একটি প্রেমের গল্প

Print Friendly, PDF & Email

সময়টি আরব অঞ্চলে নবী মুহাম্মদের ত্রাস সৃষ্টির। দিকে দিকে ইসলামের ঝাণ্ডা নিয়ে নবী মুহাম্মদের সাহাবীরা ছুটে যাচ্ছে, এবং গোত্রগুলোকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানাচ্ছে। ইসলাম গ্রহণ করলে ভাল, নইলে আহলে কিতাবিদের জন্য অপমানিত অবস্থায় নত হয়ে জিজিয়া দাও নতুবা কতল করা হবে। মুশরিকদের জন্য তো শুধুমাত্র কতল কিংবা ইসলাম গ্রহণের বিধান। সেইসব আলোচনা ও রেফারেন্স অন্যত্র দেয়া হয়েছে, আজকের আলোচনার বিষয়, একটি অতি তুচ্ছ প্রেমের ঘটনা। আল্লাহ আর মুহাম্মদের আগ্রাসী যুদ্ধে যেই গল্পটির কথা কেউ মনে রাখে নি। যেই প্রেমিক আর প্রেমিকার কথা সবার অগোচরেই রয়ে গেছে। যাদের প্রাণ গেছে নবীর ইসলাম প্রচারের উদগ্র বাসনায়, জিহাদের ডামাডোলে।

খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে ভয়াবহতম খুনীদের একজন। নৃশংসতায় তার কোন তুলনা ছিল না। সে এত নির্মমতার সাথে এত কাফের হত্যা করেছে, যার কোন হিসেবই নেই। এত কাফের গোত্রকে তিনি সমূলে উধাও করে দিয়েছে, এত মানুষ মেরেছেন, যার কারণে তার নাম শুনলেও তার নৃশংসতার কারণে কাফেরদের এলাকাতে মহিলারা ভয়ে আতঙ্কে কাঁদতে শুরু করতো বলে শোনা যায়। সেই খালিদ ইবন ওয়ালিদকে পাঠানো হয়েছিল একটি গোত্রে ইসলামের দাওয়াত দিতে। খালিদের মত নৃশংস নরঘাতককে দেখেই সেই গোত্রের লোকেরা অস্ত্র ফেলে দিয়ে আত্মসমর্পন করে। কোন আলাপ আলোচনা ছাড়াই তাদেরকে বেঁধে ফেলে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ হত্যা করতে শুরু করে।

সেই সময়, একটি প্রেমিক যুগলের বর্ণনা পাওয়া যায়। যারা ইসলাম কী, আল্লাহ কী, মুহাম্মদ কী, কিছুই জানতেন না। তাদের ইসলাম কবুল করতে বলা হলে, সেই প্রেমিক ইসলাম আর মুহাম্মদ কী, তা জানেন না বলে তাদের জানান। বা সেইসব বুঝতে তিনি ব্যর্থ হন। তিনি তার প্রেমিকার প্রেমে এতটাই মগ্ন ছিলেন, এতটাই ভালবাসায় আচ্ছন্ন ছিলেন যে, প্রেমিকাকে একনজর দেখার জন্য এতটাই উদগ্রীব ছিলেন যে, যার সামনে ইসলাম মুহাম্মদ আল্লাহ জিহাদ এমনকি নিজের জীবনটিও তুচ্ছ হয়ে যায়। তিনি মুসলিম সৈন্যদের বলেন, তার প্রেমিকাকে এক নজর দেখতে দিলে মুসলিমরা যা চাইবে, তার সাথে সেটাই করতে পারবে। শুধু একটিবার যেন সে চোখ জুড়িয়ে তার ভালবাসার মানুষটিকে দেখতে পারেন।

তাকে এক নজর দেখার সুযোগ দেয়া হলো। এরপরে তার গর্দান উড়িয়ে দিলো মুসলিম জিহাদি সৈন্যরা, কারণ সে ইসলাম কবুল করে নি। আর সেই মৃতদেহের ওপর কাঁদতে কাঁদতে প্রাণ দিয়ে দিলো তার সেই প্রেমিকা।

আমি জানি না, আল্লাহ মুহাম্মদ আর মুহাম্মদের সৈন্যদের কাছে, এই দুটি সামান্য প্রাণের মূল্য কতটা! যারা একজন আরেকজনকে ভালবেসেছিল, একজন আরেকজনকে একনজর দেখার জন্য মুহাম্মদের জিহাদী সৈন্যদের হাতে জীবন বিলিয়ে দিতেও দ্বিধা করে নি। সত্যি কথা বলতে কি, ঘটনাটি পড়ার পরে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নি। আপনাদের সামনেও তাই তুলে ধরছি।

পুরো ঘটনাটি ইসলামিক সোর্স থেকে পড়ুন এবার। আল হিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থ থেকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে কিনলে খণ্ড চার-এ। বর্ণনাটি ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থেও পাবেন।

ইবন ইসহাক বলেনঃ আমার নিকট ইয়া’কূব ইবন উতবা ইবন মুগীরা ইবন আখনাস যুহরীর সুত্রে ইবন আবু হাদরাদ আসলামী থেকে বর্ণনা করেছেন৷ তিনি বলেন, একদা আমি খালিদ ইবন ওয়ালীদের অশ্বারোহী বাহিনীর মধ্যে ছিলাম৷ তখন আমার সমবয়সী বনূ জুযায়মার এক যুবক-যার হাত দু’গাছি রশি দিয়ে ঘাড়ের সাথে বাধা এবং তার থেকে তার দূরেই কতিপয় মহিলা
সমবেত, এ অবস্থায় সে আমাকে সম্বোধন করে বললোঃ ওহে যুবক! আমি বললাম, তুমি কি চাও? সে বললো, তুমি কি এই রশি ধরে আমাকে ঐ মহিলাদের কাছে নিয়ে যেতে পার? তাদের কাছে আমার কিছু প্রয়োজন আছে৷ প্রয়োজন শেষে তুমি আবার আমাকে ফিরিয়ে আনবে৷ তারপরে তোমাদের যা মনে চায় তাই করবে৷ আমি বললাম, আল্লাহর কসম, তুমি যা চাইছো তা একেবারে মামুলী ব্যাপার৷ এরপর আমি রশি ধরে তাকে নিয়ে গেলাম এবং মহিলাদের সামনে হাযির করলাম ৷ যে সেখানে দাঁড়িয়ে বললোঃ
“আমার জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তুমি শান্তিতে থাক হে হুবায়শ৷”
(কবিতা)
অর্থঃ (হায়রে হুবায়শ!)তুমি কি লক্ষ্য করনি, আমি যখনই আমাদেরকে খুঁজেছি, তখনই পেয়েছি হয় হিলিয়ায়, না হয় পেয়েছি খাওয়ানিকে৷
ঐ প্রেমিক কি কিছু পাওয়ার যোগ্য হয়নি, যে অন্ধকার রাত্রে ও প্রচণ্ড গরমে সফরের কষ্ট বরণ করেছে?
আমার কোন অপরাধ নেই৷ কেননা, আমার লোকজন যখন একত্রে ছিল, তখন আমি বলেছিলাম- কোন একটা বিপদ ঘটার আগেই তুমি প্রেমের বদলা দাও ৷
আমি আরও বলেছিলাম আমাকে তুমি ভালবাসার বিনিময় দাও, দুর্যোগ এসে দুরত্ব সৃষ্টি করার আগেই৷ কেননা, বিরহী বন্ধুর কারণে নিজ পরিবারের কর্তাও দুরে চলে যায় ৷
কেননা, আমি গোপন আমানত ফাঁস করে দিয়ে খিয়ানত করিনি৷ আর তোমার পরে আর কোন সুন্দরীকে আমার চক্ষু তোমার চেয়ে আকর্ষণীয় পায়নি৷
তবে সমাজ সম্প্রদায়ের কারণে ভালবাসার কখনও বা সাময়িকভাবে ডাটা পড়তে পারে৷ তবে উভয় দিক থেকে ভালবাসা থাকলে কোন অসুবিধা হয় না৷
কবিতা শোনার পর মহিলাটি বললোঃ আমি তো মাঝে মাঝে বিরতিসহ উনিশ বছর এবং বিরতিহীনভাবে আট বছর যাবত তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি ৷ আবূ হাদরাদ বলেন, আমি লোকটিকে সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলাম তার গর্দান উড়িয়ে দিলাম ৷
ইবন ইসহাক বলেনঃ আবূ ফারাস ইবন আবু সুনবুলা আসলামী তার কতিপয় প্রত্যক্ষদর্শী শায়খের উদ্ধৃতি দিয়ে আমার নিকট বর্ণনা করেন, ঐ যুবকটির গর্দান যখন উড়িয়ে দেয়া হচ্ছিল, তখন তার সেই প্রেমিকা সেখানে দাঁড়িয়ে তা’ প্রত্যক্ষ করছিল৷ তারপর সে তার প্রেমিকের উপর
উপুড় হয়ে পড়ে এবং তাকে চুম্বন করতে করতে সেও সেখানে প্রাণ বিসর্জন দেয়৷ হাফিয বায়হাকী হুমায়দী সুত্রে — ইসাম মুযায়নী থেকে বর্ণনা করেন৷ তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ্ (সা) কোন অভিযানে সৈন্য প্রেরণকালে উপদেশ দিতেন যে, কোথাও কোন মসজিদ দেখলে কিংবা
কোন মুয়ায্যিনের আযান শুনতে পেলে তথাকার কাউকেও হত্যা করবে না৷ একবারের ঘটনা৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে এক অভিযানে প্রেরণ করেন৷ যাত্রাকালে তিনি আমাদেরকে অনুরুপ নির্দেশ দিলেন৷ আমরা তিহামার দিকে যাত্রা করলাম৷ পথিমধ্যে দেখলাম একজন পুরুষ একটি
মহিলা কাফেলার পশ্চাতে ছুটছে৷ আমরা তাকে ডেকে বললাম, ওহে, ইসলাম গ্রহণ কর! সে বললো, ইসলাম কী? আমরা তাকে ইসলামের ব্যাখ্যা জানালে সে তা বুঝতে ব্যর্থ হলো৷ সে আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করলো, তোমরা যা কর, আমি যদি তা না করি তবে আমার কী হবে?
আমরা বললাম, তা হলে আমরা তোমাকে হত্যা করবো৷ তখন সে বললো, আমাকে ঐ মহিলা কাফেলার সাথে মিলিত হওয়ার এবটু অবকাশ দেবেন কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, তোমাকে
অবকাশ দেওয়া হলো৷ তবে তুমি যেতে থাক৷ আমরাও তোমার কাছে আসছি৷ বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি যেতে যেতে মহিলা কাফেলার নাগাল পেল৷ সে তাদের একজনকে উদ্দেশ্য করে বললোঃ তুমি সুখে থাক, আমার আয়ু ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বে৷ অপরজন বললো, বিরতিসহ উনিশ বছর এবং বিরতিহীন আট বছর (এর প্রেম বিনিময় নিয়ে) তুমিও শান্তিতে থাক৷ বর্ণনাকারী এরপর উপরোল্লিখিত কবিতা উল্লেখ করলেন৷ এরপর লোকটি সেখান থেকে ফিরে এসে আমাদেরকে বললোঃ এবার তোমাদের যা ইচ্ছা করতে পার৷ আমরা তখন অগ্রসর হয়ে তার গর্দান উড়িয়ে দিলাম৷ এ সময় ঐ মহিলাটিার হাওদা থেকে বেরিয়ে এসে লোকটির দেহের উপর উপুড় হয়ে পড়লো এবং এ অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়ে গেল৷ এরপর ইমাম বায়হাকী আবূ আবদুর রহমান নাসাঈ সুত্রে— ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) একবার এক অভিযানে একটি ক্ষুদ্র সেনাদল প্রেরণ করেন৷ সে অভিযানে তারা প্রচুর
গনীমত লাভ করেন৷ আটককৃত বন্দীদের মধ্যে এমন একজন লোক ছিল, যে মুসলিম সৈন্যদের নিকট নিবেদন করলো, আমি তোমাদের শত্রুপক্ষের লোক নই৷ আমি এখানকার এক মহিলাকে ভালবাসি৷ তার সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্যে এখানে এসেছি৷ সুতরাং আমাকে একটু অবকাশ দাও, আমি তাকে শেষবারের মত একটিবার দেখে আসি৷ তারপরে তোমাদের যা মনে চায় তা করো৷ বর্ণনাকারী বলেন, দেখা গেল লোকটি গিয়ে এক দীর্ঘকায় সুন্দরী মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলছেঃ “ওহে হুবায়শ ! তুমি শাস্তিতে থাক, আমার আয়ু শেষ হওয়ার পূর্বে৷ ” এরপর সে এ জাতীয় অর্থবােধক কবিতার দু’টি পংক্তি আবৃত্তি করলো৷ তখন মহিলাটি তার জবাবে বললোঃ হ্যাঁ , আমি তো তোমাকে আমার জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছি৷ এরপর মুসলিম সেনারা তার নিকট এগিয়ে গিয়ে তার গর্দান উড়িয়ে দিল৷ তখন মহিলাটি দৌড়ে এসে নিহত লোকটির উপর উপুড়
হয়ে পড়লাে এবং একবার অথবা দু’বার চিৎকার ধ্বনি দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লাে৷ অভিযান শেষে মুসলিম সেনাগণ ফিরে এসে রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর নিকট এ ঘটনা ব্যক্ত করলে তিনি বললেনঃ “তোমাদের মধ্যে কি একজন দয়ার্দ্র হৃদয় লোকও নেই ?”

প্রেমের 2
প্রেমের 4
প্রেমের 6

এবারে আসুন আরো একটি প্রেমের গল্প পড়ি হাদিস গ্রন্থ থেকে। কয়েকটি হাদিস দিচ্ছি, এখান থেকে সেই প্রেমের গল্পটি পাঠকগণই বুঝে নিতে পারেন। ভেবে দেখুন তো, একজন মানুষকে ভালবাসার অভিযোগে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হচ্ছে, তার মৃত্যু আসন্ন। নিজের শরীর পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। হাড্ডি ভাঙছে, রক্ত বের হচ্ছে, যন্ত্রণা আর ব্যাথা শরীরের সর্বত্র। এরকম অবস্থাতেও যে তার প্রেমিকাকে রক্ষা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, এরকম মানুষটির জন্য কষ্ট লাগা উচিত কিনা?

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ ২৩১৩. বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং পাঠ কর (সূরাহ আলে-‘ইমরান ৩ঃ ৯৩)
৪২০০। ইবরাহীম ইবনু মুনযির … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে এমন দু’জন পুরুষ ও মহিলা নিয়ে ইহুদীগণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা কিভাবে শাস্তি দাও? তারা বলল, আমরা তাদের চেহারা কালিমালিপ্ত করি এবং তাদের প্রহার করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এতদ সম্পর্কিত কোন কিছু পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাত আন এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তা পাঠ কর।
এরপর তাওরাত পাঠের সময় তাদের পন্ডিত-পাঠক প্রস্তর নিক্ষেপ বিধির আয়াতের উপর স্বীয় হস্ত রেখে তা থেকে কেবল পূর্ব ও পরের অংশ পড়তে লাগল। রজমের আয়াত পড়ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার হাতটি তুলে ফেলে বললেন, এটা কি? যখন তারা পরিস্থিতি বেগতিক দেখল তখন বলল, এটি রজমের আয়াত। অনন্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। এবং মসজিদের পার্শ্বে জানাযাগাহের নিকটে উভয়কে ‘রজম’ করা হল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমি সেই পুরুষটিকে দেখেছি যে নিজে মহিলার উপর উপুড় হয়ে তাকে প্রস্তরাঘাত হতে বাচানোর চেষ্টা করছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৭৫/ কাফের ও ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিবরণ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৩. সমতল স্থানে রজম করা
৬৩৬২। মুহাম্মদ ইবনু উসমান (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ইহুদী পুরুষ ও এক ইহুদী নারীকে হাযির করা হল। তারা উভয়েই যিনা করেছে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যাপারে তোমরা তোমাদের কিতাবে কি পাচ্ছ? তারা বলল, আমাদের পদ্রীরা চেহারা কালো করার ও উভয়কে গাধার পিঠে বিপরীতমুখী বসিয়ে প্রদক্ষিণ করানোর প্রথা চালু করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদেরকে তাওরাত নিয়ে আসতে বলুন। এরপর তা নিয়ে আসা হল।
তাদের একজন রজমের আয়াতের উপর নিজের হাত রেখে দিল এবং এর অগ্র-পাশ্চাৎ পড়তে লাগল। তখন ইবনু সালাম (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার হাত উঠও। (হাত উঠাতে দেখা গেল) তার হাতের নিচে রয়েছে রজমের আয়াত। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন, উভয়কে রজম করা হল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, তাদের উভয়কে সমতল স্থানে রজম করা হয়েছে। তখন ইহুদী পুরুষটাকে দেখেছি ইহুদী নারীটির উপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

গ্রন্থের নামঃ মুয়াত্তা মালিক
অধ্যায়ঃ ৪১. হুদুদের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রস্তরাঘাত করা
রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, ইহুদীদের একদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, তাহাদের একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন : রজম বা প্রস্তরাঘাতের ব্যাপারে তাওরাতে কি আদেশ রহিয়াছে? তাহারা বলিলঃ আমরা ব্যভিচারকারীকে লজ্জিত করি এবং বেত্ৰাঘাত করিয়া থাকি। আবদুল্লাহ ইবন সালাম বলিলেন, তোমরা মিথ্যা বলিতেছ। তাওরাতে প্রস্তরাঘাতের শাস্তি রহিয়াছে। তাওরাত আনয়ন কর, উহা পড়িয়া দেখ। অতঃপর তাহারা তাওরাত খুলিল এক ব্যক্তি বেত্রাঘাতের উপর হাত রাখিয়া পূর্বাপর অবশিষ্ট আয়াত পড়িয়া শুনাইল। আবদুল্লাহ ইবন সালাম তাহাকে বলিলঃ তোমার হাত উঠাও তো। সে তাহার হাত উঠাইলে দেখা গেল উহাতে প্রস্তরাঘাতের আয়াত রহিয়াছে। অতঃপর সকল ইহুদীই স্বীকার করিল যে, আবদুল্লাহ ইবন সালাম ঠিকই বলিয়াছে তাওরাতে প্রস্তাঘাতের আয়াত বিদ্যমান রহিয়াছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়কে প্রস্তরাঘাতের আদেশ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে উভয়কে প্রস্তরাঘাত করা হইল। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি দেখিলাম, পুরুষটি ঐ নারীকে আঘাত হইতে রক্ষা করিতে তাহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল অর্থ পুরুষ নিজে প্রস্তরাঘাত সহ্য করিয়াও ঐ নারীকে প্রস্তরাঘাত হইতে রক্ষা করিতে যাইয়া তাহার উপর উপুড় হইয়া পড়িয়ছিল।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

One thought on “একটি প্রেমের গল্প

  • ডিসেম্বর 20, 2019 at 1:41 অপরাহ্ন
    Permalink

    গল্পটা পড়ে চোখের কোন দিয়ে কখন যে পানি এসে পড়ো খেয়াল করিনি,, ঘটনাটা পড়ছিলাম আর নিজের জায়গা থেকে কল্পনা করছিলাম,, কি ভয়াভহ????????????

    Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

%d bloggers like this: