সহীহ ইবনু হিব্বান

পরিচ্ছেদ ১৪৪: হাদিস ২,৮৬১-২,৮৮০

এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।

এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
হাদিস ২,৮৬১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ، عَنِ أَنَسٍ، قَالَ: «كَانُوا إِذَا قَحَطُوا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، اسْتَسْقَوْا بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَسْتَسْقِي لَهُمْ فَيُسْقَوْنَ، فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي إِمَارَةِ عُمَرَ، قَحَطُوا فَخَرَجَ عُمَرُ بِالْعَبَّاسِ يَسْتَسْقِي بِهِ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا إِذَا قَحَطْنَا عَلَى عَهْدِ نَبِيِّكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاسْتَسْقُينَا [ص:111] بِهِ، فَسَقَيْتَنَا وَأَنَا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ الْيَوْمَ بِعَمِّ نَبِيِّكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْقِنَا قَالَ: فَسُقُوا»
رقم طبعة با وزير = (2850)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (672): خ.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري

বাংলা অনুবাদ

আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়কালে অনাবৃষ্টি হলে তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে পানি প্রার্থনা করতেন। অতঃপর তাদেরকে তাঁর মাধ্যমে তাদেরকে পানি পান করানো হতো। অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে অনাবৃষ্টি হলে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সাথে নিয়ে ময়দানে বের হয়ে তাঁর মাধ্যমে পানি প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন, اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا إِذَا قَحَطْنَا عَلَى عَهْدِ نَبِيِّكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاسْتَسْقُينَا بِهِ فَسَقَيْتَنَا وَأنَا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ الْيَوْمَ بِعَمِّ نَبِيِّكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فاسقنا (হে আল্লাহ, যখন আমরা আপনার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়কালে অনাবৃষ্টি হতো, তখন আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে পানি প্রার্থনা করতাম। অতঃপর আমি আমাদেরকে পানি দান করেছেন। আর এখন আমরা আপনার নাবীর চাচার মাধ্যমে আপনার কাছে পানি প্রার্থনা করছি। কাজেই আপনি আমাদেরকে পানি দান করুন)।” রাবী বলেন, “অতঃপর তাদেরকে পানি দান করা হয়।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১০১০; বাগাবী: ১১৬৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪২১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৬৭২)

হাদিস ২,৮৬২

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كِنَانَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَرْسَلَنِي أَمِيرٌ مِنَ الْأُمَرَاءِ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، أَسْأَلُهُ عَنْ صَلَاةِ الِاسْتِسْقَاءِ، فَقَالَ: «خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مُتَبَذِّلًا مُتَمَسْكِنًا مُتَضَرِّعًا مُتَوَاضِعًا، وَلَمْ يَخْطُبْ خُطْبَتَكُمْ هَذِهِ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَمَا يُصَلِّي فِي الْعِيدِ»
رقم طبعة با وزير = (2851)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1058).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن

বাংলা অনুবাদ

ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন কিনানা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমাকে একজন শাসক আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ইস্তিসকার সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠান। তখন তিনি জবাবে বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ইস্তিসকার সালাত আদায় করার জন্য জীর্ণ-শীর্ণ পোশাক পরিহিত, বিনয়ী, অপারগ ব্যক্তির মতো বের হন। তিনি তোমাদের মতো খুতবা দেননি। অতঃপর তিনি ঈদের সালাতের ন্যায় ‍দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/২৩০; নাসাঈ: ৩/১৬৩; তিরমিযী: ৫৫৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪০৫; দারাকুতনী: ২/৬৮; ইবনু মাজাহ: ১২৬৬; হাকিম: ১/৩৬-৩২৭; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৪৪; তাবারানী: ১০/১০৮১৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১০৫৮)

হাদিস ২,৮৬৩

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «لَا يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنَ الدُّعَاءِ إِلَّا فِي الِاسْتِسْقَاءِ، فَإِنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ إِبْطَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (2852)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1061): ق.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين

বাংলা অনুবাদ

আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইস্তিসকা ব্যতীত কোন দু‘আয় দুই হাত উত্তোলন করতেন না। ইস্তিসকায় তিনি এতো অধিক পরিমাণ হাত উঠাতেন যে, তার দুই বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেতো।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ৩৫৬৫; আবূ দাঊদ: ১১৭০; দারাকুতনী: ২/৬৮-৬৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৮১; নাসাঈ: ৩/১৫৮; সহীহ ‍মুসলিম: ৯৮৫; বাগাবী: ১১৬৩; দারেমী: ১/৩৬১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪১২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১০৬১)

হাদিস ২,৮৬৪

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْخَطَّابِ الْبَلَدِيُّ الزَّاهِدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «اسْتَسْقَى فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَجَهَرَ بِالْقِرَاءَةِ»
رقم طبعة با وزير = (2853)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1053): خ، م دون الجهر.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح إسناده حسن

বাংলা অনুবাদ

আব্বাদ বিন তামীম রহিমাহুল্লাহ তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি প্রার্থনা করেছেন। তিনি দুই রাকা‘আত সালাত করেছেন, তাতে তিনি কিরা‘আত জোরে পড়েছেন।”[1]
[1] নাসাঈ: ৩/১৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯; সহীহুল বুখারী: ১০২৪; আবূ দাঊদ: ১১৬২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪৮৮৯; তিরমিযী: ৫৫৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১০৫৩)

হাদিস ২,৮৬৫

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «خَرَجَ يَسْتَسْقِي، فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، وَوَلَّى ظَهْرَهُ النَّاسَ، وَقَلَبَ رِدَاءَهُ، وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَهَرَ فِيهِمَا بِالْقِرَاءَةِ»
رقم طبعة با وزير = (2854)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين

বাংলা অনুবাদ

আব্বাদ বিন তামীম রহিমাহুল্লাহ তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি প্রার্থনা করার জন্য বের হন। তিনি কিবলামুখী হন, তাঁর পৃষ্ঠদেশকে মুসল্লীদের দিকে করেন, তাঁর চাদর পরিবর্তন করেন এবং দুই রাকা‘আত সালাত করেন, তাতে তিনি কিরা‘আত জোরে পড়েছেন।”[1]
[1] নাসাঈ: ৩/১৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯; সহীহুল বুখারী: ১০২৪; আবূ দাঊদ: ১১৬২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪৮৮৯; তিরমিযী: ৫৫৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১০৫৩)

হাদিস ২,৮৬৬

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبَّادُ بْنُ تَمِيمٍ الْمَازِنِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ عَمَّهُ، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَوْمًا يَسْتَسْقِي، فَحَوَّلَ إِلَى النَّاسِ ظَهْرَهُ، وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ»
رقم طبعة با وزير = (2855)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم

বাংলা অনুবাদ

আব্বাদ বিন তামীম রহিমাহুল্লাহ তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি প্রার্থনা করার জন্য বের হন। তিনি তাঁর পৃষ্ঠদেশকে মুসল্লীদের দিকে করে কিবলামুখী হন, তাঁর চাদর পরিবর্তন করেন এবং দুই রাকা‘আত সালাত করেন।”[1]
[1] নাসাঈ: ৩/১৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯; সহীহুল বুখারী: ১০২৪; আবূ দাঊদ: ১১৬২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪৮৮৯; তিরমিযী: ৫৫৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১০৫৩)

হাদিস ২,৮৬৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الذُّهْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ: «اسْتَسْقَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَعَلَيْهِ خَمِيصَةٌ سَوْدَاءُ، فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنْ يَأْخُذَ بِأَسْفَلِهَا فَيَجْعَلُهُ أَعْلَاهَا، فَلَمَّا ثَقُلَتْ عَلَيْهِ قَلْبِهَا عَلَى عَاتِقِهِ»
رقم طبعة با وزير = (2856)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1055).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي

বাংলা অনুবাদ

আব্বাদ বিন তামীম রহিমাহুল্লাহ তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি প্রার্থনা করেন। এসময় তাঁর পরিধানে কালো চাদর ছিল। অতঃপর তিনি চাদরের নিচে ধরে সেটাকে উপরে আনতে চান, কিন্তু সেটা জটিল হয়ে গেলে, সেটাকে তিনি ‍ উল্টিয়ে কাঁধের উপর রাখেন।”[1]
[1] নাসাঈ: ৩/১৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯; সহীহুল বুখারী: ১০২৪; আবূ দাঊদ: ১১৬২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪৮৮৯; তিরমিযী: ৫৫৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১০৫৩)

হাদিস ২,৮৬৮

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الْأَخْنَسِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «فَرَضَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا الصَّلَاةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي الْحَضَرِ أَرْبَعًا، وَفِي السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِ، وَفِي الْخَوْفِ رَكْعَةً»
رقم طبعة با وزير = (2857)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1134): م.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم

বাংলা অনুবাদ

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ তোমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানীতে মুকীম অবস্থায় চার রাকা‘আত, সফর অবস্থায় দুই রাকা‘আত আর ভীতিকালীন সময়ে এক রাকা‘আত ফরয করেছেন।”[1]
[1] সহীহ ‍মুসলিম: ৬৮৭; নাসাঈ: ৩/১৬৮-১৬৯; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৩৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৪; আবূ দাঊদ: ১২৪৭; তাহাবী: ১/৩০৯; সহীহ খুযাইমাহ: ১৩৪৬; তাবারানী: ১১/১১০৪৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১০৩৪)

হাদিস ২,৮৬৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ يَزِيدَ الْفَقِيرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «صَلَّى بِهِمْ صَلَاةَ الْخَوْفِ، فَقَامَ صَفٌّ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَصَفٌّ خَلْفَهُ، فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ، وَجَاءَ أُولَئِكَ حَتَّى قَامُوا، فَقَامَ هَؤُلَاءِ فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ»، فَكَانَتْ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَكْعَتَانِ وَلَهُمْ رَكْعَةٌ وَاحِدَةٌ
رقم طبعة با وزير = (2858)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1133).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين

বাংলা অনুবাদ

জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিয়ে ভীতিকালীন সালাত আদায় করেন। এক কাতার তাঁর সামনে আরেক কাতার তাঁর পিছনে দাঁড়ান। তিনি তাদের নিয়ে এক রুকূ‘ ও দুই সাজদা সম্পন্ন করেন। তারপর ঐ কাতারের লোক আসেন (যারা তাঁর সামনে ছিলেন), তারা এসে (তাঁর পিছনে) দাঁড়ান। তিনি তাদের নিয়ে এক রুকূ‘ ও দুই সাজদা সম্পাদন করেন। ফলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই রাকা‘আত আর সাহাবীদের এক রাকা‘আত হয়।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/২৬২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৪৭; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৯৮; নাসাঈ: ৩/১৭৩; আত তায়ালিসী: ১৭৮৯; তাহাবী: ১/৩১০; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৩৩)

হাদিস ২,৮৭০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ حَسَّانَ، قَالَ: أَتَيْتُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ صَلَاةِ الْخَوْفِ، فَقَالَ: «صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَفٌّ خَلْفَهُ، وَصَفٌّ بِإِزَاءِ الْعَدُوِّ، فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً، ثُمَّ ذَهَبُوا إِلَى مَصَافِّ إِخْوَانِهِمْ، وَجَاءَ الْآخَرُونَ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً، ثُمَّ سَلَّمَ، فَكَانَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَانِ، وَلِكُلِّ طَائِفَةٍ رَكْعَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (2859)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «صحيح أبي داود» (1134).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن

বাংলা অনুবাদ

কাসিম বিন হাস্সান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি যাইদ বিন সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে ভীতিকালীন সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ভীতিকালীন) সালাত আদায় করেছেন। এক কাতার তাঁর সাথে দাঁড়ায় আর এক কাতার শত্রুর মুখোমুখী হয়। রাসূল তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তারা তাদের ভাইদের কাতারে যান। অতঃপর ওরা আসেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি সালাম ফেরান। ফলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই রাকা‘আত আর সাহাবীদের এক রাকা‘আত হয়।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪২৫০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬১; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৮৩; নাসাঈ: ৩/১৬৮; তাবারানী: ৪৯১৯; তাহাবী: ১/৩১০; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬২-২৬৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৩৪)

হাদিস ২,৮৭১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الْجَهْمِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «صَلَّى بِذِي قَرَدٍ، فَصَفَّ النَّاسُ خَلْفَهُ صَفَّيْنِ، صَفٌّ خَلْفَهُ، وَصَفٌّ مُوَازِي الْعَدُوِّ، فَصَلَّى بِالصَّفِّ الَّذِي يَلِيهِ رَكْعَةً، ثُمَّ رَجَعَ هَؤُلَاءِ إِلَى مَصَافِّ هَؤُلَاءِ، وَجَاءَ هَؤُلَاءِ إِلَى مَصَافِّ هَؤُلَاءِ، فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً، وَلَمْ يَقْضُوا»
رقم طبعة با وزير = (2860)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1133).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم

বাংলা অনুবাদ

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুকারাদ নামক জায়গায় (ভীতিকালীন) সালাত আদায় করেছেন। লোকজন তাঁর পিছনে দুই কাতার বদ্ধ হন; এক কাতার তাঁর পিছনে আরেক কাতার শত্রুর মুখোমুখি। তিনি তাঁর কাছের কাতারের সাহাবীদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তারা অন্য কাতারের সাহাবীদের কাছে যান, আর তারা প্রথম কাতারের জায়গায় আসেন। অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারা (বাকী এক রাকা‘আত সালাত) কাযা করেননি।”[1]
[1] নাসাঈ: ৩/১৬৯; হাকিম: ১/৩৩৫; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৩২; তাহাবী: ১/৩০৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬২; তাবারী: ১০৩৩৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৩৩)

হাদিস ২,৮৭২

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْهُنَائِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، نَزَلَ بَيْنَ ضُجْنَانَ، وَعُسْفَانَ فَحَاصَرَ الْمُشْرِكِينَ، قَالَ: فَقَالُوا: إِنَّ لِهَؤُلَاءِ صَلَاةً هِيَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنْ أَبْنَائِهِمْ وَأَبْكَارِهِمْ - يَعْنُونَ: الْعَصْرَ -، فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ، ثُمَّ مِيلُوا عَلَيْهِمْ مَيْلَةً وَاحِدَةً، قَالَ: فَجَاءَ جِبْرِيلُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَقْسِمَ أَصْحَابَهُ شَطْرَيْنِ، وَيُصَلِّيَ بِالطَّائِفَةِ الْأُولَى رَكْعَةً، وَيَأْخُذُ الطَّائِفَةُ الْأُخْرَى حِذْرَهُمْ، وَأَسْلِحَتَهُمْ، فَإِذَا صَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً تَأَخَّرُوا وَتَقَدَّمَ الْآخَرُونَ، فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً، وَأَخَذَ هَؤُلَاءِ الْآخَرُونَ حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ، [ص:124] فَكَانَتْ لِكُلِّ طَائِفَةٍ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَكْعَةٌ رَكْعَةٌ «
رقم طبعة با وزير = (2861)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «المشكاة» (1425).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن

বাংলা অনুবাদ

আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার দুজনান ও ‍উসফানের মাঝে যাত্রাবিরতি করেন। অতঃপর তিনি মুশরিকদেরকে অবরোধ করেন। রাবী বলেন, “তখন তারা বলে, “নিশ্চয়ই এই লোকদের (মুসলিমদের) একটি সালাত রয়েছে, যা তাদের কাছে তাদের সন্তানাদি অপেক্ষা প্রিয়। -অর্থাৎ আসরের সালাত- কাজেই তোমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করো, তারপর তোমরা তাদের উপর একযোগে আক্রমন করো।” অতঃপর জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁকে আদেশ করেন, যেন তিনি সাহাবীদেরকে দুই দলে ভাগ করেন এবং প্রথম দলের লোকদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। আর অন্য দল সতর্কতা ও অস্ত্র-শস্ত্র গ্রহণ করবে। অতঃপর যখন তিনি তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন, তখন তারা পিছে যায়, আর অন্য দলের লোকজন পিছনে যায়। তখন তিনি তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। আর অন্য দল সতর্কতা ও অস্ত্র-শস্ত্র গ্রহণ করে। কাজেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে প্রত্যেক দলের এক রাকা‘আত এক রাকা‘আত করে হয়।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৫২২; তিরমিযী: ৩০৩৫; নাসাঈ: ৩/১৭৪; তাবারী: ১০৩৪২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১৪২৫)

হাদিস ২,৮৭৩

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْأَزْهَرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَلَاةَ الْخَوْفِ بِذَاتِ الرِّقَاعِ» قَالَتْ: «فَصَدَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسَ صَدْعَيْنِ، فَصَفَّتْ طَائِفَةٌ وَرَاءَهُ، وَقَامَتْ طَائِفَةٌ، وِجَاهَ الْعَدُوِّ» قَالَتْ: «فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَبَّرَتِ الطَّائِفَةُ الَّذِينَ صَفُّوا خَلْفَهُ، ثُمَّ رَكَعُوا وَرَكَعُوا، ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدُوا، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَرَفَعُوا، ثُمَّ مَكَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا، وَسَجَدُوا لِأَنْفُسِهِمِ السَّجْدَةَ الثَّانِيَةَ، ثُمَّ قَامُوا فَنَكَصُوا عَلَى أَعْقَابِهِمْ يَمْشُونَ الْقَهْقَرَى، حَتَّى قَامُوا مِنْ وَرَائِهِمْ، وَأَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الْأُخْرَى فَصَفُّوا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَبِّرُوا، [ص:125] ثُمَّ رَكَعُوا لِأَنْفُسِهِمْ، ثُمَّ سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، السَّجْدَةَ الثَّانِيَةَ فَسَجَدُوا مَعَهُ، ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مِنْ رَكْعَتِهِ وَسَجَدُوا لِأَنْفُسِهِمِ السَّجْدَةَ الثَّانِيَةَ، ثُمَّ قَامَتِ الطَّائِفَتَانِ جَمِيعًا، فَصَفُّوا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَرَكَعَ بِهِمْ رَكْعَةً وَرَكَعُوا جَمِيعًا، ثُمَّ سَجَدَ فَسَجَدُوا جَمِيعًا، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَرَفَعُوا مَعَهُ، كُلُّ ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سَرِيعًا جِدًّا، لَا يَأْلُو أَنْ يُخَفِّفَ مَا اسْتَطَاعَ، ثُمَّ سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَّمُوا، ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَدْ شَرَكَهُ النَّاسُ فِي صَلَاتِهِ كُلِّهَا»
رقم طبعة با وزير = (2862)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1131).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي

বাংলা অনুবাদ

আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাতুর রিকাতে ভীতিকালীন সালাত আদায় করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে দুইভাগে ভাগ করেন। এক কাতার তাঁর পিছনে দাঁড়ান আরেক কাতার শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়ান। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দেন এবং তাঁর পিছনের কাতারের সাহাবীগণও তাকবীর দেন। তারপর তিনি রুকূ‘ করেন, তারাও রুকূ‘ করেন। অতঃপর তিনি সাজদা করেন, তারাও সাজদা করেন। তারপর তিনি মাথা উত্তোলন করেন, তারাও মাথা উত্তোলন করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে অবস্থান করেন। তাঁর পিছনের সাহাবীগণ বাকী আরেক সাজদা করেন। তারপর তারা দাঁড়ান এবং পিছনে সরে আসেন এবং পিছনের কাতারের লোকদের জায়গায় দাঁড়ান। পিছনের কাতারের সাহাবীগণ সামনে আসেন এবং তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে কাতারবন্দি হন। তারা তাকবীর দেন এবং রুকূ‘ করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় সাজদা করেন। তারাও তাঁর সাথে সাজদা করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই রাকা‘আত থেকে দাঁড়ান। আর সাহাবীগণ বাকী আরেক সাজদা করেন। তারপর দলের সবাই দাঁড়ান। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে দাঁড়ান। তিনি তাদের নিয়ে রুকূ‘ করেন, তারাও রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি সাজদা করেন, তারাও সাজদা করেন। তারপর তিনি সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারাও মাথা উত্তোলন করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এসব কাজগুলি খুবই দ্রুত সম্পাদিত হয়। তিনি সাধ্যমত হালকা করতে পরওয়া করতেন না। তারপর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরান। তারাও সালাম ফেরান। তারপর তিনি দাঁড়ান। তাঁর পুরো সালাতেই সাহাবীগণ শরীক ছিলেন।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৬৩; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬৫; মুসনাদ আহমাদ: ৬/২৭৫; হাকিম: ১/৩৩৬-৩৩৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৩১)

হাদিস ২,৮৭৪

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «صَلَّى بِأَصْحَابِهِ صَلَاةَ الْخَوْفِ، فَرَكَعَ بِهِمَا جَمِيعًا، ثُمَّ سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالصَّفُّ الَّذِي يَلُونَهُ [ص:126] وَالْآخَرُونَ قِيَامٌ حَتَّى نَهَضَ، ثُمَّ سَجَدَ أُولَئِكَ بِأَنْفُسِهِمْ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الْمُتَقَدِّمُ فَرَكَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالصَّفُّ الَّذِينَ يَلُونَهُ، فَلَمَّا رَفَعُوا رُءُوسَهُمْ سَجَدَ أُولَئِكَ سَجْدَتَيْنِ كُلُّهُمْ قَدْ رَكَعَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَسَجَدَتْ لِأَنْفُسِهِمْ سَجْدَتَيْنِ وَكَانَ الْعَدُوُّ مِمَّا يَلِي الْقِبْلَةَ
رقم طبعة با وزير = (2863)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «التعليق على ابن خزيمة» (1350).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح

বাংলা অনুবাদ

জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিয়ে ভীতিকালীন সালাত আদায় করেন। তিনি দুইদল সাহাবীদের সবাইকে নিয়ে রুকূ‘ করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও নিকটবর্তী কাতারের সাহাবীগণ সাজদা করেন। অপর দলের সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাজদা থেকে না উঠা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর তারা নিজেরা দুটি সাজদা করেন। তারপর সামনের কাতারের সাহাবীগণ পিছে যান। অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও নিকটবর্তী কাতারের সাহাবীগণ রুকূ‘ করেন। তারপর যখন তারা মাথা উত্তোলন করেন, তখন তারা দুটি সাজদা করেন। এভাবে প্রত্যেক দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রুকূ‘ করেন। আর তারা নিজেরা দুটি সাজদা করেন। এসময় শত্রুরা কিবলার দিকে ছিল।”[1]
[1] ইবনু মাজাহ: ১২৬০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৫০; আবূ আওয়ানা: ২/৩৬০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীকু আলা সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৫০)

হাদিস ২,৮৭৫

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِعُسْفَانَ، وَالْمُشْرِكُونَ بِضُجْنَانَ، فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ [ص:127] رَآهُ الْمُشْرِكُونَ يَرْكَعُ وَيَسْجُدُ، فَأْتَمَرُوا عَلَى أَنْ يُغِيرُوا عَلَيْهِ، فَلَمَّا حَضَرَتِ الْعَصْرُ صَفَّ النَّاسُ خَلْفَهُ صَفَّيْنِ، فَكَبَّرَ وَكَبَّرُوا جَمِيعًا، وَرَكَعَ وَرَكَعُوا جَمِيعًا، وَسَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِينَ يَلُونَهُ، وَقَامَ الصَّفُّ الثَّانِي بِسِلَاحِهِمْ مُقْبِلِينَ عَلَى الْعَدُوِّ بِوُجُوهِهِمْ، فَلَمَّا رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأْسَهُ، سَجَدَ الصَّفُّ الثَّانِي فَلَمَّا رَفَعُوا رُءُوسَهُمْ رَكَعَ وَرَكَعُوا جَمِيعًا، وَسَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِينَ يَلُونَهُ، وَقَامَ الصَّفُّ الثَّانِي بِسِلَاحِهِمْ مُقْبِلِينَ عَلَى الْعَدُوِّ بِوُجُوهِهِمْ، فَلَمَّا رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَأْسَهُ سَجَدَ الصَّفُّ الثَّانِي.
رقم طبعة با وزير = (2864) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: » أَبُو عَيَّاشٍ الزُّرَقِيُّ اخْتُلِفَ فِي اسْمِهِ، مِنْهُمْ مَنْ قَالَ: إِنَّهُ زَيْدُ بْنُ النُّعْمَانِ، وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ إِنَّهُ زَيْدُ بْنُ الصَّامِتِ، وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: عُبَيْدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ الصَّامِتِ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: عُبَيْدُ بْنُ مُعَاذِ بْنِ الصَّامِتِ «

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1121).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما

বাংলা অনুবাদ

আবূ আইয়্যাশ আয যুরাকী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসফান নামক জায়গায় ছিলেন আর মুশরিকরা দুজনান নামক জায়গায় ছিলো। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যোহরের সালাত আদায় করেন, তখন মুশরিকরা তাঁকে রুকূ‘ ও সাজদা করতে দেখেন, তখন তারা তাঁর উপর অতর্কিত হামলা করার পরামর্শ করে। অতঃপর আসরের সালাতের সময় হলে, সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে দুই কাতার বদ্ধ হন। তিনি তাকবীর দিলে, তারা সবাই তাকবীর দেন। তিনি রুকূ‘ করলে, তারা সবাই রুকূ‘ করেন। তিনি সাজদা করলে, নিকটবর্তী কাতারের সাহাবীগণও সাজদা করেন। আর দ্বিতীয় কাতারের সাহাবীগণ অস্ত্র নিয়ে শত্রুর মুখোমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করলে, দ্বিতীয় কাতারের সাহাবীগণ সাজদা করেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ আইয়্যাশ আয যুরাকী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নামের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, “তিনি হলেন যাইদ বিন নু‘মান। কেউ কেউ বলেছেন, “তিনি হলেন যাইদ বিন সামিত।” কেউ কেউ বলেছেন, “তিনি হলেন উবাইদ বিন মু‘আবিয়া বিন সামিত।” আবার কেউ বলেছেন, “তিনি উবাইদ বিন মুয়ায বিন সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।”
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৩; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৫৯-৬০; তাহাবী: ১/৩১৮; দারাকুতনী: ২/৫৯-৬০; তুহফাতুল আশরাফ: ৩/২৫১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১১২১)

হাদিস ২,৮৭৬

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَيَّاشٍ الزُّرَقِيُّ، قَالَ: «كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِعُسْفَانَ وَعَلَى الْمُشْرِكِينَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ قَالَ: فَصَلَّيْنَا الظُّهْرَ، فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ: لَقَدْ كَانُوا عَلَى حَالٍ لَوْ أَرَدْنَا لَأَصَبْنَاهُمْ غِرَّةً - أَوْ لَأَصَبْنَاهُمْ غَفْلَةً - قَالَ: فَأُنْزِلَتْ آيَةُ الْقَصْرِ، بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ، فَأَخَذَ النَّاسُ السِّلَاحَ، وَصَفُّوا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَفَّيْنِ مُسْتَقْبِلِي الْعَدُوِّ، وَالْمُشْرِكُونَ مُسْتَقْبِلَوهُمْ، فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَبَّرُوا جَمِيعًا، وَرَكَعَ وَرَكَعُوا جَمِيعًا، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَرَفَعُوا جَمِيعًا، ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ، وَقَامَ الْأَخَرُ يَحْرُسُونَهُمْ، فَلَمَّا فَرَغَ هَؤُلَاءِ مِنْ سُجُودِهِمْ سَجَدَ هَؤُلَاءِ، ثُمَّ نَكَصَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ، وَتَقَدَّمَ الْآخَرُونَ فَقَامُوا مَقَامَهُمْ، فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَكَعُوا جَمِيعًا، ثُمَّ رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَرَفَعُوا جَمِيعًا، ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ، وَقَامَ الْآخَرُونَ [ص:129] يَحْرُسُونَهُمْ فَلَمَّا فَرَغَ هَؤُلَاءِ مِنْ سُجُودِهِمْ سَجَدَ الْآخَرُونَ، ثُمَّ اسْتَوُوا مَعَهُ فَقَعَدُوا جَمِيعًا، ثُمَّ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا صَلَّاهَا بِعُسْفَانَ، وَصَلَّاهَا يَوْمَ بَنِي سُلَيْمٍ»
رقم طبعة با وزير = (2865)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين

বাংলা অনুবাদ

আবূ আইয়্যাশ আয যুরাকী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উসফান নামক জায়গায় ছিলাম। আর মুশরিকদের সেনাপতি ছিল খালিদ বিন ওয়ালিদ। রাবী বলেন, “আমরা যোহরের সালাত আদায় করি। তখন মুশরিকরা বলে, “তারা এমন এক অবস্থায় ছিলো, যদি আমরা ইচ্ছা করতাম, তবে আমরা অতর্কিত হামলা করতে পারতাম -অথবা আমরা তাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় তাদের উপর আক্রমন করতে পারতাম-।” তখন যোহর ও আসরের সালাত কসর করার ব্যাপারে আয়াত নাযিল হয়। তারপর লোকজন অস্ত্র ধারণ করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে শত্রুর মুখোমুখী হয়ে কাতার বন্দি হন। মুশরিকরাও তাদের মুখোমুখী হয়ে ছিল। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিলে, তারা সবাই তাকবীর দেন। তিনি রুকূ‘ করলে, তারা সবাই রুকূ‘ করেন। তিনি সাজদা করলে, নিকটবর্তী কাতারের সাহাবীগণও সাজদা করেন। আর দ্বিতীয় কাতারের সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে তাদের পাহারা দেন। তারপর এরা সাজদা সম্পন্ন করলে, ওরাও সাজদা সম্পন্ন করেন। তারপর নিকটবর্তী কাতারের লোকজন পিছনে যান আর পিছনের সাহাবীগন সামনে এসে তাদের জায়গায় দাঁড়ান। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ করলে, তারা সবাই রুকূ‘ করেন। তিনি সাজদা করলে, নিকটবর্তী কাতারের সাহাবীগণও সাজদা করেন। আর দ্বিতীয় কাতারের সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে তাদের পাহারা দেন। তারপর এরা সাজদা সম্পন্ন করলে, ওরাও সাজদা সম্পন্ন করেন। তারপর তারা তাঁর বরাবর হন, তারা সবাই তাঁর সাথে বৈঠকে বসেন। অতঃপর তিনি তাদের সবাইকে নিয়ে সালাম ফেরান। তিনি উসফান নামক জায়গায় বানূ সুলাইমের দিন এই সালাত আদায় করেন।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৩; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৫৯-৬০; তাহাবী: ১/৩১৮; দারাকুতনী: ২/৫৯-৬০; তুহফাতুল আশরাফ: ৩/২৫১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১১২১)

হাদিস ২,৮৭৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: «غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَوْمًا مِنْ جُهَيْنَةَ، فَقَاتَلُوا قِتَالًا شَدِيدًا، فَلَمَّا صَلَّيْنَا [ص:130] الظُّهْرَ قَالُوا: لَوْ مِلْنَا عَلَيْهِمْ مَيْلَةً قَطَعْنَاهُمْ، فَأَخْبَرَ جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِذَلِكَ فَذَكَرَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ذَلِكَ، فَقَالَ: قَالُوا: بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ صَلَاةٌ هِيَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنَ الْأُولَى، فَلَمَّا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ، صَفَّنَا صَفَّيْنِ وَالْمُشْرِكُونَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ، فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَبَّرْنَا مَعَهُ، فَرَكَعَ وَرَكَعْنَا مَعَهُ، وَسَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الْأَوْلُ مَعَهُ، فَلَمَّا قَامَ سَجَدَ الصَّفُّ الثَّانِي، ثُمَّ تَقَدَّمُوا فَقَامُوا مَقَامَ الصَّفِّ الْأَوْلِ وَتَأَخَّرَ الصَّفُّ الْأَوْلُ، فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَبَّرْنَا مَعَهُ، ثُمَّ رَكَعَ وَرَكَعْنَا مَعَهُ، ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الْأَوْلُ مَعَهُ، ثُمَّ قَعَدَ فَسَجَدَ الصَّفُّ الثَّانِي، ثُمَّ جَلَسُوا جَمِيعًا، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ: عَنْ جَابِرٍ كَمَا يُصَلِّي أُمَرَاؤُكُمْ هَؤُلَاءِ
رقم طبعة با وزير = (2866)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1122): م.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم

বাংলা অনুবাদ

জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জুহাইনাহ গোত্রের লোকদের সাথে যু্দ্ধ করি। তারা প্রচন্ড যুদ্ধ করে। অতঃপর আমরা যখন যোহরের সালাত আদায় করি, তখন তারা বলে, “যদি আমরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা করি, তবে আমরা তাদের মুলোৎপাটন করতে পারবো।” অতঃপর জিবরীল আলাইহিস সালাম তাদের এই পরিকল্পনার কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবহিত করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি আমাদের সাথে আলোচনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ওরা বলেছে, “আমাদের ও তাদের মাঝে একটি সালাত রয়েছে, যা তাদের কাছে সকল কিছুর চেয়ে উত্তম।” অতঃপর যখন সালাতের সময় হয়, তখন তিনি আমাদেরকে দুই কাতারে কাতারবন্দি করেন। আর মুশরিকরা আমাদের ও কিবলার মাঝে ছিলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিলে, আমরাও তাঁর সাথে তাকবীর দেই। তিনি রুকূ‘ করলে, আমরাও তাঁর সাথে রুকূ‘ করি। তিনি সাজদা করলে তাঁর সাথে প্রথম কাতারের সাহাবীগণ সাজদা করেন। তারপর যখন তিনি দাঁড়ান, তখন দ্বিতীয় কাতারের সাহাবীগণ সাজদা করেন। তারপর তারা সামনে এগিয়ে এসে প্রথম কাতারের জায়াগায় দাঁড়ান আর প্রথম কাতারের সাহাবীগণ পিছে যান। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিলে, আমরাও তাঁর সাথে তাকবীর দেই। তিনি রুকূ‘ করলে, আমরাও তাঁর সাথে রুকূ‘ করি। তিনি সাজদা করলে, তাঁর সাথে প্রথম কাতারের সাহাবীগণ সাজদা করেন। তারপর তিনি বসে থাকেন। তখন দ্বিতীয় কাতারের সাহাবীগণ সাজদা করেন। তারপর সবাই বৈঠকে বসেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরান।” আবুয ‍যুবাইর রহিমাহুল্লাহ বলেন, “জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আরেকটু বেশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “যেভাবে তোমাদের শাসকরা সালাত আদায় করে থাকে।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৮৪০; আবূ আওয়ানা: ২/৩৬০-৩৬১; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৫৮; সহীহুল বুখারী: ৪১৩০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১১২২)

হাদিস ২,৮৭৮

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، مِنْ أَصْلِ كِتَابِهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْأَزْهَرِ، وَكَتَبْتُهُ مِنْ أَصْلِهِ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ وَكَانَ يَتِيمًا فِي حِجْرِ عُرْوَةِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَمَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ يَسْأَلُهُ عَنْ صَلَاةِ الْخَوْفِ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: «كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي تِلْكَ الْغَزَاةِ»، قَالَ: «فَصَدَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسَ، صَدْعَيْنِ، قَامَتْ مَعَهُ طَائِفَةٌ، وَطَائِفَةٌ أُخْرَى مِمَّا يَلِي الْعَدُوَّ، وَظُهُورُهُمْ إِلَى الْقِبْلَةِ، فَكَبَّرَ [ص:132] رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَبَّرُوا جَمِيعًا الَّذِينَ مَعَهُ وَالَّذِينَ يُقَاتِلُونَ الْعَدُوَّ، ثُمَّ رَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَةً وَاحِدَةً، فَرَكَعَ مَعَهُ الطَّائِفَةُ الَّتِي تَلِيهِ، ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي تَلِيهِ، وَالْآخَرُونَ قِيَامٌ مُقَابِلِي الْعَدُوِّ، ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَخَذْتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي صَلَّتْ مَعَهُ أَسْلِحَتَهُمْ، ثُمَّ مَشَوَا الْقَهْقَرَى عَلَى أَدْبَارِهِمْ حَتَّى قَامُوا مِمَّا يَلِي الْعَدُوَّ، وَأَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي كَانَتْ مُقَابَلَةَ الْعَدُوِّ، فَرَكَعُوا وَسَجَدُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمٌ كَمَا هُوَ، ثُمَّ قَامُوا، فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَكْعَةً أُخْرَى فَرَكَعُوا مَعَهُ، وَسَجَدَ وَسَجَدُوا مَعَهُ، ثُمَّ أَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي كَانَتْ تُقَابِلُ الْعَدُوَّ فَرَكَعُوا وَسَجَدُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَاعِدٌ وَمَنْ مَعَهُ ثُمَّ كَانَ السَّلَامُ، فَسَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَسَلَّمُوا جَمِيعًا، فَقَامَ الْقَوْمُ وَقَدْ شَرَكُوهُ فِي الصَّلَاةِ»
رقم طبعة با وزير = (2867)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «صحيح أبي داود» (1129).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي

বাংলা অনুবাদ

উরওয়া বিন যুবাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আবূ হুরাইরা ও মারওয়ান বিন হাকাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে ভীতিকালীন সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সেই যুদ্ধে ছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের দুই দলে ভাগ করেন। একদল তাঁর সাথে দাঁড়ান আরেক দল শত্রুর কাছে থাকে। এসময় তাদের পৃষ্ঠদেশ কিবলার দিকে ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর দিলে তারাও তাকবীর দেন; যারা তাঁর সাথে ছিলেন এবং যারা শত্রুর মুখোমুখী ছিলেন সবাই। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রুকূ‘ করেন, কাছের কাতারের সাহাবীগণও তাঁর সাথে রুকূ‘ করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাজদা করেন, কাছের কাতারের সাহাবীগণও তাঁর সাথে সাজদা করেন। অপর কাতারের সাহাবীগণ শত্রুর মুখোমুখী দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ান। যারা তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছেন, তারা অস্ত্র গ্রহণ করেন। তারপর তারা পিছু হটেন। অতঃপর তারা শত্রুর কাছাকাছি দলের জায়গায় দাঁড়ান। আর যারা শত্রুর মুখোমুখী ছিলেন, তারা সামনে আগমন করেন। তারা এসে রুকূ‘ ও সাজদা করেন। আর রাসূল যেভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেভাবে দাঁড়িয়েই থাকেন। তারপর তারা দাঁড়ান। এসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেক রুকূ‘ করেন, তারাও তাঁর সাথে রুকূ‘ করেন। তিনি সাজদা করলে, তারাও তাঁর সাথে সাজদা করেন। তারপর শত্রুর মুখোমুখী দল সামনে আসেন এবং তারা রুকূ‘ ও সাজদা করেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ বসেই থাকেন। তারপর সালাম ফেরানোর সময় হয়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফেরান। তাঁর সাথে সবাই সালাম ফেরান। আর লোকজন উঠে যায়। সাহাবীদের প্রত্যেকেই তাঁর সাথে সালাতে শরীক হন।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৬২; আবূ দাঊদ: ১২৪১; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩২০; নাসাঈ: ৩/১৭৩; তাহাবী: ১/৩১৪; হাকিম: ১/৩৩৮-৩৩৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১১২৯)

হাদিস ২,৮৭৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَلَاةَ الْخَوْفِ، بِإِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَةً، وَالطَّائِفَةُ الْأُخْرَى مُوَاجِهَةُ الْعَدُوِّ، ثُمَّ انْصَرَفُوا، فَقَامُوا مَقَامَ أَصْحَابِهِمْ مُقْبِلِينَ عَلَى الْعَدُوِّ، وَجَاءَ أُولَئِكَ فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَكْعَةً، ثُمَّ سَلَّمَ بِهِمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَضَى هَؤُلَاءِ، فَقَامُوا مَقَامَ أَصْحَابِهِمْ مُقْبِلِينَ عَلَى الْعَدُوِّ، وَجَاءَ أُولَئِكُ فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَةً، ثُمَّ سَلَّمَ بِهِمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَضَى هَؤُلَاءِ رَكْعَةً وَهَؤُلَاءِ رَكْعَةً»
رقم طبعة با وزير = (2868)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1132): ق.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح

বাংলা অনুবাদ

আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ভীতিকালীন সালাত আদায় করেন। তিনি আমাদের একদলকে নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। আরেকদল তারা শত্রুর মুখোমুখী থাকে। তারপর তারা শত্রুর মোকাবিলায় নিয়োজিত দলের কাছে গিয়ে অবস্থান নেন, আর তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফেরান। তারপর তারা শত্রুর মোকাবিলায় নিয়োজিত দলের কাছে গিয়ে অবস্থান নেন, আর তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে আরেক রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফেরান। এই কাতারের সাহাবীগণ এক রাকা‘আত সম্পন্ন করেন এবং অন্য কাতারের সাহাবীগণও এক রাকা‘আত সালাম সম্পন্ন করেন।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪২৪১; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৪৭; সহীহ ‍মুসলিম: ৮৩৯; দারাকুতনী: ২/৫৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬০; সহীহুল বুখারী: ৪১৩৩; নাসাঈ: ৩/১৭১; আবূ দাঊদ: ১২৪৩; বাগাবী: ১০৯২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৫৪; দারেমী: ১/৩৫৭-৩৫৮; তাহাবী: ১/৩১২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১১৩২)

হাদিস ২,৮৮০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ الْكَلَاعِيُّ، بِحِمْصَ، قَالَ: حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ: «قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ، فَكَبَّرَ وَكَبَّرُوا مَعَهُ، ثُمَّ رَكَعَ وَرَكَعَ مَعَهُ نَاسٌ مِنْهُمْ، ثُمَّ سَجَدَ [ص:135] وَسَجَدُوا، ثُمَّ قَامَ إِلَى الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، فَتَأَخَّرَ الَّذِينَ سَجَدُوا مَعَهُ يَحْرُسُونَ إِخْوَانَهُمْ، وَأَتَتِ الطَّائِفَةُ الْأُخْرَى، فَرَكَعُوا مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَسَجَدُوا، وَالنَّاسُ كُلُّهُمْ فِي صَلَاةٍ يُكَبِّرُونَ وَلَكِنْ يَحْرُسُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا»
رقم طبعة با وزير = (2869)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - ومضى (2860). تنبيه!! رقم (2860) = (2871) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ভীতিকালীন) সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়ান। সাহাবীগণও তাঁর সাথে দাঁড়ান। তিনি তাকবীর দিলে তারাও তাকবীর দেন। তিনি রুকূ‘ করলে, তার সাথে কিছু সাহাবীও রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি সাজদা করলে, তারাও সাজদা করেন। তারপর তিনি দ্বিতীয রাকা‘আতে উঠেন। অতঃপর যারা তাঁর সাথে সাজদা করেছিলেন, তারা তাদের ভাইদের পাহারা দেওয়ার জন্য পিছে যান। আর অন্য দলের সাহাবীগণ সামনে আসেন। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে রুকূ‘ ও সাজদা করেন। সব সাহাবীই সালাতে ছিলেন। তারা তাকবীর দিতেন। তবে তারা একে অন্যকে পাহারা দিতেন।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ৯৪৪; দারাকুতনী: ২/৫৮; নাসাঈ: ৩/১৬৯-১৭০; সুনান বাইহাকী: ৩/২৫৮; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৬৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৩৫)