মিশকাতুল মাসাবীহ

পরিচ্ছেদ ৩১২: হাদিস ৬,২২১-৬,২৪০

এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।

এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
হাদিস ৬,২২১

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: مَرَّ أَبُو بَكْرٍ وَالْعَبَّاسُ بِمَجْلِسٍ من مجَالِس الْأَنْصَار وهم يَبْكُونَ فَقَالَ: مَا يُبْكِيكُمْ؟ قَالُوا: ذَكَرْنَا مَجْلِسَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَّا فَدَخَلَ أَحَدُهُمَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ عَصَّبَ عَلَى رَأْسِهِ حَاشِيَةَ بُرْدٍ فَصَعِدَ الْمِنْبَر وَلم يَصْعَدهُ بعد ذَلِك الْيَوْم. فَحَمدَ الله وَأَثْنَى عَلَيْهِ. ثُمَّ قَالَ: «أُوصِيكُمْ بِالْأَنْصَارِ فَإِنَّهُمْ كَرِشِي وَعَيْبَتِي وَقَدْ قَضَوُا الَّذِي عَلَيْهِمْ وَبَقِيَ الَّذِي لَهُمْ فَاقْبَلُوا مِنْ مُحْسِنِهِمْ وَتَجَاوَزُوا عَنْ مسيئهم» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3799)

বাংলা অনুবাদ

৬২২১-[২৬] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক ও ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একদিন আনসারদের কোন এক বৈঠকের কাছ দিয়ে গমন করেন। এ সময় তারা কাঁদছিল। তা দেখে এঁরা উভয়ে প্রশ্ন করলেন, আপনারা কাঁদছেন কেন? তারা বললেন, আমাদের সাথে নবী (সা.)-এর উঠাবসার কথা আমরা স্মরণ করছিলাম। অতঃপর তাঁদের একজন নবী (সা.) -এর কাছে গেলেন এবং তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করলেন। তখন নবী (সা.) একটি চাদরের এক প্রান্ত মাথায় বাঁধা অবস্থায় ঘর হতে বাইরে এসে মিম্বারে আরোহণ করলেন। ঐ দিনের পর তিনি আর মিম্বারে আরোহণ করেননি। অতঃপর তিনি (সা.) আল্লাহর প্রশংসা ও গুণাবলি উল্লেখ করলেন, তারপর বললেন, আনসারদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখার জন্য তোমাদেরকে আমি ওয়াসিয়্যাত করে যাচ্ছি।

কেননা তারা আমার অন্তরঙ্গ এবং আমার বিশ্বস্ত। তাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব তারা যথাযথ সম্পাদন করেছেন, কিন্তু তাদের উত্তম লোকেদের (উত্তম কাজকে) তোমরা সানন্দে গ্রহণ কর এবং তাঁদের মন্দ লোকেদের (মন্দকে) তোমরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখ। (বুখারী)

হাদিস ৬,২২২

মূল আরবি

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ حَتَّى جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ النَّاسَ يَكْثُرُونَ وَيَقِلُّ الْأَنْصَارُ حَتَّى يَكُونُوا فِي النَّاسِ بِمَنْزِلَةِ الْمِلْحِ فِي الطَّعَامِ فَمَنْ وَلِيَ مِنْكُمْ شَيْئًا يَضُرُّ فِيهِ قَوْمًا وَيَنْفَعُ فِيهِ آخَرين فليقبل عَن محسنهم وليتجاوز عَن مسيئهم» رَوَاهُ البُخَارِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3628)

বাংলা অনুবাদ

৬২২২-[২৭] ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে অসুস্থতায় নবী (সা.) মৃত্যুবরণ করেছেন, সে পীড়ার সময় তিনি একদিন ঘর হতে বের হয়ে এসে (মসজিদের) মিম্বারে বসলেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা ও তার গুণাবলি বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, আম্মা বা’দ (হে লোকসকল! শোন! মুমিন) লোকেদের সংখ্যা বাড়তে থাকবে আর আনসারদের সংখ্যা কমতে থাকবে। পরিশেষে তাঁরা খাদ্যের মধ্যকার লবণতুল্য হয়ে দাঁড়াবে। অতএব, তোমাদের কেউ যদি কোন ক্ষমতার অধিকারী হয়, যার ফলে সে (ইচ্ছা করলে) কোন গোত্রের ক্ষতিও করতে পারে কিংবা উপকারও করতে পারে, তার উচিত হবে যেন সে আনসারদের ভালো লোকেদের (সৎকর্মকে) সাদরে গ্রহণ করে এবং তাদের মন্দ লোকেদের (অন্যায় আচরণকে) ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে। (বুখারী)

হাদিস ৬,২২৩

মূল আরবি

وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «الله اغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَلِأَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ وَأَبْنَاءِ أَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ» . رَوَاهُ مُسلم

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (172/ 2506)

বাংলা অনুবাদ

৬২২৩-[২৮] যায়দ ইবনু আরকাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) (দু’আয়) বলেছেন, ’হে আল্লাহ! আনসার ও আনসারদের সন্তান-সন্ততি এবং তাদের সন্তানদের সন্তান-সন্ততিদেরকে তুমি মাফ করে দাও।’ (মুসলিম)

হাদিস ৬,২২৪

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي أُسَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ دُورِ الْأَنْصَارِ بَنُو النَّجَّارِ ثُمَّ بَنُو عَبْدِ الْأَشْهَلِ ثُمَّ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ ثُمَّ بَنُو سَاعِدَةَ وَفَى كُلِّ دُورِ الْأَنْصَارِ خَيْرٌ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3789) و مسلم (177/ 2511)

বাংলা অনুবাদ

৬২২৪-[২৯] আবূ উসায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আনসার গোত্রসমূহের মাঝে উত্তম হলো বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ ’আবূদ আল আশহাল, তারপর বানূ হারিস ইবনুল খাযরাজ এবং অতঃপর বানূ সাইদাহ্। মূলত আনসারদের প্রতিটি পরিবাবেরই কল্যাণ রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৬,২২৫

মূল আরবি

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَالزُّبَيْر والمقدادوَفِي رِوَايَة: أَبَا مَرْثَدٍ بَدَلَ الْمِقْدَادِفَقَالَ: «انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ فَإِنَّ بِهَا ظَعِينَةً مَعَهَا كِتَابٌ فَخُذُوا مِنْهَا» فَانْطَلَقْنَا تَتَعَادَى بِنَا خَيْلُنَا حَتَّى أَتَيْنَا الرَّوْضَة فَإِذا نَحن بِالظَّعِينَةِ قُلْنَا لَهَا: أَخْرِجِي الْكتاب قَالَت: مَا معي كِتَابٍ. فَقُلْنَا لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَتُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ عِقَاصِهَا فَأَتَيْنَا بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا فِيهِ: مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى نَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ يُخْبِرُهُمْ بِبَعْضِ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا حَاطِبُ مَا هَذَا؟» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَا تَعْجَلْ عَلَيَّ إِنِّي كُنْتُ امْرَأً مُلْصَقًا فِي قُرَيْشٍ وَلَمْ أَكُنْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَكَانَ مَنْ مَعَك من الْمُهَاجِرين من لَهُم قَرَابَات يحْمُونَ بهَا أَمْوَالهم وأهليهم بِمَكَّةَ فَأَحْبَبْتُ إِذْ فَاتَنِي ذَلِكَ مِنَ النَّسَبِ فِيهِمْ يَدًا يَحْمُونَ بِهَا قَرَابَتِي وَمَا فَعَلْتُ كفرا وَلَا ارْتِدَادًا عَن ديني وَلَا رضى بِالْكُفْرِ بَعْدَ الْإِسْلَامِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكُمْ» فَقَالَ عُمَرُ: دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّهُ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتُم فقد وَجَبت لكم الجنةُ « وَفِي رِوَايَة فقد غَفَرْتُ لَكُمْ» فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى [يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ] . مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6259 والروایۃ الثانیۃ: 4274) و مسلم، (161/ 2494)

বাংলা অনুবাদ

৬২২৫-[৩০] ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে এবং যুবায়র ও মিক্বদাদ-কে, অপর এক বর্ণনায় মিকদাদ-এর পরিবর্তে আছে, আবূ মারসাদ-কে পাঠিয়ে বললেন, তোমরা ’রওযাহ্ খাখ’ নামক স্থানে যাও, সেখানে গিয়ে এক উষ্ট্রারোহী মহিলাকে পাবে। তার কাছে একটি পত্র আছে। অতএব তোমরা তার কাছ হতে উক্ত পত্রখানা নিয়ে আসবে। (আলী রাঃ বলেন,) আমরা সকলে খুব দ্রুত ঘোড়া দৌড়িয়ে যাত্রা করলাম। অবশেষে উক্ত রওযাহ নামক স্থানে পৌছে আমরা উষ্ট্রারোহী মহিলাকে পেলাম। অতঃপর আমরা বললাম, ’পত্রটি বের কর’। সে বলল, আমার কাছে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, স্বেচ্ছায় পত্রটি বের করে দাও, নতুবা আমরা তোমাকে উলঙ্গ করে সন্ধান চালাব। শেষ পর্যন্ত সে তার চুলের বেণির ভিতর হতে পত্রখানা বের করে দিল। অতঃপর আমরা তা নিয়ে নবী (সা.) -এর কাছে এসে পৌছলাম। চিঠিখানা খুলতেই দেখা গেল, (উক্ত চিঠিখানা) মক্কার মুশরিকদের কতিপয় লোকেদের প্রতি হাত্বিব ইবনু আবূ বালতা’আহ্-এর তরফ থেকে। এতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কিছু সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত্বিবকে (ডেকে) প্রশ্ন করলেন, হে হাত্বিব! এটা কি ব্যাপার? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বিরুদ্ধে তড়িৎ কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। প্রকৃত ব্যাপার হলো, আমি হলাম কুরায়শদের মধ্যে একজন বহিরাগত লোক। আমি তাদের বংশের অন্তর্ভুক্ত নই। আর আপনার সাথে যে সকল মুহাজির রয়েছেন, তাঁদের বংশীয় আত্মীয়স্বজন সেখানে (মক্কায়) রয়েছেন, ফলে মক্কার মুশরিকগণ উক্ত আত্মীয়তার প্রেক্ষিতে ঐ সমস্ত মুহাজিরদের ধন-সম্পদ এবং অবশিষ্ট আপনজনদের হিফাযাত করে থাকে। কুরায়শদের মাঝে যখন আমার কোন আত্মীয়-আপনজন নেই, তখন আমি এটাই চেয়েছি যে, মক্কার শত্রু সম্প্রদায়ের প্রতি কিছু ইহসান করি, যাতে তারা আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয় এবং তাদের অনিষ্ট হতে আমার আত্মীয়স্বজন নিরাপদে থাকে। আমি এ কাজটি এজন্য করিনি যে, আমি কাফির কিংবা দীন হতে মুরতাদ হয়ে গেছি। আর না ইসলাম গ্রহণ করার পর আমি কুফরীর দিকে আকৃষ্ট থেকে এরূপ করেছি।
তাঁর বক্তব্য শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হাত্বিব তোমাদের সামনে সত্য কথাই বলেছে। "উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের ঘাড় উড়িয়ে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয় ইনি একজন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। তুমি প্রকৃত বিষয়টি কি জান? সম্ভবত আল্লাহ তা’আলা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি লক্ষ্য করেই বলেছেন, তোমরা যা ইচ্ছা কর, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত।’ অন্য বর্ণনায় আছে, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিলাম। এরপর হাত্বিব ও অন্যান্যদেরকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন- "হে ঈমানদারগণ! আমার ও তোমাদের শত্রুদের (কাফির-মুশরিকদের) সাথে কোন প্রকারের বন্ধুত্ব স্থাপন করো না....."- (সূরা আল মুমতাহিনাহ ৬০ : ১)। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৬,২২৬

মূল আরবি

وَعَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ قَالَ: جَاءَ جِبْرِيلُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَا تَعُدُّونَ أَهْلَ بَدْرٍ فِيكُمْ» . قَالَ: «مِنْ أَفْضَلِ الْمُسْلِمِينَ» أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا قَالَ: «وَكَذَلِكَ مَنْ شَهِدَ بَدْرًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3992)

বাংলা অনুবাদ

৬২২৬-[৩১) রিফা’আহ্ ইবনু রাফি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জিবরীল (আঃ) নবী (সা.) -এর কাছে এসে বললেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে আপনারা কেমন মনে করেন? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, আমরা তাদেরকে সবচেয়ে উত্তম মুসলিম বলে মনে করি। অথবা তিনি (সা.) জাতীয় কোন বাক্য বললেন, প্রত্যুত্তরে জিবরীল (আঃ) বললেন, যে সকল মালাক (ফেরেশতা) বদর যুদ্ধে শরীক হয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কেও আমরা অনুরূপ ধারণা পোষণ করি। (বুখারী)

হাদিস ৬,২২৭

মূল আরবি

وَعَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا يَدْخُلَ النَّارَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ أَحَدٌ شَهِدَ بَدْرًا وَالْحُدَيْبِيَةَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: [وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا واردها] قَالَ: " فَلَمْ تَسْمَعِيهِ يَقُولُ: [ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتقَوا] " وَفِي رِوَايَةٍ: «لَا يَدْخُلُ النَّارَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِأَحَدُالَّذِينَ بَايَعُوا تحتهَا» . رَوَاهُ مُسلم

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (163/ 2496)

বাংলা অনুবাদ

৬২২৭-[৩২] হাফসাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি আশা করি, ইনশা-আল্ল-হ বদর এবং হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণকারী কেউই জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে না। [হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,] আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা’আলা কি এ কথা বলেননি? (অর্থাৎ) ’অবশ্যই তোমাদের তা প্রত্যেকেই অতিক্রম করবে।’ তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি কি শুননি, আল্লাহ তা’আলা এটাও তো বলেছেন, অতঃপর আমি তাদেরকে মুক্তি দিব, যারা আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করেছে। অপর এক বর্ণনায় আছে, ’আসহাবে শাজারাহ’ যারা ঐ গাছের নিচে বায়’আত গ্রহণ করেছেন, তাঁদের কেউই ইনশা-আল্ল-হ জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে না। (মুসলিম)

হাদিস ৬,২২৮

মূল আরবি

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: كُنَّا يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ أَلْفًا وَأَرْبَعَمِائَةٍ. قَالَ لَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْتُمُ الْيَوْمَ خَيْرُ أَهْلِ الأَرْض» . مُتَّفق عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (4154) و مسلم (71/ 1856)

বাংলা অনুবাদ

৬২২৮-[৩৩] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার ঘটনার সময় আমরা চৌদ্দশত মুসলিম উপস্থিত ছিলাম। তখন নবী (সা.) আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আজ জমিনবাসীর মধ্যে তোমরাই শ্রেষ্ঠ। (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস ৬,২২৯

মূল আরবি

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَصْعَدِ الثَّنِيَّةَ ثَنِيَّةَ الْمُرَارِ فَإِنَّهُ يُحَطُّ عَنْهُ مَا حُطَّ عَنْ بَنِي إِسرائيل» . وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ صَعِدَهَا خَيْلُنَا خَيْلُ بَنِي الْخَزْرَجِ ثُمَّ تَتَامَّ النَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّكُمْ مَغْفُورٌ لَهُ إِلَّا صَاحِبَ الْجَمَلِ الْأَحْمَرِ» . فَأَتَيْنَاهُ فَقُلْنَا: تَعَالَ يَسْتَغْفِرْ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَأَنْ أَجِدَ ضَالَّتِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لِي صَاحِبُكُمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَذَكَرَ حَدِيثَ أَنَسٍ قَالَ لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ: «إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ» فِي «بَابٍ» بعدَ فَضَائِل الْقُرْآن

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (12/ 2880) حدیث أنس لأبي بن کعب رضي اللہ عنھما تقدم، (2196)

বাংলা অনুবাদ

৬২২৯-[৩৪] উক্ত রাবী [জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হুদায়বিয়ার সফরকালে) রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এমন কে আছ যে মুরার গিরিপথে আরোহণ করবে, এতে তার কৃত গুনাহসমূহ এমনভাবে দূর হবে যেমনটি দূরীভূত হয়েছিল বানী ইসরাঈল হতে। অতএব আমাদের অর্থাৎ মদীনার খাযরাজ গোত্রীয়দের ঘোড়ায় সর্বপ্রথম উক্ত গিরিপথে আরোহণ করল। অতঃপর অন্যান্য লোকেরা অনুসরণ করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, লাল বর্ণের উটের মালিক ছাড়া তোমাদের সকলকে মাফ করা হয়েছে। অতঃপর আমরা সে লাল উটের মালিকের কাছে এসে বললাম, তুমি চল, রাসূলুল্লাহ (সা.) তোমার জন্যও মাফ চাইবেন। সে বলল, তোমাদের বন্ধুর তরফ হতে আমার জন্য ক্ষমা চাওয়া অপেক্ষা আমার হারানো জিনিসটা পাওয়াই আমার কাছে অধিক প্রিয়। (মুসলিম)
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদীস, রাসূলুল্লাহ (সা.) উবাই ইবনু কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেছেন, আমাকে আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ করেছেন, ’আমি যেন তোমাকে কুরআন পড়ে শুনাই।’ ফাযায়িলে কুরআনের পরের অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

হাদিস ৬,২৩০

মূল আরবি

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " اقْتَدُوا بِاللَّذَيْنِ مِنْ بَعْدِي مِنْ أَصْحَابِي: أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَاهْتَدُوا بِهَدْيِ عمّارٍ وَتَمَسَّكُوا بِعَهْدِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ ". رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3663)

বাংলা অনুবাদ

৬২৩০-[৩৫] ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমার পরে তোমরা আমার সাহাবীদের মধ্য হতে এ দু’জনের- আবূ বকর ও ’উমার-এর অনুকরণ করো। আম্মার-এর চরিত্র অবলম্বন করো এবং ইবনু উম্মু ’আবদ-এর (ইবনু মাস্উদ-এর) নির্দেশ দৃঢ়তার সাথে মেনে চলে। (তিরমিযী)

হাদিস ৬,২৩১

মূল আরবি

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ كُنْتُ مُؤَمِّرًا مِنْ غَيْرِ مَشُورَةٍ لَأَمَّرْتُ عَلَيْهِمُ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: واه

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3808) و ابن ماجہ (137) ٭ فیہ الحارث، الأعور: ضعیف و أبو إسحاق السبیعي مدلس و عنعن .

বাংলা অনুবাদ

৬২৩১-[৩৬] ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলিমদের সাথে পরামর্শ ছাড়া যদি আমি কাউকে আমীর বানাতাম তাহলে ইবনু উম্মু ’আবদ-কে লোকেদের ওপর আমীর নিযুক্ত করতাম। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

হাদিস ৬,২৩২

মূল আরবি

وَعَنْ خَيْثَمَةَ بْنِ أَبِي سَبْرَةَ قَالَ: أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَسَأَلْتُ اللَّهَ أَنْ يُيَسِّرَ لِي جَلِيسًا صَالِحًا فَيَسَّرَ لِي أَبَا هُرَيْرَةَ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ: إِنِّي سَأَلْتُ اللَّهَ أَنْ يُيَسِّرَ لِي جَلِيسًا صَالِحًا فَوُفِّقْتَ لِي فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ أَنْتَ؟ قُلْتُ: مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ جِئْتُ أَلْتَمِسُ الْخَيْرَ وَأَطْلُبُهُ. فَقَالَ: أَلَيْسَ فِيكُمْ سَعْدُ بْنُ مَالِكٍ مُجَابُ الدَّعْوَةِ؟ وَابْنُ مَسْعُودٍ صَاحِبُ طَهُورِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَعْلَيْهِ؟

وَحُذَيْفَةُ صَاحِبُ سِرِّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ وَعَمَّارٌ الَّذِي أَجَارَهُ اللَّهُ مِنَ الشَّيْطَانِ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ وَسَلْمَانُ صَاحِبُ الْكِتَابَيْنِ؟ يَعْنِي الْإِنْجِيلَ وَالْقُرْآنَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (3811) ٭ قتادۃ مدلس و عنعن و للحدیث، شواھد معنویۃ .

বাংলা অনুবাদ

৬২৩২-[৩৭] খায়সামাহ্ ইবনু আবূ সাবরাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি মদীনায় এসে আল্লাহর কাছে এই বলে দু’আ করলাম, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে একজন সৎ সাথি জুটিয়ে দাও। এরপর আল্লাহ তা’আলা আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে আমার ভাগ্যে জুটিয়ে দিয়েছেন। আমি তার কাছে বসলাম। অতঃপর আমি বললাম, আমি আল্লাহর কাছে একজন সৎ সাথি জুটিয়ে দেয়ার জন্য দু’আ করছিলাম। ফলে তিনি আপনাকেই আমার ভাগ্যে জুটিয়ে দিয়েছেন। তখন তিনি [আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কোথাকার লোক? বললাম, আমি কূফার অধিবাসী।

আমি কল্যাণের আকাক্ষী। অতএব তার অন্বেষণে কূফা হতে এসেছি। তখন (আমার কথার জবাবে) আবূ হুরায়রাহ্ বললেন, তোমাদের মধ্যে কি নেই সা’দ ইবনু মালিক- যার দু’আ আল্লাহ তা’আলার কাছে গ্রহণযোগ্য। আর ইবনু মাস’উদ, যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উযূর পানি-পাত্র ও জুতা বহনকারী। আর হুযায়ফাহ, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর গোপন তথ্যের অভিজ্ঞ। আর ’আম্মার (ইবনু ইয়াসির) যাঁকে নবী (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা শয়তান হতে আশ্রয় দিয়েছেন। আর সালমান (ফারিসী), যিনি উভয় কিতাব অর্থাৎ ইঞ্জীল ও কুরআনের উপর ঈমান আনয়নকারী। (তিরমিযী)

হাদিস ৬,২৩৩

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نِعْمَ الرَّجُلُ أَبُو بَكْرٍ نِعْمَ الرَّجُلُ عُمَرُ نِعْمَ الرَّجُلُ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ نِعْمَ الرَّجُلُ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ نِعْمَ الرَّجُلُ ثَابِتُ بْنُ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ نِعْمَ الرَّجُلُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ نِعْمَ الرَّجُلُ مُعَاذُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوحِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ الترمذي (3795)

বাংলা অনুবাদ

৬২৩৩-[৩৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আবূ বকর একজন খুবই উত্তম লোক, ’উমার খুব উত্তম লোক, আবূ উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ খুবই উত্তম লোক, উসায়দ ইবনু হুযায়র খুবই উত্তম লোক, সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস খুবই উত্তম লোক, মু’আয ইবনু জাবাল খুবই উত্তম লোক এবং মু’আয ইবনু আমর ইবনুল জুমূহ খুবই উত্তম লোক। (তিরমিযী এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব)

হাদিস ৬,২৩৪

মূল আরবি

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّ الْجَنَّةَ تَشْتَاقُ إِلَى ثَلَاثَةٍ عَلِيٍّ وَعَمَّارٍ وسلمان» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3797 و قال: حسن غریب) ٭ فیہ الحسن، البصري مدلس مشھور و عنعن .

বাংলা অনুবাদ

৬২৩৪-[৩৯] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তিন লোকের জন্য জান্নাত উদগ্রীব রয়েছে- ’আলী, ’আম্মার ও সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। (তিরমিযী)

হাদিস ৬,২৩৫

মূল আরবি

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: اسْتَأْذَنَ عَمَّارٌ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «ائْذَنُوا لَهُ مَرْحَبًا بِالطَّيِّبِ الْمُطَيَّبِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ الترمذي (3798 و قال: حسن صحیح)

বাংলা অনুবাদ

৬২৩৫-[৪০] ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’আম্মার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) -এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, তাঁকে অনুমতি দাও। পূত-পবিত্র লোকটি মুবারক হোক। (তিরমিযী)

হাদিস ৬,২৩৬

মূল আরবি

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا خُيِّرَ عَمَّارٌ بَيْنَ أمرينِ إِلا اخْتَار أرشدهما» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن لغيره

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * ضعیف، رواہ الترمذي (3799) [و ابن ماجہ (148) و الحاکم (3/ 388 ح، 5665) و أحمد (113/6)] ٭ فیہ حبیب بن أبي ثابت مدلس و عنعن و للحدیث شاھد عند، أحمد (1/ 389، 445) والحاکم (3/ 388 ح 5664) من حدیث سالم بن أبی الجعد عن ابن، مسعود رضي اللہ عنہ بہ و سندہ منقطع وقال علي بن المدیني: ’’سالم ابن أبی الجعد:، لم یلق ابن مسعود‘‘ فالحدیث ضعیف من جمیع الطریقین .

বাংলা অনুবাদ

৬২৩৬-[৪১] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ’আম্মার -কে যখন দুটি কাজের যে কোন একটি করার ইচ্ছাধীন করা হয়েছে, তখন তিনি উভয়ের মধ্যে মজবুতটিকে গ্রহণ করেছেন। (তিরমিযী)

হাদিস ৬,২৩৭

মূল আরবি

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَمَّا حُمِلَتْ جِنَازَةُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ قَالَ الْمُنَافِقُونَ: مَا أَخَفَّ جِنَازَتَهُ وَذَلِكَ لِحُكْمِهِ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِنَّ الْمَلَائِكَة كَانَت تحمله» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الترمذي (3849 وقال: حسن صحیح) و أصلہ في صحیح مسلم، (2467)

বাংলা অনুবাদ

৬২৩৭-[৪২] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সা’দ ইবনু মু’আয (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জানাযাহ্ উঠানো হলো, তখন মুনাফিকরা তিরস্কারের ভঙ্গিতে উক্তি করল, কতই হালকা তার লাশ। তাদের এই মন্তব্য ছিল বানূ কুরায়যার ব্যাপারে তাঁর ফায়সালার কারনে। অতঃপর নবী (সা.) -এর কাছে এ কথাটা পৌছলে তিনি বললেন, প্রকৃত বিষয় হলো মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার লাশ বহন করছিলেন। (তিরমিযী)

হাদিস ৬,২৩৮

মূল আরবি

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٌو قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا أَظَلَّتِ الْخَضْرَاءُ وَلَا أَقَلَّتِ الْغَبْرَاءُ أَصْدَقَ مِنْ أبي ذَر» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ الترمذي (3801 وقال: حسن غریب)

বাংলা অনুবাদ

৬২৩৮-[৪৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর তুলনায় সত্যবাদী আর কাউকে নীল আকাশ ছায়া দান করেনি এবং ধুলা-ধূসর জমিনও তার পিঠে বহন করেনি। (তিরমিযী)

হাদিস ৬,২৩৯

মূল আরবি

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَظَلَّتِ الْخَضْرَاءُ وَلَا أَقَلَّتِ الْغَبْرَاءُ مِنْ ذِي لَهْجَةٍ أَصْدَقَ وَلَا أَوْفَى مِنْ أَبِي ذَرٍّ شِبْهِ عِيسَى بن مَرْيَم» يَعْنِي فِي الزّهْد. فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ كَالْحَاسِدِ: يَا رَسُولَ الله أفتعرف ذَلِك لَهُ؟ قَالَ: «نعم فَاعْرِفُوهُ لَهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: حَدِيث حسن غَرِيب

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3802)

বাংলা অনুবাদ

৬২৩৯-[৪৪] আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আবূ যার -এর তুলনায় সত্যভাষী ও ওয়া’দা পূরণকারী নীল আকাশ কারো উপর ছায়া দান করেনি এবং ধুলাবালির জমিন তার পিঠে বহন করেনি। দুনিয়াবিমুখীতায় তিনি হলেন ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-এর সদৃশ। (তিরমিযী)

হাদিস ৬,২৪০

মূল আরবি

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ لَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ قَالَ: الْتَمِسُوا الْعِلْمَ عِنْدَ أَرْبَعَةٍ: عِنْدَ عُوَيْمِرٍ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَعِنْدَ سَلْمَانَ وَعِنْدَ ابْنِ مَسْعُودٍ وَعِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ الَّذِي كَانَ يَهُودِيّا فَأسلم فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّهُ عَاشِرُ عَشَرَةٍ فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح

تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ الترمذي (3804 وقال: حسن صحیح)

বাংলা অনুবাদ

৬২৪০-[৪৫] মু’আয ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় কাছাকাছি হয়ে আসলো, তখন তিনি (উপস্থিত লোকেদের উদ্দেশে) বললেন, এ চারজনের কাছ হতে (কুরআন, সুন্নাহ অথবা হালাল হারাম সম্পৰ্কীয়) ইলম অর্জন কর। তারা হলেন, ’উওয়াইমির- যার কুনিয়াত আবূ দারদা, সালমান ফারিসী, ইবনু মাস্’উদ ও ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম। এই ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম প্রথমে ছিলেন ইয়াহূদী, পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম সম্পর্কে তিনি বলেছেন, তিনি জান্নাতে দশজনের দশম লোক। (তিরমিযী)