সহীহ ইবনু হিব্বান
পরিচ্ছেদ ১৬৭: হাদিস ৩,৩২১-৩,৩৪০
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।
এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عِيَاضَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يُسَلِّمُ، فَيَنْصَرِفُ إِلَى النَّاسِ قَائِمًا فِي مُصَلَّاهُ، ثُمَّ يَجْلِسُ فَيُقْبِلُ عَلَيْهِمْ، وَيَقُولُ لِلنَّاسِ: «تَصَدَّقُوا»، فَكَانَ أَكْثَرُ مَنْ يَتَصَدَّقُ النِّسَاءُ بِالْقُرْطِ وَالتِّبْرِ، فَإِنْ كَانَ لَهُ حَاجَةٌ يَبْعَثُ عَلَى النَّاسِ وَإِلَّا انْصَرَفَ «
رقم طبعة با وزير = (3311)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2968)، «الإرواء» (1/ 205).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
বাংলা অনুবাদ
আবূ সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে বের হতেন, অতঃপর দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করতেন, তারপর সালাম ফেরাতেন। অতঃপর সালাত আদায় করার জায়গায় লোকদের দিকে মুখ ফিরে দাঁড়াতেন। তারপর তিনি বসতেন অতঃপর লোকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “তোমরা সাদাকাহ করো। অতঃপর অধিকাংশ মানুষ (নারী) কানের দুল ও স্বর্ণরেণু দান করে। অতঃপর যদি কোথাও পাঠানোর প্রয়োজন হতো, তবে পাঠাতেন, অন্যথায় চলে আসতেন।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৫৬৩৪; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৬; সহীহ মুসলিম: ৮৮৯; নাসাঈ: ৩/১৮৭; ইবনু মাজাহ: ১২৮৮; আবূ ইয়ালা: ১৩৪৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৪৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৯৭; সহীহুল বুখারী: ৩০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৯৬৮।)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، بِبُسْتٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْبُسْرِيُّ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: أَشْهَدُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ: «أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ شَهِدَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ صَلَّى فِي يَوْمِ عِيدٍ، ثُمَّ خَطَبَ، ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ»
رقم طبعة با وزير = (3312)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ، وهو مختصر (2812). تنبيه!! رقم (2812) = (2823) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
বাংলা অনুবাদ
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ঈদের সালাত আদায় করেন, তারপর তিনি ভাষন দেন। অতঃপর তিনি নারীদের কাছে আসেন এবং তাদেরকে সাদাকাহ করার নির্দেশ দেন।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ৯৭৭; নাসাঈ: ৩/১৯২-১৯৩; মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৬৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/১৭০; আবূ দাঊদ: ১১৪৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৪০)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ: سَمِعْتُ ذَرًّا، يُحَدِّثُ عَنْ وَائِلِ بْنِ مُهَانَةَ *، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِلنِّسَاءِ: «تَصَدَّقْنَ [ص:116] فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ»، قَالَتِ امْرَأَةٌ: لَيْسَتْ مِنْ عِلْيَةِ النِّسَاءِ: بِمَ، أَوْ لِمَ؟، قَالَ: «إِنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: مَا مِنْ نَاقِصَاتِ الْعَقْلِ وَالدَّيْنِ أَغْلَبُ عَلَى الرِّجَالِ ذَوِي الْأَمْرِ عَلَى أَمْرِهِمْ مِنَ النِّسَاءِ، قِيلَ: وَمَا نُقْصَانُ عَقْلِهَا وَدِينِهَا؟، قَالَ: أَمَّا نُقْصَانُ عَقْلِهَا فَإِنَّ شَهَادَةَ امْرَأَتَيْنِ بِشَهَادَةِ رَجُلٍ، وَأَمَّا نُقْصَانُ دِينِهَا فَإِنَّهُ يَأْتِي عَلَى إِحْدَاهِنَّ كَذَا وَكَذَا مِنْ يَوْمٍ لَا تُصَلِّي فِيهِ صَلَاةً وَاحِدَةً «
رقم طبعة با وزير = (3313)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (6106)، «الظلال» (2/ 463 - 464): م - عن أبي هريرة وابن عمر مرفوعاً كله. * [وَائِلِ بْنِ مُهَانَةَ] قال الشيخ: لم يذكروا له راوياً غير ذرّ - وهو ابن عبد الله المرهبي -، ولذلك قال الذهبيُّ: «لا يُعرَفُ»، ولم يُوَثِّقه غير المؤلِّف (5/ 495) على القاعدةِ. وقال الحافظ «مقبولٌ» - يعني: عند المتابعة -. قلت: وقد تَفَرَّد بِقول عَبد الله فيه: «ما مِنْ ناقصات العقل ... مِنَ النساء» على أنَّهُ قد صحَّ نَحوه في بعض الأحاديث، لحديث زينب امرأة ابن مسعود (4234). تنبيه!! رقم (4234) = (4248) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null
বাংলা অনুবাদ
আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের বলেছেন, “তোমরা সাদাকাহ করো। কেননা তোমরাই জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী হবে।” তখন একজন নারী, যিনি খুব সম্ভান্ত পরিবারের নারী নন, তিনি বলেন, “কী কারণে?” জবাবে তিনি বলেন, “তোমরা অধিক পরিমাণে অভিসম্পাত করো এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “নারীরা বুদ্ধি ও দ্বীনদারিতার দিক দিয়ে কমতি থাকার পরেও তারা প্রজ্ঞাবান পুরুষের উপর বেশি প্রাবল্যতা লাভ করে।” তাঁকে বলা হলো, “তাদের বুদ্ধি ও দ্বীনদারিতার কমতি কী?” জবাবে তিনি বলেন, “তাদের বুদ্ধির কমতি হলো দুইজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর তাদের দ্বীনদারিতার কমতি হলো, তাদের এতো এতো দিন (ঋতুস্রাব, নিফাস) হয়, যাতে তারা এক ওয়াক্ত সালাতও আদায় করে না।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৪৩৩; দারেমী: ১/২৩৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১১০; নাসাঈ, ইশরতুন নিসা: ৩৭৫। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফা: ৬১০৬)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَطْعِمُوا الْجَائِعَ، وَعُودُوا الْمَرِيضَ، وَفُكُّوا الْعَانِيَ»، قَالَ سُفْيَانُ: الْعَانِي الْأَسِيرُ
رقم طبعة با وزير = (3314)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تخريج مشكلة الفقر» (112): خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
বাংলা অনুবাদ
আবূ মুসা আল আশ‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা ক্ষুধার্ত মানুষকে খাদ্য দিবে, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাবে এবং বন্দি মুক্ত করবে।”[1] সুফিয়ান রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “العاني এর অর্থ বন্দি।”
[1] সুনান বাইহাকী: ৯/২২৬; সহীহুল বুখারী: ৫৩৭৩; আবূ দাঊদ: ৩১০৫; বাগাবী: ১৪০৭; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯৪; নাসাঈ আল কুবরার বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ৬/৪১৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (তাখরীজু মুশকিলাতুল ফাকর: ১১২)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: خَرَجْتُ أَنَا، وَالْحَسَنُ، وَالْحُسَيْنُ، وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، يَوْمَ فِطْرٍ، وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْمُصَلَّى، فَصَلَّى بِنَا، ثُمَّ خَطَبَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ هَذَا يَوْمُ صَدَقَةٍ فَتَصَدَّقُوا»، قَالَ: فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَنْزِعُ خَاتَمَهُ، وَالرَّجُلُ يَنْزِعُ ثَوْبَهُ، وَبِلَالٌ يَقْبِضُ، حَتَّى إِذَا لَمْ يَرَ أَحَدًا يُعْطِي شَيْئًا تَقَدَّمَ إِلَى النِّسَاءِ، فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ إِنَّ هَذَا يَوْمُ صَدَقَةٍ، فَتَصَدَّقْنَ»، فَجَعَلْتِ الْمَرْأَةُ تَنْزِعُ خُرْصَهَا وَخَاتَمَهَا، وَجَعَلْتِ الْمَرْأَةُ تَنْزِعُ خُلْخَالَهَا، وَبِلَالٌ يَقْبِضُ، حَتَّى إِذَا لَمْ يَرَ أَحَدًا يُعْطِي شَيْئًا أَقْبَلَ بِلَالٌ وَأَقْبَلْنَا
رقم طبعة با وزير = (3315)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ نحوه.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح إسناده ضعيف
বাংলা অনুবাদ
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার ঈদের দিন আমি, হাসান, হুসাইন ও উসামাহ বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হই। আর আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হন। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি ভাষনে বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই এটা সাদাকাহ করার দিন। কাজেই তোমরা সাদাকাহ করো।” রাবী বলেন, “অতঃপর লোকজন স্বীয় আংটি ও কাপড় খুলে দিতে লাগলেন। আর বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা গ্রহণ করছিলেন। অতঃপর যখন দান করার মতো কাউকে দেখতে না পেলেন, তখন তিনি নারীদের কাছে আগমন করেন এবং বলেন, “হে নারী সমাজ, নিশ্চয়ই এটা সাদাকাহ করার দিন। কাজেই তোমরা সাদাকাহ করো।” রাবী বলেন, “অতঃপর নারীরা কানের দুল, আংটি প্রভৃতি খুলে দিতে লাগলেন। আর বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা গ্রহণ করছিলেন। অতঃপর যখন দান করার মতো কাউকে দেখতে না পেলেন, তখন বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু চলে আসেন, এবং আমরাও চলে আসি।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ৯৬৪; সহীহ মুসলিম: ৮৮৪; দারেমী: ১/৩৭৮; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৮০; আবূ দাঊদ: ১১৪১; ইবনু মাজাহ: ১২৭৩; দারেমী: ১/৩৭৭-৩৭৮; নাসাঈ: ৩/১৮৬-১৮৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩১৫)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، وَعِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَا: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ: أَشْهَدُ بِاللَّهِ لَسَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ، يَقُولُ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَرَّةِ الْمَدِينَةِ مُمْسِيًا، فَاسْتَقْبَلَنَا أُحُدٌ، فَقَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي أُحُدًا ذَهَبًا أُمْسِي ثَالِثَةً وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ إِلَّا دِينَارٌ أَرْصُدُهُ لِدَيْنٍ، إِلَّا أَنْ أَقُولَ بِهِ فِي عِبَادِ اللَّهِ هَكَذَا وَهَكَذَا» - يَعْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ، وَمِنْ خَلْفِهِ، وَعَنْ يَمِينِهِ، وَعَنْ شِمَالِهِ، ثُمَّ قَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ إِنَّ الْمُكْثِرِينَ هُمُ الْأَقَلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»، ثُمَّ قَالَ لِي: «لَا تَبْرَحْ حَتَّى آتِيَكَ»، فَانْطَلَقَ، ثُمَّ جَاءَ فِي سَوَادِ اللَّيْلِ، فَسَمِعْتُ صَوْتًا، فَخَشِيتُ أَنْ يَكُونَ ضِرَارَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَهَمَمْتُ أَنْ أَنْطَلِقَ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَهُ، فَجَلَسْتُ حَتَّى جَاءَ، فَقُلْتُ لَهُ: إِنِّي أَرَدْتُ أَنْ آتِيَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَكَ لِي، وَسَمِعْتُ صَوْتًا، قَالَ: «ذَاكَ جِبْرِيلُ جَاءَنِي، فَأَخْبَرَنِي أَنَّ مَنْ مَاتَ [ص:119] مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ»، فَقُلْتُ وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ، فَقَالَ: «وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ» قَالَ جَرِيرٌ: قَالَ الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مِثْلَ ذَلِكَ
رقم طبعة با وزير = (3316) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أُضْمِرَ فِي هَذَا الْخَبَرِ شَرْطَانِ: أَحَدُهُمَا أَنَّ مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ إِنْ تَفَضَّلُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا عَلَيْهِ بِالْعَفْوِ عَنْ جِنَايَاتِهِ الَّتِي لَهُ فِي دَارِ الدُّنْيَا، لِأَنَّ الْمَرْءَ لَا يَخْلُو مِنَ ارْتِكَابِ بَعْضِ مَا حُظِرَ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا، أُضْمِرَ فِي الْخَبَرِ هَذَا الشَّرْطُ، وَالشَّرْطُ الثَّانِي: مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، يُرِيدُ بَعْدَ تَعْذِيبِهِ إِيَّاهُ فِي النَّارِ، نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْهَا، إِنْ لَمْ يَتَفَضَّلْ عَلَيْهِ [ص:120] بِالْعَفْوِ قَبْلَ ذَلِكَ، لِئَلَّا يَبْقَى فِي النَّارِ مَعَ مَنْ أَشْرَكَ بِهِ فِي الدُّنْيَا، فَهَذَانِ الشَّرْطَانِ مُضْمَرَانِ فِي هَذَا الْخَبَرِ، لَا أَنَّ كُلَّ مَنْ مَاتَ وَلَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ لَا مَحَالَةَ
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (826): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
বাংলা অনুবাদ
যাইদ বিন ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিয়ে বলছি, অবশ্যই আমি রাবাযা নামক জায়গায় আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে শুনেছি। তিনি বলেছেন, “আমি একবার বিকেলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মদীনার কঙ্করময় এলাকায় হাঁটছিলাম। অতঃপর আমাদের সামনে উহুদ পাহাড় পড়লো। তখন তিনি বলেন, “হে আবূ যার, আমার কাছে উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকলেও আমি ভালবাসবো না যে, আমি তৃতীয় দিনে উপনীত হবো এমন অবস্থায় যে, সেখান থেকে এক দীনার আমার কাছে অবশিষ্ট থাকবে। তবে এক দীনার ব্যতীত, যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে দেই। আমি সেগুলো আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এভাবে এভাবে খরচ করবো।” অর্থাৎ সামনে ও পিছনে। তারপর তিনি বলেন, “হে আবূ যার, নিশ্চয়ই সম্পদশালীরা কিয়ামতের দিন স্বল্প সাওয়াবের অধিকারী হবে।” তারপর তিনি আমাকে বলেন, “আমি তোমার কাছে না আসা পর্যন্ত তুমি এখানেই থাকো।” অতঃপর তিনি চলে যান। তারপর রাত ঘনিয়ে আসে। অতঃপর আমি একটি আওয়াজ শুনতে পাই। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন ক্ষতি হওয়ার আশংকা করলাম, ফলে আমি তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য উদ্যত হই। তারপর আমার তাঁর কথা মনে পড়লো। ফলে তিনি না আসা পর্যন্ত আমি বসে থাকলাম। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আপনার কাছে আসতে চেয়েছিলাম। তারপর আপনার কথা আমার স্মরণ হয়। আর আমি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “ওটা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম (আসার আওয়াজ), তিনি আমার কাছে এসেছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে জানিয়েছেন, “আমার উম্মতের মাঝে যে ব্যক্তি মারা যাবে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” আমি বললাম, “যদি সে ব্যভিচার করে, যদি সে চুরি করে?” জবাবে তিনি বলেন, “যদিও সে ব্যভিচার করে, যদিও সে চুরি করে।” জারীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আ‘মাশ রহিমাহুল্লাহ আবূ সালিহ থেকে, তিনি আবুদ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে দুটি শর্ত উহ্য রয়েছে। একটি হলো, যে ব্যক্তি মারা যাবে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদি আল্লাহ দুনিয়াতে তার কৃত পাপসমূহ ক্ষমা করে তার উপর অনুগ্রহ করেন। কেননা দুনিয়াতে কোন মানুষ নিষিদ্ধ পাপ কাজ করা থেকে মুক্ত নয়। এই হাদীসে এই শর্তটি উহ্য রয়েছে। দ্বিতীয় শর্ত হলো, যে ব্যক্তি মারা যাবে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেওয়ার পর (আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই) যদি আল্লাহ তাকে এর আগে ক্ষমা করার মাধ্যমে অনুগ্রহ না করেন। তাদের পরে বের করার কারণ হলো যাতে তারা, দুনিয়াতে যারা শিরক করতো, তাদের সাথে স্থায়ীভাবে জাহান্নামে বসবাস না করে।” এই হাদীসে এই দুটি শর্ত উহ্য রয়েছে। এটা উদ্দেশ্য নয় যে, যে কেউ শিরক না করে মারা যাবে, সে অবধারিতভাবেই (প্রথমেই) জান্নাতে প্রবেশ করবে।
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৫২; সহীহুল বুখারী: ২৩৮৮; সহীহ মুসলিম: ২/৬৮৭; তিরমিযী: ২৬৪৪; সুনান বাইহাকী: ১০/১৮৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৮২৬)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، [ص:121] عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقْرَأُ: «» أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ
[التكاثر: 1] «»، قَالَ: «» يَقُولُ ابْنُ آدَمَ: مَالِي مَالِي، وَهَلْ لَكَ مِنْ مَالِكَ إِلَّا مَا أَكَلْتَ فَأَفْنَيْتَ، أَوْ لَبِسْتَ فَأَبْلَيْتَ، أَوْ تَصَدَّقْتَ فَأَمْضَيْتَ «»
رقم طبعة با وزير = (3317)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (699). تنبيه!! رقم (699) = (701) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
বাংলা অনুবাদ
মুতার্রিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন শিখখীর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর বাবা বলেন, আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলাম, এসময় তিনি তেলাওয়াত করছিলেন: “প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে।” (সূরা আত তাকাসুর:১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আদম সন্তান বলে “আমার সম্পদ, আমার সম্পদ।” বস্তুত তোমার সম্পদ তো সেটাই যা তুমি খেয়ে নিঃশেষ করে ফেলেছো, যা তুমি পরিধান করে পুরাতন করে ফেলেছো এবং যা তুমি সাদাকা করে (পরকালের জন্য) অগ্রে পাঠিয়ে দিয়েছো।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ২৯৫৮; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৪; সুনান আত তিরমিযী: ২৩৪২; আন নাসাঈ: ৬/২৩৮; সুনান আল বাইহাকী: ৪/৬১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪০৫৫; মুসনাদুশ শিহাব: ১২১৭; আত তায়ালিসী: ১১৪৮; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২/৫৩৩। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মুশকিলাতুল ফাক্বর: ১১৩।)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَقُولُ الْعَبْدُ: مَالِي، وَإِنَّمَا لَهُ مِنْ مَالِهِ مَا أَكَلَ فَأَفْنَى، أَوْ لَبِسَ فَأَبْلَى، أَوْ تَصَدَّقَ فَأَمْضَى، وَمَا سِوَاهُ فَهُوَ ذَاهِبٌ وَتَارِكُهُ لِلنَّاسِ»
رقم طبعة با وزير = (3318)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م (8/ 210).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
বাংলা অনুবাদ
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তান বলে, “আমার সম্পদ, আমার সম্পদ।” বস্তুত তার সম্পদ তো সেটাই যা সে খেয়ে নিঃশেষ করে ফেলেছে, যা সে পরিধান করে পুরাতন করে ফেলেছে এবং যা সে সাদাকা করে (পরকালের জন্য) অগ্রে পাঠিয়ে দিয়েছে।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ২৯৫৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৬৮-৩৬৯; তিরমিযী: ২৩৪২; নাসাঈ: ৬/২৩৮; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৪; আত তায়ালিসী: ১১৪৮; হাকিম: ২/৫৩৪; বাগাবী: ৪০৫৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩১৮)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَلَّامُ بْنُ مِسْكِينٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ خُلَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَصَرِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَا طَلَعَتْ شَمْسٌ قَطُّ إِلَّا بِجَنْبَتَيْهَا مَلَكَانِ يُنَادِيَانِ، يُسْمِعَانِ مَنْ عَلَى الْأَرْضِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ: أَيُّهَا النَّاسُ هَلُمُّوا إِلَى رَبِّكُمْ مَا قُلَّ وَكَفَى خَيْرٌ مِمَّا كَثُرَ وَأَلْهَى، وَلَا [ص:122] غَرَبَتْ إِلَّا بِجَنْبَتَيْهَا مَلَكَانِ يُنَادِيَانِ: اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا وَأَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا»
رقم طبعة با وزير = (3319)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (920)، «تخريج فقه السيرة» (446)، وقد مضى طرف منه برقم (685). تنبيه!! رقم (685) = (686) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
বাংলা অনুবাদ
আবুদ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখনই সূর্য উদিত হয়, তখন তার দুই পার্শ্বে দুইজন ফেরেস্তা অবস্থান নিয়ে জিন ও মানুষ ছাড়া পৃথিবীর সমস্ত মাখলূকাতকে শুনিয়ে আহবান করেন, “হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের প্রভুর দিকে আসো। যা অল্প হয় কিন্তু জীবন-যাপনের জন্য যথেষ্ট হয়, সেটা উত্তম সেই জীবনোপকরণ অপেক্ষা যা বেশি হয় এবং ভুলিয়ে দেয়। অনুরুপভাবে যখনই সূর্য অস্ত যায়, তখন তার দুই পার্শ্বে দুইজন ফেরেস্তা ডেকে বলেন, “হে আল্লাহ, আপনি খরচকারীকে বিনিময় দান করুন এবং সম্পদ (খরচ না করে) ধারণকারীকে ধ্বংস করে দিন।”[1]
[1] আত তায়ালিসী: ৯৭৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৯৭; হাকিম: ২/৪৪৫; বাগাবী: ৪০৪৫; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১২২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৯২০)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّكُمْ مَالُهُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِ وَارِثِهِ»؟، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مِنَّا أَحَدٌ إِلَّا مَالُهُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِ وَارِثِهِ، قَالَ: «اعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ» قَالُوا: مَا نَعْلَمُ إِلَّا ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «مَا مِنْكُمْ رَجُلٌ إِلَّا مَالُ وَارِثِهِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِهِ»، قَالُوا: كَيْفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِنَّمَا مَالُ أَحَدِكُمْ مَا قَدَّمَ، وَمَالُ وَارِثِهِ مَا أَخَّرَ»
رقم طبعة با وزير = (3320)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1486).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
বাংলা অনুবাদ
আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মাঝে কার কাছে নিজের সম্পদ অপেক্ষা তার উত্তরাধিকারীর সম্পদ বেশি প্রিয়?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের প্রত্যেকের কাছেই তো উত্তরাধিকারীর সম্পদ অপেক্ষা নিজের সম্পদ বেশি প্রিয়! ”রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা ভেবে দেখো, কী বলছো?” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা তো এটাই জানি।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকের কাছেই নিজের সম্পদ অপেক্ষা তার উত্তরাধিকারীর সম্পদ বেশি প্রিয়! ”সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সেটা কিভাবে?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের নিজের সম্পদ সেটাই, যা সে আগে পাঠিয়েছে আর উত্তরাধিকারীদের সম্পদ সেটাই, যা সে রেখে যায়।”[1]
[1] মুসনাদ আবূ ইয়ালা: ৫১৬৩; বাগাবী: ৪০৫৭; সহীহুল বুখারী: ৬৪৪২; মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৮২; নাসাঈ: ৬/২৩৭-২৩৮; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৬৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৪৮৬)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الرُّومِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو زُمَيْلٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ الْأَكْثَرِينَ هُمُ الْأَسْفَلُونَ، إِلَّا مَنْ قَالَ بِالْمَالِ هَكَذَا وَهَكَذَا، وَكَسَبُهُ مِنْ طَيِّبٍ»
رقم طبعة با وزير = (3321)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح دون زيادة: «وَكَسَبُهُ مِنْ طَيِّبٍ»؛ فإنها منكرة - «الصحيحة» (1766 التحقيق الثاني)، «ضعيف الموارد» (95/ 835).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف
বাংলা অনুবাদ
আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই সম্পদশালীরা (কিয়ামতের দিন) নিম্নস্তরে থাকবে। তবে যে ব্যক্তি এরকম এরকম দান করবে, সে ব্যতীত। আর সে পবিত্র পন্থায় উপার্জন করে।”[1]
[1] ইবনু মাজাহ: ৪১৩০; মিসবাহুয যুজাজাহ: ২৬১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে “আর সে পবিত্র পন্থায় উপার্জন করে” অংশ বাদে বাকী অংশকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৪৮৬)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ الْبَخِيلِ [ص:124] وَالْمُتَصَدِّقِ كَمَثَلِ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا جُبَّتَانِ أَوْ جَنَّتَانِ مِنْ حَدِيدٍ مِنْ لَدُنْ ثُدِيِّهِمَا إِلَى تَرَاقِيهِمَا، فَأَمَّا الْمُنْفِقُ فَكُلَّمَا تَصَدَّقَ وَحَدَّثَ نَفْسَهُ ذَهَبَتْ عَنْ جِلْدِهِ، حَتَّى تَعْفُوَ أَثَرَهُ وَتَجُوزَ بَنَانَهُ، وَالْبَخِيلُ كُلَّمَا أَنْفَقَ شَيْئًا وَحَدَّثَ بِهِ نَفْسَهُ لَزِمَتْهُ وَعَضَّتْ كُلُّ حَلْقَةٍ مِنْهَا مَكَانَهَا، فَهُوَ يُوَسِّعُهَا وَلَا تَتَّسِعُ»
رقم طبعة با وزير = (3322)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (3302). تنبيه!! رقم (3302) = (3313) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح
বাংলা অনুবাদ
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দানকারী ও কৃপণ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হলো এমন দুই ব্যক্তির ন্যায়, যারা বুক থেকে কন্ঠাস্থি পর্যন্ত লৌহ ঢাল বা জুব্বা পরিহিত। অতঃপর দানশীল ব্যক্তি যখন দান করে এবং মনে মনে ইচ্ছা করে, তখন তার ঢাল শরীরে সম্প্রসারিত হয়, এমনকি পদচিহ্ন মুছে দেয় এবং তা হাতের আঙ্গুল অতিক্রম করে। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করতে চায়, তখন প্রতিটি আংটি নিজ নিজ স্থান আঁকড়ে ধরে, সে ব্যক্তি সেটাকে প্রশস্ত করতে চায়, কিন্তু সেটা প্রশস্ত হয় না। সে পুনরায় সেটাকে প্রশস্ত করতে চায়, কিন্তু সেটা প্রশস্ত হয় না।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫৬; হুমাইদী: ১০৬৪; সহীহুল বুখারী: ১৪৪৩; সহীহ মুসলিম: ১০২১; নাসাঈ: ৫/৭০-৭১; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৬; বাগাবী: ১৬৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩০২)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ مَلَكًا بِبَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَقُولُ: مَنْ يُقْرِضِ الْيَوْمَ يُجْزَ غَدًا، وَمَلَكٌ بِبَابٍ آخَرَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا، وَأَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا»
رقم طبعة با وزير = (3323)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (920).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
বাংলা অনুবাদ
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই জান্নাতের এক দরজায় একজন ফেরেস্তা বলেন, “যে ব্যক্তি আজকে ঋণ দিবে, তাকে আগামীকাল প্রতিদান দেওয়া হবে। আরেক দরজায় আরেকজন ফেরেস্তা বলেন, “হে আল্লাহ, আপনি খরচকারীকে প্রতিবদলা দিন আর (দান না করে) সম্পদ ধারণকারীকে ধ্বংস করে দিন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩০৫-৩০৬; নাসাঈ আল কুবরার বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ১০/১৫০; সহীহুল বুখারী: ১৪৪২; সহীহ মুসলিম: ১০১০; বাগাবী: ১৬৭৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৯২০)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لِأَنْ يَتَصَدَّقَ الْمَرْءُ فِي حَيَاتِهِ وَصِحَّتِهِ بِدِرْهَمٍ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِمِائَةِ دِرْهَمٍ عِنْدَ مَوْتِهِ» *
رقم طبعة با وزير = (3323 / م)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (1321)، «ضعيف أبي داود» (494). * قال الناشر: سقط هذا الحديث مِنَ (الأصل)، ولقد كتب شيخُنا على هامش (الأصل) ما نَصُّه: «هنا في «طبعة المؤسسة» حديثُ أبي سعيدٍ: «لأَنْ يَتَصَدَّقَ الْرَّجُل فِي حَيَاتِهِ ... »؛ كأنَّهُ سقطَ مِنَ الطابعِ - أوالناسخ -؛ فَإِنَّهُ مذكور في «الموارد» (821)، كما أنَّه سقطَ من هنا الحديثُ الآتي بعده، عن أبي الدرداء؛ فَليُنقَل إليه».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف
বাংলা অনুবাদ
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জীবদ্দশায় কোন ব্যক্তির এক দিরহাম দান করা মুমূর্ষু অবস্থায় একশ দিরহাম দান করার চেয়ে উত্তম।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ২৮৬৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফাহ: ১৩২১)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ، قَالَ: «أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَخْشَى الْفَقْرَ وَتَأْمَلُ الْغِنَى، وَلَا تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ، قُلْتَ: لِفُلَانٍ كَذَا وَلِفُلَانٍ كَذَا أَلَا وَقَدْ كَانَ لِفُلَانٍ»
رقم طبعة با وزير = (3324)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - وقد مضى (435). تنبيه!! رقم (435) = (434) من «طبعة المؤسسة». لكنه غير موجود بالرقم المشار إليه وإنما موجود برقم (3301) الموافق لـ (3312) - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
বাংলা অনুবাদ
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন সাদাকাহ মহোত্তম?” জবাবে তিনি বলেন, “এমন অবস্থায় দান করা যে, তুমি সুস্থ, ব্যয়কুন্ঠ, দারিদ্রের ভয় করো এবং স্বাবলম্বী হওয়ার আশা করো। প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়া পর্যন্ত তুমি সাদাকাহ করতে বিলম্ব করবে না। আর তখন তুমি বলবে, “ওমুককে এটা দিলাম, ওমুককে ওটা দিলাম।” জেনে রাখো, সেটা ইতোমধ্যে ওমুকের হয়েই গেছে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫; সহীহ মুসলিম: ১০৩২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৫৪; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৯; সহীহুল বুখারী: ১৪১৯; ইবনু মাজাহ: ২৭০৬; বাগাবী: ১৬৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ:২৫৫১)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مِرْدَاسٍ، بِالْأُبُلَّةِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَبِيبَةَ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَثَلُ الَّذِي يَتَصَدَّقُ عِنْدَ الْمَوْتِ مَثَلُ الَّذِي يُهْدِي بَعْدَمَا يَشْبَعُ»
رقم طبعة با وزير = (3325)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (1322)، «المشكاة» (1870 / التحقيق الثاني).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null
বাংলা অনুবাদ
আবুদ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় দান করে, তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ার পর (বাকী খাবার) অন্যকে হাদিয়া দেয়।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৬৭৪০; আত তায়ালিসী: ৯৮০; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৯৭; দারেমী: ২/৪১৩; তিরমিযী: ১২১৩; আবূ দাউদ: ৩৯৬৮; নাসাঈ: ৬/২৩৮; হাকিম: ২/২১৩; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯০। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফাহ: ১৩২২)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ الْبَزَّازُ، بِالْفُسْطَاطِ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، [ص:127] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ يَوْمًا لِأَصْحَابِهِ: «تَصَدَّقُوا»، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عِنْدِي دِينَارٌ، قَالَ: «أَنْفِقْهُ عَلَى نَفْسِكَ»، قَالَ: إِنَّ عِنْدِي آخَرَ، قَالَ «أَنْفِقْهُ عَلَى زَوْجَتِكَ»، قَالَ: «إِنَّ عِنْدِي آخَرَ، قَالَ: » أَنْفِقْهُ عَلَى وَلَدِكَ «، قَالَ: إِنَّ عِنْدِي آخَرَ، قَالَ: » أَنْفِقْهُ عَلَى خَادِمِكَ «، قَالَ: إِنَّ عِنْدِي آخَرَ، قَالَ» أَنْتَ أَبْصَرُ «
رقم طبعة با وزير = (3326)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1484).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
বাংলা অনুবাদ
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বলেন, “তোমরা সাদাকাহ করো।” তখন এক ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার কাছে একটি দীনার রয়েছে।” তিনি বললেন, “এটা তুমি তোমার নিজের জন্য খরচ করো।” সেই ব্যক্তি বললেন, “আমার কাছে আরেক দীনার রয়েছে।” তিনি বললেন, “এটা তুমি স্ত্রীর জন্য খরচ করো।” সেই ব্যক্তি বললেন, “আমার কাছে আরেক দীনার রয়েছে।” তিনি বললেন, “এটা তুমি সন্তানের জন্য খরচ করো।” সেই ব্যক্তি আবার বললেন, “আমার কাছে আরেক দীনার রয়েছে।” তিনি জবাবে বললেন, “এই ব্যাপারে তুমি ভালো বুঝো।”[1]
[1] ইমাম শাফেঈ: ২/৬৩-৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫১; আবূ দাঊদ: ১৬৯১; নাসাঈ: ৫/৬২; তুহফাতুল আহওয়াযী: ৯/৪৯৩-৪৯৪; হাকিম: ১/৪১৫; সুনান বাইহাকী: ৭/৪৬৬; বাগাবী: ১৬৮৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ:১৪৮৪)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، بِالصُّغْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ *، عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ: «كُنَّا نَتَحَامَلُ عَلَى ظُهُورِنَا فَيَجِيءُ الرَّجُلُ بِالشَّيْءِ فَيُتَصَدَّقُ بِهِ، فَجَاءَ رَجُلٌ بِنِصْفِ صَاعٍ، وَجَاءَ إِنْسَانٌ بِشَيْءٍ كَثِيرٍ، فَقَالُوا: إِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْ صَدَقَةِ هَذَا، وَقَالُوا: هَذَا مُرَاءٍ، فَنَزَلَتِ: الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي [ص:128] الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ
[التوبة: 79]»
رقم طبعة با وزير = (3327)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ، م. * [شُعْبَةُ] قال الشيخ: ومِنْ طَريِقِه أخرجه البخاري (4668)، ومسلم (3/ 88)، وابنُ خُزيمة (4/ 102 - 103)، وغيرهم. وتَحَرَّف أبُو مَسعودٍ إِلَى ابن مَسعودٍ على بعض النُّساخ، أو على الهيثمي، فأورده في «الموارد» على أَنَّهُ مِنَ «الزَّوَائد»، فَوهِمَ كَمَا نَبَّه عَلَيهِ الحَافِظ فِي حَاشِيَتِهِ عَلَيه (ص 431).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
বাংলা অনুবাদ
আবূ মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পিঠে মালামাল বহন করতাম (অর্থাৎ আমরা দিন মজুরের কাজ করতাম)। অতঃপর কোন ব্যক্তি সামান্য কিছু উপার্জন করে, তা সাদাকাহ করতেন, অপর কোন ব্যক্তি অর্ধ সা‘ সাদাকাহ নিয়ে আসতেন আবার কেউ অনেক জিনিস নিয়ে আসতেন। তখন লোকজন বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ এই (সামান্য) সাদাকাহ থেকে মুখাপেক্ষীহীন” এবং তারা আরোও বলে, “এটা লোক দেখানো কাজ।” তখন এই আয়াত নাযিল হয়, الَّذِينَ يَلْمِزُونَ المطَّوِّعين مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يجدون إلا جهدهم “মুমিনদের মাঝে যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে দান করে আর যারা নিজেদের শ্রম ছাড়া আর কিছুই পায় না- যারা তাদের বদনাম করে...।”(সূরা তাওবাহ: ৭৯)[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১৪১৫; সহীহ মুসলিম: ১০১৮; নাসাঈ: ৫/৫৯-৬০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৫৩; তাবারানী আল কাবীর:১৭/৫৩৫;মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৭৩; ইবনু মাজাহ: ৪১৫৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান:৩৩২৭)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ حِبَّانَ أَبُو جَابِرٍ، بِالْمَوْصِلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَيَّاضٍ الزِّمَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ عَزْرَةَ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي عُذْرَةَ أَعْتَقَ مَمْلُوكًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ مِنْهُ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَبَاعَهُ، وَدَفَعَ إِلَيْهِ ثَمَنَهُ، وَقَالَ: «ابْدَأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا، ثُمَّ عَلَى أَبَوَيْكَ، ثُمَّ عَلَى قَرَابَتِكَ، ثُمَّ هَكَذَا، ثُمَّ هَكَذَا»
رقم طبعة با وزير = (3328)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
বাংলা অনুবাদ
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “বানূ উযরাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তার গোলামকে নিজের মৃত্যুর পর আজাদ ঘোষনা করেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই গোলামের কাছে লোক পাঠান। তারপর তিনি তাকে বিক্রি করে তার মুল্য তাকে (তার মালিককে) প্রদান করেন এবং বলেন, “তুমি নিজের থেকে শুরু করবে। নিজের উপর দান করবে। তারপর তোমার বাবা-মার জন্য দান করবে। তারপর তোমার নিকটাত্নীয়ের জন্য দান করবে। তারপর এভাবে, তারপর এভাবে (দান করবে)।”[1]
[1] ইমাম শাফেঈ: ২/৬৮; সহীহ মুসলিম: ৯৯৭; নাসাঈ: ৭/৩০৪; সুনান বাইহাকী: ১০/৩০৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৬৬৬৪; আত তায়ালিসী: ১৭৪৮; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৬৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩২৮)
মূল আরবি
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ أَنْصَارِيٍّ بِالْمَدِينَةَ مَالًا، وَكَانَ أَحَبَّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرَحَاءُ، وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ، قَالَ أَنَسٌ: فَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
[آل عمران: 92]، قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ فِي كِتَابِهِ: لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
[آل عمران: 92]، وَإِنَّ أَحَبَّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرَحَاءُ، فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللَّهِ، فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ حَيْثُ شِئْتَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَخٍ ذَاكَ مَالٌ رَابِحٌ، بَخٍ ذَاكَ مَالٌ رَابِحٌ، وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ فِيهَا، وَإِنِّي أَرَى [ص:130] أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الْأَقْرَبِينَ»، فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِبِهِ وَبَنِي عَمِّهِ
رقم طبعة با وزير = (3329)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحاديث البيوع».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
বাংলা অনুবাদ
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আনসারীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী ছিলেন। আর তার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় সম্পদ ছিল বাইরুহা নামক বাগান। এটা মাসজিদে নববীর সামনে ছিলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বাগানে প্রবেশ করতেন এবং সেখানকার মিষ্টি পানি পান করতেন।” আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর যখন এই আয়াত নাযিল হয়, لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ অর্থাৎ তোমরা কখনই পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষন না তোমরা খরচ করো সেই সম্পদ থেকে যা তোমরা পছন্দ করো। (সূরা আলু ইমরান: ৯২), তখন আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ অর্থাৎ তোমরা কখনই পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষন না তোমরা খরচ করো সেই সম্পদ থেকে যা তোমরা পছন্দ করো। (সূরা আলু ইমরান: ৯২), আর আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো বাইরুহা বাগান। এটা আমি আল্লাহর জন্য দান করে দিলাম। আমি আল্লাহর কাছে এর সাওয়াব ও সঞ্চয় কামনা করি। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যেখানে ইচ্ছা এটা ব্যয় করুন।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “চমৎকার! এটা তো খুবই লাভজনক সম্পদ। চমৎকার! এটা তো খুবই লাভজনক সম্পদ। তুমি এই ব্যাপারে যা বললে, তা তো আমি শুনলাম। আর আমার মত হলো, তুমি এটাকে তোমার নিকটাত্নীয়ের মাঝে খরচ করবে।” তখন আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি তা-ই করবো।” তারপর আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার নিকটাত্নীয় ও চাচাতো ভাইদের মাঝে বন্টন করে দেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৫৯৫-৫৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৪১;দারেমী: ২/৩৯০; সহীহুল বুখারী: ১৪৬১; সহীহ মুসলিম: ৯৯৮; নাসাঈর বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ১/৯০; সুনান বাইহাকী: ৬/১৬৪-১৬৫;বাগাবী: ১৬৮৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান:৩৩২৯)
