সাফিয়্যাকে নবীর গালাগালির কারণ

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

যেকোন বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে নানা ধরণের মনোমালিন্য হবে, কথা কাটাকাটি হবে, ঝগড়া হবে, এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। একসাথে দুইজন মানুষ থাকলে নানা সময় দুইজনার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে, রাগারাগি হতে পারে। বিরক্ত হলে বা রাগ করলে একজন আরেকজনার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলতে পারে, খারাপ ভাষা ব্যবহার করতে পারে, এগুলোও খুবই স্বাভাবিক বিষয়। স্বামী স্ত্রী কতটা ঝগড়া করছে বা কে কাকে কী বলছে তা নিয়ে তৃতীয় কোন ব্যক্তির নাক গলানো উচিত নয়। তবে এগুলো সবই সাধারণ মানুষের জন্য। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে কেউ যদি নিজেই নিজেকে দাবী করে, এবং নিজেই নিজেকে সকল মানুষের জন্য অনুকরণীয় অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে প্রচার করে, তাদের মধ্যে যদি এমন কিছু পাওয়া যায়, যা অনৈতিক বা অন্যায়, একইসাথে তার জীবনের কর্মকাণ্ড যদি কোন আইনের উৎস বলে বিবেচিত হয়, তাহলে সেগুলো আর ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না। তারা যদি কোন মানুষকে কোন শারীরিক ত্রুটির জন্য গালি দেয়, অসুস্থতা নিয়ে কটাক্ষ করে, তখন আর তা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। বিশেষ করে এই ধরণের বিষয়াদি যদি অন্য মানুষের জন্য শিক্ষনীয় হয়, তাহলে এই শিক্ষা খুবই ভয়ঙ্কর শিক্ষা হিসেবে গণ্য হবে। এই লেখাটির উদ্দেশ্য এটিই যে, নবী মুহাম্মদের জীবনে আরো অনেকগুলো বাজে ঘটনার সাথে এই ধরণের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ও জড়িত আছে, সেটি সকলের কাছে প্রকাশ করা।

মূল ঘটনা

আমাদের কাছে এই ঘটনাটি সম্পর্কে যেসকল বর্ণনা আছে, সেগুলো সবই একপাক্ষিকভাবে মুসলিমদের লিখিত, যারা নবীকে অন্ধভাবেই বিশ্বাস করতেন। নবীকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা মুসলিমরা নিশ্চয়ই নবীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এরকম কোন বর্ণনা তাদের গ্রন্থে রাখবেন না। যেহেতু এই বিষয়ে বিরোধী পক্ষের কোন কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না, তাই মুসলিমদের তৈরি বর্ণনা থেকেই আমাদের অন্যান্য সম্ভাবনাগুলো নিরপেক্ষ যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে খুব সুক্ষ্মভাবে যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। একটি হাদিস থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদ একবার তার স্ত্রী সাফিয়্যাকে বিরক্ত হয়ে বন্ধ্যা ও নেড়ি বলে গালাগালি করেছিল। এই গালাগালিগুলো একজন প্রেমিক স্বামীর স্বাভাবিক আদুরে কথা নাকি অত্যন্ত অমর্যাদাকর কটুক্তি, অবমাননা এবং অসম্মান, তা নিয়েই আজকের আলোচনা। সেই সাথে, এই গালিগুলো কেন দেয়া হয়েছিল, সেটিও আমরা পাঠকের কাছে তুলে ধরবো। আশাকরি পাঠকগণ যৌক্তিক মন দিয়ে লেখাটি পড়বেন এবং তথ্যসূত্রগুলো যাচাই করে দেখবেন। আমরা এই লেখাটিতে প্রমাণ করবো, সেই সময়ে নবী মুহাম্মদ মদিনা থেকে মক্কায় হজ্বে গিয়েছিলেন তার স্ত্রীদের সাথে নিয়ে। প্রথমে সঙ্গমের উদ্দেশ্যে নবী গেলেন তার শিশু স্ত্রী আয়িশার কাছে। দেখা গেল, আয়িশা হায়েজ বা ঋতুবতী অবস্থায় আছে। অর্থাৎ আয়িশার পিরিয়ড হয়েছে। যার কারণে নবী তার সাথে যৌনকর্ম করতে পারলেন না। এরপরে তিনি অনেক আশা নিয়ে গেলেন স্ত্রী সাফিয়্যার কাছে। কিন্তু দেখা গেল, সাফিয়্যাও হায়েজ অবস্থায় আছে। বিবরণগুলো পড়লে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, সেক্স করার আশা নিয়ে এই বিবির ঘরে এসে এখানেও হায়েজ বা পিরিয়ডের কারণে সেক্স করতে না পারার হতাশায় নবী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত হয়ে সাফিয়্যাকে সেইদিন এই অশ্লীল এবং অমর্যাদাকর গালিগুলো দিয়েছিলেন। চিন্তা করে দেখুন তো, একজনার একাধিক স্ত্রী, স্বামী একে একে দুই স্ত্রীর কাছে গিয়েই দেখেন পিরিয়ড চলছে! যৌনকর্ম করতে না পারার হতাশায় ভাদ্রমাসের কুকুরের মত স্বামীর মেজাজ তখন গরম এবং সে এক স্ত্রীকে গালি দিচ্ছে! বড়ই বিব্রতকর এবং নির্লজ্জ এই ঘটনা! এ থেকেই নবীর চরিত্র সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা পাওয়া যায়। আসুন সেই আলোচনাতে প্রবেশ করি। এই লেখাতে আমরা এগুলোই প্রমাণ করবো।

পুরো বিষয়টি আলোচনার পূর্বে আমাদের জেনে নেয়া প্রয়োজন যে, যে সমস্ত পরিবারের স্বামীগণ দুই বা একাধিক বিবাহ করেন, তাদের স্ত্রীদের মধ্যে অনেক সময়ই স্ত্রীদের বংশ মর্যাদা এবং পিতার ওপর ভিত্তি করে সেই সংসারে স্ত্রীদের গুরুত্ব এবং সম্মান নির্ধারিত হয়। ধরুন, কলিমুদ্দীনের দুই স্ত্রী। একজন স্ত্রীর পিতা একজন রিকশাচালক, আরেকজন স্ত্রীর পিতা একজন এমপি। সাধারণত দেখা যায়, এই দুই স্ত্রীর মধ্যে সামাজিকভাবেই যার পিতা এমপি সেই বেশি সম্মান পায়। পরিবারের নানাবিধ গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রেও ঐ স্ত্রীকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। এরকমই হয় এবং এরকম হওয়াটি সাধারণ মানুষের জীবনে অবাক হওয়ার মত কোন বিষয় নয়। নবী মুহাম্মদের স্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনাই যে ঘটেছিল, তার খুব পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া যায়। হযরত আবু বকর ছিলেন একজন ধনী ব্যক্তি এবং নবীর খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার কন্যা ছিলেন আয়িশা[1]। আবার, উমর ছিলেন নবীর আরেকজন কাছের মানুষ, যার ওপর নবী খুব বেশিই ভরসা করতেন। উমরের কন্যা ছিলেন হাফসা। এই দুইজনই ছিলেন নবীর স্ত্রী। অন্যদিকে ছিলেন সাফিয়্যা, যিনি একজন ইহুদির কন্যা এবং যুদ্ধবন্দী হিসেবে নবীর অধিকারে এসেছিলেন। তার পিতা এবং স্বামী দুইজনকেই নবী মুহাম্মদের সৈন্যবাহিনী হত্যা করে তাকে গনিমতের মাল হিসেবে তুলে আনেন। এসব কারণে সাফিয়্যা স্বাভাবিকভাবেই আয়িশা ও হাফসার থেকে সামাজিকভাবে কম সম্মানিত ছিলেন বলেই বোঝা যায়। এই বিষয়টি আসলেই সত্য কিনা, তা পর্যালোচনা করে দেখাও এই লেখাটির একটি উদ্দেশ্য।

বন্ধ্যা কাকে বলে

প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী যদি কোনো প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বা কৌশল ছাড়া জন্মদানে সক্ষম এমন পুরুষের সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে যৌনমিলনের পরও গর্ভবতী না হন তবে সেই নারীকে বন্ধ্যা এবং এই অবস্থাকে বন্ধ্যত্ব বলা হয়। নানা ধরণের শারীরিক অসুস্থতা এর কারণ হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে কিছু দুর্ঘটনাতেও এরকম হতে পারে। এই শব্দগুলো আমাদের সমাজে অত্যন্ত অবমাননাকর বলে বিবেচিত হয়, কারণ আমাদের সমাজে নারীকে একটি বাচ্চা জন্মদানের মেশিন বলেই গণ্য করা হয়। রক্ষণশীল সমাজের প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, একজন নারীর সবচাইতে গুরুত্বপুর্ণ কাজই হচ্ছে বাচ্চা জন্মদান। তাই বাচ্চা জন্ম দিতে না পারলে তার নারীত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়, এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় বা তাচ্ছিল্য করা হয়। অনেকসময় স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনার কাছ থেকে নানান কটূ কথা, এমনকি মারধোর পর্যন্ত সহ্য করতে হয়। এরকম কিছু শব্দ, বাক্য বা প্রবাদ ও প্রবচন রয়েছে, যেগুলো দিয়ে নারীর কর্মদক্ষতা বা যোগ্যতাকে খাটো করা হয়। যেসব সমাজে নারীরা পিছিয়ে থাকে, সে সব সমাজে এই ধরণের শব্দ নারীর জন্য সবচাইতে অসম্মানজনক গালি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।

সাফিয়্যা কে ছিলেন

সাফিয়্যা ছিলেন ইহুদি নেতা হুয়াই ইবন আখতাবের কন্যা। যিনি নবীর কঠোর সমালোচক ছিলেন এবং নবী সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ করেছিলেন। সেটি জানা যায় আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া থেকে [2]

মুহাম্মদ ইবন সা’দ… আফরার মওলা উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর একাধিক সহধর্মিণী দেখে লোকজনকে বলল, “তোমরা এ লোকটির প্রতি লক্ষ্য কর, সে আহারে পরিতৃপ্ত হয় না; আল্লাহর কসম সে নারী ছাড়া কিছু বুঝে না।” সমাজে তাঁর একাধিক সহধর্মিণী থাকায় তারা তার প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে এবং তাঁর প্রতি দোষারোপ করে। তাদের মন্তব্য হল, যদি ইনি নবী হতেন, তাহলে নারীদের প্রতি এতো লিপ্সা থাকতো না। এ কুৎসা রটনায় সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে হুয়াই ইবন আখতার।

সাফিয়্যা 2

ইহুদি নেতা হুয়াই ইবন আখতাব নবী সম্পর্কে যেসমস্ত মন্তব্য করেছিল, সেগুলো আদৌ সত্য নাকি হুয়াই ইবনে আখতাব বানিয়ে বানিয়ে বলেছিল, আসুন সেগুলো একটু যাচাই করে দেখা যাক। পাঠক নিচের হাদিসটি লক্ষ্য করুন, এই হাদিস থেকে এটি স্পষ্ট যে, নবী মুহাম্মদকে দাওয়াত দিয়ে খাইয়ে সুবিধা করা যেতো না। কারণ তিনি বারবার আরো মাংস চাইতেন। একটি বকরীর পায়ে সাধারণত এক কেজির ওপর মাংস থাকে। বকরীর দুইটি পা খাওয়ার পরেও নবী আরো মাংস চাচ্ছিলেন, এর থেকে বোঝা যায়, নবীকে আহার করিয়ে পরিতৃপ্ত করা খুবই কঠিন কাজ ছিল। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে এদেরকে বলে হাভাইত্তা লোক। মাগনা খাবারের গন্ধ পেলে হাতিও খেয়ে সাবাড় করে দিতে পারে এরা [3]

সহীহ শামায়েলে তিরমিযী
২৬. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তরকারীর বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ
১২৬. আবু উবায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য এক ডেগ গোশত রান্না করলাম। তিনি বকরীর সামনের উরুর গোশত অধিক পছন্দ করতেন। তাই আমি তাকে সামনের একটি পা দিলাম। তারপর তিনি বললেন, আমাকে সামনের আরেকটি পা দাও। তখন আমি তাকে সামনের আরেকটি পা দিলাম। তারপর তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে সামনের আরেকটি পা দাও। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বকরীর সামনের পা কয়টি থাকে? তিনি বললেন, সে মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন! যদি তুমি চুপ থাকতে তাহলে আমি যতক্ষণ সামনের পা চাইতাম, ততক্ষণ তুমি দিতে পারতে।[1]
[1] মুজামুল কাবীর, হা/১৮২৮৬; মুসনাদে বাযযার, হা/৮৩৪৫।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এবারে আসুন কয়েকটি হাদিস পড়ি। এই হাদিসগুলো থেকে জানা যায় যে, নবী মুহাম্মদ একই রাতে বা দিনে পর্যায়ক্রমে ১১ জন স্ত্রীর সাথে লাগাতার সেক্স ম্যারাথন চালাতেন। একজন যৌনকাজে তৃপ্ত হলে তার ১১ জনার সাথে যৌন কর্ম করার দরকার হয় না। এ থেকে বোঝা যায়, যৌনকর্মেও নবী পরিতৃপ্ত হতেন না। বর্তমান সময়ের বিখ্যাত পর্নস্টার জনি সিন্সও এই হাদিসগুলো পড়লে লজ্জা পেয়ে যাবে [4] [5] [6]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৫/ গোসল
পরিচ্ছেদঃ ৫/১২. একাধিকবার বা একাধিক স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হবার পর একবার গোসল করা।
২৬৮. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণের নিকট দিনের বা রাতের কোন এক সময়ে পর্যায়ক্রমে মিলিত হতেন। তাঁরা ছিলেন এগারজন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি এত শক্তি রাখতেন? তিনি বললেন, আমরা পরস্পর বলাবলি করতাম যে, তাঁকে ত্রিশজনের শক্তি দেয়া হয়েছে। সা‘ঈদ (রহ.) ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন, আনাস (রাযি.) তাঁদের নিকট হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে (এগারজনের স্থলে) নয়জন স্ত্রীর কথা বলেছেন। (২৮৪, ৫০৬৮, ৫২১৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সুনানে ইবনে মাজাহ
১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
পরিচ্ছেদঃ ১/১০১. যে ব্যক্তি সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর একবার গোসল করে।
১/৫৮৮। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস শেষে একবার গোসল করতেন।
তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: বুখারী ২৬৮, ২৮৪, ৫০৬৮, ৫২১৫; মুসলিম ৩০৯, তিরমিযী ১৪০, নাসায়ী ২৬৩-৬৪, ৩১৯৮; আবূ দাঊদ ২১৮, আহমাদ ১১৫৩৫, ১২২২১, ১২২৯০, ১২৫১৪, ১২৫৫৫, ১২৯৪২, ১৩০৯৩, ১৩২৩৬; দারিমী ৭৫৩-৫৪, ইবনু মাজাহ ৫৮৯।
তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ২১১-২১৩।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সুনান আদ-দারেমী
১. পবিত্রতা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যিনি একাধিক স্ত্রীর নিকট গমণ করে একবার গোসল করেন
৭৭৭. (অপর সূত্রে) আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই রাতে পর্যায়ক্রমে স্ত্রীগণের সাথে মিলিত হতেন।(1)
(1) তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৩/২৫২; আর পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

নবী মুহাম্মদের বাহিনীর হাতে একে একে সাফিয়্যার পিতা, চাচা, স্বামী সহ আত্মীয়স্বজনদের অধিকাংশ নিহত হন। মানসিকভাবে সুস্থ একজন নারী নিজের পুরো পরিবার পরিজন হারানোর ভয়াবহ শোক রাতারাতি ভুলে স্বেচ্ছায় নবীর বিছানায় উঠে রঙ্গলীলা আর প্রেমকেলী করতে শুরু করবে, এটি নিতান্তই অবাস্তব একটি ইসলামিক দাবী! কামূস দুর্গের পতনের পরে সাফিয়্যা সহ অনেক নারী মুসলিমদের হাতে গনিমতের মাল হিসেবে বন্দী হয়। এদের মধ্যে সাফিয়্যাকে হযরত বিলাল নিয়ে আসার সময় সাফিয়্যার আত্মীয়স্বজনদের ক্ষতবিক্ষত লাশের ওপর দিয়েই নিয়ে আসেন। খুবই ভয়াবহ একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন। এই বর্ণনাটি পাওয়া যায় আসহাবে রাসুলের জীবনকথা বই সহ অনেক সীরাত গ্রন্থেই [7]

সাফিয়্যা 4

গনিমতের মালের ভাগাভাগি

নবী মুহাম্মদ এবং তার জিহাদী সেনাবাহিনী খায়বার আক্রমণের পরে খায়বার জয় করেন এবং নারী ও শিশুদের গনিমতের মাল হিসেবে বন্দী করেন। এরপরে বন্দী নারীদের দলবেঁধে একসাথে করা হয় ভাগাভাগির জন্য। যেন গরু ছাগলের মত, যার যাকে ইচ্ছা বেছে নিবে। তখন নবীর সাহাবী দিহয়া নবীর কাছে একটি দাসী চাইতেই নবী তাকে বললেন, এদের মধ্য থেকে যাকে পছন্দ নিয়ে যাও। তিনি বেছে বেছে সবচাইতে সুন্দরী সাফিয়্যা বিনত হুয়াইকে নিলেন নিজের যৌনদাসী হিসেবে। এমন সময় এক ব্যক্তি নবী মুহাম্মদকে সাফিয়্যার রূপের কথা বলতেই, নবী দিহয়া সহ সাফিয়্যাকে ডেকে পাঠালেন। তারপর দিহয়া সাফিয়্যাসহ উপস্থিত হলে নবী সাফিয়্যাকে নিজের জন্য রেখে দিলেন, এবং দিহয়াও নবীর মনের খায়েস বুঝতে পেরে সাফিয়্যার বদলে সাতজন দাসীকে চেয়ে বসলেন। নবী সাতজন দাসীর বিনিময়ে সাফিয়্যাকে নিজের ভাগে নিলেন। তারপর ফেরার পথেই তিনি সাফিয়্যার সঙ্গে বাসর উদযাপন করেন [8]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৪. দাসী আযাদ করে তাকে বিবাহ করা ফযীলত
৩৩৬৬। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধে যান। বর্ণনাকারী বলেন আমরা খায়বারের কাছে অন্ধকার থাকতেই ফজরের সালাত আদায় করলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ তালহা (রাঃ) সাওয়ার হলেন। আমি ছিলাম আবূ তালহা (রাঃ) এর রাদীফ (তাঁর বাহনে তার পশ্চাতে উপবিষ্ট) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের গলি দিয়ে রওনা দিলেন। এ সময় আমার হাটু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উরুদেশ স্পর্শ করছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উরু থেকে লুঙ্গী সরে যাচ্ছিল। আর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উকর শুভ্রতা দেখছিলাম। যখন তিনি বসতীতে প্রবেশ করলেন তখন বললেন, আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক। বস্তুত আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের অঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন সতর্ককৃতদের প্রভাত হয় কত মন্দা’ একথা তিনি তিনবার বলেন।
বর্ণনাকারী বলেন ঐ সময় লোকজন তাদের কাজে বের হচ্ছিল। তারা বলতে লাগলো, আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ। বর্ণনাকারী আবদুল আযীয বলেন, আমাদের কোন কোন উস্তাদ বলেছেন, পুরা বাহিনী। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা খায়বার জয় করলাম, এবং বন্দীদের একত্রিত করা হল। তখন দিহয়া (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কায়েদীদের মধ্যে থেকে আমাকে একজন দাসী প্রদান করুন। তিনি বললেনঃ যাও একজন দাসী নিয়ে নাও। তিনি সাফিয়্যা বিনত হুয়াই কে নিয়ে নিলেন। তখন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ইয়া নবী আল্লাহ! আপনি বনু কুরায়যা ও বনু নযীরের সর্দার হুযাইনের কন্যা সাফিয়্যাকে দিহয়াকে দিয়ে দিয়েছেন? ইনি একমাত্র আপনারই উপযুক্ত হতে পারে। তিনি বললেন, তাকে সাফিয়্যাসহ ডাক।
তারপর দিহয়া (রাঃ) সাফিয়্যাসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন, তখন তিনি দিহয়া (রাঃ) কে বললেন, তুমি সাফিয়্যা ব্যতীত কয়েদীদের মধ্য থেকে অন্য কোন দাসী নিয়ে নাও। বর্ণনাকারী বলেন তিনি সাফিয়্যাকে আযাদ করলেন এবং তাঁকে বিবাহ করলেন।
আনাসকে লক্ষ্য করে সাবিত (রাঃ) বললেন, হে আবূ হামযা! তিনি তাঁকে কী মাহর দিলেন? তিনি বললেন, তিনি তাঁর সত্তাকে মুক্তি দান করেন এবং এর বিনিময়ে তাঁকে বিবাহ করেন।
তারপর তিনি যখন (ফেরার) পথে ছিলেন তখন উম্মু সুলায়ম (রাঃ) সাফিয়্যা (রাঃ) কে তাঁর জন্য প্রস্তুত করেন এবং রাতে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর উদযাপনের পর ভোর হলে তিনি ঘোষণা করলেন, যার নিকট যা কিছু আছে তা নিয়ে যেন উপস্থিত হয়। আর তিনি চামড়ার বড় দস্তরখান বিছালেন। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে কেউ পানীয়, কেউ খেজুর ও কেউ ঘি নিয়ে হাযির হল। তারপর এসব মিলিয়ে তারা হায়স তৈরী করেন। আর তাই ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওলীমা।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

আয়িশার গালাগালি

নবীর শিশু স্ত্রী আয়িশাও সাফিয়্যাকে গালাগালি করতেন বলে জানা যায়। এর অর্থ হচ্ছে, সাফিয়্যাকে ইহুদির কন্যা হওয়ার বিভিন্ন জনার কাছ থেকেই নানান কটূবাক্য শুনতে হতো। কারণ মুসলিমদের কাছে আদর্শ রমণী নবীর স্ত্রী আয়িশা যেখানে এসব বলতেন, অন্যরাও নিশ্চয়ই ছেড়ে কথা বলতেন না। অন্যরা নিশ্চয়ই আয়িশার মত আদর্শ নারী ছিলেন না, তাই না? [9]

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৫/ কিয়ামত ও মর্মস্পর্শী বিষয়
পরিচ্ছেদঃ ৫১. (ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা বা নকল সাজা নিষেধ)
২৫০২। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি জনৈক ব্যক্তির চালচলন নকল করে দেখালাম। তিনি বললেন, আমাকে এই পরিমাণ সম্পদ প্রদান করা হলেও কারো চালচলন নকল করা আমাকে আনন্দ দেয় না। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সাফিয়্যা তো বামন মহিলা লোক, এই বলে তিনি তা হাতের ইশারায় দেখালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এমন একটি কথার দ্বারা বিদ্রুপ করেছো, তা সাগরের পানির সাথে মিশালেও তা উক্ত পানিকে দূষিত করে ফেলতো।
সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (৪৮৫৩, ৪৮৫৭), গাইয়াতুল মারাম (৪২৭)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

আয়িশার হায়েজ

আয়িশার হাদিস থেকে জানা যায়, হজ্জে ইফরাদ আদায়ের জন্য নবী মুহাম্মদ মক্কায় আসেন। সেই সময়ে আয়িশার কাছে আসতেই দেখেন আয়িশা কান্না করছে। পরে তিনি জানতে পারেন, আয়িশার হায়েজ বা পিরিয়ড শুরু হয়েছে [10] [11]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব]
পরিচ্ছেদঃ ঋতুকালীন ঋতুমতী মহিলাদের প্রতি নির্দেশ।
وَقَوْلُ اللهِ تَعَالَى )وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ( إِلَى قَوْلِهِ )وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ. (
আর আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তারা আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে রক্তস্রাব সম্বন্ধে। আপনি বলুনঃ তা অশুচি। কাজেই রক্তস্রাব অবস্থায় তোমরা স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না। সুতরাং যখন তারা উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হবে তখন তোমরা তাদের কাছে ঠিক সেভাবে গমন করবে যেভাবে আল্লাহ্ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তওবাকারীদের ভালবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালবাসেন।’’ (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ্ ২/২২২)
6/1. بَاب كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الْحَيْضِ.
৬/১. হায়যের ইতিকথা।
وَقَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا شَيْءٌ كَتَبَهُ اللهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ كَانَ أَوَّلُ مَا أُرْسِلَ الْحَيْضُ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَحَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرُ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ্ তা‘আলা আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কারো কারো মতে সর্বপ্রথম হায়য শুরু হয় বনী ইসরাঈলী মহিলাদের। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসই গ্রহণযোগ্য।
২৯৪. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা হাজ্জের উদ্দেশেই (মদিনা হতে) বের হলাম। ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার হায়য আসলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেনঃ কী হলো তোমার? তোমার হায়য এসেছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ এ তো আল্লাহ্ তা‘আলাই আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বাইতুল্লাহর ত্বওয়াফ ছাড়া হাজ্জের বাকী সব কাজ করে যাও। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গাভী কুরবানী করলেন। (৩০৫, ৩১৬, ৩১৭, ৩১৯, ৩২৮, ১৫১৬, ১৫১৮, ১৫৫৬, ১৫৬০, ১৫৬১, ১৫৬২, ১২৩৮, ১৬৫০, ১৭০৯, ১৭২০, ১৭৩৩, ১৭৫৭, ১৭৬২, ১৭৭১, ১৭৭২, ১৭৮৩, ১৭৮৬, ১৭৮৭, ১৭৮৮, ২৯৫২, ২৯৮৪, ৪৩৯৫, ৪৪০১, ৪৪০৮, ৫৩২৯, ৫৫৪৮, ৫৫৫৯, ৬১৫৭,৭২২৯; মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১) (আধুনিক প্রকাশনী- ২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৯০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ)
পরিচ্ছেদঃ ২১. হজ্জে ইফরাদ।
১৭৮৫. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ….. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম (বাঁধা) অবস্থায় হজ্জে ইফরাদ আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওনা হই। আর আয়েশা (রাঃ) কেবলমাত্র উমরার ইহরাম বাঁধেন। এরপর যখন তিনি সারীফ নামক স্থানে উপনীত হন, তখন তিনি ঋতুমতী হন। আমরা মক্কায় উপস্থিত হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ সম্পন্ন করি। আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে হালাল হতে নির্দেশ দেন।
রাবী (জাবির) বলেন, আমরা জিজ্ঞাসা করি, এই হালাল হওয়া অর্থ কি? তিনি বলেন, সর্বপ্রকার কাজের জন্য হালাল হওয়া। আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করলাম, সুগন্ধি মাখলাম এবং (সেলাই করা) কাপড় পরিধান করলাম আর আমাদের মধ্যে ও আরাফাতের (দিনের) মধ্যে মাত্র চার রাত্রের ব্যবধান ছিল। এরপর আমরা তার অষ্টম দিন (হজ্জের) ইহরাম বাঁধি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে কাঁদতে দেখেন। তিনি তার ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞাসা করলে জবাবে তিনি বলেন, আমি ঋতুমতী হয়েছি। মানুষেরা (উমরার অনুষ্ঠানাদি শেষে) ইহরাম খুলেছে, আর আমি ইহরাম খুলতে পারিনি এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফও করতে পারলাম না। আর লোকেরা এখন হজ্জের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা এটাকে (হায়েয) আদম কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। তুমি গোসল কর এবং হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধ। অতএব, তিনি তা-ই করলেন এবং অবস্থানের স্থানসমূহে অবস্থান করেন। এরপর তিনি পবিত্রতা হাসিলের পর বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা’ঈ করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এখন তুমি তোমার হজ্জ হতে হালাল হয়েছ এবং তোমার উমরা হতেও। তিনি (আয়েশা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মনে হচ্ছে , হজ্জের সময় আমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করিনি। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আবদুর রহমান! তুমি তাকে নিয়ে তানঈম নামক স্থানে যাও এবং তাকে উমরা করাও। আর এটা ছিল হাসবার রাত (১৪ যিল-হজ্জের রাত)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

নবীর গালাগালি

এরপরেই নবী মুহাম্মদ সাফিয়্যার তাঁবুতে যান এবং সাফিয়্যাকে চিন্তিতা ও অবসাদগ্রস্তা দেখতে পান। নবী মুহাম্মদ এই সময়ে অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় সাফিয়্যাকে বন্ধ্যা ও নেড়ি বলে গালাগালি করেন। কেন গালাগালি করেন, তার বর্ণনা পরে দিচ্ছি। আগে সেই অত্যন্ত অমর্যাদাকর এবং নোংরা গালিগুলো দেখে নিই [12] [13]-

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ হাজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামুলক কিন্তু ঋতুমতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য
৩০৯৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) … হাকাম ইবরাহীম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রওনা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন সাফিয়্যাকে তাঁর তাঁবুর দরজায় চিন্তিতা ও অবসাদগ্রস্তা দেখতে পেলেন। তিনি বললেনঃ বন্ধ্যা, নেড়ি! তুমি আমাদের (এখানে) আটকে রাখবে? তিনি পুনরায় তাকে বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন (বায়তুল্লাহ) যিয়ারত করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে রওনা হও।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

15th The Book of Pilgrimage
(67)Chapter: The farewell Tawaf is obligatory, but it is waived in the case of menstruating women
‘A’isha (Allah be pleased with her) reported:
When Allah’s Apostle (ﷺ) decided to march (for return journey), he found Safiyyah at the door of her tent, sad and downcast. He remarked. Barren, shaven-head, you are going to detain us, and then said: Did you perform Tawaf Ifada on the Day of Nahr? She replied in the affirmative, whereupon he said: Then march on.
Reference : Sahih Muslim 1211ag
In-book reference: Book 15, Hadith 432
USC-MSA web (English) reference: Book 7, Hadith 3066

সাফিয়্যা

নবীর ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ

নিচে বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে খুব পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়, নবী মুহাম্মদ সাফিয়্যার সাথে যৌনসঙ্গমের ইচ্ছে করেছিল, কিন্তু সাফিয়্যার হায়েজ হওয়ায় নবী তা করতে পারেন নি। পাঠক লক্ষ্য করে পড়ুন, এই হাদিসে নবী বলছেন বলে বর্ণিত আছে যে, সাফিয়্যা তাদের সেখানে আটকে রাখবে কিনা। ঠিক একই বক্তব্য পাবেন অন্য হাদিসে। এর অর্থ হচ্ছে, এই হাদিসগুলোর সময়কাল এক, ঘটনাও একই। শুধু বিভিন্ন জন বিভিন্ন অংশ শুনে বর্ণনা করেছে [14] [15] [16] [17]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ)
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামুলক কিন্তু ঋতুমতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য
৩০৯৭। হাকাম ইবনু মূসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কোন পুরুষ স্ত্রীর সাথে সাধারণত যা করার ইচ্ছা করে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাফিয়্যা (রাঃ) এর সাথে তাই করার ইচ্ছা করলেন। তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি হায়যগ্রস্তা। তিনি বললেনঃ তাহাল সে তো আমাদের এখানে আটকে রাখবে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি কুরবানীর দিন (বায়তুল্লাহ এর) যিয়ারত করেছেন। তিনি বললেনঃ তাহলে সে তোমাদের সঙ্গে যাত্রা করুক।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ হাজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামুলক কিন্তু ঋতুমতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য
৩০৯৫। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কা’নাব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আশংকা করছিলাম যে, সাফিয়্যা (রাঃ) তাওয়াফে ইফাযা করার পূর্বে হায়যগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন এবং বললেনঃ সাফিয়্যা কি আমাদের আটকে রাখবে? আমরা বললাম, তিনি তাওয়াফে ইফাযা করেছেন। তিনি বললেনঃ তাহলে নয়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ হাজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামুলক কিন্তু ঋতুমতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য
৩০৯৪। কুতায়বা ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবন কাসিম তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলেন, সাফিয়্যা (রাঃ) এর হায়য হয়েছে। অবশিষ্ট যুহরীর হাদীসের অনুরূপ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আব্দুর রহমান ইবনু কাসিম (রহঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ হাজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামুলক কিন্তু ঋতুমতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য
৩০৯৬। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সাফিয়্যা বিনত হুওয়াই হায়যগ্রস্তা হয়ে পড়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হয়ত সে আমাদের আটকে রাখবে। সে কি তোমাদের সঙ্গে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেনি? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তোমরা চল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

এবারে আসুন সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থ থেকে এই বিষয় সম্পর্কে আরেকটু জেনে নিই [18]

আল্লামা কুরতুবী ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞজ্ঞাণ বলেন, হজ্জের সফরে হযরত আয়িশা ও সুফিয়্যা (রাযিঃ) দুইজনই ঋতুমতী হইয়াছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি তাহাদের দুইজনের ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য পরিলক্ষিত হইতেছে। কেননা, তিনি হযরত সুফিয়া (রাযিঃ)কে বলিয়াছেন দুর দুর্ভাগী, তোমার কল্যাণ না হউক। আর হযরত আয়িশা (রাযিঃ) কে বলিয়াছেন ইহা এমন একটি বস্তু যাহা আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করিয়া দিয়াছেন)।
ইহা দ্বারা কাহাকেও কাহারও উপর প্রাধান্য দেওয়া উদ্দেশ্য নহে, বরং স্থান-কাল-পাত্র ও অবস্থার প্রেক্ষিতে কথা বিভিন্ন হয়। ফলে নবী সান্তাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হযরত আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে তাশরীফ নিলেন, তখন তিনি হজ্জ ছুটিয়া যাওয়ার আশংকায় মনক্ষুণ্ণ হইয়া কাঁদিতেছিলেন। ফলে তাহাকে সান্ত্বনা দেয়া প্রয়োজন ছিল সেই মতে তাঁহাকে সান্ত্বনামূলক বাক্য দ্বারা সান্ত্বনা দিয়াছেন। পক্ষান্তরে হযরত সাফিয়্যা (রাযিঃ)। তিনি হজব্রত পালন শেষ করায় “নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার সঙ্গে এমন ইচ্ছা করিয়াছিলেন যাহা একজন পুরুষ নিজের স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করিয়া থাকে।” এতদুভয়ের অবস্থার বিভিন্নতার কারণে সম্বোধনে বিভিন্নতা যথাযোগ্য হইয়াছে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ (ফতহুল মুলহিম ৩২৭)।

সাফিয়্যা 7

(৩১১৭) হাদীছ (ইমাম মুসলিম (রহ.) বলেন) আমার নিকট হাদীছ বর্ণনা করেন হাকাম বিন মুসা (রহ.) তিনি …. আয়িশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, কোন পুরুষ নিজ স্ত্রীর সহিত সাধারণত যাহা করার ইচ্ছা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও (তাঁহার স্ত্রী) সাফিয়্যা (রাযিঃ)-এর সহিত উহা করার ইচ্ছা করিলেন। তখন তাহারা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, তিনি ঋতুমতী। তিনি ইরশাদ করিলেন, তাহা হইলে তো সে আমাদেরকে আটকাইয়া রাখিবে। তাহারা আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করিয়া ফেলিয়াছেন। তিনি ইরশাদ করিলেন, তাহা হইলে সে তোমাদের সহিত রওয়ানা করুক।

সাফিয়্যা 9
সাফিয়্যা 11

বন্ধ্যা আসলে কে?

খাদিজার মৃত্যুর পরে নবী মুহাম্মদের অসংখ্য স্ত্রী এবং যৌনদাসী ছিল। এদের বেশিরভাগের সাথেই নবীর নিয়মিত যৌন সম্পর্ক ছিল। অথচ অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, খাজিদার মৃত্যুর পরে নবীর এত এত স্ত্রী ও দাসীদের মধ্যে, এক একদিন ১১ জন স্ত্রীর সাথে যৌনকর্ম করার পরেও [19] শুধুমাত্র একজন দাসীকে গর্ভবতী হয়েছিল বলে জানা যায়। তিনি হচ্ছেন নবীর যৌনদাসী মারিয়া কিবতিয়া। তিনিই একমাত্র নারী, যিনি খাদিজার পরে নবীর সন্তান ধারণ করেছিলেন বলে বর্ণিত আছে। কিন্তু সেই সন্তানটি আসলে কার ছিল, তা নিয়ে নবীর প্রিয় স্ত্রী আয়িশা এবং খোদ নবীর মনেও সন্দেহ ছিল। প্রথমে আসুন দেখি নবীর স্ত্রী আয়িশা সেই সন্তানটিকে দেখার পরে কী বলেছিলেন। নবী মুহাম্মদ বাচ্চাটিকে দেখিয়ে আয়িশাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাচ্চাটির সাথে নবীর চেহারার সাদৃশ্য কেমন। আয়িশার সোজাসাপ্টা মন্তব্য ছিল, কোন সাদৃশ্যই তিনি দেখতে পাননি। দুধেল মেষের দুধ খাওয়ালে বাচ্চারা মোটাতাজাই হয়। নবীর চেহারার সাথে এই বাচ্চার কোন মিলই নেই! [20]

সাফিয়্যা 13

শুধু আয়িশার মনেই যে সন্দেহ ছিল তা নয়। মারিয়ার সন্তান ইব্রাহিমের পিতা কে, এই নিয়ে সন্দেহ ছিল খোদ নবীর মনেও। পরে নাকি জিব্রাইল এসে নবীকে বলে দেয়, এই বাচ্চাটি নবীরই বাচ্চা! এই অলৌকিক ফেরেশতা জিব্রাইল এসে বলে গেছে, এগুলো আমাদের কাছে মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিন্তু ইসলামের দলিল থেকে জানা যায়, নবীর মনে এই নিয়ে সন্দেহ ছিল। [21]

সাফিয়্যা 15

এবারে আসুন সহিহ মুসলিম শরীফ থেকে আরেকটি হাদিস পড়ে নিই। এই হাদিস থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদের উম্মে ওয়ালাদ বা মারিয়া কিবতিয়ার সাথে এক ব্যক্তির যৌন সম্পর্কের অভিযোগ শুনেই নবী মুহাম্মদ কোন বিচার আচার সাক্ষী সাবুদের তোয়াক্কা না করে হযরত আলীকে পাঠায় সেই ব্যক্তিকে খুন করে আসার জন্য। অথচ ইসলামী শরীয়তের বিধান হচ্ছে, ব্যাভিচারের জন্য চারজন পুরুষ সাক্ষীর সাক্ষ্য দিতে হয় যে, যারা সুরমা দানীর মধ্যে সুরমা শলাকা যেভাবে প্রবেশ করে সেইভাবে ব্যভিচারের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে [22]। অথচ মারিয়া কিবতিয়ার সাথে আরেক লোকের সম্পর্ক আছে, এরকম শুনেই নবী তাকে খুন করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এ থেকে পরিষ্কার হয়, মারিয়া কিবতিয়াকে নিয়ে খোদ নবীর মনেও নানা সন্দেহ ছিল। নতুবা এরকম অভিযোগ শুনলে প্রথমেই একজন মানুষের প্রমাণ চাওয়ার কথা। ভেবে দেখুন, আপনার স্ত্রীর সাথে আরেকজন লোকের সম্পর্ক আছে, এরকম শোনামাত্রই আপনি সেই লোককে খুন করতে কেন লোক পাঠাবেন? যদি আগে থেকেই মনে সন্দেহ না থেকে থাকে? আর যদি সন্দেহ না থাকে, তাহলে প্রথমেই আপনি নিশ্চয়ই সাক্ষী প্রমাণ চাইবেন, তাই না? [23] [24]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫১/ তাওবা
পরিচ্ছেদঃ ১১. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর হেরেম সন্দেহমুক্ত হওয়া
৬৭৬৬। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মে ওয়ালাদের সাথে এক ব্যক্তির প্রতি অভিযোগ (অপবাদ) উত্থাপিত হয়। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ) কে বললেন, যাও। তার গর্দান উড়িয়ে দাও। আলী (রাঃ) তার নিকট গিয়ে দেখলেন, সে কুপের মধ্যে শরীর শীতল করছে। আলী (রাঃ) তাকে বললেন, বেরিয়ে আস। সে আলী (রাঃ)এর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। তিনি তাকে বের করলেন এবং দেখলেন, তার পূরুষাঙ্গ কর্তিত, তার লিঙ্গ নেই। তখন আলী (রাঃ) তাকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকলেন। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে তো লিঙ্গ কর্তিত তার তো লিঙ্গ নেই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সাফিয়্যা 17

উপসংহার

উপরের দলিল প্রমাণগুলো থেকে এটি খুব স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, নবী মুহাম্মদ গনিমতের মাল হিসেবে প্রাপ্ত এবং পরবর্তীতে তার স্ত্রী সাফিয়্যাকে গালাগালি দিয়েছিল, তার সাথে যৌন সঙ্গম করতে না পারার বিরক্তিতে। কারণ সেই সময়ে আয়িশাও ছিল ঋতুবতী অবস্থায়, তার সাথে যৌনকর্ম করা যাচ্ছিল না। তাই নবী গিয়েছিলেন সাফিয়্যার কাছে। সেখানে গিয়ে দেখেন সাফিয়্যাও ঋতুবতী। এই অবস্থা দেখে নবী অত্যন্ত বিরক্ত হন এবং বিরক্তি চেপে রাখতে না পেরে সাফিয়্যাকে গালাগালি দেন। শুধু যে গালি দেন তাই নয়, বন্ধ্যা, নেড়ি বলেও কটাক্ষ করেন। যা অত্যন্ত অশোভন দুইটি গালি। সভ্য সমাজে মানুষের শারীরিক ত্রুটি কিংবা রোগ নিয়ে কটাক্ষ করা খুবই নিন্দনীয় কাজ হিসেবে গণ্য। শুধু তাই নয়, পুরুষ শাসিত সমাজে একজন নারীর সন্তান না হলে তাকে বন্ধ্যা বলে গালি দেয়া হয়। অথচ পুরুষদের একই গালি শুনতে হয় না। দলিল প্রমাণ থেকে এই বিষয়ে একটি প্রবল সন্দেহ তৈরি হয়, নবী নিজেই খাদিজার মৃত্যুর পরে বন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলেন কিনা। কারণ খাদিজার মৃত্যুর পরে এতগুলো বিবি আর দাসী কেউই সন্তান জন্ম দিতে পারেনি। মারিয়া কিবতিয়ার সন্তান নিয়েও ছিল খোদ নবী সহ আয়িশার মনে সন্দেহ, যেই বাচ্চাটি নবীরই কিনা। নবী যদি নিজেই খাদিজার মৃত্যুর পরে বন্ধ্যা হয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে সাফিয়্যাকে বন্ধ্যা নেড়ি বলে গালি দেয়া খুবই নির্মম একটি তামাশা বলেই মনে হয়।

তথ্যসূত্রঃ

  1. আয়িশা কি নয়বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন? []
  2. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, দ্বিতীয় খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা ৩৯-৪০ []
  3. সহীহ শামায়েলে তিরমিযী, হাদিস নম্বরঃ ১২৬ []
  4. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বরঃ ২৬৮ []
  5. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৮৮ []
  6. সুনান আদ-দারেমী, হাদিস নম্বরঃ ৭৭৭ []
  7. আসহাবে রাসুলের জীবনকথা, খণ্ড ৫, মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ, পৃষ্ঠা ২৭৫-২৭৬ []
  8. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৬ []
  9. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বরঃ ২৫০২ []
  10. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিস নম্বরঃ ২৯৪ []
  11. সুনান আবূ দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৫ []
  12. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৮ []
  13. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৬৯, হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৮ []
  14. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৭ []
  15. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৫ []
  16. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৪ []
  17. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৬ []
  18. সহিহ মুসলিম শরীফ (প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ বঙ্গানুবাদ), আল-হাদীছ প্রকাশনী, ১২ তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮, ২১৮-২১৯ []
  19. মুহাম্মদের ম্যারাথন এবং যৌন সক্ষমতা []
  20. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, পঞ্চম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা ৪৯৯ []
  21. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, পঞ্চম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা ৫০৭ []
  22. ইসলামি শরিয়তে ধর্ষণের শাস্তি []
  23. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৬৭৬৬ []
  24. সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৮৫, ডাউনলোড লিঙ্ক []
আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

One thought on “সাফিয়্যাকে নবীর গালাগালির কারণ

  • নভেম্বর 19, 2022 at 8:41 অপরাহ্ন
    Permalink

    আপনি তো পাগল …….
    পাগল যদি না হন তাইলে এই কমেন্ট সম্পূর্ণ পড়বেন।।।।।

    এখনো সময় আছে নিজেকে শুধরিয়ে নিন।।।
    না হলে মৃত্যুর পর আর কিছু করার থাকবে নাহ….
    আপনি কি জীবনে কোনোদিন মৃত্যুর কথা চিন্তা ভাবনা করেছিলেন….?
    আমার তো মনে হয় না যে আপনার এতো সময় আছে…..!!!! সারাদিন তো ব্যাস্ত থাকেন হযরত মুহাম্মদ (স:)কে অপবাদ দেওয়ায়…!!!!!

    আপনি তো একজন নাস্তিক…!!!
    নাস্তিকতা…!!!! এটা কিভাবে আপনার আদর্শ হলো…!!!!!
    মৃত্যুর পর কি করবেন বলেন তো….?
    আপনার নাস্তিকতা কি বলে মৃত্যুর পর মানুষের কি হয়?
    আপনার ধারনা অনুযায়ী বলেন তো…..
    তারা কি উবে যায় নাকি আবার জন্ম নেয়?????
    একবার চোখ মেলে তাকান আপনের চারদিকের অনেক মানুষ মারা যায় তারা কি আর ফিরে আসে…!!!!!!!
    আপনার দাদা নানারা যে মারা গেছে তারা কি আর ফিরবে…?
    আপনার মা – বাবা যদি মারা না যেয়ে থাকে তাহলে তারাও মারা যাবে একদিন তারপর কি তাদের সাথে আপনি আবার এই দুনিয়ায় দেখা করতে পারবেন…???? পরবেন নাহ।।।। আপনের যত যুক্তি সব কম ইমানের মানুষের কাছে!!!! ।।।।। কখনো কি কোনো বড় আলেমকে নিজের এইসব যুক্তি দেখিয়েছিলেন!!!!!! ইচ্ছা করে!!!!!
    এইযে হাদিস গুলো উল্লেখ করছেন সেগুলোর কি ব্যাখ্যা দেখছেন??????

    এখন আবার বলেন না যে ব্যাখ্যা দেখার প্রয়োজন নাই এমনিই বোঝা যায়…!!! আপনে আমি কোনোদিন মুহাম্মদ(সা:)কে চোখের সামনে দেখিনি। তাহলে তিনি কোন প্রেক্ষাপটে, কোন কারনে, কিভাবে মুখের চাহনি কেমন করে, হেসে হেসে না কেদে কেদে, কিভাবে উক্ত কথাগুলো বলেছেন সেগুলো কিভাবে জানবো?????? শুধু কি সরাসরি হাদিস পড়ে নাকি ঐ হাদিসের ব্যাখ্যা দেখে তারপর বোঝা যাবে????

    মৃত্যুকে যখন ঠেকাতে পারেন নাহ….
    তাহলে,,, নিজের পুজা নিজে করতেছেন কেন?
    নিজের ইচ্ছার পুজা করতেছেন কেন?
    নিজের কু-প্রবৃত্তিকে এত প্রধান্য দিচ্ছেন কেন?

    আসলে আপনি চান সবকিছু আপনার নিজের ইচ্ছা মতো হউক কিন্তু কিন্তু কিন্তু……
    বাস্তব তো আপনার কথা শুনবে নাহ…..
    যেটা ভুল সেটা ভুলই……

    আপনি তো আল্লাহকেই চেনেন নাহ…
    আল্লাহ হলেন এক, অদ্বিতীয়।।।। তার সাথে কারো তুলনা চলে নাহ…
    তিনিই অনন্ত তিনিই অসীম…..
    তিনি সকল জাগতিক প্রয়োজনের উর্ধে….
    তিনিই সকল প্রয়োজনের স্রষ্টা….
    তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী…..
    তিনি নিত্তান্তই অনেক দয়ালু তাই আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন……
    তিনিই আবার আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন দূর্বল করে…….
    সাথে আবার একটি ওয়াদাও দিয়েছেন…….
    সহজ কিছু কাজ করতে বলেছেন যে কাজ করলে এই দূর্দশা চিরকালের মতো তিনি দূর করে দিবেন……অনন্তশান্তি দিবেন।।।। যে শান্তি/রহমত কেউ কোনো দিন চিন্তা করে নি, যে শান্তির/রহমতের কথা কেউ কোনোদিন শোনে নি। যে শান্তির/রহমতের কথা কেউ কোনোদিন দেখে নি।

    আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে আল্লাহ কে কেন দেখা যায় না….?
    আল্লাহকে এই দুনিয়ায় দেখা সম্ভবই নাহ….
    আমাদের চেয়ে হাজারগুন মর্যাদার অধিকারী মূসা(আ:) পর্যন্ত তাকে এই পৃথিবীতে দেখতে পারেন নি।।।।
    তাহলে আপনার কি মনে হয় যে আল্লাহ কে দেখা সম্ভব নয়…..?????
    উত্তর হলো – দেখা সম্ভব তবে এই পৃথিবীতে নয়।।।। জান্নাতে সম্ভব।।।
    যারা এই পৃথিবীতে আল্লাহর দেওয়া বিধান মেনে চলবে তার কথা মতো তার নির্ধারিত জীবন পদ্ধতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে তারাই আল্লাহর রহমতে জান্নাতে যাবে…..
    আর জান্নাতেই তিনি আমাদের দেখা দিবেন…..!!!!
    তিনি ঘোষনা দিবেন যে তিনি আর কোনো দিন আমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন নাহ…
    এটিই হবে আল্লাহর দেওয়া রহমতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় রহমত ও করুনা…..

    আপনার আরেকটি পোস্ট দেখলাম যেখানে আপনি দেখিয়েছেন যে, চাঁদে নিল আর্মস্ট্রং এর সম্পর্কে বড় বড় আলেমরা যা বলে তা মিথ্যা…. আপনার পোস্টটি দেখে আমিও বুঝতে পারলাম যে আসলেই ঐ বড় বড় মাওলানারা নিল আর্মস্ট্রং সম্পর্কে যা বলে তার কোনো প্রমাণ নেই।।।
    আচ্ছা…. এটা মেনে নিলাম যে আপনি এ ব্যাপারে ঠিক আর ঐ বড় বড় আলেমরা ভুল।।।।।

    কিন্তু ঐ পোস্টে যে আপনি পৃথিবী আর চাদের সংঘর্ষের ভিডিও দিয়েছেন…..তা দিয়ে আসলে কি বুঝাতে চেয়েছেন!!!! আপনি কি কুরআনের আয়াতকে ভুল বুঝাতে চেয়েছেন!! (নাউজুবিল্লাহ) শুনে নেন,,,,
    মাঝে মধ্যেই অনেকে বলে যে, সূর্য পশ্চিম দিকে ডুবে গেছে অথবা পানিতে সূর্য ডুবে যাচ্ছে। এর মানে কি আপনে এই বুঝবেন যে সূর্য পশ্চিম দিকে/পানিতে আসলেই ডুবে গেছে???? নাহ…. বরং এটা বুঝবেন যে সূর্য ডুবে যায় না আসলে পৃথিবীই ঘুরে গেছে।।।। এই ক্ষেত্রে যেমন আপনি আক্ষরিক অনুবাদ না করে এর মর্ম অন্য জিনিস বুঝলেন,,,, এবং এটা বুঝলেন যে এই কথাটি বলেছে তা চোখে দেখে যা মনে হয় হুবহু তাই বলছে….

    ঠিক তেমনি চাঁদের দ্বিখন্ডনের যে হাদিসে এটি ছিল তা সাহাবিরা চোখে দেখার সময় তাদের মনে হচ্ছিল যে চাঁদ দুই খন্ড হয়ে দুই পাশে পরে যাচ্ছে…..
    আর হাদিস উল্লেখ করার ক্ষেত্রে তাই বলেছেন।।।।

    আমার ইচ্ছা আপনি এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা পাওয়ার জন্য “সূরা আল-কামার | Al-Qamar | سورة القمر ”
    এর ১ নম্বর আয়াতটির তাফসির পড়ে নিয়েন।।।

    এখন আবার বলেন না যে তাফসির পড়ার দরকার কি এমনই তো বোঝা যায়…..!!!!! আসলে কুরআনে সবকিছুই আছে তবে তা বিস্তারিতভাবে নেই যেমন : কুরআনে সালাত কায়েম করতে বলা থাকলেও তা কিভাবে করতে হবে তা বিস্তারিত বলা নেই, কিভাবে কি করতে হবে তা হাদিসে বর্নিত আছে।।।বিস্তারিত জানার জন্য হাদিস দেখতে হয় কারন হাদিস হলো কুরআনের ব্যাখ্যা।।। কুরআনের কোনো আয়াতের তাফসির বলতে তার ব্যাখ্যা হাদিসের আলোকে কি তা বর্ণনা করা বুঝায়।।।। পৃথিবীতে কুরআনের সবচেয়ে বড় মুফাসসসীর অর্থাৎ তাফসির বিশারদ ছিলেন হযরত মুহাম্মদ(সা.), তাই কুরআনকে ঐভাবেই বুঝতে হবে যেভাবে হযরত মুহাম্মদ (সা:) বুঝেছেন। আর হাদিসের ব্যাখ্যা কেন পড়তে হবে তা আগেই বলেছি।
    আমি একটি অনলাইন সাইটের লিংক দিলাম যেখানে এই আয়াতের তাফসির দেওয়া আছে।।।
    (https://www.hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=54)[সূরা আল-কামার, আয়াত ১]

    কুরআনের এই আয়াতটির তাফসির পড়ে থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন যে হযরত মুহাম্মদ(সা.) এর চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করার সময় আল্লাহর ইচ্ছায় তা আকাশেই দিখন্ডিত হয়েছিল এবং এক খন্ড পূর্বে ও অন্যটি পশ্চিমে চলে গিয়েছিল। আর মাঝখানে পাহাড় দ্বারা আড়াল হয়ে গিয়েছিল।। হযরত মুহাম্মদ(সা.) সবাইকে এই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকতে বলার পর যখন সবাই সাক্ষী দিল অর্থাৎ সম্মতি দিল তখন চাঁদের দুই খন্ড আবার আকাশেই একত্রিত হয়েছিল।।।।

    তাহলে বিদীর্ণ হলো আকাশেই আবার একত্রিত হলো আকাশেই তাইলে আগের ঐ নিল আর্মস্ট্রং এর ব্যাপারে যে পোস্ট করছিলেন ঐ পোস্টে নিল আর্মস্ট্রং এর ব্যাপারে যা লেখছেন তা ঠিকই আছে কিন্তু ঘটা করে YouTube থেকে যে চাঁদ ও পৃথিবীর সংঘর্ষের ভিডিও দিসেন তার কোনো মানে হয়….???? !!!!!!! আর কুরআনের আয়াত ভুল প্রমান করার কথা বলছেন তারও কি কোনো মানে আছে???? পুরটাই আপনার বোঝার ভুল…!!!

    হাদিস কুরআন অনুযায়ী চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল
    তো হয়েছিল,,,,,,, চাঁদের দ্বিখণ্ডিত হওয়ার প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক তাতে কোনো যায় আসে না।।।।।
    কোন মাওলানা কি বললো তাতেও কিছু যায় আসে নাহ…

    আবারও বলছি নিজের ইচ্ছার পুজা করবেন নাহ… নিজেকে নিজে পুজা করা বন্ধ করুন….
    শয়তানের ইবাদত করা বন্ধ করুন….
    একবার ভেবে দেখুন, আমাদের মন অনুযায়ী যদি চলতে চাই তাহলে সব সময় খারাপটাই করতে কিন্তু বেশি ইচ্ছা করে….!!!!

    ভাই, একটা কথা ভেবে দেখুন ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যাবস্থা যাতে মানব জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব নিয়ম কানুন অন্তর্ভুক্ত আছে….
    এবং নিয়মগুলো কিন্তু সঠিক….. (১০০%)

    আপনি তো নাস্তিক কিছুই বিশ্বাস করবেন না…. আপনি হয়তো আমাকে বলবেন যে মৃত্যুর পর যদি দেখেন আল্লাহ নেই…!!! কি করবেন তখন???? অনেক লস হয়ে গেল???? (নাউজুবিল্লাহ)
    কিন্তু, আপনি মানতে না চাইলেও এটা সত্য।
    ধরুন,,,,,
    আপনের কথা অনুযায়ীই বলতেছি…
    মনেকরি,
    আপনি ও আমি দুইজনেই জানি না আসলেই আল্লাহ আছে কিনা।।।।।

    এখন দেখেন আমি আপনি দুইজনেই মারা গেলাম।।।
    এখন সম্ভাবনা দুইটা —–
    (১) আল্লাহ নেই(আপনার চিন্তাভাবনা অনুযায়ী) : তাহলে আপনি তো বেচে গেলেন।।।। আমি কি তাইলে মহাবিপদে পরে গেলাম…???? নাহ… খুব হলে ইক্টু আফসোস হবে যে সারা জীবন ভুল ভাল করে গেছি….
    ফলাফল তাহলে দাড়ালো আমিও মহাবিপদে পরলাম না আপনিও পরলেন না।।।।আমার শুধু আফসোস হলো।।।
    (২) আল্লাহ আছেন : এইবার কি করবেন….? আল্লাহ থাকলে তো আপনার মহাবিপদ।।। আপনি নাস্তিক হওয়ার কারনে নিশ্চিত জাহান্নামে অনন্তকাল শাস্তি পেতে হবে!!!!!! কিন্তু আমাকে দেখেন আমি তো বেচে গেলাম।।।।। আল্লাহ যদি আমাকে সকল ছোট গুনাহ গুলো মাফ করে দিয়ে আমাকে যদি জান্নাতে নেন তাহলে কি আপনার কোনো কিছু করার থাকবে??? আর যদি আমি পাপের কারনে জাহান্নামেও যাই তাহলেও ১০০℅ সিয়র আমি অনন্তকাল সেখানে থাকবো না এক সময় আমার শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তখন আল্লাহ আমাকে নিশ্চয়ই জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে নিবেন…!!!! কিন্তু আপনার তো মহাবিপদ অনন্তকালই আপনাকে শাস্তি পেতে হবে…!!!!! জান্নাতি ও জাহান্নামি করোর আর মৃত্যু হবে নাহ….
    জান্নাতিরা অনন্তকাল শান্তি পেতে থাকবে এবং জাহান্নামিরা অনন্তকাল শাস্তি পেতে থাকবে।

    তাহলে চুড়ান্ত ফলাফল এই যে,,,,
    আমার ক্ষেত্রে দুইটা,
    (১)আপসোস(আপনার চিন্তাভাবনা অনুযায়ী) (লস নাই প্রফিটও নাই)
    (২) মহাশান্তি অর্থাৎ জান্নাত (প্রফিট আছে কিন্তু লস নাই)
    কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে,,, দুইটা,
    (১) আপনি যদি ঠিক হন (লস নাই প্রফিটও নাই,আচ্ছা নেন ধরলাম আপনি সঠিক হওয়ায় আপনের অনেক লাভ হইছে)
    (২) মহাশাস্তি মহাবিপদ (লস আছে প্রফিট নাই)

    দেখুন, আমার ক্ষেত্রে দুই সম্ভাবনার জন্যই “””লস নাই “”” এবং মহাবিপদ নেই।।।।
    কিন্তু আপনার জন্য দুই ক্ষেত্রের মধ্যে এক ক্ষেত্রে মহাবিপদ!!!!

    তাই, নাস্তিক না হওয়াই যুক্তিযুক্ত। আর যাই হোক নাস্তিকতায় কোনো ইলাহ নেই তাই আপনি ভুল হলে কেউ আপনাকে শাস্তি দিতে আসবেনা এই বলে যে, দুনিয়াতে নাস্তিক হসনি কেন….!!!
    আসলে, নাস্তিকতা মানুষের মনের রোগ ছাড়া আর কিছুই নয়।।।

    বিজ্ঞান দিয়ে সবসময় সবকিছু বিচার করা যায় না কারন বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত মানুষের রহস্যই উদঘাটন করতে পারে নি!!!মৃত্যুর রহস্য আজও অজানা!! তাছাড়াও বিজ্ঞান অনুযায়ী যদি এটা মেনে নেওয়া হয় যে ধর্ম বলে কিছু নেই (নাউজুবিল্লাহ) তাহলে একবার চোখ খুলে চারপাশ দেখে ইকটু চিন্তা করেন এই পৃথিবী কি আর পৃথিবী থাকবে?!!!! মানুষ নির্দিধায় সবরকমের অপকর্ম করে বেড়াবে! এই যে যার বিষয়ে আপনি এত কষ্ট করে অপবাদ দিতে ব্যাস্ত এই মানুষটি না থাকলে আজ মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো পৃথিবীতে হয়তো অপকর্ম দিয়ে ভরে যেত!!!!!

    সহিহ হাদিস অনুযায়ী, কেয়ামতের সময় সমস্ত জমিনকে আল্লাহ মুষ্টির মধ্যে নিয়ে নিবেন এবং সমস্ত আসমানকে ডান হাতে পেচিয়ে নিবেন।। সমস্ত মাখলুক(সৃষ্টি) ধংসপ্রাপ্ত হবে।।। তারপর এই জমিনকে আবার প্রসারিত করা হবে… এবং সমস্ত মানবজাতিকে হাসরের ময়দানে সমবেত করা হবে।।। সেদিন মাটির রং হবে সাদা আর আকাশের রং হবে স্বর্ণের মতো হলুদ।। (সহিহ বুখারীসহ সহিহ সিত্তাহর হাদিসগ্রন্থগুলোর কিয়ামতের অধ্যায়ে দেখে নিয়েন মিথ্যা বল্লাম কিনা) যদি ভুল বলে থাকি তাহলে ঠিক করে দিয়েন…….আমি কোনো মুফতি মাওলানা না যে হাদিস নম্বর মুখস্থ করে বলব!!! আর হিসেব অনুযায়ী আপনিই আমার চেয়ে বেশি ভালো জানেন…!!!! তাই আপনিই হাদিস দেখে বলেন আমি কোনো ভুল বলছি নাকি।।।।

    তো হাসরের ময়দানে সেদিন দুনিয়ায় কোনো বিচারক থাকবে না বিচারক হিসেবে থাকবেন সয়ং আল্লাহ নিজে, তাই সুদ ঘুষের কোনো প্রশ্নই আসে না।।।। সেদিন কেউ টাকার গরম, যুক্তির গরম দেখাতে পারবে না…. কারও প্রতি সামান্য অবিচার করা হবে নাহ…. সেদিন আল্লাহ শুধু মুসলমানদেরকেই নয় বরং সকল নবি-রাসুলের সময় তাদের অনুগত সকলকে যেমন হযরত মূসা(আ:) এর সময় যারা প্রকৃত ইহুদি ছিল যারা মূসা(আ:) অনুগত ছিল তারাও জান্নাতি।। যারা প্রকৃতপক্ষেই হযরত ঈসা(আ:) এর অনুগত ছিল
    তারাও জান্নাতি।।। এমনকি কোনো মুসলিম যদি কোনো অমুসলিমের উপর অত্যাচার করে তবে সেই মুসলিমকেও আল্লাহ ছাড়বেন নাহ……

    তবে কোনো প্রকৃত মুসলিম কখনোই চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে যাবে না……

    🔥🔥##আপনার সকল পোস্টে আপনি যেসব হাদিস উল্লেখ করেন সেগুলোর যে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন তা সবই আপনের বোঝার ভুল… দয়াকরে কোনো মসজিদের ইমামের কাছে অথবা পারলে কোনো বড় আলেমের কাছে গিয়ে সঠিক ব্যাখ্যা বুঝে নিবেন।
    অন্তত একটা মাস একদম প্রকৃত মুসলিমের মতো আল্লাহর ইবাদত করে দেখেন আসলেই ইসলাম খারাপ নাকি ভালো…!!!!
    আল্লাহ তায়ালা অতিব ক্ষমাশীল অবশ্যই যদি আপনি খাটি মনে তওবা করেন তাহলে (ইনশাআল্লাহ) আল্লাহ আপনাকেও মাফ করে দিবেন…. এত পাপ করার পরও।
    তওবা না করা অবস্থায় মৃত্যু যদি হয় তাহলে আর তাওবা করার সুযোগ থাকবে না।

    আল্লাহ কি শুধু মুসলমানদের???
    নাহ বরং তিনি সকল মানুষের ইলাহ…. তিনি শুধু মুসলমানদের জন্য নয় বরং হিন্দু, বদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি….তথা এই পৃথিবীর সকল মানুষের ।।। কিন্তু মুসলমান ছাড়া আর কেউ আল্লাহকে মানে নাহ…. তাই তারা জাহান্নামি… ইহুদিরা আল্লাহ এবং মূসা(আ:) কে মানলেও তারা হযরত মুহাম্মদ(সা:)কে অস্বীকার করে।।।। আর হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে অস্বীকার করা মানেই মূসা(আ:) উপর প্রেরিত সত্যকে অস্বীকার করা, আল্লাহকে অস্বীকার করা……..

    একমাত্র ইসলাম আল্লাহ কর্তৃক মনোনিত জীবন বিধান এবং হযরত মুহাম্মদ(সা:)এর নবুয়ত প্রাপ্তির পর থেকেই তার আগমনের মাধ্যমেই অন্য সকল নবি-রাসুলের শরীয়ত রহিত হয়ে গেছে।।।।

    তাই বর্তমানে আল্লাহকে মানতে হলে একমাত্র ইসলামেরই ছায়াতলে আসতে হবে।।। তবেই আল্লাহ যদি চান (ইনশাআল্লাহ) দুনিয়া ও আখিরাতে চুড়ান্ত সফলতা পাওয়া সম্ভব।।।।।

    ভাবুন ভাবুন ভাবুন জীবনে কতবার মৃত্যু নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছিলেন!!!!??? কতবার তাফসির নিয়ে ইসলাম গবেষণা করেছিলেন!!!!??? কতবার আল্লাহকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেছিলেন!!!!????

    তাই, ধর্ম মানুন।।।।। এবং ধর্ম হিসেবে শুধু ইসলামকেই মানুন কারন ইসলাম ব্যাতিত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহনযোগ্যতা রাখে না…..

    Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

%d bloggers like this: