বৌদ্ধধর্ম – নাস্তিকতা নাকি আস্তিকতা? -১

Print Friendly, PDF & Email

বৌদ্ধ ধর্ম কি নাস্তিক্যবাদ বা আস্তিক্যবাদ তাদের নিজেদের ধর্মের লোকের মধ্যেও বিভিন্ন মতভেদ দেখা যায়। কোন কোন রাষ্ট্র বৌদ্ধ ধর্মকে নাস্তিকতার ধর্ম বলে দাবী করে।সত্যিকার অর্থেই জানার চেষ্টা করব বৌদ্ধ ধর্ম নাস্তিক কিনা।
নাস্তিক্যবাদ মানে আমি এক কথায় বলতে পারি, মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঈশ্বর বা অলৌকিক শক্তি আছে তা প্রমাণের অভাবে বাতিল করে। (১) বৌদ্ধ ধর্মে সৃষ্টিকর্তাকে হয়ত সরাসরি স্বীকার করে না বলে দাবী করা হয়। কিন্তু নাস্তিক্যবাদ কেবলমাত্র ঈশ্বরকে নয় অলৌকিক শক্তিকেও প্রমাণের অভাবে বাতিল করে। বৌদ্ধ ধর্মে পরকাল মানুষের কর্মের উপর নির্ভরশীল। বৌদ্ধরা পূণঃজম্মে বিশ্বাসী। অর্থাৎ কোন প্রাণী মরে আবার জন্ম নিবে। পরকালে ৩১ লোকভূমির তথ্য দেখা যায়। তার মধ্যে স্বর্গ, নরক, অসুর, প্রেতলোক এভাবে সবশেষে আছে নির্বান(পরম মুক্তি) সনাতন ধর্মেও চিরমুক্তি বা মোক্ষলাভ আছে। (২) বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যেও বিভিন্ন দেবতার অস্তিত্ব স্বীকার করে। নগর দেবতা, নদী রক্ষক দেবতা, পুকুর রক্ষক দেবতা, রাস্তা রক্ষক দেবতা, দেশ রক্ষক দেবতা, এমনকি বুদ্ধের শাসন রক্ষক দেবতাও আছেন। এরকম অসংখ্য দেবতার সন্ধান পাওয়া যায়। (৩) নাস্তিক্যবাদ কেবল ঈশ্বরকেই প্রমাণের অভাবে বাতিল করে তা নয় এরকম অলৌকিক ভ্রান্ত ধারনাকে বাতিল করে। এতটুকুর মধ্যেও বৌদ্ধ ধর্মকে নাস্তিক্যবাদ ধর্ম বলা যায় না।
বৌদ্ধ ধর্মে সৃষ্টিকর্তা স্বীকার করে কি না তা একটি বিরাট প্রশ্ন। ত্রিপিটক থেকেই মূলত দেখিয়ে দেয়ার চেষ্ঠা করব বৌদ্ধ ধর্ম সৃষ্টিকর্তাকে স্বীকার করে। মানা না মানা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু স্বীকার করে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধকে কেবল মাত্র বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে আলোচনা না করে সনাতন ধর্ম নিয়েও গৌতম ‍বুদ্ধকে আলোচনা করতে হয়। কারণ সনাতন ধর্মেও গৌতম ‍বুদ্ধকে নবম অবতার বলে স্বীকার করে। তবে আমি এখানে বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে আলোচনা করব। বৌদ্ধ ধর্মে গৌতম বুদ্ধকে ভগবান হিসেবেও অভিহিত করা হয়। বৌদ্ধরা ত্রিপিটককে বুদ্ধের মৃখনিঃসৃত বাণী হিসেবে স্বীকার করে। এতে বুদ্ধের মুখনিঃসৃত বাণী ছাড়া অন্য কিছুই নেই। তাহলে সৃষ্টিকর্তার সম্পর্কে ত্রিপিটক কী বলেন সেটি দেখা যাক।

গৃহপতিপুত্র কেবট্ট নামের এক ব্যাক্তি কেবট্ট সূত্রে গৃহপতিপূত্র কেবট্ট ঋদ্ধি প্রতিহার্য প্রদর্শনের জন্য কোন ভিক্ষুকে আদেশ দিতে বার বার অনুরোধ ভগবান কে অনুরোধ করেন। তার উত্তরে ভগবান ঋদ্ধি প্রতিহার্য, আদেশনা-প্রতিহার্য ও অনুশাসনী প্রতিহার্য এই ত্রিবিধ প্রতিহার্য ব্যাখ্যা করেন। ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভগবান দেশনা করেন যে, জনৈক ভিক্ষু “চারিমহাভূত (মহাভূত পৃথিবী ধাতু, আপধাতু, তেজধাতু, বায়ুধাতু) কোথায় নিঃশেষে নিরুদ্ধ হয়” এই প্রশ্নটি নিয়ে বিভিন্ন দেবতার কাছে গমন করেন। সেই ভিক্ষু সমাধি প্রাপ্ত হয়ে দেবলোকে গমন করেন। সেখানে চার্তুমহারাজিক দেবগণের নিক উক্ত প্রশ্নটি করেন। তারা সেই উত্তরটি দিতে পারল না। এবং সেই দেবতারা বললেন তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ চার মহারাজা আছেন তারা হয়ত সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। তার পর জনৈক ভিক্ষু সেই চার মহারাজার কাছে গিয়ে একই প্রশ্ন করেন। তারাও উত্তরটি দিতে না পেরে তারা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উন্নত ত্রয়ত্রিংশ দেবগনের নিকট যেতে বললেন। সেখানেও উত্তর না পেয়ে একই নিয়মে দেবেন্দ্র শক্র, যামদেবগণ, সুযাম দেবপুত্র, তুষিত দেবগণ, সন্তুষিত দেবপুত্র, নির্মাণরতি দেবগণ, সুনির্মিত দেবপুত্র, পরনির্মিত বশবর্তী দেবগণ, বশবর্তী দেবপুত্রের(পর্যায়ক্রমে উন্নত ও শ্রেষ্ঠ) কাছে গমনের পরও না পেয়ে বশবর্তী দেবপুত্র আরো শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মকায়িক দেবগণের নিকট যেতে বললেন। তারাও উত্তর দিতে না পেরে ভিক্ষুকে বললেন, হে ভিক্ষু! ব্রহ্মা, মহাব্রহ্মা, যিনি বিজয়ী, অপরাজিত, সর্বদশী, সর্বশক্তিমান, ঈশ্বর, কর্তা, নির্মাতা, শ্রেষ্ঠ স্রষ্ঠা, ভূত ও ভব্য (জন্ম পর্যান্বেষী) প্রাণীগণের শক্তিমান পিতা আছেন। তারপর আলোকের উদ্ভব হয়ে, আভার বিকাশ পেয়ে মহাব্রহ্মার আবির্ভাব হল। জনৈক ভিক্ষু একই প্রশ্ন মহাব্রহ্মাকে করল। তখন মহাব্রহ্মা উত্তর দিল ‘হে ভিক্ষু! আমিই ব্রহ্মা, মহাব্রহ্মা, যিনি বিজয়ী , অপরাজিত, সর্বদশী, সর্বশক্তিমান, ঈশ্বর, কর্তা, নির্মাতা, শ্রেষ্ঠ, স্রষ্ঠা, ভূত ও ভব্য (জন্ম পর্যান্বেষী) প্রাণীগণের শক্তিমান পিতা।’ তখন ভিক্ষু বললেন আমি তো এটি জানতে চাইনি। মহাব্রহ্মা বারবার এই উত্তর দিতে থাকেন এবং শেষে ভিক্ষুর হাত ধরে গোপনভাবে মহাব্রহ্মা বলেন আমি তো সৃষ্টিকর্তা হলে কী হবে তার উত্তর আমিও জানি না। সুতরাং আপনারই অপরাধ যে আপনি ভগবানকে ত্যাগ করে এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য বাইরে ব্রহ্মলোক পর্যন্ত এসেছেন । আপনি যান ভগবানের সম্মুখে সমুউপস্থিত হয়ে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। তিনি যেরকম ব্যাখ্যা দিবেন সে রকম ধারণ করবেন। তারপর ভিক্ষু ভগবানের নিকট আসিল। ভগবান বললেন, ব্রহ্মলোক পর্যন্ত ঘুরে এসে উত্তর না পেয়ে আমার কছে এসেছ। তারপর ভগবান সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন, “প্রশ্নটি সেভাবে হবে না? প্রশ্ন করতে হবে- চারি মহাভূত(মহাভূত পৃথিবী ধাতু, আপধাতু, তেজধাতু, বায়ুধাতু) কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?” উত্তরে ভগবান বললেন, বিজ্ঞান (বিজ্ঞাতব্য জ্ঞান), অনিদর্শন, অনন্ত, সর্বতঃ তীর্থ এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয় না। এখানেই দীর্ঘ-হ্রস্ব, অণূ-স্থুল, সুন্দরাসুন্দর এবং নামরূপ নিঃশেষে নিরুদ্ধ হয়। অহর্তের চরম বিজ্ঞানের নিরোধ হলে এখানেই এ সমুদয় নিরুদ্ধ হয়। (৪)

