মুহাম্মদের কুকুরভীতি এবং নির্মম নিধনযজ্ঞ

Print Friendly, PDF & Email

ভূমিকা

সেই সুপ্রাচীন কাল ধরে প্রাণিজগতের মধ্যে কুকুর মানুষের সবচাইতে বিশ্বস্ত বন্ধু, সাথী, এবং সহচর। ঠিক কবে থেকে মানুষ প্রথম কুকুর পোষ মানিয়েছিল তা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য থাকলেও, আজ থেকে পনেরো হাজার বছর [1] আগে যে কুকুর মানুষের সঙ্গী ছিল সেটা পরিষ্কারভাবে জানা যায়। তার মানে, এর চাইতে বহুকাল আগে থেকেই কুকুর ছিল মানুষের সহচর। সেই সাথে, সাইবেরিয়া থেকে প্রাপ্ত কুকুরের ফসিল থেকে বোঝা যায়, প্রায় ৩৩ হাজার বছর আগেও [2] পোষা কুকুর মানুষের সাথে বসবাস করতো। প্রাচীনকালের যেসব ফসিল পাওয়া যায়, তা থেকে মোটামুটি স্পষ্ট যে, একদল হিংস্র নেকড়ের মধ্যে কিছু নেকড়েকে মানুষ পোষ মানিয়েছিল, তার পর থেকে নানা ঘাত প্রতিঘাত এবং বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক কুকুরের উৎপত্তি।

আমাদের, মানে আধুনিক মানুষের আদি পূর্বপুরুষ ছিল শিকারী। মানুষ সেই বহুকাল ধরে বন-বাদাড়ে ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে বেড়িয়েছে, এক স্থান থেকে আরেক স্থানে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়িয়েছে। মানুষ কুকুরের সাহায্যে শিকারে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছিল। শুধু শিকারই নয়, কুকুর প্রভুভক্ত পুলিশের মত পাহারা দিতো গুহাবাসী মানুষের গুহাগুলোকে। হিংস্র বন্য প্রাণী থেকে রক্ষা করতো শিশুদের। অন্য গোত্র আক্রমণের আগে কুকুর তার আগাম সংকেত দিতো, কুকুর টানা গাড়ি থেকে শুরু করে এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে পর্যন্ত কুকুর মানুষের পরম বন্ধুর মত পাশে থেকেছে। মানুষকে রক্ষা করেছে।

কুকুর

আজকে আমরা যেসকল কুকুর দেখছি, আদিম সমাজের কুকুরগুলো এরকম ছিল না। কুকুর একটি মনুষ্য সমাজ দ্বারা বিবর্তিত প্রাণী। গৃহপালিত হওয়ার পরে কুকুরের বহু বৈচিত্র্যময় জাত (breed) তৈরি হয়েছে। কুকুরের বিবর্তনে মানুষের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। সেই কুকুরগুলো মানুষের সাথে চলাফেরা করতো, তাদের সাথে শিকার করতো, খাবারের ভাগ পেতো, সেসব কুকুরের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। যেসব কুকুর মানুষের সাথে দলবদ্ধভাবে শিকারে অংশ নিতো, মানুষের নির্দেশ মোতাবেক ঝাঁপিয়ে পড়তো, সেসব কুকুরের বংশ পরম্পরায় টিকে থাকা সহজতর হয়ে উঠেছিল। ধীরে ধীরে কুকুর হয়ে উঠেছে মানুষের সবচাইতে প্রিয় বন্ধুতে। মানব সমাজ এরকম লক্ষ লক্ষ ঘটনার সাক্ষী যে, প্রভুর জীবন রক্ষা করতে রীতিমত জীবন দিয়ে দিয়েছে আমাদের এই বন্ধু কুকুর। জীবন বাজি রেখে লড়াই করে গেছে, নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়েও মনিবের গায়ে এতটুকু আঁচড় লাগতে দেয় নি। কুকুরের কাছে মানুষের অনেক ঋণ। অনেক দেনা। যুগে যুগে এই কুকুরেরাই মানুষকে রক্ষা করেছে, পাহারা দিয়েছে, মাটি কামড়ে প্রভুভক্তির প্রমাণ দিয়েছে। কিন্তু বিনিময়ে আমরা তাদের কতটুকু ভালবাসা দিয়েছি? সামান্য একটু ভালবাসার কাঙ্গাল কুকুরদের আমরা কি ভালবাসতে পেরেছি?

সাইনোফোবিয়া বা কুকুরভীতি

স্কিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি লক্ষণ হচ্ছে, কুকুরের প্রতি অমূলক ভীতি। মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় যাকে একটি নামও দেয়া হয়, যা হচ্ছে Cynophobia। Cynophobia হচ্ছে, কুকুরের প্রতি অমূলক ভীতি, আতঙ্ক, এবং ঘৃণা বিদ্বেষ। ছোটবেলার কোন ভয়ঙ্কর স্মৃতি এই ধরনের ভীতির কারণ হতে পারে বলে মনোবিজ্ঞানীগণ মনে করেন [3]। সাইনোফোবিয়া এসেছে গ্রীক শব্দ থেকে যার অর্থ “কুকুর” (সাইনো) এবং “ভয়” (ফোবিয়া)। সাইনোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত কুকুর সম্পর্কে অমূলক ভয় বা ঘৃণা অনুভব করেন যার পেছনে কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় না। ঘেউ ঘেউ করা বা না করা কুকুরের সংস্পর্শে আসলেই এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিগণ অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তে তাদের অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়, ক্ষেত্র বিশেষে আতঙ্কিত হতেও দেখা যায়। এমনকি, তাদের শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে মাথা ব্যথা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, বুকে ব্যথা, হাত পা কাঁপা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মত অবস্থাও ঘটতে পারে।

Cynophobia (from the Greek: κύων kýōn “dog” and φόβος phóbos “fear”) is the fear of dogs. Cynophobia is classified as a specific phobia, under the subtype “animal phobias”

Cynophobia

কুকুর কী আসলেই ঘৃণিত প্রাণী?

কুকুর একটি অবলা জীব মাত্রই। মানুষের উপকার করা ছাড়া কুকুর সচেতনভাবে মানুষের ক্ষতি করেছে, এরকম উদাহরণ তেমন পাওয়া যায় না। রোগ হলে কুকুর পাগল হয়ে যায়, কিন্তু রোগ হলে তো মানুষও অনেক কিছু করে। অসুস্থ প্রাণীকে ঢালাওভাবে অসুস্থতাজনিত সমস্যায় আমরা দোষ দিতে পারি না। বর্তমান সময়ে জলাতঙ্কের সুচিকিৎসা রয়েছে, এবং নানা ধরণের ভ্যাক্সিনের সাহায্যেও কুকুরদের সুস্থ রাখা সম্ভব। কিন্তু সব কুকুর কি রোগাক্রান্ত? পৃথিবীর কিছু কিছু মুসলিমপ্রধান অঞ্চলে আজও কুকুর লালন পালন দণ্ডনীয় অপরাধ। সব কুকুর যে রোগাক্রান্ত নয়, এই তথ্যগুলো বোঝানো কঠিন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সেই ১৪০০ বছর আগে মুহাম্মদ যা বলে গেছেন, বর্তমান সময়েও সেগুলো করতে হবে। কিন্তু কুকুরের দ্বারা মানুষের উপকারের লিস্ট তৈরি করে কি শেষ করা সম্ভব?

শুধু তাই নয়। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণাতে এটি মোটামুটি প্রমাণিত যে, কুকুর মানুষের জীবনকে আরো বেশি আনন্দময় করে তোলে [4]। আমাদের মধ্যে খুব স্বাভাবিক একটি ধারণা রয়েছে যে, কুকুর রোগ জীবাণু বহন করে। রোগ জীবাণু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনেকে কুকুর অপছন্দ করেন। কিন্তু গবেষকগণ বলেন, রোগ জীবাণুকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চাওয়ার চেষ্টা মানুষের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। আমরা প্রায়শই দেখি, আমাদের ঘরবাড়ি জীবাণু মুক্ত করতে আমরা অনেক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করি। যার ফলে আমাদের শরীর সেই সব রোগ জীবাণু থেকে দূরে থাকে, এবং আমাদের শরীরের যেই ন্যাচারাল রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা, তা ধ্বংস হতে থাকে। শরীরে জীবাণু ঢুকবে, শরীর জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করবে, এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। শরীর যত জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করবে, তত তার ইমিউন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এলার্জি থেকে মুক্তি পাবে। কুকুরের শরীরের বিভিন্ন জীবাণু মানুষের শরীরে ঠিক এই কাজগুলোই করে। বেশিরভাগ গবেষণাতেই দেখা গেছে, কুকুরের সংস্পর্শে থাকা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্য মানুষের চেয়ে বেশি। আরো বিস্তারিত জানার জন্য [5] , [6], [7], [4], [8] রেফারেন্সে বর্ণিত লেখাগুলো পড়ে দেখতে পারেন।

সিয়াটলের সুইডিশ মেডিকেল সেন্টার আমেরিকার মতে (The Swedish Medical Center in America, Seattle, Washington) কুকুর লালন পালনের ভাল দিকগুলো হচ্ছে,

• সার্বক্ষণিক একজন সঙ্গি থাকার আনন্দবোধ
• শারীরিক শ্রম, খেলাধুলা এবং হাস্যময় পরিবেশ
• নিরাপত্তাবোধ
• স্পর্শ করার মাধ্যমে মমতার প্রকাশ
• মানবিক ভালবাসা, প্রেম, আদর ইত্যাদি বোধের উন্নতি

নবী মুহাম্মদের কুকুরভীতি

খুব স্বাভাবিকভাবেই, মানব সমাজের কিছু মানুষ কুকুরকে ভালবাসবে, আবার কিছু মানুষ ভালবাসবে না। সবাইকে যে কুকুরকে ভালবাসতেই হবে, এমন কোন কথা নেই। কথাটি উলটো দিক থেকেও সত্য। সব কুকুর যে মানুষকে ভালবাসবে, তার নিশ্চয়তাও নেই। তবে সাধারণভাবে সব কুকুরই প্রভুভক্তির অসাধারণ প্রমাণ আমাদের দিয়েছে যুগ যুগ ধরে। আমরা মোটেও এরকম দাবী করতে পারি না যে, আরবের নেতা হযরত মুহাম্মদকে কুকুর ভালবাসতেই হবে। এরকম দাবী যৌক্তিকও নয়। এটি যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের বিষয়। কিন্তু মানব সমাজের একটি বড় অংশ, যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলেন, তাদের কাছে হযরত মুহাম্মদের করে যাওয়া প্রতিটি কাজ হচ্ছে নীতি নৈতিকতার অন্যতম ভিত্তি। ইনসাফ এবং আইনের অন্যতম ভিত্তি। এমনকি, নবী মুহাম্মদ কীভাবে পেশাব করতেন, কীভাবে স্ত্রী বা দাসী গমন করতেন, সেটিও মুসলিমদের কাছে অনুসরণীয় আদর্শ। তার প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজকে নিয়ে তাই একটু বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন, এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, বহু সংখ্যক মুসলিমের কাছে সেগুলো অবশ্য পালনীয় সুন্নাহ।

হযরত মুহাম্মদ তার জীবনে কুকুর সম্পর্কে খুবই অমানবিক এবং বর্বর কিছু বক্তব্য রেখে গেছেন, যা আজও বিভিন্ন মুসলিম সমাজে বহুল প্রচলিত। এই আলোচনাটিতে আমরা হযরতের কুকুর ভীতি নিয়ে তাই আলোচনা করবো। এখানে নবী মুহাম্মদ যত না গুরুত্বপূর্ণ, তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নবী মুহাম্মদের রেখে যাওয়া সুন্নাহ। যা এখনো মুসলিমগণ অবশ্য পালনীয় বলে মনে করেন। ব্যক্তিগতভাবে নবী মুহাম্মদ কুকুর অপছন্দ করতেই পারেন, কিন্তু তা যখন একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে অনুসরনীয় অনুকরণীয় হয়ে ওঠে, তখন তা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। কুকুর নামক একটি প্রাণীর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হতে পারে। সেই সাথে, যারা কুকুর ভালবাসেন, তাদের জন্যেও বিষয়টি মর্মান্তিক হতে পারে।

হযরত মুহাম্মদের যে কুকুর-ভীতি ছিল তা বিভিন্ন হাদিস এবং সিরাত দ্বারা প্রমাণিত বিষয়। রাতের বেলা অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করে, তাড়া করে, এগুলো আমরা সকলেই জানি। বহু স্ত্রী এবং দাসীর অধিকারী রঙ্গিন জীবনের অধিকারী হযরত মুহাম্মদ মাঝে মাঝে অন্য কারো বাসায় গোপন অভিসারে যেতেন কিনা, তা পরিষ্কার ভাবে বলা যায় না। কিন্তু তিনি যে কুকুরের প্রতি খুবই বিরক্ত ছিলেন, তা পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়। এরকম ভীতি উনার ব্যক্তিগতভাবে থাকতেই পারে। কিন্তু তিনি যখন কুকুরদের মধ্যে থেকে একটি বিরাট অংশ মেরে ফেলতে হুকুম দেবেন, সেই সাথে তার অনুসারীগণ যুগযুগ ধরে সেই রীতি পালন করে যাবে, গণ-নিধন চালাবে, এরকম ঘটনা ঘটলে তা অত্যন্ত বর্বর এবং অমানবিক বলেই একজন সভ্য মানুষের কাছে মনে হবে। কুকুরগুলো কী দোষ করেছিল? জলাতঙ্ক রোগী পাগলা কুকুরদের মেরে ফেলার তাও কিছুটা জাস্টিফিকেশন থাকতে পারে, কারণ পাগলা কুকুর মানুষকে কামড় দেয়। কিন্তু সব কালো রঙের কুকুর কি জলাতঙ্ক রোগী ছিল? হাদিস-গ্রন্থগুলোতে পাগলা কুকুর হত্যার কথা বলা আছে বটে, কিন্তু একই সাথে স্বাভাবিক কুকুরদের মেরে ফেলার কথাও বর্ণনা করা আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুহাম্মদ কুকুর নিধনে কিছুটা ছাড় দিলেও বেশিরভাগ সময়ই কুকুর সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত মর্মান্তিক সব নির্দেশ দিয়েছেন। কালো রঙের কুকুরদের হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং মদিনার চারপাশে লোক প্রেরণ করে সমস্ত কুকুর হত্যা করিয়েছেন। এগুলো কী কোন অবস্থাতেই কোন মানবিক মানুষের কাজ হতে পারে? একজন শুভবোধ সম্পন্ন মানুষের কাছে এগুলো আজকের দিনে চরম বর্বর এবং অমানবিক কাজ বলেই গণ্য হবে।

মুসলমানদের মধ্যে যারা শিক্ষিত, বোধবুদ্ধি সম্পন্ন, তারা অনেকেই কুকুরের প্রতি ভালবাসা এবং একই সাথে ধর্মবিশ্বাস শুদ্ধ রাখার জন্য কিছু কৌশল বা বুদ্ধি বের করেন। উনারা মাঝে মাঝেই বলেন, হাদিসের কথাগুলো ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল। অথবা উনারা বলেন, হাদিসগুলোর ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। অথবা বলেন, এগুলো ভিন্নভাবে বুঝতে হবে। আবার অনেকে দাবী করেন, হাদিসগুলো মিথ্যা বা জাল হাদিস। এসব যুক্তি ব্যবহার করে অনেক মুসলমানই কুকুর ভালবাসেন, লালন পালন করেন, নিজ সন্তানের মত স্নেহ করেন। সেটা খুব ভাল এবং মানবিক কাজ। সেইসব মুসলিমদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু তারপরেও, সত্য স্বীকার করার সৎ সাহস সকলের থাকা উচিত। আসুন, কিছু হাদিস পর্যালোচনা করে দেখি, হযরত মুহাম্মদের কুকুর ভীতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল।

রাতের গোপনে পাড়া বেড়াতেন নবী

একটি হাদিস থেকে জানা যায়, নবী রাতের বেলা সবাই ঘুমিয়ে গেলে একা একা গোপনে বাইরে কোথাও যেতেন। আয়িশার এই নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় সেও একবার ঘুমের ভান করে থাকে, পরে নবী বের হয়ে গেলে সেও নবীর পিছু নেয়। পরে নবী ফিরে আসার পরে আয়িশা পিছু নিয়েছিল জানার পরে এতই ক্ষিপ্ত হন যে, ছোট্ট শিশু আয়িশাকে বুকে ঘুষি মারেন। হযরত আয়িশা হতে বর্ণিত, তিনি (মুহাম্মদ) আমাকে বুকের ওপর আঘাত করলেন যা আমাকে ব্যথা দিল [9] [10]

প্রশ্ন হচ্ছে, রাতের বেলা গোপনে মুহাম্মদ কোথায় যেতেন? জিব্রাইলের সাথে দেখা সাক্ষাত করতে এত দূরে যাওয়ারই বা দরকার ছিল কেন? সেখানে গোপনে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পরে কেন যেতে হবে? আমরা জানি যে, রাত বিরাতে এরকম এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করতে দেখলে কুকুর চোর ভেবে তাড়া করে। নবীকেও কী কুকুর তাড়া করেছিল? নইলে কুকুরের ওপর তার এত রাগ কীসের?

সূনান নাসাঈ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৭/ স্ত্রীর সাথে ব্যবহার
পরিচ্ছেদঃ ৪. আত্মাভিমান
৩৯৬৫. সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) … মুহাম্মদ ইবন কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমার ব্যাপারে কি তোমাদেরকে বর্ণনা করব না? আমরা বললাম, কেন করবেন না? তিনি বললেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পালার রাতে (ইশার সালাত আদায়ের পর) ফিরে আসলেন। তারপর তার জুতা পায়ের দিকে রাখলেন, তাঁর চাদর রেখে দিলেন এবং তাঁর একটি লুঙ্গি বিছানার উপর বিছালেন।
তারপর তিনি মাত্র এতটুকু সময় অবস্থান করলেন যতক্ষণে তাঁর ধারণা হল যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। তারপর উঠে আস্তে করে জুতা পরলেন এবং আস্তে করে তার চাদর নিলেন। তারপর আস্তে করে দরজা খুললেন এবং বের হয়ে আস্তে দরজা চাপিয়ে দিলেন। আর আমি মাথার উপর দিয়ে কামিজটি পরিধান করলাম, ওড়না পরলাম এবং চাদরটি গায়ে আবৃত করলাম ও তার পিছনে চললাম, তিনি বাকীতে আসলেন এবং তিনবার হাত উঠালেন ও বহুক্ষণ দাঁড়ালেন, তারপর ফিরে আসছিলেন। আমিও ফিরে আসছিলাম। তিনি একটু তীব্রগতিতে চললেন, আমিও তীব্রগতিতে চললাম, তিনি দৌড়ালেন, আমিও দৌড়ালাম। তিনি পৌছে গেলেন, তবে আমি তার আগে পৌছে গেলাম।
ঘরে প্রবেশ করেই শুয়ে পড়লাম। তিনিও প্রবেশ করলেন এবং বললেনঃ হে আয়েশা! কি হয়েছে তোমার পেট যে ফুলে গেছে। বর্ণনাকারী সুলায়মান বলেন, ইবন ওয়াহাব (رابية) এর পরিবর্তে (حشيا) দ্রুত চলার কারণে হাঁপিয়ে ওঠা শব্দটি বলেছেন বলে ধারণা করছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঘটনা কি বল, নচেৎ আল্লাহ্ যিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত, তিনিই আমাকে খবর দিবেন।
আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক এবং ঘটনাটির বর্ণনা দিলাম। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমিই সেই (ছায়ামূর্তি) যা আমি আমার সামনে দেখছিলাম? আমি বললাম, হ্যাঁ। আয়েশা (রাঃ) বললেন,
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বক্ষে একটি মুষ্ঠাঘাত করলেন যা আমাকে ব্যথা দিল। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি ধারণা করেছ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর যুলুম করবে? আয়েশ্ম (রাঃ) বললেন, লোক যতই গোপন করুক না কেন, আল্লাহ্ তা নিশ্চিত জানেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই তুমি যখন আমাকে দেখছিলে তখন জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন। তুমি যে (শুয়ে যাওয়ায়) কাপড় খুলে ফেলেছ। তাই জিবরীল (আঃ) প্রবেশ করেননি। তোমার থেকে গোপন করে আমাকে ডাকলেন, আমিও তোমার থেকে গোপন করে উত্তর দিলাম। মনে করলাম, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ। তোমাকে জাগিয়ে দেওয়াটা পছন্দ করলাম না এবং এ ভয়ও ছিল যে, (আমি চলে যাওয়ার কারণে) তুমি নিঃসঙ্গতা বােধ করবে। জিবরীল (আঃ) আমাকে নির্দেশ দিলে বাকীতে অবস্থানকারীদের কাছে যাই এবং তাদের রব্বের কাছে তাদের জন্য ক্ষমা চাই।
তাহক্বীকঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মুহাম্মদ ইবন কায়স (রহঃ)

কুকুর 4
আয়িশা

কুকুর নিধনযজ্ঞের সুচনা

আয়িশার খাটের নিচে একবার একটি কুকুর ছানা ঢুকে পড়েছিল। যার কারণে নবীর কাছে নাকি ফেরেশতা আসেনি। নিচের হাদিসগুলো পড়ুন [11] [12] [13]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৮/ পোশাক ও সাজসজ্জা
পরিচ্ছেদঃ ২১. জীব-জন্তুর ছবি অংকন করা নিষিদ্ধ হওয়া এবং চাদর ইত্যাদিতে সুস্পষ্ট ও অবজ্ঞাপূর্ণ নয় এমন ছবি থাকলে তা ব্যবহার করা হারাম হওয়া এবং যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না
৫৩৩৩। সুওয়ায়দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) কোন নির্ধারিত সময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আগমনের ওয়াদা করলেন কিন্তু যথাসময়ে তিনি এলেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে একটি লাঠি ছিল, তিনি তা তার হাত থেকে ফেলে দিয়ে বললেন, আল্লাহ তো তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না; তাঁর রাসুলগণও না। এরপর তিনি লক্ষ্য করে তাঁর খাটের নিচে একটি কুকুর ছানা দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেনঃ হে আয়িশা! কুকুর (ছানা) টি এখানে ঢুকে পড়ল কখন? আয়িশা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি জানি না। তখন তিনি আদেশ দিলে সেটিকে বের করে দেয়া হল।
ইতিমধ্যে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আপনি আমাকে ওয়াদা দিয়েছিলেন, তাই আমি আপনার প্রতীক্ষায় বসেছিলাম। কিন্তু আপনি এলেন না। তিনি বললেন, আপনার ঘরে (অবস্থানরত) কুকুরটি আমার জন্য প্রতিবন্ধক হয়েছিল। কারণ যে ঘরে কোন ছবি কিংবা কুকুর থাকে, সে ঘরে আমরা (রহমতের ফিরিশতারা) প্রবেশ করি না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৮/ পোশাক ও সাজসজ্জা
পরিচ্ছেদঃ ২১. জীব-জন্তুর ছবি অংকন করা নিষিদ্ধ হওয়া এবং চাদর ইত্যাদিতে সুস্পষ্ট ও অবজ্ঞাপূর্ণ নয় এমন ছবি থাকলে তা ব্যবহার করা হারাম হওয়া এবং যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না
৫৩৩৫। হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মায়মুনা (রাঃ) আমাকে (হাদীস) অবহিত করেছেন যে, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে বিষণ্ণ অবস্থায় উঠলেন। তখন মায়মুনা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ আপনার চেহারা বিমর্ষ দেখছি! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আজ রাতে আমার সঙ্গে মুলাকাত করার ওয়াদা করেছিলেন, কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে মুলাকাত করেননি। জেনে রাখ, আল্লাহর কসম! তিনি (কখনো) আমার সঙ্গে ওয়াদা খেলাফ করেননি। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সে দিনটি এভাবেই কাটালেন।
এরপর আমাদের পর্দা (ঘেরা খাট) এর নিচে একটি কুকুর ছানার কথা তাঁর মনে পড়ল। তিনি হুকুম দিলে সেটিকে বের করে দেয়া হল। তারপর তিনি তাঁর হাতে সামান্য পানি নিয়ে তা ঐ (কুকুর ছানার বসার) স্থানে ছিঁটিয়ে দিলেন। পরে সন্ধ্যা হলে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সঙ্গে মুলাকাত করলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, আপনি তো গতরাতে আমার সাথে মুলাকাতের ওয়াদা করেছিলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে আমরা (ফিরিশতারা) এমন কোন ঘরে প্রবেশ করিনা, যে ঘরে কোন কুকুর থাকে কিংবা কোন (প্রানীর) ছবি থাকে।
পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন ভোরবেলায় কুকুর নিধনের আদেশ দিলেন, এমনকি তিনি ছোট বাগানের পাহারাদার কুকুরও মেরে ফেলার হুকুম দিয়েছিলেন এবং বড় বড় বাগানের কুকুরগুলোকে রেহাই দিয়েছিলেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা
পরিচ্ছেদঃ ৫৯/১৭. পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে ডুবিয়ে দেবে। কারণ তার এক ডানায় থাকে রোগ, অন্যটিতে থাকে আরোগ্যের উপায়।
৩৩২২. আবূ ত্বলহা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘যে বাড়িতে কুকুর এবং প্রাণীর ছবি থাকে তাতে ফেরেশতামন্ডলী প্রবেশ করেন না।’ (২৩২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৮৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ ত্বলহা (রাঃ)

সকল কুকুর নিধনযজ্ঞ

প্রাথমিক সময়ে সকল কুকুরকেই মুহাম্মদ মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বলেই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় [14] [15] [16] [17] [18] [19]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (3873)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মুসাকাত ও মুযারাত (বর্গাচাষ)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা ও এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৮৭৩। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার জন্য হুকুম দিতেন। অতঃপর আমি মদিনার অভ্যন্তরে ও তার চারপাশের কুকুর ধাওয়া করাতাম। আর কোন কুকুরই আমরা না মেরে ছেড়ে দিতাম না। এমন কি বেদুইনদের দুগ্ধবতী উষ্ট্রীর সাথে যে কুকুর থাকত তাও আমরা হত্যা করতাম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ (3909)
অধ্যায়ঃ ২৩। মুসাকাহ (পানি সেচের বিনিময়ে ফসলের একটি অংশ প্রদান)
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি‏
পরিচ্ছদঃ ১০. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা বা এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশে ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৯০৯-(৪৪/…) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ….. ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে মাদীনার চারপাশে লোক পাঠালেন যাতে কুকুর হত্যা করা হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৩৮৭২, ইসলামিক সেন্টার ৩৮৭১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (3872)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মুসাকাত ও মুযারাত (বর্গাচাষ)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা ও এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৮৭২। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি মদিনার চারপাশে লোক প্রেরণ করলেন যে, কুকুর হত্যা করা হোক।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ (3323)
অধ্যায়ঃ ৫৯/ সৃষ্টির সূচনা
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৫৯/১৭. পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে ডুবিয়ে দেবে। কারণ তার এক ডানায় থাকে রোগ, অন্যটিতে থাকে আরোগ্যের উপায়।
৩৩২৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর মেরে ফেলতে আদেশ করেছেন।’ (মুসলিম ২২/১০ হাঃ ১৫৭০, আহমাদ ৫৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৮৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (3089)
অধ্যায়ঃ ৪৯/ সৃষ্টির সূচনা
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‏পরিচ্ছদঃ ১৯৯৯. তোমাদের কারো পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে ডুবিয়ে দেবে । কেননা তার এক ডানায় রোগ জীবানু থাকে, আর অপরটিতে থাকে আরোগ্যে
৩০৮৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।’
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (5632)
অধ্যায়ঃ ৪১/ সাপ ইত্যাদি নিধন
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৫৬৩২। হাজিব ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি কুকুর নিধনের হুকুম জারী করতে শুনেছি, তিনি বলতেন, সাপগুলি আর কুকুরগুলি মেরে ফেল। আর (বিশেষত) পিঠে দু’সাদা রেখাবিশিষ্ট ও লেজবিহীন সাপ মেরে ফেল। কেননা এ দুটি মানুষের দূষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয় এবং গর্ভবতীদের গর্ভপাত ঘটায়। (সনদের মধ্যবর্তী) রাবী যুহরী (রহঃ) বলেন, আমাদের ধারণায় তা এদের বিষের কারণে; তবে আল্লাহ তাআলাই সমধিক অবগত। রাবী সালিম (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন, এরপরে আমার অবস্থা দাঁড়াল এই যে, কোন সাপ দেখতে পেলে তাকে আমি না মেরে ছেড়ে দিতাম না।
একদিনের ঘটনা, আমি বাড়ি-ঘরে অবস্থানকারী ধরনের একটি সাপ তাড়া করছিলাম। সে সময় যায়দ ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বা আবূ লূবাবা (রাঃ) আমার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, আর আমি তাড়া করে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন, থামো! হে আবদুল্লাহ! তখন আমি বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো এদের মেরে ফেলার হুকুম দিয়েছেন। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর-দুয়ারে বসবাসকারী সাপ নিধন করতে নিষেধও করেছেন।
হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া, আবদ ইবনু হুমায়দ ও হাসান হুলওয়ানী (রহঃ) … যুহরী (রহঃ) থেকে উল্লেখিত সনদে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে (শেষ সনদের) রাবী সালিহ (রহঃ) বলেছেন, অবশেষে আবূ লূবাবা ইবনু আবদুল মুনযির (রাঃ) এবং যায়দ ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আমাকে দেখলেন …… এবং তাঁরা দুাজন বললেন যে, ঘর-দুয়ারে বসবাসকারী সাপ নিধন করতে নিষেধ করেছেন। আর (প্রথম সনদের) রাবী ইউনূস (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে রয়েছে- ‘সব সাপ মেরে ফেল’। তিনি (বিশেষ করে) ‘পিঠে দু’সাদারেখা বিশিষ্ট ও লেজবিহীন সাপ’ কথাটি বলেন নি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সাহাবীদের আপত্তির মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

নিচের হাদিসটি থেকে খুব পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায় যে, মুহাম্মদের অনেক সাহাবীই সেই সময়ে এভাবে কুকুর নিধনযজ্ঞে একমত ছিলেন না। তারা নবীর কাছে সেই বিষয়গুলো জানাতেন এবং নবী তাতে বিরক্তও হতো। অনেক সাহাবীই নিশ্চয়ই কুকুর পুষতেন, বা কুকুরের মত এরকম নিষ্পাপ প্রাণিকে ঢালাওভাবে হত্যা করাকে ভালভাবে গ্রহণ করেননি। হাদিসটি ভালভাবে পড়ুন, এবং ভেবে দেখুন, নবী কেন বললো, লোকেদের কী হয়েছে যে, তারা কুকুরের পিছনে পড়লো! হাদিসটি থেকে পরিষ্কারভাবেই মুহাম্মদের বিরক্তি প্রকাশ পাচ্ছে, এবং শেষে সিদ্ধান্তে কিছুটা পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে [20] [21]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২/ তাহারাত (পবিত্রতা)
পরিচ্ছেদঃ ২৭. কুকুরের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে বিধান
৫৪৬। উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) … ইবনুল মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে বললেন, তাদের কী হয়েছে যে, তারা কুকুরের পিছনে পড়লো? তারপর শিকারী কুকুর এবং বকরীর (পাহারা দেয়ার) কুকুর রাখার অনুমতি দেন এবং বলেন, কুকুর যখন পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান করবে তখন তা সাতবার ধুইয়ে ফেলবে এবং অষ্টমবার মাটি দিয়ে ঘষে ফেলবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
২। তাহারাহ (পবিত্রতা)
পরিচ্ছেদঃ ২৭. কুকুরের পানীয় পাত্র সম্পর্কে বিধান।
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৫৪০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৮০
৫৪০-(৯৩/২৮০) উবাইদুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহ) ….. ইবনুল মুগাফফাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে বললেন, তাদের কি হয়েছে যে, তারা কুকুরের পিছনে পড়লো? তারপর শিকারী কুকুর এবং বকরীর (পাহারা দেয়ার) কুকুর পোষার অনুমতি দেন এবং বলেন যে, যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ লাগিয়ে পান করবে তখন সাতবার ধুয়ে ফেলবে এবং অষ্টমবার মাটি দিয়ে মেজে ফেলবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ ৫৬০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)

কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে, আল্লাহ এবং তার রাসুল কোন নির্দেশনা দিলে, সাহাবীগণ কী সেগুলো নিয়ে কোন আপত্তি করাতে পারে? বা সিদ্ধান্তে কিছুটা সংশোধন আনার পরামর্শ দিতে পারে? কোরআনে বলা হয়েছে, [22]

আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারী উক্ত নির্দেশের ভিন্নতা করার কোন অধিকার রাখে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে সে স্পষ্টতই সত্য পথ হতে দুরে সরে পড়ল।
Taisirul Quran
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মু’মিন পুরুষ কিংবা মু’মিনা নারীর সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবেনা। কেহ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সেতো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট।
Sheikh Mujibur Rahman
আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য নিজেদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।
Rawai Al-bayan
আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ের ফায়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সে বিষয়ে তাদের কোনো (ভিন্ন সিদ্ধান্তের) ইখতিয়ার সংগত নয়। আর যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হলো (১)।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

শিকারী কুকুরগুলো জীবিত রাখা

এর মধ্যে প্রচুর কুকুর হত্যার পরে নবী শিকারী কুকুরগুলো এবং পাহারা দেয়া বড় কুকুরগুলো মেরে ফেলতে নিষেধ করলেন, একইসাথে শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা ও এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম করেন। [23] [24]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ (3911)
অধ্যায়ঃ ২৩। মুসাকাহ (পানি সেচের বিনিময়ে ফসলের একটি অংশ প্রদান)
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১০. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা বা এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশে ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৯১১-(৪৬/১৫৭১) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ….. ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করতে হুকুম দিয়েছেন। তবে শিকারী কুকুর, বকরী পাহারা দানের কুকুর অথবা অন্য জীবজন্তু পাহারা দেয়া কুকুর ব্যতীত। অতঃপর ইবনু উমারের নিকট বলা হলো যে, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) তো ক্ষেত পাহারার কুকুরের কথাও বলে থাকেন। ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেনঃ আবূ হুরাইরার ক্ষেত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭৪, ইসলামিক সেন্টার ৩৮৭৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (3874)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মুসাকাত ও মুযারাত (বর্গাচাষ)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা ও এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৮৭৪। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শিকারী কুকুর, বকরী (পাহারা দানের কুকুর) অথবা অন্য জীবজন্তু পাহারা দেওয়া কুকুর ব্যতীত। এখন ইবনু উমর (রাঃ) কে বলা হল যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) তো ক্ষেত পাহারার কুকুরের কথাও বলে থাকেন। ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আবূ হুরায়রার ক্ষেত আছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কালো বাদে সকল কুকুর হত্যা

এর মধ্যে মদীনার অসংখ্য কুকুর হত্যার পরে নবী আবারো সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনলেন। এবারে তিনি বললেন, কালো কুকুর হচ্ছে শয়তান। তাই শুধুমাত্র কালো কুকুরগুলোকেই হত্যা করো। স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়, নবী যদি শুধু কালো কুকুর হত্যার আদেশই শুরুতে দিতেন, তাহলে এতগুলো কুকুর অনর্থক নিশ্চয়ই প্রাণ হারাতো না। [25] [26] [27]

গ্রন্থের নামঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (1495)
অধ্যায়ঃ ২১/ বিবিধ বিধান ও তার উপকারিতা
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ কুকুর রাখলে কি পরিমান ছাওয়াব হ্রাস পাবে।
১৪৯৫। উবায়দ ইবনু আসবাত ইবনু মুহাম্মদ কুরাশী (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন খুতবা প্রদানের সময় তাঁর চেহারা থেকে খেজুর গাছের ডাল যারা সরাচ্ছিলেন আমি তাদের একজন ছিলাম। তিনি বলেছিলেন, কুকুর যদিও আল্লাহর সৃষ্ট জাত-গুলোর একটি জাতি না হত তবে আমি তা হত্যা করার হুকুম দিয়ে দিতাম। সুতরাং তোমরা যেগুলা ঘোর কালো বর্ণের সেগুলোকে হত্যা করবে। শিকারের বা শস্যক্ষেত্রের বা চারণের কুকুর ছাড়া অন্য কোন কুকুর যদি কেউ বেঁধে রাখে তবে অবশ্যই তার নেক আমল থেকে প্রতিদিন এক কিরাত করে হ্রাস পাবে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩২০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৮৯ (আল মাদানী প্রকাশনী)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (2836)
অধ্যায়ঃ ১১/ শিকার প্রসঙ্গে
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯৯. শিকারে উদ্দেশ্যে বা অন্য কোন প্রয়োজনে কুকুর পোষা।
২৮৩৬. মুসাদ্দআদ (রহঃ) ……….. ‘আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কুকুর আল্লাহ্ তা‘আলার বহুজাতিক সৃষ্টজীবের মাঝে এক জাতীয় সৃষ্টি না হত, তবে আমি তাদের হত্যা করার নির্দেশ দিতাম। এখন তোমরা তাদের থেকে কেবল কালবর্ণের কুকুরকেই হত্যা করবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ (1020)
অধ্যায়ঃ ৪/ কিতাবুস স্বলাত
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৫০. মুসল্লীর সুতরার পরিমাণ
১০২০। আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ-সালাত (নামায/নামাজ)-এ দাঁড়াবে, তখন তার সম্মুখে হাওদার পিছনের কাষ্ঠ পরিমাণ কোনও বস্তু রেখে দিবে। যদি এরূপ কোনও বস্তু না থাকে, তবে তার সম্মুখ দিয়ে গাধা স্ত্রীলোক ও কালো কুকুর গমন করলে তার সালাত (নামায/নামাজ) ভঙ্গ হয়ে যাবে।
রাবী ইবনু সামিত বলেন, আমি বললাম, হে আবূ যার! লাল কুকুর ও হলুদ কুকুর থেকে কালো কুকুরকে পৃথক করার কারণ কি? তিনি জওয়াব দিলেন, হে ভাতিজা, আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমার মত এই বিষয়টি জিজ্ঞাস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, কালো কুকুর একটি শয়তান।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সাদা টিকাওয়ালা কুকুর শয়তান

এই পুরো ঘটনাটি থেকে যা বোঝা যাচ্ছে, নবীর একটি বড় সমস্যা ছিল ঠিকভাবে কথা সে বলতে পারতো না। কারণ এরপরে সে আবারো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলো, এবং চোখের ওপর সাদা দুই টিকা বিশিষ্ট কুকুরগুলোকে শুধু হত্যার আদেশ দিলো। এই কথাটি নবী শুরুতে ঠিকভাবে বললে কতগুলো কুকুরের জীবন রক্ষা পেতো। নবী এভাবে ক্ষণে ক্ষণে সিদ্ধান্তের ওপর শর্ত যুক্ত করতো কেন, সেটি অবশ্য জানা যায় না। [28]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৩/ মুসাকাত ও মুযারাত (বর্গাচাষ)
পরিচ্ছেদঃ ৯. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা ও এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৮৭৫। মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালফ ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার জন্য আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। অতঃপর কোন বেদুঈন নারী কুকুরসহ আগমণ করলে আমরা তাও হত্যা করে ফেলতাম। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হত্যা করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, চোখের উপর সাদা দুই টিকা বিশিষ্ট ঘন কৃষ্ণ বর্ণের কুকুর তোমরা হত্যা কর কেননা উহা হল শয়তান।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

অন্যান্য প্রাণি নিধন

স্বাভাবিক অবস্থায় যেকোন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষই অহেতুক কোন প্রাণি হত্যা করে না। নিতান্তই বাধ্য হলে আমাদের নিজেদের রক্ষার জন্য অনেক সময় আমরা প্রাণি হত্যা করতে বাধ্য হই, কিন্তু আমাদের চেষ্টা সবসময়ই থাকে অহেতুক কোন প্রাণি যেন আমাদের দ্বারা মরে না যায়। প্রতিটি প্রাণির অনুভূতি রয়েছে, তাদের কষ্ট দেয়া বা ব্যথা দেয়া যতটা সম্ভব কমানো যায়, তত ভাল। কিন্তু নবী মুহাম্মদ, যিনি সকল মুসলিমের অনুকরণীয় অনুসরণীয় জীবনাদর্শ, তিনি বিনা কারণেই অনেকগুলো প্রাণিকে হত্যা করার হুকুম দিয়ে গেছে। এমনকি সেই সব প্রাণি হত্যা করলে সওয়াবের কথাও ঘোষণা করে গেছেন। নিচের হাদিসটি পড়ি, এখানে দেখা যাচ্ছে, সেই ইব্রাহীমের যুগে নাকি কোন এক গিরগিটি আগুনে ফুঁ দিয়েছিল, তার জন্য এখনো নবী গিরগিটি মেরে ফেলার হুকুম দিয়েছেন! এগুলো কী উদ্ভট কথাবার্তা! ইব্রাহীমের গল্প যদি সত্যিও ধরে নিই, সেই যুগের কোন গিরগিটি কী করেছে তার জন্য এখনো গিরগিটি মেরে যেতে হবে, এরকম যুক্তি আর যাই হোক, কোন জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের যুক্তি হতে পারে না [29]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছেদঃ ২০০৮. মহান আল্লাহর বাণীঃ আর আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ) কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। (সূরা নিসা ৪: ১২৫) মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই ইব্রাহীম ছিলেন এক উম্মত, আল্লাহর অনুগত (২৬ঃ ১২০) মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই ইব্রাহীম কোমল হৃদয় ও সহনশীল (৯ঃ ১১৪)। আর আবু মাইসারাহ (রহঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় اواه শব্দটি الرَّحِيمُ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৩১২১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৩৩৫৯
৩১২১। উবাইদুল্লাহ ইবনু মূসা অথবা ইবনু সালাম (রহঃ) … উম্মে শারীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিরগিটি বা কাকলাশ মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, ইব্‌রাহীম (আলাইহিস সালাম) যে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তাতে এ গিরগিটি ফুঁ দিয়েছিল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু শারীক (রাঃ)

আরো অনেকগুলো হাদিস থেকেই জানা যায়, নবী আরো অনেক ধরণের প্রাণি মেরে ফেলার হুকুম দিয়ে গেছে [30] [31] [32] [33]

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৪০। সালাম
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. কাকলাস (টিকটিকি) মেরে ফেলা মুস্তাহাব
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৫৭৩৯, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২২৪০
৫৭৩৯-(১৪৬/২২৪০) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ….. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রথম আঘাতে যে লোক কাকলাস মারবে, তার জন্য রয়েছে এত এত পরিমাণ সাওয়াব। আর যে লোক দ্বিতীয় আঘাতে তাকে হত্যা করবে, তার জন্য এত এত পরিমাণ সাওয়াব, প্রথমবারের চাইতে কম। আর যদি তৃতীয় আঘাতে হত্যা করে ফেলে, তাহলে তার জন্য এত এত পরিমাণ সাওয়াব, তবে দ্বিতীয়বারের থেকে কম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৬৫১, ইসলামিক সেন্টার ৫৬৮১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৪০। সালাম
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. কাকলাস (টিকটিকি) মেরে ফেলা মুস্তাহাব
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৫৭৪০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২২৪০
৫৭৪০-(১৪৭/…) কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ….. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুহায়ল (রহঃ) হতে সংকলিত খালিদ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের মর্মার্থ সম্পন্ন হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র (অনুরূপ সানাদের) বর্ণনাকারী জাবীর (রহঃ) (এর বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে), তার বর্ণিত হাদীসে আছে, যে লোক প্রথম আঘাতে কাকলাস হত্যা করবে, তার জন্য একশ’ সাওয়াব লেখা হয়, আর দ্বিতীয় আঘাতে এর চেয়ে কম আর তৃতীয় আঘাতে তার থেকে কম (সাওয়াব লেখা হয়)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৬৫২, ইসলামিক সেন্টার ৫৬৮২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা
পরিচ্ছেদঃ ২৮/৭. মুহরিম ব্যক্তি যে যে প্রাণী হত্যা করতে পারে।
১৮২৮. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, হাফসা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী যে হত্যা করবে তার কোন দোষ নেই। (যেমন) কাক, চিল, ইঁদুর, বিচ্ছু ও হিংস্র কুকুর। (১৮২৭, মুসলিম ১৫/৯, হাঃ ১১৯৯, ১২০০) [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৯৬(২), ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ)
পরিচ্ছেদঃ ৪১. মুহরিম ব্যক্তি যেসব প্রাণী হত্যা করতে পারবে
১৮৪৬। সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মুহরিম ব্যক্তি কোন্ কোন্ প্রাণী হত্যা করতে পারবে। তিনি বললেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করাতে দোষ নেই, চাই ইহরাম অবস্থায় বা ইহরাম ব্যতিরেকে অথবা হেরেম এলাকায় বা হেরেমের বাইরে হোক। তা হলোঃ বিছা, কাক, ইঁদুর, চিল ও পাগলা কুকুর।[1]
সহীহ।
[1]. মুসলিম, নাসায়ী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ)

উপসংহার

উপরের আলোচনা থেকে এটি মোটামুটি স্পষ্ট যে, নবী মুহাম্মদ অনেক প্রাণিকে অহেতুক হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন এবং এটি সর্বসময়েই অত্যন্ত অমানবিক একটি কাজ। শুধু নির্দেশ দিয়েই তিনি থামেন নি, কুকুর হত্যা সরাসরি তত্ত্বাবধায়নও করেছেন। তার সময়ে মদিনায় রীতিমত কুকুর নিধনযজ্ঞ চলেছিল। আমরা তার এই কাজের নিন্দা জানাই এবং সংশয়ের পাঠকদের সকল প্রাণির প্রতি ভালবাসা এবং মমতা দেখাবার অনুরোধ জানাই। কুকুর মানুষের অন্যতম বন্ধু, এরকম এক বন্ধুর প্রতি এরকম অমানবিক ধারণা আমাদের বর্জন করতে হবে। সেই সাথে কোন প্রাণিকেই অকারণে হত্যা করা যাবে না, নিতান্তই নিজেদের রক্ষার জন্য প্রাণি হত্যা করতে আমাদের বাধ্য হতে হলে আমাদের উচিত হবে যত কম কষ্ট দিয়ে সম্ভব, আমরা যেন তা করি। এটিই পাঠকদের কাছে আমাদের আহবান।


তথ্যসূত্রঃ

  1. Origin of dogs traced []
  2. Ancient Dog Skull Shows Early Pet Domestication []
  3. Cynophobia []
  4. Dog-owners ‘lead healthier lives’ [][]
  5. More Evidence That Owning a Dog Is Really Good for You []
  6. Why ‘dog-speak’ is important for bonding with your pet []
  7. How therapy dogs ease the tension for patients, families at Overlake and other Seattle-area hospitals []
  8. Association between pet ownership and coronary artery disease in a Chinese population []
  9. সূনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর ৩৯৬৫ []
  10. সহিহ মুসলিম, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, তৃতীয় খণ্ড, হাদিস -২১২৮ []
  11. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৫৩৩৩ []
  12. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৫৩৩৫ []
  13. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ৩৩২২ []
  14. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৮৭৩ []
  15. সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৯০৯ []
  16. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৮৭২ []
  17. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ৩৩২৩ []
  18. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩০৮৯ []
  19. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৫৬৩২ []
  20. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৫৪৬ []
  21. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৫৪০ []
  22. কোরআন ৩৩ঃ৩৬ []
  23. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৯১১ []
  24. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৮৭৪ []
  25. সুনান তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৪৯৫ []
  26. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২৮৩৬ []
  27. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ১০২০ []
  28. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৮৭৫ []
  29. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩১২১ []
  30. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৫৭৩৯ []
  31. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৫৭৪০ []
  32. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ১৮২৮ []
  33. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিসঃ ১৮৪৬ []
আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

9 thoughts on “মুহাম্মদের কুকুরভীতি এবং নির্মম নিধনযজ্ঞ

  • অক্টোবর 23, 2018 at 11:27 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    এই ভিডিওটাও একটা চমৎকার ভিডিও।আমার খুব ভালো লেগেছে। এখানে অ্যাড করতে পারেন।

    https://www.facebook.com/DailyViralStories/videos/906445426226356/

    Reply
  • অক্টোবর 23, 2018 at 12:28 অপরাহ্ন
    Permalink

    আসিফ তুই মূর্খ ও পাগল ! তুই কুত্তা নিয়েই পড়ে থাক। Mohamed sm সর্ব যুগের সেরা মানব। তাকে বিচার করা তোদের মতো নাস্তিক কাফেরের কর্ম না।

    Reply
  • নভেম্বর 2, 2018 at 8:50 অপরাহ্ন
    Permalink

    ছোট বেলায় কুকুর পুষতে চেয়েছিলাম। মা পুষতে দেয়নি , বলেছিলো কুকুর পুষলে ঘরে ফেরেস্তা আসবে না

    Reply
  • এপ্রিল 19, 2020 at 11:52 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    কুকুর একটি মনুষ্য সমাজ দ্বারা বিবর্তিত প্রাণী :} haha

    Reply
  • মে 26, 2020 at 11:46 অপরাহ্ন
    Permalink

    তথ‍্যের সঙ্গে আপনার কিছু নিজস্ব মতামত সংযোজন করলে আরো ভালো লাগত। অনেক ধন‍্যবাদ আপনাকে।

    Reply
  • জুলাই 22, 2020 at 2:45 অপরাহ্ন
    Permalink

    আপনি ‘গণনিধন’ শিরোণামে বুখারীর ‘সৃষ্টির সুচনা’ অধ্যায়ে ইবনে উমর কর্তৃক বর্ণিত যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তার পূর্বে আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণিত একটি হদিসে দেখা যাচ্ছে একজন পতিতা পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে তার পাপ সমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হলো এটি রাসুলের নিজ মুখে বর্ণিত। কিন্তু আপনি এটি এড়য়ে গেছেন। এবং উপরে ইবনে উমর বর্ণিত হাদিসের পরে দুটো এবং আরো কিছু হাদিসে দেখা যাচ্ছে, কুকুর পালন বৈধ নয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড়া যেমনঃ শিকার, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার, গবাদি পশুর পাহারা। এক্ষেত্রেও রাসুলের নিজ মুখে বর্ণিত হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে। এ থেকে বুঝা যায়, বিভিন্ন বৈষয়িক প্রয়োজনে কুকুর পোষা বৈধ তবে শখের বশে নয়, এবং কুকুরের ব্যাবসাও বৈধ নয়। বাকি যে হাদিসগুলোতে কুকুর হত্যার কথা বলা হয়েছে, উপরোক্ত হাদিসগুলোর দৃষ্টিতে বিচার করলে বুঝা যায়, রাসুল নির্বিচারে কুকুর হত্যার কথা বলেননি। বরং ক্ষতিকারক ও কামড়ানো কুকুর হত্যার কথা বলেছেন, অনেক পন্ডিতও এমন মত পোষণ করেন যা আপনিও উল্লেখ করেছেন। এবং কুকুর হত্যা বিষয়ক হাদিসগুলো রাসুলের নিজ মুখে বর্ণিত হয়নি, আপনি হয়তো জেনে থাকবেন, রাসুলের নিজ মুখে বর্ণিত হাদিসের মর্যাদা বেশি দেওয়া হয়।

    Reply
  • সেপ্টেম্বর 3, 2020 at 2:51 অপরাহ্ন
    Permalink

    আসিফ ভাই, কিছুটা পড়াশোনা করে নেন… সব সংশয় দূর হবে ৷ কপিপেস্ট করে, কাটাছেড়া পড়ে কি পণ্ডিত হবেন!????
    আপনার ফাউ ফাউ খিচুড়ি পাকানো স্বভাব দেখে মনে হয়, আপনাার ছাত্রজীবনে মনোযোগ আপনার বই পড়ার চেয়ে নকল মারার প্রতি বেশি ছিল!???? আজাইরা টাইমপাস না করে একটু পড়তেন, তো কী ক্ষতিটা হইতো বলেন তো!????
    “অল্প বিদ্যা ভয়ংকর”-এরর তরতাজা উদাহরণ হইছেন বেহুদা!

    শোনেন, এ ভিডিওটা দেখেন… কুকুর নিয়া আপনার সব চুলকানির অষুধ দেয়া আছে এখানে!

    https://youtu.be/91mydARb2-k

    Reply
  • নভেম্বর 21, 2021 at 3:48 অপরাহ্ন
    Permalink

    হাদীস এসেছে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর ইহজগত ত্যাগের প্রায় ২০০ বছর পর , এ সময়ের মধ্যে একটা কথা কতটুক চেঞ্জ হতে পারে বলে ধারণা করতে পারেন ?
    আশ্চর্যজনকভাবে আপনি কোরআনের কোনো রেফারেন্স টানেননি !

    আপনার জ্ঞানের পরিধি বিদ্বেষমূলক -এবং ফলাফল উগ্রবাদীতা ।
    আগে জানুন , তারপর মিথ্যাচার করুন –

    Reply
  • নভেম্বর 15, 2022 at 5:20 অপরাহ্ন
    Permalink

    শ্রীমান আসিফ, তুমি নিজে একজন মুসলিম হয়ে, কিভাবে তোমার সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে রং তামাশা করার স্পর্ধা রাখো? কি করে তুমি বিস্মৃত হলে যে, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্যে রহমত স্বরূপ। যা কিনা, স্বয়ং মহান আল্লাহপাক পবিত্র ঐশি কিতাবে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন। (সুরাতুল আম্বিয়া দ্রষ্টব্য) পৃথিবীর বড় বড় তাবৎ মনীষী গণ, এমনকি যাদের অধিকাংশই পরধর্মের তারাও পর্যন্ত অকুণ্ঠচিত্তে স্বীকার করে নিয়েছেন যে – ইসলামের নবী হচ্ছেন মানবতার সত্যিকারের মুক্তিদূত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। সেখানে তোমার মতো নাদান মূর্খ পবিত্র কুরআন ও হাদিসের দু’লাইন পড়ে নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করার দুঃসাহস দেখাও! মহান ইসলামের পরিভাষায়, নিঃসন্দেহে তুমি একজন মুরতাদ। এখনো সময় আছে, মন খুলে তওবা করে নাও। কেননা মহামহিম করুনাময় আল্লাহর ক্ষমা তোমার অতীব প্রয়োজন। নাহলে উভজগতে তুমি হবে অভিশপ্ত লাঞ্চিত এবং অনন্তর চরম আজাব-গজবে নিপতিত …

    Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

%d bloggers like this: