সুনান আদ-দারিমী
পরিচ্ছেদ ১৪১: হাদিস ২,৮০১-২,৮২০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ وَاصِلٍ مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ عَنْ بَشَّارِ بْنِ أَبِي سَيْفٍ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ غُطَيْفٍ قَالَ أَتَيْنَا أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ نَعُودُهُ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا
বাংলা অনুবাদ
২৮০১. ইয়ায ইবনু গুতাইফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর অসুস্থ্যতার সময় তাকে দেখতে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি: “কোনো নেককর্মের সাওয়াব দশগুণ ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৮৩০ তে।
মুনাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাইযুল কাদীর ৬/২০৯ তে বলেন, “হাফিজ ইরাকী বলেন, এর সনদ হাসান’.... বুখারী তার আদাবুল মুফরাদে এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।’’
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ الرُّكَيْنِ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ حَنْظَلَةَ قَالَ شَرِيكٌ وَرُبَّمَا قَالَ النُّعْمَانِ بْنِ حَنْظَلَةَ عَنْ عَمَّارٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ ذَا وَجْهَيْنِ فِي الدُّنْيَا كَانَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِسَانَانِ مِنْ نَارٍ
বাংলা অনুবাদ
২৮০২.আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুনিয়াতে যে ব্যক্তি দু’মুখ বিশিষ্ট (মুনাফিক) হবে, কিয়ামতের দিন তার আগুনের দু’টি মুখ হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬২০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭৫৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৭৯ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যা বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৬৫ এবং সেখানে টীকায় এর আমরা ‘হাসান’ হওয়ার প্রতিই প্রত্যাবর্তন করেছি, অনুরূপ এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭৫৪, ৫৭৫৫, ৫৭৫৭ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَأَيُّ الْمُسْلِمِينَ لَعَنْتُهُ أَوْ شَتَمْتُهُ أَوْ جَلَدْتُهُ فَاجْعَلْهَا لَهُ صَلَاةً وَرَحْمَةً وَقُرْبَةً تُقَرِّبُهُ بِهَا إِلَيْكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
বাংলা অনুবাদ
২৮০৩. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দু‘আ করতে শুনেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি তো একজন মানুষ মাত্র। ফলে যদি আমি কোন মুসলিম লোককে লা’নত করি, কিংবা অভিশাপ বা গালি দেয়, অথবা খারাপ বলে থাকি, তবে আপনি সেটাকে কিয়ামতের দিন তার জন্য দু’আ, রহমত ও আপনার নৈকট্য অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৩৩৯ নং ৯৬০০; মুসলিম, বিরর ওয়াল সুলহ ২৬০১; আহমাদ ২/২৯০, ৪৯৩ এবং ৩/৪০০; বুখারী, দাওয়াত ৬৩৬১।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ إِلَّا أَنَّ فِيهِ زَكَاةً وَرَحْمَةً
বাংলা অনুবাদ
২৮০৪. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে তাতে রয়েছে: “(তা) পবিত্রতা ও রহমত (বানিয়ে দিন)।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৬০২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২২৭১ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১০/৩৩৯ নং ৯৬০১।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ سُوَيْدَ بْنَ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ جَبَلَ أُحُدٍ لِي ذَهَبًا أَمُوتُ يَوْمَ أَمُوتُ عِنْدِي دِينَارٌ أَوْ نِصْفُ دِينَارٍ إِلَّا لِغَرِيمٍ
বাংলা অনুবাদ
২৮০৫. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আমি পছন্দ করি না যে, এই পাহাড়টি আমার জন্য সোনায় পরিণত করা হোক এবং আমার মৃত্যু সময়ে এর মধ্য হতে একটি দীনার- কিংবা অর্ধ দীনারও (স্বর্ণ মুদ্রা) আমার নিকট রয়ে যাক, তবে ঋণ আদায়ের জন্য (যতটুকু প্রয়োজন, সেই পরিমাণ) ব্যতীত।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৪৮-১৪৯, ১৬০-১৬১, ১৭৬।
আর এটি সহীহ হাদীসের অংশবিশেষ, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৯, ১৭০, ৩৩২৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০ তে, যার সনদ সহীহ। আরও দেখুন, বুখারী, যাকাত ১৪০৮। (( বুখারী, ইসতিকরায ২৩৮৮, ইসতিয়াযান ৬২৬৮, রিকাক ৬৪৪৩, ৬৪৪৪ এবং বাদাউল খালক ৩২২২; মুসলিম, যাকাত ২/৬৮৭-৬৮৮।– ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৩৩ এর টীকা।–অনুবাদক))
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ زَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ قُرْطٍ قَالَ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ أُمُورًا هِيَ أَدَقُّ فِي أَعْيُنِكُمْ مِنْ الشَّعْرِ كُنَّا نَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْمُوبِقَاتِ فَذُكِرَ لِمُحَمَّدٍ يَعْنِي ابْنَ سِيرِينَ فَقَالَ صَدَقَ فَأَرَى جَرَّ الْإِزَارِ مِنْ ذَلِكَ
বাংলা অনুবাদ
২৮০৬. উবাদাহ ইবনু কুরত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা এমন সব কাজ করে থাক, যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও সুক্ষ্ণ। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে আমরা এগুলোকে ধ্বংসকারী বিষয় বলে গণ্য করতাম।[1] এরপর এটি মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনু সীরীন (রহঃ) নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, তিনি সত্য বলেছেন। আর আমি মনে করি এসবের মধ্যে রয়েছে ইযার বা লুঙ্গি (টাখনুর নিচে) ছেঁচড়ে চলা।“
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৭৯; ইবনুল আছীর, আসদুল গাবাহ ৩/১৬২; ইবনুল কানি’, মুজামুস সাহাবাহ ৬৯০।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৪০৪ তে, যার সনদ সহীহ। ((শাহিদ আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী, রিকাক ৬৪৯২।– মাজমাউয যাওয়াইদ হা/৪০৪ এ মুহাক্কিক্বের টীকা হতে।–অনুবাদক))
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحُمَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ أَوْ مِنْ فَوْرِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ
বাংলা অনুবাদ
২৮০৭. রাফি ইবনু খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জ্বরের উত্পত্তি হয় জাহান্নামের ভীষণ উত্তাপ বা উন্মত্ততা হতে। অতএব তোমরা একে পানি দ্বারা ঠান্ডা কর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, বাদাউল খালক ৩২৬২, তিব্ব ৫৭২৬; মুসলিম, সালাম ২২১২ (৮৪); তিরমিযী, তিব্ব ২০৭৪; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/৩৪৬; ইবনু মাজাহ, তিব্ব ৩৪৭৩; ইবনু আবী শাইবা ৭/৪৩৮ নং ৩৭২২; তাবারাণী, কাবীর ৪/২৭৪ নং ৪৩৯৭, ৪৩৯৮; আহমাদ ৪/১৪১।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬০৬৬, ৬০৬৭ তে।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৩৫ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَحَدٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ يُصَابُ بِبَلَاءٍ فِي جَسَدِهِ إِلَّا أَمَرَ اللَّهُ الْحَفَظَةَ الَّذِينَ يَحْفَظُونَهُ فَقَالَ اكْتُبُوا لِعَبْدِي فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ مِثْلَ مَا كَانَ يَعْمَلُ مِنْ الْخَيْرِ مَا كَانَ مَحْبُوسًا فِي وِثَاقِي
বাংলা অনুবাদ
২৮০৮. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক মুসলিমের শরীরে যখন কোনো রোগ-বালাই আপতিত হয়, তখন নিশ্চয়ই (আমল) সংরক্ষণকারী ফিরিশতাদেরকে আল্লাহ নির্দেশ দিয়ে বলেন: ‘(অসুস্থতার পুর্বে) সে যেরূপ নেক আমল করতো, সে আমার শৃংখলে আবদ্ধ (অসুস্থ) থাকা পর্যন্ত তোমরা প্রতি দিনে-রাতে আমার বান্দার জন্য অনুরূপ (নেক আমলের সাওয়াব) লিখতে থাকো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৮৫১, ৩৮৫২ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُوعَكُ فَوَضَعْتُ يَدِي عَلَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا فَقَالَ إِنِّي أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلَانِ مِنْكُمْ قَالَ قُلْتُ ذَلِكَ بِأَنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ قَالَ أَجَلْ وَمَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى مَرَضٌ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حُطَّ عَنْهُ مِنْ سَيِّئَاتِهِ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا
বাংলা অনুবাদ
২৮০৯. আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে আমি তাঁর গায়ে আমার হাত রাখলাম। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেন: “আমি তোমাদের দু’জনের সমান জ্বরে আক্রান্ত হই।“ তিনি বলেন, আমি বললাম যে, এটা এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হাঁ। কোন মুসলিম যখন কোনো কষ্ট কিংবা রোগ ও অন্যান্য বিপদে নিপতিত হয়, তার থেকে গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে তার পাতাগুলো ঝরে যায়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, মারদা ৫৬৪৭; মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৭১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৬৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৩৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭০১ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدَنِيُّ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا
বাংলা অনুবাদ
২৮১০. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার সালাত পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশবার রহমত করবেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, সালাত ৪০৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৯৫, ৬৫২৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯০৫, ৯০৬ তে। ((আবূ দাউদ, সালাত ১৫৩০; তিরমিযী, সালাত ৪৮৫; নাসাঈ, সাহু, ১২৯৬; বুখারী, আদাবুল মুফরাদ।– ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৩৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক।))
সংযোজনী: ইবনু আবী আসিম, আস সালাত আলান্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নং ৫৩, ৫৪। আরও দেখুন, সাখাবী, কওলুল বাদী’ পৃ: ১৬৫।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ سُلَيْمَانَ مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا وَهُوَ يُرَى الْبِشْرُ فِي وَجْهِهِ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرَى فِي وَجْهِكَ بِشْرًا لَمْ نَكُنْ نَرَاهُ قَالَ أَجَلْ إِنَّ مَلَكًا أَتَانِي فَقَالَ لِي يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَبَّكَ يَقُولُ لَكَ أَمَا يُرْضِيكَ أَنْ لَا يُصَلِّيَ عَلَيْكَ أَحَدٌ مِنْ أُمَّتِكَ إِلَّا صَلَّيْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَلَا يُسَلِّمَ عَلَيْكَ إِلَّا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا قَالَ قُلْتُ بَلَى
বাংলা অনুবাদ
২৮১১. আবু তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন (আমাদের কাছে) আগমন করলেন। তখন তার চেহারায় প্রফুল্লতা দৃষ্টি গোচর হচ্ছিল। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার চেহারায় zwj;খুশী লক্ষ্য করছি, যা আগে কখনো দেখিনি। তিনি বললেন, “হাঁ। একজন ফিরিশতা (জিবরীল) আমার কাছে এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মাদ! আপনার রব আপনার উদ্দেশ্যে বলেছেন: ‘আপনাকে কি এই সংবাদ খুশি করে না যে, আপনার উম্মাতের মধ্য থেকে যদি কোন ব্যক্তি আপনার উপর একবার সালাত (দরুদ) পাঠ করে আমি তাকে দশবার রহমত করব, আর কেউ যদি আপনাকে একবার সালাম পাঠায় আমি তার প্রতি দশবার সালাম পাঠাব।’ তিনি বলেন, “আমি বললাম, হাঁ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯১৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৯১ তে। ((নাসাঈ, সাহু, ফাযলুত তাসলীম আলান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নং ১২৮৩ ও ফাযলুস সালাত আলান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নং ১২৯৫।- ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৩৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক।))
আরও দেখুন, সাখাবী, কওলুল বাদী’ পৃ: ১৬১-১৬৩।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ زَاذَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي عَنْ أُمَّتِي السَّلَامَ
বাংলা অনুবাদ
২৮১২. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাঁআলার কতক ফেরেশতা এমন রয়েছে, যারা পৃথিবীতে বিচরণ করে বেড়ায়, তাঁরা আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌঁছিয়ে থাকেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২১৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯১৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৯২ তে। ((নাসাঈ, সাহু ১২৮২; আহমাদ ১/৩৮৭, ৪৪১, ৪৫২; হাকিম ২/৪২১।- ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৪০ এর টীকা হতে।–অনুবাদক।))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ لِي أَسْمَاءً أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَنَا أَحْمَدُ وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللَّهُ بِيَ الْكُفْرَ وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِي وَأَنَا الْعَاقِبُ وَالْعَاقِبُ الَّذِي لَيْسَ بَعْدَهُ أَحَدٌ
বাংলা অনুবাদ
২৯১৩. যুবাইর ইবনু মুত’ইম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “আমার অনেকগুলো নাম আছে। আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ এবং আমি ‘মাহী’- আমার দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা সমস্ত কুফরী দূর করবেন। আমি ‘হাশির’, আমার পেছনে সমস্ত মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং আমি ‘আকিব’, সকলের শেষে আগমনকারী, যার পরে কেউ নেই।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব ৩৫৩২; মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৩৫৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৯৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৩১৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৬৫ তে। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ৬/৫৫৭।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ إِنَّهُ لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ
বাংলা অনুবাদ
২৮১৪. কা‘ব ইবনু উজরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ “হে কা‘ব ইবনু উজরা! হারাম (পন্থায় উপার্জিত সম্পদ) দ্বারা সৃষ্ট ও পরিপুষ্ট গোশত (দেহ) কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৯৯৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৩, ৪৫১৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৬৯ তে। ((তিরমিযী, ফিতান ২২৫৯; নাসাঈ, বাই’আহ নং ৪২০৮; হাকিম ১/৭৮, ৭৯।- ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৪২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক।))
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو حَاتِمٍ الْبَصْرِيُّ هُوَ رَوْحُ بِنُ أَسْلَمَ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ إِذْ ضَحِكَ فَقَالَ أَلَا تَسْأَلُونِي مِمَّا أَضْحَكُ فَقَالُوا مِمَّ تَضْحَكُ قَالَ عَجَبًا مِنْ أَمْرِ الْمُؤْمِنِ كُلُّهُ لَهُ خَيْرٌ إِنْ أَصَابَهُ مَا يُحِبُّ حَمِدَ اللَّهَ عَلَيْهِ فَكَانَ لَهُ خَيْرٌ وَإِنْ أَصَابَهُ مَا يَكْرَهُ فَصَبَرَ كَانَ لَهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ كُلُّ أَحَدٍ أَمْرُهُ لَهُ خَيْرٌ إِلَّا الْمُؤْمِنَ
বাংলা অনুবাদ
২৮১৫. সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসে ছিলাম। এ সময় তিনি হেসে বললেন, “তোমরা কি জান, আমি হাসছি কেন?“ তারা বললেন, কোন্ বিষয়টি আপনাকে হাসাচ্ছে? তখন তিনি বললেন: “মুমিনের বিষয়টি বিস্ময়কর। তার যাবতীয় ব্যাপারই তার জন্য কল্যাণকর। যদি তার পছন্দ কিছু ঘটে তবে সেজন্য সে আল্লাহর প্রশংসা করে, ফলে সেটি হয় তার জন্য কল্যাণকর; আবার যদি তার উপর অপছন্দনীয় কিছু (দুঃখ-মুসীবত) আসে, তবে সে সবর করে। ফলে সেটিও হয় তার জন্য কল্যাণকর। তাই প্রত্যেকটি কাজ কেবল মুমিনের জন্যই কল্যাণকর হয়ে থাকে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ রূহ ইবনু আসলামের কারণে যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, যুহদ ২৯৯৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৯৬ তে। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ১০/১০৯।
এর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪০১৯, ৪২১৭, ৪২১৮ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنْتُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا أَدْرِي أَشَيْءٌ أُنْزِلَ عَلَيْهِ أَمْ شَيْءٌ يَقُولُهُ وَهُوَ يَقُولُ لَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى إِلَيْهِمَا ثَالِثًا وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ
বাংলা অনুবাদ
২৮১৬. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমি জানি না সেটি তাঁর উপর নাযিল হয়েছিল, নাকি তিনি নিজের থেকেই তা বলেছেন। তিনি বলেনঃ “যদি বানী আদমের স্বর্ণ ভরা দু’টি উপত্যকা থাকে, তথাপি সে এ দু’টির সাথে তৃতীয় উপত্যকা থাকার কামনা করবে। আর আদম সন্তানের পেট মাটি ব্যতীত অন্য কিছুতেই ভরবে না। তবে যে ব্যক্তি তওবা করবে, আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করবেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, রিকাক্ব ৬৪৩৯; মুসলিম, যাকাত ১০৪৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৪৯, ২৮৫৮, ২৯৫১, ৩০৬৩, ৩১৪৩, ৩২৬৬, ৩২৬৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৩৫, ৩২৩৬ তে।
এর শাহিদ রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৯৯, ২৩০৩, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৩২, ৩২৩৩, ৩২৩৪ তে।
এর শাহিদ রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৭৩ আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৩১ তে।
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে হাদীস রয়েছে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৬০ তে।
মূল আরবি
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَقُصُّ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُرَاءٍ قُلْتُ لِعَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ إِنَّا كُنَّا نَسْمَعُ مُتَكَلِّفٌ فَقَالَ هَذَا مَا سَمِعْتُ
বাংলা অনুবাদ
২৮১৭. আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) থেকে তার পিতা থেকে তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “শাসক অথবা তার নির্ধারিত কর্মচারী অথবা রিয়াকার (লৌকিকতাকারী) ব্যক্তি মানুষের মধ্যে কিচ্ছা-কাহিনী বলে বেড়ায়।“[1] আমি আমর ইবনু শুয়াইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বললাম, আমরা তো শুনেছি, ‘ভানকারী’। তখন তিনি বলেন, আমি তো এরকমই (তথা ‘রিয়াকারী’) শুনেছি।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আব্দুল্লাহ ইবনু আমির আল আসলামী’র দুর্বলতার কারণে। ((তবে এর মুতাবিয়াত ও শাহিদসমূহের কারণে এটি হাসান ও সহীহ লিগয়রিহী’ স্তরে উন্নীত হয়। আল্লাহই ভাল জানেন।– দেখুন, তাখরীজের আলোচনা।–অনুবাদক))
তাখরীজ: আহমাদ ২/৮৩; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৫৩।
আব্দুল্লাহ এ বর্ণনায় একাকী নন। তার মুতাবিয়াত বর্ণনা রয়েছে আব্দুর রহমান ইবনু হারমালাহ থেকে আহমাদ ২/১৭৮ তে হাসান সনদে।
আর এর শাহিদ হাদীসসমূহ রয়েছে আওফ ইবনু মালিক, কা’ব ইবনু ইয়ায, উবাদাহ ইবনু সামিত- এর প্রত্যেকটির তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদে যথাক্রমে ৯২১, ৯২২, ৯২৩ তে। ফলে এ হাদীসের সনদকে এটি সহীহ তে উন্নীত করে। আল্লাহই ভাল জানেন।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ قَالَ سَمِعْتُ كُرْدُوسًا وَكَانَ قَاصًّا يَقُولُ أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَأَنْ أَقْعُدَ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَجْلِسِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ قَالَ قُلْتُ أَنَا أَيَّ مَجْلِسٍ يَعْنِي قَالَ كَانَ حِينَئِذٍ يَقُصُّ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الرَّجُلُ مِنْ أَصْحَابِ بَدْرٍ هُوَ عَلِيٌّ
বাংলা অনুবাদ
২৮১৮. আব্দুল মালিক ইবনু মাইসারাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুর্দুস নামক একজন গল্পকার-কাহিনীকারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, একজন বাদরী সাহাবী আমাকে বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “এ রকম মজলিসে বসা আমার নিকট চারটি গোলাম মুক্ত করার চেয়েও অধিক প্রিয়।“
তিনি (রাবী) বলেন: আমি বললাম, এ দ্বারা তিনি কোন্ মাজলিসের কথা বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, সে সময় তিনি তখন গল্প-কাহিনী বর্ণনা করছিলেন। আবূ মুহাম্মদ বলেন, একজন বদরী সাহাবী’, তিনি হলেন: আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদে নং ৭৪৬, ৯২৪, ৯২৫, ৯২৬ তে।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنَا عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُلْدَغُ الْمُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ وَاحِدٍ مَرَّتَيْنِ
বাংলা অনুবাদ
২৮১৯. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মু’মিন একই গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, তবে হাদীসটি (সহীহ এবং) বুখারী মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, আদাব ৬১৩৩; মুসলিম, যুহদ ওয়ার রাকাইক ২৯৯৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬৩ তে।
সংযোজনী: বুখারী, আদাবুল মুফরাদ নং ১২৭৮; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/১৯৭; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৫/২১৯।
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ وَرُبَّمَا سَكَتَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُغِيبَاتِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ ابْنِ آدَمَ كَمَجْرَى الدَّمِ قَالُوا وَمِنْكَ قَالَ نَعَمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ
বাংলা অনুবাদ
২৮২০. জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার স্বামী অনুপস্থিত, এমন স্ত্রীলোকের কাছে তোমরা প্রবেশ করোনা। কেননা, শয়তান বনী আদমের মাঝে রক্ত স্রোতের মতো চলমান রয়েছে।“ তারা বললেন, আপনার মধ্যেও? তিনি বললেন, “হাঁ, (আমার মাঝেও)। তবে আল্লাহ তা’আলা আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন। ফলে সে অনুগত হয়ে গেছে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুজালিদ ইবনু সাঈদের দুর্বলতার কারণে। ((তবে এর শাহিদসমূহের কারণে এটি সহীহ।– দেখুন, তাখরীজের আলোচনা।–অনুবাদক))
তাখরীজ: আহমাদ ও তাঁর ছেলের যাওয়াইদুল মুসনাদ ৩/৩৯৭; তিরমিযী, রিদা’আ ১১৭২; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/৩০।
আমাদের বক্তব্য: এর ১ম অংশের শাহিদ রয়েছে আমর ইবনু আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৪৮ তে।
এর বাকী অংশের শাহিদ সহীহ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৪৭০ তে।
এবং (অপর শাহিদ) সাফিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস যেটি বুখারী মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২১ তে।