ত্রিপিটক মতে এই সূত্রে যে ভিক্ষু, দেবদেবী, ব্রহ্মা সবকিছুই বুদ্ধ তার মুখ দিয়ে উচ্চারণ করেন। বুদ্ধ কখনো মিথ্যা কথা বলতে পারেন না। তাহলে বুদ্ধ তার ঋদ্ধি (ঐশী) শক্তি দিয়ে তা দেখেছেন বা উপলব্দি করেছেন। শিষ্যদেরকে বিভিন্ন এই সূত্রে বুদ্ধ সরাসরি বিভিন্ন দেবদেবী, এবং মহাব্রহ্মাকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে স্বীকার করেন। এখানে মহাব্রহ্মা প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বুদ্ধের কাছে পাঠিয়েছে। যেহেতু সৃষ্টিকর্তা মহাব্রহ্মা সকল ক্ষমতার অধিকারী তার একটি চালাকি হতে পারে ভিক্ষুকে বুদ্ধের কাছে পাঠানো। কারন মহাব্রহ্মা ভারতবর্ষে বুদ্ধকে জ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তাকে দিয়ে ধর্ম প্রচার করতে চান। তাকে দিয়ে মারকে(শয়তান)দমন করতে চান। বুদ্ধকে যাতে লোকজন বিশ্বাস করতে পারে সেই ব্যবস্থাই মহব্রহ্মা করেছেন। বুদ্ধ যদি নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দেন তাহলে বুদ্ধকে জ্ঞানী হিসেবে বা অবতার হিসেবে ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। সে হিসেবে এটি মহাব্রহ্মার চালাকি হতে পারে। আবার যদি ধরে নিই মহাব্রহ্মা উত্তর সত্যিকার অর্থেই না পারেন তাহলে বুদ্ধও সেই অর্থে উক্ত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে পারেন নি। তিনি প্রশ্নকে পরিবর্তন করে উত্তর দিয়েছেন। আবার অন্যদিকে বুদ্ধ সৃষ্টিকর্তাকে স্বীকার করেও বুদ্ধকে সৃষ্টিকর্তার চেয়ে যদি জ্ঞানী হিসেবে দাবী করার জন্য এই দাবি করতে পারেন।

সৃষ্টিকর্তা (মহাব্রহ্মাকে) বুদ্ধ সরাসরি দেখেছেন, বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভের পর সরাসরি নির্বাণে চলে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি ধর্ম প্রচার করতে চান নি। কারণ বুদ্ধের ধর্ম খুব কঠিন বলে দাবী করা হয়। লোকজন বুদ্ধের ধর্ম ‍বুঝতে পারবে না। ফলে বুদ্ধের ধর্ম গ্রহণ না করলে বুদ্ধের চিত্ত শ্রান্তিজনক ও বিরক্তিকর হবে।(৫)

ফলে মহাব্রহ্মা পৃথিবীতে এসে বুদ্ধকে বলেন ধর্ম প্রচার না করলে এ রাজ্যের কী হবে? মানুষ অধর্মের মধ্যে ডুবে থাকবে। এক্ষেত্রে ত্রিপিটকে ও বিভিন্ন বইয়ে ভিন্ন মত থাকলেও সবাই এক জায়গায় সঠিক তা হল ব্রহ্মার সাথে বুদ্ধের সাক্ষাৎ হয়েছে।

বুদ্ধ যখন ধর্ম প্রচার করতে অনীহা প্রকাশ করলেন তখন মহাব্রহ্মা স্বচিত্তে বুদ্ধের চিত্ত-বিতর্ক জ্ঞাত হয়ে চিন্তা করলেন “হায়! এ জগৎ নষ্ট হবে, যেহেতু বুদ্ধের চিত্ত উৎসাহ-দীন হয়ে ধর্মদেশনায় প্রবৃত্ত হচ্ছে না”(৬)

তারপর বুদ্ধ ভিক্ষুদেরকে বললেন, “সেই মহাব্রহ্মা, যেরূপ বলবান পুরুষ সংকুচিত বাহুর প্রসারিত করে অথবা বাহু সংকুচিত করে , সেইরূপ ব্রহ্মলোক হতে অন্তর্হিত হয়ে বুদ্ধের সামনে আর্ভিভূত হলেন।” (৭)

তারপর মহাব্রহ্মা একাংশ উত্তরাবঙ্গে আবৃত করে দক্ষিণজানুমন্ডল ভূমিতে স্থাপন করে বুদ্ধের দিকে অঞ্জলী প্রণীত করে বললেন “হে ভগবান, ধর্ম প্রচার করুন, হে সুগত ধর্মপ্রচার করুন, সাংসারিকতার মলিনতায় যাদের চক্ষু নিষ্প্রভ হয় নি, এমন প্রাণীও আছে। ধর্মশ্রবণের অভাবে তারা বিনষ্ট হচ্ছে, তারা ধর্মের জ্ঞান লাভ করবে।”(৮)

বুদ্ধ যখন বোধিগয়ায় অশ্বথ গাছের তলে সম্যক সম্বোধি জ্ঞান লাভ করলেন এবং তখন নির্বাণ লাভের জন্য ব্যাকুল হলেন, সেই সময় ব্রহ্মা ও দেবরাজ ইন্দ্র এসে বুদ্ধকে বললেন আপনি এখন নির্বাণ লাভ করলে রাজ্যের গতি কী হবে। রাজ্য যে অর্ধমের ভরে ডুবতে বসেছে। তাদের কথায় বুদ্ধ স্বীকার করলেন যে, রাজ্যের উদ্ধারের জন্য বহুকাল তিনি বেঁচে থাকবেন। (৯)

রেফারেন্সঃ
১। বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর
২। উইকিপিডিয়া
৩।গৃহীরত্ন, আসিন্‌ জিন রক্ষিত থের, ৫৫পৃষ্ঠা
৪।(ত্রিপিটকঃ দীর্ঘ নিকায় (প্রথম খন্ড), কেবট্ট সূত্র, অনুবাদ রাজগুরু শ্রীমৎ র্ধমরত্ন মহাস্থবির ৪৮৭-৫০০ নং)
৫।(ত্রিপিটকঃ দীর্ঘ নিকায় (দ্বিতীয় খন্ড), মহাপদান সূত্রান্ত (৩)(১), অনুবাদ ভিক্ষু শীলভদ্র ।
৬।(ত্রিপিটকঃ দীর্ঘ নিকায় (দ্বিতীয় খন্ড), মহাপদান সূত্রান্ত (৩)(২), অনুবাদ ভিক্ষু শীলভদ্র ।
৭। ত্রিপিটকঃ দীর্ঘ নিকায় (দ্বিতীয় খন্ড), মহাপদান সূত্রান্ত (৩), অনুবাদ ভিক্ষু শীলভদ্র ।
৮। (ত্রিপিটকঃ দীর্ঘ নিকায় (দ্বিতীয় খন্ড), মহাপদান সূত্রান্ত, অনুবাদ ভিক্ষু শীলভদ্র ৩(৩)।
৯। বৌদ্ধ ধর্ম, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ৬৩ পৃ

লিখেছেনঃ Sina Ali

6 thoughts on “বৌদ্ধধর্ম – নাস্তিকতা নাকি আস্তিকতা? -১

  • সেপ্টেম্বর 27, 2018 at 9:48 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    না ভাইয়া আপনি কিসুই বোজেননি আর বুজবেন ও না.কত ত্রিপিটক বিশারত কত মহাস্থবির ধর্ম পন্ডিত বুজলো না.আর আমরা bujar sesta kore jaschi partesi na.r apni koyek mas porei sob buje galen.

    Reply
    • অক্টোবর 21, 2018 at 10:17 পূর্বাহ্ন
      Permalink

      আবুল সাহেব বুঝেননি, তাই আপনিও বুঝবেন না। সুতরাং এই ধর্ম বুঝতে হলে আপনাকে জন্মের পরপর হাঁটা ও কথা বলতে হবে।

      Reply
  • নভেম্বর 11, 2018 at 1:32 অপরাহ্ন
    Permalink

    কেবট্ট সূত্রানুসারে জনৈক ভিক্ষু ও বিভিন্ন দেবগণের সাথে উল্লেখিত প্রশ্ন নিয়ে যে সব কথোপকথন হয়েছিল গৌতম বুদ্ধ ঋদ্ধি শক্তি প্রদর্শন প্রসঙ্গে কেবট্টকে সে সব কথোপকথন হুবহু ব্যক্ত করেছেন মাত্র।সুতরাং আপনারা কোন যুক্তিতে বলেছেন যে “বুদ্ধ মহাব্রহ্মাকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে স্বীকার করেছে?

    Reply
  • নভেম্বর 12, 2018 at 10:12 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    কেবট্ট সূত্রানুসারে জনৈক ভিক্ষু ও বিভিন্ন দেবগণের মধ্যে উল্লেখিত প্রশ্ন নিয়ে যে সব কথোপকথন হয়েছিল গৌতম বুদ্ধ ঋদ্ধি শক্তি প্রদর্শন প্রসঙ্গে কেবট্টকে সে সব কথোপকথন হুবহু ব্যক্ত করেছেন মাত্র।সুতরাং আপনারা কোন যুক্তিতে বলেছেন যে “বুদ্ধ মহাব্রহ্মাকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে স্বীকার করেছে”?

    Reply
  • জুন 14, 2020 at 7:38 অপরাহ্ন
    Permalink

    আরে ভাই এটা ধর্মই না, উইকিপিডিয়া থেকে ধর্মের সংজ্ঞা পড়েছেন??
    ,
    আমার প্রশ্ন, গৌতম বুদ্ধই এই কথাগুলো বলেছেন তার প্রমাণ কী?? ত্রিপিটকে থাকলেই হয়ে গেল প্রমাণ??
    ,
    ভাই যেখানে ত্রিপিটকই বহুবার পরিবর্তন হয়েছে সেখানে ত্রিপিটককে প্রমাণ হিসেবে কীভাবে নিতে পারেন আপনি??
    ,
    গৌতম বুদ্ধ নিজেও বলেছেন কোনো গ্রন্থকে অযৌক্তিকভাবে স্বতঃপ্রমাণিত স্বীকার না করতে।
    ,
    ত্রিপিটকে লেখা অযৌক্তিক অংশগুলো সংশোধন করা অসম্ভব কিছু নয়। কারণ এটাতো বুদ্ধেরই লেখা নয়।
    ,
    স্পষ্ট কথা, মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন- গুরু বলেছে বলেই বিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা নেই, জাতি বলেছে বলেই বিশ্বাস করতে হবে তাও নয়, শাস্ত্রে আছে বলেই মেনে নিতে হবে এমন নয়, আগে বোধগম্য কিনা দেখো, পরীক্ষণ চালাও, গ্রহণীয় হলে গ্রহণ করো যেটা বাস্তবিক কল্যাণকর ও শ্রদ্ধার।
    ,
    আপনি নিশ্চয়ই এ কথাটা এখানে বিস্তারিত দেখেছেন,কেসমুত্তিসুত্ত,অঙ্গুত্তর শিখায়, সূত্র পিটক।
    ,
    গৌতম বুদ্ধ পুরোপুরি নিরীশ্বরবাদী নাস্তিক ছিলেন, তার কী কী যুক্তি ছিল আপনি নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারেন নাই।
    ,
    বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে ব্লগে লিখতে কমপক্ষে পঞ্চাশ টা বই পড়ুন এবং আরো গভীর ভাবে গবেষণা করুন। আমার পছন্দের লেখক রাহুল সংকৃত্যায়ন।

    Reply
  • মে 23, 2021 at 10:06 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    বুদ্ধ ধর্মের অনুসারীগণ অনেক কিছু দেখেন না; কিন্তু তাদেরকে না দেখেও বিশ্বাস করেন, যেমন পরকাল, স্বর্গ, নরক, দেবতাগণ ইত্যাদি। প্রশ্ন জাগে সৃষ্টিকর্তাকে দেখা যায় না, সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে তাদের অনীহা কেন ? কেন তারা সৃষ্টিকর্তার উপর এত আক্রশ ?

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: