হিন্দুধর্মবিজ্ঞান

আধুনিক জগত ও হিন্দু জাতি | মেঘনাদ সাহা

পূর্ববর্তী পর্ব

‘ বিজ্ঞানের নামে অজ্ঞানের প্রচার ‘

অধ্যাপক শ্রীমেঘনাদ সাহা ডি-এস-সই, এফ-আর-এস
(মেঘনাদ সাহার এই লেখাটি ১৩৪৬ বঙ্গাব্দে ভারতবর্ষ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। )

একথা না বলিলেও চলে যে, আধুনিক জগতে নানা কারণে বিজ্ঞানের বেশ খানিকটা মর্যাদা বা prestige বাড়িয়াছে। য়ুরোপ, আমেরিকা ও জাপানে বিজ্ঞানের দৌলতে গত পঞ্চাশ বৎসরে মানবের জীবনযাত্রার প্রণালী অনেক পরিমাণে উন্নত হইয়াছে; এবং জ্যোতিষ, প্রাকৃত বিজ্ঞান, রসায়ন, প্রাণি ও উদ্ভিদ তত্ত্ব, চিকিৎসা শাস্ত্র, যন্ত্রবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে মানবের জ্ঞানের পরিধি অপরিসীম বাড়াইয়া দিয়াছে। সুতরাং ইহা কি আশ্চর্যের বিষয় নয়

যে, অনেক অ-বৈজ্ঞানিক লোক (অর্থাৎ যাহারা কখনও বিজ্ঞানের ধারাবাহিক শিক্ষার—discipline of science—ভিতর দিয়া যান নাই, অতএব যাহাদের বর্তমান বিজ্ঞান, সম্বন্ধে জ্ঞান নাই বলিলেও চলে) …নানা প্রকারে বিজ্ঞানের বাস্তব কৃতিত্বকে খর্ব করিতে প্রয়াস পাইবেন?

এই প্রচেষ্টা প্রকাশ পাইতেছে নানা রূপ ধরিয়া। এক শ্রেণীর লোক বলেন যে, বিজ্ঞান আর নূতন কি করিয়াছে ? বিজ্ঞান বর্তমানে যাহা করিয়াছে—তাহা কোনও প্রাচীন ঋষি, বেদ বা পুরাণ বা অন্যত্র কোথাও-না-কোথাও বীজাকারে বলিয়া গিয়াছেন। অপর এক শ্রেণীর লোক বলেন যে, বিজ্ঞান মানব-সমাজের ইষ্ট অপেক্ষা অনিষ্টই অধিক করিয়াছে, যথা—বিজ্ঞানের প্রসারে মানব-সমাজে যুদ্ধ-বিগ্রহ বাড়িয়াছে, বিষাক্ত গ্যাস, বিস্ফোটক প্রভৃতি নানারূপ মানুষ-মারা জিনিস সৃষ্টি হইয়াছে। অপর এক শ্রেণীর লোক বলেন যে, বিজ্ঞান মানুষের ভোগলিপ্সা বর্ধিত করিয়া তাহাকে আধ্যাত্মিকতা হইতে ভিন্ন পথে লইয়া যাইতেছে। সমালোচক অনিলবরণ রায়ের রচনার মধ্যে এই ‘ত্রিবিধ’ মনোবৃত্তির পরিচয় পাওয়া যায়।

আমি পূর্ববর্তী প্রবন্ধদ্বয়ে প্রথম শ্রেণীর সমালোচকদের উত্তর দিতে চেষ্টা করিয়াছি। সমালোচক অনিলবণ রায়  বর্তমান বিজ্ঞানের যে সমুদয় তথ্য, যেমন—“ক্রমবিবর্তনবাদ, ‘জ্যোতিষ্ক আবিষ্কার’ ইত্যাদি—প্রাচীন শাস্ত্রে কোথাও না কোথাও বীজাকারে বা পূর্ণভাবে লিপিবদ্ধ আছে বলিয়া প্রমাণ করিতে চেষ্টা করিয়াছেন, তাহা সমস্তই যে ‘অলীক ও ভ্রান্ত তাহা প্রতিপন্ন করিয়াছি। এক্ষণে বক্তব্য, সমালোচক যদি বাস্তবিকই পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের সহিত প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞানের তুলনামূলক আলোচনা-কাৰ্য্যে ব্রতী হইতে চান, তবে তিনি ভাল করিয়া ‘পাশ্চাত্য বিজ্ঞান’-এর সাধনা করুন, নতুবা ‘অজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলিয়া প্রচারের অপচেষ্টা করা নিরর্থক এবং আমার মতে তাহার  কোন অধিকার নাই। পাশ্চাত্য বিজ্ঞান অতি বিরাট জিনিস-প্রত্যক্ষের বিষয়ীভূত শাস্ত্র ; ধ্যানে বসিয়া অথবা  দুই-একখানা সুলভ বা popular বই পড়িয়া তাহাতে অধিকারী হওয়া বিড়ম্বনা মাত্র। ঐ বিজ্ঞানের সাধনা করিতে হয় হাতে-কলমে, প্রণিধান করিতে হয় আজীবন স্বাধীন চিন্তায়, ‘গুরু’ বিজ্ঞানে ‘পথপ্রদর্শক মাত্র, কিন্তু  কোন বৈজ্ঞানিক গুরু যদি ‘পূর্ণ ও চিরন্তন সত্য আবিষ্কার করিয়াছেন বলিয়া দাবী করেন, তাঁহাকে উপহাসাম্পদ হইতে হইবে। এক্ষেত্রে গুরুভক্তদের চেয়ে গুরুমারা’ শিষ্যেরই আদর ও প্রয়োজনীয়তা বেশী। বিজ্ঞান কখনও  চিরন্তন সত্য আবিষ্কার করিয়াছে বলিয়া দাবী করে না, কিন্তু সাধকের অনুসন্ধিৎসা-বৃত্তিকে সজাগ রাখিয়া তথ্য সন্ধানের পন্থা বলিয়া দেয়।

বিজ্ঞানের নামে সমালোচকের দ্বিতীয় অভিযোগ এই যে, মানুষ প্রকৃতিকে জয় করিয়াছে সত্য, কিন্তু সে তাহার অন্তর্নিহিত পাশবিক ভাবকে জয় করিতে পারে নাই। সমালোচক অনিলবরণ রায় বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে এই মামুলী অভিযোগ আনিতে ছাড়েন নাই এবং অনেক গান্ধী-পন্থীও ‘বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উপস্থাপিত করিয়া চরকা, গরুর গাড়ী ও বৈদিক তাতের আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করিতে চেষ্টা করেন।

কিন্তু এই সমস্ত সমালোচক একটা অতি স্থূল কথা ভুলিয়া যান। বিজ্ঞান যে ব্যক্তিগত জীবন’-কে কতটা উন্নত করিয়াছে তৎসম্বন্ধে তাহাদের মোটেই কোন ধারণা নাই। দুই একটি প্রমাণ দিতেছি।

আমাদের দেশে এবং পৃথিবীর যে সমস্ত দেশে বিজ্ঞান ব্যক্তিগত জীবনে প্রযুক্ত হয় নাই, তথায় মানুষের গড়পড়তায় জীবনকাল সাড়ে তেইশ বৎসর মাত্র। মধ্যযুগে অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক যুগের পূর্বে, য়ুরোপেও গড় জীবনকাল ছিল পঁচিশ বৎসর। কিন্তু গত পঞ্চাশ বৎসরের মধ্যে য়ুরোপ ও আমেরিকায় মানুষের গড়পড়তায় জীবন বাড়িয়া প্রায় দুই গুণ অর্থাৎ প্রায় ছচল্লিশ বৎসর হইয়াছে। ‘বর্তমান বিজ্ঞান’-এর ভারতীয় সমালোচকগণ এই  জীবনবৃদ্ধির কারণটা তলাইয়া দেখিবার বোধ হয় অবসর এ পান নাই। ইহার কারণ এই যে, বিজ্ঞানের প্রসাদে য়ুরোপের অধিবাসীরা প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্যকর আবাস, রোগের উপযুক্ত চিকিৎসা, যথেষ্ট বিশ্রাম প্রভৃতি স্বাচ্ছন্দ্যের (amenities of life) অধিকারী হইয়াছে। কিন্তু ভারত, চীন বা আবিসিনিয়ার গ্রামবাসী দুইবেলা উপযুক্ত আহার পায় না, তাহাদের শীত-গ্রীষ্মনিবারক বস্ত্রাদি নাই, বাসস্থান অতীব অস্বাস্থ্যকর, রোগে চিকিৎসক ডাকিবার ও ঔষধ কিনিবার সামর্থ্য নাই ; এ জন্য অধিকাংশ স্থলেই তাহারা অকালে কাল গ্রাসে পতিত হয় এবং যতদিন বাঁচিয়া থাকে বেশীর ভাগ অভাব, রোগ ও শোকগ্রস্ত হইয়া আধমরা হইয়াই থাকে।

জাতীয় পরিকল্পনা সমিতি হিসাব করিয়া দেখিয়াছে যে, এদেশের লোকের বৎসরে মাথা পিছু আয় পঁয়ষট্টি টাকা মাত্র, কিন্তু বিলাতের লোকের আয় প্রায় মাথা পিছু দুই হাজার টাকা, অর্থাৎ—এখানকার প্রায় ত্রিশ গুণ। অনেকে  বিলাতের সহিত তুলনায় আপত্তি করিবেন, কারণ বিলাতের উপনিবেশ আছে, আর আছে ভারত-মাতারূপ একটি কামধেনু। কিন্তু আর একটি পাশ্চাত্য দেশ লওয়া যাক, যেমন সুইডেন। এই দেশের কোন উপনিবেশ বা অধীন দেশরূপ কামধেনু নাই; তাহা সত্ত্বেও এই দেশের জনপ্রতি বাৎসরিক আয় ভারতবাসীর গড় আয়ের প্রায় বিশ গুণ। এমন কি, জাপান ভারত অপেক্ষা প্রাকৃতিক সম্পদে ন্যূন হইলেও বিজ্ঞান-সম্মত কাৰ্য্য-পন্থা অবলম্বন করায় তথায় জনপ্রতি আয় গত ত্রিশ বৎসরের মধ্যে ভারতবাসীর আয় অপেক্ষা চারি হইতে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পাইয়াছে।

চীন, ভারত ও আবিসিনিয়ার দারিদ্রের একমাত্র কারণ এই যে, এই সমস্ত দেশ (যে কারণেই হউক আংশিক পরাধীনতা, আংশিক ভ্রান্ত জনমত পোষণ) , বিজ্ঞানকে গ্রহণ করে নাই এবং বৈজ্ঞানিক-প্রণালী অবলম্বনে দেশের সম্পদ বৃদ্ধি করিবার এবং জনসাধারণের মধ্যে সেই সম্পদ যথাসম্ভব সমভাবে বিতরণ করিবার চেষ্টা করে নাই। পক্ষান্তরে, ইংলণ্ড ও অপরাপর যুরোপীয় দেশ  নিজ নিজ যাবতীয় প্রাকৃতিক শক্তিকে কার্যে নিযুক্ত করিয়া বৎসরে জনপিছু প্রায় দুই হাজার ইউনিট কাজ পাইতেছে ; কিন্তু ভারতবাসী মোটের উপর নিজের শক্তি এবং দুই একটি গৃহপালিত পশুর শক্তির উপর নির্ভর করে বলিয়া তাহার আয়ও পঁচিশ হইতে ত্রিশ গুণ কম হয়। একজন চরকাপন্থী বর্তমান লেখককে জানাইয়াছেন যে, তাহাদের বহুবর্ষব্যাপী অভিজ্ঞতার ফলে দাড়াইয়াছে এই যে, সারা বৎসর বিশ্রাম সময়ে চরকা কাটিয়া সাকুল্যে.বৎসরে আয় হয় মাত্র চারি টাকা। চরকার নিরর্থকতা সম্বন্ধে ইহার চেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হইতে পারে। প্রকৃত পক্ষে, বিজ্ঞানের প্রভাবেই প্রাকৃতিক শক্তিকে কাজে লাগাইয়া দেশের আয়বৃদ্ধি করা সম্ভব হইয়াছে ; এবং ব্যক্তিগত জীবনকে মধ্যযুগ (বিজ্ঞানের পূর্ববর্তী যুগ) অপেক্ষা সর্বাংশে উন্নত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করিয়া তোলা সুকর হইয়াছে।

যদি মানুষকে সর্বদা অভাব, অভিযোগ ও দারিদ্রের : সহিত সংগ্রাম করিতে হয় তবে তাহার ইতর প্রাণীজীবনের ঊর্ধে উঠিবার অবসর কোথায়? অধিকাংশ ঐতিহাসিকদিগের মতে যে সমস্ত জাতি বা সমাজ সভ্যতার ঊর্ধ্বতম শিখরে আরোহণ করিতে সমর্থ হইয়াছে, তাহাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অপরাপর জাতি বা সমাজ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ছিল। দার্শনিক গুরু প্লেটো বলিয়াছেন যে, এথেন্সের সর্বাপেক্ষা গৌরবময় যুগে, অর্থাৎ-পেরিক্লিসের  কালে, প্রত্যেক এথেনীয় নাগরিকের গড়ে চারিজন ক্রীতদাস থাকিত ; অর্থাৎ-নাগরিকদের অধীনে এক শ্রেণীর লোক ছিল যাহারা কৃষি, শিল্প, ভারবহন ইত্যাদি যাবতীয় শ্রমসাধ্য কাজ করিত এবং নাগরিকগণ শুধু তাহাদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করিতেন। এজন্য নাগরিকগণ সুষ্ঠু কাব্য, দর্শন, স্থপতি ও কলাবিদ্যা, বিজ্ঞান প্রভৃতির আলোচনার জন্য যথেষ্ট সময় পাইতেন। কিন্তু এথেন্স এখন মাকিদন রাষ্ট্রের অধীন হইল তখন এথেন্সবাসী নাগরিকের অর্থ-সমস্যা আরম্ভ হইল এবং যে এথেন্স এককালে সাহিত্য, দর্শন ও বিজ্ঞানের সংস্কৃতিপ্রভাবে পৃথিবীকে চমৎকৃত করিয়াছিল তাহা অচিরে, অর্থাৎ এক শতাব্দীর মধ্যে, একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর নগরে পরিণত হইল।

কিন্তু বর্তমান সময়ে, অর্থাৎ প্রগতিশীল বৈজ্ঞানিক যুগে মানুষ প্রাকৃতিক শক্তিকে কার্যে নিয়োজিত করিয়া তাহার যাবতীয় কাজ করাইয়া লইতে পারে, ক্রীতদাস রাখার প্রয়োজন হয় না বললেও চলে। য়ুরোপ ও আমেরিকায় গত পঞ্চাশ বৎসর ধরিয়া এই প্রচেষ্টা চলিতেছে। পূৰ্বে উক্ত  হইয়াছে যে, ইংলণ্ডে বৎসরে জনপিছু কাজের পরিমাণ দুই হাজার ইউনিট—ইহার মধ্যে প্রায় ছয় শত ইউনিট বৈদ্যুতিক শক্তি হইতে, প্রায় হাজার ইউনিট বাষ্পীয় শক্তি হইতে এবং অবশিষ্ট চারিশত ইউনিট পেট্রোল ও অপরাপর দাহ্য পদার্থ হইতে উৎপন্ন করা হয়। যদি উহার সমতুল্য পরিমাণ কাজ ক্রীতদাস রাখিয়া উৎপন্ন করা হইত, তবে ইংলণ্ডের প্রত্যেক ব্যক্তির অন্যূন দশজন ক্রীতদাসের প্রয়োজন হইত এবং প্রত্যেক ক্রীতদাসকে প্রত্যহ আট ঘণ্টা পরিশ্রম করিতে হইত। কারণ, মানুষের কাৰ্য্যকরী ক্ষমতা অত্যন্ত কম। বিজ্ঞানসম্মত প্রণালীতে দেখা গিয়াছে যে, একটি ঘোড়া দশজন মানুষের কাজের সমান কাজ করিতে পারে। একটি ঘোড়া এক ঘণ্টা কাজ করিলে ৩/৪  ইউনিট কাজ হয় ; – সুতরাং, একজন লোক আট ঘণ্টা খাটিলে, ত্রৈরাশিক  পন্থায় দেখা যাইবে যে, মাত্র ৩*৪/৪*১০ , অর্থাৎ ৩/৫ ইউনিট  কাজ করিতে পারে। যদি ধরা যায় যে, ক্রীতদাস বৎসরে তিন শত দিন কাজ করে, তাহা হইলে তাহার সারা বৎসরে কাজের পরিমাণ হয় ৩/৫* ৩০০ অর্থাৎ একশত আশী ইউনিট। অতএব, দুই হাজার ইউনিট কাজ পাইতে হইলে ইংলণ্ডের প্রত্যেক ব্যক্তির প্রায় এগার জন ক্রীতদাসের প্রয়োজন হইত।

 যদি পাঠকগণ এই সহজ হিসাবটি বুঝিতে চেষ্টা করেন  তবে দেখিতে পাইবেন যে, আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির পক্ষে কতটা সুন্দর পন্থা নির্দেশ করিয়াছে। প্রাকৃতিক শক্তিকে কাৰ্যে বিনিয়োগ করার ফলে প্রতি ইংলণ্ডবাসী কম-বেশ দশটি ক্রীতদাসের পরিশ্রমলব্ধ  সম্পদের অধিকারী হইয়াছে। শুধু তাহাই নয়, এই ‘ক্রীতদাস’কে বাধ্য রাখার জন্য আয়াস স্বীকার করিতে  হয় না, কাৰ্যপন্থা সুনির্দিষ্ট করিয়া কেবলমাত্র ‘সুইচ, টিপিবামাত্র ‘ক্রীতদাস’ স্বতস্ফূর্ত্তিতে কাজ করিয়া যায়। বেত্রাঘাতের বালাই নাই, পুলিস বা সিপাহী মোতায়েন রাখিবার আবশ্যকতা নাই। ইংলণ্ড, আমেরিকা ও জাপান এতটা ঋদ্ধিশালী হইয়াছে এই প্রাকৃতিক শক্তি প্রয়োগের ফলেই, এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনও অনেক উন্নত স্তরে উঠিয়াছে। এক্ষণে বক্তব্য, যদি এদেশের সুমহান্ অধ্যাত্ম তত্ত্বের সাধকগণ এবং তথা গান্ধী-পন্থিগণ এই সামান্য তত্ত্বটি উপলব্ধি করিয়া কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর হন তবে আমাদের দেশ  চরকা, গরুর গাড়ী, বৈদিক তাঁত ও প্রাচীন শাস্ত্রের মারাত্মক আধ্যাত্মিকতার হস্ত হইতে নিষ্কৃতি লাভ করিয়া ভবিষ্যতে মহীয়সী সভ্যতার পথে দ্রুত অগ্রসর হইতে পারে। ভারত প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ; যদি একটি সুচিন্তিত কার্যপ্রণালী স্থির করিয়া দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে মানুষের সর্ববিধ কাৰ্যে প্রয়োগ করিবার দেশব্যাপী প্রচেষ্টা হয় তাহা হইলে আশা করা যাইতে পারে যে দশ বৎসরের মধ্যে ভারতের জনপিছু দ্বিগুণ আয় করা কিছু অসম্ভব নয়। জাতীয় পরিকল্পনা সমিতি সম্প্রতি এই কাৰ্যপন্থা নির্ধারণে নিযুক্ত আছেন।

প্রাচীনকালে ও মধ্যযুগে লোকের নিজের দেশ ছাড়া, অন্য দেশ সম্বন্ধে ধারণা অতি অল্পই ছিল, ভিন্নদেশের ও ভিন্ন ধর্মী লোককে তাহারা বর্বর, অসভ্য ও পাপাসক্ত বলিয়া মনে করিত ; এক দেশের লোকের পক্ষে অন্য দেশে ভ্রমণ করা বিপজ্জনক ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের প্রসাদে পৃথিবীর অতি দুরতম দেশের মধ্যেও সংযোগ স্থাপিত হইয়াছে, বিভিন্ন দেশের লোক পরস্পর পরস্পরকে জানিতে শিখিয়াছে। বিজ্ঞান ব্যক্তিগত জীবনকে যতটা সুখী ও উন্নত করিয়াছে তৎসম্বন্ধে অধিক বলা বাহুল্য মনে করি।

(ডাউনলোড লিংক)

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.

Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.

This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.

Leave a comment

Your email will not be published.