লিঙ্গ অধ্যয়নঃ একটি সূচনা

Print Friendly, PDF & Email

সূচিপত্র

ভূমিকা

চলুন শুরু করা যাক ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট এবং সেক্স-ওয়ার্কার (sex-worker) আরডেন অফ ইডেনের কথা দিয়ে, যিনি লিঙ্গ পরিচয়ের অর্থ সম্পর্কে বলেছেন-

“যখন আমরা বলি, “আমি একজন নারী হিসেবে পরিচয় দেই,” তখন একটা সাধারণ ভুল ধারণা হচ্ছে যে, “আমি একজন নারী”- এই কথাটি একটা জাদুকরি মন্ত্র, যা একজন ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নারী বানিয়ে দেয়। কিন্তু এই কথাটি দিয়ে আমরা সেটা বোঝাতে চাচ্ছি না। সমস্ত প্রাসঙ্গিক প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে জন্মের সময় কারো নির্ধারিত সেক্স, এবং তাদের অনুভূত লিঙ্গ পরিচয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। লিঙ্গ পরিচয় একটি স্থায়ী [মানসিক] গঠন যা একজন মানুষের অংশ। […] আমি যখন বলি, “আমি একজন নারী হিসেবে পরিচয় দেই,” তখন আমি আপনাকে জানাচ্ছি সেই গঠনটির ব্যাপারে। আমার লিঙ্গ পরিচয়।” [1]

কিভাবে আমরা “লিঙ্গ” নির্ধারণ করি? যখন আমরা লিঙ্গ সম্পর্কে কথা বলি, তখন আমরা “পুরুষ” এবং “মহিলা” এর মতো বিভাগগুলি সম্পর্কে চিন্তা করি। “লিঙ্গ” শব্দটি একাধিক বিভাগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়- মানুষ যেভাবে আচরণ করে, নিজেদেরকে প্রকাশ করে এবং নিজেদের এবং বাইরের বিশ্ব সম্পর্কে চিন্তা করে। অনেক লোক বিশ্বাস করে যে লিঙ্গ একটি নির্দিষ্ট ধারণা, একজন ব্যক্তির যৌন অঙ্গের সাথে আবদ্ধ। লিঙ্গ পরিচয় গবেষণার মাধ্যমে আমরা লিঙ্গ পরিচয়কে একটি বহুমাত্রিক এবং গতিশীল মানসিক গঠন হিসাবে বুঝতে পারি, যা কেবল যৌনাঙ্গের থেকে আলাদাই নয়, বরং এতটাই বৈচিত্র্যময় একটা বিভাগ যে এটার কোনো সাধারণ ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব বা “Master Narrative” দ্বারা ব্যাখ্যা সম্ভব নাও হতে পারে।

মানুষ যখন নিজেদেরকে ট্রান্সজেন্ডার বা নন-বাইনারি বলে দাবি করছে, তখন তারা বলছে যে তাদের লিঙ্গ পরিচয় (অর্থাৎ তাদের অভ্যন্তরীন মানসিক কাঠামো) লিঙ্গের ঐতিহ্যগত, বাইনারি ধারণার সাথে সারিবদ্ধ নয়। তাল গাছের সাথে তুলনায় ফেরত গেলে, দাবিটি হচ্ছে যে তাল গাছটি আসলে তাল গাছ নয়, বরং সর্বদা আম গাছ-ই ছিল। লিঙ্গ পরিচয়ের একাধিক বৈচিত্র্য বিভাগ রয়েছে এবং এই বিভাগের মধ্যেই আরো একাধিক বিভাগ রয়েছে। শুধুমাত্র ১৯৭৩ সালে APA দ্বারা সমকামিতা একটি মানসিক রোগ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে একটি বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয় থাকা, শুধুমাত্র সম্প্রতি ২০১৩ সালে একটি মানসিক ব্যাধি হিসাবে সরানো হয়েছিল৷ এটি প্রকাশ করে সাম্প্রতিক সময়ে লিঙ্গ বৈচিত্র্যকে কীভাবে দেখা হয়েছে- একটি “অসুস্থতা” হিসাবে যার জন্য “চিকিত্সা” প্রয়োজন৷

জেন্ডার আইডেন্টিটি গবেষণার ইতিহাস হলো বিজ্ঞানের নিজের ভুল থেকে শেখার একটি দীর্ঘ গল্প; একটি মানসিক ব্যাধি হিসাবে বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয়কে ধারণা করা থেকে শুরু করে লিঙ্গের ঘটনাটি বর্ণনা করার জন্য একটি Queer Humanistic, Intersectional Transfeminist পদ্ধতি গ্রহণ করা। আমরা এই নিবন্ধটি জুড়ে দেখতে পাব, সমালোচনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার যা নারীবাদী গবেষকদের দ্বারা ব্যবহৃত হয় যাতে বৈচিত্র্যের দমনের বিভিন্ন রূপগুলি তুলে ধরা হয়। অধিকন্তু, নারীবাদী বক্তৃতার মধ্যে সমালোচনার এই ব্যাপকতা আরও ভাল বোঝার মুখে নারীবাদী তত্ত্বের উন্মুক্ততা প্রকাশ করে।

জুডিথ বাটলার এবং জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি থিওরি

জুডিথ বাটলার (Judith Butler) জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি থিওরিকে জনপ্রিয় করার জন্য বিখ্যাত। যদিও জুডিথ বাটলারের গবেষণা লিঙ্গ সম্পর্কিত Queer Feminist তত্ত্বের সূচনা, তবুও তিনি প্রথম ব্যক্তি নন যিনি বলেছিলেন যে লিঙ্গ একজনের জৈবিক যৌন অঙ্গগুলির থেকে আলাদা। Simone de Beauvoir, যিনি জুডিথ বাটলারের অনুপ্রেরণা ছিলেন, তার ১৯৪৯ সালের বই, The Second Sex-এ লিখেছেন-

“কেউ [নারী হিসাবে] জন্ম নেয় না, বরং নারী হয়ে ওঠে।” [2]

অনুরূপ ধারণা জুডিথ বাটলারের কাজে প্রতিফলিত হয়, কিন্তু জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি থিওরির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগে, আমাদের প্রথমে সেই প্রসঙ্গটি বুঝতে হবে যেখান থেকে জুডিথ বাটলারের লেখার উদ্ভব হয়েছে।

বাটলারের যুগের নারীবাদী প্রেক্ষাপট

১৯৮৯ সালে প্রকাশিত বাটলারের বই, Gender Trouble: Feminism and the Subversion of Identity-এর প্রথম প্রকাশনার মূল ভূমিকাতে আমরা এই প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাই।

“সমসাময়িক নারীবাদীদের লিঙ্গের অর্থ নিয়ে বিতর্ক বারবার একটি নির্দিষ্ট সমস্যায় নিয়ে যায়; যেন লিঙ্গের অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত নারীবাদের ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।” [3]

এই বিবৃতিটি বাটলার-এর সময়ের দ্বিতীয়-তরঙ্গের নারীবাদীদের প্রতি একটি সমালোচনা; যারা বাটলারের মতে, নির্দিষ্ট পরিভাষা এবং ধারণা অনুসারে “নারী” ধারণাটিকে সংজ্ঞায়িত করতে চেয়েছিলেন। এর কারণ হলো যে দ্বিতীয় তরঙ্গের নারীবাদীরা বিশ্বাস করতেন যে যদি “নারী” সংজ্ঞায়িত না হতে পারে, নারীবাদ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। এই দ্বিতীয়-তরঙ্গের নারীবাদী পদ্ধতির সমস্যা হল অনুমান করা যে “নারী” একটি নির্দিষ্ট, সাধারণ শ্রেণীর মানুষ। এই সমস্যাটি জুডিথ বাটলার উল্লেখ করেছেন-

“লিঙ্গ বর্ণ, শ্রেণী, জাতিগত, যৌন এবং আঞ্চলিক পদ্ধতির সাথে discursively constituted পরিচয়গুলির সঙ্গে intersect করে। ফলস্বরূপ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক intersection থেকে “লিঙ্গ”-কে আলাদা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যেখানে লিঙ্গ-কে সর্বদা উত্পাদিত এবং বজায় রাখা হয়।” [4]

যেমনটি আমরা “লিঙ্গ দ্বিধাবিভক্তির ক্ষতিকরতা” অধ্যায়ে পরে দেখবো, বর্ণ, শ্রেণী, জাতিসত্তা, ধর্ম ইত্যাদির মত বিষয়গুলির intersection সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার শ্রেণী তৈরি করে৷ উদাহরণস্বরূপ, একজন আফ্রিকান আমেরিকান ব্যক্তির নারীত্বের অভিব্যক্তি এবং ধারণাগুলি একজন বাংলাদেশী ব্যক্তির নারীত্বের ধারণা এবং অভিব্যক্তি থেকে unique এবং স্বতন্ত্র হবে।

লিঙ্গের সংজ্ঞা

এই বৈচিত্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে, “নারী”-কে একটি স্থির বিষয় হিসাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা ভুল। তাহলে, জুডিথ বাটলার কীভাবে “নারী” ধারণাটিকে দেখেন? বরং, তিনি কিভাবে “লিঙ্গ” ধারণাটি দেখেন?

“লিঙ্গকে একটি স্থিতিশীল পরিচয় বা সংস্থার অবস্থান হিসাবে বিবেচনা করা উচিত না, যেখান থেকে বিভিন্ন আচরণের উদ্ভব হয়। বরং, লিঙ্গ হল একটি পরিস্থিতি যা সময়ের সাথে সংঘটিত হয়, যা একটি বহিরাগত স্থানের মধ্যে কৃতকর্মের একটি শৈলীকৃত পুনরাবৃত্তির (stylized repition) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। লিঙ্গের প্রভাব শরীরের stylization-এর মাধ্যমে উত্পাদিত হয় এবং তাই, জাগতিক উপায় হিসাবে [লিঙ্গ-কে] বোঝা উচিত, যেখানে শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, নড়াচড়া এবং বিভিন্ন ধরণের শৈলীগুলি একটি স্থায়ী লিঙ্গযুক্ত স্বত্বের বিভ্রম (illusion) তৈরি করে। এই প্রণয়নটি লিঙ্গের ধারণাটিকে পরিচয়ের একটি উল্লেখযোগ্য মডেলে থেকে এমন একটি মডেলে নিয়ে যায়, যেখানে একটি গঠিত সামাজিক সাময়িকতা হিসাবে লিঙ্গের ধারণার প্রয়োজন হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, যদি লিঙ্গ অভ্যন্তরীণভাবে অবিচ্ছিন্ন এমন কাজগুলির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে বস্তুর (substance) উপস্থিতিটি সুনির্দিষ্টভাবে এটি যে- এটি একটি নির্মিত পরিচয়, একটি সঞ্চালনামূলক কৃতিত্ব (performative accomplishment) যা অভিনেতা সহ সামাজিক দর্শকরা বিশ্বাস করে এবং সম্পাদন করে। লিঙ্গ একটি জিনিস যা কখনই সম্পূর্ণরূপে অভ্যন্তরীণ করা যায় না; “অভ্যন্তরীণ” হল একটি পৃষ্ঠের তাৎপর্য, এবং লিঙ্গের নিয়মগুলি শেষ পর্যন্ত phantasmic; এবং মূর্ত (embody) করা অসম্ভব।” [5]

এই সংজ্ঞার প্রধান অংশ হল যে, “লিঙ্গ হল একটি পরিচিতি যা সময়ের সাথে সংঘটিত হয়, যা একটি বহিরাগত স্থানের মধ্যে কৃতকর্মের একটি শৈলীকৃত পুনরাবৃত্তির (stylized repition) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।”

পারফর্মাটিভিটি, অভিনয়, নাট্যতা এবং ঐতিহাসিকতা

বাটলার যা ইঙ্গিত করছেন তা হল একটি adjective হিসাবে লিঙ্গ সম্পর্কে চিন্তা করার পরিবর্তে, লিঙ্গকে একটি verb হিসাবে দেখতে; সময় জুড়ে সমাজে লিঙ্গগত অর্থ বহন করে এমন আচরণের একটি সংগ্রহ হিসাবে। বাটলারের জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি থিওরি অন্যান্য স্কলার নিম্নরূপ উপায়ে বর্ণনা করেছেন-

“জেন্ডার পারফর্মাটিভিটির অর্থ হল যে একজন ব্যক্তির কথা বলার, চলাফেরা করার এবং ক্রিয়াকলাপ করার উপায় রয়েছে (যা deeds হিসাবেও পরিচিত) এবং এই কাজগুলি লিঙ্গভিত্তিক এবং নারীদের থেকে পুরুষদের আলাদা করে। একজন ব্যক্তি এই কাজগুলি সম্পাদন করে না, বরং কাজগুলি বোঝায় যে ব্যক্তিটি কী।” [6]

“কাজগুলি বোঝায় যে ব্যক্তিটি কী” শব্দটি বাটলারের জেন্ডার পারফর্মাটিভিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। যথা, আমাদের আচরণগুলি সামাজিক অভিনেতাদের দ্বারা এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয় যা লিঙ্গের ধারণা তৈরি করে। এই পদ্ধতিটি সামাজিক গঠনবাদ নামে পরিচিত- এই ধারণা যে আমাদের লিঙ্গগুলি সামাজিক নিয়মের পুনরাবৃত্তি দ্বারা নির্মিত হয়। বাটলারের দ্বিতীয় বই, Bodies That Matter, যা ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত, তিনি লিঙ্গের প্রসঙ্গে পারফর্মাটিভিটি বনাম থিয়েটার হিসাবে পারফরম্যান্স সম্পর্কে আমাদের সাধারণ বোঝার পার্থক্যের উপর জোর দিয়েছেন-

“পারফর্মাটিভিটি এইভাবে একটি একক “অভিনয়” নয়। এটি সর্বদা একটি আদর্শ বা নিয়মের পুনরাবৃত্তি। যে পরিমাণে লিঙ্গ বর্তমান সময়ে একটি “ক্রিয়াকলাপের” অবস্থা অর্জন করে, সেই পরিমাণে নাট্যতার নিয়মগুলিকে লুকিয়ে রাখা হয়, যার পুনরাবৃত্তি হয়। তদুপরি, [লিঙ্গ] প্রাথমিকভাবে নাটকীয় নয়। লিঙ্গের আপাত নাট্যতা এমন পরিমাণে উত্পাদিত হয় যে লিঙ্গের ঐতিহাসিকতা লুকিয়ে যায়। বিপরীতভাবে, লিঙ্গের ঐতিহাসিকতার সম্পূর্ণ প্রকাশের অসম্ভবতার কারণে নাট্যতা নির্দিষ্ট অনিবার্যতা অর্জন করে। Speech Act Theory-এর মধ্যে, একটি performative হল সেই বিতর্কমূলক অনুশীলন যা কোনোকিছুর নামকরণ করার মাধ্যমে সেই জিনিসটাকে তৈরি করে।” [7]

তদুপরি, জুডিথ বাটলার এটা পরিষ্কার করে দেন যে যেখানে একটি থিয়েটারে আমরা যে কোনো ভূমিকা বেছে নিতে পারি যা আমরা চাই, লিঙ্গ কোনো পছন্দ নয়-

“লিঙ্গ একটি artifice নয়, যা ইচ্ছামত গ্রহণ বা বন্ধ করা যায় এবং তাই, পছন্দের কোনো ভূমিকা নেই।” [8]

থিয়েটারে, নাটকের থিম আগেই ঠিক করা হয়। তবে, জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি অনুসারে, লিঙ্গের থিমগুলি নিয়ে আগে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। বরং সময়ের সাথে সাথে কিছু নির্দিষ্ট কাজের পুনরাবৃত্তি লিঙ্গের অর্থ তৈরি করে। প্রকৃতপক্ষে, জুডিথ বাটলার জেন্ডার পারফর্মাটিভিটির ক্ষেত্রে, “পুনরাবৃত্তি” ধারণার গুরুত্বের উপর আরও জোর দেন-

“এখানে, নিজেকে repeat করার ঝুঁকিতে, আমি পরামর্শ দেব যে কার্যকারিক পুনরাবৃত্তির প্রক্রিয়া, আদর্শের নিয়মিত এবং সীমাবদ্ধ পুনরাবৃত্তির বাইরে পারফর্মাটিভিটিকে বোঝা যায় না। এবং এই পুনরাবৃত্তি একটি বিষয় যা সঞ্চালিত হয় না; এই পুনরাবৃত্তিই একটি বিষয়কে সক্ষম করে এবং বিষয়ের জন্য সাময়িক অবস্থা গঠন করে। এই পুনরাবৃত্ততা বোঝায় যে “performance” একটি একক “অভিনয়” বা ঘটনা নয়, বরং একটি আচার-অনুষ্ঠান যা সীমাবদ্ধতা, বর্বরতা, মৃত্যু হুমকি, নিষেধাজ্ঞা ও নিষিদ্ধের শক্তির অধীনে পুনরাবৃত্তি হয়। এবং এতে উত্পাদনের আকৃতি বাধ্য হয়; কিন্তু, আমি জোর দিয়ে বলব, এটি আগে থেকেই সম্পূর্ণরূপে [লিঙ্গকে] নির্ধারণ করে না।” [9]

সামাজিক গঠনবাদ এবং গঠনবাদের সীমাবদ্ধতা

এইভাবে, যদিও জুডিথ বাটলার একটি সামাজিক গঠনবাদী (social constructivism) দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছেন, তিনি সামাজিক নির্ণয়বাদের ফাঁদে (Cultural determinism) পড়ছেন না। বাটলার লিঙ্গ ধারণাকে “পরম” বা সামাজিক মিথস্ক্রিয়া দ্বারা পূর্ব-নির্ধারিত হিসাবে দেখেন না। বরং, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া লিঙ্গ পরিচয় গঠন, আকার এবং নির্মাণ করে। এবং, নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য দ্বারা বর্ণিত লিঙ্গের চূড়ান্ত গঠন বিভিন্ন সামাজিক এবং পর্যায়ক্রমিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হতে পারে। বাটলারের তত্ত্বের অবিচ্ছেদ্য ধারণাটি হল যে লিঙ্গ শুধুমাত্র এটির কার্যকারিতার মধ্যেই বাস্তবায়িত হয় এবং লিঙ্গের একটি নির্দিষ্ট “অনুভূতির” মূর্ত প্রতীকের পরিবর্তে সামাজিক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করা উচিত। প্রকৃতপক্ষে, এটি পূর্ববর্তী রেফারেন্সে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বাটলার দাবি করেছেন যে “লিঙ্গের নিয়মগুলি অবশেষে phantasmic, মূর্ত করা অসম্ভব।” এটি তার অন্যান্য বিবৃতিতে প্রতিফলিত হয়, যেমন-

“লিঙ্গের অভিব্যক্তির পিছনে কোন লিঙ্গ পরিচয় নেই […] পরিচয় কার্যত “অভিব্যক্তি” দ্বারা গঠিত হয় যা অভিব্যক্তি-এর ফলাফল বলে মনে করা হয়।” [6]

যেমনটি আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে দেখব, সমসাময়িক স্কলাররা লিঙ্গ সম্পর্কে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, যেখানে লিঙ্গ পরিচয় মানবদেহের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি করা হয় এবং এটি একটি মানুষের মনোবিজ্ঞানের একটি অংশ, যেখানে ব্যক্তিগত লিঙ্গগত অর্থ যেমন গোষ্ঠীগত সম্পর্ক এবং প্রাথমিক গোষ্ঠী সনাক্তকরণকে মূর্ত হয়। তবে, বাটলার তার জেন্ডার পারফরম্যাটিভিটির সংস্কারের ক্ষেত্রে গঠনবাদের সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট, সেইসাথে জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি কী ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছিল-

“পারফর্মাটিভিটির এই সংস্কারের ফলে,

(a) নিয়ন্ত্রক যৌন শাসনের জোরপূর্বক এবং পুনরাবৃত্তিমূলক অনুশীলন ছাড়া জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি-কে Theorize করা সম্ভব না।

(b) বক্তৃতা/শক্তির সেই সমস্ত শাসনের দ্বারা শর্তযুক্ত সংস্থার -account-কে স্বেচ্ছাসেবী বা ব্যক্তিবাদের সাথে মিলিত করা যায় না; ভোগবাদের সাথে একেবারেই নয়, এবং কোনওভাবেই একটি পছন্দের বিষয়ের (choosing subject) সাপেক্ষে অনুমান করা যায় না।

(c) বিষমকামীতার শাসন লিঙ্গের “বস্তুত্ব”-কে পরিসীমাবদ্ধ করতে কাজ করে, এবং সেই “বস্তুত্ব” গঠিত হয় এবং টিকে থাকে নিয়ন্ত্রক নিয়মের বস্তুগতকরণের মাধ্যমে, যা বিষমকামী আধিপত্যের অংশ।

(d) নিয়মগুলির বাস্তবায়নের জন্য সেই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াগুলির প্রয়োজন হয় যার দ্বারা নিয়মগুলিকে অনুমান করা হয় বা বরাদ্দ করা হয় এবং এই শনাক্তকরণগুলি একটি বিষয় গঠনের (subject formation) আগে আসে এবং বিষয়ের (subject) গঠনকে সক্ষম করে, কিন্তু কঠোরভাবে বলতে গেলে, একটি বিষয় (subject) দ্বারা সঞ্চালিত হয় না।

(e) গঠনবাদের সীমা শারীরিক জীবনের সেই সীমারেখায় উন্মোচিত হয়, যেখানে অপমানিত বা বঞ্চিত দেহগুলি “দেহ” হিসাবে বিবেচিত হতে ব্যর্থ হয়৷” [10]

শেষ পয়েন্টটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ- “গঠনবাদের সীমা শারীরিক জীবনের সেই সীমারেখায় উন্মোচিত হয়, যেখানে অপমানিত বা বঞ্চিত দেহগুলি “দেহ” হিসাবে বিবেচিত হতে ব্যর্থ হয়৷”

মানবদেহের সংজ্ঞা এবং প্রাসঙ্গিকতা

মানুষের ভৌত দেহ কিভাবে সামাজিক গঠন হতে পারে? এটি বাটলারের “দেহ” এর সংজ্ঞায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার প্রবন্ধে, Performative Acts and Gender Construction-

“অন্য কথায়, শরীর একটি ঐতিহাসিক পরিস্থিতি, যেমনটি Beauvoir দাবি করেছেন, এবং এটি একটি ঐতিহাসিক পরিস্থিতি, যা আচরণ, নাটকীয়করণ এবং পুনরুত্পাদনের একটি পদ্ধতি।” [11]

মানবদেহ এইভাবে সম্ভাবনার একটি ধ্রুবক এবং অবিরাম বাস্তবায়ন। তবে, যেহেতু লিঙ্গগত পরিস্থিতির বস্তুগত প্রজনন আধিপত্যবাদী বিষমকামীতার দ্বারা সীমাবদ্ধ, তাই সামাজিক গঠনবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সমাজে নিপীড়িত এবং বৈধতাহীন লিঙ্গগত সম্ভাবনাগুলির ব্যাখ্যা করতে পারে না; যথা- ট্রান্সজেন্ডার এবং লিঙ্গের নন-বাইনারি ধারণাগুলি। তাহলে কেন বাটলার প্রস্তাব করেন যে আমরা শারীরিক মানবদেহকে ঐতিহাসিক পরিস্থিতির কার্যকারিতা হিসাবে দেখি? বাটলার যেমন তার Gender Throuble-বইয়ের ২৫ তম বার্ষিকী উদযাপনের একটি ২০১৫ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করেছেন-

“আমার প্রস্তাবিত ধারণা অনুযায়ী আমরা যদি শরীরকে বুঝতে পারি তবে এটি কী পার্থক্য করে? আমি পরামর্শ দিতে চাই যে আমরা যদি দেহগুলিকে তাদের সামাজিকতা এবং আন্তঃনির্ভরতার দ্বারা সংজ্ঞায়িত হিসাবে বুঝি, তার মানে এই যে দেহ- এই যে আমার দেহ- অন্য দেহ ছাড়া থাকতে পারে না; অর্থাৎ দেহের আলাদা একটি জগত ছাড়া। “আমি” – এই “আমি”-এর জন্য একটি “তুমি” প্রয়োজন, যাতে মানুষ বেঁচে থাকতে এবং এমনকি বিকাশ লাভ করতে পারে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে সামাজিকভাবে একে অপরের উপরে নির্ভরশীল। আমি কিছু মানুষের সাথে একসাথে বসবাস না করে বাঁচতে পারি না। এবং বেঁচে থাকার সাথে সবচেয়ে ব্যক্তিগত সংগ্রাম সবসময় হয়, সামাজিক সংগ্রাম। কী ধরনের অবকাঠামো, কী ধরনের সেবাকাঠামো পাওয়া যায়? এটা কোন ধরনের জগৎ, যেখানে অধিকারহীনতাকে জীবনের প্রয়োজনীয় উপায় হিসেবে গ্রহণ করা হয়? আমি পরামর্শ দিতে চাই যে আমরা এই জাতীয় সাধারণ চিন্তাভাবনাগুলিকে আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক কল্পনাকে সীমাবদ্ধ করতে দিতে পারি না।” [12]

এইভাবে, বাটলারের মতে, লিঙ্গ একটি সামাজিক জগৎ ছাড়া সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব। এইভাবে জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি থিওরি লিঙ্গের জন্য কোন “পরম” ভিত্তি নয়। বাটলার যেমন আরও ব্যাখ্যা করেছেন-

“জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি থিওরি কখনই নির্ধারণ করে না যে কোন লিঙ্গ পারফরম্যান্স সঠিক, এবং কোন লিঙ্গ পারফরম্যান্স ভুল অথবা প্রতিক্রিয়াশীল। আসলে, এটি একটি amoral তত্ত্ব। জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি থিওরি একটি amoral থিওরি […] পয়েন্টটি লিঙ্গভিত্তিক জীবনের নিয়মগুলির জোরপূর্বক ধারণকে শিথিল করার জন্য ছিল, যা আরও বাসযোগ্য জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে ছিল; এবং যা এই সমস্ত নিয়মগুলি অতিক্রম করার থেকে আলাদা।” [12]

বাটলারের জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি থিওরি এইভাবে একটি বর্ণনামূলক তত্ত্ব, যার উদ্দেশ্য হল প্রভাবশালী সামাজিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে বোধগম্য উপায়গুলিকে বর্ণনা করা, যা আমাদের বিশ্বে লিঙ্গের প্রভাবশালী ধারণাকে সৃষ্টি করে। অ-প্রধান লিঙ্গ অনুশীলনগুলি বর্ণনা করার চেষ্টা করার সময় এটি সীমিত। এবং এই থিওরি লিঙ্গ সম্পর্কে একজন ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার উপর মোটেও ফোকাস করে না।

জুলিয়া সেরানো এবং লিঙ্গের ইন্ট্রিন্সিক ইনক্লিনেশন মডেল

বাটলারের সমালোচনা

বাটলারের সামাজিক গঠনবাদী লিঙ্গ পরিচয়কে একটি আত্তীকরণবাদী (assimilationist) দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী মানুষকে চিত্রিত করে বলে সমালোচিত হয়েছে; সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, জুলিয়া সেরাানো (Julia Serano) দ্বারা-

“সামাজিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে আরেকটি Cissexist বিশ্লেষণাত্মক সমস্যা হল ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের বস্তুনিষ্ঠ করার প্রবণতা। Objectification-এর bare-bones সংজ্ঞা হলো একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে উপেক্ষা করা, তাদের এজেন্সি (Agency) ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদেরকে একটি জিনিস হিসাবে অবস্থান করা, যাকে অন্যের সুবিধার জন্য মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের Objectification-এর একটি রূপ হল ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের সমাজে লিঙ্গযুক্ত মানুষ হওয়ার অর্থের ব্যঙ্গচিত্র হিসাবে উপস্থাপনা। প্রায়শই, এই লিঙ্গযুক্ত ব্যঙ্গচিত্রগুলি উগ্র লিঙ্গ বিদ্রোহীদের রূপ ধারণ করে যেমন বাটলার, (২০০৪) এবং ডয়েচ, (২০০৭)- যাদের অনুযায়ী জৈবিক নিয়তিবাদকে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে হেজিমোনিক বাইনারি সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করছে। ট্রান্সজেন্ডার অবজেক্টিফিকেশনের এই রূপটি ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের ব্যবহার করে এই ধারণাটিকে সমর্থন করে, যে লিঙ্গ পরিচয় একটি সামাজিকভাবে নির্মিত এবং তাই, পরিবর্তনের জন্য উন্মুক্ত। [13] সেরানো “Gender Arifactualization”-কে “প্রাথমিকভাবে বা সম্পূর্ণরূপে একটি সাংস্কৃতিক শিল্পকর্ম হিসাবে লিঙ্গকে ধারণা এবং চিত্রিত করার প্রবণতা” হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।[14] সেরানো যুক্তি দিয়ে যান যে Gender Artifactualist যুক্তি “স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কোন সম্ভাবনাকে বন্ধ করে দেয় যে অসামাজিক (non-social) বা অন্তর্নিহিত (intrinsic) কারণ থাকতে পারে যা একজনকে ক্রস-জেন্ডার সনাক্তকরণে প্রভাবিত করে বা প্রবণতা দিতে পারে।” [15]

বস্তুনিষ্ঠতা ঘটতে পারে যখন গবেষকরা ট্রান্সজেন্ডার লোকেদেরকে আত্তীকরণবাদী (assimilationist) জেন্ডার কনফর্মিস্ট হিসাবে অবস্থান করেন- যারা আদর্শিক লিঙ্গ/যৌন মিলন সম্পর্কে সমাজের ধারণার সাথে মানানসই করার জন্য তাদের দেহ পরিবর্তন করার ইচ্ছার মাধ্যমে লিঙ্গের পুরানকে শক্তিশালী করছেন। [16] সেরানো এই প্রবণতাকে একটি “reinforcing trope” হিসাবে চিহ্নিত করেছেন; “এই ধারণা যে নির্দিষ্ট লিঙ্গ, যৌনতা, বা পরিচয়গুলি লিঙ্গ বাইনারি, বা বিষমকামী, বা পিতৃতন্ত্র, বা আপনার পছন্দের আধিপত্যবাদী লিঙ্গ-ব্যবস্থাকে ‘শক্তিশালী’ করে।” [17] যদিও নিশ্চিতভাবে বলা যেতে পারে যে, ট্রান্সজেন্ডার মানুষ যারা এই শ্রেণীগুলির মধ্যে যেকোন একটিতে পড়বে, এটা হল ট্রান্সজেন্ডারদের লিঙ্গ অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা করার চরম উপায়। অধিকন্তু, লিঙ্গ সম্বন্ধে সিসজেন্ডার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা একইভাবে উপস্থাপনা করা হয় না, যা ট্রান্সজেন্ডারদের পিঠে সামাজিকীকরণ প্রতিরোধের একটি অযথা বোঝা চাপিয়ে দেয়।” [18]

অবচেতন যৌনতা

জুলিয়া সেরানো “অবচেতন যৌনতা” (subconscious sex)-এর ধারণার প্রস্তাব করেছেন – একটি শব্দ যা তার ২০০৭ সালের বই, Whipping Girl-এ প্রতিষ্টিত করা হয়েছে। এটি বাটলারের ধারণার বিরুদ্ধে, যে লিঙ্গকে অভ্যন্তরীণভাবে মূর্ত করা যায় না। “অবচেতন যৌনতা”-কে অন্যান্য স্কলার নিম্নরূপ উপায়ে বর্ণনা করেছেন-

“অবচেতন যৌনতা হলো ঠিক যেমন শোনায়- “আমরা অবচেতনভাবে যে লিঙ্গ বলে মনে করি”; অন্যদিকে লিঙ্গ পরিচয় হল যা আমরা সচেতনভাবে নিজেদেরকে চিহ্নিত করি। এটিকে কেউ কেউ বাটলারের দ্বারা খণ্ডন করা অপরিহার্যতার -এর দিকে একটি পদক্ষেপ হিসাবে দেখা যেতে পারে; তবে এটি যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে এটি লিঙ্গ নির্ধারণ হিসাবে জৈবিক নির্ণায়কতা (biological determinism)-কে এবং যৌনাঙ্গকে অবলম্বন করে লিঙ্গ দৃষ্টান্তের radical প্রশ্নবিদ্ধকে বজায় রাখে, একই সময়ে ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায় এবং এর সদস্যদের misgender না করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। সেরানো দ্বারা প্রস্তাবিত মডেল তিনটি অন্তর্নিহিত প্রবণতা নিয়ে গঠিত: অবচেতন লিঙ্গ (unconscious gender), লিঙ্গ অভিব্যক্তি (gender expression) এবং যৌন অভিযোজন (sexual orientation)। এই তিনটি প্রবণতা মূলত একে অপরের থেকে স্বাধীন। এটি লক্ষ করাও গুরুত্বপূর্ণ যে এই প্রবণতাগুলি দুটি বিপরীত ফলাফলের একটিতে পরিণত হয় না; বরং এর পরিবর্তে একাধিক সম্ভাব্য ফলাফল সহ তিনটি ধারাবাহিক গঠন হিসাবে দেখা উচিত, যা কেবলমাত্র পুরুষ এবং মহিলা, সমকামী এবং বিষমকামী, স্ত্রীলিঙ্গ বা পুংলিঙ্গের চেয়েও আরো অনেক কিছুর জন্য উন্মুক্ত করে।” [19]

বাটলার এবং সেরানোর দ্বিমত

এটি বাটলারের ধারণার বিপরীতে যে লিঙ্গ পরিচয় অভ্যন্তরীণ নয়, এবং এটি ইন্ট্রিন্সিক ইনক্লিনেশন মডেল (Instrinsic Inclination Model) হিসাবে তাত্ত্বিক। ইন্ট্রিন্সিক ইনক্লিনেশন মডেল বর্ণনা করা হয়েছে-

“সেরানোর (২০০৭) ইন্ট্রিন্সিক ইনক্লিনেশন মডেল ব্যাখ্যা করে যে কিভাবে মানুষের যৌন, লিঙ্গগত, জৈবিক, সামাজিক এবং কার্যকারিতামূলক বৈচিত্রের উপর ভিত্তি করা বলে বিবেচনা করে। সেরানোর মতে, লিঙ্গ প্রবণতার একাধিক মাত্রা রয়েছে যা পরিবর্তনশীল অবচেতন লিঙ্গ, লিঙ্গ অভিব্যক্তি এবং যৌন অভিমুখের প্রতি একটি সখ্যতা উপস্থাপন করে। অবচেতন লিঙ্গ, লিঙ্গ অভিব্যক্তি এবং যৌন অভিযোজন পৃথক লিঙ্গ প্রবণতা প্রতিনিধিত্ব করে যা একে অপরের থেকে স্বাধীনভাবে নির্ধারিত হয়। অবচেতন লিঙ্গ একটি লিঙ্গ হওয়ার অভ্যন্তরীণ অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করে, লিঙ্গ অভিব্যক্তিটি সেই লিঙ্গের একটি বাহ্যিক উপস্থাপনা এবং যৌন অভিযোজন-কে একটি পরিচয় লেবেলের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব হয়, যা একজনের লিঙ্গ হওয়ার অভ্যন্তরীণ অনুভূতি এবং অন্যদের লিঙ্গ প্রকাশের প্রতি একটি সংজ্ঞায়িত আকর্ষণ বিবেচনা করে। [20] লিঙ্গ প্রবণতাগুলিকে ব্যক্তিত্বের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য হিসাবে ধরে নেওয়া হয় কারণ এগুলি গভীর, অবচেতন স্তরে ঘটে যা সামাজিক শক্তি এবং লিঙ্গকে পবিত্র বা নির্মূল করার সচেতন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও টিকে আছে। এই কাঠামোটি অনুমান করে যে লিঙ্গের এমন কিছু দিক রয়েছে যা সম্পূর্ণরূপে, সামাজিক নয় এবং লিঙ্গকে সঠিকভাবে সম্পাদন না করার সামাজিক পরিণতি রয়েছে।

একটি অবচেতন যৌনতার গঠন অনুমান করে যে একটি ‘সত্যিকারের আত্ম’ (True Self)-জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গের সাথে সারিবদ্ধ লিঙ্গ উপস্থাপনার কোনো সামাজিকীকরণ প্রচেষ্টার আগের থেকেই বিদ্যমান। অবচেতন যৌনতা একজনের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, তাদের জীববিজ্ঞানের সচেতন মনের প্রক্রিয়াকরণের সাথে intersect করে। সেরানো (২০০৭) মনে করেন যে সচেতন এবং অবচেতন লিঙ্গের মধ্যে Intersection-গুলো সাধারণত লিঙ্গ পরিচয় হিসাবে উল্লেখ করা হয়। যেভাবে সামাজিক বিশ্ব কাজ করে, আমাদের সাথে যোগাযোগ করে এবং একজনের শরীরের শারীরিকতার সাথে সম্পর্কিত হয়- সে সম্পর্কে আমাদের মন সচেতন। পোষাক ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের দেহের আকার দিতে এবং মনের চোখে বিদ্যমান স্ব-ইমেজটি বাহ্যিক এবং সামাজিকভাবে যোগাযোগ করতে দেয়। সেরানো একটি ‘True Self’-এর বাস্তবতা এবং বস্তুগততার সাথে এই প্রথম মুখোমুখিকে ‘mirror epiphany’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি একটি পোশাকের মতো তার শরীরের চারপাশে লেসি পর্দা মোড়ানোর জন্য একটি অবর্ণনীয় এবং অনিবার্য তাগিদ বর্ণনা করেছিলেন। নিজেকে আয়নায় দেখে, তিনি বলেছিলেন, ‘পরম নিখুঁত বোধগম্য হয়েছে।’ পোশাক এবং শরীরের পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত বিরুদ্ধতা সত্ত্বেও, পোশাক ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের লিঙ্গ গঠনের জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে যা ভেতর থেকে উৎপন্ন হয় এবং ট্রান্সজেন্ডাররা কীভাবে নিজেদেরকে কল্পনা করে, তা যোগাযোগ করার ক্ষমতা দেয়।” [21]

বাটলার এবং সেরানো একজন ব্যক্তির “True Selfhood”-এর অভিজ্ঞতা এবং এই “True Self” একটি বিদ্যমান লিঙ্গ পরিচয় দ্বারা পূর্বনির্ধারিত কিনা সে সম্পর্কে ভিন্ন। যেখানে বাটলার মনে করতেন যে লিঙ্গ পরিচয় এটির কার্যকারিতা দ্বারা গঠিত হয় (এবং তাই সামাজিকভাবে নির্মিত) যা মূর্ত করা অসম্ভব; সেরানো মনে করতেন যে কোনও ব্যক্তির সামাজিকীকরণের আগেই নিজের লিঙ্গের একটি অবচেতন ধারণাকে মূর্ত করে। সেরানোর মতে, এই “অবচেতন যৌনতা” লিঙ্গ পরিচয় গঠনের জন্য লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মিথস্ক্রিয়াগুলির সচেতন প্রক্রিয়াকরণের সাথে যোগাযোগ করে। এইভাবে, বাটলারের মতো সেরানো নির্ণয়বাদের (determinism) ফাঁদে পড়েন না; বরং, তিনি কেবল সামাজিক গঠনবাদের (social constructivism) পরিবর্তে মনস্তাত্ত্বিক গঠনবাদকে (psycological constructivism) প্রতিস্থাপন করেন। সেরানোর ইন্ট্রিন্সিক ইনক্লিনেশন মডেল এইভাবে লিঙ্গ কর্মক্ষমতা সম্পর্কে বাটলারের ধারণাকে বাদ দেয় না। সেরানো শুধুমাত্র কর্মক্ষমতার উপর জ্ঞানীয় এবং অভন্তরীন প্রভাব যোগ করে এবং যেকোন ধরনের সামাজিকীকরণের আগে বিদ্যমান “অবচেতন যৌনতা” এর ধারণাকে প্রস্তাব করে।

কিন্তু মানুষের নিজের লিঙ্গ সম্পর্কে পূর্ব-বিদ্যমান, অবচেতন জ্ঞান থাকুক বা না থাকুক, অন্যান্য সাম্প্রতিক স্কলাররা স্বীকার করেছেন যে লিঙ্গ সনাক্তকরণ সামাজিক পাশাপাশি মানসিক এবং শারীরিক factor দ্বারা প্রভাবিত হয়। “বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার বনাম জেন্ডার ডিসফোরিয়া” অধ্যায়ে আমরা শিখব যে সর্বোত্তম লিঙ্গ থেরাপির লক্ষ্য সামাজিক এবং মেডিকেল transition- উভয় ক্ষেত্রেই, যার ফলে দেখায় যে লিঙ্গ কেবল একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া নয়, এখানে সমাজের তীব্র প্রভাব রয়েছে। তদুপরি, “জেন্ডার স্কিমা থিওরি” অধ্যায়ে আমরা বুঝতে পারবো যে লিঙ্গযুক্ত আচরণ এবং মনোভাবের অভ্যন্তরীণ জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াকরণ “স্কিমা” নামক একটি মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো গঠন করে, যার মধ্যে একজন ব্যক্তির স্ব-ধারণা অন্তর্ভুক্ত হয়। এইভাবে, যদিও লিঙ্গ সম্পর্কিত জ্ঞানীয় অ্যাকাউন্টগুলি একজন ব্যক্তির মনোবিজ্ঞানের অংশ হিসাবে লিঙ্গের একটি অভ্যন্তরীণ মূর্ত রূপের ব্যাখ্যা দেয়, তারা সেরানোর দাবিকে সমর্থন করে না যে আমাদের লিঙ্গ সম্পর্কে আমাদের একটি পূর্ব-বিদ্যমান, অবচেতন জ্ঞান রয়েছে। বরং, তারা পরামর্শ দেয় যে সময়ের সাথে সাথে আমাদের লিঙ্গ অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্ত্বিক এবং সেইসাথে বাহ্যিক, সামাজিক প্রক্রিয়াগুলির দ্বারা নির্মিত হয়, যার চারপাশে আমাদের আত্ম-ধারণার আকার ধারণ করে।

সান্ড্রা বেম এবং ক্লাসিক ব্যক্তিত্বের পদ্ধতি

অনেক গবেষক “পুংলিঙ্গ” এবং “স্ত্রীলিঙ্গ” এর মতো বিভাগগুলিকে কৃত্রিম ধারণা হিসাবে দেখেন যা সমাজে স্ক্রিপ্ট দ্বারা জাগতিক উপায়ে বাস্তবায়ন করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি “সেক্স-টাইপিং” নামে পরিচিত। সেক্স-টাইপিং এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে-

“যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সমাজ পুরুষ ও নারীকে পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত করে, তাকে সেক্স টাইপিং প্রক্রিয়া বলে।” [22]

“পুরুষ” এবং “মহিলা” এই দুটি বিভাগকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফ্যাক্টর হিসাবে বিবেচনা করে, প্রফেসর স্যান্ড্রা বেম (Sandra Bem) দেখিয়েছেন, বেম সেক্স-রোল ইনভেন্টরি (BSRI) তৈরির মাধ্যমে যে এই বিভাগ অনুসারে মানুষকে শ্রেণীবদ্ধ করা হলে আরও দুটি বিভাগ পাওয়া যায়, নাম “অ্যান্ড্রোজিনাস” এবং “অভেদহীন।” এইভাবে, প্রফেসর বেম দেখিয়েছেন যে লিঙ্গ বাইনারি বা দ্বিধাবিভক্তির মতো কোনও কিছুর অস্তিত্ব নেই, এবং মানুষ যে “পুরুষ” এবং “মহিলা” উভয় বৈশিষ্ট্যগুলির একটি মিশ্রণ।

“এই ঐতিহ্যের প্রাথমিক গবেষণায় উত্তরদাতাদের পুংলিঙ্গ এবং মেয়েলি মাত্রার উপর তাদের স্কোরের উপর ভিত্তি করে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে চারটি গোষ্ঠী উঠে আসে: (a) পুরুষালি লিঙ্গ-টাইপড, যারা পুরুষত্বে উচ্চ এবং নারীত্বে কম স্কোর করেছে, (b) মেয়েলি লিঙ্গ- টাইপ করা, যারা নারীত্বে বেশি এবং পুরুষত্বে কম স্কোর করেছে, (c) অ্যান্ড্রোজিনাস, যিনি পুরুষত্ব এবং নারীত্ব উভয় ক্ষেত্রেই উচ্চ স্কোর করেছেন এবং (d) অভেদহীন, যিনি পুরুষত্ব এবং নারীত্ব উভয় ক্ষেত্রেই কম স্কোর করেছেন।” [23]

মানুষ এইভাবে “পুংলিঙ্গ” এবং “মেয়েলি” উভয় বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ, এবং উভয় সূচকে পয়েন্ট স্কোর করতে পারে। এটি আরও একটি নতুন শ্রেণীকে উৎপন্ন করে, “অ্যান্ড্রোজিনাস/Androgyny”

“বেম অ্যান্ড্রোজিনাস পরিচয়ের পক্ষে সমর্থন করেছিলেন এই ভিত্তিতে যে তারা আচরণে নমনীয়তা দেখায়, যা আরও আবদ্ধ নারী বা পুরুষ পরিচয়ের ব্যক্তিদের পক্ষে সম্ভব নয়। [24]

তবে এই বৈশিষ্টের সংমিশ্রণ কিভাবে একটা মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে? তা বুঝার জন্য আমাদের জেন্ডার স্কিমা থিওরি বুঝতে হবে।

জেন্ডার স্কিমা থিওরি

এই বৈশিষ্ট্যের দৃষ্টিভঙ্গি লিঙ্গ পরিচয়কে শেখার একটি প্রক্রিয়া হিসাবে দেখে, যেমন সেক্স-রোল স্টেরিওটাইপ, যা একজন তার নিজের আত্ম ধারণায় অন্তর্ভুক্ত করবে। বেম জেন্ডার স্কিমা তত্ত্বের মাধ্যমে আমাদের লিঙ্গ সম্পর্কে শেখার এই প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করেন। জেন্ডার স্কিমা থিওরিকে সেক্স-টাইপিংয়ের একটি cognitive অ্যাকাউন্টও বলা হয়। বাটলারের বিপরীতে, স্যান্ড্রা বেম দ্বারা প্রস্তাবিত এই তত্ত্বটি লিঙ্গকে এমন জিনিস হিসাবে দেখে, যা অভ্যন্তরীণ এবং মূর্ত (embodied) হতে পারে।

“বিশেষ করে, তত্ত্বটি প্রস্তাব করে যে সেক্স টাইপিংয়ের ফলাফল, আংশিকভাবে, এই সত্য থেকে, যে আত্ম-ধারণা নিজেই লিঙ্গ স্কিমার সাথে একীভূত হয়। শিশুরা যখন সমাজের জেন্ডার স্কিমার বিষয়বস্তু শিখে, তখন তারা শিখে কোন বৈশিষ্ট্যগুলিকে তাদের নিজস্ব লিঙ্গের সাথে যুক্ত করতে হবে এবং অতএব, নিজেদের সাথে। তারা শুধু এটি শিখছে না যে কোন লিঙ্গ কোন মাত্রা বা বৈশিষ্ট্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে- উদাহরণস্বরূপ, ছেলেরা শক্তিশালী এবং মেয়েরা দুর্বল- বরং তত্ত্বটি দেখায় যে এই মাত্রাগুলি দুটি লিঙ্গের জন্য পৃথকভাবে প্রযোজ্য।” [25]

“স্কিমা” বলতে বোঝায় বাইরের জগত সম্পর্কে জ্ঞান। শিশু হিসাবে, আমাদের সমাজের মানুষরা কীভাবে নিজেদের প্রকাশ করে, তা আমরা দেখি। তারপরে সেগুলো আমরা আমাদের ব্যক্তিত্বের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করি, এবং সে অনুযায়ী আমরা “পুংলিঙ্গ” এবং “মেয়েলি” আচরণ ওবং স্বভাব শিখি।

“একটি স্কিমা হল একটি জ্ঞানীয় কাঠামো; ধারণার একটি নেটওয়ার্ক যা একজন ব্যক্তির উপলব্ধি সংগঠিত করে এবং গাইড করে। একটি স্কিমা একটি প্রত্যাশিত কাঠামো হিসাবে কাজ করে, স্কিমা-প্রাসঙ্গিক পদ অনুসারে ইনকামিং তথ্য অনুসন্ধান এবং আত্মীকরণ করার জন্য একটি প্রস্তুতি।” [25]

বিশ্বের সাথে মিথস্ক্রিয়া এবং বিশ্ব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে (শিক্ষা), আমরা আমাদের লিঙ্গের একটি মনস্তাত্ত্বিক গঠন বিকাশ করি।

“কিন্তু এখানে কি শেখা হল? স্পষ্টতই বিকাশমান শিশু বিষয়বস্তু-নির্দিষ্ট তথ্য, বিশেষ আচরণ এবং বৈশিষ্ট্যগুলি শিখছে যা যৌনতার সাথে যুক্ত করা হয়। বেশিরভাগ সমাজে, এটি ধারণার একটি বৈচিত্র্যময় এবং বিস্তৃত নেটওয়ার্ক- যা শুধুমাত্র পুরুষ এবং মহিলা ব্যক্তিদের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে না, যেমন শারীরস্থান, প্রজনন কার্য, শ্রম বিভাজন এবং ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি; বরং আরও দূরবর্তী বা রূপকভাবে সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যগুলিও লিঙ্গের সাথে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন একটি বিমূর্ত আকারের কৌণিকতা বা বৃত্তাকারতা এবং চাঁদের পর্যায়ক্রমিকতা। প্রকৃতপক্ষে, পুরুষ এবং মহিলার দ্বিধাবিভক্তের মতন আর কোনো জৈব অভিজ্ঞতা নেই, যার অধীনে এতো গুলো মানুষ শ্রেণীবদ্ধ হয়েছে।” [22]

এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে যখন এই মনস্তাত্ত্বিক গঠন (অভ্যন্তরীণ মানচিত্র) লিঙ্গের সাথে সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যগুলির সমন্বয়ে গঠিত, নির্মাণটি যৌনতা থেকে আলাদা। এটি ব্যবহার করা ভাষা নোট করা গুরুত্বপূর্ণ। “সেক্স”-এর পরিবর্তে “সেক্সের সাথে সম্পর্কিত”। যেহেতু এই বৈশিষ্ট্যগুলি একজনের সামাজিক পরিবেশ থেকে একত্রিত হয়, তাই লিঙ্গ পরিচয়ের আমাদের মনস্তাত্ত্বিক গঠনটি আমাদের সমাজের একটি পণ্য। [26] এটি সেক্স-রোল এবং সেক্স-রোল স্টেরিওটাইপগুলির মধ্যে পার্থক্যে আরও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

“বেমের জেন্ডার স্কিমা পদ্ধতিটি সামাজিক মনোবিজ্ঞানের অনেক গবেষক দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছিল যাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন অ্যালিস ইগলি এবং ওয়েন্ডি উড। লিঙ্গের পার্থক্য সম্পর্কে ইগলি এবং উডের তত্ত্ব অনুযায়ী, বেমের পদগুলির নামগুলিকে পরিবর্তন করে যা স্পেন্স পছন্দ করেছিলেন, তার উপরে জোর দিয়েছেন, অর্থাৎ Agency (পুরুষ-স্টেরিওটিপিক্যাল বৈশিষ্ট্য) এবং Communion (মহিলা-স্টেরিওটিপিক্যাল বৈশিষ্ট্য) কেন্দ্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্লাস্টার হিসাবে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে সাধারণ পার্থক্য করেছেন।” [27]

সেক্স-রোল বনাম সেক্স-রোল স্টেরিওটাইপ

তবে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে- লিঙ্গ পরিচয় কি শুধুমাত্র মানুষের নির্দিষ্ট কর্ম, আচরণ এবং অভিব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ? এই সমস্যাটি BSRI-তে লিঙ্গ-বিভেদযুক্ত ভূমিকা এবং বৈশিষ্ট্যগুলির শ্রেণীবিভাগ দ্বারাও চিত্রিত হয়েছে-

লিঙ্গ 2

এখানে, আমরা “পুংলিঙ্গ” এবং “মেয়েলি” হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলি দেখতে পাই। এর অর্থ কি এই যে “স্নেহপূর্ণ” “প্রফুল্ল” এবং “সহানুভূতিশীল” এর মতো বৈশিষ্ট্যগুলি নারীত্বের অন্তর্নিহিত? কি এই বৈশিষ্ট্য গুলিকে “মেয়েলি” করে তোলে? তদুপরি, কেন এবং কীভাবে এই নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলিকে মেয়েলি বৈশিষ্ট্য হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল? প্রফেসর বেম ব্যাখ্যা করেছেন-

“তদনুসারে, পুরুষত্ব এবং নারীত্বের স্কেলগুলির জন্য আইটেম নির্বাচনের প্রাথমিক হিসাবে, প্রায় ২০০টি ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলির একটি তালিকা সংকলন করা হয়েছিল যা লেখক এবং বেশ কয়েকজন ছাত্রের কাছে মূল্যের দিক থেকে ইতিবাচক এবং যা স্বরে পুংলিঙ্গ বা মেয়েলি বলে মনে হয়েছিল। এই তালিকাটি সেই ভান্ডার হিসাবে কাজ করেছিল যেখান থেকে পুরুষ এবং মেয়েলি বৈশিষ্ট্যগুলি চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।” [28]

বৈশিষ্ট্য নির্বাচনের পদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ-

“চূড়ান্ত আইটেমগুলি পুরুষত্ব এবং নারীত্ব দাঁড়িপাল্লার মাদ্ধমে নির্বাচন করা হয়, যদি আইটেমগুলি আমেরিকান সমাজে একটা লিঙ্গের তুলনায় আরেকটি লিঙ্গের জন্য বেশি পছন্দনীয় বলে বিচার করা হয়। বিশেষ করে, বিচারকদেরকে ৭-পয়েন্ট স্কেল ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল, যার মধ্যে ১ (“মোটেই কাঙ্খিত নয়”) থেকে ৭ (“অত্যন্ত আকাঙ্খিত”) অনুযায়ী, আমেরিকান সমাজে আনুমানিক ৪০০টি উপরোল্লিখিত ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের প্রতিটির আকাঙ্খিততা রেট করার জন্য। (উদাহরণস্বরূপ, “আমেরিকান সমাজে, একজন পুরুষের সত্যবাদী হওয়া কতটা বাঞ্ছনীয়?” “আমেরিকান সমাজে, একজন মহিলার আন্তরিক হওয়া কতটা বাঞ্ছনীয়?”) প্রতিটি পৃথক বিচারককে ৪০০ ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য রেট দিতে বলা হয়েছিল, যা তাদের অনুযায়ী হয়তো “একজন পুরুষের জন্য” অথবা “একজন মহিলার জন্য।” কোন বিচারক উভয়কে রেট দিতে বলা হয়নি। বিচারকদের মধ্যে ৪০ জন স্ট্যানফোর্ড আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ছিলেন যারা ১৯৭২ সালের শীতকালে প্রশ্নাবলী পূরণ করেছিলেন এবং পরবর্তী গ্রীষ্মে আরও ৬০ জন ছিলেন। উভয় নমুনায়, বিচারকের মধ্যে অর্ধেক ছিল পুরুষ এবং অর্ধেক মহিলা।” [29]

এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে লিঙ্গ-বিভেদযুক্ত ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলির নির্ণয়গুলি কোনও নিখুঁত/পরম ভিত্তিতে তৈরি করা হয় না, বরং সমাজ কিভাবে “পুংলিঙ্গ” এবং “মেয়েলি” বিবেচনা করে, তার উপরে। সুতরাং, পরিচয়ের এই বিভাগগুলি হল সামাজিক ধারণা। [26] একইভাবে, BSRI-এর বৈশিষ্ট্যগুলি সেক্স-রোল নয় বরং সেক্স-রোল স্টেরিওটাইপ।

Oxford Learner’s Dictionary -তে “stereotype” সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে-

“একটি স্থির ধারণা বা চিত্র যা অনেকের একটি নির্দিষ্ট ধরণের ব্যক্তি বা জিনিস-এর প্রতি রয়েছে, কিন্তু যা প্রায়শই বাস্তবে সত্য নয় এবং আঘাত ও অপরাধের কারণ হতে পারে।” [30]

এই কারণেই, বেমের জেন্ডার স্কিমা থিওরি (যা একটি প্রক্রিয়ার তত্ত্ব; বিষয়বস্তুর নয়) যা BSRI-এর উপর নির্ভর করে, সমালোচিত হতে পারে পুরুষত্ব এবং নারীত্বের একটি খুব সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করার জন্যে, যা প্রাথমিকভাবে Communion বনাম Agency-এর দ্বিধাবিভক্তির উপর ভিত্তি করা। [31]

স্ব-শ্রেণীকরণ (নিজ-শ্রেণীকরণ) পদ্ধতি

লিঙ্গ পরিচয় সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন করার দ্বিতীয় পদ্ধতিটি স্ব-শ্রেণীকরণ পদ্ধতি হিসাবে পরিচিত। লিঙ্গ-বিভেদযুক্ত ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তে, স্ব-শ্রেণীকরণ পদ্ধতি লিঙ্গ পরিচয়কে গোষ্ঠীগত স্বত্ব এবং গোষ্ঠী পরিচয় হিসাবে দেখে, এবং সংজ্ঞায়িত করা হয়-

“একজনের স্ব-সংজ্ঞার জন্য এই শ্রেণীকরণের গুরুত্ব সহ নিজেকে নারী বা পুরুষ হিসাবে বর্ণনামূলক বা নির্দেশমূলক শ্রেণীকরণ। যৌথ পরিচয়ের অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য, যেমন লিঙ্গ গোষ্ঠীর মানসিক তাৎপর্য বা গোষ্ঠীর সদস্যদের সাথে সাধারণ ভাগ্য [32], গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে নিজেকে প্রাথমিক সনাক্তকরণের প্রয়োজন এবং সনাক্তকরণের পরিণতি হিসাবে সবচেয়ে ভাল ব্যাখ্যা করা হয়।” [33]

বৈশিষ্টমূলক পদ্ধতি এবং স্ব-শ্রেণীকরণ পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-

“এইভাবে, ব্যক্তিত্বের ঐতিহ্যে, ব্যক্তিগত পরিচয়ের লিঙ্গগত প্রকৃতিটি স্ব-প্রতিবেদিত পুংলিঙ্গ বা মেয়েলি বৈশিষ্ট্যের প্রভাব সম্পর্কে গবেষকদের অনুমান থেকে উদ্ভূত হয়, যেখানে স্ব-শ্রেণীকরণের ঐতিহ্যে, এই পরিচয়টি উত্তরদাতাদের নিজেদের লেবেল এবং ধারণা থেকে উদ্ভূত হয়।” [34]

স্ব-শ্রেণীকরণ পদ্ধতি একজনের স্ব-পরিচয়ের জন্য সামাজিক বিভাগগুলির গুরুত্বের উপর জোর দেয় এবং সামাজিক গোষ্ঠীগুলিতে সরাসরি স্ব-লেবেলিং। [26] স্ব-শ্রেণীকরণ পদ্ধতি লিঙ্গের ধারণার পরিবর্তনশীলতার উপর আরও জোর দেয়-

“কিন্তু স্টেরিওটাইপগুলি, গুরুত্বপূর্ণভাবে, সময়ের সাথে সাথে এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হতে পারে।” [35]

লিঙ্গ পরিচয়কে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সাথে আবদ্ধ বলে মনে করা সমস্যাযুক্ত কারণ-

“Agency বা Communion [অথবা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট] অনুযায়ী লিঙ্গ পরিচয়কে লেবেল করা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে বরখাস্ত করে, যার মাধ্যমে সেই বৈশিষ্ট্যগুলি সামাজিক শ্রেণীগুলির সাথে যুক্ত হতে পারে, হয় সামাজিক অনুধাবনকারীদের মনে, বা “নারী” এবং “পুরুষদের” বিভাগগুলির সাথে। জাতিগত পরিচয়ের একটি সাদৃশ্য এই দাবিকে স্পষ্ট করতে পারে। গড়ে, আমরা লক্ষ্য করতে পারি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, অসম সংখ্যক আফ্রিকান আমেরিকানরা খেলাধুলায় পারদর্শী কিন্তু একাডেমিকভাবে কম পারফর্ম করে এবং হিংসাত্মক অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য কারারুদ্ধ হয়। [36] তবুও এটা সন্দেহজনক যে সামাজিক মনোবৈজ্ঞানিকরা বলবেন যে আফ্রিকানদের জাতিগত পরিচয় নির্মাণ হিসাবে athleticism, academic performance এবং aggression-এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিমাপ করা উচিত।” [37]

লিঙ্গ পরিচয়ে লিঙ্গ-বিভেদযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলি আবদ্ধ করার পিছনে অন্তর্নিহিত সমস্যা হল-

“লিঙ্গ পরিচয়ের অংশ হিসাবে বৈশিষ্ট্য এবং প্রবণতা প্রধান করা তাই পর্যবেক্ষণ করা লিঙ্গ পার্থক্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই ধরনের প্রভাবগুলি বিশেষত পুরুষদের মধ্যে উচ্চারিত হতে পারে, যারা সাম্প্রদায়িক বৈশিষ্ট্য প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা দেখায় কারণ এই সাম্প্রদায়িক বৈশিষ্ট পুরুষ হওয়ার স্টেরিওটিপিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাংঘর্ষিক।” [38]

এই কারণে, কিছু গবেষক কীভাবে এবং কেন লিঙ্গের (জেন্ডার স্টেরিওটাইপ) ধারণাগুলি বিদ্যমান, সেইসাথে সামাজিক গোষ্ঠী এবং স্ব-পরিচয়ের সাথে তাদের সংযোগ এবং কীভাবে তারা লিঙ্গ পরিচয়ের অন্তর্ভুক্ত, তার ইঙ্গিত দিয়েছেন-

“মানুষ কীভাবে নিজেকে পুরুষ বা মহিলা হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করতে আসে এবং কেন সেই লিঙ্গ পরিচয়কে কিছু বৈশিষ্ট্যের সাথে যুক্ত করে, এবং কিছু বৈশিষ্টের সাথে যুক্ত করে না, তা বোঝার জন্য স্ব, পরিচয় এবং সামাজিক গোষ্ঠীর বিস্তৃত তত্ত্বের উপর আঁকার মূল্য রয়েছে।” [39]

পার্সোনালিটি বিজ্ঞান হিসাবে লিঙ্গ

শার্লট টেট (২০১৪) পর্যবেক্ষণ করেছেন যে ব্যক্তিত্বের দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্ব-শ্রেণীকরণ পদ্ধতিটি একজন ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলি পরীক্ষা করার পরিবর্তে আচরণগত এবং সামাজিক মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পরিচালিত হয়েছিল, যেমন জুডিথ বাটলার-এর জেন্ডার পারফর্মাটিভিটি থিওরি।

“আবার, নিজের এই অনুভূত-বোধটি লিঙ্গ বৈশিষ্ট অনুমোদন বা লিঙ্গ সম্পর্কিত অন্যান্য সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতির থেকে স্বাধীন; পরিবর্তে, এটি সামাজিক মিল নির্বিশেষে বিশ্বের একটি বিমূর্ত শ্রেণীর সাথে নিজেকে অন্তর্গত হওয়ার অনুভূতি, যা প্রকাশ করা খুব কঠিন কারণ লিঙ্গ সম্পর্কিত বেশিরভাগ সাধারণ এবং স্কলারলি ভাষা ব্যক্তিগত গতিবিদ্যার পরিবর্তে অন্যদের সাথে আচরণের উপর ফোকাস করে।” [40]

শার্লট টেটের ব্যক্তিত্ব বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি লিঙ্গ পরিচয়ের নির্মাণ এবং অভিজ্ঞতার অন্তর্নিহিত, অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলির উপর বিশেষভাবে জোর দেয়।

এই পদ্ধতির বিশেষ অবদান হল-

“ব্যক্তিত্ব বিজ্ঞান জনপ্রিয় এবং সর্বদা প্রসারিত সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক অন্তর্দৃষ্টি এবং স্ব-শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়ার উপর নির্দিষ্ট মনোযোগ ফোকাস করার প্রয়োজনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তুলে দেখতে পারে।” [41]

এই পদ্ধতি ব্যক্তিত্ব বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে স্ব-শ্রেণীকরণ-এর প্রতিক্রিয়াটা পরীক্ষা করে।

“লিঙ্গ স্ব-শ্রেণিকরণকে ব্যক্তিত্বের প্রক্রিয়া হিসাবে বিবেচনা করা লিঙ্গ শ্রেণীকরণের অনুভূতি হিসাবে লিঙ্গ পরিচয় অধ্যয়নের জন্য একটি দরকারী সূচনা প্রদান করতে পারে কারণ এটি মনস্তাত্ত্বিক গবেষকদের লিঙ্গের ব্যক্তিগত অর্থ থেকে লিঙ্গের সামাজিক অর্থকে আলাদা করতে দেয়। মনোবিজ্ঞান সাহিত্যের মধ্যে সামান্য বিরোধ রয়েছে যে অন্যদের দ্বারা লিঙ্গ শ্রেণীকরণ (যেমন, “আপনি একজন মেয়ে”) বিদ্যমান এবং এটি এমন একটি ঘটনা যা নিজের মধ্যে ব্যক্তিগত স্তরে কিছু প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। ব্যক্তিগত স্তরে এই প্রতিক্রিয়ার রূপগুলি (যেমন, “হ্যাঁ, আমি একটি মেয়ে” বা “না, আমি একটি মেয়ে নই”) শিশুদের এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কিভাবে ঘটে, তা নিয়ে খুব কমই তথ্য রয়েছে। তবে, ব্যক্তিত্ব তত্ত্ব মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে, বিশেষ করে যৌথ স্ব-প্রতিবেদন এবং তথ্যদাতা-প্রতিবেদনের পদ্ধতি ব্যবহার করে, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি মূল্যায়ন করার জন্য এই ধরনের রূপরেখাগুলিকে অন্বেষণ এবং পরীক্ষা করা যেতে পারে।” [42]

লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলির উপর ফোকাস এইভাবে লিঙ্গ পরিচয় গবেষণার দুটি ঐতিহ্যের মধ্যে মিসিং লিঙ্ক হিসাবে কাজ করতে পারে এবং লিঙ্গ পরিচয় কীভাবে আমাদের মনের মধ্যে গঠন করা হয় তার একটি চিত্র তৈরি করতে সহায়তা করে। এবং, এই পদ্ধতিটি লিঙ্গ মূর্তিকরণ (gender embodiment) বোঝার জন্যে একটি উপায় খুলে দেয়।

লিঙ্গ পরিচয় এবং সম্পর্কিত পদের সংজ্ঞা

লিঙ্গ বাইনারি (Gender Binary)

লিঙ্গ বাইনারি (Gender Binary)- “একটি বিশ্বাস ব্যবস্থা যা শুধুমাত্র পুরুষ এবং মহিলাদের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেয়, এই দুটি লিঙ্গের বৈশিষ্ট বা প্রকাশ নয়।” [43]

Gender Binary-এর আরেকটি সংজ্ঞা হলো-

“এই ধারণা যে লিঙ্গ কঠোরভাবে একটি either/or অবস্থান যা male/men/masculine বা female/woman/feminine-এর বিকল্প; জন্মের সময় নির্ধারিত সেক্সের উপর ভিত্তি করে, যা লিঙ্গ পরিচয় এবং এক্সপ্রেশনের ধারাবাহিকতা বা বর্ণালীর পরিবর্তে। লিঙ্গ বাইনারি প্রায়শই সমস্ত মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ এবং সমস্যাযুক্ত বলে মনে করা হয়, এবং বিশেষ করে যারা either/or বিভাগে সুন্দরভাবে ফিট করে না, তাদের জন্য।” [44]

বায়োলজিক্যাল সেক্স এবং জন্মগতভাবে বরাদ্দকৃত সেক্স (Biological sex & Sex Assigned at Birth)

বায়োলজিক্যাল সেক্স (Biological sex)- “একজন ব্যক্তির যৌনাঙ্গ, ক্রোমোজোম এবং হরমোনের সংমিশ্রণ, সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড বা জন্মের সময় যৌনাঙ্গের ভিজ্যুয়াল পরিদর্শনের ভিত্তিতে “পুরুষ” বা “মহিলা” হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। অনেকে অনুমান করে যে একজন ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় তাদের যৌন নিয়োগের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। প্রত্যেকেরই একটি জৈবিক যৌনতা আছে।”[44]

জন্মগতভাবে বরাদ্দকৃত সেক্স সেক্স (Sex Assigned at Birth)- “জন্মের সময় যৌনাঙ্গের চাক্ষুষ চেহারার উপর ভিত্তি করে একজন ব্যক্তির লিঙ্গ নির্ধারণ। যেই লিঙ্গে কাউকে জন্মের সময় লেবেল করা হয়।” [44]

লিঙ্গ পরিচয় (Gender identity)

লিঙ্গ পরিচয় (Gender identity)- “লিঙ্গ পরিচয় প্রায়শই একজন ব্যক্তির পুরুষ বা মহিলা হওয়ার স্ব-সংজ্ঞায়িত অভ্যন্তরীণ অনুভূতি বা এই দুটি বিভাগের মধ্যে বা বাইরে একটি পরিচয় হিসাবে বর্ণনা করা হয়।” [45]

লিঙ্গ পরিচয় এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে-

“একটি বহুমাত্রিক নির্মাণ যা একজন ব্যক্তির-
(ক) একটি লিঙ্গ বিভাগে সদস্যতার জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে,
(খ) তার লিঙ্গ গোষ্ঠীর সাথে সামঞ্জস্যতার অনুভব অন্তর্ভুক্ত করে (অর্থাৎ, লিঙ্গ বৈশিষ্ট্যের স্ব-অনুভূতি এবং সেইসাথে একজনের লিঙ্গের সাথে সন্তুষ্টির অনুভূতি),
(গ) লিঙ্গ সামঞ্জস্যের জন্য চাপ অনুভব, এবং
(ঘ) বিভিন্ন লিঙ্গ গোষ্ঠীর প্রতি মনোভাব।” [46]

এই “বহুমাত্রিক নির্মাণ” কে কিছু গবেষক “অভ্যন্তরীণ মানচিত্র” হিসাবে উল্লেখ করেছেন-

“S-এর একটি লিঙ্গ পরিচয় রয়েছে, X যদি S-এর অভ্যন্তরীণ ‘মানচিত্র’ X লিঙ্গের সদস্য হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ কাউকে সামাজিক বা বস্তুগত বাস্তবতার মাধ্যমে গাইড করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা সেই প্রেক্ষাপটে, X-এর একটি শ্রেণী হিসাবে বৈশিষ্ট্য।” [47]

জেন্ডার এক্সপ্রেশন (Gender Expression)

জেন্ডার এক্সপ্রেশন (Gender Expression)- “একজন ব্যক্তির বাহ্যিক লিঙ্গ উপস্থাপনা, সাধারণত ব্যক্তিগত style, পোশাক, চুলের স্টাইল, মেকআপ, গয়না, কণ্ঠস্বর এবং body language নিয়ে গঠিত। জেন্ডার এক্সপ্রেশন সাধারণত পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়; এবং কম সাধারণত, “অ্যান্ড্রোজিনাস” হিসাবে। সব মানুষ একটি লিঙ্গ প্রকাশ করে। জেন্ডার এক্সপ্রেশন একজন ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে, তবে এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণও হতে পারে যদি একজন ব্যক্তি নিরাপদ বা সমর্থিত বোধ না করেন, বা জেন্ডার এক্সপ্রেশন-এ জড়িত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় resource না থাকে, যা তার লিঙ্গ পরিচয়কে প্রামাণিকভাবে প্রতিফলিত করে।”[44]

লিঙ্গ শনাক্তকারী (Gender Label/Marker)

লিঙ্গ শনাক্তকারী (Gender Label/Marker)- “শনাক্তকারী (পুরুষ বা মহিলা) যা একজন ব্যক্তির পরিচয় নথিতে প্রদর্শিত হয় (যেমন, Birth Certificate, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, ভ্রমণ বা কাজের ভিসা, গ্রিন কার্ড ইত্যাদি)। একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির পরিচয় নথিতে লিঙ্গ শনাক্তকারীটি জন্মের সময় তাদের নির্ধারিত লিঙ্গ হবে যতক্ষণ না তারা এটি পরিবর্তন করার জন্য একটি আইনি এবং logistical প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়- যেখানে করা সম্ভব।” [44]

FTM (Female-To-Male)

FTM হল এমন একটি শব্দ যা একজন ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় জুঁই জন্মের সময় মহিলা হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে পুরুষ হিসাবে নিজেকে পরিচয় দেন। এই সংক্ষিপ্ত রূপটি দাঁড়ায় ‘ female-to-male’ [48]

MTF (Male-To-Female)

MTF হল এমন একটি শব্দ যা একজন ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় যিনি জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে মহিলা হিসাবে নিজেকে পরিচয় দেন। এই সংক্ষিপ্ত রূপটি বোঝায় “male-to-female”। একজন ব্যক্তি যিনি MTF মহিলা হিসাবে জীবনযাপন করার জন্য হরমোন থেরাপি এবং/অথবা সেক্স রিঅ্যাসাইনমেন্ট সার্জারি করা বেছে নিতে পারেন। [48]

সিসজেন্ডার (Cisgender)

সিসজেন্ডার (Cisgender)- “সিসজেন্ডার এমন ব্যক্তিদের বোঝায়, যাদের জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গ তাদের স্ব-সংজ্ঞায়িত লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে মিলে যায়।” [49]

সিসজেন্ডার-এর আরেকটি সংজ্ঞা হচ্ছে-

“(Cisgender, উচ্চারণ /sis-gender/)- এমন একজন ব্যক্তির বর্ণনা করার জন্য একটি বিশেষণ যার লিঙ্গ পরিচয় তাদের জন্মের সময় নির্ধারিত বায়োলজিক্যাল সেক্সের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ (বা “মিলে”)। (কিছু লোক এটিকে “cis” হিসাবে সংক্ষিপ্ত করে)।[44]

ট্রান্সজেন্ডার (Transgender)

ট্রান্সজেন্ডার (Transgender)- “আমব্রেলা টার্ম ট্রান্সজেন্ডার [50] এমন ব্যক্তিদের বোঝায় যাদের জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গ তাদের স্ব-সংজ্ঞায়িত লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা নারী/পুরুষের ঐতিহ্যগত দ্বিধাবিভক্তির মধ্যে, বা বাইরে সনাক্ত হতে পারে।” [51]

ট্রান্সজেন্ডার-এর আরেকটি সংজ্ঞা হচ্ছে-

“এমন একটি adjective যা একজন ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়, যার লিঙ্গ পরিচয় তাদের জন্মের সময় নির্ধারিত বায়োলজিক্যাল সেক্সের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ (বা “মেলা” না)। “ট্রান্সজেন্ডার” শব্দটি ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পূর্ণ পরিচয়ের range এবং বৈচিত্র্য বোঝাতে একটি আমব্রেলা টার্ম হিসাবে ব্যবহৃত হয়, কারণ এই শব্দটি বর্তমানে সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং স্বীকৃত শব্দ।” [44]

ট্রান্সজেন্ডার একটি আমব্রেলা টার্ম, যা পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, যারা লিঙ্গের একটি দ্বিধাবিভক্ত (dichotomous) মডেলের সাথে খাপ খায় না-

“ট্রান্সজেন্ডার একটি আমব্রেলা টার্ম যা লিঙ্গ পরিচয়ের পার্থক্যকে অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে একজনের বায়োলজিক্যাল সেক্স তাদের অনুভূত লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে মেলে না। এই আমব্রেলা টার্ম এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে যারা মনে করেন না যে তাদের পরিচয় একটি দ্বিধাবিভক্ত লিঙ্গ কাঠামোর সাথে মানানসই, যার মাধ্যমে তারা পুরুষ বা মহিলা হিসাবে নিজেদের চিহ্নিত করতে পারতো। এই বিভাগের ব্যক্তিদের মনে হতে পারে যে তারা ভুল লিঙ্গে আছে, তবে এই উপলব্ধিটি সার্জারি বা হরমোন reassignment-এর ইচ্ছার সাথে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে আবার নাও পারে।” [52]

ট্রান্স (Trans)

ট্রান্স (Trans)- “এটি কখনও কখনও “ট্রান্সজেন্ডার” এর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।”[44]

ট্রান্সসেক্সুয়াল (Transexual/Transsexual)

ট্রান্সসেক্সুয়াল (Transexual/Transsexual)- “এটি একটি পুরানো শব্দ যা একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহার করা হতো, যিনি তার দেহ পরিবর্তন করার জন্য হরমোন বা সার্জারির হস্তক্ষেপ করেছেন যেন তাদের জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গের পরিবর্তে, তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে তাদের শরীর আরও সারিবদ্ধ হতে পারে। যদিও এখনও কেউ কেউ পরিচয় লেবেল হিসাবে ব্যবহার করেন, “ট্রান্সজেন্ডার” সাধারণত পছন্দের শব্দ হয়ে উঠেছে।” [44]

ট্রান্সসেক্সুয়াল এমন একটি শব্দ যা এমন কাউকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় যিনি তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে মেলানোর জন্যে তাদের শারীরিক চেহারা পরিবর্তন করতে সার্জারির মাধ্যমে পরিবর্তন করেছেন। এর মধ্যে chest reconstruction (top surgery) বা vaginoplasty (bottom surgery) এর মতো জিনিসগুলিকে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার লোকেরা সার্জারি করার সিদ্ধান্ত নেয় না এবং যারা ট্রান্সসেক্সুয়াল হিসাবে চিহ্নিত করে তারা সবাই সার্জারির সিদ্ধান্ত নেয় না। শব্দটি প্রায়ই ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের অনেকের দ্বারা outdated এবং offensive বলে বিবেচিত হয়। [48]

ট্রান্সসেক্সুয়াল মহিলা (Transsexual Female)

একজন ট্রান্সসেক্সুয়াল মহিলা এমন একজন ব্যক্তি যাকে জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে tara মহিলা হিসাবে বেঁচে থাকার জন্য transition করেছে। এর মধ্যে তাদের শারীরিক চেহারা পরিবর্তন করার জন্য সার্জারি এবং/অথবা হরমোন থেরাপি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার মহিলাকে ট্রান্সসেক্সুয়াল হিসাবে পরিকায় দেয় না এবং সমস্ত ট্রান্সসেক্সুয়াল মহিলাদের সার্জারির প্রয়োজন থাকে না। [48]

ট্রান্সসেক্সুয়াল পুরুষ (Transsexual Male)

একজন ট্রান্সসেক্সুয়াল পুরুষ হল এমন একজন ব্যক্তি যাকে জন্মের সময় মহিলা হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে তারা পুরুষ হিসাবে বেঁচে থাকার জন্য transition করেছে। এর মধ্যে তাদের শারীরিক চেহারা পরিবর্তন করার জন্য সার্জারি এবং/অথবা হরমোন থেরাপি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ ট্রান্সসেক্সুয়াল হিসাবে পরিচয় দেয় না এবং সমস্ত ট্রান্সসেক্সুয়াল পুরুষদের সার্জারির প্রয়োজন থাকে না। [48]

ট্রান্সমাসকুলিন (Transmasculine)

ট্রান্সমাসকুলিন লোকেরা হল সেইসব লোক যারা AFAB (জন্মের সময় বরাদ্দকৃত মহিলা) কিন্তু পুরুষ হিসাবে পরিচয় দেন (তারা একজন পুরুষালি মহিলা হতে পারে)। এটি একটি শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয় যা ট্রান্স* এর চেয়ে বেশি নির্দিষ্ট, যা লিঙ্গ পরিচয়ের বিস্তৃত পরিসর বর্ণনা করতে পারে। [48]

ট্রান্সফেমিনিন (Transfeminine)

ট্রান্সফেমিনিন ব্যক্তিরা হল সেইসব মানুষ যারা AMAB (জন্মের সময় বরাদ্দকৃত পুরুষ) কিন্তু মেয়েলি হিসাবে পরিচয় দেন (তারা একজন মেয়েলি পুরুষ হতে পারে)। মনে রাখবেন যে মেয়েলি এবং মহিলা একই নয়, যেখানে মেয়েলি আচরণের একটি সংগ্রহ যেখানে মহিলা একটি লিঙ্গ সনাক্তকরণ। [48]

ট্রান্সজেন্ডার অ্যালাই (Transgender Ally)

ট্রান্সজেন্ডার অ্যালাই (Transgender Ally)- “একজন সিসজেন্ডার ব্যক্তি যিনি ট্রান্সজেন্ডারদের সমর্থন করেন, affirm করেন, বা সংহতি প্রকাশ করেন।”[44]

ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ এবং ছেলেরা (Transgender men and boys)

ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ এবং ছেলেরা (Transgender men and boys)- “এমন লোকেরা যারা পুরুষ হিসাবে শনাক্ত করে, কিন্তু জন্মের সময় মহিলা হিসাবে বরাদ্দ করা হয়েছিল। এছাড়াও কখনও কখনও “ট্রান্স পুরুষ” হিসাবে উল্লেখ করা হয়।” [44]

ট্রান্সজেন্ডার মহিলা এবং মেয়েরা (Transgender women and girls)

ট্রান্সজেন্ডার মহিলা এবং মেয়েরা (Transgender women and girls)- “যারা মহিলা হিসাবে শনাক্ত করে, কিন্তু জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দ করা হয়েছিল। এছাড়াও কখনও কখনও “ট্রান্স মহিলা” হিসাবে উল্লেখ করা হয়।” [44]

বৈষম্য, কুসংস্কার এবং ক্ষুদ্র বৈষম্য

ট্রান্সজেন্ডার বিরোধী বৈষম্য (Anti-transgender Discrimination)- “ট্রান্সজেন্ডারদের ক্ষতি করার জন্য গৃহীত ও বিস্তৃত পরিসরের যে কোনো পদক্ষেপ। বৈষম্যের উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে: একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিকে নিয়োগ না করা, একজন নন-কনফরমিং ব্যক্তির শারীরিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি দেওয়া, কোনও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিকে যেকোনো সার্ভিস-এর অ্যাক্সেস অস্বীকার করা, বা “ভুল” বাথরুম ব্যবহার করার জন্য কাউকে রিপোর্ট করা।”[44]

ট্রান্সজেন্ডার বিরোধী কুসংস্কার (Anti-transgender Prejudice)- “ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি একজন ব্যক্তির নেতিবাচক মনোভাব, বিশ্বাস বা প্রতিক্রিয়া। ট্রান্সজেন্ডার-বিরোধী কুসংস্কারের উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে: বিশ্বাস করা যে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির সাথে জায়গা ভাগাভাগি করতে অস্বস্তিকর হওয়া, বা মনে করা যে ট্রান্সজেন্ডারদের পাবলিক বাথরুম ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।”[44]

মাইক্রো-এগ্রেশন (Microaggressions)- “ট্রান্সজেন্ডার বা জেন্ডার নন-কফরমিং ব্যক্তিদের প্রতি ক্ষুদ্র, স্বতন্ত্র শত্রুতা বা উপহাস, যা কখনও কখনও অনিচ্ছাকৃত ভাবেও হতে পারে। ক্ষুদ্র এগ্রেশন-এর উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে: non-affirming নাম বা সর্বনামের ব্যবহার, অবমাননাকর ভাষা, অনুপযুক্ত বা আপত্তিকর প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা এবং অরুচিকর বা বিভ্রান্তি প্রকাশ করে, এমন চেহারা প্রদর্শন করা।”[44]

নন-বাইনারী এবং জেন্ডারকুইয়ার (Non-Binary & Genderqueer)

নন-বাইনারী (Non-Binary)- “নন-বাইনারী, তৃতীয় বিকল্প হিসাবে, উভয়ই স্বীকার করে যে লিঙ্গ একটি বাইনারি বিভাগ নয় এবং ট্রান্সজেন্ডার শব্দটি মহিলা/পুরুষের পরিপূরক করার জন্য যথেষ্ট তৃতীয় বিকল্প নয়।” [51]

“অনুসন্ধানগুলি পরামর্শ দেয় যে নন-বাইনারির একটি operational definition হিসাবে বোঝা যেতে পারে: নন-বাইনারী হল একটি আমব্রেলা টার্ম যা এমন লিঙ্গকে বোঝায় যেগুলি কঠোরভাবে পুরুষত্ব বা কঠোরভাবে মেয়েলি নয়। এই আমব্রেলার মধ্যে আরও অনেক লিঙ্গ রয়েছে, যার মধ্যে জেন্ডারকুইয়ার, জেন্ডারফ্লুইড এবং এজেন্ডার এর সাথে জড়িত কিন্তু সীমাবদ্ধ নয়। জেন্ডারকুইয়ার, যা তিনজন অংশগ্রহণকারী তাদের লিঙ্গ বর্ণনা করতে ব্যবহার করে, মূলত নন-বাইনারির মতন একই জিনিষকে বোঝাতে দেখা যায়।” [53]

এইভাবে “নন-বাইনারী” শব্দটি এমন যে কেউ লিঙ্গের বাইনারি বিভাগের মধ্যে পড়ে না, কিন্তু যারা “ট্রান্সজেন্ডার” লেবেল ব্যবহার করতে চায় না তাদের জন্য একটি আমব্রেলা টার্ম।

নন-বাইনারী-এর আরেকটি সংজ্ঞা হচ্ছে-

“লিঙ্গ পরিচয় এবং এক্সপ্রেশনের একটি ধারাবাহিকতা বা বর্ণালী, প্রায়শই জেন্ডার বাইনারি অনুমানের প্রত্যাখ্যানের উপর ভিত্তি করে যে লিঙ্গ কঠোরভাবে হয় male/men/masculine অথবা female/ woman/feminine- যা একজন মানুষের জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গে আবদ্ধ। অন্য বিকল্প শব্দ যা নন-বাইনারি লোকেরা তাদের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করার জন্য ব্যবহার করতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে “এজেন্ডার,” “bigender”, “genderqueer”, “জেন্ডারফ্লুইড” এবং “pangender””[44]

জেন্ডারকুইয়ার (Genderqueer)- “একজন ব্যক্তি যার লিঙ্গ পরিচয় পুরুষ বা মহিলা নয়, লিঙ্গের মধ্যে বা তার বাইরে, বা বিভিন্ন লিঙ্গের একটি সংমিশ্রণ।”[44]

জেন্ডারফ্লুইড (Genderfluid)

জেন্ডারফ্লুইড (Genderfluid)- “যারা জেন্ডারফ্লুইড, তারা এমন একটি লিঙ্গ অনুভব করে যা স্থির নয়; তাদের লিঙ্গ একাধিক লিঙ্গের মধ্যে ওঠানামা করে। তবে, তারা যে লিঙ্গগুলির মধ্যে ওঠানামা করে এবং কত ঘন ভাবে ওঠানামা হয় তা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির উপর নির্ভর করে।” [54]

জেন্ডারফ্লুইড-এর আরেকটি সংজ্ঞা হচ্ছে-

“একজন ব্যক্তি যার লিঙ্গ পরিচয় বা এক্সপ্রেশন পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে বা এই বর্ণালী জুড়ে ওঠানামা করে।” [44]

জেন্ডারফ্লুইডের মধ্যে আরও শ্রেণী রয়েছে-

অ্যালেক্সিজেন্ডার (Alexigender)- “যারা জেন্ডার ফ্লুইড কিন্তু তারা যে কোন লিঙ্গগুলির মধ্যে ওঠানামা করছে, সেই লিঙ্গগুলির উপরে নাম দিতে যারা অক্ষম৷” [55]

জেন্ডারফ্লাক্স (Genderflux)- “যারা একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গ এবং এজেন্ডারের মধ্যে ওঠানামা করে।” [55]

এজেন্ডার (Agender)

এজেন্ডার (Agender)- “লিঙ্গ তরলতার বিপরীতে, যেখানে লোকেরা অনেক লিঙ্গের মধ্যে ওঠানামা করে, এজেন্ডার হল লিঙ্গের সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান। যারা এজেন্ডার তারা লিঙ্গ বাইনারির ভিতরে বা বাইরে অথবা কোনো প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ সম্পর্কে ধারণা রাখে না।” [55]

এজেন্ডার-এর আরেকটি সংজ্ঞা হচ্ছে-

একজন ব্যক্তি যিনি একটি লিঙ্গ পরিচয় ধারণ করেন যা পুরুষ বা মহিলা হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে না, এবং কখনও কখনও “লিঙ্গ পরিচয় নেই” বলে শনাক্তকারী হিসাবে ব্যবহার করা হয়।”[44]

বাইজেন্ডার (Bigender) & প্যানজেন্ডার (Pangender)

বাইজেন্ডার (Bigender)- “একজন ব্যক্তি যিনি একই সময়ে দুটি লিঙ্গ হিসাবে লিঙ্গ পরিচয় অনুভব করেন বা যার লিঙ্গ পরিচয় দুটি লিঙ্গের মধ্যে পরিবর্তিত হতে থাকে। এগুলি পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ হতে পারে, অথবা নন-বাইনারি পরিচয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।”[44]

প্যানজেন্ডার (Pangender)- “এমন একজন ব্যক্তি যিনি সমস্ত লিঙ্গ হিসাবে চিহ্নিত করেন।” [44]

Trigender

ট্রাইজেন্ডার হল একটি লিঙ্গ পরিচয় যা এমন লোকদের বোঝায় যারা তিনটি লিঙ্গ অনুভব করে: পুরুষ, মহিলা এবং অন্য কিছু যা এই দুটির মধ্যে নয়। এই তৃতীয় লিঙ্গটি পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের সংমিশ্রণ হতে পারে, উভয়ের মধ্যে কোথাও বা সম্পূর্ণ আলাদা কিছু। ট্রাইজেন্ডার ব্যক্তিরা লিঙ্গের যেকোন সংমিশ্রণ হিসাবে পরিচয় দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে তবে সীমাবদ্ধ নয়: এজেন্ডার, bigender, জেন্ডারফ্লুইড বা প্যানজেন্ডার। সমস্ত ট্রাইজেন্ডার মানুষ একইভাবে একই তিন লিঙ্গের অভিজ্ঞতা অনুভব করে না। [48]

Polygender

প্যানজেন্ডারের মতো, polygender হল একটি লিঙ্গ পরিচয় যা একই সাথে বা সময়ের সাথে একাধিক লিঙ্গ অনুভব করাকে বোঝায়। Polygender-এর লোকেরা মনে করতে পারে যে তারা দুই বা ততোধিক লিঙ্গের সংমিশ্রণ, সময়ের সাথে তাদের লিঙ্গ পরিবর্তিত হয় বা তাদের কোন নির্দিষ্ট লিঙ্গ নেই। অন্যান্য non-binary পরিচয়ের মতো, Polygender প্রায়শই প্রথাগত [gender dichotomy]-এর বাইরে অবস্থিত হিসাবে দেখা যায়। [48]

Aliagender

Aliagendered লোকেরা পুরুষ, মহিলা বা এজেন্ডারড নন। তারা তারা এমন ব্যক্তি, যারা একটি লিঙ্গ পরিচয় অনুভব করে যা পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ বর্ণালীতে খাপ খায় না কিন্তু তবুও একটি লিঙ্গ পরিচয় অনুভব করে। [48]

Aporagender

Aporagender মানুষ তারা, যারা কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের সঙ্গে পরিচয় করে না। তারা অনুভব করতে পারে যে তাদের কোন লিঙ্গ নেই, বা তাদের লিঙ্গ অনির্ধারিত। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন অনুভব করা যে একজন কোনও বিদ্যমান লিঙ্গ বিভাগের সাথে খাপ খায় না, বা অনুভব করা যে সমস্ত বিদ্যমান লিঙ্গ বিভাগ সমানভাবে বৈধ এবং যার মধ্যে একটা অন্যদের চেয়ে বেশি ‘সঠিক’ বলে বোধ করা হয় না। [48]

ডেমিজেন্ডার (Demigender)

ডেমিজেন্ডার মানুষ হলো তারা, যারা আংশিকভাবে পুরুষ বা মহিলা হিসাবে পরিচয় দেয়। তারা অনুভব করতে পারে যে তারা সম্পূর্ণরূপে পুরুষ বা সম্পূর্ণ মহিলা নয়, অথবা তারা উভয় লিঙ্গের মিশ্রণ। [48]

ডেমিবয় (Demiboy)

ডেমিবয় হল একজন ব্যক্তি যিনি আংশিকভাবে পুরুষ হিসাবে পরিচয় দেন। তারা অনুভব করতে পারে যে তারা সম্পূর্ণরূপে পুরুষ বা সম্পূর্ণ মহিলা নয়, অথবা তারা উভয় লিঙ্গের মিশ্রণ। ডেমিবয়রা তাদের লিঙ্গ পরিচয় মেলানোর জন্য তাদের দেহ পরিবর্তন করতে হরমোন থেরাপি বা সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে পারে আবার নাও পারে। [48]

ডেমিগার্ল (Demigirl)

একজন ডেমিগার্ল এমন একজন ব্যক্তি যিনি আংশিকভাবে মহিলা হিসাবে চিহ্নিত করেন। তারা অনুভব করতে পারে যে তারা সম্পূর্ণরূপে পুরুষ বা সম্পূর্ণ মহিলা নয়, অথবা তারা উভয় লিঙ্গের মিশ্রণ। ডেমিগার্লস তাদের লিঙ্গ পরিচয় তাদের দেহের সাথে মিলানোর জন্যে তাদের শরীর পরিবর্তন করতে হরমোন থেরাপি বা অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে পারে আবার নাও পারে। [48]

Maverique

একজন maverique হলেন একজন ব্যক্তি যিনি ঐতিহ্যগত লিঙ্গ ভূমিকা এবং প্রত্যাশাকে অস্বীকার করেন। Maverique তাদের নিজস্ব একটা আলাদা লিঙ্গ হিসাবে পরিচয় দিতে পারে, কিন্তু পুরুষ বা মহিলা নয়। অন্যান্য শ্রেণীবিভাগের বিপরীতে, maverique এজেন্ডার নয়; কারণ তারা বিশ্বাস করে যে তাদের একটি স্বতন্ত্র লিঙ্গ রয়েছে যা পুরুষ-মহিলার বর্ণালীর সাথে খাপ খায় না। তারা প্রায়শই সৃজনশীল, স্বাধীন চিন্তাবিদ এবং নন-কনফর্মিস্ট হয়। [48]

Neutrois

নিউট্রোসিস একটি লিঙ্গ পরিচয় যা ১৯৯৫ সালে প্রথম বর্ণনা করা হয়েছিল। এটি ফরাসি শব্দ neutre দ্বারা গঠিত, যার অর্থ “নিরপেক্ষ” trois অর্থ “তিনটি।” এটা বোঝানোর জন্য লোকেরা ব্যবহার করে যে তারা একটি নন-বাইনারী অজ্ঞাত লিঙ্গ বা কোন লিঙ্গ নয়। [48]

Novigender

Novigender এমন লোকদের বর্ণনা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যারা নিজেদের লিঙ্গের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে বা বুঝতে অসুবিধা হয়। Novigender লোকেরা অনুভব করতে পারে যে তাদের লিঙ্গ সর্বদা পরিবর্তনশীল, যা পিন করা কঠিন। [48]

Intergender

ইন্টারজেন্ডার এমন একটি শব্দ যা এমন ব্যক্তিদের বর্ণনা করে যাদের পুরুষ ও মহিলা উভয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে বা যারা দুটি লিঙ্গের মধ্যে কোথাও পড়েন। ইন্টারজেন্ডার ব্যক্তিরা পুরুষ বা মহিলা নয় বলে পরিচয় দিতে পারে, অথবা তারা উভয় লিঙ্গের মিশ্রণ হিসাবে পরিচয় দিতে পারে। [48]

জেন্ডার আপ্যাথেটিক (Gender Apathetic)

একজন জেন্ডার আপ্যাথেটিক ব্যক্তি হলেন এমন একজন যিনি দৃঢ়ভাবে এক লিঙ্গ বা অন্য লিঙ্গের সাথে পরিচয় করার দিকে ঝুঁকে পড়েন না। তদুপরি, তারা প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গের প্রতি তাদের আকর্ষণ সম্পর্কে উদাসীন (বা অপ্রত্যয়িত) হয়, যার অর্থ তারা প্রায়শই bisexual হয়। [48]

জেন্ডার ভ্যারিয়েন্ট (Gender Variant)

একজন জেন্ডার ভ্যারিয়েন্ট ব্যক্তি এমন একজন ব্যক্তি যার লিঙ্গ অভিব্যক্তি পুরুষ এবং মহিলাদের ঐতিহ্যগত ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় যা নির্দের্শ করে কীভাবে তাদের দেখতে এবং আচরণ করা উচিত। এটি এমন একজন ব্যক্তি হতে পারে যিনি কেবল তাদের লিঙ্গকে সৃজনশীল বা অপ্রচলিত উপায়ে প্রকাশ করেন। [48]

Tom And Dee Identities

Tom এবং Dee আইডেন্টিটি হল সেইসব ব্যক্তিদের বোঝায় যারা জন্মের সময় পুরুষ বা মহিলা হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হয়, কিন্তু যারা পরিবর্তে বিপরীত লিঙ্গ হিসাবে পরিচয় দেন। উদাহরণ স্বরূপ, জন্মের সময় একজন পুরুষকে বরাদ্দ করা হয়েছে যিনি নারী হিসেবে পরিচয় দেন, তাকে Tom পরিচয় হিসেবে গণ্য করা হবে। একইভাবে, যদি একজন ব্যক্তিকে জন্মের সময় নারী হিসেবে নিয়োগ করা হয় কিন্তু তারা পরবর্তীতে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দেন, তাদেরকে Dee আইডেন্টিটি হিসেবে গণ্য করা হবে।

শিশুদের বই The Gendered Society Reader-এ Tom এবং Dee চরিত্রগুলির নামানুসারে এই পরিচয়গুলির নামকরণ করা হয়েছে। বইটি লিখেছেন দুই সমাজবিজ্ঞানী, মাইকেল কিমেল এবং অ্যামি অ্যারনসন, এবং এটি অন্বেষণ করে যে কীভাবে লিঙ্গ প্রত্যেকের জীবনকে প্রভাবিত করে, তাদের জন্মের সময় বরাদ্দকৃত লিঙ্গ নির্বিশেষে। [48]

তৃতীয় লিঙ্গ (Third Gender)

তৃতীয় লিঙ্গ হল এমন একটি ধারণা যেখানে ব্যক্তিদের শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, হয় নিজের বা অন্যদের দ্বারা, যা পুরুষ বা মহিলা নয়। এটি তাদের বর্ণনা করতেও ব্যবহৃত হয় যারা পুরুষ ও মহিলার ঐতিহ্যগত লিঙ্গের সাথে খাপ খায় না। অনেক non-Western সংস্কৃতি একাধিক লিঙ্গের ধারণাকে সমর্থন করেছে; শুধুমাত্র দুটি লিঙ্গ আছে এমন সাংস্কৃতিক ধারণাকে ক্ষুণ্ন করে। [48]

হিজড়া (Hijra)

একজন হিজড়া হল দক্ষিণ এশিয়ার একজন ব্যক্তি যিনি পুরুষের যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারেন কিন্তু নারী হিসেবে পরিচয় দেন। হিজড়াদের মাঝে মাঝে তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হয় এবং অনেক দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি যেমন বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে তাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০১৩ সালে, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হিজড়াকে [একটি তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে] স্বীকৃতি দেয়। [48]

Neither

যে সমস্ত লোকেরা Neither Gender বলে পরিচয় দেন, তারা সাধারণত একটি ঐতিহ্যগত লিঙ্গ বর্ণালীতে নিজেদের স্থাপন করতে চায় না অথবা তারা তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে পরিচয় দিতে পারে। লিঙ্গ উপাধি হিসাবে ‘Neither’ নিয়মিতভাবে সরকারী ফর্মগুলিতে catch-all ক্যাটাগরি হিসাবে ব্যবহার করা হয় তাদের জন্যে, যারা সিজজেন্ডার নয়। [48]

Other

‘Other’ হল একটি আনুষ্ঠানিক শ্রেণীবিভাগ যা লোকেরা লিঙ্গ ফর্মগুলিতে select করতে পারে। শব্দটি নির্দেশ করতে পারে যে তারা বাইনারি লিঙ্গ নির্মাণের সাথে খাপ খায় না। এটি প্রায়শই সরকারী ফর্মগুলিতে ব্যবহৃত হয়, যা ‘Neither’ এর মতো। যারা ‘Other’ হিসাবে পরিচয় দেন, তারা এমনও মনে করতে পারে যে তাদের লিঙ্গ সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার জন্য কোনো শব্দ নেই। [48]

জেন্ডার কনফর্মিং এবং জেন্ডার নন-কনফর্মিং (Gender Conforming & Gender Non-Conforming)

জেন্ডার কনফর্মিং (Gender Conforming)- “একজন ব্যক্তি যার জেন্ডার এক্সপ্রেশন সেই লিঙ্গের জন্য প্রত্যাশিত সাংস্কৃতিক নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই নিয়ম অনুসারে, ছেলে/পুরুষ পুরুষালি হওয়া উচিত এবং মেয়ে/মহিলারা মেয়েলি হওয়া উচিত। সমস্ত সিসজেন্ডার লোকেরা জেন্ডার কনফর্মিং নয় এবং সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার লোকেরা জেন্ডার নন-কনফর্মিং নয়। (উদাহরণস্বরূপ, একজন ট্রান্সজেন্ডার মহিলার খুব মেয়েলি জেন্ডার এক্সপ্রেশন থাকতে পারে)।”[44]

জেন্ডার নন-কনফর্মিং (Gender Non-Conforming)- “জেন্ডার নন-কনফর্মিং হল একাধিক বর্ণনা সহ একটি শব্দ: এটি একটি বর্ণনাকারী, একটি ক্রিয়া বা একটি লিঙ্গ পরিচয় হতে পারে […] মূলত, জেন্ডার নন-কনফর্মিং এমন একজনকে বর্ণনা করে, যে লিঙ্গের [আদর্শিক] নিয়মকে অস্বীকার করছে।” [56]

জেন্ডার নন-কনফর্মিং-এর আরেকটি সংজ্ঞা হচ্ছে-

“একজন ব্যক্তি, যার জেন্ডার এক্সপ্রেশন সেই লিঙ্গের প্রত্যাশিত সাংস্কৃতিক নিয়মের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে, ছেলে/পুরুষরা যথেষ্ট পুংলিঙ্গ নয় বা খুব বেশি মেয়েলি, যখন মেয়ে/মহিলারা যথেষ্ট মেয়েলি নয় বা অনেক বেশি পুরুষালি। সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার মানুষ লিঙ্গ নন-কনফর্মিং নয়, এবং সমস্ত লিঙ্গ নন-কনফর্মিং লোকেরা ট্রান্সজেন্ডার হিসাবে চিহ্নিত করে না। সিসজেন্ডার ব্যক্তিরাও জেন্ডার নন-কনফরমিং হতে পারে। [44]

Acault (Myanmar)

Acault মায়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি লিঙ্গ। এটি এমন লোকদের বর্ণনা করে যারা AMAB (জন্মের সময় নির্ধারিত পুরুষ) যাদেরকে Manguedon নামক একজন মহিলা spirit god দ্বারা আবিষ্ট করা হয়েছে, যিনি তাদের উপর নারীত্ব প্রদান করেছে। Acault-কে প্রায়ই জ্ঞানী shamans এবং seers হিসেবে দেখা হয়। [48]

Alyha And Hwame (Mohave)

দক্ষিণ-পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোহাভে লোকদের দুটি নন-সিস লিঙ্গ রয়েছে, Alyha এবং Hwame। Alyha হল male-assigned ব্যক্তি যারা মেয়েলি পোশাক পরে এবং মহিলাদের মতো আচরণ করে। Hwame হল female-assigned ব্যক্তি যারা পুরুষালি পোশাক পরে এবং পুরুষদের মত আচরণ করে। Alyha এবং Hwame উভয়ই ঐতিহ্যগতভাবে non-gendered ভূমিকা গ্রহণ করে। তাদের উভয়কেই বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে বলে দেখা হয়। [48]

Aravani (India)

আরাভানিরা ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর লোক। তারা এমন লোক যারা একটি পুংলিঙ্গ শরীরে নারীত্ব প্রদর্শন করে, কিন্তু প্রায়শই শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় যাতে তাদের দেহ তাদের লিঙ্গের সাথে মেলে। [48]

Ashtime (Maale, Ethiopia)

ইথিওপিয়ার Maale সংস্কৃতির Asthime লিঙ্গ একটি তৃতীয় লিঙ্গ যা পুরুষ বা মহিলা একটাও না বলে মনে করা হয়। Asthime লোকেদের বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তি আছে বলে মনে করা হয় এবং মনে করা হয় যে তারা অন্যান্য মানুষের তুলনায় প্রাকৃতিক জগতের সাথে আরও বেশি in-tune। তারা প্রায়ই ঐতিহ্যগত ভূমিকা গ্রহণ করে যেমন নিরাময়কারী, গল্পকার এবং shaman। তাদেরকে সাধারণত জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হয়। [48]

Burrnesha (Albania)

আলবেনিয়ান সংস্কৃতির Burrnesha লিঙ্গ হলো তারা, যারা পুরুষ হিসাবে বেঁচে থাকার জন্য ব্রহ্মচর্যের ব্রত নিয়েছে। Burrnesha পুরুষদের মতো পোশাক পরে এবং আচরণ করে, পুরুষের ভূমিকা গ্রহণ করে যেমন পরিবারের প্রধান হওয়া এবং প্রায়শই একজন স্ত্রী গ্রহণ করে। [48]

Bakla (Phillipines)

Bakla হল Phillipines-এর মানুষ যারা effeminate biological পুরুষ যারা মেয়েলি পোশাক পরে এবং এমনভাবে আচরণ করে যা ঐতিহ্যগতভাবে মহিলাদের সাথে যুক্ত। তাদের প্রায়ই তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে দেখা হয়, পুরুষ এবং মহিলাদের থেকে আলাদা। [48]

Calabai, Calalai, And Bissu (Indonesia)

Calalai হল এমন মানুষ যাদেরকে জন্মগতভাবে নারী হিসেবে বরাদ্দকৃত করা হয় কিন্তু যারা পুরুষের ভূমিকা গ্রহণ করে; যখন Bissu পুরুষ বা নারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। Calabai এবং Calalai উভয়ই তাদের স্তন অপসারণের জন্য সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে পারে (যাকে বলা হয় ‘টপ সার্জারি’), যখন Bissu প্রায়শই ঐতিহ্যগত পুরুষ এবং মেয়েলি পোশাক উভয়ই পরেন। [48]

Chuckchi Ne’uchika Shamans (Siberia)

Chuckchi ne’uchika shaman-দের জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হয় তবে বিশ্বাস করা হয় যে লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য একটি spirit দ্বারা তাদেরকে আদেশ করা হয়। তারা প্রায়শই উপজাতির পুরুষদের বিয়ে করে এবং উপজাতির মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ এবং মহিলা উভয় ভূমিকাই গ্রহণ করে। [48]

Fa’afafine (Samoa)

Samoan এবং Tongan সংস্কৃতিতে Fa’afafine একটি তৃতীয় লিঙ্গ। Fa’afafine জন্মগতভাবে পুরুষ হিসাবে বরাদ্দকৃত কিন্তু নারী হিসেবে পরিচয় দেন, এবং সমাজে সাধারণত নারী লিঙ্গ ভূমিকা গ্রহণ করে। তারা Samoan পরিবার এবং সম্প্রদায়গুলিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তাদের দৃশ্যমানতা লিঙ্গ এবং যৌনতার ঐতিহ্যগত পশ্চিমা ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। [48]

Fakaleiti (Polynesia)

Fakaleiti ঐতিহ্যবাহী Polynesian সমাজে তৃতীয় লিঙ্গ। তারা biological পুরুষ যারা মেয়েলি পোশাক পরে এবং একটি মেয়েলি পদ্ধতিতে আচরণ করে। Fakaleiti প্রায়ই সম্মানের অবস্থান দখল করে এবং Polynesian সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, নিরাময়কারী, seers, মধ্যস্থতাকারী এবং তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে কাজ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, Polynesian অনেক LGBTQ লোকেরা তাদের লিঙ্গ এবং যৌনতা প্রকাশের উপায় হিসাবে Fakaleiti পরিচয়টি গ্রহণ করেছে। [48]

Femminiello (Italy)

Femminiello ইতালির তৃতীয় লিঙ্গ। তারা জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে নির্ধারিত হয় তবে সাধারণত পোশাক পরে এবং মহিলাদের মতো আচরণ করে। Femminiello প্রায়ই lucky charm হিসাবে দেখা হয় এবং তাদের বিশেষ ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করা হয়, যেমন মন্দ আত্মা তাড়ানোর ক্ষমতা। [48]

Guevedoche (Dominican Republic)

Guevedoche অনুবাদ হলো “penis at 12” ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি জাতিগত গোষ্ঠী রয়েছে যারা জেনেটিক বিকাশের মাধ্যমে এমন শিশুদের জন্ম দিতে পারে যারা জন্মগতভাবে মেয়েদের মতো দেখতে কিন্তু ১২ বছর বয়সের মধ্যে পুরুষ genetalia বৃদ্ধি পায়। এটি প্রায়শই শিশুদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে লিঙ্গকে প্রশ্ন করা এবং লিঙ্গ তরলতার দিকে পরিচালিত করে। [48]

Kathoey (Thailand)

Kathoey হল থাইল্যান্ডের একজন ব্যক্তি যিনি পুরুষ যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারেন কিন্তু নারী হিসেবে পরিচয় দেন। Kathoey-কে কখনও কখনও তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং থাই সংস্কৃতিতে তাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে, তারা দেশে বর্ধিত আইনি সুরক্ষা উপভোগ করেছে। [48]

Lhamana (Zuni, North America)

Lhamana হল উত্তর আমেরিকার (প্রাথমিকভাবে, পশ্চিম নিউ মেক্সিকো) Zuni উপজাতির একজন ব্যক্তি যাকে জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হতে পারে কিন্তু পরবর্তীতে মহিলা হিসাবে জীবনযাপন করার জন্য transition করে। Lhamana-কে Zuni সংস্কৃতিতে তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। মজার বিষয় হল, Zuni সংস্কৃতিতে, gender roles ঐতিহ্যগতভাবে দৃঢ়ভাবে সেট করা হয়, কিন্তু জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গের সাথে সংযুক্ত নয়, তরল লিঙ্গ প্রকাশের জন্য স্থান খোলা। [48]

Mahu (Hawaii)

একটি Mahu হল Hawaii-এর একজন ব্যক্তি যিনি পুরুষের যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারেন কিন্তু মহিলা হিসাবে পরিচয় দেন। Mahu মহিলাদের পোশাক পরার জন্যও পরিচিত এবং তাদের সমাজে মেয়েলি ভূমিকা নিতে পারে। প্রাচীন Hawaiian সংস্কৃতিতে, Mahu-কে জ্ঞানের রক্ষক এবং শিল্পকলায় দক্ষ হিসাবে সম্মান করা হত। কিছু আধুনিক পণ্ডিত বিশ্বাস করেন যে “Mahu” শব্দটি আর নেটিভ Hawaiian ট্রান্সজেন্ডারদের সঠিক বর্ণনা নয় এবং পরিবর্তে “wahine maoli” (নেটিভ Hawaiian মহিলা) শব্দটি ব্যবহার করতে পছন্দ করে। [48]

Metis (Nepal)

Metis নেপালি সংস্কৃতি থেকে এসেছে। তারা এমন লোক যারা পুরুষালি শরীরে নারীত্ব প্রদর্শন করে। ২০০৭ সাল থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নেপালে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত পেয়েছে। [48]

Muxe (Mexico)

মেক্সিকোর Oaxaca-এর Zapotec আদিবাসীদের মধ্য থেকে Muxe একটি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। Muxes জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দ করা হয় কিন্তু সাধারণত মেয়েলি পোশাক পরে এবং এমনভাবে আচরণ করে যা ঐতিহ্যগতভাবে মহিলাদের সাথে যুক্ত। Zapotec সংস্কৃতিতে Muxes একটি unique এবং শ্রদ্ধেয় অবস্থান দখল করে, এবং তারা তাদের সমাজে পুরুষ এবং মহিলা উভয় ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। [48]

Paṇḍaka (India)

Paṇḍakas হল এমন ব্যক্তি যারা পুরুষের যৌন অঙ্গ ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে। প্রাচীন ভারতে তাদেরকে নারী বা পুরুষ নয়, বরং তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তারা সাধারণত মহিলাদের মতো পোশাক পরে এবং আচরণ করে, এবং অনেক Paṇḍakas এমনকি তাদের শরীরকে আরও মেয়েলি দেখানোর জন্য সার্জারি করে।

ভারতে Paṇḍakas-দের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে সমাজে তাদের ভূমিকা পরিবর্তিত হয়েছে। প্রাথমিক Vedic যুগে, তাদেরকে একটি পৃথক এবং স্বতন্ত্র লিঙ্গ হিসাবে দেখা হয়েছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তারা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়েছিল। মহাভারতের সময়কালে, তাদের প্রায়শই বীর্যপূর্ণ পুরুষ বা নপুংসক পুরুষ হিসাবে দেখা যেত। [48]

Quariwarmi (Inca, Peru)

Quariwarmi ছিলেন pre-colonial Incan সমাজে তৃতীয় লিঙ্গ। তারা পুরুষ বা মহিলা নয়, বরং এ দুটির মধ্যে কিছু বলে মনে করা হত। তারা সাধারণত এমন পোশাক করে এবং এমনভাবে আচরণ করে যেগুলিকে পুরুষের চেয়ে বেশি মেয়েলি বলে মনে করা হত। কিছু ক্ষেত্রে, তারা ইন্টারসেক্স বা ট্রান্সজেন্ডারও হতে পারে। [48]

Sekrata (Madagascar)

Sekrata লিঙ্গ হল Madagascar সমাজের তৃতীয় লিঙ্গ। Sekrata হিসাবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা সাধারণত জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দ করা হয় তবে তারা এমনভাবে পোশাক পড়তে এবং আচরণ করতে পারে যা ঐতিহ্যগতভাবে মহিলাদের সাথে যুক্ত এবং তাদেরকে প্রায়শই সম্মানিত এবং শ্রদ্ধেয় নর্তক হিসাবে দেখা হয়। [48]

Sistergirl And Brotherboy (Aboriginal Australian)

Sistergirl- এটি একটি শব্দ যা আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ান সমাজে ট্রান্সজেন্ডার মহিলাদের উল্লেখ করতে ব্যবহৃত হয়। তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি একটি সম্মানজনক এবং ইতিবাচক শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়।

Sistergirls প্রায়শই পুরুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করে তবে মহিলা হিসাবে পরিচয় দিতে পারে এবং একটি ঐতিহ্যগত coming-of-age অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। এই আনুষ্ঠানিক ঘটনাটি তাদের নারীত্বে আনুষ্ঠানিক transition-এর ইঙ্গিত দেয়। [48]

Brotherboy- Brotherboys হল আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ান যারা ট্রান্স পুরুষ। তাদেরকে জন্মের সময় মহিলা হিসাবে বরাদ্দ করা হয়েছিল তবে পুরুষ হিসাবে তারা পরিচয় দেয়। তারা সমাজে পুরুষ হিসাবে স্বীকৃত হওয়ার জন্য একটি প্রথাগত coming-of-age অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। Sistergirls-এর মতো, brotherboys-দের সাধারণত তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্মান করা হয়। [48]

Travesti (Latin America)

Travesti একটি ল্যাটিন আমেরিকান শব্দ তাদের জন্য যারা জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হয়েছিল কিন্তু যারা পরিবর্তে মহিলা হিসাবে পরিচয় দেন। তারা প্রায়শই নাইটক্লাব এবং পতিতালয়ের মতো all-Travesti পরিবেশে বাস করে এবং কাজ করে। তারা তাদের শারীরিক চেহারা পরিবর্তন করতে হরমোন থেরাপি বা সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে পারে বা নাও পারে। [48]

Waria (Indonesia)

Waria হল এমন একটি শব্দ যা ইন্দোনেশিয়ায় এমন ব্যক্তিদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় যারা জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে বরাদ্দকৃত করা হয় কিন্তু যারা পরবর্তীতে নারী হিসেবে পরিচয় দেন। শব্দটি নিজেই একটি ইন্দোনেশিয়ান ভাষার portmanteau নারী (wanita) এবং পুরুষ (pria)। তারা প্রায়ই রক্ষণশীল ইন্দোনেশিয়ান সংস্কৃতির কাছ থেকে বৈষম্যের সম্মুখীন হয়। [48]

Whakawahine (Maori, New Zealand)

Whakawahine হল একটি Maori শব্দ যা এমন ব্যক্তিদের বর্ণনা করে যাদেরকে জন্মের সময় নারী হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছিল কিন্তু যারা পরবর্তীতে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দেন। এটি Maori সংস্কৃতিতে এখনও বিদ্যমান এবং অনেকগুলো ঐতিহ্যবাহী লিঙ্গ পরিচয়ের মধ্যে একটি। শব্দটি Whaka থেকে অনুবাদ করা হয়েছে, যার অর্থ ‘towards’, এবং Wahine, যার অর্থ ‘নারী’। [48]

Winkte (Lakota, Native American)

Sioux নেটিভ আমেরিকান উপজাতির Lakota মানুষের একটি লিঙ্গ রয়েছে যা Winkte নামে পরিচিত। Winkte অনুবাদ হয় ‘two-souls person’, এবং এমন কাউকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় যিনি জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দকৃত করা হয়েছিল কিন্তু যার মধ্যে নারীর আত্মা রয়েছে। [48]

Xanith (Oman)

Xanith ওমানের সংস্কৃতিতে পাওয়া তৃতীয় লিঙ্গ। তাদেরকে জন্মের সময় পুরুষ হিসাবে বরাদ্দ হয়েছিল হয় কিন্তু তারা পরবর্তীতে নারী হিসাবে বেঁচে থাকার জন্য একটি সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে নারীসুলভ লিঙ্গ ভূমিকা গ্রহণ করা এবং সাধারণত মহিলাদের সাথে সম্পর্কিত পেশাগুলি শেখা। Xanith এছাড়াও Khanith হিসাবে উল্লেখ করা হয়। [48]

এজি/এগ্রেসিভ (AG/Aggressive)

এজি/এগ্রেসিভ (AG/Aggressive)- “একটি শব্দ যা একজন মহিলা-দেহযুক্ত এবং নারী হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় যিনি পুরুষ হিসাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন। এই শব্দটি সাধারণত coloured শহুরের সম্প্রদায়গুলিতে ব্যবহৃত হয়।”[44]

বুচ (Butch)

বুচ (Butch)- “একটি পুংলিঙ্গ ব্যক্তি বা পুংলিঙ্গ এক্সপ্রেশন বর্ণনা করতে ব্যবহৃত একটি শব্দ।”[44]

ফেম (Femme)

ফেম (Femme)- “একটি মেয়েলি ব্যক্তি বা মেয়েলি এক্সপ্রেশনের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত একটি শব্দ।”[44]

ফেম কুইন (Femme Queen)

ফেম কুইন (Femme Queen)- “এমন একটি শব্দ যেটি এমন কাউকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় যিনি পুরুষদেহযুক্ত কিন্তু তিনি নারীসুলভ লিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করছে এবং প্রকাশ করছে। প্রাথমিকভাবে urban সম্প্রদায়গুলিতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে coloured এবং ballroom সম্প্রদায়গুলিতে।”[44]

সমলিঙ্গ প্রেমী (Same-Gender Loving)

সমলিঙ্গ প্রেমী (Same-Gender Loving)- “ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত পদ এবং চিহ্নের উপর নির্ভর না করে একটি বিকল্প, যা যৌন অভিযোজন প্রকাশ করতে আফ্রিকান-আমেরিকান/কালো সম্প্রদায়ের সদস্যদের দ্বারা কখনও কখনও একটি লেবেল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে কালো নারী যারা নারীকে ভালোবাসে এবং কালো পুরুষ যারা পুরুষকে ভালোবাসে তাদের একটি কণ্ঠস্বর, শনাক্ত করার এবং কালো সংস্কৃতির স্বতন্ত্রতার সাথে অনুরণিত হওয়ার একটি উপায় প্রদানের অভিপ্রায়ে এই শব্দটি উদ্ভূত হয়েছিল।” (কখনও কখনও সংক্ষেপে “SGL”)[44]

অ্যান্ড্রোজিনাস (Androgyny)

অ্যান্ড্রোজিনাস (Androgyny)- “জেন্ডার নন-কনফর্মিং-এর মত, “অ্যান্ড্রোজিনাস” লিঙ্গের পরিবর্তে একটি নান্দনিক বোঝায়। তবে, এটি লিঙ্গ পরিচয় হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে […] অ্যান্ড্রোজিনাস হলো পুরুষ এবং মহিলার মাঝখানে উপস্থিত হওয়া এবং উভয়েরই হিসাবে অনুভূত হওয়া।” [57]

স্যান্ড্রা বেম ধারণা করেছিলেন যারা BSRI-তে পুরুষত্ব এবং নারীত্ব উভয় সূচকে উচ্চ স্কোর করেছেন, তারাই অ্যান্ড্রোজিনাস। [58]

টু স্পিরিট (Two-Spirit)

টু স্পিরিট (Two-Spirit)- “[উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার] Native এবং Indigenous-দের দ্বারা ব্যবহৃত একটি শব্দ যে তারা একটি পুংলিঙ্গ এবং একটি মেয়েলি আত্মা উভয়কেই মূর্ত করে। কখনও কখনও বৈচিত্র্য যৌন অভিমুখের আদিবাসীদের বর্ণনা করতেও ব্যবহৃত করা হয়, এবং বিভিন্ন আদিবাসী সংস্কৃতিতে এর সূক্ষ্ম অর্থ রয়েছে। [44]

জেন্ডার নিউট্রাল এবং জেন্ডার নিউট্রাল ভাষা (Gender Neutral & Gender Neutral Language)

জেন্ডার নিউট্রাল (Gender Neutral)- “এমন একটি শব্দ যা একটা নির্দিষ্ট জিনিসকে বর্ণনা করে (কখনও কখনও একটি স্থান, যেমন একটি বাথরুম; বা একটি আইটেম, যেমন পোশাক) যা sex/gender দ্বারা পৃথক করা হয় না।” [44]

জেন্ডার নিউট্রাল ভাষা (Gender Neutral Language)- “এমন ভাষা যা লিঙ্গকে ধরে নেয় না বা প্রদান করে না। যেমন “পুরুষ” বা “নারী” এর পরিবর্তে “মানুষ”।” [44]

হার্মাফ্রোডাইট (Hermaphrodite)

হার্মাফ্রোডাইট একটি পুরানো এবং এখন সাধারণভাবে অস্বীকৃত শব্দ যা ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত, এই শব্দটি এখন দৃঢ়ভাবে নিরুৎসাহিত করা হয় এবং প্রায়ই ইন্টারসেক্স লোকেদের offend করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ইন্টারসেক্স শব্দটি এখন আরও গ্রহণযোগ্য। [48]

ইন্টারসেক্স (Intersex)

ইন্টারসেক্স (Intersex)- “একটি আমব্রেলা টার্ম, যা যৌন বৈশিষ্ট্য (যেমন জেনেটিক, যৌনাঙ্গ, যৌন/প্রজনন বা হরমোন সংক্রান্ত কনফিগারেশন) নিয়ে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিকে বর্ণনা করে যা পুরুষ বা মহিলা দেহের সাধারণ বাইনারি ধারণার সাথে খাপ খায় না। শব্দটি মানবদেহে প্রাকৃতিক বৈচিত্রের বিস্তৃত পরিসর বর্ণনা করে। “ইন্টারসেক্স” প্রায়ই “ট্রান্সজেন্ডারের” সাথে বিভ্রান্ত করা হয়, তবে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা এবং সাধারণত unconnected। একটি আরও পরিচিত শব্দ, হার্মাফ্রোডাইট, যা পুরানো এবং আপত্তিকর বলে বিবেচিত হয়।”[44]

এফারমিং এবং পছন্দের সর্বনাম (Affirming & Preferred pronouns)

এফারমিং (Affirming)- “একজন ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় বা অভিব্যক্তির জন্য দ্ব্যর্থহীন সমর্থন, জন্মের সময় তাদের নির্ধারিত বায়োলজিক্যাল সেক্সের নির্বিশেষে; ট্রান্সজেন্ডার মানুষ এবং community-গুলি যেন সম্পূর্ণরূপে প্রতিনিধিত্ব, অন্তর্ভুক্ত, মূল্যবান এবং সম্মানিত হয় তা নিশ্চিত করার জন্য পদ্ধতিগত সহায়তা।”[44]

পছন্দের সর্বনাম (Preferred pronouns)- “একজন ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক এবং সঠিক pronoun-কে বোঝায়, যেমনটি সেই ব্যক্তির দ্বারা নির্ধারিত করা হয়েছে। এটিকে কখনও কখনও “preferred gender pronouns” হিসাবেও উল্লেখ করা হয়, যদিও এই বাক্যাংশটি পুরানো হয়ে যাচ্ছে। কারোর pronoun নিশ্চিত করতে, জিজ্ঞাসা করুন: “আপনার pronouns কি?”” [44]

কামিং আউট এবং প্রশ্নকারী (Coming Out & Questioning)

কামিং আউট (Coming Out)- “[লিঙ্গ পরিচয়ের প্রেক্ষাপটে] যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি তাদের লিঙ্গ পরিচয় স্বীকার করে এবং নিজেদের এবং অন্যদের কাছে ব্যাখ্যা করে।” [44]
প্রশ্নকারী (Questioning)- “একজন ব্যক্তি যিনি তাদের লিঙ্গ পরিচয় বা অভিব্যক্তি অন্বেষণ বা প্রশ্ন করছেন। কেউ কেউ পরবর্তীতে ট্রান্সজেন্ডার বা জেন্ডার নন-কনফর্মিং হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে, অন্যরা নাও হতে পারে। এমন কাউকেও উল্লেখ করতে ব্যবহৃত হতে পারে, যিনি প্রশ্ন করছেন বা তাদের যৌন অভিযোজন অন্বেষণ করছেন।”[44]

জেন্ডার ডিসফোরিয়া (Gender Dysohoria, GD)

জেন্ডার ডিসফোরিয়া (Gender Dysohoria, GD)- “APA-এর DSM-5-এর formal diasnosis অনুযায়ী, মনোবিজ্ঞানী এবং চিকিত্সকদের দ্বারা ব্যবহৃত হয় একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ করার জন্যে যে medical transition-এ নিযুক্ত হওয়ার জন্য ডায়াগনস্টিক মানদণ্ড পূরণ করে। অন্য কথায়, ট্রান্সজেন্ডার হওয়ার জন্য medical diagnosis। পূর্বে জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার (GID) নামে পরিচিত। DSM-5-এর diagnosis হিসাবে, জেন্ডার ডিসফোরিয়ার অন্তর্ভুক্তি ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক বিতর্কিত কারণ এটি বোঝায় যে ট্রান্সজেন্ডার হওয়া একটি বৈধ পরিচয়ের পরিবর্তে একটি মানসিক অসুস্থতা। অন্যদিকে, যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিত্সা গ্রহণ বা প্রদানের জন্য একটি formal diagnosis প্রয়োজন হয়, তাই এটি এমন কিছু লোকের জন্য চিকিৎসা সেবার অ্যাক্সেস প্রদান করে যারা সাধারণত এটি পেতো না।”[44]

মেডিকেল এবং সামাজিক ট্রানজিশন (Medical Transition & Social Transition)

মেডিকেল ট্রানজিশন (Medical Transition)- “চিকিৎসা হস্তক্ষেপের একটি দীর্ঘমেয়াদী series যা হরমোনাল চিকিত্সা এবং/অথবা সার্জারির হস্তক্ষেপ ব্যবহার করে একজন ব্যক্তির শরীরকে তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে আরও সঙ্গতিপূর্ণ হতে পরিবর্তন করে। মেডিকেল ট্রানজিশন হল জেন্ডার ডিসফোরিয়ার জন্য অনুমোদিত চিকিৎসা।”[44]

সামাজিক ট্রানজিশন (Social Transition)- “একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির জীবন তৈরির প্রক্রিয়া যা তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; যার মধ্যে প্রায়শই অন্যদেরকে সেই ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে আরও সঙ্গতিপূর্ণ নাম, সর্বনাম বা লিঙ্গ ব্যবহার করতে বলা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি একজন ব্যক্তিকে তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ জেন্ডার এক্সপ্রেশন পরিবর্তন করাও জড়িত হতে পারে।”[44]

পিউবারটাল সাপ্রেশন (Pubertal Suppression)

পিউবারটাল সাপ্রেশন (Pubertal Suppression)- “একটি low-risk চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা হরমোনের পরিবর্তনগুলিকে “pause” করে, যা তরুণ কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বয়ঃসন্ধি শুরু করে। ফলাফল হল secondary sex-characteristics-এর বিকাশে একটি উদ্দেশ্যমূলক বিলম্ব (যেমন স্তন বৃদ্ধি, টেস্টিকুলার বৃদ্ধি, মুখের চুল, শরীরের চর্বি পুনঃবন্টন, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন ইত্যাদি)। Suppression হলো Hormone Therapy সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় দেয় এবং ডিসফোরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে, যা প্রায়ই ট্রান্সজেন্ডার যুবকদের বয়ঃসন্ধির সাথে যুক্ত থাকে।”[44]

LGBTQ

LGBTQ- “একটি সংক্ষিপ্ত রূপ যা সাধারণত Lesbian, Gay, Bisexual, Transgender, Queer এবং/অথবা প্রশ্নকারী ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। LGBTQ প্রায়শই ভুলভাবে “নন-বিষমকামী” এর প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়, যা ভুলভাবে বোঝায় যে ট্রান্সজেন্ডার একটি যৌন অভিমুখী।”[44]

যৌন অভিযোজন (Sexual Orientation)

যৌন অভিযোজন (Sexual Orientation)- “একজন ব্যক্তির অন্য মানুষের প্রতি আকর্ষণের অনুভূতি (আবেগীয়, মনস্তাত্ত্বিক, শারীরিক, এবং/বা যৌন)। একজন ব্যক্তি একই লিঙ্গের লোকেদের প্রতি, বিপরীত লিঙ্গের লোকেদের প্রতি, উভয় লিঙ্গের লোকদের প্রতি, অথবা সেক্স বা লিঙ্গের উল্লেখ ছাড়াই আকৃষ্ট হতে পারে। এবং কিছু লোক প্রাথমিক যৌন আকর্ষণ অনুভব করে না এবং Asexual হিসাবে চিহ্নিত করতে পারে। যৌন অভিযোজন হল অন্য লোকেদের (বাহ্যিক) প্রতি আকর্ষণ সম্পর্কে, যখন লিঙ্গ পরিচয় হল নিজের (অভ্যন্তরীণ) গভীর-উপস্থিত অনুভূতি। সমস্ত মানুষের একটি যৌন অভিযোজন আছে যা তাদের জৈবিক লিঙ্গ, লিঙ্গ পরিচয় এবং জেন্ডার এক্সপ্রেশন থেকে আলাদা।”[44]

শনাক্তকারী বনাম পরিচয়

লিঙ্গ পরিচয়, অর্থাৎ একজন ব্যক্তির অন্তর্নিহিত মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো বা “অভ্যন্তরীণ মানচিত্র” এর সাথে “শনাক্তকারীর” বিভ্রান্ত না করা গুরুত্বপূর্ণ।

এজেন্ডার: শনাক্তকারী নাকি পরিচয়?

নীচের সংজ্ঞাটি Agender-এর একটি Norm-Relevancy অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া হয়েছে-

“S-এর একটি Agender লিঙ্গ পরিচয় রয়েছে [বা: S-এর একটি লিঙ্গ পরিচয়ের অভাব রয়েছে] যদি S-এর একটি অভ্যন্তরীণ ‘মানচিত্র’ না থাকে যা তাদের সামাজিক বা বস্তুগত বাস্তবতার মাধ্যমে গাইড করতে কাজ করে যা সেই প্রসঙ্গে, যে কোনও লিঙ্গ শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য।” [59]

অনেক মানুষ এজেন্ডার ব্যক্তিদের ছোট করার উদ্দেশে বলে যে এজেন্ডার হল একটি লিঙ্গ পরিচয় ঠিক যেমন নাস্তিকতা একটি ধর্ম। তবে, এজেন্ডার এবং নাস্তিকতার মধ্যে তুলনা একটি মিথ্যা সাদৃশ্য; এজেন্ডার একটি পরিচয় লেবেল, যেখানে নাস্তিকতা পরিচয়ের লেবেল নয়। আরও সঠিক তুলনা হল “এজেন্ডার” এবং “নাস্তিক” এর মধ্যে যা উভয়ই লেবেল যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লোকেদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়।

“নাস্তিক” হলো “এজেন্ডার”-এর মতন একটি পরিচয় লেবেল; ঈশ্বরে বিশ্বাসের অভাব এমন লোকদের চিহ্নিত করতে অভ্যস্ত। একইভাবে, “এজেন্ডার” এমন লোকদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় যাদের লিঙ্গ পরিচয় ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ লেবেলের অধীনে শ্রেণীবদ্ধ করা যায় না, যার কারণে তাদের “অভন্তরীন মানচিত্র” “এজেন্ডার” শব্দের দ্বারা বর্ণিত হতে পারে। এই পয়েন্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- যে লেবেলগুলি একটি লিঙ্গ পরিচয়কে নির্দেশ করে; অর্থাৎ, একটি মনস্তাত্ত্বিক গঠন, যার জন্য আমাদের কাছে অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ রয়েছে। এজেন্ডার ব্যক্তিদের “অভ্যন্তরীণ মানচিত্র” অস্বীকার করা অভিজ্ঞতামূলক বাস্তবতাকে অস্বীকার করা।

ঠিক একইভাবে “নাস্তিক” হল এমন একটি শনাক্তকারী লেবেল যাদের ঈশ্বরে বিশ্বাসের অভাব রয়েছে (একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার অভাব) “এজেন্ডার” হল একটি শনাক্তকারী লেবেল যাদের লিঙ্গ পরিচয় নেই৷ এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে এজেন্ডার লোকেদের সম্পূর্ণরূপে একটি “অভ্যন্তরীণ মানচিত্র” নেই; বরং, তাদের “অভ্যন্তরীণ মানচিত্র” এমনভাবে কাজ করে না যা বর্ণালী জুড়ে যেকোনো লিঙ্গের সাথে মিলে যায়।

এজেন্ডার নিম্নলিখিত উপায়ে-ও সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে-

“উদাহরণস্বরূপ, কেউ বলতে পারে যে যদি কারোর পুংলিঙ্গ বা নারীসুলভ বলে বিবেচিত হওয়া আচরণ করার কোনো স্বভাব না থাকে, তাহলে তাদের একটি এজেন্ডার লিঙ্গ পরিচয় আছে।” [60]

এই সংজ্ঞা আমাদের কাছে প্রকাশ করে যে “এজেন্ডার” ট্রান্সজেন্ডার আমব্রেলা টার্মের নিচে পড়ে। এটি আমাদের কাছে ট্রান্সজেন্ডার ছাতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও প্রকাশ করে- যে এটি যেকোন এবং সমস্ত বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করে যা সিসজেন্ডার নয়। এজেন্ডার ব্যক্তিরা চাইলে ট্রান্সজেন্ডার বা এমনকি নন-বাইনারি হিসাবে চিহ্নিত করতে বেছে নিতে পারেন। একজন ব্যক্তি কী শনাক্তকারী দিয়ে চিহ্নিত করতে চান তা শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত। অন্তর্নিহিত লিঙ্গ পরিচয়ের গঠন এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে অনুমান করতে লিঙ্গ লেবেলের পছন্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। (বা এজেন্ডারের ক্ষেত্রে, লিঙ্গ পরিচয়ের অভাব)।

আমরা নির্দিষ্ট নন-বাইনারি লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষদের-কে ট্রান্সজেন্ডার আমব্রেলার বাইরে বসাতে পারি না। কিছু মানুষ এই ধারণাটি তুলে ধরেছেন যে কিছু নন-বাইনারী মানুষ ট্রান্সজেন্ডার উম্ব্রেলার বাইরে। যদিও এটা সত্য যে কিছু লোক নন-বাইনারি লেবেল বেছে নিতে পারে, যখন “ট্রান্সজেন্ডার” লেবেলের প্রতি তাদের অসন্তুষ্ট রয়েছে – এটি তাও সেই ব্যক্তিদের ট্রান্সজেন্ডার আমব্রেলার বাইরে রাখে না। নন-বাইনারী এবং সেইসাথে এজেন্ডার লিঙ্গ পরিচয়ের লোকেরা চাইলেই “ট্রান্সজেন্ডার”-এর শনাক্তকারী বেছে নিতে পারে, এবং ট্রান্সজেন্ডার আমব্রেলা টার্মটি সকল মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করে যাদের লিঙ্গ পরিচয় (অর্থাৎ একজন মানুষের অভন্তরীন মনস্তাত্ত্বিক মানচিত্র) লিঙ্গের দ্বিধাবিভক্ত ধারণার সাথে মানানসই নয়।

সিসজেন্ডার “হওয়ার” জন্য কি একজন ব্যক্তির বাইনারি লিঙ্গ পরিচয়ের প্রয়োজন?

কিছু লোক বলেছেন যে “নন-বাইনারী লোকেরা” “সিসজেন্ডার” হতে পারে। এই দাবিকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য, তারা নন-বাইনারী wiki থেকে নিম্নলিখিত রেফারেন্স ব্যবহার করে-

“সিসজেন্ডার হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির বাইনারি লিঙ্গ পরিচয়ের প্রয়োজন নেই।” [61]

যাদের বাইনারি লিঙ্গ পরিচয় নেই (অর্থাৎ, যারা নন-বাইনারী) তারা স্পেকট্রাম জুড়ে যে কোনো শনাক্তকারী বেছে নিতে পারেন। তবে উপরের reference-এর সমস্যাটি “সিসজেন্ডার” শব্দটি নিয়ে। যদিও সিসজেন্ডারকে সাধারণত “একজন ব্যক্তি যার জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গ তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ” হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, অন্যান্য প্রসঙ্গে, সিসজেন্ডারকে “normativity/লিঙ্গ আদর্শ” হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

সিসজেন্ডার শব্দের বিভিন্ন ব্যবহার

“সিসজেন্ডার” শব্দের বিভিন্ন ব্যবহার নিচে বর্ণনা করা হলো-

“Cisgender”-এর ব্যবহার “transgender”-এর উপর নির্ভর করে। যদি “ট্রান্সজেন্ডার” যদি “transsexual”-এর পছন্দের প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তবে সিসজেন্ডার-এর পরিবর্তে “Cissexual” ব্যবহার করা হয়। বিপরীতে, যদি “ট্রান্সজেন্ডার”-কে লিঙ্গ নন-নর্মাটিভিটির জন্য একটি আমব্রেলা টার্ম হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে লিঙ্গ আদর্শের জন্য “সিসজেন্ডার” একটি শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী ব্যবহারটি লিঙ্গ পরিচয় থেকে Gender Expression-এর এবং লিঙ্গের মধ্যে -cis- এর পরিধিকে প্রসারিত করে।” [62]

এখানে, transsexual-কে “জন্মের সময় লিঙ্গের বিপরীতে লিঙ্গ পরিচয় সহ একজন ব্যক্তি” হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। Cissexual-কে “জন্মের সময় সেক্সের সাথে মেলে এমন লিঙ্গ পরিচয় সহ একজন ব্যক্তি” হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়৷ ট্রান্সজেন্ডারিজমকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে “লিঙ্গ-নন-নর্মাটিভিটির জন্য একটি আমব্রেলা টার্ম।” এবং সিসজেন্ডারকে “লিঙ্গ আদর্শ” হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। [63]

উপরোক্ত পরিভাষাটি “normativity” শব্দটির ব্যবহারের কারণে প্রথমে সমস্যাযুক্ত বলে মনে হয়। কিছু লিঙ্গকে “প্রাকৃতিক” এবং অন্যগুলিকে “অপ্রাকৃতিক” হিসাবে উল্লেখ করার পরিবর্তে – “normativity” কেবল সেই জিনিসটিকে বোঝায় যা সমাজে সাধারণ করা হয়েছে, যথা সিসনোর্মাটিভিটি/cisnormativity-

“Bauer et al. (2009) [64] দ্বারা সংজ্ঞায়িত, Cisnormativity এইভাবে ট্রান্সসেক্সুয়াল এবং ট্রান্সজেন্ডারদের দ্বারা অনুভূত নিপীড়নকে বোঝায়; এমন একটি সমাজে, যা cissexual/সিসজেন্ডার ব্যক্তিদের প্রভাবশালী, স্বাভাবিক এবং superior হিসাবে চিহ্নিত করে এবং প্রতিনিধিত্ব করে।”[65]

অধিকন্তু, “Cisgender” শুধুমাত্র একটি লিঙ্গ অভিব্যক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হয় যখন “ট্রান্সজেন্ডার” একটি আমব্রেলা টার্ম হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এবং যদি “ট্রান্সজেন্ডার” প্রকৃতপক্ষে একটি আমব্রেলা টার্ম হয় যা “জেন্ডার নন-নর্মাটিভিটি”-কে উল্লেখ করে। তাহলে, “সিসজেন্ডার”-কে “লিঙ্গ আদর্শ” হিসাবে এই উম্ব্রেলার বাইরে দৃঢ়ভাবে পড়ে। অতএব, “ট্রান্সজেন্ডার” এবং “সিসজেন্ডার” এক এবং একই হতে পারে না কারণ তারা পরস্পর-বিরোধী (mutually exclusive) ধারণা।

কোন পরিস্থিতিতে একজন নন-বাইনারি মানুষ সিসজেন্ডার “হতে” পারে?

আসুন আমরা Wikipedia-তে দেওয়া উদাহরণটি বিবেচনা করি- নির্দিষ্ট ড্র্যাগ শিল্পীদের যারা হরমোন থেরাপির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এবং নিজেকে সিসজেন্ডার হিসাবে ভাবছেন। এটা কিভাবে সম্ভব? রেফারেন্স-টি আমরা আবার দেখি-

“সিসজেন্ডার হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির বাইনারি লিঙ্গ পরিচয়ের প্রয়োজন নেই।” [61]

অন্য কথায়, “সিসজেন্ডার” শনাক্তকারী বেছে নিতে, এইটা প্রয়োজন নয় যে একজন মানুষের লিঙ্গ পরিচয় তাদের জন্মের সময় নির্ধারিত সেক্সের সাথে মিলতেই হবে। অতএব, Wikipedia রেফারেন্সটি কেবল দেখায় যে নন-বাইনারী লিঙ্গ পরিচয়ের লোকেরা নিজেদেরকে যেভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারে, এবং তারা বর্ণালী জুড়ে যেকোনো শনাক্তকারী বেছে নিতে পারে, যা হলো লিঙ্গের ঐতিহ্যগত, দ্বিধাবিভক্ত এবং আদর্শিক ধারণাকে অতিক্রম করার সংজ্ঞা। এই রেফারেন্সে, “সিসজেন্ডার” একটি লিঙ্গ পরিচয়-কে উল্লেখ করে না (যেখানে লিঙ্গ পরিচয় একজন মানুষের অভন্তরীন মনস্তাত্ত্বিক মানচিত্র-কে বোঝায়)। পরিবর্তে, এটি একটি Gender Expression এবং একটি লিঙ্গ শনাক্তকারীকে বোঝায়। কেননা, একমাত্র পরিস্থিতি, যেখানে বাইনারি লিঙ্গ পরিচয় ছাড়াই মানুষ সিসজেন্ডার হতে পারে, তা হল যদি “সিসজেন্ডার” একটি লিঙ্গ পরিচয় বোঝানোর পরিবর্তে, লিঙ্গ শনাক্তকারীকে বোঝায়।

এটা প্রয়োজন নয় যে একটা মানুষের বাইনারি লিঙ্গ পরিচয় থাকতেই হবে, যেন তাদের Gender Expression এবং লিঙ্গ শনাক্তকারী লিঙ্গের ঐতিহ্যগত, বাইনারি এবং আদর্শিক মডেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে থাকে- যা আমাদের সমাজে সাধারণ করা হয়েছে।

এখানে আমাদের অবশ্যই জেন্ডার আইডেন্টিটি, লিঙ্গ শনাক্তকারী এবং জেন্ডার এক্সপ্রেশনের মধ্যে পার্থক্যের কথা মনে রাখতে হবে। তদুপরি, আমরা পরবর্তী অধ্যায়ে শিখব, আমরা লিঙ্গ পরিচয়ের জটিল কাঠামোকে (অর্থাৎ, একজনের অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্ত্বিক “মানচিত্র”) লিঙ্গের একটি দ্বিমুখী মডেল অনুসারে উপস্থাপন করতে পারি না, যা এটিকে অতি সরলীকরণের পথে নিয়ে যায়।

আমরা যদি আবারও, Wikipedia থেকে ড্র্যাগ শিল্পীদের সম্পর্কে চিন্তা করি যারা নিজেদেরকে সিসজেন্ডার বিবেচনা করার সময় হরমোন থেরাপির মধ্য দিয়ে যায়, তাদের পরিচয় লেখা যেতে পারে- “সিসজেন্ডার ড্র্যাগ আর্টিস্ট” হিসাবে, যেখানে সিসজেন্ডার হল একটি শনাক্তকারী যেটি নিজেকে উল্লেখ করতে ব্যবহার করা হয় এবং “ড্র্যাগ শিল্পী” একটি নন-বাইনারী লিঙ্গ পরিচয়-কে বোঝায়।

নন-বাইনারী Wiki cissexual-এর আরেকটি সংজ্ঞা প্রস্তাব করেছে যেমন-

““কেউ এমন যে লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা এবং আইনি দিকগুলির সাথে deal করছে না।” [61] উদাহরণ স্বরূপ- নন-বাইনারী লিঙ্গ পরিচয় সহ নন-বাইনারী শনাক্তকারী ব্যক্তিদের যাদের শারীরিক পরিবর্তন এবং লিঙ্গ স্থিতির আইনি পরিবর্তন খোঁজার প্রয়োজন নেই।

এবং একজন Cissexual genderqueer-কে এভাবে-

“যার একটি নন-বাইনারী লিঙ্গ আছে এবং লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা এবং আইনগত দিকগুলির সাথে কাজ করছেন না, তারা নিজেদেরকে Cissexual Genderqueer বলতে পারেন।” [61]

ভাষাটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ- “নিজেদের একটি cissexual জেন্ডারকুইয়ার বলতে পারে” যার অর্থ হলো এটি লিঙ্গ শনাক্তকারীর একটি পছন্দকে নির্দেশ করছে।

এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে-

“[কিছু লোক] হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা লিঙ্গ নিশ্চিতকরণ সার্জারি [নাও পেতে পারে], কারণ মেডিকেল ট্রানজিশন অ্যাক্সেস করা খুব কঠিন (বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, দরিদ্র, racialized, বা নথিভুক্ত নয় এমন কারো জন্য)।” [66]

এইভাবে, কিছু লোক বাধ্য হয়ে “লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা ও আইনগত দিকগুলি” নিয়ে deal করছে না। এই লোকেরা পছন্দ অনুসারে “সিসেক্সুয়াল” নয়; cissexual-কে “জন্মের সময় লিঙ্গের সাথে মেলে এমন লিঙ্গ পরিচয় সহ একজন ব্যক্তি” অথবা “লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা এবং আইনি দিকগুলির সাথে কাজ না করা” উভয়ই সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে কিনা। [61] তাদেরকে “ট্রান্সসেক্সুয়াল লিঙ্গ পরিচয়” সহ মানুষ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে কেননা তাদের লিঙ্গ পরিচয় (অর্থাৎ অভন্তরীন মানচিত্র) হলো ট্রান্সসেক্সুয়াল।[62] যদিও নন-বাইনারী Wiki অনুসারে, cissexual বলতে বোঝায় “একজন ব্যক্তি যিনি ট্রান্সসেক্সুয়াল নন।” তাই আমরা একটি contradiction-এ পৌঁছেছি।

তাই আমাদের আবারও এই অধ্যায়ের নামটি মনে রাখতে হবে। এবং, নন-বাইনারী Wiki অনুসারে-

“লিঙ্গ এবং সেক্স যদি একজন ব্যক্তির পৃথক দিক হিসাবে বিবেচিত হয় তবেই ট্রান্সজেন্ডার এবং cissexual উভয়ই হওয়া সম্ভব।”[61]

অতএব, “ট্রান্সজেন্ডার” লোকেদের জন্য “cissexual” হওয়া সম্ভব শুধুমাত্র যদি একটি শব্দ সেক্সকে বোঝায় এবং অন্য একটি শব্দ লিঙ্গ পরিচয়-কে বোঝায়। একইভাবে “নন বাইনারি” বা “ট্রান্সজেন্ডার” লোকেদের “সিসজেন্ডার” বলা যেতে পারে শুধুমাত্র যখন একটি শব্দ লিঙ্গ পরিচয়কে বোঝায় এবং যখন একটি শব্দ জেন্ডার এক্সপ্রেশন অথবা লিঙ্গ সনাক্তকারীকে বোঝায়। যেহেতু এই পদগুলির সংজ্ঞাগুলি বিভিন্ন প্রসঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং কখনও কখনও বিনিময়যোগ্য হয়, তাই এই শব্দগুলি যেই বিভিন্ন ধারণাগুলিকে ইঙ্গিত করছে, তা বোঝার চেষ্টা করার সময় আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তার উপর দিয়ে, এইসব শব্দের মাধ্যমে অন্য মানুষদের শ্রেণীবদ্ধ করার পিরবর্তে আমাদের জিজ্ঞেস করা উচিত, “আপনার লিঙ্গ শনাক্তকারী কি?” উপরলিখিত transsexual লিঙ্গ পরিচয় সহ ব্যক্তিদের উদাহরণ অনুযায়ী, যৌনাঙ্গ পরিবর্তনের ইচ্ছার অভাবের উপর ভিত্তি করে তাদেরকে cissexual হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করার পরিবর্তে, আমাদের তাদের থেকেই জানা উচিত যে তাদের লিঙ্গ পরিচয় এবং শনাক্তকারী আসলে কি। একই ভাবে, কোনো নন-বাইনারি লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষ যদি যৌনাঙ্গ বা শারীরিক পরিবর্তনের ইচ্ছা না রাখে, তাদেরকেও cissexual হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করার পরিবর্তে তাদের থেকেই আমাদের জানা উচিত যে তাদের পরিচয় আসলে কি।

শনাক্তকারীর সমর্থন এবং সিসনর্মাটিভিটির প্রত্যাখ্যান

লিঙ্গ শনাক্তকারীর প্রতি ট্রান্সফেমিনিস্ট পদ্ধতি হল লোকেদের জিজ্ঞাসা করা যে তাদের শনাক্তকারী কী এবং তাদের পছন্দের শনাক্তকারী অনুসারে তাদেরকে ডাকা। আমরা অবশ্যই এই শনাক্তকারীগুলিকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লোকেদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে চিহ্নিত করতে ব্যবহার করব না, কারণ এটি লিঙ্গের ঐতিহ্যগত, সিসজেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গিগুলিকে পুনরায় প্রয়োগ করার ঝুঁকি রাখে-

“যখন গবেষকরা সিসজেন্ডার দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বকে দেখেন, তখন তারা অচেতনায় সিসজেন্ডার পদে সামাজিক পুনর্গঠন করেন। বাস্তবে, এটি উদ্ভূত হয় যখন গবেষকরা সিসজেন্ডার পরিচয় বা অভিজ্ঞতাকে অকথিত আদর্শ (যেমন, পুরুষ বা মহিলা) হওয়ার অনুমতি দেন যেখানে ট্রান্সজেন্ডার সবসময় একটি চিহ্নিত বিভাগ (যেমন, ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ বা ট্রান্সজেন্ডার মহিলা)। সামাজিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় একটি জাতিবিহীন শ্রেণী হিসাবে Whiteness-এর ঐতিহাসিক উপস্থাপনার মতন, [67] সিসজেন্ডার পরিচয়ের অচিহ্নিত বা নামবিহীন বিভাগটি সর্বদা অধস্তন, প্রান্তিক এবং অসাধারণ হিসাবে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়কে অবস্থান করে। [68]

লিঙ্গ 4

লিঙ্গ দ্বিধাবিভক্তির ক্ষতিকারকতা

ট্রান্সজেন্ডারের পূর্ববর্তী সংজ্ঞা থেকে কেউ ভুল ধারণা পেতে পারে যে ট্রান্সজেন্ডার লিঙ্গ পরিচয় পুরুষ/নারীর দ্বিধাবিভক্ত অনুযায়ী উপস্থাপন করা যেতে পারে। ভাষাটি লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ- “ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা নারী/পুরুষের ঐতিহ্যগত দ্বিধাবিভক্তির মধ্যে, বা তার বাইরে সনাক্ত করতে পারে।” সনাক্তকরণের অর্থ কেবল এটি যে মানুষ সম্পূর্ণ বর্ণালী জুড়ে যেই লেবেল ব্যবহার করতে চায়, তা ব্যবহার করার অধিকার আছে।

দ্বিধাবিভক্তের সংজ্ঞা এবং লিঙ্গ দ্বিধাবিভক্তের অসম্ভবতা

Dichotomy মানে “দুটি জিনিসের মধ্যে একটি বিভাজন বা বৈসাদৃশ্য যা বিরোধী বা সম্পূর্ণ ভিন্ন হিসাবে উপস্থাপন করা হয়।” [69] এবং Dichotomize মানে, “বিভক্ত বা বিরোধী হিসাবে বিবেচনা করা বা প্রতিনিধিত্ব করা।” [70] Wikipedia থেকে আমরা Dichotomy-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাই-

“একটি দ্বিধাবিভক্তি/dichotomy/daɪˈkɒtəmi/ হল একটি সম্পূর্ণ (বা একটি সেট), যা দুটি অংশে বিভক্ত (সাবসেট)। অন্য কথায়, অংশগুলির হতে হবে-
1) যৌথভাবে সম্পূর্ণ: সবকিছুর অবশ্যই একটি অথবা অন্য অংশের (সাবসেট)-এর অন্তর্গত হতেই হবে, এবং
2) পারস্পরিক বিরোধী: কোনো কিছুই একই সাথে উভয় দুটি অংশের (সাবসেট)-এর অন্তর্গত হতে পারে না।

এই জাতীয় পার্টিশনকে প্রায়শই দ্বি-বিভাগ বলা হয়।” [71]

Gender Dichotomy-এর অর্থ হলো লিঙ্গ সম্পূর্ণভাবে “পুরুষ” এবং “নারীর” দ্বিধাবিভক্তি; এবং লিঙ্গের বিভাগের মধ্যে এই দুটি বিকল্প ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তার উপর দিয়ে, “নারী” এবং “পুরুষের” ধারণা অমিলযোগ্য এবং পারস্পরিক বিরোধী।

তবে, প্রফেসর বেমের BSRI-থেকে আমরা জানতে পারি যে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ “নারী” এবং “পুরুষ”- উভয় বৈশিষ্টের সংমিশ্রণ। তার উপর দিয়ে, প্রফেসর বেমের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে নারী/পুরুষের দ্বিধাবিভক্ত একটি মিথ্যা দ্বিধাবিভক্ত; কেননা এই দুটি বিকল্পের পরিবর্তে আরো একাধিক লিঙ্গের বিকল্প রয়েছে। তাই, ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের-এমনকি যেকোনো মানুষের লিঙ্গ পরিচয়কে নারী/পুরুষের দ্বিধাবিভক্ত অনুযায়ী উপস্থাপন করা কেবলমাত্র আপত্তিকরই নয়; এ জাতীয় চিন্তাধারা লিঙ্গের বৈচিত্র বাস্তবতা এবং প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে। Gender Dichotomy সংজ্ঞাতভাবে অসম্ভব- এই জাতীয় জিনিসের অস্তিত্ব নেই। লিঙ্গের বিকল্পগুলি বর্ণালীর রঙের মতন বৈচিত্র্য।

যে রেফারেন্সটি দেখানো হয়েছে তা শুধুমাত্র ট্রান্স লোকেদের “ভেতরে, বা তার বাইরে” নারী/পুরুষের দুটি দ্বিধাবিভক্ত বিষয়ে কথা বলে যা পুরুষ/নারীর উভয়ের বাইনারি (dichotomy) বিকল্পের সাথে সনাক্তকরণের উল্লেখ করে। রেফারেন্সটি বলে না যে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের পরিচয় একটি লিঙ্গ বাইনারি বা লিঙ্গ দ্বিধাবিভক্তির মধ্যে দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করা যেতে পারে। যদি একজন ব্যক্তি জন্ম থেকে নারী বলে বরাদ্দকৃত হয় (AFAB), এবং যদি তারা পরবর্তীতে “পুরুষ” লেবেলটি নিজেদের জন্যে বেঁচে নেন, তাহলে তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি লেবেল ব্যবহার করার পছন্দটাই তাদেরকে দ্বিধাবিভক্তির বাইরে নিয়ে যায়। এমনকি যদি তিনি একজন পুরুষ হিসাবে নিজেকে চিহ্নিত করেন, তবে তিনি একটি দ্বিধাবিভক্তির অন্তর্গত নন, কারণ তার লিঙ্গ পরিচয়টি তার লিঙ্গ বোঝার লেবেলটির থেকে বড়। লিঙ্গ পরিচয় একটি জটিল web হিসেবে সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায়, যেখানে একজনের লিঙ্গ লেবেলের পছন্দ শুধুমাত্র একটি একক এবং নির্দিষ্ট thread। এবং এই লেবেলের পছন্দটি কোনো দ্বিধাবিভক্তির অন্তর্গত নয়, কেননা একজন মানুষ নারী/পুরুষের বাইনারি বিকল্প ছাড়া যে কোনো লেবেল ব্যবহার করতে পারে।

এই ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি সেই একই লিঙ্গ বাইনারি বা দ্বিধাবিভক্তির অন্তর্গত নয়, যা তিনি নিজের লিঙ্গ পরিচয় অনুযায়ী লেবেল ব্যবহার করে অতিক্রম করেছেন। এই ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির পক্ষে লিঙ্গ বাইনারি বা দ্বিধাবিভক্তের মধ্যে থাকা অসম্ভব, কারণ ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ হিসাবে তার পরিচয় এটিকে অসম্ভব করে তোলে। এমনকি একজন Cisgender ব্যক্তির-ও লিঙ্গ দ্বিধাবিভক্তির মধ্যে থাকা অসম্ভব। এখানে “Cisgender” একটি “লিঙ্গ পরিচয়” বা “শনাক্তকারী” যেভাবেই সংজ্ঞায়িত হোক না কেন- উভয় ক্ষেত্রেই দ্বিধাবিভক্ত অসম্ভব। কেননা, লিঙ্গ পরিচয় এবং শনাক্তকারী- উভয়ের ক্ষেত্রে দুটির বেশি বিকল্প রয়েছে, যা “Dichotomy”-এর ধারণার সম্পূর্ণ বিরোধী।

“ট্রান্সজেন্ডার লোকেদের পরিচয় দ্বিধাবিভক্ত হওয়া সম্ভব” এই দাবিটি এই সত্যটিকে উপেক্ষা করে যে একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি তার পছন্দের লেবেলটি বেঁছে নিয়েই বাইনারি অতিক্রম করে ফেলেছে, এবং এটি একটি লিঙ্গের দ্বিধাবিভক্তের অন্তর্গত হওয়ার ঠিক বিপরীত।

দ্বিধাবিভক্ত লিঙ্গ অনুশীলনের ক্ষতিকারকতা

“লিঙ্গ সম্পর্কে একটি দ্বিধাবিভক্ত ধারণা ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের প্রতি যেসব চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগের অবদান রাখে, তা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। হেটেরোনরমাটিভিটির এবং যৌনতার বৈধ সীমার মধ্যে থাকা ট্রান্সজেন্ডার লোকেরা মূলত ঐতিহ্যগত এবং আদর্শিক যৌন লিপি অনুসরণ করে কিনা সেই প্রশ্নগুলি উত্তরের জন্য আহ্বান দরকার। এইভাবে আমরা যৌন, সেইসাথে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক স্ক্রিপ্টগুলি পরীক্ষা করি, যেগুলি ট্রান্সজেন্ডারদের সাথে জড়িত।” [72]

তদুপরি, পুরুষ/মহিলার দ্বিধাবিভক্তির সাথে নির্দিষ্ট আচরণের একটি প্রত্যাশিত স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী আচরণ করার মাধ্যমে হেটেরোনরমাটিভিটির অনুমোদনের কারণে ট্রান্সজেন্ডার মানুষের উপর ক্ষতির বিষয়টি হাইলাইট করা হয়েছে এবং তার সাথে সাথে, ট্রান্সজেন্ডার মানুষের দ্বারা “সত্যিকারের ট্রান্সজেন্ডার”-এর প্রতিষ্ঠার ক্ষতিও উল্লেখ করা হয়েছে-

“সাহিত্য এবং উপস্থাপিত তথ্য থেকে এটি স্পষ্ট বলে মনে হচ্ছে যে বেশিরভাগ ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা এমন জীবনধারা গ্রহণ করে যা যৌন বৈধতার ‘আকর্ষণীয় বৃত্তের’ শ্রেণীতে পড়ে [73]; যা দ্বিধাবিভক্ত লিঙ্গ চর্চা এবং বিশ্বাস সহ হেটেরোনরমাটিভিটিকে আরো শক্তিশালী করে। এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলি (যেমনটি আমরা নির্বাচিত মনস্তাত্ত্বিক উপকরণগুলির বিশ্লেষণ থেকে দেখেছি) ইতিবাচক ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের বিকাশের জন্য অগত্যা সহায়ক নয়; বিশেষ করে যদি সেগুলি গোপনীয়তার একটি ডিগ্রি অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন পার্টনারের কাছে ট্রান্সজেন্ডার status প্রকাশের অভাব। তবে নির্দিষ্ট লিঙ্গ এবং যৌন স্ক্রিপ্টের সাথে নিজেকে মিলিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে বৈধতা অর্জনের আর কি বিকল্প রয়েছে?

যদিও ট্রান্সজেন্ডার দৃশ্যমানতার কারণে উচ্চ স্তরে হয়রানি এবং সহিংসতা হতে পারে, অদৃশ্যতার মূল্য আরও সূক্ষ্ম এবং অভ্যন্তরীণ। […] ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই একটি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিচ্ছে যা গত শতাব্দীতে, বায়োলজিক্যাল যৌন পার্থক্যের উপর দৃঢ়ভাবে ভিত্তি করা ঐতিহ্যগত পশ্চিমা লিঙ্গ ভূমিকার বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তবে, ওই বিশ্বাসগুলি ট্রান্সিশনের (Transition) ন্যারেটিভগুলির বিকাশকেও রূপ দিয়েছে, প্রায়শই ‘সত্যিকারের ট্রান্সসেক্সুয়াল’-এর বক্তৃতাকে প্রচার করে এবং যে কোনও non-heteronormative পছন্দকে যৌন বৈধতার বাইরের সীমাবদ্ধ করে। এমনকি গবেষণায় ট্রান্সজেন্ডারদের শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত ভাষাটি সমস্যাযুক্ত, যেমনটি আগে হাইলাইট করা হয়েছে। আমরা অন্যান্য গবেষকদের আমন্ত্রণ জানাতে চাই কীভাবে সর্বোত্তমভাবে ড্যাটা সারাংশ প্রদান করা যায়- যা ব্যাপক, সহজে হজমযোগ্য এবং আমাদের সম্প্রদায়ের পরিচয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। ট্রান্সজেন্ডার সহ আমরা সকলেই যদি আমাদের authentic self-কে প্রকাশ করতে এবং সেইসাথে ঘনিষ্ঠতা এবং যৌন স্বায়ত্তশাসনের জন্য আমাদের ক্ষমতা বাড়াতে চাই, তাহলে একটি নতুন যৌন বিপ্লব প্রয়োজন। এই বিপ্লব সীমিত, শ্রেণিবদ্ধ মডেলগুলির পতন ঘটিয়ে লিঙ্গের হ্রাসবাদী বাইনারি গঠন থেকে দূরে সরে নিয়ে মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং অভিজ্ঞতার সম্পদকে অন্তর্ভুক্ত করে যৌনতার আনন্দ-ভিত্তিক মডেল তৈরির দিকে পরিচালিত করবে।” [74]

দ্বিধাবিভক্ত লিঙ্গ অনুশীলনের ক্ষতিটি যদি এখনও যথেষ্ট পরিষ্কার না হয়, তাহলে কেন ট্রান্সজেন্ডার লোকেরা নিজেদেরকে দ্বিধাবিভক্ত করে এবং কী উপায়ে এটি ক্ষতিকর তার একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ রয়েছে-

“ট্রান্সজেন্ডার লোকেরা তাই নিজেদেরকে একটি দ্বি-বন্ধনের মধ্যে খুঁজে পেতে পারে যেখানে একদিকে, লিঙ্গ এবং যৌন নিয়ম মেনে চলা মার্কিন সমাজের মূলধারার দ্বারা বৈধতার দিকে নিয়ে যায়, তবে সম্ভবত এতে মানসিক সুস্থতা হ্রাস পেতে পারে।” [75]

দ্বিধাবিভক্ত পরিচয় উপস্থাপনার ক্ষতিকারকতা

ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের দ্বিমুখী উপস্থাপনাগুলি “ট্রান্সজেন্ডার” বলতে কী বোঝায়, তার জটিলতাকে খারিজ করে দেয় এই সমস্যাটি অন্যান্য গবেষকদের দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে-

“ঠিক যেমন গবেষণা ক্রমবর্ধমানভাবে যৌনতার ঐতিহাসিক, দ্বিমুখী মডেলের অপর্যাপ্ততা প্রদর্শন করছে, তেমনি ক্রমবর্ধমান প্রমাণ রয়েছে যে লিঙ্গের দ্বিমুখী মডেলগুলি ট্রান্সজেন্ডার অভিজ্ঞতার জটিলতা, বৈচিত্র্য এবং তরলতা ধরতে ব্যর্থ হয়।[76] অসংখ্য লিঙ্গ এবং ট্রান্সজেন্ডার গবেষক এবং অ্যাক্টিভিস্টরা যুক্তি দিয়েছেন যে দ্বিধাবিভক্ত, অপরিহার্য মডেলগুলি যা একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গ পরিচয়কে “সত্য” পরিচয় হিসাবে পোষণ করে, তা একাধিক লিঙ্গ সনাক্তকরণ দাবিদারদের অভিজ্ঞতাকে বাতিল করে। এই গবেষকরা ট্রান্সজেন্ডার অভিজ্ঞতার একটি “Master Narrative”-এর বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছেন, যেখানে লিঙ্গ তরলতা এবং বহুত্বের সমস্ত অভিজ্ঞতা একটি একক, একীভূত লিঙ্গ সনাক্তকরণ/উপস্থাপনার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব। এই সর্বজনীন আখ্যানকে প্রতিহত করার জন্য, তারা যৌন পার্থক্যের অনুমিত অপরিহার্য ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট, আর্থ-রাজনৈতিক (এবং মৌলিকভাবে পিতৃতান্ত্রিক) যৌন/লিঙ্গ আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে। [77] তবে এখনও পর্যন্ত, এই দৃষ্টিভঙ্গি মূলধারার বাইরে। যদিও একজনের মনস্তাত্ত্বিক লিঙ্গ এবং শারীরিক লিঙ্গের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটিকে সাংস্কৃতিক (এবং আর্থ-সামাজিক) বৈধতা দেওয়া হয়েছে [78], একাধিক, যুগপৎ এবং প্রসঙ্গ-নির্দিষ্ট লিঙ্গ সনাক্তকরণের ঘটনাটি এখনও এই ধরনের বৈধতা উপভোগ করে না, এবং এটি বিষয়গত মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতার স্তরে theorize করা হয় নি।” [79]

“ট্রান্সজেন্ডার”-কে একটি সাধারণ ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব না, যা ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের যেকোনো এবং সমস্ত অভিজ্ঞতার জন্য ব্যাখ্যা দিতে পারে কারণ ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় একটি গতিশীল, বৈচিত্র্যময় বিষয়। তাই “সত্য” ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের ধারণা রাখা উচিত নয়।

ইন্টারসেকশনালিটি পদ্ধতির অবদান

ট্রান্সজেন্ডারিজমের একটি অপরিহার্যতাবাদী, দ্বিমুখী পদ্ধতির পরিবর্তে, ইন্টারসেকশনালিটি পদ্ধতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-

“ঐতিহাসিকভাবে, যেভাবে একাধিক সামাজিক অবস্থান এবং পরিচয় পারস্পরিকভাবে একে অপরকে অবহিত করে এবং গঠন করে- তা বিশ্লেষণ করার জন্য, কাঠামো হিসাবে ইন্টারসেকশনালিটি পদ্ধতিকে ব্যক্ত করা হয়েছে।[80] ইন্টারসেকশনালিটি পদ্ধতির একটি মূল তত্ত্ব হল যে একাধিক সামাজিক গোষ্ঠীর সাথে সনাক্তকরণের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে নতুন ধরণের বিষয়গত অভিজ্ঞতা তৈরি করে যা অনন্য এবং অসংযোজক; এবং তাদের মধ্যে প্রবেশ করা পরিচয়গুলিতে হ্রাসযোগ্য নয়।[81] কলিন্স (২০০০) [82], উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন সামাজিক অবস্থান এবং আর্থ-রাজনৈতিক নিপীড়নের বিভিন্ন স্থানের (যেমন, লিঙ্গ, জাতি, শ্রেণী) মধ্যে ইন্টারসেকশনের উপর জোর দিয়েছিলেন, যা বিভিন্ন ধরণের জৈবিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে যা তাদের পারস্পরিক যোগাযোগের দ্বারা পরিবর্তিত হয়; এবং তাই, সামগ্রিক ম্যাট্রিক্সে একত্রে বিনুনিযুক্ত পৃথক স্ট্র্যান্ডগুলিতে আবদ্ধ করা যায় না। কলিন্সের এবং Crenshaw-এর দৃষ্টিভঙ্গি (১৯৯১) [83], চিন্তাধারার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে যেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের অবস্থানকে (এবং নিপীড়নকে) “প্রাথমিক” মর্যাদা দেওয়া হয়। এই তাত্ত্বিকরা পরিবর্তে জোর দেন যে সামাজিক বিভাগগুলি subjective এবং রাজনৈতিক অর্থ গ্রহণ করে অন্যান্য বিভাগের প্রেক্ষাপটে, যেগুলির মধ্যে অর্থগুলি বাসা বাঁধে।” [84]

ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের দ্বিধাবিভক্ত উপস্থাপনা ইন্টারসেকশনালিটি পদ্ধতির বহুমাত্রিক প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে, এবং সেইসাথে একটা জটিল কাঠামোকে (লিঙ্গ পরিচয়ের কাঠামো) নির্দিষ্ট ধারণার মধ্যে হ্রাস করে ফেলে। লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্যই অন্যান্য ফ্যাক্টরের ইন্টারসেকশনের (যেমন জাতি, বর্ণ, শ্রেণী ইত্যাদি) গুরুত্ব মনে রাখতে হবে, যা লিঙ্গের অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতির মধ্যে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে; এমনকি অভিজ্ঞতার নতুন বিভাগ পর্যন্ত গড়ে তুলে।

নারী-থেকে-পুরুষ এবং পুরুষ-থেকে-নারীর মিথ্যা দ্বিধাবিভক্তি

“ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের সম্পর্কে একটি দীর্ঘস্থায়ী ধারণা হল যে তারা অভিন্নভাবে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে অন্যান্য লিঙ্গ হিসাবে স্থায়ীভাবে সনাক্তকরণ কামনা করে। এটি ট্রান্সসেক্সুয়ালদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অনেক first-person অ্যাকাউন্টে দেখা যায়, যেখানে তারা ছোটবেলা থেকেই পোশাক পরা বা অন্য লিঙ্গ হিসাবে জীবনযাপন করেছে বলে বর্ণনা করে। [85] যেইসব ব্যক্তিরা সম্পূর্ণরূপে লিঙ্গ re-identification চাচ্ছেন, তাদের এই লক্ষ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে- নিজের স্ব-ধারণার পরিবর্তন, বাহ্যিক উপস্থাপনার পরিবর্তন, নাম পরিবর্তন, লিঙ্গ-সম্পর্কিত আচরণের পরিবর্তন এবং শারীরিক লিঙ্গ উপস্থাপনার পরিবর্তন। লিঙ্গ উপস্থাপনার পরিবর্তন বিভিন্ন মাধ্যমে করা যেতে পারে, আলাদাভাবে বা একসাথে- চুল এবং পোশাক পরিবর্তনের মাধ্যমে, secondary sex-characteristics-এর হরমোনাল পরিবর্তনের মাধ্যমে এবং সবথেকে মারাত্মকভাবে, সার্জরী দিয়ে যৌনাঙ্গ পরিবর্তনের মাধ্যমে। [86]

এই developmental trajectory অনুমান করে যে মহিলা এবং পুরুষ পরিচয়গুলি অমিলযোগ্য, যেখানে এই দুটি পরিচয়গুলির মধ্যে একটির অবস্যই মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রাথমিক মর্যাদা দখল করতে হবে। তাই, [as an example] একজনের চেহারা, আচার-আচরণ এবং শারীরিকতায় আরও বেশি করে পুরুষালি হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে একজনের আগের নারীত্বকে প্রতিস্থাপন করে, এবং এই নির্দিষ্ট কারণে এটি কাম্য হিসাবে বিবেচিত হয়।

কিন্তু এখানে প্রোফাইল করা নারীদের কেউই এই ধরনের trajectory অনুসরণ করেননি। বরং, লক্ষণীয়ভাবে পুরুষালি লিঙ্গ উপস্থাপনা গ্রহণ করা সত্ত্বেও, তারা একটি পুরুষ পরিচয় গ্রহণের বিষয়ে দ্বিধা ব্যক্ত করেছে। Lori, উদাহরণস্বরূপ, টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করছিলেন এবং প্রতিদিনের ভিত্তিতে পুরুষ হিসাবে “passing” ছিলেন, তবুও তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে […]

“[মানুষ] অনুমান করে নারী-থেকে-পুরুষ এবং পুরুষ-থেকে-নারী, এবং বুঝতে পারে না যে সম্ভবত শতাধিক ট্রান্স-আইডেন্টিটি রয়েছে। আমি genderqueer হিসাবে নিজেকে পরিচয় দেই। এর মানে হল যে আমি সেই লিঙ্গ বিভাজনগুলির বাইরে এক প্রকার অস্পষ্ট স্থানে পড়েছি। এবং তার ফলাফলে, আমি “Lori” নামটি রেখেছিলাম কারণ আমি “Lori” পছন্দ করি। এবং এই মুহুর্তে আমার নাম এবং আমার পরিচয় রাখা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”[…]

মার্ক, উদাহরণস্বরূপ, তার নাম পরিবর্তন করে প্রতিদিনের ভিত্তিতে নিজেকে পুরুষ হিসাবে উপস্থাপন করা সত্ত্বেও, একটি সম্পূর্ণ পুরুষ পরিচয় গ্রহণে প্রতিরোধ করেছিলেন। তিনি বিশেষভাবে জেন্ডার রি-এসাইনমেন্ট সার্জারি না করার জন্য এবং তার gender status-এর আনুষ্ঠানিক আইনি পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত করেছিলেন, পরিবর্তে তার নিজের জন্যে পুরুষত্ব ও নারীত্বের hybrid account তৈরি করেছিলেন। মার্কের জন্য, এই বহুবিধতা নমনীয় এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধের অনুভব দেয়: “আমি অতীতে যেখানে ছিলাম এবং ভবিষ্যতে যেই জায়গাটাতে কখনো পৌঁছাতে পারবো না, তা নিয়ে সর্বদা উদ্বিগ্ন না হয়ে আমার বর্তমানে যা আছে, তা আমি মেনে নিতে পারি।” […]

গতিশীলতা এবং ক্রমাগত পরিবর্তন এবং রূপান্তরের ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যদিও এই সমস্ত ব্যক্তি কিছু মাত্রায় লিঙ্গ-অস্পষ্টতাকে আলিঙ্গন করেছে, তারা এই পরিচয়কে একটি নিজস্ব নির্দিষ্ট বিভাগে আবদ্ধ করেনি (i.e, “অ্যান্ড্রোজিনাস”)। বরং, তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের অভিজ্ঞতা লিঙ্গ মেরুত্বের মধ্যে এবং চারপাশে চলাচল করে। তাই, এই নারীদের জন্য “transition”-এর অভিজ্ঞতা নারী থেকে পুরুষে একটি একতরফা আন্দোলন নয়, বরং অভ্যন্তরীণ লিঙ্গ পরিচয় এবং বাহ্যিক, দৈহিক উপস্থাপনার আরও নারীসুলভ এবং আরও পুরুষালি দিকগুলির মধ্যে একটি চলমান দোলন। এটি সম্ভবত ট্রান্সজেন্ডারের প্রচলিত ধারণার জন্য সবচেয়ে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ, কারণ এটি change and trastition-কে একটি অস্থায়ী প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি সম্ভাব্য ফলাফল হিসাবে উপস্থাপন করে। এটি, গুরুত্বপূর্ণভাবে, ইন্টারসেকশনালিটির উপর নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; যা একাধিক সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক পরিচয়ের যুগপত দখলের উপর জোর দেয় এবং কীভাবে এই পরিচয়গুলির মধ্যে গতিশীল মিথস্ক্রিয়া, নির্দিষ্ট প্রাসঙ্গিক, আন্তঃব্যক্তিক এবং উন্নয়নমূলক পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নতুন আত্মার অনুভূতি তৈরি করে।” [87]

একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গে পৌঁছানের জন্যে আগের লিঙ্গকে প্রত্যাখ্যান করার দ্বিধাবিভক্ত ধারণার পরিবর্তে, transition একটি বৈচিত্র্য বিভাগ, যেখানে কিছু মানুষের জন্যে, transition-হলো নিজের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ফলাফল।

একটি ধারণাকে যখন আমরা নির্দিষ্ট অভিন্নতায় আবদ্ধ করি, তখন সেটাকে বলা হয় “Essentialism” যার সংজ্ঞা এবং লিঙ্গ-সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিকতা হলো-

“Essentialism- এই বিশ্বাস যে একটি পরিচয়ের বৈশিষ্ট্যগুলি সেট করা বা প্রাকৃতিক, এবং বৈশিষ্ট্যের সেই নির্দিষ্ট বিভাগগুলি সেই পরিচয়ের সদস্যতাকে নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, লিঙ্গ সম্পর্কিত essentialized ধারণা পুরুষত্ব এবং নারীত্বের জন্য স্থির এবং বিচ্ছিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলিকে দায়ী করে, এবং পুরুষ ও মেয়েলি পরিচয়ের মধ্যে বৈশিষ্টের অন্তর্নিহিত পার্থক্য অনুমান করে। চরম পরিমানের ইন-গ্রুপ একজাতীয়তা (in-group homogeneity) অনুমান করে।” [88]

সাবভারসিব এবং রক্ষণশীল ট্রান্সজেন্ডারের মিথ্যা দ্বিধাবিভক্তি

“নারীবাদী এবং ট্রান্স তত্ত্ব বাইনারি সেক্স/জেন্ডার সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করে, কিন্তু সাবভারসিব ট্রান্সজেন্ডার বনাম রক্ষণশীল ট্রান্সজেন্ডারের একটি নতুন বাইনারি বিরোধিতা তৈরি করতে পারে […] এই ধরনের বিতর্ক লিঙ্গ/সেক্স সম্পর্কে একটি মিথ্যা দ্বিধাবিভক্তি প্রতিষ্ঠা করে যা বৈজ্ঞানিক বোঝার পুনর্মূল্যায়ন করে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সাম্প্রতিক জীববিজ্ঞান এবং স্নায়ুবিদ্যা অরৈখিকতা, আকস্মিকতা, স্ব-সংগঠন এবং উন্মুক্ততার উপর জোর দেয়। এই গবেষণার সাথে জড়িত হওয়া দৃশ্যত সীমাহীন তাত্ত্বিক বাধাগুলির থেকে একটি উপায় সরবরাহ করে।” [89]

ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের দ্বিধাবিভক্তি ঘিরে বিতর্ক অন্যান্য গবেষকের দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে-

“ট্রান্সজেন্ডার জীবনের একাডেমিক উপস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক স্থিতিশীল/তরল, আধিপত্যবাদী/সাবভারসিব, এবং নিপীড়ন/ক্ষমতায়নের মিথ্যা দ্বিধাকে কেন্দ্র করে এবং পুনরাবৃত্তি করে। ট্রান্সজেন্ডারদের জীবন সম্পর্কে বেশ কয়েকটি সামাজিক বৈজ্ঞানিক অন্বেষণ পরীক্ষামূলকভাবে ট্রান্সসেক্সড ব্যক্তিদের লিঙ্গের কৃতিত্ব এবং সুসংগত, স্থিতিশীল পরিচয় বিকাশ ও উপস্থাপনের জন্য তাদের প্রচেষ্টাকে পরীক্ষা করেছে। এই গবেষণাটি প্রায়শই ট্রান্সসেক্সড ব্যক্তিদের ইতিহাসের গোপনতাকে তাদের পরিচয় ব্যবস্থাপনার একটি ধ্রুবক, অটল উপাদান হিসাবে উপস্থাপন করে। ফলস্বরূপ, কিছু গবেষক উপসংহারে পৌঁছেছেন যে এই প্রক্রিয়াগুলি লিঙ্গ সম্পর্কিত ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক ধারণাগুলি প্রকাশ এবং পুনরুত্পাদন করে। এই ধারণার পরিবর্তে, যে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা অধিপত্যবাদী লিঙ্গ ধারণা পোষণ করে, Queer Humanistic দৃষ্টিভঙ্গি ট্রান্সজেন্ডার পারফরম্যান্সকে agenetic disruption-এর active site হিসাবে বিবেচিত করে। একটি বিতর্ক হিসাবে ফ্রেম করা, এই বিপরীত শৃঙ্খলামূলক তাত্ত্বিক কাঠামোগুলি ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের পৃথকভাবে স্থিতিশীল পরিচয় তৈরি এবং সম্পূর্ণরূপে অস্থিতিশীল পরিচয় তৈরি করে বলে উপস্থাপন করে। স্থায়ী, সুসংগত শনাক্তকরণকে অধিপত্যবাদী লিঙ্গ মতাদর্শকে মেনে নেওয়ার সাথে মিলিয়ে ফেলার কারণে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা gender order-কে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করে বলে বিবেচিত করা হয়। অবশেষে, এই বিতর্কগুলি পরিচয়ের রাজনীতির Queer Critique এবং পরিচয়ের নিপীড়ক বনাম ক্ষমতায়ন প্রকৃতির প্রশ্নগুলির মধ্যে embed করা হয়েছে।” [90]

বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার বনাম জেন্ডার ডিসফোরিয়া

বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার এবং জেন্ডার ডিসফোরিয়া হল দুটি শব্দ যা সাধারণত সামাজিক আলোচনায় মিলিত করা হয়। যখনই আমরা লিঙ্গ পরিচয় পরীক্ষা করি তখন এই দুটি শর্তের মধ্যে পার্থক্যটি মাথায় রাখা উচিত।

বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার (BDD)

১৯৮০ সালে যখন DSM-III প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তখন বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারকে প্রথম Atypical Somatoform Disorder হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল। এটি পরে ১৯৮৭ সালে DSM-III-R-এ বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার হিসাবে পুনরায় শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল। DSM-III-R অ্যাটিপিকাল সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডারকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে- delusional disorder, somatic subtype (psychosis) এবং Body Dysmorphic Disorder (non-psychosis). [91] ডাঃ ডেভিড ভেল নিম্নলিখিত উপায়ে বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারের আরও আধুনিক বর্ণনা প্রদান করেন-

“বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার (BDD) কে একজনের চিত্রের উপর একটি ”কল্পিত” ত্রুটি নিয়ে একটি ব্যস্ততা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। বিকল্পভাবে, যেখানে সামান্য শারীরিক অসঙ্গতি আছে, সেখানে ব্যক্তির উদ্বেগ লক্ষণীয়ভাবে অত্যধিক। ব্যস্ততা অনেক সময় গ্রাসকারী আচার-অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত যেমন আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকা বা অবিরাম তুলনা করা। BDD রোগীদের একটি বিকৃত শরীরের চিত্র রয়েছে, যা শৈশব বা কৈশোরকালে রোগীদের বিরুদ্ধে ধমক বা অপব্যবহারের সাথে যুক্ত হতে পারে। এই ধরনের রোগীদের জীবনযাত্রার মান খারাপ, তারা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন, হতাশাগ্রস্ত এবং তাদের আত্মহত্যার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। তাদের প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় চর্মরোগ সংক্রান্ত চিকিৎসা এবং কসমেটিক সার্জারি করা হয়। অবস্থাটি সহজেই তুচ্ছ এবং কলঙ্কজনক করে ফেলা হয়। অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা জন্যে cognitive behavior therapy এবং অন্তত ১২ সপ্তাহের জন্য উচ্চ মাত্রায় সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রেযাপটেক ইনহিবিটারগুলির সুবিধার প্রমাণ রয়েছে। অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ বা সাইকোথেরাপির অন্যান্য রূপের কোনও উপকারের প্রমাণ নেই।” [92]

জেন্ডার ডিসফোরিয়া (GD)

জেন্ডার ডিসফোরিয়াকে DSM-5-এ একজনের বরাদ্দকৃত লিঙ্গ (Assigned Gender) এবং একজনের অভিজ্ঞ লিঙ্গ পরিচয়ের মধ্যে চিহ্নিত অসঙ্গতি হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। [93] তবে, DSM এর পূর্ববর্তী সংস্করণগুলি এটিকে একটি মানসিক ব্যাধি হিসাবে বর্ণনা করে; Transsexualism for adolescents and adults (Transsexualism) হিসাবে, এবং Gender Identity Disorder of Childhood (GIDC); একটি residual diagnosis সহ, যার নাম হলো Atypical Gender Identity Disorder (Atypical GID)- যা প্রথম ১৯৮০ সালে DSM-III এ প্রকাশিত হয়েছিল। [94] ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত DSM-III-R Gender Identity Disorder-কে দুটি পৃথক শর্তে বিভক্ত করা হয়েছিল- “Gender Identity Disorder of Adulthood or Adolescence, Nontranssexual Type (GIDAANT)” এবং “transsexualism” সেইসাথে একটি রেসিডুয়াল ডায়াগনসিস, Gender Identty Disorder Not Otherwise Specified (GIDNOS)। এই দুটি অবস্থার মধ্যে পার্থক্য ছিল যে “transsexualism” স্থায়ীভাবে শরীরকে সংশোধন করার অবিরাম প্রবণতা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেখানে GIDAANT স্থায়ীভাবে শারীরিক পরিবর্তন ছাড়া ক্রসড্রেস করার ক্রমাগত প্রবণতা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল। [91] শুধুমাত্র ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত DSM-IV-এ “transsexualism” একটি শ্রেণিবিন্যাস হিসাবে সরানো হয়েছিল এবং শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আলাদা মানদণ্ডের সাথে Gender Identity Disorder স্থানান্তরিত হয়েছিল। এটি একটি ব্যাধি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল কারণ এটিকে মনের একটি কর্মহীনতা হিসাবে দেখা হতো। [95] ওয়ার্ল্ড প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ট্রান্সজেন্ডার হেলথ (WPATH) জেন্ডার ডিসফোরিয়ার উপর একটি অ-রোগাক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে বিবৃতি দেওয়ার পরে, “Gender Dysphoria” শব্দটি ২০১৩-তে DSM-এর পঞ্চম সংস্করণে প্রদর্শিত হয়, DSM-5। যেহেতু ট্রান্সজেন্ডার হওয়া স্বাভাবিক, জেন্ডার ডিসফোরিয়া থেকে যেকোন কষ্ট পাওয়া হলো একটি অসঙ্গত পরিস্থিতির সাপেক্ষে স্বাভাবিক মানসিক প্রতিক্রিয়া। [96] এই পার্থক্য চিকিত্সকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ-

“ডায়াগনস্টিক অনুশীলনগুলিকে এই দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা অবহিত করা উচিত যে DSM-5-এ জেন্ডার ডিসফোরিয়া নির্ণয়ের অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও ট্রান্সজেন্ডার হওয়া বা জেন্ডার ডিসফোরিয়া থাকা সহজাতভাবে disordered নয়।” [97]

বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার এবং জেন্ডার ডিসফোরিয়ার মধ্যে বিভ্রম

“জেন্ডার ডিসফোরিয়া এবং বডি ডিসমরফিয়া বা Anorexia-তে শরীরের চিত্রের ব্যাঘাতের মধ্যে অনেক সাধারণ কিন্তু মিথ্যা তুলনা রয়েছে। বডি ডিসমরফিয়া হল শরীরের একটি অংশে অনুভূত ত্রুটির সাথে একটি ব্যস্ততা। ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা মিথ্যাভাবে তাদের শরীরকে অন্যদের থেকে আলাদা বলে উপলব্ধি করে না; বরং (নিজেদের এবং/অথবা অন্যদের দ্বারা) এমনভাবে উপলব্ধি করে, যা তাদের লিঙ্গ পরিচয়কে প্রতিফলিত করে না। আমরা মনে করি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য এবং এটিকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থতা অকার্যকর বা বিপজ্জনক ‘চিকিত্সা’ করার প্রচেষ্টার দিকে নিয়ে যেতে পারে, অনেকটা সমকামিতাকে লক্ষ্য করে অনৈতিক এবং ছদ্ম বৈজ্ঞানিক কনভার্সন থেরাপির মতো, যা এখন ব্যাপকভাবে অসম্মানিত। আমাদের নিজস্ব পেশাদার লেন্সগুলির মাধ্যমে এই জটিল সমস্যাগুলিকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করাও একটি সাধারণ ভুল – একটি মানসিক ব্যাধি হিসাবে লেবেল করা বা একটি মনোবিশ্লেষণমূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে যা অন্যায়ভাবে সেই লিঙ্গ পরিচয়গুলিকে রোগাক্রান্ত করে যা আমাদের ঐতিহ্যগত পশ্চিমা বিশ্বাস ব্যবস্থার সাথে খাপ খায় না৷ মনোরোগবিদ্যার এই ফাঁদে পড়ার ইতিহাস রয়েছে এবং আমরা আশা করব পেশাটি যেন পুরানো ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে।” [98]

জেন্ডার ডিসফোরিয়া এবং বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারের মধ্যে পার্থক্য

“GD-কে অল্প কিছু পরিস্থিতির সাথে ভুল করা যেতে পারে। লিঙ্গ ভূমিকার সাথে সাধারণ অসঙ্গতিকে GD থেকে আলাদা করা যেতে পারে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রণার মাত্রার উপর ভিত্তি করে এবং ব্যক্তিটি জন্মের সময় তাদের জন্য নির্ধারিত লিঙ্গের সাথে চিহ্নিত করছে কিনা। GD-কে বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার (BDD) থেকে আলাদা করা যেতে পারে, যেখানে একজন ব্যক্তি শরীরের একটি অংশ অপসারণ বা পরিবর্তন করতে চান কারণ তাদের কাছে তা বিকৃত মনে হয়। বিপরীতে, GD-তে পরিবর্তনগুলি শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য চাওয়া হয় যা একজনের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। BDD এবং GD অবশ্য সহাবস্থান করতে পারে এবং BDD-এর উপস্থিতি gender-affirming surgery-এর জন্য কোনো বাধা নয়।” [99]

বিপরীতে, জেন্ডার ডিসফোরিয়ার ক্ষেত্রে,

“প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জেন্ডার ডিসফোরিয়ার চিকিৎসা হল লিঙ্গ সংক্রান্ত সমস্যার জন্যে সাইকোথেরাপি, হরমোনের চিকিৎসা এবং surgical চিকিৎসা। Data পরামর্শ দেয় যে যখন জেন্ডার ডিসফোরিক মানুষদের assigned যৌন ভূমিকায় ফিরিয়ে আনার জন্য সাইকোথেরাপিউটিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তখন নেতিবাচক ফলাফল দেখা যায়। তদুপরি, depression এবং anxiety-এর মতো অবস্থাগুলিকে পর্যাপ্তভাবে চিকিত্সা করতে হবে কারণ এগুলি উল্লেখযোগ্য অসুস্থতা এবং আপোসকৃত কার্যকারিতা সৃষ্টি করে।” [100]

জেন্ডার ডিসফোরিক ব্যক্তিরা যারা anxiety এবং depression-এ ভুগছেন এবং SSRI-এর মাধ্যমে চিকিত্সা করা হচ্ছে, তাদের anxiety এবং depression-এর লক্ষণগুলির জন্য কার্যকরী উন্নতি হতে পারে। তবে, এ চিকিৎসা জেন্ডার ডিসফোরিয়ার সাথে সম্পর্কিত যন্ত্রণার সমাধান বা চিকিত্সা করে না।

জেন্ডার ডিসফোরিয়ার ডায়াগনস্টিক মানদণ্ড

1. অন্য লিঙ্গ হতে একটি দৃঢ় ইচ্ছা বা একটি অভিজ্ঞতা যে একজন ব্যক্তি অন্য লিঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।
2. বিপরীত লিঙ্গের সাধারণ পোশাক পরার জন্য একটি শক্তিশালী পছন্দ।
3. Make-believe play বা fantasy play-তে ক্রস-জেন্ডার ভূমিকার জন্য একটি শক্তিশালী পছন্দ।
4. এমন খেলনা, game বা ক্রিয়াকলাপগুলির প্রতি একটি শক্তিশালী পছন্দ, যা অন্য লিঙ্গ দ্বারা স্টেরিওটাইপিকভাবে ব্যবহৃত বা জড়িত।
5. অন্য লিঙ্গের খেলার সাথীদের জন্য একটি শক্তিশালী পছন্দ।
6. এমন খেলনা, game এবং ক্রিয়াকলাপগুলির প্রতি একটি শক্তিশালী প্রত্যাখ্যান, যা নিজের জন্মের সময়ের নির্ধারিত লিঙ্গের বৈশিষ্ট্য।
7. নিজের যৌন শারীরবৃত্তির প্রতি তীব্র অপছন্দ।
8. নিজের অভিজ্ঞ লিঙ্গের সাথে মেলে এমন শারীরিক লিঙ্গের বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য একটি দৃঢ় ইচ্ছা। [101]

বয়ঃসন্ধিকালের/প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, নিম্নলিখিত ছয়টি মানদণ্ডের যেকোনো দুটি পূরণ করতে হবে- [97]

1. লিঙ্গ পরিচয় এবং প্রাথমিক বা মাধ্যমিক লিঙ্গ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে চিহ্নিত অসঙ্গতি।
2. লিঙ্গ-সম্পর্কিত কারণে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক যৌন বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা।
3. “অন্য লিঙ্গ” এর প্রাথমিক বা মাধ্যমিক লিঙ্গের বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য প্রবল ইচ্ছা।
4. জন্মের সময় বরাদ্দকৃত লিঙ্গ ব্যতীত অন্য লিঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রবল ইচ্ছা।
5. জন্মের সময় বরাদ্দকৃত লিঙ্গ ব্যতীত অন্য একটি লিঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হওয়ার প্রবল ইচ্ছা।
6. দৃঢ় প্রত্যয় যে একজনের জন্মের সময় বরাদ্দকৃত লিঙ্গ ব্যতীত অন্য লিঙ্গের আবেগ এবং মনোভাব রয়েছে। যথেষ্ট distress বা dysfunction প্রয়োজন।

DSM-5-এর বিরুদ্ধে সমালোচনা

Browne (২০১৪) অনুযায়ী-

“কিছু মানসিক এবং আচরণগত অবস্থাকে বিশৃঙ্খল হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করার ক্ষেত্রে, DSM তাদেরকে অস্বাভাবিক বা সমস্যাযুক্ত হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করার চেয়ে আরও অনেক বেশি কিছু করে; এটি রূপকভাবে তাদেরকে রোগ বা ব্যাধি হিসাবে চিহ্নিত করে যা চিকিত্সাগতভাবে চিকিত্সা করা যেতে পারে বা করা উচিত। এটি, পরিবর্তে, এই ধরনের “disorder” লেবেলযুক্ত ব্যক্তিদের উপর একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। এটাও মনে রাখা দরকার যে কোনটা স্বাভাবিক আর কোনটা নয়, তা ক্ষমতাবানরাই সিদ্ধান্ত নেয়। [102] উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তিরা তাদের লিঙ্গের বিবেচতো নিয়মের সাথে শনাক্ত করেন না বা মেনে চলেন না, তাদের জেন্ডার ডিসফোরিয়া আছে বলে নির্ণয় করা যেতে পারে।

জেন্ডার ডিসফোরিয়া সম্পর্কিত APA-এর তথ্য পত্রে বলা হয়েছে যে-

“একজন ব্যক্তির জেন্ডার ডিসফোরিয়া diagnosis করার জন্য, ব্যক্তির প্রকাশিত/অভিজ্ঞ লিঙ্গ এবং অন্যরা তাকে দ্বারা বরাদ্দকৃত লিঙ্গের মধ্যে একটি চিহ্নিত পার্থক্য থাকতে হবে এবং এটি কমপক্ষে ছয় মাস চলতে হবে। বাচ্চাদের মধ্যে, অন্য লিঙ্গের হওয়ার আকাঙ্ক্ষা অবশ্যই উপস্থিত এবং মৌখিক হতে হবে। এই অবস্থা সামাজিক, পেশাগত, বা কার্যকারিতার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চিকিত্সাগতভাবে উল্লেখযোগ্য যন্ত্রণা বা impairement সৃষ্টি করে।

জেন্ডার ডিসফোরিয়া বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশ পায়, যার মধ্যে অন্য লিঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা বা একজনের লিঙ্গ বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্তি পাওয়ার, অথবা একজনের অন্য লিঙ্গের সাধারণ অনুভূতি এবং প্রতিক্রিয়া রয়েছে এমন দৃঢ় বিশ্বাস।” [103]

যদিও ১৯৭৩ সালে একটি মানসিক ব্যাধি হিসাবে সমকামিতার শ্রেণীবিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ফলে সমকামিতাকে DSM থেকে অপসারণ করা হয়েছিল, জেন্ডার ডিসফোরিয়ার উপস্থিতি সমলিঙ্গের যৌন ইচ্ছা এবং আচরণের বিকল্প উপায়কে pathologise করে, যা “পুরুষ” এবং “মহিলাদের” [আদর্শিক] সামাজিক নিয়ম এবং লিঙ্গ ভূমিকার সাথে বিরোধপূর্ণ। [104] জেন্ডার ডিসফোরিয়ার জন্য “চিকিৎসা” হরমোনের ব্যবহার এবং sex-reassignment সার্জারিকে অন্তর্ভুক্ত করে। [105] যদিও কিছু ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের gender-affirming সার্জারির দরকার হয়, এই চিকিৎসার access পাওয়ার জন্যে তাদের উপরে একটি mental illness-এর diagnosis করা উচিত নয়, বা যৌনাঙ্গের surgery-কে মানসিক অসুস্থতার চিকিত্সা হিসাবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

একটি মানসিক ব্যাধি হিসাবে gender-nonconformism-কে শ্রেণীবদ্ধ করার মাধ্যমে, রোগ নির্ণয় নিপীড়নমূলক লিঙ্গ প্রত্যাশাকে প্রশ্রয় দেয় এবং এই ধরনের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও কঠিন করে তোলে। Ault & Brzuzy বলে যে: “প্রাতিষ্ঠানিক sexism, হেটেরোসেক্সিজম এবং হোমোফোবিয়ার কারণে, যাদের লিঙ্গ পরিচয় সামাজিক প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তারা প্রায়ই পারিবারিক অসুবিধা, বৈষম্য, শারীরিক ক্ষতি, কর্মহীনতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সম্মুখীন হয়।” [106] এইভাবে, DSM ইতিমধ্যে প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলিকে আরও oppress করতে পারে। [107] যেমনটা Duffy et al. বলে, “সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সিঁড়িতে ইতিমধ্যেই ক্ষীণ অবস্থানে থাকা লোকেরা রোগ নির্ণয়ের দ্বারা disadvantaged হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।” [108]

Paula Caplan বলেছেন যে, “মনস্তাত্ত্বিক বিভাগ তৈরি এবং সেগুলোর ব্যবহার খুব কম ক্ষেত্রে কঠিন বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে, যেমনটি আমি দেখেছি যখন আমি দুটি DSM কমিটিতে কাজ করেছি। বিজ্ঞান-এর অনুপস্থিতি এমন একটি শূন্যতা সৃষ্টি করে যেখানে প্রতিটি ধরণের পক্ষপাত/bias প্রবাহিত হতে দেখা গেছে – sexism সহ।” [109] British Psychological Society DSM-5-এর বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া জারি করেছে যা DSM-5-এ ডায়াগনস্টিক বিভাগগুলির জন্য অপর্যাপ্ত প্রমাণ নিয়ে তাদের concerns হাইলাইট করে। অভিজ্ঞতার স্বাভাবিক/প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়ার “চিকিৎসা” জনসংখ্যার উপর যেসব নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে, তাও তারা তুলে ধরেন- সেসব প্রতিক্রিয়া “যা রোগের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বৈচিত্রকে প্রতিফলিত করে।” [110] British Psychological Society আরও বলে যে:

“এই ধরনের ডায়াগনস্টিক সিস্টেমগুলি তাই বৈধ চিকিৎসা নির্ণয়ের মানদণ্ডের মধ্যে পড়ে না। তারা অবশ্যই সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সনাক্ত করে, কিন্তু বিজ্ঞান বা চিকিৎসার দাবিকৃত শ্রেণীবিভাগের মানদণ্ড পূরণ করে না (কিছু ব্যতিক্রম বাদে যেমন ডিমেনশিয়া)। আমরা concerned যে এই ধরনের সিস্টেমগুলি “সমস্যাকে”ব্যক্তিদের মধ্যে অবস্থিত একটা জিনিস হিসাবে বিবেচিত করে। এটি “সমস্যার” সম্পর্কগত প্রেক্ষাপট এবং এই ধরনের অনেক “সমস্যার” অনস্বীকার্য সামাজিক কারণগুলিকে ঢেকে দেয়।” [111] [112]

বয়ঃসন্ধিকালের/প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মানদণ্ড ৪-৬কে শরীরের পরিবর্তনের প্রয়োজনের নির্দেশক না হয়ে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের বৈশিষ্টকে ইঙ্গিত করছে বলে সমালোচনা করা যেতে পারে। অতএব, এই মানদণ্ডগুলি অ-প্রথাগত লিঙ্গ পরিচয়কে রোগাক্রান্ত করে বলে মনে হয়। শিশুদের GD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে, মানদণ্ড ১-৬ অ-প্রথাগত লিঙ্গ পরিচয় এবং লিঙ্গ ভূমিকা উভয়কেই রোগাক্রান্ত করে বলে মনে হয়। লিঙ্গ-পুনর্নির্ধারণ সার্জারির জন্য অথবা হরমোন থেরাপির জন্য ব্যক্তিদের ইন্সুরেন্সের টাকা access করার জন্য DSM থেকে একটি formal diagnosis-এর প্রয়োজন, যা জেন্ডার ডিসফোরিয়ার জন্য একটি ডায়াগনস্টিক মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে। তবে, সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার লোকেরা gender-reassignment surgery বা হরমোন থেরাপি চাইছেন না। এটি তখন প্রশ্ন উত্থাপন করে যে কেন DSM এমন ডায়াগনস্টিক মানদণ্ড ধারণ করে যা শারীরিক পরিবর্তনের প্রয়োজনের বিপরীতে লিঙ্গ ভূমিকার সাথে অসঙ্গতিকে ইঙ্গিত করে। “Distress” উপাদানের সংযোজন ব্যাখ্যা করতে পারে কেন এটি এমন ভাবে লেখা। তখন প্রশ্ন ওঠে লিঙ্গ পরিচয়ের প্রেক্ষাপটে distress এবং dysfunction-এর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে। গবেষকরা যে সমস্যাটির মুখোমুখি হয়েছেন তা হল- একদিকে, ট্রান্সজেন্ডার হওয়া স্বাভাবিক; কিন্তু একই সময়ে, ট্রান্সজেন্ডার হওয়া কখনও কখনও উল্লেখযোগ্য distress-এর সাথে যুক্ত হয়, যা dysfunction-এর দিকে পরিচালিত করে। এই distress-এর জন্য দায়ী কি?

জেন্ডার ডিসফোরিয়াকে একটি ডিসর্ডার বলার ক্ষেত্রে সমস্যা হল যে, DSM-5-এর মানদণ্ড অনুসারে, ভুল ধারণা জন্মাতে পারে যে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় সম্পর্কে অস্বাস্থ্যকর কিছু আছে; যে এই পরিচয়টি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য উপযোগী নয় যদি কেউ বাস্তবে, কষ্টে ভুগে থাকে এবং কর্মক্ষমতা ব্যাহত হয়। তবে, যদি আমরা বিবেচনা করি যে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের দ্বারা অনুভব করা দুর্দশা তাদের আসল পরিচয় অনুযায়ী জীবনযাপন না পারার ফলে, আমরা বুঝতে পারি যে distress এবং dysfunction লিঙ্গ পরিচয় দ্বারা সৃষ্ট নয়, বরং এই কারণে যে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়যুক্ত লোকেদের লিঙ্গ পরিচয় দমন করা হচ্ছে। জেন্ডার ডিসফোরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নির্ণয়ের লক্ষ্য তাদের “রোগযুক্ত” পরিচয় “চিকিৎসা” বা “পরিবর্তন” নয়, বরং শারীরিক এবং সামাজিক উভয় ফ্যাক্টরের কারণে একটি অ-প্রথাগত লিঙ্গ পরিচয় থাকার সাথে সম্পর্কিত যন্ত্রণার সমাধান করা।

জেন্ডার ডিসফোরিয়ার অভিজ্ঞতা

২০২০ সালের একটি গবেষণায়, নন-বাইনারি ব্যক্তিদের জেন্ডার ডিসফোরিয়ার অভিজ্ঞতার উপর একটি বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে নিম্নলিখিত বিভাগগুলি প্রকাশ হয়েছিল- ১) অ্যান্ড্রোজিনি বা তরলতা; ২) স্ত্রীলিঙ্গ এবং পুংলিঙ্গ বৈশিষ্ট্য; ৩) ডিসফোরিয়া বনাম এক্সপ্রেশন বা চিত্র; ৪) পরিবর্তনশীল বা স্থানান্তরিত ডিসফোরিয়া; ৫) কোন সমাধান নেই; এবং ৬) ট্রেড অফ / লস। এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে জেন্ডার ডিসফোরিয়ার অভিজ্ঞতাগুলি এই ছয়টি অভিজ্ঞতার থিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবুও, থিমগুলি আমাদের লিঙ্গ ডিসফোরিয়ার অভিজ্ঞতা বোঝার একটি উপায় দেয়। [113]

লিঙ্গ 6

লিঙ্গ 8

লিঙ্গ 10

লিঙ্গ 12

লিঙ্গ 14

লিঙ্গ 16

লিঙ্গ 18

উপরের রেফারেন্স অনুসারে, GD-এর এই বিবরণগুলি জেন্ডার ডিসফোরিয়ার ঐতিহ্যগত দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে, যেখানে ডিসফোরিয়াকে বোঝানো হয় একটি বাইনারি বিভাগের লিঙ্গ বাতিল করে আরেকটি বাইনারি লিঙ্গ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার সাপেক্ষে। বিপরীতে, GD বিভিন্ন ধরণের লোকেদের দ্বারা বিভিন্ন ভাবে অভিজ্ঞ হয়। তরলতা, উদাহরণস্বরূপ, অ্যান্ড্রোজিনির সাথে একাধিকবার লিঙ্গগত আদর্শ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে; নির্দিষ্ট শরীরের অংশগুলির উল্লেখ সহ, এমনকি নিজের কণ্ঠের শব্দের মতো নির্দিষ্ট বৈশিষ্টের সাপেক্ষে।

GD-এর অভিজ্ঞতাগুলি শুধু শারীরিক বৈশিষ্টে সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক ফ্যাক্টর-ও এখানে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ কেউ কষ্ট অনুভব করেন কারণ কিছু পোশাক সমাজের মধ্যে নির্দিষ্ট লিঙ্গগত ধারণা বহন করে; যেখানে অন্যদের জন্যে কিছু নির্দিষ্ট পোশাক পরার থেকে অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে distress আসতে পারে। এটি সাম্প্রতিক অনুসন্ধানগুলিকে confirm করে যে সামাজিক পরিবেশের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া থেকে একজন distress অনুভব করতে পারে, যেমন অন্যদের দ্বারা misgendered হওয়া। তার মানে কিছু কিছু মানুষ অন্যদের দ্বারা নির্দিষ্ট শ্রেণী যেমন “পুরুষ” বা “মহিলা” হিসাবে সমাজের মানুষের দ্বারা শ্রেণীবদ্ধ হওয়া থেকে distress অনুভব করতে পারে। আবার কিছু কিছু মানুষ “ট্রান্সজেন্ডার” হিসাবে অন্যদের দ্বারা শ্রেণীবদ্ধ হওয়া থেকে distress অনুভব করতে পারে। Distress আসে সমাজের মধ্যে মানুষের লিঙ্গগত উপলব্ধি থেকে, যা শারীরিক বৈশিষ্ট, লিঙ্গ এবং আচরণের ক্ষেত্রে essentialized ধারণা রাখে, যেমন- উচ্চতা, নিতম্ব-অনুপাত ইত্যাদি; সেইসাথে চুল স্পর্শ করার প্রবণতার মতো আচরণ।

একজন transmasculine ব্যক্তি, যিনি একজন পুরুষ হিসাবে পরিচয় দেন, “ট্রান্সজেন্ডার” বা “নারী” হিসাবে বিবেচিত হতেও distress অনুভব করতে পারেন, কারণ তাদের লিঙ্গ পরিচয় “পুরুষ” এর নির্দিষ্ট শ্রেণীতে বেশি ভারপ্রাপ্ত, এবং কারণ সমাজ “ট্রান্সজেন্ডার” শনাক্তকারীর প্রতি কলঙ্কজনক ধারণা পোষণ করে। অন্যদিকে, কিছু মানুষ তাদের যৌন অঙ্গগুলির পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রীলিঙ্গ এবং পুরুষত্বের বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাওয়ার ক্ষেত্রে distress অনুভব হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন অংশগ্রহণকারী তাদের পুরুষ লিঙ্গের (penis) নীচে একটি যোনি (vagina) অনুপস্থিত হওয়ার কারণে distress অনুভব করেছেন। নিজের শরীরকে আদর্শিক, বাইনারি শারীরিক মডেলের সাথে সারিবদ্ধ করার পরিবর্তে, কিছু মানুষ GD অনুভব করতে পারে কারণ তাদের শারীরিক দেহগুলি নন-বাইনারি মডেল যেমন ইন্টারসেক্স শারীরিক মডেলগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আবার কিছু মানুষের জেন্ডার ডিস্ফোরিয়ার অনুভূতি সময়ের সাপেক্ষে পরিবর্তন হতে থাকে। এভাবে, জেন্ডার ডিসফোরিয়া অভিজ্ঞতার একটি বৈচিত্র্য বিভাগ, যার মধ্যে শারীরিক এবং সামাজিক উভয় ফ্যাক্টরের প্রভাব রয়েছে।

এখানে, আমাদের বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার এবং জেন্ডার ডিসফোরিয়ার মধ্যে পার্থক্য আবারো বিবেচনা করা উচিত। যেখানে বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার একজনের শারীরিক বৈশিষ্টের একটি “কল্পিত” ত্রুটির সাথে জড়িত, যা “অপ্রয়োজনীয়” শারীরিক পরিবর্তন-এর পথে নিয়ে যায় বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে; জেন্ডার ডিসফোরিয়া থেকে কষ্ট ঘটে একজনের লিঙ্গ পরিচয় (অর্থাৎ, লিঙ্গের মনস্তাত্ত্বিক গঠন) এবং পৃথিবীতে একজনের জীবনের মধ্যে একটি বাস্তব, বিদ্যমান পার্থক্যের কারণে। এইভাবে বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয় থাকার বিষয়ে অকার্যকর কিছু নেই; dysfunction দেখা দেয় যখন অন্যান্য factors (psychological বা সামাজিক) উল্লিখিত লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সংঘর্ষে আসে। লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে মিলিত না হলে একজন ব্যক্তি তাদের শরীরে যে পরিবর্তনগুলি করে সে সম্পর্কে “কল্পিত” বা “অপ্রয়োজনীয়” কিছুই নেই। তদুপরি, রেফারেন্সগুলো নির্দেশ করে যে ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি মানুষের মনোভাব, উপলব্ধি এবং আচরণ, যেমন তাদেরকে misgender করা, ট্রান্সজেন্ডারদের দ্বারা অনুভূত হওয়া distress-এর জন্য অবদান রাখে। তাই আমাদের যা প্রয়োজন, তা হল বৈচিত্র্য লিঙ্গ পরিচয় গ্রহণের দিকে একটি স্থানান্তর; এবং সেইসাথে যৌনাঙ্গ ও লিঙ্গ সম্পর্কে দ্বিধাবিভক্ত, ঐতিহ্যগত ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষকে উপলব্ধি করা থেকে দূরে সরে যাওয়া।

“Transition”-এর সামাজিকতা

এই কারণেই optimal জেন্ডার থেরাপি biological এবং সামাজিক উভয় factor-গুলোকে সম্বোধন করে যা distress-কে প্রভাবিত করে। উপরন্তু, জেন্ডার থেরাপির উদ্দেশ্য একজন ব্যক্তির নিজের অনুভূতি পরিবর্তন করা নয়, কারণ একটি বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয় থাকা একটি disorder নয়-

“জেন্ডার থেরাপির লক্ষ্য ক্লায়েন্টদের নিজের উপলব্ধি পরিবর্তন করা নয়; বরং ক্লায়েন্টের প্রতি তার পরিবেশের মানুষের ধারণা পরিবর্তন করা। এটি ক্লায়েন্টের আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে এবং ক্লায়েন্টের নেটওয়ার্কে উল্লেখযোগ্য মানুষদের শিক্ষা দিয়ে সম্পন্ন করা হয়। জেন্ডার থেরাপি একটি সহায়ক প্রক্রিয়া হিসাবে দেখা হয় যেখানে একজন অসন্তুষ্ট থেকে আরও সন্তুষ্ট জীবনযাত্রায় চলে যায়। Optimal end point-এ যে লিঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে তাকাতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। যেহেতু সংস্কৃতি এবং সমাজের বাইনারির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন লিঙ্গযুক্ত অভিব্যক্তিগুলিকে নেতিবাচক ভেবে বিরোধিতা করার একটি খারাপ প্রবণতা রয়েছে, তাই শুধুমাত্র ব্যক্তির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সমস্ত থেরাপিউটিক কাজ নিরর্থক; কেননা সেই ব্যক্তির [অনুভূত] লিঙ্গ পরিচয় তার পারিপার্শ্বিকতার দ্বারা স্বীকৃতি পাচ্ছে না। “অস্বাভাবিক লিঙ্গবিশিষ্ট” [বলে বিবেচিত] বা ননজেন্ডারড প্রতিভার ব্যক্তিদের জন্য সর্বোত্তম থেরাপিউটিক পদ্ধতির অবশ্যই অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় জগতকে সম্বোধন এবং সহায়তা করতে হবে যাতে ব্যক্তি সমাজের কাছে নিজের সম্পর্কে একটি egosyntonic উপলব্ধি উপস্থাপন করতে সক্ষম হয় এবং যাতে সমাজ এই উপস্থাপনাকে স্বীকৃতি দিতে সক্ষম হয়। যখন লিঙ্গযুক্ত বা নন-জেন্ডার্ড স্ব- ধারণার সম্পর্কে ব্যক্তির অনুভূতি এবং পারিপার্শ্বিক উপলব্ধির মধ্যে সামঞ্জস্যতা বিদ্যমান থাকে, তখন লিঙ্গ বা নন-জেন্ডার্ড belonging-এর উদ্ভব হয়। সম্মিলিত ব্যক্তিগত এবং সাংস্কৃতিক প্রচেষ্টা বিভিন্ন end point-এ পৌঁছাবে কারণ ক্লায়েন্ট এবং [তার সামাজিক] নেটওয়ার্কের চাহিদা এবং ক্ষমতা উভয়ই ভিন্ন।” [114]

জেন্ডার থেরাপি বা Gender-Affirming অনুশীলনগুলি একজন ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক বা ভালো প্রভাব ফেলে-

“গুরুত্বপূর্ণভাবে, পরিমাণগত গবেষণার একটি ক্রমবর্ধমান সংস্থা ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের মধ্যে জেন্ডার ডিসফোরিয়া এবং সম্পর্কিত মানসিক যন্ত্রণা কমানোর জন্য Gender-Affirming অনুশীলনের গুরুত্বের উপর জোর দেয়। [115] উদাহরণস্বরূপ, transmasculine অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গবেষণা testosterone/টেস্টোস্টেরনের [116] এবং top সার্জারির[117] মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনের মানের উপর ইতিবাচক প্রভাবকে চিত্রিত করে। অধিকন্তু, Nguyen et al (২০১৮)[118] দ্বারা পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে লিঙ্গ-নিশ্চিত হরমোন থেরাপি anxiety এবং depression হ্রাস করে, কষ্টের অনুভূতি হ্রাস করে এবং ট্রান্সজেন্ডার বাচ্চা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আত্ম-সম্মান উন্নত করে। Gender-Affirming চিকিৎসার ইতিবাচক প্রভাব ছাড়াও, social transition-এর মাধ্যমে প্রামাণিকভাবে বেঁচে থাকার পদক্ষেপ গ্রহণ করা ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য স্বাস্থ্য এবং মঙ্গলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উপস্থাপন করে। […]

Social transition-এর গভীর ইতিবাচক প্রভাব বিভিন্ন গুণগত গবেষণায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণকারীদের বর্ণনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। [119] অধিকন্তু, Russel et al. (২০১৮) [120] দ্বারা পরিচালিত গবেষণা ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের Affirmed নাম এবং সর্বনাম দ্বারা উল্লেখ করার গুরুত্বের উপর জোর দেয়। বিশেষত, অনুসন্ধানগুলি দেখায় যে চারটি মূল life domain জুড়ে যেসব ১৫-২৪ বছর বয়সী যুবকদের Affirmed নাম এবং সর্বনামগুলি ব্যবহৃত হয়েছিল (বাড়ি, স্কুল, কাজ এবং সহকর্মীদের সাথে)- তাদের মধ্যে depression-এর লক্ষণ/symptoms ৭১% কম পাওয়া গিয়েছিল এবং আত্মহত্যার চেষ্টা ৬৫% হ্রাস পেয়েছে; সেসব মানুষের তুলনায় যাদের তাদের নাম এবং সর্বনাম Affirmed ছিল না।

এইভাবে, এটি সাহিত্য থেকে স্পষ্ট যে জেন্ডার ডিসফোরিয়া অনুভব করা যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার মতো অনুভব হতে পারে এবং একাধিক ডোমেনে নেতিবাচকভাবে কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে Gender-Affirming হস্তক্ষেপ এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা Affirm করা জেন্ডার ডিসফোরিয়া উপশম/alleviate করতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার উন্নতি করতে সহায়তা করে। বিদ্যমান সাহিত্যে লক্ষণীয়ভাবে অনুপস্থিত Gender Affirmation-এর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের ইতিবাচক এবং visceral মানসিক প্রতিক্রিয়ার বিশদ বিবরণ।” [121]

জেন্ডার ইউফোরিয়া

“Gender Affirmation-এর বিভিন্ন অভিজ্ঞতার উপরে মানুষের মানসিক এবং ইতিবাচক ভিসারাল প্রতিক্রিয়া,” যা বিদ্যমান সাহিত্যে অনুপস্থিত, তা “জেন্ডার ইউফোরিয়া/Gender Euphoria” নামে পরিচিত। Gender Euphoria নিম্নলিখিত উপায়ে বর্ণনা করা হয়েছে-

“যেসব স্কলারলি লেখা যা Gender Euphoria উল্লেখ করেছে, তারা [এ শব্দের] বিভিন্ন ধারণা এবং কার্যকারিতা উপস্থাপন করে। Ashley and Ells (২০১৮) [122] Gender Euphoria-কে “ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় এবং জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গ ব্যতীত অন্য লিঙ্গের সাথে সম্পর্কিত লিঙ্গগত বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে সঙ্গতিপূর্নের কারণে সৃষ্ট একটি স্বতন্ত্র উপভোগ বা সন্তুষ্টি” হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে। (p. 2) অন্যান্য গবেষকরা [Gender Euphoria-কে] The Positive and Negative Affect Scale দ্বারা পরিমাপিত করেছে “distress relief” এবং সুস্থতার প্রচার হিসাবে [123], এবং trans resilience-এর একটি ফর্ম হিসাবে কার্যকর সংজ্ঞা দিয়েছেন। [124] প্রকাশিত গবেষণায় Gender Euphoria-এর একমাত্র দৃষ্টান্ত হিসাবে, এই সকল সংজ্ঞা এবং operationalizations আমাদের এই অভিজ্ঞতা বোঝার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর পদক্ষেপকে উপস্থাপন করে। […]

আমরা কি ধরনের অভিজ্ঞতাকে Gender Euphoria বলতে পারি? যেহেতু জেন্ডার ডিসফোরিক অভিজ্ঞতা শারীরিক এবং/অথবা সামাজিক হতে পারে [125], আমরা আশা করতে পারি যে Gender Euphoria-এর অভিজ্ঞতাগুলি একই গতিপথ অনুসরণ করবে। প্রকৃতপক্ষে, একটি গবেষণায় বর্ধিত শরীরের লোম অপসারণ এবং ট্রান্সফেমিনিন ব্যক্তিদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাবের মধ্যে একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে [123]; এবং অন্য একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে যে সঠিকভাবে লিঙ্গ নির্ধারণ করা, সঠিক নাম এবং সর্বনাম ব্যবহারের ফলে কিছু নন-বাইনারি তরুণ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য Affirmation এবং আনন্দের অনুভূতি দিতে পারে।[126] তবে, ধারণাগত এবং অভিজ্ঞতাগতভাবে ডিসফোরিয়া এবং ইউফোরিয়া-এর মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে সামান্য ঐক্যমত রয়েছে। কিছু সোর্স ইউফোরিয়াকে ডিসফোরিয়ার বিপরীত হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে (যেমন, নিউম্যান, ২০১৮) [127], যার অর্থ হতে পারে যে ডিসফোরিয়া অভ্যন্তরীণভাবে ইউফোরিয়ার সাথে যুক্ত – যেমন, যে একজন ব্যক্তি যে বিষয়েই ডিসফোরিক (উদাহরণস্বরূপ, শরীরের চুল), তার বিপরীত ফলাফল হবে ইউফোরিক (যেমন, শরীরের লোম অপসারণ)। তবে, অন্যরা দাবি করেন যে ডিসফোরিয়া এবং ইউফোরিয়া দুটি পৃথক অভিজ্ঞতা, যেখানে কিছু লোক ডিসফোরিয়া অনুভব না করেই ইউফোরিয়া অনুভব করতে পারে এবং vice-versa। [128] এইভাবে, আমরা আশা করতে পারি যে জেন্ডার ইউফোরিয়ার অভিজ্ঞতাগুলি মানুষের দেহ এবং/অথবা সামাজিক জীবনের সাথে সম্পর্কিত হবে, তবে এটি প্রয়োজন নয় যে ডিসফোরিক অভিজ্ঞতার সাথে জেন্ডার ইউফোরিয়ার সম্পর্ক অগত্যা থাকতেই হবে। এবং লোকেরা ইউফোরিয়া এবং ডিসফোরিয়াকে বিপরীত হিসাবে ধারণা করতে পারে, বা তাদের মধ্যে জটিল সম্পর্ক আছে বলে দেখতে পারে।” [129]

জেন্ডার ইউফোরিয়ার ধারণার গুরুত্ব হল এই সত্যটি তুলে ধরা যে Gender Affirmation শুধুমাত্র মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না বরং Gender Affirmation সরাসরি সুখের অনুভূতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। Distress দূর করার জন্য মানুষ যে পরিবর্তনগুলি করেছে, সে সম্পর্কে লোকেরা জেন্ডার ইউফোরিয়া অনুভব করতে পারে। একই সময়ে, লোকেরা তাদের অভিজ্ঞ লিঙ্গ পরিচয়ের পৃথক দিক সম্পর্কে জেন্ডার ইউফোরিয়া অনুভব করতে পারে, যেগুলোর উপরে তারা আগে কখনো ডিসফোরিয়া অনুভব করেন নি। এমনকি যখন জেন্ডার ডিসফোরিয়া ছাড়াই জেন্ডার ইউফোরিয়া অনুভব করা হয়, তখনও এটি এই সত্যটিকে পরিবর্তন করে না যে একজনের অভিজ্ঞ লিঙ্গ অনুযায়ী বেঁচে থাকা এবং এই পরিচয়কে গ্রহণ করা মানুষের জন্য উপকারী। অধিকন্তু, জেন্ডার ইউফোরিয়া হল তাদের মুখে একটি থাপ্পড়; তাদের জন্যে, যারা বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয়কে একটি মানসিক ব্যাধি হিসাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে।

ইন্টারসেক্স

DSM-এর পুরানো সংস্করণগুলি “ইন্টারসেক্স” কে একটি অসুস্থতা হিসাবে দেখে, যেমন DSM-III এবং DSM-III-R, যার Axis III-এর মধ্যে “যৌন-অঙ্গের শারীরিক অস্বাভাবিকতা” হিসাবে ইন্টারসেক্স অন্তর্ভুক্ত ছিল যেমন, DSM-III-তে GIDC; এবং DSM-III-R-এ Transsexualism-এর ক্ষেত্রে। ইন্টারসেক্স শরীর সহ মানুষরা residual diagnosis-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যেমন DSM-III-তে Atypical GID এবং DSM-III-R-এ GIDNOS।[130] DSM-IV-এ, “ইন্টারসেক্স”-কে Gender Identity Disorder-এর diagnosis-এর জন্য একটি বর্জনের মানদণ্ড (Exclusion Criterion) হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। DSM-IV অনুযায়ী-

“জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যৌনাঙ্গ “স্বাভাবিক” থাকে; অস্পষ্ট যৌনাঙ্গ বা হাইপোগোনাডিজমের (under-functioning টেস্টেস বা ডিম্বাশয়) বিপরীতে- যা শারীরিক ইন্টারসেক্স অবস্থায় পাওয়া যায়’’ [131]

DSM-IV এইভাবে ইন্টারসেক্স-এর উপস্থিতিতে জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসর্ডার-এর ডায়াগনসিস বাতিল করে দেয় এবং সেইসাথে “স্বাভাবিক যৌনাঙ্গ” সহ “স্বাভাবিক দেহ”-এর ধারণাটি প্রতিষ্ঠা করে।

“DSD” শব্দের উৎপত্তি

বর্তমানে DSM-5-এ, “ইন্টারসেক্স” শব্দটির পরিবর্তে, “DSD” জেন্ডার ডিসফোরিয়ার জন্য একটি specifier হিসাবে বিদ্যমান। জেন্ডার ডিসফোরিয়া ডায়গনোসিসের জন্য DSD specifier-এর মধ্যে ভিন্ন ভাষার অধীনে ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্য কথায়, GD ডায়াগনসিস-এর জন্য দুটি ভিন্ন সংস্করণ রয়েছে- একটি DSD সহ এবং একটি DSD ছাড়া। [132]

২০০৬-এর Chicago Statement-এর পরে (যা Intersex Society of North Anerica, ISNA-এর সাথে আংশিক সহযোগিতায় জড়িত ছিল) ক্লিনিকাল ভাষা “ইন্টারসেক্স” থেকে “Disorder of Sex Development” (DSD)-এ পরিবর্তিত হয়েছিল। DSD-কে “জন্মগত অবস্থা যেখানে ক্রোমোসোমাল, গোনাডাল বা শারীরবৃত্তীয় লিঙ্গের বিকাশ অস্বাভাবিক”-হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। [133] সর্বসম্মত গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের পরিবর্তে, এই পরিবর্তনটি আরও বেশি বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিল।[134]

DSD-এর মতো পরিভাষা ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রধান যুক্তিগুলি নীচে ব্যাখ্যা করা হয়েছে-

“DSD-এর বিরুদ্ধে প্রধান যুক্তি হল যে শব্দটি কলঙ্কজনক, মানুষের জীবনকে pathologize করে এবং medical community-কে মানুষের আকৃতি ও চাহিদা সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে অসম ক্ষমতা দিয়ে দেয়। [135] একটি সমালোচনামূলক psychosocial দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, এই ধরনের medicalization মানুষের নিজেদের সম্পর্কে ধারণাগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপনা করে, যে এটি তাদের সুস্থতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।[136] DSD-এর বিকল্প হিসেবে বেশ কিছু কম-রোগাক্রান্ত পদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে- Variations of Sex Development [137], Variations in Reproductive Development [138], Divergence of Sex Development [139], Differences of Sex Development [140] এবং Diverse Sex Development.” [141]

সাধারণভাবে, ইন্টারসেক্স বলতে জৈবিক যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নেওয়ার অবস্থাকে বোঝায় যা পুরুষ বা মহিলার বাইনারি বিভাগের সাথে খাপ খায় না। [142] “ইন্টারসেক্স” বলতে “উভয় লিঙ্গ” এর যৌন অঙ্গ নিয়ে জন্ম নেওয়া লোকেদের বোঝায় না, যা সাধারণত সমাজে শোনা যায়। বরং-

“ইন্টারসেক্সের বৈচিত্র্যযুক্ত ব্যক্তিরা ভিন্ন; বিভিন্ন দেহ, লিঙ্গ এবং যৌন ও লিঙ্গ পরিচয় সহ। ইন্টারসেক্স বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্তত ৪০টি ভিন্ন সত্তা রয়েছে যার মধ্যে বেশিরভাগই জেনেটিক্যালি নির্ধারিত।” [143]

DSM-এ বৈচিত্র্যময় দেহ এবং বৈচিত্র্যময় chromosome থাকা ব্যক্তিদের উল্লেখ করার জন্য terminology সামাজিক এবং একাডেমিক আলোচনায়, সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, যা বৈচিত্র্যময় দেহের মানুষদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে চলমান একটি বিতর্ককে প্রতিফলিত করে। উদাহরণস্বরূপ, কেন আমরা DSM-5 অনুযায়ী ইন্টারসেক্স দেহগুলিকে সহজাতভাবে disordered বলে বিবেচনা করব?

একটি জীবন্ত শ্রেণীবিভাগ

“একটি ভিন্ন শ্রেণীবিভাগ যা যৌনাঙ্গ, লিঙ্গ নির্ধারণ বা এমনকি লিঙ্গের ‘সত্যতা’ যা গন্যাড বা ক্রোমোজোমে পাওয়া যায়- এগুলো সকলের পরিবর্তে, বায়োমেডিকাল শ্রেণীবিভাগের সামাজিক পরিণীতির উপর ভিত্তি করা। এই ‘post-medicine definition’ ইন্টারসেক্সকে ‘এমন একটি দেহ নিয়ে জন্ম নেওয়ার সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিণতির জীবিত অভিজ্ঞতা যা পুরুষ এবং মহিলার আদর্শিক সামাজিক কাঠামোর সাথে খাপ খায় না’ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে। [144] Bowker & Star (১৯৯৯) [145] বলেছিলেন যে ‘একমাত্র ভাল শ্রেণীবিভাগই হলো একটি জীবন্ত শ্রেণীবিভাগ’ (p. 326), এবং ইন্টারসেক্সের ‘post-medicine’-এর ধারণা হলো একটি জীবন্ত শ্রেণীবিভাগ। নির্দিষ্ট শারীরিক পার্থক্যের পরিবর্তে ‘জীবিত অভিজ্ঞতা’ এবং ‘সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিণতি’-এর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, এই শ্রেণীবিভাগ ইন্টারসেক্সের medicalization বিপর্যস্ত করে, এবং প্রকৃতপক্ষে ইন্টারসেক্স এক্টিভিস্টরা দীর্ঘকাল ধরে যে যুক্তি দিয়ে আসছেন, তার জন্য জায়গা করে দেয় যে বৈচিত্র্যের over-medicalization ক্ষতিকর, কিন্তু বৈচিত্রগুলি নিজেরা ক্ষতিকর নয়।” [146]

ইন্টারসেক্স জেনিটাল মিউটিলেশন

ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুধুমাত্র মেডিসিন-এ জ্ঞানগত ভুল উপস্থাপন এবং সমাজে বৈষম্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং শৈশবকালীন চিকিৎসা পদ্ধতিতেও, যেমন forced sterilization এবং ইন্টারসেক্স জেনিটাল মিউটিলেশন (Intersex Gential Mutilation, IGM)। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার জার্নাল থেকে “Intersex Human Rights” নিবন্ধ থেকে নিম্নলিখিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

IGM শব্দটির উৎপত্তির পাশাপাশি IGM-এর বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাস নিচে বর্ণনা করা হয়েছে-

“IGM, প্রথম ১৯৯৬ সালে ইন্টারসেক্স সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা (ISNA) দ্বারা প্রবর্তিত হয়; শব্দটি ইন্টারসেক্স মানুষের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সংক্ষেপে ব্যবহৃত হয়। IGM-কে FGM (Female Genital Mutilation)-এর ডেরিভেটিভ হিসাবে বিবেচিত করা উচিত নয়, বরং IGM-কে নিজের মধ্যে একটি ক্ষতিকারক অনুশীলন হিসাবে দেখা উচিত। StopIGM এই ক্ষতিকারক হস্তক্ষেপগুলিকে চারটি প্রাথমিক বিভাগে পড়ে বলে বর্ণনা করে:

• IGM 1 – পুরুষালি সার্জারি।
• IGM 2 – Feminizing পদ্ধতি।
• IGM 3 – Sterilizing পদ্ধতি।
• IGM 4 – অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকারক চিকিৎসা এবং নন-মেডিকেল পদ্ধতি।” [147]

IGM-কে বিভিন্ন সংস্থা যেমন UN, COE, ACHPR, IACHR দ্বারা ইন্টারসেক্স লোকেদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচিত করে, যারা 2016 সালে ইন্টারসেক্স সচেতনতা দিবসের জন্য একটি joint statement প্রকাশ করেছিল-

“সরকারগুলোকে, জরুরি বিষয় হিসাবে, ইন্টারসেক্স শিশুদের উপর চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় সার্জারি এবং অন্যান্য পদ্ধতিগুলিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের অবশ্যই ইন্টারসেক্স প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের স্বায়ত্তশাসন এবং তাদের স্বাস্থ্যের অধিকার, শারীরিক ও মানসিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে হবে, এবং সেইসাথে সহিংসতা, ক্ষতিকর অভ্যাস, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার থেকে মুক্ত রাখতে হবে। ইন্টারসেক্স শিশু এবং তাদের পিতামাতাদের এক্টিভিস্টদের কাছ থেকে সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করা উচিত।[…]” [148]

আমেরিকান মানবাধিকার সংস্থা যেমন ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন হিউম্যান রাইটস (Inter-American Commission on Human Rights IACHR) ২০১৭ সালের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে IGM-এর ক্ষতির প্রতিধ্বনি করেছে-

“এই বিবেচনার ভিত্তিতে, IACHR সরকারগুলোকে ইন্টারসেক্স শিশুদের উপর সার্জারি এবং চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় পদ্ধতিগুলিকে জরুরীভাবে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়। কমিশন আরও পুনর্ব্যক্ত করে যে সরকারগুলি সমস্ত ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদের স্বায়ত্তশাসন এবং তাদের স্বাস্থ্যের অধিকার, তাদের শারীরিক ও মানসিক অখণ্ডতার অধিকার এবং সমস্ত ধরণের সহিংসতা ও বৈষম্য থেকে মুক্ত থাকার অধিকারের সকল মাত্রাকে সম্মান করবে এবং সমস্ত অমানবিক প্রথা এবং অপমানজনক চিকিৎসাকে প্রতিরোধ করবে।” [149]

মানবাধিকার সংস্থাগুলির কঠোর বিবৃতি সত্ত্বেও, IGM সারা বিশ্বে প্রচলিত রয়েছে। যদিও US-এ ১৯৯৬ সালে Female Genital Mutilation (FGM) এর বিরুদ্ধে আইন বাস্তবায়িত হয়েছিল, IGM-কে criminalize করার প্রচেষ্টা বেশিরভাগই রাজনীতিবিদদের দ্বারা উপেক্ষা করা হয়েছিল। [149] তা এটির সত্ত্বে যে-

“IGM অনুশীলনকারীরা নিজেরাই অবাধে FGM-কে IGM-এর সাথে তুলনা করেছেন, এমনকি তারা FGM-এর কথিত ক্ষতিহীনতার দাবির ভিত্তিতে IGM-কে বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। কিছু IGM অনুশীলনকারীরা সাধারণত মেডিকেল FGM অনুশীলনকারীদের দ্বারা ব্যবহৃত একই আর্গুমেন্টের সাথে IGM কে যুক্তিযুক্ত করতে চায়। বিভিন্ন লেখক দাবি করেছেন IGM এবং FGM একই অবস্থানে।” [149]

এইভাবে, আমরা যদি Female Genital Mutilation-এর বিরুদ্ধে থাকি, তাহলে আমরা বিবেকের সাথে Intersex Genital Mutilation, IGM-কে সহ্য করতে পারি না। IGM অনুশীলনের অস্তিত্ব বৈচিত্রময় দেহের লোকেদের বিরুদ্ধে একটি পদ্ধতিগত অসহিষ্ণুতা প্রকাশ করে। এর উপরে, IGM হল ইন্টারসেক্স মানবাধিকারের লঙ্ঘন; এমনকি এটিকে জার্মানির activist-রা “গণহত্যা” হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে, যা ক্ষতিপূরণ যার জন্যে ক্ষতিপূরণ দরকার।

কল্পনা করুন যদি বাচ্চাদের জন্ম থেকেই “সমকামী” হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হতো, এবং ভবিষ্যতে তারা যেন “বিষমকামী” হয়, এই আশায় তাদের যৌন অভিযোজন পরিবর্তন করার জন্য তাদের উপর “চিকিত্সা” করা হয়। ইন্টারসেক্স মানুষদের জন্মের পর থেকেই যৌনাঙ্গ, শারীরিক এবং ক্রোমোজোমের বৈচিত্র্যের কারণে চিহ্নিত করা হয়, এবং বাইনারি লিঙ্গের আদর্শ মডেলের সাথে মানানসই করার জন্য “চিকিৎসা” পদ্ধতির শিকার হয়; তাদের যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এর কারণে, একটি সম্পূর্ণ গোষ্ঠী জন্ম থেকেই সহিংসতার শিকার হয়- ঐতিহ্যের সাথে অ-সঙ্গতিপূর্ণ জৈবিক বৈচিত্রের প্রতি অসহিষ্ণুতার কারণে।

ট্রানসনর্মাটিভিটি

“ট্রানসনর্মাটিভিটি” বলতে বোঝায় একটি সাধারণ আদর্শ বা “Master Narrative” যার সাপেক্ষে লিঙ্গগত অভিজ্ঞতা নিয়ন্ত্রিত এবং কাঠামোবদ্ধ। ট্রান্সনরম্যাটিভিটিকে “Trans Purity”-এর একটি রূপ হিসাবে কল্পনা করা যেতে পারে – এই ধারণা যে একটি একক, সাধারণ, একীভূত উপায় রয়েছে যার অনুযায়ী সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার মানুষ বাস করে এবং তাদের জীবন অনুভব করে। ট্রান্সনর্মাটিভিটি এই বিশ্বাসের সাথে জড়িত যে সেক্স এবং লিঙ্গ সরাসরি একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে একজনের যৌনাঙ্গ পরিবর্তন করা একজন ব্যক্তির লিঙ্গ পরিবর্তনের সমান। ট্রান্সনর্মাটিভিটি ভুলভাবে ধরে যে ট্রানজিশন হল একমুখী রাস্তা (হয় পুরুষ থেকে মহিলা বা মহিলা থেকে পুরুষ)।

ট্রানসনর্মাটিভিটির সংজ্ঞা

সিসনোরম্যাটিভিটির মতো, ট্রান্সনর্মাটিভিটিও একটি হেজিমোনিক কাঠামো হিসাবে দেখা যেতে পারে। গবেষকরা নিম্নোক্ত উপায়ে ট্রান্সনর্মাটিভিটি বর্ণনা করেছেন-

“ট্রান্সনর্মাটিভিটি হল এই বিশ্বাস যে ট্রান্স মানুষদের জন্য তাদের লিঙ্গ অনুশীলন করার একমাত্র একটি উপায় রয়েছে। [150] বিশেষভাবে, ট্রান্সনরমাটিভিটি পরামর্শ দেয় যে সমস্ত ট্রান্স মানুষরা একটি সামাজিকভাবে জ্ঞাত লিঙ্গ থেকে অন্য লিঙ্গে রূপান্তর করা উচিত (যেমন, পুরুষ থেকে মহিলা)। এই ধারণাটি এই মিথ্যা ধারণার উপর নির্ভর করে যে শুধুমাত্র দুটি শনাক্তযোগ্য সেক্স বিদ্যমান (অর্থাৎ, male/female), যেগুলি শুধুমাত্র দুটি লিঙ্গের (যেমন, man/woman) সাথে সংযুক্ত থাকে, যা পৃথক, প্রাকৃতিক এবং অপরিবর্তনীয়। [151] এইভাবে, বিষমকামীতার ম্যাট্রিক্স সম্পর্কে বাটলারের ধারণা অনুসারে, একজন ট্রান্স ব্যক্তির এক সেক্স থেকে অন্য সেক্সে স্থানান্তর করা সেই ব্যক্তির এক লিঙ্গ থেকে অন্য লিঙ্গে রূপান্তরিত হওয়ার সাথে সংযুক্ত, কারণ সেক্স এবং লিঙ্গ নির্দিষ্ট উপায়ে জড়িত যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তি এবং অবস্থানকে সাংস্কৃতিকভাবে বোধগম্য (এবং শনাক্তযোগ্য) হিসাবে তৈরি করে। [151] সিসজেন্ডার লোকেদের দ্বারা ট্রান্স লোকেদের উপর চাপিয়ে দেওয়া থেকে আলাদা; Spade (২০০২) [152] ট্রান্স সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া ট্রান্সনরমাটিভিটির ক্ষতিকারক প্রভাবগুলিও তুলে ধরে। উপরন্তু, Catalano (২০১৫) [153] এবং Jourian et al. (২০১৫) [154] উচ্চ শিক্ষায় যথাক্রমে ট্রান্স পুরুষ এবং ট্রান্স শিক্ষাবিদদের উপর ট্রান্স-নরম্যাটিভিটির বিভিন্ন প্রভাবের প্রতি ইঙ্গিত করেছে৷” [155]

যদিও ট্রান্সনর্মাটিভিটি কিছু লোকের প্রতি বৈধতা প্রসারিত করতে পারে যারা চিকিৎসাগতভাবে transition করতে চান, ট্রান্সনর্মাটিভিটি Gender Affirmation-কে সীমাবদ্ধ করতে পারে। এর কারণ হল ট্রান্সরমেটিভ মানদণ্ড অনুসারে, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের একটি নির্দিষ্ট, মেডিকেল মডেল রয়েছে, যা এমন ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে দেয় যারা এই নির্দিষ্ট মডেলের সাথে মিলে না। এবং এইভাবে, তাদেরকে প্রান্তিক করে। এই সমস্যাটি গবেষকরাও তুলে ধরেছেন-

“ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের একটি মেডিকেল মডেল মেনে চলা ব্যক্তিদের জন্য, ট্রান্সনরমাটিভিটি একই সাথে তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের বৈধতা নিশ্চিত করে এবং Gender-Affirmation চিকিৎসা যত্নে তাদের access সীমাবদ্ধ করে। এবং যে ব্যক্তিরা ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের একটি মেডিকেল মডেল মেনে চলেন না; বাইনারি লিঙ্গ মূর্তি প্রত্যাখ্যান বা চিকিৎসা হস্তক্ষেপের প্রত্যাখ্যান দ্বারা চিহ্নিত ট্রানসনর্মাটিভিটি সেই ব্যক্তিদের প্রান্তিক করে তুলে, এবং কখনও কখনও তাদের অভিজ্ঞতাকে ঢেকে দেয়। ট্রান্সজেন্ডার ও সিসজেন্ডার মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে মিথস্ক্রিয়ায় [ট্রানসনর্মাটিভিটি] Gender Affirmation-এ তাদের অ্যাক্সেস সীমাবদ্ধ করে। Cisgender, বা cis (যা interchangeably ব্যবহার করা হয়), ব্যক্তিগত পর্যায়ে এমন ব্যক্তিদের বোঝায় যাদের লিঙ্গ পরিচয় তাদের জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে, cisgender বা cis কে একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্থান হিসাবে বোঝা উচিত যা সিসজেন্ডার ব্যক্তিদের এবং লিঙ্গ সম্পর্কিত cisgender অভিজ্ঞতার বিশেষ সুবিধার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।” [156]

ট্রানসনর্মাটিভ আদর্শের ক্ষতিকারকতা

বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে “ট্রান্সজেন্ডার” ধারণার প্রভাবশালী বর্ণনাগুলি ট্রান্স লোকেদের প্রতি মিথ্যা প্রত্যাশা পোষণ করার ঝুঁকি চালায়, যেমন আশা রাখা যে তারা খুব নির্দিষ্ট এবং কঠোর উপায়ে চিন্তা করবে এবং আচরণ করবে। এই সমস্যাটি গবেষকরা তুলে ধরেছেন-

“মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খলাগুলি ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য জীবনযাপনের একটি নির্দিষ্ট সংস্করণ প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছে, যা “ট্রানসনর্মাটিভিটি” হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। [157] ট্রানসনর্মাটিভ দ্বারা, আমরা সেই উপায়গুলি উল্লেখ করি যেখানে ট্রান্সজেন্ডার বলতে কী বোঝায় সে সম্পর্কে প্রভাবশালী বর্ণনাগুলি নির্দিষ্ট এবং সংকীর্ণ ট্রপের উপর জোর দেয়, যেগুলি সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার মানুষ মেনে চলবে বলে আশা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে এমন প্রত্যাশা যা-

১) সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার লোকেরা তাদের লিঙ্গ বর্ণনা করার সময় একটি “Wrong Body Narrative” মেনে চলে।[158]

২) সমস্ত ট্রান্সজেন্ডারদের medical treatment-এর প্রয়োজন হয়।

৩) সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা সিজজেন্ডার হিসাবে নিজেদের উপস্থাপন এবং উপলব্ধি করতে চায়।

তাই, যদিও ট্রানসনর্মাটিভ আখ্যানগুলি হরমোন থেরাপি এবং সার্জারির মতো চিকিত্সার হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে যখন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের প্রয়োজন হয়; এটা “reparative” পদ্ধতিকে প্রয়োগ করতে পারে, যা একজন মানুষের লিঙ্গকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।” [159]

এই ধরনের প্রত্যাশা শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের মধ্যেই নয়, সমাজের মধ্যেও রয়েছে; এমনকি ট্রান্স সম্প্রদায় এবং LGBTQ সম্প্রদায়ের মধ্যেও। ট্রানসনর্মাটিভিটি একটি সামাজিক কাঠামো হিসাবে দেখা যেতে পারে, যা সমাজের মধ্যে ট্রান্সজেন্ডারদের আচরণ এবং পরিচয়কে নিয়ন্ত্রণ এবং সংজ্ঞায়িত করে এবং তাই অন্যান্য নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পাশাপাশি দেখা যেতে পারে যেমন হেটেরোনরমাটিভিটি এবং সিসনোর্মাটিভিটি-

“ট্রান্স লোকেদের ট্রানসনর্মাটিভ মানদণ্ডের প্রতি দায়বদ্ধ করা হয়, যা গোষ্ঠী হিসাবে ট্রান্স লোকেদের জন্য নির্দিষ্ট। ট্রান্সজেন্ডার পুরুষত্ব এবং নারীত্ব সিসজেন্ডার পুরুষত্ব এবং নারীত্বের সাথে ওভারল্যাপ করে। তবে, ট্রান্স সম্প্রদায়ের মধ্যে এবং ট্রান্স লোকেদের জন্য অন্যান্য নির্দিষ্ট হিসাব কাঠামো রয়েছে, যা ট্রান্স সম্প্রদায়ের সদস্যদের (যেমন, সাপোর্ট গ্রুপ, কমিউনিটি মিডিয়া, পাবলিক ফিগার) এবং Gatekeeping প্রতিষ্ঠান (যেমন, ট্রান্স হেলথ কেয়ার প্র্যাকটিশনার, আইডেন্টিফিকেশন ডিস্ট্রিবিউটিং প্রতিষ্ঠান যেমন মোটর গাড়ি বিভাগ বা স্থানীয় আদালত ব্যবস্থা) দ্বারা enforced; যারা “ট্রান্স”-কে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় হিসাবে police করে। যারা ট্রান্স সম্প্রদায় অধ্যয়ন করে, তারা দেখায় যে ট্রানসনর্মাটিভ মানদণ্ডগুলি স্থানীয়, শারীরিক সংস্থাগুলির (যেমন, অংশীদার, বন্ধু, সম্প্রদায়ের সদস্য) মাধ্যমে, অথবা সামাজিক আলোচনায় সেই সংস্থাগুলির প্রতিনিধিত্বের (যেমন, ডকুমেন্টারি ফিল্ম, ট্রান্সজেন্ডার অধ্যয়ন সাহিত্য, ডায়াগনস্টিক মানদণ্ড) মাধ্যমে ট্রান্স মানুষের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করতে পারে।” [160]

তাই, যেসব ট্রান্সজেন্ডার লোকেরা এই নির্দিষ্ট ট্রান্সফর্মাটিভ মানগুলি মেনে চলে না, তারা “সত্যিকারের ট্রান্সজেন্ডার” না হওয়ার কারণে অভিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকি রাখে, যার কারণে তারা অবশেষে ট্রান্সজেন্ডার আম্ব্রেলার নিচ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ট্রানসনর্মাটিভিটি প্রায়শই নন-বাইনারি ব্যক্তিদের পরিচয়কে ক্ষুণ্ন করে বলে সমালোচনা করা হয়েছে, বিশেষ করে তাদের জন্যে, যারা লিঙ্গের বাইনারি অর্থকে মূর্ত করে না-

“ট্রানসনর্মাটিভ আখ্যানগুলি তাদের প্রতিনিধিত্বমূলক ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ। ননবাইনারী লিঙ্গের প্রকৃতি, ট্রানসনর্মাটিভ বর্ণনা অনুযায়ী বৈধতার সংজ্ঞাকে অতিক্রম করে, যা একজনের পরিচয়কে খাঁটি এবং “বাস্তব” বলে “Affirm” করে। স্পেন্সার গ্যারিসন (২০১৮) [161] বিশেষভাবে নন-বাইনারি লিঙ্গের রেফারেন্স অনুযায়ী ট্রানসনর্মাটিভ বর্ণনামূলক উপাদানগুলি বিশ্লেষণ করে। তিনি যুক্তি দেন যে ট্রান্সরমেটিভ ন্যারেটিভ-এর trope-গুলি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ট্রান্স পরিচয়ের সত্যতা পরিমাপ করে বৈধ হিসাবে উপস্থাপনা করে – একজন ব্যক্তি “trans enough” কিনা – এই বলে যে, “একটি সর্বজনীন ট্রান্স পরিচয় দাবি করার জন্য, নন-বাইনারি উত্তরদাতারা প্রায়ই এমন অ্যাকাউন্টগুলি উপস্থাপন করতে অনুপ্রাণিত হয়, যা ট্রান্স অভিজ্ঞতার বিরাজমান বোঝাপড়াকে ঘনিষ্ঠভাবে প্রতিফলিত করে (যেমন, “ভুল শরীরে জন্মগ্রহণ করা” বর্ণনা), এমনকি তখন-ও, যখন এই অ্যাকাউন্টগুলি তাদের অভিজ্ঞতার সূক্ষ্মতা ধরতে ব্যর্থ হয়।” ট্রান্স অভিজ্ঞতার প্রচলিত বোঝাপড়া হল ট্রানসনর্মাটিভিটি; এবং নন-বাইনারী ট্রান্স আইডেন্টিটিগুলি বাইনারি লিঙ্গ মূর্তকরণ এবং ভূমিকার অবস্থানের শক্তভাবে বিপরীত। [162] আমরা যখন এটিকে চিনতে পারি, তখন আমরা এই বোঝাপড়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করি, [এবং এই বোঝাপড়া] কাদের কাছে বাধা সৃষ্টি করে এবং কেন।” [163]

নন-বাইনারি মানুষের প্রতি ট্রানসনর্মাটিভ প্রতিরোধের ফলস্বরূপ, ইতিমধ্যেই প্রান্তিক গোষ্ঠীর মানুষ আরও প্রান্তিক এবং বৈষম্যের শিকার হয়। এর ফলে নন-বাইনারি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

“নন-বাইনারী ব্যক্তিদের ক্রমাগত কাঠামো এবং তাদের আশেপাশের লোকেদের দ্বারা আলাদা করা হয় কারণ নন-বাইনারি লিঙ্গ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্কের উপায়ের মধ্যে “ফিট” করে না, এবং এইভাবে হেজিমোনিক এবং ট্রান্স-স্পেসিফিক আলোচনায় নন-বাইনারি লিঙ্গ পরিচয় প্রান্তিক হয়ে পড়ে। এই অস্থিরতার প্রভাব ক্ষতিকর হতে পারে: “যখন আমরা লিঙ্গকে এমনভাবে “করতে” অক্ষম, যা অন্যরা চিনতে পারে, তখন অন্যরা আমাদের performance-কে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। ফলস্বরূপ, আমরা আমাদের নিজস্ব সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতে আসতে পারি এবং ভাবতে পারি যে আমরা আসলেই সেই মানুষ কিনা যা আমরা নিজেদেরকে মনে করি।” [164] চিকিৎসাকরণ এবং ট্রানসনর্মাটিভিটির আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাবগুলি নন-বাইনারি লিঙ্গের বোধগম্যকে সমস্যাযুক্ত করে তুলে, এবং নন-বাইনারি ব্যক্তিদের অন্যদের এবং নিজেদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে।

নন-বাইনারি লিঙ্গের জন্য অনুমোদন না করার কারণে, ট্রানসনর্মাটিভ মতাদর্শ একটি সমষ্টিগত ট্রান্সজেন্ডার অভিজ্ঞতা থেকে নন-বাইনারি ব্যক্তিদের অবৈধ করে দিতে এবং বাদ দিয়ে দিতে পারে। গবেষণা এমন ব্যক্তিদের সনাক্ত করে যারা Clinical Psychology Studies-এ মানসিক অসুস্থতার একটি বর্ধিত ঝুঁকি রাখে, যেমন যেসব মানুষরা দুটি পরস্পরবিরোধী পরিচয় বিভাগকে বিভক্ত করে, যেমন “bisexuality” যা বিষমকামী এবং সমকামিতার সাথে সম্পর্কিত। [165] একই কারণে, ব্র্যাডফোর্ড এবং সৈয়দ [166] বলেছেন যে “নন-বাইনারি ব্যক্তিরা সামাজিক সাহায্য কম পাওয়ার জন্য বিশেষভাবে উচ্চ ঝুঁকি বহন করে,” যা “আত্মবিশ্বাস, এবং অন্যদের সাথে একজনের সম্পর্কের উপর আস্থার প্রতি নেতিবাচক প্রভাব”-এর আমন্ত্রণ জানায়।”” [167]

ট্রান্সজেন্ডারদের বৈষম্যের মুখোমুখির প্রেক্ষিতে, লিঙ্গ বৈচিত্র্যকে স্বাভাবিক করার জরুরি প্রয়োজন আছে। মানুষ হিসাবে আমাদের মধ্যে কোনো একটা জিনিসকে আদর্শে রূপান্তরিত করার প্রবণতা রয়েছে, যা আমরা স্বাভাবিক করার জন্য প্রচেষ্টা করছি। এর ফলে এমন একটি গোষ্ঠীর মধ্যে বর্জন ও বৈষম্যের একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি হয়, যারা ইতিমধ্যেই প্রথম স্থানে প্রান্তিক। আমরা ইন্টারসেকশনাল ট্রান্সফেমিনিজমের ধারণা থেকে শিখেছি যে, প্রতিটি প্রান্তিক গোষ্ঠীর স্বাধীনতা ছাড়া লিঙ্গ সমতা অসম্ভব। তাই, মানব স্বাধীনতার স্বার্থে, আমাদের ট্রানসনর্মাটিভিটি দিয়ে সিস্নরম্যাটিভিটি প্রতিস্থাপন করা উচিত নয়, কেননা তা বৈষম্যকে আরও শক্তিশালী করে তুলে। বরং, আমাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যারা আমাদের লিঙ্গগত পক্ষপাতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাদের বৈচিত্র্যকে স্বাভাবিক করার মাধ্যমে বৈষম্য না করার চেষ্টা করা উচিত। একটি ইন্টারসেকশনাল ট্রান্সফেমিনিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি রেখে; একটি নতুন “ট্রানসনর্মাটিভ” আধিপত্য তৈরি করার পরিবর্তে, সমস্ত ট্রান্সজেন্ডার এবং নন-বাইনারী লোকদের গ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা অর্জন করতে পারি। তবেই, লিঙ্গ বৈচিত্র্য সত্যিকার অর্থে স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হবে।

এমি কোয়ামা এবং ট্রান্সফেমিনিস্ট ম্যানিফেস্টো

কোয়ামার মৌলিক ম্যানিফেস্টো

২০০১ সালে, এমি কোয়ামা (Emi Koyama), একজন ইন্টারসেক্স, জেন্ডারকুয়ার এক্টিভিস্ট (যিনি একজন sex-worker/যৌনকর্মীও ছিলেন) “The Transfeminist Manifesto” শিরোনামের একটি প্রবন্ধে “ট্রান্সফেমিনিজম” ধারণার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এখানে, তিনি বর্ণনা করেছেন ট্রান্সফেমিনিজম কী, সেইসাথে এর উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য-

“ট্রান্সফেমিনিজম মূলত ট্রান্স নারীদের দ্বারা এবং ট্রান্স নারীদের জন্য একটি আন্দোলন, যারা তাদের নিজেদের মুক্তিকে সমস্ত নারীর মুক্তির সাথে অন্তর্নিহিতভাবে যুক্ত বলে মনে করে। এটি অন্যান্য Queer, ইন্টারসেক্স মানুষ, ট্রান্স পুরুষ, নন-ট্রান্স মহিলা, নন-ট্রান্স পুরুষ এবং অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত, যারা ট্রান্স মহিলার চাহিদার প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ট্রান্স মহিলাদের সাথে Alliance তাদের নিজেদের মুক্তির জন্য অপরিহার্য বলে মনে করে। ঐতিহাসিকভাবে, ট্রান্স পুরুষরা নারীবাদে ট্রান্স নারীদের চেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের মুক্তির জন্য আরও ট্রান্স নারীদের নারীবাদী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা অপরিহার্য।

ট্রান্সফেমিনিজম মানে বিদ্যমান নারীবাদী প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করা নয়। পরিবর্তে, এটি আমাদের নিজস্ব মুক্তি এবং অন্য সকলের সাথে জোটবদ্ধ কাজের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে নারীবাদকে প্রসারিত এবং অগ্রসর করা। এটি ট্রান্স এবং নন-ট্রান্স মহিলাদের জন্য একইভাবে দাঁড়ায় এবং নন-ট্রান্স নারীদেরকে বিনিময়ে ট্রান্স নারীদের জন্য দাঁড়াতে বলে। ট্রান্সফেমিনিজম নারীবাদী জোটের রাজনীতিকে মূর্ত করে যেখানে বিভিন্ন পটভূমির নারীরা একে অপরের পক্ষে দাঁড়ায় কারণ আমরা যদি একে অপরের পক্ষে না দাঁড়াই, কেউ দাঁড়াবে না।” [168]

সকল লিঙ্গের সমতা

অন্যান্য গবেষকরা ট্রান্সফেমিনিজম সম্পর্কে কোয়ামার ধারণার সমালোচনা করেছেন এবং জাতিগত পার্থক্যের পাশাপাশি নন-বাইনারি মানুষদের জন্য বিশেষভাবে একটি Intersectionality পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন, যা দেখায় যে সমস্ত নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের জন্য হিসাব না করে মুক্তি অর্জন করা অসম্বব-

“উপসংহারে, আমি কোয়ামার ট্রান্সফেমিনিজম-এর ধারণায় ফিরে যাব। এই গবেষণা, কোয়ামা এবং অন্যান্য ট্রান্সফেমিনিজম সাহিত্যের সাথে সারিবদ্ধ; এবং জোট গঠনের নামে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের মূলধারার নারীবাদী সক্রিয়তায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। আমার গবেষণা বিশেষ করে কোয়ামার আসল ট্রান্সফেমিনিস্ট ম্যানিফেস্টোর কিছু সমস্যার সমাধান করে — যেখানে কোয়ামার পেপারটি অতিমাত্রায় ট্রান্স নারীদের উপর ফোকাস করে এবং একটি ইন্টারসেকশনাল বিশ্লেষণকে অন্তর্ভুক্ত করেনি, আমার অধ্যয়ন এমন লোকদের অভিজ্ঞতার উপর জোর দেয় যারা নন-বাইনারি লিঙ্গ পরিচয় মূর্ত করে এবং একটি ইন্টারসেকশনাল বিশ্লেষণকে সংহত করে।[169] ট্রান্সফেমিনিজম সম্পর্কে কোয়ামার মূল ধারণার উপর ভিত্তি করে, আমি ট্রান্স নারীদের বাইরেও মানুষদের দাঁড়িয়ে উঠার আহ্বান জানাই- […] সকল প্রান্তিক মানুষের মধ্যে জোট-গঠনের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃত মুক্তি অর্জন করব।” [170]

ট্রান্সফেমিনিজম-এর ধারণা হলো যে ট্রান্সজেন্ডারদের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া নারীবাদ অসম্ভব, এবং ট্রান্সজেন্ডার স্বাধীনতা ছাড়া মানুষের স্বাধীনতা অসম্ভব। তাই যদি আমাদের লক্ষ্য হয় সকল লিঙ্গের স্বাধীনতা এবং সমতা, তাহলে আমাদের অবশ্যই একটি ট্রান্সফেমিনিস্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং আমাদের সামাজিক আলোচনায় কোনো লিঙ্গগত সংখ্যালঘুকে বাদ না দেওয়ার বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তার উপর দিয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেনো লিঙ্গ সমতা মতাদর্শের মধ্যে যেন কোন সংখ্যালঘু পরিচয় বঞ্চিত না হয়। কেননা, যেসব মানুষের পরিচয় কোনো ক্ষতি করছে না, তাদেরকে বঞ্চিত করা হলো সমতা-বিরোধী।

উপসংহার

এইভাবে লিঙ্গ পরিচয় হল একটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো যা সামাজিক এবং সেইসাথে একজন ব্যক্তির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত এবং গঠিত হয়; সেইসাথে বিভিন্ন সামাজিক বিভাগের পারস্পারিক যোগাযোগের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়, যা অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ নতুন বিভাগ সৃষ্টি করে। এই পরিচয় একজন ব্যক্তির যৌন অঙ্গ থেকে পৃথক। এই পরিচয়ের বিভিন্ন বিভাগে বৈচিত্র্য রয়েছে কারণ মানুষ বিভিন্নভাবে চিন্তা করে, নিজেদেরকে প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন উপায়ে আচরণ করে। লিঙ্গ পরিচয় গবেষণা আমাদের এই বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয়গুলিকে বাস্তবসম্মতভাবে পরীক্ষা করার জন্য একটি পদ্ধতি প্রদান করে, আমাদের দেখায় যে মানুষ এমনভাবে বিদ্যমান যে তারা লিঙ্গের আদর্শিক বাইনারিকে অতিক্রম করে। একই সময়ে, আমাদের অবশ্যই জীববিজ্ঞানের মধ্যে বৈচিত্র্য সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে- সেইসাথে বুঝতে হবে যে বৈচিত্র্যের মধ্যে কোনও খারাপ কিছু নেই (যতক্ষণ না সেটা কারোর ক্ষতি করছে), সেটা জৈবিক হোক বা মনস্তাত্ত্বিকই হোক না কেন।

তাহলে শেষ করা যাক জুডিথ বাটলার-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা দিয়ে-

কেন আমরা এই ধরনের তাত্ত্বিক প্রশ্ন নিয়ে নিজেদের উদ্বিগ্ন করব? এই কথা শোনার জন্য এমন কি কারণ আপনাদেরকে সুন্দর রৌদ্রোজ্জ্বল দিন থেকে এই অন্ধকার গুহায় নিয়ে এল? একটি কারণ হল যে- নারী, জেন্ডার-নন-কনফরমিং মানুষ, এবং যৌন সংখ্যালঘু যারা কাউকে আঘাত করে না, তাদেরকে যেভাবে নিয়মিত ভুল চেনা বা অচেনা হয়, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। যখন কেউ এমন একটি দেহ হিসাবে বাস করে যা ভুল স্বীকৃতি ভোগ করে; এমনকি অপমান বা হয়রানি, সাংস্কৃতিক কুসংস্কার, অর্থনৈতিক বৈষম্য, পুলিশি সহিংসতা বা মানসিক রোগবিদ্যার শিকার হতে হয়, তা বিশ্বে জীবনযাপনের একটি অ-অনুভূতির দিকে নিয়ে যায়। এটি ছায়ার মধ্যে বসবাসের একটি উপায়, একটি মানব বিষয় হিসাবে নয় কিন্তু একটি কল্পনা হিসাবে। অন্য কারোর কল্পনা। কিন্তু আপনি সেই কল্পনা হিসাবে বাস করছেন। তবে সামাজিক আন্দোলন- যেগুলো স্বীকৃতি এবং অধিকার দাবি করে, তাদের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, LGBTQ জনগোষ্ঠীর সম্প্রদায়গুলি ছায়া থেকে বেরিয়ে আসছে, তাদের জীবনকে দৃশ্যমান এবং শ্রবণযোগ্য করে তুলতে। তাদের জীবন, যার অধিকার অন্যদের মতো একই- ভালোবাসতে এবং হারাতে, উদযাপন এবং শোক করতে। অবশ্যই আমরা একটি সাধারণ বিশ্বে সামাজিক অংশগ্রহণকারী হিসাবে বিদ্যমান থাকার জন্য এই পৃথিবীতে স্বীকৃতি চাই। একই সময়ে, আমরা জানি এই পৃথিবীতে কোন নিখুঁত স্বীকৃতি নেই। এর মানে এই নয় যে আমরা স্বীকৃতির জন্য সংগ্রাম করা বন্ধ করে দিবো; শুধুমাত্র আমাদের বুঝতে হবে যে স্বীকৃতি হলো, একটি চলমান সংগ্রাম। আমরা শুধুমাত্র আমাদের পরিচয়ের জন্যে নয়, বরং আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার জন্য স্বীকৃতি চাই: আমাদের সমতা এবং স্বাধীনতার দাবি। ছায়া অঞ্চলে বসবাসকারী দেহগুলি কীভাবে একটি উজ্জ্বল আলোতে আবির্ভূত হয়; হয়তো সম্পূর্ণ আলোকসজ্জা নয়, কিন্তু তবুও, একটি উজ্জ্বল আলোতে? তারা এটি করতে পারবে আমি পরামর্শ দেব, একে অপরের সাথে একাত্মতার সাথে, বীর ব্যক্তি হিসাবে নয়।

টার্মগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ

ACHPR- African Commission on Human and People’s Rights
AFAB- Assigned Female At Birth
AMAB- Assigned Male At Birth
APA- American Psychological Association
BDD- Body Dysmorphic Disorder
COE- Council of Europe
DSD- Disorder of Sex Development
DSM- Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders
FGM- Female Genital Mutilation
GD- Gender Dysphoria
GID- Gender Identity Disorder
GIDC- Gender Identity Dirorder of Childhood
GIDAANT- Gender Identity Disorder of Adulthood or Adolescence, Nontranssexual Type
GIDNOS- Gender Identity Dirorder Not Otherwise Specified
IAHCR- Inter-American Commission on Human Rights
IGM- Intersex Genital Mutulation
ISNA- Intersex Society of North America
SGL- Same-Gender Loving
WPATH- World Professional Association for Transgender Health

তথ্যসূত্রঃ

  1. Youtube- Caller Wanted to Debate Gender but Hangs Up on Matt |Khaleed-TN| The HangUp with Matt Dillahunty, Nov 8 2021[]
  2. Beauvoir (1949) The Second Sex[]
  3. Butler, J. (1989). p.vii, Gender Trouble: Feminism and the Subversion of Identity. Routledge.[]
  4. Butler, J. (1989). p.6, Gender Trouble: Feminism and the Subversion of Identity. Chapter- Subversive Bodily Acts, Routledge.[]
  5. Butler, J. (1989). p.179, Gender Trouble: Feminism and the Subversion of Identity. Chapter- Subversive Bodily Acts, Routledge.[]
  6. Venkataramu, V. N., & Banerjee, D. (2021). p.125, Gender Dysphoria in Psychiatric Practice: Understanding the Clinical Ambiguity and Management. Journal of Psychosexual Health, 3(2), 124–132.[][]
  7. Butler, J. (1993). p.12-13, Bodies that matter: On the discursive limits of “sex.” Routledge.[]
  8. Butler, J. (1993). p.x, Bodies that matter: On the discursive limits of “sex.” Routledge.[]
  9. Butler, J. (1993). p.95, Bodies that matter: On the discursive limits of “sex.” Routledge.[]
  10. Butler, J. (1993). p.15, Bodies that matter: On the discursive limits of “sex.” Routledge.[]
  11. Butler, J. (1988). p.521 Performative Acts and Gender Constitution: An Essay in Phenomenology and Feminist Theory. Theatre Journal, 40(4), 519.[]
  12. YouTube- Judith Butler: “Why Bodies Matter”- Gender Trouble |Full Conference, uploaded by Lbtavares Tavares, on September 30, 2016[][]
  13. Serano, 2013[]
  14. Serano 2013, p. 117[]
  15. Serano 2013 p. 119[]
  16. West & Zimmerman, 1987[]
  17. Serano 2013 p. 81[]
  18. Johnson, A. H. (2015). p.27-28, Beyond Inclusion: Thinking Toward a Transfeminist Methodology. In V. Demos & M. Texler Segal (Eds.), Advances in Gender Research (Vol. 20, pp. 21–41). Emerald Group Publishing Limited.[]
  19. Ländström, S. (2016). p.11, FIN DE MILLENNIUM, FIN DE BINAIRE. Analysing Queerness in Virginia Woolf’s Orlando.[]
  20. Serano 2007[]
  21. Catalpa, J., & McGuire, J. K. (2020). p.48, Mirror epiphany: Transperson’s use of dress to create and sustain their affirmed gender identities. Crossing Boundaries: Fashion to Deconstruct and Reimagine Gender, 47-59.[]
  22. Bem 1981, p.354 Bem, S. L. (1981). Gender schema theory: A cognitive account of sex typing. Psychological Review, 88(4), 354–364[][]
  23. Wood & Eagly 2015, p.462-463 Wood, W., & Eagly, A. H. (2015). Two Traditions of Research on Gender Identity. Sex Roles, 73(11–12), 461–473[]
  24. e.g., Bem and Lenney 1976, Wood & Eagly 2015, p. 463 Wood, W., & Eagly, A. H. (2015). Two Traditions of Research on Gender Identity. Sex Roles, 73(11–12), 461–473.[]
  25. Bem 1981, p.355 Bem, S. L. (1981). Gender schema theory: A cognitive account of sex typing. Psychological Review, 88(4), 354–364[][]
  26. Schmader & Block 2015 Schmader, T., & Block, K. (2015). Engendering Identity: Toward a Clearer Conceptualization of Gender as a Social Identity. Sex Roles, 73(11–12), 474–480.[][][]
  27. Tate 2014, p.7 Tate, C. (2014). GENDER IDENTITY AS A PERSONALITY PROCESS. 23.[]
  28. Bem 1974, p-156 Bem, S. L. (1974.). THE MEASUREMENT OF PSYCHOLOGICAL ANDROGYNY. 9.[]
  29. Bem 1974, p-156-157 Bem, S. L. (1974.). THE MEASUREMENT OF PSYCHOLOGICAL ANDROGYNY. 9.[]
  30. Oxford Learner’s Dictionaries, Stereotype[]
  31. Alexis J. Strazds (2018), p.7 The Psychological Study of Gender: Moving Beyond The Binary, York University, Master’s Thesis[]
  32. দেখুন Ashmore et al. 2004[]
  33. Wood & Eagly 2015, p.464 Wood, W., & Eagly, A. H. (2015). Two Traditions of Research on Gender Identity. Sex Roles, 73(11–12), 461–473[]
  34. Wood & Eagly 2015, p.464 Wood, W., & Eagly, A. H. (2015). Two Traditions of Research on Gender Identity. Sex Roles, 73(11–12), 461–473.[]
  35. Diekman and Eagly 2000, Shmader & Block 2015, p.476 Schmader, T., & Block, K. (2015). Engendering Identity: Toward a Clearer Conceptualization of Gender as a Social Identity. Sex Roles, 73(11–12), 474–480.[]
  36. Lapchick et al. 2013; Morenoff 2005; Steele 2003[]
  37. Schmader & Block 2015, p.476 Schmader, T., & Block, K. (2015). Engendering Identity: Toward a Clearer Conceptualization of Gender as a Social Identity. Sex Roles, 73(11–12), 474–480.[]
  38. Schmader & Block 2015, p.476 Schmader, T., & Block, K. (2015). Engendering Identity: Toward a Clearer Conceptualization of Gender as a Social Identity. Sex Roles, 73(11–12), 474–480[]
  39. Schamder & Block 2015 p.479 Schmader, T., & Block, K. (2015). Engendering Identity: Toward a Clearer Conceptualization of Gender as a Social Identity. Sex Roles, 73(11–12), 474–480.[]
  40. Tate 2014, p.15 Tate, C. (2014). GENDER IDENTITY AS A PERSONALITY PROCESS. 23.[]
  41. Tate 2014, p.18 Tate, C. (2014). GENDER IDENTITY AS A PERSONALITY PROCESS. 23.[]
  42. Tate 2014, p.14 Tate, C. (2014). GENDER IDENTITY AS A PERSONALITY PROCESS. 23.[]
  43. Ashley 2021, p.33 Ashley, F. (2021). ‘X’ Why? Gender Markers and Non-binary Transgender People. In I. C. Jaramillo & L. Carlson (Eds.), Trans Rights and Wrongs (Vol. 54, pp. 33–48). Springer International Publishing.[]
  44. Eli R. Green, Luca Maurer (2015) The Teaching Transgender Toolkit- A FACILITATOR’S GUIDE TO INCREASING KNOWLEDGE, DECREASING PREJUDICE & BUILDING SKILLS[][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][]
  45. Nagoshi et al, 2012, p.406 Nagoshi, J. L., Brzuzy, S., & Terrell, H. K. (2012). Deconstructing the complex perceptions of gender roles, gender identity, and sexual orientation among transgender individuals. Feminism & Psychology, 22(4), 405–422.[]
  46. Aleksandrovna 2021, p.5 Aleksandrovna, T. A. (2021). THE GENDER IDENTITY OF GIRLS AS A FACTOR IN THEIR PSYCHOLOGICAL WELL-BEING. 9(4), 10.[]
  47. Jenkins 2016: 410 Toward An Account Of Gender Identity, p.730[]
  48. Chris Drew, PhD 81 Types of Gender Identities, helpfulprofessor[][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][][]
  49. Frohard-Dourlent et al., 2017; van Anders, Caverly, & Johns, 2014, Lindqvist et al 2020, p.334 Lindqvist, A., Sendén, M. G., & Renström, E. A. (2021). What is gender, anyway: A review of the options for operationalising gender. Psychology & Sexuality, 12(4), 332–344.[]
  50. Thanem, 2011[]
  51. Lindqvist et al 2020, p.334 Lindqvist, A., Sendén, M. G., & Renström, E. A. (2021). What is gender, anyway: A review of the options for operationalising gender. Psychology & Sexuality, 12(4), 332–344.[][]
  52. Meier & Labuski, (2013); Sadrach Cose (2015) Sexuality Definitions, p.7[]
  53. Kupper 2021, p.28-29 Kupper, C. E. (2021). Non-Binary Identities: How Non-Binary People Move Through A Gendered World. 77.[]
  54. Kupper 2021, p.29 Kupper, C. E. (2021). Non-Binary Identities: How Non-Binary People Move Through A Gendered World. 77.[]
  55. Kupper 2021, p.30 Kupper, C. E. (2021). Non-Binary Identities: How Non-Binary People Move Through A Gendered World. 77.[][][]
  56. Kupper 2021, p.30-31 Kupper, C. E. (2021). Non-Binary Identities: How Non-Binary People Move Through A Gendered World. 77.[]
  57. Kupper 2021, p.31 Kupper, C. E. (2021). Non-Binary Identities: How Non-Binary People Move Through A Gendered World. 77.[]
  58. Bem 1974 Bem, S. L. (1974.). THE MEASUREMENT OF PSYCHOLOGICAL ANDROGYNY. 9.[]
  59. Jenkins 2016: 410 Toward An Account Of Gender Identity, p.736[]
  60. Jenkins 2016: 410 Toward An Account Of Gender Identity, p.725[]
  61. Non-Binary Wiki- Cisgender[][][][][][]
  62. Peter Cava (2016) Cisgender and Cissexual, p.2[][]
  63. Peter Cava (2016) Cisgender and Cissexual, p.1-2[]
  64. Bauer et al. 2009: 356[]
  65. Baril, A., & Trevenen, K. (2014). p.391 EXPLORING ABLEISM AND CISNORMATIVITY IN THE CONCEPTUALIZATION OF IDENTITY AND SEXUALITY “DISORDERS.” 29.[]
  66. Peter Cava (2016) Cisgender and Cissexuality[]
  67. Zuberi & Bonilla-Silva, 2008[]
  68. Johnson, A. H. (2015). p.26-27, Beyond Inclusion: Thinking Toward a Transfeminist Methodology. In V. Demos & M. Texler Segal (Eds.), Advances in Gender Research (Vol. 20, pp. 21–41). Emerald Group Publishing Limited.[]
  69. Translated from Oxford Languages, “Dichotomy”[]
  70. Translated from Oxford Languages “Dichotomize”[]
  71. Wikipedia- Dichotomy[]
  72. Iantaffi & Bockting 2011, “Views from both sides of the bridge? Gender, sexual legitimacy, and transgender people’s experiences of relationships” p.2-3[]
  73. Rubin 1984[]
  74. Iantaffi & Bockting 2011, “Views from both sides of the bridge? Gender, sexual legitimacy, and transgender people’s experiences of relationships” p.10[]
  75. Iantaffi & Bockting 2011, “Views from both sides of the bridge? Gender, sexual legitimacy, and transgender people’s experiences of relationships” p.1[]
  76. Bornstein 1994; Fausto-Sterling 1993, 2000; Feinberg 1996[]
  77. Bornstein 1994; Feinberg 1996; Roen 2002[]
  78. American Psychiatric Association 1980[]
  79. Diamond & Butterworth 2008 “Questioning Gender and Sexual Identity: Dynamic links over time[]
  80. Collins 2000; Crenshaw 1991; Stewart and McDermott 2004[]
  81. Stewart and McDermott 2004[]
  82. Collins 2000[]
  83. Crenshaw 1991[]
  84. Diamond & Butterworth 2008 “Questioning Gender and Sexual Identity: Dynamic links over time, The Relevance of Intersectionality[]
  85. Devor 1997; Prosser 1998[]
  86. Henton 2006; Lawrence 2003, 2007; Sperber et al. 2005[]
  87. Diamond & Butterworth 2008 “Questioning Gender and Sexual Identity: Dynamic links over time” Chapter- Multiplicity of Female and Male Identification[]
  88. Kamden K. Strunk & Leslie Ann Locke, (2019) Research Methods for Social Justice and Equity in Education, p.298[]
  89. Lane, R. (2009). Trans as Bodily Becoming: Rethinking the Biological as Diversity, Not Dichotomy. Hypatia, 24(3) []
  90. Davis 2009, SITUATING “FLUIDITY” (Trans) Gender Identification and the Regulation of Gender Diversity, p.99[]
  91. Bray 2015, p.427 Gender Dysphoria, Body Dysmorphia, and the Problem of Body Modification, Journal of Speculative Philosophy[][]
  92. Veale, 2004, p.67 Body Dysmorphic Disorder, Postgrad Med J 2004; 80:67-71 []
  93. Murphy-Hollies 2021, p.10-11 When a Hybrid Account of Disorder is not enough: The Case of Gender Dysphoria, European Journal of Analytic Philosophy[]
  94. Zucker 2017, Epidemiology of Gender Dysphoria and Transgender Identity, Department of Psychiatry, University of Toronto, Kraus 2015, p.1147; Classifying Intersex in DSM-5: Critical Reflections on Gender Dysphoria[]
  95. Schulz 2018 p.76, The Informed Consent Model of Transgender Care: An Alternative to the Diagnosis of Gender Dysphoria[]
  96. Ashley 2021, p.1159-1160 The Misuse of Gender Dysphoria: Towards Greater Conceptual Clarity in Transgender Health[]
  97. Ashley 2021, p.1160 The Misuse of Gender Dysphoria: Towards Greater Conceptual Clarity in Transgender Health[][]
  98. Swann, P., Swann, T., & Walsh, R. (2021). Freedom to think should not mean freedom from evidence and experience. BJPsych Bulletin, 45(5) []
  99. Byne et al, 2017 Gender Dysphoria in Adults: An Overview and Primer for Psychiatrists, p.65[]
  100. G. Prasad Rao, B. Aparna 2017 p.802 A Case Report of Gender Dysphoria with Morbid Jealousy in a Natal Female, Indian Psychiatric Society[]
  101. Murphy-Hollies 2021, p.11 When a Hybrid Account of Disorder is not enough: The Case of Gender Dysphoria, European Journal of Analytic Philosophy[]
  102. Marecek and Hare-Mustin 2009[]
  103. American Psychiatric Association 2013, 1[]
  104. Newman 2002; Ault and Brzuzy 2009[]
  105. American Psychiatric Association 2013[]
  106. Ault and Brzuzy 2009, 187[]
  107. e.g., Butler 1999; Brustow 2005; Marecek and Hare-Mustin 2009; Lafrance and McKenzie-Mohr 2013[]
  108. Duffy et al. 2002, 372[]
  109. Caplan 2008, 63[]
  110. British Psychological Society 2011, 2[]
  111. British Psychological Society 2011, []
  112. Tamara Kayali Browne, 2014, p.3-5 Is Premenstrual Dysphoric Disorder Really a Disorder? Journal of Bioethical Inquiry[]
  113. M. Paz Galupo, Lex Pulice-Farrow, and Emerson Pehl “There Is Nothing to Do About It”: Nonbinary Individuals’ Experience of Gender Dysphoria, Transgender Health 2021 6:2, 101-110, p.8-14 []
  114. Baril, A., & Trevenen, K. (2014). p.225, EXPLORING ABLEISM AND CISNORMATIVITY IN THE CONCEPTUALIZATION OF IDENTITY AND SEXUALITY “DISORDERS.” 29[]
  115. Dhejne et al., 2016; Keo-Meier et al., 2015; Olson et al., 2015; White Hughto & Reisner, 2016[]
  116. Keo-Meier et al., 2015[]
  117. Poudrier et al., 2019[]
  118. Nguyen et al. 2018[]
  119. Austin & Craig, 2015; Galupo et al., 2020[]
  120. Russel et al. 2018[]
  121. Austin, A., Papciak, R., & Lovins, L. (2022). p.2, Gender euphoria: A grounded theory exploration of experiencing gender affirmation. Psychology & Sexuality, 1–21[]
  122. Ashley & Ells 2018[]
  123. Bradford et al., 2019[][]
  124. Lambrou et al., 2020[]
  125. Erickson-Schroth, 2014; Galupo et al., 2020; Pulice-Farrow et al., 2019[]
  126. Cosgrove et al., 2021[]
  127. Newman 2018[]
  128. Ashley, 2019[]
  129. Beischel, W. J., Gauvin, S. E. M., & van Anders, S. M. (2021). p.2-3, “A little shiny gender breakthrough”: Community understandings of gender euphoria. International Journal of Transgender Health, 1–21[]
  130. Cynthia Kraus (2015) Classifying Intersex in DSM-5: Critical Reflections on Gender Dysphoria, p.1150[]
  131. APA, 1994, p. 548, 2000, p. 579[]
  132. Cynthia Kraus (2015) Classifying Intersex in DSM-5: Critical Reflections on Gender Dysphoria, p.1147-1148[]
  133. Hughes et al., 2006; Lee et al., 2006; David Andrew Griffiths (2018) Shifting Syndromes: Sex Chromosome Variations and Intersex Classifications, p.126[]
  134. Morgan Carpenter (2016) The human rights of intersex people: addressing harmful practices and rhetoric of change, Reproductive Health Matters, 24:47, 74-84, p.77[]
  135. Clune-Taylor, 2010; Davis, 2014; Holmes, 2011; Reis, 2007; Topp, 2013[]
  136. Clune-Taylor, 2010[]
  137. Diamond & Beh, 2006[]
  138. Simmonds, 2007[]
  139. Reis, 2007[]
  140. Tamar-Mattis, Baratz, Baratz Dalke, & Karkazis, 2014; Topp, 2013[]
  141. Liao & Simmonds, 2014; Kon, 2015; Koyama, 2006; Reis, 2007; Tove Lundberg (2017) Knowing Bodies: Making Sense Of Intersex/DSD a decade post-consensus, PhD Dissertation, Department of Psychology, University of Oslo[]
  142. David Andrew Griffiths (2018) Shifting Syndromes: Sex Chromosome Variations and Intersex Classifications, p.125[]
  143. Morgan Carpenter (2016) The human rights of intersex people: addressing harmful practices and rhetoric of change, Reproductive Health Matters, 24:47, 74-84, p.74[]
  144. Van der Have, 2016[]
  145. Bowker & Star, 1999[]
  146. Griffiths (2018) Shifting Syndromes: Sex Chromosome Variations and Intersex Classifications, p.143[]
  147. Markus Bauer, Daniela Truffer & Daniela Crocetti (2020) Intersex human rights, The International Journal of Human Rights, 24:6, p.4-5[]
  148. Markus Bauer, Daniela Truffer & Daniela Crocetti (2020) Intersex human rights, The International Journal of Human Rights, 24:6, p.9[]
  149. Markus Bauer, Daniela Truffer & Daniela Crocetti (2020) Intersex human rights, The International Journal of Human Rights, 24:6, p.10[][][]
  150. Boldly Go, 2013[]
  151. Butler, 2006[][]
  152. Spade, 2006[]
  153. Catalano 2015[]
  154. Jourian et al. 2015[]
  155. Nicolazzo, Z. (2016). p.3, ‘It’s a hard line to walk’: Black non-binary trans* collegians’ perspectives on passing, realness, and trans*-normativity. International Journal of Qualitative Studies in Education, 29(9), 1173–1188.[]
  156. Johnson, A. (2016). p.3, Transnormativity: A New Concept and Its Validation through Documentary Film About Transgender Men. Sociological Inquiry, 86.[]
  157. Latham, 2019; Vipond, 2015[]
  158. Latham, 2019[]
  159. Riggs, D. W., Pearce, R., Pfeffer, C. A., Hines, S., White, F., & Ruspini, E. (2019). p.3-4, Transnormativity in the psy disciplines: Constructing pathology in the Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders and Standards of Care. American Psychologist, 74(8), 912–924.[]
  160. Gagne and Tewksbury 1998, 1999; Gagne, Tewksbury, and McGaughey 1997; Schrock 1996; Schrock, Holden, and Reid 2004; Schwalbe and Schrock 1996; Johnson, A. (2016). p.3, Transnormativity: A New Concept and Its Validation through Documentary Film About Transgender Men. Sociological Inquiry, 86.[]
  161. Garrison 2018[]
  162. Bradford and Syed 2019, 323[]
  163. LaValley, M. (2021). p.35-36, From Transnormativity to Self-Authenticity: Shifting Away from a Dysphoria Centric Paradigm for Transgender Identity. 98.[]
  164. Garrison 2018, 618[]
  165. Tatum et al. 2020[]
  166. Bradford and Syed 2019, 321; Garrison 2018, 618[]
  167. LaValley, M. (2021). p.38-39, From Transnormativity to Self-Authenticity: Shifting Away from a Dysphoria Centric Paradigm for Transgender Identity. 98.[]
  168. Koyama, E. (2020). The Transfeminist Manifesto. In C. McCann, S. Kim, & E. Ergun (Eds.), Feminist Theory Reader (5th ed., pp. 83–90). Routledge.[]
  169. Koyama, 2003:258[]
  170. Sarfaty, A. N. (2016). p.51, Not trans enough: The intersections of whiteness and nonbinary gender identity. Boulder: University of Colorado.[]
Subaltern 42

Subaltern

With patience and saliva the ant swallowed the elephant.

Leave a Reply

%d bloggers like this: