্তেই ঋণ পরিশোধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করল। তাদের এ আচরণ দেখে নবী (সা.) স্তূপীকৃত খেজুরের চতুর্দিকে তিনবার চক্কর দিলেন। পরে স্তূপের উপর বসে বললেন, তোমার পাওনাদারগণকে ডাক। এরপর রাসূল (সা.) নিজ হাতে তাদেরকে মেপে মেপে দিতে থাকলেন। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা আমার পিতার সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করে দিলেন।
জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অথচ আমি এর উপরই সন্তুষ্ট ছিলাম যে, আল্লাহ তা’আলা যেন আমার পিতার দায়িত্ব পরিশোধ করে দেন এবং আমার বোনদের জন্য রাখা আল্লাহ খেজুরের স্তূপ থেকে যেন একটি খেজুরও না নেয়া লাগে। একটি সকল স্তূপকেই পূর্বাবস্থায় রাখলেন। এমনকি তাকিয়ে দেখলাম যে স্তূপের উপর নবী (সা.) বসেছিলেন, তা হতে একটি খেজুরও কমেনি। (বুখারী)

হাদিস ৫,৯০৭

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: إِنَّ أُمَّ مَالِكٍ كَانَتْ تُهْدِي لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عُكَّةٍ لَهَا سَمْنًا فَيَأْتِيهَا بَنُوهَا فَيَسْأَلُونَ الْأُدُمَ وَلَيْسَ عِنْدَهُمْ شَيْءٌ فَتَعْمِدُ إِلَى الَّذِي كَانَتْ تُهْدِي فِيهِ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَجِدُ فِيهِ سَمْنًا فَمَا زَالَ يُقِيمُ لَهَا أُدُمَ بَيْتِهَا حَتَّى عَصَرَتْهُ فَأَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «عَصَرْتِيهَا» قَالَتْ نَعَمْ قَالَ: «لَوْ تَرَكْتِيهَا مَا زَالَ قَائِمًا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (8/ 2280)

বাংলা অনুবাদ

৫৯০৭-[৪০] উক্ত রাবী [জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাদিয়্যাহ হিসেবে নবী (সা.) -এর কাছে তার একটি চামড়ার পাত্রে ঘি পাঠাতেন। পরে তার সন্তানেরা এসে (রুটি খাওয়ার জন্য) তরকারি চাইলে যখন তাদের কাছে কিছুই থাকত না, তখন উম্মু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ঐ পাত্রটি নিতেন, যেটির দ্বারা তিনি নবী (সা.) -কে হাদিয়্যাহ্ পাঠাতেন এবং তাতে ঘি পেয়ে যেতেন। এমনকি সেই হতে সর্বদা উম্মু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ঘরে সেই ঘি তরকারি হিসেবে ব্যবহার হত। একদিন উম্মু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ঘিয়ের এ পাত্রটি নিংড়িয়ে নিলেন।

(সেদিন হতে বরকত শেষ হয়ে গেল) অতঃপর উম্মু মালিক কে নবী (সা.) -এর কাছে এসে তা জানালে তিনি প্রশ্ন করলেন, তুমি কি উক্ত পাত্রটি নিংড়িয়ে ফেলেছিল? উম্মু মালিক এই বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী (সা.) বললেন, যদি তুমি (না নিংড়িয়ে) পাত্রটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেলে রাখতে তাহলে সর্বদা তাতে ঘি উপস্থিত থাকত। (মুসলিম)

হাদিস ৫,৯০৮

মূল আরবি

وَعَن أنسٍ قَالَ: قَالَ أَبُو طَلْحَةَ لِأُمِّ سُلَيْمٍ لَقَدْ سَمِعْتُ صَوْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَعِيفًا أَعْرِفُ فِيهِ الْجُوعَ فَهَلْ عِنْدَكِ من شَيْء؟ فَأَخْرَجَتْ أَقْرَاصًا مِنْ شَعِيرٍ ثُمَّ أَخْرَجَتْ خِمَارًا لَهَا فَلَفَّتِ الْخُبْزَ بِبَعْضِهِ ثُمَّ دَسَّتْهُ تَحْتَ يَدِي وَلَاثَتْنِي بِبَعْضِهِ ثُمَّ أَرْسَلَتْنِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَذَهَبْتُ بِهِ فَوَجَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ وَمَعَهُ النَّاسُ فَقُمْتُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَرْسَلَكَ أَبُو طَلْحَةَ؟» قُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَنْ مَعَهُ قُومُوا فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ حَتَّى جِئْت أَبَا طَلْحَة فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ قَدْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ وَلَيْسَ عِنْدَنَا مَا نُطْعِمُهُمْ فَقَالَتْ اللَّهُ وَرَسُوله أعلم قَالَ فَانْطَلَقَ أَبُو طَلْحَةَ حَتَّى لَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو طَلْحَةَ مَعَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلُمِّي يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا عِنْدَكِ فَأَتَتْ بذلك الْخبز فَأمر بِهِ ففت وعصرت أم سليم عكة لَهَا فأدمته ثمَّ قَالَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ ثُمَّ قَالَ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ثُمَّ قَالَ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ثُمَّ قَالَ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثمَّ خَرجُوا ثمَّ أذن لِعَشَرَةٍ فَأَكَلَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ وَشَبِعُوا وَالْقَوْمُ سَبْعُونَ أَوْ ثَمَانُونَ رَجُلًا.

مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لمُسلم أَنه قَالَ: «أذن لِعَشَرَةٍ» فَدَخَلُوا فَقَالَ: «كُلُوا وَسَمُّوا اللَّهَ» . فَأَكَلُوا حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ بِثَمَانِينَ رَجُلًا ثُمَّ أَكَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَهْلُ الْبَيْتِ وَتَرَكَ سُؤْرًا وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ قَالَ: «أَدْخِلْ عَلَيَّ عَشَرَةً» . حَتَّى عَدَّ أَرْبَعِينَ ثُمَّ أَكَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ هَلْ نَقَصَ مِنْهَا شَيْءٌ؟ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: ثُمَّ أَخَذَ مَا بَقِيَ فَجَمَعَهُ ثُمَّ دَعَا فِيهِ با لبركة فَعَاد كَمَا كَانَ فَقَالَ: «دونكم هَذَا»

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3578) و مسلم (142/ 2040) الروایۃ، الثانیۃ، رواھا مسلم (143/ 2040) و الروایۃ الثالثۃ، رواھا البخاري (5450) و، الروایۃ الرابعۃ، رواھا مسلم (143/ 2040)

বাংলা অনুবাদ

৫৯০৮-[৪১] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবূ ত্বলহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কণ্ঠস্বর খুব দুর্বল শুনতে পেলাম, তাতে আমি অনুভব করলাম, তিনি ক্ষুধার্ত। তোমরা কাছে (খাওয়ার) কিছু আছে কি? উম্মু সুলায়ম বা বললেন, হ্যাঁ; আছে। এই বলে তিনি কিছু যবের রুটি বের করলেন। অতঃপর ওড়নাটি বের করে তার একাংশ দিয়ে রুটিগুলো বেঁধে গোপনে আমার হাতে দিলেন এবং ওড়নার অপরাংশ আমার দেহে জড়িয়ে দিলেন। তারপর আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। [আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন] আমি গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে মসজিদে পেলাম। (খন্দকের যুদ্ধের সময় সালাতের জন্য অস্থায়ীভাবে যে জায়গা নির্ধারণ করেছিলেন) তার সাথে আরো কিছু লোক ছিল। আমি সালাম দিয়ে তাদের সামনে দাঁড়ালাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে প্রশ্ন করলেন, তোমাকে কি আবূ তুলহাহ পাঠিয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি (সা.) আরো প্রশ্ন করলেন, খাদ্য নিয়ে পাঠিয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবী যাঁরা সেখানে ছিলেন, সকলকে ডেকে বললেন, তোমরা উঠ এবং চল! (এ বলে সমস্ত লোকজনসহ) তিনি রওয়ানা হলেন আর আমিও তাদের সামনে (আবূ ত্বলহাহ্’র বাড়ির দিকে) চলতে লাগলাম এবং আবূ ত্বলহাহ্’র কাছে এসে তাঁকে [রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আগমন বার্তা] জানালাম। তখন আবূ ত্বলহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! রাসূলুল্লাহ (সা.) লোকজনসহ এসেছেন। অথচ আমাদের কাছে এ পরিমাণ খাদ্য-সামগ্রী নেই যা আমরা তাদের সকলকে খেতে দিতে পারি। তখন উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল (সবকিছু) ভালো জানেন। অতঃপর আবূ তুলহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘরের দিকে এগিয়ে আসলেন এবং আবূ ত্বলহাহও তার সাথে ছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! তোমার কাছে যা কিছু আছে আমার কাছে নিয়ে আসে। তখন তিনি ঐ রুটিগুলো এনে উপস্থিত করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নির্দেশে রুটিগুলো টুকরা টুকরা করা হলো; আর উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ঘি এর পাত্র হতে ঘি বের করে তাকে তরকারি হিসেবে পেশ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারে কিছু পাঠ করলেন। তারপর বললেন, দশজনকে আসতে বল। তাদেরকে আসতে বলা হলো। তাঁরা সকলে খেয়ে তুষ্ট হয়ে বের হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, আরো দশজনকে আসতে বল, তারপর আরো দশজন, এভাবে সকলে তুষ্ট হয়ে খানা খেলেন। তাদের সংখ্যা সত্তর অথবা আশিজন ছিল। (বুখারী ও মুসলিম)
সহীহ: মুসলিম-এর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, দশজনকে আসার জন্য অনুমতি দাও। তাঁরা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা বিসমিল্লা-হ পড়ে খাও। তাঁরা খেলেন এবং এভাবে (দশ দশজন করে) আশিজন লোক খাদ্য খেলেন। অতঃপর নবী (সা.) গৃহবাসীরা সকলে খেলেন এবং কিছু খাদ্য অবশিষ্টও রয়ে গেল।
সহীহুল বুখারীর অপর এক বর্ণনাতে আছে- তিনি বললেন, দশজনকে আমার কাছে উপস্থিত কর। এভাবে (দশ দশজন করে) চল্লিশজনকে গণনা করলেন। অতঃপর নবী (সা.) নিজে খেলেন। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি দেখতে লাগলাম, খাদ্যের মধ্যে কিছু কম হয়েছে কিনা?
সহীহ মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনাতে আছে- সকলের খাওয়ার শেষে রাসূলুল্লাহ (সা.) অবশিষ্ট খাদ্যগুলো একত্রিত করলেন, তারপর তাতে বরকতের জন্য দু’আ করলেন। তখন তা ঐ পরিমাণ হয়ে গেল যে পরিমাণ আগে ছিল। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, নাও, তা তোমাদের জন্য।

হাদিস ৫,৯০৯

মূল আরবি

وَعنهُ قا ل: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِنَاءٍ وَهُوَ بِالزَّوْرَاءِ فَوَضَعَ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ فَجَعَلَ الْمَاءُ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ فَتَوَضَّأَ الْقَوْمُ قَالَ قَتَادَةُ: قُلْتُ لِأَنَسٍ: كَمْ كُنْتُمْ؟ قَالَ: ثلاثمائةٍ أَو زهاءَ ثلاثمائةٍ. مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3572) و مسلم (7، 6/ 2279)

বাংলা অনুবাদ

৫৯০৯-[৪২] উক্ত রাবী [আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.)-এর নিকট একটি (পানির) পাত্র আনা হলো। তখন তিনি (সা.) (মদীনার) যাওরা" নামক স্থানে ছিলেন। অনন্তর তিনি (সা.) ঐ পাত্রের মাঝে হাত রাখলেন, তখন তার আঙ্গুলগুলোর ফাঁক দিয়ে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত হতে লাগল। তখন লোকেরা ঐ পানি দ্বারা উযূ করল। কতাদাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনারা সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, তিনশত জন অথবা তিনশত জনের কাছাকাছি। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৯১০

মূল আরবি

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كُنَّا نَعُدُّ الْآيَاتِ بَرَكَةً وَأَنْتُمْ تَعُدُّونَهَا تَخْوِيفًا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَقَلَّ الْمَاءُ فَقَالَ: «اطْلُبُوا فَضْلَةً مِنْ مَاءٍ» فَجَاءُوا بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ قَلِيلٌ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ ثُمَّ قَالَ: «حَيَّ على الطَّهورِ الْمُبَارك وَالْبركَة من الله» فَلَقَد رَأَيْتُ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَقَد كُنَّا نَسْمَعُ تَسْبِيحَ الطَّعَامِ وَهُوَ يُؤْكَلُ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3579)

বাংলা অনুবাদ

৫৯১০-[৪৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (সাহাবীগণ) অলৌকিক ঘটনাবলীকে বরকতের ব্যাপার বলে মনে করতাম। কিন্তু তোমরা (অর্থাৎ সাহাবীদের পরবর্তী লোকেরা) ঐগুলোকে কেবলমাত্র (কাফিরদের জন্য) ভীতি প্রদর্শনের ব্যাপার বলে ধারণা করে থাক। একদিন আমরা রাসূলল্লাহ (সা.) -এর সাথে এক ভ্রমণে ছিলাম। হঠাৎ পানির অভাব দেখা দিল। তখন তিনি (সা.) বললেন, তোমরা কোথাও হতে কিছু উদ্বৃত্ত পানির সন্ধান কর। তখন তারা সামান্য পানি সমেত একটি পাত্র নিয়ে আসলো। তখন তিনি (সা.) স্বীয় হাতখানা পাত্রটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বললেন, বরকতপূর্ণ পবিত্র পানি নিতে এগিয়ে আসো।

আর এ বরকত আল্লাহর পক্ষ হতে। বর্ণনাকারী (ইবনু মাস্’উদ) বলেন, নিশ্চয় আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আঙ্গুলগুলোর ফাঁক দিয়ে ফোয়ারার মতো পানি বের হচ্ছে, আর অবশ্য আমরা খাবার গ্রহণ করার সময় (কখনো কখনো) খাদ্যের তাসবীহ পাঠ শুনতে পেতাম। (বুখারী)

হাদিস ৫,৯১১

মূল আরবি

وَعَن أبي قتادةَ قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّكُمْ تَسِيرُونَ عَشِّيَتَكُمْ وَلَيْلَتَكُمْ وَتَأْتُونَ الْمَاءَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ غَدًا فَانْطَلَقَ النَّاسُ لَا يَلْوِي أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ قَالَ أَبُو قَتَادَةَ فَبَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسِيرُ حَتَّى ابْهَارَّ اللَّيْلُ فَمَالَ عَنِ الطَّرِيقِ فَوَضَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ احْفَظُوا عَلَيْنَا صَلَاتَنَا فَكَانَ أَوَّلَ مَنِ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالشَّمْسُ فِي ظَهْرِهِ ثُمَّ قَالَ ارْكَبُوا فَرَكِبْنَا فَسِرْنَا حَتَّى إِذَا ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ نَزَلَ ثُمَّ دَعَا بِمِيضَأَةٍ كَانَتْ معي فِيهَا شيءٌ من مَاء قَالَ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا وُضُوءًا دُونَ وُضُوءٍ قَالَ وَبَقِيَ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ مَاءٍ ثُمَّ قَالَ احْفَظْ عَلَيْنَا مِيضَأَتَكَ فَسَيَكُونُ لَهَا نَبَأٌ ثُمَّ أَذَّنَ بِلَالٌ بِالصَّلَاةِ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى الْغَدَاةَ وَرَكِبَ وَرَكِبْنَا مَعَهُ فَانْتَهَيْنَا إِلَى النَّاسِ حِينَ امْتَدَّ النَّهَارُ وَحَمِيَ كُلُّ شَيْءٌ وَهُمْ يَقُولُونَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْنَا وَعَطِشْنَا فَقَالَ لَا هُلْكَ عَلَيْكُمْ وَدَعَا بِالْمِيضَأَةِ فَجَعَلَ يَصُبُّ وَأَبُو قَتَادَةَ يَسْقِيهِمْ فَلَمْ يَعْدُ أَنْ رَأَى النَّاسُ مَاءً فِي الْمِيضَأَةِ تَكَابُّوا عَلَيْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسِنُوا الْمَلَأَ كُلُّكُمْ سَيُرْوَى قَالَ فَفَعَلُوا فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُبُّ وَأَسْقِيهِمْ حَتَّى مَا بَقِيَ غَيْرِي وَغَيْرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَبَّ فَقَالَ لِيَ اشْرَبْ فَقُلْتُ لَا أَشْرَبُ حَتَّى تَشْرَبَ يَا رَسُولَ الله قَالَ إِن ساقي الْقَوْم آخِرهم شربا قَالَ فَشَرِبْتُ وَشَرِبَ قَالَ فَأَتَى النَّاسُ الْمَاءَ جَامِّينَ رِوَاءً.

رَوَاهُ مُسْلِمٌ هَكَذَا فِي صَحِيحِهِ وَكَذَا فِي كتاب الْحميدِي وجامع الْأُصُولِ وَزَادَ فِي الْمَصَابِيحِ بَعْدَ قَوْلِهِ آخِرُهُمْ لَفْظَة شربا

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (311/ 681)

বাংলা অনুবাদ

৫৯১১-[৪৪] আবূ কতাদাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেন, তোমরা আজ সন্ধ্যা এবং রাত্রিতে (লাগাতার) চলতে থাকবে। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে পানির কাছে আগামীকাল পৌছে যাবে। অতঃপর লোকেরা এমনভাবে (দ্রুত পথ) চলতে থাকল যে, কেউ কারো দিকে ফিরে চাইত না। আবূ কতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সন্ধ্যারাত হতে চলতে চলতে রাত্রি যখন মধ্যাহ্নে পৌছল, তখন তিনি রাস্তা হতে একদিকে সরে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর বললেন, তোমরা (ফজর) সালাতের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবে। (এরপর সকলে ঘুমিয়ে পড়লেন এবং) সকলের আগে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (সা.) -ই জাগ্রত হলেন, অথচ তখন সূর্যের তাপ এসে তার পিঠে পড়ছিল। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, তোমরা নিজ নিজ বাহনে আরোহণ কর। অতএব আমরা আরোহণ করলাম এবং সূর্য খুব উপরে উঠা পর্যন্ত ভ্রমণ করে তিনি এক জায়গায় অবতরণ করলেন। অতঃপর তিনি (সা.) উযূর জন্য পানির পাত্র চাইলেন, যা আমার সাথে ছিল। তাতে পানিও ছিল খুব সামান্য পরিমাণ। তিনি (সা.) তা হতে একান্ত হালকাভাবে উযু করলেন। আবূ কতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), বলেন, তার উযুর পরও পাত্রে সামান্য পরিমাণ পানি অবশিষ্ট রয়ে গেল। এরপর তিনি (সা.) বললেন, তোমরা পাত্রের পানিগুলো আমাদের জন্য ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রাখ। কেননা অচিরেই তা হতে একটি বড় ধরনের ঘটনা প্রকাশ পাবে।
অতঃপর বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সালাতের জন্য আযান দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) দুই রাক’আত (সুন্নাত) আদায় করলেন, তারপর ফজরের (ফরয) সালাত আদায় করলেন এবং নিজেও সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, আর আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম।
অবশেষে সূর্য যখন অনেক উপরে উঠল এবং প্রতিটি জিনিস সূর্যের প্রচণ্ড তাপে খুবই গরম হয়ে গেল, তখন আমরা ঐ কাফেলার লোকেদের কাছে এসে পৌছলাম, (যারা আমাদের পূর্বেই রওয়ানা হয়ে এসেছে) তারা বলে উঠল, হে আল্লাহর রাসূল! খুবই গরমে এবং পিপাসার তাড়নায় আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। তিনি (সা.) বললেন, তোমাদের ওপর ধ্বংস আসবে না। এই বলে তিনি (সা.) পানির পাত্রটি আনালেন এবং পানি ঢালতে থাকলেন, আর আবূ কতাদাহ্ লোকেদেরকে পানি পান করাচ্ছিলেন। লোকেরা যখন পাত্রে পানি দেখতে পেল, তখন তারা আর বিলম্ব না করে একসাথে সকলে পানির জন্য ভিড় জমিয়ে ফেলল। তাদের অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা উত্তম আচরণ কর। তোমরা সকলেই এ পানি দ্বারা পরিতৃপ্ত হবে। আবূ কতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তারা অনুরূপ করল। রাসূলুল্লাহ (সা.) পানি ঢালতে থাকলেন, আর আমি পানি পান করাতে লাগলাম। শেষ পর্যন্ত আমি ও রাসূলুল্লাহ (সা.) ছাড়া কেউ ছিল না। এরপর পানি ঢালা হলো, তখন তিনি (সা.) আমাকে বললেন, এবার তুমি পান কর। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি পান না করা অবধি আমি পান করব না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, লোকেদেরকে যে পানীয় পান করায়, সে হয় সর্বশেষে। আবূ কতাদাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতএব আমি পান করলাম। পরে তিনি (সা.) পান করলেন। আবূ কতাদাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর লোকেরা তৃপ্তি সহকারে আরামের সাথে পানির স্থানে এসে পৌছল। (মুসলিম)
সহীহ মুসলিমে অনুরূপই রয়েছে এবং হুমায়দীর গ্রন্থে ও জামিউল উসূলেও এরূপই রয়েছে। মাসাবীহ গ্রন্থে ও জামিউল উসূলেও এরূপই রয়েছে। মাসাবীহ গ্রন্থে (آخِرهم) শব্দের পর (شربا) শব্দটি বর্ণিত রয়েছে। (অর্থাৎ সর্বশেষ পানকারী)

হাদিস ৫,৯১২

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ غزوةِ تَبُوك أصابَ النَّاس مجاعةٌ فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُهُمْ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ ثُمَّ ادْعُ اللَّهَ لَهُمْ عَلَيْهًا بِالْبَرَكَةِ فَقَالَ: نعم قَالَ فَدَعَا بِنِطَعٍ فَبُسِطَ ثُمَّ دَعَا بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيءُ بِكَفِّ ذُرَةٍ وَيَجِيءُ الْآخَرُ بِكَفِّ تَمْرٍ وَيَجِيءُ الْآخَرُ بِكِسْرَةٍ حَتَّى اجْتَمَعَ عَلَى النِّطَعِ شَيْءٌ يَسِيرٌ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَرَكَةِ ثُمَّ قَالَ خُذُوا فِي أوعيتكم فَأَخَذُوا فِي أَوْعِيَتِهِمْ حَتَّى مَا تَرَكُوا فِي الْعَسْكَر وعَاء إِلا ملؤوه قَالَ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا وَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى اللَّهَ بِهِمَا عَبْدٌ غَيْرُ شاكٍّ فيحجبَ عَن الْجنَّة» .

رَوَاهُ مُسلم

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (45/ 27)

বাংলা অনুবাদ

৫৯১২-[৪৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় যখন লোকজন ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল, তখন ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখন লোকজনের কাছে যে পরিমাণ অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য অবশিষ্ট আছে, সেগুলো আনিয়ে নিন এবং তার উপর আল্লাহর কাছে বরকতের জন্য দুআ করুন। তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, তাই করা হবে। তখন তিনি (সা.) একখানা চামড়ার দস্তরখান আনালেন। তা বিছানো হলো, অতঃপর তিনি তাদের অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্যগুলো আনতে বললেন। তাতে কোন লোক আনল এক মুষ্টি বুট, আর কেউ আনল এক মুষ্টি খেজুর, আর কেউ আনল কিছু রুটির টুকরা। অবশেষে সবকিছু মিলিয়ে দস্তরখানের উপর সামান্য পরিমাণ বস্তুই একত্রিত করা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার মধ্যে বরকতের জন্য দু’আ করলেন। অতঃপর বললেন, তোমাদের (যার যা খুশি) নিজ নিজ পাত্রগুলোতে নিয়ে নাও। অতএব তারা নিজ নিজ পাত্রগুলোতে নিতে লাগল। এমনকি সেনাদলের মধ্যে এমন কোন পাত্র রইল না যা তারা ভর্তি করে নিল না।
আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, লোকেরা সকলে তৃপ্তি করে খেল এবং কিছু খাদ্য অতিরিক্তও রয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আর নিশ্চয় আমি আল্লাহর রাসূল। আর যে ব্যক্তি এ দু’টি কথার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে আল্লাহর সাথে মিলিত হবে (অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করবে), কোন কিছু তাকে জান্নাতে প্রবেশ হতে বাধা দিতে পারবে না। (মুসলিম)

হাদিস ৫,৯১৩

মূল আরবি

وَعَن أَنَسٍ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَرُوسًا بِزَيْنَبَ فَعَمَدَتْ أُمِّي أُمُّ سُلَيْمٍ إِلَى تَمْرٍ وَسَمْنٍ وَأَقِطٍ فَصَنَعَتْ حَيْسًا فَجَعَلَتْهُ فِي تَوْرٍ فَقَالَتْ يَا أَنَسُ اذْهَبْ بِهَذَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْ بَعَثَتْ بِهَذَا إِلَيْكَ أُمِّي وَهِيَ تُقْرِئُكَ السَّلَامَ وَتَقُولُ إِنَّ هَذَا لَكَ مِنَّا قَلِيلٌ يَا رَسُولَ الله قَالَ فَذَهَبْتُ فَقُلْتُ فَقَالَ ضَعْهُ ثُمَّ قَالَ اذْهَبْ فَادْعُ لِي فُلَانًا وَفُلَانًا وَفُلَانًا رِجَالًا سَمَّاهُمْ وَادْعُ مَنْ لَقِيتَ فَدَعَوْتُ مَنْ سَمَّى وَمَنْ لَقِيتُ فَرَجَعْتُ فَإِذَا الْبَيْتُ غَاصٌّ بِأَهْلِهِ قِيلَ لأنس عدد كم كَانُوا؟

قَالَ زهاء ثَلَاث مائَة. فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى تِلْكَ الْحَيْسَةِ وَتَكَلَّمَ بِمَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ جَعَلَ يَدْعُو عَشَرَةً عَشَرَةً يَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَقُول لَهُم: «اذْكروا اسْم الله وليأكلْ كُلُّ رَجُلٍ مِمَّا يَلِيهِ» قَالَ: فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا. فَخَرَجَتْ طَائِفَةٌ وَدَخَلَتْ طَائِفَةٌ حَتَّى أَكَلُوا كُلُّهُمْ قَالَ لِي يَا أَنَسُ ارْفَعْ. فَرَفَعْتُ فَمَا أَدْرِي حِينَ وَضَعْتُ كَانَ أَكْثَرَ أَمْ حِين رفعت. مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (5163) و مسلم (94/ 1428)

বাংলা অনুবাদ

৫৯১৩-[৪৬] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (সা.) যায়নাব-এর বিবাহে বর ছিলেন, তখন আমার মা উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কিছু খেজুর, মাখন এবং পনীরের সংমিশ্রণে ’হায়সা’ তৈরি করলেন। তারপর তাকে তিনি একটি পাত্রে রেখে বললেন, হে আনাস। এটা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে নিয়ে যাও এবং বল, এগুলো আমার মা আপনার কাছে পাঠিয়েছেন এবং তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। আর তিনি এটাও বলেছেন যে, হে আল্লাহর রাসূল! এটা আমাদের পক্ষ হতে আপনার জন্য খুবই সামান্য হাদিয়্যাহ্! আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি তা নিয়ে গেলাম এবং আমার মা যা কিছু বলার জন্য আমাকে আদেশ করেছিলেন, আমি তাও বললাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, এগুলো রাখ। অতঃপর আমাকে কিছু লোকের নাম উল্লেখ করে বললেন, যাও এবং অমুক অমুক ও অমুককে আর তা ছাড়াও যার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে তাদেরকে দাওয়াত দেবে।
অতএব তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদেরকে এবং আমার সাথে যাদের দেখা হয়েছে তাদেরকে দাওয়াত দিলাম। অতঃপর আমি ফিরে এসে দেখলাম পূর্ণ লোকজন। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রশ্ন করা হলো, সেখানে আপনাদের সংখ্যা কতজন ছিল? তিনি বললেন, প্রায় তিনশত। আমি দেখতে পেলাম, নবী (সা.) ’হায়সার পাত্রের মধ্যে স্বীয় হাত রাখলেন এবং আল্লাহর যা ইচ্ছা তা পাঠ করলেন। তারপর দশ দশজনের দলকে তা হতে খাবার জন্য ডাকতে থাকলেন। আর তাদেরকে বললেন, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ সম্মুখ হতে খাওয়া শুরু কর। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তারা সকলে তুষ্ট হয়ে খেলেন। একদল খেয়ে বের হতেন এবং আরেক দল প্রবেশ করতেন, এভাবে সমস্ত লোকই খাদ্য খেলেন। অতঃপর নবী (সা.) আমাকে বললেন, হে আনাস! পাত্রটি উঠাও। তখন আমি পাত্রটি উঠালাম, কিন্তু সঠিকভাবে বলতে পারছি না, যখন আমি পাত্রটি রেখেছিলাম, তখন পাত্রটিতে ’হায়সা’ বেশি ছিল নাকি এখন যখন আমি তাকে উঠালাম। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৯১৪

মূল আরবি

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنا على نَاضِح لنا قَدْ أَعْيَا فَلَا يَكَادُ يَسِيرُ فَتَلَاحَقَ بِيَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لي مَا لبعيرك قلت: قدعيي فَتَخَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فزجره ودعا لَهُ فَمَا زَالَ بَيْنَ يَدَيِ الْإِبِلِ قُدَّامَهَا يسير فَقَالَ لي كَيفَ ترى بعيرك قَالَ قُلْتُ بِخَيْرٍ قَدْ أَصَابَتْهُ بَرَكَتُكَ قَالَ أَفَتَبِيعُنِيهِ بِوُقِيَّةٍ. فَبِعْتُهُ عَلَى أَنَّ لِي فَقَارَ ظَهْرِهِ حَتَّى الْمَدِينَةِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ غَدَوْتُ عَلَيْهِ بِالْبَعِيرِ فَأَعْطَانِي ثمنَهُ وردَّهُ عَليّ. مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2967) ومسلم (110/ 715)

বাংলা অনুবাদ

৫৯১৪-[৪৭] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে শরীক ছিলাম। আর আমি এমন একটি উটের উপর আরোহণ করে ছিলাম যা সেচের পানি বহন করতে করতে একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। চলবার শক্তি ছিল না। পিছন হতে নবী (সা.) এসে আমার সাথে মিলিত হয়ে বললেন, তোমার উটের কি হয়েছে? আমি বললাম, তা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উটটির পিছনে গেলেন এবং তাকে ধমক দিয়ে তার জন্য দু’আ করলেন। তারপর তা সর্বদা অন্যান্য উটের আগে আগেই চলতে লাগল। পরে আবার তিনি (সা.) আমাকে প্রশ্ন করলেন, তোমার উটের খবর কি?

আমি বললাম, আপনার দুআর বরকতে এখন খুব ভালো। তিনি বললেন, তুমি কি এক উকিয়্যার বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রয় করবে? তখন আমি এই শর্তে বিক্রয় করলাম যে, মদীনাহ্ পৌছা পর্যন্ত আমি তার পিঠে আরোহী হব। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন আমি প্রাতঃকালে উটটি নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তিনি আমাকে উটের মূল্য প্রদান করলেন এবং উটটিও আমাকে ফেরত দিয়ে দিলেন। (বুখারী মুসলিম)

হাদিস ৫,৯১৫

মূল আরবি

وَعَن أبي حميد السَّاعِدِيّ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ تَبُوكَ فَأَتَيْنَا وَادِيَ الْقُرَى عَلَى حَدِيقَةٍ لِامْرَأَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اخْرُصُوهَا» فَخَرَصْنَاهَا وَخَرَصَهَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشَرَةَ أَوْسُقٍ وَقَالَ: «أَحْصِيهَا حَتَّى نَرْجِعَ إِلَيْكِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» وَانْطَلَقْنَا حَتَّى قَدِمْنَا تَبُوكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَتَهُبُّ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَةَ رِيحٌ شَدِيدَةٌ فَلَا يَقُمْ فِيهَا أَحَدٌ مِنْكُم فَمَنْ كَانَ لَهُ بَعِيرٌ فَلْيَشُدَّ عِقَالَهُ» فَهَبَّتْ رِيحٌ شَدِيدَةٌ فَقَامَ رَجُلٌ فَحَمَلَتْهُ الرِّيحُ حَتَّى أَلْقَتْهُ بِجَبَلَيْ طَيِّئٍ ثُمَّ أَقْبَلْنَا حَتَّى قَدِمْنَا وَادِيَ الْقُرَى فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَرْأَةُ عَنْ حَدِيقَتِهَا كَمْ بَلَغَ ثَمَرهَا فَقَالَت عشرَة أوسق.

مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (1481) و مسلم (11/ 1392)

বাংলা অনুবাদ

৫৯১৫-[৪৮] আবূ হুমায়দ আস্ সাইদী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে তাবুকের যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হলাম। অতঃপর আমরা ’ওয়াদিউল কুরা’ নামক স্থানে এক মহিলার বাগানে উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা (বাগানের খেজুরের) পরিমাণ আন্দায কর। অতএব আমরা ধারণা করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) বাগানের ফল দশ ওয়াসাক হবে বলে অনুমান করলেন। এরপর তিনি (সা.) উক্ত মহিলাকে বললেন, এ বাগানে কি পরিমাণ খেজুর উৎপন্ন হয়, ভালোভাবে তার হিসাব রেখো, যাবৎ না আমরা তোমার কাছে ফিরে আসি ইনশা-আল্লা-হ। অবশেষে আমরা রওয়ানা হয়ে তাবুকে এসে উপস্থিত হলাম।
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, সাবধান! আজ রাতে ব্যাপক ঝড় হবে। অতএব তোমাদের কেউই যেন দাঁড়িয়ে না থাকে। আর যার সাথে উট রয়েছে, সে যেন তাকে শক্ত করে বেঁধে রাখে। রাতে প্রচণ্ড ঝড় হলো। এক লোক দাড়িয়ে গেলে ঝড় তাকে উড়িয়ে ’তাঈ’ পাহাড়ে নিয়ে নিক্ষেপ করল। অতঃপর আমরা ফেরার পথে ওয়াদিউল কুরায় এসে পৌছলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত মহিলাকে প্রশ্ন করলেন, তোমাদের বাগানে কি পরিমাণ ফল উৎপন্ন হয়েছে? সে বলল, "দশ ওয়াসাক’। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৫,৯১৬

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُونَ مِصْرَ وَهِيَ أَرْضٌ يُسَمَّى فِيهَا الْقِيرَاطُ فَإِذَا فَتَحْتُمُوهَا فَأَحْسِنُوا إِلَى أَهْلِهَا فَإِنَّ لَهَا ذِمَّةً وَرَحِمًا أَوْ قَالَ: ذِمَّةً وَصِهْرًا فَإِذَا رَأَيْتُمْ رَجُلَيْنِ يَخْتَصِمَانِ فِي مَوْضِعِ لَبِنَةٍ فَاخْرُجْ مِنْهَا ". قَالَ: فَرَأَيْتُ عَبْدَ الرَّحْمَن بن شُرَحْبِيل بن حَسَنَة وأخاه يَخْتَصِمَانِ فِي مَوْضِعِ لَبِنَةٍ فَخَرَجْتُ مِنْهَا. رَوَاهُ مُسلم

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (227، 226 / 2543)

বাংলা অনুবাদ

৫৯১৬-[৪৯] আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে তোমরা নিশ্চয় মিসর জয় করবে। তা এমন একটি দেশ যেখানে কীরাত (আঞ্চলিক মুদ্রার নাম) ব্যবহার হয়ে। থাকে। তোমরা যখন তা জয় করবে, তখন সেখানকার অধিবাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা তাদের সাথে সৌহার্দ ও আত্মীয়তার অথবা বলেছেন, সৌহার্দ ও শ্বশুরাত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। আর যখন দেখবে, দুই লোক একটি ইটের জায়গা নিয়ে পরস্পর বিবাদ করছে তখন তুমি সে স্থান হতে সরে পড়বে। আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর আমি আবদুর রহমান ইবনু শুরাহবিল ইবনু হাসানাহ্ ও তার ভাই (রবীআহ-কে) একটি ইটের স্থান নিয়ে পরস্পর ঝগড়া করতে দেখতে পাই, তখন আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি। (মুসলিম)

হাদিস ৫,৯১৭

মূল আরবি

وَعَنْ حُذَيْفَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " فِي أَصْحَابِي وَفِي رِوَايَة قا ل: فِي أُمَّتِي اثْنَا عَشَرَ مُنَافِقًا لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدُونَ رِيحَهَا حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سم الْخياط ثَمَانِيَة مِنْهُم تَكُ (فيهم الدُّبَيْلَةُ: سِرَاجٌ مِنْ نَارٍ يَظْهَرُ فِي أَكْتَافِهِمْ حَتَّى تَنْجُمَ فِي صُدُورِهِمْ ". رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ: «لَأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ غَدًا» فِي «بَابِ مَنَاقِبِ عَلِيٍّ» رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَحَدِيثَ جَابِرٍ «مَنْ يَصْعَدُ الثَّنِيَّةَ» فِي «بَابِ جَامِعِ الْمَنَاقِبِ» إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (10، 9 / 2779) حدیث سھل بن سعد سیأتي (6080) و حدیث، جابر یأتي (6220)

বাংলা অনুবাদ

৫৯১৭-[৫০] হুযায়ফাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। একদিন তিনি (সা.) বলেছেন: আমার সাহাবীদের মাঝে অপর এক বর্ণনাতে আছে, আমার উম্মতের মাঝে এমন বারোজন মুনাফিক রয়েছে, যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার ঘ্রাণও তারা পাবে না, যে পর্যন্ত না সুঁচের ছিদ্রের ভিতর উট প্রবেশ করে। তাদের আটজনকে পেটের ফোঁড়া ধ্বংস করবে। তা আগুনের একটি শিখা, যা তাদের ঘাড়ের মধ্যে সৃষ্টি হবে। এমনকি তা তাদের বুক বিদ্ধ করে বের হবে। (মুসলিম)
(গ্রন্থকার বলেন,) সাহল ইবনু সা’দ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (لَأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ غَدًا) "অবশ্যই আগামীকাল এই যুদ্ধের নিশানা বা পতাকা এমন এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিব" মানাকিবে ’আলী এবং জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (مَنْ يَصْعَدُ الثَّنِيَّةَ) "কে সানিয়্যাহ্ উপত্যকায় আরোহণ করবে?" "জামিউল মানাকিব অধ্যায়ে" বর্ণনা করব ইনশা-আল্ল-হ।

হাদিস ৫,৯১৮

মূল আরবি

عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: خَرَجَ أَبُو طَالِبٍ إِلَى الشَّام وَخرج مَعَه النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَشْيَاخٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَلَمَّا أَشْرَفُوا عَلَى الرَّاهِبِ هَبَطُوا فَحَلُّوا رِحَالَهُمْ فَخَرَجَ إِلَيْهِمُ الرَّاهِبُ وَكَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ يَمُرُّونَ بِهِ فَلَا يَخْرُجُ إِلَيْهِمْ قَالَ فَهُمْ يَحُلُّونَ رِحَالَهُمْ فَجَعَلَ يَتَخَلَّلُهُمُ الرَّاهِبُ حَتَّى جَاءَ فَأَخَذَ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ هَذَا سَيِّدُ الْعَالَمِينَ هَذَا رسولُ ربِّ الْعَالِمِينَ يَبْعَثُهُ اللَّهُ رَحْمَةً لِلْعَالِمِينَ فَقَالَ لَهُ أَشْيَاخٌ مِنْ قُرَيْشٍ مَا عِلْمُكَ فَقَالَ إِنَّكُمْ حِينَ أَشْرَفْتُمْ مِنَ الْعَقَبَةِ لَمْ يَبْقَ شَجَرٌ وَلَا حَجَرٌ إِلَّا خَرَّ سَاجِدًا وَلَا يَسْجُدَانِ إِلَّا لِنَبِيٍّ وَإِنِّي أَعْرِفُهُ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ أَسْفَلَ مِنْ غُضْرُوفِ كَتِفِهِ مِثْلَ التُّفَّاحَةِ ثُمَّ رَجَعَ فَصَنَعَ لَهُمْ طَعَامًا فَلَمَّا أَتَاهُمْ بِهِ وَكَانَ هُوَ فِي رِعْيَةِ الْإِبِلِ فَقَالَ أَرْسِلُوا إِلَيْهِ فَأَقْبَلَ وَعَلَيْهِ غَمَامَةٌ تُظِلُّهُ فَلَمَّا دَنَا مِنَ الْقَوْم وجدهم قد سَبَقُوهُ إِلَى فَيْء الشَّجَرَة فَلَمَّا جَلَسَ مَالَ فَيْءُ الشَّجَرَةِ عَلَيْهِ فَقَالَ انْظُرُوا إِلَى فَيْءِ الشَّجَرَةِ مَالَ عَلَيْهِ فَقَالَ أنْشدكُمْ بِاللَّه أَيُّكُمْ وَلِيُّهُ قَالُوا أَبُو طَالِبٍ فَلَمْ يَزَلْ يُنَاشِدُهُ حَتَّى رَدَّهُ أَبُو طَالِبٍ وَبَعَثَ مَعَهُ أَبُو بَكْرٍ بِلَالًا وَزَوَّدَهُ الرَّاهِبُ مِنَ الْكَعْكِ وَالزَّيْت.

(علق الشَّيْخ أَن ذكر بِلَال فِي الحَدِيث خطأ إِذْ لم يكن خلق بعد)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3620 وقال: غریب) ٭ یونس بن أبي، إسحاق مدلس و عنعن .

বাংলা অনুবাদ

৫৯১৮-[৫১] আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার [রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চাচা] আবূ ত্বালিব নবী (সা.) ও কুরায়শ নেতৃবর্গের মধ্যে সিরিয়ার উদ্দেশে ভ্রমণে বের হলেন। যখন তারা (বুহায়রাহ্) পাদ্রির কাছে পৌছে সেখানে যাত্রাবিরতি করলেন, তখন নিজেদের বাহন হতে হাওদা ইত্যাদি সামানপত্র খুললেন। এমন সময় পাদ্রি তাদের কাছে আসলো। কুরায়শদের কাফেলা ইতঃপূর্বে বহুবার এ পথে আসা যাওয়া করেছে, অথচ পাদ্রি কখনো তাদের কাছে আসেনি। বর্ণনাকারী বলেন, কাফেলার লোকেরা নিজেদের হাওদা ইত্যাদি খুলছে, এমন সময় পাদ্রি তাদের মাঝে প্রবেশ করল।

অবশেষে সে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে তার হাত ধরে বলল, ইনিই তো সমগ্র জগতের নেতা, ইনিই রাব্বূল আলামীনের রাসূল, আল্লাহ তা’আলা তাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করবেন। তখন কুরায়শ নেতাদের কেউ কেউ প্রশ্ন করল, তুমি তা কিরূপে জান? পাদ্রি বলল, যখন তোমরা পাহাড়ের পশ্চাৎ হতে বের হয়ে সম্মুখে এসেছ, তখন হতে এমন কোন বৃক্ষ ও পাথর বাকি ছিল না যা তাঁকে সিজদাহ্ করেনি। বস্তুত এ দুই জিনিস কেবলমাত্র নবীকেই সিজদাহ্ করে। আর আমি তাকে মোহরে নুবুওয়্যাত দ্বারা চিনতে পেরেছি, যা তার কাঁধের গোড়ায় নিম্নদিকে আপেলের মতো রয়েছে। অতঃপর পাদ্রি ফিরে আসলো এবং কাফেলার লোকেদের জন্য খাবার তৈরি করল।

যখন সে খাবার নিয়ে তাদের কাছে আসলো, তখন দেখল যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কাফেলার লোকেদের উটগুলো নিয়ে এমন অবস্থায় আসলেন, দেখা গেল এক খণ্ড মেঘ তার উপর ছায়া দান করে রয়েছে। আর যখন তিনি কাফেলার লোকেদের কাছে আসলেন, তখন দেখলেন, লোকেরা পূর্ব হতেই ছায়াবিশিষ্ট স্থানগুলো দখল করে ফেলেছে। কিন্তু যখন তিনি বসলেন, তখন বৃক্ষের ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ল। (এ অবস্থা দেখে) পাদ্রি কাফেলার লোকেদেরকে বলল, তোমরা তাকিয়ে দেখ গাছের ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। (এ সমস্ত অলৌকিক ঘটনা দেখে) পাদ্রি বলে উঠল, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, বল!

তোমাদের মধ্যে তার অভিভাবক কে? লোকেরা বলল, আবূ ত্বালিব। অতঃপর পাদ্রি (তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য) অনেকক্ষণ ধরে আবূ ত্বালিব-কে আল্লাহর শপথ দিয়ে অনুরোধ করতে থাকে। অবশেষে আবূ ত্বালিব তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। আর তার সফরসঙ্গী হিসেবে আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে সাথে পাঠিয়ে দিলেন। এদিকে পথে খাওয়ার জন্য পাদ্রী তার সাথে কিছু কেক ও যায়তূনের তেল দিল। (তিরমিযী)

হাদিস ৫,৯১৯

মূল আরবি

وَعَنْ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ فَخَرَجْنَا فِي بَعْضِ نَوَاحِيهَا فَمَا اسْتَقْبَلَهُ جَبَلٌ وَلَا شَجَرٌ إِلَّا وَهُوَ يَقُولُ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ والدارمي

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3626 وقال: حسن غریب) و الدارمي (1/، 12ح 21) ٭ ولید بن أبي ثور: ضعیف و عباد: مجھول .

বাংলা অনুবাদ

৫৯১৯-[৫২] ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কায় নবী (সা.) -এর সাথেই ছিলাম। একদিন আমরা মক্কার পার্শ্ববর্তী কোন অঞ্চলের দিকে বের হই, তখন যে কোন পাহাড় ও গাছ-গাছালি তাঁর মুখোমুখি হয়, তখন তা (তাঁকে) ’আস্সালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্ল-হ (হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলে। (তিরমিযী ও দারিমী)

হাদিস ৫,৯২০

মূল আরবি

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِالْبُرَاقِ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ مُلْجَمًا مُسْرجاً فاستصعب عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ جِبْرِيل: أَبِمُحَمَّدٍ تَفْعَلُ هَذَا؟ قَالَ: فَمَا رَكِبَكَ أَحَدٌ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنْهُ قَالَ: فَارْفَضَّ عَرَقًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3131) ٭ قتادۃ مدلس و عنعن .

বাংলা অনুবাদ

৫৯২০-[৫৩] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। মি’রাজের রাত্রে নবী (সা.) -এর কাছে জিনপোষ ও লাগামে সাজানো বুরাক আনা হলো। তিনি (সা.) তাতে আরোহণ করতে চাইলে তা লাফালাফি করতে লাগল। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম বুরাকটিকে বললেন, তুমি কি মুহাম্মাদ (সা.) -এর সাথে এরূপ করছ? আরে! আল্লাহর কাছে ইনি অপেক্ষা অধিক সম্মানিত কোন লোক এ যাবৎ তোমার ওপর আরোহণ করেনি। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে বুরাক (লজ্জায়) ঘর্মাক্ত হয়ে গেল। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব।]