মিশকাতুল মাসাবীহ
পরিচ্ছেদ ৩০৯: হাদিস ৬,১৬১-৬,১৮০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ جَعْفَرٌ يُحِبُّ الْمَسَاكِينَ وَيَجْلِسُ إِلَيْهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ وَيُحَدِّثُونَهُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَنِّيهِ بِأَبِي الْمَسَاكِين. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3766) [و ابن ماجہ (4125 مختصرًا)] ٭، فیہ إبراہیم المخزومي: متروک .
বাংলা অনুবাদ
৬১৬১-[২৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জা’ফার (ইবনু আবূ ত্বালিব) (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মিসকীনদেরকে খুব বেশি ভালোবাসতেন, তাদের সাথে বসতেন এবং আলাপ করতেন তারাও জা’ফার-এর সাথে দ্বিধাহীনচিত্তে আলাপ-আলোচনা করত। এজন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ’আবূল মাসাকিন’ উপনামে আহ্বান করতেন। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتُ جَعْفَرًا يَطِيرُ فِي الْجَنَّةِ مَعَ الْمَلَائِكَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ الترمذي (3763)
বাংলা অনুবাদ
৬১৬২-[২৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি জান্নাতে জা’ফার-কে মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাদের) সাথে উড়তে দেখেছি। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
মূল আরবি
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شباب أهل الْجنَّة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الترمذي (3768 وقال: صحیح حسن)
বাংলা অনুবাদ
৬১৬৩-[২৯] আবূ সাঈদ (আল খুদরী) (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হাসান ও হুসায়ন দু’জনই যুবক জান্নাতীদের নেতা। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ هُمَا رَيْحَانَيَّ مِنَ الدُّنْيَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَدْ سبَق فِي الْفَصْل الأول
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الترمذي (3770 و قال: صحیح) [و ھو في صحیح البخاري، (3753)] ٭ وانظر الحدیث السابق (6136)
বাংলা অনুবাদ
৬১৬৪-[৩০] ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হাসান এবং হুসায়ন তাঁরা দুজন দুনিয়াতে আমার দু’টি সুগন্ধময় ফুলস্বরূপ। [তিরমিযী, এ হাদীসটি (শাব্দিক সামান্য পরিবর্তনসহ) প্রথম অনুচ্ছেদেও বর্ণিত হয়েছে]
মূল আরবি
وَعَن أسامةَ بنِ زيدٍ قَالَ: طَرَقْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي بَعْضِ الْحَاجَةِ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُشْتَمِلٌ عَلَى شَيْء وَلَا أَدْرِي مَا هُوَ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْ حَاجَتِي قُلْتُ: مَا هَذَا الَّذِي أَنْتَ مُشْتَمِلٌ عَلَيْهِ؟ فَكَشَفَهُ فَإِذَا الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ عَلَى وَرِكَيْهِ. فَقَالَ: «هَذَانِ ابْنَايَ وَابْنَا ابْنَتِي اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُمَا فأحبهما وَأحب من يحبهما» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الترمذي (3769 وقال: حسن غریب) وسندہ حسن و للحدیث، شواھد .
বাংলা অনুবাদ
৬১৬৫-[৬১] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন কোন এক প্রয়োজনে রাতের বেলায় আমি নবী (সা.) -এর কাছে গেলাম। তখন নবী (সা.) এমন অবস্থায় গৃহ হতে বের হলেন যে, (মনে হলো) তিনি চাদর দ্বারা দেহের সাথে কি একটি জিনিস জড়িয়ে রেখেছেন, কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি সে জিনিসটি কি? অতঃপর যখন আমি প্রয়োজন সেরে তাঁর কাছ হতে অবসর হলাম, তখন প্রশ্ন করলাম, (হে আল্লাহর রাসূল!) আপনি চাদরের ভিতরে কি জিনিস জড়িয়ে রেখেছেন? তখন তিনি চাদরখানা সরিয়ে ফেললে দেখলাম, হাসান ও হুসায়ন দু’জন তাঁর দুই উরুতে বসে রয়েছেন। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, এরা দু’জন আমার পুত্র এবং তনয়ার পুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদের দুজনকেই ভালোবাসি। অতএব আপনিও তাদের দু’জনকে ভালোবাসুন। আর যারা এ দু’জনকে ভালোবাসবে, আপনি তাদেরকেও ভালোবাসুন। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَنْ سَلْمَى قَالَتْ: دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ وَهِي تبْكي فَقلت: مَا بيكيك؟ قَالَتْ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَتَعْنِي فِي الْمَنَامِوَعَلَى رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ التُّرَابُ فَقُلْتُ: مَا لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «شَهِدْتُ قَتْلَ الْحُسَيْنِ آنِفًا» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3771) ٭ سلمی: لا تعرف و حدیث أحمد، (1/ 283) عن ابن عباس قال: ’’رأیت رسول اللہ ﷺ فی النوم نصف النار أشعث أغبر و، بیدہ قارورۃ فیھا دم، قلت: یا رسول اللہ ما ھذا؟ قال:ھذا دم الحسین و أصحابہ، لم، أزل الیوم ألتقطہ‘‘ سندہ حسن، وھو یغني عن ھذا الحدیث الضعیف، و في صحیح الحدیث، شغل عن سقیمہ .
বাংলা অনুবাদ
৬১৬৬-[৩২] সালমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি কাঁদছেন। প্রশ্ন করলাম, আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এমন অবস্থায় দেখেছি, অর্থাৎ স্বপ্নে তাঁর মাথা ও দাড়ি ধুলাবালিতে মিশ্রিত। অতঃপর আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ অবস্থা কেন, কি হয়েছে আপনার? তিনি (সা.) বললেন, এইমাত্র হুসায়ন-এর শাহাদাতের স্থানে উপস্থিত হয়েছিলাম।
মূল আরবি
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَي بَيْتِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: «الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ» وَكَانَ يَقُولُ لِفَاطِمَةَ: «ادْعِي لِي ابْنَيَّ» فَيَشُمُّهُمَا وَيَضُمُّهُمَا إِلَيْهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3772) ٭ فیہ یوسف بن إبراہیم: ضعیف .
বাংলা অনুবাদ
৬১৬৭-[৩৩] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে প্রশ্ন করা হলো, আপনি আপনার আহলে বায়তের মাঝে কাকে সর্বাধিক ভালোবাসেন? তিনি বললেন, হাসান ও হুসায়নকে। আর তিনি (সা.) ফাতিমাহ্ -এর উদ্দেশে বলতেন, আমার পুত্রদ্বয়কে আহ্বান করো। তারা আসলে তিনি তাদেরকে শুঁকতেন (চুমা দিতেন) এবং উভয়কে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরতেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
মূল আরবি
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُنَا إِذْ جَاءَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ عَلَيْهِمَا قَمِيصَانِ أَحْمَرَانِ يَمْشِيَانِ وَيَعْثُرَانِ فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ الْمِنْبَرِ فَحَمَلَهُمَا وَوَضَعَهُمَا بَيْنَ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «صَدَقَ اللَّهُ [إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ] نَظَرْتُ إِلَى هَذَيْنِ الصَّبِيَّيْنِ يَمْشِيَانِ وَيَعْثُرَانِ فَلَمْ أَصْبِرْ حَتَّى قَطَعْتُ حَدِيثِي وَرَفَعْتُهُمَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3774 وقال: حسن غریب) و أبو داود، (1109) و النسائي (3/ 108 ح 1414)
বাংলা অনুবাদ
৬১৬৮-[৩৪] বুরয়দাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ) এলেন আর তাদের উভয়ের দেহে ছিল লাল বর্ণের দু’টি জামা। তাঁরা এমনভাবে চলছিলেন যেন পড়ে যাচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) মিম্বার হতে অবতরণ করলেন এবং তাঁদেরকে উঠিয়ে এনে নিজের সম্মুখে বসিয়ে রাখলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহ সত্যই বলেছেন, "তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিগণ ফিতনাহ্।’ আমি এ বাচ্চা দু’টির দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, এরা হাঁটছে এবং পড়ে যাচ্ছে, অতএব আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না। সবশেষে আমি আলোচনা বন্ধ করে দিলাম এবং তাদেরকে উঠিয়ে আনলাম। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও নাসায়ী)
মূল আরবি
وَعَن يعلى بن مرَّة قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حُسَيْنٌ مِنِّي وَأَنَا مِنْ حُسَيْنٍ أَحَبَّ اللَّهُ مَنْ أَحَبَّ حُسَيْنًا حُسَيْنٌ سِبَطٌ مِنَ الأسباط» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3775 وقال: حسن)
বাংলা অনুবাদ
৬১৬৯-[৩৫] ইয়া’লা ইবনু মুররাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হুসায়ন আমার হতে আর আমি হুসায়ন হতে। যে হুসায়নকে ভালোবাসবে আল্লাহ তা’আলা তাকে ভালোবাসবেন। হুসায়ন বংশসমূহের মাঝে একটি বংশ। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: الْحَسَنُ أَشْبَهَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَيْنَ الصَّدْرِ إِلَى الرَّأْسِ وَالْحُسَيْنُ أَشْبَهَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ أَسْفَل من ذَلِك. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3779 وقال: حسن غریب) ٭ فیہ أبو، إسحاق السبیعي: مدلس و عنعن .
বাংলা অনুবাদ
৬১৭০-[৩৬] ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। হাসান হলেন (চেহারা-আকৃতি-অবয়বে) মাথা হতে বক্ষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সদৃশ। আর হুসায়ন হলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বুকের নিচের অংশের সদৃশ। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَن حُذَيْفَة قَالَ: قُلْتُ لِأُمِّي: دَعِينِي آتِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُصَلِّي مَعَهُ الْمَغْرِبَ وَأَسْأَلُهُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لِي وَلَكِ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ الْمَغْرِبَ فَصَلَّى حَتَّى صَلَّى الْعِشَاءَ ثُمَّ انْفَتَلَ فَتَبِعْتُهُ فَسَمِعَ صَوْتِي فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟ حُذَيْفَةُ؟» قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: «مَا حَاجَتُكَ؟ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ وَلِأُمِّكِ إِنَّ هَذَا مَلَكٌ لَمْ يَنْزِلِ الْأَرْضَ قَطُّ قَبْلَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ اسْتَأْذَنَ رَبَّهُ أَنْ يُسَلِّمَ عَلَيَّ وَيُبَشِّرَنِي بِأَنَّ فَاطِمَةَ سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَنَّ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: إسناده جيد
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3781)
বাংলা অনুবাদ
৬১৭১-[৩৭] হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আমার আম্মাকে বললাম, আমাকে সম্মতি দিন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে গিয়ে তাঁর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করি এবং নিজের ও আপনার ক্ষমার জন্য তার কাছে দু’আর আবেদন করি। (অনুমতিক্রমে) অতঃপর আমি নবী (সা.) - এর কাছে এসে তার সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম। এরপর তিনি (সা.) (নফল) সালাত আদায় করতে থাকেন। অবশেষে ইশার সালাত আদায় করে যখন গৃহাভিমুখে রওয়ানা হলেন, তখন আমিও তার পিছনে পিছনে যাত্রা করলাম। তিনি (সা.) আমার (পায়ের) আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, কে, হুযায়ফাহ্? বললাম, হ্যাঁ। তিনি (সা.) বললেন, কি প্রয়োজনে এসেছ? আল্লাহ তা’আলা তোমাকে এবং তোমার মাতাকে ক্ষমা করুন। (হে হুযায়ফাহ!) ইনি মালাক (ফেরেশতা), যিনি এ রাত্রির পূর্বে আর কখনো ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করেননি। তিনি তার প্রভুর কাছে অনুমতি চান যে, আমাকে সালাম করবেন এবং আমাকে এ সুসংবাদটি জানিয়ে দেবেন যে, ফাতিমাহ্ জান্নাতী মহিলাদের সরদার আর হাসান এবং হুসায়ন দু’জনই জান্নাতী যুবকদের সরদার।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
মূল আরবি
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَامِلًا الْحَسَنَ بْنَ عليٍّ على عَاتِقه فَقَالَ رَجُلٌ: نِعْمَ الْمَرْكَبُ رَكِبْتَ يَا غُلَامُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَنِعْمَ الرَّاكِبُ هُوَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3784 وقال: حسن صحیح) ٭ فیہ زمعۃ بن، صالح: ضعیف، و للحدیث شواھد ضعیفۃ .
বাংলা অনুবাদ
৬১৭২-[৩৮] ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসান ইবনু ’আলীকে স্বীয় কাঁধের উপর বসিয়ে রেখেছিলেন। তখন এক লোক বলে উঠল, হে বালক! কত উত্তম বাহনে তুমি আরোহণ করেছ? তখন নবী (সা.) বললেন, আরে! আরোহীও তো উত্তম বটে। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ فَرَضَ لِأُسَامَةَ فِي ثَلَاثَةِ آلَافٍ وَخَمْسِمِائَةٍ وَفَرَضَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فِي ثَلَاثَةِ آلَافٍ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لِأَبِيهِ: لِمَ فَضَّلْتَ أُسَامَة عَليّ؟ فو الله مَا سَبَقَنِي إِلَى مَشْهَدٍ. قَالَ: لِأَنَّ زَيْدًا كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَبِيكَ وَكَانَ أُسَامَةُ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْكَ فَآثَرْتُ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حبي. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ الترمذي (3813 وقال: حسن غریب)
বাংলা অনুবাদ
৬১৭৩-[৩৯] ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, তিনি উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য (বাৎসরিক ভাতা) সাড়ে তিন হাজার দিরহাম ধার্য করলেন এবং (নিজের পুত্র) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য ধার্য করলেন তিন হাজার। তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর পিতাকে বললেন, কেন আপনি উসামাকে আমার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন? আল্লাহর শপথ! কোন অভিযানেই উসামাহ্ আমার অগ্রগামী ছিলেন না।
উত্তরে ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তার কারণ হলো এই যে, তোমার পিতার (আমি ’উমার-এর) তুলনায় তার পিতা (যায়দ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে অধিক প্রিয় ছিলেন। তোমার অপেক্ষা উসামাহ্ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বেশি প্রিয় ছিলেন। অতএব আমি আমার প্রিয়জনের ওপর রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর প্রিয়জনকে প্রাধান্য দিয়েছি। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَن جبلة بن حارثةَ قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْعَثْ مَعِي أَخِي زَيْدًا. قَالَ: «هُوَ ذَا فَإِنِ انْطَلَقَ مَعَكَ لَمْ أَمْنَعْهُ» قَالَ زَيْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَا أَخْتَارُ عَلَيْكَ أَحَدًا. قَالَ: فَرَأَيْتُ رَأْيَ أَخِي أَفْضَلَ مِنْ رَأْيِي. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (3815 وقال: حسن غریب) ٭ إسماعیل بن أبي، خالد مدلس و عنعن و للحدیث شواھد .
বাংলা অনুবাদ
৬১৭৪-[৪০] জাবালাহ্ ইবনু হারিসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাই যায়দ-কে আমার সাথে পাঠিয়ে দিন। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এই তো যায়দ। যদি সে তোমার সাথে চলে যেতে চায়, আমি তাকে বাধা দেব না। এ কথা শুনে যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আপনার ওপর আমি অন্য আর কাউকেও প্রাধান্য দেব না। (যায়দ-এর এ কথা শুনে) জাবালাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, পরবর্তীতে আমি বুঝতে পারলাম, আমার সিদ্ধান্তের তুলনায় আমার ভাই যায়দ-এর সিদ্ধান্তই ছিল শ্রেয়। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: لَمَّا ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَبَطْتُ وَهَبَطَ النَّاسُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ أُصْمِتَ فَلَمْ يَتَكَلَّمْ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضَعُ عَليّ يَدَيْهِ وَيَرْفَعُهُمَا فَأَعْرِفُ أَنَّهُ يَدْعُو لِي. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3817)
বাংলা অনুবাদ
৬১৭৫-[৪১] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন আমি ও অন্যান্য লোকেরা মদীনায় অবতরণ করলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি (সা.) নীরব হয়ে গিয়েছিলেন, কথাবার্তা বলতে পারছিলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার দেহের উপর তাঁর উভয় হাত রাখলেন। তারপর হাত দুটি উপরে উঠালেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি (সা.) আমার জন্য দু’আ করছেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
মূল আরবি
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُنَحِّي مُخَاطَ أُسَامَةَ. قَالَتْ عَائِشَةُ: دَعْنِي حَتَّى أَكُونَ أَنَا الَّذِي أَفْعَلُ. قَالَ: «يَا عَائِشَةُ أَحِبِّيهِ فَإِنِّي أُحِبُّهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3818 وقال: حسن غریب)
বাংলা অনুবাদ
৬১৭৬-[৪২] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদিন নবী (সা.) উসামার নাকের শ্লেষ্মা দূর করতে চাইলে ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আপনি এটা রাখুন! আমিই এ কাজটি করব। তখন নবী (সা.) বললেন, হে ’আয়িশাহ! তুমি উসামাকে স্নেহ করো। কেননা আমি তাকে খুবই ভালোবাসি। (তিরমিযী)
মূল আরবি
وَعَن أُسَامَة قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا إِذْ جَاءَ عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ يستأذنان فَقَالَا لِأُسَامَةَ: اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ الله عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ يَسْتَأْذِنَانِ. فَقَالَ: «أَتَدْرِي مَا جَاءَ بهما؟» قلت: لَا. قَالَ: «لكني أَدْرِي فَأذن لَهما» فدخلا فَقَالَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ أَيُّ أَهْلِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: «فَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ» فَقَالَا: مَا جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ عَنْ أَهْلِكَ قَالَ: " أَحَبُّ أَهْلِي إِلَيَّ مَنْ قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتُ عَلَيْهِ: أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ " قَالَا: ثُمَّ مَنْ؟
قَالَ: «ثُمَّ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ» فَقَالَ الْعَبَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ جَعَلْتَ عَمَّكَ آخِرَهُمْ؟ قَالَ: «إِنَّ عَلِيًّا سَبَقَكَ بِالْهِجْرَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَذَكَرَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ أَبِيهِ فِي «كتاب الزَّكَاة»
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3819 وقال: حسن) ٭ حدیث ’’ان عم الرجل، صنو أبیہ‘‘ تقدم (6147) و لم أجدہ في کتاب الزکاۃ .
