উত্তরসমূহ

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর

আমাদের উদ্দেশ্য

নাস্তিক্যবাদ অজ্ঞেয়বাদ সংশয়বাদ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মসমূহে অবিশ্বাস বা অনাস্থা আমরা কেন জ্ঞাপন করি, এই নিয়ে বাঙলা অনলাইন জগতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরণের বিতর্ক এবং আলোচনা হয়েছে। অসংখ্যবার অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। অসংখ্যবার এই আলোচনাতে আমরা ধার্মিক বা আস্তিক লেখকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের প্রতি সম্মনা রেখেই তাদের সাথে বিতর্ক করেছি, তাদের ভুলসমূহ ধরিয়ে দিয়েছি, কুযুক্তি বা লজিক্যাল ফ্যালাসি সমূহ নিয়েও বিস্তর আলোচনা করেছি। কিন্তু দিনশেষে দেখেছি, একটি কবুতরের সাথে দাবা খেলা আসলে যায় না। আপনি বিখ্যাত সব গ্র্যান্ডমাস্টারদের খেলা দেখে বা তাদের বই পড়ে বা নিজেই নতুন চাল উদ্ভাবন করে যতই চৌকশ চাল দিয়ে প্রতিপক্ষের একটি ভাল চালের জন্য অপেক্ষা করেন না কেন, প্রতিপক্ষ কবুতর দাবার বোর্ডে একটু হাঁটাহাঁটি করে খানিকটা বিষ্ঠা ত্যাগ করা ছাড়া তেমন কিছু করতে পারে না। বিষয়টি আমাদের জন্যেও লজ্জার। এই কারণে যে, আমরা যথাযথ প্রতিপক্ষের অভাবে আসলে বিতর্কের ময়দানে একই সব কথা বারবার বলে যাচ্ছি। পুনরাবৃত্তির চক্রেই আমাদের থেকে যেতে হচ্ছে। গালাগালি, হুমকি ধামকি, চাপাতির কোপ ছাড়া উনাদের থেকে আমরা খুব বেশী আশাও করতে পারি না।

সেইসব কারণে প্রতিপক্ষের এহেন দুরাবস্থার দিকে লক্ষ্য রেখে তাদের খানিকটা সুযোগ দেয়ার জন্যেই এই ওয়েবসাইটটি বানানো হয়েছে। এখানে আস্তিক বা ধার্মিকদের প্রায় সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। তাদের কুযুক্তিসমূহ কেন কুযুক্তি তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ধর্মের সমালোচনা এবং আমাদের যৌক্তিক অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেইসাথে, যেকোন আস্তিক বা ধার্মিক লেখক ব্লগার একটিভিস্টকে সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে, আমাদের লেখার ভুলসমূহ ধরিয়ে দিতে। আমরা বিনয়ের সাথে আপনাদের সমালোচনা জানবো এবং কোথাও ভুল লিখে থাকলে আপনাদের ধন্যবাদ দিয়ে তা সংশোধন করে নেবো।

সেই সাথে, যেসকল প্রশ্নের উত্তর একাধিকবার নানাভাবে দেয়া হয়েছে, সেই একই প্রশ্ন বারবার না করে, আপনারা যদি অনুগ্রহ করে পুরনো আর্টিকেলসমূহ একটু পড়েন, এবং সেই অনুসারে প্রশ্ন করেন, সেটা আপনাদের জন্যেও লাভজনক। বিতর্কের খাতিরেই।

ধর্ম এবং নাস্তিকতা সম্পর্কিত অসংখ্য প্রশ্ন করা হয় প্রায় প্রতিদিনই। প্রশ্ন করার প্রতি আমরা শ্রদ্ধা রাখি, এবং প্রশ্ন করাকেই প্রগতির অংশ বলে মনে করি। তাই কোন প্রশ্নকেই আমরা ফেলনা মনে করি না। সকলের কাছে আমরা আরো বেশি প্রশ্ন প্রত্যাশা করি, সেই সাথে সেসব প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য সহযোগীতাও। আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জ্ঞান একসাথে করলে সেটা আমাদেরকেই সমৃদ্ধ করবে।

কিন্তু, একই প্রশ্নের পূনরাবৃত্তি খানিকটা বিরক্তিকর বিধায়, সেসব পর্যায়ক্রমে লিখে রাখা হচ্ছে। পাঠককে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, এই সকল প্রশ্নের উত্তরের বিরুদ্ধেও আপনারা লিখুন। সেসব লেখা এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, যদি গঠনমূলক এবং যৌক্তিক হয়। আসুন দেখা যাক, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এর তালিকা।

Table Of Contents
hide

পর্ব-১: সাধারণ প্রশ্নাবলীঃ ধর্ম ও নাস্তিকতা

ধর্ম বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর

■ ধর্ম আসলে কি?

ধর্ম বলতে সাধারণভাবে বোঝায়, পারলৌকিক সুখের জন্য ইহলোকে ঈশ্বর-উপাসনা, অলৌকিক সত্ত্বায় বিশ্বাস, পারলৌকিক বিচার আচারে বিশ্বাস, এবং সেই সবের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আচার অনুষ্ঠান।

ধর্ম শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে “ধারণ করা”। এর একটি অর্থ হতে পারে বৈশিষ্ট্য, আরেকটি হতে পারে বিশ্বাস থেকে উদ্ভুত মতাদর্শ। বাঙলা ভাষায় শব্দটি দ্বারা অনেক অর্থ প্রকাশ হলেও ইংরেজিতে religion এবং properties আলাদা অর্থ বহন করে। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম (ইংরেজি: Organized religion) হল লিপিবদ্ধ সু‌বিন্যস্ত প্রত্যাদেশসমূহ, যেগু‌লো সাধারণত ঈশ্বর-প্রত্যা‌দিষ্ট‌দের মাধ্য‌মে বা‌হিত ও প্রচা‌রিত , ঈশ্বরাজ্ঞা ও ধর্মানুষ্ঠান-‌নির্ভর আচার , আচরণ ও প্রথা সমূ‌হের প‌্র‌তি ‌বিশ্বাস-‌নির্ভর আনুগত্য। যা সাধারনত ” আধ্যাত্মিক ” ব্যাপারে ” দৃঢ় বিশ্বাস ” বা faith এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। সাধারণত পূর্বপুরুষ হতে প্রাপ্ত ঐতিহ্য, রীতি-নী‌তি ও বহুদিন ধরে প্রচলিত প্রথাকে মানা এবং সে অনুসা‌রে জীবন প‌রিচালনাকে ধর্ম পালন বলে।

চুম্বকের ধর্ম যেমন আকর্ষণ করা, মানুষের ধর্ম তেমনি বিশ্বমানবতা, সকল মানুষের প্রতি প্রেম এবং ভালবাসা। এরকম হলে কোন আপত্তি ছিল না। সব মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে ভালবাসলে নাস্তিকতা অগুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠত। তবে ধর্ম এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আলাদা বিষয়। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, পরস্পরের মধ্যে শ্রেষ্টত্বের লড়াই আর কার ঈশ্বর সত্য, কার ধর্ম সত্য এই সব কোন্দল সৃষ্টি করে। এইসব লড়াইয়ে এই পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষের জীবন চলে গেছে, অনেক রক্ত ঝরেছে। তাই অধিকাংশ মানবিক মানুষই মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো মানব ধর্মের এবং মানবতার বিরুদ্ধে।

■ ধর্ম না থাকলে মানুষ নৈতিকতা শিখবে কোথা থেকে?

ধরুন, একজন আধুনিক সভ্য মানুষ হিসেবে আপনার কাছে অবশ্যই যুদ্ধবন্দী নারীকে গনিমতের মাল হিসেবে বিছানায় নেয়া খুবই নিন্দনীয় কাজ বলে গণ্য হবে। কিন্তু এই কাজটি আপনার নবীজী নিজ জীবনে কয়েকবারই করেছেন, এবং অন্যদেরও করতে বলেছেন। বা ধরুন আপনি এমন কারও সাথে আপনার বোন বা কন্যাকে বিয়ে দেবেন না, যার ইতিমধ্যে তিনজন স্ত্রী আছে। আপনার বিবেক, বুদ্ধি, আধুনিক মূল্যবোধ, আধুনিক ধ্যান ধারণা আপনাকে সেইসব মধ্যযুগীয় কাজ করতে বাধা দেবে। যদিও আপনি ভাবেন, নৈতিকতার একমাত্র মানদণ্ড আপনার ধর্মটিই, তারপরেও আপনি আপনার বিবেক বুদ্ধি খাঁঁটিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আপনি যখন বিবেক বুদ্ধি ব্যবহার করছেনই, তখন আপনার জন্য আসলে ধর্মের নৈতিকতার শিক্ষা অগুরুত্বপুর্ণ।

ধর্ম বলছে, শিশু বিবাহ সুন্নত, বহুবিবাহ সুন্নত, কাফের কতল সুন্নত, জিহাদ করা সুন্নত, গনিমতের মাল বা দাসী ভোগ সুন্নত। আপনি বিবেক ব্যবহার করে সেগুলো করেন না। তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই বিবেকটুকু ব্যবহার করতে দোষ কোথায়?

নৈতিকতা শিক্ষার জন্য ধর্মের প্রয়োজন নেই। ধর্ম আমাদের যেই নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, তা আধুনিক নৈতিকতার মাপকাঠিতে পুরোমাত্রায় নোংরামী। ধর্ম আমাদের শেখায় গনিমতের মাল হিসেবে নারীকে ভোগ করা যাবে, নারীকে শষ্যক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, বিধর্মীরা সব নরকে অনন্তকাল পুড়বে শুধুমাত্র একটি বিশেষ ঈশ্বরে অবিশ্বাসের জন্য। ধর্ম আরো শেখায় ভাল কাজ করলে স্বর্গে অসংখ্য বেশ্যা এবং মদ পাওয়া যাবে, খারাপ কাজ করলে নরকে অনন্তকাল মারপিট হবে। এইসব নৈতিকতা নয়, বেশ্যার লোভে যেই নৈতিকতার উৎপত্তি হয় তা আদৌ নৈতিকতাই নয়, বরঞ্চ এগুলো ঘৃণা সৃষ্টিকারী-বিধর্মী বা নারীর প্রতি। অপরদিকে মানুষের ভেতরেই প্রথিত থাকে কল্যানবোধ, মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, যা ধর্ম-জাতীয়তাবাদ-লিঙ্গের বড়াই ইত্যাদির কারণে চাপা পরে যেতে থাকে। নাস্তিক্যবাদ মানুষের ঐ মৌলিক মানবিক বোধের বিকাশের কথা বলে, মানুষের ভেতরের নৈতিকতার কথা বলে, বিবেকের কথা বলে। যা কোন লোভ বা ভয়ের কারণে ভাল কাজ করবে না বা খারাপ থেকে বিরত থাকবে না।

আইনস্টাইন বলেছেনঃ A man’s ethical behavior should be based effectually on sympathy, education, and social ties and needs; no religious basis is necessary. Man would indeed be in a poor way if he had to be restrained by fear of punishment and hope of reward after death.

ঈশ্বর বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর

■ ঈশ্বর ছাড়া সবকিছু কোথা থেকে আসলো এবং সবকিছু কিভাবে চলছে?

আমাদের এই মহাবিশ্ব বা বিশ্বজগতের উদ্ভব কিভাবে হয়েছে, এই প্রশ্নটি হাজার বছরের বিতর্ক। এই প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর যদি আমাদের অজানা থাকে, তাহলে প্রশ্নটির সবচেয়ে সহজ এবং সৎ উত্তরটি হবে, “আমরা জানি না”। হয়তো আমরা কখনোই এটা জানতে পারবো না যে ঠিক কিভাবে আমাদের এই মহাবিশ্বের উদ্ভব ঘটেছিলো। তাই বলে আমরা এটা ধরে নিতে পারি না যে কোনো অলৌকিক সত্ত্বাই এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছে।

এই বিষয়ে এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ একটি ঘড়ি তৈরি করতে একজন কারিগর প্রয়োজন হয়, মহাবিশ্বের জন্য কোনো কারিগরের প্রয়োজন নেই?

একজন ঘড়ি-নির্মাতা শূন্য থেকে ঘড়ির জন্ম দেন না। একটি ঘড়ি তৈরিতে প্রকৃতিতে বিদ্যমান উপাদানসমূহই ব্যবহৃত হয়। আর প্রকৃতিতে বিদ্যমান উপাদানসমূহ অবশ্যই একজন ঘড়ি-নির্মাতার সৃষ্টি নয়।

অর্থ্যাৎ, এই Watchmaker Analogy অনুযায়ী, একটি ঘড়ি যেমন কোনো কারিগরের অবদান, তেমনি জীবজগৎ বা মহাবিশ্বও কোনো কারিগরের অবদান। তবে, সেই কারিগর যেসব উপাদান ব্যবহার করে জীবজগৎ বা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন সেসব উপাদানের অস্তিত্ব আগে থেকেই ছিলো এবং সেসব উপাদান সেই কারিগরের সৃষ্টি নয়।

এই বিষয়ে এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ নাস্তিকরা কি প্রমান করতে পারবে ঈশ্বর নাই?

ঈশ্বর বিশ্বাসীগণ যখন বুঝতে পারেন যে তারা ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে পারবেন না, তখন তারা অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।

তারা এটা বুঝতে পারেন না বা বুঝতে চেষ্টা করেন না যে, আমরা যদি ‘ঈশ্বর নেই’ প্রমাণ করতে না পারি, তাতে প্রমাণ হয় না ‘ঈশ্বর আছে’। আমি একটি দাবি করে বসলাম, আপনি আমার দাবিটি মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলেন না, এতে আমার দাবিটি সত্য প্রমানিত হয়ে যায় না।

আমি যদি বলি অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির কোনো একটি নক্ষত্রের কোনো একটি গ্রহে ঠিক আপনার মতোই দেখতে একজন মানুষ বাস করে, স্বাভাবিকভাবেই আপনি আমার দাবিটি বিশ্বাস করবেন না, কেননা এমনটা বিশ্বাস করার কোনো যৌক্তিক কারণ আপনার কাছে নেই।

এখন, আপনি যদি আমাকে আমার দাবিটি সত্য প্রমাণ করে দেখাতে বলেন এবং আমি তাতে ব্যর্থ হয়ে আপনাকেই আবার আমার দাবিটি মিথ্যা প্রমাণ করে দেখাতে বলি আর আপনি যদি তা না পারেন, তাতে কি প্রমাণিত হয়? তাতে কি প্রমাণিত হয় অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির কোনো একটি নক্ষত্রের কোনো একটি গ্রহে ঠিক আপনার মতোই একজন মানুষ বাস করে? অবশ্যই না।

ঈশ্বরের অনস্তিত্বের প্রমাণের অভাবকে যদি আপনি ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন, তাহলে সেটা একটি লজিক্যাল ফ্যালাসি বা কুযুক্তি ছাড়া কিছু না। একে বলে Argument from ignorance fallacy.

এই Argument from ignorance fallacy বা অজ্ঞতার কুযুক্তি অনুযায়ী, কোনোকিছু সত্য, কারণ তা এখন অব্দি মিথ্যা প্রমাণিত হয়নি, আবার, কোনোকিছু মিথ্যা, কারণ তা এখন অব্দি সত্য প্রমানিত হয়নি।

কোনো দাবি মিথ্যা প্রমাণিত না হলেই দাবিটি সত্য প্রমানিত হয়ে যায় না। আবার, কোনো দাবি সত্য প্রমানিত না হলেই দাবিটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে যায় না।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ আপনার যে মগজ আছে তা কি আপনি প্রমাণ করতে পারবেন?

আমাদের যে মগজ আছে সেটা আমাদের বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই, আমরা জানি যে আমাদের মগজ আছে।

বিশ্বাস তখনই করতে হয় যখন কিছু প্রমাণ করা যায় না বা প্রমাণের অপ্রতুলতা থাকে। তখন বিশ্বাস করতে বলা হয়। বিজ্ঞানের জগতে বিশ্বাসের কোন স্থান নেই। মগজের যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে।

আমাদের যে মগজ আছে, সামান্য কয়েকটি পরীক্ষায় তা আমরা প্রমাণ করতে পারি। আমরা এমআরআই করতে পারি। নতুবা আমরা আরও কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে পারি। যেমন মৃতদেহের ওপর পরীক্ষা। তার খুলিটা খুলে। কিংবা অপারেশনের সময় কারো মগজ অপারেশন হলে সেখানে উপস্থিত থেকে। আরও নানা পদ্ধতি রয়েছে।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ সবকিছু দূর্ঘটনাবশতঃ সৃষ্টি হয়েছে?

আমরা যারা নাস্তিক তারা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করি না। ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করা মানে সবকিছু দূর্ঘটনাবশতঃ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্বাস করা নয়। ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করার জন্য সবকিছু দূর্ঘটনাবশতঃ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্বাস করা জরুরী নয়।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ নাস্তিকরা ঈশ্বরের কেমন প্রমাণ চায়?

প্রথমেই জেনে রাখুন, “প্রমাণ করা” বলতে আমরা কি বুঝাচ্ছি। “প্রমাণ করা” কে আমরা সংজ্ঞায়িত করছি, “যৌক্তিক সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রদর্শন করা”।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ ঈশ্বর না থাকলে নৈতিকতার উৎস কি?

আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে বেঁচে থাকতে চাই এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে দূরে থাকতে চাই। আর তাই, আমাদের লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন, সুবিধা ও কল্যাণ বৃদ্ধি করা এবং অসুবিধা ও দূর্দশা হ্রাস করা। যেসব আচরণ এই লক্ষ্যের বিরুদ্ধে যায় সেসব আচরণ অনৈতিক বলে গণ্য করা যায় আর যেসব আচরণ এই লক্ষ্যের বিরুদ্ধে যায় না সেসব আচরণ নৈতিক বলে গণ্য করা যায়।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ আপনার বাবাই আপনার বাবা, তার কোন প্রমাণ আছে?

ধরুন, কাল রহিমুদ্দীন বা কলিমুদ্দীন নামের একজন রাস্তায় আপনাকে এসে জাপটে ধরে বললো, সেই আপনার বাবা। এবং আপনাকে বলা হলো, সেটা হৃদয় দিয়ে ধারণ করতে। বিশ্বাস করতে। কোন যুক্তি বা প্রমাণ না চাইতে। এই নিয়ে সন্দেহ না করতে। প্রশ্ন না করতে। আপনি কী করবেন?  যেহেতু আপনাকে খুব বিশ্বাসী লোক বলে মনে হচ্ছে, যিনি যুক্তির ধার ধারেন না, বা সন্দেহ অথবা প্রশ্ন করেন না, তাই ধরে নিচ্ছি আপনি বাবা বাবা বলে তার গালে দুটো চুমু দেবেন। নাকি?

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ আল্লাহ না থাকলে মাঝে মাঝে মাংসের গায়ে, মেঘের মধ্যে আল্লাহু লেখা কীভাবে দেখা যায়?

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিশেষ বিষয় খুব সহজে খুঁজে পায় আমাদের মস্তিষ্ক। একে এপোফেনিয়া বলা হয়।

ঠিক এই কারণেই অনেক মুসলমান মেঘের মধ্যে আল্লাহু লেখা দেখেন, অনেক খ্রিস্টান মেঘের মধ্যে যীশুর মূর্তি দেখতে পান। হিন্দুরা দেখতে পান গণেশকে, কিংবা হনুমানকে। বৌদ্ধরা দেখেন গৌতম বুদ্ধকে। কারণ এই চিত্রগুলো প্রতিটি ধর্মের মানুষের মগজে থাকে, তারা যাই দেখেন তার মধ্যে তারা এই চিত্রগুলো খুঁজে বেড়ান, নিজের অজান্তেই। 

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ ঈশ্বর না থাকলে অধিকার কোথা থেকে আসে?

সবার আগে আমাদের বুঝতে হবে যে ‘অধিকার’ বলতে আসলে কি বুঝায়। এ হলো সমাজ থেকে পাওয়া একটি অনুমোদন, যেমনঃ একজন মানুষ কি কি করতে পারে। অধিকার মানে এটা নয় যে আপনার কি করতে পারা উচিত, বরং এটা যে আপনি কি করতে পারেন।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

নাস্তিকতা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর

■ নাস্তিক মানে কী? নাস্তিক আসলে কে?

শুরুতেই নাস্তিক শব্দের অর্থ জেনে নেয়া যাক।
নাস্তিক = ন+অস্তি+ইক।
ন = নঞর্থক, নাই, প্রয়োজন হয় নাই।
অস্তি = অস্তিত্ব, ভৌত জগত, প্রকৃতি ইত্যাদি।
ইক = মতবাদী, মতবাদ পোষণকারী।

বৈদিক যুগে যে বা যারা বেদ মানত না তাদেরকে ‘নাস্তিক’ বলা হতো। কিন্তু মূল অর্থ হিসেবে “নাস্তিক” শব্দটি একটি দার্শনিক অভিধা। যেখানে ‘ন + অস্তি’ যুক্তিবাদের আলোকে একটি দার্শনিক সিদ্ধান্ত। ন = নাই, প্রয়োজন হয় নাই। অস্তি = অস্তিত্ব।
নাস্তিক্যবাদ (ইংরেজি ভাষায়: Atheism; অন্যান্য নাম: নিরীশ্বরবাদ, নাস্তিকতাবাদ) একটি দর্শনের নাম যাতে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয়না এবং সম্পূর্ণ ভৌত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয়া হয়। আস্তিক্যবাদ এর বর্জনকেই নাস্তিক্যবাদ বলা যায়। নাস্তিক্যবাদ বিশ্বাস নয় বরং অবিশ্বাস এবং যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বাসকে খণ্ডন নয় বরং বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই এখানে মুখ্য।

নাস্তিক্যবাদ আসে যুক্তিবাদ থেকে। নাস্তিকতা কোন বিশ্বাস বা ধর্ম নয়, এটি যাবতীয় বিশ্বাস বা ধর্মতত্বকে যাচাই বাছাই এবং যুক্তিসঙ্গত উপায়ে বাতিলকরণ। নাস্তিক্যবাদ বলে না যে “ঈশ্বর নেই”; নাস্তিক্যবাদ বলে, “মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঈশ্বর আছে বা কোন অলৌকিক শক্তি আছে তার কোন উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ নেই”। এবং যেহেতু কোন প্রমাণ নেই, তাই ঈশ্বরের এই দাবীকে নাস্তিক্যবাদ বাতিল করে এবং ভ্রান্ত বলে মনে করে। তবে ঈশ্বরের কোন উপযুক্ত প্রমাণ ধার্মিকগণ দেখাতে সমর্থ হলে তা মেনে নিতে বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। যখনই পাওয়া যাবে, সেগুলো মেনে নেয়া হবে। তবে যুক্তিহীন বিশ্বাস যেহেতু যাচাই করবার কোন উপায় নেই, তাই একে খারাপ কাজে লাগাবার সম্ভাবনাই বেশি থাকে- যেহেতু এটা যুক্তিপ্রমাণহীন একটি বিশ্বাসমাত্র। এবং সত্যিকার অর্থে ঘটেছেও তাই। এছাড়া ধর্মগ্রন্থে যেই ঈশ্বরের কথা বলা আছে, সেই ঈশ্বর শুধু নোংরাই নয়, সাম্প্রদায়িক, হিংস্র, তোষামদপ্রিয় এবং লোভী। সে প্রাচীন কালের রাজাদের চরিত্রের অধিকারী, যে শুধু নিজের উপাসনা আর তোষামোদ চায়, তা না পেলেই ভয় দেখায়।

■ নাস্তিক্যবাদের ভিত্তি কী?

নাস্তিক্যবাদের ভিত্তি হচ্ছে যুক্তি, জ্ঞান, অনুসন্ধান, প্রশ্ন এবং প্রমাণ। আপনি যখনই প্রমাণ করতে পারবেন কোন একটি ঈশ্বর বা অলৌকিক সত্ত্বার অস্তিত্ব, নাস্তিক্যবাদ নিজেই নিজেকে বাতিল ঘোষণা করবে। এখানে যুক্তি এবং প্রমাণই মূখ্য, মতাদর্শ বা ব্যক্তি নয়।

■ নাস্তিকতা কি একটি বিশ্বাস বা ধর্ম?

নাস্তিকতা মৌলিকভাবেই কোন ধর্ম বা বিশ্বাস নয়।

কেন নয়, তা বিস্তারিত এখান থেকে পড়তে পারেনঃ

■ নাস্তিকরা কি ‘ঈশ্বর নেই’ বলে বিশ্বাস করে?

নাস্তিকতা শব্দটির মানে ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাস বা বিশ্বাসের অভাব। নাস্তিক শব্দটির মানে এমন একজন ব্যক্তি যিনি ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাস করেন বা যার ভেতর ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাসের অভাব আছে। ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস না করা বা ‘ঈশ্বর আছে’ মনে না করাই নাস্তিকতা।

কোনোকিছু বিশ্বাস না করা তার বিপরীত কিছুতে বিশ্বাস করা নয়।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ নাস্তিক মানেই কী শুধু আল্লাহর বিরোধীতা করা?

নাস্তিকগণ আল্লা ভগবান ঈশ্বরে বিশ্বাসী নয়, তাই আল্লার বিরোধীতার প্রশ্ন অবান্তর। নাস্তিক বিরোধীতা করে আল্লা ভগবান ঈশ্বরের ধারণাকে। যেই ধারণা মানুষকে শেখায় যে, বিধর্মী মাত্রই আল্লা ভগবান ঈশ্বরের শত্রু। তাদের কতল করতে হবে, বা ঘৃণা করতে হবে। একজন নাস্তিক, যার সামাজিক দায় বোধ আছে, সে অবশ্যই ধর্মের এবং ধর্মগ্রন্থের এবং ঈশ্বরের সমালোচনা করবে। বিরোধী দল ছাড়া যেমন সরকারী দলের কর্মকান্ড খারাপের দিকে মোড় নেয়, ধর্ম-ধর্মগ্রন্থ-ধর্মবাজদের সমালোচনা ছাড়াও ধর্মান্ধরা পৃথিবীকে নরক বানিয়ে ফেলবে।

তবে সকল নাস্তিকই যে ধর্মের বা ঈশ্বরের ধারনাকে সমালোচনা করবেন, তা নয়। অনেক নাস্তিক মনে করেন, ধর্ম ধীরে ধীরে সময়ের সাথে, শিক্ষার বিস্তারের সাথে সাথে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। তাই তারা সমালোচনা করাকে জরুরি মনে করেন না।

■ নাস্তিকরা এত এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ঈশ্বর বিশ্বাস করে না কেন?

প্রমাণ থাকলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্নই আসে না। বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় তখনই যখন প্রমাণের অপ্রতুলতা থাকে। আমরা বিশ্বাস করি না যে, বারাক ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কারণ এখানে বিশ্বাসের কিছু নেই। অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি না যে, সূর্য আছে। বা পৃথিবী গোলাকার। এসব কোনো বিশ্বাসের ব্যাপার নয়। পরীক্ষানিরীক্ষা করে প্রাপ্ত ফলাফল। বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল নয়। যে কেউ পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করে ভুত আছে, কেউ তা বিশ্বাস করে না। কেউ বিশ্বাস করে জ্বীন আছে, কেউ তা করে না। কারও বিশ্বাস অবিশ্বাসে কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকা না থাকা নির্ভরশীল নয়।

শেওড়া গাছের পেত্নী এবং আল্লা ভগবান ঈশ্বর যীশু কালই শিব জিউস এরকম হাজার হাজার দেবদেবী ঈশ্বরের সপক্ষে কোন প্রমাণ হাজির করা হয় নি। প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয় এই মহাবিশ্বকে, বা কোন কথিত আসমানি কেতাবকে। যা সেগুলোর অস্তিত্ব প্রমাণ করে না। ঈশ্বরকে যেহেতু বিশ্বাস করতে হয়, তার অর্থ হচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেসমস্ত যুক্তিপ্রমাণ উত্থাপন করা হয় তা অপ্রতুল।

পৃথিবীর সকলেই যদি শেওড়া গাছের পেত্নীতে বিশ্বাস করে, তাতে শেওড়া গাছের পেত্নী প্রমাণিত হয় না। বা পৃথিবীর ফুলফল লতাপাতা গাছপালাও শেওড়া গাছের অস্তিত্বের প্রমাণ হতে পারে না। শেওড়া গাছও শেওড়া গাছের পেত্নীর অস্তিত্ত্বের সপক্ষে প্রমাণ হতে পারে না।

■ নাস্তিকতাই স্ট্যালিন কর্তৃক গনহত্যার জন্য দায়ী?

নাস্তিকবিদ্বেষীরা বিশ্বাস করেন, ঈশ্বরে বিশ্বাস না করা একজন মানুষকে খুন/ধর্ষণের দিকে নিয়ে যায়। যারা এমনটা বিশ্বাস করেন, তাদের অনেকেই হয়তো শাঁকচুন্নি কিংবা মামদোভূতে বিশ্বাস করেন না। তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, আপনার শাঁকচুন্নি বা মামদোভূতে বিশ্বাস না করা আপনাকে কোন অপরাধে লিপ্ত করে? যারা শাঁকচুন্নিতে বিশ্বাস করেন না তাদের করা যেকোনো অপরাধের জন্য কি তাদের শাঁকচুন্নিতে বিশ্বাস না করা দায়ী?

স্ট্যালিন কেবল একজন নাস্তিক ছিলেন না, তিনি একজন পুরুষও ছিলেন। সেইসূত্রে আমরা কি দাবি করতে পারি যে, একজন পুরুষের ‘পুরুষত্ব’ কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী? 

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ নাস্তিকদের জীবনের উদ্দেশ্য কি?

এটা একটা ব্যক্তিগত মতামতের বিষয়।

কিছু মানুষ মনে করে জীবনের অর্থ এই জীবনের যাত্রাপথই, অন্যদিকে কিছু মানুষের কাছে জীবনের অর্থ হচ্ছে কোনো লক্ষ্যে পৌঁছানো। অতএব সবার জীবনের উদ্দেশ্য এক নয়। কেউ কেউ যেহেতু মনে করে জীবনের গন্তব্য থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তার অর্থ এই নয় যে যারা জীবনের এই যাত্রাপথ কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সে কোন ভুলের মধ্যে আছে।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ আপনি নাস্তিক নাকি ধর্মবিদ্বেষী?

একজন মানুষ একইসাথে নাস্তিকও হতে পারে আবার ধর্মবিদ্বেষী বা ধর্মবিরোধীও হতে পারে। যিনি নাস্তিক তিনি ধর্মবিদ্বেষী নন বা যিনি ধর্মবিদ্বেষী তিনি নাস্তিক নন বা একজন সহিহ নাস্তিক ধর্মবিদ্বেষী হতে পারে না, এসব ধারণার স্রেফ কোনো ভিত্তি নেই।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ ধর্ম নিয়ে লেখেন কেন? আর বিষয় নাই?

যার যে বিষয় গুরুত্বপুর্ণ মনে হয় সে সেই বিষয়ে লেখে, লিখবে। এটা লেখকের স্বাধীনতা। আপনাকে যেহেতু কেউ পড়তে বাধ্য করছে না, সেহেতু আপনি না পড়লে সেটাও আপনার স্বাধীনতা। ভাল না লাগলে আপনাকে কেউ মাথার দিব্যি দেয় নি পড়তে। এরকম কোন আইনও নেই যে, আমার লেখা আপনার পড়তেই হবে। না পড়লে ফাঁসি দেয়া হবে আপনাকে! আপনার গলায় কেউ চাপাতি রেখে পড়তে বাধ্য করছে না।

যাদের গল্প উপন্যাস ভাল লাগে, তারা সেটা নিয়ে লিখবে। যাদের রাজনীতি নিয়ে লিখতে ইচ্ছা তারা তা নিয়ে লিখবে। কেউ ফুল পাখী নিয়ে লিখলে তো জিজ্ঞেস করা হয় না, সারাক্ষণ ফুল পাখী নিয়ে কেন লেখে? যারা রাজনীতি নিয়ে সবসময় লেখে, কথা বলে, তাদেরও এরকম জিজ্ঞেস করা হয় না। ধর্মের প্রশংসা করে যারা, তাদেরও কেউ কখনো জিজ্ঞেস করে না শুধু ধর্ম নিয়ে কেন লেখেন! শুধু ধর্মের সমালোচকদেরই ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন করা হয়। তাই এই প্রশ্নটা যে ধর্মের সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার ব্যর্থ কৌশল, তা বোঝা যায়। কিন্তু এভাবে হয় না। কেন ধর্ম নিয়ে লেখে, তা নিয়ে অভিযোগ না করে কোন বিশেষ লেখার বিপক্ষে শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরুন।

আর অন্যান্য বিষয়ে আপনি নিজেই লিখুন। অন্যে কেন অমুক বিষয়ে লিখলো না, এই অভিযোগ হাস্যকর। অন্যকে উপদেশ দেয়ার চাইতে আপনার নিজের লিখে ফেলাই উত্তম।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ নাস্তিকরা শুধু ইসলামের সমালোচনা কেন করেন?

কথাটি ঠিক নয়। আমি সব ধর্মের সমালোচনাই কমবেশি করি। তবে ইসলামের সমালোচনাতে প্রতিক্রিয়া বেশি হয়, তাই প্রতিক্রিয়ার প্রতিক্রিয়াতে লিখতেও বেশি হয়। যেহেতু বাঙলায় লিখি, বাঙলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান, তাই এই আলোচনাও বেশি আসে। রিচার্ড ডকিন্সকেও প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, সে কেন শুধু খ্রিস্টান ধর্মের সমালোচনা করেন! একই প্রশ্ন ক্রিস্টোফার হিচেন্সকেও করা হতো। উনারা খ্রিস্টান প্রধান দেশে খ্রিস্টান পরিবারে জন্মেছে বলেই খ্রিস্টান ধর্মের সমালোচনা বেশী করেছেন।

সব প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বিরুদ্ধে হলেও আমি বিশেষভাবে করি ইসলামের সমালোচনা। কারণ আমি একটি মুসলিম পরিবারে জন্মেছি, এবং মুসলিম পরিবার থেকে নাস্তিক হওয়ার সময় যেই প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা ভালভাবে জানি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। হিন্দু এবং খ্রিস্ট ধর্ম সম্পর্কেও আমি অনেক পড়ালেখা করেছি, কিন্তু সেগুলো বর্তমান সময়ে মৃতপ্রায় ধর্ম। বিষহীন সাপের মত মাঝে মাঝে ফোঁস ফোঁস করে।

নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য আফ্রিকার ভুডু ধর্ম কিংবা প্রাচীন গ্রীসের ধর্ম, দেবতা জিউস থর হোরাস ইত্যাদির সমালোচনা করার কোন উপযোগ নেই। কারণ সেসব ধর্মের মানুষ এখন খুঁজে পাওয়া মুশকিল, পাওয়া গেলেও তারা আমার বাঙলা স্ট্যাটাস পড়বে না, আর পড়লেও তাদের কিছু যাবে আসবে না। কারণ তারা এই সময়ে ধর্ম রক্ষার জন্য চাপাতি নিয়ে কোপাকুপি করে বলে মনে হয় না। হুরের লোভে আত্মঘাতি বোমা হামলা করে না। নিরীহ মানুষ মেরে কাফের হত্যার আনন্দ পায় না।

ছোট্ট পরীক্ষা হয়ে যাক। আমি মা কালী নিয়ে একটা কার্টুন ছাপি, যীশু, মোসেস এবং জিউসকে নিয়ে, বুদ্ধ এরপরে মুহাম্মদকে নিয়ে একটি কার্টুন দিই। কোন কার্টুনের জন্য আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘোষণা হতে পারে? ভেবে বলেন তো।

আপনার শরীরের কোন অংশে পচন ধরলে আপনি যেই অংশটাতে বেশি পচন ধরেছে সেই অংশটুকুই তো আগে অপারেশন করে কেটে ফেলেন। নাকি নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য পুরো শরীর কেটে ফেলে দেন? বা অল্প পচন ধরা অংশও কেটে ফেলেন? বেশি নিরপেক্ষতা দেখাতে গিয়ে পচন না ধরা অংশও কেটে ফেলেন? কোনটা করেন?

বা ধরুন আপনার হাঁটুতে চুলকাচ্ছে। আপনি কী নিরপেক্ষতার স্বার্থে সারা শরীর সমানভাবে চুলকান? নাকি শুধু হাঁটুতেই চুলকান?

■ নাস্তিকতা প্রচার করে কি লাভ?

প্রশ্নটি জরুরি। ধার্মিকগণ ধর্ম প্রচার করেন হুর গেলমান অথবা স্বর্গ বেশ্যার লোভে। কিন্তু নাস্তিকরা কেন করেন? উনারা কী কোন হুরী পাবেন? যেমনটি ইসলামে রয়েছেঃ

আপনি আপনার ধর্ম পালন করতে পারেন, আপনার ব্যক্তিগত ঈশ্বর হচ্ছে আপনার বার্বিডল বা খেলার পুতুলের মত। আপনি সেটা নিয়ে বাসায় খেলবেন, তাকে পুজা করবেন কি তার গায়ে তেল মাখাবেন, দিনে পাঁঁচবার তার সামনে উপুর হয়ে মাটিতে নাক ঘষবেন নাকি কপাল থাপড়াবেন, সেটা আপনার বিষয়। তা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমাকে আপনার বার্বিডল নিয়ে খেলতে বলবেন না, আপনার বার্বিডল আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের সমাজ, আমাদের অর্থনীতির উপরে চাপাবেন না, আমাদের আইন ও বিচার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক আপনার বার্বিডল হবে না। সেটা যখন করবেন, এবং বলবেন আপনার বার্বিডলই শ্রেষ্ট, তখন আমাদের তোপের মুখে পরতে হবে। আমরা যাচাই করে দেখবো আপনার বার্বিডলটি আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের সমাজ, আমাদের অর্থনীতির উপরে কর্তৃত্ব করার উপযুক্ত কিনা। আর এই যাচাইয়ের সময় তার সমালোচনাটাও হবে কঠোর। তাই আপনি যদি আপনার ধর্মকে বা খেলার পুতুল আল্লা-ভগবান-ঈশ্বরকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখেন, সেটাই সকলের জন্য ভাল।

■ কারো বিশ্বাসকে আঘাত করা ঠিক নয়?

আমরা যারা নিজেদের যুক্তিবাদী বলে দাবী করি, তারা সকল ধারণা, সকল বিশ্বাসকেই যুক্তিতর্ক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করি, যাচাই বাছাই করে দেখতে চাই। এই সময়ে “বিশ্বাসে আঘাতের” অজুহাত এনে আলাপ আলোচনা এবং যুক্তিতর্ককে খারিজ করে দেয়া শুধু প্রতিক্রিয়াশীলতাই নয়, মানব সমাজের জন্য হুমকিও বটে।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ আস্তিকের সাথে নাস্তিকের এত দ্বন্দ কেন?

কারণ ধর্মগ্রন্থ সমূহে নাস্তিকদের/ধর্ম ত্যাগকারীদের/সমালোচকদের হত্যা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে। আর আমারো অধিকার আছে তাদের ঘৃণার জবাব দেবার। কোন ধর্মান্ধ যখন জবাই করার হুমকি দেবে, নাস্তিক হবার কারনে-ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে বাপমা তুলে দিনের পর দিন গালাগালি করবে, তখন একজন নাস্তিকও লিখে বা কথা বলে তার প্রতিবাদ জানাবে, পালটা আঘাত করবে। নাস্তিক মানেই যে পরে পরে ধর্মান্ধদের মার হাসিমুখে খেয়ে যেতে হবে, এতটা গান্ধীবাদী ভাবাটা উচিত হচ্ছে না।

■ কিন্তু এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?

পরিপূর্ণ বাক-স্বাধীনতার চর্চা এবং বিরুদ্ধমতকে গ্রহণের মানসিকতা তৈরিই এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে। যুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি, মতের বিরুদ্ধে মত, প্রমাণের বিরুদ্ধে প্রমাণ, আলোচনা এবং সমালোচনার পরিবেশই এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে। প্রাথমিকভাবে বেশ কিছুদিন এই যুদ্ধ চলতেই থাকবে, কিন্তু এই প্রাকটিস চালাতে থাকলেই পরিস্থিতির উন্নতি করবে। কিন্তু প্রায়শই দেখা যায়, প্রতিদিন ধর্মের পক্ষে কমপক্ষে ১০০টি স্ট্যাটাস আসে, বিপরীতে ধর্মের সমালোচনামূলক একটি পোস্ট/স্ট্যাটাস আসলেও সেটা সহ্য করা হয় না। ধর্মের পক্ষে ১০০টি পোস্ট/স্ট্যাটাস/হাদিস/কোরানের বিরুদ্ধে নাস্তিকরা কখনই রিপোর্ট করে না, কিন্তু একটি সমালোচনামূলক পোস্ট আসলেও ধর্মান্ধরা দলবেধে রিপোর্ট করে, নাস্তিকদের অশ্লীলভাবে আক্রমণ করে, মৃত্যু হুমকি দেয়। এবং একজন নাস্তিকের বাক-স্বাধীনতার উপরে এই ধরনের হস্তক্ষেপ একজন নাস্তিককে আরো বেশি বিদ্বেষীতে পরিণত করে।

■ মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবথেকে বড় অপরাধ সমূহের জন্য দায়ী হল নাস্তিকতা!

ধর্মান্ধগণ প্রায়শই হিটলার, স্ট্যালিন কিংবা মাও সে তুং এর হত্যাযজ্ঞের জন্য নাস্তিক্যবাদকে দায়ী করেন। অথচ, হিটলার তার আত্মজীবনী(মাইন কাম্পফ)তে বারবারই ঈশ্বরের কথা লিখেছেন।

  • Hence today I believe that I am acting in accordance with the will of the Almighty Creator: by defending myself against the Jew, I am fighting for the work of the Lord. (p. 65)
  • This human world of ours would be inconceivable without the practical existence of a religious belief. (p. 152)
  • May God Almighty give our work His blessing, strengthen our purpose, and endow us with wisdom and the trust of our people, for we are fighting not for ourselves but for Germany. Speech delivered at Berlin 1 February 1933; from Adolf Hitler (1941). My New Order. New York: Reynal & Hitchcock. p. 147.

এছাড়া, একজন কমিউনিস্ট হিসেবে স্ট্যালিন যা করেছেন, সবই ছিল তার নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শন এবং এজেন্ডা। তাই স্ট্যালিনের মত নেতাদের দ্বারা হওয়া গণহত্যার দায় রাজনৈতিকভাবে কমিউনিজমের প্রতিষ্ঠা এবং প্রসারের। তারপরেও, একজন নাস্তিক হিসেবে স্ট্যালিনের মতও সকল নরঘাতকের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। নাস্তিক বলে স্ট্যালিনকে কোন ছাড় দিই না, কিংবা একে আমরা ইহুদীদের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিই না। এরকম অমানবিক নাস্তিকদের সমালোচনাও আমরা প্রায়শই করি

পর্ব-২: নাস্তিকদের জীবন সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর

■নাস্তিক হয়ে মুসলমান নাম ধারণ করে আছেন কেন?

মুহাম্মদ ইসলাম ধর্মের নবুয়্যত পাওয়ার পরে তার নাম পালটায় নি। পুরনো পৌত্তলিক নামই রেখে দিয়েছিল। তার নামটি জন্মের সময় যারা রেখেছিল তাদের কেউই মুসলিম ছিল না। তার বাবার নাম আবদুল্লাহ, মায়ের আমিনা। তারা কেউই মুসলিম ছিলেন না। কিন্তু তাদের নাম এখন মুসলমানদের মধ্যে বহুল প্রচলিত। এমনকি, মুহাম্মদের অনুসারীদের মধ্যে সামান্য কয়েকজন ছাড়া কেউই নাম পালটায় নি। আর এই নামগুলো সবই আরবি নাম। নামের কোন ধর্ম হয় না। আরবি নাম, ইংরেজি নাম, বাঙলা নাম হয়। তাই নাম ইসলামের সম্পত্তি নয়।

মুহাম্মদের দাদার নাম ছিল আবদুল মুত্তালিব, একটি আরব পৌত্তলিক নাম। প্রথম বিবির নাম খাদিজা। প্রথম অনুসারীর নাম আলী। আলীর নাম মুহাম্মদ নিজেই রেখেছিলেন, নবুয়্যতের আগে। ইসলাম গ্রহণের পরে কেউই নাম পালটায় নি। ইরাকের সাবেক এক মন্ত্রীর নাম ছিল তারেক আজিজ। মুহাম্মদের পিতামাতা থেকে শুরু করে তারিক আজিজ এরা কেউই মুসলমান ছিল না। আরব ছিল বলে তাদের আরবি নাম ছিল। আরবের প্রাচীন খ্রিস্টান এবং ইহুদী, সেই সাথে পৌত্তলিকদের নামও এরকম। তাই নামের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্কে নেই। সম্পর্ক ভাষা এবং সংস্কৃতির সাথে। মুহাম্মদ ভারতে জন্মালে তার নাম ভারতীয় হতো এবং এখন মুসলমানগণ ভারতীয় নামকে মুসলমান বা ইসলামী নাম বলে দাবী করতো। বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ভাষায় নাম বিভিন্ন রকম হয়। তাই ইসলাম ত্যাগ করায় কারো নাম পরিবর্তন বাধ্যতামূলক নয়। কারণ ইসলাম ঐসব নামের উদ্ভাবক নয়। ঐ নামগুলো ইসলামের আগে থেকেই আরবে প্রচলিত ছিল।

■ মারা গেলে নাস্তিকের লাশ কী করা হবে?

একজন যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে, মারা যাওয়ার পরে যেহেতু আমার কোন চেতনা থাকবে না, তাই লাশ দিয়ে কেউ স্যান্ডেল বানাবে বা পুড়িয়ে দেবে, তাতে তেমন কিছু যায় আসে না। কারণ তখন আমি আর ব্যথা পাবো না। বা কেউ ছুরি দিয়ে কাটলে চিৎকার করবো না। সুতরাং কী করা হবে তা নিয়ে মাথাব্যথা নাই।

তবে যদি আমার শরীর, চোখ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অন্য কারো কাজে লাগে, সেটা তাদের দিয়ে যেতে ইচ্ছুক। মাটিতে পোকামাকড়ের খাবার হওয়ার চাইতে আমার চোখ দিয়ে আরেকজন পৃথিবী দেখবে, সেটাই উত্তম।

এই লেখাটিতে আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছেঃ

■ নাস্তিকরা কীভাবে বিয়ে করে?

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ বিশেষ বিবাহ আইন-১৮৭২ (Special Marriage Act-1872)

■ ধর্মের সমালোচনা করে নাস্তিকরা জনপ্রিয় হতে চায়?

ধর্মের সমালোচনা করে জনপ্রিয় হওয়াটা আসলে সম্ভব না। কারণ আমাদের দেশে এখনও বেশিরভাগ মানুষই কম বেশী ধর্মপ্রান, এবং একজন নাস্তিককে সমাজে গ্রহণ করার মত পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয় নি। একজন ধর্ষককে আমাদের সমাজ ততটা ঘৃণা করে না যতটা একজন নাস্তিককে করে। এবং এই ঘৃণার প্রকাশ প্রায়শই হত্যাকান্ড বা চাপাতি হামলায় রুপ নেয়, তার প্রমাণ আমাদের সামনেই অনেক আছে। তাই ধর্মের সমালোচনা কেউ জনপ্রিয় হওয়ার জন্য করে, এর মত আহাম্মকি কথা আর কিছুতে নেই।

■ নাস্তিকেরা জীবন অর্থহীন ও উদ্দেশ্যহীন মনে করে?

নাস্তিকগণ জীবনকে অর্থপুর্ণ এবং চমৎকার এক অভিজ্ঞতা মনে করেন। বরঞ্চ ধার্মিকগণই মনে করেন জীবন হল ভ্রম, মিথ্যা, মায়া কিংবা পরীক্ষা। আর পরকালটিই মুখ্য। আর নাস্তিকদের কাছে, এই জীবনটিই মুখ্য এবং সত্য। জীবনকে মুখ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাবলেই তাকে অর্থপূর্ণ করা সম্ভব। জীবনকে অগুরুত্বপুর্ণ ভেবে আত্মঘাতী বোমা মেরে পরকালে হুর পাওয়ার আশা থাকলে, জীবনকে অর্থহীন পরীক্ষাই মনে হবে।

■ নাস্তিকরা কোরানের মত একটি সুরা বা আয়াত লিখে দেখাতে পারবে?

■ আইনস্টাইনের মত বড় বিজ্ঞানী যেখানে আস্তিক ছিলেন, সেখানে নাস্তিকরা কী তার চেয়েও জ্ঞানী?

কে আস্তিক ছিলেন আর কে নাস্তিক, তা আস্তিক বা নাস্তিকতার সত্য হওয়ার পক্ষের কোন যুক্তি হতে পারে না। পৃথিবীর সকল মানুষ আস্তিক হলেও আস্তিকতা ভুল হতে পারে, আবার পৃথিবীর সকল মানুষ নাস্তিক হলেও নাস্তিকতা ভুল হতে পারে। একসময়ে বড় বড় দার্শনিকগণও পৃথিবীকে সমতল মনে করতেন। তাতে পৃথিবী সমতল হয়ে যায় নি। তাই ব্যক্তিজীবনে কে আস্তিক কে নাস্তিক, তার চাইতে জরুরি বিষয় হচ্ছে, আস্তিকতা বা নাস্তিকতা সম্পর্কে তারা কী কী তথ্য প্রমাণ ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। তাই স্টিফেন হকিং এর নাস্তিক হওয়া যেমন নাস্তিকতার পক্ষের কোন যুক্তি হতে পারে না, আইনস্টাইন আস্তিক হয়ে থাকলে সেটিও আস্তিকতার পক্ষের কোন যুক্তি নয়। কিন্তু আইনস্টাইন কী আসলেই আস্তিক বা ধার্মিক বা ধর্মপ্রাণ ছিলেন? প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাস করতেন?
উনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠির অনুবাদ নিচে দেয়া হলো।

… “ঈশ্বর” শব্দটি মানুষের দুর্বলতা থেকে সৃষ্ট এবং ভাব প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ ছাড়া আর কিছুই না। বাইবেল হল কিছু গৌরবান্বিত পৌরাণিক কাহিনীর সমাহার যা অত্যন্ত শিশুতোষ। যে কোন নিগূঢ় অর্থই করা হোক না কেন তা আমার ভাবনায় কোন পরিবর্তন আনবে না। এই নিগূঢ় অর্থগুলি স্বভাব অনুযায়ীই নানা ধরণের হয়ে থাকে এবং প্রকৃত পাঠ্যাংশের সাথে কোন সামঞ্জস্য থাকে না। অন্যান্য সব ধর্মের মত ইহুদী ধর্মও প্রধানত: শিশুতোষ কুসংস্কারের অনুরূপ। আমি খুশি মনেই নিজেকে যাদের একজন বলে মনে করি এবং যাদের মানসের সাথে রয়েছে আমার গভীর সম্পৃক্ততা, সেই ইহুদী জনগোষ্ঠীরও অন্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় আলাদা কোন বিশেষ গুণাবলী আছে বলে মনে করি না। আমার অভিজ্ঞতা থেকে এতটুকু বলতে পারি অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় তারা খুব বেশী উন্নতও না। যদিও ক্ষমতার অভাবে তারা সবচেয়ে খারাপ ধরণের ক্যান্সার থেকে সুরক্ষিত আছে। এছাড়া আমি তাদের মধ্যে এমন কিছু দেখিনা যাতে তাদের নির্বাচিত (ঈশ্বর কর্তৃক) বলে মনে হবে।

….The word God is for me nothing more than the expression and product of human weaknesses, the Bible a collection of honorable, but still primitive legends which are nevertheless pretty childish. No interpretation no matter how subtle can (for me) change this. These subtilised interpretations are highly manifold according to their nature and have almost nothing to do with the original text. For me the Jewish religion like all other religions is an incarnation of the most childish superstitions. And the Jewish people to whom I gladly belong and with whose mentality I have a deep affinity have no different quality for me than all other people. As far as my experience goes, they are also no better than other human groups, although they are protected from the worst cancers by a lack of power. Otherwise I cannot see anything ‘chosen’ about them.

আরও দেখুনঃ গড লেটারঃ আইনস্টাইন কী ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিলেন?

■ নাস্তিকরা কাকে সৃষ্টিকর্তা মনে করে?

– কাউকে নয়। সৃষ্টি কর্তা বলে কিছুর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় নি। স্রষ্টা, শয়তান, ফেরেশতা, জ্বীন, পরই, ভুত, দেবদেবী, রাক্ষস খোক্কস, দৈত্য দানব সবই পুরনো দিনের অযৌক্তিক বিশ্বাস। আধুনিক যুক্তিবাদী চিন্তাশীল শিক্ষিত মানুষ যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করে। বিশ্বাস দিয়ে নয়।

■ নাস্তিকরা কি ভূত বিশ্বাস করে? করলে, কেন করে?

– না করে না। তবে ভয় পাওয়া মানুষের এক ধরণের স্বাভাবিক অনুভূতি। যেমন মানুষ অন্ধকারকে ভয় পায়। এই ভীতি তাদের মধ্যে ঢুকেছে বিবর্তনের পরিক্রমায়। মানুষ যখন গুহায় বসবাস করতো, সেসময়ে তারা দেখেছে অন্ধকার হলে বন্য প্রাণী আক্রমণ করতে পারে। সেই ভীতি এখনো মানুষ বহন করে। অন্ধকার, অজানা কিছু, অদ্ভুত কিছু দেখলে সেই কারণেই মানুষের মনে ভয়ের অনুভূতি হতে পারে। সেটা আস্তিকদের যেমন, নাস্তিকদেরও তেমনি।

■ আস্তিকেরা হুর-গেলমান-শরাবান তহুরার লোভে ধর্মের পথে। নাস্তিকেরা কীসের লোভে হুর-গেলমান-শরাবান তহুরার লোভ ত্যাগ করছে?

– কোন কিছু পাওয়ার প্রতিশ্রুতি নাস্তিকতা দেয় না। নাস্তিকতা কোন ধর্ম ব্যবসা নয় যে এটা করলে ওটা দেয়া হবে। নিতান্তই যুক্তি এবং বুদ্ধি ব্যবহার করে সত্যকে, পৃথিবীকে জানার চেষ্টাই নাস্তিকতা। তাই কোন লাভের আশা থাকলে নাস্তিকতা আপনার জন্য নয়।

■ নাস্তিকরা ইউরোপের ভিসার জন্য নাস্তিকতা করে কেন?

-গত এক যুগের বেশি সময় ধরে ইউরোপ সবচাইতে বেশি যাদের ইউরোপে ঢুকতে এবং বসবাসের সুযোগ দিয়েছে, তারা হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। কারণ বেশিরভাগ মুসলিম দেশই যুদ্ধ বিদ্ধস্ত, দুর্নীতি এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জর্জড়িত। ইরাক ইরানের দীর্ঘমেয়াদী শিয়া সুন্নী যুদ্ধ, সাদ্দামের রাসায়নিক গ্যাস দিয়ে শিয়াদের হত্যা, পাকিস্তানে আহমদীয়াদের ওপর গণহত্যা, এরকম উদাহরণ অসংখ্য। ইরানের প্রচুর শিয়া এবং সুন্নী, পাকিস্তানের প্রচুর আহমদীয়া সম্প্রদায়ের মানুষ এখন ইউরোপে নির্বাচিত। এই সেইদিনই জার্মানি এক মিলিয়ন সিরিয়ান রিফিউজি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যেই জার্মানির ৪৭% মানুষই ধর্মহীন, তারা কেন মুসলমানদের এত সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে? অন্যদিকে, নাস্তিকদের নাস্তিক হওয়ার কারণে কোথাও কোন দেশ এসাইলাম দেয়, এরকম কখনই শোনা যায় নি। এরকম কোন প্রমাণও নেই যে, নাস্তিক হলে কোন দেশ এসাইলাম দেয়।

এসাইলাম বরঞ্চ নবীর সুন্নত। মক্কায় মুহাম্মদের বাপ দাদার প্রচলিত পৌত্তলিক ধর্মের সমালোচনা করার কারণে নির্যাতিত মুহাম্মদ মদিনায় এসাইলাম নিয়েছিল। ইতিহাস সেটারই সাক্ষ্য দেয়। সেই সাথে, কোন দেশে এসাইলাম নিয়ে ঢুকে সেখানে শরীয়া আইন চালু করা, বহুযুগ ধরে বসবাস করা স্থানীয় ইহুদী গোত্রগুলোকে হত্যা করা বা বিতাড়িত করা হযরত মুহাম্মদের সুন্নত। মদিনায় এসাইলাম নিয়ে মুহাম্মদও প্রচুর ইহুদী গোত্রকে হত্যা এবং বিতাড়িত করেছিল।

■ নাস্তিকদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের আসল পরিচয় প্রকাশ করে না কেন?

– ইউরোপ আমেরিকায় নাস্তিকরা প্রকাশ্যে আসল পরিচয় দিয়েই থাকতে পারে। তবে ইসলাম একটি অতিরিক্ত শান্তির ধর্ম হওয়ার কারণে কোন মুসলিম দেশে নাস্তিকরা আসল পরিচয় দিতে ভয় পায়। কারণটা সহজেই অনুমেয়।

■ কিছু নাস্তিক গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে অন্য ধর্ম পালন করে?

– সাধারণত নাস্তিকগণ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে সামাজিক কারণে অংশ নেন, অনেকে নেন না। যা আসলে ব্যক্তির ইচ্ছাধীন এবং তার সামাজিক সম্পর্কের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। আবার, কথা বলার সময়ও অনেকে আল্লাহ রাম যীশু ইত্যাদি শব্দও ব্যবহার করেন। যার মূল কারণ হচ্ছে, ভাষা এবং সাংস্কৃতিক আচরণ। আমরা ছোটবেলা থেকে কোন আশ্চর্যজনক ঘটনা দেখলে হায়! আল্লাহ! ওহ রাম! ভগবান! হায় দুর্গা! ওহ জেসাস! ওহ মাই গড! ইত্যাদি বলে চিৎকার করি। সেগুলো আমাদের ভেতরে অবচেতনভাবে ঢুকে যায় এবং কোন অবাক করা কিছু দেখলে অনেক নাস্তিকই তাৎক্ষণিকভাবে নানা ধরণের ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেগুলো শুধুমাত্র স্বভাবজনিক বা সাংস্কৃতিক কারণে উচ্চারিত শব্দাবলী। তার মানে এই নয় যে, তারা আল্লাহ ভগবান যীশু জিউস হোরাস থর কালী ইত্যাদিদের আসলেই ডাকছে।

■ নাস্তিকতা নিয়ে আলাপ করে কী লাভ?

-সত্যানুসন্ধান এবং যুক্তি ও মেধার বিকাশ। মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটলে সমাজে ধর্মের অনাচার কমতে থাকবে বলেই নাস্তিকগণ মনে করেন। প্রমাণহীন যেকোন বিশ্বাসই ক্ষতিকর হতে পারে, যেহেতু তা যুক্তি বা প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়। তাই এই ক্ষতিকর সামাজিক উপাদানকে নাস্তিকগণ প্রশ্ন করেন, আঘাত করেন। এতে যা লাভ হয়, তা হচ্ছে, সততার সাথে যুক্তি প্রমাণ ও সত্যের প্রতি অবিচল একনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়।

■ হাশরের ময়দানে নাস্তিকরা কি জবাব দিবো?

-হাশরের ময়দান হচ্ছে বাচ্চাদের রূপকথার গল্পের মতই বয়সে বড় কিন্তু মননে ছোট মানুষদের রূপকথার গল্প। তাই হাশরের ময়দানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

■ আপনের সন্তানরেও কি আপনের মতো নাস্তিক বানাইবেন?

না, আমার সন্তানের ওপর আমি কোন ধর্ম, এমনকি নাস্তিকতাও চাপিয়ে দেবো না। সে প্রাপ্তবয়স্ক হলে নিজেই ঠিক করে নেবে, সে কোন ধর্মটি বেছে নেবে। কোনটি তার কাছে যথার্থ বলে মনে হয়। 

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■ নবী মোহাম্মদের বৈবাহিক জীবন নিয়ে নাস্তিকদের এতো প্রশ্ন কেন?

-কারণ নবী মুহাম্মদকে বলা হয় মুসলিমদের জন্য অনুকরণীয় অনুসরণীয় আদর্শ। কিন্তু এই যুগে কেউ যদি সেই আদর্শ অনুসরণ করতে গিয়ে বহুবিবাহ, শিশুকাম, যুদ্ধবন্দীদের সাথে যৌন সম্পর্ক, দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্কের মত বর্বর অসভ্য ঘৃণিত এবং গর্হিত কাজ করে, সেটি হবে মস্তবড় বিপদের কথা।

পর্ব-৩: বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর

■ ঈশ্বর না থাকলে মহাবিশ্বের উৎপত্তি কীভাবে হলো?

মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং সম্প্রসারণ বিষয়ে জানার জন্য বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ মন দিয়ে পড়া জরুরি। প্রবন্ধসমূহের লিংক দেয়াঃ

ঈশ্বর হাইপোথিসিস
বিগ ব্যাং থেকে মহাবিশ্ব
মহাবিশ্বঃ বিস্ময়ের এক ইতিহাস
বিগ ব্যাং থেকে হোমো স্যাপিয়েনস – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

■ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে খুন বা ধর্ষণের শাস্তি কী?

একজন অপরাধী কী করেছে, তার শাস্তি কী হতে পারে, বিজ্ঞান সরাসরি সেগুলো নিয়ে ডিল করে না। জ্ঞানের নানা শাখা প্রশাখা রয়েছে। কোন কোন বিষয় কোন কোন বিষয়গুলো ডিল করবে, তা সুনির্দিষ্ট। এখানে কোন পরিপূর্ণ জীবন বিধান নেই, এক বইতে সব বলে দেয়া নেই। জ্ঞান এভাবে কাজ করে না। সেভাবে কাজ করে রূপকথা। এক মন্ত্রে সকল সমস্যার সমাধান!

যেমন, নিউটনের সূত্র বিষয়ে জীববিজ্ঞান কী বলে? না, জীববিজ্ঞান নিউটনের সূত্র নিয়ে ডিল করে না। অথবা আপেক্ষিক তত্ত্ব বিষয়ে মেডিকেল সায়েন্সের মতামত কী? না, আপেক্ষিক তত্ত্ব বিষয়ে মেডিকেল সায়েন্সের কোন মতামত থাকতে পারে না। প্রতিটি অংশের আলাদা ক্ষেত্র, আলাদা কাজ।

এই প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে বিস্তারিত পড়ুনঃ

■তাহলে মানুষ কীভাবে এলো?

পর্ব-৪ঃ মানবাধিকার বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর

■ সমাজে কি ধর্মের কোন অবদান নাই?

– বহুকাল আগে বিভিন্ন ধর্মের কিছুটা প্রয়োজন ছিল। মানুষের জ্ঞানের অভাবের কারণে নানা প্রশ্নের উত্তর মানুষ জানতো না। সেগুলোকে ব্যাখ্যা করবার জন্য তারা এরকম অনেক কাল্পনিক চরিত্র সৃষ্টি করেছিল। সেই চরিত্রগুলো তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে কাজে লাগতো। সেই সাথে, সামাজিক শৃঙ্খলার জন্যেও দরকার ছিল। তবে বর্তমান সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম শুধু অর্থহীনই নয়, ক্ষতিকরও বটে।

পর্ব-৫ঃ বিতর্কের চ্যালেঞ্জ

বিতর্কে আহবানের পূর্বে নিচের লেখাগুলো অবশ্যই পড়ে আসতে হবে।

 



9 thoughts on “উত্তরসমূহ

  • April 27, 2019 at 3:00 PM
    Permalink

    বিশ্বাসে মিলাই বস্তু তর্কে বহুদূর।

    Reply
    • December 21, 2019 at 12:26 PM
      Permalink

      কেমনে বুঝান।

      Reply
  • June 4, 2019 at 11:56 AM
    Permalink

    মানুষ জ্ঞান অর্জন করে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সুতরাং পেট ব্যথা অনুভব করা সম্ভব এটা চোখে দেখে বিশ্বাস করতে হয় না তাছাড়া আরও অনেক জিনিস আছে যেগুলো বিজ্ঞান গবেষণাগারে সত্য প্রমাণিত তা কখনো বিশ্বাস করতে হয় না শুধু মেনে নিতে হয়।

    Reply
    • December 21, 2019 at 12:28 PM
      Permalink

      বাস্তবতা মেনে নেওয়াই মুখ্য, সেখানে অন্ধভাবে বিশ্বাস অর্থহীন।

      Reply
  • February 12, 2020 at 1:52 AM
    Permalink

    নৈতিকতার উৎস কি?
    February 22, 2019 Marufur Rahman Khan 0 Comments ঈশ্বর, নাস্তিক্য, নৈতিকতা

    Q 1. Paragraph 3: এখানে ”আমরা” বলতে কাদেরকে বোঝাচ্ছেন?
    Q 2. Paragraph 6, Line 5: আল্লাহ যদি নাই থাকেন, সমাজ ধ্বংস হলে আমার কী, আমি যদি কাউকে খুন করে মিলিয়ন ডলার পেয়ে যাই এবং আইন আদলাতকে ম্যানেজ করে ফেলতে পারি, তা হলে অসুবিধাটা কী?
    Q 3. Paragraph 6, Last Line: এ কথা ঠিক, আমার দেখাদেখি অন্যরাও যদি খুনোখুনিতে লিপ্ত হয়, সমাজ আর বসবাসযোগ্য থাকবে না, আমিও মিলিয়ন ডলার নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারব না। But that will happen in the long run. In the long run, we all are dead.
    Q 4. Paragraph 7, Line 4: চোর আমার ঘড়ি ছিনিয়ে নিলে আমার ক্ষতি হলো, কিন্তু চোরের তো লাভ হলো। এখন আমার ক্ষতি ও চোরের লাভ যদি সামন সমান হয়, তা হলে তো সমাজের অবস্থা যেই সেই রইলো, সুতরাং ঘড়ি চুরি অপরাধ হবে কেন? একই যুক্তিতে চোরের লাভ যদি আমার ক্ষতি থেকে বেশি হয়, তা হলে সমাজে ঘড়ি চুরির নিট লাভ দাঁড়ায় ধনাত্বক, তাই ঘড়ি চুরিকে বরং উৎসাহীত করা উচিত। চোরের লাভের চেয়ে আমার ক্ষতি বেশি হলেই কেবল চুরিকে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা যায়। সমস্যা আরও আছে। চোরের কাছে ৩০০ ডলারের ভ্যালু, আমার কাছে ৫০০ ডলারের ভ্যালুর চেয়েও বেশি হতে পারে। এই ”লাভ-ক্ষতি”-র পরিমাণ মাপবেন কী করে?
    Q 5. Paragraph 8, Line 4: এখানেও আমার (৩) নম্বর যুক্তি প্রযোজ্য।
    Q 6. Paragraph 8, Last Line: সুবিধা-অসুবিধা-র পরিমাপ কী ভাবে করবেন?
    Q 7. Paragraph 9, Last Line: সমাজে সবাই পরষ্পর সহযোগিতার সাথে চললে, আখেরে প্রত্যেকেই লাভবান হবেন।, But again, in the long run, we all are dead. এখানেও আমার (৩) নম্বর যুক্তি প্রযোজ্য।
    Q 8. অনুগ্রহ করে “Free Will” সম্পর্কে আপনার মতামত জানাবেন।

    Reply
  • July 31, 2020 at 11:49 PM
    Permalink

    Its a bullshit, Blind logic and unscientific. Who is the owner of this site !!! He need to go to mental hospital.

    Reply
    • September 30, 2020 at 4:42 PM
      Permalink

      try to understand the logic , or if you find any non logical sentences, you may describe . Do not show us the behavior of your clan

      Reply
  • October 25, 2020 at 8:26 PM
    Permalink

    গনেশ নাকি তার মার সাথে সেক্স করেছিল? এই বিষয়টা কেউ জানেন?

    Reply
  • November 5, 2020 at 12:32 PM
    Permalink

    ড. এম,এ খায়ের, পিএইচডি (সম্মানিত)এর উক্তি
    ————————————————————
    ১। অজ্ঞানতাই মানুষের কপাল পোড়ায়।
    ২। এ পৃথিবীর ক’ জনে জানে গাছেরও প্রান আছে, গাছ কাটলে ব্যাথা পায়।
    ৩। একটি মৌমাছির যে শৃংখলাবোধ আছে, বাঙালীর তা নেই।
    ৪। কোন স্বামী/স্ত্রী যদি স্ত্রী/স্বামীর প্রয়োজন মেটাতে অস্বীকার করে তবে হাজার বছর এবাদত করেও লাভ নেই।
    ৫। মানুষ সৃষ্টি হতে যে যে উপাদান দরকার,তার সবগুলো উপাদানই প্রকৃতিতে বিদ্যমান।
    ৬। বাস্তবতাকে মেনে নিন, অবাস্তবতাকে নয়।
    ৭। মানব জাতি আজকের এই সভ্যতার মুখ কোন দিনই দেখতে পেতো না, যদি বিজ্ঞানের অবদান না থাকতো।
    ৮। পৃথিবীতে কোন প্রেম নেই, আছে শুধু স্বার্থ।
    ৯। অদৃষ্ট বলে কিছু নেই, সবই কর্মফল।
    ১০। অতীতকে ভুলে যান, বর্তমানকে মেনে নিন,আর ভবিষ্যত সে তো সুদুর পরাহত।
    ১১। রোগ জীবানুগুলো পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চায়, সকল জীব যেমন বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে, তারাও ঠিক তাই করে।
    ১২। মানুষের কথা বিষাক্ত,বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে বিষক্রিয়ার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
    ১৩। অলৌকিকতাকে নয়, লৌকিকতায় বিশ্বাস রাখুন।
    ১৪। আপনি যা জানেন না, তা নিয়ে তর্কে জড়াবেন না।
    ১৫। মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রথম অবস্থা সম্পর্কে আমি যেমন কিছুই জানিনা, ঠিক তেমনি অন্য কারো পক্ষে কিছুই জানা সম্ভব নয়।
    ১৬। অনুমান নির্ভর আর পরীক্ষিত সিদ্ধান্ত এক নয়। পরীক্ষিত সিদ্ধান্তই গ্রহনযোগ্য।
    ১৭। কে কি বলেছে সেটা বিশ্বাস না করে, আপনার বিবেককে প্রশ্ন করুন সেই আসলটাকে খুজে বের করবে।
    ১৮। ভেবে দেখুনতো, পৃথিবীর সকল মানুষ একটা ধর্মে বিশ্বাসী এবং সবাই মিলে স্রষ্টার প্রার্থনায় মশগুল, তাহলে কি এই সভ্যতার ছোয়া কোনদিন দেখতে পেতেন?
    ১৯। ধর্মে ধর্মে ভেদাভেদ থেকে বিরত থাকুন, ধর্মীয় জ্ঞানার্জন করুন।
    ২০। জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না, এটা চলমান।
    ২১। শুধু পরীক্ষায় পাশ করে সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য পড়াশুনা নয়, সুন্দর মানুষ হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জন করতে হবে।
    ২২। বিয়ে করে কুসন্তান জন্ম দেয়ার চেয়ে,
    বিয়ে না করাই শ্রেয়।
    ২৩। আমাদের সব চেয়ে বড় বাধা হলো, লোকে কি বলবে?
    ২৪। শিখতে হবে মাথা নীচু করে,আর বাঁচতে হবে মাথা উুঁচু করে।
    ২৫। আপনজনকে চিনতে হলে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন, বিপদের দিনে যাকে কাছে পাবেন সেই আপনজন।
    ২৬। মিথ্যাচার না সত্য সেটা যাচাই করুন, তারপর বিশ্বাস করুন।
    ২৭। কেউ যদি বলে আমি চাঁদ আপনার হাতে এনে দিতে পারি,তার কথায় বিশ্বাস করবেন না যতক্ষন সে চাঁদ এনে আপনার হাতে না দেয়।
    ২৮। মাইকে আযান দিলে,সিংগার ফুৎকারে বা গাড়ীর হর্ন বাজালে যদি কোন রোগী বা শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তবে তা না করাই শ্রেয়।
    ২৯। ভালবাসা বলে কিছু নেই,আছে শুধু স্বার্থ সিদ্ধির প্রচেষ্টা।
    ৩০। কাউকে খুব বেশি সুযোগ সুবিধা দিও না, সে তোমার মাথায় চড়ে বসবে।
    ৩১। সারা জীবন কাছে থাকলেও কেউ কেউ আপন হয় না।
    ৩২। অসৎ পথের কোন উপার্জনই কাউকে শান্তি দিতে পারে না।
    ৩৩। তোমার যেটুকু আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকো,সেটাই তোমার প্রাপ্য।
    ৩৪। সারা দিনে অন্তত পাঁচবার মন খুলে হাসো, তোমার আয়ু বেড়ে যাবে।
    ৩৫। ধর্মকর্ম করে মাথা নষ্ট না করে সমাজের জন্য তথা মানব জাতির জন্য কিছু করুন।
    ৩৬। মৃত্যুর পর পুনরুত্থান হবে এটা কাল্পনিক কথা, কোন বাস্তবতা নেই।
    ৩৭। জন্ম ও মৃত্যু একবারই, পুনর্জনম বলে কিছু নেই।
    ৩৮। ধর্মযাজকেরা মানব জাতিকে সুপথে পরিচালনার জন্য সংবিধান হিসেবে ধর্মগ্রন্থ রচনা করেছেন।
    ৩৯। বেদ,পুরান,বাইবেল,গীতা,মহাভারত, কোরআন সম্পর্কে নিজ জ্ঞান ও বুদ্ধি দ্বারা বিচার করলেই বুঝতে পারবেন এগুলো মানব রচিত, ভগবান,ঈশ্বর বা আল্লাহ প্রদত্ত নয়।
    ৪০। মানব জাতি একদিন বুঝবে যে, ধর্ম শুধুমাত্র ধর্মযাজকদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৈরী করেছিল।
    ৪১। নবী মুহাম্মদ বোরাকে চড়ে আল্লার সাথে সাক্ষাত করতে গিয়েছিলেন, এটা সম্পুর্ন কাল্পনিক গল্প মাত্র।
    ৪২। পৃথিবীতে আপন বলে কেহ নেই, আপন ততক্ষনই থাকে যতক্ষন স্বার্থ থাকে।

    চলমান….

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *