কোরআনে কয়লার মিরাকল?
Table of Contents
ভূমিকা
কোরআনের সূরা আল-বাকারাহ’র ২৪ নং আয়াতে কোরআনের লেখক মানুষকে কোরআনে বিশ্বাস করার জন্য আগুনের ভয় দেখিয়েছেন, যার জ্বালানি হবে মানুষ এবং পাথর। কোরআনের এ আয়াতকে ব্যবহার করে কিছু ইসলাম প্রচারক দাবি করেন যে, তাদের নবী জানতেন না যে পৃথিবীতে কয়লা বলে কিছু আছে, অতএব তিনি কোরআনের লেখক হতে পারেননা।
মিরাকলের দাবি
“১৪০০ বছর আগে আরবরা জ্বালানী হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতেন। তবে, তারা সেই পাথর সম্পর্কে জানতেন না যা জ্বালানী হিসেবে কাজ করে।
“কয়লা কি?
Geology, Coal, 2020
কয়লা হচ্ছে একটি জৈব পাললিক শিলা যা সাধারণত জলমগ্ন পরিবেশে উদ্ভিদ উপাদানের সঞ্চয় এবং সংরক্ষণ থেকে তৈরি হয়। কয়লা একটি দাহ্য শিলা, এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ তিনটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম জ্বালানীর মধ্যে অন্যতম। কয়লা ব্যাপক পরিসরে ব্যবহৃত হয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হয়ে থাকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য।”“কয়লা একটি দাহ্য শিলা”, কিন্তু ১৪০০ বছর আগে আরবরা এটি জানতেন না।
“সৌদি আরব নিজস্ব শক্তি ব্যবহারের জন্য কার্যত কোনো কয়লা উৎপাদন করে না। বরং প্রতিবছর ১২৩,৪০০ সংক্ষিপ্ত টন আমদানি করে, যে মান ২০১০ দশক জুড়ে প্রায় প্রতিবছরই বেড়ে চলেছে। ২০১৬ সালের হিসাবে প্রতিবছর সৌদি আরব শক্তি ব্যবহারের জন্য সামান্য পরিমাণ কয়লাই ব্যয় করে, যা প্রয়োজনের ০.১% এরও কম পূরণ করে।”
Climate Scorecard, Saudi Arabia Increases Coal Production, 2019১৪০০ বছর আগে দাহ্য শিলা আরবে পরিচিত ছিলোনা, কিন্তু, এর কথা কোরআনে বর্ণিত হয়েছে।
“অতএব যদি তোমরা তা না কর- আর কখনো তোমরা তা করবে না- তাহলে আগুনকে ভয় কর যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর, যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফিরদের জন্য।”
[কোরআন ২:২৪]যে পাথর আগুনের জন্য জ্বালানী হিসেবে কাজ করে, সেই পাথরই দাহ্য পাথর। আজ আমরা জানি যে, কয়লা একটি দাহ্য পাথর।
১৪০০ বছর আগে একজন নিরক্ষর মানুষ কিভাবে সেই পাথরের কথা জানতে পারলেন যা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা যায়?” [1]
নবী জানতেন না?
১৪০০ বছর আগে আরবদের কাছে কয়লা অপরিচিত থাকার কথা নয়, কেননা ইসলামের হাজার বছর আগেই বাইবেল কয়লার কথা বলেছে। আর যেহেতু বাইবেলে জলন্ত কয়লার কথা এসেছে, সেহেতু ১৪০০ বছর আগে নবীর কয়লার সাথে পরিচিত থাকা অস্বাভাবিক ছিলো না।
Then Moses said to Aaron, “Take your censer and put incense in it, along with burning coals from the altar, and hurry to the assembly to make atonement for them. Wrath has come out from the LORD; the plague has started.”
(The Bible, Numbers 16:46)
তখন মোশি হারোণকে বলল, “ধুনুচি নিয়ে তাতে বেদী থেকে আগুন নিয়ে রাখো। এরপর এতে সুগন্ধি ধূপধূনো দাও এবং ঐ লোকদের কাছে তাড়াতাড়ি গিয়ে তাদের পবিত্র করো। কারণ প্রভু তাদের প্রতি খুবই ক্রুদ্ধ হয়ে আছেন। ইতিমধ্যেই রোগ ছড়াতে শুরু করেছে।”
(পবিত্র বাইবেল, গণনাপুস্তক ১৬:৪৬)
যারা দাবি করেন নবী কয়লা সম্পর্কে কিছু জানতেন না তারা বোধহয় হাদিসগ্রন্থসমূহ কখনো ভালো করে পড়ে দেখেননি। যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে তারা সজ্ঞানে মিথ্যার আশ্রয় নেন। কেননা, সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থের একটি হাদিস অনুসারে নবী একদা বলেছেন, কারো কবরের উপর বসার চাইতে জলন্ত কয়লার ওপর বসা উত্তম। এ হাদিস থেকে পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায় যে, তিনি কয়লার সাথে অপরিচিত ছিলেননা।
Collection
Sunan Ibn Majah
Dar-us-Salam reference
Volume 2, Book 6, Hadith 1566
In-book reference
Book 6, Hadith 1633
Reference
Hadith 1566
It was narrated from Abu Hurairah said:
The Messenger of Allah (ﷺ) said: “If one of you were to sit on a live coal that burns him, that would be better for him than if he were to sit on a grave.”
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ৬/ জানাযা (كتاب الجنائز)
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬৬
৬/৪৫. কবর মাড়ানো এবং তার উপর বসা নিষেধ।
১/১৫৬৬। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবরের উপর তোমাদের কারো বসার চাইতে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসা তার জন্য উত্তম।
মুসলিম ৯৭১; নাসাঈ ২০৪৪; আবূ দাউদ ৩২২৮, আহমাদ ৮০৪৬, ৮৮১১, ৯৪৩৯ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
আমরা দেখতে পাচ্ছি, হাদিসটির ইংরেজি অনুবাদে যেখানে Coal (কয়লা) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, বাংলা অনুবাদে সেখানে অঙ্গার শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। অঙ্গার শব্দটি ব্যবহার করে অনুবাদক অন্যকিছু নয়, কয়লাই বুঝিয়েছেন। কেননা, কয়লারই আরেক নাম অঙ্গার। [2]
উপসংহার
ইসলাম প্রচারকগণের এ দাবি ভুল যে, তাদের নবীর কয়লা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিলো না। কেননা, ইসলামের হাজার বছর আগেই বাইবেলে জলন্ত কয়লার কথা এসেছে। যা প্রমাণ করে, ১৪০০ বছর আগে আরবরা কয়লার সাথে অপরিচিত ছিলেননা। এছাড়াও, তাদের নবী নিজেই একটি হাদিসে জলন্ত কয়লার কথা বলেছেন। হয় তারা নিজেদের ধর্মগ্রন্থসমূহই কখনো ভালো করে পড়ে দেখেননি, নাহয় তারা জেনে-বুঝেই মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন।
আরও পড়ুন
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.
The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.
This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.
তথ্যসূত্রঃ
- Coal in Quran – Miracles of Quran ↩︎
- অঙ্গার – English & Bengali Online Dictionary & Grammar ↩︎