বাংলা অনুবাদ
৬১৭৭-[৪৩] উসামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি [নবী (সা.) -এর ঘরের দরজায়] বসা ছিলাম। এমন সময় সহসা ’আলী ও আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসে ভিতরে প্রবেশের সম্মতি চাইলেন। তখন তাঁরা দুজনে উসামাকে বললেন, আমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে যাওয়ার সম্মতি নিয়ে আসো। (উসামাহ্ বলেন,) আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ’আলী ও আব্বাস আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, (হে উসামাহ্) তুমি কি জান, কেন তারা দুজন এসেছে? আমি বললাম, জ্বি-না, আমি জানি না। তিনি (সা.) বললেন, কিন্তু আমি জানি, আচ্ছা তাদেরকে আসতে বল। অতঃপর তারা উভয়ে প্রবেশ করলেন। এবার তারা উভয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে এ কথাটি প্রশ্ন করতে এসেছি, আপনার আহলে বায়তের মাঝে কে আপনার কাছে প্রিয়? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ। তাঁরা বললেন, আপনার পরিবার সম্পর্কে আমরা প্রশ্ন করতে আসিনি। তিনি (সা.) বললেন, আমার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে সে লোকই আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়, যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমিও তার প্রতি দয়া করেছি, সে হলো উসামাহ্ ইবনু যায়দ। তাঁরা আবার প্রশ্ন করলেন, তাঁর পরে কে? তিনি বললেন, অতঃপর ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব। অতঃপর ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চাচাকে আপনি সকলের শেষে রাখলেন? তিনি (সা.) বললেন, ’আলী তো হিজরতে আপনার অগ্রগামী রয়েছে। (তিরমিযী)
আর রাসূলুল্লাহ (সা.) এ কথাও উল্লেখ করলেন যে, "কোন ব্যক্তির চাচা হলো পিতার সমকক্ষ"। হাদীসটি যাকাত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
মূল আরবি
عَن عقبةَ بن الْحَارِث قَالَ: صَلَّى أَبُو بَكْرٍ الْعَصْرَ ثُمَّ خَرَجَ يَمْشِي وَمَعَهُ عَلِيٌّ فَرَأَى الْحَسَنَ يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ فَحَمَلَهُ عَلَى عَاتِقِهِ. وَقَالَ: بِأَبِي شَبِيهٌ بِالنَّبِيِّ لَيْسَ شَبِيهًا بِعَلِيٍّ وَعَلِيٌّ يَضْحَكُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3750)
বাংলা অনুবাদ
৬১৭৮-[৪৪] ’উকবাহ্ ইবনুল হারিস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (তাঁর খিলাফতকালে) একদিন আসরের সালাতের পর বের হয়ে হাঁটছিলেন, তাঁর সাথে ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও ছিলেন। আবূ বকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দেখলেন, হাসান অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করছেন, তখন তিনি তাঁকে তুলে স্বীয় কাঁধে নিয়ে বললেন, আমার পিতা কুরবান হোন, ইনি তো নবী (সা.) -এর অবিকল সদৃশ, ’আলীর সাথে কোন সাদৃশ্য নেই, তখন ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাসছিলেন। (বুখারী)
মূল আরবি
وَعَن أنس قَالَ: أَتَى عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ بِرَأْسِ الْحُسَيْنِ فَجُعِلَ فِي طَسْتٍ فَجَعَلَ يَنْكُتُ وَقَالَ فِي حُسْنِهِ شَيْئًا قَالَ أَنَسٌ: فَقُلْتُ: وَاللَّهِ إِنَّهُ كَانَ أَشْبَهَهُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ مَخْضُوبًا بِالْوَسِمَةِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ زِيَادٍ فَجِيءَ بِرَأْسِ الْحُسَيْنِ فَجَعَلَ يَضْرِبُ بِقَضِيبٍ فِي أَنْفِهِ وَيَقُولُ: مَا رَأَيْتُ مِثْلَ هَذَا حسنا. فَقلت: أما إِنَّهُ كَانَ أَشْبَهَهُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ حَسَنٌ غَرِيب
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3748) و الترمذي (3778)
বাংলা অনুবাদ
৬১৭৯-[৪৫] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পবিত্র শির (কূফার আমীর) উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ-এর কাছে আনা হলো এবং তা একটি বড় চিলমচিতে রাখা হলো, তখন (হতভাগা) ইবনু যিয়াদ তাঁর মুখের মধ্যে (কাঠি দ্বারা) খোটা দিতে লাগল এবং তার সৌন্দর্য সম্পর্কে অসন্তুষ্টজনক মন্তব্য করল। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! হুসায়ন-এর আকৃতি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আকৃতির সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আর তখন তার চুল ও দাড়ির মধ্যে ওয়াসিমাহ্ ঘাসের খিযাব লাগানো ছিল। (বুখারী)
আর তিরমিযী বর্ণনাতে আছে, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি ইবনু যিয়াদ-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পবিত্র শির আনা হলো, তখন ইবনু যিয়াদ হাতের কাঠি দিয়ে তার নাকের মধ্যে আঘাত করতে করতে তিরস্কারের সুরে বলল, এত সুন্দর চেহারা আমি কক্ষনো দেখিনি। [আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,] তখন আমি তার কথার আপত্তি জানিয়ে বললাম, সাবধান! হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আকৃতির সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। [আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি সহীহ, হাসান ও গরীব]।
মূল আরবি
وَعَن أمِّ الْفضل بنت الْحَارِث أَنَّهَا دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَأَيْتُ حُلْمًا مُنْكَرًا اللَّيْلَةَ. قَالَ: «وَمَا هُوَ؟» قَالَتْ: إِنَّهُ شَدِيدٌ قَالَ: «وَمَا هُوَ؟» قَالَتْ: رَأَيْتُ كَأَنَّ قِطْعَةً مِنْ جَسَدِكَ قُطِعَتْ وَوُضِعَتْ فِي حِجْرِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتِ خَيْرًا تَلِدُ فَاطِمَةُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ غُلَامًا يَكُونُ فِي حِجْرِكِ» . فَوَلَدَتْ فَاطِمَةُ الْحُسَيْنَ فَكَانَ فِي حِجْرِي كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
فَدَخَلْتُ يَوْمًا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعْتُهُ فِي حِجْرِهِ ثُمَّ كَانَتْ مِنِّي الْتِفَاتَةٌ فَإِذَا عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَهْرِيقَانِ الدُّمُوعَ قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا نبيَّ الله بِأبي أَنْت وَأمي مَالك؟ قَالَ: " أَتَانِي جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَامُ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ أُمَّتِي سَتَقْتُلُ ابْنِي هَذَا فَقُلْتُ: هَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ وَأَتَانِي بِتُرْبَةٍ من تربته حَمْرَاء "
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البیھقي في دلائل النبوۃ (6/ 469) [و صححہ، الحاکم علی شرط الشیخین (176/3۔ 177، 179) فقال الذھبي: ’’قلت: بل منقطع ضعیف، فإن شدادًا لم یدرک أم الفضل و محمد بن مصعب: ضعیف‘‘]
বাংলা অনুবাদ
৬১৮০-[৪৬] উম্মুল ফাযল বিনতু আল হারিস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাত্রে আমি মন্দ একটি স্বপ্ন দেখেছি। তিনি (সা.) বললেন, সে স্বপ্নটা কি? উম্মুল ফাযল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তা অতি ভয়ানক। তিনি (সা.) আবার বললেন, আরে বল না, সে স্বপ্নটা কি? তখন উম্মুল ফাযল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি দেখেছি, আপনার দেহ হতে যেন এক টুকরা মাংস কর্তন করা হয়েছে এবং তা আমার কোলে রাখা হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি খুব উত্তম ও চমৎকার স্বপ্ন দেখেছ। ইনশা-আল্ল-হ কন্যা ফাতিমা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করবে, যা তোমার কোলেই রাখা হবে। অতএব কিছু দিন পর ফাতিমার গর্ভে হুসায়ন জন্মগ্রহণ করলেন এবং তাঁকে আমার কোলেই রাখা হলো, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বলেছিলেন।
[উম্মুল ফাযল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,] এরপর একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে গেলাম এবং বাচ্চাটিকে (শিশু হুসায়নকে) তার কোলে রাখলাম। অতঃপর আমি (অন্যমনস্কে) আরেক দিকে দেখছিলাম। সহসা এদিকে ফিরে তাকাতেই দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। উম্মুল ফাযল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তখন আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর নবী! আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান হোক আপনার কি হয়েছে? তিনি (সা.) বললেন, এইমাত্র জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে বলে গেলেন যে, অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতেরা আমার এ পুত্রটিকে হত্যা করবে। নবী (সা.) বলেন, আমি বিস্ময় প্রকাশে জিবরীল-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমার এ পুত্রটিকে কি তারা হত্যা করবে? জিবরীল (আঃ) বললেন, হ্যাঁ এবং ঐ স্থানের লাল মাটি এনেও আমাকে দেখিয়েছেন, যেখানে তাঁকে হত্যা করা হবে।
