ইসলামে পর্দাপ্রথা – স্বাধীনা ও দাসীর পার্থক্যকরণ

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

আজকাল বাঙলাদেশের পথেঘাটে এক শ্রেনীর মানুষ দেখা যাচ্ছে, যারা কোন মেয়ের পোষাক কেমন তা নিয়ে রাস্তাঘাটেই রীতিমত মেয়েদের ওয়াজ নসিহত করতে শুরু করে। মাঝেমাঝে শুধু ওয়াজ নসিহতের মধ্যেই সেগুলো সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেক সময় তারা সেইসব নারীদের নোংরা ভাষায় গালাগালি এবং মারধর পর্যন্ত করে। অনেক জায়গাতে টেনে হিচড়ে এদের পোষাক খুলে নেয়ার চেষ্টাও হয়। রীতিমত হেনস্থা এবং অপমান অপদস্থ করা হয়ে থাকে। সাধারণত মুমিন ভাইয়েরা ইউরোপ আমেরিকায় বোরখা পরার স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, বিদেশে কোথায় কোন স্কুলে বোরখা নিষিদ্ধ হলো এই নিয়ে কান্নাকাটি করে হ্যাশট্যাগের বন্যা বহিয়ে দেন। সেইসব দেশে যেখানে তারা সংখ্যালঘু, সেসব দেশে তারা পোষাকের স্বাধীনতার পক্ষে দারুণ সোচ্চার। কিন্তু যে দেশে মুসলমান সংখ্যাগুরু সেইসব দেশে কিন্তু পোষাকের স্বাধীনতায় তারা একদমই বিশ্বাস করেন না। রাস্তাঘাটে রীতিমত শরীয়া পুলিশিং চলে। আসুন এরকম একটি ভিডিও দেখে নিই,

এই দৃশ্য পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে বহুবছর আগে থেকেই দেখা যাচ্ছিল, বাঙলাদেশেও এই শরীয়া পুলিশিং এর কালচারের আমদানী ঘটেছে। কিন্তু কোন মেয়ে কোন পোষাক পরবে, কিরকম পোশাক পরবে, সেটি বলে দেয়ার তারা কে? সেইসাথে, রাস্তায় মেয়েদের এভাবে হেনস্থা করার সাহসও বা তারা পায় কোথা থেকে! সাধারণত এই ধরণের মানুষেরা নিজেদের ইসলামের রক্ষক বলেই দাবী করে। তাই প্রশ্ন জাগে, ইসলামে কী এরকম কাজের কোন বৈধতা আছে? হযরত উমরের একটি ঘটনার কথা আমরা এখানে আলোচনা করবো, এবং দেখবো যে, এরকম ঘটনার বৈধতা ইসলামে আছে নাকি নেই।

প্রতিটি মানুষের এই অধিকার থাকা উচিত, কোন ধরণের বাধাবিপত্তি ছাড়া, ভয়ভীতি বা সামাজিক চাপ ছাড়া সে যেন নিজের পোষাক নিজে পছন্দ করতে পারে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পোষাকের স্বাধীনতা হচ্ছে, ব্যক্তির পছন্দ বা অপছন্দ, দুইটির যেকোনটি করারই অধিকার। ধর্মীয় রক্ষণশীল সমাজে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, ধর্ষিত বা নির্যাতিত নারীকেই ধর্ষিত বা নির্যাতিত হওয়ার জন্য দোষারোপ করা। দোষারোপ করা হয় এইভাবে যে, মেয়েটিরই চরিত্র ঠিক ছিল না! তার পোষাক ভাল ছিল না! রাতের বেলা বাইরে কেন গেল! এগুলো বলে বলে, এগুলো প্রচার করে করে আসলে সেইসব ধর্ষকদেরই আমাদের সমাজে উৎসাহ দেয়া হয়। আর যখন ধর্ষণের হাত থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য মেয়েদেরই ওয়াজ নসিহত করা হয়, মেয়েদের ওপরই বোরখা হিজাব চাপিয়ে দেয়া হয়, এই ধরণের শিক্ষা আসলে নারী নির্যাতক এবং ধর্ষকদেরই উৎসাহিত করে। এই বিষয়টি নিয়েও আজকে আমরা খানিকটা আলোচনা করবো।

একটি বহুল প্রচলিত ইসলামিক মিথ্যাচার হচ্ছে এমন যে, ইসলাম নারীর জন্য পর্দা প্রথার সংযোজন করেছিল নারীর সম্মান রক্ষার স্বার্থে। অথচ ইসলামের পূর্বেও মক্কার পৌত্তলিক কোরাইশদের মধ্যে নারীদের জন্য পর্দা প্রথা ছিল এবং মদিনায় যাওয়ার পরে উমরের ক্রমাগত চাপ প্রয়োগের কারণেই পর্দার বিধান নাজিল হয় বলে ইসলামিক সূত্রগুলো থেকে জানা যায়। পর্দা প্রথার আবির্ভাব এবং বিধানসমূহ কীভাবে ইসলামে যুক্ত হলো, কোন প্রেক্ষাপটে কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কী ঘটেছিল, সব বিস্তারিতভাবে না জানলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে না। আজকে এই লেখাটিতে আমরা আলোচনা করবো, ইসলামের পর্দা প্রথার উদ্ভব ‘শালীনতা’র সাথে কতটা সম্পর্কিত, আর দাসীদের সাথে সম্ভ্রান্ত নারীদের পার্থক্যকরণ এই ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপুর্ণ ছিল সেটি। সত্যিকার অর্থে ইসলামে পর্দা প্রথার উদ্ভব ঘটেছিল দাসী এবং স্বাধীনা নারীর পার্থক্য করার জন্যেই। বিষয়টি অসংখ্য তথ্য ইসলামি সূত্রগুলো থেকেই পাওয়া যায়। আসুন সেই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ ও যাচাই করি।

পর্দাপ্রথা কাকে বলে

পর্দা প্রথা হচ্ছে রক্ষণশীল ইহুদি খ্রিস্টান মুসলিম জনসমাজে এবং অন্যান্য কিছু ধর্মগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত একটি প্রথা, যেখানে বিশেষভাবে নারীর জন্য কিছু বিশেষ পোষাক নির্ধারণ করা হয়। পৃথিবীর অনেক ইসলাম প্রধান দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে পর্দার প্রচলন রয়েছে এবং বোরখা হিজাব ইত্যাদি না পরা হলে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনের অনেক সূরাতে পর্দা প্রথার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]

অতঃপর যদি তোমরা সেখানে কাউকে না পাও তাহলে তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও’ তাহলে ফিরে যাবে। এটাই তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র। তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত। (সূরা আন নূর, আয়াত ২৮)

মুমিন মহিলাদের বলো, তারা যেন তাদের নজর সংযত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে, সাধারণ প্রকাশ থাকা ব্যতীত তাদের আবরণ প্রকাশ যেন না করে, তাদের ঘাড় ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা ঢেকে রাখে, আর তাদের আবরণ যেন প্রকাশ না করে তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র কিংবা স্বামী-পুত্র, ভাই, ভাইপো, বোন, বোনপো কিংবা চাকরাণী যারা তাদের অধিকারভুক্ত কিংবা অনুগত, যৌন কামনা শুন্য পুরুষ কিংবা নারী – গোপন অঙ্গে অজ্ঞ বালক ব্যতীত অন্যদের সম্মুখে সজোরে পদ নিক্ষেপ না করে নিজেদের আবরণ প্রকাশের কারণে, হে মুমিনরা সার্বিকভাবে তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে সফলকাম হতে পার।(সূরা  আন নূর, আয়াত ৩১)

আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তারাও যেন অনুমতি চায় যেমনিভাবে তাদের অগ্রজরা অনুমতি চাইত। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা আন-নূর, আয়াত ৫৯)

আর বৃদ্ধা নারীরা, যারা বিয়ের প্রত্যাশা করে না, তাদের জন্য কোন দোষ নেই, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের কিছু পোশাক খুলে রাখে এবং এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী। (সূরা আন-নূর, আয়াত ৬০)

হে নবী-পত্নিগণ, তোমরা অন্য কোন নারীর মত নও। যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলবে। (সূরা আল আহজাব, আয়াত ৩২)

আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাক-জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। হে নবী পরিবার, আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পূতপবিত্র রাখতে। (সূরা আল আহজাব, আয়াত ৩৩)

হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর ঘরসমূহে প্রবেশ করো না; অবশ্য যদি তোমাদেরকে খাবারের অনুমতি দেয়া হয় তাহলে (প্রবেশ কর) খাবারের প্রস্ত্ততির জন্য অপেক্ষা না করে। আর যখন তোমাদেরকে ডাকা হবে তখন তোমরা প্রবেশ কর এবং খাবার শেষ হলে চলে যাও আর কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ো না; কারণ তা নবীকে কষ্ট দেয়, সে তোমাদের বিষয়ে সঙ্কোচ বোধ করে; কিন্তু আল্লাহ সত্য প্রকাশে সঙ্কোচ বোধ করেন না। আর যখন নবীপত্নীদের কাছে তোমরা কোন সামগ্রী চাইবে তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে; এটি তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র। আর আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তার (মৃত্যুর) পর তার স্ত্রীদেরকে বিয়ে করা কখনো তোমাদের জন্য সঙ্গত নয়। নিশ্চয় এটি আল্লাহর কাছে গুরুতর পাপ। (সূরা আল আহজাব, আয়াত ৫৩)

হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল, ‘তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। *( জিলবাব হচ্ছে এমন পোশাক যা পুরো শরীরকে আচ্ছাদিত করে। (সূরা আল আহজাব, আয়াত ৫৯)

পার্থক্যকরণের আয়াত

ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের সূরা আহজাবের ৫৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, স্বাধীনা নারী এবং দাসীদেরকে আলাদাভাবে চেনার সুবিধার্থে মুমিনা নারীদের পর্দা করতে বলা হচ্ছে, যেন মুমিনা নারীদের রাস্তাঘাটে উত্যক্ত করা না হয়। এই আয়াতটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ, তাই আমরা বেশ কয়েকটি তাফসীর থেকে এই আয়াতের অনুবাদ ও অর্থ দেখে নিবো। এবারে দেখি আয়াতটির কয়েকটি অনুবাদ। [8]

হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন নারীদেরকে বলে দিন: তারা যেন তাদের পরিধেয় বস্ত্র দিয়ে শরীরকে এমনভাবে ঢেকে নেয় যাতে পর পুরুষদের সামনে তাদের গোপনীয় অঙ্গ প্রকাশ না পায়। এটি তাদেরকে স্বাধীন নারী বলে চিহ্নিত করার পক্ষে সহায়ক। ফলে তারা কষ্টের সম্মুখীন হবে না যেমন কষ্টের সম্মুখীন হয় পারাধীন নারীরা। আল্লাহ তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের জন্য ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
— Bengali Mokhtasar
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, তোমার কন্যাদেরকে আর মু’মিনদের নারীদেরকে বলে দাও- তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয় (যখন তারা বাড়ীর বাইরে যায়), এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে এবং তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
— Taisirul Quran
হে নাবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মু’মিনা নারীদেরকে বলঃ তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবেনা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
— Sheikh Mujibur Rahman
হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল, ‘তারা যেন তাদের জিলবাবে*র কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। * জিলবাব হচ্ছে এমন পোশাক যা পুরো শরীরকে আচ্ছাদিত করে।
— Rawai Al-bayan
হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয় [১]। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না [২]। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

তাফসীরে ইবনে কাসীর

এবারে আসুন তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে ৩৩ নম্বর সূরার ৫৯ নম্বর আয়াতের তাফসীরের কিছু অংশ দেখে নিই। [9]

পর্দাপ্রথা, তাফসীরে ইবনে কাসীর নবম খণ্ড পৃষ্ঠা ১৮৭

তাফসীরে মাজহারী

এবারে আসুন আরেকটি বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে মাজহারী থেকে দেখে নিই, এই বিষয়ে কী বলা আছে, [10]

তাফসীরে মাজহারী আহজাব ১
তাফসীরে মাজহারী আহজাব ২

তাফসীরে ইবনে আব্বাস

এবারে নবীর ঘনিষ্ঠ সাহাবী ইবনে আব্বাসের তাফসীর গ্রন্থ থেকে এই আয়াতটির তাফসীর দেখে নিই, [11]

তাফসীরে ইবনে আব্বাস পৃষ্ঠা ৭৬

তাফসীরে মারেফুল কোরআন

এবারে আসুন আধুনিক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ তাফসীর গ্রন্থ মারেফুল কোরআন থেকে এই আয়াতটির তাফসীর দেখি, [12]

মারেফুল কোরআন আহজাব ৫৯ পৃষ্ঠা ২২১
দাসীরা সুবিধাপ্রাপ্ত, অর্থাৎ স্বাধীনা নারীদের জন্য এটি অসুবিধা?
মারেফুল কোরআন আহজাব ৫৯ পৃষ্ঠা ২২২

পর্দার বিধান নাজিলের কারণ

অনেকগুলো সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে নবী মুহাম্মদ নারীর পর্দার বিধান সম্পর্কে বেশ উদাসীন ছিলেন। এই বিষয়ে উনার তেমন আগ্রহই ছিল না। এই বিষয়ে রীতিমত উদ্গ্রীব ছিল হযরত উমর। উমরের কাকুতিমিনতি ও বারবার অনুরোধের পরে কোরআনের আয়াত নাজিল হয়েছিল বলে জানা যায় সহিহ হাদিস থেকে। উমর এই নিয়ে রীতিমত গর্বও করতেন যে, অন্তত তিনটি বিষয়ে উনার পরামর্শে আল্লাহ পাক আয়াত নাজিল করেন।

মূল ঘটনাটি হচ্ছে, ইসলামে পর্দার বিধান নাজিল হয়েছিল দুইটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। এর একটি হচ্ছে নবীর পালিত পুত্রের স্ত্রী জয়নবকে বিয়ে করার ঘটনা, আরেকটি হচ্ছে উমরের কাকুতিমিনতি। আমাদের এই আলোচনায় শুধুমাত্র উমরের ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, কারণ এটি এই আলোচনার সাথে সম্পর্কিত। [13] [14] [15] [16]

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫২/ তাফসীর
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
৪৪২৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে ভাল ও মন্দ লোক আসে। আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের ব্যাপারে পর্দার আদেশ দিতেন (তবে ভাল হত) তারপর আল্লাহ্ তা’আলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

উমর ও পর্দার আয়াত

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৮/ সালাত
‏পরিচ্ছদঃ ২৭৩। কিবলা সম্পর্কে বর্ণনা।
৩৯৩। আমার ইবনু ‘আওন (রহঃ) …. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উমর (রাঃ) বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর অহির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা যদি মাকামে ইবরাহীম কে সালাতের স্থান বানাতে পারতাম! তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى‏) “তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান বানাও” (২ : ১২৫)
(দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি যদি আপনার সহধর্মিনীগনকে পর্দার আদেশ করতেন! কেননা, সৎ ও অসৎ সবাই তাদের সাথে কথা বলে। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়।
আর একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাদেরকে বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদের তালাক দেয়, তাহলে তাঁর রব তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী দান করবেন। (৬৬ : ৫) তখন এ আয়াত নাযিল হয়।

(অপর সনদে ইবন আবু মারয়াম (রহঃ) …. আনাস (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

উমরের অনুরোধে আয়াত

উমর নবীর স্ত্রীকে উত্যক্ত করেছিলেন

সরাসরি সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর সরাসরিই নবীপত্নী সাওদাকে রাস্তায় উত্যক্ত করেছিলেন, তার পর্দা না থাকার কারণে। বর্তমান সময়ে অনেক জায়গাতেই দেখা যায়, পোষাকের কারণে রাস্তাঘাটে মেয়েদের নাজেহাল করা হয়, নানা বাজে মন্তব্য করা হয়। কার পোষাক কীরকম হবে, এই নিয়ে কিছু মানুষের সীমাহীন চুলকানি। তারা এইসব কাজের প্রেরণা হযরত উমর থেকে পান কিনা, সেটিও চিন্তার বিষয়। কারণ উমর নিজেও একই কাজ করতেন বলে জানা যায়। ঘটনাটি হচ্ছে এরকম, পরপুরুষ দেখে ফেলবে এই ভয়ে সারাদিন প্রশ্রাব পায়খানা আটকে রেখে রাতের বেলা নবীর স্ত্রীগণ খোলা ময়দানে প্রাকৃতিক কাজ করার জন্য বের হতেন। সেরকম এক সময়ে প্রাকৃতিক কাজ করার জন্য বের হলে উমর সাওদার পিছু নেন এবং পথ আটকে রাখেন। একইসাথে, তিনি সাওদাকে তিরষ্কার করেন ঠিকভাবে পর্দা না করার জন্য। পথ আটকে রাখার জন্য প্রাকৃতিক কাজ করতে না যেতে পেরে সাওদা নবীর কাছে নালিশ নিয়ে যান এবং নবী তাকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেন। আসুন হাদিসগুলো পড়ে নিই, [17] [18] [19] [20] [21]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ্‌ তা’আলার বাণীঃ لا تدخلوا … عند الله عظيما হে মু’মিনগণ! তোমরা খাওয়ার জন্য খাবার প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে নাবীর ঘরে তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত প্রবেশ করবে না; তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং খাওয়া শেষ হলে নিজেরাই চলে যাবে, কথাবার্তায় মাশগুল হয়ে পড়বে না। তোমাদের এ আচরণ অবশ্যই নাবীকে পীড়া দেয়। তিনি তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচবোধ করেন না। তোমরা যখন তাঁর পত্নীদের নিকট হতে কোন কিছু চাইবে, তখন পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র উপায়। আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্নীদেরকে বিবাহ করা তোমাদের কারও পক্ষে কখনও বৈধ নয়। এটা আল্লাহর কাছে সাংঘাতিক অপরাধ। বলা হয় إِنَاهُ খাদ্য পরিপাক হওয়া। এটা أَنَى يَأْنِيْ أَنَاةًথেকে গঠিত। لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُوْنُ قَرِيْبًا সম্ভবত ক্বিয়ামাত অতি নিকটবর্তী। যদি তুমি স্ত্রী লিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার কর, তবে قَرِيْبَةً বলবে। আর যদি الصِّفَةَ না ধর ظَرْفًا বা بَدَلًا হিসেবে ব্যবহার কর তবে ‘তা’ নিয়ে যুক্ত করবে না। তেমনি এ শব্দটি একবচন, দ্বি-বচন, বহুবচন এবং নারী-পুরুষ সকল ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৪৪৩২, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৪৭৯৫
৪৪৩২। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর সাওদা প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে যান। সাওদা এমন মোটা শরীরের অধিকারিণী ছিলেন যে, পরিচিত লোকদের থেকে তিনি নিজকে গোপন রাখতে পারতেন না। উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে দেখে বললেন, হে সাওদা! জেনে রাখ, আল্লাহর কসম, আমাদের দৃষ্টি থেকে গোপন থাকতে পারবে না। এখন দেখ তো, কেমন করে বাইরে যাবে? আয়িশা (রাঃ) বলেন, (এ কথা শুনে) সাওদা (রাঃ) ফিরে আসলেন। আর এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে রাতের খানা খাচ্ছিলেন। তাঁর হাতে ছিল টুকরা হাড়। সাওদা (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম। তখন উমর (রাঃ) আমাকে এমন এমন কথা বলেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ সময় আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নিকট ওহী নাযিল করেন। ওহী অবতীর্ণ হওয়া শেষ হল, হাড় টুকরা তখনও তাঁর হাতেই ছিল, তিনি তা রাখেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই প্রয়োজনে তোমাদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬৬/ অনুমতি চাওয়া
পরিচ্ছেদঃ ২৫৭০. পর্দার আয়াত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৫৮০৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৬২৪০
৫৮০৬। ইসহাক (রহঃ) … নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রায়ই বলতেন যে, আপনি আপনার সহধর্মিণীদের পর্দা করান। কিন্তু তিনি তা করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে রাতে মাঠের দিকে বেরিয়ে যেতেন। একবার সাওদা বিনত যামআ (রাঃ) বেরিয়ে গেলেন। তিনি ছিলেন লম্বাকৃতির মহিলা। উমর (রাঃ) মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তাই তিনি তাকে দেখে ফেললেন এবং পর্দার নির্দেশ নাযিল হওয়ার আগ্রহে বললেনঃ ওহে সাওদা! আমি আপনাকে চিনে ফেলেছি। অতঃপর আল্লাহ তায়াআলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪০/ সালাম
পরিচ্ছেদঃ ৭. মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য স্ত্রীলোকের বাইরে যাওয়ার বৈধতা
৫৪৮২। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমাদের উপরে) পর্দার বিধান আরোপের পর সাওদা (রাঃ) তার প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলেন, ছিলেন স্থুলদেহী, দেহাকৃতিতে উচ্চতায় তিনি নারীদের ঊর্ধ্বে থাকতেন; যারা তাঁকে চিনে, তাদের কাছে নিজেকে লুকাতে পারতেন না। তখন উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাকে দেখতে পেয়ে বললেন, হে সাওদা! আল্লাহর কসম! তুমি আমাদের কাছে লুকাতে পারবে না। ভেবে দেখ, কেমন করে তুমি বের হচ্ছ? আয়িশা (রাঃ) বলেন, একথা শুনে তিনি উল্টা ফিরে এলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে ছিলেন এবং রাতের খাবার গ্রহণ করছিলেন। তাঁর হাতে তখন অল্প গোশতযুক্ত একখানা হাড় ছিল।
সাওদা (রাঃ) ঢুকে পড়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি বের হয়েছিলাম, উমার আমাকে এই এই কথা বলেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি ওহী নাযিল করেন। তারপর তাঁর উপর থেকে (ওহীর) অবস্থার অবসান হয়। আর তখনও হাড়টি তাঁর হাতে ছিল, তা তিনি রেখে দেননি। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে (এ বর্ননা আবূ কুরায়ব-এর)।
আর আবূ বকর (রহঃ) বর্ণিত রিওয়ায়াতে রয়েছে, “তাঁর দেহ মহিলাদের ঊর্ধ্বে থাকত।” আবূ বকর (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসে অধিক রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাবী হিশাম (রহঃ) বলেছেন,الحاجة “প্রয়োজন” অর্থাৎ পায়খানার হাজত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫৪/ বিয়ে-শাদী
পরিচ্ছেদঃ ২৫৩৯. প্রয়োজনে মহিলাদের ঘরের বাইরে যাওয়া
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৪৮৫৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৫২৩৭
৪৮৫৭। ফারাওয়া ইবনু আবূল মাগ্‌রা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে উম্মাহাতুল মু’মিনীন সওদা বিনত জামাআ (রাঃ) কোন কারণে বাইরে গেলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে দেখে চিনে ফেললেন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! হে সওদা (রাঃ) তুমি নিজেকে আমাদের কাছ থেকে লুকাতে পারনি। এতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে গেলেন এবং উক্ত ঘটনা তাঁর কাছে বললেন। তিনি তখন আমার ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন এবং তাঁর হাতে গোশতপূর্ণ একখানা হাড় ছিল। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে ওহী নাযিল হল। যখন ওহী নাযিল হওয়া শেষ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা প্রয়োজনে তোমাদের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৪০/ সালাম
পরিচ্ছদঃ ৭. মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য স্ত্রীলোকের বাইরে যাওয়ার বৈধতা
৫৪৮৪। আবদুল মালিক ইবনু শুআয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার সময় রাতের বেলা ‘মানাসি’ এর দিকে বেরিয়ে যেতেন। الْمَنَاصِع (মানাসি) হল প্রশস্ত ময়দান। ওদিকে উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতেন, আপনার স্ত্রীগণের প্রতি পর্দা বিধান করুন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেননি। কোন এক রাতে ইশার সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনা সাওদা বিনত যাম’আ (রাঃ) বের হলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘাঙ্গী মহিলা। উমার (রাঃ) তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন, হে সাওদা! আমরা তোমাকে চিনে ফেলেছি। পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষায় (তিনি এরূপ করলেন)। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন আল্লাহর তাআলা পর্দা-বিধি নাযিল করলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এবারে সরাসরি বই থেকেও দেখে নিই, [22]

সাওদা ও উমর

উমর দাসীদের পেটাতেন

ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিত্ব হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং ইসলামের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তার অনেকজন উম্মু ওয়ালাদ ছিল বলে জানা যায়। তার বাসায় ক্রীতদাসীগণ নগ্ন বক্ষে পানীয় পরিবেশন করতেন বলে হাদিস থেকে জানা যায়। নিচর হাদিসটি দেয়া হচ্ছে, সেটি পড়ুন। এই হাদিসটি ইসলাম ওয়েব ডট নেট নামক প্রখ্যাত একটি ফতোয়া এবং হাদিস বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে। মূল হাদিস গ্রন্থেও হাদিসটি বর্ণিত আছে। হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে কিতাব আল সুনান আল কুবরা গ্রন্থে। [23], এবং প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদিসটি তাহক্বীক বা করেছেন। উল্লেখ্য, একটা হাদীস ঠিক কতখানি বিশুদ্ধ তা নির্ণয়ের জন্য তাহক্বীক করা হয়।

كتاب السنن الكبرى » كتاب الصلاة » جماع أبواب لبس المصلي » باب عورة الأمة
بحث في نص الكتاب معلومات عن الكتاب كتاب السنن الكبرى
2جزءالتالي صفحة
227
السابق
3127 ( وأخبرنا ) أبو القاسم عبد الرحمن بن عبيد الله الحرفي ببغداد ، أنبأ علي بن محمد بن الزبير الكوفي ، ثنا الحسن بن علي بن عفان ، ثنا زيد بن الحباب عن حماد بن سلمة ، قال : حدثني ثمامة بن عبد الله بن أنس عن جده أنس بن مالك قال : كن إماء عمر – رضي الله عنه – يخدمننا كاشفات عن شعورهن ، تضرب ثديهن .
قال الشيخ : والآثار عن عمر بن الخطاب – رضي الله عنه – في ذلك صحيحة ، وإنها تدل على أن رأسها ورقبتها وما يظهر منها في حال المهنة ليس بعورة ، فأما حديث عمرو بن شعيب فقد اختلف في متنه ؛ فلا ينبغي أن يعتمد عليه في عورة الأمة ، وإن كان يصلح الاستدلال به وبسائر ما يأتي عليه معه في عورة الرجل . وبالله التوفيق

হাদিসের মূল অংশঃ حدثني ثمامة بن عبد الله بن أنس عن جده أنس بن مالك قال : كن إماء عمر – رضي الله عنه – يخدمننا كاشفات عن شعورهن ، تضرب ثديهن .

হাদিসের ইংরেজি অনুবাদঃ Thumama bin Abdullah bin Anas told me on the authority of his grandfather Anas bin Malik who said: They were the slave girls of Umar – may God be pleased with him – who served us, revealing their hair, hitting their breasts.

এই হাদিসটিতে দেখা যাচ্ছে, যার বাঙলা অনুবাদ হচ্ছে, থুমামা ইবন আবদুল্লাহ বিন আনাস তার দাদা আনাস বিন মালিকের বরাতে বর্ণনা করেছেন, খলিফা উমরের মহলে দাসীগণ আমাদের পানীয় পরিবেশন করতো, যাদের চুল দেখা যেতো, এবং সেই চুল তাদের স্তন্যে ধাক্কা খেতো। পাঠক লক্ষ্য করুন, এই হাদিসের এই অংশটি,

تضرب ثديهن .

এর অর্থ হচ্ছে, hitting their breasts. এই বিষয়ে আমরা আমাদের লাইভ আলোচনাগুলোতে আরবি মাতৃভাষা এমন একজনকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। উনি হাদিসটি অনুবাদ করে পরিষ্কারভাবে বলে গেছেন, এর অর্থ সাধারণভাবে খোলা স্তন। আরবিতে খোলা বা উন্মুক্ত স্তন বোঝাতেই এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। উল্লেখ্য, এই হাদিসটিকে আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী হাসান বা Good গ্রেডিং দিয়েছেন।

আসুন এই হাদিসটি এবং এর তাহক্বীক শায়খ আইনুল হুদার মুখ থেকে শুনে নিই,

এর সাথে প্রখ্যাত ইসলামিক আলেম আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ এবং মুফতি ইব্রাহীমের একটি বক্তব্য শুনি, যেখানে উনারা পরিষ্কারভাবে হাদিস বর্ণনা করছেন, যেখানে জানা যাচ্ছে হযরত উমর ক্রীতদাসীদের পেটাতেন, মুক্ত নারীদের মত পর্দা করার কারণে।

এবারে আসুন আশরাফুল হিদায়া গ্রন্থটি থেকে দেখে নিই, [24]

পর্দাপ্রথা 11

তাফসীরে মাজহারীতেও এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, [25]

পর্দাপ্রথা 13

একইসাথে, এই হাদিসগুলোও পড়া প্রয়োজন। নিচের হাদিসগুল থেকে স্পষ্ট হয়, দাসীর সতর বা আউরা আসলে কতটুকু।

সুনান আদ-দারাকুতনী
৩. নামায
পরিচ্ছেদঃ ৩. নামাযসমূহের তালিম দেওয়া এবং এজন্য প্রহার করার নির্দেশ এবং সতরের সীমা যা ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক
৮৬৩(২). মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ (রহঃ) … আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের শিশুদের সাত বছর বয়সে নামাযের (পড়ার) নির্দেশ দাও। তারা দশ বছর বয়সে পদার্পণ করলে নামাযের জন্য (তা না পড়লে) তাদের দৈহিক শাস্তি দাও এবং তাদের বিছানা পথক করে দাও। আর তোমাদের কেউ নিজের দাসকে বা নিজের শ্রমিককে তার দাসীর সঙ্গে বিবাহ দিলে সে যেন তার নাভির নিচ থেকে হাঁটুর উপর পর্যন্ত অঙ্গের প্রতি না তাকায়। কারণ নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত সতর (অবশ্য আবরণীর অঙ্গ)।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

সুনান আদ-দারাকুতনী
৩. নামায
পরিচ্ছেদঃ ৩. নামাযসমূহের তালিম দেওয়া এবং এজন্য প্রহার করার নির্দেশ এবং সতরের সীমা যা ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক
৮৬৪(৩). ইউসুফ ইবনে ইয়াকূব ইবনে ইসহাক ইবনে বাহলুল (রহঃ) … আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের শিশুদের সাত বছর বয়সে (পৌছলে) নামায পড়ার নির্দেশ দাও। তারা দশ বছর বয়সে পদার্পণ করলে (নামায পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য) তাদের দৈহিক শাস্তি দাও এবং তাদের বিছানা (তোমাদের থেকে) পৃথক করে দাও। আর তোমাদের কেউ তার দাসকে বা শ্রমিককে বিবাহ করালে সে যেন তার (স্ত্রীর) হাঁটু ও নাভির মধ্যবর্তী অঙ্গ না দেখে। কারণ নাভি ও হাঁটুর মধ্যবর্তী অঙ্গ লজ্জাস্থানের অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

সাফিয়্যা সম্পর্কে সন্দেহ

ইহুদী গোত্রকে উৎখাত করে গনিমতের মাল হিসেবে সাফিয়্যাকে তুলে আনার সময় নবীর সঙ্গী জিহাদী মুসলিমদের মধ্যে একটি সন্দেহ দেখা দেয়। সন্দেহটি হচ্ছে, পরিবার পরিজনের সবাইকে হত্যা করে যুদ্ধবন্দী করে ধরে আনা সাফিয়্যাকে নিয়ে সহবত করতে যাওয়া মুহাম্মদ কী সাফিয়্যার সাথে দাসী হিসেবে সহবত করছে, নাকি স্ত্রী হিসেবে সহবত করেছে। এই সন্দেহের অবসান হয় পরে যখন সাফিয়্যাকে পর্দার সাথে উটের ওপর উঠানো হয়। যেহেতু সাফিয়্যাকে পর্দার মধ্যে দেখা গেল, তখন নবীর সাহাবীগণ বুঝলেন যে, সাফিয়্যার সাথে স্ত্রী হিসেবে সঙ্গম করা হয়েছে, দাসী হিসেবে নয়। [26] [27] [28] [29]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/১৩. দাসী গ্রহণ এবং আপন দাসীকে মুক্ত করে বিয়ে করা।
৫০৮৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার এবং মদিনা্র মাঝে তিন দিন অবস্থান করলেন এবং হুয়ায়্যার কন্যা সাফীয়ার সঙ্গে রাতে বাসর যাপনের ব্যবস্থা করলেন। আমি মুসলিমদেরকে তাঁর ওয়ালীমার দাওয়াত দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদস্তরখানা বিছানোর নির্দেশ দিলেন এবং সেখানে গোশত ও রুটি ছিল না। খেজুর, পনির, মাখন ও ঘি রাখা হল। এটাই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়ালীমা। উপস্থিত মুসলিমরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল- তিনি (সফীয়্যাহ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীদের মধ্যে গণ্য হবেন, ক্রীতদাসীদের মধ্যে গণ্য হবেন। তাঁরা বলাবলি করলেন যে, যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফীয়ার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন, তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হিসাবে গণ্য করা হবে। আর যদি পর্দা না করা হয়, তাহলে তাঁকে ক্রীতদাসী হিসেবে মনে করা হবে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে অন্যত্র যাবার ব্যবস্থা করলেন, তখন সাফীয়ার জন্য উটের পিছনে জায়গা করলেন এবং তাঁর ও লোকদের মাঝে পর্দার ব্যবস্থা করলেন। [1][৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৪)
[1] জিন্ন-ইনসানের মহান নেতার ওয়ালীমাহ এর বিবরণে যা পাওয়া গেল তাত্থেকে মুসলিম জাতি শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের বিলাসিতা, অপচয় এবং অহংকার-প্রতিযোগিতা বন্ধ করবেন কি?
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ]
পরিচ্ছেদঃ ৬৪/৩৯. খাইবার -এর যুদ্ধ।
৪২১৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার ও মদিনার মাঝে একস্থানে তিনদিন অবস্থান করেছিলেন যাতে তিনি সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে বাসর করেছেন। আমি মুসলিমদেরকে ওয়ালীমার জন্য দাওয়াত দিলাম। অবশ্য এ ওয়ালীমাতে গোশতও ছিল না, রুটিও ছিল না। কেবল এতটুকু ছিল যে, তিনি বিলাল (রাঃ)-কে দস্তরখান বিছাতে বললেন। তা বিছানো হল। এরপর তাতে কিছু খেজুর, পনির ও ঘি রাখা হল। এ অবস্থা দেখে মুসলিমগণ পরস্পর বলাবলি করতে লাগল যে, তিনি [সফিয়্যাহ (রাঃ)] কি উম্মাহাতুল মু’মিনীনের একজন, না ক্রীতদাসীদের একজন? তাঁরা (আরো) বললেন, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন তাহলে তিনি উম্মাহাতুল মু’মিনীনেরই একজন বোঝা যাবে। আর পর্দার ব্যবস্থা না করলে তিনি দাসীদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর যখন তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] রওয়ানা হলেন তখন তিনি নিজের পেছনে সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর জন্য বসার জায়গা করে দিয়ে পর্দা খাটিয়ে দিলেন। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ]
পরিচ্ছেদঃ ৬৪/৩৯. খাইবার -এর যুদ্ধ।
৪২১২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার থেকে ফেরার পথে সফিয়্যাহ (রাঃ) বিন্তে হুয়াঈ-এর কাছে তিনদিন অবস্থান করে তার সঙ্গে বাসর যাপন করেছেন। আর (রাঃ) ছিলেন তাদের একজন যাদের জন্য পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।[1] [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৪)
[1] ইসলামী শরী‘আহ্তে ক্রীতদাসীর জন্য পর্দার হুকুম পালন করতে হতো না। কিন্তু স্বাধীন নারীদের জন্য পর্দা করতে হতো। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়া (রাঃ)-এর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করায় বুঝা গেল তিনি তাকে ক্রীতদাসী নয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

দাসী ও স্বাধীন্তার পর্দা

নিচের হাদিসটি থেকে বিষয়টি আরো বিস্তারিতভাবে বোঝা যায়- [30]

পর্দাপ্রথা 16
পর্দাপ্রথা 18

নবী দাসীদের হাত ধরতেন

কিছু সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, নবী অন্যের দাসীর সাথে মেলামেশাও করতেন। এমনকি হাত ধরাধরিও হতো। স্বাধীনা নারীর ক্ষেত্রে কিন্তু এমনটি হতো না। [31] [32]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬৫/ আচার ব্যবহার
পরিচ্ছেদঃ ২৪৯৩. অহংকার। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, (আল্লাহর বানী) عطفه অর্থাৎ তার ঘাড়। ثَانِيَ عطفه অর্থাৎ নিজে নিজে মনে অহমিকা পোষণকারী
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৫৬৪৫, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৬০৭১ – ৬০৭২
৫৬৪৫। মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর (রহঃ) … হারিসা ইবনু ওহাব খুযায়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জান্নাতীদের সম্পর্কে অবহিত করবো না? (তারা হলেন) ঐ সকল লোক যারা অসহায় এবং যাদের হীন মনে করা হয়। তারা যদি আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বসে, তাহলে তা তিনি নিশ্চয়ই পুরা করে দেন। আমি কি তোমাদের জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত করবো না? তারা হলোঃ রুঢ় স্বভাব, কঠিন হৃদয় ও দাম্ভিক।
মুহাম্মদ ইবনু ঈসা (রহঃ) সুত্রে আনাস ইবনু ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনাবাসীদের কোন এক দাসীও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত ধরে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেত। আর তিনিও তার সাথে চলে যেতেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ হারিসাহ ইবনু ওয়াহব (রাঃ)

সুনান ইবনু মাজাহ
৩১/ পার্থিব ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি
পরিচ্ছেদঃ ৩১/১৬. অহমিকা বর্জন এবং বিনয়-নম্রতা অবলম্বন
৫/৪১৭৭। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার কোন দাসী নিজ প্রয়োজনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাত ধরে তাঁকে নিজ ইচ্ছামত মদীনার কোন স্থানে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি তার হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতেন না (তার সাথে যেতেন)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

উপসংহার

উপরের আলোচনা থেকে এটি খুব ভালভাবেই বোঝা যায় যে, ইসলামে স্বাধীনা নারী এবং দাসীর সামাজিক মর্যাদা এবং সম্মান যেহেতু ভিন্ন, আল্লাহর কাছেও সেটি ভিন্ন এবং এই কারণেই আল্লাহপাক স্বাধীনা নারীদের উত্যক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য এরকম বিধান দিয়েছেন। যেখানে আল্লাহর নির্দেশটি এরকম হওয়ার কথা ছিল যে, হে মুমিন পুরুষেরা, তোমরা নারীদের রাস্তাঘাটে উত্যক্ত করো না। যদি কোন মুনাফেক বা কাফির বা মুমিনদের মধ্যে দুষ্টু লোক এই অপকর্ম করে, রাস্তায় নারীদের অত্যক্ত করে, সেসব পুরুষদের কঠিন শাস্তি দাও! এরকম বিধান না দিয়ে আল্লাহ নারীদের ওপরই কঠিন পর্দা প্রথা চাপিয়ে দিয়েছেন। এবং তাফসীরগুলোতে দাসীদের এই কঠিন পর্দার বিধান থেকে নিষ্কৃতি দেয়া হয়েছে, এরকম বলার মাধ্যমে এটিও স্বীকার করে নেয়া হয়েছে যে, এই কঠিন পর্দার বিধান মুমিনা নারীদের জন্য কষ্টদায়ক। তাফসীরগুলোতে লক্ষ্য করুন, খুব স্পষ্টই বলা হয়েছে যে, দাসীদের জন্য সহজ বিধান দেয়া হয়েছে যেন তাদের কষ্ট না হয়। অর্থাৎ ইসলামের আলমগণও জানতেন, এই বিধানটি স্বাধীনা নারীদের জন্য কষ্টকর হবে। একইসাথে, হযরত উমর রাস্তায় দাসীদের পিটিয়ে পর্দা খুলে নিতেন, এই হাদিস থেকেও বোঝা যায়, ইসলামে নারীদের শালীনতা রক্ষার জন্য নয়, বরঞ্চ স্বাধীনা সম্ভ্রান্ত নারী ও দাসীদের মধ্যে পার্থক্য করার জন্যেই এই বিধানটি দেয়া হয়েছে। যেন স্বাধীনা নারীদের কেউ রাস্তাঘাটে উত্যক্ত না করতে পারে। একইসাথে, উমরের হাদিসগুলো থেকে এটিও পরিষ্কার বোঝা যায়, ঠিকমত পর্দা না করলে তাকে রাস্তায় থামিয়ে তাকে নাজেহাল করা, পথ আটকে দেয়া, বাইরে যেতে না দেয়া, এগুলোও ইসলামেরই শিক্ষা। যা খুবই ভয়াবহ এবং আপত্তিকর। এই মধ্যযুগীয় মতাদর্শ ক্রমশ আমাদের দেশেও শক্তিশালী হচ্ছে। এই মতাদর্শ আমাদের কোন অন্ধকারে নিয়ে যাবে, এটি বলাই বাহুল্য।

তথ্যসূত্রঃ

  1. সূরা আন নূর, আয়াত ২৮ []
  2. সূরা  আন নূর, আয়াত ৩১ []
  3. সূরা আন-নূর, আয়াত ৫৯ []
  4. সূরা আন-নূর, আয়াত ৬০ []
  5. সূরা আল আহজাব, আয়াত ৩২ []
  6. সূরা আল আহজাব, আয়াত ৩৩ []
  7. সূরা আল আহজাব, আয়াত ৫৩ []
  8. সূরা আল আহজাব, আয়াত ৫৯ [][]
  9. তাফসীরে ইবনে কাসীর, নবম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা ১৮৭ []
  10. তাফসীরে মাজহারী, অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯১, ৩৯২ []
  11. তাফসীরে ইবনে আব্বাস, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৭৬ []
  12. তাফসীরে মা-আরেফুল কোরআন, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২২১, ২২২ []
  13. সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৪৪২৭ []
  14. সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৪৭ []
  15. সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩৯৩ []
  16. সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা ২২৬ []
  17. সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৪৪৩২ []
  18. সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৫৮০৬ []
  19. সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৮২ []
  20. সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫৭ []
  21. সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৮৪ []
  22. সহিহ মুসলিম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পঞ্চম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৮৭ []
  23. كتاب السنن الكبرى » كتاب الصلاة » جماع أبواب لبس المصلي » باب عورة الأمة []
  24. আশরাফুল হিদায়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা, নবম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১৫ []
  25. তাফসীরে মাজহারী, নবম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৬৭ []
  26. সহিহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বরঃ ৫০৮৫ []
  27. সহিহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বরঃ ৪২১৩ []
  28. সহিহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বরঃ ৪২১২ []
  29. সহীহুল বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠা ১৪৬ []
  30. সহিহ মুসলিম শরীফ (প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ বঙ্গানুবাদ), মাকতাবাতুল হাদীছ প্রকাশনী, ১৩ তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৭৮, ১৮০ []
  31. সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৫৬৪৫ []
  32. সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ৪১৭৭ []
আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]y.com

Leave a Reply

%d bloggers like this: