সম্পাদকীয়স্যাটায়ার

অতিমানবদের গণহারে ইসলাম গ্রহণ! সুভানাল্লাহ!

ব্রেকিং নিউজঃ এইমাত্র আন্তঃগ্যালাক্টিক সংবাদমাধ্যম “আল-অন্তরীক্ষ” মারফত জানা গেল যে, সুপারম্যান তথা অতিমানবরা দলে দলে ইসলাম কবুল করিয়া ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আসিয়া নিজেদের জীবন ধন্য করিয়াছেন। মুমিন বান্দাদের জন্য এই খবরটিতে লাইক এবং শেয়ার মাস্ট। লাইন ধরে জামাতের সাথে লাইক ও শেয়ার দিয়ে সুলভে নেকী হাছিল করুন।

গোপন সুত্র হইতে খবর পাওয়া গেল যে, পৃথিবীর কমিক্স, টিভি সিরিজ, চলচিত্রের অতিবিখ্যাত সকল অতিমানবেরা (সুপারম্যান) কিছুদিন পুর্বে এক রক্তক্ষয়ী মিশনে আন্তঃগ্যালাক্টিক যুদ্ধে জড়াইয়া পড়েন। প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে দুই পক্ষই সমানে সমান যুদ্ধ চালাইয়া যাইতেছিলেন। হঠাৎ ভিনগ্রহের প্রাণীরা অতিমানবদের লক্ষ্য করিয়া এক অতিকায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেন। সেই পারমাণবিক বোমাকে নিষ্ক্রিয় করিবার জন্য প্রথমে অতিমানবগন পাল্টা পারমাণবিক বোমা ছোঁড়েন, কিন্তু তাহাতে কোনো কাজ হয় না। এরপর অতিমানবগণ একে একে সকল চেষ্টাই করেন, কিন্তু এলিয়েনদের তৈরি এক ধরনের শিন্ডের কারনে সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। মৃত্য আসন্ন ভাবিয়া অতিমানব ওরফে সুপারম্যানগণ কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়েন, কেউ কেউ নিজ নিজ গার্লফ্রেন্ড লইয়া শেষবারের মত একটু আনন্দ করিবার উদ্দেশ্যে নিজ নিজ কক্ষ তালাবদ্ধ করিয়া ব্যক্তিগত সময় উপভোগে মনোযোগ দেন।

হঠাৎ অতিমানবদের টিম লিডার লাইটম্যান-এর (ছবিতে ইমামের ভুমিকায়) চোখ পড়িল মহাকাশযানের রক্ষিত একটি পুস্তক যাহাকে পৃথিবীবাসী কুরআন বলিয়া থাকেন। মুসলিমগণের দাবী অনুসারে, এটি একটি আসমানী কেতাব এবং আল্লাহ কর্তৃক লিখিত। লাইটম্যান সাহেব কিছুদিন আগে একটি পুস্তকে পড়িয়াছিলেন যে, এই বইটির অলৌকিক কর্মকাণ্ড ঘটাইবার কথা প্রচলিত আছে। তিনি একদা গুলিস্তানের মোড়ে দাঁড়াইয়া খুজলির মলম ক্রয় করিবার সময় জনৈক হকার তাঁকে একটি পুস্তক ধরাইয়া দিয়াছিলেন, যেটার নাম ছিল “আল্লার কী কুদরৎ, লাঠির মইধ্যে শরবৎ”; সেই পুস্তকে লিখিত ছিল, কী করিলে কী হয় এবং কী না করিলে কী না হয়। যথা, পশ্চিম দিকে মুখ ফিরাইয়া বিশেষ স্থানে সুরা পড়িয়া ফুঁ দিয়া বিশেষ দিনে সহবৎ করিলে পুত্রসন্তান হয়, বিশেষ অঙ্গে দুর্বলতা দেখা দিলে আল্লার নাম লইয়া বিশেষ সুরা পাঠ করিলে সেই অঙ্গ শক্ত ও মোটা হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।

তো সেই পুস্তক মারফত তিনি জানিতে পারিয়াছিলেন এই অলৌকিক গ্রন্থের কথা, তাহা মনে পড়িতেই তিনি ফাল দিয়া উঠিলেন। ইহার পর সেই কুরআনটি লইয়া সুর করিয়া পড়া শুরু করেন এবং কয়েকটি সুরা পড়িয়া সেই অতিকায় পারমানবিক বোমাটির উদ্দেশ্যে কুদরতি ফুঁ দেন। আল্লাহতালাহর অশেষ করুণায় সেই তেলেছমাতি ফুঁতে অলৌকিক কাজ হয় এবং অতিকায় পারমানবিক বোমাটি সহসাই মহাকাশেই বিষ্ফোরিত হইয়া মহাকাশযাত্রী সুপারম্যানদের জীবন রক্ষা করে। ইহার পরে অতিমানব ওরফে সুপারম্যানগন দলে দলে ইসলাম কবুল করিয়া দ্বীনের পথে যাত্রা শুরু করেন এবং জামাতের সহিত সালাত আদায় করেন।

সুপারহিরোদের ইসলাম গ্রহণ

অবশ্য মহাকাশে তাঁহারা সুর্যের অনুপুস্থিতিতে কীরূপে নামাযের সময় নির্ধারণ করেন, তাহা লইয়া নাস্তিক, অবিশ্বাসী, যুক্তিবাজগণ বিশ্বাসী ভাইদের ঈমান ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হইতে পারেন, তবে আমাদের বিশ্বাসী ভাইগণ তাহাদের যুক্তিতর্ককে কলা দেখাইয়া জোরেসোরে দরুদ পড়িবেন বলিয়াই আমাদের বিশ্বাস। খবরে আরও প্রকাশ, সুপারম্যানগণ পৃথিবীতে ফিরিয়াই স্বপরিবারে পবিত্র হজ্জ্ব পালন করিবেন বলিয়াও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তাঁহারা এ কথাও বলেন, আগামী ইজতেমাতে তাঁহারা ঢাকায় পদার্পণ করিয়া আল্লাহতালাহর অশেষ তেলেছমাতির কথা বয়ান করিবেন। তারা সকলে জাকির নায়েকের ভক্ত হইয়াছেন বলিয়াও শোনা যাইতেছে। যদিও মহাকাশে আপাতত সুপার ওমেনগণের কিঞ্চিৎ সংকটের কারণে কেহই চার বিবাহ করিতে পারিতেছেন না, এক বিবাহও সেখানে কষ্টকর। তাই তাঁহারা আশাপ্রকাশ করিয়াছেন, হজ্জ্বের পুর্বেই চার বিবাহ করিয়া সুন্নত সমুন্নত রাখিবেন।সবাই জোরে বলেন সুবহানাল্লাহ।

স্পাইডারম্যানের নামাজ
স্পাইডারম্যান নফল নামাজ পড়িতেছেন।
মুহাম্মদ সুপ্যার-মুসলম্যান
সুপারম্যান তার নাম পাল্টাইয়া রাখিয়াছেন মুহাম্মদ সুপ্যার-মুসলম্যান।
আয়রন-মুসলম্যান
আয়রনম্যানও আসিয়াছেন শান্তির ছায়াতলে।
মুহাম্মদ হাল্ক
মুহাম্মদ হাল্ক আইসিসে যোগ দিয়ে ইসলামের সেবা করিবার প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন

নাস্তিক মুরতাদ, বিজ্ঞান যুক্তি নিপাত যাক, কুরআন, আল্লাহ আমাদের পথ দেখাক। এর পরেও কি নাস্তিকরা অবিশ্বাস করবে? তাদের কলবে কি একটুও ঈমান পয়দা হবে না? হে আল্লাহ, তুমি ঐ সব নাস্তিকদের হেদায়াত করো। আমিন।

প্রথম প্রকাশঃ ২০১০ সাল।

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.

The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.

This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

Leave a comment

Your email will not be published.